সময়চর্চা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
সময়চর্চা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬

কোরবানি ও শুভেন্দু সরকার

শুভেন্দু সরকারের কাছে আসন্ন কুরবানিটা পার করা এই মুহূর্তের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। শ্যাম রাখি না কুল দশায় আঁটকে- গো হত্যার নির্দেশ দিলে ভক্তকুল ক্ষেপে যাবে, না দিলে মুসলমান পাড়ায় হওয়া অশান্তির চেয়েও, পশুপালন ইন্ড্রাস্ট্রির স্ট্রাকচারটা ভেঙে যাবে, যেটা সরকারের আমলারা জানে। শুভেন্দু সরকারের এই হাল আমাদের মতো অনেকের কাছে এক উপভোগ্য বিড়ম্বনা। 

গরু কি শুধু মুসলমান খায়? দেশের ২০ শতাংশ সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী, যাদের মাঝে জৈন ছাড়া সকলেই গোমাংস খায়। ৯% আদিবাসীদের সকলে গরুও খায়, শুয়োরও খায়। দেশের ১৭% তফশিলি, যাদের মাঝে চামার দলিত শ্রেণির তারাও প্রায় সকলেই গোমাংস খায়, সস্তার প্রোটিনের উৎস হিসাবে। এছাড়া বহু উচ্চবর্ণের হিন্দুও কোনো না কোনো সাহাবুদ্দিনের বাড়িতে ‘তিন বাটি’ খেতে চলে যায়, প্রকাশ্যে স্বীকার করে না। দেশের প্রায় অর্ধেক জনগণ যেখানে গরু/মহিষের মাংস খায়, সেখানে কীভাবে বিজেপি গোমাংস বন্ধ করতে পারবে? হ্যাঁ, যেটা সম্ভব সেটা হলো প্রকাশ্যে গোহত্যা বন্ধ, আর এটাকে সমর্থন করা উচিত। কোলকাতার বিফ হোটেলগুলোতে কি শুধু মুসলমানেরা খায়? একবার জরিপ করে দেখে নেবেন না হয়!

অনিয়ন্ত্রভাবে গরু/মহিষ জবাই কেন বিজেপি বন্ধ করতে চায়, সবার আগে এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে। বিজেপি কিন্তু কেরল, গোয়া, সিকিম বা উত্তরপূর্ব ভারতে গোহত্যা বিরোধী নয়, সেখানে প্রকাশ্যে সমর্থন না করলেও বিরোধিতা করে না। সেখানে আবার মিথুন তত্ত্ব বিরাজমান। বিশ্বে গোমাংস রপ্তানিতে ভারতের স্থান দ্বিতীয়, যার বাজার মূল্য ৩.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ভারতীয় মূল্যে ৩২ হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি। এই রপ্তানি কোম্পানিগুলোর মালিকদের অধিকাংশই জৈন, মারোয়াড়ি ও বর্ণ হিন্দু পরিবারের লোকজন, মুসলমানও তাদের মধ্যে রয়েছে আলানা ও লুলু গ্রুপের মতো। অতুল সাবরওয়াল, সুনীল কাপুর, অজয় সুদ, মদন এ্যবটেরা কোটি কোটি টাকা ইলেকশন বন্ডের মাধ্যমে চাঁদা দেয় বিজেপিকে। সুতরাং, এই চাঁদা ওয়ালাদের রিটার্ন গিফট তথা তাদের ব্যবসা সুরক্ষিত করার জন্য, সস্তায় গরু সাপ্লাই দেওয়াটা বিজেপি তথা RSS এর দায়িত্ব। এই কারণেই দেশের গোমাংস খোরদের ‘গোরক্ষা সমিতির’ মাধ্যমে গোহত্যা আঁটকে দিয়ে, সেই গরু যাতে বিজেপির কনফিডেন্সে থাকা গোমাংস রপ্তানি করা কোম্পানির কসাই খানায় পৌঁছে যায় এটাকে নিশ্চিত করে। এটাই মূল ও সহজ সত্য। 

বিজেপি সরকারে এলেই তারা গরু, শুয়োর, মন্দির মসজিদ ও পাকিস্তান নিয়ে আসে। পশ্চিমবঙ্গের সীমানাতে পাকিস্তান নেই, তাই পূর্ব পাকিস্তান আর অনুপ্রবেশ এনে ফেলেছে, যদিও সেই অনুপ্রবেশের ৯৯%ই অমুসলিম। তবে ২০১৬ নাগাদ গরু নিয়ে দেশ জুড়ে যে সেনসেশন ছিল, আজ তার ভগ্নাংশও নেই, তাই বাংলাতে গরু রাজনীতি লকলকে বেড়ে ওঠার আগেই মুখ থুবড়ে পড়েছে। গরু জবাই নিয়ে তোলামুলের ৮০ পিস বিধায়ক এবং তাদের সিভিক আইনজীবী নেত্রীর কিছু বক্তব্য শোনা গেছে কি? আসলে বক্তব্য এলে এদের পিতা নাগপুর থেকেই কান মুলে দেবে। গোমাংস রপ্তানি কোম্পানির থেকে প্রাপ্ত আয় নাগপুরেরও অন্যতম বড় উৎস, রুটিরুজিতে কাউকে বরদাস্ত করবে না ওরা, তাই এরাও চুপ। 

গত কালকের সরকারি নোটিফিকেশন পড়ে যা বুঝলাম, এক কথায় গো-মাতা বৃদ্ধ ও অচল হলে জবাই করে খাওয়া যাবে। কোরবানি সংক্রান্ত রাজ্য সরকারের ফরমানে নতুন কিছু নেই, যা ১৯৫০ সালের কংগ্রেস প্রণীত আইনে ছিল, আজও সেটাই আছে। সেই আইনের পাশাপাশি ০৫/০৭/২০২২ তারিখে জাস্টিস অরিজিৎ ব্যানার্জী ও জাস্টিস রাই চট্টোপাধ্যায়ের একটা ডাবল বেঞ্চের রায়, ১৭/০৭/২০২৩ তারিখে কোলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি জাস্টিস শিভগনামনের একটা রায়ের কপি জুড়ে দিয়েছে ১৩/০৫/২০২৬ এর নবান্নের অধ্যাদেশের সাথে। যেটা অনুচ্চারিত সেটা হল, আমরা শুধু সংবিধান আর আদালতের অর্ডার ইমপ্লিমেন্ট করেছি মাত্র। তাই যারা গেল গেল রব তুলছে তারা আসলে ইচ্ছাকৃত তুলছে, যাতে তৃণমূল কংগ্রেসের দুধেল গাই রাজনীতি জীবিত থাকে এবং RSS এর প্রচ্ছন্ন মদতে এগুলোকে সমাজমাধ্যমে ছড়ানো হচ্ছে যাতে অস্থিরতাটা বজায় থাকে।

☞ পাবলিক প্লেসে কোরবানি করা যাবে না।
☞ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ও ভেটেরিনারি ডাক্তারের যৌথ সার্টিফিকেট লাগবে।
☞ লোকালে সার্টিফিকেট না পেলে রাজ্য সরকারের কাছে দরখাস্ত করতে হবে।
☞ অমান্য করলে ৬ মাসের জেল কিম্বা ১০০০ টাকা জরিমানা হতে পারে অথবা দুটোই হতে পারে।
☞ গরুর বয়স ১৪ বছরের বেশি হতে হবে, কাজের জন্য সম্পূর্ণ অযোগ্য হতে হবে অথবা আঘাতপ্রাপ্ত কিংবা নিরাময়-অযোগ্য রোগে আক্রান্ত হতে হবে, তবেই সার্টিফিকেট পাওয়া যাবে।

অসুস্থ গরু কখনোই কুরবানি হবে না, আর সুস্থ গরু কুরবানির বৈধ সার্টিফিকেট তুমি পাবে না, তাহলে? এলাকার ভেটেরিনারি ডাক্তার না হয় সরকারি কর্মচারী, তাকে তো পাওয়া যাবে; কিন্তু পঞ্চায়েত সমিতির যিনি সভাপতি, তিনি তো তোলামুলের- তাকে কীভাবে পাওয়া যাবে! সে তো ধনেপ্রাণে বাঁচার তাগিদে এলাকা ছাড়া, তাহলে! কোন রকম অসুস্থ প্রাণি কুরবানির জন্য কতটা সঠিক সেটাও তো ধর্মের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে হবে। সুতরাং, ব্যক্তিগত ভাবে আমি মন থেকে চাইছি এ বছর কুরবানি গরু বাদে অন্য কিছুতে হোক, উত্তরটা সময় দিয়ে দেবে। যদিও গরুর বয়স মাপের যে একক, সেটা বেশ জটিল; ফলত এই জানালা খোলা রেখে শুভেন্দু সরকার বিড়াল মারার বন্দোবস্ত করে রেখে দিল। 

টিভি চ্যানেলে আজকাল সবকিছুই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খবর, সব কিছুই ব্রেকিং নিউজ। কিন্তু যতক্ষণে এ সব সংবাদ টিভিতে আসে, তার বহুক্ষণ আগেই সোশ্যাল মিডিয়াতে চলে আসে, তাহলে কেন কেউ টিভি চ্যানেল দেখবে! তাছাড়া ২৪ ঘন্টা ধরে চালাবার মতো খবর কই! অতএব, রাস্তায় ঈদের নামাজ আর কোরবানি উপলক্ষে ওই ২টো লাইনই সারাদিন ধরে চেঁচিয়ে যাচ্ছে। যে বা যারা এই চ্যানেল ভুল করে দেখে ফেলছে, ভাবছে- উফ, বিজেপি সরকার কী চাঁদমারিটাই না করে ফেলেছে হিন্দু হিতার্থে। মোদ্দাকথা, এমন কিছু দেখাও যেগুলো একটা শ্রেণির অ্যাড্রিনালিন ক্ষরণ ঘটবে, কেউ তুরীয় সুখে দেখবে, কেউ আতঙ্কে বারবার শিহরিত হতে চেয়ে দেখবে।

বিজেপির আঁটিসেল যতটা প্রোপ্যাগান্ডা চালাচ্ছে মসজিদ বা গরু নিয়ে, তার চেয়েও মমতার দুধেল গাইগুলো AI জেনারেটেড পোস্টার ভিডিও দিয়ে বেশি বেশি মিথ্যাচার ও আতঙ্ক তৈরির চেষ্টা করছে। আজকে ১০ দিন হলো বিজেপি ক্ষমতায়, সেই অর্থে বড় কোনো সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার খবর নেই, এটা তোলামুল ও তাদের কাঠমোল্লাগুলোর জন্য বুকে ব্যথার বড় কারণ। বিজেপি এই মুহূর্তে ক্ষমতায়, তাদের সেভাবে দাঙ্গার আর প্রয়োজন নেই অন্তত পঞ্চায়েত ভোটের আগে, কিন্তু দুধেল গাই সমাজে ‘বিজেপি জুজু’ জিইয়ে রাখতে গেলে কামব্যাক করতে চাওয়া তৃণমোল্লাদের জন্য দাঙ্গা একান্ত আবশ্যিক; সুতরাং প্রোপ্যাগান্ডায় কোনো মন্দা আসেনি বরং বেড়েছে। তোলামুল ক্যালানি খেলেই মুসলমান এর জামা পরে নিচ্ছে, যেটা পক্ষীদের গর্গ করতে পারেনি বলে অ্যারেস্ট হয়ে গেছে। আগের দিন সুজিত গেছে, আজ রথিনের পালা, মুসলমান সাজার উপায় নেই এদের।

গো-পালন মূলত আমাদের রাজ্যের সদগোপ সমাজ আর আদিবাসী সমাজ করে। ১০টা হেলে/বদল গরু বছরে বেচতে পারলে লাখ তিনেক টাকা আমদানি হয়ে যায়, যা দিয়ে একটা পরিবারের সারাবছর চলে যায়। আরেকটু বিশদে গিয়ে বলা যায়- ভূমিহীন কৃষক, তফসিলি জাতি, বেশিরভাগ কৃষিজীবী পরিবার দুধ ও গোবর জৈব সারের জন্য গরু পালন করে। রাজ্যের ৮০% গোপালন অমুসলিম সম্প্রদায় করে, কিন্তু গরু কেনাবেচা, পরিবহণ, চামড়া শিল্পের সাথে যুক্ত ৮০% এর বেশি মানুষ মুসলমান সম্প্রদায়ের। এখানেই হচ্ছে RSS মূল সুবিধা, যদিও সমাজের নিচুতলায় এই ইকোসিস্টেম শতকের পর শতক ধরে চলছে কোনো সমস্যা ছাড়াই। তাই গো-রক্ষা সমিতির নামে সনাতনী জঙ্গিগোষ্ঠী বানাতে হয়েছে রাজ্যে রাজ্যে। সেই সনাতনী গোরক্ষা সমিতির যে নেতা, তাকে বানানোই হয়েছে রোজ মগজধোলাই করে লুম্পেনগিরি করার জন্য, সে কেন আজ ইকোনোমিকস বুঝবে? অতএব শমীক যতই ক্যামেরার সামনে সাধু সন্তের মতো প্রবচন দিন, শুভেন্দুর সরকার যতই কৌশল অবলম্বন করুক কোরবানিটা উতরে দিতে, গোরক্ষা বাহিনীর দল তান্ডব করবেই কিছু পকেটে।

পশ্চিমবঙ্গে কুরবানির বাজার বিশাল অর্থনৈতিক মার্কেট। কমবেশি ৮ লাখের উপরে গরু জবাই হয় শুধুমাত্র ঐ ১ দিনে। একটা সুস্থ স্বাভাবিক প্রমাণ সাইজের গরুর দাম ২০-২৫ হাজারের মধ্যে হয়। কোরবানির বাজারে সেটাই নূন্যতম ৩৫-৪৫ হাজারে পৌঁছায়। দালাল, হাটমালিক সম্মিলিতভাবে এই অতিরিক্ত দামের থেকে ১০০০ টাকার বেশি ভাগা পায় না, অর্থাৎ সেটা যিনি গোপালক তিনিই পায়। এই ৮ লাখ গরু, তাকে কেন্দ্র করে কমবেশী ৫০০০ কোটির ব্যবসা, যার সাথে হাড়, চামড়ার ব্যবসা, মুচি, পরিবহন, সব মিলিয়ে বিপুল টাকার ব্যবসা। যে ৯টা জেলায় শাসক বিজেপি একচ্ছত্রভাবে জিতেছে, অরতিটা জেলায় পশুপালন বেশী, সমস্যার সুত্রপাতও এখান থেকেই হবে।

সুতরাং, গরু কাটা বন্ধ হলে মোটেও সেটা অনায়াস হবে না রাজ্যের পশুপালক সম্প্রদায়ের জন্য। কোরবানির টাকাটা না এলে দুধ/ঘি/পনির সমস্ত শিল্পে তার আঁচ পড়বে, ভয়াবহভাবেই পড়বে। উত্তরপ্রদেশে বুলডোজার দেখে খুশি হওয়া বীর সনাতনীরা যারা গানও বেঁধেছিল বুলডোজার আর যোগীকে নিয়ে, আজ চোখের জলে তারা মূল্য চোকাচ্ছে। বাঙালি ততটা শিক্ষা না নিলেও, উন্মত্ততার পাগলা ঘোড়ায় কিছুটা লাগাম যে পরবে বা পরেছে তাতে সন্দেহ নেই। ধর্ম নিয়ে রাজনীতি ততক্ষণ দেখতে ভালো, যতক্ষণ না সেটা নিজের ঘরের ভেতরে সেটা ঢুকে যাচ্ছে।

রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬

মুসলমান ও হুমায়ূনের বাবরি মসজিদ

 

বাবরি মসজিদ, বেলডাঙা


বাবরি মসজিদ আর পাঁচটা মসজিদের মত শুধুমাত্র চার দেওয়ালের একটা নামাজ পড়ার ঘর নয়, এটা আপামর মুসলমানের আবেগের নাম। উগ্র হিন্দুত্ববাদী জঙ্গিরা ১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদের মাথায় চড়ে তাকে ধ্বংস করে ভারতের মুসলমানদের উপরে উত্যাচারের যে সূচনা করেছিলো, তারই হাত ধরে প্রথমে বাজপেয়ী সরকার ও বর্তমানের অত্যাচারী ফেরাউন মোদী সরকারের আগমন ঘটে। এরই ধারাবাহিকতায় মুসলমান হত্যাকারী কশাই যোগী আদিত্যনাথ ও হেমন্ত বিশ্বশর্মাদের মত জাহান্নামের কীটেদের উত্থান। এদের মূল এ্যাজেন্ডাই হলো মুসলমানকে ক্ষতিগ্রস্ত করো, মুসলমানের সম্পদ কেড়ে নাও, তাকে নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত করে উল্লাস করো। ভারতের মাটিতে উগ্রহিন্দুত্ববাদী রাজনীতির যে যুগ, সেটার সূচনা হয়েছিলো এই বাবরি মসজি ধ্বংসের হাত ধরেই। এটাই হিন্দুত্ববাদী উগ্রপন্থীদের, নাগপুরের গোয়ালঘরের জিতে যাওয়ার প্রাথমিক ধাপ ছিলো।

এক শ্রেণীর বুদ্ধিভ্রষ্ট উন্মাদ হিন্দু ভাইয়েরা RSS-BJP এর রাজনৈতিক কর্মসূচীকে, সনাতন ধর্মের অনংশ ভেবে ভেবে RSS এর প্রোপাগান্ডাতে ভেসে গিয়ে, তারাও সরাসরি এই মুসলমান ও দলিত নিধন যজ্ঞে সামিল হয়ে যাচ্ছে। এরা সকলে ব্রেন ওয়াস করা জঙ্গি। এমনই এক জঙ্গি আমাদের স্বাধীন ভারতের জাতির পিতা মহাত্মা গান্ধীকে হত্যা করেছিল- স্বাধীনতা উত্তর ভারতের প্রথম জঙ্গি যাকে সাপ্লাই করেছিলো এই RSS। এরা নিকৃষ্ট ব্রাহ্মণ্যবাদী একটা মুষ্টিমেয় সম্প্রদায়, যারা জঘন্য বর্ণ প্রথায় বিশ্বাসী, মনুবাদ যাদের সংবিধান- তারা যে কোন মূল্যে নিম্ন বর্ণের হিন্দু এবং আদিবাসীদের উপর অমানুষিক অত্যাচার করে, তাদের সম্পদ কেড়ে নেওয়াকে, তাদের উপরে নারকীয় হামলা করাকে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব ও বীরত্ব বলে দাবি করে। এরা একসময় ব্রিটিশদের দালালি করত, এখন গুটিকয়েক গুজরাতি পুঁজিপতির ওই দালালি করে; যাদের মূল উদ্দেশ্য দেশের সম্পদ জনগণের সম্পদ লুটপাট করে বিক্রি করে দেওয়া। হিন্দুত্বের নামে এরা দেশের সংখ্যাগুরু সনাতনী ভাইদের সাথেও ভয়ংকর রকম প্রতারণায় লিপ্ত। মুসলমানেদের কচুকাটা করে, তাদের সম্পদ দখল করে নিয়ে বেনাগরিক কিম্বা তৃতীয় শ্রেনীর নাগরিক বানিয়ে দেবার যে চক্রান্ত- এই সবের প্রতীক হচ্ছে বাবরি মসজিদের ধ্বংস হওয়া। 

দীর্ঘ ৩৩ বছর পর এই সুবিশাল ভারবর্ষের বুকে 'বাপের ব্যাটা' হুমায়ুন কবীর, প্রতিদিন হেরে যাওয়া মুসলমানের হেঁট হয়ে থাকা যে শির- সেটাকে আবার উঁচু করে দিয়েছে। বাংলার পাক জমিনে বাবরি মসজিদকে পুনরায় নির্মাণ করার মাধ্যমে। রাজনৈতিক চরিত্রের বিচারে হুমায়ূন কবীর একজন গণিকা হলেও, একটা হেরে যাওয়া আত্মবিশ্বাসের অভাবে ভোগা জাতিকে জাগাতে যেভাবে সাহস নিয়ে এগিয়ে এসেছে, তার জন্য কোনো সাধুবাদই যথেষ্ট নয়। হিন্দু ধরর্মেও তো বেশ্যাবাড়ির মাটি ব্যাতিরেকে দুর্গাপুজা সম্পন্ন হয়না, হুমায়ুনও এক্ষেত্রে সেই সাহসী ব্যাক্তিটা, যে মিইয়ে যাওয়া বারুদের স্তুপেও যে স্ফুলিঙ্গ ধরানো যায় সেই বিশ্বাসটা জাগাতে সক্ষম হয়েছে।

RSS, বিজেপি ও তাদের ক্ষমতাধর রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রতিটা সংস্থা ও প্রতিটা তন্ত্রকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বাংলার জমিনে ভারতীয় মুসলমানের ইজ্জত 'বাবরি মসজিদ' স্থাপনের যে হিম্মত দেখিয়েছেন হুমায়ুন কবীর- গত ৩৩ বছরে তাবড় মুসলমান নেতৃত্ব এবং গালভরা নামের সংগঠন যত ছিল- তাদের সকলকে ছাপিয়ে গেছেন। যে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের মধ্যে দিয়ে হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির এতো ফুলে ফেঁপে উঠা, সেই মসিজিদ পুনঃনির্মানের মাধ্যমে আজ মুসলমান সমাজকে একত্রিত করে- বিজেপি, RSS আর তাদের রাজনৈতিক হিন্দুত্বকে কবর দিয়ে দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রতিকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করাই যেকোনো সুস্থ মুসলমানের লক্ষ্য। এই বাংলা রবীন্দ্র নজরুলের মাটি, এই বাংলা শ্রীচৈতন্যের সাম্যের গান গাওয়ার মাটি, এই মাটি অসংখ্য পীর আউলিয়ার মাটি, এখানে RSS এবং তাদের মত সমমতাদর্শিত দলের কোন স্থান নেই। 

আজ আমাদের সামনে কেবল বিজেপিই বাঁধা নয়, RSS এর অন্যান্য শাখা সংগঠন যেমন তৃণমূল কংগ্রেস বা তাদের নেত্রী মমতা ব্যানার্জি, যিনি ১৯৯২ সালে নরসিমা রাও এর মন্ত্রীসভাতে ৩টে দফতরের মন্ত্রী ছিলেন, তিনি সে সময় ন্যূনতম প্রতিবাদ টুকু করেননি। কোনো ভিডিও বা সংবাদ পত্রের কাটিং এমন দেখাতে পারবেন না, যেখানে মমতা ব্যানার্জি বাবরি মসজিদ ধ্বংসের জন্য কোনরকম নিন্দা প্রস্তাব করেছিলেন।

আজকে এই মমতা ব্যানার্জি গত ১৫ বছর ধরে মুসলমানদের ভোটে জিতে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। ২০২৬ এর নির্বাচনেও তিনি কমপক্ষে ৫০ জন RSS এর ক্যাডারকে তার দলের প্রার্থী বানিয়েছে। RSS এর পরিকল্পনা মত মুসলমানকে ঠকিয়ে তাদের ওয়াকফ সম্পত্তি কেড়ে নিয়েছে, OBC থেকে মুসলমানকে বঞ্চিত করেছে, মাদ্রাসা শিক্ষাতে প্রায় লাটে তুলে দিয়েছে, শিক্ষা এবং চাকরি থেকে মুসলমানকে বঞ্চিত করে তাদের সন্তানকে পরিযায়ী শ্রমিক বানিয়ে দিয়েছে। SIR এর নামে মুসলমানকে জিম্মি করে, বৈধ ভারতীয় হওয়ার পরেও তাদের নাম কেটে ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানোর ষড়যন্ত্র করেছে।

RSS এর অফিসিয়াল রাজনৈতিক দল বিজেপি এবং ঘোমটা পরা মুখোশধারী রাজনৈতিক শাখা- তৃণমূল কংগ্রেসকেও রাজনৈতিকভাবে ধ্বংস করতে না পারলে, প্রতিবার এরা মুসলমানের বন্ধু সেজে ভেক ধরে মুসলমান সমাজের সাথে প্রতারণা করবে। মুসলমানের ভোট নিয়ে ক্ষমতায় যাবে, তারপর তারা সরকারি টাকায় মন্দির বানাবে, দুর্গাপুজোয় হাজার হাজার কোটি টাকা বিলি করবে, কার্নিভ্যাল করবে, মেলা খেলা করবে; আর মুসলমান যে তিমিরে ছিল এখানেই রয়ে যাবে, সমাজের অন্ত্যজ শ্রেনী হয়ে। 

এই ভোটে মুসলমান সমাজকে একজোট হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। নিজেদের সাংবিধানিক অধিকার, যা আমাদের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র আমাদের গোষ্ঠীকে দিয়েছে, সেটাকে বুঝে নেওয়ার এটাই সময়। একটা হুমায়ুন কবীর, একটা বাবরি মসজিদ আমাদের বাঙালি মুসলমানদের সামনে দুর্দান্ত সুযোগ এনে দিয়েছে- সমস্ত ফিরকা বিবাদ ভুলে মুসলমান সমাজকে এক হয়ে মুসলমানের শত্রুদের বিপক্ষে একজোট হয়ে লড়ার। এর জন্য সাচ্চা মুসলমানের প্রতিনিধি চাই। কোনো চটি চটা RSS এর দালালি করা মুনাফিক মুসলমান দিয়ে এ কাজ হবে না। আমাদের প্রতিনিধি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় গেলে আল্লাহর কসম, তারা আমাদের কওমের জন্য আওয়াজ তুলবে এবং আমাদের সাংবিধানিক অধিকার ছিনিয়ে আনবে আমাদের সন্তানদের জন্য।


মুসলমান পিছিয়ে পড়া জাতি নয় আমাদের পিছিয়ে রাখা হয়েছে। আজ অধিকার বুঝে নেওয়ার সময়। আলহামদুলিল্লাহ, আমদের প্রত্যেককে লড়াইয়ের পথে ফিরতে হবে। অন্নবস্ত্র বাসস্থান, উন্নত সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থা, উন্নত স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, কৃষি ও শেচ ব্যবস্থায় উন্নতি, বৃত্তিমূলক কর্মসংস্থান গড়ে তোলা, হাতে হালাল রোজগার এবং শ্রমজীবী মানুষের জন্য সম্মানের জীবনযাপন এর সুযোগ করে জয় আমাদের লক্ষ্য। সুদের ফাঁস থেকে গ্রামীণ সমাজের মা বোনদের রক্ষা করাও আমাদের অন্যতম লক্ষ্য হওয়া উচিৎ। 

জনগণকে সাথে নিয়ে, আমরা আমাদের লক্ষ্যে সফল হবো ইনশাল্লাহ। 

আমিন



শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬

মুসলমান আলেম পরিচয়ে তোলামূলের হয়ে খেপ খাটা এরা আসলে কারা?

 

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতি জটিল অবস্থায় দাঁড়ালে- হিন্দু তৃণমূল বিজেপির দিকে চলে যাবে। তখন মুসলমান গুলো যাতে কংগ্রেস বা বাম জোটের দিকে চলে যেতে না পারে সেই জন্য হুমায়ূনকে সৃষ্টি করা হয়েছে। বিজেপির কোন অবস্থায় পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় আসা সম্ভব নয, একমাত্র তৃণমূল যদি না বিজেপির মধ্যে বিলীন হয়ে যায়। ১১৮টা মুসলমান অধ্যুষিত আসন যেখানে বিজেপির লড়াই নোটার সাথে, আর ৪০টা মতুয়া প্রভাবিত আসল- যেখানে বিজেপিকে ঘাটে তুলে দেওয়া হয়েছে। তাহলে বাকি সবটা আসনেও ১০০% বিজেপিই জেতে, তাতেও ম্যাজিক ফিগার ছুঁতে পারবেনা। তাহলে, কোন মন্ত্রে বিজেপির জুজু দেখাচ্ছে তৃণমূল ও তাদের পোষ্য মিডিয়া ও ভাতাজীবিরা?

হুমায়ূন নিয়ে নতুন কিছু বলার নেই, গতকাল তাকে নিয়ে আমার বক্তব্য বলে দিয়েছি। যে লোকটা বিজেপির সাথে ইতিমধ্যে ঘর করেছে, যে লোকটা ২ মাস আগে হেলিকাপ্টারে চড়ে প্রচারের ঘোষনা দিয়েছে, যে লোকটা ৩ মাসের দল খুলেই ১৮২টা প্রার্থী দেওয়ার ক্ষমতা ধরেছে, যে লোকটা ৩ মাসের দল খুলেই স্থায়ী প্রতীক পেয়ে গেছে, যে লোকটা রাতারাতি Y ক্যাটেগরির সিকিউরিটি বহর পেয়ে গেছে কেন্দ্র সরকারের থেকে- মাকুন্দ গোপনাঙ্গ বিশিষ্ট আতা ক্যালানে মাল আর মিথ্যাবাদী ছাড়া যেকোনো সুস্থ মানুষ জানতো বিজেপি-তোলামূলের মত কেউ এনাকে পিছন থেকে ব্যাকাপ দিচ্ছে। অতএব, হুমায়ুনকে নিয়ে ঈশপের ‘নীতিমালা’ গল্প ফাঁদার কোনো সুযোগ নেই। 

এতোদিন যারা হুমায়ূনের দলে পদাধিকারী ছিলো, তারা কেউ জানতনা হুমায়ূনের এই বিপুল টাকার উৎস কি? আসলে সকলে সবটা জানতো, আর সেই টাকা উচ্ছিষ্ট খেতেই এই মালগুলো দলে দলে ভিড় জমিয়ে ছিলো। যেগুলো আজ ‘তথাকথিত’ বিদ্রোহ করছে, সেগুলো নেহাত বেজন্মা বেশ্যার বাচ্চা, হারামের মালের গন্ধ পেয়ে চেটে, চুষে, কামড়ে, হামলে পরে খাবো বলে গিয়ে আজ সতী সাজছে। খাবো সবটাই, শুধু যেন সেটা জনগণ জানতে না পারে- এই হচ্ছে মোদ্দা ইস্যু। 

আচ্ছা, ইসলাম মানে তো কোরানের নির্দেশিকা আর আমাদের নবী করীম(সাঃ) এর জীবনধারা তথা হাদিস এর নীতিমালা। এখানে কোথায় চাঁদা তুলে খাওয়া পীর ফকিরির ব্যবসার উল্লেখ রয়েছে? ইসলামের নীতিমালা কি নতুন করে লেখা হয়েছে? আচ্ছা যিনি এই ইসলাম ধর্মের প্রবর্তন করেছেন সেই নবী করিম(সাঃ) তো নিজে ব্যবসায়ী ছিলেন, তাঁর যারা সরাসরি অনুগামী ছিলো সেই সাহাবী, তাবেঈন, তাবে-তাবেঈণ- এনারা কি রাষ্ট্রের ভাতাজীবি ছিলেন? এনারা আলেম সেজে সদগা যাকাত তুলে ‘বেতনের’ নামে সেখান থেকে রুটিরুজি যোগার করতেন? এনাদের প্রত্যেকের নিজস্ব পেশা ছিলো, এনারা সকলে স্বনির্ভর ও পরিশ্রমী ছিলেন। কেউ কৃষক ছিলেন, কেউ মজদুর, কেউ শ্রমিক, কেউ মরুদ্যানে সরাইখানা চালাতেন, কেউ নানান মাপের ব্যবসায়ী ছিলেন, অর্থাৎ কেউ ভাতা আর চাঁদা তুলে খেতোনা ইসলামের নামে।

আজকে দেশ ও রাজ্য জুড়ে এই আলেম ও পীরের দোকান খুলে বসা মালগুলো, যারা ইসলামের ঠিকেদারি নিয়ে রেখেছে, এদের রুজিরুটির উৎস কি? এই যে এতো মৌলানা সাহেব, হাফিজ সাহেব, আলেম, ক্বারী, মোহাদ্দিস, ইমাম, যারা ফতোয়া দিচ্ছেন তোলামুলের পক্ষে- এনাদের হালাল পেশা কি? গুটি কয়েক হাতেগোনা ‘মুমিন’ ব্যক্তি বাদ দিলে, এরা প্রত্যেকে ‘ইসলাম ধর্মকে’ পুঁজি বানিয়ে জোব্বা, চোগা, গোঁফ বিহীন দাড়ি আর মাথায় ফেজ টুপির দোকান সাজিয়ে হয় চাঁদা তুলে খাচ্ছে, কিম্বা ঝাড়ফুঁক জলপড়া তেলপড়া তাবিজ কবজের লোক ঠকানো ব্যবসা করে হারামের কামাই খাচ্ছে। এর পাশাপাশি সমানে চেষ্টা থাকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার বৃত্তের কাছাকাছি পৌঁছে ‘বাইতুল’ মালের যে রাজনৈতিক লুঠ চলছে, সেখান থেকে যেন একটা অংশ তাদের ভাঁড়ারে চলে আসে। তার জন্য এরা ইমান, আমল বিক্রি করা, ইসলামকে বিকৃত করা- সব কিছু করতে রাজি।

আপনি প্রমাণ দেখান, যারা যারা সমাজের ওই অংশ থেকে মানে ‘ইসলামকে’ বেচে খাওয়া লোকজন, তথাকথিত আলেম সমাজ মুসলমানের নেতা হওয়ার চেষ্টা করেছে, এবং মুসলমান সমাজও যাদের হাতে নেতৃত্বের ঝান্ডা দিয়েছে- তারা পিছিয়ে থাকা মুসলমান সমাজের জন্য কি দিয়েছে? বা ১৫ বছরের তৃণমূল সরকারের থেকে কি আদায় করাতে পেরেছে?

