যুদ্ধ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
যুদ্ধ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

মার্কিন সাম্রাজ্যবাদঃ সন্ত্রাসী তৈরির আঁতুড়ঘর

 


লেখকঃ রূপ ভট্টাচার্য

ন্যুরেমবার্গ দেখলাম, অবশ্যই সিনেমাটা, জায়গাটা গিয়ে দেখার সৌভাগ্য হয়নি এখনও। ডিসক্লেইমার দিতে হয় কারণ অনেকে এখন এতটাই ছেলেমানুষ যে ভেবে বসবে, আমি সত্যিই সত্যিই গেছি জায়গাটায়, ঠিক যেভাবে ভেবে নেয় তৃণমূল বিজেপির বিরুদ্ধে লড়ছে।

এই জিনিস আদিকাল থেকে হয়ে আসছে। ব্রিটিশ, ফ্রেঞ্চ সহ ইউরোপের তাবৎ বড় শক্তি মনে করেছিল জার্মানিতে নাৎসিদের উত্থান তেমন সমস্যার নয়, মনে করেছিল যে হিটলার, সোভিয়েত দেশ আক্রমণ করলে ওদেরই ভালো, নবজাতক সমাজতন্ত্রের অঙ্কুরেই বিনাশ হবে, শুরু হয়েছিল অ্যাপিসমেন্ট পলিসি বা বাংলা মাধ্যমের ইতিহাস বইতে লেখা “তোষণনীতি”। জার্মানির মধ্যে যেটা হচ্ছিল সেটা আরো ভয়ানক। ইউরোপের অন্যান্য দেশের ক্ষেত্রে যে দম ফেলার সময়টুকু থাকে, দেশের মধ্যে তো সেটা থাকেনা তাও তৎকালীন জার্মানির কমিউনিস্ট, ট্রেড ইউনিয়নিস্ট, সোস্যালিস্ট সবাই নাৎসিদের এই উত্থানকে তুচ্ছজ্ঞান করেছিল এটা জেনেও যে, এই শক্তি ক্ষমতায় আসলে প্রথম আক্রমন হবে তাদেরই উপর। যে মার্ক্সীয় বিশ্বদর্শন বৈজ্ঞানিক তত্ত্বের উপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে, যার মাধ্যমে সমাজ বিশ্লেষণ মোটামুটিভাবে অভ্রান্ত সেই তত্ত্বের দিকপাল তাত্ত্বিকেরা সেই সময়ে জার্মানিতে ছিলেন, তাও তারা ধরতে পারেননি কোন উচ্চকোটির অপশক্তি তার সর্পিল দেহ ঘষে ঘষে, অতি সন্তর্পনে জার্মান রাষ্ট্রযন্ত্রের দিকে এগোচ্ছে।

মানুষ ভুল করে কিন্তু মানুষই সেই ভুল শুধরে নিয়ে এমন একটা যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেয় যে নতুন ইতিহাস রচিত হয়। নাৎসি শাসিত জার্মান রাইখের বিধ্বংসী সেনার নাম ছিল ওয়ারমাখ্ট, যাদের যুদ্ধনীতি ব্লিৎজক্রিগ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শুরুর দিকে ছিল একটা দুঃস্বপ্নের নাম। জার্মান প্রযুক্তির বলে বলীয়ান প্যানজার (যুদ্ধ ট্যাংক) বাহিনীর প্রবল গোলাবর্ষণ, সাথে লুফ্তওয়াফার (বিমান বাহিনী) আকাশ বাতাস ফালাফালা করে দেওয়া গুলিবর্ষন এবং তার পরে প্রায় সাথে সাথেই ইনফ্যান্ট্রি অ্যাসল্ট, এই হচ্ছে ব্লিৎজক্রিগ যুদ্ধ পদ্ধতি। 

এই অজেয় সেনা নিয়ে, একের পর এক ইউরোপের স্বাধীন দেশ দখল করে, ইংল্যান্ড ফ্রান্সকে পায়ের নিচে চেপে, হিটলার আস্তে আস্তে এগোচ্ছিল তার স্বপ্নের থার্ড রাইখের (জার্মান সাম্রাজ্য) দিকে, স্বপ্নের বেলুন ফাটল পোল্যান্ড ক্রস করার পর। অতি বড় কনজারভেটিভও ঢোক গিলে স্বীকার করবে যে নাৎসি দানবকে কে কবর চেনালো, স্বীকার করবে সে হল সদ্যজাত USSR, সোভিয়েত দেশ, লেনিন স্টালিনের সোভিয়েত। যে কমিউনিস্টদের খুন করে, হিটলার, গেরিং, হিমলার, গোয়েবেলসদের ক্ষমতা দখল, সেই কমিউনিস্টদের সোভিয়েত লাল ফৌজ বার্লিন ধ্বংস করে ভাঙা রাইখস্ট্যাগের চূড়ায় উড়িয়ে দিল লাল ঝান্ডা, ঠুকে দিল শেষ পেরেক নাৎসিদের কফিনে। ইতিহাস তার বদলা নিল।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ নিয়ে কোনো সিনেমা, বা ডকুমেন্টরি বানানোর সময় পুঁজিবাদী মিডিয়াকে একটু বেশি দক্ষতার সাথে কাজ করতে হয়। তারা ভালোই জানে, হিটলার, মুসোলিনি, তোজো ইত্যাদি সবার জন্ম ওদেরই গর্ভে কারণ সাম্রাজ্যবাদ হচ্ছে পুঁজিবাদের শেষ স্তর। নিজের দেশে জিনিস বেচা যাচ্ছেনা, ইকোনমি সম্পৃক্ত হয়ে পড়েছে, সেটা কাটানোর জন্য প্রাচ্যের কৃষিপ্রধান জাতিগুলোকে জোর করে নিজের কন্ট্রোলে নিয়ে আসা। কে করেনি এই কাজ? ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ড, পর্তুগাল, স্পেন সবাই উপনিবেশ করেছে, লুঠ করেছে অন্য দেশ। এই সব দেশ মিলিত ভাবে বা একা একাই যথেষ্ট স্বেচ্ছাচার করেছে, খুন, ডাকাতি করেছে, যার ফলে ঘুমন্ত দানব জেগে উঠেছে। তাই যুদ্ধে খেলাটা ঘুরেছে যখন সেই দানব এসে দাঁড়িয়েছে স্টালিনগ্রাদে, মুক্ত মানুষের ফৌজের সামনে, যাদের কিছু হারানোর নেই, যারা মানবিকতার সবচেয়ে পবিত্র আবেগে একজোট হয়েছে আর সেটা হল ভালোবাসা। আচার্য ব্রহ্মানন্দ পারেনি বিক্রমের দিকে তাকাতে কারণ সে ছিল নিষ্পাপ, অজাতশত্রু। এই জিনিস খুব ভালো করেই জানে পুঁজিবাদী মিডিয়া, তাই এইসব সিনেমায় যখন নিজেদেরকে হিরো হিসেবে দেখাতে যায়, প্রাণপণ কৌশলে কয়েকটা জিনিস বাদ দেয়।

ন্যুরেমবার্গ দেখে ভালো লাগলো, কারণ গোটা সিনেমাটা যে ন্যারেটিভের উপর দাঁড়িয়ে অর্থাৎ, মানুষের ভুলেই দানব তৈরি হয় আর সেই মানুষই আবার ভীষণ গোলায়েথের সামনে ক্ষুদ্র কিন্তু মূর্তিমান শমনরূপে ডেভিড হয়ে এসে দাঁড়ায়, সেটা তৈরিই হয়েছে এক নবজাতক সমাজতন্ত্রের অনুগ্রহে। ভালো লাগার একটা কারণ হচ্ছে, পরিচালক থেকে প্রযোজক এই বিষয়টা ভালো করেই জানেন যে যখন বিচারক জ্যাকসন জুরি প্যানেলের দিকে ফিরে বলছেন যে সমস্ত দেশকেই আগ্রাসনের রাজনীতি থেকে সরে আসতে হবে, আইনের শাসনের প্রতি দায়বদ্ধ হতে হবে তখন প্যানেলে বসা সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রতিনিধি মনে মনে হয়ত বা মুচকি হাসছেন কারণ সোভিয়েত ইউনিয়ন একমাত্র মিত্র শক্তি যারা নিজেদের সাম্রাজ্য বাঁচানোর দায় নিয়ে যুদ্ধে যুক্ত হয়নি, প্রকৃতপক্ষেই হয়েছিল পিতৃভূমি রক্ষার দায় নিয়ে আর ফ্যাসিবাদের হাত থেকে পৃথিবীকে মুক্ত করার জন্য। 

ছবির প্রযোজক এটাও জানেন, গত শতাব্দীর শেষ থেকে পুঁজিবাদ, বিশ্বকে একমেরু করার জন্য কি পরিমাণ অর্থ আর শ্রম ব্যয় করেছে। সোভিয়েত সহ প্রায় সব সমাজতান্ত্রিক দেশে ঝামেলা করিয়ে, গোলাপী বিদ্রোহ, গুমখুন, বেআইনি আন্তর্জাতিক ট্রায়াল ইত্যাদি সব রকমের পদ্ধতি ব্যবহার করেছে যাতে সমাজতন্ত্রের বদলে বুর্জোয়া গণতন্ত্রকে স্থাপন করা যায়। আজকের দিনে এই একমেরু দুনিয়া আরেকটা দানবের আঁতুড়ঘর হিসেবে পরিণত হচ্ছে এবং তাকে ঠেকানোর জন্য আর কোনো সোভিয়েত বেঁচে নেই। জাস্টিস জ্যাকসন সিনেমায় বলছেন, আমরা কোর্ট মার্শালের বদলে ট্রায়াল করছি কারণ আমরা চাইনা আমাদের কোনো ভুলে এই অধ্যায়ের পুনরাবৃত্তি হোক। 

জ্যাকসন উকিল মানুষ, জানতেন না যে আইনি ট্রায়াল এই রোগের একটা তুচ্ছ সাময়িক উপশম মাত্র। যে বিশ্ব অন্যায় অন্যায্যতাকে মান্যতা দেয়, বৈষম্যকে ভবিতব্য হিসেবে প্রতিপন্ন করে, বড়লোকের হয়ে কাজ করে, সেই বিশ্বে বারবার আর্থসামাজিকভাবে বিপর্যস্ত, বিপথুমান, অতি ক্ষুব্ধ যুবক হিটলার হিসেবে তৈরি হবে।


বৃহস্পতিবার, ২৪ জুলাই, ২০২৫

ইজরায়েলঃ মিথ বাস্টার

 




এই লেখার মূল উদ্দেশ্য ইরাণকে সমর্থন নয়, ইসরাইলের বিরোধিতা, মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের বিরোধিতা।

সংবাদে প্রকাশ ‘যায়োনিষ্ট অকুপাইড ফিলিস্থিন’ (ZOP) তথা ইজরায়েল নাকি এক তৃতীয়াংশ ধংস হয়ে গেছে, প্রাক্তন মার্কিন সেনা কর্তা ম্যাকগ্রেগরের দাবী মতে অন্তত সেটাই। ভুল কথা, ইজরায়েলের ক্ষতি ১০০% পেরিয়ে এখন মাইনাসে রান করছে। পুরো উলঙ্গ হয়ে গেছে তাদের দম্ভ, অহংকার আর মিথ। তাই সে এখন যুদ্ধ জয়ের চেয়ে নিজেদের দেশের ক্ষয়ক্ষতি লুকাতে ব্যস্ত, প্রকাশ্যের আমেরিকার সাহায্য চাইছে, ধমকি দিচ্ছে, ভয় দেখাচ্ছে। নমঃ নমঃ করে আমেরিকা ঘন্টি বাজাতে বাজাতে বোম্বার জেট নিয়ে হাজিরও হয়েছে। ইজরায়েল ভিক্টিম কার্ড খেলছে, খড়কুটো আঁটকে যেমন ডুবে যাওয়া ব্যাক্তি বাঁচার ব্যর্থ প্রচেষ্টা করে- ইজরায়েল সেই চেষ্টা করছে।

১৯৪৮ থেকে একটু একটু করে একটা পাহাড়সম মিথ গড়ে উঠেছিল- ইজরায়েল অপরাজেয়। দীর্ঘদিন ধরে চালানো একতরফা একটা প্রপাগান্ডা মেসিনারি- পরিকল্পনা করেই এটাকে তৈরি করেছিল। ভক্তেরা বা আমাদের দেশের একটা বড় অংশ আজও বিশ্বাস করে, ইজরায়েল ঠিক ইরাণকেও সিরিয়া বা ইরাক বানিয়ে দেবে। তারা অতীতের ঘোরে বুঁদ হয়ে জলসাঘরের ছবি বিশ্বাস হয়ে বসে রয়েছে। প্রাক সোস্যালমিডিয়া যুগে শুধু সংবাদ পত্র আর টিভি মিডিয়া ছিল, সেটা ছিল একতরফা। তারা যেটাকে দেখাতো, যেটা বলতো, সেটাই একমাত্র সত্য ছিল। প্রশ্ন করা বা ফ্যাক্টচেকের প্রায় কোন কিছুই ছিলোনা, বারংবার একই মিথ্যা শুনলে, দেখলে বা পড়লে একসময় সেটাই বিশ্বাস করতে শুরু করি আমরা। কিন্তু আজকের যুগে প্রায় সকলের হাতে মোবাইল, সকলে ক্যামেরাম্যান। সস্তার নেটে একটু শ্রম দিলে আসল তথ্য জানা খুব সহজ, তাই কোনো কিছুই আর একমুখী নয়। প্রোপাগান্ডার আয়ু বেশিক্ষণ টেকেনা।

