শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

বাংলাদেশের বিশ্বমাচাদো মেধাবীকুল ও নির্বাচনী ফলাফল


 অথঃ মেধাবী কাহন


জামাতের মেধাবী বিশ্বমাচাদো আমির পিনাকী ভট্টাচার্য ওরফে ফজা মিঞা- ইন্ডিয়া বিরোধী জিকির করতে করতে আক্ষরিক অর্থেই মন্ত্রীসভাই গঠন করে দিয়েছিলো। যার ওষুধের কারবারি তথা শিশু হত্যাকারী এই ক্রিমিনালটা পালটি খেতে উস্তাদ, শীঘ্রই প্যারিস থেকে 'ইন্ডিয়া আমার আব্বা' জিকির শুরু করবে। তার ভিউ ব্যাবসার গনেশ উল্টিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশের জনগণ।

ভোটটা হয়েছে এ্যান্টি ইন্ডিয়া প্রোপাগাণ্ডার বিরুদ্ধে। যারা এসেছে তারাই উত্তম সেটা বলার সময় আসেনি, কিন্তু ঘোষিত উন্মাদগুলোর গালে সপাটে থাপ্পড় এই রায়। গাঁজা খোর গেঞ্জিদের বাপ, ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে পাবলিক ক্ষেপানোর মাস্টারমাইন্ড এই পিনাকী, ইলিয়াস, কণকেরা। সাথে তাদের মহান ষাঁড় উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। সস্তার ভারতীয় পন্য, সস্তার সু চিকিৎসা, রপ্তানি মালের ট্রাঞ্জিট আর সস্তার ভ্রমণ- ইন্ডিয়া না আসতে পারার দরুন যারা এগুলো থেকে বঞ্চিত, তারা জবাব দিয়েছে ভোটে। 

যারা জানেনা জামাত কারা, তাদের জন্য- আমাদের RSS নামক নিকৃষ্ট হায়নার বাংলাদেশী ভার্সন হলো জামাত, দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে এদের অবদান জিরো। বরং এরা বিশ্বাসঘাতকতা করে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের ধরিয়ে দিতো।

এই ভোটে বিশ্বাসঘাতক রাজাকারের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে বাংলাদেশের মানুষ। তাদের ভন্ডামি, ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে প্রোপাগাণ্ডার ফলে যারা ক্ষতিগ্রস্ত- তারা জামাতকে আর তাদের নাবালক উপদেষ্টা সমন্বায়কদের পিছনে লাথ মেরেছে। হাসিনার প্রভাব বর্তমানে জিরো, তাকে অধিকাংশই ঘেন্না করে তার মাৎসন্যায় শাসনকালের জন্য। কিন্তু আওয়ামীলীগের প্রভাব আছে ভীষণ ভাবে। মুজিবের প্রভাব আছে মারাত্মক, মুক্তিযুদ্ধের প্রভাব আছে।

হিরোসিমার পরমাণু বোমা হামলার ক্ষয়ক্ষতির রেশ পরবর্তী  দুই দশকেই অনেকটা পুনরুদ্ধার করতে পেরেছিলো জাপান। কিন্তু পাকিস্তানি সেনার বীর্য হামলা,পরমাণু বোমার চেয়েও ধ্বংসাত্মক। পাঁচ দশক পরেও লাহোরের ঔরসজাত বাপের সন্তানদের পিতৃতর্পনে সে কী আকুলতা। পাকিস্তানের এই নাপাক জারজদের থেকে আশু মুক্তি নেই বাংলাদেশের। 

বাংলাদেশে গত ১৭ মাসের নাবালকেরা এখনও নির্বাচনে জয় পরাজয় নিয়ে মেতে রয়েছে। তারা বুঝছে না যে দ্রুতই সব বদলে যাবে। নতুন সরকার গঠিত হলেই এদের বিরুদ্ধে মামলা হবে। কাটা ছাগলের মত লটকে দিয়ে এদের ছাল ছাড়াবে নতুন সরকার। আত্মসমালোচনা করার সুযোগ পায়নি এরা, করতেও চায়নি। বরং তাদের ঘোর কাটেনি আজ পর্যন্ত, ফলে আদিখ্যেতা কমেনি। ভুল বা ঠিকের জাইগা কোথায়, কোন কোন জায়গায় সংস্কার করতে হয়, কতটা করা যেতো- আর কী পারলোনা, এসবের দিক থেকে এরা প্রথম ৩ মাসের সরে এসে, পরবর্তী ১৪ মাস গুছিয়ে চুরি চামারি করেছে। ইউনুস ও তার বিদেশী নাগরিক রাঘব বোয়াল সাঙ্গোপাঙ্গরা পালাবে, তাদের ধরতেই পারবেনা, ধরলেও বিদেশী নাগরিক বিধায় ছেড়ে দিতে বাধ্য হবে নতুন সরকার। 

জেলেহাজতে থাকা অনেক আওয়ামী নেতা যেমন মুক্তি পাবে নিঃশব্দে, তেননই গৃহহীন হয়ে বেদুইনদের মত দেশের বিভিন্নপ্রান্তে, মিয়ানমার, নেপাল বা ভারতে গা ঢাকা দিয়ে আছে যারা, তারাও দেশে ফিরবে। সমন্বায়ক ও তাদের চামচাদের একটা বড় অংশ আগামী ৫/৭ বছরের জন্য জেলে ঢুকে যাবে। কেউ কেউ পালিয়ে বিদেশ চলে যাবে, যে  পালিয়ে বা জেলে যাবে - সে বেঁচে থাকবে, যারা এ দুটোর কোনটাই পারবেনা - তারা গুম খুন হয়ে যেতে পারে। বলির পাঁঠা যেমন কাঁঠাল পাতা চেবায় নিশ্চিন্তে, এরাও এদের বিপদ টেরই পাচ্ছেনা। বাংলাদেশী সাধারণ মানুষ তার নিজের সমস্যা তো বুঝতে পারছে, ফেসবুকে ইন্ডিয়াকে রেন্ডিয়া বললে আত্মসুখ পাওয়া যাচ্ছে, কিন্তু ৩০০ টাকা কেজি পেঁয়াজ খেতে পেছন ফেটে যাচ্ছে। বিনা চিকিৎসায় কষ্ট পেয়ে মৃত্যু শয্যায় রেনডিয়া বললে উপসম মিলিছেনা। 

আমাদের RSS এর কোনো হিরো নেই, আছে মুচলেকা সাভারকর, তাই তারা কখনও নেতাজি কখনও বল্লভভাই প্যাটেলকে নিজেদের বলে প্রচার করে জবরদস্তি। জামাত বা গেঞ্জিদেরও তেমন কোনো নেতা ছিলোনা। তাই তারা ভোটের আগে একটা 'শহীদ' নেতা খুঁজছিলো। উসমান হাদি তেমনই এক হতভাগ্য মানুষ। হাদি রাষ্ট্র নির্মিত জবরদস্তি চরিত্র, সে তার জীবন বা দর্শনের কারনে মহাপুরুষ হয়নি। তাকে বানানো হয়েছে নির্দিষ্ট স্বার্থান্বেষী কায়েমি গোষ্ঠীর কর্ম সম্পাদনের জন্য- পরিকল্পনা মাফিক খুন করা হয়েছিল তাকে। সেই নিয়ে গেঞ্জিদের সে কী আবেগের বিস্ফোরণ। 

পিনাকীকে জামাতের আমির বানিয়ে দেওয়া হোক, এটা সময়ের দাবী। একজন ভট্টাচার্য ব্রাহ্মণ ইসলামি জামাতের আমির, এর চেয়ে সেকুলার আর কিছু হতে পারে কি? তবে জামাতের ভোটের পার্সেন্টেজ কিন্তু ভয় ধরানো, খুব বেশী মার্জিনে তারা হারেনি অধিকাংশ কেন্দ্রে। ভোট পরবর্তী হিংসায় তারা সোৎসাহে উস্কানি দিয়েই যাবে। কেউ ডাক্তার হতে যায়, কেউ উকিল, কেউ শিক্ষক তো কেউ শুধুই সুস্থ মানুষ হতে চায়। তেমনই কেউ মহামুর্খ গান্ডু হতে চাইলে তাতেও দোষ নেই। বাংলাদেশের অশিক্ষিত অন্ধ ছাত্র যুব- 'দিল্লি না ঢাকা' এই অলীক স্লোগানে, অসম মিথ্যা ছায়াযুদ্ধে নিজেদের নিরেট দিশাহীন আকাট মুর্খ হিসাবে প্রমান করেছে বা প্রতিষ্ঠা করেছে।

শহর হোক বা গ্রামাঞ্চল, যেখানে তথাকথিত অশিক্ষিত ও ধর্মীয় মুসলমানের বাস, যারা আসলেই নামাজ রোজাটা পালন করে নিয়ম করে, তারাই জামাতকে ছুঁড়ে ফেলেছে। উল্টে সিংহভাগ হিন্দু জনগণ জামাতকে ভোট দিয়েছে কারণ ২০২৪ এর জুলাই মাসে মেধাবীদের উন্মত্ত সময়ে হাসিনা পালিয়ে গেলে, পুলিশ এবং প্রশাসন ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছিলো। সে সময় জামাত এদের নিরাপত্তা দিয়েছিল, হিন্দু জনগণ সেটার প্রতিদান দিয়েছে। তবে আগামীতে এই হিন্দু ভোট জামাতের থেকে কেটে যাবে। 

গেঞ্জি, মানে এনসিপি নেতারা হলো কু'ত্তার বাচ্চার মতো। হওয়ার সময় ছিলো অনেক গুলো, সবাই ফুটফুটে কিউট। ভোটের পর কয়েকটা ঘেঁয়ো লাথখোরই বেঁচে আছে। নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী নামের একটা ভাঁড়, রীতিমতো সার্কাসের বাঁদরের মত মনোরঞ্জন জোগাচ্ছিল সোশাল মিডিয়া নেটিজেনদের। এগুলো প্রত্যেকটা ইঞ্জেকশন ছাড়া র‍্যাবিস ভাইরাস যুক্ত ঘেউ, কামড়ালেই জলাতঙ্ক থুরি ইন্ডিয়াতঙ্ক গ্যারান্টি

ধর্মীয় মেরুকরনের মুখে প্রস্রাব করে দিয়েছে এই ভোট। আমরা ভারতীয় হিসাবে সুস্থ প্রতিবেশীর সুষ্ঠু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের আশা করব নতুন বাংলাদেশী সরকারের কাছে। গত ২ বছরের ভারত বিরোধী সার্কাসের পুণঃমঞ্চায়ন হলে- এই সরকারকেও পথে বসতে হবে নাবালক গেঞ্জি গুলোর মতই। ইতিহাস ছাড় দেয় কিন্তু ছেড়ে দেয় না। 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

তৃণমূলের প্ররোচনার ফাঁদে পা দেবেন না

⛔ সতর্কতামূলক পোষ্ট ⛔ আজ SIR এর ভোটারলিষ্ট বার হবার পর- জনরোষের দোহায় দিয়ে দিকে দিকে ‘সংগঠিত অশান্তি’ লাগাবার ‘ফুল প্ল্যান’ নিয়ে এগোচ্ছে শাা...