খোলাচিঠি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
খোলাচিঠি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

প্রতিটা চোরের 'আঁশ ছাড়ানো' হবে



মাননীয় অপ্রিয় Kunal Ghosh মহাশয় সমীপেষু, 

আপনার দল তৃণমূল কংগ্রেস- রাজ্যের মুসলমানকে SIR এ ভয় দেখাতে পারেননি। OBC ও ওয়াকফ ঈশ্যুতে মুসলমান ভোট আপনাদের এই ঈদে 'জাকাতের' খাতায় তুলে দিয়েছে। ফলত আপনাদের মত প্রতিটা বিশেষজ্ঞ জেলখাটা চোরেদের অন্ডকোষ লাফ মেরে যে কপালে উঠে 'আব' হয়ে গেছে, তা আপনাদের ছটপটানি দেখে অনুমান করা কঠিন কিছু নয়।

সমগ্র মিডিয়া থেকে বিজেপি বাইনারি উবে গেছে, এই মুহুর্তে বাংলাতে বিজেপি খোঁজার চেয়ে 'ইয়েতি' খোঁজা সহজ। বিজেপি উবে যেতেই তৃণমূল অস্তিত্ব সঙ্কটে পরে গেছে। নাগরিকত্ব চলে যাওয়ার জুজু আর বিজেপি চলে আসবে আতঙ্ক কাটিয়ে- মুসলমান ঘুরে দাঁড়িয়েছে নিজের যোগ্যতায়। ইজতেমা করে যে মুসলমানদের সমাজে সুড়সুড়ি দেওয়া যাবে, সে গুড়েও বালি। মুসলমান ভোট আপনাদের চাই ই চাই, যেকোনো মূল্যে। উন্নয়ন যে গাধার ঘাড়ে চলে গেছে তা আপনারা জানেন। আপনাদের কাছে গোয়েন্দা তথ্য ও i-Pac বলছে মুসলমান সম্প্রদায় আপনাদের হাতে বাটি ধরিয়ে দেবে। তাই আপনারা সিপিএমকে এভাবে টার্গেট করেছেন, কারন মুসলমান ভোট বিজেপিতে যাবেনা, সিপিএমেই ফিরবে। আপনারা চালাক হতেই পারেন, জনগণ উদগান্ডু বোকা নয়। 

প্রথমে ডায়মন্ড হারবারের পশুহাট থেকে রোজার শুরুতেই কোরবানির 'পাঁঠা' কিনলেন। আজ ফিরদৌস শামিমের নামে মলেস্ট মলেস্ট খেলা শুরু করেছেন। অচিরেই আপনাদের যে কাঙ্খিত লক্ষ্য- মহঃ সেলিমকে সাম্প্রদায়িক প্রতিপন্ন করা, অন্ধ ছাড়া যে কেউ এই লাইনটা ধরতে পেরে গেছে। আপনারা চালাক আর মানুষ বোকা, এতোটা সরলীকরণ নাইবা করলেন! আপনারা যে ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক এ্যাঙ্গেলে খেলা শুরু করেছে আপনাদের পিতা RSS এর নির্দেশে, প্রার্থনা করুন আপনাদের RSS এর সরকারই যেন ২০২৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়- সেটা তৃণমূল বা বিজেপি যে ফর্মেই হোকনা কেন। নতুবা চুরির দায়ে জেলা খাটা আসামি আপনি ও আপনার প্রতিটা ছোট বড় স্যাঙাতের 'আঁশ ছাড়ানো' হবে ফেলুদা স্টাইলে।

আমরা বারংবার লিখছি- মুসলমান ভোটেই আপনাদের মানে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাণভোমরা টিকে আছে। তাই মুসলমান বাম যুব নেতাকে কিনেছেন, মুসলমান বাম উকিলকে দুশ্চরিত্র প্রমানে দেওয়াল চাপড়াচ্ছেন, CPIM পার্টি সেক্রেটারি আসলে মুসলমান ও 'সাম্প্রদায়িক মানুষ'- এই সব কেচ্ছার তাস আপনি খেলবেন তা দিনের আলোয় প্রিজন ভ্যান চাপড়ানোর থেকেও পরিষ্কার। মাধ্যমিক পাশ বিশ্বমাচাদো সাংবাদিক আপনি আর আপনারা যাকে নেতা বানাতে চাইছেন- সেই কয়লা চোর মাধ্যমিক পাস বিশ্বমাচাদো বিপ্লবী ভাইপো, আপনাদের ভবিতব্য ওই চাক্কি পিসিং এন্ড পিসিং- তিন ছক্কা পুটে। প্রকাশ্য আদালতে আপনাদের পাপের বিচার হবে আইনের শাসনে।

পুলিশটা আপনাদের কন্ট্রোলে বলে এ সব লিখে বা বলে ছাড় পেয়ে যাচ্ছেন। প্রার্থনা করুন- জনগণ যেন সিপিএমকে সেই ম্যান্ডেট না দেয়। দিলে আপনাদের সান্ধ্য আড্ডার আসরটা জেলের ভিতরের অন্যান্য কয়েদীদের সাথেই হবে। জনৈক কুন্তল ঘোষের জন্য যে হারামের সম্পদ বানিয়ে যাচ্ছেন মূর্খপাত্র সেজে আলবাল বকে, সেই সব সম্পদ 'অপারেশন কাটমানি' করে চামড়ার মত সব খাবলে খুবলে টেনে বের করে নেবে দিনমজুর জনগন, আমরা দাঁড়িয়ে থেকে সেটাতে নেতৃত্ব দেব। 

আমাকে মামলা দেবেন? মেয়েছেলে কেস? গাজা কেস? পুরাতন কোনো মামলায় ধারা জুড়বেন? এসব অনেক পুরাতন খেলা, অলরেডি খেলে ফেলেছেন। প্রার্থনা করুন RSS যেন সহায় থাকে শেষ অবধি, নতুবা একই জিনিস আপনাদের সকলের সাথে হবে। তাই প্রার্থনা করুন, সিপিএম যেন নির্নায়ক শক্তি না হয়ে যায় আগামী নির্বাচনে। সততার কসম, এবারে আপনার দাড়ি পা অবধি ঝুলে আসবে, আর ঘুমের ওষুধ ৩০০টা থাকবে কৌটোতে। চক্র কিন্তু ঘুরছে। 

চলুন তদ্দিন বিজ্ঞবিচি সেজে বকে যান। আগামীর দিন গুলো আপনাদের মত জেলখাটা প্রতিটা চোরের জন্য ভয়ঙ্কর। প্রতিটা চোরের ঘর থেকে হারামের সম্পদ বার করে এনে গরীব গুর্বোর মাঝে বিলিয়ে দেব। এটাই আমাদের অলিখিত ম্যানিফেস্টো।


সাথের ছবিটা স্মৃতি রোমন্থনের জন্য। 


রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২০

খোলাচিঠিঃ শ্রদ্ধেয় শিক্ষক শিক্ষিকাগণ

 




মোদী সরকার যে দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এগিয়ে চলছে তাতে স্কুল শিক্ষকেরা মানে আপনারা আর কে কতদিন চাকরি করতে পারবেন তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ হচ্ছে আমার ব্যক্তিগতভাবে। আমাদের রাজ্য সরকার তৃণমূলও ওই পথেরই পথিক মানে বিজেপিরই সহোদর, এরা সকলেই RSS এর শাখা সংগঠন, কেউ প্রকাশ্যে স্বীকার করে কেউ গোপন রাখে রাজনৈতিক স্বার্থে। দিনের শেষে এদের শিকড় আসলে একটাই।

আজকের দিনে দেশের সর্বত্র সকল কিছুই খুলে গেছে প্রায়, সকলে সকল স্থানে যাতায়াত করছে। মেলা-খেলা-ধর্ম-বিয়ে-শ্রাদ্ধ-ভ্রমণ সবই হচ্ছে লেখাপড়া ছাড়া। যারা ধনী ও বেসরকারি ইস্কুলে পড়ে তাদের জন্য অবশ্য গালভরা নাম দিয়ে অনলাইন ক্লাস হচ্ছে, কিন্তু সেটা কতো শতাংশ মোট পড়ুয়া জনসংখ্যার? আজকের দিনে প্রতিদিন যারা করোনাতে আক্রান্ত হিসাবে ধরা পড়ছেন সেটা বেশি মাত্রায় টেষ্ট হওয়ার কারণে, গত এপ্রিলে এই মাত্রায় টেষ্ট হলে এটা তখনই ধরা পড়তো। তাছাড়া বিগফার্মা ও বিল গেটস দের মতো চিকিৎসা ব্যবসায়ীদের ভ্যাকসিনের বাজার তৈরি ও তাদের আগামীর পরিকল্পনার কথা নাহয় বাদই রাখলাম এই পর্বে।

ট্রেনটা খুলছেনা কারণ সেটা বিক্রিবাটা করে কতটুকু সরকারের ভাগে থাকবে সেটা স্থির করে নিয়ে তবে চালাবে এটা তো মোদী সরকারের ঘোষিত সিদ্ধান্ত। কিন্তু স্কুল খুলছেনা কেন? গোটা বিশ্বেই তো স্কুল কলেজ প্রায় সব স্বাভাবিক হয়ে গেছে তাও মাস তিনেকের কাছাকাছি হয়ে গেলো। যদিও অনেক দেশে স্কুল কলেজ বন্ধই করেনি, সে দেশ করোনার তালিকাতে আমাদের দেশের চেয়ে কয়েক কিলোমিটার দূরে রয়েছে সংখ্যাতে।

বিষয়টা কি দাঁড়ালো তাহলে! এখানেও কি তাহলে কোনো গোপন এজেন্ডা আছে সরকারের? ঠিক যেভাবে অন্য পেশার কয়েক কোটি মানুষজনের চাকরি খেয়ে তাদের পথে দাঁড় করিয়েছে তথাকথিত মোদীর মাস্টারস্ট্রোকের দাপটে।

শিক্ষক মানেই স্কুল তথা একটা প্রতিষ্ঠান দরকার, আর স্কুল থাকলেই সমাজ শিক্ষিত হবে, যাদের ধর্মের গাঁজা খাইয়ে বুঁদ রাখা যাবেনা সহজে। শিক্ষিত মানুষ ধর্মচারণ আর ধর্মোন্মাদের ফারাক বোঝে, তাই একজন অশিক্ষিত গাম্বাটকে আল্লাহু আকবর বা জয় শ্রীরাম বলিয়ে যত সহজে অন্যের মাথায় বারি দেওয়া সম্ভব, শিক্ষিতদের দিয়ে যেটা সহজ নয়। শিক্ষিত সম্প্রদায় মানেই প্রশ্ন করবে আধিকারিককে, অধিকার সম্বন্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে।

রাজ্যের তৃণমুল সরকার তো শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ করাকে শিল্পের পর্যায়ে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে। এখন মনে হচ্ছে এই লকডাউনের দীর্ঘসূত্রতার বাহানাতে- কেন্দ্র ও রাজ্য সম্মিলিতভাবে govt স্কুল বন্ধ রেখে শেষে অনলাইন শিক্ষা সমৃদ্ধ প্রাইভেট স্কুল খোলার বিল নিয়ে আসবে হয়তো।
ব্যস, তাহলে আর এতো শিক্ষকের কি দরকার? ইচ্ছামতো ছাঁটাই করে দেবে আপনাদের মধ্যে, যাকে খুশি। কি সুন্দর বসে বসে প্রতি মাসের ২৮ তারিখে বেতনটি ঢুকে যাচ্ছে অ্যাকাউন্টে, এমন সুখের সময় আর কার জীবনেই-বা এসেছে।

