শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০২৬

মাননীয় Nawsad Siddique Mla Bhangar ,



আপনি আরাবুলকে নিয়ে ভোট করবেন নাকি বামেদের তথা CPIM West Bengal কে নিয়ে চলবেন, এই সিদ্ধান্তটা আপনাকে নিতে হবে আর সেটা দ্রুত নিতে হবে। 

আরাবুল ইসলামকে ক্যানিং পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রে আপনার দলের প্রতীকে প্রার্থী করবেন, নাকি গত পাঁচ বছরে বহু প্ররোচনা সত্ত্বেও এই ধর্মান্ধ, উত্তপ্ত ও বিষাক্ত পরিবেশে নিজেকে স্বচ্ছ ও সংযত রেখে এগিয়ে যাওয়ার প্রয়াসে- সংখ্যালঘু মানুষের মধ্যে একটি সুস্থ বিকল্প শক্তির ভাবনা সৃষ্টি করে, যা ক্রমশ বিস্তারের ফলে আশার আলো জাগিয়েছিল। সামান্য কিছু লাভের আশায় আজ এই SIR-সদৃশ গণতন্ত্র বিরোধী ও নাগরিকত্ব-হরণমূলক প্রচেষ্টার প্রেক্ষাপটে, আপনি এই পরিস্থিতির বিরুদ্ধে লড়াই করে চলা মানুষ গুলোর পাশে দৃঢ় সংকল্প নিয়ে দাঁড়াবেন, নাকি তৃণমূল, বিজেপি তথা RSS-এর সুবিধা করে দিয়ে ধর্মনিরপেক্ষ জোট ভাঙার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেবেন? সিদ্ধান্তটি আপনাকেই নিতে হবে।

আপনাদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব কেবলমাত্র মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। তোলামুলের স্পেসিফিক বামদমন নীতির অত্যাচারে বহু অমুসলিম সিপিএম সমর্থক যেমন বিজেপিতে লুকিয়ে পড়েছিল, তেমনই মুসলমানেরাও আপনার বা আপনাদের মতো দলে ভিড়ে রয়েছে। তাই ভাববেন না ঝান্ডায় বাঁধা ডান্ডার শক্তির সবটাই একান্তই আপনাদের নিজস্ব। আপনারাও হুমায়ুন আর মিমের সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন, সেটা আর গোপন নয়। সেখানে বিশেষ সুবিধা করতে পারেন নি। তৃণমূল আপনাদের সঙ্গে আসন সমঝোতা করবে না, অতএব আপনি নিজেকে বিরাট কোন মসিহা মনে করলে মূর্খের স্বর্গে বাস করছেন। আপনি মোদিজীর মতো কোনো অযৌন পদ্ধতিতে জন্মাননি, আপনাকে ২০২১ সালে রাজনৈতিক ভাবে জন্ম দেওয়া হয়েছিল আলিমুদ্দিন নামের হাসপাতালে, সারোগেসি সিজারিয়ান প্রসেসে।

এবারে একটু চাঁচাছোলা ভাবে কিছু কথা বলি-

জোটের নামে আপনার দল Indian Secular Front যে আসনগুলি দাবি করেছে, তার বাইরে পশ্চিমবঙ্গের কোনো একটা আসনে আপনাদের ভোট দিয়ে একজন বাম প্রার্থীকে জেতাতে পারবেন? মূলত দক্ষিণ ২৪ পরগনার ২-৪টে এলাকার বাইরে আপনারা একটা এমন আসনের নাম বলুন যেখানে আপনারা জামানত বাঁচাতে পারবেন, কিম্বা ১০% বুথে এজেন্ট দেওয়ার অউকাত আপনার দলের রয়েছে? বাংলার অন্তত ১৫টা জেলার অধিকাংশ মানুষ জানেইনা ISF বস্তুটা খায় না মাথায় দেয়! তামিলনাড়ুর PMK যতটা গুরুত্ব রাখে বর্ধমান, মেদিনীপুর, বীরভূম, নদীয়া, মালদা, মুর্শিদাবাদ সহ সমগ্র উত্তরবঙ্গে, আপনার দলের গুরুত্ব ঠিক ততটুকুই- অকিঞ্চিৎকর জবরদস্তি উপস্থিতি।

২০২৪ এর লোকসভা ভোটে বামেদের সাথে আপনাদের আসন সমঝোতা হয়নি, গোটা পশ্চিমবঙ্গের কথা ছেড়ে দিন, দক্ষিণ ২৪ পরগণার বসিরহাট, জয়নগর, মথুরাপুর- এই ৩টে লোকসভায় আপনারা তিন নম্বর ছাগলছানা হয়েছিলেন, এতোই আপনাদের মুরোদ। বামেরা দুর্বল বলেই তো আপনাদের সাথে দায়ে পরে আসন সমঝোতা করেছে, আপনাদের সাথে তো কোনো মতাদর্শ গত জোট নয় এটা। তথাপি, আপনি নিজে এমন কোনো সমাজ সংস্কারকও নন যে, গত ৫ বছরে ভাঙরকে দুবাই বানিয়ে দিয়েছেন সামগ্রিক উন্নতিতে, শিক্ষাদীক্ষায় ইরান বানিয়ে দিয়েছেন। ইরান তবু তার স্বল্পশক্তি দিয়ে আমেরিকা-ইজরায়েলের বিরুদ্ধে আপোষহীন লড়াই দিচ্ছে কাঠে-কপাটে, সেখানে আপনি RSS এর বিরুদ্ধে লড়াই তো দূরস্থান, সামান্য তোলামুলের ‘তাজা নেতা’র লোভে আপোষ করে ফেললেন।

মানুষ যেকোনো মূল্যে RSS এর দুই ফুলের হাত থেকে পরিত্রাণ চাইছে, সেই কারণে সিপিএম নিজে থেকে উদ্যোগী হয়ে RSS বিরোধী আর এই তোলামুল সরকারের বিরোধী প্রতিটা প্রান্তিক শক্তিগুলোকে একটা ছাতার তলায় আনার চেষ্টা করেছে, এতেই আপনারা নিজেদের বিশাল হনু ভেবে বসেছেন। সিপিএম, কংগ্রেসের মতো ঐতিহ্যবাহী শতবর্ষপ্রাচীন দলের সাথে জোটের মুখে পেচ্ছাপ করে দিয়েছে, সেখানে আপনারা তো স্রোতের পানা, এখনও হামাগুড়ি স্টেজে আছেন রাজনীতির মাঠে; হাত ছেড়ে দিলেই কিছুটা এগিয়ে গিয়ে ঘুর্ণিতে ডুবে যাবেন সময় পাঁকের তলদেশে। 

আমি আপনাকে প্রশ্ন করছি, বামেরা আপনাকে ভাঙড়, ক্যানিং জিততে সহযোগিতা করবে, আপনি কোন আসনে এমন শক্তিশালী আছেন যেখানে আপনাদের দলের সহযোগিতায় বামেরা জেতার স্থানে রয়েছে, অঙ্ক কষে সাংবাদিক সম্মেলন করে ঘোষণা করুন না হয়। বাই দ্য ওয়ে, আপনার যেখানে বাড়ি, সেই ফুরফুরা এলাকার পঞ্চায়েতের বুথগুলোতে আপনাদের প্রার্থীর জামানত বেঁচে ছিল শেষ ২০২৪ নির্বাচনে? আর লেজুরবৃত্তি না কি যেন একটা বলেছেন সম্প্রতি, ওসব বিজ্ঞবিচি মার্কা সংলাপ লুঙ্গির নিচে রাখতে হয়, কারণ ওগুলোকে আমরা ঝাঁটের বাল বলি।

