বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬

বিজেপি কোনোভাবেই ক্ষমতায় আসবে না



বিজেপি কোনোভাবেই ক্ষমতায় আসবে না এ রাজ্যে, আসতে পারে না, যদিনা তৃণমূল দলটা তাদের বিজয়ী MLA নিয়ে সরাসরি বিজেপিতে মিশে যায় ভোট পরবর্তী সময়ে বহুমুখী সমীকরণে। তাই তৃণমূল ও মমতা ব্যানার্জী- যে বিজেপি জুজু দেখিয়ে আরও একবার মুসলমান ভোটকে নিজের বাক্সে ফেলতে চাইছে, তার উপরে থুতু ছিটিয়ে দিন। নিচের অঙ্কটা দেখে নিন, বাকি সিদ্ধান্ত আপনার।

২০১৯ লোকসভা, ২০২১ বিধানসভা এবং ২০১৪ লোকসভা, এই তিনটে নির্বাচনের নিরিখে বিজেপি ৫৫ টা আসনে তিন বারই টানা জিতেছে বা এক নম্বর স্থানে ছিল। ৩৮ টা আসনে দু'বার জিতেছে কিংবা এগিয়েছিল। আর ৫৩ টি আসনে এই তিনটে নির্বাচনের, অন্তত একবার তারা জিতেছিল কিংবা এগিয়েছিল। 

সবেধন নীলমনি এই ১৪৬ আসনেই আজ অবধি বিজেপির চাষবাস। একটা নতুন আসনের দোকান খুললে, অন্য ২টো দোকানের ঝাঁপ বন্ধ হয় তাদের, এটাই তাদের ভোট চরিত্রের স্ট্রাকচার। বেশ কয়েকটা এমন আসনও ছিল যেখানে মুসলমান ভোট মেজরিটি। এবারে সেটি হবে না, তেমনই মতুয়া অঞ্চলে বিজেপির 'পতিদাহ' প্রথা পালিত হবে জীবন্ত চিতায় তুলে।

সুতরাং পাটিগণিতের নিয়ম বলুন কিংবা পারমুটেশন কম্বিনেশন, রেসিপ্রোক্যাল, জিওমেট্রি কিম্বা ফিবোনাচ্চি- আপনি যেভাবেই হিসেব করুন না কেন, ইতিহাসের পর্যালোচনা এবং পশ্চিমবঙ্গের জাতি জনঘনত্বের পরিমাপের অঙ্কে, বিজেপি কোনো গণিতের বলেই সংখ্যাটা একলাফে কক্ষণও ১০০ পার করতে পারবে না। বাকিটা মমতা ব্যানার্জীর বিজেপি জুজুর নামে নির্লজ্জ মিথ্যাচার প্রহসন, আর বিজেপির বিপুল অর্থব্যায়ে চালানো প্রচারযন্ত্রের আষাঢ়ে গল্প। তাতেও আজ অবধি ১৪৬টা আসনেই বুড়ি ছুঁতে পেরেছে বিজেপি, আর কনফার্ম বলতে সেই ৫৫টি। বাকিটা গ্যাস বেলুন যা শুধুমাত্র মিডিয়াতেই উপস্থিত।

পশ্চিমবঙ্গের মাটি চৈতন্যের মাটি, সম্প্রীতির মাটি, একটা দীর্ঘ সময় ধরে চলা কমিউনিস্ট আদর্শ ও আন্দোলনের মাটি, এখানে RSS এর উগ্র হিন্দুত্ব আর বাঁদর রাজত্ব- ওই নির্দিষ্ট সংখ্যক একটা জম্বি হিন্দুদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। বাকিরা কেউ মানুষ নয়, সামান্য কিছু ভক্ত, বাকিরা মহাদেবের ধর্মের ষাড়। অধিকাংশ সুস্থ স্বাভাবিক হিন্দুই, সন্ত্রাসী হিন্দুত্ববাদী সংগঠন RSS কে অন্তর থেকে ঘৃণা করেন, একটা মুসলমান যতটা ঘৃণা করে বরং তার চেয়েও বেশি প্রতিবাদ-প্রতিরোধ দেশের সংখ্যাগুরুদের তরফেই পরিলক্ষিত হয়। 

তাই যারা ভাবছেন বিজেপিই বোধহয় তৃণমূলের বিকল্প, তারা আসলে তৃণমূলের পায়ে শক্তি যোগাচ্ছেন আরও একটা টার্ম ক্ষমতায় আসার দৌড়ে। গত ১৫ বছর ধরে এই বিজেপির বেনা বনে মুক্ত ছড়িয়েছেন, আগে রাম পরে বামের তত্ত্ব ছড়িয়ে ছিলেন। নিট ফল- ফক্কা। মমতার নের্তৃত্বে প্রতিবার RSS এর সরকার প্রতিষ্ঠা হয়েছে। 

এবারও যদি আপনি হিন্দু ভাইটি বিজেপিকেই ভোট দেন, এবার কিন্তু তৃণমূলের সরকার প্রতিষ্ঠা হবে না। কারণ মুসলমান সমাজ মমতা ব্যানার্জীর ভন্ডামি প্রতারণা ধরে ফেলেছে ,তাকে উচিত শিক্ষা দিতে সমগ্র মুসলিম সমাজ বদ্ধপরিকর।  সুতরাং আপনারা যারা যেকোনো মূল্যে তৃণমূল-বিজেপি বাইনারির মধ্যে থেকে একটা RSS এর সরকার প্রতিষ্ঠা করতে অঙ্গীকারবদ্ধ, তাদের জন্য মহা দুঃসংবাদ। ২০২৬ সালে RSS এর সরকার গঠিত হবে না পুনরায়।

গত একুশের নির্বাচনে এবারের প্রথম ফেজে হতে চলা ১৫২টা আসনের মধ্যে তোলামূল পেয়েছিল ৯২টি, আপনি নিশ্চিত থাকুন আজকের ভোটে তোলামূল ৫০ ক্রশ করবে না কোনোভাবেই, আর বিজেপিও যেখানে ছিল তার আশেপাশেই থাকবে, কমলেও কমতে পারে। মালদা মুর্শিদাবাদ এবং দুই দিনাজপুরে তৃণমূল খাতা খুলতে পারলে সেটাই তার জন্য চরম প্রাপ্তি হিসেবে গণ্য হবে। বাকি সমস্ত সমীক্ষা- টিস্যু পেপারে করে যেমন পায়ুপথ মোছে, সেইভাবে মুছে ফেলে দিন ওগুলো। এগুলো সব পেইড প্রোমোশন, আপনার ভাবনাকে ডাইভার্ট করার জন্য। 

সুতরাং তোলাবাজ, কাটমানি খোর, প্রবঞ্চক, প্রতারক, ধর্ষক, চোর, পাতাখোর, দুশ্চরিত্র, মিথ্যাবাদী, সাম্প্রদায়িক এবং ঔদ্ধত্যপূর্ণ এই তোলামূল সরকারকে যদি বিসর্জন দিতে চান তাহলে- বিজেপিকে ভোট দিয়ে সেই লক্ষ্য হাসিল করা সম্ভব নয়। সাম্প্রদায়িক বিজেপি কখনো বিকল্প হতে পারে না শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর বাংলাতে, স্বামী বিবেকানন্দ, রবীন্দ্রনাথ,  নজরুল, হাজী মহসিনের বাংলাতে।

তৃণমূল এবং বিজেপি বাদে যে যেখানে শক্তিশালী তাকে ভোট দিন।  বাম জোট-ISF কে পছন্দ হলে তাদের দিন, আমি ব্যক্তিগতভাবে এদেরই রেকমেন্ড করবো। বামে এলার্জি থাকলে কংগ্রেসকে ভোট দিন। এমনকি হুমায়ূন কিম্বা রুহুল আমিনের প্রার্থীকে পছন্দ না হলেও, সে যদি শক্তিশালী হয় আপনার এলাকায় তাহলে এবারের ভোটটা তাকেই দিন। ভোট যেন নষ্ট না হয়। 

আপনি নিশ্চিন্ত থাকুন তৃণমূল কোনভাবেই তিন সংখ্যার ভিজিট পার হবে না আগামী ৪ঠা মে। আর বিজেপির অতীত কোষ্ঠী কি বলছে তা উপরে লেখা আছে, তার জিনের মধ্যে ঢুকে রয়েছে তার অউকাত, ঐ সর্বোচ্চ ৯০ এর আশেপাশে- ব্যাস গল্প শেষ। 

যুক্তফ্রন্ট জাতীয় একটা সংযুক্ত সরকার গঠন হতে চলেছে এবারে, যেখানে বামজোট নির্ণায়ক শক্তি হবে। আপনার মূল্যবান ভোট দুই বিষ ফলের মধ্যে কাউকে দিয়ে যদি নষ্ট করেন, তার দায় একান্তই আপনার। এর মূল্য রক্ত দিয়ে চোকাতে হবে। তৃণমূল হোক বা বিজেপি সে আপনার রক্ত চুষে নেবেই।  এর সাথে আপনার সন্তানকেও বইতে হবে আপনার এই পাপের ভার। উত্তর প্রজন্মের কাছে অপরাধী হয়ে জবাবদিহি করতে হবে - ১৫ বছর ধরে প্রতিটি লোকসভা, প্রতিটি বিধানসভা, প্রতিটি পঞ্চায়েত, প্রতিটি পুরসভায়- প্রতিবার ঠকার পরেও একই পাপের পুনরাবৃত্তি কীভাবে করেছিলেন!!


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

মুসলমান ও হুমায়ূনের বাবরি মসজিদ

  বাবরি মসজিদ, বেলডাঙা বাবরি মসজিদ আর পাঁচটা মসজিদের মত শুধুমাত্র চার দেওয়ালের একটা নামাজ পড়ার ঘর নয়, এটা আপামর মুসলমানের আবেগের নাম। উগ্র হ...