ইজরায়েলের প্রথম গর্ব ছিলো তাদের গোয়ান্দা সংস্থা- মোসাদ। মোসাদকে এমনভাবে পশ্চিমা মিডিয়া উপস্থাপন করেছিল যে, সে অপরাজেয়, অপ্রতিরোধ্য। স্কোরসিটে প্রথম পঞ্চাশের সবকটা স্থানে তারই নাম। তার প্রতিযোগীদের থেকে দুরত্ব কয়েক আলোকবর্ষের। মোসাদ যা খুশি, যেখানে খুশি, যেভাবে খুশি করতে সক্ষম। ইরান দেখিয়ে দিলো- মোসাদ ফোলানো গ্যাস বেলুন, নিজেদের সদর দপ্তর রক্ষা করতে ব্যর্থ। ইরাণের কোথায় অস্ত্র সম্ভার তা খুঁজেই পায়নি, পেলে কি সেটা আস্ত রাখত? অথচ তথাকথিত মোসাদ থাকার পরেও গোটা ইজরায়েল প্রতিটি গুপ্ত ঘাঁটি ইরাণের নখদর্পনে, রীতিমত থ্রিডি ম্যাপ রয়েছে ইজরায়েলের প্রতিটি অলিগলির। মোসাদ টেরও পায়নি তাদের দেশেই ঘোগের বাসা রয়েছে। মোসাদের ফেল ইজরায়েলের মিথের সবচেয়ে বড় ক্ষতি, সবচেয়ে বড় বেইজ্জতি।

ইজরায়েলের মিথ ভেঙে যাওয়ার দ্বিতীয় কারন- তাদের প্রযুক্তি সর্বাধুনিক, তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা state of the art। শ্বেতাঙ্গ প্রোপ্যাগান্ডা মেসিনারি প্রতিষ্ঠা করেছিল- ইজরায়েলকে কেউ ছুঁতে পারবেনা। মারণ বিমান বাহিনী, আয়রণ ডোম, ডেভিডস স্লিং, এ্যারো আর মার্কিন থাড- একযোগে বিপুল আয়োজন। প্রত্যাঘাত হানার জন্য ১৮টা মিলিটারি বেস গোটা মধ্যপ্রাচ্যে, সাথে ছোট বড় মিলিয়ে এক ডজন ব্যাটেল-শিপ। এমন বিপুল আয়োজনের ভিড়ে মাছি গলবে সাধ্যি কী! ইরান সেই মিথকে গুড়িয়ে মাটিতে মিসিয়ে দিয়েছে। ইরান রীতিমত রোজ অন্তত ৫-৭ ঘন্টা আগে ম্যাপে এরিয়া সিলেক্ট করে দিয়ে হামলা করে, চেয়ে দেখা ছাড়া সেভাবে কোন প্রতিরোধ করতে পারেনি। ইজরাইলের আকাশে রোজ অন্তত এক ঝাঁক ড্রোন উড়ে আসে মিসাইলের আগে, যারা আইরন ডোমকে ব্যস্ত রাখে। এগুলো তো আর ইরান থেকে আসেনা, আশেপাশের কোথাও থেকে আসে। ইজরায়েলের কোনও প্রযুক্তি ধরতে পারেনি, ড্রোন কোথা থেকে আসে। যারা দাবি করত “We are the chosen one for the promised land.”  আর এই দাবীর সম্পক্ষে নির্বিচারে গনহত্যা করে রোজ একটু একটু করে অন্য রাষ্ট্রের জমি দখল করত, আজ তারাই ইঁদুরের মত বাঙ্কারে লুকাচ্ছে, দিগ্বিদিকশূন্য হয়ে দলে দলে করে দেশ ছেড়ে পালাচ্ছে। প্রযুক্তি আর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার state of the art ফানুসকে ফাটিয়ে দিয়েছে ইরানী মিশাইল।

পৃথিবীর সমস্ত টেক জায়েন্ট তাদের সমস্ত প্রযুক্তির সূতিকাগার বানিয়েছিলো ইজরায়েলে। দাবী ছিলো- গোটা পৃথিবীর সেরা প্রযুক্তিতে ছিলো দখলদারদের একচ্ছত্র অধিকার। সমস্ত রোবটিক টেকনোলোজির ধাত্রীগৃহ ছিল একান্তই ইজরায়েলে। ইরান প্রমাণ করেছে সে সব ফাঁপা ও মিথ্যা বুলি ছিলো। ওয়েজম্যান ইন্সটিটিউট হোক বা মাইক্রোসফট অফিস- খোলামকুচির মত রাস্তায় মিসে গেছে। দখলদারেরা পালাতে পারলে বাঁচে। যারা আছে, গর্তে লুকিয়ে নিজেদের মাঝে চুলোচুলি করছে। প্রথম বিশ্ব থেকে সাতদিনের অন্তরালে উদ্বাস্তু শিবিরে পরিনত হয়েছে ‘যায়োনিষ্ট দখলকৃত ফিলিস্তিন’।

আসলে ইজরায়েল রাষ্ট্র যে কারনেই বানাক ব্রিটেন ও রসচাইল্ড পরিবার, গত ৫০ বছর ধরে এটা বিশ্বজুড়ে মস্তানি করা আমেরিকার তোলা আদায়ের ‘পার্টি অফিস’ ছিলো। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ কালেকশন এজেন্ট বসিয়ে রেখে প্রাকৃতিক সম্পদে পূর্ণ মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকা থেকে তোলা আদায় করে আসছে নানান উপায়ে। শেষ ৩৫ বছরে যত যুদ্ধ, সবটা এই নেতানিয়াহুর অধীনে, তার পরিকল্পনাতে। নেতানিয়াহু আসলে আমেরিকার সবচেয়ে বড় ও বিশ্বস্ত কালেকসন এজেন্ট। প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে আসা ইস্তক এই লোক কখনও ২-৩ বছরের বেশী ক্ষমতার কেন্দ্রের বাইরে থাকেনি। ছলে বলে কৌশলে ইজরায়েলের মূল রাজনৈতিক সিস্টেমে নেতানিয়াহু বারে বারে ফিরে এসেছে বা আমেরিকা তাকে ফিরিয়ে এনেছে।

নেতানিয়াহু যুগের শুরুতে ফিলিস্তিন নামের দেশটার অস্তিত্ব ছিলো, এরপর ধীরে ধীরে দুনিয়ার বুক থেকে ফিলিস্তিন নামটাকেই গায়েব করে দিয়ে- গাজা আর ওয়েষ্ট ব্যাঙ্ক নামে দুটো জেলখানাতে রুপান্তরিত করেছে। যাদের না আছে নিজশ্ব পার্লামেন্ট, না রাজনীতি, না আছে নিজেদের মুদ্রা, না খাদ্য-পানীয়, না আছে নিজেদের কোনো স্বাধীনতা। গাজা জেনোসাইডের মাস্টারমাইড এই নেতানিয়াহু। গনবিধ্বংসী অস্ত্রে থাকার দাবী তুলে ইরাক, সিরিয়া, লিবিয়া ছাড়খার করে দেওয়ার কারিগর- এই নেতানিয়াহুই। আইসিস ও আল-কায়েদা নামের জঙ্গিগোষ্ঠী এই নেতানিয়াহুর আমলের সৃষ্টি। ‘ইসলামিক জঙ্গীবাদ’ শব্দের জনক ইনিই, এই কারনেই RSS এর পোষ্টার বয় নেতানিয়াহু।

মধ্যপ্রাচ্যে একটা আরবী প্রবাদ রয়েছে- আমাকে তো সেদিনই খেয়ে ফেলা হয়েছিল, যেদিন সাদা ষাঁড়টিকে খাওয়া হয় এই প্রবাদের পেছনের গল্পটা হলো- তিনটি ষাঁড় ছিল– সাদা, কালো এবং লাল। তারা একসাথে থাকত। একদিন সিংহ প্রথমে কালো ও লাল ষাঁড়কে বলল, ‘তোমরা যদি আমাকে সাদা ষাঁড়টিকে খেতে বাঁধা না দাও, তাহলে আমি তোমাদের ক্ষতি করব না তারা রাজি হলো। এরপর সিংহ সাদা ষাঁড়টিকে খেয়ে ফেলল। কিছুদিন পর সিংহ আবার ফিরে এসে কালো ষাঁড়কে বলল, যদি লাল ষাঁড়টিকে খেতে বাঁধা না দাও তাহলে তোমার কোন ক্ষতি করব না। ফলে কালো ষাঁড়টি নিশ্চুপ হয়ে লাল ষাঁড়ের বিনাস দেখেছিলো। সর্বশেষ যখন সিংহ কালো ষাঁড়টিকে খেতে আসলো, তখন তাকে বাঁচানোর মতো কেউই ছিল না৷

ইরাক, সিরিয়া, ইজিপ্ট, সৌদি, আমিরাত সবাই সেই ষাঁড়ের দল। ইজরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ‘ইতামার বেন গাভির’ স্বীকার করেছে যে, নেতানিয়াহু নিজেকে সিংহ ভেবে Operation Rising Lion নামে ইরাণকেও ষাঁড়ের দলের একটা ভেবে আক্রমণ করেছিলো। ইরাণ সিংহ না হলেও অন্তত হায়েনা যে বটে, সেটার সাক্ষী আজ বিশ্বের সকলে। সিংহ সেজে আরবের প্রায় সকল ‘মোল্লা ষাঁড়’ সাবার করে ইরানের দিকে হাত বাড়াতেই, ইজরায়েলের ভিতরের ছাল ওঠা কুত্তাটা বের হয়ে গেছে।

ইজরায়েল এতদিন যখন যাকে ইচ্ছা গেছে তাকেই মেরেছে, বেহিসাবি মেরেছে। ত্রাসের রাজত্ব কায়েক করে রেখেছে। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার নামে আমেরিকা আর ন্যাটো এ্যাম্বুলেন্সের মত সাইরেন বাজাতে বাজাতে এসে, বোমা ভর্তি বিমান নিয়ে নেতানিয়াহুর সিদ্ধান্তকে নিঃশর্ত পূর্ণ সমর্থন করেছে কোনো প্রশ্ন ছাড়াই। আফ্রিকা থেকে ইউরোপের সাপ্লাই লাইন সক্রিয় রাখতে, আর মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ ও পশ্চিম এশিয়াতে ‘ডর কা মাহল’ বানিয়ে রাখার জন্য ইজরায়েল হলো আমেরিকা আর ইউরোপের প্রাণভোমরা, পাতি বাংলাতে কালেকশন এজেন্ট।

এতোদিন যে যুদ্ধগুলোই ইজরায়েল শুরু করেছে, সাথে সাথে আমেরিকা ও ন্যাটো ঝাঁপিয়ে পরে সহযোগিতা করেছে। সেগুলো একপ্রকার প্রতিরোধহীন ও একতরফা ছিলো। ইরাক, সিরিয়া, আফগানিস্থান, লেবানন, লিবিয়া, ইয়েমেন, ইজিপ্ট, সোমালিয়া, তিউনিসিয়া সহ সর্বত্র একতরফা আক্রমণ ছিল। এই দেশগুলো সামরিক সক্ষমতায় আমেরিকার হাাজার ভাগের একভাগও ছিলোনা, কোনো তেমন অস্ত্র সম্ভার ছিলোনা যা দিয়ে সামান্যতম প্রতিরোধ করতে পারে। ফলত ইজরায়েল বা আমেরিকা জোট একতরফা বিজয় পেয়েছে, নিজেদের পুতুল সরকার বসিয়ে প্রাকৃতিক সম্পদের হরির লুঠ চালিয়েছে। সৌদি, বাহারিন বা আমিরাতের মত হিজরে মোল্লা রাজা গুলো শুরুতেই আমেরিকার পায়ে পরে গিয়েছিল, ষাঁড় সেজে। তাদের অভয়ারন্যে রেখে দিয়েছে ডামি রাজা বানিয়ে, আসল সব সিদ্ধান্ত আমেরিকা যা ইজরায়েল কার্যকর করে। এই শতাব্দীর শুরুতেও পৃথিবী একমেরু ছিল, আমেরিকা কেন্দ্রিক। ভেঙে যাওয়া সোভিয়েত থেকে জন্মানো রাশিয়া তখনও কিশোর, চীনও তাই। আজ ২০২৫ এর পৃথিবী দ্বিমেরু যুক্ত। রাশিয়া, চীন রীতিমত আমেরিকার জন্য চ্যালেঞ্জ।

আমাদের দেশ ভারতও এগিয়ে যেতে পারত যদিনা ‘মুসলমান মারাটাকে’ সনাতনী এ্যাজেন্ডা বানিয়ে ফেলতো বিজেপি। বিদেশনীতিতে জোর দেওয়া একটা শিক্ষিত রাষ্ট্রপ্রধান যদি থাকত, আমাদের আজ সেই রেলা হতো, ১৪০ কোটির আওয়াজ কোনো ছেলেখেলা নয়। ক্লাস ফোর ফেইল একটা জোকারকে ক্ষমতায় বসানোতে যা হবার সেটাই হয়েছে, সবর্ত্র ফেকলু গিরি।

ইরানের চেয়ে আমাদের সেনা সক্ষমতা, আমাদের অস্ত্রভান্ডার, আমাদের অর্থনীতি, আমাদের ব্রেইন, আমাদের নিজশ্ব প্রযুক্তি- কিসে আমরা এগিয়ে নেই? ইরান যেখানে আমেরিকার একটা ধমকিকেও আমল দেয়নি, সেখানে সারেন্ডার সাহেব, ট্রাম্পের ধমকিতে কুঁচকে গিয়ে এডভান্টেজ পজিশন থেকে পিছিয়ে এসেছে হাঁটু গেঁড়ে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী ও বাকি রাষ্ট্রপ্রধানেরা আসলে ক্লীব ও পশ্চিমাদের উচ্ছিষ্টভোগী দাস। শুধু আমাদের মোদীই নয়, বাংলাদেশের ইউনুস ও পাকিস্তানের শরীফ, এই দুটোও ওয়াসিংটনের পাপেট, জড়ভরত সাক্ষীগোপাল। সিদ্ধান্ত সব কিছু প্রভুর তরফে আসে, এনারা পাঠ করেন মাত্র।

ইরাণে এসে সর্বপ্রথম ইজরায়েল এই প্রথম কোনো ধাক্কা খেলো। কটা বিল্ডিং ধ্বসেছে সেটা বড় কথা নয়, ছয় মাসের মধ্যে আমেরিকা সে সব আবার বানিয়ে ফেলতে সক্ষম। ইজরায়েল ধাক্কা খেয়েছে তার মিথে, তার গর্বে, দম্ভে, অহংকারে। ইজরায়েল মিথ আজ ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে, বারংবার- যুগের পর যুগ ধরে বানানো মিথ্যা অপরাজেয়তার গল্পকে নিজেরাও বিশ্বাস করতে শুরু করেছিলো। এমন দেশের সম্মুখীন এতোদিনে হয়েছে যাদের নূন্যতম প্রতিরোধ সক্ষমতা আছে, ব্যাস অমনি হেগে ফেলেছে প্যান্টে।

আমেরিকাও কখনও একা যুদ্ধ করেনি, বরং পালাবার ইতিহাস রয়েছে। হলিউডি সিনেমাতে প্রতিটি বিশ্ববিপর্যয় আমেরিকার সেনা একাই ঠেকিয়ে দেয়, তাদের আর্মি এলিয়েনকেও হারিয়ে দেয়। সমস্ত ‘মাস মিডিয়া’ জুড়ে দীর্ঘ ৮০ বছর ধরে তাদের মিলিটারি সক্ষমতাকে ধরাছোঁয়ার বাইরে নিয়ে গেছে প্রচারযন্ত্রের মহিমাতে। যেই মাত্র রাশিয়ার সম্মুখীন হয়েছে ইউক্রেনের ছদ্মবেশে, লেজে গোবরে হয়ে গেছে। সামান্য নর্থ কোরিয়ার সাথে মেপে পা ফেলে যুক্তরাষ্ট্র, আর চীনের বিয়য়ে আজকাল হম্বিতব্বি টুকুও করেনা। এটাই মহাশক্তিধর আমেরিকার আসল রূপ।

আমেরিকা নামেই তালপুকুর, আসলে কি ঘটি আদৌ ডোবে? অনেকেই আমাকে ট্রল করতে পারেন, সমলোচনা হতে পারে, ক্ষতি নেই- সমালোচনা বা ট্রলের মধ্য দিয়ে আলোচনাটা তো হোক। আসলেই কি আমেরিকা ততটা ক্ষমতাবান যতটা তারা দাবী করে বা দেখায়? কোন ভয়ে তারা সরাসরি রাশিয়ার বিরুদ্ধে যায়নি? জোকার ট্রাম্প ৩ মিনিটে ৫টা ‘সারেন্ডার’ টুইট করলেও হোয়াইট হাউজ ১৪ দিনের সময় নেয়, পরদিন আবার B-2 বোম্বার থেকে অস্ত্র বর্ষণ করে। অবশ্যই যুদ্ধনীতি আমার থেকে শেইখবেনা তারা, কিন্তু এমন দ্বিধাগ্রস্থ আমেরিকাকে কবে দেখেছে? আসলেই কি তারা ভয় পাচ্ছে? হ্যাঁ পাচ্ছে। তাইতো ইজরায়েলকে প্রায় বলি চড়িয়ে দিয়েছে।

আমেরিকা সরাসরি নামলে বিপদ, না নামলে সর্বনাশ। মার্কিন জিউ লবি আমেরিকাকেই আক্রমণ করবে প্রতিশোধে নিতে- ফুলফ্লেজে যুদ্ধে না নামলে। উভয়সঙ্কট, এমন শাঁখের করাতে এর আগে কবে পরেছে আমেরিকা? ভিয়েতনামে দেশপ্রেমের কাছে হেরেছিল, আফগানিস্তানে নাছোড়বন্দা মানসিকতার কাছে পরাজিত হয়েছে। এই প্রথমবার ইজরায়েল নামের মুখোশে প্র্যাকটিক্যালি বিজ্ঞানসম্মতভাবে এবং প্রযুক্তিগত ক্ষমতার লড়াই হচ্ছে, প্রতিদিন মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের অহংকার, দম্ভ ধুলোয় মিশে যাচ্ছে। পারমানবিক অস্ত্রের চেয়েও যে একটা পুতুল সরকার জরুরী, সেই এ্যাজেন্ডা এখন প্রকাশ্যে জপছে ইজরায়েল। পশ্চিমা মিডিয়া যাদের জঙ্গি বলে দেখায়, তাদের চেয়েও কালো স্যুটের পশ্চিমা নেতারা বেশী সন্ত্রাসী, আসল জঙ্গি।

মার্কিনীদের এই ভয়টা ইরাণকে নয়, উন্মাদ ছাড়া কেউ বিশ্বাস করবেনা ইরান আমেরিকার চেয়ে সামরিক সক্ষমতায় এগিয়ে আছে। মরে যাওয়ার ভয় নয়, বেইজ্জত হয়ে যাবার ভয়, মিথ ভেঙে যাওয়ার ভয়। আমেরিকা মানে দাদাগিরির চুড়ান্ত রূপ, আমেরিকার যুদ্ধ বহর মানে বিভিষিকা, আতঙ্ক ও মৃত্যুকে আলিঙ্গন করা। ইরান যদি তাদের পাঁচটা সামরিক ঘাঁটি উড়িয়ে দেয়, নৌবহর তলিয়ে দেয়, হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়ে তেলের বাজারে আগুন লাগিয়ে দেয়- এটাই আমেরিকার যজ্ঞের অশ্বকে বেঁধে দেওয়া। এই থাপ্পর টুকুই যথেষ্ট আমেরিকার বেলুন চুপসে দেওয়ার জন্য। ঘাড়ের কাছে ব্রিকস নিঃশ্বাস ফেলছে।

ইরান নামটা হয়ত মিশে যাবে, কিন্তু আমেরিকাকে আকাশ থেকে মাটিয়ে এনে ফেলবে। ইজরায়েল নামের ছদ্মবেশে আদতে যা কিছু সবই তো আমেরিকার। বোমা তেল আবিবে পরলে ক্ষত ওয়াসিংটনে হচ্ছে। প্রতিটা বোমার লক্ষ্য তেল আবিব হলেও নিশানা পরিষ্কার, আমেরিকাকে বার্তা দেওয়া। আমেরিকার সমস্ত স্ট্রাটেজি পলিসি ব্যার্থ, অথচ এই স্ট্রাটেজিতেই গত ৩৫ বছর ধরে বাজি মাত করে এসেছে।

আমেরিকা ভয় পেয়েছে, আরো ভয় পাবে। আর ভয় পেলেই পেট্রোডলার ভোগে যেতে সময় লাগবেনা। পেট্রোডলার গেলে রিজার্ভ কারেন্সী হিসাবে ডলারের দিন শেষ হবে, একদা রুবেলের মত রাস্তায় গড়াগড়ি খাবে। এ দিন আপনি আপনার জীবদ্দশাতে দেখে যাবেন, সিটবেল্ট বেঁধে বসে পড়ুন, ইরান সেই শো এর মঞ্চ বেঁধে দিয়েছে। রাশিয়া আর চীন এবারে সেখানে তুরুক নাচ দেখাবে।

অশিক্ষিত মোদীর বদলে যদি নূন্যতম অটলবিহারীর মতনও একটা প্রধানমন্ত্রী থাকত, রাশিয়ার সাথে মঞ্চে ইন্ডিয়াও থাকত নিশ্চিত। অমেরুদণ্ডী মোদী সিদ্ধান্ত নিতে পারুক বা না পারুক, ব্রিকসের মত বিকল্প বানিজ্য ব্যবস্থা গড়ে উঠবেই। কাল আমেরিকা ৫০টা খন্ডে ভেঙে যাবেই, তখন মিসিসিপি, লুইসিয়ানা বা ভার্জিনিয়ার সাথে রোমানিয়া, স্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরী কিম্বা প্যারাগুয়ে, উরুগুইয়ে আর নিকারাগুয়ার সাথে কোনো তফাৎ থাকবেনা।

ইজরায়েল মুছে যাবেনা, সে থাকবে তার চরিত্র নিয়েই, তবে তাকে সাজানো সিংহ থেকে ঘেয়ো ছাল ওঠা কুত্তা বানিয়ে রাখবে অন্তত আগামী কয়েক দশক। আমেরিকা শেষ ৩৫ বছর ধরে তার সেরা মূল কালেকশন এজেন্ট নেতানিয়াহুকে বলি দিয়ে দেবে। আমেরিকার ঘরে বাইরে বিপদ, ট্রাম্পের মন্ত্র ছিল MAGA, এগেইন গ্রেট কাকে করতে হয়, যে এই মুহুর্তে গ্রেট নয়। মার্কিনিরা বিশ্বাস করে পুনরায় গ্রেট হতে হবে, এই জন্য তারা ট্রাম্পকে জিতিয়েছে, অর্থাৎ আমেরিকা নিজের জ্বালায় জেরবার।

ইউরোপ চালকহীন গাড়ি, কোনো দিশা নেই। কেউ কেউ ফুট কাটছে মাঝেমধ্যে, যদি এই তালে কিছুটা প্রচারের লাইমলাইট পায় এই লোভে। বিশ্ব কোন দিকে বাঁক নেবে সময় উত্তর দেবে। তবে যা খুশি হোক, ইজরায়েল মিথ শেষ। আমেরিকা নিজেও জানেনা সে শেষমেশ কী করবে বা কতটা করবে। তবে যা খুশি হোক- আমেরিকা মিথেরও অবসান শিয়রে, আমরাই দেখে যাব। হরমুজ প্রনালী সম্ভবত বন্ধ এই লেখার সময়, বিশ্বজুড়ে জ্বালানির বাজারে ভূমিকম্প এলো বলে। যুদ্ধ যে দিকেই গড়াক, খুব শীঘ্র মিটবেনা এই অশান্তি, তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিকে গেলেও সেটাই স্বাভাবিক। আমাদের প্রধানমন্ত্রী যতই মুজরো করুক, আমরা যুদ্ধের আঁচ থেকে বাঁচতে পারবনা।


রবিবার, ১৫ জুন, ২০২৫

ইরাণ ইজরায়েল যুদ্ধ

 


যে কাঁদে কাঁদুক, তবু লিখি ফুটনোট,

ফুল তুই তেল আবিবে বোমা হয়ে ফোট

কবি ইমতিয়াজ মাহমুদ

 

দখলদার হিজরায়েলে ধ্বংসের যা মারাত্মক চিত্র, হিজরায়েল এখন লোটাকম্বল নিয়ে আমেরিকার পা জড়িয়ে বসে পরেছে বাঁচাও। মার্কিন পন্থীরা গত পরশুদিন অবধি যেরকম উল্লাস আনন্দে মেতে উঠেছিল একতরফাভাবে ইরানে আক্রমণ করার পর, গত রাত্রি থেকে ‘কোন ভয় নেই কোন ভয় নেই মার্কা বক্তব্য দিচ্ছে।

গতরাতে আক্রমণের ফলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে ন্যাটো একটা বিবৃতি পর্যন্ত দিতে পারেনি। হিজরাইলের পক্ষে বলা এখনও দূর অস্ত। ইব্রাহিম ট্রাওরে একাই আফ্রিকা থেকে যাওয়ারোপের সাপ্লাই লাইনে নাভিশ্বাস তুলে দিয়েছে

শোনা যাচ্ছে কুত্তানিয়াহু পালিয়ে গেছে, না পালালেও ইঁদুরের মত কোনো বাঙ্কারে লুকিয়ে রয়েছে, এমন বীরপুরুষ। আরেক হিজরায়েলী প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী নাফতলি বেনেট ইরানী জনগণের উদ্দেশ্যে লিখছে- শিজ্ঞিরি তোমরা বিদ্রোহ করে তোমাদের ডিক্টেটর সরকার পতন ঘটাও, ওরা সভ্যতার শত্রু। নিজেরা প্যান্টে হেগেমুতে এখন ইরানি জনগণের পায়ে ধরছে একপ্রকার।

আজ যুদ্ধবাজের ঘরে যুদ্ধ ঢুকেছে, এতোদিন নির্বিচারে যারা নিরীহ মানুষের উপরে হত্যালীলা চালিয়েছে, আজ তারা বিশ্বের দরবারে শিশু ও নারী হত্যার বিচার চাইছেনিজেদের দেশের নাগরিকদের মানব ঢাল বানিয়ে যুদ্ধবাজ খুনির দল গর্তে লুকিয়েছে।

ইহুদিবাদী মিডিয়ার অধীনে তথাকা উইকিপিডিয়া বা চ্যাটজিপিটিকে প্রশ্ন করে দেকখুন, তারা স্বীকার করেছে গত পাঁচ মাসের মধ্যে ষাট হাজার যায়নবাদী সেটলার তথা হিজরায়েলী দেশ ছেড়ে ইউরোপ-আমেরিকায় পালিয়ে গেছেপরিস্থিতি এরকম চলতে থাকবে অন্তত দু লক্ষ সেটলার পালিয়ে যাবে, যারা ঠিক এই মুহুর্তে আছে, তারা যে বিভীষিকার মধ্যে রয়েছে, একবার পালাতে পারলে ফেরার সম্ভাবনা নেই। এই পরিস্থিতিতে মৃত্যুহার বেড়ে যাবে আর জন্মহার আরো কমে যাবে। সব মিলিয়ে মাত্র ২ রাত্রে যায়নবাদীদের উলঙ্গ করে দিয়েছে ইরাণ।

আমাদের মতো বোকাচোদা নয় আর ভুঁড়িওয়ালা ও নয় প্রত্যেকটি লোকের দু'বছর পাক্কা মিলিটারি ট্রেনিং আছে

রীতিমতো গৃহযুদ্ধ লেগে গেছে তেল আভিভ সহ নানা এলাকাতে, পুলিশের সাথে খন্ডযুদ্ধ বেঁধে যাচ্ছে। হিজরায়েলের সেটলারেরা আমাদের মত পেট মোটা, ভুঁড়িওয়ালা আমাশার রোগী নয় প্রত্যেকের অন্তত দু'বছর মিলিটারি ট্রেনিং নেয়া রয়েছে তারপরও তারা কিন্তু মানুষ, কানের গোড়ায় মিসাইল ফাটলে সকলেরই পেছন ফেটে যায়, আতঙ্ক গ্রাস করে। যদিও এদের প্রতি কোনো সহানুভূতি নেই, গাজাকে শিশুশ্যূন্য করার টিশার্ট পরে এরাই মিছিল করে প্রতিটি বোমাকে উদযাপন করত। সুযোগ পেলে আবার এরা নিরীহদের খুন করবে গাজায়।

আমার অনুমান কুত্তানিয়াহু খুব বেশি দিন গদি আঁকড়ে বসে থাকতে পারবেনা। ওদেশে রাষ্ট্র তথা পুলিশের বিরুদ্ধে যে বিদ্রোহ ঘোষণা হয়েছে সেখানে হিজরাইলের বামপন্থীদের রীতিমতো মদত আছে।

হিজরায়েল দেশটা ঠিক কতবড়? মাত্র ২২ হাজার বর্গকিমি। মানে আমাদের দুটো চব্বিশ পরগনা, হাওড়া , কোলকাতা, হুগলী আর নদীয়া মিলে যতটা এলাকা হয়, ঠিক ততটা সামান্য কমবেশী। বেশী নয়, আর ৪-৫ দিন এই হারে যদি আক্রমণ ইরাণ আক্রমণ চালায়, হিজরায়েলের মার খাওয়ার মত ভূমি অবশিষ্ট থাকবেনা।

পাকিস্তানের সঙ্গে হওয়া যুদ্ধ পরিস্থিতিতে আমরা দেখেছিলাম আমাদের ইন্ডিয়ান প্রপাগান্ডা মেশিনারি ভয়ংকর ভাবে ফেল করেছিল আন্তর্জাতিকভাবে পাকিস্তানি প্রোপ্যাগান্ডা মেসিনারি ও বাংলাদেশী মিতথ্যুকদের কাছে কুত্তার উপরে হলদে কালো ডোরাকাটা দাগ কেটে বাঘ সাজা মোসাদ নামের "ভিরাট ক্ষমতাবান" গোয়েন্দা সংস্থাকে চায়ের দোকান লেভেলে এনে ফেলেছেতাদের দেশের সদর দপ্তরটিকেই উড়িয়ে দিয়েছে ইরাণ। সমস্ত আন্তর্জাতিক মিডিয়া ইহুদিদের মালিকানাধীন, আমেরিকা এখানে একচ্ছত্র রাজত্ব করে।

ফেসবুক টুইটার ইউটিউব সব তাদের সম্পত্তি। তারপরেও সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে যায়নবাদীদের প্রোপাগান্ডা মেশিনারিকে চেকমেট করে দিয়েছে- গোটা মধ্যপ্রাচ্য, বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং আফ্রিকার একটা অংশের জনগন তথা নেটিজেন। ইউরো-আমেরিকান প্রোপাগান্ডা মেশিনারিকে নকআউট করে দিতেই সোস্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলো ইরানীয়ান অফিসিয়াল বেশ কিছু সোস্যাল্মিডিয়া চ্যানেল ব্যান বা সাসপেন্ড করে দিয়েছে। এই যথেচ্ছ ভাবে একতরফা ব্লক রার মাধ্যমে এদের বুকের ভিতরের কাঁপুনি টের পাওয়া যাচ্ছে, কতটা ভয়ে থাকলে এমনটা করে! এতে লাভের লাভ কিছু হচ্ছে না, হই হই করে নতুন আরেকটা অ্যাকাউন্ট জেগে উঠছে ভাইরাল হয়ে যাচ্ছে।

যুদ্ধের বাজারে বা সক্ষমতায় আমেরিকা চিরকালীন ফেকলু মাল, সবসময় তারা শুয়োরের মত দলবেঁধে আক্রমণ করে। ইতিহাস বলছে আজ অবধি তারা কোনো যুদ্ধ জেতেনি। তারপরেও পূর্ববর্তী বহু প্রেসিডেন্ট অন্তত ব্যক্তিত্বসম্পন্ন ছিল। ট্রাম্প সেখানে মহা উন্মা, মেগেলোম্যানিয়াক বুড়ো ষাঁড়, বিশ্বজুড়ে সে হাসির পাত্র। এর মতো ব্যর্থ মার্কিন প্রেসিডেন্ট তাদের ইতিহাসে কম এসেছে।

ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ঘোষণা করেছে, যে দেশের আমেরিকান ঘাঁটি থেকে মার্কিনিরা ইরানের ভূমিতে আঘাত হানবে, ইরাণ সেই দেশে সরাসরি আক্রমণ চালাবে। মদ, জুয়া, হারেমে শত সহস্র নারী আর বিলাসিতায় ডুবে তথাকা মধ্যপ্রাচ্যের মোল্লা রাজারা সব ভেড়ার পাল। এরা শক্তিশালী ক্ষমতাবানেদের পশ্চাদলেহন করে।

সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, কুয়েত, মিশর, তুরষ্ক সহ মুসলমান দেশগুলি সমেত ৫৭ দেশের জোট হিজরাইলের বিপক্ষে সরাসরি ইরানের পক্ষে দাঁড়াবে কিনা এখনও সেটা পরিষ্কার নয়। এরা যদি বেইমানি না করে সত্যি সত্যি জায়নবাদী দখলদারদের বিরুদ্ধে একজোট হয়, সেক্ষেত্রে আলজেরিয়া, লিবিয়া সহ আফ্রিকার জনগণ আর শাসক উল্টো দিকে থাকলেও- ইরাক, জর্ডন, লেবানন, সিরিয়া সমেত নিকটবর্তী দেশের জনগণ চুপ করে বসে থাকবে না। রাজাগুলো পুতুল হলেও জনগণ কিন্তু চুপ করে বসে থাকবে না ইব্রাহিম ট্রাউরে শুধু একা ফ্রান্স নয় ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের ভিতে কম্পন ধরিয়ে দিয়েছে আর ট্রাম্প নিজের দেশেই নিজে বিপর্যস্ত। এটাই তাই সুবর্ণ সুযোগ জমি উদ্ধার করে প্যালেস্টাইন রাষ্ট্র পুনঃ প্রতিষ্ঠার

শুধু মধ্যপ্রাচ্যের ইসলামিক দেশের জনগণ নয়, ওই জাতির যেসব জনগণ প্রথম বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিশেষ করে ন্যাটোর অন্তর্গত দেশগুলিতে বাস করে, সেখানেও বিশাল বিশাল প্রতিবাদ মিছিল বার করেছে। ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, ইংল্যান্ড, নেদারল্যান্ড, মরক্কো, গ্রীস, তুরস্ক, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ব্রাজিল, ও আমেরিকার বিভিন্ন শহরে বিশাল বিশাল মিছিল বার হয়েছে স্বাধীন ফিলিস্থিনের সমর্থনে ফিলিস্থিনি পতাকা হাতে কিংবা গায়ে জড়িয়ে

পারস্য উপসাগরকে সোজা করে দিয়ে ইরাক, কুয়েত, সৌদি আরব, ওমান, তুরস্ক আর ইয়েমেন সঙ্গে সোমালিয়াকে দিয়ে সুয়েজ ক্যানেলের ঢোকা বেরোনো বন্ধ করে দিয়ে এবং একই সাথে আরব সাগরকে ঘেঁটে ঘ করে দেবার এটাই সুবর্ণ সুযোগ। গত রাত্রের ফাইফা সহ জবরদকখলকারীদের দেশ হিজরায়েলে ইরাণের পারফরমেন্স দেখে বেশিরভাগ দেশ হতবাক হয়ে যাবার পরে তবে মিশরের মত মুনাফেক মোল্লা দেশগুলো এক এক করে লাইনে আসতে শুরু করেছে। সামগ্রিকভাবে ইসলামিক জোট কী করে সেই দিকেই কিন্তু আমরা তাকিয়ে আছি ওরা যদি একবার একটা সর্বসম্মত বিবৃতি দেয় তবে কিন্তু ইসরাইলের বাপ, আমেরিকার হাতে হ্যারিকেন ঝুলে যাবে

আমাদের মত ভারতীয়দের আর কী! শুধুমাত্র একটি দুর্নীতিগ্রস্ত লোকের ব্যবসায়িক স্বার্থ দেখতে গিয়ে ১৪০ কোটি লোকের বিদেশ নীতি প্রশ্ন চিহ্নের মুখেএতবড় একটা বৈশ্বিক ঘটনাতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় জনবহুল রাষ্ট্রের নপুংসক অমেরুদন্ডী নেতা- মুখে গোবর গুঁজে বসে আছে। ছিঃ

শুক্রবার, ১৬ মে, ২০২৫

ফুটফুটে চুতিয়া

 


ইয়ে, মিডিয়া আপনাকে চুতিয়া বানায়নি। আপনি চুতিয়াই ছিলেন, গতকাল একজন ভেরিফায়েড চুতিয়া হিসাবে প্রমানিত হলেন মাত্র

৯ই মে সকাল ৮টার সময় করা ভারতীয় আর্মির টুইট অনুযায়ী সত্যটা হচ্ছে- ইন্ডিয়া পাকিস্তান আক্রমণ করেনি, তেমন কোনো পরিকল্পনাও নেই। বেছে বেছে সন্ত্রাসবাদীদের ঘাঁটি উড়িয়েছে, উড়াচ্ছে ও আগামীতে এটা চালু থাকবে নির্মূল না হওয়া অবধি।

গোদী মিডিয়া নাম এমনি এমনি হয়নি, একদিনেও হয়নি। যাকে ভক্তেরা ১০১% বিশ্বাস করে। আপনি হয়তবা বাম সমর্থক, তেনার মাঝে লেনিন দেখা অরাজনৈতিক, রাজনীতি বোঝেননা কিন্তু মোদীকে ভালো লাগে তাই বিজেপিকে ভোট দেন, অথবা নির্বিবাদী মানুষ কিম্বা শিক্ষক। তবে, কোথাও একটা বিশ্বাস তো ছিলো এই মিডিয়ার উপরে- যারা সরকারকে প্রশ্ন না করে গত ১২ বছর ধরে হিন্দু-মুসলমান, us vs them এর মাধ্যমে, বিজেপির যাতে রাজনৈতিক লাভ হয় সেই প্রোপাগান্ডা চালায়।

গতকাল ভারতীয় মূলধারার সব মিডিয়া ভুয়ো খবর দেখিয়েছে, এটা আজ প্রমানিত। কিন্তু এর উৎস কোথায়? স্বাভাবিক ভাবেই খোঁজেননি। নুন্যতম ফ্যাক্ট চেকের দিকেও নজর রাখেননি এমনই জোশ উঠে গিয়েছিল। একটু কষ্ট করে খুঁজে দেখলেই পেয়ে যাবেন। india.com, PMO India, Ajit Doval, Indian Military Fan Page, Sanatani Hindu- এই জাতীয় মাত্র খান দশেক পেজ থেকে ফেসবুক, এক্সহ্যান্ডল ও ইউটিউবে মূল পোষ্টার বা ফেক ভিডিও গুলো ছাড়া হয়ে ছিল।

সকলেই জানে এগুলো বিজেপির IT সেলের কাজ, যারা গ্রেটার দিল্লির নয়ডার একটা অফিস থেকে করেছে, অন্তত গত রাত্রের IP Address Traking এর হিসাব অনুযায়ী। এটা সরকার জানেনা? অবশ্যই জানে, সরকার মানে তো এই বিজেপি নেতাদেরই নিয়ন্ত্রনে রাষ্ট্র ব্যবস্থা, যাদের নিয়ন্ত্রণে আঁটি সেল নিশ্চিন্তে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা চালায়। অনেকটা সেম সাইড হয়ে যাচ্ছে দেখে ‘ডিফেন্স মিনিস্ট্রি’কে দিয়ে একটা লিখিত ঘোষণা করে দায় সেরেছে সরকার, আজ সকালে। যারা মিথ্যাচারের অপরাধ করলো তাদের একজনের বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়নি। বুঝেই গেলেন ১৮২ দেশের মাঝে কেন গোদী মিডিয়া ১৫১ তম স্থানে। গোয়েবলস অবধি লজ্জা পেতো এদের পেশাদারিত্ব দেখতে পেলে।

IPL ম্যাচ পরিত্যক্ত হতেই "নেট পাব্লিক" খোরাক চাইলো। মিডিয়া সাথে সাথে বলিউডি স্টাইলে পাকিস্তান এনে দিলো। কিছু জন উন্মাদনায় ফেটে পড়ল যুদ্ধ লেগেছে বলে, কেউ কেউ উচ্চমার্গীয় ছেনালি শুরু করল যুদ্ধ বন্ধের আর্জি জানিয়ে

দেখুন, ক্যান্সার সারাতে গেলে কেমো থেরাপির ইঞ্জেকশন, সেলাইন সইতে হবে। এই চিকিৎসাতে শরীর মুটিয়ে যাবেই, শরীরের লোম ঝরে যাবে, দেহে কালো কালো স্পট আসবে, সাথে অসহ্য যন্ত্রনা। তবেই ক্যান্সারের যন্ত্রনামুক্তি সম্ভব। পাকিস্তান রাষ্ট্র হলো সেই ক্যান্সার, এই রোগ সারাতে আমাদের কিছু ক্ষয়ক্ষতি সইতেই হবে, এটাই প্রাক্টিক্যাল ঘটনা। কিন্তু সেটা over the Night হয়না, সব কিছুর একটা প্রসেস আছে। যেমন বাংলাদেশের ভারত বিরোধী সমাজ, সেটাও রোগ, তবে গুপ্তরোগ, বড় জোর দাদ, হাজা বা অর্শ কিম্বা ঐ জাতীয়ই। মৃত্যুভয় নেই, কিন্তু সর্বক্ষণ ক্রনিক চুলকানি হতেই থাকবে।

আবেগ যখন বুদ্ধিকে গ্রাস করে তখন হিসাব-নিকেশ-অঙ্ক ইজেরে চলে যায়। মাত্র ৩৬৫ বর্গ কিলোমিটারের গাজাকে- ইজরায়েল, ন্যাটো এবং গোটা মার্কিন সেনা বহর তাদের যুদ্ধ সরঞ্জাম ও অস্ত্র দিয়ে সম্পূর্ণ নিকেশ করতে পারেনি ৭০ বছরে। সেখানে ৮৮১৯১৩ বর্গ কিলোমিটারের ‘ক্যান্সার’ পাকিস্তানকে ২৪ ঘন্টায় সাফাই করে ‘গাজা বানিয়ে’ দেবে এটা বিশ্বাস করা আপনার মত গান্ডুকেই মানায়। সময় লাগবে, ধীরে ধীরে মারবে, আর সেই অঙ্ক জানে যারা দেশ সুরক্ষার কাজে নিয়োজিত রয়েছে। ভারতীয় সেনাবাহিনীর কোনো দায় নেই আপনাকে অর্গাজম দেওয়ার জন্য T-20 মোডে বেহিসাবে কাজ করবে। রাজনৈতিক ফাঁসের চাপে সেনারা অনেক সময় চেয়ে পালটা দিতে পারেনা এটাকে মাথায় রেখেই লিখছি।

কিছু বাংলাদেশী ফেসবুক পেজ অকারনে ইন্ডিয়াকে গালাগালি করে, আমরাও আবেগ নিয়ন্ত্রণ না করতে পেরে হুলিয়ে কমেন্ট শেয়ার করি। এতে পেজের ভিউজ বাড়ে, মানিটাইজেশন করা থাকলে পেজ মালিকের রোজগার হয়। পাতি বাংলাতে খিস্তি খেয়ে যদি ডলার আসে, খিস্তিই সই। ওটাই রুটি রুজি। আমার পরিচিত এক ‘ডিজিটাল ক্রিয়েটর’ যুবতী- গত রাত্রে ২ ঘন্টায় ৩টে পোষ্ট করে বসে ছিল উত্তেজনায় “আজ সারারাত উদ্বিগ্নতার... জয় আমাদের হবেই”। যারা নিজের বাড়ির পুরো ম্যাপটাও সঠিকভাবে জানেনা তারাই মূলত গোদী মিডিয়া ভাইরাসে বেশী আক্রান্ত হয়েছে।

মিডিয়া হাউজ গুলোর কোনোটাই রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত নয়, বড় বড় পুঁজির প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ মালিকানাধীন যাদের নির্দিষ্ট রাজনৈতিক পরিচয় রয়েছে। পুঁজি রাষ্ট্র বোঝেনা, নেতা মানেনা, তার জাত ধর্ম কিচ্ছু নেই। সে কেবল মুনাফা বোঝে। পাকিস্তান নিয়ে জনমানসে রাগ আছে, হতাশা আছে, সর্বোপরি বদলা নেওয়া চাহিদা আছে। মিডিয়া সেটাকেই নিজেদের আনুকূল্যে এনে ক্রিকেট/ফু্টবল ধারাভাষ্যের মত সমানে নব নব শিহরণ দিয়ে গেছে প্রতি মুহুর্তে। হামলে পরে মানুষ দেখেছে, অনংশগ্রহন করেছে, এতে চ্যানেলের ভিউ বেড়েছে, বিজ্ঞাপনের আয় বেড়েছে।

অতএব আপনি ফুটফুটে ‘ওলে বাবালে’ লেভেলের চুতিয়া ছিলেন, গতরাত্রে শুধু স্নাতক পর্যায়ের সার্টিফায়েড ‘উদগান্ডু চুতিয়া’ হলেন মাত্র

 

শনিবার, ২৬ মার্চ, ২০২২

একমাস পর কোথায় দাঁড়িয়ে ইউক্রেন যুদ্ধ!

 

পশ্চিমা মিডিয়ার গণ প্রোপাগাণ্ডা মূলক মিথ্যাচারের বাইরে গিয়ে তুলনামূলক নিরপেক্ষ কিছু সংবাদমাধ্যম এর দ্বারা প্রচারিত সংবাদ ও বিশ্লেষণের ভিত্তিতে একটা প্রাথমিক ধারনার উপরে ভিত্তি করে চলমান ঘটনাপ্রবাহের উপরে এই লেখা। আমাদের গোদি মিডিয়ারও বাপ এই পশ্চিমা মিডিয়া, যার পেটে ছেলে নেই তাদের কোলে ছেলে করে দিতে এরা উস্তাদ। কিন্তু মজা হল, প্রোপ্যাগান্ডা দিয়ে যুদ্ধে জেতা যায়না, গেলে হি’টলার ও তার প্রোপ্যাগান্ডা মন্ত্রী গোয়েবলস জিততো।
যদিও ঠান্ডা ঘরে বসে গলায় পাউডার, মুখে স্নো লাগিয়ে বুদ্ধিজীবী সেজে বসা কিছু আবাল, আর ইজেরে মগজ রাখা একাংশ ফেসবুকীয় বিশ্লেষক, সোস্যাল মিডিয়ার তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ লাগিয়ে দিয়ে সর্বজ্ঞ পন্ডিত সাজার ভান করলেও বাস্তব পরিস্থিতি মোটেও তেমন নয়। প্রাক্তন KGB চর ও পরে তাদের সার্বিক প্রধান ভ্লাদিমির পুতিন- সাদ্দাম হোসেন বা মুয়াম্মার গাদ্দাফি নয়। প্রতিপক্ষের প্রতিটি সম্ভাব্য চাল কী হতে পারে সেই সম্বন্ধে সম্যক ধারনা রেখে ক্যালকুলেটেড রিস্ক নিয়েই যুদ্ধে নেমেছে- যা রাশিয়ার পরিভাষায় “বিশেষ সামরিক অভিযান”।
১) আজদের দিনে দাঁড়িয়ে রাশিয়া তার লক্ষ্যে ৯০% সফল, কাল কী হবে জানিনা তবে রাশিয়ার বিপক্ষে যাওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীন। ইউরোপের খোঁজা রাষ্ট্রপ্রধানগুলো সবকটা কাগুজে বাঘ, সিরিয়া-ইরাক-লিবিয়া-আফগানিস্থানের মানুষদের উপরেই যত কেরামতি ছিল। পুতিনের রাশিয়া যেই একটা করে হুমকি দিচ্ছে, অমনি লেঙ্গুর গুটিয়ে আরো চারটে বাক্যবাণ ছুড়ে ‘চাচা আপন প্রাণ বাঁচা’ প্রকল্পের অধীনে ‘অবরোধ অবরোধ’ খেলায় ছক্কা-পুট গুনছে।
রাশিয়ার লক্ষ্য কখনই গোটা ইউক্রেনের দখল নেওয়া ছিলনা, তাদের মূল লক্ষ্য ছিল নিপার নদীর উত্তর-পূর্ব অংশটা। ইউক্রেনের মোট উর্বর কৃষিক্ষেত্রের ৭০% এই অঞ্চলেই অবস্থিত, যেখানে উৎপাদিত গম বিশ্বের ১৭% চাহিদা মেটায় ও সূর্যমুখী তেলের ৬৫% এর চাহিদা মেটায়। এর বাইরে আরো যে সব অন্যান্য কৃষিজাত ফসল রয়েছে সেগুলো নাহয় উহ্যই থাকুক।
ইউক্রেনের প্রাকৃতিক গ্যাসের ভান্ডারের ৭৭% এই নিপার নদীর উত্তরপূর্ব প্রান্তেই অবস্থিত। সেটাকেও প্রায় নিজেদের দখলে করে এনেছে রাশিয়া। এই প্রান্তেই ইউক্রেনের ৬০% তেলের কূপ গুলো রয়েছে। পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালাতে সুপেয় জলের দরকার হওয়ার দরুন প্রায় সবকটি ইউক্রেনীয় পারমানবিক চুল্লি এই প্রান্তেই অবস্থিত। এর জন্যই ইরপিন নদী লাগোয়াও অঞ্চলও রাশিয়া দখল করে নিয়েছে।
ইতিহাস বলছে, হি’টলারের অজেয় বাহিনী যখন রাশিয়া আক্রমণ করেছিল, এই নিপার নদী অতিক্রম করে করে যাওয়া অধিকাংশ জার্মান সৈন্য বেঁচে ফেরেনি। সুতরাং ভূপ্রকৃতিকগত ভাবেই এই নদীর সীমানা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে ইউক্রেনের সাথে কৃষ্ণসাগরের একমাত্র সম্পর্ক ছিল মারিওপোল সমুদ্রবন্দর, সেটাও রাশিয়ার করায়ত্ত হয়েছে বা দু-এক দিনেই হবে বলে ধারনা করাই যায়। সব মিলে রাশিয়ার জন্য ১০১% ‘উইন উইন সিচুয়েশন’ না হলেও ক্ষতিতে অন্তত নেই।
২) রাশিয়া বা বলা ভালো পুতিন- পশ্চিমা জোট ন্যাটোকে এমন আব্বুলিশ দুদুভাতের দলে ফেলে রেখেছে যে তারা নিজেদেরই নিজেরা চিনতে পারছেনা। এতোদিন তারা নিজেদের বিশ্বের মড়ল ভাবতো ও সেটা অন্তর থেকে বিশ্বাসও করত, পুতিনের এক ইউক্রেন আক্রমন রাতারাতি তাদের নেড়িকুত্তার দশাতে পরিনত করে দিয়েছে। পুতিন ন্যাটোর সাথে যে আচরণ করছে তার নিরিখে- 'চল ফোট' বা কুত্তা তাড়ানো ‘ছেই’ তার চেয়ে অনেক বেশি সম্মানের। অবরোধের ফাঁপা বুলি আউরানো কয়েকটা ইউরোপিয়ান জোকারকে অনেক বেশি হাস্যকর মনে হতো- কিন্তু রোজ পুতিনের হাতেপায়ে ধরা আরো বড় ভাঁড় জেলেনস্কি এদের ভাঁড়ামো গুলোকে একাই অনেকটা ঢেকে দিয়েছে।
সুতরাং গতকাল রাশিয়ার দাবী করা প্রথম মিশন সফলের যে দাবী করা হয়েছে, তা অনেককাংশেই সফল। উল্টো দিকে পশ্চিমা জোট সকাল বিকেল কিছু অশ্বডিম্ব প্রসব করে- শীৎকার করে যাচ্ছে রাশিয়ার রমণ সুখের চরম সুখানুভূতির পালে হাওয়া দিয়ে। এটাও রাশিয়ার নৈতিক জয়, কারন রাশিয়া ন্যাটোকে বাধ্য করেছে মুখ দিয়ে নিয়মিত বাতকর্ম করতে।
৩) ইউক্রেনের দক্ষিন পশ্চিম প্রান্ত নিয়ে রাশিয়ার সামান্যতম মাথা ব্যাথা নেই, অথচ এই দিকের পোল্যান্ড সীমানা দিয়ে আমেরিকা সহ ন্যাটোর বৃহন্নলারা অস্ত্রসহ পাঠাচ্ছেল, রাশিয়া চাইলেই বেলারুশ সীমান্ত দিয়ে সেনা পাঠিয়ে এটাকে আঁটকাতে পারত অতি সহজে। কিন্তু ন্যাটোকে খাটো করে বাঁদরনাচ নাচাবার জন্যই সম্ভবত- এই প্রান্ত অবাধে খুলে রেখেছে। ভাবখানা এমন, "পারলে লড়ে দেখা"। পুতিন তথা রাশিয়া, ৩০ দেশের জোট ন্যাটোকে চুড়ান্ত অপমান করে উলঙ্গ করে দেওয়ার খেলাতে এই যাত্রায় চুড়ান্ত সফল। ন্যাটো যেটুকুও চুড়ুং ফুরুং করছিল- রাশিয়া পরমানু অস্ত্রের গল্প শোনাতেই ‘জোঁকের মুখে নুনের’ মত ন্যাটো আবার পাড়ার বাইড়ে গিয়ে ঘেউ ঘেউ শুরু করেছে।
৪) যুদ্ধে যদি কেউ লাভবান হয়, দৃশ্যত সেটা অস্ত্র বেচে মুনাফা করা আমেরিকা- যাদের প্রেসিডেন্ট গতকাল ইউরোপে গিয়ে গ্যাস বিক্রির একটা অবাস্তব মুলো ঝুলিয়ে দিয়ে এসেছে। কিন্তু যার লাভটা খালি চোখে দেখা যাচ্ছেনা তার নাম হল চীন। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক লেনদেন ব্যবস্থা "SWIFT" থেকে রাশিয়াকে বাদ দিতেই, মার্কিন বিরোধী দেশগুলো সবাই চীনের CIPS এর দিকে ঝুঁকে গেছে। এই সুইফট মূলত মার্কিন ডলার ভিত্তিক একটা সিস্টেম, চীনা বিকল্প অবশ্যই চীনা মুদ্রা দ্বারা পরিচালিত।
সুইফট থেকে বাদ তো দিয়ে দিয়েছে মার্কিন বাবার চাপে, কিন্তু রাশিয়ান তেল গ্যাস বন্ধ করলে তো রাতারাতি ইউরোপে লালবাতি জ্বলবে। সুতরাং, এই সুযোগে রাশিয়া কি করেছে, ইউরোপীয় সমস্ত দেশ গুলোকে আত্মলিঙ্গম পশ্চাদপূরম দশাতে এনে- বাধ্য করছে নিজেদের মুদ্রা রুবেলের বিনিময়ে তেল, গ্যাস ও কয়লা কিনতে। এখানেও ডলারের ঘরে লালবাতি। এ যেন যেই গ্রাম্য প্রবাদের মার্কিন সংস্করণ- “ভাতার মরলে মরুক, সতীন যেন বিধবা হয়”।
সাধে কি আর বাইডেন তড়িঘরি ব্রাসেলসে উড়ে এসে ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমেছে। কিন্তু সে গুড়ে বালি, এক্ষেত্রেও হম্বিতম্বি টুকুই সার। রাশিয়ার উপরে দেওয়া নিষেধাজ্ঞায় রাশিয়ার যা ক্ষতি হয়েছে, ইউরোপের ক্ষতির পরিমাণ তার চেয়ে কয়েকগুন বেশি। তবে যেহেতু হানিমুন পিরিয়ড শেষ, তাই মুখ ফোটার পাশাপাশি- বুক ও পেছন একসাথে ও স্বশব্দে ফাটছে সকলের। বেলজিয়াম সাফ জানিয়ে- যুদ্ধ আমাদের দেশে বাঁধেনি, তাই রাশিয়ান তেল-গ্যাস তারা বন্ধ করবেনা। জার্মানি, অষ্ট্রিয়া, নেদারল্যান্ড, ফিনল্যান্ড, লাটাভিয়া, এস্তোনিয়া সহ ২৪টা ন্যাটো ভুক্ত দেশ কাগজে কলমে নিষেধাজ্ঞা দিলেও বস্তুত রাশিয়া থেকেই গ্যাস আনছে। তবে আগে লেনদেন হতো ডলারে, এখন হচ্ছে রুবেলে বা চাইনিস ইউয়ানে।
তাহলে আসলে ফাটলো কার! মারছে ইউক্রেনে, লাশ পরছে আমেরিকায়। তবে সবচেয়ে শকিং বিষয়টা পোল্যান্ডের, তাদের রাষ্ট্রপতি- বাইডেনের সাথে দেখা করার জন্য যে প্রাইভেট প্লেনে রওনা দিয়েছিল- কোনো এক অজানা কারনে সেটা জরুরী অবতরন করেছে ও রাষ্ট্রপতি অন্তর্ধানে চলে গেছেন। কেউ জানেনা এর কারন কি! পুরো ঘ্যেটে ঘ...
বাইডেন তার ছেলে হান্টার বাইডেনের ব্যবসা বাঁচাতে এসেছে, আর তার মাঝে যদি একটা অবাস্তব শর্তে ইউরোপে কিছু গ্যাস বিক্রি করা যায় চড়া দামে- সেটা তো চাঁদমারি। কিন্তু ইউরোপের চাহিদা যদি একটা কুমড়োর সাইজের হয় সেখানে আমেরিকার গ্যাসের সাপ্লাই বড়জোর একটা আঙুরের মাপের। অতএব, রাশিয়া বিনে গতি নেই। গোটা ইউরোপ যতই তম্বি আর মুখে ও খাতায় বাঘ মারুক, তাদের মিডিয়া যতই রাশিয়ার অর্থনীতিকে আতালান্তিকে তলিয়ে দিন- রোজ পয়সা দিয়ে তেল গ্যাসটা রাশিয়া থেকেই কিনছে ও কিনবে। G-20 থেকে রাশিয়াকে বাদ দেওয়ার প্রস্তাব করা মাত্রই চীন যেভাবে রে রে করে বিরোধিতা করেছে, বাকি একটা সেয়ানাও আর টুঁ শব্দটি করেনি। তাহলে দাঁড়ালো কি! ন্যাটো আসলে হাতির দাঁত মাত্র, যাদের আগামী অস্তিত্ব সঙ্কটে।
ডুবছে আসলে ডলার, বিশ্ববানিজ্যের লেনদেনগত স্থিতাবস্থা ঘ্যেটে গেছে, নতুন বৈশ্বিক অর্থব্যবস্থার আগমন আসন্ন আর সেটা কখনই ডলার নির্ভর না, হবে এটা লিখে দিয়ে গেলাম।
গল্পটা কিন্তু এখানেই শেষ নয়।
<<<<><<>>>>>>>>>><<>>>
আরব আমিরাত বা বলা ভালো দুবাই যে দেশের অর্থনৈতিক রাজধানী, যাদের OPEC এর বাইরে অস্তিত্ব পোস্তদানার সাইজের, তারাও গত দু-এক দিনের মধ্যে মস্কো সফর করে এমন তম্বি করছে - যেন সেও কিম জং এর মত একটা মিনি সুপার পাওয়ার। প্রশ্ন হচ্ছে, এরা তো এতোদিনের মার্কিন রক্ষীতা, আজ সেই "বাবু" আমেরিকার বিরুদ্ধে যাবার সাহসটা কে দিল বা কোথা থেকে পেলো?
ওদিকে গত সপ্তাহে মার্কিন বিদেশমন্ত্রী এ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন সৌদি সফর করেছিল, সেখান থেকে ঠনঠন গোপাল হয়ে ফিরেছে। ইরাণ, ভেনেজুয়েলা, কাতার সহ অন্যান্য তেল সমৃদ্ধ দেশ গুলোও যুক্তরাষ্ট্রকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দর্শন করিয়ে রাশিয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে একপ্রকার।
মধ্যপ্রাচ্যে বন্ধুত্বের সংজ্ঞা বদলে যাওয়ার সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। ইজরায়েল কখনই রাশিয়াকে চটাবেনা, সেক্ষেত্রে সিরিয়ান বিদ্রোহীদের যদি রাশিয়া অস্ত্র সরবরাহ শুরু করে, ইজরায়েলের দখলে থাকা গোলান মালভূমি সহ অনেকটা জমি খুইয়ে ফেলবে। নিজের ভালো ক্ষ্যাপাতেও বোঝে, সেখানে ইজরায়েল তো মহা সেয়ানা।
এদিকে বাকসর্বস্ব আমেরিকার ফাঁপা দশা আমাদের মত তৃতীয় বিশ্বের নাগরিকেরা দেখে নারকীয় সুখ অনুভব করলেও- দাদা হওয়ার নেশায় বুঁদ ইজরায়েল কিন্তু বসে থাকবেনা। সে আমেরিকাকে মেরেই উত্থান ঘটাবে, এই মার হাতে নয়, ভাতে হবে।
সৌদি, মিশর, বাহারাইন, জর্ডন, সুদান, আমিরাতের মত দেশ গুলোকে নিয়ে যদি কোনো নতুন একটা গোষ্ঠী বানিয়ে ফেলতে সক্ষম হয়- দাঁওটা ইজরায়েলই মারবে দিনের শেষে। প্রযুক্তিগতভাবে তেলসমৃদ্ধ ইসলামিক দেশগুলো বস্তুত "ক অক্ষর গোমাংস", উলটো দিকে ইজরায়েলই আজকের দিনে প্রযুক্তিগত ভাবে বিশ্বের টপ বস। সুতরাং উপরোক্ত দেশগুলো সহ- ইরাক, সিরিয়া, ওমান বা কাতারের মত দেশগুলোর সাথে দৌত্য করে রাতারাতি কোনো আঞ্চলিক গ্রুপ বানিয়ে না ফেলাটাই এখন আশ্চর্যের হবে। এমন একটা অসম্ভব ‘আঞ্চলিক মিত্র গ্রুপ’ তৈরি হয়ে গেলে মরোক্কো থেকে সুদান কেউ ই কিন্তু যোগ দিতে বাদ থাকবেনা। অচিরেই আমরা এমনই কিছু একটা অসম্ভব দেখতে চলেছি সম্ভবত।
এতে অনেক পাখি একসাথে মরবে। প্রথমত মার্কিন যুগের অফিসিয়াল পরিসমাপ্তি ঘটবে। রাশিয়াকে সুইফটে ব্যান করার মাধ্যমে নিজেরাই নিজেদের তৈরি ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে রুবেলে তেল কিনছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এখন তেল কেনা দেশ গুলো যদি ডলারে লেনদেন না করে, তাসের ঘরের মত রাতারাতি ধ্বসে যাবে ঋণে জর্জরিত মার্কিন অর্থনীতি। সোনা সম্পদ লুঠ করে কাগজকে বৈশ্বিক মুদ্রা বানানো ভুঁয়ো অর্থনীতির সলিলসমাধি ঘটতই, সেটা এখন দিনের আলো দেখবে।
চীনেরও সামরিক অগ্রগতি রুখে দেওয়া যাবে। কারন চীনের ৯৫% জ্বালানি তেল বাইরে থেকে আনতে হয়, যার ৭০% সরবরাহ করে মধ্যপ্রাচ্য। সুতরাং ইজরায়েল যদি এমন একটা জোট বানাতে সক্ষম হয়, সেক্ষেত্রে চীন যতবড় অর্থনীতিই হওক আর যত অস্ত্রেরই মালিক হোকনা কেন, তেলের জন্য ইজারেয়েলের মাথায় কখনই চড়তে পারবেনা চীন।
গোদা বাংলায় মোদ্দা কথা হচ্ছে, খনিজ তেলের নিয়ন্ত্রণ যার হাতে আগামীর বিশ্বের দাদা সে হবে।
আর মুর্খ ইসলামিক দেশগুলোর গাণ্ডু বাদশা সুলতানগুলোর ঘটে সেই বুদ্ধি নেই যে নিজেরা জোট বেঁধে এই মুহুর্তে পূর্ব পশ্চিমের সব ব্যাটাদের জুতো চাঁটতে বাধ্য করে।
উপসংহার
++++++
গত শতকের ধারাবাহিকতা অনুযায়ী, বিশ্বের প্রতিটি যুদ্ধ থেকে একটা দেশই লাভবান হয়েছে- তার নাম ইজরায়েল। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট থেকে ফিলিস্তিনের ভূখন্ডের সনদ পেয়েছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ থেকে সেই সনদপ্রাপ্ত দখলি ফিলিস্তিনি জমিতে বসতি স্থাপন করে হলোকাস্টের জুজু দেখিয়ে। তাই, এই ইউক্রেন যুদ্ধ শেষে কে হারলো- রাশিয়া না ন্যাটো সেই গল্প ভুলে যান।

কারন এখানেও জিতবে ইজরায়েল।
মিলিয়ে নেবেন, উত্তর ২০২৩ ই দিয়ে দেবে।

বুধবার, ৯ মার্চ, ২০২২

নতুন এক বিশ্বব্যবস্থার দ্বারপ্রান্তে পৃথিবী

 



পরিষ্কার বাংলায় যদি প্রশ্ন করা হয় এই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধটা কে বা কারা লাগিয়েছে, তাহলে এর একটাই উত্তর- আমেরিকা লাগিয়েছি।
Complete Conflict Analysis না করলে এই জটিল আন্তর্জাতিক রাজনীতির বিন্দুবিসর্গ বোঝা যাবেনা। তাই যারা টু’লাইনারে স্বচ্ছন্দ্য এ পোষ্ট প্লিজ তাদের জন্য নয়।
এক দশক আগে শুরু হওয়া সিরিয়া যুদ্ধের সাথে একই তারে বাঁধা এই ইউক্রেন সঙ্কট। কেন? তাহলে গোটা নিবন্ধটা পড়তে হবে।
অনেকেই ভাবে ইসলামী ‘মৌলবাদীদের’ শায়েস্তা করতে ছিল সিরিয়ান যুদ্ধ। কেউ বলে রাশিয়া ত্রাতা হিসাবে দাঁড়িয়েছে মুসলমানেদের পাশে, কেউ বলে মার্কিনীদের উচিৎ শিক্ষা হয়েছে, কেউ আবার হরেক ধরনের জটিল জিও-পলিটিক্স খুঁজে পায়। কিন্তু আসলে যে বিষয়টা- চরম স্বার্থান্বেষী পুঁজিবাদী পশ্চিমাদের গ্যাসের পাইপলাইন সংক্রান্ত দ্বন্ধ সেটা ভুলিয়ে দেয়- সিয়া-সুন্নীর মিথ্যা প্রচারনা দিয়ে। আমাদের মত তৃতীয় বিশ্বের সর্বজ্ঞ সার্টিফায়েড মুর্খদের কাছে পশ্চিমা মিডিয়াই একমাত্র সত্য - তাই গ্যাসের দুর্গন্ধ আমাদের ইন্দ্রিয়ের কাছে অধরাই রয়ে যায়।
আজ ইউক্রেন-রাশিয়া সঙ্কটে ‘ইসলামী মৌলবাদ’ নেই, সেখানে জঙ্গিবাদ নেই, তবে যুদ্ধ আছে, মৃত্যু আছে, বিভীষিকা আছে, মিথ্যা প্রচারনা আছে, স্বার্থ আছে, গ্যাস আছে, তেল আছে, ন্যাটো আছে, আমেরিকা আছে, রাশিয়াও আছে। তবে, এটাই সম্ভবত এদের একত্রে শেষ থাকা। এর পরেও যুদ্ধ থাকবে, মিথ্যা থাকবে, গ্যাস থাকবে, স্বার্থ, দম্ভ, রাজনীতি, অর্থনীতি সব থাকবে- শুধু আমেরিকা আর রাশিয়া নামদুটো একসাথে সাথবেনা, পক্ষে বা বিপক্ষে। একটা পক্ষের রাজনৈতিক ভাবে সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন হওয়ার মাঝখান দিয়েই নতুন বিশ্বব্যবস্থার সূচনা হবে।
বাইডেন পূর্ববর্তী বিগত ৪ বছরে ট্রাম্পের জামানাতে একদিকে জার্মানির তৎকালীন চ্যান্সেলর মার্কেল যেমন মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটোর বর্তমান যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল, ঠিক তেমনই ফরাসি প্রেসিডেন্ট ওঁলাদ বা হালের ম্যাঁকোও প্রশ্ন তুলেছিল- কেন আমরা মার্কিন সেনাদের জামাই আদর করে নিজেদের দেশে পুষবো ন্যাটোর নামে। ইতালির প্রেসিডেন্ট নাপোতালিনো একধাপ এগিয়ে- ইউরোপের জন্য এক্সক্লুসিভ একটা শক্তিশালী সেনা জোট বানাবার প্রস্তাব দেয়, যেখানে আমেরিকা থাকবেনা। ব্রিটেন এবং ফ্রান্স ন্যাটোর রেজুলেশনকে উপেক্ষা করে ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিজেদের প্রতিপত্তি বিস্তারে বিশেষভাবে উদ্যোগী হয়েছে। করোনার সঙ্কটে থাকাকালীন দুটো বছর ন্যাটোর ভবিষ্যত ভূমিকা নিয়েই গবেষণা চলছিল ইউরোপের রাষ্ট্র নেতাদের মাঝে, প্রমাদ গোনে আমেরিকা।
ট্রাম্প আদতে ছিল একজন ব্যবসায়ী, বাইডেনের মত ‘I love war’ বলা টিপিক্যাল মার্কিনী নয়। স্বভাবতই ইউরোপ সহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে সেনা প্রত্যাহার শুরু করে, তাদের নিজ দেশের আভ্যন্তরীণ সমস্যা মেটাতে উদ্যোগী হয়েছিল। ট্রাম্প তার আমলে একটাও নতুন যুদ্ধের সূচনা করেনি।
মার্কিনীদের নেতৃত্ব নিয়ে যখন প্রশ্ন উঠেছে গোটা বিশ্বজুড়ে, তারই মাঝে বিশ্বের অন্যতম অর্থনৈতিক, সামরিক, প্রযুক্তিগত ও প্রবল সাংস্কৃতিক ভাববোধক শক্তিকে পুজি করে বিশ্ব পরাশক্তি হিসাবে চীন আবির্ভূত হয়েছে। আসলে সোভিয়েতের পতনের সময় রাশিয়া ছিল নিতান্তই শিশু রাষ্ট্র, চীনও তখন আভ্যন্তরীণ সংস্কারে ব্যস্ত ছিল। এরই মাঝে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একমুখী আধিপত্যের শীর্ষে পৌছে- ইরাক, সিরিয়া, লিবিয়া, সিরিয়া সহ একাধিক যুদ্ধ বাঁধিয়ে তাদের প্রাকৃতিক সম্পদ লুঠ করে দুটো দশক ধরে এবং ন্যাটো ভুক্তদেশগুলোর মাঝেও বখরার ভাগ বিলিয়েছে। বর্তমানে পশ্চিমা জোটকে চ্যালেঞ্জ জানানোর জন্য প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে চীন, রাশিয়া, তুরস্ক, ইরান, ভেনেজুয়েলা সহ একাধিক দেশ মিলিতভাবে বা কখনও এককভাবে কড়া চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। স্বভাবতই মার্কিনীদের সেই আশি-নব্বই এর দশকের ক্ষমতায় ভাটা আসতেই শুরু হয় বাইডেনের ইউরোপ সফর, অতীতকে পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টা।
মার্কিন ফ্রাঙ্কেনস্টাইন ওসামা-বিন-লাদেনের টুইন টাওয়ার ধ্বংসের মাধ্যমে আমেরিকার যে পতন শুরু হয়েছিল, তা ২০২২শে এসে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌছেছে। আমেরিকার অবস্থা বুড়ো সিংহের মত, এককালে শিকারের জন্য নিজেই যথেষ্ট ছিল, এখন আর সেই বল নেই। অথচ দাপট না থাকলে বিশ্ব মুদ্রা ব্যবস্থার অচিরেই পতন ঘটবে, যা মার্কিনীদের দাদাগিরির প্রাণভোমরা। ডলারের পতন ঘটলে কোনো পরমানু বোমাই আর দাদাগিরি টিকিয়ে রাখতে পারবেনা, কারন ঐ বোমা আরো ৮টি দেশের ভাড়ারে মজুদ আছে। অতএব নিজেদের প্রাসঙ্গিকতা ফিরিয়ে আনতে একটা যুদ্ধ বাঁধাও।
ভৌগলিকভাবে যেহেতু আমেরিকা সম্পূর্ণ অন্য ভূখণ্ডে যেখানে কানাডা ছাড়া ইম্মিডিয়েট কোনো পড়শি নেই যাদের সাথে বিস্তীর্ণ সীমান্ত রয়েছে। তাই এশিয়া, ইউরোপ বা আফ্রিকাতে যুদ্ধ বাঁধালে সরাসরি তার কোনো প্রভাব পরেনা মার্কিন ভূখণ্ডে। তাই অন্যের ঘরে যুদ্ধ বাঁধাতে আমেরিকার শখের অন্ত নেই। কিন্তু সেই সুখের ঘরেও জুজু ঢুকেছে দূরপাল্লার মিশাইল গুলোর মাধ্যমে, মিথ্যা প্রচারনার বুদ্বুদ দিয়ে যে ভয় ঢাকা সম্ভব নয়।
যুগে যুগে ইতিহাস ভাঁড়েদের ভাঁড়ামোর সাক্ষী থেকেছে, ইউক্রেনও থাকল বা বলা ভালো রক্ত দিয়ে মুল্য চোকালো। এই ভাঁড় জেলেনস্কিকে বাবা-বাছা করে লেজে হাত বোলাতেই, রাজনীতি ও কূটনৈতিক জ্ঞানে মূর্খ ভাঁড় নিজেকে মহান ও গুরুত্বপূর্ণ ভেবে বসে ঠিক ততটা বাড়াবাড়ি শুরু করে দিল, যতটা করলে রাশিয়া আক্রমণ করতে বাধ্য হয়। জেলেনস্কি ভেবেছিল, তার জন্য গোটা ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন ঝাঁপিয়ে পরবে।
মূর্খ জেলেনস্কি ইতিহাস পড়েনি, মার্কিনীদের গাছে তুলে মই কেড়ে নেওয়ার ন্যাক্কারজনক ঐতিহ্য হয় জানতনা বা আমল দেয়নি কিম্বা নিজেকে সর্বোচ্চ বুদ্ধিমান বিচক্ষণ ভেবে ধরে নিয়েছিল- যে ইতিহাস বদলে দেব। আসলে রুপোলী পর্দা আর বাস্তবের মাঝে মোটা দুরত্বটা অনুধাবন করতে পারেনি। প্রতটি মূর্খের ক্ষেত্রে এটাই ঘটে।
ইউক্রেনের মাঝখান দিয়ে পাইপলাইন দ্বারা ইউরোপে প্রাকৃতিক গ্যাস পাঠাবার জন্য রাশিয়াকে ভীষণ চড়া মূল্যের ট্রানজিট ফি দিতে হয় বা হতো। কিন্তু ইউক্রেন প্রতিবছর প্রায় কয়েক লক্ষ ঘন মিটার গ্যাস চুরি করা শুরু করে, যা ২০০৬ সালের ১লা জানুয়ারি রাশিয়া ধরে ফেলে। ইউক্রেন ভেবেছিল রাশিয়া ধরতে পারবেনা, কিন্তু ররা পরতেই গা-জোয়ারী করা শুরু করে, পশ্চিমা মিত্ররা চোরের সাথ দেয়। কিন্তু রাশিয়া বেঁকে বসে, হুমকি দেয় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেবে এবং ইউক্রেনের উপরে শোধ নেওয়ার পরিকল্পনা শুরু করে।
ইউরোপ প্রমাদ গুনলো, রাশিয়া বেঁকে বসলে গোটা ইউরোপ শীতে জমে যাবে, আধুনিক পশ্চিমা সভ্যতার তুষারসমাধি ঘটবে। তারা বিকল্প জ্বালানী উৎসের সন্ধান করতে লাগল। মার্কিন উপনিবেশ কাতার প্রস্তাব দিল, হরমুজ প্রনালীর নিচে থাকা গ্যাস- তারা ইরাক, সিরিয়ার মধ্য দিয়ে ইউরোপে গ্যাস পাঠাবে। এদিকে ইরান দাবী করলো, ঐ গ্যাসের এক তৃতীয়াংশের মালিক আমি, সুতরাং আমি এই পাইপলাইন বিছাবো। ইরান তুরস্ককে বললো আমি তোমার দেশের মাধ্যমে এই লাইন নিয়ে যাব, তুরস্ক ইরানের দোসর হয়ে গেল। ইরানের গ্যাসের ভান্ডার অল্প, তাতে রাশিয়ার একচেটিয়া ব্যবসা মার খাবেনা তেমন, তাই রাশিয়া ইরানের পক্ষ নিল। স্বভাবতই দুটো যুযুধান পক্ষ লেগে গেলো ছায়া যুদ্ধে। ইরাক নিয়ে সমস্যা ছিলনা, কারন ২০০১ থেকে বোমা মেরে মেরে তাকে আগেই ধ্বংস করে দেওয়া গেছে, বাদ সাধলো সিরিয়া।
ব্যাস, সিরিয়ার বাসারের কাছে একদিকে কাতারের হয়ে মার্কিন দৌত্য শুরু হয়ে গেল, অন্যদিকে ইরানের হয়ে রাশিয়ান দৌত্য। সুন্নি অধ্যুষিত কাতার চায় সিয়া বাসারের উচ্ছেদ, কারন সে রাশিয়ার পক্ষে সিয়া ইরানকে পাইপলাইন বসাতে অনুমতি দিয়েছে। আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চায়- কাতারের পাইপলাইন এর মাধ্যমে রাশিয়াকে ইউরোপের গ্যাসের বাজার থেকে অপ্রাসঙ্গিক করে দিতে। বিষয়টা ছিল গ্যাসের সাপ্লাই লাইন, পশ্চিমা মিডিয়া বানিয়ে দিল সিয়া-সুন্নী দ্বন্দ্ব, সুক্ষ সুচারুভাবে।
শুরু হয়ে গেল সিরিয়ান যুদ্ধ। কাতারের প্রতক্ষ্য সহযোগিতায় মার্কিন সমরাস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ISIS নামের মিলিশিয়া জঙ্গিগোষ্ঠী বাসারকে উচ্ছেদে ধ্বংস যজ্ঞ শুরু করে দিল। আর তাদের ঠেকাতে রাশিয়া ও ইরাণ পালটা অস্ত্রের সাপ্লাই দিলো বাসারকে। কে জিতলো বা কে হেরেছে সেটা বড় কথা নয়, কিন্তু সিরিয়ান মানুষেরা শেষ হয়ে গেলো। সেই পাইপলাইন আজও কেউ সম্পূর্ণ করতে পারেনি। ইউরোপেও গ্যাসের বাজার থেকে রাশিয়াকে নামাতে পারেনি মার্কিনীরা। আজও গোটা ইউরোপ রাশিয়ার মুখাপেক্ষী গ্যাস সাপ্লাই এর জন্য, মাঝখান থেকে সিরিয়া কবরের দেশে পরিনত হলো।
সুতরাং, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা রাশিয়া- কেউ মসিহা নয়। গুয়ের এপিঠ-ওপিঠ। তবে বন্ধু হিসাবে মন্দের ভালো রাশিয়া, অন্তত প্রয়োজনের সময় একা ছেড়ে পালায়না।
সুতরাং, সিরিয়া নিয়ে ন্যাটো বা রাশিয়ার এতো যুদ্ধ প্রীতির বিষয়টা নিশ্চই এবারে বোধগম্য হয়েছে পাঠকের। নিজেদের অন্ধ স্বার্থে এরা কেউ সাধারন সিরিয়ান নাগরিকদের কথা ভাবেনি। না পোপ কোনো বিবৃতি দিয়েছে, না পশ্চিমা মিডিয়াতে সিরিয়ান শিশু মহিলাদের দুর্দশার কথা উঠে এসেছিল। বরং তাদের জঙ্গি দাগিয়ে দিয়ে মুহুর্মুহু বোমাবর্ষণ করে ছাড়খার করে গণকরবে পরিনত করে দিয়েছে দেশটাকে।
আজ ইউক্রেন সেটারই মূল্য দিচ্ছে, পাপের সাজা। কাল অন্য ইউরোপীয় দেশগুলোকেও মুল্য চোকাতে হবে, কাওকে দুদিন আগে কাওকে দুদিন পরে। নিয়তির ভবিতব্য এভাবেই সংসারে সাম্যতা বজায় রাখে।
বস্তুত আজকের দিনে দাঁড়িয়ে, আমেরিকা বা ন্যাটো কিম্বা ইউরোপীয় ইউনিয়ন কারোরই ইউক্রেনকে বাঁচাবো বা যুদ্ধ বন্ধ হোক- এ নিয়ে নুন্যতম মাথাব্যাথা নেই। কমপ্লিট সিরিয়া প্ল্যান। বরং এই যুদ্ধ থেকে কে কীভাবে লাভবান হতে পারে সেই নিয়ে নিজেদের মাঝে তৎপরতা তুঙ্গে। সকলে হিসাব কষতে ব্যস্ত- স্বল্পমেয়াদী ও দীর্ঘমেয়াদী লাভের।
জেলেনস্কি দৈনিক নিয়ম করে ন্যাটোকে হাতেপায়ে ধরছে যাতে ‘নো ফ্লাই জোন’ ঘোষনা দেয় বা অস্ত্র ও সেনা পাঠায় ন্যাটো সহ পশ্চিমা মিত্ররা। আসলে এর মাধ্যমে দুটো সম্ভাব্যতা খুলে রাখছে কূটনৈতিকভাবে-
১) নো ফ্লাই জোন ঘোষনা মানে সেখানে রাশিয়ান বিমান উড়লেই তাকে গুলি করবে ন্যাটো, অর্থাৎ রাশিয়া ও ন্যাটো সম্মুখ সংঘাত। না ন্যাটো এটা কখনই করবেনা। আমেরিকারও সেই মুরোদ নেই- রাশিয়ার সাথে সম্মুখ সমরে যাবে এই মুহুর্তে।
২) এদিকে ন্যাটো ইউক্রেনকে সাহায্য না করলে রাশিয়ার পায়ে ধরার একটা সম্মানজনক অজুহাত দিতে পারবে জেলেনস্কি।
দ্বিতীয়টি ঘটার সম্ভাবনা ৯৯.৯৯%, এক্ষেত্রে জেলেনস্কিকে ন্যাটোই খুন করে দিয়ে রাশিয়ার নামে দোষ চাপাবে। মার্কিন বিদেশ সচিবের ইঙ্গিতে এটা স্পষ্ট, আসলে ভাঁড় জেলেনস্কিকে চাপে রাখার এটা একটা কৌশলও বটে।
এদিকে রাশিয়ার বিরুদ্ধাচারণ এর প্রেক্ষিতে পোল্যান্ড আগেই বেঁকে বসেছে, রাশিয়ার তেল-কয়লা রপ্তানিতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় জার্মানি, নেদারল্যাণ্ড, পোল্যান্ড সহ ১৪টি ন্যাটো তথ্যা ইউরোপীয় দেশ সম্মতি দেয়নি। কারন রাশিয়া ঘোষনা দিয়েছে, তেলে নিষেধাজ্ঞা দিলে তারা গ্যাস বন্ধ করে দেবে। গোটা ইউরোপে অন্ধকারময় এক চরম অরাজকতা সৃষ্টি হবে। শিল্প উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাবে, কারন ইউরোপের ৩০% কয়লা ও অর্ধেক গ্যাস সাপ্লাই এর একমাত্র উৎস সেই রাশিয়া।।
নেতৃত্বাধীন ইউরোপে এই চুড়ান্ত দৈন্য দশা সৃষ্টি করাই আমেরিকার মূল লক্ষ্য ছিল, এবং তাতে চুড়ান্ত সফল। এবারে ভেনেজুয়েলা ও ইরানের তেল মার্কিন কোম্পানি গুলো চড়া দাবে ইউরোপে বিক্রি করবে এমনটা মার্কিনিদের ধান্দা। কিন্তু রাশিয়াকে টাইট দিতে গিয়ে মার্কিনিরা উলঙ্গ হয়ে গিয়েছে, ইউরো দেখতে ও বুঝতে পারছে- তারা নিজেরাই মার্কিনী লালসার শিকার হয়ে গেছে। মার্কিনী জায়োনিষ্ট মিডিয়ার মিথ্যা সম্প্রচার দিয়েও রাশিয়ার বাজারে বা সাধারণ জনজীবনে তেমন সামান্যতম অসুবিধা সৃষ্টি করতে পারেনি গত ১৩ দিনের যাবতীয় অবরোধ সত্বেও। উল্টে ইউরোপের জনজীবনে চুড়ান্ত ভয় ও বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পরেছে, বিশ্ব বাজারে তেল-গ্যাস ক্রমেই মহার্ঘ্য পয়ে পরেছে- যার শিকার বিশ্বের প্রতিটি দেশ।
আসলে, সাবেক সোভিয়েত আমল থেকেই রাশিয়া যে অর্থনীতির প্রাক্টিস করে, সেটা অনেক বেশি রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত। ইরান, ভেনেজুয়েলা, কিউবা বা চীনের মত মার্কিন বিরোধী প্রায় সকল দেশগুলোতে এমন অর্থনীতির চাষ বহু দিন থেকেই। আমাদের ভারতে ঠিক যেভাবে পেট্রোলিয়াম দ্রব্য বিক্রি হয় ওই সব দেশের সমস্ত অর্থনীতিটাই সেভাবে চলে, একটা কঠোর কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রাধীন সংস্থা দ্বারা। তাই রাতারাতি কোনো নিষেধাজ্ঞা চালু করে এই সব দেশের সাধারন জনজীবনে সেভাবে কোনো প্রভাব ফেলা যায়না, ফলত রাশিয়াতেও পরেনি। বরং রাশিয়া পশ্চিমাদের মূল প্রোপ্যাগান্ডা অস্ত্র- মিডিয়াকে বন্ধ করে দিয়েছে। CNN, BBC, Facebook, Twiter, Google সহ ডয়েচে ভেলে সহ বহু সংবাদ মাধ্যমকে জাষ্ট তাড়িয়ে দিয়েছে দেশ থেকে। লোক খ্যাপানো বন্ধ রাশিয়াতে, ঠিক যেভাবে গত ১৩ দিন যুদ্ধের আবহে করোনা গায়েব মিডিয়া থেকে, আমাদের স্বাভাবিক জনজীবনেও করোনা গায়েব হয়ে গেছে এই ভরা ফাগুনে।
উলটে মার্কিনীদের ফাঁদে পা দিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা ন্যাটো এখন চুড়ান্ত সঙ্কটের সম্মুখীন। একে ইউরোপের সর্বজনগ্রাহ্য কোনো নেতা নেই, তার উপরে পেট্রোলিয়াম সঙ্কট- রাশিয়াকে প্যাঁচে ফেলতে গিয়ে ইউরোপকে অন্ধকারে ঢোকাবার পাকা প্ল্যানে ঘিরে ফেলেছে মার্কিনীরা।
রাশিয়া অতীত যুদ্ধ কৌশলই হলো- ফুঁ দিয়ে ঠান্ডা করে চিবিয়ে খাওয়া। হিটলারও এই নীতির কাছে তলিয়ে গিয়েছিল, তবু সে অন্তত সম্মুখ সমরে গিয়েছিল। বর্তমান ক্ষয়িষ্ণু মার্কিনী শক্তি বা নেতৃত্ব, ও দিশাহীন ছন্নছাড়া ইউরোপীয় দেশগুলো তো ‘মুখে মারিতং জগত’ এর মাঝেই সীমাবদ্ধ।
চর্মচক্ষুতে আমরা দেখছি লড়াইটা রাশিয়া ও ইউক্রেনের মাঝে হচ্ছে- আসলে লড়াইটা আমেরিকার প্রতিপত্তির জমি রক্ষার লড়াই। আসলে লড়াইটা ন্যাটোর প্রাসঙ্গিকতা টিকিয়ে রাখার লড়াই। আসলে লড়াইটা- বিশ্বের দাদাগিরিতে, বিশ্ব অর্থনীতিতে মার্কিন প্রতিপত্তি টিকিয়ে রাখা অন্তিম লড়াই।
প্রদীপ নেভার আগে দপ করে শেষ বারের মত জ্বলে উঠে। ইউক্রেন তো ‘বোরে’ মাত্র, মরার জন্যই যাদের জন্ম। আমেরিকা ন্যাটোকে জিইয়ে রেখে ইউরোপের মাথায় বেল ভেঙে দীর্ঘদিন খাওয়ার সিস্টেম চালিয়ে যেতে পারবে কিনা এ যুদ্ধ তার জবাব দেবে।
সবচেয়ে হাস্যকর হলো, আজ মার্কিন বিদেশ সচিব এ্যন্টনি ব্লিঙ্কেন বলেছে, “ফলাফল যা ই হোক, তাদের কাছে ইউক্রেনই বিজয়ী”। ঘোড়াতেও হাসবে এসব কথায়। আজকের ফেসবুক লাইভের যুগে এই সব চড়া মেলোড্রামা যাত্রাতেও চলেনা সেটা ভুলে গেছে মার্কিনীরা। ২০১১ সালে ইরাক যুদ্ধের ৩ মাসের মধ্যেই বিজয়ী হওয়ার ঘোষণা দিয়েও, ১০ বছর পর লেজে গোবরে হয়ে পালাতে পথ পায়নি যুক্তরাষ্ট্র।
আমরা এশিয়ানরা, বরাবর পশ্চিমাদের চোখে বাজার হসাবে ছিলাম। আমাদের উপরে এরা সারাবছর যুদ্ধ ভীতি বজায় রেখে অস্ত্র ব্যবসাইয় বিপুল মুনাফা কামিয়েছে। এখন এশিয়া যুদ্ধে যুদ্ধে মোটামুটিভাবে সম্পৃক্ততা অর্জন করেছে।
তবে যে যা খুশি করুক, ইজরায়েল কিন্তু ইউক্রেনীয় ইহুদিদের পুনর্বাসন দেওয়ার জন্য বিমান পাঠিয়ে, দখলকৃত ফিলিস্তিন ভূমিতে ঘর বানিয়ে দিচ্ছে। নিজেদের সংখ্যা বাড়ানোর সামান্যতম সুযোগ ছাড়তে তারা রাজি নয় ইহুদিরা। আর আপনি ভাবছেন- RSS বা জামাতিরাই একমাত্র ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করে, এরাই সাম্প্রদায়িক দল। ইজরায়েল বা ইহুদিদের চেয়ে বড় সাম্প্রদায়িক আর কেউ নেই তার প্রমান আলাদা করে দেওয়ার দরকার নেই এই প্রেক্ষাপটে।
গোটা মধ্যপ্রাচ্যে দুটো দশক জুড়ে পশ্চিমারা হত্যাযজ্ঞ চালালেও পোপের মুখের ছিপি কখনও খোলেনি ভুলক্রমে। অথচ একটা খ্রীষ্টান দেশ আক্রান্ত হতেই রোজ ‘মুখ-পায়ু’ সহ শরীরের সমস্ত ছিদ্রপথ দিয়ে পোপের গোঙানী আওয়াজ শোনা যাচ্ছে। এমনকি পশ্চিমা সাংবাদিকদের অভিবাসন নীতির প্রশ্নে লাইভ টিভিতে- সোনালী চুল, নীল চোখের সপক্ষে যেভাবে বর্ণবাদী মন্তব্য শোনা গেছে ও যাচ্ছে, তাতে তাদের তথাকথিত অসাম্প্রদায়িক ও আধুনিকতার মুখোশ খসে পরছে।
একটা যুদ্ধ অনেকের মুখোশ খুলে দিয়েছে। একটা যুদ্ধ ভারত-পাকিস্তান-চীনের মত নিজেদের মধ্যে খেয়োখেয়ি করা তিন পরমানু শক্তিধর রাষ্ট্রকে একযোগে মার্কিনীদের বিপক্ষে থাকার শক্তি ও বুদ্ধিমত্তা দেখাতে পেরেছে। ওদিকে তুরস্ক মার্কিনীদের বিরুদ্ধে চলে গেছে ন্যাটোতে থেকেও।
কিন্তু সারাবছর অবরোধ দিয়ে রাখা মাদুরোর ভেনেজুয়েলা কোন মন্ত্রে মার্কিনী ফাঁদে পা দিলো, সেই বিষয়টা বেশ ধোঁয়াসার। অবশ্যই এর জন্য চড়া মুল্য দিতেই হবে যদি তারা মার্কিনীদের সাথে সাথ দেয়। সাপের সাথে ঘর করা গেলেও মার্কিনীদের সাথে যায়না। কারন মার্কিনীরা যাদের বন্ধু, তার শত্রুর দরকার নেই- জেলেনস্কি হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে এটা।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যে তেল অর্থনীতি দিয়ে ডলারকে বিশ্বমুদ্রায় নিয়ে গিয়ে বৈশ্বিক সম্পদ লুন্ঠন করেছে দশকের পর দশক। সেই তেল সঙ্কটই আমেরিকার নেতৃত্বকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে। আসলে আমেরিকা 'অবরোধ-অবরোধ' খেলতে গিয়ে নিজেরাই একটা চক্রব্যুহে আঁটকা পরে গেছে। যেখানে বাঁচতে গেলে দম্ভ ও ভয় টিকিয়ে রাখতে হবে। যেখানে কোনো বন্ধু নেই, স্বার্থই একমাত্র সত্য।
এই যুদ্ধ কতদিন চলবে জানা নেই, তবে নতুন এক বিশ্বব্যবস্থার দিয়ে নিয়ে যাচ্ছে এই যুদ্ধপরিস্থিতি। একটা নতুন নেতৃত্বের হাতে অর্পিত হবে বিশ্বের অর্থনৈতিক ও সামরিক রাশ। সে আমেরিকার নেতৃত্বে পশ্চিমা জোট হোক কিম্বা রাশিয়া কিম্বা তৃতীয় কেউ। চলমান বিশ্বব্যবস্থার এখানেই মোটামুটি ইতি ঘটতে চলেছে যা গত সাত-আট দশক থেকে চলে আসছে।
কালচক্র এখন অস্তাচলের পথে, সে কোনো একটাকে সাথে নিয়েই ডুববে। কে সেই অমিত ক্ষমতাধর শক্তি? রাশিয়া? ন্যাটো? নাকি যুদ্ধবাজ আমেরিকা?

তৃণমূলের প্ররোচনার ফাঁদে পা দেবেন না

⛔ সতর্কতামূলক পোষ্ট ⛔ আজ SIR এর ভোটারলিষ্ট বার হবার পর- জনরোষের দোহায় দিয়ে দিকে দিকে ‘সংগঠিত অশান্তি’ লাগাবার ‘ফুল প্ল্যান’ নিয়ে এগোচ্ছে শাা...