গত ২০ দিনে ১ ডজন চপ্পল জোড়া, টাওয়েল, হ্যান্ড টাওয়েল, বেডসিট, টিভির রিমোট, ইলেকট্রিক কেটলি, এ্যাসট্রে, রিসেপশনের ছাতা, রুম হিটার, গ্লাস, LED বাল্ব, এমনকি হ্যান্ডওয়াসের বোতল ওবধি গায়েব হয়েছে কয়েক ডজন সিকিম-দার্জিলিং এর সবকটা হোটেল মিলিয়ে।
➤২ জনের বুকিং করে এসে ৫ জন হাজির। একটাই দাবী- আমরা ম্যানেজ করে নেব। কিডস বলে ২ জনের রুম বুক করে, উপস্থিত হয়ে দেখা যায়- একটা কিড ১৯ অন্যটা ১৭। নাও এবারে কোথায় কীভাবে থাকতে দেবে দাও।
➤করিডোরে চেঁচানো
➤খালি আদুর গায়ে গামছা পরিধান করে রিসেপসনে এসে খেজুরে আলাপ।
➤তারস্বরে মোবাইলে রিল দেখা বা ফোনে কথা বলা, পাশে কে আছে থোরাই কেয়ার।
➤ এক প্লেট খাবার নিয়ে ৩ জন বসে খাবার শুরু করে দেওয়া। সাথে সমানে তর্ক- আমরা তো ১ প্লেটে খাচ্ছি, ৩ জনের দাম কেন দেব!
➤বাচ্চার বয়স ২০ হলেও- ও তো কিছুই খায়না প্রায়। ১০ এর কম হলে, - আরে ও তো খেতেই শেখেনি।
➤দার্জিলিং এসেই গুচ্ছের জামাকাপড় ধুয়ে এসে জানতে চাওয়া- কোথায় শুকাতে দেব, যেন ঘুরতে নয়- জামাকাপড় ধুতেই এসেছেন ওনারা।
➤ ট্রেন থেকে ২টোর সময় নামা থেকে হোটেলে পৌঁছানো অবধি ১১৩ বার ফোন না করলে ভ্রমনের মজা কোথায়! ১৫ মিনিট অন্তর অন্তত- ওয়েদার কেমন? টয়লেটটা সাফ করে রাখবেন প্লিজ।
➤ সকালে নাইটি আর লুঙ্গি পরে এলাকাতে রুট মার্চের পর, দুপুরে ছেলেরা মোটা জ্যাকেটে নিজেকে ঢেকে আর মহিলারা আধা ন্যাংটা হয়ে দার্জিলিং/গ্যাংটককে কে ধন্য করে।
➤ আমরা বাংলাতে কথা বলছি, কিন্তু সামনের জন হিন্দিতেই কথা বলবেন সেটা যতই হাস্যকর হোক না কেন!
➤কলের জল বন্ধ না করা। চেক আউটের সময় সাদা বেডকভার বা টাওয়েল দিয়ে জুতো পরিষ্কার।
➤ ইলেকট্রিক কেটেলে মদের চাটের মাংস কষা গরম করা, বাচ্চার ভাত বানানো।
➤জানালা দিয়ে বিস্কুট চিপসের প্যাকেট, সিগারেটের টুকরো, থুতু, কুলকুচি করবেই- যতই বলা হোক, দাদা এটা পাহাড়, নিচে অন্য মানুষের বাড়ি; কে কার কথা শোনে!
➤লক্ষ বার মানা সত্বেও কমোডের ভিতরে বাচ্চার ব্যবহৃত ন্যাপি, পিরিয়ডের রক্তাক্ত ন্যাপকিন, কন্ডোম ফেলবেই। এবারে জ্যাম-
➤টয়লেটের সিস্টার্ণ, দরজার লক এমন ভাবে বন্ধ করবে যেন প্রতিশোধ নিচ্ছে।
কত বলব এমন!
ইন্টারেস্টিং তথ্য হচ্ছে গরিব মানুষ যারা বেড়াতে আসেন সাধারণত তারা এই ধরনের কাজ করেনা। এনারা ভয়ে ভয়ে থাকেন। আমরা যে ধরনের হোটেল চালাই তাতে শিল্পপতি বা সমাজের উচ্চবিত্তের মানুষও আসেনা। এই ধরনের ক্লিপ্টোম্যানিয়্যাক কাজ মূলত মধ্যবিত্ত সমাজ থেকে আসা লোকেরা করে; আরো নির্দিষ্ট ভাবে বললে চাকরিজীবী পরিবারগুলো সদস্যেরা। এনারা সব জানেন, ১০০০/১২০০ টাকার রুম বুক করে সিনক্লেয়ার্স/মেফেয়ার/রামাডার সার্ভিস চাইবেন।
অত্যন্ত প্যাথেটিক ব্যাপার কিন্তু এটাই বাস্তব- এই সম্প্রদায়ের একটা অংশ নিতান্ত অসভ্য যারা সভ্য সমাজে অচল। কমপ্লিমেন্টারি ব্রেকফাস্ট এর লুচি, ব্রেড, রুট, ডিম ৮০% লোক ব্যাগে ভরবেই ভরবে, সার্ভ করতে করতে গায়েব- যাচ্ছে কোথায়! ওমা কোলের ব্যাগের পলিব্যাগে চালান হয়ে যাচ্ছে। পেপার ন্যাপকিন আর তাতে মিস্টিমৌড়ি- অন্তত ৫০ গ্রাম নিয়ে যাবেই যাবে। এর পর আছে ১২ বছরের বাচ্চার কেন খাবারের দাম লাগবে- এই নিয়ে আডাই ঘন্টার বচসা। অথচ উনি ট্রেনে/বাসে/গাড়িতে বাচ্চার জন্য ফুল সিটের ভাড়া দিয়ে এসেছেন। এই হচ্ছে বাঙালি মধ্যবিত্ত টুরিষ্টের মোটামুটি চরিত্র।
এনারা সকলেই কিন্তু ভদ্রলোক সেজেই থাকেন- আর রাস্তাঘাটে সোস্যালমিডিয়াতে সবচেয়ে বেশী মরালিটির জ্ঞান কপচান।