SIR ইস্যুতে তোলামূল বিভিন্নভাবে খোঁচাবার চেষ্টা করেছে, বিশেষ করে মুসলমান পাড়াতে। সেই ২০২১ এর মতই এটা NRC ই হতে চলছে, নামটা শুধু আলাদা। এই যে তোমার শুনানিতে তোমার ডাক পড়েছে - একবার উপস্থিত হও, তাহলেই বুঝতে পারবে যে আইবুড়ো ভাতের মত শেষ বার তুমি ভারতীয় হিসেবে ভাত খাচ্ছ, তারপর সোজা NRC ক্যাম্প। মানেটা দাঁড়ালো কী! তোলামূল ও তাদের মগজ i-Pac বারবার খোঁচাখুঁচি করে বাইরে থেকে অক্সিজেন সাপ্লাই করার চেষ্টা করেছে ‘ভয়ের ভাটিতে’, কিন্তু মেটেরিয়াল এর মধ্যে উপযুক্ত পরিমাণ ‘কার্বন’ নেই বলে, হাজার অপচেষ্টা সত্বেও বাংলার বুকে অশান্তির আগুন জ্বালাতে পারেনি তোলামূল সুপ্রিমো।
গতকাল সুপ্রিমকোর্টে মান্নীয়া ও তাঁর দলবল, একগাদা মিথ্যার মাঝখানেও স্বীকার করে নিয়েছে- SIR এ তাদের কোন আপত্তি নেই, শুধু সেটা যেন ২০২৬ ভোটের পরে হয়। সাধারণ মানুষের জন্য মান্নীয়া দিল্লী যায় নি, কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন- যেন ২০২৪ এর ভোটার লিস্ট ধরে ছাপ্পাটা মারা যায় এটা নিশ্চিত করতে।
মান্নীয়া নিজে দুর্নীতির গু এর ট্যাঙ্কে ডুবে রয়েছেন আপাদমস্তক। ওয়াকফ সম্পত্তির কেসে মাত্র পাঁচ দিন আগে সরকার থেকে নোটিশ দিয়ে সমস্ত সম্পত্তি আপলোড করতে বলার দরুন, মুসলমান সম্প্রদায়ের বিপুল সম্পত্তি জেলাশাসকের নামে আপলোড হয়ে গেছে। OBC কে দু ভাগে ভাগ করে দিয়ে এবং বড় অংশের উচ্চবর্ণের হিন্দুকে এর সাথে জুড়ে দিয়ে রাজ্যজুড়ে মুসলমানের যেটুকু সুবিধা ছিল তাকে কেড়ে নেয়া গেছে। দুই ক্ষেত্রেই মুসলমানকে পথে বসাতে পেরেছেন RSS এর নেত্রী মান্নীয়া ব্যানার্জী। পাশাপাশি RSS এজেন্ডা রূপায়নে, দীঘার মন্দির সহ সারা পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে মন্দিরের বন্যা বইয়ের দেবার একটা প্রকল্প চলছে, একই সাথে ইসকনকে বিপুল সরকারী জমি বিনামূল্যে দান করা হয়েছে, উপরের তিনটেই হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির অংশ, যা RSS চায়। এর পরেও দুধেলগাই এর দল কিন্তু মান্নীয়াকে ভোট দেয়।
SIR এর খসড়া তালিকায় নাম তোলার ক্ষেত্রে, ইচ্ছাকৃত ভুলভাল করে তোলামূল BLA এর দল, মুসলমানকে রীতিমতো পথে বসিয়ে দেওয়ার চক্রান্ত করেছিলো। ভুল হয়েছে বলেই নির্বাচন কমিশন ডাকতে বাধ্য হয়েছে, যদিও অধিকাংশ ষড়যন্ত্রের ফাঁদ থেকে বেরিয়ে আসার ব্যাপারে যা কিছু প্রচেষ্টা, তা মুসলমান সমাজ নিজের চেষ্টাতে করছে, যা আগে থাকতে প্রস্তুতি নেবার ফলাফল। এদেশীয় মুসলমানের নাম কাটার ক্ষেত্রে এক নম্বরে বিজেপি থাকলে, দু'নম্বরে অবশ্যই তোলামূল কংগ্রেস।
SIR শুরুর সময় থেকে মান্নীয়া রাস্তায় নেমে নাটক করেছিল, জনগণ ওনাকে গুন্তিতে নেয়নি, নাটক ফ্লপ হয়ে যায়। এরপর যেকোনো মৃত্যুকে SIR এর সাথে ম্যাপিং করার মরিয়া প্রচেষ্টাও জনগণ খায়নি। তোলামূলের ভাতাজীবী খোঁচর জিম নওয়াজ কোর্টে মামলা করেছিলো, কেউ জানেনা তার স্ট্যাটাস কি, মাননীয়াও সেই মামলার পার্টি হয়নি। সিদ্দিকুল্লার রাজভবন অভিযানের খবর পাড়ার নেড়িকুত্তা গুলোও টের পায়নি। পাঁচালীর গাড়ি থেকে ফেরি করা ভয়ে মানুষ অভ্যস্ত হয়ে গেছে, অকেজো অস্ত্র। শুনানির প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে, যাকে ডেকেছে, তার ‘আপনা হাত জগন্নাথ’, নিজেকে সেই বিপদ থেকে উদ্ধার পেতে হয়েছে, তোলামূলের কোনো প্রতিশ্রুতি কাজে আসেনি।
মরিয়া ভাইপোর নির্বাচন কমিশনের পায়ে ধরতে যাওয়াটাও এই ক্রনোলজিতেই পড়ে; বাইরে এসে হম্বিতম্বি না করলে তাকে কেউ পালোয়ান বলবে কেন! আসলে পিসির ফেউ হিসেবে নির্বাচন কমিশনারকে কোনভাবে ম্যানেজ করা যায় কিনা সেটা পরখ করতে গিয়েছিলো। পাশাপাশি ভাইপো ইম্মিডিয়েট ভোট ঘোষণা করে দেওয়ার দাবীও জানিয়েছিল, যাতে DA মামলার মুখোমুখি না হতে হয়। কিন্তু জ্ঞানেশ গুপ্তা আগেই বিজেপির হারেমের মক্ষীরানি, তোলামুলের ভাইপোর সাথে নষ্ট হতে সে রাজি হয়নি বাঁধাবাবু ছেড়ে। গুপ্তা মালও বাস্তুঘুঘু, SIR এ গোটা দেশের জন্য এক আইন আর পশ্চিমবঙ্গের জন্য আলাদা আইন করা তার পক্ষে সম্ভব হয়নি।
এদিকে আইপ্যাক (i-Pac) বলে দিয়েছে ২০২৪ সালের ভুয়া ভোটার তালিকা ছাড়া তোলামূলকে কোনমতেই পাশ করানো যাবে না। এই কারনেই মান্নীয়া কোর্টের কাছে গিয়েছে যাতে নির্বাচনটা ২০২৪ সালে ভোটার লিষ্ট ধরে করা হয় সেই অপচেষ্টা করতে, কারন SIR এর ফলে অন্তত ৯৩টা এমন কেন্দ্র রয়েছে, যেখানে বাদ যাওয়া ভোটারের চেয়ে তৃনমূলের জেতার মার্জিন কম। তাই ভুয়ো, মৃত, অবৈধ ও ভুতুরে ভোটার ছাড়া মান্নীয়ার চোরবাহিনী কোনোভাবেই ২৬শে ক্ষমতায় ফিরতে পারবেনা। তাই তার প্রতিটা অস্ত্রকে রাস্তায় নামিয়ে ‘বিরোধী’ মোডে নিয়ে গেছে নিজেকে, যাতে পুরাতন ভোটার লিষ্ট বাতিল না হয়। পাশাপাশি খানিকটা কোরামিন দেওয়া যায় তোলামূলের তোলাবাহিনী কর্মী ও ভাতাজীবী গুলোকে। এই কারনেই মিডিয়াজুড়ে শুধু মান্নীয়ারই জয়জয়কার, যেন দিগ্বিজয় করে ফিরেছেন, এমন মিথ্যাবলয় তৈরি করা হয়েছে তাদের নিজেদের আত্মবিশ্বাসের অভাব ঢাকতে, কারন দেওয়াল লিখন স্পষ্ট।
পশ্চিমবঙ্গের প্রায় প্রতিটা BLO, তোলামূলের BLA দের দ্বারা সত্যি সত্যি বীভৎস চাপের মধ্যে ছিলেন। শেষমেষ ভাবটা এমন যে, আমি কেন ঝামেলা পোয়াবো, আমাকে তো এদের সঙ্গেই থাকতে হবে সারাবছর। এই ছোট্ট নীতিতে অবলম্বন করে যার নাম যে অবস্থায় এসেছে, সেই অবস্থাতেই BLO আপলোড করে দিয়েছিলো। যারা ডেটা এন্ট্রি অপারেটর হিসাবে কাজ করেছে, তারাও i-Pac এর কড়া নজরদারিতে তোলামূলের ইচ্ছানুযায়ী এই ভুলগুলো করেছে, যাতে গতকাল আদালতের ওই কূনাট্য মঞ্চস্থ করা যায়।
শেষ ১ মাস যাবত ধরে হওয়া হেয়ারিং এ ডাক পাওয়া মানুষের জিজ্ঞাসাবাদ করাটাকে, রাজনৈতিক লাভের উদ্দেশে সবার আগে তোলামূল ‘হয়রানি’র নাম দিয়েছে। বিজেপির নাম ইচ্ছা করে নেওয়া হলো না, তার কারণ পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি বলে কোন রাজনৈতিক দলই নেই, তাদের অস্তিত্ব শুধুমাত্র টিভি, অন্যান্য মিডিয়া ও হাওয়াতে। তাদের ভোটব্যাঙ্ক সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রিত হয় তোলামূল তথা i-Pac দ্বারা যারা নাগপুরের সংবিধান অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলে। আপাতত i-Pac, এই SIR শুনানি পর্বে বিজেপিকে গণশত্রুতে পরিণত করে দিয়ে খসড়া তালিকা প্রকাশের পর রাজ্যের যে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ছিল তা খানিকটা ঘোলাটে করে দিতে সক্ষম হয়েছে। এপস্টিন ফাইলে নাম উঠে যাবার পরও যে নির্লজ্জ ব্যক্তি পদ আঁকড়ে বসে থাকে, তার পক্ষে গোটা দেশের কোন দুর্নীতি বিরুদ্ধে বলা সম্ভব নয়।
হেয়ারিং পর্বের শুরুতে BLO কেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল ডকুমেন্ট ভেরিফাই করে আপলোড করার জন্য, একটি বড় অংশের BLO অথবা তাদের নিয়ন্ত্রক i-Pac পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে পেরে, ডকুমেন্ট ভেরিফাই করে আপলোড করার পরিবর্তে শুধুমাত্র ডকুমেন্ট ভেরিফাই বা সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে লিখে দেয়- যা মেশিন কোনোমতেই মানেনি। ফলত পাইকারি হারে শুনানিতে ডাক পড়েছে।
শুনানি থেকে ফেরত আসা প্রতিটা ব্যক্তি বুঝে গেছে যে, ওখানে কোন জুজু বুড়ি নেই। যতটা ডকুমেন্ট নিয়ে গেছে বিশেষ করে মুসলমান, তাতে তার মনে অন্তত এইটুকু বিশ্বাস জন্মেছে যে তার নাগরিকত্ব যাবেনা। ৩০ লাখ আন-ম্যাপিং ব্যক্তির মধ্যে যাদের নাম থাকবে না, তারা নিজেরাই বুঝে গেছে। একদম রঘু ডাকাত মালগুলো, যারা সংখ্যাতে প্রায় তিন লাখ, তারা নিজে থেকে আসেনি। যারা চুরি করে ম্যাপিং করেছিলো, তাদের মধ্যেও একটা বড় অংশ যে নাম রাখতে পারবে না সেটাও বুঝে গেছে। ১৩টা ডকুমেন্টের বদলে যারা উল্টোপাল্টা ডকুমেন্টস জমা করেছে হেয়ারিং এ, তাদের নামও ফাইনাল তালিকাতে থাকবেনা, লিখে নিন। পদবীর বানান ভুল, মধ্যম নাম থাকা বা না থাকা, আধার-ভোটার নামের মিসম্যাচ ও পিতা-পুত্রের নামের মিসম্যাচ- এই ক্যাটাগরি কটা ছাড়া বাকি যাদের ডাকা হয়েছে তারাও বেশিরভাগ নাম রাখতে পারবে না। মিসম্যাচ ক্যাটাগরিতে যে ৮৫ লাখকে ডাকা হয়েছে, তাদেরও কমপক্ষে ১০% এর নাম কাটা যাবেই, সেখানেও বিরাট একটা জুয়াচুরি রয়েছে ভুয়ো ভোটারদের।
তোলামূল সরকারের পে-রোলে থাকা তথাকথিত ‘ল্যে-ম্যান’, ‘কন্টেন্ট ক্রিয়েটর’ কিম্বা ‘অরাজনৈতিক কিন্তু দিদিকে ভালো লাগে’- এমন সোশ্যাল ইনফ্লুয়েন্সারেরা শুনানিতে ডাক পাওয়া মাত্র প্রথমে রাউন্ডে ফুটেজ খেয়ে নিতে কসুর করেনি। সমাজ তাকে মেনে নিক বা না নিক, তোলামূল/I-Pac থেকে আসা ভাতা বন্ধ হয়ে যাবার ভয় ছিলো রিলমারানীদের। অতএব সবার আগে নিজের হেয়ারিং ডকুমেন্ট এর ছবি সোস্যাল মিডিয়াতে আপলোড করে খানিকটা হেগে ফেলো, ভাইপোদাকে ট্যাগ করে। বাইচান্স মিনি সেলিব্রিটি হয়ে গেলে লাইভে এসে নিজের বংশের প্রাচীনত্ব প্রমাণ করার জন্য মেসোপটেমিয়া হরপ্পা মহেঞ্জোদারো যুগ থেকে বক্তব্য শুরু করে, যতটা পারা যায় ততটা লম্বা হ্যাজ নামানো। শেষ একমাসে চুম্বকে এটাই ছিলো রিলমারানীদের রোজনামচা।
মানুষের নাগরিকত্ব বিশাল বড় গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা, অতএব নির্বাচনকে শিয়রে রেখে এখনই এই কাজ করতে হবে, যাতে গত সরকারের পাঁচ বছরের প্রতিশ্রুতি এবং তা রূপায়ন নিয়ে কোন কিছু প্রশ্ন করা বা আলোচনার অবকাশ না থাকে জনগণের কাছে। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এমনই একটা পরিবেশ তৈরি করার অপচেষ্টা করা হয়েছিলো, এটা দিনের আলোর মতো পরিষ্কার হয়ে গেছে আজ। পাতি বাংলাতে, SIR কে সামনে রেখে জনগণকে আতঙ্কিত করে অতীতের যাবতীয় অপকর্ম চাপা দেওয়া এবং সেই ফাঁকতালে ক্ষমতায় আসার চেষ্টা চালাচ্ছে দিল্লি বিজেপি।
নির্বাচন তালিকা পরিষ্কার হোক এবং এর মাধ্যমে সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক উপায়ে একটি সত্যি কারের জনগণের সরকার ক্ষমতায় আসুক- এই দাবি সবার আগে তুলেছে বামেরা এবং তাদের এই দাবির সাথে সহমত পোষন করেছে রাজ্যের বেশিরভাগ সুস্থ মানুষ। একই সাথে, SIR এর নামে জনগণের হয়রানি, মানসিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে, নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে সর্বপ্রথম যারা আদালতের দারস্থ হয়েছিলো, সেই মুস্তারি বানু ও তার আইনজীবি সব্যসাচী চ্যাটার্জির রাজনৈতিক পরিচয় যে হার্ডকোর সিপিএম- সেটা জৈষ্ঠের সূর্যের মতই প্রকাশিত।
তারপরেও তোলামূলের সুরে সুর মিলিয়ে বামেরা এরকম মিনমিনে দিশেহারা পরিস্থিতিতে পড়েছে কেন, ভাবলে অবাক হচ্ছি। দোষটা যে কেন্দ্রের শাসক বিজেপি, তাদের নিয়ন্ত্রক নির্বাচন কমিশন, রাজ্যের শাসক তোলামূল, তাদের বুদ্ধিদাতা সংস্থা i-Pac এর। এদের পরিচালিত একটা বড় অংশের সাদা খাতার BLO, তোলামূলের BLA আর তাদের নিয়ন্ত্রিত ডেটা সেন্টার- এই সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল এই নৈরাজ্যের পরিস্থিতি, এটা পরিষ্কার করে মানুষের সামনে বলতে অসুবিধাটা কোথায়? আলিমুদ্দিন এমন ‘মিলে সুর মেরা তুমহারা’ রিংটোনে কথা বললে, রাজ্যের সভ্য ভদ্র শিক্ষিত ও গরিব মুসলমান- এইরকম দুঃসহ অবস্থাতে তোলামূলকে ছেড়ে যাবে কোথায়?
গতকাল মান্নীয়ার কোর্টেরুম সার্কাসের পর আজকে আলিমুদ্দিন স্বাভাবিকভাবেই প্রকাশ করতে চেয়েছে যে- আসল মামলাকারী আমাদেরই পার্টির মোস্তারি বানু। উদ্দেশ্য মহৎ সন্দেহ নেই, কিন্তু আজকের এই সভাতে মোস্তারি বানুকে আনা যেতোনা, ফোন কলের বদলে? ওনার যে বাস্তব সমস্যা, সেটার ‘রাজনৈতিক এ্যানক্যাশ’ করার চেষ্টায় আরেকটু যত্নবাণ হওয়া যেতো না কি? মন্দের ভালো এটাই যে- ২৪ ঘন্টার মধ্যেই সাংবাদিক সম্মেলন করতে পেরেছেন, এটাও কম অগ্রগতি নয়।
তোলামূলের এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে যদি সিদ্ধান্তহীনতার নামে আলিমুদ্দিনের আঁধার ঘনিয়ে থাকে; তোলামুলের থেকে ভাগাখোর মিডিয়া যদি এক হুমায়ূন অস্ত্রেই গোটা বাম শিবিরকে পক্ষাঘাত করিয়ে রেখে দেয়, এর চেয়ে বড় অপদার্থতায় আর কিছু হতে পারেনা। আমাদের খেলাটা আমাদের নিয়মেই হবে তো, আমরাই প্লেয়ার বাছব, আমরাই শুরু আর শেষের বাঁশি বাজাবো। এখানে কী হচ্ছে? তোলামূল ও তাদের পেটোয়া মিডিয়া, সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবীরা হুমায়ূনের সাথে মিটিং নৈতিকতা প্রশ্নেই আলিমুদ্দিনকে আবার কাছিমের মত খোলসের মাঝে নিজেকে ঢুকিয়ে দিয়েছে, এভাবে মানুষ ভরষা করে ভোট দেবে শুধু গাল ভরা ফাঁপা বুলি শুনে?
প্রতিবারের মত এবারও ‘ভয়’ নামের কুমিরছানাকে দেখিয়ে যদি তোলামূল
ভোটের বৈতরণী পার করে যায়, তাহলে পশ্চিমবঙ্গের জন্য এর চেয়ে
দুর্ভাগ্যের আর কিছু হবে না।


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন