ইহুদীদের ঈশ্বর 'জিহোভার' দ্বারা প্রতিশ্রুত ভূমির সীমানা ওটাই তাদের ধর্মগ্রন্থ তানাখ-তোরাহ অনুযায়ী। আপনি এসব গাঁজাখুরি বিশ্বাস করুন বা না করুন- তাতে তাদের কিছু যায় আসে না, তাদের কাছে সত্যও বদলায় না। আর এই ধর্ম বিশ্বাস অনুযায়ী পরিস্থিতি তৈরি করার জন্যই এত হত্যা, এত অত্যাচার; অবশ্য তাতে ওদের সামান্যতম অনুতাপ নেই, কারন ইহুদীরাই একমাত্র ঈশ্বরের 'চুজেন ওয়ান' জাতি, অবশিষ্ট পৃথিবীর সবাই জেনটাইল বা বর্বর দাস সম্প্রদায়ের, যাদের জন্মই হয়েছে ইহুদীদের সেবা করার জন্য, ওদের দ্বারা শাসিত হওয়ার জন্য, সে আপনি মুসলমান, খ্রিস্টান, হিন্দু বৌদ্ধ যা খুশি হোন- কোনো ফারাক নেই। আপনি সামান্যতম প্রতিবাদ করতে গেলেই আপনাকে অ্যান্টি-সেমেটিক নাম দিয়ে দাগিয়ে, আপনার উপরে সাজা ঘোষনা করবে, আপনার সম্পদ কেড়ে নেবে, পরিশেষে যেকোনো ছুঁতোতে হত্যা করবে।
নিকৃষ্ট ব্রাহ্মণ্যবাদের যদি কোনো প্যারামিটার হয়- যারা ইহুদীদের সামনে থেকে দেখেছে, তারা জানে ওই প্যারামিটারে ১ থেকে ১০ অবধি সবটা ইহুদীদের দখলে থাকবে, এর পর আমাদের দেশের RSS মাইন্ডেড লোকজন। অন্ধবিশ্বাস আর হিংস্রতাতে কেউ ইহুদীদের স্পর্শ করতে পারবে না। পৃথিবীতে এমন একটা পাপ বা অপরাধের নাম বলুন যেটা তারা ধর্মের দোহাই দিয়ে করেনি বা করছে না! জায়োনিস্ট প্রোপাগান্ডার ফাঁদে পড়ে আপনি নিজেও যদি মানসিকভাবে ইহুদী না হয়ে যান, তাহলে সামান্যতম সুস্থ চিন্তা করলেই এই অভিশপ্ত জাতির প্রতিটা ষড়যন্ত্রকে চোখের সামনে ন্যাংটা ভাবে দেখতে পাবেন, ইতিহাসের সারণী ধরে হাঁটলেই।
যা বলছিলাম, জেরুসালেম দখল না হলে তাদের ধর্মবিশ্বাস অনুযায়ী তাদের হাজার বছরের প্রতীক্ষিত প্রফেট বা নবী তথা ঈশ্বরের দূত 'মাশায়ার' আগমন হবে না। তারা বিশ্বাস করে মশায়া আসা মাত্র ইহুদীরা গোটা বিশ্বের শাসক রাষ্ট্রে পরিণত হবে। সমগ্র বিশ্বের সমস্ত কিছু তারা জেরুসালেম থেকে নিয়ন্ত্রণ করবে, গোটা পৃথিবী একটাই রাষ্ট্র হবে, আক্ষরিকভাবেই তাদের লালিত স্বপ্ন one order word প্রতিষ্ঠিত হবে। এদিকে এই তথাকথিত মাসায়ার আসার প্রাথমিক শর্ত হচ্ছে জেরুসালেমকে অ-ইহুদিদের হাত থেকে সম্পূর্ণভাবে মুক্ত করা।
আজ অবধি তারা টেম্পল রক দখল করতে পারেনি, মুসলিমদের দখলেই রয়েছে মসজিদটা, বা বেথেল থেকে খ্রিস্টানদেরও তাড়াতে পারেনি। আর না পারার জন্যই তারা অস্থির অধৈর্য হয়ে উঠেছে বর্তমান সময়ে, তাদের ধর্মীয় গণনা অনুযায়ী এই দশকেই মাসায়া বা মেসীর আবির্ভাব ঘটবে, তাই তারা চূড়ান্ত প্রস্তুতিপর্বে রয়েছে মাসায়া বরণের।
ইরাণ বোমা ফেলেছে এমন গল্প শুনিয়ে নিজেরাই ড্রোন বা মিসাইল দিয়ে টেম্পল রক সহ, ডোম রক ও আল আকসা- সবটা নিশ্চিহ্ন করে দিতেই পারে। যাতে তারা সেখানে থার্ড টেম্পল বানাতে পারে? এটাই তো তাদের মূল লক্ষ্য জেরুসালেমকে নিয়ে। সৌদির তেলক্ষেত্র বা সাইপ্রাসের ব্রিটিশ সেনা ছাউনিতে যেভাবে ফলস ফ্লাগ আক্রমণ চালিয়েছে ইজরায়েল- তাতে তারা পারে না এমন কোনো নিকৃষ্ট কাজ নেই পৃথিবীতে।
ওহ, আপনি তো আবার কোট পরিহিত পশ্চিমা ইহুদী-খ্রিস্টান জায়োনিস্টদের দেখে ভাবেন তারা শুধু বিজ্ঞানে বিশ্বাস করে, অন্ধ ধার্মিক নয়। আপনার কানে সপাটে থাপ্পড় মেরে জায়োনিস্টদের বাপ ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউজের ওভাল অফিসে এক অবোধ্য ধর্মীয় রিচুয়াল প্রদর্শনের মাধ্যমে বিজ্ঞানের মা মাসী এক করে দিয়েছে। যদিও আপনি প্রতিটি ইহুদীকে দেখেছেন মাথায় টুপি পড়ে ১ ফুট লম্বা ঝুলফি সহ, তারপরেও তাদের প্রতি আপনার পবিত্র বিশ্বাস তথা ঈমানের জন্য ওদেরকে আপনি ধর্মান্ধ ভাবতেই পারেননি কখনও। যেন ওদেরকে ধর্মান্ধ ভাবলে আপনার নিজের ধর্ম পতিত হয়ে যাবে, আপনি মানুষ কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠে যাবে। আসলে তাদের নিয়ন্ত্রিত গোটা বিশ্বের গণমাধ্যমগুলো আপনাকে এমনটাই ভাবতে শিখিয়েছে।
ব্রিটেনের পতন না হলে আমেরিকার উত্থান হতো না বিশ্ব পরাশক্তি হিসেবে। জামাল নাসেরের হাত ধরে সুয়েজের জলে সাম্রাজ্যবাদী ব্রিটিশদের অর্থনৈতিক কূটনৈতিক ও সামাজিক ভরাডুবি ঘটে। অত্যন্ত অপমানজনকভাবে মিশরের মাটি থেকে বাধ্য হয়ে ব্রিটেনকে পালিয়ে যেতে হয়, যার ফলে বৈশ্বিক পরাশক্তির মর্যাদা হারায় ব্রিটেন। এর পরের ৭০ বছর মাইটি আমেরিকার হিংস্র সন্ত্রাসের শতক। ইরানের দৌলতে এবারেই হয়তো হরমুজের জলে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের সলিলসমাধি ঘটবে!
১৯৫৬ সালের ব্রিটেনের ছায়া দেখা যাচ্ছে আমেরিকার মধ্যে। এটাই ইহুদীদের জন্য সুবর্ণ সূযোগ, অন্তত তাদের ধর্মবিশ্বাস অনুযায়ী- তারা নিজেরা সুপার পাওয়ার বিশ্ব পরাশক্তি হতে চায়। এর জন্য মাসায়াকে আসতে হবে, মাসায়ার জন্য থার্ড টেম্পল বানাতে হবে, থার্ড টেম্পল বানাতে গেলে আল-আকসা মসজিদ নিশ্চিহ্ন করতে হবে- পরিষ্কার ক্রনোলজি।
সে যাই হোক, আল আকসা আর কতদিন টিকে থাকবে সেটাই বড় প্রশ্ন। বর্তমানের ইরাণ যুদ্ধ সর্বনাশের শুরু মাত্র, এই জায়োনিস্ট ইহুদীরা আরও বড় সর্বনাশ বয়ে নিয়ে আসছে আগামীতে, সমগ্র অ-ইহুদী বিশ্বের জনগণের জন্য যা অভিশাপ।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন