ভন্ডামি আর চোদনামো
এই দুটোর মধ্যে একটা সুক্ষ ফারাক আছে। ভন্ডামিটা অল্পক্ষণেই ধরা পরেই যায় আমার
আপনার মত অতি সাধারণ মানুষের চোখেও, কিন্তু চোদনামো হলো সেই শিল্প যা অন্ধভক্তদের একমাত্র
খোরাক। যারা গোবর খায়, সাম্প্রদায়িকতা হাগে- তাদের জন্য আমাদের ক্রিকেট টিমকে বলির পাঁঠা বানিয়ে একপ্রকার
বাধ্য করে এই চোদনামোটা করিয়ে নিলো বিজেপির মেশিনারি।
সুর্যকুমার যাদব প্রতিভাবান ক্রিকেটার, মোদির মত অভিনেতা নয়। তাই বেচারি বিজেপির
তৈরি এই খাজা স্ক্রিপ্টকে মনে রাখতে পারেনি। ক্যামেরার সামনে হ্যান্ডসেকে মানা করেছিলো,
কিন্তু CCTV ও অন্যান্য লোকের মোবাইল ক্যামেরা যে রয়েছে সেটা ভুলে গিয়েছিলো, আর এই
অহেতুক চোদনামোর ফলে তার ক্রিকেটীয় পারফর্মেন্স খারাপ হয়েছে। এই স্ক্রিপ্ট বিবেক অগ্নিহোত্রীর
থেকেও জঘন্য। শুধু প্রকাশ্য ময়দানে ক্যামেরার সামনে হাত মেলানো যায়না, তাহলে মহাগুরু
‘অপারেশন সিন্দুর’ নাম দিয়ে সোস্যালমিডিয়াতে পোষ্ট করে নিজের ডঙ্কা বাজাবে কী করে!
ক্যামেরার সামনে জাতীয়তাবাদী নাটক। এদের রক্তে যদি দেশপ্রেম থাকত, শহিদদের প্রতি
নুন্যতম সহানুভূতি থাকত তাহলে পাকিস্তানের
সাথে মাঠেই নামত না ভারতীয়
টিম। ঘরের ভিতরে হ্যান্ডসেক করব, শুধু মাঠে গিয়ে চোদনামো করব। জনগনকে গান্ডু বানাবার জন্য এই সস্তার নাটক করা হচ্ছে। কিন্তু নিয়তির পরিহাস বড় নির্দয় ও করুণ, CCTVতে বেচারা সূর্যকুমার এক্সপোজ হয়ে
গেলো। এটা টুর্নামেন্ট এর চেয়ে
সার্কাস হয়ে গেলো।
ক্রনোলজিটা কেমন? পেহেলগামে জঙ্গিহানা, ভারতীয় সেনার প্রবল বিক্রমে প্রত্যাঘাত
ও বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌছে গিয়ে অফিসিয়াল জয়ের
ঘোষনার অপেক্ষা। এবার গল্পে
টুইস্ট, মার্কিন প্রভুর আদেশে যুদ্ধবিরতি, তার পরেও ট্যারিফের নামে বিপুল মার্কিন নিষেধাজ্ঞা। মহামানব চীনের কোলে বসার জন্য তাড়াহুড়ো। চারিদিকে ছ্যাঃ ছ্যাঃ রব, অতএব পাবলিককে আফিমের গুলি দাও। কে
না জানে আমাদের দেশে ক্রিকেট হলো ধর্ম, অতএব পাকিস্তানের সাথে ক্রিকেট খেলার আয়োজন করো। চু’তিয়াদের বিশ্ব-গুরু
তার বৈদেশিক কূটনীতির
ব্যর্থতা ঢাকতে ক্রিকেট দলের পিছনে লুকিয়ে পরলো।
এই সিরিজ থেকে ভারতের প্রাপ্তি পূর্বনির্ধারিত, কিন্তু পাকিস্তান কমবেশি কয়েক হাজার
কোটি কামিয়ে ফিরেছে, যা তারা পরবর্তী সন্ত্রাসী হামলার জন্য তহবিলে লগ্নি করে দেবে। বিজেপির প্রোপ্যাগান্ডা মেশিনারি মে’মাসের যুদ্ধকে ক্রিকেটের কমেন্ট্রির মত
দেড় ঘন্টার ঝোড়ো ইনিংশে লাহোর করাচি দখল করেছিলো, এরাই ক্রিকেট ম্যাচকে যুদ্ধ বানিয়ে
ছেড়েছে। কার্গিলে দেশের হয়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা, ২২ বছর ধরে সেনাতে চাকরি
করা ‘সেওয়াং থারচিনকে’ অমিত সাহ এর পুলিশ গুলি করে খুন করেছে লাদাখে, তাও পিঠে গুলি
করেছে। কারোর মুখ দিয়ে দেশপ্রেমের রজঃস্রাব গড়িয়ে পরেনি, না কোথাও এ নিয়ে খাপ বসেছে।
মোদী-শাহ এর মতে নিম্নলিখিত এই শহীদদের আত্মা সুবিচার পেয়েছে ক্রিকেটের যুদ্ধ দিয়ে-
মুরলী নায়েক, সমীর গুহ, সুনীল কুমার, দিলীপ দেশাল, দীনেশ কুমার, সুমিত পারমার, বিনয় নারওয়াল, মনীশ রঞ্জন, মঞ্জুনাথ রাও, এন রামচন্দ্র, এস মধুসূধন, তাগে হাইল্যাং, ইয়াতীশ পারমার, ভারতভূষণ, বিতন অধিকারী, দীনেশ আগরওয়াল, সুদীপ নেউপানে, সুশীল নাথিয়াল, জেএস চন্দ্রমৌলি, মোহাম্মদ ইমতিয়াজ, নীরজ উধাওয়ানি, সন্তোষ জগদালে, শুভম দ্বিবেদী, অতুল শ্রীকান্ত মনি, ঝন্টু আলী শেখ, কস্তুবা গণভোটে, হেমন্ত সুহাস জোশী, শৈলেশ কালাথিয়া, সুরেন্দ্র কুমার মোগা, সঞ্জয় লক্ষ্মণ লালী, সৈয়দ আদিল হোসেন শাহ, প্রশান্ত কুমার সাতপাঠী – এনাদের পরিবার স্বজন হারানোর ক্ষতিপূরণ পেয়ে গেছে সম্ভবত
BCCI এর যাত্রাপালাতে। সূর্যদের প্রকাশ্যে হাত না মেলাবার চোদমানোই হলো সন্ত্রাসীদের
উপরে আসল প্রত্যাঘাত।
প্রতিবার কাপ জয়ের পর হুডখোলা বাসে মুম্বই মেরিন ড্রাইভের পরিবর্তে বিজয়োৎসবটা
কী পাটনাতে হবে এবারে?

