আপনি খেলা আর রাজনীতিকে এক পাত্রে
রেখে গুলিয়ে দেবার মত ভুল করেননা। স্বাধীন দেশে আপনার সেই অধিকার আছে।
স্বাধীন দেশে মোদী সরকার আজ
পেহেলগাঁও এর রক্তক্ষয়ী হামলা ভুলে গিয়ে, কর্পোরেট অর্থের স্বার্থর কাছে নরসংহারের শোক ভুলিয়ে
দিতে চাইছে। অথচ ১৯৮৬ সালের এশিয়া কাপ ভারত বয়কট করেছিলো। এই বছরই পাকিস্তান হকি
দল আনুষ্ঠানিকভাবে পুরুষদের হকি এশিয়া কাপ থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিয়েছে, ভারতের বিরুদ্ধে তারা খেলেনি।
সিদ্ধান্ত খেলোয়ারেরা নেয়না, সিদ্ধান্ত ক্রিকেট বোর্ড নেয়না, সিদ্ধান্ত সরকার নেয়। সরকারে মোদী-শাহ আছে। সিদ্ধান্ত
ICC
নেয়, সেখানেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেকুপুষু সন্টুমনাই বসে
আছে।
সম্পূর্ণভাবে বিজেপির ইচ্ছাতে এই
খেলা হচ্ছে, জাতির
আবেগের সাথে প্রতারণা করে।
এদিকে RSS এর MP রাকেশ সিনহা টিভিতে বলছে- মোদিজী বলেছিলেন, রক্ত আর নদীর পানি একসাথে বইবেনা, ক্রিকেট খেলবেনা এমনটা বলেননি। ফলে
BCCI
ভারত বনাম পাকিস্তান ম্যাচ খেলতে
বাধ্য। বীরেন্দ্র সেহবাগের মত প্রি-চাড্ডি ক্রিকেটারকে দিয়ে 'রগ রগ মে ভারত' বিজ্ঞাপন চালাচ্ছে টিভিতে। আজকাল
কোন হামলাতে জঙ্গির পরিচয় জানা যায়না, তারা শুধু পাকিস্তানি হয়, পাকিস্তানের পরিচয়পত্র পকেটে রেখে
হামলা করে, যাতে সংসদে
দাঁড়িয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলতে পারে। পাকিস্তান না হলে বিজেপির রাজনীতি হালে পানি
পায়না।
দেশপ্রেমের দায় আমার আপনার, আদালতের মতে দেশপ্রেমের দায়
সিপিএমের,
দেশপ্রেমের দায় উমর খালিদের, তাই বিনা বিচারে ৫ বছর ধরে জেলে সে
পচবে। বিজেপি বা RSS এর সে সবের দায় নেই। তাদের পকেটে লাভের টাকা এলেই হবে, ততক্ষণ জাতীয়তাবাদী ভাবনা আপনি
আপনার পায়ুপথে চালান করে দিন। বিজেপি ও RSS সেটাই করেছে, পুরুষেরা পায়ুপথে, মহিলারা সম্ভবত যোনীপথে। এগুলো আবার ওরা সেদিন বের
করে আনবে,
যেদিন ওদের প্রয়োজন হবে। আপাতত DP World আর Wonder Cement কে পয়সা কামাবার বন্দোবস্ত করে
দেওয়াটাই আদর্শ স্বদেশপ্রীতি ও আনুগত্যের চেতনা। এটাই মোদীর ভারত।
বিনোদন ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু আমাদের বিবেক বা মনুষ্যত্ব
তো স্থায়ী একটা বিষয়। শহীদ নিরপরাধ সহ নাগরিক, শহীদ সৈন্যদের সম্মানের চেয়ে বড় কোনও ম্যাচ আছে? আগামীতে শত শত ম্যাচ আসবে যাবে, সময় হলে সেসব অবশ্যই দেখব, কিন্তু আজকে নয়।
আজকে প্রতিটা বল, প্রতিটা শট, প্রতিটা বাউন্ডারি, প্রতিটা বিজ্ঞাপন- যখন আপনি আমি
টিভিতে বা মোবাইলের স্ট্রিমিং এ লাইভ দেখব, বিজ্ঞাপন থেকে আয় হবে, ফুলে ফেঁপে উঠবে কোষাগার। সেই আয় এর একটা অংশ
পাকিস্তান যাবে। সেই অর্থ বুলেট হয়ে আগামীতে গেঁথে যাবে সীমান্তের তীরবর্তী ভারতীয়
নিরপরাধ নাগরিকদের গায়ে, প্রাহারারত সেনাদের কপালে।
পেহেলহগামের জঙ্গিরা বলেছিলো-
মোদীকে গিয়ে বলে দিবি। মোদী শুনেছে, তাই তো এশিয়া কাপে পাকিস্তান ম্যাচের আয়োজনে সম্মতি
দিয়েছে। রক্তের বদলা রক্তে নেওয়া যায়নি, অপারেশন সিঁদুর ট্রাম্পের ধমকিতে হেগে ফেলে সেনাকে
থামিয়ে দিয়েছিলো। এখন ক্রিকেটের মাঠে 'লৌড়েন ভোজ্যম' প্রতিশোধ নিতে যাচ্ছে।
আপনি খেলা আর রাজনীতিকে এক পাত্রে
রেখে গুলিয়ে দেবার মত ভুল করেননা। আমি করি। তাই এশিয়া কাপ বয়কট করাটা আমার নিজের
কাছে দেশপ্রেমের নমুনা। বাকীটা আপনার সদবুদ্ধি।
জয় হিন্দ।
#IndvsPak
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন