এই ধরণের জনদিন পালন ইতিহাসে দুর্লভ হলেও নজিরবিহীন নয়।
বিজেপি RSS
কাদের অনুশরন করছে সেটা অতীতের
দিকে তাকালেই পরিষ্কার হয়ে যায়। চলুন দেখি ওই ধরনের কিছু উদাহরণ-
আডলফ হিটলার। ২০ এপ্রিল “Hitler’s
Birthday” ছিল নাৎসি
ক্যালেন্ডারের সবচেয়ে বড় উৎসবগুলোর একটি। জার্মানির সব স্কুল, অফিস, দোকানপাটে ছুটি থাকত। বার্লিনে
বিশাল সামরিক কুচকাওয়াজ, শিল্পকলা প্রদর্শনী, সংগীতানুষ্ঠান হতো। হিটলারের প্রতি আনুগত্য প্রকাশে যুব সংগঠন (Hitler Youth) বিশেষ মিছিল করত। ১৯৪৪ সালে
হিটলারের শেষ জন্মদিনেও গোটা জার্মান রেডিওতে তাকে উদ্দেশ্য করে শুভেচ্ছা প্রচারিত
হয়েছিল।
বেনিতো মুসোলিনি। ২৯ জুলাই “Duce Day” নামে পরিচিত ছিল। ফ্যাসিস্ট দলের
নেতারা ও নাগরিক সংগঠনগুলো বিশাল জনসমাবেশ করত। স্কুল ও সরকারি দপ্তরে বক্তৃতা, কবিতা আবৃত্তি, নাটক ইত্যাদি আয়োজন হতো।
মুসোলিনিকে “রোমের পুনর্জন্মকারী” হিসেবে উপস্থাপন করা হতো। শিশু ও কিশোর সংগঠন (Opera Nazionale
Balilla) বিশেষ
কুচকাওয়াজ করত।
উত্তর কোরিয়ার স্বৈরশাসক
কিম ইল-সুং ও কিম জং-ইল, জাপানের তোজো, এদের জন্মদিনেও বিশাল সামরিক কুচকাওয়াজ, আতশবাজি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, গণনৃত্য অনুষ্ঠিত হতো। রাষ্ট্রীয় ছুটি, সারা দেশে বিনামূল্যে খাবার বিতরণ।
ক্রমশ যত দিন যাচ্ছে, মোদীজি মরিয়া হয়ে উঠছে আদানির হাতে দেশের সবটা তুলে দেওয়ার জন্য। মোদীজী পারলে গোটা দেশটাই আদানির নামে লিখে দেয় সংবিধান সংশোধন করে। মোদীজির প্রতিটি বিদেশ সফর ছিলো মূলত আদানির দালাল বা ভদ্র ভাষায় ‘ডিল ম্যানেজার’ হিসাবে। মোদীজীর বিদেশ সফর থেকে ফেরার পর সেই সব দেশের সর্বত্রই ব্যাবসার নামে খুঁটি গেঁড়েছিল আদানি গোষ্ঠী, অভ্যাসমত চুরিচামারি করতে গিয়ে- সবকটা দেশ থেকে লাথ খেয়ে, ব্ল্যাকলিস্ট হয়ে, মামলার সম্মুখীন হয়ে পাততাড়ি গুটিয়ে পালিয়ে এসেছে। প্রতিটা ক্ষেত্রে বিপুল লোকসানের বোঝা, মোদীজি সেই লোকসানের দায় মেটাতে ভারতের জনগণের সম্পদ তথা রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে মিটিয়ে দেবার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দেশের সম্পদের হরির লুঠের জন্যই, দেশজুড়ে প্রভু আদানি কর্তৃক এই জন্মদিনের লীলা সঙ্কীর্তন আয়োজন চলছে স্বমস্বরে, পারফেক্ট PR Stunt.
ওদিকে বিহারের ভাগলপুরের পীরপৈন্তিতে, মাত্র ১ টাকায় ১০৫০ একর জমি লিখিয়ে নিয়েছে ৩৩ বছরের জন্য। যে জমির বাজারমূল্য বর্তমানে কয়েক হাজার কোটি টাকা, বিহারের ডাবল ইঞ্জিন সরকার জনগণের করের ৮০০ কোটি টাকা খরচা করে সেই জমি স্থানীয়দের থেকে নানান অসদুপায় অবলম্বন করে অধিগ্রহন করেছে। সেখানে প্রায় ১০ লাখ আম লিচু জাতীয় ফলের গাছ রয়েছে, সেই জমিকে সরকারীভাবে অনুর্বর দেখিয়ে আদানির ‘পাওয়ার প্ল্যান্ট’ গড়ার জন্য মনোনীত করেছে।
“এক পের মা কে নাম”, এর আগেও অপারেশন সিঁদুরের সময়েও ফটোগ্রাফার দিয়ে শ্যুটিং করিয়ে গাছ লাগাবার সে কী বিশাল বিজ্ঞাপন। ওদিকে ১০ লাখ ‘পের’ আদানির নামে কেটে উড়িয়ে দিচ্ছে। গোটা দেশ জুড়ে কয়লা খনি, বিভিন্ন আকরিকের খনি দখল করেছে আদানি, সেই সমস্ত স্থানে- গারে পেলমা, গিধমুরি পাটুরিয়া, কেনতে এক্সটেনশন, পারসা পূর্ব ও কান্তবসন, সুলিয়ারি ব্লক, ওয়াশারী, বাইলাডিলা, কুর্মিটার অঞ্চল, সর্বত্র নির্বিচারে হেক্টরের পর হেক্টর জঙ্গল কেটে উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।
আদানির লুটের এখানেই শেষ নয়, বার্ষিক ১ টাকা ভাড়ার জমিতে সরকারি টাকায় গড়ে উঠবে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, বিহার সরকার এর জন্য ইতিমধ্যেই ২১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। বিহারের কয়লাতে পাওয়ার প্ল্যান্ট চলবে, আর আদানি সেই প্ল্যান্টের বিদ্যুৎ বিহারের জনগণকে বিক্রি করবে ৬ টাকা ইউনিট দড়ে, শুধুমাত্র কেন্দ্রটির পরিচালনা করার বিনিময়ে। এই মুহুর্তে রাষ্ট্রীয় কয়লা প্রায় বিনামূল্যে উত্তোলন ও পরিবহণ করে দেশজুড়ে ৮টি পাওয়ার প্ল্যান্ট চালাচ্ছে আদানি গোষ্ঠী, সেগুলো থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ৬টার বেশী প্রতি ইউনিট হিসাবে বিক্রি করছে আদানি। আচ্ছা, দেশটার নাম ইন্ডিয়া বদলে দিয়ে আদানিন্ডিয়া রাখলে কী খুব বিশ্রী শোনাবে?
আগামীতে দেশে সরকার উল্টালে আদানির ১ টাকাও লোকসান নেই, আদানি বিদেশে পালাবে, সিম্পল সুত্র। কারন আদানি জনগণের সম্পত্তি দখল করে সরকারের থেকে লিজ বা দীর্ঘমেয়াদি ভাড়ায় নিয়ে। হয় সেই ভাড়া বিনামূল্যে অথবা বার্ষিক ১ টাকা বা ওই জাতীয় নাম মাত্র মুল্যে। আদানি দেশের প্রতিরক্ষা, পরিবহণ ও খনি অঞ্চলকে টার্গেট করেছে। রেলের ফ্রেট করিডর, সমুদ্রবন্দর, বিমানবন্দর গুলো ক্রমশ গ্রাস করেছে। আদানি যে লুণ্ঠনটা করছে, সেটা কলোনিয়াল যুগের ইংল্যান্ডের ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিও করতে পারেনি। দেশের মাটিতে আদানি নিজের ১ পয়সাও স্থাবর সম্পত্তিতে ইনভেষ্ট করেনি, সেই সব ইনভেষ্ট বিদেশে। মোদী সরকার উল্টালে আদানির কোন সম্পত্তিই পাবলিক দখল করতে পারবেনা, যেগুলোতে আদানি জোঁকের মত রক্ত চুষছে, সেগুলো মোদীজির কৃতিত্বে পাওয়া, ১০০% জনগণের সম্পত্তি।
জনার্দন চৌধুরী, নামটা অপরিচিত, তিনি বর্তমানে Advisor – PSP & Hydro at Adani Green Energy, এটাই তার বিগত ৯ বছরের পেশা। এই ব্যাক্তিকে মোদী সরকার ২০২৩ সালে কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রকের তরফে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ার জন্য- পরিবেশ সংক্রান্ত ছাড়পত্র দেবার কমিটিতে বিশেষজ্ঞ সদস্য হিসেবে নিয়োগ দেয়। বাকি ৬ সদস্যের মধ্যে ইনিই ৪ জনের নাম সুপারিশ করেন, যথারীতি সেই সুপারিশ গৃহীত হয়। পরবর্তীতে এই কমিটি প্রায় ১৯টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ১৮টিই ‘আদানি গ্রীন এনার্জি’র হাতে তুলে দেয়।
যেমন, ৮৫০ মেগাওয়াট রাইওয়াদা প্রকল্প, ১৮০০ মেগাওয়াট পেডাকোটা, 2100 মেগাওয়াট পাটগাঁও, 2,450 মেগাওয়াট কয়না-নিভাকানে, 1500 মেগাওয়াট মালশেজ ঘাট ভোরান্দে এবং 1500 মেগাওয়াট তারালি। কি অসাধারণ দুর্নীতিমুক্ত সিস্টেম, প্রথমে আদানির বেতনভুক কর্মচারীকে সরাসরি সরকারি কমিটির মাথায় বসিয়ে দাও- যে কমিটি প্রকল্পের অনুমোদন দেবে। বাকি পদগুলোতেও পারলে নিজের লোক বসাও, নাহলে যারা আছে তাদের কিনে, একান্তই সে সব না হলে ভয় দেখিয়ে বাধ্য করো। ব্যাস, সরকারীভাবে সমস্ত টেন্ডার ‘মালিকের’ নামে লিখিয়ে নিতে আর কি চায়- বিশ্বের আর কোথাও এভাবে দিনে ডাকাতি করে সরকারি সম্পদ লুন্ঠনের ইতিহাস রয়েছে?
আদানি খাবে আর আম্বানি আঙুল চুষবে? দেশে windfall tax নামে এক ধারনের কর ব্যবস্থা চালু ছিল। উইন্ডফল ট্যাক্স হল লাভের উপর ‘উচ্চ করের হার’ যা একটি কোম্পানির আকস্মিক লাভের উপরে ধার্য হয়। রাশিয়ার সস্তা তেল কিনে আম্বানির রিলায়েন্সের এই ধরণের ‘আকস্মিক’ এলোমেলো পরিমানে লাভের অঙ্ক ফুলেফেঁপে উঠে। ব্যাস আর কি, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে মোদীজি সেই ‘উইন্ডফল ট্যাক্স’ আইন বাতিল করে দেয়, শুধু তাই নয়- আকস্মিক লাভকে সম্পূর্ণ ‘করমুক্ত’ ঘোষণাও করে দেয়। পাশাপাশি মোটাভাইকে ভবিষ্যতের সুরক্ষা দিতে, নতুন আরেক আইন প্রণয়ন করা হয়। যেখানে বলা হয়েছে- এই কোম্পানির পূর্ববর্তী ‘আকস্মিক লাভের’ উপরে আগামীতে কখনও অন্য কোনো সরকার কর দাবী করতে পারবেনা।
শরদ কুমার জৈন, IIT রুরকি থেকে পাশ করা ইঞ্জিনিয়ার। কেন্দ্রীয় রিভার ভ্যালি প্রোজেক্টের মুখ্য কর্তা ছিলেন ২০১৭ সালে। এনার অধীনেই ‘কেন-বেতোয়া’ প্রকল্প ছারপত্র পায়। কেন-বেতোয়া সংযোগ প্রকল্প (KBLP) হল একটি নদী-আন্তঃসংযোগ প্রকল্প, যেটা মধ্যপ্রদেশের ‘কেন নদী’র উদ্বৃত্ত জল যমুনার উপনদী ‘বেতোয়া নদীতে’ স্থানান্তর করার জন্য তৈরি করা হয়েছিলো। ২০২১ সালে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা কর্তৃক অনুমোদিত এই প্রকল্পের লক্ষ্য ছিল খরাপ্রবণ বুন্দেলখণ্ড অঞ্চলে সেচ ব্যবস্থা করা। প্রকল্পের অধীনস্ত দৌধন বাঁধ, সংযোগ খাল এবং বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের আনুমানিক ব্যয় ৪৪,৬০৫ কোটি টাকা।
এই প্রোজেক্ট সরকারিভাবে ন্যাশানাল ওয়াটার ডেভলপমেন্ট এজেন্সি কনডাক্ট করছে। বর্তমানে এই প্রোজেক্টের অধিকর্তা সেই শরদ কুমার, যিনি ছাড়পত্র দিয়েছিলেন। তার সাথে কোন প্রভু জড়িত, গুগুল করলেই পেয়ে যাবেন। একই ভাবে ‘সরিস্কা টাইগার রিজার্ভ’ এর বাউন্ডারি দেওয়ার কাজ- যিনি সরকারের হয়ে বিশেষজ্ঞ হয়ে অনুমতি দিয়েছিলেন, তিনিই পরবর্তীতে টেন্ডার নিয়ে কাজের সেই বরাত পান। আরো পরে সেই তিনিই আবার সরকারী ভাবে সেই টেন্ডারের অডিটের বরাত পান। মোদী সরকারের এমন ‘টেন্ডার’ চুরির উদাহরণ দিতে বসলে শেষ হবেনা। গোয়া, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানা, বিহার, আসাম- দেশের সর্বত্র।
সর্বত্র যখন ঘটছে, গুজরাটই বাদ যায় কেন। বরোদার কাছে দাহোদ শহর, এটি গুজরাটের সবচেয়ে দরিদ্র শহর হিসাবে পরিচিত। যেখানকার মানুষ দুবেলা রুটিরুজির জন্য উদভ্রান্ত, গুজরাত সরকার সেখানে বিমানবন্দর তৈরি করতে নোটিফিকেশন জারি করে জমি অধিগ্রহন করে। এরপর আনন্দী বেন প্যাটেলের ডাবল ইঞ্জিন সরকার উন্নয়নের নামে সেই জমি- ১ টাকা টোকেন মূল্যে আদানি এবং আম্বানিকে উপহার দিয়ে দেয়।
একই ভাবে ‘স্ট্যাচু অফ ইউনিটি’ বানানোর জন্য গুজরাত সরকার তফসিলি উপজাতি সম্প্রদায়ের জমি নামমাত্র মূল্যে জবরদখল করে। সেই জমির বর্তমান সিংহভাগ অংশের দখল আদানি ও আম্বানিদের হাতে, ১ টাকা টোকেনেই সেই জমি ৫১ বছরের লিজে দিয়েছে বিজেপি সরকার, বর্তমানে ব্যক্তিগত রিসর্ট আর বাংলো তৈরি করেছে কর্পোরেট আর RSS বিজেপির নেতা মন্ত্রীরা। সমগ্র গুজরাত জুড়ে এমন অনেক উর্বর জমিকে অনুর্বর ঘোষণা করে সেগুলো পুঁজিপতি হাঙরদের মুখে তুলে দিয়েছে সরকার। সেখানকার স্থানীয় মানুষদের স্বানান্তরিত করেছে কচ্ছের প্রত্যন্ত অঞ্চলে যেখানে চাষবাসের কিছুই নেই।
গোদি মিডিয়ার প্রায় সবটাই আদানি আম্বানিদের ব্যক্তিগত মালিকানাধীন, অবশিষ্ট টুকু পমেরিয়ান অর্নব গোস্বামী বা বিজেপির সাংসদ সুভাষচন্দ্রের মত পরজীবীদের। তারপরেও এই সব দুর্নীতির খবর বাইরে প্রকাশ পেয়ে যাচ্ছে- ফ্রিল্যান্সার সাংবাদিক ও সোস্যালমিডিয়ায় আমার আপনার দৌলতে। তাই আদালতের কিছু ‘কিংবদন্তি’ বিচারকদের বদান্যতায় মোদী সরকার আইন করে খবর প্রকাশ দাবিয়ে দেওয়ার চেষ্টায় কোনো খামতি রাখছেনা।
উত্তর-পশ্চিম দিল্লি জেলা আদালতের সিনিয়র সিভিল জজ অনুজ কুমার সিং, গত ৬ সেপ্টেম্বর আদানি এন্টারপ্রাইজেসের দায়ের করা মানহানির মামলায় ‘একতরফা’ আদেশে জারি করেছে। এই ক্ষেত্রে জড়িত কোনো সাংবাদিক বা কোনো ব্যাক্তির থেকে আদালত কিচ্ছুটি শোনেনি, আদানির পক্ষে একতরফা আদেশ জারি করে দিয়েছেন মাননীয় বিচারক। বিচারব্যবস্থা আর গণতন্ত্রের কী শোচনীয় গর্ভপাত।
