খেলাধুলো লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
খেলাধুলো লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬

পর্তুজিলঃ দুটো ফুটবল দল আর তাদের বদ্ধোন্মাদ ফ্যানেদের গল্প



একজন শিক্ষক তার শিক্ষকতার নজরে পৃথিবীকে দেখে ও বিচার করে। একজন শিশু তার শিশুসুলভ দৃষ্টিতে দুনিয়া দেখে। পুঁজিপতি তার মতো দেখে, শ্রমিক তার শ্রান্ত চোখে দেখে, মার্ক্স তার মতোন করে দেখেছিলো। ট্রাম্প তার মতো করে দেখে, ইরান তার মতো করে। বখাটে ছেলে তার উড়নচণ্ডী মনোভাব নিয়ে দেখে, বেশ্যা শরীর সাজিয়ে দেখে- পার্ভাট ব্যক্তি ৩ দফা মোটা পোশাকের মধ্যে দিয়েও শরীরের কোণা কোণা দেখে নেয়। 

দেখা আর দর্শন দুটো আলাদা বিষয়, চোখ থাকলে দেখা যায় কিন্তু দর্শন এর জন্য কে কোন পরিস্থিতিতে রয়েছে সেটা গুরুত্বপূর্ণ।

পর্তুজিল সমর্থকদের লিবিডো বর্তমানে চরম পর্যায়ে এই বিশ্বকাপের বাজারে, কিন্তু শিরোচ্ছেদের মতো তাদের লিঙ্গচ্ছেদ হয়ে গিয়েছে- মোতার ছিদ্রটুকু রেখে। এখন উত্তেজনা হলেও নিষ্ক্রমণের সুখানুভূতি নেই। স্বমেহনের জন্য ইন্দ্রিয়টুকুও জ্যান্ত নেই। অগত্যা আলফাল লিখে বা শেয়ার করে বিকৃত মানসিক তৃপ্তি পাওয়া ছাড়া দ্বিতীয় একটা উপায় বলুন যেখানে এই প্রজাতির প্রাইমেটরা দু-দণ্ড শান্তি পাবে?

এদের মূল বৈশিষ্টই হলো অন্যের খুঁত ধরা, কে আইন মানছে না তা খুঁজে ফেরা। অথচ এরা নিজেরাই আইন মানে না। যুধিষ্ঠির সেজে ফিফার মুন্ডুপাত করে যাবে, কিন্তু তারা পর্তুজিলের কোনো দুর্নীতির কিছুতে কী নিদারুন উপেক্ষার ট্যাকেল দিয়ে সামনে এগিয়ে যায়। এরা সেই মেসি নামের কুমিরের রচনা মুখস্ত করে রেখেছে। ধরুন তার বাপের অর্শ, বৌ এর সাদাস্রাব, ছেলে পায়ের ফাঁসে দাদের ঘা, মেয়ে পাড়ার লম্পটটার প্রেমিকা। বউ এদিকে আপার হ্যান্ড, শোয়া বন্ধ করে দিয়েছে, তার উপরে সর্বক্ষণ গঞ্জনা। কাউকে কিছু বলার নেই, তীব্র ফ্রাস্ট্রেশন। কুমতির উপায়? সব ওই আর্জেন্টিনা নামের গঙ্গা বা নদীতে নিয়ে ফেলব, আর নদী মানেই কুমির। 

বাংলাদেশের ক্রিকেট বিজ্ঞানীরা, যারা সোশ্যাল মিডিয়াতে কোয়ান্টাম ফিজিক্সের ডক্টরেট পর্যায়ের বিশেষজ্ঞ, সেই তাদের যুক্তি কি আমরা জানি না? ICC মানে- ইন্ডিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল তত্ত্ব, ICC চুর, আম্পায়ার চুর, রোহিত শর্মা চুর- সব তত্ত্ব এখন নিখাদ খোরাক, তাদের নিজেদের দেশেও। পর্তুজিলের দিশেহারারা সেই বাংলাদেশী প্রজাতির জিনতুতো ভাই। মেলালেন তিনি মেলালেন।

২০২৬ বিশ্বকাপের শুরুতে ব্রাজিল ও পর্তুগাল এর আলাদা আলাদা বেস ছিল, কেবল আর্জেন্টিনার খেলার দিনে তারা শর্তসাপেক্ষ বন্ধন করে 'পর্তুজিল' হচ্ছিল। মিশর ম্যাচের আগে দ্রুত ভৌত পরিবর্তন ঘটিয়ে তারা 'মির্তুজিল' হয়েছিলো। পরবর্তী ম্যাচ গুলোতে অক্টোপাস বা গিরগিটির মতো দ্রুত রঙ চেঞ্জ করে "ফ্রার্তুজিল, স্পের্তুজিল বা পর্তুজিল্যান্ড" হবেই হবে। বিজ্ঞানের ইতিহাসে এতো দ্রুত জেনেটিক মিউটেশন কোনো নিম্নবর্ণের জীবেও দেখা যায় না। সুতরাং বুঝে দেখুন, এই পর্তুজিল সমর্থকুল সম্পূর্ণ একটা নতুন ব্রিড- যারা কুত্তালিঙ্গম বন্ধনে একে অন্যের সাথে জননাঙ্গ পথে গিঁট বেঁধে বসে আছে।

আর্জেন্টিনা দেশটাই তো আমেরিকার পুতুল সরকার চালিত, আমাদের দেশের মতোই। বিশ্বগুরু যেমন ট্রাম্পের পাপেট- আর্জেন্টিনাও তাই, ইজরায়েলের দাস- যেমন আমাদের দেশ। এই আমেরিকা চালিত ইজরায়েলের দাস হওয়ার কারণে, আমরা নিজেদের দেশ ছেড়ে নেপাল ভুটান বাংলাদেশ চলে গেছি কি? নাকি ক্রিকেটের সময় আমরা ভানুয়াতু বা উগান্ডাকে সাপোর্ট করি? সুতরাং দুর্নীতিবাজ সরকারের দায়ে, কিম্বা দুর্নীতিবাজ ক্রীড়াবোর্ডের দায়ে মেসি বা আর্জেন্টিনা ফুটবল দলকে খিস্তিখেউড় করাটা যুক্তিযুক্ত?  তাহলে রোহিত শর্মা থেকে অভিষেক শর্মারা কেন খিস্তিখেউড় খায় না? তাহলে জয় শাহ এর জন্য ক্রিকেট দেখা বন্ধ করেননি কেন? 

অক্ষমের শিৎকার শুনতে কমবেশি সকলেরই ভালো লাগে হয়তো বা। আজকাল পানুর বাড়বান্তের জন্য, আওয়াজ শুনেও যে স্খলন হয়- সেই শিল্প মরে গেছে। আগেকার দিনে হারেমে খোজা রাখত রাজা বাদসারা, যারা শিৎকার আর মালিশ দিয়ে আনন্দ প্রদান করত।

পর্তুজিল সমর্থকেরা বর্তমানে খোজা। চোখে দেখছে, কানে শুনছে, কামনা বাসনা সবই জাগছে- শুধু নিজেদের যন্ত্র নেই। ফলত যাবতীয় ঘটনাক্রম বাস্তবের সাথে নয়, অন্ধ জিগাংসার সাথে সম্পৃক্ত। অক্ষমের হতাশার দীর্ঘশ্বাস নিম্নচাপের দমবন্ধ পরিস্থিতির চেয়েও মারাত্বক ও ধ্বংসাত্মক। পর্তুজিলেরা কী নিয়ে আলাপ আলোচনা করবে বলুন তো? কোন সাবজেক্ট পড়ে রয়েছে এই বিশ্বকাপে - আর্জেন্টিনা আর মেসিকে নিয়ে কিছু কুকথা খরচা করে সিজেনটা কাটিয়ে দেওয়া ছাড়া!!

বাকি যা কিছু মলমূত্র দেখছেন- সেগুলো ওই, রেতঃক্ষেপ করতে না পেরে হেগে-মুতেই অর্গাজম নেবার ব্যর্থ চেষ্টা করছে গোটা ফ্যাটারনিটি। আর এটা ফাইনাল অবধি চলবে, তাতে কাল আর্জেন্টিনা সুইজারল্যান্ডের সাথে হেরে গেলেও, এদের ছিদ্রান্বেশন থামবে না। তখন কমিটির টিমের সংজ্ঞা বদলে যাবে, ফ্রান্স মানে আফ্রিকা, বেলজিয়ামও তাই, ইংল্যান্ড বা স্পেন তো ফুটবল মাফিয়া তাদের প্রিমিয়াম লিগ বা লা-লিগা চালাতে হয় বলে, ইত্যাদি।

মোহাম্মদ সালাহ দুরন্ত খেলেছে, ক্লাসিক বল প্লেয়ার। আর্জেন্টিনা ম্যাচে তাদের বাতিল হওয়া ও পরবর্তীতে দ্বিতীয় গোলটা ছবির মতো সুন্দর। সুন্দরকে সুন্দর বলা যাবে না? তার জন্য আর্জেন্টিনা বা মেসি চোর হয়ে যাবে?

মাঠে ফিলিস্তিনের পতাকা জড়িয়ে নেমে পড়লে যদি তাকে অন্ধ ভক্তি করতে হয়, তখনই তার গাঁড়ে ক্যাৎ করে একটা লাথি মেরে শুধাতে হয়- ইজিপ্টের বর্ডার কেন ফিলিস্তিনের জন্য বন্ধ? আপনি RSS এর সরকারের অধীনে থেকে বছর বছর বাচ্চা পয়দা তো দায়ে পড়ে পড়েন না, ফুর্তি মেরেই করেন। ইজরায়েলে লগ্নি করা আদানির 'ফর্চুন' কোম্পানির তেলে ভাজা চপে কামড় দিয়ে- ফিলিস্তিনের পক্ষে ন্যাকা কান্না কাঁদলে, আপনার বিচিতেও ক্যাৎ করে লাথিটা মারা উচিৎ- ঠিক যতটা জোরে আর্লিং হল্যান্ড শট নিয়েছিল ব্রাজিলের সাথে দ্বিতীয় গোলে।

ফিফা চুতিয়া ও চোর এতে সন্দেহ কীসের! তারাই তো ক্যাপিটালিজম এর মার্কেটে 'স্টার' তৈরি করে বেচে আমার আপনার মতো উপভোক্তার কাছে, বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে। ফিফা তো চ্যারিটি নয়। মেসির চেয়ে রোনাল্ডোর ভক্ত সংখ্যা বেশি, তা তারা রোনাল্ডোকে কেন রেখে দিল না? জার্মানিকে কেন বিদায় নিতে হলো? বড় দল ও সাদা সুপ্রিমেসিকে ফিফা নির্লজ্জভাবে প্রোমোট করে যা তাদের দীর্ঘদিনের অঘোষিত নীতি। টাকা কামাতে হলে ফিফার নেইমার, এম্বাপে, হল্যান্ড, ইয়ামাল, মেসি বা রোনাল্ডোকে চাই ই চায়। যারা মারাতে পারছে তারা টিকে আছে, বাকিরা 'ইউরো' বিশ্বকাপের চেয়ে বড় ইত্যাদি বলে মুখ দিয়ে হাগছে।

ও হ্যাঁ, ইংল্যান্ড আর ফ্রান্সের সামনে পড়লে আর্জেন্টিনার কী হবে, সেই ভেবে ঘেমে ডিহাইড্রেশন হয়ে কষা হাগা বানিয়ে ফেলেছেন অনেকে। আপনারা একটু লবণ জল গুলে খান, ORS এর কাজ করবে। চোঁয়াচোঁয়া ঢেকুর, বদহজম, পেটফাঁপা, গন্ধবায়ুর প্রোকোপে অতিষ্ঠ হয়ে থাকলে- বিশুদ্ধ হোমিওপ্যাথি "কার্বোভেজ" ট্রায় করুন। সমস্ত ধরনের বুকজ্বালা থেকে রিলিফ পাবেন। তার চেয়ে বেশি হলে বি-টেক্স ট্রাই করুন।

এরা হয় উন্মাদ কিম্বা নির্বোধ। এদের প্রায় অধিকাংশই মরসুমি ফ্যান, বিশ্বকাপ ফাইনালের পর আবার চার বছর পর উদয় হবে যদি বেঁচে থাকে। সুতরাং এদের লম্ফঝম্প দেখে ঠিক সেভাবেই আমোদিত হন- যেভাবে বাঁদর নাচের বাঁদরামি দেখে মজা নিই। এর বেশি গুরুত্ব পাবার যোগ্য এরা নয়।

সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

এশিয়া কাপ ও করমর্দন

 


ভন্ডামি আর চোদনামো

এই দুটোর মধ্যে একটা সুক্ষ ফারাক আছে। ভন্ডামিটা অল্পক্ষণেই ধরা পরেই যায় আমার আপনার মত অতি সাধারণ মানুষের চোখেও, কিন্তু চোদনামো হলো সেই শিল্প যা অন্ধভক্তদের একমাত্র খোরাক। যারা গোবর খায়, সাম্প্রদায়িকতা হাগে- তাদের জন্য আমাদের ক্রিকেট টিমকে বলির পাঁঠা বানিয়ে একপ্রকার বাধ্য করে এই চোদনামোটা করিয়ে নিলো বিজেপির মেশিনারি।

সুর্যকুমার যাদব প্রতিভাবান ক্রিকেটার, মোদির মত অভিনেতা নয়। তাই বেচারি বিজেপির তৈরি এই খাজা স্ক্রিপ্টকে মনে রাখতে পারেনি। ক্যামেরার সামনে হ্যান্ডসেকে মানা করেছিলো, কিন্তু CCTV ও অন্যান্য লোকের মোবাইল ক্যামেরা যে রয়েছে সেটা ভুলে গিয়েছিলো, আর এই অহেতুক চোদনামোর ফলে তার ক্রিকেটীয় পারফর্মেন্স খারাপ হয়েছে। এই স্ক্রিপ্ট বিবেক অগ্নিহোত্রীর থেকেও জঘন্য। শুধু প্রকাশ্য ময়দানে ক্যামেরার সামনে হাত মেলানো যায়না, তাহলে মহাগুরু ‘অপারেশন সিন্দুর’ নাম দিয়ে সোস্যালমিডিয়াতে পোষ্ট করে নিজের ডঙ্কা বাজাবে কী করে!

 

ক্যামেরার সামনে জাতীয়তাবাদী নাটক। এদের রক্তে যদি দেশপ্রেম থাকত, শহিদদের প্রতি নুন্যতম সহানুভূতি থাকত তাহলে পাকিস্তানের সাথে মাঠেই নামত না ভারতীয় টিম। ঘরের ভিতরে হ্যান্ডসেক করব, শুধু মাঠে গিয়ে চোদনামো করব। জনগনকে গান্ডু বানাবার জন্য এই সস্তার নাটক করা হচ্ছেকিন্তু নিয়তির পরিহাস বড় নির্দয় ও করুণ, CCTVতে বেচারা সূর্যকুমার এক্সপোজ হয়ে গেলো। এটা টুর্নামেন্ট এর চেয়ে সার্কাস হয়ে গেলো

 

ক্রনোলজিটা কেমন? পেহেলগামে জঙ্গিহানা, ভারতীয় সেনার প্রবল বিক্রমে প্রত্যাঘাত ও বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌছে গিয়ে অফিসিয়াল জয়ের ঘোষনার অপেক্ষা। এবার গল্পে টুইস্ট, মার্কিন প্রভুর আদেশে যুদ্ধবিরতি, তার পরেও ট্যারিফের নামে বিপুল মার্কিন নিষেধাজ্ঞা। মহামানব চীনের কোলে বসার জন্য তাড়াহুড়ো। চারিদিকে ছ্যাঃ ছ্যাঃ রব, অতএব পাবলিককে আফিমের গুলি দাও। কে না জানে আমাদের দেশে ক্রিকেট হলো ধর্ম, অতএব পাকিস্তানের সাথে ক্রিকেট খেলার আয়োজন করো। চু’তিয়াদের বিশ্ব-গুরু তার বৈদেশিক কূটনীতির ব্যর্থতা ঢাকতে ক্রিকেট দলের পিছনে লুকিয়ে পরলো

 

এই সিরিজ থেকে ভারতের প্রাপ্তি পূর্বনির্ধারিত, কিন্তু পাকিস্তান কমবেশি কয়েক হাজার কোটি কামিয়ে ফিরেছে, যা তারা পরবর্তী সন্ত্রাসী হামলার জন্য তহবিলে লগ্নি করে দেবে। বিজেপির প্রোপ্যাগান্ডা মেশিনারি মে’মাসের যুদ্ধকে ক্রিকেটের কমেন্ট্রির মত দেড় ঘন্টার ঝোড়ো ইনিংশে লাহোর করাচি দখল করেছিলো, এরাই ক্রিকেট ম্যাচকে যুদ্ধ বানিয়ে ছেড়েছে। কার্গিলে দেশের হয়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা, ২২ বছর ধরে সেনাতে চাকরি করা ‘সেওয়াং থারচিনকে’ অমিত সাহ এর পুলিশ গুলি করে খুন করেছে লাদাখে, তাও পিঠে গুলি করেছে। কারোর মুখ দিয়ে দেশপ্রেমের রজঃস্রাব গড়িয়ে পরেনি, না কোথাও এ নিয়ে খাপ বসেছে। মোদী-শাহ এর মতে নিম্নলিখিত এই শহীদদের আত্মা সুবিচার পেয়েছে ক্রিকেটের যুদ্ধ দিয়ে-

 

মুরলী নায়েক, সমীর গুহ, সুনীল কুমার, দিলীপ দেশাল, দীনেশ কুমার, সুমিত পারমার, বিনয় নারওয়াল, মনীশ রঞ্জন, মঞ্জুনাথ রাও, এন রামচন্দ্র, এস মধুসূধন, তাগে হাইল্যাং, ইয়াতীশ পারমার, ভারতভূষণ, বিতন অধিকারী, দীনেশ আগরওয়াল, সুদীপ নেউপানে, সুশীল নাথিয়াল, জেএস চন্দ্রমৌলি, মোহাম্মদ ইমতিয়াজ, নীরজ উধাওয়ানি, সন্তোষ জগদালে, শুভম দ্বিবেদী, অতুল শ্রীকান্ত মনি, ঝন্টু আলী শেখ, কস্তুবা গণভোটে, হেমন্ত সুহাস জোশী, শৈলেশ কালাথিয়া, সুরেন্দ্র কুমার মোগা, সঞ্জয় লক্ষ্মণ লালী, সৈয়দ আদিল হোসেন শাহ, প্রশান্ত কুমার সাতপাঠী – এনাদের পরিবার স্বজন হারানোর ক্ষতিপূরণ পেয়ে গেছে সম্ভবত BCCI এর যাত্রাপালাতে। সূর্যদের প্রকাশ্যে হাত না মেলাবার চোদমানোই হলো সন্ত্রাসীদের উপরে আসল প্রত্যাঘাত।

 

প্রতিবার কাপ জয়ের পর হুডখোলা বাসে মুম্বই মেরিন ড্রাইভের পরিবর্তে বিজয়োৎসবটা কী পাটনাতে হবে এবারে?

রবিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

শ্রীমতি কমলা তাই গাভাই



খবরে প্রকাশ (ডেকান হেরাল্ড, দ্য প্রিন্ট) আগামী ৫ অক্টোবর অমরাবতীতে RSS এর শতবর্ষ উদযাপনে, তাদের ঐতিহ্যবাহী খাকি হাফপ্যান্ট ও সাদা জামার পোশাক পরিহিত ১৫,০০০ স্বয়ংসেবক যোগ দেবে, থাকবে বিশ্ব প্রতিনিধিরা।

প্রধান অতিথির নামটা ভারি অদ্ভুত ও অপ্রত্যাশিত। কিন্তু এটা আশ্চর্যের নয়, প্রধান অতিথির নাম শ্রীমতি 'কমলা তাই গাভাই'।
হ্যাঁ, আপনি ঠিক যেটা ভাবছেন সেটাই, উনি তিনিই, ওনার মা। আপনি ভাবছেন RSS এর আদর্শের বিপক্ষে গিয়ে দেশের সর্বোচ্চ বিচারব্যবস্থা সংবিধানের পক্ষে ব্যতিক্রমী কিছু করবে

এসব ফালতু খবর কেন শুনবেন, বরং তাড়াতাড়ি করুন, আসর শুরু হলো বলে। পেহেলগামের শহীদদের আত্মার শান্তি কামনাতে এটা Operation Sindoor-2.0 এর অংশ। আপনার কাছে হোয়াটস্যাপ মেসেজ আসেনি?
আরবের সনাতনী মাটিতে আজ মুজরোর আসরের লাইভ সম্প্রচার দেখাবে PVR INOX, শুরুতে গোটা দেশজুড়ে ১০০ মাল্টিপ্লেক্সে দেখানোর কথা থাকলেও সেটা বেড়ে নাকি ২০০ হয়েছে এতো টিকিটের চাপ। ছাপরি চুলের হার্দিক পান্ডিয়ার মতই এটা বদলে যাওয়া ভারত। সকলেই বোধহয় শ্রদ্ধার্ঘ্য দিতে চাইছেন শহীদের পরিবারকে।
এখানে দেশপ্রেমের সমস্ত কিছু ইজেরে চালান হয়ে গেছে ক্যাপিটালিজমের কাছে। বিজেপিগস আর তাদের বাপ RSS এর মনুবাদী সংবিধান অনুযায়ী শূদ্র, ম্লেচ্ছ ও অন্ত্যজদের সাথে যৌন সম্ভোগ সিদ্ধ। সুতরাং ক্রিকেটিয় বিচারে দূুর্বল পাকিস্তানকে মাঠে ফেলে তাদের মায়ের ১০৮ বার নেওয়ার মাঝেই দেশপ্রেম সুরক্ষিত হয়, কলেবরে বৃদ্ধি পায়।
চলুন মহাষষ্ঠীর সন্ধ্যায় আবেগের দোকান খুলে বসি, দেশপ্রেমকে পোঁ'দে গুঁজে রেখে। কাল সকাল থেকে আবার বয়কট বয়কট খেলা শুরু করতে হবে।

What a busy day...

সোমবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

রো কো


ক্রিকেটার অতীতে অনেক এসেছে, অনেক আসছে, আগামীতে অনেক আসবে, বহু জন গ্রেট হবে। কিন্তু কতজন ক্যারেক্টার হয়ে উঠতে পারবে! Sourav Ganguly গ্রেট ক্রিকেটার, তার ক্রিকেট দর্শন অনেক ঋদ্ধ, অনেক সাহসী সিদ্ধান্ত নেওয়া আছে তার ক্রিকেট জীবনে, কিন্তু সেই অর্থে ক্যারেক্টার হয়ে উঠতে পারেনি। ক্রিকেটীয় রাজনীতির পাঁকে জড়িয়ে গিয়ে কেরিয়ার ছোট হয়ে গেছে।

Great Sachin Tendulkar আক্ষরিক করতেই গ্রেট, ক্রিকেটের ভগবান। দক্ষতা, শৈল্পিক নৈপুণ্য এবং পরিসংখ্যান - সবকিছুতে তিনি ধরা ছোঁয়ার উর্ধ্বে। সেই অর্থে বাকিদের সঙ্গে তিনি তুলনায় আসেন না। তিনি নিজে একটা ক্লাস এবং সেই ক্লাসে তিনিই একমাত্র প্রতিনিধি। সারা জীবনটা পলিটিক্যালি কারেক্ট থেকেছেন।
Rahul Dravid, ক্রিকেট যদি ধর্ম হয় তাহলে দ্রাবিড় হলো সেই ধর্মের প্রফেট। একাগ্রতা, শৃঙ্খলা, নিয়মানুবর্তিতা আর সাধনার সংমিশ্রণের সাথে চারিত্রিক সংযমের এক বিরল সঙ্গমের নাম রাহুল দ্রাবিড়। তারপরও দিনের শেষে তিনি নিজের সার্কিটেই সীমাবদ্ধ। বিতর্ক আর রাহুল দ্রাবিড় ছিলেন চুম্বকের দুটো আলাদা মেরু।
আজকের গিল, অভিষেক চমৎকার, কিন্তু তারা কেউ Yuvraj Singh নয়, হবেওনা। তারপরেও যুবরাজ সিং আর বৈভব এই দুটো সমর্থক হয়ে গিয়েছিল - দেখনদারির নিরিখে। এরা নিজ নিজ সময়ের শ্রেষ্ঠ খেলোয়াড় হওয়ার সাথে সাথে দুর্দান্ত বর্ণময় ছিল। MS Dhoni অত্যন্ত সফল এবং আগ্রাসী। তারপরেও নিজের ক্যারিয়ার নিজের প্রফেশন এইটুকুর মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছেন। Chris Gayle খেলোয়ার হিসেবে যোগ্যতা যেমনই হোক ক্যারেক্টার হিসাবে পারফেক্ট হয়ে উঠেছিল। এরা কেউ আম ক্রিকেট সমর্থকের নিজশ্ব আইকন হয়ে উঠতে পারেনি।
কিন্তু আমারা যাদের এই চল্লিশের আশেপাশে যাদের বয়স, যাদের শৈশব ছিল সচিনময়, সেই আমাদের যৌবনের বাগানেই তো রোহিত আর কোহলি 'যৌবনের প্রতিনিধি' হিসাবে ক্রিকেটে মাঠে ফুল হয়ে ফুটেছিলো। নেভিল কার্ডাস বলে গিয়েছিলেন - স্কোরবোর্ড গাধা। একদমই তাই-
রোহিত কোহলির স্কোরবোর্ড গাধাময় নয়, বরং হাতি ঘোড়ার ছড়াছড়ি- সেসব তথ্য একদিকে, অন্যদিকে হচ্ছে গোটা শুরুর যৌবন টাকে মাতিয়ে রাখা দুটো ক্যারেক্টার। যারা ক্রিকেট খেলতো তো বটেই, পাশাপাশি আমাদের মতন করে আমাদের ভাষায় কথা বলতো। রিলেট করতে পারতাম এমন ভাষায়। কালের নিয়ম মেনে তারা বাণপ্রস্থে চলে যাওয়ার পথে।
খেলা আজকেও হচ্ছে আগামীতেও হবে। টিম ইন্ডিয়া মাঠে নামলে উচ্ছ্বাস থাকবে, আবেগ থাকবে, উত্তেজনা থাকবে, হেরে গেলে দোষারোপ গালিগালাজ সব থাকবে। তাদের গালিগালাজ কে গ্লোরিফাই করছি না, কিন্তু এমন ক্যারেক্টার পাব কোথায়!!
miss you both very badly

রবিবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

নেপো কিড ও ক্রিকেটে


 

আমার মত বহু মানুষ ক্রিকেটে বেঁচে থাকি, ক্রিকেট খায়, ক্রিকেটে শ্বাস নিই। কিন্তু ছেলেবেলার অন্ধ আবেগ আর আজকের বাস্তবতা এক নয়। আজও ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসা বা প্রেমের ঘাটতি নেই, আমৃত্যু সেটা একই রয়ে যাবে অভ্যাসের কারনে। কিন্তু বর্তমান তথ্য উপাত্ত গুলো মগজে ধাক্কা দেয়, অন্ধ আবেগকে প্রশ্ন করে। বর্তমান ক্রিকেটটা আসলে কয়েকটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তি মিলে চালাচ্ছে, একান্তই নিজেদের প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি।

আমাদের ক্রিকেট বোর্ড তথা BCCI আবার একটি সমবায় সমিতি, ১৯৭৫ সালে ‘তামিলনাড়ু সোসাইটিজ রেজিস্ট্রেশন আইনের অধীনে নিবন্ধিতএশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল (ACC) মালয়েশিয়াতেও একটি কোম্পানি হিসাবে রেজিস্টার্ডযেমন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ, লা লিগা ইত্যাদি গভর্নিং বডি গুলো ‘কোম্পানি’ হিসাবে রেজিস্টার্ড রয়েছে।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল লিমিটেড (ICC), কর ফাঁকির স্বর্গ ‘ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডস (BVI)‘কোম্পানি বডি’ হিসাবে রেজিস্টার্ড রয়েছে। অথচ সমজাতীয় অন্যান্য স্পোর্টসের বৈশ্বিক নিয়ামক সংস্থা গুলো যেমন FIFA, International Hockey Federation (FIH), International Olympic Committee (IOC) ইত্যাদি গুলো NPO/NGO হিসাবে রেজিস্টার্ড রয়েছে। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সংস্থা FIFA যেখানে তাদের আইন-কানুন সবটা উন্মুক্ত স্বচ্ছ করে রেখেছে, সেখানে ICC এর অধিকাংশ নিয়ম কানুন যথেষ্ট ধোঁয়াসা যুক্ত। FIFA সুইজারল্যান্ডে নিবন্ধিত একটি নন প্রফিটেবল অর্গানাইজেশন, তাই রোজগারের উপরে TAX তাদেরও দিতে হয়না। কিন্তু টুর্নামেন্ট আয়োজন করলে সেই দেশের নিয়ম অনুসারে ফিফাকে হিসাব কষেই TAX দিতে হয়

জয় শাহ ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে আইসিসির নেতৃত্বে রয়েছে, বোর্ডের সুবাদে ২০১৯ সাল থেকে আইসিসির সাথে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। কংগ্রেসের বড় নেতা রাজীব শুক্লা আবার বোর্ডের বড় নেতা, ACC-এর নির্বাহী সদস্য। এখানে সেই অর্থে রাজনৈতিক দলাদলি ততটা নেই, ক্ষমতাসীন দলের প্রতিনিধি বেশী থাকে, এটুকুই। তার পরেও সকলে মিলেমিশে ক্ষমতা ভোগ করে এখানে।

২০২২ সালে ৪৮,৩৯০ টাকায় আইপিএল মিডিয়া স্বত্ব চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল BCCI। শুধুমাত্র আইপিএল থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৫,৭৬১ কোটি টাকা আয় করেছে বোর্ড, যার গোটাটা করমুক্ত। বর্তমান আর্থিক বর্ষে BCCI-এর রোজগারের উপরে ট্যাক্সের পরিমান দাঁড়াবে ,৩৬২ কোটি টাকা, কিন্তু BCCI আদালতে গিয়েছে এই ট্যাক্স থেকে তাদের অব্যাহতির দেবার জন্য। সরকার সেটা দিয়েও দেবে। বিসিসিআইকে শুধু প্রফিট এর উপরে ইনকাম ট্যাক্স দিলে হবে না, প্রতিটি ম্যাচের টিকিটের উপরে অ্যামিউসমেন্ট ট্যাক্স দিতে কেন বাধ্য করা হবেনা, যেখানে ভারতীয় ফুটবল লীগ তথা ISL কে গুণেগুণে TAX দিতে হয়

অর্থাৎ ICC, ACC এমনকি BCCI দ্বারা আয়োজিত এই সকল বাণিজ্যিক টুর্নামেন্ট একান্তই ব্যক্তিগত কোম্পানি ভিত্তিক আয়োজন। কোনো মিউজিক্যাল শো, সার্কাস, কিম্বা থিয়েটারের সাথে এর ফারাক কোথায়? তবু তো এরা রোজগারের উপরে সরকারকে TAX দেয়, BCCI সেটাও দেয়না। ক্রিকেট বোর্ডে রাষ্ট্রের কোন নিয়ন্ত্রণ নেই, দেশের ক্রীড়া আইন এদের উপরে লাগু হয়না, এদের আয় ব্যায়ের হিসাব একান্তই এদের নিজশ্ব, জনগণ চাইলেও তা জানার অধিকার রাখেনা। মোদ্দাকথা এই ক্রিকেটের সাথে ‘দেশ’ ভারতের তথা জাতির কোনো সম্পর্ক নেই, না সরকারের সাথে কোনও সম্পর্ক রয়েছে। সুতরাং কিসের জাতীয় সম্মান এবং আর কীভাবে জাতির গর্ব হতে পারে ক্রিকেট?

আসলে পৃথিবী জুড়ে সমস্যা হচ্ছে নেপো-কিড। কোন যোগ্যোতার বলে এই নেপো কিড গুলো ক্ষমতার চেয়ারে বসে তার পৃষ্ঠপোষকতা করছে কেউ জানেনা। BCCI এর পদে থাকা ‘সিদ্ধান্ত নেওয়া’ ব্যক্তিদের অধিকাংশই ক্রিকেটের সাথে কখনও জড়িত ছিলোনা। বাকি যারা রয়েছে তাদের প্রশাসনিক দক্ষতাও পরীক্ষীত নয়, আর এমন সব অযোগ্য ব্যাক্তিদের খুঁজে খুঁজে এনে চেয়ারে বসানো হচ্ছে পুতুল হিসাবে, যাতে অবৈধ ভাবে পর্দার পিছন থেকে তৃতীয় কেউ ছড়ি ঘোরাতে পারে

বাংলাতে একটা প্রবাদ রয়েছে- নেপোয় মারে দই। বর্তমানে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড সেই নেপো অর্থাৎ নেপো-কিড দের সংগঠনে পরিণত হয়েছে। অনুরাগ ঠাকুর, বিজেপি নেতা প্রেম মুকার ধুমলের ছেলে। অনুরাগের ছোট ভাই অরুন ঠাকুর, হিমাচল প্রদেশ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি। তার চেয়েও বড় পরিচয় সে IPL এর চেয়ারম্যান। মধ্যপ্রদেশে মহানারায়ণ রাও সিন্ধিয়া জ্যোতিরাদিত্যের ছেলে, অরুন জেটলির ছেলে রোহন জেটলি দিল্লি বোর্ডের মাথায়।

প্রাক্তন সচিব নিরঞ্জন শাহের ছেলে জয়দেব সৌরাষ্ট্র ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি চেন্নাই এর শ্রীনিবাসনের মেয়ে রূপা গুরুনাথ তামিলনাড়ু ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতিগোয়াতে বিনোদ ফাড়কের ছেলে বিপুল ফাড়কে চেয়ারে বসে পরেছে আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে। চিরায়ু আমিনের ছেলে প্রণব আমিন বরোদা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ছিল। প্রাক্তন বিসিসিআই সভাপতি রণবীর সিং মহেন্দ্রের ছেলে, অনিরুদ্ধ চৌধুরী বিসিসিআই কোষাধ্যক্ষ ছিল। বাংলাতে অভিষেক ও বৈশাখী ডালমিয়ারাও ক্ষমতায় বসেছিলো। আসলে সবটাই বিজেপির স্বজনপ্রীতি

ই নেপো গুলো শুধু পদে বসে ক্ষমতার ওম নিচ্ছেনা, চেয়ারকে ব্যবহার করে, হোল্ড করা পজিশনের অপব্যবহারের মাধ্যমে বিপুল হারামের অর্থ উপার্জন করেছে প্রত্যেকে। নতুবা এতো লালায়িত হতোনা পদে বসার জন্য। উদাহরণ হিসাবে জয় শাহ’কে দেখুন, গত পাঁচ বছরে এর ১৪০০ শতাংশ সম্পদ বৃদ্ধি হয়েছে এই পাপ্পুর। আজ প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার বেশি সম্পত্তির মালিক। এর বাইরে বিদেশে কতটা আছে কে জানে! পৃথিবীর কোনো চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট, কোনও বিজনেস ম্যানেজমেন্ট স্কুল, কোনো ব্যবসা এই অগ্রগতি দেখাতে পারবেনা এর মত গুণীজনকে ICC এর চেয়ারম্যানের মত নগণ্য পদে আঁটকে রাখা কী ভারতের মেধা বিনষ্ট করা হচ্ছেনা? দেশের অর্থমন্ত্রকের উপদেষ্টা কিম্বা রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর, নিদেনপক্ষে সকল IIM মুখ্য পদ সৃষ্টি করে সেখানে কে বসিয়ে দেওয়া হচ্ছেনা কেন!

এশিয়া কাপের এই ভারত পাকিস্তান ম্যাচের আয়োজন থেকে রোজগারকৃত অর্থ দ্বারা আমাদের দেশ ‘ভারত’ কীভাবে উপকৃত হবে? যারা রোজগার করবে, তারা তো TAX দেবেনা। বর্তমানে ACC এর চেয়ারম্যান পাকিস্তানের বর্তমান স্বরাষ্ট্র ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ মন্ত্রী মোহসিন নকভি। জয় শাহ মোহেন নকভি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত- BCCI, ACC এবং ICC দ্বারা পরিচালিত ভারত পাকিস্তান’ ম্যাচ না হওয়ার দরুন সত্যিই যদি বিশাল ক্ষতির সম্মুখীন হয়- রাষ্ট্র হিসাবে ভারতের জনগণের বা ভারত সরকারের কী যায় আসে?

মোদী সরকারের কোন দায় ছিল BCCI এই বানিজ্যিক ধান্দাবাজিতে- দেশের মানুষের আবেগ, সেনার আত্মবলিদান, এতো গুলো লাশ ডিঙিয়ে খেলার অনুমতি দেওয়ার? আসলে ম্যাচ বন্ধ হলে বিজেপির ‘নেপো কিডস’ এর দলের পেশাদার জীবন ঝুঁকির মুখে পরততাদের মুনাফা কমে যেতো। তাই রাষ্ট্রের স্বার্থের আগে নেপোকিডদের স্বার্থকে অগ্রাধিকারের সাথে বিবেচনা করা হয়েছে। পাকিস্তানের সাথে একই সাথে রক্ত ও বল গড়াচ্ছে।

 


নাগপুর ও শিক্ষা দূুর্নীতি

পেপার লিক বা প্রশ্নপত্র ফাঁস কোন বিচ্ছিন্ন দুর্নীতি নয়।  এটা একটা পরিকল্পিত অর্থনৈতিক মডেল যেটা সরাসরি নাগপুর থেকে পরিচালিত হয়। এটার পেছনে...