সেলিম সাহেব যথার্থই বলেছেন ‘‘ওই ব্যক্তিকে ‘বগলদাবা’ করে তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াই করা যাবে না।’’ তবে, সেলিম সাহেবর কাছেও একটা প্রশ্ন রয়েছে, কাল হঠাৎ করে আরাবুল প্রসঙ্গ ইরানের হাইপারসনিক মিসাইলের মতো কাউকে সুযোগ না দিয়ে মাথায় ভেঙে পড়েনি। শেষ ২-৩ সপ্তাহ ধরে এটা চলছে। আপনারা তখন কি কানে আতর মেখে চাঁদনি রাতে শলমাজরির নক্সা দেখছিলেন? আব্বাস সিদ্দিকির সাথে আপনার তো ভাসুর-ভাদরবৌ সম্পর্ক নয়! শুরুতেই কেন বিড়াল মেরে দেননি যে- এ থাকলে আমরা নেই, রাস্তা দেখো। আপনার সারাজীবনের রাজনৈতিক লেগাসির কাছে এসব চার দিনের বৈরাগীর অদৌ দু-পয়সার গুরুত্ব আছে? আপনারা তো আবার ‘অফিসিয়ালি’ বাম জোটের সমন্বায়ক করে রেখেছেন- নৌসাদের ভাষায় বিমান বসু ‘স্যার’কে; যিনি প্রবাদপ্রতিম নেতা হয়েছেন দীর্ঘ নিরোগ জীবনের কারণে ও কলকাতা ভিত্তিক সমবয়সী কেউ বেঁচে নেই বলে। সুতরাং এমন জগাখিচুড়ি মার্কা রাজনোতিক ঘোলাটে অবস্থা হবে না তো কী হবে! হাতে গোণা কদিন পর ভোট, আর এ যেন ছাদনাতলায় বসে- কণে বলে, হাগা পেয়েছে। ছ্যাঃ 

এভাবে জোট হয়? এটা তো রাজনীতি প্যাঁচ, কারও ব্যক্তি পছন্দের ঘরের বারান্দা নয়। একটি আসনেও যদি বাম-ISF মুখোমুখি লড়াই হয় তাহলে সেটা সামগ্রিক লড়াই হিসেবেই ধরা হবে। যত দ্রুত সম্ভব বীরভূমের মুরারই এবং পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম ও পাঁশকুড়া পশ্চিম আসন থেকে ISF প্রার্থী প্রত্যাহার করুক, এবং সেটা কোনো ধরণের স্টান্টবাজি না করে। আমাদের মতো বাম কর্মী সমর্থকেরা কিন্তু আলিমুদ্দিনের নেতাদের মতো মার্জিত সভ্য ভদ্র নয় সকলে। খুনি কংগ্রেসকে কেলিয়ে লাট করে বাম কর্মী সমর্থকেরাই পার্টিকে ক্ষমতায় এনেছিল, আজ হোক বা কাল তোলামুলকেও তাড়াবে একই পদ্ধতিতে; তাতে যে সাথে দেওয়ার দেবে, না দিলে পথ দেখো। সারাটা বছর ধরে রাজ্যের প্রতিটা প্রান্তে রাজনৈতিক লড়াইটা মূলত ‘শূন্য’ সিপিএমই করে, তারা কিন্তু ক্যালানি সইতেও জানে, পালটা দিতেও জানে। 

বামেরা আদর্শবাদী দল, তাদের নিজস্ব ইডিওলজি রয়েছে, আগামী আরো ১০ বছর ‘সিপিএম শূন্য’ থাকলেও দলটা মুছে যাবে না। কিন্তু সিপিএম যদি হাত তুলে নেয় আপনাদের মাথার উপর থেকে, আপনাদের আবার ওই ঝাড়ফুঁকের ব্যবসা আর রাতের জলসাতে ‘ঠিক কি বেঠিক’ এর মাচার ব্যবসাতে ফিরে যেতে হবে।

নৌসাদ সিদ্দিকি, আপনার মাথায় ফেজ টুপিটা যতটা ইসলামকে মানার জন্য, তার চেয়েও বেশি ভেক ধরার জন্য। কারণ পীর ফকিরির নামে ‘ইসলাম’ ধর্মটাই আপনাদের ব্যবসার পুঁজি, টুপি পাঞ্জাবি ইত্যাদি ধাড়াচূড়া আপনাদের দোকান। ইসলামে ফেজ টুপি পরা ফরজ বা ওয়াজিব নয়। কোরানে বা সহীহ হাদিসে কোথাও বলা নেই যে নির্দিষ্ট এই টুপি পরতেই হবে। নবী(সাঃ) মাঝে মাঝে মাথা ঢাকতেন পাগড়ি বা কাপড় দিয়ে, কিন্তু সেটাও অবশ্য পালনীয় বিধান হিসেবে নির্ধারিত হয়নি।

আপনাদের ফুরফুরা শরীফ মুসলমান সমাজের জন্য এমন কোনো মহৎ কাজ করেনি গত ১০০ বছরে, যার জন্য বাঙালি সমাজ তো দুরস্থান, আপনার জেলার মুসলমানেরাও সার্বিকভাবে উপকৃত হয়েছে। অথচ আপনাদের বিপুল সম্পত্তি বেড়েছে পারিবারিক ভাবে। এর বাইরে ক্ষমতার লেজুরবৃত্তি করা আপনাদের ফুরফুরার চরিত্র। চাচা সিদ্দিকি সারাজীবন মান্নীয়ার চটি চেঁটে গেছে, নতুক করে আরেকটা কাছিম সিদ্দিকিকে পাঠিয়েছেন। সেলিমের বদান্যতায় আব্বাস সিদ্দিকি পায়ের নিচে রাজনৈতিক মাটি আর মানুষ হিসাবে সমাজে স্বীকৃতি পেয়েছিল। 

মুর্খের নানা দোষ, সে তার অউকাত চেনে না। চেয়ে খাওয়া আর ঝাড়ফুঁকের নামে চিটিংবাজি করে রোজগার করা আপনাদের পরিবার, স্বভাবতই আপনাদের চক্ষুলজ্জাহীন একটা নির্লজ্জতার ঐতিহ্য আছে। সাধারণ লোকে যেটাকে ধর্মকে হিসাবে পালন করে, আপনারা সেটাকে বিক্রি করে খান, আপনাদের কাছে সবকিছুই ক্রয়বিক্রয়ের পণ্য। আপনারা অনুকূল ঠাকুরের মুসলমান ভার্সন। আপনাদের সিদ্দিকি পরিবারের উঠোনে যদি ইজরায়েলের লিকুদ পার্টিও দুটো টিকিট ছুঁড়ে মারে টাকার ঝুলি সহ, আপনাদের পরিবারের অধিকাংশ জনই নেড়ি কুত্তার মতো জিভ দিয়ে সেটাই চেঁটে নিয়ে কামড়াকামড়ি করবেন। এই হচ্ছে আপনাদের পারিবারিক অউকাত। সুতরাং, লেজুরবৃত্তিই আপনার আজকের তারিখে অউকাত।

যদি আরাবুলকে নিয়েই আপনাকে ভোট করাতে হয়, করুন। আলিমুদ্দিনের লেজুরবৃত্তি করতে হবে না। আপনাদের মুরোদ থাকলে একতরফা জোট ভেঙে দিয়ে একলা লড়ে দেখান, বুঝবো বাপের ব্যাটা আপনারা। আলিমুদ্দিন ছিল বলে পায়ের নিচে রাজনৈতিক জমিটা পেয়েছিলেন, আবার আলিমুদ্দিন সরে গেলে আপনার রাজনৈতিক অস্তিত্ব মুছে ওই জলসা, জলপড়া, তাবিক কবজের নামে লোকঠকানো ব্যবসার পাশাপাশি আপনি প্রতিকুর হবেন না পাতি কুকুর হবেন নিজেও জানেন না।


আর এটাই সম্ভবত এটাই আপনাদের ভবিষ্যৎ।



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

হুমায়ূন ও হাজার কোটির ডিলের ভিডিও

  না মানে আপনি আজকে টের পেলেন যে হুমায়ুন কবির মানুষটা আসলে খারাপ লোক! নতুবা এতদিন উনি নিরীহ নিষ্পাপ ও ‘নির্দোষ’ ছিলেন! না মানে, আপনি যে এমন ...