মমতা ব্যানার্জীর তৃণমূল কংগ্রেস ভুতুড়ে ভোটারওয়ালা ২০২৪ এর ভোটারলিস্ট দিয়ে ২০২৬ এর নির্বাচন করতে মরিয়া ছিল, তাই গোটা SIR প্রক্রিয়াটাকে গুলিয়ে দিতে অধিকাংশ জালিয়াতি অপকর্ম করেছে। তারা জানে আসন্ন নির্বাচনে জালিয়াতি না করলে সরকার টিকিয়ে রাখতে পারবে না।
SIR হেয়ারিং এর শুরু থেকেই এই কথাগুলো রোজ রোজ চেঁচিয়ে বলেছি- ইচ্ছাকৃত নামের ভুলগুলো মুরুলীধর স্ট্রিটের কেশব ভবন বা দিল্লির অশোক রোডে নির্যাতন কমিশনের সদর দপ্তর থেকে কেউ করেনি। বিজেপি ও নির্যাতন কমিশন উভয়েই শঠ, দুবৃত্ত, প্রবঞ্চক, মিথ্যুক, কিন্তু বাংলাতে এদেরকে ছাড়িয়ে গেছে শাসক তৃণমূল। সাদা খাতা জমা দেওয়া 'শিক্ষক' বাহিনী, বাহুবলী BDO দের দল ও তোলামূলের পে-রোলে থাকা ডেটা এন্ট্রি অপারেটর এর ত্রিবেণী সঙ্গমের গর্ভে, i-Pac এর ঔরসে গোটা SIR ম্যাসাকারটা সংগঠিত হয়েছে। যাবতীয় হয়রানির মাস্টারমাইন্ড তৃণমূল কংগ্রেস, সাপ হয়ে কেটে ওঝা হয়ে ঝাড়তে এসেছে। না হলে কমিশন যদি দুর্নীতির দায়ে কাউকে সাসপেন্ড করে, মমতা ব্যানার্জীর এঁটো দরদ কেন উথলে পড়ছে? কারণ পরিষ্কার, তারা মমতা ব্যানার্জীর নির্দেশেই ইচ্ছাকৃত এই ভুলগুলো করেছিল।
এ বিষয়ে না আলিমুদ্দিন স্পষ্ট করে সাংবাদিক সম্মেলন করেছে আজ অবধি, না তাদের সোশ্যাল মিডিয়ার সর্বজ্ঞ 'আদর্শবাদী' বাম্বাচ্চাগুলো এ নিয়ে হল্লাচিল্লা করেছে, যতটা তারা দীপ্সিতার জামাত বধে উল্লসিত ছিলো। জেনেরিক উদগান্ডু হলে তাদের ভাবনাও আঁটকে যায় ভক্তির পর্দার মাঝে। যেহেতু শুরু থেকে সাদাকে কালো আর কালোকে সাদা শেখানো হয়েছে, তাই যতই আসল 'সাদা-কালো'র প্রভেদটা কেউ চোখে আঙুল দিয়ে দেখাক, এরা গান্ধারির মতো স্বেচ্ছা অন্ধ সেজেই থাকবে।
চুরি দুর্নীতির পাঁকে ডুবে রয়েছেন মমতা ব্যানার্জী। ফলত তার রাজনৈতিক চরিত্রের image cleansing এর জন্য এখন রোজ ‘প্যাথলজিক্যাল মিথ্যা’ সম্বলিত আলফাল বকবেন, মৃত মানুষদের নিয়ে মিথ্যাচার করবেন, নতুন ভড়ং ধরবেন, সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ করবেন, ইনশাল্লাহ মাসাল্লাহ বিষ্ণুমাতা জয় জহর ইত্যাদি বকবেন, ছোটখাটো দাঙ্গা লাগাবেন ধর্মীয় মেরুকরণের জন্য, বিরোধী দল ভাঙানোর চেষ্টা করবেন, মিথ্যা মামলাতে ফাঁসিয়ে বিরোধী স্বরকে জেলহাজতে পাঠাবেন- ওনার গোটা রাজনৈতিক জীবনটাই এই কটা স্তম্ভের উপরে দাঁড়িয়ে আছে। পাশাপাশি RSS ও চাইবে না তাদের তাদের ‘দেবী’র গদি টলে যাক। মুসলমানকে SIR এ ভয় দেখানো যায়নি, তাই আতঙ্কিত গোটা তৃণমূল নেতৃত্ব অলআউট আক্রমণে গিয়ে দাঁতনখ দিয়ে ছিঁড়ে খাবার সব ধরণের অগণতান্ত্রিক অসংবিধানিক অপচেষ্টা চালাবে।
এখনও সময় আছে, SIR এ হেয়ারিং এর নামে এই হয়রানি ও তাতে নাম বাদ যাওয়ার মাস্টারমাইন্ড যে তোলামুল, সেটাকে অষ্টপ্রহর সঙ্কীর্তন এর মতো রোজ জনগণের সামনে বাজানো। এসবের বদলে মমতা ব্যানার্জী সাংবাদিকদের কী বলেছেন, সেই নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে বস্তুত ওনারই প্রচার করে যাচ্ছে সমস্ত বিরোধী শিবির। এখনও বামাতি লালবাবুদের দল ‘সেটিং’ তত্ত্বের বাইরে বের হয়ে বলতে পারছে না- কোথাও কোনো সেটিং নেই, কেউ বিজেমূল নয়।
বামেদের গোটা ন্যারেটিভ ‘সেটিং আর বিজেমূল’ তত্ত্বে আঁটকে রয়েছে, যা গত ১০ বছর ধরে লাগাতার ফেল মেরেছে, জনগণ এটা খায়নি প্রত্যাখ্যান করেছে। আসলে TMC ও BJP এরা এক মায়ের পেটের দুই ভাইবোন, এদের একটাই বাপ- RSS, ভাই ভাই-এ বা ভাইবোনে সেটিং হয় না, ওটা ওদের নাড়ির টান। বাকি সবটাই তাদের ঘরোয়া খুনসুটি কিম্বা পারিবারিক কলহ। ওরা কোনো ভিন্ন সত্ত্বা নয়। সেটিং শব্দে আসলে ওদের আলাদা করে দেওয়াই হয়, বিজেমূল নামের হাঁসজারু সন্ধি ওদের অভিন্ন সত্ত্বাকে অস্বীকার করে। গোটা ন্যারেটিভটাই ভুল ‘লাইন’।
ক্রিকেটে আপনি যদি ‘লাইন’ মিস করেন, লোপ্পা ছয় মারার বলেও খোঁচা লাগিয়ে ক্যাচ তুলে দিতে পারেন কিম্বা তিনকাঠি উড়ে যেতে পারে। কানায় কানায় পরিপূর্ণ স্টেডিয়াম আপনার সমর্থকে ভর্তি, টিভির ওপারে আরও কয়েক কোটি আপনার জয়ের প্রতাশ্যাতে ক্ষণ গুনছে। রৌদ্রোজ্জ্বল পরিবেশ, প্রতিপক্ষ চোটগ্রস্থ, আপনি ধড়াচুড়ো পরে রয়েছেন, প্যাড গ্লাভস হেলমেড এ্যাবডোমেন গার্ড সব রয়েছে। বাউন্ডারির বাইরে সাজঘরে দেওয়ালে আপনার সোনালী অতীতের দেওয়ালচিত্রের নিচে বসে থাকা বাঘা বাঘা এ্যানালিস্ট, কোচ, ট্রেনার, ব্রডকাস্টার সবাই প্রস্তুত। কিন্তু ‘লাইন’ মিস করে আপনি আত্মাহুতি দিলে, এই ম্যাচে আপনার কোনো সুযোগ নেই, এই যাত্রাতেও আপনার নামের পাশে ‘আর্যভট্ট’ই লেখা থাকবে।
আমাদের নীতি, আমাদের প্রয়োজনে সেটার মাপকাঠি আমরা ঠিক করব প্রতিবার, বারংবার। এটা জোর দিয়ে বলতে কুন্ঠা কীসের?
কে গেল কিম্বা আর কে কে যাবে, ও সব ভবিতব্যের উপরে ছেড়ে দিন। যারা যাবার তারা ইতিমধ্যেই মানসিকভাবে চলে গেছে, ধরে বেঁধে রাখলে সেটাতে বড়জোর কিছুদিন লাশটা থাকবে, উল্টে আরও বেশী অন্তর্ঘাতের সুযোগ পেয়ে যাবে তাদের শয়তানি মস্তিষ্ক। গু খাওয়া গরুকে আপনি বেশিদিন ঘাস বিচালি খাওয়াতে পারবেন না, সে দড়ি ছিঁড়ে হলেও গু খেতে পালাবে। তৃণমূল চাইছে অপ্রয়োজনীয় ইস্যুতে বামেদের ফোকাস টলে যাক, তাই চুরির দায়ে জেলখাটা তাদের মূর্খপাত্র নীতি নৈতিকতার জ্ঞান দিচ্ছে, তাবড় মিডিয়াকুলও ঠেকা নিয়ে রেখেছে- কতটা হেলে গেলে বামেদের ‘নৈতিকতা’ কতটা টোল খাবে ইত্যাদি, যেন তাদেরকে নৈতিকতার চ্যুতির ঠিকেদারি দেওয়া আছে। সতীদাহ প্রথায় যেমন মৃতের স্ত্রীদের জ্যান্ত চিতায় জ্বালিয়ে দেওয়া হতো ধর্মীয় আদর্শের কথা বলে, একই ভাবে নীতি আদর্শের নামে বামকে শূন্যতেই রেখে দেওয়ার পবিত্র কর্তব্যে নিয়োজিত এই দালাল মিডিয়া ও বিশ্বমাচাদো বুদ্ধিজীবিরা।
আপনারা দ্রুত স্থির করুন করুন- আপনাদের ফোকাস ঠিক কীসে থাকবে আর কোন ‘লাইন’, কোন ন্যারেটিভ আপনাদের প্রচারে গুরুত্ব পাবে। আপনারা ঠিক করুন কোনটা আপনাদের নীতি আর কোনটা আপনাদের আদর্শ। আপনারা যেটাতে সীলমোহর দেবেন, সেটাই সঠিক- মিডিয়ার ঠিক করে দেওয়া পথে হেঁটে সম্ভাবনাকে ভুঁইয়ে মুড়িয়ে রাখার মাঝে আদর্শ নীতি নৈতিকতা বেঁচে থাকবে না। আদর্শ আর নীতি কপচিয়ে সতী হয়ে চিতায় উঠলে, বিপুল কর্মী সমর্থকেরা আপনাদের সাথে সহমরণে যাবে, অনাথ হবে শ্রেণি গরিবগুর্বের দল। মিডিয়া আবার তার রমনের সাথী খুঁজে নেবে আপনাকে চিতায় পাঠিয়ে।
দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে সেই মতো প্রচার শুরু করে দিন, হাতে সময় নেই আর।