প্রতিটি বেসরকারি বা সরকারি অফিস কাছারি অর্ধেক কর্মচারী দিয়ে দিয়ে কাজ চালিয়ে নিয়েছে এই করোনাকালে, এবং কাজ চলেও গেছে বা যাচ্ছে। স্বভাবতই 'উন্নয়ন' ও 'আচ্ছেদিন' সরকারদ্বয় যদি এর পর অর্থনৈতিক মন্দার দোহাই দেখিয়ে কর্মী সঙ্কোচন করে, কিম্বা যদ্দিন কাজ তদ্দিনের বেতন, কিম্বা ছাত্রেরা টিউশন ফি দিলে তবেই বেতন হবে অথবা আপনাকে বর্তমান বেতনের অর্ধেক বা তারচেয়েও কম দিয়ে কাজ করতে বাধ্য করে- তাতে মোটেও আশ্চর্য হবেননা। মজার কথা হলো তাতেও আপনারা কাজ করবেন, কারণ প্রতিবাদের ভাষা আপনি ভুলে গেছেন স্যার/ম্যাডাম। Boiling frog syndrome এর শিকার আপনারা, সমষ্টিগত ভাবে। আত্মকেন্দ্রিকতার আদর্শ নমুনা আপনাদের এই সমাজটি।

শ্রমিকেরা ভুগেছে, শিক্ষকেরা মানে আপনারা সংগঠিতভাবে নীরব ছিলেন এক আধজন ব্যতিক্রমী ব্যাক্তি ছাড়া। পরিযায়ীরা পথে পথে মরে বেওয়ারিস লাস হয়েছে, আপনারা কানেও শোনেননি চোখেও দেখেননি। না আপনাদের কোনো সংগঠন কোনও প্রকারের ত্রান নিয়ে তাদের জন্য কোথাও হাজির হয়েছিল। ছোট ব্যবসায়ী ভুগেছে, আপনারা শিক্ষকেরা সম্প্রদায় হিসাবে নিশ্চুপ ছিলেন। দেশে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ হয়েছে- আপনাদের সমাজ চেয়ে চেয়ে দেখেছে আর সংবাদ চ্যানেল দেখতে দেখতে অস্বস্তির জাবড় কেটেছেন। কোটি কোটি মানুষ কর্মহীন হয়ে গেছেন, 'আমরা তোমাদের পাশে আছি' বার্তা নিয়ে কোনো শিক্ষক সমিতি দাবি করেছে বলে কেউ বদনাম দিতে পারবেনা। আজ কৃষকের উপরে স্টিম রোলার চলছে- আপনাদের শিক্ষক সংগঠনের তরফে শ্মশানের নিরবতা দেখা যাচ্ছে। বরং অনেকেই আপনারা বিজেপি তথা মোদীর ভক্ত কিম্বা নীলসাদা চটি চেটে নেই নেশাতেই বুঁদ হয়ে রয়েছেন, গত নির্বাচনের পোস্টাল ব্যালটের এটাই হিসাব ছিলো। কেউ কেউ ব্যাক্তিগত স্তরে মানবিক হয়ে উঠেছিলেন, কিন্তু একার শক্তি আর কততুকু?

প্রতি সপ্তাহে, খবরে যখন দেখাচ্ছে- আগামী ১৫ দিন স্কুল-কলেজ আরও বন্ধ থাকবে; আপনারা হয়তো উল্লাসে ফেটে পড়ছেন। আসন্ন পুজোতে কি স্বাভাবিক ছুটি দেবে না কি করোনার ছুটি কেটে নেবে এই ভাবনায় আপনারা ঘুমাতে পারছেননা অনেকে। আপনারা পরিবার নিয়ে পুজোর ভ্রমণের প্লানিং করতে ব্যস্ত, কিম্বা ফিমেল গ্রুপে কেনাকাটা বা উইন্ডো শপিং তে next Pp ইত্যাদি করে যাচ্ছেন মনের সুখে। কেউ কেউ সাহিত্য গ্রুপ গুলোর কোহিনুর হয়ে রোজ কাব্যের ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করে চলেছেন নিজেরাই নিজেদের গা চাটাচাটি করে। অন্তত ফেসবুকের গ্রুপ গুলোতে এটাই ট্রেন্ড দেখা যাচ্ছে।

এমনিতে যারা ঈদে মাথায় টুপি পড়ে ছবি দেন, পুজোয় নতুন জামা পরে পোজ দেন- তারাই আবার ‘আমি কি হিন্দু’ বা ‘আমি কি তাহলে আজ থেকে মুসলমান’ স্ট্যাটাস দিয়ে আবেগের সর্বধর্ম সম্মিলনীতে ষাড়াষড়ি বাণ ডেকে চরম তৃপ্তি লাভ করছেন অবসরে, যেন আগে ওনারা খ্রিষ্টান ছিলেন অথবা তারা যে হিন্দু/মুসলমান সেটা এই প্রথম জেনেছেন। যারা ফেসবুকে নেই তারা কেউ মাঝ ধরছেন, কেউ টিউশনি করাচ্ছেন, কেউ গান গাইছেন তো কেউ সেলাই এর বুটিক খুলে ভার্চুয়াল দোকান সাজিয়েছেন পরিবারের অন্যের নামে। এ এক দারুন সময়, অখন্ড অবসরের ফাঁকে- মিউচুয়াল ট্র্যান্সফার উইন্ডোটা খুলছেনা কেন বাপু ছাড়া একটা সার্বজনীন ভাবনা- স্যাটের রায়ে প্রাপ্য DA কবে পাবো!

কেউ এটা শুধাচ্ছেনা, বিনা পরিশ্রমে ট্যাক্সের টাকা ধ্বংসে কদ্দিন বেতন নেব? কদ্দিন আর কাজ না করে বসে থাকবো?

ব্যস, এ কথা যেই কেউ শুধাবে সাথে সাথে সে বা তারা ওঁদের গণশত্রু হয়ে যাবে। নীতি, নৈতিকতা, দাবি ও অধিকার কেবল বাকিদের দায়, শিক্ষক সমাজ noble proffession বলে কথা- তাদের আবার নৈতিকতা কি হে! কেউ কেউ আবার এতটাই রেগে যাবেন যে সামনে পেলে কামড়েও দিতে পারেন।

‘কবে স্কুল খুলবে’, ‘…আর ভাল্লাগছেনা’ এমনটা কটা শিক্ষক স্ট্যাটাস দিয়েছে দেখান দেখি? আসলে চূড়ান্ত স্বার্থপর একটা সমাজ, যাদের পেটে কিছু কাগুজে বিদ্যা রয়েছে ঠিকিই- তোতাপাখির মতো, পেশার খাতিরেই তারা শিক্ষক। চাকরি না পেলে ওয়াগান ব্রোকারও হতে পারত অথবা নগরবধূর সালিশ, কিম্বা সমাজ স্বীকৃতি দিলে পকেটমারিতেও এদের নৈতিকতা বোধে আটকাবে না, এতটাই তফাতে চলে গেছেন এনারা মূল সমাজ থেকে। আসলে সুদখোর কাবুলিওয়ালার সাথে এদের পেশাদারিত্ব দায়বদ্ধতা নিজেরাই এক করে ফেলেছে একটা বিন্দুতে এসে, দুটো সম্প্রদায়েরই চোখের পটি আর অবশিষ্ট নেই সম্মিলিত ভাবে। এক আধজন যারা ব্যতিক্রমী তারা শিক্ষক পরিচয়ের বাইরে এসেই তারা মানবিক ও বিরল ব্যক্তিত্বের। সিংহভাগ শিক্ষকেরই যেখানে সমাজবিজ্ঞানের শিক্ষা নেই সেখানে আগামীকে শেখাবে কে?

আপনারা মানে সরকারি শিক্ষকেরা বেশ আয়েশের মাঝে, সামান্য ভার্চুয়াল বিপ্লবের মধ্য দিয়ে জীবনের একটা সেরা সময় পার করে চলেছেন এটাই একমাত্র সত্য এই করোনাকালে।

কিন্তু কেন্দ্রের সরকার তো কসাই। কসাই পোলট্রি মুরগিকে বা গোয়ালের ছাগলকে এতো খাওয়ায় বা যত্ন নেয়- যাতে সে বসে খেয়ে অল্প দিনের মাঝেই বিপুল স্বাস্থ্য সৌন্দর্য অর্জন করে। শেষে কি হয়? জবাই।

কসাই সরকারের মাথারা যে আপনাদের শিক্ষক সমাজকে খাইয়ে দাইয়ে মগজে এতো পরিমাণ স্থবিরতার চর্বি জমিয়ে দিয়েছে যে আপনারা ভাবনা গত ভাবে অথর্ব হয়ে গেছেন। আসলে এই নিষ্কর্মা ভোঁতা করে রেখে দিয়ে আগামীতে যে জবাই করবেনা আপনাদের- তার গ্যারান্টি কে দিচ্ছে? শিক্ষক মানে তো আপনারা, সমাজের শিক্ষিত মানুষজনের দল, সরকারি বেতনের গাজরের সৌজন্যে আপনাদের সিংহভাগ শিক্ষক সদস্যই রাজনীতিকে ‘স্ত্রীর গুপ্ত প্রেমিক’ বা ততোধিক গর্হিত অপরাধের চোখে দেখেন।

যে সকল শিক্ষকেরা রাজনীতি সচেতন তাদের থেকে আপনারা বাকিরা ছোঁয়াচে দাদ-হাজা-এগজিমা রোগীর থেকে যেমন ছোঁয়াচ বাঁচায় তেমনটা এড়িয়ে চলেন, পাছে লোকে আপনাকে দেখে ফেলে। বর্তমানে সুস্থ রাজনীতি বোধকে আপনারাই আজ এই পর্যায়ে নিয়ে গেছেন। না নিজেরা চর্চা করেছেন না ছাত্রদের এ বিষয়ে শিখিয়েছেন। রাজনীতি বিষয়ে টুঁ বা রা টুকু কাটেননা। স্বভাবতই গাঁটকাটা, ওয়াগান ব্রোকার, সিঁধেলচোর, ক্লাস টু ফেল বা এই ধরনের নিকৃষ্ট লোকজন আজ রাজনীতির নিয়ন্ত্রকের আসনে বসে আপনার ভবিষ্যত নির্ধারণ করছে। একেই বলে নিয়তির প্রতিশোধ, যেমনটি দিয়েছেন তেমনটিই ফিরৎ পাবেন গুণে গুণে। আজকে আমার মত মানুষের সাথে আপনার আর বস্তুগত কোনো ফারাক নেই ডিগ্রিটুকু ছাড়া।

আগামীকাল যদি সত্যিই সরকার বলে- এতো শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মচারীর কি দরকার! কারণ ইতিমধ্যেই কিছু মুর্খ নেতা বলতে শুরু করেছে (a+b)2 এর ফর্মুলা আমাদের কোনো কাজে আসে, বা একজন মানুষের এতো ডিগ্রির কি দরকার, মার্কসীটের প্রয়োজন নেই ইত্যাদি। আগামীতে এরাই- ডারউইন শিখে কি লাভ! মানুষ তো ঈশ্বরের সৃষ্টি। সালোকসংশ্লেষ মাস্টারমশাই অপ্রয়োজনীয় কারণ এই সংজ্ঞা তো আমাদের জীবনে কোনো কাজে আসে না। কিম্বা ধরুন পামীর মালভুমি বা আন্দিজ পর্বত সম্বন্ধে জেনে কি লাভ সেখানে কি আপনি যাবেন কখনও এই প্রশ্ন তোলে! অথবা ইতিহাস পাঠের প্রয়োজন নেই সকলের- ইত্যাদি।

অতএব এক ধাক্কায় শিক্ষক সংখ্যা অর্ধেক করে দিতে ১০ মিনিটের জন্য সংসদের মাইক মিউট করে রাখাই যথেষ্ট। এই সপ্তাহেই ২ দিনে বিরোধী শূন্য সংসদে ১৫টা গুরুত্বপূর্ণ বিল পাশ করিয়ে নিয়েছে কোনো এথিক্সের তোয়াক্কা না করেই। সুতরাং বরখাস্ত হওয়া প্রাক্তন শিক্ষকেরা সেদিন আন্দোলনে নামবেন যাদের সদ্য চাকরি গেছে, কিন্তু আপনাদের পাশে সেভাবে কাউকে পাবেননা, কারণ অন্যদের দুঃসময়ে আপনারা কারো পাশে দাঁড়াননি। সেদিন বুঝবেন একটা অশিক্ষিত উন্মাদ রাষ্ট্রনেতাদের দল আসলে আপনাদের মাঝে আদর্শহীন আত্মকেন্দ্রিকতার ফসলের চাষ করিয়ে কৌশলে সমাজের ইউনিটিকে গুঁড়িয়ে দিয়েছে, এবং সমাজ থেকে আসলেই আপনি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন।

অতএব সাধু সাবধান। এখনও সময় আছে, পথে যেতে না পারলেও আওয়াজ তুলুন যতটা আপনার সাধ্য, অন্তত মুখটা হাঁ তো করুন, সমাজের মাঝে লড়াই করা মানুষগুলোকে ভরসা দিন যে আপনারাও তাদের সাথে রয়েছেন। এটুকুই তো চায় সমাজ।

মনে রাখবেন এই কেন্দ্ররাজ্য সরকারদ্বয় একটাও নতুন কোনো সরকারি স্কুল তৈরি করেনি, উপরন্তু নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া এক প্রকার বন্ধই রেখেছে। আপনারা শিক্ষিত, কিন্তু বাস্তব জ্ঞানের প্রয়োগ বিধির অভাবে কতো বড় ভয়ঙ্কর বিপদের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন সেটার অনুমানই করতে পারেননি।

চাল-ডাল-আলু পেঁয়াজ যদি অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের তালিকা থেকে বাদ যেতে পারে তাহলে সরকারি স্কুল শিক্ষকও একটা কলমের খোঁচায় অপ্রয়োজনীয় হয়ে যাওয়াটা কোনো কষ্ট কল্পনা নয় অন্তত আজকের পরিস্থিতিতে। কর্পোরেট সংস্থার সাথে সরকারের অবৈধ প্রণয় আজ স্বীকৃত, তাই মুনাফার লক্ষ্যে শিক্ষার বেসরকারি করণের পদক্ষেপ হিসাবে- গণহারে শিক্ষক ছাঁটাই অভিযান শুরু হওয়াটা কোনো অলীক কল্পনা নয়। এ ক্ষেত্রে এখনই যদিনা আপনারা আপনাদের কর্মস্থল স্বাস্থ্যবিধি মেনে খোলার জন্য আন্দোলন শুরু না করেন তাহলে আপনাদের কর্মজীবনের ভবিষ্যতে ঘোর অমানিশা অপেক্ষা করছে।

আপনারা স্যার/ম্যাডাম শিক্ষিত সমাজ, এ নিয়ে কারো কোনো প্রশ্ন নেই। আপনারা কারোর জন্য কোনো প্রতিবাদ করেননা সম্মিলিতভাবে, তথা আপনারা স্বার্থপর সেটাও স্বীকৃত। এবারে তো আপনাদের নিজেদের গলা’ই হাঁড়িকাঠে চড়তে চলেছে, আমরা অশিক্ষিত বা অর্ধশিক্ষিতেরা সেটা আঁচ করতে পারছি, আপনারাও তলিয়ে দেখুন এবং সেই মতো অবস্থান নিন। আমার অন্তত বিশ্বাস আছে যে চেষ্টা করলেই আপনারাও বুঝতে পারবেন গোটা বিষয়টা।

আমার এই প্রতিবেদন যদি ভিত্তিহীন হয় তাহলেও আমার ব্যাক্তিগত ক্ষতি নেই, সত্য হলেও ক্ষতি নেই, তাই আমাকে নিয়ে ট্রল, জোকস, বানানভুল ধরতে ধরতেই একটিবার ভেবে দেখুন- কাল সকালে আপনার সাধের চাকরিটি আর নেই- না মাঠে খাটতে জানেন না পারেন ব্যবসা। সঙ্ঘবদ্ধ ভাবে বাঁচাটাও শেখেননি, যেখানে আপনার দুর্দিনে পাশে পাশে কাউকে পাবে এমন শঙ্কাও ক্ষীন। অন্তত নিজের জন্য ভেবে ১% ভয় পেলেও অন্য অত্যাচারিতদের পক্ষে আওয়াজ তুলুন, তাদের পাশে দাঁড়ান। স্কুল খোলার জন্য আন্দোলন করুন, শিক্ষা দিন, সমাজ করে তুলুন- কারণ আপনারাই শিক্ষিত সমাজ, আপনারাই শিক্ষক।

নতুবা আপনি চরম একা আছেন, আরো একা হয়ে যাবেন। আত্মহত্যা করার জন্য দড়ি বা বিষ কেনার জন্য না আবার লোন করতে হয়।

ভালো থাকবেন।

বুধবার, ২৭ মে, ২০১৫

খোলা চিঠি ~ ৭


খোলা চিঠি


বেশ কয়েকদিন আগে আমাদের বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ একটা ফেসবুক গ্রুপে একটা ট্রল পোষ্ট হয়, যেখানে আমরা কয়েকজন বিশ্লেষনের অছিলায় এঁড়ে তর্কে জড়িয়ে পরি।

ফলস্রুতি হিসাবে লাভের ঘরে জমা হয়, ব্যাক্তিগত আক্রমন। যুক্তি সেখানে শেষ হয়, মুখ খারাপ বা "loose Talking " এর শুরু হয়।


আমাদের ই এক বন্ধু Soutik Hati এর সাথে আমার, সেটা বেশ বাড়াবাড়ির পর্যায়ে পৌছায়। #সৌতিক বাবু ও, উত্তেজনার বসে আমার উপর রাগে অগ্নিশর্মা হয়ে, আমার প্রানাধিক প্রিয় অন্যান্য বন্ধু সকল সহ ওই গ্রুপের Admin দের সম্বন্ধেও ও অবাঞ্চিত মন্তব্য করে ফেলেন। রাগের যেটা হয়ে থাকে আর কি।



ফলাফল স্বরুপ #সৌতিক দা গ্রুপ থেকে ন্যায্য কারনে বহিষ্কৃত হন। এবং তার সাথে #সুভম_দাস নামে আরেক বন্ধুর ও একই পরিনাম হয়।



এখন ইনবক্সে নিজেদের মধ্যে, প্রচুর ভালো-কালো আলোচোনার পর আমার মনে হয়েছে, আমি নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ব্যাক্তিগত আক্রমনে ব্রতী হয়ে ভুলই করেছিলাম। আমার আরো সংযত হওয়া উচিৎ ছিলো ভাষার ব্যাপারে।

ভুল সকলেই করে, আমরা তো মানুষ, ইমোশন গুলোকে কন্ট্রোল করতে পারি না সকল সময়। 


আমার আবেদন, আমার সহ #সৌতিকের অন্যায় টা সকলে নিজ গুনে মার্জনা করে দেবেন। যারা যারা প্রতক্ষ ভুক্তভোগী আবেদনটা সকলের কাছে। 


উন্মাদ হার্মাদ

তৃণমূলের প্ররোচনার ফাঁদে পা দেবেন না

⛔ সতর্কতামূলক পোষ্ট ⛔ আজ SIR এর ভোটারলিষ্ট বার হবার পর- জনরোষের দোহায় দিয়ে দিকে দিকে ‘সংগঠিত অশান্তি’ লাগাবার ‘ফুল প্ল্যান’ নিয়ে এগোচ্ছে শাা...