বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬

হুমায়ূন ও হাজার কোটির ডিলের ভিডিও

 


না মানে আপনি আজকে টের পেলেন যে হুমায়ুন কবির মানুষটা আসলে খারাপ লোক! নতুবা এতদিন উনি নিরীহ নিষ্পাপ ও ‘নির্দোষ’ ছিলেন! না মানে, আপনি যে এমন অপাপবিদ্ধ নির্মলমতি সরল ও কোমল যে, আপনাকে বা আপনাদের তো ডায়পার পরিয়ে রাখা উচিৎ, কখন যে শিশুর মতো হেগে মুতে ফেলবেন প্যান্টে, টেরই পাবেন না। ভাগ্যিস আপনাদের গোপনাঙ্গে বা বগলে লোম গজায়নি, নাহলে এতদিন লজ্জাতেই মরে যেতেন বার চারেক।

মুর্শিদাবাদের হুমায়ুন কবির সম্পর্কে নতুন একটা ভিডিও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে আজ। যেখানে ব্যক্তি হুমায়ুনের মুখ দেখিয়ে কিছু বক্তব্য শোনা ও দেখা যাচ্ছে। যার মাধ্যমে তোলামূল ও তাদের পোষিত সংবাদ মাধ্যম প্রমাণ করার চেষ্টা করছে যে, হুমায়ুন বিজেপির কাছ থেকে টাকা খেয়ে তৃণমূলের সর্বনাশ করার চেষ্টা করেছে। সেই ভিডিও অনুযায়ী, মোট ১০০০ কোটি টাকার ডিল হয়েছে, যার মধ্যে আপাতত ৩০০ কোটি টাকা এডভান্স হিসেবে পেয়েছে, বাকিটা ধাপে ধাপে পাবে। এই হচ্ছে মোদ্দা গল্প। ভিডিও সত্য মিথ্যা আমি কিছুই জানি না, জানার আগ্রহও নেই।  

মাকুন্দ গোপোনাঙ্গ বিশিষ্ট এলিট আঁতেল সমাজ, নাবালক ও নিতান্ত মূর্খ ছাড়া প্রত্যেকেই জানে হুমায়ুনের সাথে বিজেপির যোগাযোগ গভীর, যেটা কোনো ভাসা ভাসা লিঙ্ক নয়- একদম গলায় গলায় দহরম মহরম। কারণ তিনি হুমায়ুন কবির ২০১৯ সালে লোকসভা ভোটে বিজেপির প্রার্থী হওয়ার দরুন, বিজেপির অন্দরমহলে পৌঁছে ‘ভক্ত’দের বাবাদের সাথে এক বিছানাতে শুয়ে এসেছে, এক থালায় খেয়েও এসেছে। এই সবকিছু জেনেও ২০২১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস তথা মমতা ব্যানার্জী এই হুমায়ূন কবিরকে জামাই আদর করে ঘরে নিয়ে এসে প্রার্থী করে জিতিয়ে ছিল বিধানসভাতে। 

শুধু কী তাই? ২০২৪ এর লোকসভা ভোটের প্রচার চলাকালীন যোগীর বিরোধী মুখ হিসেবে এই হুমায়ূন কবিরকেই তোলামূল ব্যবহার করেছিল। অধীর চৌধুরী আর মোহাম্মদ সেলিমের বিরুদ্ধে নিকৃষ্ট দৃষ্টিভঙ্গিমূলক চূড়ান্ত সাম্প্রদায়িক ভাষণ দিয়ে মুর্শিদাবাদ জেলার দুটি লোকসভা আসনে তৃণমূলের নিশ্চিত পতন বাঁচিয়ে ছিল। সুতরাং, হুমায়ুন নিজে কাঁচা না পাকা খেলোয়ার জানি না, তবে তার যাবতীয় কিছু খারাপ ও সেই সমস্ত খারাপত্বকে তৃণমূল সর্বোচ্চ পর্যায়ে ব্যবহার করেছে নিয়মিত ও দীর্ঘদিন। 

প্রয়াত ‘চাণক্য’ মুকুল রায়, বঙ্গ বিজেপির পোস্টারবয় শুভেন্দু অধিকারী, আর বর্তমান পাবলিক একাউন্টস কমিটির চেয়ারম্যান সুমন কাঞ্জিলাল, রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়, সব্যসাচী দত্ত, অর্জুন সিং, সৌমিত্র খাঁ, অনুপম হাজরা, দীনেশ ত্রিবেদী, জিতেন্দ্র তিওয়ারি, রুদ্রনীল ঘোষ, হীরণ চ্যাটার্জী, তন্ময় ঘোষ, বাবুল সুপ্রিয়, দীপেন্দু বিশ্বাস, কৃষ্ণ কল্যাণী, মুকুটমনি অধিকারী, লাভপুরের মনিরুল প্রমুখেরা আসলে কোন দলের প্রতিনিধি? এরা সকলেই আসলে RSS এর প্রতিনিধি, গোয়ালঘর থেকে যে দোকানে ডিউটি দেয় নাগপুরের হেড অফিস, এরা সেই দোকানে গিয়ে তেড়েফুঁড়ে লেগে পড়ে। এটা কেবল পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য পর্যায়ের নেতাদের একটা সংক্ষিপ্ত তালিকা দিলাম, জেলা বা ব্লক স্তরের তালিকা দিলে তো বিয়েবাড়ির মুদিখানার ফর্দ হয়ে যাবে। 

অনেকেই পাল্টা প্রশ্ন করবে, সিপিএম থেকেও তো তোলামুল আর বিজেপিতে দলে দলে নেতা গেছে, তার বেলা। হ্যাঁ, ধান্দাবাজ চোরগুলো গেছে তো, অন্দরে এরা ঘুঘুর বাসা বেঁধে ছিল বলেই তো আজ দল ‘শূন্য’। প্রশ্ন হচ্ছে চলে যাওয়া কাউকে কি কাউকে পুনরায় ফেরানো হয়েছে? তোলামুল বিজেপির কথা বাদ দিন, এরা একে অন্যের বমি-গু সব খায়। বাম দল থেকে যারা যায়, সেগুলো হেগে ফেলার মতো। একবার মলাশয় থেকে বেরিয়ে গেলেই সোজা ফ্ল্যাশ করে দেওয়া হয়। এর পর সেই বর্জ্য ভেসে ভেসে কার দুয়ারে গিয়ে উঠল সেটা খুঁজে ফেরা পোষিত মিডিয়া আর দক্ষিণপন্থী দলগুলোর কাজ। একবার হেগে দিয়ে গু খালাস হয়ে গেলে, শতচেষ্টা করেও তা আর পায়ুপথে ফেরত পাঠানো যায় না। 

হুমায়ুন নতুন কোনটা করেছে যা মমতা ব্যানার্জী করেনি? হুমায়ুন নতুন দল খুলেই ১৮২টা কেন্দ্রে প্রার্থী দিয়েছেন, ঠিক মমতা ব্যানার্জী যেমন ১৯৯৮ সালে ২৯টা লোকসভা আসনে প্রার্থী দিয়েছিল বিজেপির বগলদাবা করে। হুমায়ুনও তাঁর একদা নেত্রীর দেখানো পদাঙ্কই অনুসরণ করেছে মাত্র। ঠিক যেভাবে মমতা ব্যানার্জী দল খোলার প্রায় সাথে সাথে ‘জোড়াফুল’ প্রতীক পেয়ে গিয়েছিল বিজেপির সৌজন্যে, হুমায়ুনের দলও তেমন ‘বাঁশি’ চিহ্ন পেয়ে গেছে নাগপুরের বংশী বাদকদের বদান্যতায়। হুয়ায়ুন সাহেব কোলকাতার এক ফাইভস্টার হোটেলে ঘাঁটি বেঁধে রয়েছেন বিগত দেড় মাস, ১ মাস আগে থেকে হেলিকপ্টারে চড়ে প্রচারের ঘোষণা করে রেখেছেন- সেদিন গোপনাঙ্গে মাকুন্দর দল টেরই পায়নি এই টাকার আসলে উৎস কোথায়! আজ ভিডিও প্রকাশ পেতে হুমায়ুনের নাকি জাত নষ্ট হয়েছে! বলি তোদের দেয় কে?

একটা ত্রিভুজের তিনটে বাহু, উপরের শীর্ষ বিন্দুতে নাগপুরের গোয়ালঘর, বাকি দুটো বিন্দুর একটা কালীঘাটের বিন্দুপিসি, অন্যটাতে মুরুলীধর স্ট্রিট- এই বৃত্তে প্রতিনিয়ত নিজেদের মধ্যে চলাচল করে সর্বক্ষণ ‘হটলাইন’ রক্ষা করে চলেছে দুই ফুল। এই ‘নাগপুর ট্রায়াঙ্গেল’ অনেক বেশি প্রকাশ্য বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলের চেয়ে, কই এই ‘হটলাইন’ গ্রিন চ্যানেল নিয়ে কোনো গোপোনাঙ্গ মাকুন্দো তো কোনো প্রশ্ন তোলেনি। 

প্রশ্ন কখন উঠেছিল? তখন যখন মহঃ সেলিমের সঙ্গে দেখা করার পর, হুমায়ুন কবির তার অতীত কৃতকর্মের জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছিল জনগণের কাছে- তখন সুশীল সমাজ আর আনন্দবাজার যাত্রাদলের বিবেকের ভূমিকাতে অবতীর্ণ হয়ে রীতিমতো গেলো গেলো রব তুলেছিল। সেদিনও গোপনাঙ্গে মাকুন্দের দল বুঝে উঠেনি হুমায়ুনের সাথে বিজেপির সম্পর্ক ছিল। মিডিয়ার নামে পশ্চিমবঙ্গে যে সব গাজনের সঙের দলেরা হাতে মাইকের বুক আর কপালে অণ্ডকোষ নিয়ে সারাদিন দৌড়ে বেড়ায়, তারাও এতদিন হুমায়ুনের সাথে বিজেপির সংযোগ বিষয়ে জানতে পারেনি। আজ ভিডিও লিক হওয়ার পর বুঝেছে, হুমায়ুন নামের টগর বোষ্টমী, বিজেপি নামক নন্দ মিস্ত্রিকে রান্না ঘরে ঢুকতে দিয়ে আসলেই জাত খুইয়েছে।   

আচ্ছা ভেবে দেখুন তো, আজকের এই ভিডিও কোন মিডিয়া হাউস এর কাছে না গিয়ে সরাসরি তৃণমূলের কাছে চলে এলো কীভাবে? এর দ্বারা অন্তত একটা জিনিস নিশ্চিত হওয়া গেল যে, ওই চুক্তির মধ্যে একা হুমায়ুনই শুধু নেই, বিজেপির সাথে তাদের সহোদর তৃণমূল কংগ্রেসও একই সাথে উপস্থিত ছিল ঐ আলোচনার টেবিলে। ওই আলোচনার টেবিলের উল্টো দিকে দাঁড়িয়ে ভিডিওটা কে করছিলো তৃণমূল সে বিষয়ে কিছু বলেছে, বলতেই পারতো বিমান বসু, সেলিম, অধীর চৌধুরী কিম্বা রাহুল গান্ধী নিদেনপক্ষে শুভঙ্করের নামও নিতেই পারতো। ট্রুথ সোশ্যালও ফলো করলাম, ট্রাম্পের তরফেও কোনো ক্রেডিট দাবী করে পোষ্ট আসেনি। কোন গ্রীন চ্যানেলে ভিডিওটা তৃণমূলের কাছে চলে এলো, প্রশ্ন তো এটাও!!    

হুমায়ুন সাহেব দাবী করতেই পারেন যে ভিডিওটা AI জেনারেট, কারণ বিষয়টাকে আইনি দীর্ঘসূত্রিতার মাঝে একবার ফেলে দিতে পারলে বিষয়টা সময়ের কবরে দাফন হয়ে যাবে, তারপর মানুষের আর মনেই থাকবে না। সারদা কেসে যেখানে হাজার কোটি টাকার নয় ছয় হয়েছিল সরাসরি তৃণমূলের নেতৃত্বে, আজ তার মালিক জামিন পেয়ে গেলেও কোথাও কোনো সামান্য বিক্ষোভ প্রদর্শনটুকু হয় না- সেখানে ১০ বছর পর যখন এই ভিডিওর সত্যতা সামনে আসবে ল্যাব থেকে, ততক্ষণে মানুষ ভুলেই যাবে কীসের ভিডিও ছিল ওটা। 

আসলে জাপানি তেল প্রয়োগ করেও কোনো মিডিয়া হাউস এখন অবধি পশ্চিমবঙ্গের এই ভোটের বাজারে তৃণমূল-বিজেপি বাইনারি সেট করতে পারেনি। তাই এতদিন বিজেপির সাথে ঘর করে চলা তৃণমূলের এই সতীপনা, রাজ্যের সাধারণ জনগণ- বিজেপির সাথে গোপন চুক্তিতে বাইনারি সৃষ্টির প্রচেষ্টা বলেই ধরে নিয়েছে। অনেকে ভাবছে মুসলমান সমাজে বিপরীত প্রতিক্রিয়া হবে হুমায়ুনকে নিয়ে, বরং উল্টোটা হবে। তার যে সব প্রার্থীরা ও সমর্থকেরা দোলাচলে ছিলো যে- বুথ স্তরে তোলামুলের সাথে লড়তে গেলে একটা তো পুঁজি দরকার, হুমায়ুন সাহেব সেটা দিতে পারবেন তো? হুমায়ুনের যারা ভোটার বা সমর্থক ও প্রার্থী তাদের ক্লাসও তো তাদের নেতার মতোই, একটা ভিডিও দেখে তারা কেউ পালাবে না, বরং উল্লসিত হবে যে এত বিপুল পরিমান টাকা আসছে। এরা সকলে আজ আশ্বস্ত হলো যে, ‘নাহ, হুমায়ুন সাহেবের কাছে ‘মাল’ আছে, অতএব, লড়াইটা দিতে পারবে কাঠে কপাটে’।

আরেকটা জিনিস ভুলে যাচ্ছে পাব্লিক তথা বাম সমর্থকেরা, হুমায়ুন তৃণমূলের বাক্স থেকে কিছুটা মুসলমান ভোট কাটবে, এটাকে ধরে নিয়েই তো বামেরা কিছু আসন পেতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে সংখ্যালঘু বেল্টে। পাশাপাশি তোলামুলও এমন খেঁকি কুত্তার মতো চেঁচাচ্ছে মুসলমান ভোট চলে যাওয়ার আতঙ্কে! কারণ এই সেই সংখ্যালঘু ভোট ব্যাঙ্ক, যাদেরকে দুধেলগাই সাজিয়ে মমতা ব্যানার্জী ওনার পৈতৃক সম্পত্তি ভেবে রেখেছিলেন। বিজেপির ঔরসে জন্মানো তৃণমূল কংগ্রেস, আজ বিজেপির সাথে পরকীয়া করতে গিয়ে ধরা খাওয়া হুমায়ুনের জাত নিয়ে প্রশ্ন তুলছে! তৃণমূলকে শুধাচ্ছি আপনাদের যে জন্ম হয়েছিল, সেই জন্মদাতা বাপের নামটা কী? 

তবে কী জানেন, দিনের শেষে জয়ের হাসিটা কিন্তু আজ হুমায়ুনই হাসল। এই ভিডিওর কল্যাণে আবার ফোকেটে একটা গোটা দিন রাজ্যের সংবাদ শিরোনামে তিনি রয়ে গেলেন। ভোটের বাক্সে তিনি সত্যিকারের হ্যামলিনের ‘বাঁশিওয়ালা’ হয়ে উঠতে পারেন কিনা ৪ঠা মে তার জবাব মিলবে।



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

হুমায়ূন ও হাজার কোটির ডিলের ভিডিও

  না মানে আপনি আজকে টের পেলেন যে হুমায়ুন কবির মানুষটা আসলে খারাপ লোক! নতুবা এতদিন উনি নিরীহ নিষ্পাপ ও ‘নির্দোষ’ ছিলেন! না মানে, আপনি যে এমন ...