মমতা ব্যানার্জির দল সাংসদে তিন তালাক বিলে বিজেপির পক্ষে ছিলো, এই আলেম সাজা চমনচুতিয়া গুলো মুখ খুলেছিলো সেদিন মমতা ও বিজেপির সম্পর্ক নিয়ে? CAA/NRC বিলে তৃণমূলের ৮ জন সাংসদ ভোট দেয়নি, এই বাঁদির বাচ্চা গুলো মুখ খুলেছিলো? দীর্ঘদিন সরকারী মাদ্রাসাতে শিক্ষক নিয়োগ না করে মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থাটাকে পঙ্গু করে দিয়েছে RSS এর প্ল্যান মাফিক, এক শুয়োরের বাচ্চা মুখ খুলেছে এ নিয়ে গত ১৫ বছর? রাজ্যে ৩০% মুসলমান, সরকারী চাকরিতে মুসলমানের ছেলে মেয়েরা মাত্র ৪% অংশীদার, কেউ আন্দোলন করেছে বা সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার নুন্যতম দিশা দেখিয়েছে? রাজ্যে ৩০% মুসলমান, রাষ্ট্রীয় জনপ্রতিনিধি মাত্র ১২%, এই শুয়োরের বাচ্চারা এই বিষয়ে একবারও আন্দোলন বা প্রতিবাদ করেছে? OBC তে যে মুসলমান সমাজকে ধোঁকা দেওয়া হলো, ওয়াকফের সম্পত্তি কেড়ে নেওয়া হলো, কোন মামার সন্তান ‘আলেম’ আজ যারা তলামূলকে ভোট দিতে আহ্বান জানাচ্ছে, তারা জান লাগিয়ে প্রতিবাদ করেছিলো?

এরা চুপ থাকার বিনিময়ে তৃণমূল দল ও মমতা ব্যানার্জি সরকারের থেকে হারামের মাল কামিয়েছে এতদিন। আজ তাই মমতার হয়ে এদের হা-রে-রে-রে করে নেমে পরতে হয়েছে, ‘কওম’ কে এরা এভাবেই বিক্রি করেছে মুসলমান সমাজকে ঠকিয়ে। ঠিক যেমন মমতা ব্যানার্জী, বিজেপি-RSS এর মুসলমান বিরোধী প্রকল্প গুলোকে পাশ করিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে টাকা নিয়েছে। সামান্য হুমায়ুন যদি দাবী করে বিজেপি তাকে ১০০০ কোটির অফার করেছে, তাহলে ভাবুন মমতা ব্যানার্জী বিজেপি-RSS এর কাছে গত ১৫ বছরে ধরে সহস্রবার বিক্রি হয়ে কত টাকা কামিয়েছে!

এদেরকে চিনে নিন। প্রথমেই তোলামুলের পক্ষে থাকা এই আলেমদের শুধান, আপনাদের পেশা কি? মানে পেট চলে কীভাবে? রুজিরুটির বন্দোবস্ত কীভাবে ও কোথা থেকে আসে! তারপর উপরে করা প্রশ্নগুলো এদের শুধান। আসলে এই শয়তান ইহুদির বাচ্চা গুলো ক্ষমতার কাছে বিক্রি হয়ে মুসলমান সমাজকে কাঁকড়ার মত টেনে আঁকড়ে ধরে বসে আছে, কোনোভাবে এগোতে দেবেনা। মুসলমান জনতা যত মুর্খ থাকবে, তত তাদের ভয় দেখিয়ে এদের পেট ভরাবে। মানুষ শিক্ষিত হলে এই শুয়োরের বাচ্চাদের পেটে সবার আগে লাথি মারবে। শিক্ষিত সম্প্রদায় তখন বিভিন্ন ‘মিশন’ নামক প্রতিষ্ঠানে টাকা দেবে, যারা পিছয়ে থাকা মুসলমান সমাজের সন্তানদের ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার প্রফেসর শিক্ষক বানাচ্ছে, সর্বোপরি শিক্ষিত বানাচ্ছে। তারা ইসলামিয়ার মত হাসপাতালে দান করবে, নিজেরা অনেকে হাসপাতাল বানাচ্ছে, কমিউনিটি সেন্টার বানাচ্ছে, যেখানে সমাজের পিছিয়ে পরা অংশটা আবার মূলস্রোতে ফিরে এসে সম্মান জনক রুটিরুজি যোগার করতে পারে, খেতে খেতে পারে।

এরা কেবল খারিজী মাদ্রাসা বানায়।

একটা উদাহরণ নিন, সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী। শতাব্দী প্রাচীন জমিয়ত উলামা হিন্দের সর্বোচ্চ পদাধিকারী ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ শাখার। সেই পদকে মমতার কাছে বেচে MLA ও মন্ত্রী হয়েছেন। কোলকাতা শহরে বিপুল পরিমান ওয়াকফের সম্পত্তি দীর্ঘদিন ধরে ব্যক্তিগত সম্পত্তির মত ভোগদখল করে চলেছে। নিজে সারা জীবনে ডজন খানেক বালবাচ্চা পয়দা করেছেন ওনার আব্বা জানের মতই। সব মিলিয়ে সিদ্দিকুল্লাহ সাহেবের ভাই, সন্তান, জামাতা ও তাদের ওয়ারিসান সকলে মিলে নর্মালি রাস্তা দিয়ে হেঁটে গেলে ৫০০ লোকের মিছিল মনে হয়। মন্ত্রী ও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় বলিয়ান সিদ্দিকুল্লাহ সাহেব এই মিছিলের অধিকাংশের আখের গুছিয়ে দিয়েছেন। পরিবারের বাইরে থাকা কোটি কোটি মুসলমানের জন্য কি করেছেন? 

সিদ্দিকুল্লাহ সাহেব ও ওনার মত তোলামূলের পে-রোলে থাকা বহু আলেমই খারিজী মাদ্রাসার সাথে যুক্ত, সিদ্দিকুল্লাহর ভায়েদের পেশাও তাই। কারন মাদ্রাসার নামে তোলা সদগা, যাকাত, ফিৎরা, সদগায়ে জারিয়া, কাফফারা, নজর, মানত, ফিদইয়া ইত্যাদির রাশি রাশি টাকা গুলো বেতনের নামে ভোগ দখল এরাই করে। মাদ্রাসা চালানোই এদের মূল পেশা। সেই প্রতিটা মদ্রাসাতে কোনো আধুনিক শিক্ষা নেই, যেখানে পড়াশোনা করে ১ জন মুসলমান শিক্ষার্থী- এই সমাজের ব্যবসা ও চাকরির কম্পিটিশনের বাজারে সামান্যতম প্রতিযোগিতা করতে পারে! এদেরকে মাদ্রাসাতে ছেলেপুলে ভর্তি করতেই হবে, এর প্রধান শর্ত হচ্ছে মুসলমান সম্প্রদায় গরীব হওয়া। কারনে গরীব অনাথ শিশুদের না দেখালে ওখানে দানের টাকা কেউ দেবে কেন? সিদ্দিকুল্লারা তাই সকলে খারিজী মাদ্রাসা চালায়, মুসলমানকে দেখায় দেখো আমরা কোরান হাদিসের শিক্ষা দিচ্ছি। যে কোরান হাদিসের শিক্ষা নিজেদের রুজি রোজগার ও জীবন যাত্রাতে এতটুকু লাগু করেনা, যেটুকু ভেক ধরার জন্য না পরলেই নয়। এনারা কেউ হাসপাতাল করেছে? এনারা কটা এতিম খানা খুলেছে? কটা আধুনিক শিক্ষা কেন্দ্র খুলেছে, যেখানে মুসলমানেদের পিছয়ে পরা সমাজের জন্য বৃত্তিমূলক শিক্ষা প্রতিযোগিতামূলক চাকরির জন্য ট্রেনিং দেওয়া হয়? ওয়াজ মেহেফিলের নামে ‘পার নাইট’ হিসাবে লাখ টাকায় ধর্ম বেচার কারবারিরা কেবল ততটুকু ফতোয়া দেয়, যতটা তাদের ‘চেটে’ খেতে ও হাত পেতে খাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয়।

এরা ‘দ্বীন’ এর কথা বিক্রি করে, নিজেরা দুনিয়া দুনিয়া করে উন্মাদ হয়ে রয়েছে, সর্বক্ষণ কি করে দুটো মেরে মুচরে নিয়ে এসে নিজের ঝুলি ভরবো- এই হচ্ছে এদের ঈমানের একমাত্র কাজ। এরা কেউ গত ১৫ বছরে মমতা ব্যানার্জী ও তৃণমূল দলের বিরুদ্ধে ১টা কথা বলেছে? না বলার কারন দুটো হতে পারে, প্রথমত মমতা সরকারের কোনো ভুল ছিলোনা, তৃণমূল সরকার আসলে মুসলমানদের জন্য ‘খিলাফায়ে রাশেদিন’ প্রতিষ্ঠা করে রেখেছিলো এতোদিন, দ্বিতীয়ত ওনারা মুনাফেক মিথ্যাবাদী। আসানসোলে দাঙ্গা হোক বা মুর্শিদাবাদের অশান্তি- এনারা মুখে চটি গুঁজে বসে ছিলেন। এরা বাবুল সুপ্রিয়র বিরুদ্ধেও এতটুকু রা কাটেনি, যে আসানসোল দাঙ্গার মূল নায়ক। উপরন্তু তৃণমূলে যোগ দেওয়া বাবুল সুপ্রিয়কে এরা ‘বাপ’ হিসাবে মেনে নিয়ে, বালিগঞ্জের মত মুসলমান অধ্যুষিত আসনে তাকে জিতিয়েও এনেছিলো। ওয়াকফ নিয়ে মমতা ব্যানার্জীর ধাষ্টামির বিপরীতে এদের কোন অবস্থান ছিলোনা, মমতার পদলেহন ছাড়া? এদের শুধু মুনাফেকই নয়, এরা জ্যান্ত শয়তান। সামান্য সরকারী অনুগ্রহের লোভে এরা মুসলমান সমাজের সাথে প্রতারনা করে গুমরাহ করছে।

এরাই ফতোয়া দিচ্ছে, মমতাকে ভোট না দিলে বিজেপি চলে আসবে। রোজার সময় এদের চালিত প্রতিটা মাদ্রাসা বাইরের রাজ্যে যাকাতের টাকা আদায় করতে যায়। এদের পাখির চোখ রাজ্যগুলোর নাম জানেন? গুজরাত, হরিয়ানা, দিল্লি, মহারাষ্ট্র, আসাম, উত্তরপ্রদেশ ইত্যাদি; যেগুলোর সবকটা বিজেপি শাসিত রাজ্য। বিগত ১০-১৫ বছর ধরেই এগুলো বিজেপি শাসিত রাজ্য, এনারা কেউ বিজেপির ভয়ে সেখানে ‘আদায়’ করতে যাওয়া ছেড়েছে। সেখানে রোজ মুসলমান নিগৃহীত ও খুন হচ্ছে, সেই তালিকাতে কেবল গরীব মুসলমান, একটা মৌলানা আদায়কারী হেনস্থার শিকার হয়েছে? কারন তারা সেখানে বিজেপির সাথে আপোষ করে চলে। রাজ্যের ৯০% পরিযায়ী শ্রমিক এই বিজেপি শাসিত রাজ্যেত কাজে যায়, তখন এরা কেউ ফতোয়া দেয়না যে বিজেপি শাসিত রাজ্যে যাওয়া যাবো না। 

বিজেপি তো নর্দমা, মুসলমান বিদ্বেষই তার একমাত্র রাজনৈতিক হাতিয়ার। কই, এই সব আলেম, পীরের ছানারা তাদের অনুগামীদেরও কি মানা করেছে- ভাই ওখানে বিজেপি আছে যেয়োনা, মারা যাবে। নিজেরাও অধিক দানের লোভে, মাসের পর মাস বছরের পর বছরে বিজেপি শাসিত রাজ্যে পরে থাকে, এরা যোগীর রাজ্য গিয়ে সাহারানপুর দেওবন্দে পড়াশোনা করে, সেখানে যেতে কেউ মানা করেনা, যে বিজেপি আছে কেউ যাসনা পড়তে। শুধু এ রাজ্যে ভোটের সময় বিজেপির জুজু মনে পরে যায়। বিজেপি প্রকাশ্য শত্রু হলে, এই ভন্ডগুলো তার চেয়েও বড় শত্রু মুসলমানের জন্য।

সুতরাং, মমতা না এলে বিজেপি চলে আসবে, এটা এদের ভাতা পাওয়ার ধান্দাবাজি, রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডা। সরকারী টাকায় মন্দির বানানো মমতা ক্ষমতায় আসীন থাকলে, রাজ্যে বিজেপিকে আদৌ দরকার রয়েছে RSS এর? বিজেপি কোনটা করবে, যে পাপ মমতা ব্যানার্জী ইতিমধ্যে করেনি? আলেমগুলো যদি সত্যিই যদি বিজেপিকে ঘেন্না করত বা তাদের ভয় পেতো, তাহলে তারা নিজেরা ও তাদের অনুগামীদের বিজেপির রাজ্যে যেতে মানা করতো। সামান্য চাঁদার জন্য এখানে তারা বিজেপির সাথে কেন আপোষ করছে? ইরাণের মুসলমানেরা কি ইজরায়েলে কাজে যায়? এরা শুয়োরের মাংসকে হারাম বলে, কিন্তু ঝোলটা শরীয়ত মেনে হালাল হিসাবে খায়। এরা তোলামুলের কাছে ফুটো পয়সাতে ঈমান আমল বিক্রি করে রেখেছে। মমতা ব্যানার্জী মুসলমানকে ‘দুধেল গাই’ সাজিয়ে ‘ভোটব্যাঙ্ক’ হিসাবে ব্যবহার করে দ্বিতীয় শ্রেনীর নাগরিক বানিয়ে রেখেছে, এই আলেম গুলো সেই পাপের প্রত্যক্ষ অংশীদার। আজ হুমায়ূন যে কারনেই হোক, সেই ‘দুধেল গাই’ ভোটব্যাঙ্কে থাবা বসাতেই- মমতা ব্যানার্জী উন্মাদ হয়ে এই বিকৃত আলেম সমাজকে নামিয়ে দিয়েছে; যারা আসলেই মমতার পোষা কুত্তা। এদের ফতোয়া মুসলমান সমাজকে বাঁচানো বা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য নয়, আতঙ্কে দিশেহারা মমতা ব্যানার্জীকে বাঁচানো ও মমতাকে সামনে রেখে এদের নিজেদের রুজি রোজগার বাঁচানোই এদের মুখ্য উদ্দেশ্য।

হুমায়ূনের ভিডিও কান্ডে একটা জিনিস পরিষ্কার হয়ে গেছে, মমতার হয়ে খেপ খাঁটা যত মুনাফেক মুসলমান ছিলো, অনেক আগেই মমতা যাদের পোঁদের কাপর কেড়ে নিয়েছিলো; হুমায়ুনের সামান্য পরিমান জনভিত্তি দেখে রাতের ঘুম উড়ে যাওয়া মমতা ব্যানার্জী- সেই পোঁদের কাপর বিহীন ‘কাটা মোল্লার’ সব কটার সামনের কাপড় কেড়ে নিয়ে, ন্যাংটা করে বাজারে নামিয়ে দিয়েছে। সোজা হিসাব, এতদিন তদের ভাত কাপড় দিয়ে কি মিছিমিছি পুষেছি? সুতরাং, হুমায়ূনের বিরুদ্ধে ফতোয়া দে, আর মমতা না এলে বিজেপি চলে আসবে এই বলে মুসলমানকে বোকাচোদা বানা। 

হুমায়ূনের বিরুদ্ধে আজ কারা খাপ বসিয়েছে? নারদার টাকা নিতে দেখা স্যান্ডো ববি, আর সারদার টাকা চুরিতে সরাসরি অভিযুক্ত ও জেলখাটা আসামী কুনাল ঘোষ। চালুনির দল ছুঁচের বিচার করতে বসেছে, ওদের নিজেদের ঘরোয়া কেচ্ছা নিজেরাই মেটাক। ওমা, কিছু কিছু বাম্বাচ্চা ববি কুনালের চেয়েও বীর বিক্রমে ন্যাংটা হুমায়ুনকে ঠিল মারছে। আরে মদন, নর্দমাতে ঢিল মারলে কাদা তোর জামাতেই উঠবে। হুমায়ুন কোনো বাম ভোট কাটবেনা, সে তোলামুলের ভোটই কাটবে। আর তাতে যদি সে সফল হয়, তবে বামের ঘরে দু-চারটে আসন আসতে পারে। 

সিপিএমের সোশ্যাল মিডিয়া ব্রিগেড আরেক গান্ডুর দল। সিপিএমের নানান শাখা সংগঠন আছে, কিন্তু সেগুলো খাতায় কলমে। কেউ মূল সিপিএম, কেউ সিটু, কেউ যুব, কেউ ছাত্র তো কেউ ক্ষেতমজুর। এরাই গত ৫-৭ বছর ধরে প্রতিটা মিছিলে মিটিং এ যায়, এরাই ব্রিগেডে ১০ লাখের জমায়েত করে। আসলে দিনের শেষে সাকুল্যে এই ১০ লাখই হারাধনের ছেলে দশটি ছেলে,  কুমিরের বাচ্চা দেখানোর মত এদেরকেই সব জাইগাতে দেখা যেতো। একটা বুথ থেকে এরা ১২ জন আসতো, সেই ১২টা ভোটও পার্টি পেতোনা, ফলে সর্বত্র জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। তোদের জ্ঞানের বহর আর অউকাত তো গত ১৫ বছরে রাজ্যের লোক দেখে নিয়েছে। মুখ খুললেই যখন শুধু দুর্গন্ধই বের হয়, তখন চুপ থাকাটা শেখ না ভাই। আজ তো মানুষই পরিস্থিতি বদলে দিচ্ছে, কৃষিপ্রধান মন্তেশ্বরে শতরূপের সভাতে টুপি দাড়ির মুসলমান আর ঘোমটা দেওয়া মহিলাদের ভিড়, রাজ্যে দিন বদলের আশা জাগাচ্ছে। তোরা অন্তত মুখ আর পোঁদ- এই দুই ফুটো বন্ধ রাখ। দলের পক্ষে অফিসিয়াল বিবৃতি দেওয়ার তো লোক আছে, উনাদেরকে আগে বলতে দে, তারপর নাহয় তোরা সেই লাইন ধরে ঝাঁ ঝাঁ করে বলতে শুরু করবি।

তৃণমূল আজ ক্রমশ ২০১৭ সালের সিপিএমে পরিনত হচ্ছে। যেখানে যত ছুপা তোলামুল ছিলো, আজ সবাই প্রকাশ্যে হাজির হয়ে গেছে। অর্থাৎ, এই মাল কটাই সবেধন নীলমনি হয়ে অবশিষ্ট রয়েছে তৃণমূলে। চাকুরীজীবি জনগণ নেই, মধ্যবিত্ত নেই, সাধারণ গরীব মুসলমান, অফশিলি ও আদিবাসি, শ্রমিক কৃষক সবাই তৃণমূলের উৎখাত চাইছে যেকোনো মূল্যে। এই তোলাবাজ কাটমানিখোর চোর গুলোর হাত থেকে রাজ্যবাসী পরিত্রাণ চাইছে; এই সময় যারা তোলামূলের ঢাল হিসাবে সামনে আসবে, তারা মৌলানা আলেম হোক বা সাধু সন্ন্যাসী, মুখে জাষ্ট মুতে দিয়ে লাথি মেরে রাস্তার বাইরে ফেলে দিন। 

যাদবদের জন্য লালু অখিলেশ দল খুললে সেটা সিদ্ধ, চামার দলিতের জন্য দল খোলা মায়াবতীর দোষ নেই, দ্রাবিড়দের জন্য খোলা দল আছে তামিলনাড়ুতে, মাঠারাদের জন্য দল আছে, কন্নরদের জন্য দল আছে, তেলেগু জাতিস্বত্তার ভিত্তিতে দল হলে তা সমান ও রাষ্ট্র স্বীকৃত হয়, শিখদের জন্য আকালি দল আছে, দেশে সকল জাতি ও গোষ্ঠীর নিজেদের রাজনৈতিক দল আছে। পাহাড়ীদের জন্য নিজস্ব দল আছে, আদিবাসীদের নিজেদের দল আছে। আসাম সহ উত্তরপূর্বে নানান ধর্ম ও জাতি ভিত্তিক দল আছে। ব্রাহ্মণ্য বাদীদের জন্য খোদ RSS রয়েছে, মুসলমানদের সেই অর্থে কোনো দল নেই, তারা কেবল ভোট ব্যাঙ্ক। দল খুললেই সে সাম্প্রদায়িক, এমনকি সন্ত্রাসীও বটে। মুসলমানদের নেতা রাহুল গান্ধী, মমতা ব্যানার্জী, অধীর চৌধুরী, লালু প্রসাদ, মুলায়ম সিং, করুণানিধি, জ্যোতি বসু, বা প্রমুখেরা; সৌজন্যে এই হারামি শয়তান আলেমগুলো, যারা ইসলামকে বেচে এসেছে যুগে যুগে- সামান্য ভাতা আর কিছু উচ্ছিষ্টের বিনিময়ে। 

“মুসলমান আর ভয় পাচ্ছেনা, বিজেপি NRC জুজু দেখিয়ে মমতার ভয়ের দোকানের ঝাঁপ বন্ধ হয়ে গেছে”। এই লাইনটার জনক খুব নির্দিষ্টভাবে আমি নিজে। টুপিওয়ালা মুসলমান আর ঘোমটা দেওয়া মহিলা ব্রিগেড- এবারে ঠিক করে দেবে রাজ্যের শাাসক কে হবে। মুসলমান সমাজে যারা ‘মানুষ’, তারা এবারে ভোটটা দেবে- ১৫ বছরে কি পেয়েছে, কি পায়নি, আর কি কি পেতে পারতো যা তার অধিকার ছিলো, আগামীতে কি কি পেতে পারে সেই বুঝে ভোট দেবে। এই সব দু পয়সাতে বিক্রি হয়ে যাওয়া আলেমদের ফতোয়াকে পোঁদে মুছে ফেলে দিন জাষ্ট। সুযোগ পেলে মুখে মুতেও দিন, তাতে আপনার খানিকটা নেকি বাড়বে বৈ কমবেনা। 

তাই যে শুয়োরের বাচ্চা, নিজেকে মুসলমান সম্প্রদায়ের হনু বলে ফতোয়া দিয়ে তোলামুলের হয়ে দালালি করতে আসবে, শুরুতেই তাকে খানকির ছেলে ও শুয়োরের বাচ্চা বলাটা ফরজ, এটা আমলও বটে। এটা না বললে আপনার ঈমান নিয়ে প্রশ্ন উঠবে, আদৌ আপনি মুসলমান, না শয়তানের ধোঁকায় পরা গুমরাহ ব্যাক্তি এখানে বিচার হবে। এর পর সেই দালালকে শুধান- আপনি ওয়াকফ, OBC, SIR এর নামে মুসলমান সম্প্রদায়কে যখন ক্ষতির মুখে ফেলা হচ্ছিলো, আপনি বা আপনারা কোথায় ছিলেন? 
   
ধর্মকে বেচে খাওয়া যাদের রুটিরুজি- যাদের দোকান চলে ‘কওম’কে চুতিয়া বানিয়ে; তারা ‘কওম’ নিয়ে কিছু বলতে আসলেই মুখে থুতু দিন। এরা নিজেরা সারাবছর চটির নিচে পরে থাকে ভাতাজীবি হয়ে, ভোটের বাজারে ব্ল্যাকমেল করে কিছু কামিয়ে নেওয়ার তালে এই মালগুলো মুখ খুলেছে। এদের এই খোলা মুখে হেগে দিন। এদেরকে মুসলমান সমাজের নেতা বানানোর ধাষ্টামি বন্ধ করুন, গরীব স্বল্পশিক্ষিত মুসলমান বোকা হতে পারে, তাদেরকে বোকাচোদা ভাবার আর সুযোগ নেই। যাকে খুশি ভোট দিন, তৃণমূল বিজেপিকে বাদে।

বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬

আমেরিকা ইরানের মার থেকে পালিয়ে বাঁচল

 


Dickhead USA Democracy

 

১টা নার্সিসিস্ট উন্মাদ ধর্ষক ক্রিমিনাল, যে সভ্যতা ধ্বংসের হুমকি দেয় ২ টাকার মাতাল গুন্ডার মত, তাকে যারা আঁটকাতে পারেনা- মুখে করে দিই তাদের 'মহান' রাষ্ট্র আর তাদের তথাকথিত ‘বিশ্বমোড়ল’ সিস্টেমের উপর। USA নামের গোটা রাষ্ট্রটা আসলে মানসিকভাবে জঙ্গি আর হারামের লুঠের টাকায় পুষ্ট, মোটামুটিভাবে প্রতিটা বেজন্মা আমেরিকানই যুদ্ধাপরাধী, শিশু ধর্ষক এপস্টিন ক্লাস ওদের রক্তে বইছে। সভ্যতার স্বার্থে যেকোন মূল্যে আমেরিকার বিনাশই একমাত্র বৈশ্বিক চাহিদা এই মুহুর্তে, এমন উদ্ধতস্বভাব অহংকারী বর্বর যারা- ইতিহাস কখনও তাদের ক্ষমা করেনি।

পাকিস্তান নাকি যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতা করিয়েছে! চাকরবাকর নাকি মালিককে অনুরোধ করছে! আসলেই মালিকের হুকুমেই চাকরের এই অনুরোধ। দুশ্চরিত্র মনিব তার লুচ্চা চাকরকে দিয়ে ধুতি পরিয়ে নিচ্ছে। পাকিস্তানের কানে বন্দুক রেখে সিজফায়ার করিয়ে আমেরিকা যুদ্ধ থেকে পালিয়ে বাঁচল। ইরাণ ট্রাম্পের এমন পায়ুমর্দন রেছে যে গোটা স্ট্যাচু অফ লিবার্টি সেখান দিয়ে ঢুকিয়ে কিডিনির ব্যালকনিতে সাজিয়ে রাখা যাবে। আপনি বরং মলদ্বারে গরম বোরোলিন দিয়ে নিজের বিজয় ঘোষণা করুন- পিছন মারতে দিলেও, মুখ মারতে দেননি, এর থেকে বড় বিজয় আর কিছু হতে পারে না। চাঁটা ও চোষার জন্য 'আমি' আপনার চাকর পাকিস্তান আছি তো। ফলত, বিশাল ধমকে চমকে স্বঘোষিত বিশ্বনেতা- একতরফা সিজফায়ার হেগেছে। আসলে ৪ তারিখের ব্যার্থ বিমান অভিযান, আমেরিকাকে মানসিকভাবে নির্বীজ খোজা করে দিয়েছে, তাদের ওউকাতে এনে দিয়েছে। বুড়ো ষাঁড় ট্রাম্প কি এবারে শাহবা শরীফ আর আসিম মুনিরের জন্য শান্তিতে নোবেলের জন্য নাম প্রস্তাব করবে?

সেনা উদ্ধারের নাটক করে, ইরানের ইউরেনিয়াম হরণের স্টান্টবাজি করতে গিয়েছিল 'মাদুরো অপহরণের' স্টাইলে। প্রায় ২ ডজন নানান জাতের জঙ্গি জাহাজ খুইয়ে, কয়েক ডজন পাইলট আর কমান্ডো খুইয়ে এপস্টিনের সেনারা আরো উন্মত্ত হয়ে উঠেছে। ল্যাজেগোবরে শব্দটা 'ইস্পাহানে ভরাডুবি' শব্দ দিয়েও আগামীতে বোঝানো যেতে পারে। সব মিলিয়ে আমেরিকার হাতে কেবল লজ্জা, হতাশা, শোচনীয় পরাজয় আর বেধড়ক মার খাওয়ার অপনান, কলঙ্কিত ফক্কা।

ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের একটি ১০ দফা প্রস্তাব মেনে নিতে বাধ্য হয়েছে।

1. ইরানের বিরুদ্ধে অ-আগ্রাসনের (non-aggression) মৌলিক অঙ্গীকার।

2. হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা।

3. ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম মেনে নেওয়া।

4. সব ধরনের (primary secondary) নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার।

5. জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ও সংশ্লিষ্ট বোর্ডের সব রেজুলেশন বাতিল।

6. ইরানকে ক্ষতিপূরণ প্রদান।

7. অঞ্চল থেকে মার্কিন যুদ্ধবাহিনীর প্রত্যাহার।

8. লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করা, বিশেষ করে “ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স”-এর বিরুদ্ধে অভিযান বন্ধ।

এটা কার্যকর হলে দৈনিক ১৩০টি জাহাজ যদি হরমুজ দিয়ে অতিক্রম করে, ১৪ দিনে তাদের GDP এর সমপরিমান অর্থ সংগ্রহ করে নেবে ইরান। খাটে হোক বা মাঠে, টিকে থাকার নামই বীরত্ব। ১ মিনিটে শীঘ্রপাত- সে তো ট্রাম্পের কাজ। একবার নেতিয়ে পরলে যন্ত্র আর দাঁড়াবেনা। আগে ট্রাম্প একতরফা সিজফায়ার ঘোষণা দিয়েছে। সে জানে তার কথার ১ পয়সা ভ্যালু নেই, ফলে ইরানের বিদেশমন্ত্রীর অফিসিয়াল বিবৃতি পোষ্ট করে নিজের বিশ্বাসযোগ্যতার প্রমান দিয়েছে। একে বলে চুড়ান্ত হ্যাটা করা। আমাদের নপুংসক বিশ্বগুরু যা করতে পারেনি, ট্রাম্প একতরফা যুদ্ধবিরতি ঘোষনা করেছিলো পাকিস্তানের বিপক্ষে। সেই উদ্ধত ট্রম্পকে শিক্ষা দিয়ে দিলো ইরান। হাঁটু মুড়ে 'প্যাহেলে আপ' সিজফায়ার ঘোষণা। মারের চেয়ে বড় ওষুধ আজও নেই। আর নপুংসক এর বিরুদ্ধেই আমেরিকার যাবতীয় দম। পুরুষাকার কারো সামনে পরলে যে আমেরিকাও প্যান্টে হাগে- তাই ইতিহাসে লিপিবদ্ধ হয়ে গেলো। ট্রম্পের ট্যারিফ যুদ্ধ আর পিস কমিটি আপাতত হরমুজ প্রনালীর গভীরে তলিয়ে গেছে। আমাদের বিশ্বগুরুর ফাদারল্যান্ড তো কোমায়, ফাদারের বেজন্মা বাচ্চারা কি নতুন বাপ বানাবে ইরানকে?

আরবের মোল্লা রাজা যেগুলো মার্কিন অন্ডোকোষে অবাঞ্চিত চুলের মত লেগে রয়েছে আমেরিকাকে 'খোদা' মেনে, কারন আমেরিকা তাদের রক্ষাকর্তা এটাকেই তারা বিশ্বের একমাত্র সত্য মানে। যাদের ভূমি ও আকাশ ব্যবহার করে জায়োনিষ্ট এপস্টিন ক্লাস এই বর্বরতা চালাচ্ছে চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধে- তাদের প্রাসাদ গুলো আজও কেন অক্ষত আছে জানিনা। কুয়েত, আমিরাত, সৌদি আর জর্ডন- চারটে হারেমে চারটে মিসাইল, যুদ্ধ ৮০% শেষ হয়ে যাবে ওখানেই। প্রতিটা হারেমে ইহুদী জায়নিষ্ট বীর্যজাত বেশ্যার বাচ্চারা জন্ম নিয়েছে, যারা এপস্টিন বাহিনীর খাদেম হিসাবে সেবা করে চলেছে দশকের পর দশক।

আমেরিকা যে আসলে একটা ফাঁপা মাল, যতটা গর্জায় ভেতরে তার ৫% ও নেই, গত ৮-৯ দশক ধরে লুঠ রাহাজানি করে কামানো মাল দিয়ে যে হারামের সাম্রাজ্য বানিয়েছে, সেটা দুম করে কাল সকালেই ভেঙে যাবেনা। কিন্তু সেটাকে স্লো পয়জন করেও যে মেরে ফেলা যায়, তার হাড়ে মজ্জায় যে ঘুণ ধরিয়ে তার কাঠামোকেই পচিয়ে দেওয়া যায়- ইরান রোজ সেটা প্রমান করে দিয়েছে। ওদের যে 'মানবিকতার' দোকান, তার মুখোশ ছিঁড়ে খুলে ফেলে, ওরাই যে আসল সভ্যতা ধ্বংসের কারিগর, বিশ্বজুড়ে প্রতিটা জঙ্গিগোষ্ঠীর উত্থান ও তাদের লালনের মাধ্যমে গত ৮০ বছর ধরে USA যেটা করে এসেছে সভ্যতা বিকাশের নামে- সেটাই আজ পিডো-ষাঁড়টার মুখ দিয়ে স্বীকার করিয়ে নিচ্ছে ইরান। আমেরিকা তার ভয়ের দোকান টিকিয়ে রাখতে শালীনতার সমস্ত মাত্রা অতিক্রম করে পাশবিক সত্তাকে তার আইডেন্টিটি হিসাবে বিজ্ঞাপিত করে যাচ্ছে।

চাপানো যুদ্ধে অস্ত্র বিক্রি, অন্যের প্রাকৃতিক সম্পদ দখল- সবটাই ছিলো ভয়ের সাথে 'ডিল' করে। আমেরিকা মানে তো একটা হিমশীতল ভয়ের নাম 'ছিলো', সেই ভয় আজ নিজেই 'the fucking joke' এ পরিনত হয়ে গেছে, সৌজন্যে ইরাণ। ভয়ের ঘরে আজ ভয় ঢুকিয়ে দিয়েছে পারস্য সভ্যতা। এই কারনেই এপস্টিন বাহিনী মরিয়া হয়ে উঠেছে। তবে আমেরিকার মুরোদ ওই হম্বিতম্বি আর চারটে ব্রিজ ভাঙা অবধিই, নিউক হেড ব্যবহার করতে গেলে- আমেরিকার অন্তত ১২টা শহরে icbm তাক করা রয়েছে বিশ্বের নানান প্রান্ত থেকে। আর মার্কিন আকাশ প্রতিরোধী ব্যবস্থা যে রথের মেলার পাঁপরভাজা - সেটা তো ইরানই প্রমান করে দিয়েছে আরেক বিশ্বছেঁড়া কমান্ডার ইজরায়েলে। আয়রণ ডোম আর মোসাদ- মিথ ফিনিস।

তাই পারমাণবিক হামলা অন্তত এই পর্যায়ে কিছু হবেনা বলেই আমার বিশ্বাস, বরং ইরানের গুরুত্বপূর্ণ স্ট্রাকচারাল এলাকাতে হামলা হতে পারে তেড়েফুঁড়ে- আসলে আমেরিকার নামে চলা মধ্যপ্রাচ্যের নানান প্রতিষ্ঠানগুলোর ডেথ সার্টিফিকেট লিখে দিচ্ছে নিজেরাই। এভাবেই আরব এলাকা থেকে রিজিম চেঞ্জ হচ্ছে, USA হেজিমনির রিজিম। ডলার রিজিমের পতন চোখের সামনে ঘটতে দেখছি- লাইভ।

ইরান, মার্কিন পরাশক্তি নামের সাদা হাতিটাকে, খেঁকি কুত্তার পর্যায়ে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে পাড়ার মোডে। রাজকীয় তর্জন গর্জন ভুলে, তাদের প্রেসিডেন্ট এখন কাঁচা খিস্তিখেউর সহযোগে তার মিত্রদের অভিসম্পাত করছে, কখনও বালছাল গু-গোবর লিখে এ্যাটেনশন ক্রিয়েট করার চেষ্টা করছে তো কখনও ফুটো মস্তানদের মত নির্লজ্জ হুমকি দিচ্ছে। মোদ্দাকথা ছালউঠা কুত্তার মত ভৌ ভৌ করছে। যুদ্ধবাজদের সীমাবদ্ধতাগুলো ভয়াবহ প্রকাশ করে বিশ্বের 'বাপ' সাজার গল্পের নটে গাছ মুড়িয়ে দিয়েছে ইরান।

তাদের মিথ ছিলো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, থাড ইন্টারসেপ্টর আর প্যাট্রিয়টস সিস্টেম- মোটামুটি এদের ব্যবসা নেই করে দিয়েছে। যাবতীয় স্টিলথ বিমানের ধাজিয়া উড়িয়ে দিয়েছে; লকহিড মার্টিন আর বোয়িং, এদের সক্ষমতা- মিথ থেকে সরাসরি 'নেই'। এক ইরান যদি এই করে দেয়, চীনের সাথে যদি যুদ্ধ লাগে তো আমেরিকা প্রথম রাতেই নকআউট হয়ে যাবে একপ্রকার।

তাদের মিথ ছিলো যুদ্ধবিমানবাহী রণতরী এবং রাডার যুক্ত সামরিক ঘাঁটিগুলো। ডেল্টা ফোর্স, মেরিন কপস, নেভি সিল ইত্যাদি, এগুলোর এমন ভিখারির দশা করে দিয়েছে যে, এই রণকৌশল তথা সিস্টেমের কার্যকারিতা নিয়ে আজকের বিশ্বে প্রশ্ন উঠে গেছে। ইরানি হামলার যুদ্ধ জাহাজ কনসেপ্টটাকেই 'স্ক্র‍্যাপ' বানিয়ে দিয়েছে। হলিউডের সিনেমাতেই আমেরিকা একমাত্র অপরাজেয়, বাস্তবে মাছিমারা পালোয়ান।

আসলে তাদের মিথ গচ্ছিত ছিলো 'পেট্রোডলারে'। ইরান নামের কুড়ুলটা এইখানে পরেছে। আরবের তেল গ্যাসের টাকা লুঠের মধ্যে দিয়েই তথাকথিত 'সুপার পাওয়ার' আজ সেই তেল-গ্যাসের বধ্যভুমিতে বন্দি। ৮০ বছরের পাপ, ৩৭ দিনে শেষ হবেনা। আমেরিকা নামের অভিশাপকে বিশ্ব থেকে মুক্ত করতে, ইরান নিজেই একটা কামিকাজি ড্রোন হিসাবে সমগ্র অত্যাচারিত বিশ্বের পক্ষ থেকে আবির্ভূত হয়েছে। ইরাণের কাছে গোটা বিশ্ব ঋণী হয়ে গিয়েছে। তাই, ইরানের শাসকদের হরেক দোষ থাকা সত্বেও সে ফুলের মত পবিত্র ও সুন্দর হয়ে উঠেছে, কুৎসিত আমেরিকার বিপক্ষে বীরবিক্রমে দাঁড়িয়ে লড়াই দেওয়ার জন্য।

গণতন্ত্রের ধজাধারী আমেরিকা এবং তাদের সংস্থা মেটা আসলেই যে জায়নবাদী আর মুক্ত মতাদর্শ ও গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধকারী - তা রোজ প্রমান হচ্ছে। ইজরায়েলের বিরুদ্ধে কোনো কার্টুন, কোন ফ্যাক্ট যুক্ত পোষ্টারকে সে পোষ্ট করতেই দেবেনা। এভাবে সেন্সর করে ইজরায়েলকে টিকিয়ে রাখা যাবে নাকি মেটা নিজে টিকবে? কোনো না কোন ইরাণ এসে যেদিন মেটার গাঁড়ে মিসাইল গুঁজে দেবে, ইজরায়েল বাপের মতই তখন সহানুভূতি ভিক্ষা ফেরি করতে হবে ধ্বংসস্তুপের ছবি দেখিয়ে। কমিউনিটি স্ট্যান্ডারের নামে এপস্টিন বাহিনী আসলে ইহুদী স্ট্যান্ডার্ড স্থাপনা করেছে।

ইরান আসলে একটা লুঠেরা খুনি দুর্বৃত্ত অসভ্য ন্যাংটা সভ্যতার বিষ দাঁত উঁপরে নিচ্ছে, নিজে সেই বিষ হজম করে। বিশ্ববাসী এবারে নিশ্চিন্ত হতেই পারে, কিছু মাসের মধ্যে ৫০ টি উত্তর আমেরিকান রাষ্ট্রের ইস্কুলের পাঠ্য ইতিহাসে লেখা থাকবে- আমরা এককালে USA নামের বর্বর দেশের অংশ ছিলাম। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ জানিয়ে দিয়েছে- মার্কিন পক্ষের প্রতি পূর্ণ অবিশ্বাস নিয়ে আগামী শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, এই বিষয়ে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে আলোচনা শুরু হবে।

 

সাম্রাজ্য পতনের শব্দ হয় না।

 


মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ, ২০২৬

সাদা খাতার প্রজন্ম

 


সর্বত্র সাদা খাতা কেস, আজকের সাপ্লিমেন্টারী ভোটার লিষ্ট রাষ্ট্র পরিচালিত প্রকাশ্য জালিয়াতি। সাদা খাতার শিক্ষকদের BLO বানিয়ে SIR করানো, সাদা খাতার BDO দিয়ে নোডাল অফিসারের কাজ করানোর পর, মহামান্য বিচারপতিদের এই অপূর্ব শিল্পকলা - সাপ্লিমেন্টারি ভোটারলিস্ট এর নামে সাদা খাতা। মোটাদাগে ভণ্ডামি।

শুক্রবার এসে দাঁড়ালো সোমবারে। সোমবার দুপুর গড়িয়ে বিকাল হয়ে মাঝরাত্রে সাইট খুললো, কিন্তু তাতে কি? ম্যাজিক-

No adjudication pertaining to this part till 5 PM on 23.3.2026

৩০ লাখের নিষ্পত্তির গল্প শুনিয়ে, আদতে গোটা রাজ্যের হাতে গোনা কয়েকটা বুথে হাজার তিনেকের বেশী কোনো সমস্যার নিষ্পত্তি হয়নি। পুরোটা একটা নির্জলা মিথ্যাচার, ধাপ্পাবাজি। এই অসভ্য ধোঁকাবাজিতে আমাদের বিচারব্যবস্থাও কোনোভাবে দায় এড়াতে পারেনা, তারাও সমান ভাবে এই বৃহৎ ষড়যন্ত্রের অংশীদার আজ থেকে।

রাজ্যের সর্বত্র এই এক অবস্থা, মানুষ সারা রাত জেগে চেষ্টা করে যাচ্ছে মরিয়া হয়ে- তার নাম আছে তো নাগরিকের তালিকাতে! অত্যন্ত নিকৃষ্ট একটা নোংরামি করলো এই নির্যাতন কমিশন। ECI এর মত গণতান্ত্রিক কাঠামোর মূল স্তম্ভ যখন এভাবে প্রকাশ্যে সাংবাদিকদের সামনে এসে ডাঁহা মিথ্যাচার করে, তখন গণতন্ত্রের পোশাকের আড়ালে স্বৈরাচারী একনায়কতন্ত্রের দাঁতনখ গুলো স্পষ্টভাবে ফুটে উঠে।

মিডিয়া আগেই বিকিয়ে গিয়েছে, দেশের সংসদ 'জর্জ অরওয়েলের' পশুখামারের আদর্শ রূপ, এখন বিচারব্যবস্থাও জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের সর্বনাশ করতে উঠেপরে লেগেছে, নির্যাতন কমিশনের প্রতারণা খেলার পার্টনার হয়ে গেছে। গণতন্ত্রের শিরচ্ছেদ করে গণকে বলি দিয়ে তন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করতে মরিয়া। Absolute Bureaucracy 

তোলামূল যেনতেন ভাবে ২০২৪ ভোটার লিস্ট দিয়ে ভোট করাতে মরিয়া, বিজেপি এডজুডিকেশনের নামে পৌনে এক কোটি মানুষকে জিম্মি বানিয়ে, ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে ক্ষমতায় আসতে মরিয়া। বাকি সব রাজনৈতিক দল MLA বানাবার প্রক্রিয়াতে ব্যস্ত, পৌনে ১ কোটি মানুষ বঞ্চিত বেনাগরিক হয়ে চরম দুর্দশায়।

মানুষ এতোদিন চুপ করে সয়ে যাচ্ছিলো, তারপরে আজকের এই প্রতারনার পর যদি এই পৌনে এক কোটি দিশেহারা মানুষ উন্মত্ত হয়ে উঠে দলে দলে রাস্তায় নেমে আসে- রাষ্ট্রের মুরোদ আছে তাদের নিয়ন্ত্রণ করা? নাকি রাষ্ট্রযন্ত্রই তার নাগরিকদের উপরে বুলেট বৃষ্টি করে মরদ সাজবে? 

বিজেপি কি এটাই চাইছে, যেকোনো মূল্যে অশান্তি দাঙ্গা পরিস্থিতি তৈরি করে আইনশৃঙ্খলার দোহায় দিয়ে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করতে? নাগরিকত্বের মৌলিক অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলা- আসলে আগুন নিয়ে খেলা, যে আগুন দাবানল হয়ে উঠার দ্বারপ্রান্তে।

ক্ষোভ নামের বারুদের স্তুপে আগুন যেকোনো সময় বিস্ফোরণ লাগাতে পারে। নগর পুড়লে কি দেবালয় রক্ষা পাবে? নাকি সেই দেবতারা রক্ষা পাবে যারা ক্ষমতার দম্ভে মত্ত হয়ে নিজেদেরকে দেবতার স্তরে বসিয়ে ফেলেছে!

এক চরম মাৎস্যন্যায় নৈরাজ্যের পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিলো আমাদের রাজ্যকে, আজকের পর প্রতিটা অরাজকতার দায় নির্যাতন কমিশনের। যুদ্ধটা যখন নাগরিকদের সাথে, তারাই বুঝে নেবে কীভাবে চাবকে রাষ্ট্রকে আবার গণতন্ত্রের নামতা শেখাতে হয়।



মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬

আমরা কী আমেরিকার কাছে পরাধীন?


 আমাদের দেশের বন্দরে আমেরিকান নৌবাহিনীকে আশ্রয় দেওয়া হচ্ছে কেন? 


মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের তাড়া খাওয়া আমেরিকা নামের খেঁকি ঘেয়ো কুত্তাকে আমাদের সমুদ্র বন্দরে এ্যালাও করছে বিশ্বগুরুর সরকার? কোন স্বার্থে? আমাদের পার্লামেন্টের অনুমোদন নিয়েছে? জাতি কী চায় জানতে চেয়েছে? আমরা কি অলিখিতভাবে আমেরিকার উপনিবেশ হয়ে গেছি? আমাদের রাষ্ট্রের কোনো সার্বভৌমত্ব টিকে আছে? নাকি সব বালবিচি ওই নেতানুনু আর বেটিচো দ ট্রাম্পুদের এপস্টিন বাহিনীর কাছে গচ্ছিত রেখেছি? 

আমেরিকা যার বন্ধু, তার আলাদা করে শত্রুর দরকার হয়? মধ্যপ্রাচ্যের মোল্লা রাজাগুলোকে দেখেও শেখেনি ইন্ডিয়ান জেমস বন্ড? ওরাই তো পেট্রোডলার দিয়ে আমেরিকাকে মাইটি বানিয়েছিল। আজ যখন তাদের গাঁ ড়ে মিসাইল দাগা হচ্ছে- কোথায় আমেরিকা? পালিয়ে ভারত উপকুলে এসে প্রাণ বাঁচাচ্ছে। যে কাঠ খেয়েছে সে ফার্নিচার হাগুক, আমরা কেন ভিসকাপের নিচে শোবো? আমেরিকার নৌবাহিনীর জাহাজ আক্রমণ করতে গিয়ে চারটে মিসাইল যদি মুন্দ্রা, কান্ডলা, মুম্বাই, JNPT, মার্মাগাঁও, নিউ ম্যাঙ্গালোর বা কোচিন বন্দরে পরে, সেগুলোকে সওয়ার মুরোদ বা শক্তি আছে তো আমাদের? যেখানে আমেরিকা নিজের থুতু চেটে খেয়ে প্যান্টে হাগছে সেখানে আমাদের প্রতিরোধ শক্তি মার্কিনীদের চেয়েও বেশি? মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইরানের তাড়া খেয়ে ঘেয়ো খেঁকি কুত্তার মতো আমেরিকা যেদিকে পারছে পালাচ্ছে। গ্রীস সহ অনেকেই জায়গা দেয়নি, যদিও স্পেনের একমাত্র প্রকাশ্য বিবৃতি রয়েছে যে, আমাদের মাটিতে যুদ্ধাপরাধী মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের কোনো স্থান নেই। ন্যাটোকে একা রাশিয়াই নাশবন্দি ভ্যাসেকটমি করিয়ে দিয়েছে, ন্যাটোর আর উঠে বসার ক্ষমতা নেই।

ইরান ইসরায়েলকেও জাহান্নামে ছুঁড়ে ফেলেছে। তেল আবিবে ফক্স নিউজের প্রতিবেদক বলছে- ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণ এতটাই ভয়াবহ যে, ১ কোটি মানুষকে বাঁচার জন্য আড়াল খুঁজতে দৌড়াতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এটা আর কোনও নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। পুরো শহর জুড়ে প্রতিটা বাড়ির দেয়ালে দেয়ালে ক্ষেপণাস্ত্রের বৃষ্টি হচ্ছে - আরও বড়, আরও মারাত্মক, যেন সবকিছু গিলে খাচ্ছে। পুরনো বস্তাপচা স্ক্র‍্যাপ মিসাইল দিয়ে এপস্টিন বাহিনীর প্রতিরোধ সিস্টেমকে মেলার পাঁপড়ভাজা বানাবার পর, এখন ইরান চেপে ধরছে তার অস্ত্রাগার থেকে সেরা মালগুলোর সামান্য কয়েকটা বের করে। ইউক্রেন থেকে ইতিমধ্যেই যা প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর এনেছিল সে সব ফিনিস। এখন ইরান ফেলে ক্যালাচ্ছে যায়নবাদী দুই কশাইকে।

মাইনাবের ইস্কুলে অতর্কিত আক্রমণে ১৬৭ জন শিশু কন্যাকে খুন করে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ শুধু তাদেরই মারেনি, আজ গণকবরের দৃশ্যমানতার মাঝে সবচেয়ে বড় অদৃশ্য কবরটা আমেরিকারই ছিল। ইরানের বাঁচার সম্ভাবনা অতিক্ষীন হচ্ছে রোজ, কিন্তু সে নিজে মরতে মরতে আমেরিকা মিথ ও তাদের লুঠের সাম্রাজ্যকে হরমুজের জলে নিয়েই ডুবছে। তাদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খুন হতেই, ইরান ক্ষ্যাপা জম্বি ষাঁড় হয়ে গেছে। এখন তাদের কোনো কূটনীতি নেই, কোনো পররাষ্ট্রনীতি নেই, বিশ্বের প্রতি মানবতা নেই, আইনকানুন কিচ্ছু নেই। কারণ বাকি দুনিয়া তার জন্য এগুলোর একটাও দেখয়নি, ফলত আজ সে নবারুণের ভাষায়- গাঁ ড় মারি তোর এথিক্সের। ইরানের একটাই নীতি- যে আমেরিকাকে সাপোর্ট দেবে তার গাঁড়ে মিসাইল গোঁজো, তাতে তার দেশে ১০ হাজার শহীদ হলে হোক। একটা নেতা মরতেই আরেক জন এসে হাজির শহীদ হতে, যিনি আরও বিক্রমে মিসাইল ফাটাচ্ছে। তাদের পরিষ্কার দর্শন- আমরা মরছিই, তবে বাকিদের মেরে মরব।

এমন ক্ষ্যাপা জম্বি ষাঁড়ের সামনে আমেরিকা তার নেভাল বাহিনী মানে নৌবাহিনীকে আরবসাগর বরাবর আমাদের ভারতের নানান বন্দরে স্থান দিয়েছে এপস্টিন বাহিনীর ভারতীয় পার্ট- আমাদের চমন চোদনা বিশ্বগুরু। এই হাওয়া বেলুন মার্কিন বাহিনীকে 'আলফা মেল' ভেবে এদ্দিন হারেমখোর মোল্লারাজা গুলো পুষে এসেছে, আজ প্রতিটা আরব মোল্লা রাজার দেশে তান্ডব চালাচ্ছে ইরান নামের উন্মাদ, সে পণ করেছে আমেরিকা আর তার প্রতিটা সহযোগীকে এলাকা ছাড়া করবে। দিশাহীনভাবে অলআউট আক্রমণে যাওয়ার বাইরে একটাই পথ ছিল- আত্মসমর্পণ করা আমেরিকার পায়ে। কিন্তু সবাই তো নরেন্দ্র মোদী নয়, কেউ কেউ তো মানুষও হয় যার মেরুদন্ড আছে। ৪টে মিসাইল আর কিছু কামিকাজে ড্রোনের মার খেতেই যেভাবে আমেরিকা নামের বিশ্বপরাশক্তির মিথকে উলঙ্গ করে ভেতর থেকে খেঁকি কুত্তাটাকে বের করে দিয়েছে, এর পর আর পিছিয়ে আসার জায়গা নেই ইরানের। এক নারকীয় উল্লাসে ইরান বিনাশের খেলায় মেতে উঠেছে- যেটা এপস্টিন বাহিনী নিজেরা যেচে শুরু করেছিলো। এই আমেরিকাই মোদীকে নপুংসক বানিয়ে মাদারির বাঁদরের মতো নাচাচ্ছে।

RSS সমস্যা, তার চেয়েও আমাদের দেশের বড় সমস্যা 'গুজ্জু কার্টেল'। আদানি-আম্বানি-মোদী-শাহ ব্যাস, ভারত সম্পূর্ণ। এদের বিচি আর মগজ দুটোই এপস্টিন বাহিনীর হাতে বন্দি, তাই আমারা ১৪০ কোটি জনগণ মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের হাতে জিম্মি হয়ে গেছি। এদিকে ওপেন টিভি চ্যানেলে হিজরায়েলি রাজনীতিবিদ বলছে আমাদের জন্য অস্ত্র তৈরি করতে ১৪০ কোটি ভারতীয় 'দাস' রয়েছে। আমাদের নপুংসক গুলোর একটারও প্রতিবাদ করার অউকাত টুকু নেই, কী করে করবে! আদানি তো ইজরায়েলের হয়ে লক্ষ্মৌ আর নাগপুর অস্ত্র কারখানাতে সত্যিই ইজরায়েলের অস্ত্র বানায়। এরা দেশকে ভালবাসে? এরা নাকি দেশপ্রেম দেখায়? ওয়াক থু তোদের মুখে। এরা মরে গেলেও এদের কঙ্কালের উপরে আগামীতে প্রতিটা ভারতীয়ের পেচ্ছাপ করা নৈতিক দায়িত্ব। সোস্যাল মিডিয়ার একাদধিক ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে- ফাদারল্যান্ডের প্রভু নেতানুনু আমাদের দেশ সম্বন্ধে কেমন ধারণা পোষন করে। ইহুদিদের বাচ্চারা ভারতীদের সাথে কেমন আচরন করে, ভক্তের মূর্খ বাপ এদেরকে পিতাশ্রী বানিয়ে এসেছে। ওয়াক থুঃ

বেটিচো দ ট্রাম্পুর মাইটি আম্রিকা গাঁ ড়ে যা মিসাইল আর ড্রোন ভরেছে, তার বিচি সমেত সমস্ত যন্ত্র কিডনিতে উঠে গেছে। এখন আর প্যান্টেও মোতার মুরোদ নেই, নিজের পেটেই মুতছে। যত দিন যাবে নিজেরা হাগবে নিজেরাই সেটা খাবে। যেকোনো মূল্যে এখন সিজফায়ারের ঘোমটা চাইছে, যাতে পালিয়ে বেঁচে মুখরক্ষা হয়। সে তারা গাঁ ড় মারাক ঘটি হারাক, যুদ্ধ তারা শুরু করেছিল, তারা মূল্য গুনুক- আমরা কেন আমাদের সমুদ্র বন্দরে আমেরিকাকে সেল্টার দেব? দীর্ঘদিনের বন্ধু ইরানকে হারিয়েছি, এ অবধিও ঠিক আছে নাহয়; কিন্তু তাকে শত্রু বানানোর মধ্যে ভারতের কোন স্বার্থ সুরক্ষিত হবে? আর আমেরিকাকে সেল্টার দিয়েই বা আমদের কোন লাভটা হবে? কদম্বা কারওয়ার, মুম্বই, পোরবন্দর, কোচিন ভেন্ডুরুথে, গোয়া ও লাক্ষাদীপ- এই ভারতীয় নৌ সেনাঘাঁটির প্রতিটাতেই নাকি পলাতক কাপুরষ মার্কিন যুদ্ধবাজ নৌসেনাদল তাদের অবশিষ্ট বেঁচে থাকা জাহাজ নিয়ে উপস্থিত হয়েছে- সোস্যালমিডিয়ায় বিভিন্ন এক্সপার্টের দাবী অনুযায়ী। শুধু উপস্থিতই হয়নি, গুজ্জু কার্টেল তাদের জামাই আদরে পুষছে খাদ্য, মদ, মেয়েছেলে- সবের যোগান দিয়ে। কত টাকায় দেশকে বিক্রি করেছে এই গুজ্জু কার্টেল?

কোথায় আমাদের দেশের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো? কেন আমরা রাস্তায় নামছিনা RSS এর এই আত্মঘাতী বিদেশনীতির বিরুদ্ধে? RSS আগে ব্রিটিশের জুতো চাঁটতো, এখন আমেরিকার চাঁটছে। মালিক বদলেছে শুধু, এদের জিনে সাদা চামড়ার প্রতি অকৃত্রিম "I beg to remain, SIR, Your most obedient servant" পরিভাষার কিছুই বদলায়নি।

ঝাড়ের বাঁশ গাঁ ড়ে নেওয়ার মূল্য দিতে আমরা ভারতবাসীরা প্রস্তুত তো? 

তাহলে, বলো আম্রিগা মাই কি....... 


সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬

ইরান যুদ্ধঃ একটা অশ্লীল পোষ্ট


 Disclaimer: অত্যন্ত অশ্লীল ভাষায় কথাবার্তা লেখা আছে এখানে, প্লিজ কেউ পড়বেন না। 


মার্কিন সাম্রাজ্যবাদকে যারা ঘৃণা করেন, তারা কিন্তু এটা পড়লে মানসিক তৃপ্তি পাবেন। আপনি যে ভাষায় বলতে পারছেন না এখানে সেই ভাষাতে লেখা রয়েছে। তবে যারা নাকি সুশীল, কিন্তু লুকিয়ে পানু দেখার অভ্যাসের দরুন ‘ভুল করে’ পড়বেন ভাবছেন- তারা মধু মাখানো তুলসী পাতা দিয়ে পোঁ দে গার্ড দিন, নাহলে আপনার ওটাই মারা যাবে আমার এই অকথ্য ভাষার চোদনে। হালাল হোক বা স্বাত্ত্বিক উপায়ে, যার যেটা পছন্দ ও ওরিয়েন্টেশন- সেই অনুযায়ী পোঁ দের সুরক্ষা নিন; ঠিক যেভাবে ‘আয়রন ডোম’ ইজরায়েলকে সুরক্ষা দিয়ে যাচ্ছে নিরবচ্ছিন্ন ভাবে। চলুন শুরু করা যাক- 

কার্পেট বোম্বিং দেখেছি, ক্লাস্টার প্রযুক্তির কার্পেট মিসাইলিং- নাবালক চো দা এপস্টিন বাহিনীর কাছে এ রীতিমতো দুঃস্বপ্নের। ইরানের বর্তমান রাষ্ট্রগীত হচ্ছে- ইতনা বোম ফোড়েঙ্গে, কী এলাকা ধুঁয়া ধুঁয়া হো জায়েগা। গাজাকে গাজা বানানোর কারিগরেদের মড়াকান্নার ভিডিওটাও সাথে দিলাম 

এপস্টিন বাহিনীর সেক্রেটারি ডোলান্ড টাম্প, এপস্টিনের প্রেসিডেন্ট বেঞ্জামিন নেতনায়াহু, আর এপস্টিনের স্পেশাল মুজরোওয়ালি ৫৬ ইঞ্চির ভোঁদড়ের দল ভেবেছিল তাদের যৌন শীঘ্রপতনের মতোই- দু’দিনে যুদ্ধ শেষ হবে। খামেইনিকে মার্ডার করে দিলেই উদ্বাহু নেত্ত করতে করতে রেজা পহ্লবীর নেতৃত্বে আবার একটা বিশ্বমাচাদো সরকার আসবে। শুরুটা টিম এপস্টিন প্ল্যানমাফিক করলেও, শেষটা করতে পারল না, শিবলিঙ্গ গড়তে গিয়ে বাপের বাঁ ড়া গড়ে ফেলেছে। চব্বিশ ঘন্টার মধ্যেই আত্মলিঙ্গম পশ্চাদপূরণে বাধ্য করেছে ইরান। পালিয়ে যাবার শেষ উদাহরণ হিসেবে আফগানিস্তানের মাটিতে মার্কিন অহমিকার কবর দেওয়া হয়েছিলো। সেখানে আমেরিকার কাপর খুলে নেওয়া হয়েছে, মার্কিন বেস গুলোতে আজকের দিনে ঘুঘু চড়ছে। কুত্তানিয়াহু প্রথমে গ্রীসে গেছিল সেল্টার নিতে, সেখান থেকে লাথ খেয়ে জার্মানিতে পালিয়েছে।

ইরানের তরফে মিসাইল হামলা হচ্ছে সিংহের মতো করে। সিংহের কামোত্তেজনা উঠলে প্রতি ১৫ মিনিট অন্তর অন্তর লাগাতার প্রায় সপ্তাহ খানেক তারা এলোমেলোভাবে লাগায় ২৪ ঘন্টা ধরেই। এতেই সিংহী প্রেগন্যান্ট হয়ে যায়, আমেরিকা কি সিংহীর চেয়ে কম কিছু? এদিকে সিংহীও কম তেজী নয়, তার দাঁত নখের আঁচড়ে সিংহ আক্রান্ত রক্তাক্ত হয় বটে, কিন্তু সঙ্গম থামে না। স্বভাবতই আমেরিকার পেট না বাঁধিয়ে ইরান ছাড়বে না, তাতে পুরুষ মৌমাছির মতো লাগাতে লাগাতেই বীর্য আর প্রাণ একসাথে ত্যাগ করতে হলে হয়তো ইরান সেটাই করবে। মৌমাছি, অক্টোপাস, প্যাসিফিক স্যামন, স্কুইড কিম্বা সিংহ- কায়দা যা খুশি হোক, লাগাচ্ছে কেবল ইরান। আমেরিকাই নিজে থেকে লাগাতে এসেছিল, কিন্তু তার ধন কুত্তার মতো ফুটোয় আঁটকে গেছে, এখন সেই গিঁট না ছাড়া অবধি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ক্যালানি খেতেই হবে আর গলা ছেড়ে ঘেউ ঘেউ করতে হবে। 

আমেরিকার ল্যাওড়ার আইরন ডোম, থার, ডেভিডস স্ল্যাং, প্যট্রিওট, কত কী সব নাম- সব আক্রমণ নাকি আঁটকে দেবে! ডামি মিসাইল দিয়েই এগুলোর এমন ভাবে গুয়া মেরে দিয়েছে যে, পোঁ দের ফুঁটো দিয়ে দাঁত দেখা যাচ্ছে। খেলা শুরু হতে কী দেখা গেল? আমেরিকা পানু ফিল্মের নায়িকা আবেলা ডেঞ্জার, মিয়া খলিফা/মালকোভা বা লানা রোডস সেজে প্রতিটা ফুটো দিয়ে নিজের ভেতরে- ইরানের সমস্ত মিসাইল জনি সিন্সের ডান্ডার মতো শীৎকার করে ভরে নিচ্ছে। সব ধরনের পোজে একা ইরান ১৪টা দেশকে গ্যাংব্যাং এর অর্গাজম দিচ্ছে জাপানি তেল থুরি চাইনিজ তেল লাগিয়ে। আমেরিকার বিলিয়ন ডলারের রাডার সিস্টেমকে মেলার পাঁপর ভাজার মতো করে খাস্তা মুড়মুড়ে করে দুমড়ে মুচড়ে দিয়েছে। ইরানের প্রতি ১০০ ডলার খরচের বিপরীতে আমেরিকার খরচা ১ লাখ ডলার, এখানেও চু দে চাপ, পঞ্চুর বাপ।

আপনি তো আবার ধ্রুবক ধরে বসে আছেন, আমেরিকা মানে সর্বশক্তিমান ঈশ্বর, তার কোনো বিনাশ নেই। ওরে বাবাচোদা ফ্যাদামুখো, আমেরিকার ২৪০ বছরের ইতিহাসের শেষ ২০০ বছরে তারা কোনো যুদ্ধ জেতেনি, আর শেষ ৬০ বছরে তারা প্রতিটা যুদ্ধে ল্যাজে গোবরে হয়েছে। একই ধারাবাহিকতায় ইরান যুদ্ধেও সেটাই হচ্ছে, নাকাল নাজেহাল বিপর্যস্ত অব্যবস্থা আর চুড়ান্ত বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি শুরু হবে তাদের মেইন ল্যান্ডেও। শিশু যৌন নিপীড়ক ট্রাম্পু এবারে ট্যারিফ চোদাতে গেলে আর ইরানকে লাগবে না, তাদের দেশের লোকই গাঁড়ে ফ্যাটবয় আর লিটিলম্যান একসাথে গুঁজে দেবে। পাতি বাংলায় বললে, আমেরিকার ফাটা বাঁশে বিচি আঁটকে গেছে, সিজফায়ারের নামে যেকোনো মূল্যে এখন বিচি বাঁচিয়ে পালাতে চাইছে। কিন্তু চাইলেই তো আর হবে না, ইরান মরনপণ বাজি রেখে অলআউটে গেছে, অন্তত মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার বিচি কেটে খাসি না করে ছাড়বে না। ব্রিটেন ফ্রান্স জার্মানির বিচি শুকিয়ে কিসমিস করে রেখে দিয়েছে রাশিয়া ভায়া ইউক্রেন যুদ্ধ, তাই তারা দূর থেকে হুক্কাহুয়া করছে ও করবে, তেড়ে ছুটে আসার ভান করবে, কিন্তু কামড়াবার কোনো অউকাত অদের অবশিষ্ট নেই। কামড়ালে পরের মিসাইলগুলো বার্লিন লন্ডন কিম্বা প্যারিসের ভূমিতে ‘ফুল’ ফোটালে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই।

আরবের খোজা মোল্লাদের দেশগুলোকে দিয়ে, ইরান তার ইমানদন্ডকে শুধু চুষিয়ে নিচ্ছে মাঝেমধ্যে- যাতে আমেরিকাকে ঠাপানোর সময় পিচ্ছিলতা বরাবর বজায় থাকে। আসলে চু ত মারা যাচ্ছে আমেরিকার মা মাসির- সামনে পিছনে দুদিক দিয়েই। যা দেখা গেল, আমেরিকার এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের চেয়ে চিনা মালের গ্যারান্টি বেশি। আর সেই হিসাবে S-400 তো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিস্ময়, অবশ্য রাশিয়ান মানেই অনেকের চোখে গোলাপি বিস্ময় জাগে। ইজরায়েলকে আলাদা করে উল্লেখ করে লাভ নেই, যৌবনে পুরুষ বীর্যবান হলে যেমন ফ্রিতে বাল গজায় গুপ্তাঙ্গে, ইজরায়েল হচ্ছে আমেরিকার এঁড়-বিচির ঝাঁটের বাল। এর আলাদা কোনো অস্তিত্ব নেই, এক্সটেন্ডেড আমেরিকাই ওটা। যা বাকি বিশ্বে CIA নামে পরিচিত, সেটাই ইজরায়েলী ডাকনাম মোসাদ। আমেরিকাই তার ওই ঝাঁটের বালে শ্যাম্পু সাবান তেল দিয়ে বিনুনি করে রেখেছে, যেদিন আমেরিকার বিচি কেটে খাসি করা হবে সেদিন এঁড়ের বালও আস্তাকুঁড়ে চলে যাবে।

গত বছর ১২ দিনের যুদ্ধে ইজরায়েল ন্যাংটা হয়ে পায়ে ধরে সিজফায়ার নিয়েছিল, এই যুদ্ধে আমেরিকার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কাপড় খুলে নিয়েছে ইরান। বেটিচো দ ট্রাম্পুও এখন লেজ গুটিয়ে পালাতে চাইছে। আমেরিকাও তাদের সক্ষমতার চেয়ে শতগুণ ফোলানো হাওয়া বাঁদর, ইরান সেটাকে উন্মোচন করে দিয়েছে। রীতিমতো পাড়ার মোড়ে ফেলে ক্যালাচ্ছে আমেরিকার ১৯টা ঘাঁটির প্রতিটাতে। আব্রাহাম লিঙ্কন নামের বিমানবাহী জাহাজের খোঁজ নেই, তাকে সম্ভবত জলকবরে পাঠিয়ে দিয়েছে ইরান। বাহারিনের পঞ্চম নৌবহর গাধার গাঁ ড়ে। B-2 কে আনার সাহস দেখাতে পারেনি, কে জানে তার জন্য কোন মিসাইল স্টকে রাখা রয়েছে। B-2 এর একটাকে প্যাকেট করে দিলে তো আমেরিকার ৫০টা ভাই হবে রাতারাতি। তাই তারা পরমাণু বোমা বহনকারী সাবমেরিন আনার হুমকি ধমকি দিচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিটা USA এ্যাম্বাসিতে এখন ঘুঘু চরছে। ট্রাম্পের চিৎকার এখন শীৎকার মনে হচ্ছে, হিজরাএলি বীর কুত্তা জার্মানিতে পালিয়েছে- ‘প্রমিশ ল্যান্ডে’ কয়েক লাখ বেজন্মাকে মরার জন্য ফেলে রেখে। সেই বেজন্মারাও পালাতে গিয়ে রোড জ্যাম করে উদোম খিস্তাচ্ছে। আমেরিকা যদি ইরানে পরমানু হামলা করে, রাশিয়া ইউক্রেনে আর কিম জং দক্ষিণ কোরিয়াতেও পরমাণু বোমার ছুঁচো বাজি ছাড়ার লাইসেন্স পেয়ে যাবে। সুতরাং, হরিনাম খাবলা খাবলা করে গাওয়া যাবে না- আমেরিকার মেনল্যান্ড প্রতিটা ICBM মিসাইলের রেঞ্জের মধ্যে। 

হলিউডি সিনেমাতে আমরা প্রতি বছর ২০টা করে এমন সিনেমা দেখি যেখানে আমেরিকা আক্রান্ত, আজ সত্যিই যখন তারা চুলকাতে এসে আক্রান্ত- 'আজকের দিন অবধি' প্যান্টে হেগে ফেলেছে, ইরানের মতো একটা ক্ষুদ্র শক্তির কাছে। যে ইরানের না বিমান বাহিনী আছে, না নৌবহর আছে, না আধুনিক বিমান আক্রমণ প্রতিরোধ ব্যবস্থা রয়েছে, না আছে সেই মানের আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা তথা রাডার সিস্টেম। যা আছে তা হলো চরম আত্মবিশ্বাস, অকুতোভয় সাহস আর নিবিড় দেশপ্রেম, এর সাথে তাদের মিসাইল প্রযুক্তি। আমাদের ৫৬ ইঞ্চি ভাঁড়ের মতো ট্রাম্পের পোঁ দ চেটে জ্বী হুজুরি তো আরবের মোল্লাচো দা গুলোও করেছে, মানুষ আর মানুষরূপী জানোয়ারের ফারাক থাকবেই। সবাই খামেনিই হতে পারে না।

অবশ্য ফেসবুক টুইটারে কিছু মাল খামেইনির মৃত্যুতে এমন উল্লাস করছে, যেন তার বুড়ি তুবড়ি মাকে পাড়ার কাকারা মিলে গাভিন করে দিয়েছে, তাই ভাই হবার আনন্দে নাচছে জারজ গুলো। তাদের হিসাবে ইরান মহিলাদের বন্দি বানিয়েছে, ওদিকে যারা নারী মুক্তির স্বঘোষিত ধারক বাহক তারা ইরানি বাচ্চা মেয়েদের ইস্কুলে বোমা মেরে ১৫০ জনকে খুন করেছে, কিম্বা কচি ও ডাঁসা বেছে বেছে এপস্টিন দ্বীপ হোক বা আরো অন্যান্য স্থানে নিয়ে গিয়ে সেই মেয়েদের ধর্ষণ করেছে। ইরানে থাই-মাই দেখানো তথাকথিত নারী স্বাধীনতার সময়ে মহিলা শিক্ষার হার ২৪% থেকে বেড়ে আজ ৯৭% পৌঁছেছে। তাদের সরকারি চাকরিতে নারীরা ৫০%, মিসাইল প্রযুক্তির ওয়্যার রুমে নারী বিজ্ঞানী, প্রযুক্তিবিদ, কৌশলীরা গিজগিজ করছে। এসব আমাদের দেশের নেড়ীবাদি খেঁকি চমন চুতিয়াদের চোখে-কানে ঢোকে না। আমেরিকান প্রোপাগান্ডা মিডিয়া বলেছে ইরান পচে গেছে, এই বাঞ্চোদেরা সেটাকেই একমাত্র সত্য হিসাবে বাপের বিচির মত আঁকড়ে ধরে বসে আছে। এদের চোখে তার মায়ের মাসিকের রক্তমাখা ন্যাকড়া আর কানে বাপের বাঁ ড়া গোঁজা আছে। এই সব ফেসবুকের আড়াই আনার বিপ্লবীদের জন্ম কীভাবে হয়েছে জানেন? এর বাপেরা বাথরুমে হ্যান্ডেল মারতে গিয়ে কমোডে মাল ফেলেছিল, সেই কমোডের জলে এরা কীভাবে যেন জন্মে গেছে মশার মতো। স্বভাবতই কমোডের গর্ভে জন্মানো মালেদের উল্লাস তখনই হয়, যখন কেউ আবার খিঁচে তাদের মুখে চোখে উষ্ণ বীর্যপাত ও মুত্র বিসর্জন করে দেয়। কে জানে এদের মায়েরাও হয়ত কখনও এপস্টিনের মতো মালেদের খাটে শুয়ে ‘অউফ’ শব্দে অর্গাজম নিয়ে ফেরার ফসল ফলিয়েছিলো কিনা।

সবচেয়ে আনন্দ লাগছে আরবের মোল্লাগুলোর গাঁ ড়ে মিসাইল ভরে দেওয়া দেখে, যেন শৈশবের ঈদের আনন্দ পাচ্ছি। ভেড়াগুলো ভেবেছিল আমেরিকা তাদের বাঁচাবে, তাই গত ৫০ বছর ধরে দুধ কলা আর পেট্রোডলার দিয়ে আমেরিকান সেনাদের পুষে এসেছিল। আজ ইরানের চোদনে আমেরিকার ভাই হবার দশা এসে গেছে, ফলে আমিরাত, কাতার, কুয়েত, বাহারিন, ওমান, জর্ডন ও সৌদি- সবকটা বেজন্মা রাজাদের দেশে ইরান মিসাইল-ড্রোন দিয়ে চড়কিবাজি খেলছে। এই সবকটা কাটামোল্লা রাজা বৈভব আর বিলাসিতার চুড়ান্ত পর্যায়ে থাকে সারাবছর, এরা না মুসলমান না ইহুদি না হিন্দু না খ্রিস্টান - এরা জিন্দা শয়তান। এদের হারেমে সাদা চামড়ার বেশ্যাতে ভর্তি, গলা অবধি মদে ডুবে, শুয়োরের মতো ডজন ডজন বাচ্চা পয়দা করাই এদের একমাত্র কাজ। বাচ্চারা যেমন মুখে ললিপপ গুঁজে থাকে, এই শুয়োরের বাচ্চা বেজন্মা মোল্লাগুলো মার্কিনীদের বাঁ ড়া মুখে গুঁজে বসে থাকে। 

দুবাই সহ সমগ্র আরব দেশে চরম খাদ্য সঙ্কট দেখা দেবে অচিরেই। একটারও নিজেদের দেশে খাদ্য উৎপাদন হয় না, বাইরে থেকে আসার উপায় নেই, জল জাহাজ, উড়ো জাহাজ সব পথ বন্ধ। যুদ্ধ পরিস্থিতি আগামী ২ সপ্তাহ চললে খাদ্যের জন্য গৃহযুদ্ধ শুরু হয়ে যাবে মোল্লা খা নকির বাচ্চাদের ঘরে ঘরে, শালারা কেরোসিন খেয়ে মরুক। গোটা গাজা’কে যারা মাসের পর মাস অভুক্ত রেখে নিজেরা ফুর্তি লীলা করেছে দিনের পর দিন, আজ সেই সকল গর্ভস্রাব বোকাচো দা দের শুকিয়ে থাকার দিন এসে গেছে। 

বাহারিন নামের দেশটা আপাতত অস্তিত্বের সঙ্কটের মুখে। আর দুবাই এর যা হাল করেছে তাতে আবার তারা ৪০ বছর পিছিয়ে যাবে, সাথে এতো এতো বিদেশী লগ্নির যে বিস্ফোরণ- তাও গাধার গাঁ ড়ে চলে যাওয়া সময়ের অপেক্ষা। মোল্লাচো দা দের হারেমে একটা করে কামিকাজি ড্রোন গুঁজে দেওয়া না দেখতে পাওয়া অবধি আত্মায় শান্তি আসছে না। সবকটার বিচিতে আলুবোমা দিয়ে ব্লাস্ট করাতে হবে। আলকায়দা আর আইসিস নামের বেশ্যার বাচ্চাগুলো, আরব রেন্ডিদের পেটে আমেরিকার বীর্যজাত বেজন্মা। এদেরকেও এই সময়ে প্যাকেট করে দিতে হবে। ইসলামের নাম নিয়ে কম গণহত্যা খুল লুঠতরাজ এরা করেনি। এই সবকটা মোল্লাদের সর্দার হচ্ছে সৌদি নামে খান কির ছেলেরা, এদের প্রত্যেকটাকে বেছে বেছে আলাদা করে একটা করে মিসাইল পোঁ দে ভরতে হবে। সৌদির পেট বরাবর পূর্ব মাথা থেকে পশ্চিম মাথা অবধি তেলের লাইন পাতা রয়েছে, যা তাদের তেল সরবরাহের মূল ধমনী, সেখানে মিসাইল না গুঁজলে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরবে না, ফিরতে পারেনা। শুনলাম তুরস্কে থাকা মার্কিন সেনা ঘাঁটির বিচিতেও নাকি হালকা টঙ্কার মেরেছে আজ ইরানি মিসাইল। ন্যাটোর সাথে মিলে গাজাতে গণহত্যা চালানো- মুসলিম বিশ্বের খলিফা হতে চাওয়া গাঁ ড়দোয়ানের বিচিতেও হালকা চুলকে দিলে, পীর সেজে বায়ানবাজিটা বন্ধ হয়ে হয়।

বর্তমান সভ্যতার বয়স যদি আনুমানিক ৫০০০ বছর হয়, ‘আজকের দিনের’ গণতন্ত্রের বয়স আর মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের বয়স একই, কমবেশি ওই ৮০ বছর। দুজনেই একে অন্যের হাত ধরাধরি করে এসেছে বিশ্বের সকলের মা বোন চু দে দিয়ে লুঠতরাজ করতে। ‘গণতন্ত্র’ নামের যে মুলো এপস্টিন বাহিনী গোটা পৃথিবীকে দেখায়, সেটা তারা নিজেরাই কখনও প্রাক্টিস করেনি। এই মাচো দাদের কাছে গণতন্ত্র মানে শুধু লুটপাট আর যুদ্ধ হিংসা। মানবতা, নারী স্বাধীনতার ভরং ধারী বাঁদির বাচ্চারা নিজেরা বাচ্চা মেদের যৌনদাসী বানায়, আর স্বাধীন সার্বভৌম দেশে বোমা মারে, তাদের রাষ্ট্রনেতাকে তুলে নিয়ে যায় সম্পদ আত্মসাৎ করতে। গোটা বিশ্বের একটা শ্রেনীর কাছে পশ্চিমা গণতন্ত্রের এই মুলোই একমাত্র আইডল, তারা তাদের পৈতৃক গাঁ ড়ে মুলো হুড়কো খেজুর গাছ যা খুশি গুঁজুক, আমেরিকা যেদিন ‘লৌড়েন ভোজ্যম’ হয়ে যাবে, আজকের রূপে থাকা গণতন্ত্রও ‘বাপরে’ বলে পটল তুলবে নিশ্চিত।

এসব থেকে যা বোঝা গেল, আমেরিকার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আর মমতা ব্যানার্জীর ভাষন- দুটোই এক। এরা দুজনেই যেটাকে বলে আঁটকে দেব, সেটাকে পরিপূর্ণ employment করে ছাড়বেই। এদিকে ভারতের মিডিয়া আর পেঁপে গাছের খাট- দুটোর মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। কুয়েতে একটি F-15 বিমানের মা চু দে দেওয়া হয়েছে, গোদী মিডিয়ার এ্যাঙ্কর জানাচ্ছে সেটা নাকি পড়ে গেছে, ওলে বাবালে, গুলুগুলু। ফাইটার জেট যেন তার বাপের নু নু, সেই যন্ত্রের শীঘ্রপতনের মতো ফাইটার জেটও ঝরে ঝরে পড়ে।

ইজরাইল কিন্তু সহজে শেষ হওয়ার নয়, হবেও না।  আমেরিকাকে বলি দিয়ে টিমটিম করে হলেও তারা কিন্তু টিকে থাকবে। আমেরিকার বয়স ২৪০ বছর ইহুদিরা টিকে আছে সাড়ে তিন হাজার বছর ধরে। এই সাড়ে তিন হাজার বছরে আমেরিকার মতো কত বিশ্বমোচাদো এসেছে গেছে, এই চোদনা গুলো ঠিক টিকে আছে। এদের মতো ধান্দাবাজ শয়তান পৃথিবীতে দ্বিতীয় কোনো জাত নেই। 

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিবিদরা কাল থেকেই বলছিল শেয়ারবাজার খুললে মার্কিন অস্ত্র কোম্পানিগুলোর শীঘ্রপতন অবশ্যম্ভাবি। CNN, FOX এর মতো বিজ্ঞবিচিদের মুখে রজঃস্রাব করে, আজ শেয়ার বাজার মাল ফেলা ধনের মতো নেতিয়ে পড়েছে। SIR নাটিকা আর ইরান যুদ্ধের বাইরে আপাতত এটাই গল্প। এই শেয়ারবাজার পতন থেকে ডিপস্টেট কতটা মুনাফা কামাবে জানি না, কিন্তু পশ্চিমা সাধারণ জনগণের পুঁজির আবার আঠা আঠা করে গাঁ ড়টি মারা গেলো সেটা বলাই বাহুল্য। আমাদের বাংলাতে দোল উৎসব চলছে, সকালের দিকে ফগও থাকছে। আমেরিকা চু দে যেতেই পাকিস্তান এখন অনাথ হয়ে গেছে। আফগানিস্তানের নামে বিল কেটে আমাদের RAW ইসলামাবাদে হীরামান্ডি খুলে বসেছে পাকিস্তানী সেনার মা বোনেদের নিয়ে, এটাও শরীর ঝাঁকিয়ে সুখ দিচ্ছে। শুনছি নূর খানেরও নাকি খাৎনা করে দিয়েছে আবার! নপুনংশক স্যারেন্ডার মোদীর কতটা মুরোদ হবে এমন সুবর্ণ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে পাকিস্তানকে টুকরো টুকরো করে ফেলার, সেটাই বড় প্রশ্ন।

তবে লোকসান টাকার হলো জানেন, ক্ষতিকুরের। তার পোঁদকাস্টের গাঁ ড় মারা গেছে। SIR নিয়ে তোলামুলের ঢামনামি চাপা পরে গেছে। এতো লক্ষ লক্ষ টাকা খরচা করে i-pac এর যে প্রচেষ্টা, সব মাঠে মারা গেছে ইরান যুদ্ধের কারনে। 

শালে দুখ কা দিন খতম কাহে নেহি হোতা হ্যায় বে!

রবিবার, ১ মার্চ, ২০২৬

ইরান যুদ্ধঃ প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া

 


ইরান ভয়াবহ ক্ষতির মধ্যে রয়েছে কোন সন্দেহ নেই। কতক্ষণ সে প্রতিরোধ করতে পারবে- সে বিষয়েও নিশ্চিত করে কিছু বলার উপায় নেই। এটা তার টিকে থাকার লড়াই। এসবের মধ্যে প্রথম দিনের হালতামামি করে যতটুকু পাওয়া গেল, তার একটা সারসংক্ষেপ মোটামুটি এইরকম -

ভক্তদের বাপের ফাদারল্যান্ডকে আবার একবার গ্যাংব্যাং করে তাদের মা-বোন-মেয়ে সবাইকে এক খাটে শুইয়ে ন্যাংটা মাচাদো করে বাঙ্কারে ঢুকিয়ে চুতিয়া বানিয়ে ছেড়ে দিয়েছে। 

নিজেদের সর্বশক্তিমান বলে দাবী করা বিশ্ব মাচাদো আম্রিগা ল্যান্ডের ১৯টা মধ্যপ্রাচ্য ঘাঁটির মধ্যে ১৫টাই দাউদাউ করে জ্বলছে। জাতিসংঘে গিয়ে নিরাপত্তা পরিষদের নামে চীন রাশিয়ার পা ধরে পালিয়ে বাঁচতে চাইছে পেডোফাইল ট্রাম্পু। আয়রন ডোমকে মুতে ভাসিয়ে দিয়েছিলো আগেই, এ যাত্রায় 'থার' আর প্যাট্রিয়ট ডিফেন্স সিস্টেমের মা-মাসির ১০৮ বার করে দিয়েছে। মার্কিন ডিফেন্স সিস্টেমও যে আসলে বালির বাঁধ, রথের মেলার পাপড় ভাজার মতন ভঙ্গুর তাদের ডিফেন্স সিস্টেম- সেটাকে ন্যাংটাভাবে প্রমান করে দিয়েছে। যা অবস্থা তাতে আব্রাহাম লিংকন হরমুজের জলেই না সলিল সমাধি নেয়। 

আমেরিকার জেতার একমাত্র পথ হচ্ছে পারমাণবিক আক্রমণে যাওয়া। সেক্ষেত্রে রাশিয়া একই ভাষায় ইউক্রেনে লাভ লেটার পাঠাবে। ওদিকে কিম জং উন, মানে আমাদের ছোট ভাই, তাকে কেউ খেলাতে ডাকছে না। এতে করে সে যদি আবার অপমানিত বোধ করে - কার পিছনে মিসাইল গুঁজে দেবে কেউ জানে না। সব মিলিয়ে এক ভজকট পরিস্থিতি। 

ইরানের দাবি মত ১টা 'ওরেসনিক মিসাইল' যদি মার্কিন মেনল্যান্ডে ফেলতে পারে, তাকে বেশী কিছু করতে হবে না, শুধু একটু সাপ বাজির মতন ধোঁয়া আর ছাই তৈরি করতে হবে- তাতেই গোটা ইউরোপের আন্ত্রিক হয়ে যাবে। আমেরিকার বীর সাভারকেরেরাও তখন গর্তে লুকাবে। এটা কোনো কষ্ট কল্পনা নয়- একটা ঘটলে পালটা হিসাবে দ্বিতীয়টাও ঘটবেই । 

আমেরিকা কার্যত এই মুহুর্ত অবধি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ক্যালানি খাচ্ছে। ইরাণের মাটিতে তাদের GPS অকেজো, ফলত অন্ধের মত কার্পেট বোম্বিং করে গণহত্যা করলেও- মূল কাজের কাজ করতে পারেনি। উলটে তাদের মধ্যপ্রাচ্য সেনাকমান্ড, সেনা হেড কোয়ার্টার, রাডার, সেনাঘাঁটি, এয়ার বেস এর অধিকাংশই আপাতত 'গাজা'য় পরিনত হয়েছে। কমলা হ্যারিস ট্রাম্পের ইমপিচমেন্ট চাইছে, নিউয়র্কের রাস্তায়, হোয়াইট হাউস পেন্টাগন ওয়াশিংটন ডিসি - সর্বত্র যুদ্ধ বিরোধী জনগণ মিছিল করছে, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছে।

 ব্রিটেন ফ্রান্স জার্মানি সহ আরবের মোল্লা চো দা গুলো আপাতত সকলে রাজনাথ সিং মোডে চলে গেছে- সবাই কেবল কড়ি নিন্দা জানাচ্ছে। 

 BBC, রয়টার্স, ফক্স, ABC মিলে ২৮ তারিখ দুপুর থেকে প্রতি ঘন্টায় খামেইনিকে ২ বার করে হত্যা করেছে। হত্যার তালিকাতে নাম তোলার ক্ষেত্রে ইরানের প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতি সেনাপ্রধান বিদেশ মন্ত্রী সহ অনেকেই কয়েকবার নাম তুলেছ এবং ক্রমাগত তুলে যাচ্ছে। নিজেরাই নিজেদের প্রতি আধাঘন্টা অন্তর উদগান্ডু বানাচ্ছে।

 বাহারিন নামের দেশটা আগামীকাল সকাল অবধি থাকবে কিনা কেউ জানেনা। রিয়াধ, জর্ডন, কাতার, কুয়েত সবকটা মার্কিন ঔরসে জন্মানো মোল্লাদের দেশে মিশাইলের গ্রিটিংস পাঠিয়েছে ইরাণ। ওদিকে UAE এর দুবাই আবুধাবিতে T-10 স্টাইলে খেলা হচ্ছে দুবাই এয়ারপোর্ট, জাবেল আলী, জুমেইরা, বুর্জ খলিফাকে- মিয়া খলিফা ভেবে পেলে দিচ্ছে ইরানি ড্রোন আর মিশাইল। 

ইরাণ কতক্ষণ বেঁচে থাকবে জানিনা, কিন্তু এই অবধি আমেরিকাকে এইভাবে উপর্যুপরি ধর্ষিত লাঞ্চিত আর শুয়ে পরে যন্ত্রনায় ছটপট করে পলায়নপর কতরাতে দেখে এক পাশবিক উল্লাস হচ্ছে। যেখানে আমাদের স্বঘোষিত বিশ্বগুরু এক ফোনেই চাড্ডি হলুদ করে ফেলে, ট্যারিফ নামের ভেসলিন দিয়ে পোঁ দ মেরে দিলেও, সামান্য আহ টুকু বের করার মুরোদ হয়না- সেখানে একটা অবরুদ্ধ দেশ তার ক্ষুদ্রশক্তি দিয়ে এভাবে বিশ্বের পরাশক্তিকে ন্যাংটা করে দিচ্ছে- এখানেই তো বেঁচে থাকার সার্থকতা। যুদ্ধবাজ মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের এমন ধ্বজভঙ্গ দশা আগে দেখা দুরস্থান- কল্পনা করেছিলো কেউ?


শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

ফ্যাসিজম ও আজকের পৃথিবী


সমগ্র বিশ্বজুড়ে 'ফ্যাসিবাদী ডানপন্থা' ছত্রাকের মত আষ্টেপৃষ্টে বর্বরতার নাগপাশে বেঁধে ফেলেছে। বর্ডারের সীমানা পেরিয়ে মাকিন মুলুকের ট্রাম্প হোক কিম্বা মোল্লাদের সৌদি, ভোগবাদী ইউরোপ  বা RSS এর ভারত- উগ্র জাতীয়তাবাদী মিথ্যা ভুয়ো দেশপ্রেমের নামে দেশের সম্পদ নির্দিষ্ট কিছু পুঁজিবাদী শোষক সংস্থার কাছে তুলে দেওয়ার জন্য যাবতীয় নিপীড়নের আয়োজন। 

১২ বছরের BJP শাসন রাষ্ট্রের প্রতিটি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করে দিয়েছে, সর্বত্র নোংরা ধর্মীয় মেরুকরন করা হয়েছে ভোটের বাক্সে তাৎক্ষণিক ফায়দা লুঠতে আর এই জন্য যেকোনো মাত্রার সহিংসতাতে মেতে উঠতে এদের কোনো ক্ষেপ-আক্ষেপ থাকেনা। আমাদের ঐতিহাসিকভাবে শক্তিশালী সংবিধান ও তার প্রতিষ্ঠানগুলোকে রোজ আক্রমণের মুখে ফেলে ভঙ্গুর করে তোলা হচ্ছে। সিভিল সোসাইটি উদভ্রান্ত, আদালতের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ, নির্বাচন সংস্থার ভূমিকা শাসকের দলদাসের, সর্বত্র একটা অশান্তি আর অবিশ্বাসের পরিবেশ। কয়েকটি নির্দিষ্ট ব্যাক্তি তথা কয়েকটি পুঁজিবাদী গোষ্ঠীর হাতে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হয়ে গেছে। এরা যেকোনো মূল্যে নির্বাচন বা গণতান্ত্রিক কাঠামোর বিলোপ চায়।

বিরোধী কন্ঠস্বরকে তাচ্ছিল্ল্যের সাথে হিংস্রভাবে দমন করা হচ্ছে সর্বত্র, যাতে প্রশ্ন করতে ভয় পায়। জাতিগত হানাহানি, ধর্মীয় বা অভিবাসী সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে শত্রুতামূলক নীতি গ্রহণ করে এরা নাগরিক অধিকার সংকুচিত করতে মরিয়া, তাই কখনও NRC তো কখনও SIR এর মত নিরীহ পদ্ধতিকে ধারালো অস্ত্রের মত ব্যবহার করছে সংখ্যালঘু সংহারের জন্য। ভিন্নমতাবলম্বীদের যেকোনো মুল্যে নৃশংস হাতে দমন করা নিত্য নৈমিত্তিক প্র্যাকটিস। সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে বৈষম্য বা নিপীড়ন করাটাকে রাজনৈতিক ম্যানিফেস্টো বানিয়ে ফেলেছে এই চরম ফ্যাসিবাদী RSS. 

স্বাধীন সাংবাদিকতা যা সরকারকে জবাবদিহির মধ্যে রাখে, তাদের সিংহভাগকে কিনে নিয়ে পোষ্য কুকুর বেড়ালে পরিনত করেছে, তারা সেটাই বলছে যা শাসক চায়। যাদের কিনতে পারেনি তাদের গলায় মামলার বেড়ি লাগিয়ে দিয়েছে, তাতেও না হলে হত্যা করে দিয়েছে। এই হচ্ছে সংবাদমাধ্যমের ঘুণে ধরা দশা, কোনটা সংবাদ আর কোনটা প্রোপাাগান্ডা সেটার ফারাক করাই আজ জনগণের কাছে কঠিন হয়ে গেছে। রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যমের প্রকোপ আজ সর্বত্র, তা প্রিন্ট মিডিয়া, ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া হোক কিম্বা সোশ্যাল মিডিয়া।
.
আমাদের রাজ্যের দিকে তাকালেও একই দশা, একটু অন্য আঙ্গিকে কিন্তু লক্ষ্য সেই এক- প্রশ্নহীন আনুগাত্য। শাসক দল, রাজ্য প্রশাসন ও পুলিশ একদেহে লীন হয়ে গেছে। রাষ্ট্রীয় বলে আর কোনো শব্দ নেই, সবটাই রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত। সর্বত্র চুরি রাহাজানি আর লুঠপাঠ অন্ধকারের রাজত্ব। সরকার নিজে তার কর্মীদের টাকা চুরি করছে প্রাপ্য DA না দিয়ে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে কোমায় পাঠিয়ে কর্পোরেট পুঁজির জন্য মঞ্চ প্রস্তুত করে গেছে গত ১৫ বছর ধরে। RSS এর মন্দির মসজিদ গরু শুয়োরের রাজনীতিকে যথাযত প্রয়োগ করে ঠিক ভোটের আগে দাঙ্গার রাজনীতি করা, ধর্মীয় মেরুকরন ও ভোট লুঠের উদ্দেশ্যে গাঁ-গঞ্জে রক্তের নদী বইয়ে দিয়ে নির্লজ্জ নিরুত্তাপ থাকার এক অদ্ভুত কৌশল আমরা দেখেছি RSS স্পনসর্ড তৃনমূল সরকারের আমলে।

পশ্চিমা ভাবধারার দক্ষিণপন্থা, দিনের শেষে আপনার টুঁটি ধরবেই- তা সে যে ভেক ধরেই আসুকনা কেন। একে প্রতিহত করার নামই বিজয়। গণতন্ত্রে ভোটের মাধ্যমেই নীরব বিপ্লব সংগঠিত হয়, আগামীতে আমাদের সামনে সুযোগ এসেছে সেই বিপ্লবের সাক্ষী হতে, যোদ্ধা হতে, যুগ বদলের অন্যতম কাণ্ডারি হতে। চলুন সমূলে উপড়ে দিয়ে, ছুঁড়ে ফেলি এই বিষাক্ত ফ্যাসিবাদী শক্তিকে।

মাননীয়া মমতা ব্যানার্জী

আজ আমি অনেকক্ষণ ধরে ভাবলাম, যা বুঝলাম- আমি সত্যিকারের একজন মমতাপ্রেমী মানুষ, আপনার সবচেয়ে জাবড়া ফ্যানদের মধ্যের শীর্ষস্থানীয়। আমি চটি চাঁটা ...