বঙ্গ রাজনীতি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
বঙ্গ রাজনীতি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬

ফেসবুকীয় সিপিএমঃ ফিউজড আইনগাইডেড কামিকাজে ড্রোন

 


ফেসবুকের ‘সিপিএম’ নামক এই চুড়ান্ত আঁতেল ও প্রায় সর্বজ্ঞ গোষ্ঠীটার পূর্ণ বোধোদয় বা পূর্ণ বিনাশ না ঘটা অবধি রাজ্যের বাম নেতৃত্বের খুব বেশী আশাবাদী হয়ে লাভ নেই আসন্ন নির্বাচনে। একটা নেহাৎ উদগান্ডু সম্প্রদায় এরা, পুঁথিগত শিক্ষাদীক্ষা কমবেশি সকলের থাকলেও বাস্তব বোধের দিক থেকে ও বোধবুদ্ধিতে এরা গাঁড়লদের চেয়ে সামান্য নিচুতে ও দাড়িওয়ালা ছাগল তথা পাঁঠার চেয়ে সামান্য উচ্চ মর্যাদার। এরা মূলত মধ্যবিত্ত সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি, যারা যুগে যুগে দেশ কাল সীমানার গন্ডি পেরিয়ে ভীরু ধান্দাবাজ লোভী ও পলায়নপর কাপুরুষ মানসিকতার জন্য সুপরিচিত।

তোলামূল বা বিজেপির সাথে অহেতুক তুলনা টেনে লাভ নেই, তোলামুল মানেই চোর বা স্বীকৃত সমাজবিরোধী। বিজেপি মানে মগজহীন কিছু ধর্মান্ধ অশিক্ষিত বর্বর অন্ধভক্ত, এদের চরিত্র নিয়ে সাম্প্রতিক অতীতে একটা রিসার্চ পেপার পাবলিস করেছিলাম, 'ভক্ত' নামে; টাইমলাইন ঘেঁটে দেখে নিতেই পারেন। এই দুই দলের একটা বড় গুণের কথা উল্লেখ না করলেই নয়, সেটা হলো যে- শিক্ষা দীক্ষার বিষয়ে এরা কোনো দাবী বা তর্কে যায়না, সততার বিষয়েও নূন্যতম বিজ্ঞাপন করেনা নিজেদের ও তাদের দলের বিষয়ে। এরা সকলেই জানে এদের নেতারা প্রত্যেকেই দুশ্চরিত্র, তোলাবাজ, কাটমানি খোর, মিথ্যাবাদী, লম্পট, সাম্প্রদায়িক লুম্পেন, এবং যে কোনোদিন দল পালটে অন্য দলে চলে যেতে পারে; এদের কোনো কর্মী সমর্থক আঁতলামো করেনা বা ভাবের ঘরে চুরি করেনা অতএব এই দুই দলের কর্মী সমর্থক জাত-কুল নিয়ে আলোচনাই চলেনা। 

👉 অনেকগুলো ছাগল একসঙ্গে একটা মঞ্চে কোনো নেতার পিছনে দাঁড়ালে, একগাদা ছাগল মিলে যদি কোনো সোস্যালমিডিয়া পেজ চালায় ও সেটাকে ফলো করে, একটা ছাগলের দল যদি কোনো হোয়াটস্যাপ বা ফেসবুক গ্রুপ খুলে বসে, চোখ বন্ধ করে নিশ্চিতভাবে জানবেন পেজ/গ্রুপটা সিপিএমের সমর্থকদের দ্বারা পরিচালিত। এদের মূল দাবী এরা সৎ ও শিক্ষিত সম্প্রদায়। 

 

✅ ছাগলের আবার সৎ আর অসৎ, আপনি পৃথিবীতে কোনো একটা দেশ থেকে একটা অসৎ ছাগল খুঁজে এনে দেখান! আইপ্যাক বা আঁটিসেল গত ১৫ বছরে যা করতে পারেনি কাড়ি কাড়ি অর্থ খরচা করে, এই অবৈতনিক স্বেচ্ছাসেবকের দল দলবেঁধে আক্রমণ করা বা প্রোপ্যাগান্ডা ছড়ানোতে বাকি সকলের চেয়ে কয়েক আলোকবর্ষ এগিয়ে। ক্যাপ্টেন আমেরিকার মত দেশ ও জাতি রক্ষার ভার একা হারকিউলিস হয়ে এরা সমস্ত বিরোধ বিক্ষোভ প্রদর্শনের দায় নিজেদের ঘাড়ে তুলে নিয়েছে। কিন্তু ওই- ফিউজ হয়ে যাওয়ার আনগাউইডেড কামিকাজি আত্মঘাতী ড্রোনের মত। শত্রুকে আক্রমণ করার পরিবর্তে নিজের ভূমেই ছারখার করে দিয়ে নিজেরা ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে। 

এরা মূলত কি করে? 

✊ এরা মূলত খিল্লি করে, কাকে খিল্লি করছে সেটা বড় বিষয় নয়, রোজ কোনো না কোনো একটা সাবজেক্ট বেছে নিলেই হয়। তাতে সেই ব্যাক্তি বা দলের নেগেটিভ প্রচারটা হচ্ছে কিনা- সে সব ভাবা নেহাৎ বাজে সময় খর্চা। জীবন পন করে ট্রোল করার মাঝেই বিপ্লবের যজ্ঞে এরা ঘৃতাহুতি দিয়ে, চে এবং লেনিনের আত্মার প্রতি তর্পন করে। 

✊ দ্বিতীয়ত, এরা রোজ খাপ পঞ্চায়েত বসায়, SS চালাচালি করে এবং দ্রিঘাংচুর মত মাঝে মাঝে গম্ভীর ভাবে কেউ একজন ‘কঃ’ বলে ডেকে উঠলে, বাকিরা মাথা চুলকে টাকের ছালচামড়া তুলে ফেলে ভাব সম্প্রসারন করতে বসে যায় জটিল সব আঁক কষতে কষতে। 

✊ তৃতীয়ত, লাল পতাকা বা নিজেদের নেতার ছবি সম্বলিত কোনো পোষ্ট, আনন্দ চ্যানেলে বলা নেতার অগ্নগর্ভ ভাষণ, বিরোধীদের আক্রমণ করে কোনো বিবৃতি বা পোষ্টার পেলে- সেটার ফ্যাক্ট চেক না করেই; হুলিয়ে শেয়ার করতে শুরু করে দেয়, পরিনাম না জেনেই। যেন একটা শেয়ার একটা পঞ্চায়েত/ওয়ার্ডে জিতে যাওয়া। একজন হুক্কাহুয়া করলেই বাকিরা সমস্বরে সেই টোনেই হু হু করে ডেকে উঠে। 

✊ এরা প্রত্যেকে বিশেষজ্ঞ, প্রতিটা বিষয়ে বিশেষজ্ঞ, যে কোনো দ্বিতীয় ব্যাক্তির চেয়ে যে কোনো মূহুর্তে এরা বিজ্ঞ, নতুন করে এদের শোনা বা জানার আর কিচ্ছুটি অবশিষ্ট নেই ধরাধামে। আপনি যদি এদের কথা শুনতে অস্বীকার করেন, আপনি প্রগতিবিরোধী, অতি প্রতিক্রিয়াশীল, লুম্পেন জাতের শ্রেনীশত্রু।

✊ কমেন্ট বক্সে এদের চেনার উপায় হচ্ছে লাল সেলাম, রেড স্যালুট, মুষ্ঠিবদ্ধ হাতের ইমোজি কিম্বা সাবাস কমরেড। এছারা বিপ্লব, লড়াই লড়াই লড়াই চাই, ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে লড়াই হবে, শূন্যকে এতো ভয় কেন, হারলেও বাম জিতলেও বাম, রাস্তাই রাস্তা, এভাবেও ফিরে আসা যায়, শিরদাঁড়া বিক্রি নেই, ফেরাতে হাল ফিরুক লাল, রক্তিম অভিবাদন, চোখে চোখ রেখে লড়াই হবে- এই কটা শব্দ ও লাইনের মাঝে প্রতিটা ফেসবুকীয় বাম্বাচ্চাকে নিখুঁত ভাবে শনাক্ত করে ফেলবেন মূহুর্তে।

এবারে কংগ্রেসের সাথে জোট নেই, অতএব বুড়ো হাবড়া কচি হাবা নেকু ডাঁসা ঝিঙ্কু সেয়ানা সহ, যত প্রজাতির বামমনস্ক ‘মাল’ হতে পারে, তেনারা প্রকাশ্যে-গোপনে গুদাম বা ভাঁড়ারে যেখানে যত মজুদ ছিলো, সবাই গোঁফে তা দিয়ে দাবনা চাবকে টাইমলাইনে বেরিয়ে পরেছে। সময় এগিয়ে গেলেও এনারা মানসিকভাবে সেই আশির দশকের শুরুতেই রয়ে গেছেন, ৯০ এর দশকের মত ছড়া কেটে দেওয়াল লিখছে, তারপর সেটারই ছবি তুলে ফেসবুকে পোস্ট করছে। পাড়ায় মিটিং হলে মঞ্চের ধারে ভিড় করে দাঁড়াচ্ছে, সবাই মিলে একই লাইভ করছে, সবাই মিলে একই ছবি তুলছে। সবাই ‘অনলি ফ্রেন্ড’ করে পোষ্ট করছে, এবং এরা প্রত্যেকেই প্রত্যেকের বন্ধু যারা নিজেরা বাকিদের সকলকে ট্যাগও করছে। যদিও ছবি ভিডিও দেখে বোঝার উপায় নেই এটা শ্রাদ্ধ বাড়ির গুমোট পরিবেশ, নাকি গায়ে হলুদের ফাজিল হুল্লোর কিম্বা কোনো রাজনৈতিক গুরুগম্ভীর সভা। মিছিল হলে এরা নেতাদের পিছু পিছু হাঁটছে। এই সব কিছুর মাঝে প্রতি ২ ঘন্টা অন্তর ১১টা সেলফি আর ৩টে গ্রুপ ফটো ফোনের SD কার্ডে জমা হচ্ছে। সেগুলোকে কেটে ছেঁটে with অমুক নেতা & 99 others ট্যাগ মেরে বিপ্লবকে গর্ভবতী করে দিচ্ছে। 

এরপর দুপুরে অধিকাংশ দিন মাটিতে বসে নেতা/নেত্রীর সাথে বসে ছ্যাঁচড়া, ডাল ও মাংস ভাত সাঁটিয়ে, অন্তর থেকে ‘সিপিএমে’ অন্তর্ভুক্তির ব্যাপ্টিস্টকরণ সম্পন্ন করছে অত্যন্ত ভক্তির সাথে। যারা হিন্দু, তারা জবরদস্তি সেকুলার সাজতে গিয়ে সর্বক্ষণ বিজেপি এবং RSS কে এলোমেলো আক্রমণ করছে, যে যেখানে সুযোগ পাচ্ছে। যারা মুসলমান, তারা সহানুভুতি আর আর্তির দোকান খুলে- আমার সব গেলো, আমি বঞ্চিত বলে “জীবনটা বেদনা” নামের পণ্য লেনদেনের পসরা সাজিয়ে বসছে।

ক্রিকেটের নিয়ম বলে, কোন বলটা অফ স্ট্যাম্পের ১ ইঞ্চি বাইরে বিষাক্ত বাউন্সার, কোনটা অনসাইডের লোপ্পা ফুলটস আর কোন বলটা ইয়ার্কার সেটা দেখে, তবে তো সেইভাবে ব্যাট চালাতে হবে। ফেসবুকের বাম্বাচ্চারা বল দেখলেই চোখ বন্ধ করে চালাচ্ছে, সেটাতে নিজেদের নেতার মাথার খুলি উড়ে যাক কি আম্পায়ারের হাড় ভাঙুক কিচ্ছু দেখার দরকার নেই।

পৃথিবীতে যে কোন রাজনৈতিক দলের চারটি স্তর থাকে। ১) মূল নেতৃত্ব, ২) কর্মী, ৩) দরদী সমর্থক ও ৪) জনগন। প্রতিটা রাজনৈতিক দলের ভিত্তি দাঁড়িয়ে থাকে দরদী সমর্থকের উপরে। এরাই মূলত জনগণকে প্রভাবিত করে নিয়মিত ও সমাজের সর্বত্র। ফেসবুকীয় বামেরা তাদের সামাজিক সমস্ত দরজা জনলা মোটামুটি বন্ধ করে একটা ছোট্ট বৃত্তের মাঝে নিজেদের বন্দি করে নিয়েছে। একে অন্যের পোষ্টে লাইক কমেন্ট করে নিজেদের গা শোঁকাশুঁকি করে। অথচ, এখন অবধি যতগুলো সাক্ষাৎকার দেখেছি বা শুনেছি CPIM West Bengal পার্টির সম্পাদক সহ বাকি শীর্ষ নেতৃত্বের- সেখানে প্রত্যেকে বারবার একটা জিনিস বলার চেষ্টা করেছে যে, বৃত্তটা বাড়াতে হবে। দরদী সমর্থককে আরো বেশি প্রসারিত হতে হবে, জনগণের কাছে পৌঁছবার যতরকম বৈধ পথ আছে, তার প্রত্যেকটি পথ অবলম্বন করতে হবে। 

পার্টির সর্বজনীন সিদ্ধান্ত ‘গ্যায়া ভার মে’, ফেসবুক খুলে অ্যাং ব্যাং চ্যাং যা খুশি লিখে, সেটাকে পার্টির মতামত বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টাতে বাম্বাচ্চাদের মেহনতের ঘাটতি নেই। মনের মাধুরী মিশিয়ে গল্প উপন্যাস বা ডেলি সিরিয়ালের স্ক্রিপ্ট লেখা যায়, রাজনৈতিক বার্তা বা কূটনৈতিক ভাবে এগিয়ে গিয়ে মাত করে দেওয়া যায়না। 

উদাহরণ হিসাবে সম্প্রতি উত্তরপাড়ার দীপাঞ্জন বা হুমায়ুনকে তেড়ে ন্যাংটা হয়ে আক্রমণকে উল্লেখ করা যেতে পারে। আরে বাবা ঢঙী দীপাঞ্জন কিছু ভক্তের ভোট কাটলে, কিম্বা রাজনৈতিক পতিতা হুমায়ূন কিছু দুধেল গাই এর ভোট কাটলে তবে উত্তরপাড়ার বামপ্রার্থী কিম্বা অন্যান্য সংখ্যালঘু অধ্যুষিত আসনে বামেরা খাতা খোলার গণিতে একলপ্তে প্রথম দুই-এ পৌঁছে যাবে। নতুবা ওই ভোট গুলো সব তোলামুলের ঝাঁপিতে গিয়ে জড়ো হবে। রাজনীতি তো মারপ্যাঁচের খেলা, নিজের ভোট নিজের প্রতীকে ফেলার পাশাপাশি অন্যের শিওর ভোটকেও ল্যাঙ মেরে মেলোমেলো ডাইভার্ট করে দেওয়ার নাম ভোটের রাজনীতি। 

পানিহাটিতে বিজেপি প্রার্থীর নাম ঘোষণা হয়ে গেছে, দেওয়ালে দেওয়ালে সবর্ত্র রত্না দেবনাথের নামের পাশে বড় বড় করে আঁকা পদ্মফুল চিহ্ন, তবুও আলগা পিরিতে কোনো ঘাটতি নেই। কখনও অভয়ার মা, কেউ আবার কাকিমা- একাত্ম হওয়ার চেষ্টাতে এ যেন এক প্রতিযোগিতা চলছে। কেন রে ভাই, তিনি কি কোনো ছাড় দিচ্ছে সিপিএমকে? বরং চূড়ান্ত আক্রমণ করে চলেছেন অশালীন ভাষাতে; কারণ ওনাকে লাইম লাইটে আসতে গেলে দ্বিতীয় কোনো উপায় নেই। আমার প্রতিপক্ষকে আমি কতটা ধরব, কোথায় কতটা ছাড়ব- এটাও তো রাজনীতির অন্যতম বড় শিক্ষা। অসম্মান করব না বা অলআউট আক্রমণও করব না, তা বলে হেদিয়ে আত্মীয়তার শুকনো পিরিত দেখাতে যাব কেন? এই গোটা সিস্টেমটাকে বাম্বাচ্চারা দায়িত্ব নিয়ে রোজ ধর্ষন করে দিচ্ছে।

এদের অভিশাপ থেকে পার্টি কীভাবে মুক্তি পাবে তা অজানা, এর কোনও এ্যান্টি ডোট বাজারে নেই। আয়নাতে আপনি আবার কোনো বাম্বাচ্চাকে দেখেননা তো রোজ?

শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬

মুসলমান আলেম পরিচয়ে তোলামূলের হয়ে খেপ খাটা এরা আসলে কারা?

 

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতি জটিল অবস্থায় দাঁড়ালে- হিন্দু তৃণমূল বিজেপির দিকে চলে যাবে। তখন মুসলমান গুলো যাতে কংগ্রেস বা বাম জোটের দিকে চলে যেতে না পারে সেই জন্য হুমায়ূনকে সৃষ্টি করা হয়েছে। বিজেপির কোন অবস্থায় পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় আসা সম্ভব নয, একমাত্র তৃণমূল যদি না বিজেপির মধ্যে বিলীন হয়ে যায়। ১১৮টা মুসলমান অধ্যুষিত আসন যেখানে বিজেপির লড়াই নোটার সাথে, আর ৪০টা মতুয়া প্রভাবিত আসল- যেখানে বিজেপিকে ঘাটে তুলে দেওয়া হয়েছে। তাহলে বাকি সবটা আসনেও ১০০% বিজেপিই জেতে, তাতেও ম্যাজিক ফিগার ছুঁতে পারবেনা। তাহলে, কোন মন্ত্রে বিজেপির জুজু দেখাচ্ছে তৃণমূল ও তাদের পোষ্য মিডিয়া ও ভাতাজীবিরা?

