মাননীয় সোনম ওয়াংচুক,
আপনি বড় পন্ডিত ও মনিষী এতে সন্দেহ নেই। কিন্তু আপনি যদি সমাজের একটা
নিকৃষ্ট মৌলবাদী ভাবাদর্শে বিগলিত হয়ে, তাদের থেকে কিছু অবৈধ সুবিধা পেতে, কিম্বা মোহ বা যশের লোভে পরে-
একপ্রকার তাদের অংশ হয়ে উঠেন, সেই বিভেদকামী ভাবধারাকে নিজের ক্ষেত্রের মানুষের মধ্যে প্রচার ও প্রসারের
চেষ্টা করেন নিজের ইমেজ কাজে লাগিয়ে, সেক্ষেত্রে আপনার আজকের পরিস্থিতি হওয়াই নিয়তির সুক্ষ
বিচার। আপনাদের সাজা না হলে মানুষের বিশ্বাস উঠে যাবে কর্মা বা ঈশ্বরের প্রতি।
দেশের মধ্যে ছড়িয়ে থাকা আপনার মত অসংখ্য ‘বুদ্ধিজীবি’ ভক্তরাই বিভেদকামিদের মূল
চালিকাশক্তি। আপনাদের মুখোশের আড়ালে, আপনাদের ব্যবহার করেই লক্ষ কোটি ‘জম্বি’ ভক্ত তৈরি করেছে
তারা।
বিজেপি RSS এর সাথে
আপনার সম্পর্ক ঠিক এমনটাই, অদ্ভুত পরকীয়া। আপনাদের রসায়ণে আর কি কি ছিল তার সত্যতা মানুষ কখনই জানবেনা, কিন্তু শুরু থেকেই আপনি উৎকৃষ্ট
লেভেলের মোদী ভক্ত ছিলেন। ৩৭০ ধারা বিলোপ ও লাদাখের ‘কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলের’
মর্যাদা পাওয়াকে- আপনার ব্যক্তিগত বিজয় হিসাবে উদযাপন করেছিলেন। লাদাখের লোকাল বডি
নির্বাচনে ৯৫% স্থানে বিজেপি ব্যাতিরেকে কেউ মনোনয়ন টুকু জমা করতে পারেনি, কিন্তু গণতন্ত্রের এরকম ধ্বংসযজ্ঞ
দেখেও আপনি চুপ করে বসে ছিলেন। বিজেপি তথা মোদী সরকারের প্রায় প্রতিটি
সিদ্ধান্তকেই যুগান্তকারি আখ্যা দিয়েছিলেন আপনি। কখনও কোনো বিষয়ে নুন্যতম বিরোধ
পোষণ করেননি গত ১১ বছরে। তাই আজ আপনার জন্য সেভাবে কেউ বিচলিত হচ্ছেনা।
সমস্যার প্রাক কথনগুলো কখনও ঝেড়ে কেসে বলেননি, প্রভুদের মন রক্ষাত্রে বুদ্ধিজীবি
হিসাবে গোলগোল কথাবার্তা বলে গেছেন এতোদিন। লাদাখের অবস্থান হিমালয় ও তার হিমবাহ
গুলোর প্রায় কেন্দ্রস্থলে, তাই হিমালয় কেন্দ্রিক প্রকৃতি রক্ষার একটি মূল স্তম্ভ এই লাদাখ। আপনি
জানেন- হিমালয়, এখানকার
হিমবাহগুলি মৌসুমি বায়ু, বৃষ্টিপাত, নদীর ভয়াবহতা, ভূমিধ্বস, ভারতের আবহাওয়া, ভারতের কৃষি, তথা ভারতের জনজীবনকে দুর্গের মত রক্ষা করে।
বছরের মধ্যে ৩০০-৩২০ মেঘমুক্ত রৌদ্রোজ্জ্বল দিন সৌরশক্তির সম্ভাবনাকে
বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। লাদাখের এই গুণটা আদানির মত কয়েকটা পুঁজিপতিদের নজরে আসতেই মূল
সমস্যাটা শুরু হয়। ভোটের মুখে লক্ষ কোটি মিথ্যার মত লাদাখকে ‘পূর্ণ রাজ্যের
মর্যাদা দেওয়া হবে’ বলে অমিত শাহ যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলো, ভোটে জিততেই যথারীতি ভুলে গেছেন
নিয়ম মাফিক। ষষ্ঠ তফশিল থেকে লাদাখকে বের করে আলাদা কেন্দ্র শাসিত অঞ্চল করাই
হয়েছে- এই অঞ্চলের বিপুল খনিজ সম্পদ আদানীর হাতে তুলে দেওয়ার জন্য। আম লাদাখিরা
বুঝতে পারুক বা না পারুন, আপনি সোনম ওয়াংচুক এটা বুঝতে পারেননি বললে ডাহা মিথ্যাচার করবেন।
আপনি গবেষক, বুঝেছিলেন এই হিমালয়ান মরুভূমিতে সৌর খামার হলে, এই অঞ্চলের উষ্ণতা আশেপাশের ভূমির
তুলনায় ৩-৪ °C উষ্ণতর করে তুলবে, যাকে ‘solar heat island’ এফেক্ট বলা হয়।
সৌর শিল্পকে কেন্দ্র করে ওই ৩,৫০০-৫,০০০ মিটার
উচ্চতায় নানান অনুসারি শিল্পের কারখানা হবে, রাস্তাঘাট হবে এবং বিপুল মাত্রার কার্বন দুষণ যোগ করুন
ফ্রিতে- সব কিছুই অকারন তাপ উৎপন্নের সাথে ভয়াবহ ব্যাঘাত সৃষ্টি করবে পরিবেশে।
আগামী ১ দশক পরের প্রভাবটা কী দাঁড়াবে বিষয়টা আপনি অনুমান করতে পেরেছিলেন বোধহয়!
গত এক বছরের বেশি সময় ধরে যে কারণে মনিপুরকে স্তব্ধ করে রাখা হয়েছে, সেই একইভাবে লাদাখকে গিলে খাবার
প্রচেষ্টা হবে- এটার না বোঝার মত নির্বোধ তো আপনি নন। তাই পুরনো পাপের থেকে মুক্তি
পেতে নতুন করে অনশনের নাটক শুরু করেছিলেন জনগণের সামনে। লাদাখের জনগণ আপনাকে আর
বিশ্বাস করবে কিনা জানিনা, কিন্তু দেশের অসংখ্য জনগন যারা আপনাকে ভালবাসতাম, ভরষা করতাম, আপনার স্বপ্নকে নিজেদের স্বপ্ন
ভাবতাম, তারা আর বিশ্বাস
করবনা এটা নিশ্চিত। আপনি আজও অর্ধসত্য বলছেন, জলবায়ু ছাড়া কোনো দ্বিতীয় শব্দ উচ্চারন করছেননা
ইচ্ছাকৃতভাবে। অথচ বিষয়টা অর্থনীতিরও বটে, এই সহজ সত্যটা আপনি স্বীকার করতে চাইছেননা- কেন?
লাদাখের পাহাড়ে বোরাক্স, সালফার, জিপসাম, আয়রন, কপার, নানান জাতীয় দুর্লভ সল্ট ও সোড়া
এ্যাশ, মার্বেল ও
চুনাপাথর, লিথিয়াম ও
টাংস্টেন, ক্রোমাইট এবং
সোনার সন্ধান পাওয়া গেছে বিপুল পরিমানে। এটাতো আপনার অজানা থাকার কথা নয়, এতদিন ধরে টেস্টিং হয়েছে
প্রকাশ্যেই, আপনি চুপ
ছিলেন। এখন খননকার্য শুরু হবার মুখে, আদানির সরকার কেন ফালতু আপনার এই অনশনের নাটক আর যুব
সমাজের অশান্তি বরদাস্ত করবে বলতে পারেন?
আজ যেই মাত্র আপনি এর প্রতিবাদ করেছেন, আদানির স্বার্থে আঘাত লেগেছে, ফলত আপনার সমস্ত ভক্তগিরির ইতিহাস
ভুলে যেতে বিজেপি RSS এতটুকু সময় নেয়নি। আপনাকে দমন করতে কার্ফু, ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন ও গুলি চালিয়েছে অমিত শাহ এর পুলিশ।
PM কেয়ার ফান্ডে
বিদেশি টাকা কত আমদানি হয়েছে আজ অবধি তা কেউ জানেনা, আর আপনার ইস্কুলের জন্য সাদা পথে আমদানিকৃত বিদেশি
ডোনেশনের কারনে আপনি জেলে। ডিক্টেটর
শাহ এর অস্ত্র CBI-ED লেলিয়ে দিয়েছে, কেকের উপরে চেরির মত UAPA/NSA জুড়ে দিতেও ভোলেনি। তাতেও পুরোপুরি আত্মবিশ্বাসী হতে
পারেনি, তাই লাদাখ থেকে
আপনাকে রাজস্থানের যোধপুরের জেলে এনেছে সাহসী ৫৬ ইঞ্চির মহাদানব।
একই দেশে আলদা আলদা আইন, আপনি বা আপনার সম্প্রদায়ের সেটা আজকে মনে পরেছে। গোটা দেশে যখন মুসলমান
নিগ্রহ হয়েছে গোমাংসের জেরে- আপনারা চুপ ছিলেন। বিনা বিচারে উমর খালিদ, গুলফিজা ফাতিমা ৫ বছর ধরে
কারাবন্দি, এসব
আপনারা না কানে শুনেছিলেন না চোখে দেখেছিলেন। আজ আপনাকে UAPA দিতেই সকলের কাছে সহযোগিতা চাইছেন, কত শত প্রশ্ন তুলছেন। যখন কপিল
মিশ্র, অনুরাগ ঠাকুর, রামভক্ত গোপাল প্রকাশ্য অপরাধ
করার পরেও তাদের নামে একটা FIR অবধি হয়নি, আপনি 'বিশাল' এক্টিভিষ্ট হয়েও কোনো প্রশ্ন
তোলেননি।
সমগ্র দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কোথাও আম্বানির হাতে, কোথাও আদানির হাতে মানুষ ঠকে
গেছে। গত ১ দশকে দেশের মানুষ মূল শয়তানগুলোকে চিহ্নিত করে ফেললেও, কুনকি হাতি গুলোকে ধরতে পারেনি।
এখন আপনাদের মত সেই কুনকিরা ক্রমশ চিহ্নিত হয়ে ধরা পরে যাচ্ছেন। সম্পদের লোভে একটা
সমগ্র জনগোষ্ঠীতে উৎখাত করার পরিকল্পনাতে নিজেদের নিমজ্জিত করে রেখেছিলেন
ক্যামোফ্লেজের আড়ালে, প্রতিটা ষড়যন্ত্রের আপনারা প্রতক্ষ্য অংশীদার। সুতরাং, আপনাকে গ্রেপ্তার করে ‘ফেসভ্যালু’
বাঁচাবার ব্যর্থ চেষ্টা করা হচ্ছেনা তারই বা নিশ্চয়তা কী!
পুঁজিবাদী-রাজনৈতিক অবৈধ জোটের এই সমন্বয়, যারা ভবিষ্যতের ভারত আর তার জনজীবন বিষয়ে কোনো পরোয়া
করেনা, তারাও আজ
দেশপ্রেমের দোকান খুলে বসেছে। RSS তার সুবিধাবাদী অবস্থান আর ক্রমাগত গিরগিটির মতো রং পাল্টে বিভ্রান্ত করার
প্রক্রিয়ায় গত ১০০ বছর ধরে ছত্রাকের মত বিস্তার করেছে, আপনাদের মত মানুষ গুলোকে ট্রাপে
ফেলে। কাল অবধি আপনি ওদের দেশপ্রেমের পোষ্টার বয় ছিলেন, ট্রাপটা ধরতে পারেননি। বিজেপির
সঙ্গে আপনার যে আন্ডারটেবিল আন্ডারস্ট্যান্ডিং হয়ে যাবেনা সেই গ্যারান্টি কে দেবে?
বিজেপি RSS কোনো
সংখ্যালঘুকেই মানুষ বলে মনে করেনা, যেটার প্রথমেই আছে গোটা দেশের মুসলমান সম্প্রদায়। সাথে
ঝাড়খন্ড ছত্রিশগড়ের আদিবাসি, কাশ্মিরী, মণিপুরের উপজাতি ও খ্রীষ্টান, সেটা নিম্নবর্ণের হিন্দু হতে পারে কিম্বা লাদাখের বৌদ্ধ-
একটাই ট্রিটমেন্ট, বিচ্ছিন্ন করে দাও। বিজেপি সরকারের সংবিধান ও মানবতা বিরোধী কাজ নিয়ে
প্রশ্ন তুললেই, তারা
দারুন একটা পলিসি প্রয়োগ করে, প্রোপ্যাগান্ডা মেশিনারি দিয়ে জাষ্ট ‘দাগিয়ে দাও’। বিচ্ছিন্নতাবাদী, টুকরে টুকরে গ্যাং, পাকিস্তানের দালাল, আর্বান নকশাল, মাওবাদী, রোহিঙ্গা, CIA বা জর্জ সোরেসের দালাল, চিনের দালাল, কমি-মাকু, প্রতিবিপ্লবী, হার্মাদ, খালিস্তানী, ইত্যাদি নানা সেগমেন্টের
দেশদ্রোহী মডেল রয়েছে এদের। বর্তমানে এই কোম্পানির নতুন মডেল এনেছে Gen-Z নাম দিয়ে।
একটা শ্রেনী রয়েছে দেশে, তারা শিক্ষিত কিন্তু বিজেপি নয়। সবরকম যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও বিজেপি ও RSS- বিভিন্ন ধরণের প্রতিবন্ধকতা তৈরি
করে, তাকে তার
যোগ্যতা মাফিক কাজ থেকে সাময়িকভাবে বা চিরতরে বিচ্ছিন্ন করে দেয় বা করার চেষ্টায়
কোনো ত্রুটি রাখেনা। যে কোনো নিরক্ষর কিন্তু সামান্যতম মানবিক বোধসম্পন্ন মানুষ
তাদের এই অভিসন্ধি এতদিনে ধরে ফেলেছে, কিন্তু আপনার মত একজন পন্ডিত মানুষ কিসের স্বার্থে
সবকিছু জেনে বুঝে- শুধু নিজের জনগণের সামনে মিথ্যাচার করেননি, লাদাখের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের
মানুষের সাথে সাথে ভারতবাসীদের সঙ্গেও চূড়ান্ত বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন, এবং সজ্ঞানে করেছেন।
অন্য একটা ‘প্রিভিলেজ’ শ্রেনী রয়েছে, তাদের কারো নাম আম্বানি বা আদানি; যাদের একমাত্র কাজ সব ধরণের
দুর্নীতি করে জনগনণের সম্পদ লুটে নেওয়া। বিজেপির বড় বড় নেতারা এই পুঁজিপতিদের হাতে
দেশের সম্পদ তুলে দেওয়ার বিনিময়ে হারামের কামাই এর ভাগা পায়। এই দুই শ্রেণীর
‘প্রিভিলেজ’ নেপো-কিড ছেলেমেয়েরা হারামের টাকায় বিদেশে পড়াশোনা করে, ফুর্তি করে চুটিয়ে। দেশের যাবতীয়
ভোগ্য পণ্য যা আজকে রয়েছে এবং যা আগামী দিনে আবিষ্কার হবে- সব কিছু ভোগ করা এবং
তাদের আগামী প্রজন্মের জন্য অবৈধ উপায়ে সঞ্চিত রেখে যাওয়া, একমাত্র সেই প্রিভিলেজড শ্রেনীর
অধিকার। পাশাপাশি সেই হারামের সঞ্চয় সুরক্ষিত করার জন্য, যাতে আগামী দিনে কেউ হাত দিতে না
পারে, সেই উদ্দেশ্যে
দেশের আইন বদলে দেয় বিজেপির নেতারা।
দেশে কর্মসংস্থান নেই, সরকারী পরিসেবার নামে সর্বত্র হয়রানি, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যে আগুন, তার উপরে প্রিভিলেজ সমাজের
নিকৃষ্ট দেখনদারি- যুবসমাজে ক্ষোভ হওয়া অতি স্বাভাবিক। তাদের সামনে ধর্মের চোলাই
রেখে দিয়েছিলো, অবৈধ
নিষিদ্ধ ব্লু’ফিল্মের সাথে ড্রাগের সাপ্লাই বাড়িয়ে উন্মত্ত করে মাতিয়ে রেখে
দিয়েছিলো। এদের মধ্যে থেকে ‘ভক্ত’ শ্রেনী তৈরি হয়েছিলো। তীব্র সাম্প্রদায়িক, মেরুদন্ডহীন ও নিয়তিবাদী বানিয়ে
ফেলাই ছিলো মূল উদ্দেশ্য। হুঁশ ফিরলেই বিরোধিতা করা নব প্রজন্মকে Gen-Z নাম দিয়ে একটা প্যাকেটের মধ্যে
ভরে ফেলতে এরা পণ করেছে।
তাই ছলে বলে কৌশলে সহজ উপায়ে যখন নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছেনা, তখন রাষ্ট্রশক্তি দিয়ে বল প্রয়োগ
করা হচ্ছে। অবৈধ অর্থের মাধ্যমে প্রচারমাধ্যমকে বহু আগেই নিয়ন্ত্রণে নিয়েছিল, যে কোন মূল্যে সামাজিক ঐক্যকে
বিভাজিত করে দেওয়ার জন্য এক শ্রেণীর পেটোয়া বুদ্ধিজীবী সমাজে নামিয়ে দিচ্ছে
মগজধোলাই করতে। তবেই প্রিভিলেজড নেপো-কিডের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত।
বিজেপি যেখানেই ব্যার্থ, সেখানে যাবতীয় দোষ উপরের ওই নানা সেগমেন্টের দেশদ্রোহীদের। দেশপ্রেমের
ঠিকাদারি বিজেপির বাপত্ব সম্পত্তি, প্রোপ্যাগান্ডা মেসিনারির জন্য IT Cell আর আম্বানি ও আদানির টিভি চ্যানেল
রয়েছে। RSS এর কুত্তারা
দেশপ্রেমের সার্টিফিকেট বিলির দোকান খুলে বসে আছে নানা নামে। আদানি আর লাদাখের
জমির সমীকরণ যতক্ষণে আপনি টের পেয়েছেন, ততক্ষণে আপনি দেশদ্রোহী হয়ে গিয়েছেন বিজেপির
প্রোপ্যাগান্ডা মেসিনারিতে। আপনাকে গিলে ফেলেছে এটা তো সত্য,
কিন্তু হজম করতে পারবে বলে আমার মনে হয়না ব্যক্তিগতভাবে। তবে
আপনি আন্না হাজারেকে দেখে ‘হাইবার্নেশন মোডে’ চলে যাওয়ার শিক্ষা নিলে আজ জেলে যেতে
হতোনা।
আজকের দিনে দেশপ্রেমের সংজ্ঞা কিসের হিসাবে ঠিক হয়? পুঁজিপতি আর RSS প্রতি ভক্তি নাকি দেশের সংবিধানের
প্রতি ভক্তি? জেল থেকে
ছাড়া পেলে আপনার কাছে উত্তরটা চাইবো ইমেল মাধ্যমে। আমাকে জবাব না দিলেও, আশা রাখি সোস্যাল মিডিয়া বা কোনো
পডকাস্টে আপনি দেশ, দেশপ্রেম ও গণতন্ত্রের সংজ্ঞাটা দেবেন।
শুভ জেলযাত্রা।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন