সময়চর্চা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
সময়চর্চা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

ফ্যাসিজম ও আজকের পৃথিবী


সমগ্র বিশ্বজুড়ে 'ফ্যাসিবাদী ডানপন্থা' ছত্রাকের মত আষ্টেপৃষ্টে বর্বরতার নাগপাশে বেঁধে ফেলেছে। বর্ডারের সীমানা পেরিয়ে মাকিন মুলুকের ট্রাম্প হোক কিম্বা মোল্লাদের সৌদি, ভোগবাদী ইউরোপ  বা RSS এর ভারত- উগ্র জাতীয়তাবাদী মিথ্যা ভুয়ো দেশপ্রেমের নামে দেশের সম্পদ নির্দিষ্ট কিছু পুঁজিবাদী শোষক সংস্থার কাছে তুলে দেওয়ার জন্য যাবতীয় নিপীড়নের আয়োজন। 

১২ বছরের BJP শাসন রাষ্ট্রের প্রতিটি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করে দিয়েছে, সর্বত্র নোংরা ধর্মীয় মেরুকরন করা হয়েছে ভোটের বাক্সে তাৎক্ষণিক ফায়দা লুঠতে আর এই জন্য যেকোনো মাত্রার সহিংসতাতে মেতে উঠতে এদের কোনো ক্ষেপ-আক্ষেপ থাকেনা। আমাদের ঐতিহাসিকভাবে শক্তিশালী সংবিধান ও তার প্রতিষ্ঠানগুলোকে রোজ আক্রমণের মুখে ফেলে ভঙ্গুর করে তোলা হচ্ছে। সিভিল সোসাইটি উদভ্রান্ত, আদালতের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ, নির্বাচন সংস্থার ভূমিকা শাসকের দলদাসের, সর্বত্র একটা অশান্তি আর অবিশ্বাসের পরিবেশ। কয়েকটি নির্দিষ্ট ব্যাক্তি তথা কয়েকটি পুঁজিবাদী গোষ্ঠীর হাতে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হয়ে গেছে। এরা যেকোনো মূল্যে নির্বাচন বা গণতান্ত্রিক কাঠামোর বিলোপ চায়।

বিরোধী কন্ঠস্বরকে তাচ্ছিল্ল্যের সাথে হিংস্রভাবে দমন করা হচ্ছে সর্বত্র, যাতে প্রশ্ন করতে ভয় পায়। জাতিগত হানাহানি, ধর্মীয় বা অভিবাসী সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে শত্রুতামূলক নীতি গ্রহণ করে এরা নাগরিক অধিকার সংকুচিত করতে মরিয়া, তাই কখনও NRC তো কখনও SIR এর মত নিরীহ পদ্ধতিকে ধারালো অস্ত্রের মত ব্যবহার করছে সংখ্যালঘু সংহারের জন্য। ভিন্নমতাবলম্বীদের যেকোনো মুল্যে নৃশংস হাতে দমন করা নিত্য নৈমিত্তিক প্র্যাকটিস। সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে বৈষম্য বা নিপীড়ন করাটাকে রাজনৈতিক ম্যানিফেস্টো বানিয়ে ফেলেছে এই চরম ফ্যাসিবাদী RSS. 

স্বাধীন সাংবাদিকতা যা সরকারকে জবাবদিহির মধ্যে রাখে, তাদের সিংহভাগকে কিনে নিয়ে পোষ্য কুকুর বেড়ালে পরিনত করেছে, তারা সেটাই বলছে যা শাসক চায়। যাদের কিনতে পারেনি তাদের গলায় মামলার বেড়ি লাগিয়ে দিয়েছে, তাতেও না হলে হত্যা করে দিয়েছে। এই হচ্ছে সংবাদমাধ্যমের ঘুণে ধরা দশা, কোনটা সংবাদ আর কোনটা প্রোপাাগান্ডা সেটার ফারাক করাই আজ জনগণের কাছে কঠিন হয়ে গেছে। রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যমের প্রকোপ আজ সর্বত্র, তা প্রিন্ট মিডিয়া, ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া হোক কিম্বা সোশ্যাল মিডিয়া।
.
আমাদের রাজ্যের দিকে তাকালেও একই দশা, একটু অন্য আঙ্গিকে কিন্তু লক্ষ্য সেই এক- প্রশ্নহীন আনুগাত্য। শাসক দল, রাজ্য প্রশাসন ও পুলিশ একদেহে লীন হয়ে গেছে। রাষ্ট্রীয় বলে আর কোনো শব্দ নেই, সবটাই রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত। সর্বত্র চুরি রাহাজানি আর লুঠপাঠ অন্ধকারের রাজত্ব। সরকার নিজে তার কর্মীদের টাকা চুরি করছে প্রাপ্য DA না দিয়ে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে কোমায় পাঠিয়ে কর্পোরেট পুঁজির জন্য মঞ্চ প্রস্তুত করে গেছে গত ১৫ বছর ধরে। RSS এর মন্দির মসজিদ গরু শুয়োরের রাজনীতিকে যথাযত প্রয়োগ করে ঠিক ভোটের আগে দাঙ্গার রাজনীতি করা, ধর্মীয় মেরুকরন ও ভোট লুঠের উদ্দেশ্যে গাঁ-গঞ্জে রক্তের নদী বইয়ে দিয়ে নির্লজ্জ নিরুত্তাপ থাকার এক অদ্ভুত কৌশল আমরা দেখেছি RSS স্পনসর্ড তৃনমূল সরকারের আমলে।

পশ্চিমা ভাবধারার দক্ষিণপন্থা, দিনের শেষে আপনার টুঁটি ধরবেই- তা সে যে ভেক ধরেই আসুকনা কেন। একে প্রতিহত করার নামই বিজয়। গণতন্ত্রে ভোটের মাধ্যমেই নীরব বিপ্লব সংগঠিত হয়, আগামীতে আমাদের সামনে সুযোগ এসেছে সেই বিপ্লবের সাক্ষী হতে, যোদ্ধা হতে, যুগ বদলের অন্যতম কাণ্ডারি হতে। চলুন সমূলে উপড়ে দিয়ে, ছুঁড়ে ফেলি এই বিষাক্ত ফ্যাসিবাদী শক্তিকে।

রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

শৃঙ্খলা ও বামপন্থা

 


(১)

টিভি মিডিয়ার সান্ধ্য খেঁউড়ের আসর আর সোশ্যাল মিডিয়ায় সর্বজ্ঞানী আখড়া থেকে- ২০০৯ পরবর্তী জন্মানো নেতাদের সেন্সর করুন, দেখবেন রাজ্য CPIM পার্টি দু'দিনে দাঁড়িয়ে পড়েছে। মূর্খ সমর্থকের দল শূন্য পাবে এটাই স্বাভাবিক ঘটনা। প্রজা রাজা নির্বাচন করবে, এটাও গণতন্ত্রেরই নিয়ম। বস্তুত, বামপন্থা, বিপ্লব এগুলো গণতন্ত্রের তরোয়াল, আর তরোয়াল মূর্খ গাধার হাতে মানায় না। সমর্থককূল মেরুদন্ড ফেরত পেলে, দল হরিণের মতো ছুটবে, এর জন্য সবার আগে শৃঙ্খলা প্রয়োজন।

কমিউনিস্ট পার্টিগুলো সমগ্র বিশ্বজুড়ে দাঁড়িয়ে আছে শৃঙ্খলার উপরে। আমাদের পশ্চিমবঙ্গের CPIM সহ বাকি বাম দলগুলোর বর্তমান মূল সমস্যা দেখা দিয়েছে শৃঙ্খলাতে। ২০০৯ পরবর্তী যে সকল তরুণ মুখ এসেছে ভায়া SFI, সবচেয়ে বড় সমস্যা এদের মাঝে। টিভির বুম পেলেই এদের প্রায় সকলে মুখ দিয়ে হাগতে শুরু করে দেয়। আজকাল আবার সেজেগুজে পডকাস্ট নামের এক শ্যো-অফ সাক্ষাৎকার শুরু হয়েছে। ফুটেজের কী নিদারুন লোভ! ফেসবুক ইউটিউভ খুললেই সদ্য লোম গজানো নেতানেত্রীরাও এমন ‘পোস্ট ও বাইট’ দিচ্ছে, যেন আদর্শ নৈতিকতার প্রশ্নে চে, ফিদেল বা চমস্কিকে এনারাই শিক্ষিত করেছিলেন। অধিকাংশ কথাবার্তায় রাজনীতির দূরদূরান্তে কোনো সম্পর্ক নেই। দলেরও কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই এদের উপরে। 

ছাত্রাবস্থায় বামপন্থা আঁকড়ে ধরে বহু ছেলেমেয়ে মানুষ হয়; সমাজবাদ, সাম্য, বিপ্লব নামের শব্দগুলো তখন নেশার মতো বুড়বুড়ি কাটে চেতনা জুড়ে। একটা নির্দিষ্ট সময়ের পরে মানসিকভাবে এই ভাবনাগুলোকে, মানে বামপন্থাকে নিয়মিত অনুশীলন তথা লালন করতে হয়। যেটা ৯০% ছেলেমেয়ে পারে না, পারিবারিক, সামাজিক, পারিপার্শ্বিক রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা ইত্যাদি নানা কারণে। কিন্তু সদ্য যৌবনের শেখা বামধারার চেতনা, আর ফলিত বাস্তবের লোভ, লালসা ও ভোগের তীব্র আকাঙ্ক্ষা কামনা বা অভিলাষ- মন আর শরীরকে দুটো পৃথক দিকে চালনা করে। পুরনো শিক্ষাও ফেলনা নয়, তাই সেগুলো মাঝে মাঝে বেরিয়ে আসে কিম্বা বের করে আনে সুযোগ সুবিধা মতো। গরুর মতো চর্বিত চর্বন করে জাবর কাটে, যা বিজ্ঞাপিত করে বেচাকেনার বাজারে নিজের দর বাড়িয়ে নেয়। 

২০০৯ সাল থেকে এ রাজ্যে যারা SFI এর শীর্ষপদ দখল করেছে, সংগঠনটার সেক্রেটারি প্রেসিডেন্ট পদে থাকার সুবাদে অটোমেটিক রাজ্য কমিটিতে চলে গেছে ‘কোটা’র বলে। কৌস্তভ চ্যাটার্জি-সায়নদীপ মিত্র, দেবজ্যোতি দাস-মধুজা সেন রায়, সৃজন ভট্টাচার্য-প্রতিকুর রহমান অবধি সেই একই ধারা। এরা কোন বিশেষ যোগ্যতায় পার্টির রাজ্য কমিটি অবধি যেতে পেরেছে কেউ জানে না। শেষের দুজনের আমলের মতো জঘন্য পিরিয়ড SFI এর জীবনকালে বেনজির। একের পর এক কলেজে সংগঠনের ঝাঁপ বন্ধ হয়েছে, সৃজন গিটার বাজিয়েছে আর অমেরুদণ্ডী পরজীবী প্রতীকুর হাত্তালি দিয়েছে। এটা আজ বলছি না, সেই ২০২১ থেকে নিয়মিত বলে এসেছি, আমার টাইমলাইন ঘাঁটলেই পেয়ে যাবেন। কোন বিশেষ অউকাতে বা গুণের কারণে তারা প্রতিটা নির্বাচনে লড়ার টিকিট পেয়েছে- ফেলুদার ভাষায় ‘হাইলি সাসপিসাস’। ক্রমশ পাতালে প্রবেশ ছাড়া দল বা সমাজের প্রাপ্তি কী এদের থেকে? 

আমাদের মতো দুর্নীতিগ্রস্ত তৃতীয় বিশ্বের দেশের রাজনীতিতে ‘সহানুভূতি’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কোয়ালিফিকেশন; যে কারণে দলত্যাগ করে পালিয়ে যাবার আগে একটা সহানুভূতির জামা পরিধান করে, ঠিক কাউকে না কাউকে একটা ভিলেন বানিয়ে যাবে- এটাই প্যাটার্ণ। RSS-এর পরিসরে এটা খুব চেনা ছক- দলে থেকে কাজ করতে পারছি না বা আমাকে গলা টিপে ধরা হয়েছিল। তৃণমূল হোক বা বিজেপি, দিনের শেষে সেই তো RSS নামের গু, একটা কাঁচা আর একটা শুকনো। 

বর্তমান শীর্ষ নেতৃত্বের প্রায় সকলেরই কলেজ জীবন শেষ হওয়ার আগে পার্টি ক্ষমতায় চলে এসেছিল। রাতারাতি প্রশাসক হয়ে গিয়েছিলেন, সময়ের পরিভ্রমণে মধ্য পঞ্চাশ তথা ষাট ছোঁয়ার আগেই এনারা বিরোধী আসনে। ফলত রাস্তায় নেমে যে জঙ্গী আন্দোলনের ধারা, এনারা তেমন কিছুই জানেন না। স্বভাবতই বর্তমান প্রজন্মের মাঝেও সেই স্পৃহা, সেই স্ফুলিঙ্গ ভরে দিতে পারেননি এনারা। ভারতীয় স্পেস টেকনোলজি চাঁদে চলে গেলেও, CPIM পার্টি রয়ে গেছে ষাটের দশকের আমলাতান্ত্রিক শিকলের গেরোতে, যেখানে হেঁচকি তুলতে গেলে লোকাল কমিটি থেকে পলিটব্যুরো- অনুমতি পেতে পেতেই ঈশ্যু পটল তোলে। ফলত আধুনিক ট্যেকস্যাভি সময়ের সাথে পার্টির ফলিত কার্যগত পরিচালনাতে এক ভয়াবহ দ্বান্দ্বিক ফাটল তৈরি হয়েছে, যা শীর্ষ নের্তৃত্বের সংজ্ঞার বাইরে; আর এইখান থেকে যাবতীয় উৎশৃঙ্খলতার সৃষ্টি। 

ভাইপো প্লান্টেড পরগাছা রাজনৈতিক সমাজের বুকে, পিসি যদ্দিন ক্ষমতায় আছে তদ্দিন ইনিও আছেন। ক্ষমতা হারালে সবার আগে যে লোকটি তৃণমূল ছেড়ে চম্পট দেবে- তার নাম ভাইপো। সুতরাং, আজকের দিনের তৃণমূল দল যে কোনো স্থায়ী আস্তানা নয়, চার অক্ষরের বোকা ছাড়া তা সকলেই বোঝে। ফলত যা কিছু লেনদেন সবই তাৎক্ষণিক ও সবটাই আর্থিক। তৃণমূল দল উঠে গেলে এই সব দলবদলুদের ছোট একটা অংশ জাতীয় কংগ্রেসের ঘরে পরিচারিকা সেজে ক্ষুন্নিবৃত্তি করবে, বাকিরা "I beg to remain, Sir, Your most obedient servant" জপতে জপতে নাগপুরের গোয়ালঘরে গোমুত্র সেবন করবে। এটাই ভবিতব্য। by the way,  মহুয়া মৈত্র কেন কাউকে ৪(চার) লাখের গুচি/লুইভিটোর হাত ব্যাগ গিফট করেছে, এসবের খোঁজও সেলিমকেই একা দায়িত্ব নিয়ে করতে হবে কেন? দলের অন্যান্য শৃঙ্খলা বাহিনীর লালুভুলুর দল কি জাবর কেটেই ক্লান্ত? 

দোষ সেলিম সাহেবেরও আছে, একে হাঁড়িতে চাল বাড়ন্ত, তার উপরে রাজ্যেজুড়ে অন্তত ৬টা আলাদা আলাদা শিবির তৈরি হয়েছে; এর দায় মহঃ সেলিম এড়াতে পারেন না CPIM রাজ্য সম্পাদক হিসাবে। SFI এর পারফরম্যান্স ২০১১ পরবর্তী সময়টা আতস কাঁচের তলায় আনা হোক, মিলিয়ে দেখা হোক- অপদার্থ লোক ক্ষমতার বৃত্তে ঢুকে পড়ে কী কী আচরণ করেছিল, এদের সঙ্গে ঋতব্রতর পার্থক্য আসলে কতটা! তবে, কার সদস্যপদ দিল্লিতে আর সেটা সে রিনিউ করল কিনা, সেটার দায় সেলিমের নয়। আমাদের গ্রাম বাংলার রাজনীতিতে আদৌ চুল পরিমান গুরুত্ব রাখেনা এই সব আপদের ‘গলা নাচানো’ উপস্থিতি। কে শতরূপের বিরুদ্ধে প্রার্থী হবে আর কে মীনাক্ষীর বিরুদ্ধে দাঁড়াবে- এসব হিসাবনিকাশের গল্পও কানে আসছে বৈকি। দাঁত কেলিয়ে ‘জল মাপছি’ বলে ফুটেজ খাওয়ার দিন শেষ, হয় এস্পার নয় ওস্পার। আসলে শৃঙ্খলা অবলুপ্ত হলে বেহায়াপনাই সংস্কৃতি হিসাবে নিজেকে জাহির করে। 

এদিকে সারদার টাকা চোর কুনাল ঘোষ প্রকাশ্যে জোর গলায় বলছে- আলিমুদ্দিনের যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ মিটিং এর মিনিটস ১০ মিনিটে তার কাছে পৌঁছে যায়। পার্টির অভ্যন্তরের গোপনীয়তা, আস্থা ও পারস্পরিক ভরষার বিসর্জনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে এই দাবী। এখান থেকে কিন্তু পার্টি বের হতে পারবে না। শুধু একা সেলিম সাহেব নন, গোটা আলিমুদ্দিনকে এই প্রশ্নের জবাব আজ হোক বা কাল দিতেই হবে। সবাই মিলে দল বেঁধে কুণাল ঘোষকে খিল্লি করতেই পারেন, গোপনীয়তার প্রশ্নে কুনাল ঘোষ CPIM দলের প্যান্ট জামা খুলে রাস্তায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। রোগ সেই শৃঙ্খলাহীনতা। আসলে পার্টির কলকাতার বৃত্তের একটা অংশ কুনাল ঘোষের হারেমে খোজা সেজে উপুড় হয়ে শুয়ে পয়সা রোজগার করে।

কোলকাতার বাবু কালচারে জন্ম নেওয়া মধ্যমেধার কিছু উন্নাসিক দাম্ভিক লোকজন নিজেদের কমিউনিস্ট দাবী করে দলটাকে অক্টোপাশের মতো আষ্টেপৃষ্টে  বেঁধে রয়েছে। এই সব কলকাত্তাইয়া বাম, ফেসবুকের নির্বোধ বাম, কলেজ স্ট্রীটের আঁতেল বাম, JNU বাম, হারামের টাকায় আজও ক্যান্টিন চালানো যাদবপুরী বাম, এই সবগুলো অনেকটা ঘেয়ো কুত্তার মতো- কামড়ালেই ১৪টা ইঞ্জেকশন। ভোটের রাজনীতিতে এদের মূল্যমান জাস্ট শূন্য, অথচ এরাই পার্টির নিয়ন্ত্রক। শেষ ১৫ বছরে এই সেক্টর থেকেই বামেদের তথাকথিত ‘তরুন মুখে’দের ৮০% উঠে এসেছে। এদের পাশে গ্রাম মফঃস্বল থেকে আসার নেতানেত্রীরা নেহাতই সংখ্যালঘু, অথচ রাজ্যের ৭০%ই গ্রামাঞ্চল, যেখানে কৃষক পরিযায়ী শ্রমজীবী মানুষের বাস। উপরোক্ত শহুরে অন্তঃসারশূন্য ফাঁপা আদর্শের বুলি কপচানো মধ্যমেধার বামেদের কারণেই CPIM দলের মধ্যে কম্প্রোমাইজ করা অসৎ অংশের সৃষ্টি হয়েছে, এরাই পার্টির পতনের অন্যতম বড় কারণ, এদেরই কেউ কেউ প্যাক মানে খেয়ে দলের অভ্যন্তরে থেকে বিশ্বাসঘাতকতা করে চলেছে।

(২)
আমাদের মা মেয়ে বোনেরা যবে থেকে প্রাপ্তবয়স্ক হন, প্রতিমাসে একটা করে ডিম্বাণু জন্ম দেন। অধিকাংশই রজঃস্রাবে বের হয়ে যায় অনিষিক্ত অবস্থায়, কিছু নিষিক্ত হলেও অকালে গর্ভপাত হয়ে খানিকটা রক্তমাংসের দলার সাথে অনেকটা ব্যথা বেদনা উপহার দিয়ে যায়। এটা জীবনের স্বাভাবিক ঘটনা। ১০০০টা চারাগাছ পুঁতলে তবে ১০০টা বাঁচার সম্ভাবনা থাকে। কিছু ছাগলে খাবে, কিছু রোদে শুকাবে, কিছু ঝড়ে উড়বে, কিছু বাঁদরে ভাঙবে ইত্যাদি। মহীরুহ রাতারাতি হয়না, বট, পাকুর বা অশ্বত্থের চারা নার্সারিতে তৈরি হয়না। তাই কে কোথাকার ছেঁড়া লোম যে, সেই গর্ভঃস্রাবের কথাকে ধ্রুবক মেনে গুরুত্ব দিতে হবে! বাজারি সংবাদ মাধ্যম তাদের মালিকের সদ্য কেনা ‘পাঁঠা’কে কাঁঠাল পাতা খাওয়াবার ভিডিও করবেই। CPIM পার্টির দেওয়া আলঙ্কারিক পদগুলো ছিলো বলেই বিক্রির বাজারে পাঁঠার দামটা মিলেছে। তৃণমূলের হারামের চুরির টাকায় ফুর্তি মারবে বলে যে দল ছেড়েছে, আজ শুধু দল ছাড়েনি কাল বউও ছাড়বে, পরশু ঘর ছাড়বে। কারণ লীলাতে এদের আদর্শ পার্থ আর শোভন, চুরিতে ভাইপো। যেখানে ঘরে বউ এর সাথে কয়েকটা রক্ষিতা রাখা যে দলের অন্যতম রাজনৈতিক ক্যালিবার- সেখানে কালো মোটা গেঁয়ো বউ খুব বেশি দিন পছন্দ হবে না বিপ্লবী বাবুর।

বিক্রির লাইনে তো অনেকেই আছে, ভট্টাচার্য থেকে সেন, রায়, দাস, মিত্র, ঘোষ, বোস, খান, সেখ অনেকেই। কিন্তু ভাইপোর ‘ভট্টাচার্য’ সহ বাকিদের ততটা দরকার নেই যতটা একটা রেডি দুধেলগাই বলদ দরকার ছিল। ওহ, আপনি তো আবার লালবাবু ভক্ত, এই সব ভট্টাচার্য, সেন, রায়, দাস, মিত্র, বোস, খান, সেখ, ঘোষেদের নাম শুনলে আপনার পবিত্র ঈমান টলে যায়। আপনি হালকা মুতে শুয়ে পড়ুন, কিম্বা খোঁচর নেত্রী যিনি দাদু থেকে বাবার জিন সেঁচে ‘ধর ধর’ রবে DNA বেয়ে বামপন্থা বয়ে এনেছেন, আপনি বরং সেই হেমাটোলজি জেনেটিক্স নিয়ে PhD করুন, জুটিতে মিলবে ভালো। দোষটা একা এই ভট্টাচার্য, সেন, রায়, দাস, মিত্র, বোস, খান, সেখ, ঘোষদের যতটা, আলিমুদ্দিনের বাস্তুঘুঘুদেরও দায় ঠিক ততটাই। যৌবনে স্খলন কোনো পাহাড় ভাঙা হাহাকার ব্যতিক্রমী নয়, উল্টোদিকে যখন চুরির টাকার কুমিরেরা সমানে হাতছানি দেয়। নিয়ন্ত্রণ আপনাকে করতে হবে, বেছে নেওয়ার দায় আপনার। উঠতি মূলো ঋতব্রতে চেনা যায়। 

৯৩ টা বুড়ো খাসি জবাই করা হবে, এই খাসি সব পিসি তোলামূলের হারেমের। কসাইখানার মালিকানা বদলেছে, তাই বাজারে নতুন পাঁঠা খোঁজার কাজ চলছে ভাইপোনিকেতনের খোঁয়াড়ের জন্য। মমতা ব্যানার্জীর রাজনৈতিক কেরিয়ার বয়সের কারণেই অস্তাচলে, ভাইপো নতুন টিম তৈরি করছে তার মতো। পাঁঠা বা পাঁঠি হিসাবে বিক্রি হতে অনেকেই রাজি কিন্তু ক্রেতাও চাইত। শাসক মমতার জামানাতে কোনো যুব নেতা নেত্রী তৈরি হয়নি, তারা চোর তৈরি করেছে। স্বভাবতই ভাইপো তার চারপাশে কাউকে পাচ্ছে না, যে হোমে যজ্ঞিতে লাগবে। এদিকে তিনি নিজেই ব্যানার্জী, ফলত যতটা মুসলমান তার দরকার, ততটা ভট্টাচার্য মিত্র দাস দরকার নেই ঠিক এই মুহূর্তে। তাই অনেকেই লাইনে থাকলেও সেভাবে দাম না পাওয়ার দরুন অনেকেই ‘আদর্শে’ অবিচল রয়ে গেছে এই যাত্রাতে। একটা কথা মনে রাখবেন, কমিউনিস্ট পার্টিতে ভোট হয় চিহ্ন দেখে, ব্যক্তি নয়।

সমস্যা সমর্থকদের তরফেও রয়েছে, তারা ভাবে আমাদের নেতাও ‘ওদের’ মতো করে বলুক সর্বত্র। জামা পরে থাকবো কমিউনিস্ট পার্টির, চাইব পুঁজিবাদী সিস্টেমের ভোগবাদী বিলাসিতা, ন্যাংটামো করব তৃণমূলের মতো- দুটো একসাথে হয় না। জাতীয় কংগ্রেস বা তৃণমূলের মতো পার্টির নেতাদের যেভাবে বলতে দেখে অভ্যস্ত, সেইভাবে দেখেই তাদের ভোটারেরা ভোট দেয়। প্রত্যেকটা সিস্টেম তার নিজের মতো করে আলাদা, গাছেরও খাবো আবার তলারও কুড়াবো একসাথে হয় না, অগত্যা দল পাল্টাতেই হবে। সমর্থকেরা অনেকেই ভাবে, এই তো খানিক আগেই ‘আমার’ সঙ্গে কথা বলল, সে তো আমাদের নিজেদের লোক। আসলে মানুষ সিদ্ধান্ত নেয় নিজের মতো করে, তখন আর কেউ নিজের লোক থাকে না। বিবাহিত মেয়েই যেখানে জন্মদাতা বাবার থাকে না, সেখানে আপনি তো কেবল পরিচিত মাত্র।

হোটেলের ওয়েটার বা পাড়ার মোড়ে পান বিড়ির টোঙ চালায় কিম্বা অনুষ্ঠানের সিজেনে ক্যাটারিং এ কাজ করে- মোদ্দাকথা কোনো ঢং এর কাজ যাদের জোটেনি, তারাই আজকাল সাংবাদিক। সাংবাদিকতা বিষয়ে পড়াশোনা বা জ্ঞান ওসব গাধার ঘাড়ে যাক, হাতে একটা ক্যামেরা মোবাইল আছে, ফেসবুক ইউটিউবে একটা পেজ- আর কী চায়! ঠিক আজকের দিনে দেশ জুড়ে ৯৯% সাংবাদিকই এই জাতের টুকটুকে গাব, যাদের না খাওয়া যায় না গায়ে মাখা যায়। এরা মূলত ক্ষমতার পদতলে চামচাগিরি করে পেট চালায়। বছরে যা মূলধারার রোজগার এদের, তাতে যেকোনো দক্ষিণপন্থী দলের নেতাদের উচ্ছিষ্টটুকু মাঝেসাঁঝে পেলেই এদের জীবনে অষ্টমী বা ঈদের সন্ধ্যা নেমে আসে। এদের সামনেই মুখ দিয়ে হাগতে শুরু করে দেয় উশৃঙ্খল স্বঘোষিত ‘বাম’ নেতানেত্রীর দল।

এটাকে কঠোর ভাবে বন্ধ করতে হবে, দ্বিতীয় কোনো অপসন নেই।

তোলামূলের ২২৫ জন MLA আছে কালিম্পং এর বিষ্ণু প্রসাদকে ধরে, ২৯ জন সদস্য লোকসভায় আর ১৩ জন রাজ্যসভার MP আছে। মেরেকেটে ৩০ জন বাদে বাকি ২৪৬ জনের কারো নামই আপনি জানেন না। সারা বছর তাদের পার্টির তরফে মূলত কুণাল ঘোষ কথা বলে, আলফাল বকার দপ্তরে দেবাংশু রয়েছে। পার্টির মালিক হিসাবে মমতা ব্যানার্জী আর ভাইপো কথা বলেন। বাকি কোনো নেতাকে দেখেছেন মাইক পেলেই উন্মত্ত হয়ে বিজ্ঞ সেজে জ্ঞানের জাঙিয়া মেলে ধরে? টিভিতে তাদের হয়ে আসে দেবনারায়ন আর বিজন মাস্টার, এরা তৃনমূলের কোন পদে রয়েছে? অনুরূপ বিজেপির ১২টা লোকসভা সদস্য, ২ জন রাজ্যসভা সদস্য, ৬৪ জন MLA আছে, কজন বিজ্ঞবিচি সর্বজ্ঞ সেজে টিভির খেঁউড়ে পৌঁছে যায় আর মাইকের বুম পেলেই মুখ দিয়ে বাতকর্ম করতে থাকে?

এই প্রজন্মের মধ্যে শতরূপই একমাত্র, যে দুর্দান্তভাবে মিডিয়া হ্যান্ডেল করে। বাকি প্রায় সকলেই যারা মূলত সোশ্যাল মিডিয়াতে ফুটেজ খায়, তারা রাজনীতির বাইরে সব কিছু করে। এদের সবার আগে রেস্ট্রিকশন করতে হবে। পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুরের পঙ্কজ রায় সরকারও বিক্রি হয়ে গেছিল কিছু মাস আগে, আজ সে কোথায়? শোনা কথা- দুর্গাপুর পশ্চিম আসনের জন্য সে প্রত্যেকদিন ইচ্ছা প্রকাশ করছে আর আইপ্যাক তাকে রিজেক্ট করছে। মুখের সামনে ক্যামেরা ধরলেই যে গড়গড় করে বলতে আরম্ভ করবে, তাকে আমতলার পার্টি অফিসে পৌঁছে দেওয়া হোক জঞ্জাল ফেরার গাড়ি করে। ফেসবুকটাকে বারোয়ারী উঠোন বানিয়ে যারা ‘পার্টিকে’ বাপত্ব সম্পত্তি মনে করে, লাগামহীন নিজস্ব মতামত প্রকাশ করে চলেছে- হয় তাদের হুঁশিয়ার করা হোক, নতুবা লাথি মেরে তাড়ানো হোক। ভাবখানা এমন যেন একটা বামপন্থী দল নয়, সোশ্যাল মিডিয়ার পেজ চালাচ্ছে কন্টেন্ট ক্রিয়েটর হয়ে, প্রতিটা বিষয়ে রোজ নিজের মতামত দিয়ে যাচ্ছে। কোথায় থামতে হয় কেউ জানে না।

পুনশ্চঃ- কেউ দলত্যাগ করছে বা পার্টি সদস্যপদ রিনিউ করছে না বলেই, তার তোলা প্রশ্নগুলো ভিত্তিহীন অযৌক্তিক বলে দাগিয়ে দেয় যারা, তারাও আসলে শয়তান বা পার্টির ভাষায় প্রতিক্রিয়াশীল। সেই বক্তব্যগুলোর সবটা মিথ্যে বা অসমর্থনীয় নয়, ব্যক্তির স্খলনের বিরোধিতা করতে গিয়ে প্রদীপের নিচের আঁধারকে জাস্টিফাই করা যাবেনা। শৃঙ্খলা জরুরী, তার জন্য সেন্সরও জরুরী যদি প্রয়োজন পড়ে, কিন্তু পার্টির অভ্যন্তরে খোলামেলা আলোচনা যদি না হয়, ভুল বা দোষগুলো কিন্তু ঘা-আলসারের মতো আড়ালে বাড়তেই থাকবে ক্যান্সার না হওয়া অবধি।

২০১৬ সালের ব্রিগেডে ময়দানে CPIM এর তৎকালীন রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র প্রকাশ্য সমাবেশে বলেছিলেন- আমাদের পার্টিতে এমন অনেকে আছে, যাদের আমাদের দিকে থাকা উচিৎ নয়; আবার ওইদিকে এমন অনেক লোক আছে যাদের আমাদের দিকে থাকা উচিত ছিল। দশ বছর পরেও এখনো এই বাক্যের তাৎপর্য সেদিনের মতোই সমান উজ্জ্বল।



মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

ঘৃণ্য ব্রাহ্মণ্যবাদ, মমতা ব্যানার্জী ও রাজ্যের মুসলমান সম্প্রদায়

 


বিজেপির রাজনৈতিক ন্যারেটিভ কি?


হিন্দু খতরেমে হ্যাঁয়, কারন আগামী দশ বা বিশ বছরের মধ্যেই নাকি গোটা ভারত মোল্লাদের হাতে চলে যাবে, তারা সংখ্যাতে এতো বেশী বাড়ছে। অতএব বিজেপিকে ভোট দাও, RSS কে আর বেশী শক্তিশালী করো।

RSS এর সফট হিন্দুত্ববাদী ও মুসলমানকে অশিক্ষিত হাঙ্গামাবাজ দুধেলগাই বানাবার প্রধান মুখ- মমতা ব্যানার্জী। তোলামূলের আদর্শ বিজেপির ওই উগ্র হিন্দুত্বের মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে, আমাকে ভোট দাও নাহলে বিজেপি চলে আসবে। বাইনারি সম্পূর্ণ।

RSS এর ব্রাহ্মণ্যবাদী উচ্চবর্ণের নেতাগুলো উচ্চবর্ণের হিন্দুদের নেতা তো বটেই, পাশাপাশি মুচি চামার বাগদি সহ প্রতিটা অন্তজ্যদের নেতা, আদিবাসীদের নেতা, মুসলমানদের নেতাও তারাই। এর বাইরে নিম্ন বর্ণের কোনো হিন্দু, কোনো মুসলমান, কোনো খ্রীষ্টান যতক্ষণ ব্রাহ্মণ্যবাদীদের লেঠেল ততক্ষণ সে ঠিক আছে; যদি তাদের কেউ নেতা হিসাবে উঠে আসে বা দাবী করে, এই সমগ্র ব্রাহ্মণ্যবাদী সিস্টেম তাকে সাম্প্রদায়িক হিসাবে দাগিয়ে দেবে। উদাহরণ হিসাবে হুমায়ূনই যথেষ্ট।

সমাজে মাত্র সাড়ে তিন শতাংশের কাছাকাছি একটা সম্প্রদায়, মানে যারা এই ব্রাহ্মণ্যবাদী তথাকথিত উচ্চবর্ণ সমাজ- এরা সকল ধর্মের প্রতিনিধিত্ব করবে। আর এটাই সেকুলারের সংজ্ঞা, এটাই গণতান্ত্রিক সৌন্দর্য, এটাই রাষ্ট্রবাদীতা। কিন্তু একজন মুসলমান বা একজন হরিজন কিম্বা কোনো খ্রীষ্টান যদি সেই দাবী করে, অমনি সে সাম্প্রদায়িক, সে মৌলবাদী। ব্রাহ্মণ তথা উচ্চবর্ণের হিন্দু হলে সে বাই ডিফল্ট সেকুলার। তারা হেমন্ত বিশ্বশর্মা বা অগ্নিমিত্রা পালের মত প্রকাশ্যে সাম্প্রদায়িক উস্কানি দিলেও- রাষ্ট্রযন্ত্র, আইন, মিডিয়া সেগুলোকে তুচ্ছ হিসাবেই গ্রহণ করে। কারন এই সকল প্রতিষ্ঠানের মাথাতেও ব্রাহ্মণ্যবাদীদেরই ভিড়, স্বভাবতই তারা এ বিষয়ে অন্ধ।

এদিকে বামপন্থী সেলিম, হুমায়ূনের সাথে মিটিং করলে, ISF এর সিদ্দিকি ভায়েরা বক্তিতা দিলে, কিম্বা পূর্ব মেদিনীপুরের রুহুল আমিন নতুন JUP দল খুললেই, সে মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক হয়ে যায়। আর এর প্রচারণাটা কে বা কারা করে? ওই ব্রাহ্মণ্যবাদীদের দ্বারা পরিচালিত, তথা ব্রাহ্মণের ঔরসে ‘নিয়োগপ্রথাতে’ যাদের জন্ম, সেই বেজন্মা মিডয়া হাউজ- যেমন আনন্দবাজার, প্রতিদিন, বর্তমান, আজকাল, জি মিডিয়া, রিপাবলিক, এই সময়- এই জাতীয় মিডিয়ার পতিতারা প্রচারের দায়িত্বে থাকে। এর বাইরে কিছু উচ্ছিষ্টভোগী অন্ত্যজ, যারা ব্রাহ্মণ্যবাদীদের পায়ের নিচে থাকাটাকে মোক্ষ মনে করে, তারাও এই প্রোপাাগান্ডার অংশ। এদের ন্যারেটিভ খুব স্পষ্ট- নেতা অবশ্যই ব্রাহ্মণ হতে হবে, নিদেনপক্ষে ক্ষত্রিয়; মুসলমান, বাগদি, আদিবাসী বা হরিজন তাদের স্বজাতির পক্ষে কথা বললেই সেটা সাম্প্রদায়িকতা, সেটাই মৌলবাদ। স্বজাতির মাঝেও তারা কেন নেতা হবে! নেতা শুধু ব্রাহ্মণবাদীদের মধ্য থেকে হবে।

শুরুটা যা দিয়ে করেছিলাম, আগামী সিকি শতকে ভারত নাকি মোল্লাদের দেশ হয়ে যাবে- তাই হিন্দু খতরেমে হ্যাঁয়, এটাই তো বিজেপির একমাত্র ও আদি ইস্যু। তথ্য কী বলছে? জেনে ও শিখে রাখুন, আগামীতে আপনাদের পেশাজনিত কাজে লাগবে, যারা সাংবাদিকতা করে পেট চালান।

তথ্য মোতাবেক আজকের তারিখে দেশের মোট জনসংখ্যার ১১৫ কোটিই হিন্দু, শতাংশের বিচারে যা ৭৯%। মুসলিম জনসংখ্যা প্রায় ১৫%, সংখ্যার বিচারে যা ২১.৮০ কোটির আশেপাশে। খ্রিস্টানদের সংখ্যা প্রায় ৩% এর আশেপাশে, যদিও কিছু প্রতিবেদন অনুযায়ী এই সংখ্যা ১০% এরও বেশী, যা ক্রমবর্ধনশীল। গোপন ধর্মান্তরের কারণে বিপুল পরিমান হিন্দু ক্যাথোলিক খ্রীষ্টানে কনভার্ট হয়েছে, যেটা তথ্যে আসেনা। শিখধর্ম, বৌদ্ধধর্ম, জৈনধর্ম ও অন্যান্য সম্প্রদায়গুলো যথাক্রমে ১.৭%, ০.৭% এবং জৈনরা ০.৪%।

১৯৫১ সালের তথ্য মোতাবেক সদ্য স্বাধীন দেশে হিন্দু জনসংখ্যা ছিলো ৩০.৪০ কোটি, ১৯৬১ সালে এটা পৌঁছায় ৩৬.৭০ কোটিতে। অর্থাৎ, ১০ বছরে বৃদ্ধি ৬.৩০ কোটি। ১৯৭১ সালে হিন্দু জনসংখ্যা ছিলো ৪৫.৩০ কোটি। এই ১০ বছরে বৃদ্ধি ছিলো ৮.৬০ কোটি। হিন্দু জনসংখ্যা ৫৬.২০ কোটিতে পৌঁছায় ১৯৮১ সালে, এই দশকে ১০.৯০ কোটি বৃদ্ধি পায়। ১৯৯১ সালের জনগণনাতে ১২.৮০ কোটি বৃদ্ধি পেয়ে এই জনসনংখ্যা ৬৯ কোটিতে দাঁড়ায়। ২০০০ সালের জনগণনা অনুযায়ী হিন্দু জনসংখ্যা ৮২.৮০ কোটিতে পৌঁছায়, ১৩.৮০ কোটির বৃদ্ধি সহ। সর্বশেষ জনগননা ২০১১ মোতাবেক হিন্দু জনসংখ্যা ৯৬.৬০ কোটিতে ছিলো, ২০২৬ এর আগত জাতি-জনগননা অনুযায়ী পরিসংখ্যান বিদেরা অনুমান করছেন হিন্দু জনসংখ্যা ১১৫ কোটি ছোঁবে। এই সংখ্যা শুধু জন্মহারেই বেড়েছে এমনটা নয়, নেপাল, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তান থেকে আগত হিন্দু শরনার্থী অনুপ্রবেশকারীরাও রয়েছে।

তথ্যের সাদাকোলো হিসাবে মুসলিম জনসংখ্যার ‘গ্রোথ রেট’ কী বলছে!

১৯৫১ সালের তথ্য মোতাবেক সদ্য স্বাধীন দেশে মুসলমান জনসংখ্যা ছিলো ৩.৫০ কোটি, ১৯৬১ সালে এটা পৌঁছায় ৪.৭০ কোটিতে। অর্থাৎ, ১০ বছরে বৃদ্ধি ১.২০ কোটি। ১৯৭১ সালে মোল্লা জনসংখ্যা ছিলো ৬.১০ কোটি। এই ১০ বছরে বৃদ্ধি ছিলো ১.৪০ কোটি। ইসলাম জনসংখ্যা ৮.১০ কোটিতে পৌঁছায় ১৯৮১ সালে, এই দশকে ১.৯০ কোটি বৃদ্ধি পায়। ১৯৯১ সালের জনগণনাতে ২.৬০ কোটি বৃদ্ধি পেয়ে এই জনসনংখ্যা ১০.৭০ কোটিতে দাঁড়ায়। ২০০০ সালের জনগণনা অনুযায়ী মুসলমান জনসংখ্যা ১৩.৮০ কোটিতে পৌঁছায় ৩.১০ কোটির বৃদ্ধি সহ। সর্বশেষ জনগননা ২০১১ মোতাবেক মুসলমান জনসংখ্যা ১৭.২০ কোটিতে ছিলো, ২০২৬ এর আগত জাতি-জনগননা অনুযায়ী পরিসংখ্যান বিদেরা অনুমান করছেন দেশে মুসলমানের সংখ্যা ২১.৮০ কোটি ছোঁবে।

শেষ ৭৫ বছরে ভারতে হিন্দু বৃদ্ধি পেয়েছে বছরে ১.৭৯% হারে। পাশাপাশি মুসলমানেরা বৃদ্ধি পেয়েছে ২.৪৭% বাৎসরিক হারে। অঙ্কের হিসাবে এইভাবেই যদি চলতে থাকে, ৩২৬ বছর পর দুই সম্প্রদায়ের সংখ্যা সমান সমান হবে। ১৯৫১ সালের নিরিখে ৭৫ বছর ইতিমধ্যে অতিক্রান্ত হয়েছে, আগামীতে হিন্দু মুসলমান সমান সমান হতে আরো ২৫১ বছর সময় লাগবে, ২২৭৭ সাল নাগাদ। এই হিসাব আজকের মত স্বাভাবিক পরিস্থিতিকে ধ্রুবক ধরে ভাবা হয়েছে, গাজার মত নির্বিচারে মুসলিম হত্যা, আসামে বিশ্বশর্মা সরকারের তীব্র ইসলাম বিদ্বেষ, মিয়ানমারের মত রোহিঙ্গা বিতারণ, কিম্বা বাংলাদেশের মত হিন্দু অত্যাচার ও বিতারণ হলে হিসাব এলোমেলো যাবে।

২৫১ বছর আগের, মানে ১৭৭৫ সালের পৃথিবী কেমন ছিলো জানেন? স্বাধীন আমেরিকা তখনও জন্মায়নি, তখনকার ভারত ধীরে ধীরে ঔপনিবেশিক শাসনের দিকে চলে যাচ্ছে, একেবারে রূপান্তরের মাঝখানে থাকা বহুভাগে বিভক্ত একটা ভূখন্ড। আজকের ভারতের কনসেপ্টই ছিলোনা তখন, না ছিলো গণতন্ত্র। ভারতজুড়ে নানান আঞ্চলিক শক্তি, মারাঠা সাম্রাজ্য, মহীশূরের হায়দার আলি, লক্ষৌ, হায়দরাবাদ, বাংলা ইত্যাদি অঞ্চল বিবিধ নবাবদের দখলে। গ্রামাঞ্চলে জোতদার জমিদারদের রমরমা। পুরোনো সাম্রাজ্য ভাঙছে, নতুন শাসন গড়ে উঠছে। দিল্লির মুঘল সাম্রাজ্য ভাঙনের দোর গোঁড়ায়। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি দ্রুত শক্তিশালী হচ্ছে দেশে, ১৭৫৭ পলাশীর যুদ্ধ ও ১৭৬৪ সালে বক্সারের যুদ্ধ জয়ের ফলে, ১৭৭৫ নাগাদ বাংলা, বিহার, উড়িষ্যা কার্যত কোম্পানির অধীনস্ত। না ছিল রেল, না বাস বা ইঞ্জিন চালিত গাড়ি, না বিদ্যুৎ, না আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা। মানুষ চলাফেরা করত, ঘোড়া, হাতি, পালকি, গরুর গাড়ি, নৌকা আর পায়ে হেঁটে। শিক্ষা বলতে পাঠশালা, মাদ্রাসা আর টোল।

আগামী ২৫১ বছর পর, ২২৭৭ খ্রীষ্টাব্দে তৎকালীন সভ্যতা ও বিজ্ঞান আমাদের কোথায় নিয়ে যাবে কেউ জানিনা, কিন্তু সেই দিনটার ভয় দেখিয়ে আজকের শিক্ষা, আজকের স্বাস্থ্য, আজকের রোজগার, আজকের প্রয়োজনীয় সব দাবিদাওয়া ভুলিয়ে দিয়ে ‘হিন্দু খতরেমে হ্যাঁয়’ বীজমন্ত্র জপিয়ে উলঙ্গ ভোটের রাজনীতি করছে বিজেপি- ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে। আর এই বিজেপিকে রুখতে আপনাকে তোলামূলের চোরগুলোকে ভোট দিতে হচ্ছে, যারা বিজেপিকে রাজনৈতিক জমি দিয়েছে ঘৃণা চাষের জন্য। নিজেকে চার অক্ষরের বোকা বলে মনে হয়না আপনার?

হ্যাঁ, মুসলমাদের এই বৃদ্ধিতে ব্রাহ্মণ্যবাদী RSS এর উচ্চবর্ণের নেতৃত্ব ভয় পেয়েছে বৈকি। ১৯৫১ সালে তাদের জনসংখ্যা ছিলো ওই ৫% এর কাছাকাছি, আজ ২০২৬ সালে সংখ্যাটা কমে সাড়ে তিন শতাংশ হয়ে গেছে। আদতে সংখ্যালঘু হয়ে, এই নিকৃষ্ট ব্রাহ্মন্যবাদীরা রাষ্ট্রের সমস্ত শাঁসালো পদ দখল করে বসে আছে। তারাই সকলের নেতা হয়ে বসে আছে। এরাই জন্মগত সেকুলার, এরা রাষ্ট্রবাদী এবং এরাই একমাত্র গণতান্ত্রিক। আপনি মুসলমান, নেতা হতে চাইলেই এই কায়েমি গোষ্ঠীটা আপনাকে মৌলবাদী, সাম্প্রদায়িক, সমাজবিরোধী এমনকি রাষ্ট্রবিরোধী বলে দাগিয়ে দেবে- আর এর জন্য কোনো প্রমাণ বা তথ্যের দরকার নেই, তাদের মুখের কথাই যথেষ্ট।

বিজেপি শয়তান এতে সন্দেহই নেই, কিন্তু মমতা ব্যানার্জী কি? দিনের শেষে তিনিও তো সেই RSS এরই নেত্রী। সাচার কমিটির রিপোর্ট ফেরি করে উনি মসিহা সেজে মুসলমানের ভোটে ক্ষমতার সিংহাসনে চড়েছিলেন, ওনার ১৫ বছরের রাজত্বে সরকারী চাকরিতে মুসলমানের সংখ্যা আরো আরো কমেছে। মুসলমানের মাথাপিছু রোজগার কমেছে, মুসলমানের ফ্যাক্টারি ও বড় ব্যবসা গুলো বন্ধ করিয়ে দিয়েছে, মুসলমানের সামাজিক সুরক্ষা কমেছে, OBC সংরক্ষণে মুসলমানদের পথে বসিয়েছে, ওয়াকফের বড় একটা সম্পত্তির অংশ ১ নং খতিয়ানে তুলে দিয়েছে।

বিজেপি জুজু দেখিয়ে সারাক্ষণ ভয়ের পরিবেশ টিকিয়ে রাখার জন্য মুসলমানের প্রশাসনিক হয়রানি বাড়িয়েছে। মুসলমান ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার WBCS অফিসার বাড়লে তার ক্রেডিট আল-আমিন মিশন জাতীয় একান্ত ইসলামিক সংগঠন গুলোর সৌজন্যে, মমতা ব্যানার্জীর কোনো কৃতিত্ব নেই। ওনার কৃতিত্ব ওয়াকফের টাকায় ইমাম ভাতা দিয়ে, সেটার উল্টোপিঠে পুরোহিত ভাতা দেওয়া ট্যাক্সের টাকায়। রেডরোডে ঈদের নামাজ হতো যেহেতু, পালটা হিসাবে সেখানে দুর্গা কার্নিভাল হওয়ানো। ট্যাক্সের টাকায় গুচ্ছের মন্দির বানানো, ক্লাবে ক্লাবে পুজোর জন্য টাকা উড়ানো। ওনার অবদান এটুকুই। মালদা মুর্শিদাবাদে একটা নতুন বিশ্ববিদ্যালয় অদধি করেনি, যাতে সম্প্রদায়টা একটু উন্নত হয়; অবশ্য উন্নত হলে তাদের মানে ব্রাহ্মণ্যবাদীদের হয়ে রক্তক্ষয়ী লড়াই করবে কে!

কিছু সময় বাদ দিলে, গত ১৫টা বছর ধরে রাজ্যের সংখ্যালঘু দপ্তরের মন্ত্রী, ব্রাহ্মণ মমতা ব্যানার্জী। তিনিই মুসলমানদের মসিহা সেজে সম্প্রদায়ের নাম দিয়েছে দুধেলগাই, আজকাল আবার ‘ওই ২৭%’ বলে তাচ্ছিল্যের ডাক ডাকেন উনি। তার বিধানসভায় বিজেপির অগ্নিমিত্রা মুসলমান সমাজকে ক্রিমিনাল বললেও তার মুখে সেলোটেপ বাঁধা থাকে, আসলে ২৯৩টা RSS এর সদস্যের একটা হাউজে কীভাবে মুখ্যমন্ত্রী প্রতিক্রিয়া দেবেন? এখানে দুজনেই RSS কর্মী, সহকর্মী নেত্রীর বিরুদ্ধে বললে নাগপুরে কৈফিয়ত দিতে পারবেন উনি? ব্রাহ্মণ স্পিকার বিমান ব্যানার্জী কী অগ্নিমিত্রা পালের বক্তব্য বিধানসভার কার্য বিবরণী থেকে বাদ দিতে পেরেছেন? সারাবছর তিনি RSS এর মন্দির রাজনীতির বাস্তবায়ন করেন, পরিকল্পিত দাঙ্গা লাগান যাতে মুসলমান ভয়ে থাকে। আর ভোটের আগে মাথায় হিজাব বেঁধে ভড়ং সেজে, মুসলমানকে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের ময়দানে নামিয়ে দেয়, লুঠপাঠ মারামারি করে তোলামূলকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে।

শেষ ১৫ বছরে যতগুলো রাজনৈতিক মৃত্যু হয়েছে, তার মধ্যে সবচেয়ে বেশী মরেছে মুসলমান, পরিবারগুলো সর্বশ্রান্ত হয়েছে। এছাড়া মৃতের তালিকাতে নিম্ন বর্নের হিন্দু আছে, কিছু আদিবাসীর দেখাও মেলে; কিন্তু ১টা মৃত এমন দেখান, যিনি ব্রাহ্মণ। অথচ তোলামূলের মন্ত্রীসভা থেকে দলীয় পদের দিকে তাকান, সেখানে মুসলমান প্রায় নেই, থাকলেও ফিরহাদ হাকিমের মত- ‘গুড মুসলিম’। নেহাত SC, ST OBC সংরক্ষিত আসনগুলিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতিনিধি ও রাজ্য জুড়ে ১১০টা মুসলিম ভোটার অধ্যুষিত আসনে মুসলমানদের মধ্যে থেকেই প্রার্থী দিতে হয় বাধ্য হয়ে, নতুবা উনি সেখানেও দক্ষিণ কোলকাতার ব্রাহ্মণ সন্তানদেরই দাঁড় করাতেন, যিনি RSS এর প্রো-হিন্দুত্ববাদের ধ্বজাধারী।

রাজ্যে ২৭% মুসলমান, সেই হিসাবে ২০২১ সালের তোলামূলের ২৯১ জন প্রার্থীর মধ্যে ৭৮ জন মুসলমান হওয়া উচিৎ ছিলো, টিকিট পেয়েছিলো ৪২ জন। স্বভাবতই তোলামূলের ২২৩ জন MLA এর মধ্যে, ৬০ জন মুসলমান না থেকে, রয়েছে ৪১ জন। ৪৪ জন মন্ত্রীর মধ্যে ১২ জন মুসলমান থাকার বদলে আছে তার অর্ধেক, মাত্র ৬ জন। এই হচ্ছে মমতা ব্যানার্জীর মুখ ও মুখোশ।

বিজেপি আর তোলামূল আলাদা কেউ নয়, দুটোই RSS এর শাখা, একটা মুখ অন্যটা মুখোশ। তাই তোলামূলের বিকল্প কখনও যেমন বিজেপি হতে পারেনা, তেমনই বিজেপি আসুক বা না আসুক- উগ্র হিন্দুত্ববাদ তথা RSS নামের ক্যান্সারের এর বিস্তার থামবেনা তোলামূলের রাজত্বে। গত ১৫ বছরে অফিসিয়ালি ১৫৭% বৃদ্ধি পেয়েছে RSS এর নানান খোঁচর সংস্থা গুলো, যারা সমাজে বিষ ছড়াবার কাজ করে। আপনার ভিতরে সুখের অর্গাজম হচ্ছে, কারন CPM জিরো। এদিকে সেই জিরোর সুবিধা নিয়ে গোটা রাজ্যে RSS এর ১,৪৯২টি শাখা, ৮০০টি মিলন ইউনিট এবং ৩০০টি মণ্ডলী রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্র জুড়ে গজিয়ে উঠেছে। ব্লকের হিসাবে ৩৪১টির মধ্যে ২৬২টিতে তাদের অস্তিত্ব রয়েছে। যারা বিজেপি ও তোলামূল উভয়ের জন্যই কাজ করে। এরা চুড়ান্ত ব্রাহ্মণ্যবাদী, নিম্নবর্ণের হিন্দুদের লেলিয়ে দেয় মুসলমানের সাথে, কিম্বা নিজেদের মধ্যে মিথ্যা কারনে লড়াই করায়, যাতে ব্রাহ্মণ্যবাদীরা ক্ষমতায় টিকে থাকে। কিন্তু আপনি জানেন CMP জিরো, আর সেই সুখেরই তো ঠিকানা নেই, বাকি কিছু ভাবার সময় কোথায়! 

আপনার নেতা কে হবে আপনি ঠিক করুন। উমা ভারতী, স্বাধ্বী প্রজ্ঞা বা যোগী আদিত্যনাথেরা যত গেরুয়া বস্ত্রের ভেক ধরে মূল ধারার রাজনীতিতে সাম্প্রদায়িকতার চাষ করবে, তারই উল্টো পিঠে মিমের আসাউদ্দিন ওয়েইসি, ISF এর নৌসাদ কিম্বা সদ্য গঠিত JUP এর রুহুল আমিনেরাও মাথায় ফেজ টুপি পরে মুসলমানদের নেতা হিসাবে আবির্ভুত হবেই। গত ১৫ বছর ধরে মুসলমানেরা ব্রাহ্মণ মমতা ব্যানার্জীকেই তো নিজেদের নেতা মেনে এসেছিলো, তাতে উনি কী দিয়েছেন? ওয়াকফের সম্পত্তি কেড়ে নিয়েছেন, মুসলমানের সন্তানকে ভিনরাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিক বানিয়েছেন, গোটা সম্প্রদায়কে দুধেল গাই বানিয়েছেন, গুন্ডা আর তোলাবাজ সিন্ডিকেটের লুঠেরা বাহিনী বানিয়েছেন, আর সর্বক্ষণ বিজেপির ভয় দেখিয়েছেন। আজ হুমায়ূন যদি বাবরি মসজিদের নামে নেতা হয়ে যায়, সেই দায় একমাত্র মমতা ব্যানার্জীর।

মুসলমান সমাজ ওনাকে নেতা হিসাবে মেনে নেওয়ার সাথে সাথে, ঢেলে ভোট দিয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতাতে টিকিয়ে রেখেছিলো দেড় দশক। তাতে বিপুল চুরি চামারির শেষে মুসলমানদের জন্য কী করেছেন? বিজেপিকে তাড়াতে গেলে আগে তোলামূল তাড়ান, নতুবা আপনার কোনো ভবিষ্যৎ নেই, আতঙ্কে, দাঙ্গায়, অশিক্ষায় আর দারিদ্রের সাথে পদদলিত হয়ে, ব্রাহ্মণ্যবাদীদের দাস হয়ে বেঁচে থাকা ছাড়া বিকল্প নেই।


বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

এতো কূনাট্যের কারন কী?


 বাঁশ, তুঁষ, শুকনো পাতা, এমনকি শুকনো আবর্জনা বা ধানের ভুষি দিয়ে চুলো জ্বালাবার পরেও, আগুনকে বারবার খোঁচাতে হয়, নতুবা সেই আগুন ক্রমশ ছাই এর নিচে চাপা পরে নিভে যায়; এই অভিজ্ঞতা আমাদের অনেকেরই রয়েছে। ছাই চাপা আগুনের নিচে যে অবশিষ্ট কার্বন থাকে তা অক্সিজেনের সংস্পর্শ না পেলে নিভে যায়।

SIR ইস্যুতে তোলামূল বিভিন্নভাবে খোঁচাবার চেষ্টা করেছে, বিশেষ করে মুসলমান পাড়াতে। সেই ২০২১ এর মতই এটা NRC ই হতে চলছে, নামটা শুধু আলাদা। এই যে তোমার শুনানিতে তোমার ডাক পড়েছে - একবার উপস্থিত হও, তাহলেই বুঝতে পারবে যে আইবুড়ো ভাতের মত শেষ বার তুমি ভারতীয় হিসেবে ভাত খাচ্ছ, তারপর সোজা NRC ক্যাম্প। মানেটা দাঁড়ালো কী! তোলামূল ও তাদের মগজ i-Pac বারবার খোঁচাখুঁচি করে বাইরে থেকে অক্সিজেন সাপ্লাই করার চেষ্টা করেছে ‘ভয়ের ভাটিতে’, কিন্তু মেটেরিয়াল এর মধ্যে উপযুক্ত পরিমাণ ‘কার্বন’ নেই বলে, হাজার অপচেষ্টা সত্বেও বাংলার বুকে অশান্তির আগুন জ্বালাতে পারেনি তোলামূল সুপ্রিমো।

গতকাল সুপ্রিমকোর্টে মান্নীয়া ও তাঁর দলবল, একগাদা মিথ্যার মাঝখানেও স্বীকার করে নিয়েছে- SIR এ তাদের কোন আপত্তি নেই, শুধু সেটা যেন ২০২৬ ভোটের পরে হয়। সাধারণ মানুষের জন্য মান্নীয়া দিল্লী যায় নি, কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন- যেন ২০২৪ এর ভোটার লিস্ট ধরে ছাপ্পাটা মারা যায় এটা নিশ্চিত করতে।

মান্নীয়া নিজে দুর্নীতির গু এর ট্যাঙ্কে ডুবে রয়েছেন আপাদমস্তক। ওয়াকফ সম্পত্তির কেসে মাত্র পাঁচ দিন আগে সরকার থেকে নোটিশ দিয়ে সমস্ত সম্পত্তি আপলোড করতে বলার দরুন, মুসলমান সম্প্রদায়ের বিপুল সম্পত্তি জেলাশাসকের নামে আপলোড হয়ে গেছে। OBC কে দু ভাগে ভাগ করে দিয়ে এবং বড় অংশের উচ্চবর্ণের হিন্দুকে এর সাথে জুড়ে দিয়ে রাজ্যজুড়ে মুসলমানের যেটুকু সুবিধা ছিল তাকে কেড়ে নেয়া গেছে। দুই ক্ষেত্রেই মুসলমানকে পথে বসাতে পেরেছেন RSS এর নেত্রী মান্নীয়া ব্যানার্জী। পাশাপাশি RSS এজেন্ডা রূপায়নে, দীঘার মন্দির সহ সারা পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে মন্দিরের বন্যা বইয়ের দেবার একটা প্রকল্প চলছে, একই সাথে ইসকনকে বিপুল সরকারী জমি বিনামূল্যে দান করা হয়েছে, উপরের তিনটেই হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির অংশ, যা RSS চায়। এর পরেও দুধেলগাই এর দল কিন্তু মান্নীয়াকে ভোট দেয়।

SIR এর খসড়া তালিকায় নাম তোলার ক্ষেত্রে, ইচ্ছাকৃত ভুলভাল করে তোলামূল BLA এর দল, মুসলমানকে রীতিমতো পথে বসিয়ে দেওয়ার চক্রান্ত করেছিলো। ভুল হয়েছে বলেই নির্বাচন কমিশন ডাকতে বাধ্য হয়েছে, যদিও অধিকাংশ ষড়যন্ত্রের ফাঁদ থেকে বেরিয়ে আসার ব্যাপারে যা কিছু প্রচেষ্টা, তা মুসলমান সমাজ নিজের চেষ্টাতে করছে, যা আগে থাকতে প্রস্তুতি নেবার ফলাফল। এদেশীয় মুসলমানের নাম কাটার ক্ষেত্রে এক নম্বরে বিজেপি থাকলে, দু'নম্বরে অবশ্যই তোলামূল কংগ্রেস।

SIR শুরুর সময় থেকে মান্নীয়া রাস্তায় নেমে নাটক করেছিল, জনগণ ওনাকে গুন্তিতে নেয়নি, নাটক ফ্লপ হয়ে যায়। এরপর যেকোনো মৃত্যুকে SIR এর সাথে ম্যাপিং করার মরিয়া প্রচেষ্টাও জনগণ খায়নি। তোলামূলের ভাতাজীবী খোঁচর জিম নওয়াজ কোর্টে মামলা করেছিলো, কেউ জানেনা তার স্ট্যাটাস কি, মাননীয়াও সেই মামলার পার্টি হয়নি। সিদ্দিকুল্লার রাজভবন অভিযানের খবর পাড়ার নেড়িকুত্তা গুলোও টের পায়নি। পাঁচালীর গাড়ি থেকে ফেরি করা ভয়ে মানুষ অভ্যস্ত হয়ে গেছে, অকেজো অস্ত্র। শুনানির প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে, যাকে ডেকেছে, তার ‘আপনা হাত জগন্নাথ’, নিজেকে সেই বিপদ থেকে উদ্ধার পেতে হয়েছে, তোলামূলের কোনো প্রতিশ্রুতি কাজে আসেনি।

মরিয়া ভাইপোর নির্বাচন কমিশনের পায়ে ধরতে যাওয়াটাও এই ক্রনোলজিতেই পড়ে; বাইরে এসে হম্বিতম্বি না করলে তাকে কেউ পালোয়ান বলবে কেন! আসলে পিসির ফেউ হিসেবে নির্বাচন কমিশনারকে কোনভাবে ম্যানেজ করা যায় কিনা সেটা পরখ করতে গিয়েছিলো। পাশাপাশি ভাইপো ইম্মিডিয়েট ভোট ঘোষণা করে দেওয়ার দাবীও জানিয়েছিল, যাতে DA মামলার মুখোমুখি না হতে হয়। কিন্তু জ্ঞানেশ গুপ্তা আগেই বিজেপির হারেমের মক্ষীরানি, তোলামুলের ভাইপোর সাথে নষ্ট হতে সে রাজি হয়নি বাঁধাবাবু ছেড়ে। গুপ্তা মালও বাস্তুঘুঘু, SIR এ গোটা দেশের জন্য এক আইন আর পশ্চিমবঙ্গের জন্য আলাদা আইন করা তার পক্ষে সম্ভব হয়নি।

এদিকে আইপ্যাক (i-Pac) বলে দিয়েছে ২০২৪ সালের ভুয়া ভোটার তালিকা ছাড়া তোলামূলকে কোনমতেই পাশ করানো যাবে না। এই কারনেই মান্নীয়া কোর্টের কাছে গিয়েছে যাতে নির্বাচনটা ২০২৪ সালে ভোটার লিষ্ট ধরে করা হয় সেই অপচেষ্টা করতে, কারন SIR এর ফলে অন্তত ৯৩টা এমন কেন্দ্র রয়েছে, যেখানে বাদ যাওয়া ভোটারের চেয়ে তৃনমূলের জেতার মার্জিন কম। তাই ভুয়ো, মৃত, অবৈধ ও ভুতুরে ভোটার ছাড়া মান্নীয়ার চোরবাহিনী কোনোভাবেই ২৬শে ক্ষমতায় ফিরতে পারবেনা। তাই তার প্রতিটা অস্ত্রকে রাস্তায় নামিয়ে ‘বিরোধী’ মোডে নিয়ে গেছে নিজেকে, যাতে পুরাতন ভোটার লিষ্ট বাতিল না হয়। পাশাপাশি খানিকটা কোরামিন দেওয়া যায় তোলামূলের তোলাবাহিনী কর্মী ও ভাতাজীবী গুলোকে। এই কারনেই মিডিয়াজুড়ে শুধু মান্নীয়ারই জয়জয়কার, যেন দিগ্বিজয় করে ফিরেছেন, এমন মিথ্যাবলয় তৈরি করা হয়েছে তাদের নিজেদের আত্মবিশ্বাসের অভাব ঢাকতে, কারন দেওয়াল লিখন স্পষ্ট।

পশ্চিমবঙ্গের প্রায় প্রতিটা BLO, তোলামূলের BLA দের দ্বারা সত্যি সত্যি বীভৎস চাপের মধ্যে ছিলেন। শেষমেষ ভাবটা এমন যে, আমি কেন ঝামেলা পোয়াবো, আমাকে তো এদের সঙ্গেই থাকতে হবে সারাবছর। এই ছোট্ট নীতিতে অবলম্বন করে যার নাম যে অবস্থায় এসেছে, সেই অবস্থাতেই BLO আপলোড করে দিয়েছিলো। যারা ডেটা এন্ট্রি অপারেটর হিসাবে কাজ করেছে, তারাও i-Pac এর কড়া নজরদারিতে তোলামূলের ইচ্ছানুযায়ী এই ভুলগুলো করেছে, যাতে গতকাল আদালতের ওই কূনাট্য মঞ্চস্থ করা যায়।

শেষ ১ মাস যাবত ধরে হওয়া হেয়ারিং এ ডাক পাওয়া মানুষের জিজ্ঞাসাবাদ করাটাকে, রাজনৈতিক লাভের উদ্দেশে সবার আগে তোলামূল ‘হয়রানি’র নাম দিয়েছে। বিজেপির নাম ইচ্ছা করে নেওয়া হলো না, তার কারণ পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি বলে কোন রাজনৈতিক দলই নেই, তাদের অস্তিত্ব শুধুমাত্র টিভি, অন্যান্য মিডিয়া ও হাওয়াতে। তাদের ভোটব্যাঙ্ক সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রিত হয় তোলামূল তথা i-Pac দ্বারা যারা নাগপুরের সংবিধান অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলে। আপাতত i-Pac, এই SIR শুনানি পর্বে বিজেপিকে গণশত্রুতে পরিণত করে দিয়ে খসড়া তালিকা প্রকাশের পর রাজ্যের যে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ছিল তা খানিকটা ঘোলাটে করে দিতে সক্ষম হয়েছে। এপস্টিন ফাইলে নাম উঠে যাবার পরও যে নির্লজ্জ ব্যক্তি পদ আঁকড়ে বসে থাকে, তার পক্ষে গোটা দেশের কোন দুর্নীতি বিরুদ্ধে বলা সম্ভব নয়।

হেয়ারিং পর্বের শুরুতে BLO কেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল ডকুমেন্ট ভেরিফাই করে আপলোড করার জন্য, একটি বড় অংশের BLO অথবা তাদের নিয়ন্ত্রক i-Pac পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে পেরে, ডকুমেন্ট ভেরিফাই করে আপলোড করার পরিবর্তে শুধুমাত্র ডকুমেন্ট ভেরিফাই বা সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে লিখে দেয়- যা মেশিন কোনোমতেই মানেনি। ফলত পাইকারি হারে শুনানিতে ডাক পড়েছে।

শুনানি থেকে ফেরত আসা প্রতিটা ব্যক্তি বুঝে গেছে যে, ওখানে কোন জুজু বুড়ি নেই। যতটা ডকুমেন্ট নিয়ে গেছে বিশেষ করে মুসলমান, তাতে তার মনে অন্তত এইটুকু বিশ্বাস জন্মেছে যে তার নাগরিকত্ব যাবেনা। ৩০ লাখ আন-ম্যাপিং ব্যক্তির মধ্যে যাদের নাম থাকবে না, তারা নিজেরাই বুঝে গেছে। একদম রঘু ডাকাত মালগুলো, যারা সংখ্যাতে প্রায় তিন লাখ, তারা নিজে থেকে আসেনি। যারা চুরি করে ম্যাপিং করেছিলো, তাদের মধ্যেও একটা বড় অংশ যে নাম রাখতে পারবে না সেটাও বুঝে গেছে। ১৩টা ডকুমেন্টের বদলে যারা উল্টোপাল্টা ডকুমেন্টস জমা করেছে হেয়ারিং এ, তাদের নামও ফাইনাল তালিকাতে থাকবেনা, লিখে নিন। পদবীর বানান ভুল, মধ্যম নাম থাকা বা না থাকা, আধার-ভোটার নামের মিসম্যাচ ও পিতা-পুত্রের নামের মিসম্যাচ- এই ক্যাটাগরি কটা ছাড়া বাকি যাদের ডাকা হয়েছে তারাও বেশিরভাগ নাম রাখতে পারবে না। মিসম্যাচ ক্যাটাগরিতে যে ৮৫ লাখকে ডাকা হয়েছে, তাদেরও কমপক্ষে ১০% এর নাম কাটা যাবেই, সেখানেও বিরাট একটা জুয়াচুরি রয়েছে ভুয়ো ভোটারদের।

তোলামূল সরকারের পে-রোলে থাকা তথাকথিত ‘ল্যে-ম্যান’, ‘কন্টেন্ট ক্রিয়েটর’ কিম্বা ‘অরাজনৈতিক কিন্তু দিদিকে ভালো লাগে’- এমন সোশ্যাল ইনফ্লুয়েন্সারেরা শুনানিতে ডাক পাওয়া মাত্র প্রথমে রাউন্ডে ফুটেজ খেয়ে নিতে কসুর করেনি। সমাজ তাকে মেনে নিক বা না নিক, তোলামূল/I-Pac থেকে আসা ভাতা বন্ধ হয়ে যাবার ভয় ছিলো রিলমারানীদের। অতএব সবার আগে নিজের হেয়ারিং ডকুমেন্ট এর ছবি সোস্যাল মিডিয়াতে আপলোড করে খানিকটা হেগে ফেলো, ভাইপোদাকে ট্যাগ করে। বাইচান্স মিনি সেলিব্রিটি হয়ে গেলে লাইভে এসে নিজের বংশের প্রাচীনত্ব প্রমাণ করার জন্য মেসোপটেমিয়া হরপ্পা মহেঞ্জোদারো যুগ থেকে বক্তব্য শুরু করে, যতটা পারা যায় ততটা লম্বা হ্যাজ নামানো। শেষ একমাসে চুম্বকে এটাই ছিলো রিলমারানীদের রোজনামচা।

মানুষের নাগরিকত্ব বিশাল বড় গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা, অতএব নির্বাচনকে শিয়রে রেখে এখনই এই কাজ করতে হবে, যাতে গত সরকারের পাঁচ বছরের প্রতিশ্রুতি এবং তা রূপায়ন নিয়ে কোন কিছু প্রশ্ন করা বা আলোচনার অবকাশ না থাকে জনগণের কাছে। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এমনই একটা পরিবেশ তৈরি করার অপচেষ্টা করা হয়েছিলো, এটা দিনের আলোর মতো পরিষ্কার হয়ে গেছে আজ। পাতি বাংলাতে, SIR কে সামনে রেখে জনগণকে আতঙ্কিত করে অতীতের যাবতীয় অপকর্ম চাপা দেওয়া এবং সেই ফাঁকতালে ক্ষমতায় আসার চেষ্টা চালাচ্ছে দিল্লি বিজেপি।

নির্বাচন তালিকা পরিষ্কার হোক এবং এর মাধ্যমে সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক উপায়ে একটি সত্যি কারের জনগণের সরকার ক্ষমতায় আসুক- এই দাবি সবার আগে তুলেছে বামেরা এবং তাদের এই দাবির সাথে সহমত পোষন করেছে রাজ্যের বেশিরভাগ সুস্থ মানুষ। একই সাথে, SIR এর নামে জনগণের হয়রানি, মানসিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে, নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে সর্বপ্রথম যারা আদালতের দারস্থ হয়েছিলো, সেই মুস্তারি বানু ও তার আইনজীবি সব্যসাচী চ্যাটার্জির রাজনৈতিক পরিচয় যে হার্ডকোর সিপিএম- সেটা জৈষ্ঠের সূর্যের মতই প্রকাশিত।

তারপরেও তোলামূলের সুরে সুর মিলিয়ে বামেরা এরকম মিনমিনে দিশেহারা পরিস্থিতিতে পড়েছে কেন, ভাবলে অবাক হচ্ছি। দোষটা যে কেন্দ্রের শাসক বিজেপি, তাদের নিয়ন্ত্রক নির্বাচন কমিশন, রাজ্যের শাসক তোলামূল, তাদের বুদ্ধিদাতা সংস্থা i-Pac এর। এদের পরিচালিত একটা বড় অংশের সাদা খাতার BLO, তোলামূলের BLA আর তাদের নিয়ন্ত্রিত ডেটা সেন্টার- এই সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল এই নৈরাজ্যের পরিস্থিতি, এটা পরিষ্কার করে মানুষের সামনে বলতে অসুবিধাটা কোথায়? আলিমুদ্দিন এমন ‘মিলে সুর মেরা তুমহারা’ রিংটোনে কথা বললে, রাজ্যের সভ্য ভদ্র শিক্ষিত ও গরিব মুসলমান- এইরকম দুঃসহ অবস্থাতে তোলামূলকে ছেড়ে যাবে কোথায়?

গতকাল মান্নীয়ার কোর্টেরুম সার্কাসের পর আজকে আলিমুদ্দিন স্বাভাবিকভাবেই প্রকাশ করতে চেয়েছে যে- আসল মামলাকারী আমাদেরই পার্টির মোস্তারি বানু। উদ্দেশ্য মহৎ সন্দেহ নেই, কিন্তু আজকের এই সভাতে মোস্তারি বানুকে আনা যেতোনা, ফোন কলের বদলে? ওনার যে বাস্তব সমস্যা, সেটার ‘রাজনৈতিক এ্যানক্যাশ করার চেষ্টায় আরেকটু যত্নবাণ হওয়া যেতো না কি? মন্দের ভালো এটাই যে- ২৪ ঘন্টার মধ্যেই সাংবাদিক সম্মেলন করতে পেরেছেন, এটাও কম অগ্রগতি নয়।

তোলামূলের এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে যদি সিদ্ধান্তহীনতার নামে আলিমুদ্দিনের আঁধার ঘনিয়ে থাকে; তোলামুলের থেকে ভাগাখোর মিডিয়া যদি এক হুমায়ূন অস্ত্রেই গোটা বাম শিবিরকে পক্ষাঘাত করিয়ে রেখে দেয়, এর চেয়ে বড় অপদার্থতায় আর কিছু হতে পারেনা। আমাদের খেলাটা আমাদের নিয়মেই হবে তো, আমরাই প্লেয়ার বাছব, আমরাই শুরু আর শেষের বাঁশি বাজাবো। এখানে কী হচ্ছে? তোলামূল ও তাদের পেটোয়া মিডিয়া, সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবীরা হুমায়ূনের সাথে মিটিং নৈতিকতা প্রশ্নেই আলিমুদ্দিনকে আবার কাছিমের মত খোলসের মাঝে নিজেকে ঢুকিয়ে দিয়েছে, এভাবে মানুষ ভরষা করে ভোট দেবে শুধু গাল ভরা ফাঁপা বুলি শুনে?

প্রতিবারের মত এবারও ‘ভয়’ নামের কুমিরছানাকে দেখিয়ে যদি তোলামূল ভোটের বৈতরণী পার করে যায়, তাহলে পশ্চিমবঙ্গের জন্য এর চেয়ে দুর্ভাগ্যের আর কিছু হবে না।



শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬

সেলিম হুমায়ূন বৈঠকঃ অপারেশন কাটমানি

 


অপারেশন কাটমানি।

 

অপারেশন বর্গা যেমন হয়েছিল, তেমনই ‘অপারেশন কাটমানি’ করতে হবে সেলিম সাহেব। “লুঠের টাকা কেড়ে নিয়ে এসে, বিলিয়ে দেওয়া হবে মুটে মজদুর চাষীদের মাঝে”- এটা স্পষ্ট করে বলুন, রোজ বলুন, বারেবারে বলুন, দলের সবাইকে দিয়ে বলান। আর এগুলো করতে গেলে ঝান্ডা ধরার ডান্ডা দিয়ে তোলামুলের লুঠেরা বাহিনীকে পালটা ক্যালানি দিতে হবে, নতুবা লুঠের মাল উদ্ধার হবে না। এই ক্যালান দিতে গিয়ে যার সাহায্য লাগবে, অর্থাৎ যারা তোলামুলকে কেলিয়ে লাট বানিয়ে দেবে তাদের সাথে যদি কিছু রফা করতে হয়, ১০০ বার করুন, হাজার বার করুন। রাজনীতি যুদ্ধের ময়দান, বাবু বিবিদের পোঁদ নাচিয়ে রিল বানানো নয়।

হুমায়ূন পচা সন্দেহ নেই। পাশাপাশি একটা এমন ভোটার দেখান যে গত ৩টে নির্বাচনে হুমায়ুনের ‘আদর্শে দীক্ষিত হয়ে’ ভোট দিয়েছিল। হুমায়ুনের সাপোর্ট করার প্রশ্নই নেই, কিন্তু তীব্র সাম্প্রদায়িক যে খুনে বক্তৃতা হুমায়ূন দিয়েছিল, সেটা সালারের যোগীর ভাষণের একটা পালটা এফেক্ট ছিল। আজ যারা হুমায়ুনের বিরুদ্ধে লিখছে, সেই চটিচাঁটা মিডিয়া ও ভাতাজীবী সারমেয়কুল এর আগে হুমায়ুনের জাত নিয়ে প্রশ্ন তোলেনি, যখন সে তোলামুল আর বিজেপিতে ডেলি প্যাসেঞ্জারি করছিল।

হুমায়ূন বা নৌশাদের সাথে রয়েছে তারা, তারা কারা? এরাই তো ২০০৬ সালে সিপিএমের ভোটার ছিল, ২০১৬ সালে তোলামুলের ভোটার, ২০২৬ শে হুমায়ূন বা নৌসাদের কুলে ভিড়েছে। ফেসবুকের সোফা বিপ্লবীরা জোরে পাদতে গেলে হেগে ফেলে, তারা সামান্য বুথ এজেন্ট হবার নাম শুনলে মুতে ফেলে, এরা পাল্টা ক্যালানি দিতে পারবে তোলামুলের লুটেরা বাহিনীকে? দল সিপিএম সেই ক্যালানি দেওয়ার লোকটা কোথা থেকে পাবে রাতারাতি? আর ক্যালানি না দিতে পারলে ব্যান্ডেজ বাঁধা কালসিটের ছবি দিয়ে সহানুভূতি ভিক্ষা করা আর শূন্যের মহিমা কীর্তনই করতে হবে আগামী ১ দশক।

বিজেপি যাদের প্রার্থী করেছে, তৃণমূল তাদের মন্ত্রী করেছে- এমন ডজন খানেক উদাহরণ রয়েছে। অথচ, সিপিএম শুধু একটু কথা বলেছে মাত্র, তাতেই সিপিএমের সতীত্ব রক্ষার্থে তৃণমূল, বিজেপি বুদ্ধিজীবী সমালোচক, তাবড় মিডিয়া, সব একাকার হয়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি হাহাকার একশ্রেনীর বাম্বাচ্চাদের, এরা চেঁচিয়ে পাড়া মাথায় তুলছে। উদগান্ডুরা বোঝেই না- রণনীতিতে সংগ্রাম গুরুত্বপূর্ণ, সতীত্ব নয়; দিনের শেষে টিকে থাকতে হবে তো

সেলিম সাহেব ধন্যবাদ, আপনি একটা পরিণত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যার দরুন অন্তত ৩ দিন প্রচারের আলোর সবটা আপনার দিকে ছিল। হুমায়ুনের সাথে আলাপ করতে যাওয়াটা কোন গভীর অন্তরালের বিষয় ছিল না, রীতিমতো ফাঁদ পেতে স্বীকৃত মিডিয়া হাউসগুলোকে বাধ্য করেছেন- তুমি আমার কাছে এসো, আমার বক্তব্য শোনো, আর এইগুলোর মাধ্যমে পার্টিকে প্রাসঙ্গিক করে তোলো। নতুবা এই মিডিয়াই ইনসাফ যাত্রা, বাংলা বাঁচাও যাত্রা সহ এমন শয়ে শয়ে সিপিএমের কর্মসূচীকে ১ পয়সার গুরুত্ব দেয়নি; অথচ হুমায়ূন হিট। মিডিয়ার তৈরি তৃনমূল-বিজেপি এই বাইনারিকে কাটানো, বিষয়টা মোটেই সহজ ছিল না।

কোলকাতার কোনো অন্ধ গলিতে মাঝরাত্রে কিংবা মুর্শিদাবাদের যেকোনো বাড়িতে, কালো কাঁচে ঢাকা গাড়িতে নিজেদের লুকিয়ে দিব্যি কথা বলা যেত হুমায়ুনের সাথে। যেহেতু আসল উদ্দেশ্যটা হুমায়ুন নয়, আসল উদ্দেশ্য নিজেদের পালে প্রচারের আলো কেড়ে নেওয়া, আসল উদ্দেশ্য দশ দিক খুলে বার্তা দেওয়া। রাজ্যের মানুষ কী বলতে চাইছে, কী তাদের চাহিদা, সেইটা খানিকটা পরখ করার তাগিদে- তাদের বক্তব্য রাখার রাজনীতির ময়দানকে আরেকটু বড় করে দেওয়া। দেখুন কী কী আউট হয়েছে- মমতার সিঙ্গুর ফ্লপ ও অপ্রাসঙ্গিক হয়ে গেছে, সিদ্দিকুল্লার রাজভবন অভিযান অন্ধকারে তলিয়ে গেছে, নিতীন নবীন মহাশয়- রবীন্দ্রনাথকে শান্তিতে নোবেল পাইয়ে না দিলে বাংলাতে তার উপস্থিতির কথাও মানুষ জানতে পারত না। কারণ  মিডিয়ার সমস্ত আলোর কেন্দ্রে একটাই মানুষ – মহঃ সেলিম।

সংসারটা যাকে চালাতে হয়, সে বোঝে ঝক্কি কাকে বলে। যে রান্না করে সে জানে কখন কতটা নুন দিতে হবে, কোথায় চিনি দিতে হবে, কোথায় তেল লাগাতে হবে। বড় বাবুর্চিরও ভুল হয় বৈকি। টানাটানির সংসারে অল্প অল্প করে কিছুটা টাকা বাঁচিয়ে দুর্গাপুজো/ঈদে যিনি সকলকে কাপড় কিনে দেন, নুন আনতে পান্তা ফুরায় যে হেঁশেলে সেখানে রোববার অন্তত একপিস চিকেন আর অনেকটা ঝোল যিনি জোটাবার বন্দোবস্ত করেন, ভুল হলে গালিগালাজ তিনিই খান। দিনের শেষে সংসার চালাবার দায় ও গালি খাবার দায় যখন কারো একার ঘাড়ে- সুতরাং সিদ্ধান্তের বড় অংশটা যে তিনিই নেবেন, স্ট্যান্ড তিনিই নেবেন এটাই কি স্বাভাবিক নয়?

সিঙ্গুরের বুকে মমতা ব্যানার্জী, নির্বাচন কমিশনকে শিখন্ডী বানিয়ে SIR কে আক্রমণ করে মুসলমান প্রীতি দেখানোর মিথ্যা প্রয়াস বাস্তবে মাঠে মারা গেছে। RSS থেকে পরিষ্কার করে বার্তা গেছে কমিশনে, মুসলমানকে ডিফিউজ করার মতো সব রকম প্রচেষ্টা চালু হয়েছে কমিশন ও RSS এর দুই রাজনৈতিক শাখা তৃণমূল ও বিজেপি উভয়ের তরফেই।

একটু পিছনে ফিরুন, ২০২৪ লোকসভা। একটা বিজেপি জোট আরেকটা কংগ্রেসের নেতৃত্বে ইন্ডি জোট। পশ্চিমবঙ্গের ভোটার পরিষ্কারভাবে বিজেপির বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছিল, বিজেপিকে ১৮ থেকে ১২ তে নামিয়ে এনেছিল। অধীর ও সেলিম দুজনেই হেরেছিলেন, এটা কোনো কাকতালীয় বিষয় ছিল না, এটা ইন্ডি জোটের কংগ্রেস ও তোলামুলের মাঝে বোঝাপড়ার ফল ছিল- মমতা ও রাহুল গান্ধীর মাঝের আঁতাত। ২০২৪ সাল থেকে কংগ্রেস ও তোলামুলের অফিসিয়াল অলিখিত জোট চলছে, শুভঙ্কর তো একটা পাতি বোড়ে মাত্র।

খুব খেয়াল করে দেখুন, ২০২৪ নির্বাচনী প্রচারে রাহুল গান্ধী বা তার মা সহ, কংগ্রেসের কোনো শীর্ষস্থানীয় নেতৃত্ব কিন্তু বাংলাতে প্রচারে আসেনি। ইন্ডি জোটে সিপিএম যেমন রয়েছে, তোলামুলও রয়েছে। রাহুল গান্ধীর বার্তা স্পষ্ট ছিল ও আজও সেটাই আছে- বাংলাতে ইন্ডি জোটের প্রধান শরিক তোলামুল। পাশাপাশি অধীর চৌধুরী ছিল লোকসভার বিরোধী দলনেতা, সে জিতে গেলে তাকে রাতারাতি সরিয়ে দেওয়াটাও দৃষ্টিকটূ ছিল, সুতরাং রাহুল গান্ধী বাংলাতে না এসে শুধু তোলামুলকে সাপোর্ট করেছে এমনটা নয়, অধীরকে হারিয়ে দিয়ে লোকসভার বিরোধী দলনেতার পদটাকেও কুক্ষিগত করতে পেরেছে প্রশ্নাতীত ভাবে। কংগ্রেসের চেয়ে হারামি আর কেউ নেই, না তাদের নীতি আছে, না তাদের ভোট। এদের সাথে জোট মানে গাধার পিঠে চড়ার বদলে গাধাকেই কাঁধে চড়িয়ে নিয়ে যাওয়া।

রাজ্যজুড়ে ৮৮ হাজার বুথে ২জন করে কমপক্ষে দেড় লাখ চোর রয়েচছে। এচছাড়া MAL, MP, তাদের স্যাঙাৎ, চাঁটাপার্টি সব মিলিয়ে কমবেশী ৩ লক্ষ স্বীকৃত চোর রয়েছে এই মুহুর্তে। হারাম খেয়ে খেয়ে চর্বি জমে গেছে এদের, মানসিকভাবে কুঁড়ে হয়ে গেছে। ভোট চুরির জন্য তো দৌড়ঝাঁপ করতে হয়, নিজেরা সেসব ভুলে গেছে, ভাড়াটে গুন্ডা দিয়ে আর কতটা কী করা সম্ভব! পাশাপাশি সম্পদ মানুষকে ভীত করে তোলে, হারাবার ভীতি এসে যায়। এদের ছেলেপুলেরা বড় ব্যবসা ফেঁদে বসেছে রাজ্যের সর্বত্র। ফলে, তোলামুলের প্রতিটা চোর এখন ভীত, এরা এবারে আপসে আসতে রাজি হবে। এদের ক্যালাতে হলে ফেসবুকের বিপ্লবীরা কি যাবে দ্বান্দিক তত্ত্ব আবৃত্তি করতে করতে? নাকি বাঁশ নিয়ে যারা ক্যালাতে পারে তারা যাবে? আর বাঁশ নিয়ে ক্যালাবার লোক বামেদের দলে মাঠে ময়দানে ঠিক কতজন আছে আজকের দিনে এই মুহূর্তে?

যারা হুমায়ূন বা সিদ্দিকির দলে রয়েছে, তাদের অধিকাংশই তো সর্বহারাদের প্রতিনিধি। শ্রমিক, কৃষক, প্রান্তিক শ্রমজীবী। এটা ঠিক, ১০১% ক্ষেত্রে এদের সাথে বামেদের আদর্শ খাপ খায় না, তাই জোট করার প্রশ্নই ওঠে না, কিন্তু গণতন্ত্রে যখন সংখ্যা কথা বলে, সেখানে পরিস্থিতির সাপেক্ষে রফা হলে সমস্যাটা কোথায়! বেগ এলে নাকে রুমাল চাপা দিয়েও তো আমরা হাইজিন ভুলে বাসস্ট্যান্ডের পাবলিক টয়লেটে ঢুকে পড়ি। শৌচের জন্য রোজ বাঁ হাতে করে হলেও গু ঘাঁটি তো আমরা প্রত্যেকে, তাহলে তোলামুল নামের রাজনৈতিক গু সাফাই করতে হলে হুমায়ূন নামের গু ঘাঁটলে অমনি অপবিত্র অশুচি হয়ে যাবো?

টাকা কারো বাপের নয়, আমার ট্যাক্সের টাকা চুরি হয়েছে, অথবা রাষ্ট্রীয় জনগণের সম্পদ চুরি হয়েছে। চোর তোলামুল এই চুরি করেছে। তাই যেকোনো মুল্যে এদের বিসর্জন দিতে হবে ভোটের মাধ্যমেই। দুর্নীতির পাহাড় ভাঙতে গেলে কবি, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবি বা ন্যাকড়া জড়ানো দাস ক্যাপিটেলের সামনে হাত জড়ো করে পূজারী শ্রেণির তাত্ত্বিক কমিউনিস্ট দিয়ে হবে না, ওই জাতেরই গাঁইতি কুড়ুল নেওয়া লোক দরকার, জেসিবি দরকার। যারা তোলামুলকে ক্যালাবে। সর্বহারা শ্রমজীবী ‘শ্রেনি’ ডাইলেক্ট এর কচকচি বোঝে?

দিনের শেষে সংসারটা যাদের চালাতে হয়, দল ক্ষমতায় এলে নেতা মন্ত্রী হলে যেমন তারা হবেন, খারাপ হলে মা মাসি তুলে গণ খিস্তিখেউরটাও তারাই শোনে। তাই, বাকি সেটাই হোক যেমনটা পার্টি শীর্ষ নেতারা পরিস্থিতিকে বুঝবে বিশ্লেষণের মাধ্যমে। আমি বুঝি, যে উদমা ক্যালান দিতে পারবে, তার সাথে ভোটের বাজারে সমঝোতা বা রফা করো; ব্যাস এটুকুই, যাতে অপারেশন কাটমানি প্রোজেক্ট সফল হয়।

শ্রমিকের যেমন শৃঙ্খলা ছাড়া হারাবার কিছু নেই, বামেদেরও তেমন শূন্য ছাড়া হারাবার কিছু নেই, পাওয়ার জন্য গোটা বাংলা রয়েছে প্রতীক্ষাতে।

তৃণমূলের প্ররোচনার ফাঁদে পা দেবেন না

⛔ সতর্কতামূলক পোষ্ট ⛔ আজ SIR এর ভোটারলিষ্ট বার হবার পর- জনরোষের দোহায় দিয়ে দিকে দিকে ‘সংগঠিত অশান্তি’ লাগাবার ‘ফুল প্ল্যান’ নিয়ে এগোচ্ছে শাা...