আর সেই রায়ের উপরে ভিত্তি করে, গত ১৬ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক বিভিন্ন ইউটিউব চ্যানেল আর সোস্যালমিডিয়া একাউন্ট হোল্ডারকে রাষ্ট্রীয় ফরমান পাঠিয়ে আদেশ করেছে, আদানি গ্রুপের নাম উল্লেখ করা ১৩৮টি ভিডিও এবং ৮৩টি ইনস্টাগ্রাম পোস্ট সরিয়ে ফেলতে হবে বিনা প্রশ্নে। দ্য ওয়্যার, নিউজলন্ড্রি, রবীশ কুমার, অজিত আঞ্জুম, ধ্রুব রাঠি, আকাশ ব্যানার্জি ওরফে দেশভক্ত, পরঞ্জয় গুহ ঠাকুরতা, রবি নায়ার, আবীর দাসগুপ্ত, অয়স্কান্ত দাস এবং আয়ুশ যোশী সহ বেশ কয়েকজন সাংবাদিকের নামে কমপক্ষে ৭ টি করে মামলা দায়ের হয়েছে।
তারপরেও আমরা আদালতের উপরেই ভরষা করব, গণতন্ত্রেই আস্থা রাখব। স্বর্গীয় বিচারক লোয়া প্রাণ দিয়ে বিচারব্যবস্থার সত্যতার প্রমাণ দিয়েছেন। বিনা বিচারে জেলবন্দী IPS সঞ্জীব ভাট মেরুদন্ডী আমলার সত্যতার অত্যতম প্রতীক। আদানির রায় দেওয়া বিচারক অনুজ কুমার সিং যেমন সত্য, সেই একই ‘নর্থ-ইষ্ট ডিস্ট্রিক্ট দিল্লি’ কোর্টের আরেক বিচারক মাননীয় ‘প্রবীণ সিং’ও সত্য।
২০২০ সালের দিল্লি দাঙ্গা মামলাতে সর্বশক্তিমান অমিত শাহ ও মিনি বিশ্বপ্রভু যোগীর পুলিশের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ এনেছেন বিচারপতি প্রবীণ সিং। দাঙ্গা সম্পর্কিত পুলিসের দায়ের করা পৃথক পৃথক ১১৬ মামলার রায় ঘোষণা করতে গিয়ে ৯৭টি মামলার অভিযুক্তদের (পড়ুন মুসলমানদের) বেকসুর খালাস করে দিয়েছেন। রায়ের কপিতে লেখা রয়েছে- পুলিশ কমপক্ষে ১২টি মিথ্যা সাক্ষী যোগার করেছিলো, এবং ৯৭টা মামলাই মিথ্যা বানোয়াট নথির ভিত্তিতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে ‘মুসলমানদের’ ফাঁসিয়েছিল যোগী-শাহ এর প্রশাসন।
“There has been an egregious padding of evidence by the IO and this has resulted in serious trampling of the rights of the accused who have been probably charge sheeted only in order to show that this case is worked out… Such instances lead to serious erosion of the faith of the people in the investigating process and the rule of law.”
সুতরাং, মোদী আদানি মিথোজীবিতা যেমন সত্য, তেমন সংবিধানকে রক্ষাকারী আদালতও সত্য, অল্প কিন্তু বেঁচে আছে। এই ঘোলাটে রকমের পরিস্থিতিতে মোদীজির জন্মদিন পালনের মত ইভেন্ট আয়োজন না করলে কীভাবে চাপা দেবে এগুলো? আগামীতে আমি বা আমার মত নগণ্য পাতি কলমচিরাও আদালতের সমন পাওয়ার জন্য মানসিক ভাবে প্রস্তুতি নিয়ে রাখুন।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন