মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬

মাননীয়া মমতা ব্যানার্জী

আজ আমি অনেকক্ষণ ধরে ভাবলাম, যা বুঝলাম- আমি সত্যিকারের একজন মমতাপ্রেমী মানুষ, আপনার সবচেয়ে জাবড়া ফ্যানদের মধ্যের শীর্ষস্থানীয়। আমি চটি চাঁটা নই, কারণ ক্ষমতায় থাকাকালীন আপনি সর্বনাশ ছাড়া আমাকে কিছু উপহার দেননি; সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পারিবারিক ভাবে আমাকে রিক্ত, নিঃস্ব ও সর্বস্বান্ত করে ছেড়ে দিয়ে ছিলেন। ঘরদোর ছেড়ে আজ বিদেশ বিভূঁইতে আদাড়ে পাঁদাড়ে খুঁটে খাচ্ছি পেটের দায়ে। সবই তো আপনার প্রত্যক্ষ দয়াতে, ফলত আমি প্রকাশ্যে আপনাকে শালীনতার মধ্যে রোজ গালিগালাজ করেছি, যতটা আজকের ২০৭ জন বিজেপির বিধায়কেরাও করেনি। 

আপনার প্রতি ভালোবাসা কতটা থাকলে, আজকে যখন আপনি কিছুই নন - তখনও আপনাকে নিয়ে লিখছি। এখানে বাজারে বিকাশ-কান্ড আছে, লাখে লাখে আপনার চোর ভাইদের কেলানি খাওয়ার বিচিত্র মডেল ঘুরে বেড়াচ্ছে, গরু কোরবানি, রাস্তায় নামাজ, ডায়মন্ড মডেল, মেলোডি হানিমুন, এই সমস্ত ইস্যু রয়েছে- সব ছেড়ে আজও আপনাকে নিয়েই লিখছি। দিস ইজ কলড ট্রু লাভ।

সত্য বলতে, স্টকহোম সিনড্রোমের মতোই আমি আপনার মোহে আকৃষ্ট হয়ে গেছি। বিগত ১৫ বছর ধরে আমাদের অস্তিত্বের মাঝে আপনি বিলীন হয়ে গিয়েছেন, রন্ধ্রে রন্ধ্রে আপনি ছিলেন রক্তের অক্সিজেনের মতোই। অধিক উচ্চতায় গেলে যেমন শ্বাসকষ্ট হয়, মেজো খোকার ‘সেমি’ হিন্দুত্বের রাজত্বে আপনার অভাবে আমারও কেমন হেপো রোগীর দশা হয়ে গেছে। মাইরি বলছি, আপনার পোঁয়াপাকা ভাইপোর দিব্যি। ভাষণের নামে ধমকানো চমকানো, আমলাদের কুত্তা বানিয়ে রাখা, মঞ্চ জুড়ে দাপিয়ে বেড়ানো, পিছনে এক মঞ্চ সুশীল ভাতাজীবী ধান্দাবাজদের জুলুজুলু চোখে তাকিয়ে থাকা, আমরা এটাতেই তো অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিলাম। মেজোখোকার কোনো কিছুতেই কোনো এন্টারটেইনমেন্ট নেই, সব যেমন কেমন কাটখোট্টা, জোলো স্বাদের। 

গাইয়ে নাচিয়ে আর এক্টো করনেওয়ালা/ওয়ালিদের ভিড় আর তাদের সমঝদারবাবুদের দিয়ে, সংসদ ভবন থেকে রাজ্য বিধানসভা, গোটা সংসদীয় সিস্টেমকে যেভাবে বাইজিবাড়ি বানিয়ে রেখেছিলেন, সেই অভ্যাসে এভাবে ছেদ পড়তে- ভীষণ হতাশাতে ডুবে গেছি। যেখানেই বাইজি বাড়ি সেখানেই মাতাল, লম্পট, দুশ্চরিত্র, ধর্ষক, খুনি, চোর ডাকাতদের ভিড় থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। আপনি তাদেরকেও নিরাশ করেননি, কিছু উচ্চস্তরীয় ওই জাতের দুষ্কৃতীকে সাংসদ বিধায়ক বানালেও- বাকি প্রায় সকলকে পঞ্চায়েত স্তরের প্রতিটা রাষ্ট্রীয় প্রাতিষ্ঠানিক পদে বসিয়ে, একটা নিবিড় কর্মসংস্থান গড়ে দিয়েছিলেন। রাজ্যের ৮৮ হাজার বুথে অন্তত ৪ লক্ষ নানান মাপের শিল্পী ‘চোর ডাকাত'দের সম্মানের সাথে চৌর্যবৃত্তির দোকান খুলে দিয়েছিলেন, আজ এরা প্রত্যেকে মাতৃহীনা হয়েছে আপনার চেয়ার গেছে বলে। যদিও চেয়ার আপনি ছাড়েননি, ‘ওরা’ আপনাকে তাড়িয়ে দিয়েছে। 

দুনিয়ার সমস্ত ওঁচা মালগুলোকে এভাবে সংগঠিত কেউ করতে পেরেছিল আপনার আগে? আজ শুধুমাত্র আপনার অভাবে এই তাজা কর্মঠ অপকর্মাগুলো ঘরছাড়া, উন্নয়নের জোয়ারে এদেরকে আপনি ভাসিয়ে এনেছিলেন, গেরুয়া গ্রহণ লেগে ভাটির টান আসতেই স্রোতের ‘গু’ এর মতো এরা সকলে এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে। আপনার শাসনামলে পকেটমারি, কেপমারি, ছিঁচকে চুরি, বাস ডাকাতি, ওয়াগন ব্রেকিং, ব্যাঙ্ক লুঠ, ছিনতাই জাতীয় সমস্ত কুটির শিল্পগুলো লুপ্তপ্রায় করে দিয়েছিলেন। এই শিল্পীদের প্রত্যেককে ভবনে বসিয়ে মা-মাটি-মানুষ এর সরকার বানিয়ে ছিলেন। আজ কীভাবে আমরা চোর নয় (আপাত) কাউকে বিভিন্ন প্রশাসনিক পদে সহ্য করতে পারব! সিভিক পুলিশের কথা সকলে জানে, কিন্তু সিভিক শিক্ষক, সিভিক প্রশাসক, সিভিক মন্ত্রী- আজ সকলেই জারজ সন্তানের মতো বেদনা বিধুর। অথচ, আপনি যদি আইন করে সিভিক মুখ্যমন্ত্রীর পদ বানিয়ে রাখতেন, সেই আইনের বলেই আপনি আজ অল্প হলেও তো ক্ষমতাধর থাকতেন, আজ আমাদের এভাবে কষ্ট পেতে হতো না।

আপনি শুধু শিল্পের সংজ্ঞাই বদলে দেননি, আপনি শিক্ষা স্বাস্থ্য সমাজ রাজনীতি অর্থনীতি সমস্ত কিছুর পরিভাষা বদলে দিয়েছিলেন। সন্তানকে ভাইপো হিসাবে প্রতিষ্ঠা কতজন করতে পেরেছে সভ্যতার ইতিহাসে? কাশের বালিশে শুইয়ে, সিঙ্গুরের সরষের তেল দিয়ে- নান্দনিক শিল্পের পায়ুমর্দনও যে নান্দনিক ভাবেই করা যায়, সেটাও তো আপনারই অতুল্য কীর্তি। বাঙালির দেশে বিহারি মেড়োদের প্রতিষ্ঠা করেছেন, অশিক্ষিত নেড়ে মোল্লাদের ভিক্ষা দিয়ে দুধেল গাই বানিয়ে ফেলা যায়, তা তো আপনার উদ্ভাবনী। ধর্ষিতা, মৃত লাশ হয়ে ইমাম মুয়াজ্জিন আলেম কিম্বা পুরোহিত, প্রত্যেকের যে রেট হয়- সেটাও তো আপনার দুরদর্শী আবিষ্কার। রাজ্য সরকারি কর্মীদের যে ঘেউ এর পর্যায়ে নামানো যায়, শিক্ষিত আঁতেল বুদ্ধিজীবী সমাজকে ভাতাজীবী বানিয়ে তাদের চাকরবাকরের পর্যায়ে এনে, উলঙ্গ করে ওদেরকে সমাজের সামনে ন্যাংটা করে তুলে ধরা- আপনি ছাড়া আর কেউ কি করেছে! আজ আপনাকে আমি মিস করব না? সংখ্যালঘু তোষণের প্রচারের আড়ালে RSS এর এমন বিস্তার স্বাধীনতার পর কেউ করতে পেরেছিল বাংলার জমিনে? অথচ আপনি যে চরম সাম্প্রদায়িক একজন নিকৃষ্ট ব্রাহ্মণ্যবাদী মহিলা, যার ক্ষমতার মানচিত্র কেবল দক্ষিণ কোলকাতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ- সেটা নিয়ে কাউকে প্রতিবাদ করতে দিয়েছিলেন!

আজ প্রায় কুড়ি দিন হতে চলল, আপনার ওই শ্বাপদের মতো  পদচারনা করে বক্তব্য মঞ্চায়ন হতে না দেখে- জীবনটা কেমন যেন ফাঁকা ফাঁকা হয়ে গিয়েছিল। কী যেন নেই, কী যেন নেই সারাক্ষণ এক অদ্ভুত শূন্যতা কাজ করছিল, আজ আবার বক্তব্যের নামে মুখ দিয়ে অশ্রাব্য নরগোবর গ্যাসের নিঃসরণ শুনে- আত্মায় একটা পাশবিক তৃপ্তি পেলাম। বড্ড মিস করছিলাম আপনাকে। আপনার দলের ব্লক প্রেসিডেন্ট এর দল, যারা আবার অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসাবে BDO পদও সামলাতো, আপনার দলের সেক্রেটারিরাও আজ পাল্টি মেরে দিয়েছে- যারা প্রতিটা থানার বড়বাবু সেজে বসে ছিলেন। সবাই ভাবছে আপনি কেন রাস্তায় নেই, আরে গর্ধব মাথামোটার দল- তোরা তো তবুও কাঁদছিস; ভেবে দেখেছিস কখনও- যার অনুপ্রেরণাতে তোরা এতদিন করে কম্মে খেয়েছিস, তিনি মানে আপনি তো পাথর হয়ে গেছেন। তোরা অল্প শোকে কাতর, আপনি অধিক শোকে পাথর। পাথর কখনও কাঁদে? পাথরের মূর্তি বানিয়ে তার পূজা করতে হয়। আসলে আপনি দেহত্যাগ করছেন না বলে পুজোটা শুরু হচ্ছে না, কবীর সুমোন্দা প্রস্তাবিত মন্দিরটাও তৈরি হচ্ছে না। 

সত্যি বলতে আপনি তো ৪ তারিখে রাজনৈতিকভাবে মারা গেছেন, বিষাক্ত সাপের খোলস দেখে যেমন পক্ষীকূল ভয় পায়, তেমনই কেউ কেউ ভয় পাচ্ছে হয়ত আজও আপনাকে দেখে। অনেকেই মিথ্যা ভ্রমে রয়েছে, আপনি আবার জ্বলে উঠবেন। নষ্টপল্লীর মহিলারা যৌবন হারালে প্রথমে সেই পাড়ারই মাসী হয়, এর পর কোনো বাবুর বাড়ির কাজের লোক, তারপর কোনো মন্দির চত্বরের ভিকিরি। আপনি রাজনৈতিক পতিতাপল্লীর মাসী থেকে আজ ভিকিরি, বাকি জীবনটা দয়া আর সহানুভূতি ভিক্ষা করেই কাটবে। যত দিন যাবে তত আপনি ফেকলু হয়ে যাবেন। সবাই অত্যন্ত তৃপ্তির সাথে আপনার ঔদ্ধত্বের পতন দেখতে আগ্রহী। একটা করে দিন যাবে, আপনাকে শেয়াল কুকুরে লাথি ঝাঁটা মারবে। 

আপনি নোটার সাথে লড়তে লড়তে হাঁফিয়ে গিয়ে ফেসবুক লাইভে এসে মড়াকান্না কাঁদবেন, দেওয়ালকে কবিতা শোনাবেন, শূন্যের ক্যানভাসে কোটি টাকার ছবি আঁকবেন, গলির নেড়িটার সাথে রেশ দিয়ে গান গাইবেন, কবিতার নামে শব্দ হাগবেন। ১৫ বছর ধরে উত্যক্ত করে, আমার মতো কত লাখ মানুষকে সর্বস্বান্ত করে,  দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটা মুহূর্তকে নাকালে জেরবার করা একজন অসভ্য, ইতর, চোর, মিথ্যাবাদী, নির্লজ্জ, বেহায়াকে এমন অসহায় দেখতে পাওয়ার চেয়ে সুখ- আর কিচ্ছুতে নেই, কিচ্ছুতে নেই। আপনি কাঁদতে থাকুন, প্রতিটা ফেসবুক লাইভ আমি দেখবোই দেখব, কথা দিলাম। আর প্রার্থনা করব, আমার মেয়ের নাতি যেন আপনাকে জীবিত দেখে যায়, যখন আপনি অন্ধ হয়ে প্রতি মুহূর্তে মৃত্যুকে কামনা করে তাকে খুঁজে ফিরবেন। এটুকু শুভনন্দন তো করতেই পারি, কী বলেন! 

জয় বাংলা
জয় তোলাবাজি
জয় কাটমানি

শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬

কোরবানি ও শুভেন্দু সরকার

শুভেন্দু সরকারের কাছে আসন্ন কুরবানিটা পার করা এই মুহূর্তের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। শ্যাম রাখি না কুল দশায় আঁটকে- গো হত্যার নির্দেশ দিলে ভক্তকুল ক্ষেপে যাবে, না দিলে মুসলমান পাড়ায় হওয়া অশান্তির চেয়েও, পশুপালন ইন্ড্রাস্ট্রির স্ট্রাকচারটা ভেঙে যাবে, যেটা সরকারের আমলারা জানে। শুভেন্দু সরকারের এই হাল আমাদের মতো অনেকের কাছে এক উপভোগ্য বিড়ম্বনা। 

গরু কি শুধু মুসলমান খায়? দেশের ২০ শতাংশ সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী, যাদের মাঝে জৈন ছাড়া সকলেই গোমাংস খায়। ৯% আদিবাসীদের সকলে গরুও খায়, শুয়োরও খায়। দেশের ১৭% তফশিলি, যাদের মাঝে চামার দলিত শ্রেণির তারাও প্রায় সকলেই গোমাংস খায়, সস্তার প্রোটিনের উৎস হিসাবে। এছাড়া বহু উচ্চবর্ণের হিন্দুও কোনো না কোনো সাহাবুদ্দিনের বাড়িতে ‘তিন বাটি’ খেতে চলে যায়, প্রকাশ্যে স্বীকার করে না। দেশের প্রায় অর্ধেক জনগণ যেখানে গরু/মহিষের মাংস খায়, সেখানে কীভাবে বিজেপি গোমাংস বন্ধ করতে পারবে? হ্যাঁ, যেটা সম্ভব সেটা হলো প্রকাশ্যে গোহত্যা বন্ধ, আর এটাকে সমর্থন করা উচিত। কোলকাতার বিফ হোটেলগুলোতে কি শুধু মুসলমানেরা খায়? একবার জরিপ করে দেখে নেবেন না হয়!

অনিয়ন্ত্রভাবে গরু/মহিষ জবাই কেন বিজেপি বন্ধ করতে চায়, সবার আগে এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে। বিজেপি কিন্তু কেরল, গোয়া, সিকিম বা উত্তরপূর্ব ভারতে গোহত্যা বিরোধী নয়, সেখানে প্রকাশ্যে সমর্থন না করলেও বিরোধিতা করে না। সেখানে আবার মিথুন তত্ত্ব বিরাজমান। বিশ্বে গোমাংস রপ্তানিতে ভারতের স্থান দ্বিতীয়, যার বাজার মূল্য ৩.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ভারতীয় মূল্যে ৩২ হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি। এই রপ্তানি কোম্পানিগুলোর মালিকদের অধিকাংশই জৈন, মারোয়াড়ি ও বর্ণ হিন্দু পরিবারের লোকজন, মুসলমানও তাদের মধ্যে রয়েছে আলানা ও লুলু গ্রুপের মতো। অতুল সাবরওয়াল, সুনীল কাপুর, অজয় সুদ, মদন এ্যবটেরা কোটি কোটি টাকা ইলেকশন বন্ডের মাধ্যমে চাঁদা দেয় বিজেপিকে। সুতরাং, এই চাঁদা ওয়ালাদের রিটার্ন গিফট তথা তাদের ব্যবসা সুরক্ষিত করার জন্য, সস্তায় গরু সাপ্লাই দেওয়াটা বিজেপি তথা RSS এর দায়িত্ব। এই কারণেই দেশের গোমাংস খোরদের ‘গোরক্ষা সমিতির’ মাধ্যমে গোহত্যা আঁটকে দিয়ে, সেই গরু যাতে বিজেপির কনফিডেন্সে থাকা গোমাংস রপ্তানি করা কোম্পানির কসাই খানায় পৌঁছে যায় এটাকে নিশ্চিত করে। এটাই মূল ও সহজ সত্য। 

বিজেপি সরকারে এলেই তারা গরু, শুয়োর, মন্দির মসজিদ ও পাকিস্তান নিয়ে আসে। পশ্চিমবঙ্গের সীমানাতে পাকিস্তান নেই, তাই পূর্ব পাকিস্তান আর অনুপ্রবেশ এনে ফেলেছে, যদিও সেই অনুপ্রবেশের ৯৯%ই অমুসলিম। তবে ২০১৬ নাগাদ গরু নিয়ে দেশ জুড়ে যে সেনসেশন ছিল, আজ তার ভগ্নাংশও নেই, তাই বাংলাতে গরু রাজনীতি লকলকে বেড়ে ওঠার আগেই মুখ থুবড়ে পড়েছে। গরু জবাই নিয়ে তোলামুলের ৮০ পিস বিধায়ক এবং তাদের সিভিক আইনজীবী নেত্রীর কিছু বক্তব্য শোনা গেছে কি? আসলে বক্তব্য এলে এদের পিতা নাগপুর থেকেই কান মুলে দেবে। গোমাংস রপ্তানি কোম্পানির থেকে প্রাপ্ত আয় নাগপুরেরও অন্যতম বড় উৎস, রুটিরুজিতে কাউকে বরদাস্ত করবে না ওরা, তাই এরাও চুপ। 

গত কালকের সরকারি নোটিফিকেশন পড়ে যা বুঝলাম, এক কথায় গো-মাতা বৃদ্ধ ও অচল হলে জবাই করে খাওয়া যাবে। কোরবানি সংক্রান্ত রাজ্য সরকারের ফরমানে নতুন কিছু নেই, যা ১৯৫০ সালের কংগ্রেস প্রণীত আইনে ছিল, আজও সেটাই আছে। সেই আইনের পাশাপাশি ০৫/০৭/২০২২ তারিখে জাস্টিস অরিজিৎ ব্যানার্জী ও জাস্টিস রাই চট্টোপাধ্যায়ের একটা ডাবল বেঞ্চের রায়, ১৭/০৭/২০২৩ তারিখে কোলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি জাস্টিস শিভগনামনের একটা রায়ের কপি জুড়ে দিয়েছে ১৩/০৫/২০২৬ এর নবান্নের অধ্যাদেশের সাথে। যেটা অনুচ্চারিত সেটা হল, আমরা শুধু সংবিধান আর আদালতের অর্ডার ইমপ্লিমেন্ট করেছি মাত্র। তাই যারা গেল গেল রব তুলছে তারা আসলে ইচ্ছাকৃত তুলছে, যাতে তৃণমূল কংগ্রেসের দুধেল গাই রাজনীতি জীবিত থাকে এবং RSS এর প্রচ্ছন্ন মদতে এগুলোকে সমাজমাধ্যমে ছড়ানো হচ্ছে যাতে অস্থিরতাটা বজায় থাকে।

☞ পাবলিক প্লেসে কোরবানি করা যাবে না।
☞ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ও ভেটেরিনারি ডাক্তারের যৌথ সার্টিফিকেট লাগবে।
☞ লোকালে সার্টিফিকেট না পেলে রাজ্য সরকারের কাছে দরখাস্ত করতে হবে।
☞ অমান্য করলে ৬ মাসের জেল কিম্বা ১০০০ টাকা জরিমানা হতে পারে অথবা দুটোই হতে পারে।
☞ গরুর বয়স ১৪ বছরের বেশি হতে হবে, কাজের জন্য সম্পূর্ণ অযোগ্য হতে হবে অথবা আঘাতপ্রাপ্ত কিংবা নিরাময়-অযোগ্য রোগে আক্রান্ত হতে হবে, তবেই সার্টিফিকেট পাওয়া যাবে।

অসুস্থ গরু কখনোই কুরবানি হবে না, আর সুস্থ গরু কুরবানির বৈধ সার্টিফিকেট তুমি পাবে না, তাহলে? এলাকার ভেটেরিনারি ডাক্তার না হয় সরকারি কর্মচারী, তাকে তো পাওয়া যাবে; কিন্তু পঞ্চায়েত সমিতির যিনি সভাপতি, তিনি তো তোলামুলের- তাকে কীভাবে পাওয়া যাবে! সে তো ধনেপ্রাণে বাঁচার তাগিদে এলাকা ছাড়া, তাহলে! কোন রকম অসুস্থ প্রাণি কুরবানির জন্য কতটা সঠিক সেটাও তো ধর্মের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে হবে। সুতরাং, ব্যক্তিগত ভাবে আমি মন থেকে চাইছি এ বছর কুরবানি গরু বাদে অন্য কিছুতে হোক, উত্তরটা সময় দিয়ে দেবে। যদিও গরুর বয়স মাপের যে একক, সেটা বেশ জটিল; ফলত এই জানালা খোলা রেখে শুভেন্দু সরকার বিড়াল মারার বন্দোবস্ত করে রেখে দিল। 

টিভি চ্যানেলে আজকাল সবকিছুই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খবর, সব কিছুই ব্রেকিং নিউজ। কিন্তু যতক্ষণে এ সব সংবাদ টিভিতে আসে, তার বহুক্ষণ আগেই সোশ্যাল মিডিয়াতে চলে আসে, তাহলে কেন কেউ টিভি চ্যানেল দেখবে! তাছাড়া ২৪ ঘন্টা ধরে চালাবার মতো খবর কই! অতএব, রাস্তায় ঈদের নামাজ আর কোরবানি উপলক্ষে ওই ২টো লাইনই সারাদিন ধরে চেঁচিয়ে যাচ্ছে। যে বা যারা এই চ্যানেল ভুল করে দেখে ফেলছে, ভাবছে- উফ, বিজেপি সরকার কী চাঁদমারিটাই না করে ফেলেছে হিন্দু হিতার্থে। মোদ্দাকথা, এমন কিছু দেখাও যেগুলো একটা শ্রেণির অ্যাড্রিনালিন ক্ষরণ ঘটবে, কেউ তুরীয় সুখে দেখবে, কেউ আতঙ্কে বারবার শিহরিত হতে চেয়ে দেখবে।

বিজেপির আঁটিসেল যতটা প্রোপ্যাগান্ডা চালাচ্ছে মসজিদ বা গরু নিয়ে, তার চেয়েও মমতার দুধেল গাইগুলো AI জেনারেটেড পোস্টার ভিডিও দিয়ে বেশি বেশি মিথ্যাচার ও আতঙ্ক তৈরির চেষ্টা করছে। আজকে ১০ দিন হলো বিজেপি ক্ষমতায়, সেই অর্থে বড় কোনো সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার খবর নেই, এটা তোলামুল ও তাদের কাঠমোল্লাগুলোর জন্য বুকে ব্যথার বড় কারণ। বিজেপি এই মুহূর্তে ক্ষমতায়, তাদের সেভাবে দাঙ্গার আর প্রয়োজন নেই অন্তত পঞ্চায়েত ভোটের আগে, কিন্তু দুধেল গাই সমাজে ‘বিজেপি জুজু’ জিইয়ে রাখতে গেলে কামব্যাক করতে চাওয়া তৃণমোল্লাদের জন্য দাঙ্গা একান্ত আবশ্যিক; সুতরাং প্রোপ্যাগান্ডায় কোনো মন্দা আসেনি বরং বেড়েছে। তোলামুল ক্যালানি খেলেই মুসলমান এর জামা পরে নিচ্ছে, যেটা পক্ষীদের গর্গ করতে পারেনি বলে অ্যারেস্ট হয়ে গেছে। আগের দিন সুজিত গেছে, আজ রথিনের পালা, মুসলমান সাজার উপায় নেই এদের।

গো-পালন মূলত আমাদের রাজ্যের সদগোপ সমাজ আর আদিবাসী সমাজ করে। ১০টা হেলে/বদল গরু বছরে বেচতে পারলে লাখ তিনেক টাকা আমদানি হয়ে যায়, যা দিয়ে একটা পরিবারের সারাবছর চলে যায়। আরেকটু বিশদে গিয়ে বলা যায়- ভূমিহীন কৃষক, তফসিলি জাতি, বেশিরভাগ কৃষিজীবী পরিবার দুধ ও গোবর জৈব সারের জন্য গরু পালন করে। রাজ্যের ৮০% গোপালন অমুসলিম সম্প্রদায় করে, কিন্তু গরু কেনাবেচা, পরিবহণ, চামড়া শিল্পের সাথে যুক্ত ৮০% এর বেশি মানুষ মুসলমান সম্প্রদায়ের। এখানেই হচ্ছে RSS মূল সুবিধা, যদিও সমাজের নিচুতলায় এই ইকোসিস্টেম শতকের পর শতক ধরে চলছে কোনো সমস্যা ছাড়াই। তাই গো-রক্ষা সমিতির নামে সনাতনী জঙ্গিগোষ্ঠী বানাতে হয়েছে রাজ্যে রাজ্যে। সেই সনাতনী গোরক্ষা সমিতির যে নেতা, তাকে বানানোই হয়েছে রোজ মগজধোলাই করে লুম্পেনগিরি করার জন্য, সে কেন আজ ইকোনোমিকস বুঝবে? অতএব শমীক যতই ক্যামেরার সামনে সাধু সন্তের মতো প্রবচন দিন, শুভেন্দুর সরকার যতই কৌশল অবলম্বন করুক কোরবানিটা উতরে দিতে, গোরক্ষা বাহিনীর দল তান্ডব করবেই কিছু পকেটে।

পশ্চিমবঙ্গে কুরবানির বাজার বিশাল অর্থনৈতিক মার্কেট। কমবেশি ৮ লাখের উপরে গরু জবাই হয় শুধুমাত্র ঐ ১ দিনে। একটা সুস্থ স্বাভাবিক প্রমাণ সাইজের গরুর দাম ২০-২৫ হাজারের মধ্যে হয়। কোরবানির বাজারে সেটাই নূন্যতম ৩৫-৪৫ হাজারে পৌঁছায়। দালাল, হাটমালিক সম্মিলিতভাবে এই অতিরিক্ত দামের থেকে ১০০০ টাকার বেশি ভাগা পায় না, অর্থাৎ সেটা যিনি গোপালক তিনিই পায়। এই ৮ লাখ গরু, তাকে কেন্দ্র করে কমবেশী ৫০০০ কোটির ব্যবসা, যার সাথে হাড়, চামড়ার ব্যবসা, মুচি, পরিবহন, সব মিলিয়ে বিপুল টাকার ব্যবসা। যে ৯টা জেলায় শাসক বিজেপি একচ্ছত্রভাবে জিতেছে, অরতিটা জেলায় পশুপালন বেশী, সমস্যার সুত্রপাতও এখান থেকেই হবে।

সুতরাং, গরু কাটা বন্ধ হলে মোটেও সেটা অনায়াস হবে না রাজ্যের পশুপালক সম্প্রদায়ের জন্য। কোরবানির টাকাটা না এলে দুধ/ঘি/পনির সমস্ত শিল্পে তার আঁচ পড়বে, ভয়াবহভাবেই পড়বে। উত্তরপ্রদেশে বুলডোজার দেখে খুশি হওয়া বীর সনাতনীরা যারা গানও বেঁধেছিল বুলডোজার আর যোগীকে নিয়ে, আজ চোখের জলে তারা মূল্য চোকাচ্ছে। বাঙালি ততটা শিক্ষা না নিলেও, উন্মত্ততার পাগলা ঘোড়ায় কিছুটা লাগাম যে পরবে বা পরেছে তাতে সন্দেহ নেই। ধর্ম নিয়ে রাজনীতি ততক্ষণ দেখতে ভালো, যতক্ষণ না সেটা নিজের ঘরের ভেতরে সেটা ঢুকে যাচ্ছে।

বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬

বামেদের 'শিক্ষিত' ভ্রান্তিবিলাস

যাক পেরেছেন, সেলিম সাহেব এ যাত্রায় পেরেছেন, 
যাক শুরুটা তো হলো, এটাই কি কম আশার কথা!

সিপিএমের কথা বলছিলাম, রাজ্য জুড়ে আক্রান্ত হচ্ছে তৃণমূলের লুঠেরা বাহিনী সন্দেহ নেই, কিন্তু কিছু কিছু পকেটে সাধারণ মানুষও আক্রান্ত হয়ে চলেছে, মূলত মুসলমান সম্প্রদায় টার্গেট হলেও ওই দলে নিম্নবর্নের হিন্দু ও আদিবাসীও রয়েছে। ধনী শ্রেনীর কোনো তোলামুল বা সাধারণ মানুষ আক্রান্ত হয়েছে বলে এই অপবাদ- আজ এই লেখার সময় অবধি নেই। ধনী মুসলমান অবধি আক্রান্ত হওয়ার খবর নেই। জনগণের তো আর রঙ হয় না, তারা ভোটার, আজ ফুলের তো কাল কাঁচির, এদের জন্যই তো এত সভা-সমিতি-বক্তৃতা-প্রকল্প-নীতি-আদর্শ। এই আক্রান্ত জনগণের পাশে গিয়ে দাঁড়াবার দরকার ছিল সিপিএম দলের, একে তো এরা গরিব মানুষ, তথাপী এরাই তাত্ত্বিক বামপন্থার ‘শ্রেণিবন্ধু’। দেরি করে হলেও, এবারে সিপিএম জেলা অবধি যেতে সক্ষম হয়েছে। 

বামেদের মানে সিপিএমের সমস্যাটা কোথায়! লাল ফিতের ফাঁস হলো মূল সমস্যা। ধরুন, কারও বুকে ব্যাথা উঠেছে, কোন হাসপাতালে নিয়ে যাবে, তার চেয়ে বড় প্রশ্ন হচ্ছে আদৌ হাসপাতালে নিয়ে যাবে কিনা সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন জেলা বা রাজ্য কমিটির থেকে অনুমতি নিতে হবে। ততক্ষণে রুগী পটল তুলেছে। হুগলির নেতা পাশের জেলা পূর্ব বর্ধমানে বা হাওড়াতে যেতে পারবে না, অনুমতি প্রয়োজন। শৃঙ্খলার নামে এক বিকৃত নাগপাশে বন্দি করে ফেলেছে সাহসী উদ্যমী নেতাদের। সেলিম সাহেবের আজকে খেজুরি যাওয়া কিছুটা আশার আলো অবশ্যই, তবে উনি রাজ্য সম্পাদক, সুতরাং আরও অচলায়ন ভাঙতে হবে। প্রয়োজনে পুলিশের QRT এর মতো ৫টা প্রশাসনিক বিভাগে ৫টা টিম গঠন করা হোক নবীন প্রবীণ নেতাদের মিলিয়ে যারা দ্রুত পৌঁছে যেতে পারবে। আগামীতে সমস্যা আর সমাধান নামে একটা প্রবন্ধ লিখব।

আলিমুদ্দিন, তাদের পক্ককেশ বর্ষীয়ান নেতা, উঠতি নেতা, যুব নেতা, ছাত্র নেতা, দিল্লী লবি, জেলার লবি, বিশেষ নেতার লবি, এরিয়া কমিটির লবি, শরিকের লবি- সর্বত্র যেটা সর্বজন স্বীকৃত, সেটা হচ্ছে বামেদের প্রার্থীরাই বিধানসভাতে যাওয়ার একমাত্র যোগ্য। কারণ তারা শিক্ষিত, যুব সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি ও রুচিবান। একচক্ষু বিশিষ্ট হরিণ যতটা শঙ্কিত থাকে তার যে দিকের চোখটা নেই সেই দিক বিষয়ে, তার চেয়েও বেশি আত্মবিশ্বাসী থাকে যে পানে চোখ রয়েছে সেই দিকে। দেখা যায়, অধিকাংশ শিকারির আক্রমণ ভালো চোখের দিক থেকেই হয়। সিপিএমেরও সেটাই হয়েছে- ফাঁপা আত্মবিশ্বাস। গণেশ যেমন মাতা পার্বতীর চতুর্দিকে পাক দিয়ে বিশ্ব পরিভ্রমণ করেছিলেন, বামেরা সেই নিজেদের সংক্ষিপ্ত ‘বিন্দু’ বৃত্ত পানে চেয়েই শিক্ষিত ও রুচিবানের ট্রেন্ড সেট করেছে। গণেশ নিজেই বিঘ্নহর্তা ও সিদ্ধিদাতা ছিলেন, সিপিএমের শিক্ষিতেরা হোলটাইমার- ফলত সিপিএমের একজন জনপ্রিয় মুখও ‘গণপতি’ হয়ে উঠতে পারেনি।

শুরুতেই একটা ডিসক্লেইমার দিয়ে রাখি, যে লোকটা বিজেপি করে- তার মনের কোণে অনু পরিমাণ হলেও সাম্প্রদায়িকতা থাকবেই, মনুবাদ থাকবে, ব্রাহ্মণ্যবাদ থাকবে, মুসলমানদের প্রতি অকারণ তীব্র ঘৃণা থাকবে, সমাজের প্রতি ধর্ষকাম মানসিকতা থাকবে, পুঁজির প্রতি তীব্র মোহ থাকবে, ভণ্ডামি থাকবে, ভেক থাকবে, নিয়মিত মিথ্যাচারে অভ্যস্ত হতে হবে। এগুলো একজন প্রাথমিক বিজেপি সমর্থক হওয়ার সহজাত বৈশিষ্ট্যসমূহ। যিনি বিজেপির প্রার্থী হন, সবার আগে উনি দলের সমর্থক। প্রার্থী হয়ে নেতা হওয়ার মাধ্যমে উনি ওই নিকৃষ্ট মানসিকতা যুক্ত মানুষগুলোকে একত্রিত করে, উপরে উল্লেখিত বৈশিষ্টগুলো গুণিতক হারে বাড়িয়ে অসভ্য চূড়ামণি রত্নে পরিণত হন। গু’য়ের ভালো ও মন্দ দিক হয় না, শুকনো বা কাঁচা হতে পারে, কিন্তু গু মানে গু ই। 

তোলামুল স্বীকৃত চোর, সেটা পাড়ার ভ্যানওয়ালা হলে সে ও চোর, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য থেকে উচ্চস্তরের আমলা যে খুশি হোক- সে চোর চোর চোর। কিন্তু বিজেপির প্রার্থী তালিকার দিকে কখনও তাকিয়ে দেখেছেন? মেজো খোকার মত দু-এক জন ছাড়া যেহেতু কেউ কখনও প্রশাসনিক পদে গিয়ে শাসক হয়নি, তার চোর হওয়ার সুযোগও আসেনি, অর্থাৎ আজকের দিন অবধি বিজেপির ৯৯% বিধায়ক অর্থনৈতিক ভাবে ‘অপরীক্ষিত’ সৎ। দেখুন, শুভেন্দু অধিকারী, দিলীপ ঘোষ, মমতা ব্যানার্জী, বিনয় কোনার, বিমান বসু এনাদের মতো মানুষদের নেতৃত্ব গুণ দিয়ে মাপা হয়, শিক্ষাগত যোগ্যতা নেহাতই অপ্রাসঙ্গিক একটা বিষয় এনাদের ক্ষেত্রে। কিন্তু শিক্ষাগত যোগ্যোতা যখন প্রার্থীদের মাপকাঠি, বিজেপি সেখানে কোথায় দাঁড়িয়ে? তাদের ৫২ জন পোস্ট গ্র্যাজুয়েট, ৯৬ জন গ্র্যাজুয়েট/গ্র্যাজুয়েট প্রফেশনাল, ৩১ জন উচ্চমাধ্যমিক পাশ, ১৯ জন মাধ্যমিক পাশ। ৯ জন এ্যাকাডেমিক ভাবে স্বাক্ষর। ২০৭ জনের মধ্যে PhD / ডক্টরেট ডিগ্রিধারী, স্বনামধন্য বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রীধারী, ইঞ্জিনিয়ার ও টেকনিক্যাল গ্র্যাজুয়েট, ডাক্তার, আইনজীবীর সম্মিলিত সংখ্যা ৮৪ জন। এই বিজয়ী সদস্যদের মধ্যে ৭৬% জনের বয়স ৪২-৪৮ এর মধ্যে অর্থাৎ তরুণ। 

বিজেপির প্রার্থী তালিকা গবেষণা করে দেখা গেছে, সেখানে একটা নির্দিষ্ট প্যাটার্ন রয়েছে। প্রথম ধাপে উচ্চ শিক্ষিত শ্রেণি, দ্বিতীয় ধাপে বিপুল বিত্তবান মধ্য মেধার লোকজন, এনারা রীতিমতো পেশা উল্লেখ করে ITR ফাইলে দাখিল করা সম্পদ উল্লেখ করেছে হলফনামাতে। তৃতীয় শ্রেণিতে RSS লবি থেকে সরাসরি আসা লোকজন, যেখানে শিক্ষা-রুচি বিষয়টা অপ্রয়োজনীয়; চতুর্থত গুন্ডা মস্তান শ্রেণির যারা তোলামুলের লেঠেল বাহিনীর সাথে লড়াই করেছে মাঠে ময়দানে, সেটা তাদের বিরুদ্ধে হওয়া মামলার সংখ্যা দেখলেই বোঝা যায়। 

খরগ্রামের মিতালী মাল, চণ্ডীপুরের পীযুষ কান্তি দাস এরা দ্বিতীয় শ্রেণির- মূলত বিত্তবান। গোটা হুগলি, বাঁকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, মুর্শিদাবাদ ও উত্তরবঙ্গ জুড়ে দলে দলে RSS এর মুখেরা বিজেপির বিধায়ক হয়েছে, যারা তৃতীয় পর্যায়ে ছিল। কাটোয়ার কৃষ্ণ ঘোষ, পাঁশকুড়া পশ্চিমের সিন্টু সেনাপতি, আসানসোলের কৃষ্ণেন্দু মুখার্জী এনারা চতুর্থ শ্রেণিতে, যারা গুন্ডা মস্তান। বিজেপির নেতারা একদিন সিপিএমের জনপ্রিয় মহিলা নেত্রীদের কাজের মাসীর সাথে তুলনা করে ছিল বলে সমাজমাধ্যমে ঢি-ঢি রব পরে গিয়েছিল, সেই বিজেপিই এবারে রেখা পাত্র, কলিতা মাঝি, মামনি বারুই, শুক্রা মুন্ডাদের বিধানসভাতে এনেছে, যাদের পেশা আক্ষরিক অর্থেই কাজের মাসি বা দিনমজুর; বাম মেনিফেস্টোর তত্ত্বগত হিসাবে এরাই ‘শ্রেণিবন্ধু’। 

প্রথম শ্রেণিতে তাহলে কারা আছে? জামুরিয়ার ডাঃ বিজন মুখার্জী, কাঁথির অরুপ কুমার দাস, কুলটির অজয় পোদ্দার, তমলুকের হরেকৃষ্ণ বেরা, রাম নগরের ডাঃ চন্দ্রশেখর মন্ডল, ভগনবানপুরের শান্তনু প্রামাণিক, পাঁশকুড়ার সুব্রত মাইতি, কেসিয়ারির ভদ্র হেমব্রম, মেদিনীপুর শহরের শঙ্কর গুছাইত, শিলিগুরির শঙ্কর ঘোষ, ডেবরার শুভাশীষ ওম, সিউরির জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, মুর্শিদাবাদের গৌরি শঙ্কর ঘোষ, কালনার সিদ্ধার্থ মজুমদার, বর্ধমানের মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র, বারাবনির অরিজিৎ রায়, রানীগঞ্জের পার্থ ঘোষ, গোপীবল্লভপুরের রাজেশ মাহাতো, ঝাড়গ্রামের লক্ষীকান্ত, নয়াগ্রামের অমিয় কিস্কু, কাশিপুরের কমলাকান্ত হাঁসদা, বড়জোড়ার বিল্লেশ্বর সিনহা, দুবরাজপুরের অনুপ সাহা, সাঁইথিয়ার কৃষ্ণকান্ত সাহা, বহরমপুরের সুব্রত মৈত্র, কৃষ্ণনগরের তারকনাথ চ্যাটার্জি, এনারা প্রত্যেকে উচ্চশিক্ষিত এবং প্রায় সকলেই শিক্ষাগত যোগ্যোতা নূন্যতম মাস্টার্স, যার মধ্যে বিজ্ঞান ও আইন বিভাগই আধিক্য। এছাড়া বাকিরা রাষ্ট্রবিজ্ঞান, ভূগোল ও ইংরাজি সাহিত্যের মানুষও আছে। আরও ৮০-১০০ জনের নাম লেখাই যায়, তাতে অহেতুক তালিকা লম্বা করা ছাড়া কোনো লাভ নেই। 

সেখানে বামেদের তথাকথিত শিক্ষিত ‘যোগ্য’ প্রার্থীদের একাডেমিক যোগ্যোতা কি এদের চেয়ে বেশি? মিলিয়ে দেখেছি, কাঁধেকাঁধেও বলার উপায় নেই। সিপিএমে মূলত নিম্ন ও মধ্যমেধার হামবড়া সবজান্তা উন্নাসিক লোকজন। কেউ কেউ আবার উত্তরাধিকার সূত্রে বাম বা সিপিএম; কোন বাবা, দাদু, মেসো, ঠাকুমা কবে বাম নেতা ছিলেন সেই কারণে তার সিপিএম হওয়াটা অধিকার, যেন জিনে বাম আদর্শ জিনবাহিত একটা বিষয়। মানে আত্মজাহির পরায়ণতার পরাকাষ্ঠা। ব্রাহ্মন্যবাদীরা যেমন গোত্র খোঁজে জন্ম, মৃত্যু বা বিয়ের সময়, একইভাবে সিপিএম বৃত্তে পারিবারিক বাম ঐতিহ্যের গন্ধ বিচার করে একশ্রেণির পোঁয়াপাকা যন্তরের দল কুলীন সাজার মরিয়া প্রয়াস চালাচ্ছে। বিজেপির প্রার্থীদের দেখুন তারা সকলে কমবেশি খেটে খায়, পেশা যা খুশি হোক। বামেদের ‘যোগ্য’ প্রার্থীদের অধিকাংশের পেশা কী? পার্টির হোলটাইমার, যারা জীবনে কখন ২ পয়সা রোজগার করে দেখেনি, তারা নাকি রুজি রোজগারের আন্দোলন করছে! বিজেপির প্রার্থীদের আমরা চিনি না, কিন্তু প্রতিটা এলাকার মানুষ তো তার প্রার্থীকে চিনতো, বামেদের প্রচার ছিলো শিক্ষিত রুচিশীল যোগ্যকে বেছে নিন, তারা বেছে নিয়েছে। 

বামেদের তথাকথিত যোগ্য প্রার্থীদের প্রায় প্রত্যেকে পার্টির হোলটাইমার হিসাবে পাওয়া সামান্য টাকায় দিন গুজরান করে। কে কে কোন নিরাপদ স্থায়ী ব্যবসা/চাকরি ছেড়ে অনিশ্চিত রাজনীতিতে জনসেবা করতে এসেছে? কঠিন জীবন সংগ্রামের লড়াইতে কাল থেকে ছেড়ে দিলে, এদের একজনও সামান্য টোটো চালিয়ে, দুটো কোদাল কুপিয়ে, কাস্তে টেনে, হাতুড়ি পিটিয়ে, সামান্য মুদি দোকান, মিস্টির দোকানে, এমনকি শপিং মলের সেলস গার্ল/বয়ের কাজটুকুও করতে পারবে না, এমন অজ অকর্মার ঢেঁকি এগুলো। কেন এই মেধাহীন কাগুজে শিক্ষিত ধর্মের ষাঁড় গুলোকে মানুষ বেছে নেবে? তাহলে কি এরা বাতিলের দলে, মোটেও নয়, এদের শুধুমাত্র শিক্ষিত, একমাত্র যোগ্য, রুচিশীল এই সব প্যাকেজিং করে রাজনীতির বাজারে বিক্রি করা বন্ধ হোক। সাধারণ বাম আন্দোলনের সর্বক্ষণের কর্মী হিসাবে আসুক না ভোটের ময়দানে, কে মানা করেছে! 

পুঁথিগত শিক্ষাই কি শিক্ষার একমাত্র মাপদন্ড? যিনি নৌকার মাঝি, সে তার পেশায় অশিক্ষিত? যিনি নাপিত, যিনি দর্জি, যিনি জুতো সেলাই করে, মাঠে ধান রোয়ার কাজ করেন, যিনি লেদ মেসিনে কাজ করেন, যিনি রঙের মিস্ত্রি, যিনি মাঠে হাইটেনশন বিদ্যুৎ লাইনের তার লাগাচ্ছেন, এনারা কি অশিক্ষিত? আসলে তিনি তার বৃত্তিতে সর্বোচ্চ শিক্ষিত। ওই ফাঁপা একাডেমিক ডিগ্রীধারী ‘মেধাহীন’ শিক্ষিত সিপিএমের দল, যারা একবেলা নিজের পেটের ভাত নিজে যোগাড় করে খেতে সক্ষম নয়, তারা অন্যকে কাজের দাবীতে আন্দোলন বোঝাতে গেলে লোকে শুনবে কেন? সিপিএম সর্বক্ষণ একটা ইলিউশন বৃত্তের বাস করে, যেখানে আমরাই শ্রেষ্ঠ, আমরাই সৎ, আমরাই একমাত্র গরিবের বন্ধু, আমরা 'লড়াকু' যারা ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে বুঝে নেয়। আরে বাম পাঁঠার দল, সৎ আর শিক্ষিত হওয়াটা কোনো যোগ্যোতা নয়, মানুষের স্বাভাবিক গুণ এগুলো, আর বামপন্থী দল করতে গেলে এটা আবশ্যিক শর্ত। দুর্নীতিবাজ তোলামুলের কল্যাণে সততাকে আজকাল ডিগ্রী বলে মনে হয়।

একটা দলে তাত্ত্বিক নেতা অবশ্যই দরকার, সেটা ১০% বা বড়জোড় ২০%, আজকের সিপিএমে প্রায় সকলে তাত্ত্বিক নেতা, সকলে পার্টির লেভি বা চাঁদার রোজগারে পালিত। দল করাটাই যেহেতু এদের পেশা, তার কারণে এনারা সারাবছর রাস্তায় থাকেন। জ্যোতি বসুকে কখনও ব্যারিস্টার শিক্ষিত প্রমাণ করতে হয়েছিল? হরেকৃষ্ণ কোনার বা সুকুমার সেনগুপ্তেরা হোলটাইমারের টাকায় পেট চালাতেন? কেউ এনাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা কখনও জানতে চেয়েছিল? বিজেপি এই ২০২৬ ভোটে তাদের কোন প্রার্থীকে শুধুমাত্র ‘শিক্ষিত’ প্রোজেক্ট করে ভোট চেয়েছে? তাদের প্রতিটা ‘শিক্ষিত’র কেউ হোলটাইমার নয়, প্রত্যেকের নিজ নিজ পেশা আছে, এমনকি RSS এর রক্তবীজগুলোও কিছু না কিছু করে খায়। যদিও এরা সাম্প্রদায়িক রাজনীতিই করবে আগামীতে, তার পরেও এদের মুখে কাজের দাবির কথা, রুটি রুজির কথা মানায়। সুতরাং, বামের ভোট শুধুমাত্র ধর্মীয় মেরুকরণের ফলে রামে যায়নি। যারা নিজেরা কাঠ বেকার, কোনো কাজটি করে না- তাদের মুখে কাজের দাবীতে লড়াই এর কথা আর মমতার মুখে দুর্নীতি মুক্ত সততার কথা আসলে একই। এই কারণেই জনপ্রিয় কোনো সিপিএম ‘শিক্ষিত তরুণ’ নেতার বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি হয়নি সমাজে।

শিক্ষিত নেতা অবশ্যই প্রয়োজন, কিন্তু আসল দরকার শ্রমিকদের মধ্যে থেকে নেতা, কৃষকদের মধ্যে থেকে নেতা চাই, ট্যাক্সিচালকদের মধ্যে থেকে নেতা চাই, শিক্ষকদের মধ্যে থেকে নেতা চাই, আইনজীবীদের মধ্যে থেকে চাই, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে আসা ছেলেপুলে চাই, গ্রামের রাস্তায় রাস্তায় ধুলোমাখা নেতা চাই। আলিমুদ্দিনে বসা নের্তৃত্বের দৃষ্টিভঙ্গির বদল সবার আগে দরকার। নির্দিষ্ট ছোট ছোট লক্ষ্য দরকার, যেগুলোকে পূর্ণ করার উপরে আগামী নির্ভর করবে। মঞ্চের সামনে নাচ গান দিয়ে কোলকাতার রাজনীতিও চলে কিনা জানি না, গ্রামে এগুলোকে নেটোপালা বলে। এখানে মানুষ পরিযায়ী শ্রমিক, এখানে মানুষ ১৫ বছর ধরে তোলাবাজদের অত্যাচারের শিকার, এখানে স্কুল কলেজ নেই, ধর্মীয় মেরুকরণের শিকার, একঘরে হয়ে থাকা, ঘরছাড়া হয়ে পালিয়ে বেড়ানো, ক্ষুদ্রঋণের ফাঁস গ্রামে গ্রামে ক্যান্সার হয়ে গেছে। এগুলোর জন্য শুধু মাত্র ‘মেধাহীন কাগুজে শিক্ষিত’ নেতা চায় না জনগণ।

ISF নিজের পায়ে কুড়ুল মেরেছে। আরাবুলকে দলে না নিলে তারা দুই ২৪ পরগণা মিলিয়ে কমপক্ষে ৭-৮টা আসন পেতে পারত। আরাবুল ইসলাম হচ্ছে- ক্রমশ অত্যাচারীদের মুখ হয়ে ওঠা মমতা ব্যানার্জীর কোম্পানির বিজ্ঞাপনী মডেল, তৃণমূল সংস্কৃতির মূল্যায়নের একক। তাকে দলে নিতেই সাধারণ মানুষ সরে গেছে, যারা এতদিন অত্যাচার করেছে, তাকেই কেন আবার অন্য দলের জামায় ফিরিয়ে আনবে? অতি লোভ নৌসাদ-আব্বাসকে ১০ বছর পিছিয়ে দিয়েছে, যতই নৌসাদের পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি থাক, মিন্টু সাহজি আর আরাবুলের অতীতের পাপ কি আন্না হাজারের ভাগে যাবে? জোট যেমন আছে থাকুক, কিন্তু বুথ স্তরে সিপিএম নিজে সংগঠন গোছাক। ISF কোনো দীর্ঘমেয়াদি কোনো সমাধান নয়।

রাজ্যের প্রকৃত বাম কারা? পথ ভাবে আমি দেব, রথ ভাবে আমি, মূর্তি ভাবে আমি দেব, হাসেন ‘ক্ষিতি গোস্বামী’। আসলে নরেন চট্টোপাধ্যায়, মনোজ ভট্টাচার্য, স্বপন ব্যানার্জীদের মতো বোঝাদের বয়ে চলা সিপিএম এর জবাব দিতে পারবে না। দীপঙ্কর ভট্টাচার্য আসলে কার প্রতিপক্ষ! এক্ষেত্রে একটাই নাম SUCI, ব্র‍্যাকেট ক্লোজড। এনাদের ম্যানিফেস্টোর সাথে কর্মকান্ডের মিল খোঁজার মতো লুম্পেন নিশ্চয় আপনি নন। দক্ষিণ কোলকাতার রাস্তায় বিপ্লবের ‘রগরগে' স্লোগান, পাহাড়ি নদীর মতো স্রোতস্বিনী মিছিল, এর সাথে পিটুনি খাওয়া আদিম প্রতিভা, সরকারের পর সরকার বদলালেও এদের ঠ্যাঙানি সহ্যের যে সহজাত সৃজনী ক্ষমতা তা বঙ্গ রাজনীতিতে বিরল। আবেগতাড়িত সুড়সুড়ি ভাষণ, মিথ্যার মোড়কে বিল্পবের আরক মিশিয়ে লেখার ‘চালাকি’ এবং বিপ্লবের মরুদ্যানে ‘মরীচিকা’ বিক্রির রাজনৈতিক লাইন বেয়ে অভিষ্ঠ লক্ষ্যে পৌঁছাতে চাওয়া SUCI এই বিধানসভা ভোটে কোথায় দাঁড়িয়ে কেউ কি খোঁজ করেছেন?

আমরা একটা নিষ্কর্ষে পৌঁছেছি- শ্রমজীবি মানুষ, শোষিত প্রান্তিক মানুষ, বঞ্চিত অত্যাচারিত নিম্নবিত্ত, নিপীড়িত তফসিলি আদিবাসী সংখ্যালঘু মানুষদের সাথে থাকা (কঠোরভাবে যাদবপুর থেকে ধর্মতলা অবধিই) রাজ্যের ‘আগামার্কা’ খাঁটি বিপ্লবী দল যারা, সেই SUCI এর ভোট শতাংশ বিশ্রী হারে কমে গেছে এই ২০২৬ এর ভোটে। এটা যে বাঙালি সমাজের একটা চূড়ান্ত অবক্ষয়, মহান বিপ্লবী শিবদাস ঘোষ এবং নীহার মুখার্জীর আত্মার তরফে সেই আকাশবাণী আসার অপেক্ষায় প্রভাষ ঘোষ, কে রাধাকৃষ্ণ, কৃষ্ণ চক্রবর্তীর মতো পলিটব্যুরোর আগুনখেকো বিপ্লবীরা প্রতীক্ষায় রয়েছেন। তাদের বাঙালি ‘চে’ আনন্দরূপ বা তাদের জন রিড, গ্লেন গ্রিনওয়ার্ল্ড, এজরা ক্লেইন কিম্বা পাতি ভারতীয় সাঁইনাথের চেয়েও উন্নত, বিশ্ববরেণ্য সাংবাদিক ভাদুড়ি মশাইও গবেষণা করে বের করতে পারেননি যে- ৯৯.৯০% আসনে NOTA কেন তাদের সাথে লড়াই করল? 

বিজেপি, তৃণমূল, কংগ্রেস, সিপিএম এরা তো সামান্য মুষ্টিমেয় দু’চারটে স্বৈরাচারী, কর্তৃত্ববাদী, সর্বগ্রাসী, বুর্জোয়া দল; SUCI দাঁতে দাঁত চেপে প্রতিটা কেন্দ্রে লড়াই করেছে তাদের নির্দিষ্ট টার্গেট নোটা’র সাথে। এর সাথে ছিল হাজারে হাজারে ভিন্ন ভিন্ন মতাদর্শ যুক্ত নির্দলদের দল। নির্দলদের সাথে আসল টক্কর বাংলা জুড়ে কে নিয়েছে? SUCI নিয়েছে, তথ্য মিলিয়ে দেখে নিতে পারেন। NOTA কি পর্ণশবরীর অভিশাপ নাকি নিকষছায়া? নোটা কি বুর্জোয়া? নোটা ফ্যাসিস্ট? নোটারা ঠিক কোনো কোনো ক্ষেত্রে SUCI এর চেয়ে এগিয়ে রয়েছে যার কারণে নোটা SUCI এর চেয়ে বেশি ভোট পেয়েছে? এ বিষয়ে তারা একটা একটা প্লেনাম ডেকে পর্যালোচনা করবে বলে জানিয়েছে বিশ্বস্ত সুত্র। 

পক্ষীদের গর্গদা নাকি মামাবাড়ি গেছে, ভাগ্যিস কুমির সৈকত বিদেশে সেটেলড, কে জানে বরেণ্য সাংবাদিক জিম সাহেব(করবেট নন) আজকাল কোথায় আছে, গত ১৫ দিনের সমস্ত ফেসবুক পোস্ট ডিলিটেড, লর্ড জাহাঙ্গীরের সাথে ছবি সহ। দীপক ব্যাপারি, নির্ভীক অনিন্দ্য এরা প্লাস্টিক সার্জারি না করে কি বাজারে লঞ্চ হবে? বাকি অনেক শুঁয়োপোকা, এ্যানাল-থিসিস লেখা লোকজন এখন রাহুল গান্ধীর সাথে থাকা ছবি দিচ্ছে। এরা প্রত্যেকে তৃণমূলের শাখা সংগঠনের প্রধান, কোনো নিরপেক্ষ কেউ নন। কেউ কি মেজো খোকা, সোনা বিজ্ঞানী তথা রিঙ্কু বৌদির উনি, পাল বাড়ির দর্জি কাকিমার বিরুদ্ধে থাকা ফৌজদারী মামলাগুলো পড়ে দেখেছেন? কারা সেই মামলার বাদীপক্ষ? দেখলে বুঝে যাবেন ঋজু দত্ত, কোহিনুর মজুমদার, কার্তিক ঘোষ, সুপ্রিয় চন্দ বা রাজ চক্রবর্তীরা কোনো রাসায়নিক পরিবর্তনের ফলে কেউ তাড়াতাড়ি সাসপেনশ আনিয়ে নিল বা কেউ রাজনীতি ছেড়ে দিল, সব উত্তর ওখানেই নিহিত রয়েছে।

রাজনীতিতে মূলত তিন ধরনের দুষ্কৃতি থাকে, প্রথমটা মস্তান, এরা ধর্ষণ, চুরি, খুন বা হত্যা করতে পারে না। অশান্তি, মারামারি, লাঠালাঠি, মাথা ফাটানো, উত্তপ্ত ভাষণ দেওয়া এগুলো এদের কাজ। দ্বিতীয় হচ্ছে গুন্ডা, যারা তোলা আদায়, থ্রেট দেওয়া, ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া, এমনকি উত্তেজনার মাথায় খুন অবধি করে ফেলে নির্দ্বিধায়। মস্তানেরা গুন্ডাদের আইডল মানে। তৃতীয় শ্রেণি হচ্ছে ক্রিমিনাল, এরা মাঠে নেমে মারামারি করে না, কখনও নিজের হাতে চাকু, বোমা, বন্দুক হয়ত ছুঁয়ে দেখেনি। কিন্তু প্রতিটা গুন্ডাকে এরা নিয়ন্ত্রণ করে, প্রতিটা গুন্ডার ধর্ম বাপ হচ্ছে এই ক্রিমিনালেরা। প্রতিটা তোলাবাজি, প্রতিটা দাদাগিরি, প্রতিটা দাঙ্গা, প্রতিটা খুনের পিছনে এনাদের বরফ শীতল মস্তিষ্ক কাজ করে, এনাদের অঙ্গুলি লেহনেই বাবলু সিংহ, নিশিকান্ত মন্ডল, নান্টু প্রধান, দেবাশীষ আচার্য কিম্বা চন্দ্রনাথেরা খুন হয়। হিরেন পান্ডিয়া, গোপীনাথ মুণ্ডে, দীনদয়াল উপাধ্যায়, মনোহর পারিক্কর, বিপিন রাওয়াতদের খুনের কোনো তদন্ত হয় না যাদের নির্দেশে, বিচারপতি লোয়ার আত্মা আজও ভুত হয়ে জাস্টিস খোঁজে যাদের কারণে- তারাই হচ্ছে ক্রিমিনাল। রাষ্ট্রীয় স্তরে এই শিল্পের গুণীশ্রেষ্ঠ শিল্পী মোটাভাই হলে, রাজ্যস্তরে সেই গুণের গুণী যে আমাদের মেজোখোকা, সেটা আলাদা করে উল্লেখ করতে হয় না। এদের আসল নাম আপনি জানেন, আমি খুন হতেও চাইনা, জেলে যাবারও শখ নেই আর, তাই লিখিনি। 

এই যে এতদিন সিপিএমের আক্রান্ত স্থলে যেতে না পারা, এই অক্ষমতার দর্পনেই আজ তোলামুল দলটার ‘নেই’ হয়ে যাবার বীজ রোপন করা আছে। মাত্র ১ সপ্তাহ আগেও রাজ্যের সবচেয়ে সংগঠিত রাজনৈতিক দলটার নাম ছিল তৃণমূল কংগ্রেস, এরাই প্রতি ১০০ জনের মধ্যে ৪০ জনের ভোট পেয়েছে। পুলিশ প্রশাসন, গুন্ডা, মস্তান, ক্রিমিনালের ৯৯% এদের অধীনেই ছিল। ফল বের হওয়ার মাত্র ৭ দিনে তারা বৈধব্যে এসে গেছে, ৭ সপ্তাহে তারা যক্ষ্মা রোগীর মতো কঙ্কালসার হয়ে যাবে, ৭ মাসে তাদের বংশে বাতি দেওয়ার মতো কেউ রইবে না, ৭ বছর পর নামটুকু নেওয়ার জন্য কেউ অবশিষ্ট থাকবে না। দল হিসাবে সিপিএম তাদের চেয়ে অনেক অনেক উন্নত, ক্ষমতা যাবার দেড় দশক পরেও রাজ্যের ৮০% বুথে নিজেদের এজেন্ট দিতে পেরেছিল। আগামীতে রাজ্যে যখন পরিবর্তন আসবে, সেই সরকার CPM ছাড়া গঠিত হবে না- দেওয়ালে খোদাই নিন। কিন্তু সেটা ৫ বছর পর নাকি ২৫ বছর পর সেটা নির্ভর করবে গত বিধানসভা ভোট থেকে তারা কিছু শিক্ষা নিয়েছে কিনা তার উপরে।

গণশক্তির একটা ট্যাগলাইন আছে, “আমরা নিরপেক্ষ নই, মেহনতী মানুষের পক্ষে”। কিন্তু মেধাহীন শিক্ষা দিয়ে মেহনতী মানুষের কাছে আদৌ আপনারা পৌঁছতে পারবেন? শেষ ১৮ বছর ধরে পারেননি, উন্নাসিকতা ঝেরে ফেলে ‘বাস্তবিক’ শিক্ষিত না হলে আগামী ১৮০ বছরেও পারবেন না।

সোমবার, ১১ মে, ২০২৬

বাংলার লজ্জা বাঙালীর লজ্জা


বাংলার লজ্জা, বাঙালির লজ্জা

আজকে বাংলাতে একটা শার্প শ্যুটার অব্দি নেই, যাকে সুপারি দিয়ে বাঙালি একটা রবীন্দ্র/নজরুলের ঘরানায় কাব্যিক মার্ডার অবধি করতে পারে। এ লজ্জা বামেদের, ৩৪ বছরের চূড়ান্ত ব্যর্থতা। আজকের আলিমুদ্দিনের দায় নেওয়া উচিত। মমতা ব্যানার্জীর অতিবড় দোষ থাকলেও তাকে কেউ খুনী মমতা বলে না, সে চোর মমতা, মিথ্যুক মমতা, সে বামেদের অনুসরণ করে গেছে মাত্র। পাড়ায় পাড়ায় তোলাবাজি করালেও, একটা শ্যুটার বানাতে ব্যর্থ হয়েছে। কত বড় কলঙ্ক আজ আন্তর্জাতিক মহলে, ছিঃ ছিঃ রব পড়ে গেছে। শান্তিনিকেতন থেকে শান্তিকুঞ্জ হয়ে রিঙ্কু বৌদির প্রাতঃভ্রমণ- সর্বত্র শিল্পীদের হাহাকার। 

এই লজ্জা বাঙালি রাখবে কোথায় ঘরে আজকাল না ট্যাঙ্ক রয়েছে, না সিন্দুক রয়েছে, না উঠোনে গোলা রয়েছে। থাকার মধ্যে গেরুয়া ধুতি, যাতে পকেটটুকু নেই। অবিলম্বে দেউচা পাঁচামিতে গভীর খুনি খনন করা হোক,  সেখানকার কয়লা দ্রুত উত্তোলন করে গর্ত করা হোক,  যে গর্তে বাঙালি তার ৩৪ বছর প্লাস ১৫ বছর মোট ৪৯ বছরের লজ্জা গচ্ছিত রাখতে পারে। কিংবা তাজপুরে গভীর সমুদ্র বন্দর আপনা করে,  কিংবা কলকাতার শ্যামাপ্রসাদ বন্দর থেকে বিশেষ ফ্রেড় করিডর এর মাধ্যমে দেশের গুজরাট উপকূলের সমুদ্রে গিয়ে বাঙালির লজ্জা কে বিসর্জন দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক।  অবশ্যই সেটা মহান দেশপ্রেমিক আদানী শেঠকে সম্পূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হোক, প্রয়োজনে কলকাতা বিমানবন্দর তার হাতে অর্পণ করা হোক। নতুরা এই পাপ স্খলনের কোনো শর্টকাট নেই।

মমতা ব্যানার্জী সার বেঁধে টালিগঞ্জের শিল্পীদের লাইনে দাঁড় করিয়ে মঞ্চ জুড়ে দাপিয়ে গান গেয়েছে, ধমেকেছে, চমকেছে, ছবি এঁকেছে, কাব্য করেছে- কিন্তু শ্যুটার? না না না- ব্যর্থ। বামেরা? তারাও ভাত খাওয়ার কথা বলে, গুলি খাওয়াটাকে তারা গণনাতেই আনেনি, ধিক্কার রইল তাদের যুব নেতৃত্বের প্রতি।

দেখুন আজ উত্তর প্রদেশকে, হিংসায় জ্বলে পুড়ে যাচ্ছে না লেনিনের বাচ্চাদের? এই হচ্ছে ডবল ইঞ্জিন সরকার, যোগী মডেল। সবাই শুধু বুলডোজার মডেলটাকে সামনে রাখাতে শৈল্পিক বিষয়গুলোকে আজ ইচ্ছাকৃতভাবে ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে, এটা সনাতনী স্বার্থের উপর সরাসরি আঘাত। এর জবাব বাংলার মানুষ একদিন দেবে। আজ সারা দেশে শার্প শ্যুটার সাপ্লাই দিচ্ছে উত্তরপ্রদেশ, সেটা সরকারিভাবে 'সিংহম' এর মাধ্যমে হোক বা চন্দ্রনাথের খুনী হিসাবে - মোদ্দা কথা এই যে শ্যুটিং শিল্পের উন্নতি, তা তো করে দেখিয়েছে যোগীজী। গতকাল তীরন্দাজিতে সোনা না কি একটা জিতেছে দেশের মেয়েরা, আগামীতে শার্প শুটিং এ প্লাটিনাম, হিলিয়াম, বোরিয়াম জিতবে। হিরেন পান্ডিয়া, মনোহর পারিক্কর, গোপীনাথ মুন্ডের দিব্যি রইল- বাঙালিকে প্রমাণ করতে হবে, তারা পিছিয়ে নেই।

আশা করব, বাংলাও দ্রুত এই শার্প শিল্প শিখে নেবে 'স্বাধীন' পশ্চিমবঙ্গের প্রথম রাষ্ট্রবাদী মুখ্যমন্ত্রীর শাসনে। ব্রিটিশ আমল থেকে বাঙালি বোমা শিল্পে উন্নত, সেটা সন্দেশখালি থেকে গরুকেষ্টর নাড়ু- কিন্তু আজ সময় বদলেছে। দীলুদার নেতৃত্বে আগামীতে শুটিং শিল্পে বাংলাকে স্বাবলম্বী করতে তুলতে হবে, এই হোক আমাদের অঙ্গীকার।

জয় সেমাপোসাদ
জয় সিরি জোগিজি
জয় সারপেনটার বাবা

রবিবার, ১০ মে, ২০২৬

মমতা ব্যানার্জি একটা অপ্রাসঙ্গিক অবাঞ্ছিত নাম আজকের তারিখে

 

মুষলপর্ব- ১

 

মমতা ব্যানার্জী খেজুরিতে যেতে পারবে না। যাওয়া উচিত ছিল নিশ্চিতভাবে, কিন্তু যেতে পারবে না, সাহস নেই। ভাইপো এখন দিল্লি পালিয়ে গেছে, সেখান সেফ হাউজে থেকে জনগণকে একত্রিত হওয়ার উপদেশ দিচ্ছে। কল্যাণ ব্যানার্জীও সেফ হাউজে, বাকি সমস্ত তোলামুলী লোকজন অজ্ঞাতবাসে লুকিয়ে কুলোর বাতাস দিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করেছে।

ভাইপো ঠান্ডা ঘরের নেতা, লড়াই আন্দোলনে জন্মানো ঘাম রক্তের নেতা নয়, সারোগেসি বা টেস্টটিউব বেবী। বাইরে বের হলেই আক্ষরিক অর্থে সে বলাৎকারের শিকার হবে। আগে তাকে তৃণমূলের একটা বড় অংশ ক্যালাবে, তাদের হাত থেকে যদি কিছুটা বেঁচে ফেরে প্রাক্তন তৃণমূলীরা মারবেই মারবে, এরপর শাসক দল বিজেপি ক্যালাবে এবং বামেদের একটা অংশ আদা ছ্যাঁচা করবে, আর আমার মতো যারা মনে মনে অন্তত ভাইপোর গায়ে থুতু দিতে চায়- তারাও তো লাইনে আছি। মমতার যে কেরিয়ার শেষ, ২০২৩ থেকে প্রতি মাসে একবার করে লিখেছি, তাই ওটা নিয়ে আজ নতুন করে লেখার কিচ্ছু নেই, বর্তমান রাজনীতির মঞ্চে মমতা ব্যানার্জী একটা অপ্রাসঙ্গিক অবাঞ্ছিত নাম।

২০১১ তে সুর্যকান্ত মিশ্র, নিরূপম সেন, বিমান বসু, মহঃ সেলিম, বুদ্ধদেব বাবু কেউ যেতে পারেনি অধিকাংশ আক্রান্তদের পাশে, দলটা উঠে গিয়েছিল। বৃদ্ধ কিছু নেতার দল, তাদের পার্টি অফিস, তাদের ফাঁপা শৃঙ্খলা, অতীতের পাহাড় প্রমাণ বনেদিয়ানা জমিদারির ইতিহাস, আর শূন্যগর্ভ বক্তৃতা- ২০২০ অবধি সিপিএম এই ফাঁদে আঁটকে গিয়েছিল। তোলামুলের ক্ষেত্রেও এর কোনো আলাদা কিছু হবে না। আগামী ৩ মাস মাস পর প্রতিটা তোলামুল নেতার স্নায়ুরোগ হবে। কলিং বেল বাজলে প্যান্টে মুতে ফেলবে।

আজ তৃণমূল মার খেলেই সে মুসলমান হয়ে যাচ্ছে, এটা কি অস্বীকার করা যাবে রাজ্যের ৯০% মুসলমান ভোট তৃণমূলের ঝুলিতে গেছে। প্রতিটা গ্রামের প্রায় প্রতিটা ইমামকে দিয়ে মসজিদে মাদ্রাসাতে ভোট প্রচার করিয়েছিল মমতা ব্যানার্জী, জমিয়ত উলামা প্রকাশ্যে তৃণমূলের হয়ে ভোট প্রচার করেছে, তাদের অফিসগুলো তৃণমূলের পার্টি অফিসে পরিণত হয়েছিল। প্রতিটা মুসলিম সংগঠন উলঙ্গ হয়ে ‘বিজেপিকে রুখতে’ তৃণমূলকে ভোট দিন বলে তান্ডব নৃত্য করেছিল। ভোটের সময় সময় তুমি তৃণমূল ছিলে, নির্দিষ্ট করে তোমাদের রাজনৈতিক পরিচয় ছিল, তুমি চুরি তোলাবাজি কাটমানির ভাগা নিয়েছ; আজ মার খাওয়ার সময় ধার্মিক হয়ে ধর্ম এগিয়ে আসছে কেন; কেন বলতে পারছ না যে আমরা তৃণমূলকে ভোট দিয়েছি, আমরা ওই দলেরই কর্মী সমর্থক, ওদের হয়ে সমস্ত পাপ করেছি বা করাকে সমর্থন করেছি বলে, আজ আমাদের উপরে অত্যাচার হচ্ছে! আসলে তৃণমূলও চাইছে এই ক্যালানির ঘটনাতে সাম্প্রদায়িক রঙ লাগুক। 

মমতা ব্যানার্জী সংখ্যালঘু উন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী ছিল। আপনাদের পাড়া এবং চেনা জানা সমস্ত মুসলমান পাড়ায় কোন উন্নতিটা করেছে? সংখ্যালঘু মানে শুধু মুসলমান? বৌদ্ধ, জৈন, খ্রীষ্টান এরা সংখ্যালঘু নয়? এদের পিছিয়ে পড়া সমাজ থেকে কতজনকে গত ১৫ বছরে চাকরি দিয়েছে?

☞ কতজন গরিব মুসলমানের চিকিৎসার দায় নিয়েছে?

☞ কতজন জেলে থাকা মুসলমানকে আইনি সাহায্য দিয়েছে?

☞ মুসসলমান সমাজের পিছিয়ে থাকা ছাত্রছাত্রীর কতজনকে স্কলারশিপ দিয়েছে? 

☞ কতজন মুসলমান ব্যবসায়ীকে বিনা সুদে লোন দিয়েছে? 

☞ কতজন গরিব মুসলমানকে বাড়ি করে দিয়েছে? 

☞ কটা আধুনিক মাদ্রাসা তৈরি করেছে বা মাদ্রাসার আধুনিকীকরণ করেছে? 


আসলে কয়েকটা লোক যারা এই দপ্তরের নামে মন্ত্রিত্ব পায়, তারা নিজেরা আপন আখের গুছিয়েছে, তার বাইরে এই দপ্তর থেকে আমাদের চেনা জানা একটিও মানুষ উপকৃত হয়নি। 

এর মানে কি হিন্দুত্ববাদী RSS এর দুষ্কৃতিরা হামলা করছে না মুসলমান ও তাদের সম্পত্তির উপরে? অবশ্যই করছে; কিন্তু তেমনটা ১টা হলে, ৯টা তোলামুলের উপরে আক্রমণ হচ্ছে, যেটাকে মুসলমানের উপরে অত্যাচারের মোড়ক লাগিয়ে পরিবেশনা করা হচ্ছে, কারণ বিজেপি মানেই সাম্প্রদায়িক, ফলত তাদের ওই খাতে মিটার উঠে যাচ্ছে।

আগামীতে ৩ দফায় আসল মার শুরু হবে তোলামুলের। আজ কাল যেগুলো হচ্ছে সেগুলো সেই- হ্যালো হ্যালো মাইক টেস্টিং ১ ২ ৩ ৪... এই হচ্ছে। তোলামুল নামের দানবের বিসর্জন হয়েছে বলে আমাদের মতো অনেকেই খানিকটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছি, তার মানে এই নয় যে বিজেপি সভ্য মানুষের দল হয়ে গেছে। তারা যে পর্যায়ের নিকৃষ্ট বেহায়া নির্লজ্জ পুঁজিপতিদের দাস ছিল সেটাই থাকবে, তারা সাম্প্রদায়িক ছিল, তারা সংখ্যালঘু অত্যাচারী ছিল, মনুবাদী ব্রাহ্মন্যবাদী ছিল, সেটাই থাকবে। এবারে লড়াইটা আর ঘোমটার আড়ালে নয়, সরাসরি হবে।

তোলামুলের হিন্দু অংশের অধিকাংশই বিজেপিতে চলে যাবে, যাদের হাতে হারামের টাকা আছে, তারা অনেকে টাকা জরিমানা দিয়ে প্রাণে বেঁচে গেলেও- প্রত্যেকে আগামী ৬ মাসে বুঝবে আতঙ্ক কাকে বলে। মুসলমান অঞ্চলের মালগুলো মূল ক্যালানিটা খাবে। আর এদের হাল দেখার পর- তোলামুলের ডিমে তা দিয়ে কোনো বাচ্চা ফু্টবে না। বরং আগামীতে তোলামুল নেতানেত্রীদের যৌন প্রোটেকশন দরকার হবে না- ক্ষমতায় থাকাকালীন তৃণমূলের যেকোনো স্লোগান বললেই বীর্যের শুক্রাণুগুলো নিজেই আত্মহত্যা করে মরে যাবে। না কন্ডোম, না কন্ট্রাসেপটিভ পিল- নির্বীজকরণের এটা এক যুগান্তকারী আবিষ্কার। আজ বুঝবে না সকলে, যত সময় যাবে, আমার কথাগুলোর বাস্তবতা বুঝতে পারবে।

বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা পদে বসছেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। ডেপুটি বিরোধী দলনেতা হচ্ছেন তৃণমূলের দুই মহিলা মুখ, অসীমা পাত্র এবং নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়। বিরোধী দল তৃণমূলের চিফ হুইপ পদে বসছেন ফিরহাদ হাকিম। মমতা শোভনদেবকে বিরোধী দলনেতা করেছে এক নম্বর কারণ নিজের কন্ট্রোলে থাকবে, শোভনদেবের বয়স ৮৩ উল্টোদিকে ববি ৭০। দুই নম্বর কারণ- দক্ষিণ কলকাতা। তিন নম্বর কারণ মমতা ভয়ঙ্কর সাম্প্রদায়িক, ব্রাহ্মণ বলে একমাত্র নির্বাচিত করেছে। নয়না সুদীপের বউ এবং ব্রাহ্মণ দুই ক্যাটাগরিতে ঢুকেছে। অসীমা পাত্র ওর বাড়ির কাজের লোক। তালিকা সমাপ্ত।

দেবী ঘৃণাতে সাওয়ার হয়ে এসেছিলেন, ঘৃণাতেই বিসর্জন হয়েছে। বিজেপি RSS উভয়েই জানে, তারা মমতার প্রতি ঘৃণার স্রোতে ক্ষমতায় এসেছে, যেমন বামেদের প্রতি তীব্র রাগের নৌকায় চড়ে মমতা ক্ষমতায় এসেছিল। শুভেন্দু যদি যোগীর মতো আচরণ না করে তাহলে বাংলার লোকজন খানিকটা জায়গা দেবে। বিজেপির শুভেন্দুর সবচেয়ে বড় সমস্যা তৃণমূলের শুভেন্দুর বলা সংলাপগুলো। পরবর্তী সমস্ত জীবন তাকে নিজের সাথে লড়াই করতে হবে। বাঙালি হিন্দুদের ৬০% এর বেশি ভোট বিজেপির ঝুলিতে গেছে বিজেপির হিন্দুত্বকে সাপোর্ট করে নয়, মমতাকে উৎখাত করতে, বহু মুসলমান বুথেও বিজেপির প্রার্থীরা না হলে ভোট পেতো না।

খুব সত্য ঘটনা হচ্ছে, বহু স্থানে বিজেপি কর্মীরা আফসোস করছে, তাদের হাত নিসপিস করলেও ,সাম্পদায়িক রং লাগার ভয়ে তারা তোলামুলকে চেয়েও ক্যালাতে পারছে না। অনেক স্থানে অশান্তি করতে চেয়েও পারছে না, যা সময়ের দাবী; উলটে ব্রেক মারতে হচ্ছে, পাছে তোলামুল ক্যালাতে গিয়ে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বলে চিহ্নিত হয়ে যায়। সদ্য এরা সরকার এসেছে, এই লাইনে অনেক চোর তোলাবাজ বেঁচে যাচ্ছে এই মুহূর্তে। এর পরের মারগুলো গতরে হওয়ার চেয়েও পুলিশি আর অর্থনৈতিক মার বেশি হবে। তাই যারা ভাবছে বেঁচে যাচ্ছি, তারা কেউ বাঁচবে না, কাকে কতটা ক্যালানি দেওয়া হবে এবং কোন লেভেলের হবে- সেইটার তালিকা তৈরি হচ্ছে।

চোরগুলো কেউ ১০০ কোটির মালিক, কেউ ৫০ কোটি তো কেউ ৫ কোটির। সামান্য পঞ্চায়েতের সদস্যও ৫০ লাখ বাগিয়ে বসে আছে। কাকে জরিমানা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হবে, কাকে অঞ্চল ছেড়ে চলে যেতে বলবে, প্রতিটা প্রেসক্রিপসন আলাদা আলাদা হবে। মেদিনীপুরিয়ান কি জিনিস, বিশ্ব সংসারে এদের নিয়ে যে বা যারা ঘর করেছে একমাত্র তারাই জানে। এদের মত জেদী, গোঁয়ার, ছেঁড়া ন্যাকড়ার আগুনের মতো লেগে থাকার মানসিকতা যুক্ত প্রতিহিংসা পরায়ণ জাতি বিশ্ব সংসারে দ্বিতীয়টি নেই, আসল তো বটেই- এরা সুদেরও সুদ আদায় করা লোকজন। সুতরাং, ছাড় দিলেও ছেড়ে দেবে না। 

এতো কিছু বলার উদ্দেশ্য একটাই, পূর্ব বর্ধমানে কমল গায়েন, প্রদীপ তা খুন হয়েছিলেন মমতার প্রত্যক্ষ মদতে, তিন মেদিনীপুর, বাঁকুড়া পুরুলিয়া - সিপিএম সবচেয়ে বেশি মার খেয়েছিল এই জেলাগুলোতে। আজও সিপিএম সেই আতঙ্ক কাটিয়ে উঠে একটা কচি নেতাও জন্ম দিতে পারেনি। সরি, জন্ম দেওয়া দূর অস্ত, গর্ভধারণ অবধি করতে পারেনি। আরো ৫-৭ বছর লাগবে ২০১১ সালের আতঙ্ক দূর করে, সেই ট্রমা কাটিয়ে সুস্থ স্বাভাবিক হতে। 

বামেদের নিজশ্ব ইউনিক সাপ্লাই লাইন থাকা সত্বেও তারা আজ অবধি মানসিক ভীতি কাটিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি, রাজ্য জুড়ে অন্তত ১৬টা জেলাতে তারা হামাগুড়ি দিচ্ছে। শরিকগুলোর তো ঝাঁপ বন্ধ হয়ে গেছে। ২০১১ এর সময়কার কোনো বড় বাম নেতার যা খুশি রোগ থাক, কোষ্ঠকাঠিন্য নেই। মমতার নাম দু'বার করলে পোঁদ দিয়ে জিভ বেরিয়ে আসে, সেখানে রেক্টামে গু আঁটকে থাকার প্রশ্নই নেই। আজ তোলামুল নামের সাপটা মারা গেছে, খোলস পরে আছে। সেটাকে দেখেই পাখি আর বাঁদরের দল কিচিরমিচির করছে। ভুলে যেও না SUCI এরও পলিটব্যুরো আছে। ২০ বছর পরেও অফিসিয়ালি তৃণমূল কংগ্রেস দলটার অফিস থাকবে কোলকাতার কোথাও না কোথাও। কিন্তু এরা ৫% ভোটও পাবে না ঠিক আগামীকাল নির্বাচন হলেও। যেসব ঘাটের মরাদের যাবার জাইগা নেই, তারা কালীঘাটের ভিকিরি আর ঘেও কুত্তা হয়ে পরে থাকবে।

পরবর্তী ৬ মাসে যে হারে এরা শারীরিক, মানসিক এবং অর্থনৈতিক যে মার খাবে, সেই আতঙ্ক কাটানো তো দুরস্থান- এদের শুক্রাণুর কেউ রাজনীতির নামটুকু মুখে আনবে না। নির্দিষ্ট আদর্শ থাকা সিপিএমের ধ্বজভঙ্গ আজও দশা কাটেনি, কারণ সিপিএম যখন মার খেয়েছিল সাধারণ মানুষ সেটাকে উদযাপন করেছিল। কোনো ধরনের আদর্শহীন তোলামুলকেও যখন মার খেতে দেখবে, একটা পাশবিক জিঘাংসা বৃত্তি কাজ করবে জনগণের মনে। ১৫ বছর ধরে করা প্রতিটা পাপের সাথে আজকের অত্যাচারকে জাস্টিফাই করে- হিসাব মিলিয়ে দেবে। এরপর এরা এতোটাই দুর্বল হয়ে যাবে যে, ওই গোটা বাংলা জুড়ে সাকুল্যে ২-৪টে পার্টি অফিস বাঁচবে, SUCI এর সাথে জোটে করে, কংগ্রেসের রক্ষীতা হয়ে তাদের দয়া দাক্ষিণ্যের উপরে বেঁচে থাকবে। ঘাটের মরা মালগুলো, যেগুলোকে আস্তাকুঁড়ের ডাব্বাও নেবে না- সেগুলোই জলসাঘরের ছবি বিশ্বাসের মতো বসে থাকবে।

এরপর সিভিক পুলিশ ধরবে, এদের উপরেই ফার্স্ট ফ্লাসের ক্যালানি শুরু হবে। সিভিকের পরেই পঞ্চায়েত, মিউনিসিপ্যালিটির ডেটা এন্ট্রি অপারেটরদের শরীরে হাত বোলালেই জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের মতো প্যান্টে হেগে মুতে দেবে, তাদের থেকে পাওয়া তথ্যতেই তো মূল প্রাণভোমরা রয়েছে সরকারি চুরিচামারির। এরপর আইপ্যাকের মেজো ও উঁচু পদের পেদোর দল, ডেটা তাদের কাছেও কম কিছু নেই। দুর্নীতির হাতে-কলমে প্রয়োগ যদি সিভিক পুলিশগুলো করে থাকে, তাহলে এসি ঘরে বসে তার রূপায়ণ করেছে এইসব ডেটা এন্ট্রি অপারেটরগুলো- আইপ্যাকের তত্ত্বাবধানে। পঞ্চায়েতে পঞ্চায়েতে লক্ষ কোটির ঋণ আছে নানান কন্ট্রাকটারের। তারা টাকা পাবে না, তোলামুলের নেতাদের সম্পত্তি বেচে টাকা আদায়ের আগে দ্বিতীয় দফার ক্যালানি ও খুনোখুনি শুরু হবে এদের মাধ্যমে। এর পর তো পঞ্চায়েত ভোটের আগে আসল সাম্প্রদায়িক খেলা শুরু হবে।

তাই যারা ভাবছে খেলা শেষ, তাদের বলি- খেলা শুরুই হয়নি এখনও।



মাননীয়া মমতা ব্যানার্জী

আজ আমি অনেকক্ষণ ধরে ভাবলাম, যা বুঝলাম- আমি সত্যিকারের একজন মমতাপ্রেমী মানুষ, আপনার সবচেয়ে জাবড়া ফ্যানদের মধ্যের শীর্ষস্থানীয়। আমি চটি চাঁটা ...