হুমায়ূন নিয়ে নতুন কিছু বলার নেই, গতকাল তাকে নিয়ে আমার বক্তব্য বলে দিয়েছি। যে লোকটা বিজেপির সাথে ইতিমধ্যে ঘর করেছে, যে লোকটা ২ মাস আগে হেলিকাপ্টারে চড়ে প্রচারের ঘোষনা দিয়েছে, যে লোকটা ৩ মাসের দল খুলেই ১৮২টা প্রার্থী দেওয়ার ক্ষমতা ধরেছে, যে লোকটা ৩ মাসের দল খুলেই স্থায়ী প্রতীক পেয়ে গেছে, যে লোকটা রাতারাতি Y ক্যাটেগরির সিকিউরিটি বহর পেয়ে গেছে কেন্দ্র সরকারের থেকে- মাকুন্দ গোপনাঙ্গ বিশিষ্ট আতা ক্যালানে মাল আর মিথ্যাবাদী ছাড়া যেকোনো সুস্থ মানুষ জানতো বিজেপি-তোলামূলের মত কেউ এনাকে পিছন থেকে ব্যাকাপ দিচ্ছে। অতএব, হুমায়ুনকে নিয়ে ঈশপের ‘নীতিমালা’ গল্প ফাঁদার কোনো সুযোগ নেই। 

এতোদিন যারা হুমায়ূনের দলে পদাধিকারী ছিলো, তারা কেউ জানতনা হুমায়ূনের এই বিপুল টাকার উৎস কি? আসলে সকলে সবটা জানতো, আর সেই টাকা উচ্ছিষ্ট খেতেই এই মালগুলো দলে দলে ভিড় জমিয়ে ছিলো। যেগুলো আজ ‘তথাকথিত’ বিদ্রোহ করছে, সেগুলো নেহাত বেজন্মা বেশ্যার বাচ্চা, হারামের মালের গন্ধ পেয়ে চেটে, চুষে, কামড়ে, হামলে পরে খাবো বলে গিয়ে আজ সতী সাজছে। খাবো সবটাই, শুধু যেন সেটা জনগণ জানতে না পারে- এই হচ্ছে মোদ্দা ইস্যু। 

আচ্ছা, ইসলাম মানে তো কোরানের নির্দেশিকা আর আমাদের নবী করীম(সাঃ) এর জীবনধারা তথা হাদিস এর নীতিমালা। এখানে কোথায় চাঁদা তুলে খাওয়া পীর ফকিরির ব্যবসার উল্লেখ রয়েছে? ইসলামের নীতিমালা কি নতুন করে লেখা হয়েছে? আচ্ছা যিনি এই ইসলাম ধর্মের প্রবর্তন করেছেন সেই নবী করিম(সাঃ) তো নিজে ব্যবসায়ী ছিলেন, তাঁর যারা সরাসরি অনুগামী ছিলো সেই সাহাবী, তাবেঈন, তাবে-তাবেঈণ- এনারা কি রাষ্ট্রের ভাতাজীবি ছিলেন? এনারা আলেম সেজে সদগা যাকাত তুলে ‘বেতনের’ নামে সেখান থেকে রুটিরুজি যোগার করতেন? এনাদের প্রত্যেকের নিজস্ব পেশা ছিলো, এনারা সকলে স্বনির্ভর ও পরিশ্রমী ছিলেন। কেউ কৃষক ছিলেন, কেউ মজদুর, কেউ শ্রমিক, কেউ মরুদ্যানে সরাইখানা চালাতেন, কেউ নানান মাপের ব্যবসায়ী ছিলেন, অর্থাৎ কেউ ভাতা আর চাঁদা তুলে খেতোনা ইসলামের নামে।

আজকে দেশ ও রাজ্য জুড়ে এই আলেম ও পীরের দোকান খুলে বসা মালগুলো, যারা ইসলামের ঠিকেদারি নিয়ে রেখেছে, এদের রুজিরুটির উৎস কি? এই যে এতো মৌলানা সাহেব, হাফিজ সাহেব, আলেম, ক্বারী, মোহাদ্দিস, ইমাম, যারা ফতোয়া দিচ্ছেন তোলামুলের পক্ষে- এনাদের হালাল পেশা কি? গুটি কয়েক হাতেগোনা ‘মুমিন’ ব্যক্তি বাদ দিলে, এরা প্রত্যেকে ‘ইসলাম ধর্মকে’ পুঁজি বানিয়ে জোব্বা, চোগা, গোঁফ বিহীন দাড়ি আর মাথায় ফেজ টুপির দোকান সাজিয়ে হয় চাঁদা তুলে খাচ্ছে, কিম্বা ঝাড়ফুঁক জলপড়া তেলপড়া তাবিজ কবজের লোক ঠকানো ব্যবসা করে হারামের কামাই খাচ্ছে। এর পাশাপাশি সমানে চেষ্টা থাকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার বৃত্তের কাছাকাছি পৌঁছে ‘বাইতুল’ মালের যে রাজনৈতিক লুঠ চলছে, সেখান থেকে যেন একটা অংশ তাদের ভাঁড়ারে চলে আসে। তার জন্য এরা ইমান, আমল বিক্রি করা, ইসলামকে বিকৃত করা- সব কিছু করতে রাজি।

আপনি প্রমাণ দেখান, যারা যারা সমাজের ওই অংশ থেকে মানে ‘ইসলামকে’ বেচে খাওয়া লোকজন, তথাকথিত আলেম সমাজ মুসলমানের নেতা হওয়ার চেষ্টা করেছে, এবং মুসলমান সমাজও যাদের হাতে নেতৃত্বের ঝান্ডা দিয়েছে- তারা পিছিয়ে থাকা মুসলমান সমাজের জন্য কি দিয়েছে? বা ১৫ বছরের তৃণমূল সরকারের থেকে কি আদায় করাতে পেরেছে?

মমতা ব্যানার্জির দল সাংসদে তিন তালাক বিলে বিজেপির পক্ষে ছিলো, এই আলেম সাজা চমনচুতিয়া গুলো মুখ খুলেছিলো সেদিন মমতা ও বিজেপির সম্পর্ক নিয়ে? CAA/NRC বিলে তৃণমূলের ৮ জন সাংসদ ভোট দেয়নি, এই বাঁদির বাচ্চা গুলো মুখ খুলেছিলো? দীর্ঘদিন সরকারী মাদ্রাসাতে শিক্ষক নিয়োগ না করে মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থাটাকে পঙ্গু করে দিয়েছে RSS এর প্ল্যান মাফিক, এক শুয়োরের বাচ্চা মুখ খুলেছে এ নিয়ে গত ১৫ বছর? রাজ্যে ৩০% মুসলমান, সরকারী চাকরিতে মুসলমানের ছেলে মেয়েরা মাত্র ৪% অংশীদার, কেউ আন্দোলন করেছে বা সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার নুন্যতম দিশা দেখিয়েছে? রাজ্যে ৩০% মুসলমান, রাষ্ট্রীয় জনপ্রতিনিধি মাত্র ১২%, এই শুয়োরের বাচ্চারা এই বিষয়ে একবারও আন্দোলন বা প্রতিবাদ করেছে? OBC তে যে মুসলমান সমাজকে ধোঁকা দেওয়া হলো, ওয়াকফের সম্পত্তি কেড়ে নেওয়া হলো, কোন মামার সন্তান ‘আলেম’ আজ যারা তলামূলকে ভোট দিতে আহ্বান জানাচ্ছে, তারা জান লাগিয়ে প্রতিবাদ করেছিলো?

এরা চুপ থাকার বিনিময়ে তৃণমূল দল ও মমতা ব্যানার্জি সরকারের থেকে হারামের মাল কামিয়েছে এতদিন। আজ তাই মমতার হয়ে এদের হা-রে-রে-রে করে নেমে পরতে হয়েছে, ‘কওম’ কে এরা এভাবেই বিক্রি করেছে মুসলমান সমাজকে ঠকিয়ে। ঠিক যেমন মমতা ব্যানার্জী, বিজেপি-RSS এর মুসলমান বিরোধী প্রকল্প গুলোকে পাশ করিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে টাকা নিয়েছে। সামান্য হুমায়ুন যদি দাবী করে বিজেপি তাকে ১০০০ কোটির অফার করেছে, তাহলে ভাবুন মমতা ব্যানার্জী বিজেপি-RSS এর কাছে গত ১৫ বছরে ধরে সহস্রবার বিক্রি হয়ে কত টাকা কামিয়েছে!

এদেরকে চিনে নিন। প্রথমেই তোলামুলের পক্ষে থাকা এই আলেমদের শুধান, আপনাদের পেশা কি? মানে পেট চলে কীভাবে? রুজিরুটির বন্দোবস্ত কীভাবে ও কোথা থেকে আসে! তারপর উপরে করা প্রশ্নগুলো এদের শুধান। আসলে এই শয়তান ইহুদির বাচ্চা গুলো ক্ষমতার কাছে বিক্রি হয়ে মুসলমান সমাজকে কাঁকড়ার মত টেনে আঁকড়ে ধরে বসে আছে, কোনোভাবে এগোতে দেবেনা। মুসলমান জনতা যত মুর্খ থাকবে, তত তাদের ভয় দেখিয়ে এদের পেট ভরাবে। মানুষ শিক্ষিত হলে এই শুয়োরের বাচ্চাদের পেটে সবার আগে লাথি মারবে। শিক্ষিত সম্প্রদায় তখন বিভিন্ন ‘মিশন’ নামক প্রতিষ্ঠানে টাকা দেবে, যারা পিছয়ে থাকা মুসলমান সমাজের সন্তানদের ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার প্রফেসর শিক্ষক বানাচ্ছে, সর্বোপরি শিক্ষিত বানাচ্ছে। তারা ইসলামিয়ার মত হাসপাতালে দান করবে, নিজেরা অনেকে হাসপাতাল বানাচ্ছে, কমিউনিটি সেন্টার বানাচ্ছে, যেখানে সমাজের পিছিয়ে পরা অংশটা আবার মূলস্রোতে ফিরে এসে সম্মান জনক রুটিরুজি যোগার করতে পারে, খেতে খেতে পারে।

এরা কেবল খারিজী মাদ্রাসা বানায়।

একটা উদাহরণ নিন, সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী। শতাব্দী প্রাচীন জমিয়ত উলামা হিন্দের সর্বোচ্চ পদাধিকারী ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ শাখার। সেই পদকে মমতার কাছে বেচে MLA ও মন্ত্রী হয়েছেন। কোলকাতা শহরে বিপুল পরিমান ওয়াকফের সম্পত্তি দীর্ঘদিন ধরে ব্যক্তিগত সম্পত্তির মত ভোগদখল করে চলেছে। নিজে সারা জীবনে ডজন খানেক বালবাচ্চা পয়দা করেছেন ওনার আব্বা জানের মতই। সব মিলিয়ে সিদ্দিকুল্লাহ সাহেবের ভাই, সন্তান, জামাতা ও তাদের ওয়ারিসান সকলে মিলে নর্মালি রাস্তা দিয়ে হেঁটে গেলে ৫০০ লোকের মিছিল মনে হয়। মন্ত্রী ও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় বলিয়ান সিদ্দিকুল্লাহ সাহেব এই মিছিলের অধিকাংশের আখের গুছিয়ে দিয়েছেন। পরিবারের বাইরে থাকা কোটি কোটি মুসলমানের জন্য কি করেছেন? 

সিদ্দিকুল্লাহ সাহেব ও ওনার মত তোলামূলের পে-রোলে থাকা বহু আলেমই খারিজী মাদ্রাসার সাথে যুক্ত, সিদ্দিকুল্লাহর ভায়েদের পেশাও তাই। কারন মাদ্রাসার নামে তোলা সদগা, যাকাত, ফিৎরা, সদগায়ে জারিয়া, কাফফারা, নজর, মানত, ফিদইয়া ইত্যাদির রাশি রাশি টাকা গুলো বেতনের নামে ভোগ দখল এরাই করে। মাদ্রাসা চালানোই এদের মূল পেশা। সেই প্রতিটা মদ্রাসাতে কোনো আধুনিক শিক্ষা নেই, যেখানে পড়াশোনা করে ১ জন মুসলমান শিক্ষার্থী- এই সমাজের ব্যবসা ও চাকরির কম্পিটিশনের বাজারে সামান্যতম প্রতিযোগিতা করতে পারে! এদেরকে মাদ্রাসাতে ছেলেপুলে ভর্তি করতেই হবে, এর প্রধান শর্ত হচ্ছে মুসলমান সম্প্রদায় গরীব হওয়া। কারনে গরীব অনাথ শিশুদের না দেখালে ওখানে দানের টাকা কেউ দেবে কেন? সিদ্দিকুল্লারা তাই সকলে খারিজী মাদ্রাসা চালায়, মুসলমানকে দেখায় দেখো আমরা কোরান হাদিসের শিক্ষা দিচ্ছি। যে কোরান হাদিসের শিক্ষা নিজেদের রুজি রোজগার ও জীবন যাত্রাতে এতটুকু লাগু করেনা, যেটুকু ভেক ধরার জন্য না পরলেই নয়। এনারা কেউ হাসপাতাল করেছে? এনারা কটা এতিম খানা খুলেছে? কটা আধুনিক শিক্ষা কেন্দ্র খুলেছে, যেখানে মুসলমানেদের পিছয়ে পরা সমাজের জন্য বৃত্তিমূলক শিক্ষা প্রতিযোগিতামূলক চাকরির জন্য ট্রেনিং দেওয়া হয়? ওয়াজ মেহেফিলের নামে ‘পার নাইট’ হিসাবে লাখ টাকায় ধর্ম বেচার কারবারিরা কেবল ততটুকু ফতোয়া দেয়, যতটা তাদের ‘চেটে’ খেতে ও হাত পেতে খাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয়।

এরা ‘দ্বীন’ এর কথা বিক্রি করে, নিজেরা দুনিয়া দুনিয়া করে উন্মাদ হয়ে রয়েছে, সর্বক্ষণ কি করে দুটো মেরে মুচরে নিয়ে এসে নিজের ঝুলি ভরবো- এই হচ্ছে এদের ঈমানের একমাত্র কাজ। এরা কেউ গত ১৫ বছরে মমতা ব্যানার্জী ও তৃণমূল দলের বিরুদ্ধে ১টা কথা বলেছে? না বলার কারন দুটো হতে পারে, প্রথমত মমতা সরকারের কোনো ভুল ছিলোনা, তৃণমূল সরকার আসলে মুসলমানদের জন্য ‘খিলাফায়ে রাশেদিন’ প্রতিষ্ঠা করে রেখেছিলো এতোদিন, দ্বিতীয়ত ওনারা মুনাফেক মিথ্যাবাদী। আসানসোলে দাঙ্গা হোক বা মুর্শিদাবাদের অশান্তি- এনারা মুখে চটি গুঁজে বসে ছিলেন। এরা বাবুল সুপ্রিয়র বিরুদ্ধেও এতটুকু রা কাটেনি, যে আসানসোল দাঙ্গার মূল নায়ক। উপরন্তু তৃণমূলে যোগ দেওয়া বাবুল সুপ্রিয়কে এরা ‘বাপ’ হিসাবে মেনে নিয়ে, বালিগঞ্জের মত মুসলমান অধ্যুষিত আসনে তাকে জিতিয়েও এনেছিলো। ওয়াকফ নিয়ে মমতা ব্যানার্জীর ধাষ্টামির বিপরীতে এদের কোন অবস্থান ছিলোনা, মমতার পদলেহন ছাড়া? এদের শুধু মুনাফেকই নয়, এরা জ্যান্ত শয়তান। সামান্য সরকারী অনুগ্রহের লোভে এরা মুসলমান সমাজের সাথে প্রতারনা করে গুমরাহ করছে।

এরাই ফতোয়া দিচ্ছে, মমতাকে ভোট না দিলে বিজেপি চলে আসবে। রোজার সময় এদের চালিত প্রতিটা মাদ্রাসা বাইরের রাজ্যে যাকাতের টাকা আদায় করতে যায়। এদের পাখির চোখ রাজ্যগুলোর নাম জানেন? গুজরাত, হরিয়ানা, দিল্লি, মহারাষ্ট্র, আসাম, উত্তরপ্রদেশ ইত্যাদি; যেগুলোর সবকটা বিজেপি শাসিত রাজ্য। বিগত ১০-১৫ বছর ধরেই এগুলো বিজেপি শাসিত রাজ্য, এনারা কেউ বিজেপির ভয়ে সেখানে ‘আদায়’ করতে যাওয়া ছেড়েছে। সেখানে রোজ মুসলমান নিগৃহীত ও খুন হচ্ছে, সেই তালিকাতে কেবল গরীব মুসলমান, একটা মৌলানা আদায়কারী হেনস্থার শিকার হয়েছে? কারন তারা সেখানে বিজেপির সাথে আপোষ করে চলে। রাজ্যের ৯০% পরিযায়ী শ্রমিক এই বিজেপি শাসিত রাজ্যেত কাজে যায়, তখন এরা কেউ ফতোয়া দেয়না যে বিজেপি শাসিত রাজ্যে যাওয়া যাবো না। 

বিজেপি তো নর্দমা, মুসলমান বিদ্বেষই তার একমাত্র রাজনৈতিক হাতিয়ার। কই, এই সব আলেম, পীরের ছানারা তাদের অনুগামীদেরও কি মানা করেছে- ভাই ওখানে বিজেপি আছে যেয়োনা, মারা যাবে। নিজেরাও অধিক দানের লোভে, মাসের পর মাস বছরের পর বছরে বিজেপি শাসিত রাজ্যে পরে থাকে, এরা যোগীর রাজ্য গিয়ে সাহারানপুর দেওবন্দে পড়াশোনা করে, সেখানে যেতে কেউ মানা করেনা, যে বিজেপি আছে কেউ যাসনা পড়তে। শুধু এ রাজ্যে ভোটের সময় বিজেপির জুজু মনে পরে যায়। বিজেপি প্রকাশ্য শত্রু হলে, এই ভন্ডগুলো তার চেয়েও বড় শত্রু মুসলমানের জন্য।

সুতরাং, মমতা না এলে বিজেপি চলে আসবে, এটা এদের ভাতা পাওয়ার ধান্দাবাজি, রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডা। সরকারী টাকায় মন্দির বানানো মমতা ক্ষমতায় আসীন থাকলে, রাজ্যে বিজেপিকে আদৌ দরকার রয়েছে RSS এর? বিজেপি কোনটা করবে, যে পাপ মমতা ব্যানার্জী ইতিমধ্যে করেনি? আলেমগুলো যদি সত্যিই যদি বিজেপিকে ঘেন্না করত বা তাদের ভয় পেতো, তাহলে তারা নিজেরা ও তাদের অনুগামীদের বিজেপির রাজ্যে যেতে মানা করতো। সামান্য চাঁদার জন্য এখানে তারা বিজেপির সাথে কেন আপোষ করছে? ইরাণের মুসলমানেরা কি ইজরায়েলে কাজে যায়? এরা শুয়োরের মাংসকে হারাম বলে, কিন্তু ঝোলটা শরীয়ত মেনে হালাল হিসাবে খায়। এরা তোলামুলের কাছে ফুটো পয়সাতে ঈমান আমল বিক্রি করে রেখেছে। মমতা ব্যানার্জী মুসলমানকে ‘দুধেল গাই’ সাজিয়ে ‘ভোটব্যাঙ্ক’ হিসাবে ব্যবহার করে দ্বিতীয় শ্রেনীর নাগরিক বানিয়ে রেখেছে, এই আলেম গুলো সেই পাপের প্রত্যক্ষ অংশীদার। আজ হুমায়ূন যে কারনেই হোক, সেই ‘দুধেল গাই’ ভোটব্যাঙ্কে থাবা বসাতেই- মমতা ব্যানার্জী উন্মাদ হয়ে এই বিকৃত আলেম সমাজকে নামিয়ে দিয়েছে; যারা আসলেই মমতার পোষা কুত্তা। এদের ফতোয়া মুসলমান সমাজকে বাঁচানো বা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য নয়, আতঙ্কে দিশেহারা মমতা ব্যানার্জীকে বাঁচানো ও মমতাকে সামনে রেখে এদের নিজেদের রুজি রোজগার বাঁচানোই এদের মুখ্য উদ্দেশ্য।

হুমায়ূনের ভিডিও কান্ডে একটা জিনিস পরিষ্কার হয়ে গেছে, মমতার হয়ে খেপ খাঁটা যত মুনাফেক মুসলমান ছিলো, অনেক আগেই মমতা যাদের পোঁদের কাপর কেড়ে নিয়েছিলো; হুমায়ুনের সামান্য পরিমান জনভিত্তি দেখে রাতের ঘুম উড়ে যাওয়া মমতা ব্যানার্জী- সেই পোঁদের কাপর বিহীন ‘কাটা মোল্লার’ সব কটার সামনের কাপড় কেড়ে নিয়ে, ন্যাংটা করে বাজারে নামিয়ে দিয়েছে। সোজা হিসাব, এতদিন তদের ভাত কাপড় দিয়ে কি মিছিমিছি পুষেছি? সুতরাং, হুমায়ূনের বিরুদ্ধে ফতোয়া দে, আর মমতা না এলে বিজেপি চলে আসবে এই বলে মুসলমানকে বোকাচোদা বানা। 

হুমায়ূনের বিরুদ্ধে আজ কারা খাপ বসিয়েছে? নারদার টাকা নিতে দেখা স্যান্ডো ববি, আর সারদার টাকা চুরিতে সরাসরি অভিযুক্ত ও জেলখাটা আসামী কুনাল ঘোষ। চালুনির দল ছুঁচের বিচার করতে বসেছে, ওদের নিজেদের ঘরোয়া কেচ্ছা নিজেরাই মেটাক। ওমা, কিছু কিছু বাম্বাচ্চা ববি কুনালের চেয়েও বীর বিক্রমে ন্যাংটা হুমায়ুনকে ঠিল মারছে। আরে মদন, নর্দমাতে ঢিল মারলে কাদা তোর জামাতেই উঠবে। হুমায়ুন কোনো বাম ভোট কাটবেনা, সে তোলামুলের ভোটই কাটবে। আর তাতে যদি সে সফল হয়, তবে বামের ঘরে দু-চারটে আসন আসতে পারে। 

সিপিএমের সোশ্যাল মিডিয়া ব্রিগেড আরেক গান্ডুর দল। সিপিএমের নানান শাখা সংগঠন আছে, কিন্তু সেগুলো খাতায় কলমে। কেউ মূল সিপিএম, কেউ সিটু, কেউ যুব, কেউ ছাত্র তো কেউ ক্ষেতমজুর। এরাই গত ৫-৭ বছর ধরে প্রতিটা মিছিলে মিটিং এ যায়, এরাই ব্রিগেডে ১০ লাখের জমায়েত করে। আসলে দিনের শেষে সাকুল্যে এই ১০ লাখই হারাধনের ছেলে দশটি ছেলে,  কুমিরের বাচ্চা দেখানোর মত এদেরকেই সব জাইগাতে দেখা যেতো। একটা বুথ থেকে এরা ১২ জন আসতো, সেই ১২টা ভোটও পার্টি পেতোনা, ফলে সর্বত্র জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। তোদের জ্ঞানের বহর আর অউকাত তো গত ১৫ বছরে রাজ্যের লোক দেখে নিয়েছে। মুখ খুললেই যখন শুধু দুর্গন্ধই বের হয়, তখন চুপ থাকাটা শেখ না ভাই। আজ তো মানুষই পরিস্থিতি বদলে দিচ্ছে, কৃষিপ্রধান মন্তেশ্বরে শতরূপের সভাতে টুপি দাড়ির মুসলমান আর ঘোমটা দেওয়া মহিলাদের ভিড়, রাজ্যে দিন বদলের আশা জাগাচ্ছে। তোরা অন্তত মুখ আর পোঁদ- এই দুই ফুটো বন্ধ রাখ। দলের পক্ষে অফিসিয়াল বিবৃতি দেওয়ার তো লোক আছে, উনাদেরকে আগে বলতে দে, তারপর নাহয় তোরা সেই লাইন ধরে ঝাঁ ঝাঁ করে বলতে শুরু করবি।

তৃণমূল আজ ক্রমশ ২০১৭ সালের সিপিএমে পরিনত হচ্ছে। যেখানে যত ছুপা তোলামুল ছিলো, আজ সবাই প্রকাশ্যে হাজির হয়ে গেছে। অর্থাৎ, এই মাল কটাই সবেধন নীলমনি হয়ে অবশিষ্ট রয়েছে তৃণমূলে। চাকুরীজীবি জনগণ নেই, মধ্যবিত্ত নেই, সাধারণ গরীব মুসলমান, অফশিলি ও আদিবাসি, শ্রমিক কৃষক সবাই তৃণমূলের উৎখাত চাইছে যেকোনো মূল্যে। এই তোলাবাজ কাটমানিখোর চোর গুলোর হাত থেকে রাজ্যবাসী পরিত্রাণ চাইছে; এই সময় যারা তোলামূলের ঢাল হিসাবে সামনে আসবে, তারা মৌলানা আলেম হোক বা সাধু সন্ন্যাসী, মুখে জাষ্ট মুতে দিয়ে লাথি মেরে রাস্তার বাইরে ফেলে দিন। 

যাদবদের জন্য লালু অখিলেশ দল খুললে সেটা সিদ্ধ, চামার দলিতের জন্য দল খোলা মায়াবতীর দোষ নেই, দ্রাবিড়দের জন্য খোলা দল আছে তামিলনাড়ুতে, মাঠারাদের জন্য দল আছে, কন্নরদের জন্য দল আছে, তেলেগু জাতিস্বত্তার ভিত্তিতে দল হলে তা সমান ও রাষ্ট্র স্বীকৃত হয়, শিখদের জন্য আকালি দল আছে, দেশে সকল জাতি ও গোষ্ঠীর নিজেদের রাজনৈতিক দল আছে। পাহাড়ীদের জন্য নিজস্ব দল আছে, আদিবাসীদের নিজেদের দল আছে। আসাম সহ উত্তরপূর্বে নানান ধর্ম ও জাতি ভিত্তিক দল আছে। ব্রাহ্মণ্য বাদীদের জন্য খোদ RSS রয়েছে, মুসলমানদের সেই অর্থে কোনো দল নেই, তারা কেবল ভোট ব্যাঙ্ক। দল খুললেই সে সাম্প্রদায়িক, এমনকি সন্ত্রাসীও বটে। মুসলমানদের নেতা রাহুল গান্ধী, মমতা ব্যানার্জী, অধীর চৌধুরী, লালু প্রসাদ, মুলায়ম সিং, করুণানিধি, জ্যোতি বসু, বা প্রমুখেরা; সৌজন্যে এই হারামি শয়তান আলেমগুলো, যারা ইসলামকে বেচে এসেছে যুগে যুগে- সামান্য ভাতা আর কিছু উচ্ছিষ্টের বিনিময়ে। 

“মুসলমান আর ভয় পাচ্ছেনা, বিজেপি NRC জুজু দেখিয়ে মমতার ভয়ের দোকানের ঝাঁপ বন্ধ হয়ে গেছে”। এই লাইনটার জনক খুব নির্দিষ্টভাবে আমি নিজে। টুপিওয়ালা মুসলমান আর ঘোমটা দেওয়া মহিলা ব্রিগেড- এবারে ঠিক করে দেবে রাজ্যের শাাসক কে হবে। মুসলমান সমাজে যারা ‘মানুষ’, তারা এবারে ভোটটা দেবে- ১৫ বছরে কি পেয়েছে, কি পায়নি, আর কি কি পেতে পারতো যা তার অধিকার ছিলো, আগামীতে কি কি পেতে পারে সেই বুঝে ভোট দেবে। এই সব দু পয়সাতে বিক্রি হয়ে যাওয়া আলেমদের ফতোয়াকে পোঁদে মুছে ফেলে দিন জাষ্ট। সুযোগ পেলে মুখে মুতেও দিন, তাতে আপনার খানিকটা নেকি বাড়বে বৈ কমবেনা। 

তাই যে শুয়োরের বাচ্চা, নিজেকে মুসলমান সম্প্রদায়ের হনু বলে ফতোয়া দিয়ে তোলামুলের হয়ে দালালি করতে আসবে, শুরুতেই তাকে খানকির ছেলে ও শুয়োরের বাচ্চা বলাটা ফরজ, এটা আমলও বটে। এটা না বললে আপনার ঈমান নিয়ে প্রশ্ন উঠবে, আদৌ আপনি মুসলমান, না শয়তানের ধোঁকায় পরা গুমরাহ ব্যাক্তি এখানে বিচার হবে। এর পর সেই দালালকে শুধান- আপনি ওয়াকফ, OBC, SIR এর নামে মুসলমান সম্প্রদায়কে যখন ক্ষতির মুখে ফেলা হচ্ছিলো, আপনি বা আপনারা কোথায় ছিলেন? 
   
ধর্মকে বেচে খাওয়া যাদের রুটিরুজি- যাদের দোকান চলে ‘কওম’কে চুতিয়া বানিয়ে; তারা ‘কওম’ নিয়ে কিছু বলতে আসলেই মুখে থুতু দিন। এরা নিজেরা সারাবছর চটির নিচে পরে থাকে ভাতাজীবি হয়ে, ভোটের বাজারে ব্ল্যাকমেল করে কিছু কামিয়ে নেওয়ার তালে এই মালগুলো মুখ খুলেছে। এদের এই খোলা মুখে হেগে দিন। এদেরকে মুসলমান সমাজের নেতা বানানোর ধাষ্টামি বন্ধ করুন, গরীব স্বল্পশিক্ষিত মুসলমান বোকা হতে পারে, তাদেরকে বোকাচোদা ভাবার আর সুযোগ নেই। যাকে খুশি ভোট দিন, তৃণমূল বিজেপিকে বাদে।

বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬

হুমায়ূন ও হাজার কোটির ডিলের ভিডিও

 


না মানে আপনি আজকে টের পেলেন যে হুমায়ুন কবির মানুষটা আসলে খারাপ লোক! নতুবা এতদিন উনি নিরীহ নিষ্পাপ ও ‘নির্দোষ’ ছিলেন! না মানে, আপনি যে এমন অপাপবিদ্ধ নির্মলমতি সরল ও কোমল যে, আপনাকে বা আপনাদের তো ডায়পার পরিয়ে রাখা উচিৎ, কখন যে শিশুর মতো হেগে মুতে ফেলবেন প্যান্টে, টেরই পাবেন না। ভাগ্যিস আপনাদের গোপনাঙ্গে বা বগলে লোম গজায়নি, নাহলে এতদিন লজ্জাতেই মরে যেতেন বার চারেক।

মুর্শিদাবাদের হুমায়ুন কবির সম্পর্কে নতুন একটা ভিডিও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে আজ। যেখানে ব্যক্তি হুমায়ুনের মুখ দেখিয়ে কিছু বক্তব্য শোনা ও দেখা যাচ্ছে। যার মাধ্যমে তোলামূল ও তাদের পোষিত সংবাদ মাধ্যম প্রমাণ করার চেষ্টা করছে যে, হুমায়ুন বিজেপির কাছ থেকে টাকা খেয়ে তৃণমূলের সর্বনাশ করার চেষ্টা করেছে। সেই ভিডিও অনুযায়ী, মোট ১০০০ কোটি টাকার ডিল হয়েছে, যার মধ্যে আপাতত ৩০০ কোটি টাকা এডভান্স হিসেবে পেয়েছে, বাকিটা ধাপে ধাপে পাবে। এই হচ্ছে মোদ্দা গল্প। ভিডিও সত্য মিথ্যা আমি কিছুই জানি না, জানার আগ্রহও নেই।  

মাকুন্দ গোপোনাঙ্গ বিশিষ্ট এলিট আঁতেল সমাজ, নাবালক ও নিতান্ত মূর্খ ছাড়া প্রত্যেকেই জানে হুমায়ুনের সাথে বিজেপির যোগাযোগ গভীর, যেটা কোনো ভাসা ভাসা লিঙ্ক নয়- একদম গলায় গলায় দহরম মহরম। কারণ তিনি হুমায়ুন কবির ২০১৯ সালে লোকসভা ভোটে বিজেপির প্রার্থী হওয়ার দরুন, বিজেপির অন্দরমহলে পৌঁছে ‘ভক্ত’দের বাবাদের সাথে এক বিছানাতে শুয়ে এসেছে, এক থালায় খেয়েও এসেছে। এই সবকিছু জেনেও ২০২১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস তথা মমতা ব্যানার্জী এই হুমায়ূন কবিরকে জামাই আদর করে ঘরে নিয়ে এসে প্রার্থী করে জিতিয়ে ছিল বিধানসভাতে। 

শুধু কী তাই? ২০২৪ এর লোকসভা ভোটের প্রচার চলাকালীন যোগীর বিরোধী মুখ হিসেবে এই হুমায়ূন কবিরকেই তোলামূল ব্যবহার করেছিল। অধীর চৌধুরী আর মোহাম্মদ সেলিমের বিরুদ্ধে নিকৃষ্ট দৃষ্টিভঙ্গিমূলক চূড়ান্ত সাম্প্রদায়িক ভাষণ দিয়ে মুর্শিদাবাদ জেলার দুটি লোকসভা আসনে তৃণমূলের নিশ্চিত পতন বাঁচিয়ে ছিল। সুতরাং, হুমায়ুন নিজে কাঁচা না পাকা খেলোয়ার জানি না, তবে তার যাবতীয় কিছু খারাপ ও সেই সমস্ত খারাপত্বকে তৃণমূল সর্বোচ্চ পর্যায়ে ব্যবহার করেছে নিয়মিত ও দীর্ঘদিন। 

প্রয়াত ‘চাণক্য’ মুকুল রায়, বঙ্গ বিজেপির পোস্টারবয় শুভেন্দু অধিকারী, আর বর্তমান পাবলিক একাউন্টস কমিটির চেয়ারম্যান সুমন কাঞ্জিলাল, রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়, সব্যসাচী দত্ত, অর্জুন সিং, সৌমিত্র খাঁ, অনুপম হাজরা, দীনেশ ত্রিবেদী, জিতেন্দ্র তিওয়ারি, রুদ্রনীল ঘোষ, হীরণ চ্যাটার্জী, তন্ময় ঘোষ, বাবুল সুপ্রিয়, দীপেন্দু বিশ্বাস, কৃষ্ণ কল্যাণী, মুকুটমনি অধিকারী, লাভপুরের মনিরুল প্রমুখেরা আসলে কোন দলের প্রতিনিধি? এরা সকলেই আসলে RSS এর প্রতিনিধি, গোয়ালঘর থেকে যে দোকানে ডিউটি দেয় নাগপুরের হেড অফিস, এরা সেই দোকানে গিয়ে তেড়েফুঁড়ে লেগে পড়ে। এটা কেবল পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য পর্যায়ের নেতাদের একটা সংক্ষিপ্ত তালিকা দিলাম, জেলা বা ব্লক স্তরের তালিকা দিলে তো বিয়েবাড়ির মুদিখানার ফর্দ হয়ে যাবে। 

অনেকেই পাল্টা প্রশ্ন করবে, সিপিএম থেকেও তো তোলামুল আর বিজেপিতে দলে দলে নেতা গেছে, তার বেলা। হ্যাঁ, ধান্দাবাজ চোরগুলো গেছে তো, অন্দরে এরা ঘুঘুর বাসা বেঁধে ছিল বলেই তো আজ দল ‘শূন্য’। প্রশ্ন হচ্ছে চলে যাওয়া কাউকে কি কাউকে পুনরায় ফেরানো হয়েছে? তোলামুল বিজেপির কথা বাদ দিন, এরা একে অন্যের বমি-গু সব খায়। বাম দল থেকে যারা যায়, সেগুলো হেগে ফেলার মতো। একবার মলাশয় থেকে বেরিয়ে গেলেই সোজা ফ্ল্যাশ করে দেওয়া হয়। এর পর সেই বর্জ্য ভেসে ভেসে কার দুয়ারে গিয়ে উঠল সেটা খুঁজে ফেরা পোষিত মিডিয়া আর দক্ষিণপন্থী দলগুলোর কাজ। একবার হেগে দিয়ে গু খালাস হয়ে গেলে, শতচেষ্টা করেও তা আর পায়ুপথে ফেরত পাঠানো যায় না। 

হুমায়ুন নতুন কোনটা করেছে যা মমতা ব্যানার্জী করেনি? হুমায়ুন নতুন দল খুলেই ১৮২টা কেন্দ্রে প্রার্থী দিয়েছেন, ঠিক মমতা ব্যানার্জী যেমন ১৯৯৮ সালে ২৯টা লোকসভা আসনে প্রার্থী দিয়েছিল বিজেপির বগলদাবা করে। হুমায়ুনও তাঁর একদা নেত্রীর দেখানো পদাঙ্কই অনুসরণ করেছে মাত্র। ঠিক যেভাবে মমতা ব্যানার্জী দল খোলার প্রায় সাথে সাথে ‘জোড়াফুল’ প্রতীক পেয়ে গিয়েছিল বিজেপির সৌজন্যে, হুমায়ুনের দলও তেমন ‘বাঁশি’ চিহ্ন পেয়ে গেছে নাগপুরের বংশী বাদকদের বদান্যতায়। হুয়ায়ুন সাহেব কোলকাতার এক ফাইভস্টার হোটেলে ঘাঁটি বেঁধে রয়েছেন বিগত দেড় মাস, ১ মাস আগে থেকে হেলিকপ্টারে চড়ে প্রচারের ঘোষণা করে রেখেছেন- সেদিন গোপনাঙ্গে মাকুন্দর দল টেরই পায়নি এই টাকার আসলে উৎস কোথায়! আজ ভিডিও প্রকাশ পেতে হুমায়ুনের নাকি জাত নষ্ট হয়েছে! বলি তোদের দেয় কে?

একটা ত্রিভুজের তিনটে বাহু, উপরের শীর্ষ বিন্দুতে নাগপুরের গোয়ালঘর, বাকি দুটো বিন্দুর একটা কালীঘাটের বিন্দুপিসি, অন্যটাতে মুরুলীধর স্ট্রিট- এই বৃত্তে প্রতিনিয়ত নিজেদের মধ্যে চলাচল করে সর্বক্ষণ ‘হটলাইন’ রক্ষা করে চলেছে দুই ফুল। এই ‘নাগপুর ট্রায়াঙ্গেল’ অনেক বেশি প্রকাশ্য বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলের চেয়ে, কই এই ‘হটলাইন’ গ্রিন চ্যানেল নিয়ে কোনো গোপোনাঙ্গ মাকুন্দো তো কোনো প্রশ্ন তোলেনি। 

প্রশ্ন কখন উঠেছিল? তখন যখন মহঃ সেলিমের সঙ্গে দেখা করার পর, হুমায়ুন কবির তার অতীত কৃতকর্মের জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছিল জনগণের কাছে- তখন সুশীল সমাজ আর আনন্দবাজার যাত্রাদলের বিবেকের ভূমিকাতে অবতীর্ণ হয়ে রীতিমতো গেলো গেলো রব তুলেছিল। সেদিনও গোপনাঙ্গে মাকুন্দের দল বুঝে উঠেনি হুমায়ুনের সাথে বিজেপির সম্পর্ক ছিল। মিডিয়ার নামে পশ্চিমবঙ্গে যে সব গাজনের সঙের দলেরা হাতে মাইকের বুক আর কপালে অণ্ডকোষ নিয়ে সারাদিন দৌড়ে বেড়ায়, তারাও এতদিন হুমায়ুনের সাথে বিজেপির সংযোগ বিষয়ে জানতে পারেনি। আজ ভিডিও লিক হওয়ার পর বুঝেছে, হুমায়ুন নামের টগর বোষ্টমী, বিজেপি নামক নন্দ মিস্ত্রিকে রান্না ঘরে ঢুকতে দিয়ে আসলেই জাত খুইয়েছে।   

আচ্ছা ভেবে দেখুন তো, আজকের এই ভিডিও কোন মিডিয়া হাউস এর কাছে না গিয়ে সরাসরি তৃণমূলের কাছে চলে এলো কীভাবে? এর দ্বারা অন্তত একটা জিনিস নিশ্চিত হওয়া গেল যে, ওই চুক্তির মধ্যে একা হুমায়ুনই শুধু নেই, বিজেপির সাথে তাদের সহোদর তৃণমূল কংগ্রেসও একই সাথে উপস্থিত ছিল ঐ আলোচনার টেবিলে। ওই আলোচনার টেবিলের উল্টো দিকে দাঁড়িয়ে ভিডিওটা কে করছিলো তৃণমূল সে বিষয়ে কিছু বলেছে, বলতেই পারতো বিমান বসু, সেলিম, অধীর চৌধুরী কিম্বা রাহুল গান্ধী নিদেনপক্ষে শুভঙ্করের নামও নিতেই পারতো। ট্রুথ সোশ্যালও ফলো করলাম, ট্রাম্পের তরফেও কোনো ক্রেডিট দাবী করে পোষ্ট আসেনি। কোন গ্রীন চ্যানেলে ভিডিওটা তৃণমূলের কাছে চলে এলো, প্রশ্ন তো এটাও!!    

হুমায়ুন সাহেব দাবী করতেই পারেন যে ভিডিওটা AI জেনারেট, কারণ বিষয়টাকে আইনি দীর্ঘসূত্রিতার মাঝে একবার ফেলে দিতে পারলে বিষয়টা সময়ের কবরে দাফন হয়ে যাবে, তারপর মানুষের আর মনেই থাকবে না। সারদা কেসে যেখানে হাজার কোটি টাকার নয় ছয় হয়েছিল সরাসরি তৃণমূলের নেতৃত্বে, আজ তার মালিক জামিন পেয়ে গেলেও কোথাও কোনো সামান্য বিক্ষোভ প্রদর্শনটুকু হয় না- সেখানে ১০ বছর পর যখন এই ভিডিওর সত্যতা সামনে আসবে ল্যাব থেকে, ততক্ষণে মানুষ ভুলেই যাবে কীসের ভিডিও ছিল ওটা। 

আসলে জাপানি তেল প্রয়োগ করেও কোনো মিডিয়া হাউস এখন অবধি পশ্চিমবঙ্গের এই ভোটের বাজারে তৃণমূল-বিজেপি বাইনারি সেট করতে পারেনি। তাই এতদিন বিজেপির সাথে ঘর করে চলা তৃণমূলের এই সতীপনা, রাজ্যের সাধারণ জনগণ- বিজেপির সাথে গোপন চুক্তিতে বাইনারি সৃষ্টির প্রচেষ্টা বলেই ধরে নিয়েছে। অনেকে ভাবছে মুসলমান সমাজে বিপরীত প্রতিক্রিয়া হবে হুমায়ুনকে নিয়ে, বরং উল্টোটা হবে। তার যে সব প্রার্থীরা ও সমর্থকেরা দোলাচলে ছিলো যে- বুথ স্তরে তোলামুলের সাথে লড়তে গেলে একটা তো পুঁজি দরকার, হুমায়ুন সাহেব সেটা দিতে পারবেন তো? হুমায়ুনের যারা ভোটার বা সমর্থক ও প্রার্থী তাদের ক্লাসও তো তাদের নেতার মতোই, একটা ভিডিও দেখে তারা কেউ পালাবে না, বরং উল্লসিত হবে যে এত বিপুল পরিমান টাকা আসছে। এরা সকলে আজ আশ্বস্ত হলো যে, ‘নাহ, হুমায়ুন সাহেবের কাছে ‘মাল’ আছে, অতএব, লড়াইটা দিতে পারবে কাঠে কপাটে’।

আরেকটা জিনিস ভুলে যাচ্ছে পাব্লিক তথা বাম সমর্থকেরা, হুমায়ুন তৃণমূলের বাক্স থেকে কিছুটা মুসলমান ভোট কাটবে, এটাকে ধরে নিয়েই তো বামেরা কিছু আসন পেতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে সংখ্যালঘু বেল্টে। পাশাপাশি তোলামুলও এমন খেঁকি কুত্তার মতো চেঁচাচ্ছে মুসলমান ভোট চলে যাওয়ার আতঙ্কে! কারণ এই সেই সংখ্যালঘু ভোট ব্যাঙ্ক, যাদেরকে দুধেলগাই সাজিয়ে মমতা ব্যানার্জী ওনার পৈতৃক সম্পত্তি ভেবে রেখেছিলেন। বিজেপির ঔরসে জন্মানো তৃণমূল কংগ্রেস, আজ বিজেপির সাথে পরকীয়া করতে গিয়ে ধরা খাওয়া হুমায়ুনের জাত নিয়ে প্রশ্ন তুলছে! তৃণমূলকে শুধাচ্ছি আপনাদের যে জন্ম হয়েছিল, সেই জন্মদাতা বাপের নামটা কী? 

তবে কী জানেন, দিনের শেষে জয়ের হাসিটা কিন্তু আজ হুমায়ুনই হাসল। এই ভিডিওর কল্যাণে আবার ফোকেটে একটা গোটা দিন রাজ্যের সংবাদ শিরোনামে তিনি রয়ে গেলেন। ভোটের বাক্সে তিনি সত্যিকারের হ্যামলিনের ‘বাঁশিওয়ালা’ হয়ে উঠতে পারেন কিনা ৪ঠা মে তার জবাব মিলবে।



রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬

ক্ষুদ্র ঋণের ফাঁদে গ্রাম বাংলার মা বোনেরা

 

❌ ক্ষুদ্র ঋণের ফাঁদে গ্রাম বাংলার মা-বোনেরা ও তৃণমূল এর তোলাবাজি আর কাটমানির অন্ধকারের রাজত্ব। ❌

🟥 অনিয়ন্ত্রিত ঋণ + উচ্চ সুদ + কম আয় = ঋণের ফাঁস

পশ্চিমবঙ্গে ক্ষুদ্রঋণ এখন “double-edged sword”, সঠিক ব্যবহার হলে উন্নয়ন, ভুল ব্যবস্থায় ঋণের ফাঁস। স্বনির্ভর গোষ্ঠীর (Self-Help Group) ঋণ বর্তমান ক্ষেত্রে গরিব মানুষের জন্য আশীর্বাদের বদলে অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্ষুদ্র ঋণের প্রাথমিক উদ্দেশ্য অত্যন্ত ভালো ছিলো। এতে করে গ্রামীণ মহিলাদের স্বনির্ভরতা বেড়েছিলো। নানান ধরণের ছোট ব্যবসা, পশু পালন, মাছচাষ ইত্যাদি শুরুও হয়েছিলো। ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার বাইরে থাকা একটা বিপুল সংখ্যার মানুষ বিশেষত মহিলারা, রাষ্ট্রের মূল অর্থনৈতিক ব্যবস্থার মধ্যে চলে এসেছিলো। গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা হয়েছিলো। তোলাবাজ সরকারের অপদার্থতা আজকে এটাকে মারন ফাঁদে পরিণত করেছে।

বিগত ১৫ বছরে রাজ্যে কোনো শিল্প আসেনি, ভারি বহু কোম্পানি রাজ্য ছেড়ে পালিয়েছে; ফলত কর্মসংস্থান নেই। কৃষি পণ্যের দাম নেই, রাজ্যের ১৮% চাষযোগ্য জমি অনাবাদি হয়ে পরে রয়েছে। সারের কালোবাজারি, কীটনাশকের অভাবের সাথে রয়েছে কৃষিতে কাজ করা শ্রমিকের সমস্যা। কারন, বহু গ্রামীণ মানুষ যারা জমিতে ‘মুনিশ’ খাটতেন তারা পরিযায়ী শ্রমিক হয়ে ভিনরাজ্যে চলে গেছে। ভাতা রাজনীতি আর করোনার সময় থেকে পাওয়া ‘ফ্রি’ চালের কল্যাণে সমাজের একটা কর্মঠ অংশের মানুষকে মানসিকভাবে ঘড়কুনো কুঁড়ে বানিয়ে দিয়েছে। 

🟢 বাংলার প্রেক্ষাপটে সমস্যা কেন বেড়েছে? 

প্রথমেই রয়েছে কৃষিতে প্রাকৃতিক অনিশ্চয়তা, অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি তো আছেই; উচ্চমূল্যের ডিজেল, ততোধিক চড়া বিদ্যুতের বিল, বহু স্থানে জলস্তর নেমে যাওয়াতে গভীর নলকূপ সেচ বন্ধ, মেলা খেলার সরকার নদী থেকে ক্যানালের মাধ্যমে সেচের বন্দোবস্ত করতে পারেনি। ফলত, রাজ্যজুড়ে কৃষিতে একটা হাহাকার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এরপর ফসলের ন্যায্য দাম পেতে গেলে সেখানেও শাসক দলের ভয়াবহ তোলাবাজি। অধিকাংশ ‘কোটা’ ফড়েরা ভুয়ো কাগজ জমা করে ভরিয়ে দিচ্ছে তৃণমূলের ক্যাডার আর কিছু অসৎ অফিসারের সাথে ষড়যন্ত্র করে, আসল চাষীরা বঞ্চিত থেকে যাচ্ছে। স্থানীয় নেতাদের চাঁদাবাজি, রাস্তায় পুলিশের তোলাবাজির উৎপাতে ভিনরাজ্যে কৃষিপন্য রপ্তানি শিল্প এক দুঃস্বপ্ন আজকের পশ্চিমবঙ্গে। ফলত চাষীর হাতে টাকা নেই, গ্রামীণ অর্থনীতি বন্ধ্যা হয়ে গেছে একপ্রকার। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, শ্রমজীবী পরিবারগুলোতে নুনভাত টুকু কোনোক্রমে জুটে গেলেও, অন্য মৌলিক চাহিদা মিটছেনা।

যেহেতু নির্দিষ্ট আয়ের উৎস নেই, ব্যবসা নেই, চাকরি নেই। শিল্প বলতে তোলাবাজি, কাটমানি আর চপ ঘুগনি। প্রথম দুটো তোলামূলের জন্য সংরক্ষিত, বাকি দুটো রাজ্যে শিক্ষিত বেকারদের নিয়ে চরম তাচ্ছিল্য। সরকারের গৃহ প্রকল্পে যে টাকা আসে, তা কাটমানির নামে অর্ধেক আগেই কেটে রাখে তোলামুলের সম্পদেরা, ফলে সেই ঘর শেষ করতে ঋণ নিতে বাধ্য হচ্ছে দরিদ্র মানুষেরা। এমন উদাহরণ ভুরিভুরি রয়েছে। এরপর, মেয়ের বিয়ে, চিকিৎসা, পড়শির সাথে তাল রেখে ঠাটবাট বাড়াতে গিয়ে ভোগ্যপন্য ক্রয়ের ফাঁদ ইত্যাদিতে, মানুষ মাকরসার জালের মত আঁটকা পরে গেছে। ফলত, ঐ ঋণের টাকা কোনো লাভজনক ব্যবসায় না খাটিয়ে পারিবারিক খরচ বা আপদকালীন প্রয়োজনে ব্যয় করলে তা আর ফেরত দেওয়ার ক্ষমতা থাকছে না। লোন নেওয়া পর থেকে- Collection agent-এর চাপ, সাপ্তাহিক মিটিংয়ে অপমান, পরিবারের ওপর মানসিক চাপ ও শেষে গয়না/সম্পত্তি বিক্রি; এই হচ্ছে চক্র।

গ্রামে স্বনির্ভর গোষ্ঠী (SHG), মাইক্রোফাইন্যান্স কোম্পানি বা NGO গুলো খুব সহজ শর্তে ঋণ দেয়। ক্ষুদ্রঋণের সুদ সাধারণ ব্যাঙ্কের তুলনায় ভয়ানক বেশি, অনেক সময় ২৪%–৩৬% পর্যন্ত হয়। ফলে ঋণ ছোট অঙ্কের হলেও অল্প দিনেই সুদ জমে বিপুল বড় বোঝা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এই উচ্চ সুদের হার সর্বগ্রাসী হয়ে লেলিহান আগুনের মত গ্রাস করেছে গোটা সমাজকে। প্রায় প্রতিটা ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র ঋণদানকারী সংস্থাগুলোর সুদের হার ভয়াবহ, সেই সুদ মেটাতে গিয়ে গরিব মানুষ আরও ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছে। একটা ঋণের কিস্তি মেটাতে গিয়ে আরেকটা ঋণ নিচ্ছে, ফলত চক্রবৃদ্ধি ঋণের ফাঁদ জড়িয়ে যাচ্ছে গরীব মানুষ। 

পাহাড়প্রমাণ সাপ্তাহিক বা মাসিক কিস্তির কড়াকড়ি গরিব মানুষের সঞ্চয় করার ক্ষমতা কেড়ে নিয়েছে। যাচ্ছে। আয়ের স্থায়িত্ব না থাকা কৃষক, দিনমজুরের নিয়মিত কিস্তি দেওয়া কঠিন। সারামাসে যা খুদকুঁড়ো জুটিয়ে আনছে, এই মহাজনী সুদের চক্করে ঘটি বাটি সব বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। এরপর শুরু হচ্ছে আসল যন্ত্রণা, অধিকাংশ গ্রামীণ গরীব পরিবারগুলো চরম আতঙ্কে থাকে, এ এক ভয়ানক সামাজিক চাপ। ঋণের কিস্তি সময়মতো দিতে না পারলে গোষ্ঠীর অন্য সদস্যদের চাপ ও সামাজিকভাবে লাঞ্ছিত হওয়ার ভয়ে অনেকে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন, যা চরম ক্ষেত্রে আত্মহত্যার মতো ঘটনাও ঘটাচ্ছে। 

✅ সমাধান-

🔸সর্বপ্রথম প্রতিটা হাতে স্থায়ী কাজের যোগান দিতে হবে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করে, দয়া ভিক্ষা নয়, কাজের পরিবেশ সৃষ্টি করে দিলে শ্রমজীবী মানুষ খেটে খাবে। আগামী সরকারকে সকলের হাতে কাজের বন্দোবস্ত করতে হবে। 

🔸 দুর্যোগ হলে যাদের আয় বন্ধ হয়ে যায়, ও যারা মৌসুমি কৃষি শ্রমিক হিসাবে কাজ করে, তাদেরকে বৃত্তিমূলক কাজের প্রশিক্ষণ দিয়ে ‘অফ সিজেনে’ রোজগারের বিষয়টা সুনিশ্চিত করতে হবে।

🔸 উৎপাদনমুখী কাজে ঋণ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

🔸 গ্রামের স্বল্পশিক্ষিত মানুষের মাঝে আর্থিক সচেতনতা বাড়াতে হবে, যাতে এই চক্রব্যূহ্যে না ফেঁসে যায়। 

🔸 প্রয়োজনে সরকারের তরফে একবার গণহারে ঋণমুক্তি করে পুনরায় এই সাইকেল নতুনভাবে চালু করতে হবে। 

🔸 কম সুদের বিকল্প ঋণ দিতে হবে সরকারি ও কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের মাধ্যমে। 

🔸 সুদের সর্বোচ্চ হার বেঁধে দিয়ে ‘টেনিয়োর’ বাড়িয়ে দিতে হবে। 

🔸 অধিক সুদের লোভে যে সকল সংস্থ পুরাতন ঋণের স্ট্যাটাস না দেখে তার উপরে পুনরায় ঋণ দেয়, তাদের কালো তালিকা ভুক্ত করতে হবে। 

🔸 সরকারি নজরদারি ও নিয়ম কঠোর করতে হবে।

🔸 সরকারকে বাজারের সাপোর্ট নিশ্চিত করতে হবে।



তৃণমূলের স্ট্যাটেস্টিক জালিয়াতি


SIR প্রক্রিয়ার শুরু থেকেই মমতা ব্যানার্জীর দাবী ছিল ২০২৪ সালের ভোটারলিস্ট দিয়ে এই বিধানসভা নির্বাচনটা করাতে হবে। সুপ্রিম কোর্টে এ বিষয়ে রীতিমতো হলফনামা দিয়ে তার ওই দাবী রেজিস্টার করে এসেছে। কেন ২০২৪ এর ভোটারলিস্ট এত গুরুত্বপূর্ণ ছিল মমতা ব্যানার্জীর কাছে, সেটার জন্য কেন্দ্র সরকারের একটা ডেটার দিকে আপনাদের নজর রাখতে হবে। আমরা রোজ বলে এসেছি ভুতুড়ে আর মৃত ভোটারে ভর্তি ২০২৪ এর ভোটারলিস্টই মমতার কারচুপির প্রাণভোমরা। সায়েন্টিফিক রিগিং এর অনুরূপ স্ট্যাটেস্টিক জালিয়াতি।  

🔰 নিচের চার্টের দিকে খেয়াল করুন, এটা ২৮শে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে বের হয়েছিল। 

🟥 ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গের মোট জনসংখ্যা ছিল ৯ কোটি ১৩ লাখ, যার মধ্যে ১৮+ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ ছিল ৬ কোটি ১১ লাখ, আর ভোটার ছিল ৫ কোটি ৬৩ লাখ। 


✅ প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষ ও ভোটারের অনুপাত ছিলো ৯২.১%


👉 এরপর ২০১৪ সালে দেখুন, উপরোক্ত অনুপাত বেড়ে ৯৮.১% তে পৌঁছে গেছে। ২০১৬ সালে সেটা ৯৯.৪%, এবং যাবতীয় নির্লজ্জতার সীমা অতিক্রম করে ২০১৯ সালে ১০১.৬%, ২০২১ সালে ১০২.৬%, ২০২৪ সালে ১০১.২% ও ২০২৫ সালে সর্বোচ্চ ১০২.৮% তে পৌঁছে যায়। মানে মূল প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের চেয়ে ভোটারের সংখ্যা বেশি। উন্নয়নের জোয়ার আসলে কোন গুপ্ত নদীতে বইছিল আশাকরি বুঝে গেছেন। 


🔸 প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ ১০০ জন, কিন্তু ভোটার প্রায় ১০৩ জন- একেই বলে পারফেক্ট উন্নয়ন। 


এমতোবস্থায় কেন মমতা ব্যানার্জী একটা সুষ্ঠু SIR করতে দেবে বলুন তো? যেই মুহূর্তে SIR লাগু হয়েছে, মমতা ব্যানার্জীর উন্নয়নের ঝুলির বেড়াল গায়েব হয়ে সেই ২০১১ সালের হিসাবের কাছাকাছি ফের ৯২.৬%তে এসে পৌঁছে গেছে প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যা আর ভোটারের আনুপাতিক হার। তৃণমূল তাদের জামানার শুরু থেকে ভোটারলিস্ট কারচুপি করে এসেছে, আসলে শুধু তৃণমূল বললে দুর্বৃত্তায়নের বৃত্তকে খাটো করে দেওয়া হবে, এটা আসলে নাগপুরের মাস্টার গেমপ্ল্যান, তাদের শরিক তৃণমূল এই রাজ্যে সেই গেমপ্ল্যান ইমপ্লিমেন্ট করেছিল মাত্র। ফলত, শুরু থেকেই ২০২৪ এই ভোটারলিস্ট ধরে ভোট করতে মরিয়া মমতা ব্যানার্জী, শেষমেষ BLO ও BDO দের দিয়ে গোটা বিষয়টাকে ঘেঁটে দিয়ে, তার ‘দুধেল গাই’দের জিম্মি বানিয়ে নিল।

আপনি ক্রনোলজি খেয়াল করুন, লাইনে দাঁড়িয়ে মানুষ অসুস্থ হওয়া, কাজের চাপে BLO এর মৃত্যুর প্রোপাগাণ্ডা, পর্যাপ্ত অফিসার না দিয়ে চূড়ান্ত অসহযোগিতা- মানে মমতা ব্যানার্জির পক্ষে যে যে ভাবে সমস্যা তৈরি করা সম্ভব ছিল, সেই সাম-দাম-দন্ড-ভেদ সমস্ত কিছু এপ্লাই করে আজকের এই ডিলিটেড ভোটারের হাহাকার অব্দি পৌঁছে দিয়েছে মুসলমান সম্প্রদায়, তপশিলি জাতি এবং উপজাতি সম্প্রদায়ের মানুষকে। আসলে তৃণমূল চেয়েছিল ঠিক চাকরি চুরির ফর্মুলা অনুযায়ী খেলতে, ঘেঁটে গুলিয়ে দিয়ে চাল কাঁকর মিলিয়ে ভাত রেঁধে খাইয়ে দেবো। SIR এর ক্ষেত্রে এক পলিসি- অফিসার দেবো না, BLO দের দিয়ে ভুল ডেটা ফিড করব, সেম ফর্মুলা সেম প্যাটার্ন। কিন্তু এবারে শেষ রক্ষা করতে পারেনি, নিজেই নর্দমার মধ্যে ডুবে গেছে।

সাবিনা ইয়াসমিনকে দিয়ে বিচারকদের আঁটকে হেনস্থা করাটাও মমতা ব্যানার্জীরই নিঁখুত পরিকল্পনার অংশ। মাঝখান থেকে মোফাক্কেরুল খোদার খাসি হয়েছে কিম্বা খোঁচর হিসাবে 'জেলে যাওয়া ডিরেক্টর হিসাবে' এপোয়েন্টেড ছিল। নতুবা মমতা ব্যানার্জীর অধীনে থাকা SDO/DM/SP এরা কি পায়ে ঘুঙুর বেঁধে মুজরো দেখছিল? নির্দিষ্ট অর্ডার বিনা তারা যদি ইচ্ছাকৃতই ভাবে ১৪ ঘন্টা ধরে নিশ্চুপ থাকে, তাহলে আজও তাদের কাউকে কেন সাসপেন্ড করা হয়নি? তাদের বিরুদ্ধে কেন মামলা করা হয়নি? একটা চুনোপুঁটি মোফাক্কেরুল, একটা বেচারা সাংবাদিক আর একজন ISF এর প্রার্থী, তিনজন 'মুসলমানকে' গ্রেফতার করে বিরাট বীরত্ব দেখাচ্ছে পুলিশের কর্তারা, তার চেয়েও বেশি বগল বাজাচ্ছেন মাননীয়া নিজে। আসলে তিনি প্রমাণ করতে চাইছেন মুসলমানকে মারলে তিনিই মারবেন, বাঁচালে তিনি বাঁচাবেন। যেন উপরওয়ালার কাছ থেকে ইজারা নিয়ে এসেছেন। 

তবে সাবিনা ইয়াসমিন কেন এখনও জেলের বাইরে এ নিয়ে মমতার কোনো জবাব নেই। নির্বাচন কমিশনও বেশ্যাবাড়ির দালালের মতো চক্ষু লজ্জাহীন হয়ে চুপটি মেরে বসে আচ্ছে সাবিনা বিষয়ে। উচ্ছিষ্টভোগী পাপোশ মিডিয়া সানাই এর পোঁ ধরে ‘মূল চক্রী’ গ্রেফতারের ব্রেকিং নিউজ চালিয়ে মানুষকে ধোঁকা দেবার ব্যর্থ চেষ্টা করলেও, বঙ্গ সমাজে হাসির খোরাক হয়েছে গত পাকিস্তান যুদ্ধে গদি মিডিয়ার লাহোর দখল করে নেওয়ার ফ্যান্টাসি রিয়েলিটি শো এর অনুরূপ।

বিচারক আঁটকে রাখার ঘটনাটা ঘটেছে মালদার কালিয়াচক দুই নম্বর ব্লকে। সেখানকার আসল গল্পটা জানেন? 

জনগণ কিন্তু ওখানে মোটেই অবরোধ করতে যায়নি। যেহেতু বিপুল পরিমাণ মানুষের নাম ‘ডিলিট’ হয়ে গেছে, যাদের বড় অংশটাই স্বল্পশিক্ষিত, তারা বিডিও অফিসে গিয়ে পরিত্রাণের উপায় জানতে গিয়েছিল- কীভাবে এই পরিস্থিতি থেকে তারা মুক্তি পেতে পারে অর্থাৎ বিডিও অফিসের থেকে তারা সাহায্য ও সহযোগিতা চাইতে গেছিল। যেহেতু তৃণমূল সরকারের উদ্দেশ্য অসৎ এবং থানার OC/IC ও BDO দের দলীয় ক্যাডার বানিয়ে বা বাধ্য করে দল চালিয়েছে, এখানেই তার ব্যতিক্রম ঘটনি।  ভুলে গেলে চলবে না যে গত লোকসভার নিরিখে মালদার প্রতিটা বিধানসভা আসনে তৃণমূল গোহারা হেরে রয়েছে।

কালিয়াচক দুই নম্বর ব্লকের BDO কৈলাশ প্রসাদ, বিচারক আঁটক কান্ডে এই অফিসারকে কেন আঁচলের ছায়াতলে আইসোলেট করে রেখেছে মমতা ব্যানার্জী। এই লোকটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বহু অনৈতিক কাজ করেছেন অতীতে, যার মধ্যে বিপুল পরিমাণ মানুষের নামকে এডজুডিকেশনে পাঠানো এনারই হাতযশ। পুরো প্রক্রিয়াকে গুলিয়ে দিয়ে জনগণের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে দেওয়ার জন্য, অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে জমায়েত হওয়া মানুষকে এই বিডিও আর সাবিনা ইয়াসমিন সহ তৃণমূল নেতৃত্ব মিথ্যা আশ্বাস দিতে থাকে যে- ‘এইবার তোমাদের সাথে কথা বলা হবে। উপর তলার অফিসারেরা রয়েছেন, ওনারা তোমাদের কথা শুনবে’। বিচারপতিরা যে ওই অফিসের মধ্যে ছিলেন, এই ব্যাপারে সাধারণ মানুষের কাছে কোনো তথ্যই ছিল না। ক্রমশ উদ্বিগ্ন মানুষের সংখ্যা ক্রমশ বাড়তে থাকে, যথারীতি শয়তানি কুবুদ্ধি খাটিয়ে সাধারণ মানুষের ধৈর্যকে বিক্ষোভের দিকে নিয়ে যায় মন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন সমেত সংশ্লিষ্ট বিডিও ও ওই অফিসের সরকারি কর্মচারীরূপী তৃণমূল ক্যাডার বাহিনী, সিভিক পুলিশের দল। এই বিডিও কৈলাশ প্রসাদ, গাড়ি চাপা দিয়ে মানুষ খুন করার অপচেষ্টা অবধি করেছিল ওইদিন। অন্যান্য সরকারি কর্মীরা যেখানে নূন্যতম DA টুকু পায় না, সেখানে এই BDO গুলো স্পেশাল ইনক্রিমেন্ট পেয়ে তাদের সেই ‘রেলা’ সাধারণ মানুষের উপরে দেখায়। সরকার পরিবর্তন হলে এদেরকেও পাই পাই হিসাব চুকাতে হবে জনগণ ও আইনের কাঠগড়াতে দাঁড়িয়ে। 

জনগণকে ভিলেন বানানো হচ্ছে সর্বোচ্চ আদালতের সামনে।

গত ০২/০৪/২৬ তারিখ অবধি ৫.৬২ লাখ ভোটারের নাম ডিলিট হয়েছে। এইগুলোর প্রতিটাতেই ভুলভাল আছে, এর পিছনে সঙ্গত কারণও আছে। যে ভুলের মূল চক্রী BLO রূপী তৃণমূলের ক্যাডার বাহিনী, যারা মূলত সরাসরি তোলামূলের কর্মী। AI যেমন যন্ত্র, যারা বিচারক তারাও আসলে যন্ত্রই, প্রাপ্ত ডকুমেন্টের ভিত্তিতে তারা নাম রেখে দিচ্ছেন কিম্বা পর্যাপ্ত ডকুমেন্ট না পেয়ে নাম ডিলিট করে দিচ্ছেন। এখানে কারো সাথে তো ব্যক্তিগত শত্রুতা নেই বিচারকদের। বিচারকদেরকে ভিলেন বানিয়ে দিচ্ছে তৃণমূলের মিডিয়া সেল, যাতে মানুষ ভুল দিশাতে ছুটে যায় শত্রুর সন্ধানে।

কেন সুপ্রিমকোর্টকে বিচারকদের এই কাজে নিয়োগ করতে হলো? তারা কি কেরানি? নাকি তাদের কাজ বাড়ন্ত ছিল? তারা মানুষের দুর্দশা দূর করতে এসে তৃণমূলের পাঁকে ডুবে গেছেন। ওনারা সারাজীবন সংবিধান, তথ্য, যুক্তি আর প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে বিচার করেন, এখানেও তারা ডকুমেন্ট পেলে অনুমোদন করছেন না পেলে করছেন না।  মমতা ব্যানার্জীর চাল কাঁকর মিলিয়ে গুলিয়ে ঘেঁটে দেওয়ার খেলায় তারা তো শুধু ক্রীড়নক মাত্র। এই যে প্রতিবাদের অপভ্রংশ, জজসায়েবদের অবরোধ করে রাখলেই ওনারা নাম তুলে দেবে, এটা কি আদৌ সম্ভব?

BLO দের দিতে মমতা ব্যানার্জী ঠিক কোন পাপটা করিয়েছে, জানেন?

👇👇👇👇👇👇👇

🔹১) জনগণ ডকুমেন্ট জমা দিয়েছে কিন্তু BLO আপলোড করেনি।

🔹২) আপলোড করলেও অত্যন্ত খারাপ মানের অস্পষ্ট ঝাপসা ছবি আপলোড করেছে, যা দেখে কারও বোঝার ক্ষমতা নেই ওটা বার্থ সার্টিফিকেট নাকি, পাশপোর্ট নাকি তালাকনামা।

🔹৩) হেয়ারিং এ নেওয়া ডকুমেন্ট নিয়ে স্থানীয় তৃণমূল পার্টি অফিসে দিয়ে এসেছে, সেখানে তৃণমূলের নেতার দল, আইপ্যাকের ভাড়াটে কর্মী আর ডেটা এন্ট্রি অপারেটরেরা মিলে ঠিক করেছে কতগুলো নাম বাদ দেবে। সেইমতো তৃণমূল বিরোধী নাম বেছে বেছে তাদের ডকুমেন্ট ওখানেই পুড়িয়ে দিয়েছে। AERO, ERO, DEO এই প্রতিটা লেভেলে এই পাপ সংগঠিত করিয়েছে তৃণমূল।

🔹৪) BLO কে একটা সার্টিফিকেট দিতে হয় পুরো আপলোড প্রক্রিয়ার শেষে- ‘verified with the original document and found in order অথবা verified with the original document and found correct’. ৯০% এর বেশী ক্ষেত্রে এটা দেয়নি।

নতুবা এমন গণহারে ডিলিট হতে পারে না নাম। উদাহরণ হিসাবে, সামসেরগঞ্জ বিধানসভায় মুসলমান নাম ডিলিটেড ৩৬৭৩৫ জন, অমুসলিম নাম ডিলিটেড ১৫৬ জন। আইনের চোখ বাঁধা থাক বা না থাক, রাষ্ট্র ব্যবস্থা কিন্তু হিন্দু মুসলমান ঠিকিই চিনে নিয়েছে। এটার জবাব অবশ্যই মাননীয় বিচারকদের দিতে হবে, তারা ইচ্ছাকৃত এভাবে মুসলমানদের নাম বাদ দিয়েছে নাকি ওনারা ডকুমেন্টস পাননি বলে নাম বাদ দিতে বাধ্য হয়েছে, এখানেই মমতা ব্যানার্জী ও তার সরকারের যাবতীয় ষড়যন্ত্র ধরা পড়ে যাবে। সুপ্রিম কোর্টকে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে। কিন্তু প্রশ্ন হল RSS কি তার দুর্গার বিরুদ্ধে যাবে? 

যে সকল রাজ্যে বিজেপির শাসন রয়েছে, এবং মুসলমান নিগ্রহে যে উত্তরপ্রদেশ দৈনিক শিরোনামে থাকে, সেখানেও মুসলমান এভাবে অত্যাচারিত হয়নি SIR এর নামে। সেখানে তার নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার চক্রান্ত হয়নি, এই নির্বাচন কমিশনই সেখানে SIR এর কাজ করেছে। অন্যান্য সকল রাজ্যে এরকম 'এডজুডিকেশন' বলে কোনো তালিকা হয়নি- গুজরাটে নয়, উত্তরপ্রদেশে নয় এমনকি বিহারেও নয়। ভোটের মুখে বিহারে বহু জলজ্যান্ত ভোটারের নাম স্রেফ মৃত হিসেবে বাদ পড়েছিল বলে জাতীয় রাজনীতিতে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। আসলে সেই সকল রাজ্যের শাসক দল SIR কে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানায়নি এই পর্যায়ে। মমতা ব্যানার্জী মুসলমান, SC/ST ভোটারদের একাংশকে জিম্মি বানিয়েছিল ভোটের স্বার্থে। মুসলমানের নাম আগে কেটে, পরে মসিহা সেজে তাদের বাঁচানোর নাটক করে বলবে- দেখো আমিই মুসলমানদের ত্রাতা, আমি না থাকলে বিজেপি এসে যাবে। বিজেপি নিকৃষ্ট সাম্প্রদায়িক দল সন্দেহ নেই, কিন্তু মমতা ব্যানার্জী বিজেপির চেয়েও নিকৃষ্ট মিথ্যাবাদী নির্লজ্জ আর বেহায়া।

কেরালা বা তামিলনাড়ুতে কিছু মানুষের তো ১ কিমি লম্বা নাম, ভীষণ খটমট। তারা শুরুতেই হলফনামা করে ইলেকশন কমিশনকে জানিয়ে দিয়েছিলো যে অমুক অমুক অমুক নাম বা পদবী আসলে একই। যেমন Sk, Shek, Seikh কিম্বা মুখার্জী, মুখোপাধ্যায়, Haque, Hoque, Haq এমন তো বাংলার সর্বত্র। মমতা এসবের ধারে কাছে যায়নি, উনি কেবল গুলিয়ে দিতে চেয়েছিলেন। কেরালা সরকার প্রশাসনিক চাপ ও ভোটারদের সমস্যার কথা উল্লেখ করে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছিল SIR বন্ধ/স্থগিত করার জন্য, কারণ একই সময়ে লোকাল বডি নির্বাচন চলছিল। IUML সহ বহু রাজনৈতিক দল SIR বন্ধ করার জন্য সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিল। তামিলনাড়ুতে সিপিএম সহ আরো অনেক রাজনৈতিক দল সুপ্রিম কোর্টে SIR-এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে মামলা করেছিল, আমাদের রাজ্য সিপিএমও মোস্তারি বানুকে বাদী করে মামলা করেছিল। যার ফলে আদালত SIR প্রক্রিয়ায় “logical discrepancy”তে থাকা নাম প্রকাশ করতে বাধ্য করে নির্বাচন কমিশনকে। মমতা ব্যানার্জি নাটক ছাড়া কি করেছিল এই পর্যায়ে?

প্রতিটা সংখ্যালঘু মেজরিটি বিধানসভা আসন গুলিতে SIR এর কারণে বিপুল সংখ্যক ভোটারকে ‘লজিক্যাল ডিস্ক্রিপেন্সির’ মাধ্যমে ডিলিট করা হয়েছে, যেগুলোর একটি সিটেও বিজেপি প্রতিযোগিতাতেই নেই। ভোটার ডিলিট করে বিজেপি অন্তত ওই আসন গুলিতে কোন লাভ করতে পারবে না, ওরা তিন নম্বর ছাগলছানা হয়েই রয়ে যাবে। লড়াই CPIM, ISF, কংগ্রেসের সাথে তৃণমুলের। যে নামগুলো ডিলিট করা হয়েছে, তারা প্রায় সকলেই অঞ্চলে তৃণমূল বিরোধী হিসেবে সুপরিচিত। সাদা খাতার দলদাস BLOরা স্থানীয় তৃণমূল পার্টি অফিসে বসে এদের নাম দায়িত্ব নিয়ে adjudication পাঠিয়ে দিয়েছিল। এইসব মুসলমান ভোট না দিতে পারলে একমাত্র লাভবান হবে তৃণমুল কংগ্রেস।

শুরুর দিন থেকে আমরা রোজ চেঁচিয়ে গেছি, মমতা ব্যানার্জী রাজ্যের একাংশের মুসলমানকে জিম্মি করেছে SIR এর নামে। অন্য কোনো রাজ্যে ডিসক্রিপেন্সি নেই, কিন্তু এ রাজ্যে আছে। প্রতিটা রাজ্যে এই একই SIR প্রক্রিয়া নির্বিগ্নে মিটেছে, কিন্তু বাংলাতে মুসলমানকে আঁটকে দেওয়ার জন্য এই ষড়যন্ত্র মমতা ব্যানার্জী রচনা করেছে। শুরুতেই ১ কোটি ৬৭ লাখ মানুষকে লজিক্যাল ডিস্ক্রিপেন্সিতে ফেলে দিয়ে পারফেক্ট হাহাকার পরিস্থিতি তৈরি করতে সক্ষম হয়েছিল। হেয়ারিং এ যখন ১ কোটি ৭ লক্ষ ব্যাক্তি ষড়যন্ত্রের জাল কেটে বেরিয়ে এল, মমতা ব্যানার্জী আরও মরিয়া হয়ে অফিসার দেওয়া বন্ধ করে দিল। ৬০ লাখ মানুষকে আন্ডার এডজুডিকেশনে পাঠিয়ে পুরো কাজ থমকে দিল। সুপ্রিম কোর্টের আদেশে রাজ্যের প্রায় সমস্ত আদালতের স্বাভাবিক কাজকর্ম স্তব্ধ রেখে বিচারকেরা ওই এডজুডিকেট ভোটারের ঠিকুজি কোষ্ঠী বিচারে বসে গেলেন, তারপর আজকের এই ‘ডিলিট’ পরিস্থিতি। বাদ পড়ে যাওয়া বৈধ মানুষেরা জানে না কবে ট্রাইবুনাল চালু হবে, আতঙ্কে দিশাহারা হয়ে প্রতিবাদ জানাতে গেলে রাষ্ট্রীয় খড়্গ নেমে আসছে। মুসোলিনি বেঁচে থাকলে ফ্যাসিবাদের ম্যানিফেস্টো যে মমতা ব্যানার্জীকে দেখেই লিখতেন, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। 

কেন মালদাতেই সবচেয়ে বেশি সমস্যা হচ্ছে! মালদা জেলার মৌলভীবাজার সাব ডিভিশন কেটে স্বাধীনতার সময় পূর্ব পাকিস্তানকে দেওয়া হয়েছিল। বিনিময়ে ওখান থেকে যশোর জেলার বনগাঁ সাব ডিভিশন এখানে এসেছিল। মতুয়াদের মধ্যে যে সমস্যা আছে, মালদা জেলায় গাজোল আর হাবিবপুর বাদ দিয়ে প্রত্যেকটি বিধানসভা কেন্দ্রে সেই একই সমস্যা আছে। বাংলাদেশের সাথে মুর্শিদাবাদ জেলার পুরোটাই নদী সীমান্ত। কোনো আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট নেই যেখান দিয়ে মানুষজন যাতায়াত করতে পারে, কিন্তু মালদা জেলায় দুটোই আছে। মালদা মুর্শিদাবাদ জেলায়, বিশেষ করে মালদা জেলায় প্রচুর পরিমাণ বাংলাদেশি হিন্দু আছে যারা সাম্প্রতিককালে এসেছে। মুসলমানকে জিম্মি করতে গিয়ে কমপক্ষে ৮-১০ লাখ হিন্দু অনুপ্রবেশকারী বহাল তবিয়তে ভোটারলিস্টে রয়ে গেছে। অবশ্য শুরু থেকেই রাজ্যের একটি রাজনৈতিক দলও হিন্দু অনুপ্রবেশকারীদের কোনোভাবে তাড়াতে চায়নি, সেটা কংগ্রেস হোক, সিপিএম হোক, বিজেপি হোক বা তৃণমূল। তৃণমূল মুসলমানকে জিম্মি করাতে এই অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের তাড়ানোটা ধামাচাপা পড়ে গেছে এই পর্বে।

মমতার পুলিশ সাবিনা ইয়াসমিনকে গ্রেপ্তার করবে না। দাঙ্গা লাগাবার কারিগরদের মমতা ব্যানার্জী মন্ত্রীত্বের পুরস্কার দেয়, রাজ্যসভায় পাঠায়। অতীতে হাজি নুরুল যেমন ছিল, টাটকা উদাহরণ- আসানসোল দাঙ্গার নায়ক বাবুল সুপ্রিয়র মতো একটা নিকৃষ্ট নর্দমার ছুঁচোকে রাজ্যসভায় পাঠিয়েছে। স্বভাবতই, সাবিনা ইয়াসমিন বা বাকি তোলামূলের নেতৃত্বরা আগামীতে পুরষ্কিত হওয়ার আশায় দিন গুণছে। প্রতিদিন মমতা ব্যানার্জীর মুখোশ একটু একটু করে খসে যাচ্ছে, সরকার থেকে বিসর্জন এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা, তারপর মানুষ এদের সুদে-আসলে বুঝে নেবে পাড়ায় পাড়ায়।

SIR এ যাদের নাম ‘Delete’ গেছে, বৈধতার সমস্ত ধরণের প্রমানাদি থাকা সত্বেও, রাষ্ট্র যন্ত্র তাদের নাগরিকত্ব কেড়ে নিয়েছে। ঠিক এই মুহূর্তে তারা বেনাগরিক ও রাষ্ট্রহীন। সেই তারা যখন বাপ দাদা চোদ্দ পুরুষের ভিটেতে দাঁড়িয়ে বৈধ কাগজাদি নিয়ে রাষ্ট্রের কাছে প্রশ্ন করছে কেন আমাকে বাদ দেওয়া হলো- বিজেপি, RSS, নির্যাতন কমিশন আর মমতা ব্যানার্জী তাদের হিংস্র দাঁত নখ নিয়ে হামলে পড়ছে নিজের নাগরিকের উপরে সর্বশক্তি দিয়ে, যেন ‘বেনাগরিক’ বানিয়ে দেওয়া মানুষগুলো দুষ্কৃতি বা রাষ্ট্রদ্রোহী। রাষ্ট্রযন্ত্র নিজে ব্যর্থ হয়েছে বা তাকে ব্যর্থ হতে বাধ্য করেছে তার নিজের নাগরিককে চিহ্নিত করতে, সেই ব্যর্থতার দায় থেকে মুখ লুকাতে, পুনরায় সেই আক্রান্ত মানুষগুলোকেই আবার টার্গেট করা হচ্ছে। এটা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এটা পরিকল্পিত চক্রান্ত। 

SIR দুর্নীতিতে তৃণমূল কংগ্রেস তার অতীতের সমস্ত ধরণের জালিয়াতি শয়তানিকে ছাড়িয়ে গেছে। মালদা, মুর্শিদাবাদ, বর্ধমান, নদীয়া তো ছিলই, ৪ঠা এপ্রিল তারিখে মতুয়া সমাজও যশোর রোড অবরুদ্ধ করে রেখেছিল। কোলকাতার বিভিন্ন ওয়ার্ডে লাগাতার বিক্ষোভ প্রদর্শন চলছে। চালাকি ধরে পরে যাওয়াতে ব্যাকফুটে থাকা মমতা ব্যানার্জী, RSS, ইলেকশন কমিশন আর বিজেপি, প্রত্যেকে একই ভাষায় কথা বলছে; যেন একজন কেউ লিখে দিয়েছে আর সকলেই মূল ভাব বজায় রেখে কপি পেস্ট করে চলছে। ফলত ঠকে যাওয়া মানুষগুলো গণতান্ত্রিক আন্দোলনে গেলেই - রাষ্ট্র তখন গ্রেফতারি, জামিন অযোগ্য মামলা আর CBI/NIA লেলিয়ে দিচ্ছে। এমতাবস্থায় একটাই উপায় বেঁচে থাকে, আদর করা। কিন্তু কাকে আদর করবেন? 

ইরানের মতো নিখুঁত টার্গেট সেট করে ভালবাসাবাসি শুরু করুন। সবার আগে অঞ্চলের BLO কে গিয়ে চেপে ধরুন, প্রশ্ন করুন- তুই কী কী আপলোড করেছিলি দেখা। না দেখাতে পারলেই হালকা করে সোহাগ করে দিন। গড়গড় করে সব সত্য উগরে দিতে শুরু করবে। এরপর তৃণমূলের নেতারা যখন ভোট চাইতে আসবে, অক্টোপাসের মতো জড়িয়ে ধরে চুমু খান। বেশি নয়, ব্লক, জেলা আর রাজ্য স্তরের ১ গণ্ডা করে তোলামূলের নেতাকে উপর্জুপরি ‘চুমুতে চুমুতে’ ভিজিয়ে দিন, দেখবেন আপনার নাম ডিলিটেড থেকে নিজে থেকেই সাপ্লিমেন্টারি তালিকাতে চলে এসেছে, গণতান্ত্রিক আন্দোলন করলে যারা মিথ্যা মামলা দেয়, 'আদরই' তাদের একমাত্র ওষুধ। এখানে আদর কিন্তু ডাকনাম।

ভাইপো সহ তৃণমূলের নেতারা কোন এমন তালেবর যে তাদের সুরক্ষার জন্য ৩০০০ এর বেশি পুলিশের বহর থাকবে! ৪ঠা মে এর পর এই পুলিশ ওদের কে দেবে? পাব্লিকের ক্যালানির হাত থেকে বাঁচতে ওরা নিজেরাই না কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলোর কাছে গিয়ে ধর্না দেয় যে- আমাকে এরেস্ট করো, জেলে অন্তত বেঁচে থাকব। লাথোকা ভুত বাতোসে নেহি মানতা হ্যায়।



শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০২৬

মাননীয় Nawsad Siddique Mla Bhangar ,



আপনি আরাবুলকে নিয়ে ভোট করবেন নাকি বামেদের তথা CPIM West Bengal কে নিয়ে চলবেন, এই সিদ্ধান্তটা আপনাকে নিতে হবে আর সেটা দ্রুত নিতে হবে। 

আরাবুল ইসলামকে ক্যানিং পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রে আপনার দলের প্রতীকে প্রার্থী করবেন, নাকি গত পাঁচ বছরে বহু প্ররোচনা সত্ত্বেও এই ধর্মান্ধ, উত্তপ্ত ও বিষাক্ত পরিবেশে নিজেকে স্বচ্ছ ও সংযত রেখে এগিয়ে যাওয়ার প্রয়াসে- সংখ্যালঘু মানুষের মধ্যে একটি সুস্থ বিকল্প শক্তির ভাবনা সৃষ্টি করে, যা ক্রমশ বিস্তারের ফলে আশার আলো জাগিয়েছিল। সামান্য কিছু লাভের আশায় আজ এই SIR-সদৃশ গণতন্ত্র বিরোধী ও নাগরিকত্ব-হরণমূলক প্রচেষ্টার প্রেক্ষাপটে, আপনি এই পরিস্থিতির বিরুদ্ধে লড়াই করে চলা মানুষ গুলোর পাশে দৃঢ় সংকল্প নিয়ে দাঁড়াবেন, নাকি তৃণমূল, বিজেপি তথা RSS-এর সুবিধা করে দিয়ে ধর্মনিরপেক্ষ জোট ভাঙার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেবেন? সিদ্ধান্তটি আপনাকেই নিতে হবে।

আপনাদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব কেবলমাত্র মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। তোলামুলের স্পেসিফিক বামদমন নীতির অত্যাচারে বহু অমুসলিম সিপিএম সমর্থক যেমন বিজেপিতে লুকিয়ে পড়েছিল, তেমনই মুসলমানেরাও আপনার বা আপনাদের মতো দলে ভিড়ে রয়েছে। তাই ভাববেন না ঝান্ডায় বাঁধা ডান্ডার শক্তির সবটাই একান্তই আপনাদের নিজস্ব। আপনারাও হুমায়ুন আর মিমের সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন, সেটা আর গোপন নয়। সেখানে বিশেষ সুবিধা করতে পারেন নি। তৃণমূল আপনাদের সঙ্গে আসন সমঝোতা করবে না, অতএব আপনি নিজেকে বিরাট কোন মসিহা মনে করলে মূর্খের স্বর্গে বাস করছেন। আপনি মোদিজীর মতো কোনো অযৌন পদ্ধতিতে জন্মাননি, আপনাকে ২০২১ সালে রাজনৈতিক ভাবে জন্ম দেওয়া হয়েছিল আলিমুদ্দিন নামের হাসপাতালে, সারোগেসি সিজারিয়ান প্রসেসে।

এবারে একটু চাঁচাছোলা ভাবে কিছু কথা বলি-

জোটের নামে আপনার দল Indian Secular Front যে আসনগুলি দাবি করেছে, তার বাইরে পশ্চিমবঙ্গের কোনো একটা আসনে আপনাদের ভোট দিয়ে একজন বাম প্রার্থীকে জেতাতে পারবেন? মূলত দক্ষিণ ২৪ পরগনার ২-৪টে এলাকার বাইরে আপনারা একটা এমন আসনের নাম বলুন যেখানে আপনারা জামানত বাঁচাতে পারবেন, কিম্বা ১০% বুথে এজেন্ট দেওয়ার অউকাত আপনার দলের রয়েছে? বাংলার অন্তত ১৫টা জেলার অধিকাংশ মানুষ জানেইনা ISF বস্তুটা খায় না মাথায় দেয়! তামিলনাড়ুর PMK যতটা গুরুত্ব রাখে বর্ধমান, মেদিনীপুর, বীরভূম, নদীয়া, মালদা, মুর্শিদাবাদ সহ সমগ্র উত্তরবঙ্গে, আপনার দলের গুরুত্ব ঠিক ততটুকুই- অকিঞ্চিৎকর জবরদস্তি উপস্থিতি।

২০২৪ এর লোকসভা ভোটে বামেদের সাথে আপনাদের আসন সমঝোতা হয়নি, গোটা পশ্চিমবঙ্গের কথা ছেড়ে দিন, দক্ষিণ ২৪ পরগণার বসিরহাট, জয়নগর, মথুরাপুর- এই ৩টে লোকসভায় আপনারা তিন নম্বর ছাগলছানা হয়েছিলেন, এতোই আপনাদের মুরোদ। বামেরা দুর্বল বলেই তো আপনাদের সাথে দায়ে পরে আসন সমঝোতা করেছে, আপনাদের সাথে তো কোনো মতাদর্শ গত জোট নয় এটা। তথাপি, আপনি নিজে এমন কোনো সমাজ সংস্কারকও নন যে, গত ৫ বছরে ভাঙরকে দুবাই বানিয়ে দিয়েছেন সামগ্রিক উন্নতিতে, শিক্ষাদীক্ষায় ইরান বানিয়ে দিয়েছেন। ইরান তবু তার স্বল্পশক্তি দিয়ে আমেরিকা-ইজরায়েলের বিরুদ্ধে আপোষহীন লড়াই দিচ্ছে কাঠে-কপাটে, সেখানে আপনি RSS এর বিরুদ্ধে লড়াই তো দূরস্থান, সামান্য তোলামুলের ‘তাজা নেতা’র লোভে আপোষ করে ফেললেন।

মানুষ যেকোনো মূল্যে RSS এর দুই ফুলের হাত থেকে পরিত্রাণ চাইছে, সেই কারণে সিপিএম নিজে থেকে উদ্যোগী হয়ে RSS বিরোধী আর এই তোলামুল সরকারের বিরোধী প্রতিটা প্রান্তিক শক্তিগুলোকে একটা ছাতার তলায় আনার চেষ্টা করেছে, এতেই আপনারা নিজেদের বিশাল হনু ভেবে বসেছেন। সিপিএম, কংগ্রেসের মতো ঐতিহ্যবাহী শতবর্ষপ্রাচীন দলের সাথে জোটের মুখে পেচ্ছাপ করে দিয়েছে, সেখানে আপনারা তো স্রোতের পানা, এখনও হামাগুড়ি স্টেজে আছেন রাজনীতির মাঠে; হাত ছেড়ে দিলেই কিছুটা এগিয়ে গিয়ে ঘুর্ণিতে ডুবে যাবেন সময় পাঁকের তলদেশে। 

আমি আপনাকে প্রশ্ন করছি, বামেরা আপনাকে ভাঙড়, ক্যানিং জিততে সহযোগিতা করবে, আপনি কোন আসনে এমন শক্তিশালী আছেন যেখানে আপনাদের দলের সহযোগিতায় বামেরা জেতার স্থানে রয়েছে, অঙ্ক কষে সাংবাদিক সম্মেলন করে ঘোষণা করুন না হয়। বাই দ্য ওয়ে, আপনার যেখানে বাড়ি, সেই ফুরফুরা এলাকার পঞ্চায়েতের বুথগুলোতে আপনাদের প্রার্থীর জামানত বেঁচে ছিল শেষ ২০২৪ নির্বাচনে? আর লেজুরবৃত্তি না কি যেন একটা বলেছেন সম্প্রতি, ওসব বিজ্ঞবিচি মার্কা সংলাপ লুঙ্গির নিচে রাখতে হয়, কারণ ওগুলোকে আমরা ঝাঁটের বাল বলি।

সেলিম সাহেব যথার্থই বলেছেন ‘‘ওই ব্যক্তিকে ‘বগলদাবা’ করে তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াই করা যাবে না।’’ তবে, সেলিম সাহেবর কাছেও একটা প্রশ্ন রয়েছে, কাল হঠাৎ করে আরাবুল প্রসঙ্গ ইরানের হাইপারসনিক মিসাইলের মতো কাউকে সুযোগ না দিয়ে মাথায় ভেঙে পড়েনি। শেষ ২-৩ সপ্তাহ ধরে এটা চলছে। আপনারা তখন কি কানে আতর মেখে চাঁদনি রাতে শলমাজরির নক্সা দেখছিলেন? আব্বাস সিদ্দিকির সাথে আপনার তো ভাসুর-ভাদরবৌ সম্পর্ক নয়! শুরুতেই কেন বিড়াল মেরে দেননি যে- এ থাকলে আমরা নেই, রাস্তা দেখো। আপনার সারাজীবনের রাজনৈতিক লেগাসির কাছে এসব চার দিনের বৈরাগীর অদৌ দু-পয়সার গুরুত্ব আছে? আপনারা তো আবার ‘অফিসিয়ালি’ বাম জোটের সমন্বায়ক করে রেখেছেন- নৌসাদের ভাষায় বিমান বসু ‘স্যার’কে; যিনি প্রবাদপ্রতিম নেতা হয়েছেন দীর্ঘ নিরোগ জীবনের কারণে ও কলকাতা ভিত্তিক সমবয়সী কেউ বেঁচে নেই বলে। সুতরাং এমন জগাখিচুড়ি মার্কা রাজনোতিক ঘোলাটে অবস্থা হবে না তো কী হবে! হাতে গোণা কদিন পর ভোট, আর এ যেন ছাদনাতলায় বসে- কণে বলে, হাগা পেয়েছে। ছ্যাঃ 

এভাবে জোট হয়? এটা তো রাজনীতি প্যাঁচ, কারও ব্যক্তি পছন্দের ঘরের বারান্দা নয়। একটি আসনেও যদি বাম-ISF মুখোমুখি লড়াই হয় তাহলে সেটা সামগ্রিক লড়াই হিসেবেই ধরা হবে। যত দ্রুত সম্ভব বীরভূমের মুরারই এবং পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম ও পাঁশকুড়া পশ্চিম আসন থেকে ISF প্রার্থী প্রত্যাহার করুক, এবং সেটা কোনো ধরণের স্টান্টবাজি না করে। আমাদের মতো বাম কর্মী সমর্থকেরা কিন্তু আলিমুদ্দিনের নেতাদের মতো মার্জিত সভ্য ভদ্র নয় সকলে। খুনি কংগ্রেসকে কেলিয়ে লাট করে বাম কর্মী সমর্থকেরাই পার্টিকে ক্ষমতায় এনেছিল, আজ হোক বা কাল তোলামুলকেও তাড়াবে একই পদ্ধতিতে; তাতে যে সাথে দেওয়ার দেবে, না দিলে পথ দেখো। সারাটা বছর ধরে রাজ্যের প্রতিটা প্রান্তে রাজনৈতিক লড়াইটা মূলত ‘শূন্য’ সিপিএমই করে, তারা কিন্তু ক্যালানি সইতেও জানে, পালটা দিতেও জানে। 

বামেরা আদর্শবাদী দল, তাদের নিজস্ব ইডিওলজি রয়েছে, আগামী আরো ১০ বছর ‘সিপিএম শূন্য’ থাকলেও দলটা মুছে যাবে না। কিন্তু সিপিএম যদি হাত তুলে নেয় আপনাদের মাথার উপর থেকে, আপনাদের আবার ওই ঝাড়ফুঁকের ব্যবসা আর রাতের জলসাতে ‘ঠিক কি বেঠিক’ এর মাচার ব্যবসাতে ফিরে যেতে হবে।

নৌসাদ সিদ্দিকি, আপনার মাথায় ফেজ টুপিটা যতটা ইসলামকে মানার জন্য, তার চেয়েও বেশি ভেক ধরার জন্য। কারণ পীর ফকিরির নামে ‘ইসলাম’ ধর্মটাই আপনাদের ব্যবসার পুঁজি, টুপি পাঞ্জাবি ইত্যাদি ধাড়াচূড়া আপনাদের দোকান। ইসলামে ফেজ টুপি পরা ফরজ বা ওয়াজিব নয়। কোরানে বা সহীহ হাদিসে কোথাও বলা নেই যে নির্দিষ্ট এই টুপি পরতেই হবে। নবী(সাঃ) মাঝে মাঝে মাথা ঢাকতেন পাগড়ি বা কাপড় দিয়ে, কিন্তু সেটাও অবশ্য পালনীয় বিধান হিসেবে নির্ধারিত হয়নি।

আপনাদের ফুরফুরা শরীফ মুসলমান সমাজের জন্য এমন কোনো মহৎ কাজ করেনি গত ১০০ বছরে, যার জন্য বাঙালি সমাজ তো দুরস্থান, আপনার জেলার মুসলমানেরাও সার্বিকভাবে উপকৃত হয়েছে। অথচ আপনাদের বিপুল সম্পত্তি বেড়েছে পারিবারিক ভাবে। এর বাইরে ক্ষমতার লেজুরবৃত্তি করা আপনাদের ফুরফুরার চরিত্র। চাচা সিদ্দিকি সারাজীবন মান্নীয়ার চটি চেঁটে গেছে, নতুক করে আরেকটা কাছিম সিদ্দিকিকে পাঠিয়েছেন। সেলিমের বদান্যতায় আব্বাস সিদ্দিকি পায়ের নিচে রাজনৈতিক মাটি আর মানুষ হিসাবে সমাজে স্বীকৃতি পেয়েছিল। 

মুর্খের নানা দোষ, সে তার অউকাত চেনে না। চেয়ে খাওয়া আর ঝাড়ফুঁকের নামে চিটিংবাজি করে রোজগার করা আপনাদের পরিবার, স্বভাবতই আপনাদের চক্ষুলজ্জাহীন একটা নির্লজ্জতার ঐতিহ্য আছে। সাধারণ লোকে যেটাকে ধর্মকে হিসাবে পালন করে, আপনারা সেটাকে বিক্রি করে খান, আপনাদের কাছে সবকিছুই ক্রয়বিক্রয়ের পণ্য। আপনারা অনুকূল ঠাকুরের মুসলমান ভার্সন। আপনাদের সিদ্দিকি পরিবারের উঠোনে যদি ইজরায়েলের লিকুদ পার্টিও দুটো টিকিট ছুঁড়ে মারে টাকার ঝুলি সহ, আপনাদের পরিবারের অধিকাংশ জনই নেড়ি কুত্তার মতো জিভ দিয়ে সেটাই চেঁটে নিয়ে কামড়াকামড়ি করবেন। এই হচ্ছে আপনাদের পারিবারিক অউকাত। সুতরাং, লেজুরবৃত্তিই আপনার আজকের তারিখে অউকাত।

যদি আরাবুলকে নিয়েই আপনাকে ভোট করাতে হয়, করুন। আলিমুদ্দিনের লেজুরবৃত্তি করতে হবে না। আপনাদের মুরোদ থাকলে একতরফা জোট ভেঙে দিয়ে একলা লড়ে দেখান, বুঝবো বাপের ব্যাটা আপনারা। আলিমুদ্দিন ছিল বলে পায়ের নিচে রাজনৈতিক জমিটা পেয়েছিলেন, আবার আলিমুদ্দিন সরে গেলে আপনার রাজনৈতিক অস্তিত্ব মুছে ওই জলসা, জলপড়া, তাবিক কবজের নামে লোকঠকানো ব্যবসার পাশাপাশি আপনি প্রতিকুর হবেন না পাতি কুকুর হবেন নিজেও জানেন না।


আর এটাই সম্ভবত এটাই আপনাদের ভবিষ্যৎ।



মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ, ২০২৬

সাদা খাতার প্রজন্ম

 


সর্বত্র সাদা খাতা কেস, আজকের সাপ্লিমেন্টারী ভোটার লিষ্ট রাষ্ট্র পরিচালিত প্রকাশ্য জালিয়াতি। সাদা খাতার শিক্ষকদের BLO বানিয়ে SIR করানো, সাদা খাতার BDO দিয়ে নোডাল অফিসারের কাজ করানোর পর, মহামান্য বিচারপতিদের এই অপূর্ব শিল্পকলা - সাপ্লিমেন্টারি ভোটারলিস্ট এর নামে সাদা খাতা। মোটাদাগে ভণ্ডামি।

শুক্রবার এসে দাঁড়ালো সোমবারে। সোমবার দুপুর গড়িয়ে বিকাল হয়ে মাঝরাত্রে সাইট খুললো, কিন্তু তাতে কি? ম্যাজিক-

No adjudication pertaining to this part till 5 PM on 23.3.2026

৩০ লাখের নিষ্পত্তির গল্প শুনিয়ে, আদতে গোটা রাজ্যের হাতে গোনা কয়েকটা বুথে হাজার তিনেকের বেশী কোনো সমস্যার নিষ্পত্তি হয়নি। পুরোটা একটা নির্জলা মিথ্যাচার, ধাপ্পাবাজি। এই অসভ্য ধোঁকাবাজিতে আমাদের বিচারব্যবস্থাও কোনোভাবে দায় এড়াতে পারেনা, তারাও সমান ভাবে এই বৃহৎ ষড়যন্ত্রের অংশীদার আজ থেকে।

রাজ্যের সর্বত্র এই এক অবস্থা, মানুষ সারা রাত জেগে চেষ্টা করে যাচ্ছে মরিয়া হয়ে- তার নাম আছে তো নাগরিকের তালিকাতে! অত্যন্ত নিকৃষ্ট একটা নোংরামি করলো এই নির্যাতন কমিশন। ECI এর মত গণতান্ত্রিক কাঠামোর মূল স্তম্ভ যখন এভাবে প্রকাশ্যে সাংবাদিকদের সামনে এসে ডাঁহা মিথ্যাচার করে, তখন গণতন্ত্রের পোশাকের আড়ালে স্বৈরাচারী একনায়কতন্ত্রের দাঁতনখ গুলো স্পষ্টভাবে ফুটে উঠে।

মিডিয়া আগেই বিকিয়ে গিয়েছে, দেশের সংসদ 'জর্জ অরওয়েলের' পশুখামারের আদর্শ রূপ, এখন বিচারব্যবস্থাও জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের সর্বনাশ করতে উঠেপরে লেগেছে, নির্যাতন কমিশনের প্রতারণা খেলার পার্টনার হয়ে গেছে। গণতন্ত্রের শিরচ্ছেদ করে গণকে বলি দিয়ে তন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করতে মরিয়া। Absolute Bureaucracy 

তোলামূল যেনতেন ভাবে ২০২৪ ভোটার লিস্ট দিয়ে ভোট করাতে মরিয়া, বিজেপি এডজুডিকেশনের নামে পৌনে এক কোটি মানুষকে জিম্মি বানিয়ে, ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে ক্ষমতায় আসতে মরিয়া। বাকি সব রাজনৈতিক দল MLA বানাবার প্রক্রিয়াতে ব্যস্ত, পৌনে ১ কোটি মানুষ বঞ্চিত বেনাগরিক হয়ে চরম দুর্দশায়।

মানুষ এতোদিন চুপ করে সয়ে যাচ্ছিলো, তারপরে আজকের এই প্রতারনার পর যদি এই পৌনে এক কোটি দিশেহারা মানুষ উন্মত্ত হয়ে উঠে দলে দলে রাস্তায় নেমে আসে- রাষ্ট্রের মুরোদ আছে তাদের নিয়ন্ত্রণ করা? নাকি রাষ্ট্রযন্ত্রই তার নাগরিকদের উপরে বুলেট বৃষ্টি করে মরদ সাজবে? 

বিজেপি কি এটাই চাইছে, যেকোনো মূল্যে অশান্তি দাঙ্গা পরিস্থিতি তৈরি করে আইনশৃঙ্খলার দোহায় দিয়ে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করতে? নাগরিকত্বের মৌলিক অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলা- আসলে আগুন নিয়ে খেলা, যে আগুন দাবানল হয়ে উঠার দ্বারপ্রান্তে।

ক্ষোভ নামের বারুদের স্তুপে আগুন যেকোনো সময় বিস্ফোরণ লাগাতে পারে। নগর পুড়লে কি দেবালয় রক্ষা পাবে? নাকি সেই দেবতারা রক্ষা পাবে যারা ক্ষমতার দম্ভে মত্ত হয়ে নিজেদেরকে দেবতার স্তরে বসিয়ে ফেলেছে!

এক চরম মাৎস্যন্যায় নৈরাজ্যের পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিলো আমাদের রাজ্যকে, আজকের পর প্রতিটা অরাজকতার দায় নির্যাতন কমিশনের। যুদ্ধটা যখন নাগরিকদের সাথে, তারাই বুঝে নেবে কীভাবে চাবকে রাষ্ট্রকে আবার গণতন্ত্রের নামতা শেখাতে হয়।



রবিবার, ১৫ মার্চ, ২০২৬

যতই করো হামলা, আবার জিতবে বাংলা।

 


গতকালের গিরীশ পার্কের ‘হামলা’, এটা তাদের ভোট প্রচারের ‘আত্মার’ প্রাণ প্রতিষ্ঠা করতেই।

যতই করো হামলা, আবার জিতবে বাংলা।

ডিসক্লেইমারঃ- আইপ্যাক অনেক আগেই বুঝে গিয়েছিল দলদাস পুলিশ সরে গেলেই, স্যাটাভাঙা ক্যালানি দিয়ে চোর, কাটমানিখোর তোলাবাজগুলোর পিঠের চামড়া খিঁচে চুরির মাল বের করে নেবে জনতা। সেই ভয়ে ভীত তোলামুলের ওই চোর, কাটমানিখোর তোলাবাজ সম্প্রদায়কে ভরষা দিতেই লেখা হয়েছে এই চরম দূরদর্শী স্লোগানটা- যতই করো হামলা, আবার জতবে বাংলা। বার্তা পরিষ্কার, এই দফাতে ক্যালানি খেয়ে টিকে যেতে পারলে আবার চুরিচামারির সুযোগ পাবি। তাই হামলা হলে ভেঙে পড়িস না, এটুকু সইতেই হবে, পেটে খেলে পিঠে সয়।

এই ছবিটা গত ২৭শে ডিসেম্বর তোলামূলের অফিসিয়াল পেজে প্রকাশিত হয়েছিল। এটাই এবারের ভোট বৈতরণী পেরোতে আইপ্যাকের মস্তিষ্কপ্রসুত ন্যারেটিভ, যেমন একবার ছিল ‘পরিবর্তন চাই’, একবার ‘খেলা হবে’ ইত্যাদি। তা সে যাই হোক, ন্যারেটিভ না হয় নামানো হলো, কিন্তু শাসক দলই যে তোলামূল, হামলা করবেটা কে? করলেই সরকারি পুলিশ প্রশাসন দিয়ে গাঁজা কেস, সাজানো রেপ কেস, মার্ডার কেস ইত্যাদি, এমন শিল্পের তো অভাব নেই প্রতিটা থানার IC/OC ও লোকাল BDO/SDO দের অস্ত্রভান্ডারে।

এদিকে হামলা না হলে ন্যারেটিভ দাঁড় করানো যাচ্ছে না, আবার হামলা হলে আইনশৃঙ্খলা ও গোয়ান্দা ব্যর্থতার দায়ও ঘুরেফিরে পুলিশমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর উপরেই এসে পড়ে। উভয়সঙ্কট পরিস্থিতি। এগোলে সর্বনাশ, না এগোলে নির্বংশ। এদিকে সিপিএম/ISF এর হাতে মার খেলে শুধু জাত যাবে তা ই নয়, প্যান্ডরার বাক্স খুলে যাবার চান্স প্রবল- বাংলা জুড়ে ছোঁয়াচে রোগের মতো কুত্তা ক্যালানি শুরু হয়ে যেতে পারে পাড়ায় পাড়ায়। নিদেন পক্ষে হুমায়ুনের উপরেও ক্যালানি বিষয়ে ভরষা করতে পারেনি কালীঘাট, পাছে সত্যি সত্যি কেলিয়ে লাট করে দেয়। 

তাহলে সব বাঁচিয়ে, কীভাবে ‘হামলা’ পরিস্থিতি তৈরি করা যায়, যেখানে মান খোয়ালেও জাত যাবে না। RSS প্রভুর দারস্থ হতেই, তাদের মূল প্রোডাক্টে সিগন্যাল দিয়ে দেওয়া হলো, বাকিটা তো স্ক্রিপ্ট অনুযায়ী একটা লং সিন শ্যুট করা। বিজেপিও তাদের প্রভুর সভার দিন মেইনট্রিম টিভি মিডিয়াতে, ‘ব্রিগেড’ শিরোনামে নিরবচ্ছিন্ন বিজ্ঞাপন দেখাবার সুযোগ পেয়ে গেলো সকাল থেকেই। অতএব, মোদীর ব্রিগেডকে লক্ষ করে ব্রাহ্মমুহুর্ত স্থির করা হলো, মোদীর বদলে যদি যোগী বা জুমলা শাহও এমন বড় কোনো পাবলিক মিটিং করতেন এই সময়, সেখানেও এমন হামলা নামের চিৎপুরের যাত্রাপালাটা অনুষ্ঠিত হতো।

এমতাবস্থায়, গতকালের তারিখটাকে বেছে নেওয়া, আসলে আইপ্যাকের এবারের ‘থিম সং’ স্লোগানটা বাস্তবের মঞ্চে মঞ্চস্থ করতে। এমনিতেই ব্রিগেডে বিজেপির সভাতে আসাম, ঝাড়খন্ড বিহার থেকে কয়েক লাখ ভাড়াটে দিনমজুরকে নিয়ে আসেতে হয় মাঠ ভরাতে; এই দিন ‘হামলা’ হলে এই অজ্ঞাত পরিচয়দের নামে বিল ফেড়ে দিলে, জাত কুল দুটোই রক্ষা হবে। হামলাও হলো, দোষও কারো ঘাড়ে পরল না, পারফেক্ট উইন উইন সিচুয়েশান। 

সোনাগাছি থেকে দালাল শ্রেণির কিছু মালকে দিয়ে র‍্যান্ডম ঢিল ছোঁড়ানো চলছিল কোলকাতা পুলিশের কঠোর তত্ত্বাবধান ও নজরদারিতে। প্রথম আধাঘন্টায় কেউ সেভাবে বিষয়টাকে আমলে নেয়নি, কিন্তু একটা বাসে ‘বিজেপি’র কিছু মাতাল বোঝাই ছিল, সেখানে ঢিল পড়তে তারাও খানিক ঢিল ছুঁড়ে ব্রিগেডের দিকে রওনা হয়ে যায়। এ অবধি ঠিকই ছিল, প্রশ্ন হলো এতো ঢিল কোলকাতা শহরের বুকে এলো কীভাবে? হোয়াইট হাউস থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তি থেকে জানলাম, NASA স্যাটেলাইট চিত্র মোতাবেক, কোলকাতা পুলিশই নাকি পার্কসার্কাস রেললাইনের ধার থেকে খোয়া এনে ‘হামলা’র মঞ্চ প্রস্তুত করে রেখেছিল, কীজানি হবেও হয়তো বা, যারা আন্তর্জাতিক মিডিয়া ফলো করে তারাই ভালো বলতে পারবে এই দাবীর সত্যতা। তো ছিল গতকালের গোটা গল্পটা।

তোলামূলের এবারের থিম যেহেতু ‘হামলা’, আগামীতে ভোটের অন্তিম দিন অবধি আবার এরা নিয়মিত পাতানো ম্যাচে হালকা ফুলকো ক্যালানি খেয়ে সহানুভূতির দোকান খুলে বসবে রোজ। গতকাল যেমন জামার উপর দিয়ে ব্যান্ডেজ বাঁধা আহত রোগী দেখলাম, ভয়ঙ্কর অসুস্থ শশী পাঁজা যিনি নাকি বসতে পারছিলেন না, তিনিও অবলীলায় ১ ঘন্টার উপরে সাংবাদিক সম্মেলন করে গেলেন। এমন টিভি সিরিয়াল মার্কা ‘হামলা’ শুটিং আগামীতে যখনই হবে, জনগণের উচিৎ হাতের কাছে ঝাঁপের লাঠি, খুঁটির বাঁশ যা কিছু পাবে, তাই দিয়ে এলোপাথাড়ি ভাবে ফেলে ক্যালানো চোর, কাটমানিখোর তোলাবাজ সম্প্রদায়কে। ডজন খানকে চোর, কাটমানিখোর তোলাবাজকে সত্যি সত্যি হাসপাতালে পাঠিয়ে দিলেই, এদের এবারের ন্যারেটিভ ধ্বসে যাবে ভোটের আগে।

সিপিএম, কংগ্রেস ও ISF, এদের প্রত্যেকের নৈতিক ও সামাজিক দায় রয়েছে এই হামলাতে অংশ নেওয়া, প্রত্যক্ষ পরোক্ষ যেভাবে খুশি হোক। পাতানো ম্যাচে হামলা নামের খেলা হলে, সেটাকে কাঠে কপাটে লাগিয়ে গণধোলাই এর বন্দোবস্ত করা- জাতির সাথে সাথে আইপ্যাকও সেটাই চাইছে। ফাঁসির আসামীরও শেষ ইচ্ছা পূর্ণ করা হয়, সেখানে তোলামূলের ক্যালানি খাওয়ার শেষ ইচ্ছা পূর্ণ না করলে ‘রাজনাথ সিং’ও আপনাদের জন্য কক্ষণও কড়ি নিন্দা করবে না। আপনারা মহাপাতকের দলে পরিগণিত হবেন। 

তামাম পাবলিককে বিষয়টা জানিয়ে দেওয়ার গুরুদায়িত্ব আপনার, কারণ এবারে ক্যালানি খাবে বলেই বাংলার সর্বত্র হোর্ডিং টাঙিয়েছে তোলামূল, ওদের মনোবাসনা পূর্ণ করা আমাদের পবিত্র কর্তব্য। নতুবা ওরা আবার ফিরে এলে কেন ‘হামলা’ করিনি, এই অপরাধে আমার আপনার চামড়া খিঁচে নেবে, যেমনটা গত ১৫ বছর ধরে করেছে।

বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬

নাড়ু 'চে' ব্যানার্জী জিন্দাবাদ



বর্ধমানের 'ভিঞ্চিদা' তৌসিফ প্রতিকুর হক যখন ঐ বারোভাতারি হোয়াটস্যাপ গ্রুপ গুলো খুলেছিলো SIR এ 'আন্ডার এডজুডিকেশনে' থাকা মানুষগুলোকে নিয়ে, সেখানে কোনো একটা অংশে তার লিখিত দাবী ছিলো- আমি আলিমুদ্দিনে কথা বলে নিয়েছি, চাপ নেই।

সেদিন ওই খোঁচরের কথার ব্যাপ্তিটা ধরতে না পারলেও, আজকে অসুবিধা হচ্ছেনা, 'সম্প্রীতির সোনাগাছি' বানিয়ে আসলে কে বা কারা তৌসিফকে তথাকথিত অনুমতি দিয়েছিলো। প্রতিকুর একা পচেনি, গোটা দক্ষিণ ২৪ পরগনার পার্টি স্ট্রাকচারটার রন্ধ্রে রন্ধ্রে পচন ছড়িয়েছে। প্রতিকুর সেই পচনের পুঁজ অংশটা যে ফিনকি দিয়ে বেরিয়ে এসেছে। প্রতিকুর সামান্য অংশ মাত্র, আসল পচাগলা অংশটা শরীরের ভিতরেই রয়ে আছে।

নাড়ু ডাক্তারকে কি বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান এমিরেটাস বানানো যায়না আসক্ত নবতিপর বিমান বসুকে বিশ্রাম দিয়ে? বিজেপির ভাবধারায় তৃণমূলের আদর্শে দীক্ষিত মানুষজনের দাবী মত CPIM এর নতুন যে রূপ যুগের সাথে তাল মিলিয়ে, তার শীর্ষে নাড়ুবাবুর চেয়ে যোগ্য আর কেউ আছে কি? আলিমুদ্দিন নামটাও বড্ড সেকেলে, মোল্লা ছাপ; নারায়ন ব্যানার্জী ভবন হলে এই ভাবের ঘরে চুরির ল্যাটা চুকে যায়।

SIR নিয়ে ভাইপো ও তোলামূলের যা দাবী, ভাইপোর আগের দফায় ভাইপোর ডায়মন্ড কেন্দ্রের বিদায়ী সাংসদ তথা গণশক্তির সম্পাদকের যে 'SIR এ মৃত্যু মিছিল' গল্পটা কী পার্টির বক্তব্য নাকি গণশক্তির নাকি ব্যক্তির নিজের? কারন পার্টি সম্পাদক সহ বাকি নেতৃত্ব তো এই লাইনে যায়নি। ভাইপোর ফ্লপ হওয়া রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডাকে এনারা, এই দক্ষিণ ২৪ পরগণা নের্তৃত্ব কবর থেকে খুঁচিয়ে তুলে আনছেন, কী মনোরম এই দৃশ্য। মিলে সুর মেরা তুমহারা, যেন ৯০ এর দশকের ডিডি ন্যাশেনাল। লালকে গেরুয়া, সবুজ ও নীলে মিশিয়ে দেওয়া- রাজ্য রাজনীতির পলিটিক্যাল ইন্ট্রিগ্রিটি তথা সমন্বয়ের একটা মুখ খুঁজতে হলে সেটা নাড়ু ব্যানার্জীর চেয়ে আদর্শ কেউ হতে পারেনা। ভাইপোর পে-রোলের রেঞ্জ নিয়ে সিরিয়াসলি ভাবনা চিন্তা করতে হবে জনগণকে।

'চে' ডাক্তার ছিলেন, অনেকেই তার ট্যাটু বানান নিজ শরীরে। নারায়ণ ব্যানার্জী বাবু, আপনিও তো ডাক্তার, বিপ্লবীও বটে। একইসাথে প্রতিটা রাজনৈতিক দলে অবাধ গেরিলা যাতায়াত আপনার। পরেরবার যে যে আলিমুদ্দিনের নেতৃবৃন্ধ আপনার সাথে দেখা করতে আসবে, প্লিজ তাদের কপালে ও পাছায় আপনার চাঁদ বদনের একটা ট্যাটু করে দেবেন। হ্যাঁ পাছাতেও, যাতে যৌণ মিলনের সময়েও সংশ্লিষ্ট নের্তৃত্বের সঙ্গী/সঙ্গীনী আপনার ট্যাট্যুকৃত ছবি দেখে উত্তেজনায় 'বুর্জোয়া' জল খসাতে পারে। নতুবা রাজ্যে ততক্ষণ বামেরা সংখ্যাতে ফিরবেনা, যতক্ষণনা 'চে' এর পোজে আপনার থোবরাঙ্কিত ট্যাটুতে বৈপ্লবিক বীর্যপাতে শাহী স্নান করাচ্ছে। 

আমি আপনার সাথে একমত, একশ্রেনীর উদার বাম নেতা আজ আর 'বস্তাপচা' মার্ক্সবাদে নয়, আপনার দেওয়া আধুনিক 'নাড়ুবাদে' বিশ্বাসী হয়ে উঠেছেন। তাদের জন্য আপনি ম্যানিফেস্টো রোজই লিখছেন ফেসবুকে, এবার ভোটের আগে সেটাই বই আকারে প্রকাশ করুন প্লিজ, আপনার অনুগামী বামেদের বক্তিতাতে সুবিধা হবে।

- ইতি

আপনার একান্ত ভক্ত, রাষ্ট্রের হাতে জিম্মি থাকা ৬০ লাখের একজন চুড়ান্ত প্রতিক্রিয়াশীল হার্মাদ







রবিবার, ৮ মার্চ, ২০২৬

দুই ফুলের ধাষ্টামিকে এড়িয়ে যান

 


৬০ লাখ মানুষ যেখানে রাষ্ট্রের কাছে নাগরিকত্বের প্রশ্নে জিম্মি হয়ে হয়েছে, সেখানে রাষ্ট্রপতি পদে থাকা একজন RSS এর কাঠপুতুলকে নিয়ে সময় নষ্ট করার বাহুল্যতা কি খেটে খাওয়া মানুষের রয়েছে? RSS এর নির্দেশে বিজেপিকে প্রাসঙ্গিক করতে মিডিয়ার ন্যারিটিভ ফিরিয়ে আনতে এই সমস্ত আয়োজন। এই বিতর্কে দেশের কোনো মানুষের কিচ্ছুটি লাভ বা ক্ষতি নেই। এমনিতেই রাজ্যপাল আর রাষ্ট্রপতি পদ দুটোর নামে সাদা হাতি পোষার প্রয়োজন রাষ্ট্রের রয়েছে কিনা সেটাই সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক প্রশ্ন আজকের দিনে দাঁড়িয়ে।

বুকে হাত রেখে বলুন তো, এই ‘ফালতু’ ঘটনা না হলে ভারতের রাষ্ট্রপতির নাম আপনার মনে ছিলো? কালাম সাহেবের পর ভারতের রাষ্ট্রপতি একটি অত্যন্ত গুরুত্বহীন রবার স্ট্যাম্প মার্কা পদ হয়ে গেছে। গুগল না করে এর আগের রাষ্ট্রপতির নাম বলতে পারবে না অধিকাংশ মানুষ, শুধু এইটুকু মনে আছে আগের রাষ্ট্রপতি তপশিলি জাতির ছিলেন, বর্তমান রাষ্ট্রপতি তপশিলি উপজাতির। গত ১০ বছরে দেশের তপশিলি জাতি ও উপজাতিরা ঠিক কতটা উপকৃত হয়েছে কেউ জানাবেন দয়া করে? 

এখনও অবধি বিজেপি যাদের যাদের সাথে জোট করেছে তাদের সবাইকে খেয়ে ফেলেছে, বাকি শুধু তৃণমূল কংগ্রেস। মমতা ব্যানার্জী অত্যন্ত নিকৃষ্ট শ্রেনীর রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, চূড়ান্ত অসৎ ও বেপারোয়া। তার পরেও এমন ব্যক্তিকে সেই ১৯৮৯ সাল থেকে বয়ে চলেছ, একদিন হজম করে ফেলবে এই বিশ্বাসে। যেহেতু মমতা ভাবের ঘরে চুরি প্রায় করে না বললেই চলে, তাই তাকে এখনও হজম করা হয়নি বিজেপির। এর মূল কারণ RSS যতটা ছোটলোক ইতর ও বর্বর, প্রয়োজনে মমতা ব্যানার্জী তার থেকেও নিচে নামতে পারেন, দ্রুত ও প্রকাশ্যে। এবারে প্রায় চিবিয়ে এনেছে, শুধু গিলে নিতে হবে ঢক করে, আর ঠিক এই স্থানেই মমতা ব্যানার্জী বিজেপির কন্ঠনালীতে আঁটকে রয়েছে।

রাষ্ট্রপতিকে রাজ্যে প্রাসঙ্গিক করতেই হতো, রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হওয়া সম্ভবত সময়ের অপেক্ষা, অন্তত মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যেও পরিষ্কার- ‘কদিন বিশ্রাম করে নিয়ে আবার নামতে পারব’।

স্বভাবতই, কোন ভণ্ডামি মঞ্চে কে পায়চারি করছেন, মহুয়া ‘শশী’ মৈত্র কাকে কীভাবে বাঙালি পরিচয়ের সার্টিফিকেট বিলি করছেন, কোথায় কখন রাষ্ট্রপতি এসে কী বলছেন, দাঙ্গা বাবুল এবিপির কাকে চমকালো, চটিচাঁটা গায়িকা ইমন সোশ্যাল মিডিয়াতে ফিরল কিনা, কবির সুমন কোন গান গাইছে বা কোন ধান্দাবাজ কোন দল থেকে কোন আস্তাকুঁড়ে গিয়ে পৌঁছাল তাতে আমাদের কিচ্ছুটি যায় আসে না। যুদ্ধের আবহে তেল গ্যাসের বাজারে আগুন, নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজারে হাহাকার শুরু হলো বলে, তার উপরে SIR এর নামে ইচ্ছাকৃত নাগরিক বিপর্যয়, এসবকে উপেক্ষা করে দুই ফুলের ধাষ্টামিকে নাকের পোঁটার মতো ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে আন্দোলনের পথেই থাকুন।



শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬

দালাল থেকে সাবধানঃ তৌসিফ হক

 


২০২১ এর নো-ভোট্টুর দল নতুন জামা পরে ‘সারা বাংলা বিচারাধীন ভোটার মঞ্চ’ হোয়াটস অ্যাপ ঠেক বানিয়েছে একদল ‘প্রতিকুর’। এই নো-ভোট্টু দের চরিত্র সকল বাম সমর্থকেদের জানা রয়েছে। গতকাল তোলামূলের ভন্ডামি মঞ্চ থেকে, শ্রীমান ভাইপো অফিসিয়ালি নোভোট্টু শাখার সমাপ্তি টেনে নতুন জামায় এদেরকে আনার ঘোষণা দিয়েছে, উপরোক্ত ‘হোয়াটস অ্যাপ মঞ্চ’ সেটারই অন্যতম পার্ট। ধর্ণার মাচা থেকে পাঠ করা ভাইপোর ভাষণ, আর এই whatsapp গ্রুপের এডমিনের বক্তব্য- জেরক্স কপির মতো মিলে যাওয়া কোনো কাকতালীয় নয়। বক্তব্য আসলে একটাই, যেটা i-pac লিখে এদের সকলের কাছে কপি সাপ্লাই করেছে। বাকিটা বোঝার জন্য পোস্টটা পড়ুন।

তৌসিফ হক, নামটা আমাদের মতো বামবৃত্তে যারা রয়েছি তাদের সকলেরই কমবেশি পরিচিত। নিজেকে বাম হিসাবেই পরিচয়ও দেন, আলিমুদ্দিনে যাতায়াতও আছে বলে দাবী করে নানান স্থানে। এই ‘তৌসিফ হক’ যদি সত্যিই বাম হতো- তাহলে ঘোষিতভাবে তৃণমূলের লোকজনের রাজনৈতিক সম্প্রীতির এমন সোনাগাছি গ্রুপ কোন উদ্দেশ্যে বানানো হয়েছে? CPIM West Bengal তো রাজ্যের সর্বত্র কম বেশি শক্তি অনুসারে রাস্তায় রয়েছে এই ইস্যুতে। অন্যান্য বাম দলগুলোর মধ্যে CPI, RSP, ফরওয়ার্ড ব্লক, এমনকি বিধানসভায় মাত্র একটি MLA নিয়ে প্রবল লড়াই দেওয়া Indian Secular Front এবং রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে Indian National Congress পর্যন্ত সামর্থ্য অনুযায়ী লড়াই করছে, আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও আন্দোলনে যুক্ত। এর উদ্দেশ্য সৎ হলে, রাজ্যের সর্বত্র যেখানে বামেরা অবরোধ মিছিল করছে, সেখানে যোগ দেয়নি কেন?

শিল্পী মানুষ, গুণ থাকবে এটা স্বাভাবিক। কিন্তু এমন মাদারচোদ যে তলে তলে ‘প্রতিকুর’ হয়ে বসে আছে সেটা গোপন হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপে কেউ আমাকে যুক্ত না করলে জানতেই পারতাম না। নিচের ছবিগুলো দেখুন, বাকী বিচারের ভার একান্তই আপনার, একে আপনি কীভাবে দেখবেন! আর এই “সারা বাংলা বিচারাধীন ভোটার মঞ্চের” হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপের সাথে বামমনস্ক যারা যুক্ত হয়েছেন ‘আপন’ ভেবে তারা আপনাদের চিহ্নিতকরণের কাজটা করছে i-pac এর হয়ে, যাতে বেছে নিয়ে বাদ দেওয়াটা নিশ্চিত করতে পারে। এরা আপনাকে ডিটেনশন ক্যাম্প অবধি নিয়ে যাবার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ, এদের মিছিলে হেঁটে নিজের পেছন নিজে মারাবেন কিনা সিদ্ধান্ত একান্তই আপনার। পোঁদ আপনার, গণতান্ত্রিক দেশে নিজ নিজ সেক্সুয়াল ওরিয়েন্টেশন অনুযায়ী কার সামনে প্যান্ট খুলে উবু হয়ে শোবেন সেটাও আপনার চয়েস। প্রত্যেকের বোকাচো দা হওয়ার অধিকার রয়েছে।

এরা রীতিমতো সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপ খুলে রাষ্ট্রযন্ত্র দ্বারা প্রতারিতদের একস্থানে জড়ো করে তাদের আন্দোলনকে ভুল পথে চালনা করছে। গ্রুপের এডমিনদের একাংশ অতিবাম, কয়েকটা বোকা সিপিএম সমর্থক আর বাকি সবটা i-pac এর পে-রোলে থাকা পোষ্য বুদ্ধিবিচিদের হায়নার দল। আপনি বলবেন একটা হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপ কী এমন আর করে নেবে; ভুল। ত্রিপুরাতে এমনই শয়ে শয়ে আপাত নিরীহ হোয়াটাস অ্যাপ গ্রুপ খুলে সেখানে একেকটা ‘প্রতিকুরদের’ বসিয়ে রেখে বাম সমর্থকদের সাথে ধোঁকাবাজি করে বিপথে চালনা করেছিল। ফলাফল আমরা সকলেই জানি, বাম সরকারের পতন হয়েছিল। আমাকে কেউ এমন একটা গ্রুপে জুড়ে দিয়েছিল বলে নাহয় সেই ‘একটা’ গ্রুপের বিষয়ে জানতে পেরেছি, এমন আরও কত শত গোপন গ্রুপ আছে কে বলতে পারবে? এরা একটা হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপ খোলেনি, আমি যেটাতে ছিলাম সেটা মাদার গ্রুপ; এখান থেকে প্রতিটা জেলার জন্য ছোট ছোট গ্রুপ, আরো বিভিন্ন সাবগ্রুপ করেছে। ব্লকে ব্লকে এই ছত্রাকের জাল কতটা বিছিয়েছে এখনই জানা যাচ্ছে না।

আমরা যারা বাম মনস্ক ও বাম সমর্থক, তারা সন্দেহাতীত ভাবে একটু বেশিই আবেগী। কেউ দু’বার লাল সেলাম বা ইনক্লাব জিন্দাবাদ বললেই ধরে নিই- এ তো আমার বৃত্তের লোক, পার্টিজান। আর এই সুযোগে মুখোশ পরা চমনচুতিয়ার দল আমাদের আবেগকে পুঁজি করে আমাদের ধোঁকা দেয়। আসলে এরা সকলে মীরজাফর, সরি মীরজাফর অনেক বস্তাপচা একটা উপমা, বরং ‘প্রতিকুর’ শব্দটাই একদম আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত। এই প্রতিকুরেরা লাল পোশাকে সেজে তলে তলে i-pac এর হাতে তামাক খেয়ে দলের ক্ষতি করে চলেছে নিজের সাধ্যমতো। হ্যাঁ, ব্যক্তি তৌসিফ হক কোনো বড় হনু নয়, কিন্তু দলের সর্বত্র এমন ছোট বড় খেঁকি নেড়িতে ভর্তি, যারা আসলে তোলামূলের উচ্ছিষ্ট ভোগী দালাল। তোলামূলের হারামের টাকায় এরা পেট চালায়, আর সোশ্যাল মিডিয়ার একটা বড় অংশের বাম সমর্থকদের কনফিডেন্সে নিয়ে তাদের ভুল পথে চালনা করে। উদাহরনস্বরূপ, এই তৌসিফের ৫৮ হাজার ফলোয়ারের ৫৭ই বাম মনস্ক, লালজামা এদের টোপ এর ফাৎনা। ‘এঁকে খাই’ না, চেটে খাই।

এই বেজন্মার বাচ্চা ‘বামমনস্ক শিল্পী’ অন্তত হাজার খানিক আন্ডার-এডজুডিকেসনে থাকা মানুষদের নিয়ে আন্দোলনের নামে রাজনৈতিক সম্প্রীতির নামে একটা ফাঁদ খুলেছে, যা i-pac এর নির্দেশিত পথে চালনা হচ্ছে। জয়হিন্দ, বিজেপি হটাও ইত্যাদি স্লোগানের প্র্যাকটিস হচ্ছে। আজকের ধর্না মঞ্চে ভাইপোর করা ভাষণের সাথে যার কোনো ফারাক নেই, কমেন্টে সেই ছবি দিলাম। আমি যেই প্রশ্ন করেছি- “ভুল করেও কেউ যেন তৃনমূল হটাও স্লোগান দেবেন না, তাহলে খাসি করে দেবে”। আমার সেই কমেন্ট প্রথমে ডিলিট করে, ও পরে ডিলিটের কারণ জানতে চাইলে আমাকে গ্রুপ থেকে রিমুভ করে। আমি অবশ্য লিখেছিলাম তোদের গ্রুপ তৃণমূলের দালালি করার জন্য জানলে, শুরুতেই গ্রুপে মুতে দিতাম। আমার প্রশ্নে উলঙ্গ হয়ে যেতেই, মহঃ সেলিমের একটা উক্তি সম্বলিত একটা পোস্টার এনে চিপকে দিয়ে নিজেকে সিপিএম প্রমাণে মরিয়া হয়ে উঠেছে, কতবড় শুয়োরের বাচ্চা এই মালটা। ছবিতে দেখুন।

জয় হিন্দ, বিজেপি হটাও এইসব স্লোগানের আড়ালে কোমায় থাকা তৃণমূলকে আমেরিকায় বসে দালালী করা লোক ধরে এনে বাঁচাবার চেষ্টা করছে। তারা জেনে শুনে এরকম কর্মসূচি নিয়েছে, যাতে মুখ্যমন্ত্রীর কর্মসূচীতে যাতে কোনো সমস্যা তৈরি না হয়, উল্টে অরাজোনৈতিক মুখোশের আড়ালে মুখ্যমন্ত্রীর ভণ্ডামি মঞ্চে লোক পাঠানো যায়। এই কারণেই গতকাল একটা প্রি প্ল্যান কর্মসূচি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত পার্ক সার্কাসের বুকে নিয়েছিল, যাতে ওই দিক থেকে গতকাল ধর্মতলার মঞ্চে দেখানো পার্শ্ব-শিক্ষকদের বিক্ষোভ কর্মসূচির মতো কেউ এসে কেউ বিক্ষোভ দেখাতে না পারে। শয়তানি ১০০ শতাংশ শুধু পেটে পেটে নয় মাথা থেকে পা অব্দি। আপনারা দেখে নেবেন ‘প্রতিকুর’ যখন কোনো ইন্টারভিউ দেয়, তখন তিনজন একসাথে কথা বলে। প্রথমত, ফিকে হয়ে যাওয়া লাল জামা পরে ব্যক্তি প্রতিকুর, দ্বিতীয়ত- প্রতিহিংসাপরায়ণ ঋতব্রত এবং বুদ্ধিদাতা সংস্থা আইপ্যাক। ‘মুসলমান’ প্রতিকুরকে ইন্টারভিউ এর মাধ্যমে বাঁচিয়ে রাখা এখন i-pac তথা তৃণমূলের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। 

আমার টাইমলাইনের বন্ধুবৃত্তে থাকা অনেকেই সেই গ্রুপে রয়েছেন, আপনারা গতকাল সন্ধ্যার সেই চ্যাট নিজেরাই দেখতে পাবেন ওই গ্রুপে স্ক্রল করে উপরের দিকে গেলে। বাকিরা অ্যাটাচড ছবিতে দেখে নিন। এটা বিশেষ একটা বাল-ব্যাটার বিরুদ্ধে কোনো ‘খাপ পঞ্চায়েত’ বসানো নয়, এটা প্রতিকুরদের চিহ্নিতকরণের একটা প্রক্রিয়া। তৌসিফ হক এমন কোনো কিডনি ফুসফুস নয় যে সমাজের কাছে সে ম্যান্ডেটারি কিছু, এগুলো বস্তুত ঝাঁটের বাল, ছেঁটে দিলেই নর্দমাতে শোভা পাবে। 

এদের হোয়াটস অ্যাপ মঞ্চের মুখে পেচ্ছাপ করে দিন। এরা গতকাল শুক্রবার বেলা ১টার সময় পার্কসার্কাসে ধর্ণার আয়োজন কর্মসূচি নিয়েছিল। রোজার মাস, তার উপরে জুম্মাবার। বেলা দেড়টার সময় কে বা কারা যাবে সেখানে? যেখানে বিচারাধীন ভোটারদের ৭৩%ই মুসলমান সম্প্রদায়ের মানুষ! যদি না জেনে এমন কর্মসূচি করে থাকে তাদের তাদের বোধবুদ্ধি আর অওকাত বিষয়ে প্রশ্ন উঠবে, আর জেনেবুঝে করে থাকলে, যাতে এই ‘অরাজনৈতিক’ আন্দোলন কোনোভাবেই দানা না বাঁধতে পারে সেই জন্য এমন টাইমিং। পরিষ্কার শয়তানি। অরাজনৈতিক রাত দখলের ডাক দেওয়া যাদবপুরের সেই তথাকথিত ‘বামমনস্ক’ মহিলাকে নিশ্চয়ই কেউ ভুলে যাননি, যিনি সিপিএমকে ভেঙে যেতে দেখার জন্যই আজও বেঁচে রয়েছেন। এরা সকলেই একটা করে প্রতিকুর। কেউ রাতারাতি প্রতিকুর হয় না, দীর্ঘদিন তোলাবাজদের সাথে একথালায় ভাত না খেলে এমন বিশ্বাসঘাতক ‘প্রতিকুর’ জন্মায় না। এদের সর্বাত্মক ছোঁয়াচ না ত্যাগ করলে, কোনদিন দেখবেন আপনাকেও প্রতিকুর বানিয়ে দিয়েছে। 

তাই সাধু সাবধান, তৌসিফের মতো প্রতিকুরেরা ভেড়ার ছাল গাঁয়ে নেকড়ে, আপনার ইজমকে নষ্ট করতে এরা মরিয়া। নতুবা যেই মাত্র তৃণমূলের বিরুদ্ধে বলেছি, ওমনি বিপ্লবী বাবুর গায়ে ফোস্কা পরে গেছে, এবং সাথে সাথে আমাকে রিমুভ করে দিয়েছে। গান্ডু জানে না আমার তো আরও চারটে নম্বর ওখানে থাকতেই পারে, খেলা কি i-pac একাই জানে! আপনি যদি সত্যিই আপনার আন্দোলনকে কোনো সদর্থক পথে নিয়ে যেতে চান, সেক্ষেত্রে যারা ঘোষিত RSS (বিজেপি ও তৃনমূল দুটোই RSS এর শাখা) বিরোধী দল রাস্তায় আছে, যার যে দল পছন্দ তার মিছিলে যান, i-pac এর এই খোঁচরদের ফাঁদে পরলে আপনি জান মাল ইজ্জত সব খোয়াবেন। অতীত থেকে শিক্ষা নিন। 

ইলেকশন কমিশনের মাধ্যমে RSS যে বৃহত্তর বে-নাগরিকী করণের চক্রান্ত করেছে; প্রান্তিক মানুষকে, বিশেষ করে মুসলমান ও তফসিলি হিন্দু সমাজের যে সকল মানুষকে বেনাগরিক করার ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র রচেছে ‘বিজেপি ও তৃণমূলে’র মাধ্যমে, সেই জাঁতাকলে মানুষগুলো দিশেহারা। যে যার যার মতো করে মরিয়া হয়ে আন্দোলনের পথ খুঁজছে। মানুষ তৃণমূলের ভণ্ডামি ধরে ফেলেছে, রাজ্যসরকারী কর্মী BLO/AREO/BDO ডেটা এন্ট্রি অপারেটরদের একাংশের ইচ্ছাকৃত ভুলের দরুন, ডকুমেন্টস সময়মতো আপলোড না করার দরুন ৬০ লক্ষের বেশি মানুষকে পথে বসিয়ে দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী ২৭শে ফেব্রুয়ারিই বলে দিয়েছিল ১ কোটি ২০ লাখ নাম বাদ যেতে চলেছে, তার মানে উনি শুরু থেকেই সবটা জানতেন। বেছে বেছে সংখ্যালঘু মুসলমান, মতুয়া ও নিম্নবর্ণের হিন্দুদের নাম বিচারাধীন তালিকাতে রাখা হয়েছে। ৬০ লাখ মানুষকে জিম্মি বানিয়েছে RSS এর দুই ফুল মিলে।

কেরল এবং তামিলনাড়ু সরকার SIR এর বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছে। DA না দেওয়ার জন্য আদালতের মাছি হয়ে পরে থাকা তৃনমূল সরকার কোনো আদালতে যায়নি, উল্টে মানুষকে মিথ্যা বলেছে যে SIR করতেই দেবো না। অথচ মমতা সরকারই ৮০ হাজার BLO  সাপ্লাই করেছে, BDO অফিসের লোকজন সাপ্লাই করেছে, গোটা প্রক্রিয়ার জন্য অর্থ বরাদ্দ করেছে। তারপর আমাদের ফিলাপ করা ফর্ম নিয়ে গিয়ে i-pac এবং তৃণমূল দলের পে-রোলে থাকা ডাটা এন্ট্রি অপারেটর দিয়ে- যার যা খুশি নামের বানান আপলোড করেছে। আমাদের মতো যাদের হিয়ারিংয়ে ডাক পড়েছিল, তাদের ডকুমেন্ট কারও আপলোড করেছে, কারও করেনি। 

বাঙালির পদবীতে ব্যানার্জি-বন্দ্যোপাধ্যায়, চ্যাটার্জী-চট্টোপাধ্যায় কিংবা শেখ বানান চার রকম, হক বানান তিন রকম, মোহাম্মদের হরেক বানান লেখা হয়। সরকার সেটা জানত না? সরকারের তরফ থেকে নির্যাতন কমিশনকে পরিষ্কার করে একটা একটা হলফনামা বিবৃতি দিলে- সমস্যা শুরুর আগেই সমাধান হয়ে যেত। কিন্তু মমতা ব্যানার্জী তো RSS এর সাথে চুক্তি করেছে মুসলমান, মতুয়া আর তপশিলী হিন্দুদের পথে বসাবে। নতুবা SIR প্রক্রিয়া শুরুর আগেই শুভেন্দুর দাবী করা এক কোটি কুড়ি লাখ, ২৭শে ফেব্রুয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর অনুমান করা এক কোটি কুড়ি লাখ, আর ফাইনাল লিস্টের এক কোটি কুড়ি লাখ- হুবহু কী করে মিলে যায়? 

আসামে D-Voter শব্দ একবার ব্যবহার হয়ে গেছে, সেখানে বিতর্কের জন্ম হওয়ার কারণে এবারে নতুন শয়তানি এনেছে নির্যাতন কমিশন- আন্ডার এডুডিকেশন। দুটো একই শব্দ, নতুন বোতলে পুরাতন আইডিয়ার প্রয়োগ। মমতা ব্যানার্জী ও i-pac এর পাশাপাশি, লাল জামা পরিহিত ‘প্রতিকুরদের’ ফাঁদ থেকে বেঁচে থাকাটা বাম সমর্থক ও কর্মীদের প্রাথমিক সফলতা, আপনি কতটা সতর্ক তার উপরে আপনার এই সাফল্য নির্ভর করবে।

ফেসবুকীয় সিপিএমঃ ফিউজড আইনগাইডেড কামিকাজে ড্রোন

  ফেসবুকের ‘সিপিএম’ নামক এই চুড়ান্ত আঁতেল ও প্রায় সর্বজ্ঞ গোষ্ঠীটার পূর্ণ বোধোদয় বা পূর্ণ বিনাশ না ঘটা অবধি রাজ্যের বাম নেতৃত্বের খুব বেশী ...