(১)
টিভি মিডিয়ার সান্ধ্য খেঁউড়ের আসর আর সোশ্যাল মিডিয়ায় সর্বজ্ঞানী আখড়া থেকে- ২০০৯ পরবর্তী জন্মানো নেতাদের সেন্সর করুন, দেখবেন রাজ্য CPIM পার্টি দু'দিনে দাঁড়িয়ে পড়েছে। মূর্খ সমর্থকের দল শূন্য পাবে এটাই স্বাভাবিক ঘটনা। প্রজা রাজা নির্বাচন করবে, এটাও গণতন্ত্রেরই নিয়ম। বস্তুত, বামপন্থা, বিপ্লব এগুলো গণতন্ত্রের তরোয়াল, আর তরোয়াল মূর্খ গাধার হাতে মানায় না। সমর্থককূল মেরুদন্ড ফেরত পেলে, দল হরিণের মতো ছুটবে, এর জন্য সবার আগে শৃঙ্খলা প্রয়োজন।
কমিউনিস্ট পার্টিগুলো সমগ্র বিশ্বজুড়ে দাঁড়িয়ে আছে শৃঙ্খলার উপরে। আমাদের পশ্চিমবঙ্গের CPIM সহ বাকি বাম দলগুলোর বর্তমান মূল সমস্যা দেখা দিয়েছে শৃঙ্খলাতে। ২০০৯ পরবর্তী যে সকল তরুণ মুখ এসেছে ভায়া SFI, সবচেয়ে বড় সমস্যা এদের মাঝে। টিভির বুম পেলেই এদের প্রায় সকলে মুখ দিয়ে হাগতে শুরু করে দেয়। আজকাল আবার সেজেগুজে পডকাস্ট নামের এক শ্যো-অফ সাক্ষাৎকার শুরু হয়েছে। ফুটেজের কী নিদারুন লোভ! ফেসবুক ইউটিউভ খুললেই সদ্য লোম গজানো নেতানেত্রীরাও এমন ‘পোস্ট ও বাইট’ দিচ্ছে, যেন আদর্শ নৈতিকতার প্রশ্নে চে, ফিদেল বা চমস্কিকে এনারাই শিক্ষিত করেছিলেন। অধিকাংশ কথাবার্তায় রাজনীতির দূরদূরান্তে কোনো সম্পর্ক নেই। দলেরও কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই এদের উপরে।
ছাত্রাবস্থায় বামপন্থা আঁকড়ে ধরে বহু ছেলেমেয়ে মানুষ হয়; সমাজবাদ, সাম্য, বিপ্লব নামের শব্দগুলো তখন নেশার মতো বুড়বুড়ি কাটে চেতনা জুড়ে। একটা নির্দিষ্ট সময়ের পরে মানসিকভাবে এই ভাবনাগুলোকে, মানে বামপন্থাকে নিয়মিত অনুশীলন তথা লালন করতে হয়। যেটা ৯০% ছেলেমেয়ে পারে না, পারিবারিক, সামাজিক, পারিপার্শ্বিক রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা ইত্যাদি নানা কারণে। কিন্তু সদ্য যৌবনের শেখা বামধারার চেতনা, আর ফলিত বাস্তবের লোভ, লালসা ও ভোগের তীব্র আকাঙ্ক্ষা কামনা বা অভিলাষ- মন আর শরীরকে দুটো পৃথক দিকে চালনা করে। পুরনো শিক্ষাও ফেলনা নয়, তাই সেগুলো মাঝে মাঝে বেরিয়ে আসে কিম্বা বের করে আনে সুযোগ সুবিধা মতো। গরুর মতো চর্বিত চর্বন করে জাবর কাটে, যা বিজ্ঞাপিত করে বেচাকেনার বাজারে নিজের দর বাড়িয়ে নেয়।
২০০৯ সাল থেকে এ রাজ্যে যারা SFI এর শীর্ষপদ দখল করেছে, সংগঠনটার সেক্রেটারি প্রেসিডেন্ট পদে থাকার সুবাদে অটোমেটিক রাজ্য কমিটিতে চলে গেছে ‘কোটা’র বলে। কৌস্তভ চ্যাটার্জি-সায়নদীপ মিত্র, দেবজ্যোতি দাস-মধুজা সেন রায়, সৃজন ভট্টাচার্য-প্রতিকুর রহমান অবধি সেই একই ধারা। এরা কোন বিশেষ যোগ্যতায় পার্টির রাজ্য কমিটি অবধি যেতে পেরেছে কেউ জানে না। শেষের দুজনের আমলের মতো জঘন্য পিরিয়ড SFI এর জীবনকালে বেনজির। একের পর এক কলেজে সংগঠনের ঝাঁপ বন্ধ হয়েছে, সৃজন গিটার বাজিয়েছে আর অমেরুদণ্ডী পরজীবী প্রতীকুর হাত্তালি দিয়েছে। এটা আজ বলছি না, সেই ২০২১ থেকে নিয়মিত বলে এসেছি, আমার টাইমলাইন ঘাঁটলেই পেয়ে যাবেন। কোন বিশেষ অউকাতে বা গুণের কারণে তারা প্রতিটা নির্বাচনে লড়ার টিকিট পেয়েছে- ফেলুদার ভাষায় ‘হাইলি সাসপিসাস’। ক্রমশ পাতালে প্রবেশ ছাড়া দল বা সমাজের প্রাপ্তি কী এদের থেকে?
আমাদের মতো দুর্নীতিগ্রস্ত তৃতীয় বিশ্বের দেশের রাজনীতিতে ‘সহানুভূতি’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কোয়ালিফিকেশন; যে কারণে দলত্যাগ করে পালিয়ে যাবার আগে একটা সহানুভূতির জামা পরিধান করে, ঠিক কাউকে না কাউকে একটা ভিলেন বানিয়ে যাবে- এটাই প্যাটার্ণ। RSS-এর পরিসরে এটা খুব চেনা ছক- দলে থেকে কাজ করতে পারছি না বা আমাকে গলা টিপে ধরা হয়েছিল। তৃণমূল হোক বা বিজেপি, দিনের শেষে সেই তো RSS নামের গু, একটা কাঁচা আর একটা শুকনো।
বর্তমান শীর্ষ নেতৃত্বের প্রায় সকলেরই কলেজ জীবন শেষ হওয়ার আগে পার্টি ক্ষমতায় চলে এসেছিল। রাতারাতি প্রশাসক হয়ে গিয়েছিলেন, সময়ের পরিভ্রমণে মধ্য পঞ্চাশ তথা ষাট ছোঁয়ার আগেই এনারা বিরোধী আসনে। ফলত রাস্তায় নেমে যে জঙ্গী আন্দোলনের ধারা, এনারা তেমন কিছুই জানেন না। স্বভাবতই বর্তমান প্রজন্মের মাঝেও সেই স্পৃহা, সেই স্ফুলিঙ্গ ভরে দিতে পারেননি এনারা। ভারতীয় স্পেস টেকনোলজি চাঁদে চলে গেলেও, CPIM পার্টি রয়ে গেছে ষাটের দশকের আমলাতান্ত্রিক শিকলের গেরোতে, যেখানে হেঁচকি তুলতে গেলে লোকাল কমিটি থেকে পলিটব্যুরো- অনুমতি পেতে পেতেই ঈশ্যু পটল তোলে। ফলত আধুনিক ট্যেকস্যাভি সময়ের সাথে পার্টির ফলিত কার্যগত পরিচালনাতে এক ভয়াবহ দ্বান্দ্বিক ফাটল তৈরি হয়েছে, যা শীর্ষ নের্তৃত্বের সংজ্ঞার বাইরে; আর এইখান থেকে যাবতীয় উৎশৃঙ্খলতার সৃষ্টি।
ভাইপো প্লান্টেড পরগাছা রাজনৈতিক সমাজের বুকে, পিসি যদ্দিন ক্ষমতায় আছে তদ্দিন ইনিও আছেন। ক্ষমতা হারালে সবার আগে যে লোকটি তৃণমূল ছেড়ে চম্পট দেবে- তার নাম ভাইপো। সুতরাং, আজকের দিনের তৃণমূল দল যে কোনো স্থায়ী আস্তানা নয়, চার অক্ষরের বোকা ছাড়া তা সকলেই বোঝে। ফলত যা কিছু লেনদেন সবই তাৎক্ষণিক ও সবটাই আর্থিক। তৃণমূল দল উঠে গেলে এই সব দলবদলুদের ছোট একটা অংশ জাতীয় কংগ্রেসের ঘরে পরিচারিকা সেজে ক্ষুন্নিবৃত্তি করবে, বাকিরা "I beg to remain, Sir, Your most obedient servant" জপতে জপতে নাগপুরের গোয়ালঘরে গোমুত্র সেবন করবে। এটাই ভবিতব্য। by the way, মহুয়া মৈত্র কেন কাউকে ৪(চার) লাখের গুচি/লুইভিটোর হাত ব্যাগ গিফট করেছে, এসবের খোঁজও সেলিমকেই একা দায়িত্ব নিয়ে করতে হবে কেন? দলের অন্যান্য শৃঙ্খলা বাহিনীর লালুভুলুর দল কি জাবর কেটেই ক্লান্ত?
দোষ সেলিম সাহেবেরও আছে, একে হাঁড়িতে চাল বাড়ন্ত, তার উপরে রাজ্যেজুড়ে অন্তত ৬টা আলাদা আলাদা শিবির তৈরি হয়েছে; এর দায় মহঃ সেলিম এড়াতে পারেন না CPIM রাজ্য সম্পাদক হিসাবে। SFI এর পারফরম্যান্স ২০১১ পরবর্তী সময়টা আতস কাঁচের তলায় আনা হোক, মিলিয়ে দেখা হোক- অপদার্থ লোক ক্ষমতার বৃত্তে ঢুকে পড়ে কী কী আচরণ করেছিল, এদের সঙ্গে ঋতব্রতর পার্থক্য আসলে কতটা! তবে, কার সদস্যপদ দিল্লিতে আর সেটা সে রিনিউ করল কিনা, সেটার দায় সেলিমের নয়। আমাদের গ্রাম বাংলার রাজনীতিতে আদৌ চুল পরিমান গুরুত্ব রাখেনা এই সব আপদের ‘গলা নাচানো’ উপস্থিতি। কে শতরূপের বিরুদ্ধে প্রার্থী হবে আর কে মীনাক্ষীর বিরুদ্ধে দাঁড়াবে- এসব হিসাবনিকাশের গল্পও কানে আসছে বৈকি। দাঁত কেলিয়ে ‘জল মাপছি’ বলে ফুটেজ খাওয়ার দিন শেষ, হয় এস্পার নয় ওস্পার। আসলে শৃঙ্খলা অবলুপ্ত হলে বেহায়াপনাই সংস্কৃতি হিসাবে নিজেকে জাহির করে।
এদিকে সারদার টাকা চোর কুনাল ঘোষ প্রকাশ্যে জোর গলায় বলছে- আলিমুদ্দিনের যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ মিটিং এর মিনিটস ১০ মিনিটে তার কাছে পৌঁছে যায়। পার্টির অভ্যন্তরের গোপনীয়তা, আস্থা ও পারস্পরিক ভরষার বিসর্জনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে এই দাবী। এখান থেকে কিন্তু পার্টি বের হতে পারবে না। শুধু একা সেলিম সাহেব নন, গোটা আলিমুদ্দিনকে এই প্রশ্নের জবাব আজ হোক বা কাল দিতেই হবে। সবাই মিলে দল বেঁধে কুণাল ঘোষকে খিল্লি করতেই পারেন, গোপনীয়তার প্রশ্নে কুনাল ঘোষ CPIM দলের প্যান্ট জামা খুলে রাস্তায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। রোগ সেই শৃঙ্খলাহীনতা। আসলে পার্টির কলকাতার বৃত্তের একটা অংশ কুনাল ঘোষের হারেমে খোজা সেজে উপুড় হয়ে শুয়ে পয়সা রোজগার করে।
কোলকাতার বাবু কালচারে জন্ম নেওয়া মধ্যমেধার কিছু উন্নাসিক দাম্ভিক লোকজন নিজেদের কমিউনিস্ট দাবী করে দলটাকে অক্টোপাশের মতো আষ্টেপৃষ্টে বেঁধে রয়েছে। এই সব কলকাত্তাইয়া বাম, ফেসবুকের নির্বোধ বাম, কলেজ স্ট্রীটের আঁতেল বাম, JNU বাম, হারামের টাকায় আজও ক্যান্টিন চালানো যাদবপুরী বাম, এই সবগুলো অনেকটা ঘেয়ো কুত্তার মতো- কামড়ালেই ১৪টা ইঞ্জেকশন। ভোটের রাজনীতিতে এদের মূল্যমান জাস্ট শূন্য, অথচ এরাই পার্টির নিয়ন্ত্রক। শেষ ১৫ বছরে এই সেক্টর থেকেই বামেদের তথাকথিত ‘তরুন মুখে’দের ৮০% উঠে এসেছে। এদের পাশে গ্রাম মফঃস্বল থেকে আসার নেতানেত্রীরা নেহাতই সংখ্যালঘু, অথচ রাজ্যের ৭০%ই গ্রামাঞ্চল, যেখানে কৃষক পরিযায়ী শ্রমজীবী মানুষের বাস। উপরোক্ত শহুরে অন্তঃসারশূন্য ফাঁপা আদর্শের বুলি কপচানো মধ্যমেধার বামেদের কারণেই CPIM দলের মধ্যে কম্প্রোমাইজ করা অসৎ অংশের সৃষ্টি হয়েছে, এরাই পার্টির পতনের অন্যতম বড় কারণ, এদেরই কেউ কেউ প্যাক মানে খেয়ে দলের অভ্যন্তরে থেকে বিশ্বাসঘাতকতা করে চলেছে।
(২)
আমাদের মা মেয়ে বোনেরা যবে থেকে প্রাপ্তবয়স্ক হন, প্রতিমাসে একটা করে ডিম্বাণু জন্ম দেন। অধিকাংশই রজঃস্রাবে বের হয়ে যায় অনিষিক্ত অবস্থায়, কিছু নিষিক্ত হলেও অকালে গর্ভপাত হয়ে খানিকটা রক্তমাংসের দলার সাথে অনেকটা ব্যথা বেদনা উপহার দিয়ে যায়। এটা জীবনের স্বাভাবিক ঘটনা। ১০০০টা চারাগাছ পুঁতলে তবে ১০০টা বাঁচার সম্ভাবনা থাকে। কিছু ছাগলে খাবে, কিছু রোদে শুকাবে, কিছু ঝড়ে উড়বে, কিছু বাঁদরে ভাঙবে ইত্যাদি। মহীরুহ রাতারাতি হয়না, বট, পাকুর বা অশ্বত্থের চারা নার্সারিতে তৈরি হয়না। তাই কে কোথাকার ছেঁড়া লোম যে, সেই গর্ভঃস্রাবের কথাকে ধ্রুবক মেনে গুরুত্ব দিতে হবে! বাজারি সংবাদ মাধ্যম তাদের মালিকের সদ্য কেনা ‘পাঁঠা’কে কাঁঠাল পাতা খাওয়াবার ভিডিও করবেই। CPIM পার্টির দেওয়া আলঙ্কারিক পদগুলো ছিলো বলেই বিক্রির বাজারে পাঁঠার দামটা মিলেছে। তৃণমূলের হারামের চুরির টাকায় ফুর্তি মারবে বলে যে দল ছেড়েছে, আজ শুধু দল ছাড়েনি কাল বউও ছাড়বে, পরশু ঘর ছাড়বে। কারণ লীলাতে এদের আদর্শ পার্থ আর শোভন, চুরিতে ভাইপো। যেখানে ঘরে বউ এর সাথে কয়েকটা রক্ষিতা রাখা যে দলের অন্যতম রাজনৈতিক ক্যালিবার- সেখানে কালো মোটা গেঁয়ো বউ খুব বেশি দিন পছন্দ হবে না বিপ্লবী বাবুর।
বিক্রির লাইনে তো অনেকেই আছে, ভট্টাচার্য থেকে সেন, রায়, দাস, মিত্র, ঘোষ, বোস, খান, সেখ অনেকেই। কিন্তু ভাইপোর ‘ভট্টাচার্য’ সহ বাকিদের ততটা দরকার নেই যতটা একটা রেডি দুধেলগাই বলদ দরকার ছিল। ওহ, আপনি তো আবার লালবাবু ভক্ত, এই সব ভট্টাচার্য, সেন, রায়, দাস, মিত্র, বোস, খান, সেখ, ঘোষেদের নাম শুনলে আপনার পবিত্র ঈমান টলে যায়। আপনি হালকা মুতে শুয়ে পড়ুন, কিম্বা খোঁচর নেত্রী যিনি দাদু থেকে বাবার জিন সেঁচে ‘ধর ধর’ রবে DNA বেয়ে বামপন্থা বয়ে এনেছেন, আপনি বরং সেই হেমাটোলজি জেনেটিক্স নিয়ে PhD করুন, জুটিতে মিলবে ভালো। দোষটা একা এই ভট্টাচার্য, সেন, রায়, দাস, মিত্র, বোস, খান, সেখ, ঘোষদের যতটা, আলিমুদ্দিনের বাস্তুঘুঘুদেরও দায় ঠিক ততটাই। যৌবনে স্খলন কোনো পাহাড় ভাঙা হাহাকার ব্যতিক্রমী নয়, উল্টোদিকে যখন চুরির টাকার কুমিরেরা সমানে হাতছানি দেয়। নিয়ন্ত্রণ আপনাকে করতে হবে, বেছে নেওয়ার দায় আপনার। উঠতি মূলো ঋতব্রতে চেনা যায়।
৯৩ টা বুড়ো খাসি জবাই করা হবে, এই খাসি সব পিসি তোলামূলের হারেমের। কসাইখানার মালিকানা বদলেছে, তাই বাজারে নতুন পাঁঠা খোঁজার কাজ চলছে ভাইপোনিকেতনের খোঁয়াড়ের জন্য। মমতা ব্যানার্জীর রাজনৈতিক কেরিয়ার বয়সের কারণেই অস্তাচলে, ভাইপো নতুন টিম তৈরি করছে তার মতো। পাঁঠা বা পাঁঠি হিসাবে বিক্রি হতে অনেকেই রাজি কিন্তু ক্রেতাও চাইত। শাসক মমতার জামানাতে কোনো যুব নেতা নেত্রী তৈরি হয়নি, তারা চোর তৈরি করেছে। স্বভাবতই ভাইপো তার চারপাশে কাউকে পাচ্ছে না, যে হোমে যজ্ঞিতে লাগবে। এদিকে তিনি নিজেই ব্যানার্জী, ফলত যতটা মুসলমান তার দরকার, ততটা ভট্টাচার্য মিত্র দাস দরকার নেই ঠিক এই মুহূর্তে। তাই অনেকেই লাইনে থাকলেও সেভাবে দাম না পাওয়ার দরুন অনেকেই ‘আদর্শে’ অবিচল রয়ে গেছে এই যাত্রাতে। একটা কথা মনে রাখবেন, কমিউনিস্ট পার্টিতে ভোট হয় চিহ্ন দেখে, ব্যক্তি নয়।
সমস্যা সমর্থকদের তরফেও রয়েছে, তারা ভাবে আমাদের নেতাও ‘ওদের’ মতো করে বলুক সর্বত্র। জামা পরে থাকবো কমিউনিস্ট পার্টির, চাইব পুঁজিবাদী সিস্টেমের ভোগবাদী বিলাসিতা, ন্যাংটামো করব তৃণমূলের মতো- দুটো একসাথে হয় না। জাতীয় কংগ্রেস বা তৃণমূলের মতো পার্টির নেতাদের যেভাবে বলতে দেখে অভ্যস্ত, সেইভাবে দেখেই তাদের ভোটারেরা ভোট দেয়। প্রত্যেকটা সিস্টেম তার নিজের মতো করে আলাদা, গাছেরও খাবো আবার তলারও কুড়াবো একসাথে হয় না, অগত্যা দল পাল্টাতেই হবে। সমর্থকেরা অনেকেই ভাবে, এই তো খানিক আগেই ‘আমার’ সঙ্গে কথা বলল, সে তো আমাদের নিজেদের লোক। আসলে মানুষ সিদ্ধান্ত নেয় নিজের মতো করে, তখন আর কেউ নিজের লোক থাকে না। বিবাহিত মেয়েই যেখানে জন্মদাতা বাবার থাকে না, সেখানে আপনি তো কেবল পরিচিত মাত্র।
হোটেলের ওয়েটার বা পাড়ার মোড়ে পান বিড়ির টোঙ চালায় কিম্বা অনুষ্ঠানের সিজেনে ক্যাটারিং এ কাজ করে- মোদ্দাকথা কোনো ঢং এর কাজ যাদের জোটেনি, তারাই আজকাল সাংবাদিক। সাংবাদিকতা বিষয়ে পড়াশোনা বা জ্ঞান ওসব গাধার ঘাড়ে যাক, হাতে একটা ক্যামেরা মোবাইল আছে, ফেসবুক ইউটিউবে একটা পেজ- আর কী চায়! ঠিক আজকের দিনে দেশ জুড়ে ৯৯% সাংবাদিকই এই জাতের টুকটুকে গাব, যাদের না খাওয়া যায় না গায়ে মাখা যায়। এরা মূলত ক্ষমতার পদতলে চামচাগিরি করে পেট চালায়। বছরে যা মূলধারার রোজগার এদের, তাতে যেকোনো দক্ষিণপন্থী দলের নেতাদের উচ্ছিষ্টটুকু মাঝেসাঁঝে পেলেই এদের জীবনে অষ্টমী বা ঈদের সন্ধ্যা নেমে আসে। এদের সামনেই মুখ দিয়ে হাগতে শুরু করে দেয় উশৃঙ্খল স্বঘোষিত ‘বাম’ নেতানেত্রীর দল।
এটাকে কঠোর ভাবে বন্ধ করতে হবে, দ্বিতীয় কোনো অপসন নেই।
তোলামূলের ২২৫ জন MLA আছে কালিম্পং এর বিষ্ণু প্রসাদকে ধরে, ২৯ জন সদস্য লোকসভায় আর ১৩ জন রাজ্যসভার MP আছে। মেরেকেটে ৩০ জন বাদে বাকি ২৪৬ জনের কারো নামই আপনি জানেন না। সারা বছর তাদের পার্টির তরফে মূলত কুণাল ঘোষ কথা বলে, আলফাল বকার দপ্তরে দেবাংশু রয়েছে। পার্টির মালিক হিসাবে মমতা ব্যানার্জী আর ভাইপো কথা বলেন। বাকি কোনো নেতাকে দেখেছেন মাইক পেলেই উন্মত্ত হয়ে বিজ্ঞ সেজে জ্ঞানের জাঙিয়া মেলে ধরে? টিভিতে তাদের হয়ে আসে দেবনারায়ন আর বিজন মাস্টার, এরা তৃনমূলের কোন পদে রয়েছে? অনুরূপ বিজেপির ১২টা লোকসভা সদস্য, ২ জন রাজ্যসভা সদস্য, ৬৪ জন MLA আছে, কজন বিজ্ঞবিচি সর্বজ্ঞ সেজে টিভির খেঁউড়ে পৌঁছে যায় আর মাইকের বুম পেলেই মুখ দিয়ে বাতকর্ম করতে থাকে?
এই প্রজন্মের মধ্যে শতরূপই একমাত্র, যে দুর্দান্তভাবে মিডিয়া হ্যান্ডেল করে। বাকি প্রায় সকলেই যারা মূলত সোশ্যাল মিডিয়াতে ফুটেজ খায়, তারা রাজনীতির বাইরে সব কিছু করে। এদের সবার আগে রেস্ট্রিকশন করতে হবে। পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুরের পঙ্কজ রায় সরকারও বিক্রি হয়ে গেছিল কিছু মাস আগে, আজ সে কোথায়? শোনা কথা- দুর্গাপুর পশ্চিম আসনের জন্য সে প্রত্যেকদিন ইচ্ছা প্রকাশ করছে আর আইপ্যাক তাকে রিজেক্ট করছে। মুখের সামনে ক্যামেরা ধরলেই যে গড়গড় করে বলতে আরম্ভ করবে, তাকে আমতলার পার্টি অফিসে পৌঁছে দেওয়া হোক জঞ্জাল ফেরার গাড়ি করে। ফেসবুকটাকে বারোয়ারী উঠোন বানিয়ে যারা ‘পার্টিকে’ বাপত্ব সম্পত্তি মনে করে, লাগামহীন নিজস্ব মতামত প্রকাশ করে চলেছে- হয় তাদের হুঁশিয়ার করা হোক, নতুবা লাথি মেরে তাড়ানো হোক। ভাবখানা এমন যেন একটা বামপন্থী দল নয়, সোশ্যাল মিডিয়ার পেজ চালাচ্ছে কন্টেন্ট ক্রিয়েটর হয়ে, প্রতিটা বিষয়ে রোজ নিজের মতামত দিয়ে যাচ্ছে। কোথায় থামতে হয় কেউ জানে না।
পুনশ্চঃ- কেউ দলত্যাগ করছে বা পার্টি সদস্যপদ রিনিউ করছে না বলেই, তার তোলা প্রশ্নগুলো ভিত্তিহীন অযৌক্তিক বলে দাগিয়ে দেয় যারা, তারাও আসলে শয়তান বা পার্টির ভাষায় প্রতিক্রিয়াশীল। সেই বক্তব্যগুলোর সবটা মিথ্যে বা অসমর্থনীয় নয়, ব্যক্তির স্খলনের বিরোধিতা করতে গিয়ে প্রদীপের নিচের আঁধারকে জাস্টিফাই করা যাবেনা। শৃঙ্খলা জরুরী, তার জন্য সেন্সরও জরুরী যদি প্রয়োজন পড়ে, কিন্তু পার্টির অভ্যন্তরে খোলামেলা আলোচনা যদি না হয়, ভুল বা দোষগুলো কিন্তু ঘা-আলসারের মতো আড়ালে বাড়তেই থাকবে ক্যান্সার না হওয়া অবধি।
২০১৬ সালের ব্রিগেডে ময়দানে CPIM এর তৎকালীন রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র প্রকাশ্য সমাবেশে বলেছিলেন- আমাদের পার্টিতে এমন অনেকে আছে, যাদের আমাদের দিকে থাকা উচিৎ নয়; আবার ওইদিকে এমন অনেক লোক আছে যাদের আমাদের দিকে থাকা উচিত ছিল। দশ বছর পরেও এখনো এই বাক্যের তাৎপর্য সেদিনের মতোই সমান উজ্জ্বল।