শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬

খুব সোজা একটা একটা প্রশ্নঃ মোদীর পরিবর্তে কাকে আনবে RSS?


 

খুব সোজা একটা একটা প্রশ্নঃ মোদীর পরিবর্তে কাকে আনবে RSS?


মোদীকে বানপ্রস্থে যেতে হবেই যদিনা মিরাকেল কিছু ঘটে, কারন আদানি। আমাদের চুরি যাওয়া টাকা দিয়ে আদানি ইজরায়েলের হাইফা বন্দর লিজে নিয়েছে বলে? আজ্ঞে না, ইরানের মাটিতে যে সব অস্ত্র গোলাবারুদ ইজরায়েলের তরফে ফেলা হচ্ছে এই যুদ্ধে, তার সিংহভাগ তৈরি করেছে Adani Defence & Aerospace। কোথায় তৈরি করেছে? মোসাদ ও CIA এর ভয়ানক কড়া পাহাড়ায় আমাদের ভারতের মাটিতে, উত্তরপ্রদেশের কানপুর আর প্লাসনা কারখানাতে গোলাবারুদ তৈরি হচ্ছে, তেলেঙ্গানার হায়দরাবাদ ফ্যাক্টারিতে– ড্রোন উৎপাদন হচ্ছে, কর্ণাটকের বেঙ্গালুরু ফেসেলিটিতে- মিসাইলের যন্ত্রাংশ ও হাইটেক ড্রোনের যন্ত্রাংশ বানানো হচ্ছে। ইজরায়েলের অস্ত্রের সাপ্লাই লাইন মানে Adani Defence, আদানি মানে তার চাকর স্বঘোষিত বিশ্বগুরু, আর আমরা হলাম ভারত রাষ্ট্রের হতভাগ্য নাগরিক। 

আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারত কখনই চাপরাশি বা চাকরবাকর ছিল না আজকের মতো, মঞ্চের প্রথম সারির নেতা না হলেও রাজারাজড়ার সাথেই উঠাবসা ছিল। পারিবারিক ঐতিহ্য সম্মান ধরে রাখতে হয়, বিশ্বগুরুর মতো তৃতীয় শ্রেণির নিকৃষ্ট দালাল, আজ দেশের সম্মান নিয়ে লোফালুফি খেলতে খেলতে আজ ভারতকে অচ্ছুতের দলে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।যুদ্ধের ১৩ তম দিনে টুইটারে ফার্সি ভাষায় ইরানের প্রধানমন্ত্রীর সাথে কথা হওয়ার যে দাবী, সেটাকে ইরানের প্রধানমন্ত্রী স্বীকারই করেনি। ইরানের প্রধানমন্ত্রী কোনো ‘গাটর গ্যাস বিজ্ঞানী’ নন, সামান্য একজন কার্ডিয়্যাক সার্জেন, তিনি হৃদয়ঘটিত বিষয়টা বেশিই বোঝেন। তারপরেও বিশ্বগুরুর জন্য ১টা অক্ষর খরচা করেননি, অথচ সেখানে রাশিয়া ও পাকিস্তান আছে। অন্য টুইটে অন্য দেশের উল্লেখও রয়েছে। এটা হচ্ছে গোদী মিডিয়ার বানানো বিশ্বগুরুর অউকাত।

‘হিন্দু খতরে মে’ এর মিথ্যা স্লোগানকে আজ সত্যি হতে দেখছি। আদানি প্রভু আর তার পোষ্য বিশ্বগুরু আক্রান্ত হলে আমরা দেশবাসি কীভাবে সুস্থ থাকব! আমরাও কমবেশি সকলেই ক্ষতিগ্রস্ত হবো, যেমন তেল গ্যাস সঙ্কটে ক্ষতির মধ্যে আছে দেশের প্রতিটা মানুষ, প্রতিটা হিন্দু। সত্যিই তো আজ হিন্দু খতরেমে হ্যাঁয়, সৌজনে বিজেপি। সৌজন্য বিশ্বগুরুর লালুভুলু দলের বিদেশনীতি, সৌজন্যে এপস্টিন গ্যাং এর সাথে অতিরিক্ত সখ্যতা, সৌজন্যে গুজরাত কার্টেল। ইরানের নতুন লিডার লিখিত বিবৃতি দিয়েছে যে তারা এবার প্রতিশোধ নেবে ইজরায়েল, আমেরিকা ও তাদের মিত্রদের উপরে; বোঝা গেলো আজ অবধি যা তান্ডব করেছে সেগুলো ‘প্রতিরোধ’ এর নামে নেট প্র্যাকটিস। ইজরায়েলের অস্ত্র কারখানায়, মানে আদানির অস্ত্র কারখানায় মানে আমাদের দেশের শহরগুলোতে! আসলে যেভাবেই আপনি উল্লেখ করুন, জাইগা তো আসলে একটাই- Adani Defence। এটা লেখার জন্য আমাকে কি দেশদ্রোহী ঘোষণা করতে পারে অমিত শাহ এর প্রশাসন?

মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী যে অক্ষটা ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে ইরান যুদ্ধের অজুহাতে, তারা যে কোনো মুল্যে মোদীর রাজনৈতিক নিধন চায়। বিগত ৬ বছর ধরে BRICS এর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা তো আছেই, মূল সমস্যা আরো গভীরে। ইরানের মুখোশ পরে এই যুদ্ধে চিন ও রাশিয়া যে পিছন থেকে কলকাঠি নাড়ছে তা কুনাল ঘোষের মত ইডিয়ট থার্ডক্লাস মুর্খটাও জানে। চিন আমাদের ঘোষিত শত্রু হলেও রাশিয়া ও ইরান পরম মিত্র হিসাবে গত ৫ দশকের সুসম্পর্ক, আমাদের বিশ্বপ্রভু দায়িত্ব নিয়ে এপস্টিন গ্যাং এর সাথে আতালান্তিকের জলে ডুবিয়ে এসেছে। 

রাশিয়ার সঙ্গে আমাদের সুসম্পর্ক স্বাধীনতার সেই জন্ম লগ্ন থেকে। আলাদা করে ১৯৭১ সালে Indo-Soviet Treaty of Peace, Friendship and Cooperation সই পর্যন্ত হয়েছিল। আজও  ভারতের প্রতিরক্ষা অস্ত্রের বড় অংশ রাশিয়ান, যেকোনো চিন পাকিস্তান যুদ্ধই তার প্রমাণ। আলাদা করে পারমাণবিক শক্তি, মহাকাশ গবেষণা সহযোগিতা, জ্বালানি, শিল্প ও কৃষি বিপ্লবের প্রত্যেকটি ধাপের উন্নতি, রাশিয়া তথা সোভিয়েত ইউনিয়নের হাত ধরেই। আজকে আমাদের অস্ত্র ভাণ্ডারের কোহিনুর ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র, যেটার বলে আমেরিকাও আমাদের সম্ভ্রমের চোখে দেখে, সেটাও রাশিয়ার সহযোগিতায় বানানো। আমাদের ব্রহ্মপুত্র আর রাশিয়ার মস্কোভা নদীর আদ্যংশ জুড়ে তাই এমন নাম।

ইরানের সাথে আমাদের প্রায় ২৫০০ বছরেরও বেশি পৌরাণিক সাংস্কৃতিক সম্পর্ক, বেদ-জেন্দা আবেস্তা কালের চেয়েও পুরাতন। প্রাচীন পারস্য সাম্রাজ্যের সময় থেকেই ভারত ইরানের মধ্যে বাণিজ্য ও সাংস্কৃতিক লেনদেনে নাড়ির যোগাযোগ। স্বাধীনতার পর দেশভাগের কারণে ইরানের সাথে সরাসরি সীমান্ত হারালেও, বন্ধুত্বের স্মারক হিসেবে তাদের দেশের গুরুত্বপূর্ণ চাবাহার বন্দরে বিনিয়োগ এর সুযোগ করে দেয়। এর মাধ্যমে পাকিস্তানের মাটিতে তৈরি চিনের গদর বন্দরকে টক্কর দেওয়াতে, ভারতের দিকে সম্পূর্ণ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলো ইরান। এতে করে আফগানিস্তান সহ পুরো মধ্য এশিয়ার বাণিজ্যের দরজার খুলে গিয়েছিল ভারতের ব্যবসায়ীদের জন্য। কিন্তু ওই, চোর আদানি। আদানিকে ইজরায়েল ট্র‍্যাপ করল, তার দেশের অস্ত্র বানানোর জন্য। অমনি দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে আমরা সমস্ত ঐতিহ্য, কূটনীতি, বিদেশনীতি ভুলে ইজরায়েলকে ‘ফাদারল্যান্ড; বানিয়ে ফেললাম। উগ্র হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির ময়দানে সিগন্যাল পাঠিয়ে দিল, ইরান মোল্লাদের দেশ বলে হিন্দু হৃদয় সম্রাটের এই ইজরায়েলি মাস্টারস্ট্রোক। ফলাফল? তেল-গ্যাস কিনতে গিয়ে ‘হিন্দু খতরেমে’। দেশের মূল সমস্যা আদানি, ওরফে তার পোষ্য চাকরটা।

তেল আভিবের বাতাসে পোড়া লাশের চেয়েও যে খবরটা সবচেয়ে বেশী দুর্গন্ধময় আতঙ্ক ছড়াচ্ছে তা হলো- নেতানুনু অদৌ বেঁচে আছে তো! ওদিকে শ্যাম চাচার দেশে, উন্মাদ ট্রাম্পকে হয়ত CIA ই খালাস করে দিয়ে যুদ্ধের উপসংহার টানবে, স্থায়ী ভাবে মধ্যপ্রাচ্য থেকে পাততাড়ি গুটিয়ে। তাহলে হাতে পেন্সিল ছাড়া আর কি রইলো? একমাত্র আদানি। আদানি সংহার হবেই, যতই তার নিজের কেনা মিডিয়া আর গুজরাত কার্টেলের পে-রোলে থাকা প্রতিটা ধামাধরা চাটুকার মোসায়েবের, বিশ্বগুরুকে গ্লোরিফাই করে পরিস্থিতি ও প্রশ্নকে ধামাচাপা দেওয়া চেষ্টা করুকনা কেন, এ যাত্রায় সম্ভবত রক্ষে নেই আদানি শেঠের, স্বর্গীয় absolute miracle ছাড়া। বারে বারে ঘুঘু তুমি খেয়ে যাও ধান, এবার ঘুঘু তোমার বধিব পরান।

আদানি ভোগে গেলে বিশ্বগুরুর অস্তিত্বের প্রয়োজনটা কোথায় রাষ্ট্রের কাছে? আক্ষরিক অর্থেই তো তিনি মুর্খ ভাঁড়, বেতনভুক ভৃত্য মাত্র। মালিক যখন চিতায় উঠবে তার পোষ্যকেও সহমরণে যেতে হবে, বাকিরা বলোহরি হরিবোল বলে প্রভুর সাথে সতী বানিয়ে ছবি করে দেবে। আদানির বড় ভাই বিনোদ, এই মালটা সাইপ্রাস দ্বীপের নাগরিক হলেও, বাস করে দুবাই-এ। আমাদের দেশের যাবতীয় চুরচামারির মাল নিয়ে মার্কিন ও ব্রিটিশ সেনা ঘাঁটির কাছাকাছি একটা দূর্গ মত বাড়িতে গচ্ছিত রাখা আছে সাইপ্রাসে। এই কচ্ছপটাকে খ্যাপলা জাল দিয়ে টেনে নিয়ে এসে চাবাহারের মাছ বাজারে আঁশ ছাড়ানো, হলেই প্রভু আদানি প্রাণপাখি ছটপট করা শুরু করবে। এদিকে আম্বানি মোটাভাই আমাদের থেকে চুষে নেওয়া হারামের সম্পদ আমেরিকাতে সাইফন করতে মরিয়া, রাশিয়া-চিন-ইরান অক্ষ ওনাকে আমেরিকায় যেতে দেবে বামাল সহ? আর গেলে জামনগরের অয়েল রিফাইনারি বেঁচে থাকবে বলে আপনি বিশ্বাস করেন?

আমাদের MEA মুখপাত্র সাংবাদিক সম্মেলনে জানিয়েছেন- আফ্রিকার নাম না জানা দেশগুলো হরমুজ দিয়ে তেল গ্যাস নিয়ে চলে যাচ্ছে, আমারা যাদের রোজ হ্যাটা করি সেই বাংলাদেশও হরমুজ কূটনীতিতে সফল, সেখানে আমরা মিডিয়া প্রোপাগান্ডা দিয়ে জাহাজ ভরছি তেল গ্যাসের বদলে। আদানির পোষা লেজ বিশিষ্ট কেউ নয়, কোনো একজন ‘ভারতের’ প্রধানমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দিক- দেশের স্বার্থে হওয়া বিদেশনীতির পক্ষে, ভারতের প্রত্যেকটা রাজনৈতিক দল বিনা বাধায় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়ে সর্বদলীয় প্রস্তাব পাশ করিয়ে দেবে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে। তখন ওই ইরান, ওই রাশিয়া, ওই চিনা জাহাজ আমাদের  ১৩টা আন্তর্জাতিক সমুদ্র বন্দরে লাইন দিয়ে তেল গ্যাস পৌঁছে দিয়ে যাবে নিজেদের খরচায়। 

২০২৫ এর ফেব্রুয়ারি থেকে ট্রাম্প কাড়া নাগাড়া বাজিয়ে ‘ট্যারিফ’ ওয়্যার শুরু করেছিল, বাবু তার ইচ্ছামতো যাকে খুশি যেমন খুশি ট্যারিফ লাগাচ্ছিলেন, যাকে খুশি স্যাংশন এর সাজা ঘোষণা করে দারুণ একটা খেলা খেলছিল। সেই প্রতিটা ট্যারিফ-স্যাংশনকে আস্তাকুড়ে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছে ইরান, ২০২৫ জুড়ে ট্রাম্পের পুরো ‘ট্যারিফ’ মেহনত জাগ্রোস পাহাড়ির খাদে কবর দিয়ে দিয়েছে। ট্যারিফ যুদ্ধে চিনের সাথে মুখ থুবড়ে পরলেও রাশিয়ার উপরে হাজারটা নিষেধাজ্ঞা দিয়ে সে যুদ্ধে প্রায় একতরফা জিতে গিয়েছিল আমেরিকা। আমাদের বিশ্বগুরুকে মাদারির বাঁদরের মতো লাঠির ডগায় নাচিয়ে একতরফা শর্তে যখন যেমন খুশি, তেমন বোঝা চাপিয়ে দিয়েছে, আর আমাদের লালুভুলু কোম্পানি মেনেও নিয়েছে টুঁ শব্দটি না করে। প্যান্টের উপরে লাল জাঙিয়া পরলেই সুপার হিরো হওয়া যায় না, চাড্ডি তো নাগপুরের গোয়ালের রাখালগুলোও পরে। একটা ভিসন লাগে, যা দিয়ে মিশন কমপ্লিট করতে হয়। RSS এর মুচলেকা আর জুতো চাঁটা আদর্শ দিয়ে হিরো হওয়া যায় না, সারেন্ডার করাই যায়।

গত কালও লিখেছিলাম, আমাদের দেশের মূল সমস্যা হচ্ছে বিশ্বগুরু। বাজপেয়ীও বিজেপি তথা RSS ছিলেন, কিন্তু বিশ্বগুরুর মতো এমন প্রকাশ্য নির্লজ্জ মিথ্যাবাদী ছিলেননা, এমন দেশদ্রোহীর মতো কর্পোরেটের গোলামি করেননি। বাজপেয়ী ‘উনিজির’ মতো নিরেট মুর্খও ছিলেন না, নাহলে কংগ্রেস ওনাকে বিরোধীদলের নেতা হিসেবে রাষ্ট্রসঙ্ঘে দেশের প্রতিনিধি করে পাঠাতো না। নেতা, চাকরবাকর আর দালালের মাঝে ঠিক যতটা ফারাক, বিশ্বগুরুর সাথে তার পূর্বসূরিদের পার্থক্য ঠিক ততটাই। বাজপেয়ি দেশের বিদেশনীতি ঘেঁটে দেওয়ার চেষ্টা করেননি, সংসদে দাঁড়িয়ে ঘোষণা করেছিলেন- “সাম্রাজ্যবাদী ইসরাইল, ফিলিস্তিনের মাটি থেকে সরে যাও। ভারতবর্ষ অখন্ড ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বের পাশে ছিল আছে থাকবে”। 

এখন আমেরিকার এমন শোল পোড়া অবস্থায়, তার যারা চাটুকার ফ্যান বয়, যেমন আমাদের বিশ্বগুরু- ওনাদের কাঠে কপাটে অবস্থা, না বইতে পারছেন- না সইতে পারছেন; প্রাণ খুলে কাঁদার উপায়ও নেই। মন্ডপের মুর্তি যখন বানানো হয়, কাঠামো খড় মাটি লেপে পুঁছে রঙ চড়িয়ে কাপর ফুল মালা দিয়ে অনেক কটা দিন ধরে সাজানো হয়, অনেকগুলো মানুষের মেহনতে; বিসর্জন কিন্তু টুক করে সবটা একসাথে হয়। আমাদের বিশ্বগুরু গেলে তার সাথে তার সাথে থাকা ভক্তের দল, তার পিছনে মিছিল করে চলা গুজরাত কার্টেল, তার অনুগত মিডিয়া বাহিনী, তার রাষ্ট্রযন্ত্র, অতীত বর্তমান সব কিছু নিয়েই উনি অস্ত যাবেন। কেউ কেউ সোলার টোপরের মত হয়তবা ভেসে গিয়ে বেঁচে যাবে। ঠাকুর বিসর্জনের সময় ঢোল কাঁসা নিয়ে তারাই উল্লাস করে কোলাকুলি করে, যারা এতোদিন এই মুর্তিটারই আরাধনা করেছে। সুতরাং, কাঁসি ঢোল নিয়ে RSS ই যে বিসর্জনের ভাসান ড্যান্স করবে, সেটা বলাই বাহুল্য।      

ইরানের পুরাতন নের্তৃত্বের প্রায় সকলকেই খালাস করে দিয়েছে এপস্টিন গ্যাং, নতুন নের্তৃত্ব হিসাবে যারা এসেছে, তাদের নুন্যতম ঘনিষ্টতা নেই বর্তমান ভারতীয় প্রায় সকল নের্তৃত্বের সাথে, ফলত সম্পর্কের লেগাসিও নেই। এই কারনেই প্রথমে লেজারশঙ্কর ও পরে বিশ্বগুরু নিজে ফোন করে মৌখিক মুচলেকা দিলেও, কাজের কাজ হয়নি। চিনা নের্তৃত্ব আমাদের বিশ্বপ্রভুকে কখনও গুনতিতেই ধরেনি মানুষ হিসাবে। ওদিকে শোনা যাচ্ছে রাশিয়ান প্রথম সারির কূটনীতিবিদেরা ফোনের ওপার থেকে বিশ্বগুরুর সাথে কথাই বলতে চায়নি শেষ ২ সপ্তাহ ধরে, গ্রুপ-সি টাইপ চাপরাশি লেভেলের রাশিয়ান কর্তারাও বিশ্বগুরুর মা মাসিকে ‘সম্মান’ করে সম্বোধন করেছে বলে জোর খবর। এই অবস্থায় মস্কোতে গিয়ে মুজরো করলে কোনো কাজে দেবেনা, তেহরানে গিয়ে যে কান ধরে উঠবোস করবে বা নাকে খৎ দেওয়ার রিল বানাবে ‘বিরাট শিক্ষিত’ মন্ত্রী বৈষ্ণবকে দিয়ে, সে সম্ভাবনারও গোঁড়া কেটে দিয়েছে ইরানের প্রধানমন্ত্রী, গতকালের মাত্র ৯০ সেকেন্ডের ফোনালাপে।

দেশে সারের সঙ্কট শুরু হবার মুখে, কৃষক মার খাবে, খাদ্য শস্যে টান পরবে। পেট্রোকেমিক্যাল শিল্প, কাচ ও সিরামিক শিল্প, স্টিল ও ছোট ম্যানুফ্যাকচারিং ইউনিট বন্ধ হয়ে যাবে। মিডডে মিল থেকে উৎসব অনুষ্ঠান, হোটেল রেস্টুরেন্ট ও পর্যটন শিল্প ধ্বসে যাচ্ছে রান্নার গ্যাসের অভাবে। অনেকে বলছে রেস্টুরেন্ট বাবু বিবিদের খাবারের জাইগা, আজ্ঞে না, ওখানে যারা কাজ করে তারা অধিকাংশই শ্রমিক ও দিনমজুর, আর দেশে এদের সংখ্যাটা প্রায় ২৮ কোটি মানুষের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ রুটিরুজির প্রশ্ন। এক অদ্ভুত গণসঙ্কটের দিকে চলেছি আমরা।

বিশ্বগুরুর ফাঁপা বেলুনে কতক্ষণ আর হাওয়ার ভেসে থাকবে! বিশ্বগুরুকে রোজ সকালে বিকালে নিয়ম করে কান মুলে দেন যিনি, সেই ট্রাম্প ও তার প্রশাসন নিজেরাই ল্যাজেগোবরে, এখন সাহেবকে কে সেল্টার দেবে? মুচলেকা যাদের জিনে রয়েছে, সারেন্ডার তাদের চরিত্রের সৌন্দর্য। এখন কি দলবদল করে রাশিয়া ইরানের পায়ে ধরে বিশ্বপ্রভুকে দিয়ে সারেন্ডার করালে, আদানি প্রভুর মুক্তি মিলবে? আমেরিকা আরেকটা কাজ করতেই পারে, তারা শাহ এর পুত্র, ওই বেঢপ নাকের ভাঁড়টাকে আয়াতেল্লা রেজিমের বিপক্ষে প্রোজেক্ট না করে, আমাদের দেশের শাহ টাকে ওখানে নিয়ে ছেড়ে দিলে তো পারে। ‘টাকলা শাহ জুমলাবাদী’ গাঁজা কেস, রেপ কেস, আর্মস কেস, UAPA দিয়ে কিছু জনকে ভরে দিয়ে, বাকি সবাইকে কিনে নিয়ে মার্কিন পন্থী সরকার বানিয়ে দেবেন। নেহাত সেটাও না হলে, ইরানের নাম চেঞ্জ করে হরমুজে বুলডোজার নামিয়ে দেওয়া শিল্পীও তো আমাদের দেশেই ছিলো। শুধু বিশ্বগুরুর একার দিকে নজর দিতে গিয়ে হোয়াইট হাউজ এই দুটো নমুনা, সরি প্রতিভাকে মর্যাদাই দিতে পারলোনা।

স্বস্তিক বাহিনী স্ট্যালিনগ্রাদে কবরস্থ হয়েছিলো, তার সাথে জাপান, ইতালি সহ হাঙ্গেরি, রোমানিয়া , বুলগেরিয়া, ফিনল্যান্ড, থাইল্যান্ড কেউ রক্ষা পায়নি। হরমুজ নামের আজকের স্ট্যালিনগ্রাদে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ রূপী ‘ভেরমাখট’ বাহিনী একা ডুববেনা, মাই ফ্রেন্ড দোলান্ড মঞ্চে কিম্বা Godhra Meets Gaza সামিটে কোলাকুলি করে ফাদারল্যান্ড আবিষ্কার করা- বিশ্বগুরুর মত মোসায়েব খোঁচর গুলোকে সাথে নিয়েই ডুববে। নিউটনের সুত্র বলে, পতনশীল বস্তুর প্রাপ্ত বেগ সময়ের সাথে সমানুপাতিক। সুদান ইতিমধ্যেই আমিরাতের দখলদার বাহিনীকে খেদা করে দেশ উদ্ধার করা শুরু করেছে, আমাদের দেশেও আদানি আম্বানির খপ্পর থেকে দেশজ সম্পদ ফিরিয়ে আনতে হবে।  ইরানে যদি আয়াতেল্লার হেজিমনি থাকে, আমাদের দেশে সঙ্ঘের হেজিমনি চলছে কর্পোরেটদের সাথে পার্টনারসিপ করে, শেষ দুই দশক ধরে। যারা ইরানের রেজিম চেঞ্জের পক্ষে গলার শিরা ফোলাচ্ছে, সেই তারাই আবার মনুবাদী সঙ্ঘের রেজিমের পক্ষে। এটার নামই হিপোক্রেসি, এই ফাঁদেই আমরা ১৪০ কোটি ভারতীয় আঁটকা পরে বিশ্ব রাজনীতির মঞ্চে জিম্মি হয়ে গেছি।

ভারতের একটা ‘ভারতীয়’ প্রধানমন্ত্রী দরকার, যে চাটুকার ভাঁড় সেজে কোনো কর্পোরেটের দালালি করবেনা, দেশের মানুষের কথা বলবে। সরকারী টাকায় ১১৩ বার বিদেশে প্রমোদ ভ্রমণে গিয়ে, নির্লজ্জের হাসি হেসে ছোটলোকের মত জড়িয়ে ধরবেনা। ইজরায়েলি পতাকার সামনে মাথা নোয়াবেনা। ঐতিহ্য ও পরম্পরাকে সম্মান করে, দেশের মানুষের জন্য পদক্ষেপ নেবে জাতি ধর্মের উর্ধ্বে উঠে।

পরিস্থিকে যথাসাধ্য ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করলাম। অনেকটা এডভান্স লিখে ফেলছি বলে অনেকেরই হজম হবেনা আমার আজকের কথা গুলো, ভক্তরা যারা বিশ্বগুরুর ছবিতে ঈশ্বর প্রতিষ্ঠা করে ফেলেছেন, তারা বাদেও অনেক নিরপেক্ষ সুশীলেরও পরিপাক হবেনা। তাই শুরুর প্রশ্নে ফিরে যায়, ইরান যদি না হারে, আদানির বিরুদ্ধে আক্রমনাত্বক হামলা আসবেই। তখন লক্ষবার ধ্যানে বসলেও ক্ষমতার গনেশ উল্টাবেই। এমতাবস্থায়, বিশ্বগুরুর স্থলাভিষিক্ত কে হবে? নতুন আনকোরা কাউকে ঝুলি থেকে বের করবে নাকি পুরাতন কোনো ভাঁড়কে সিংহাসনে বসাবে RSS! 


আপনার কি মনে হয়?

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ইরান যুদ্ধঃ প্রতিশোধ ও প্রতিরোধের এক অসম লড়াই

(১) হিন্দ রজবকে চেনেন আপনারা? সম্ভবত না। ‘দ্য ভয়েস অব হিন্দ রজব’ নামের একটা সিনেমা আছে, দেখে নিতে পারেন। না চেনা অস্বাভাবিক নয়, হিন্দ রজবের...