অনুপ্রবন্ধ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
অনুপ্রবন্ধ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

ফ্যাসিজম ও আজকের পৃথিবী


সমগ্র বিশ্বজুড়ে 'ফ্যাসিবাদী ডানপন্থা' ছত্রাকের মত আষ্টেপৃষ্টে বর্বরতার নাগপাশে বেঁধে ফেলেছে। বর্ডারের সীমানা পেরিয়ে মাকিন মুলুকের ট্রাম্প হোক কিম্বা মোল্লাদের সৌদি, ভোগবাদী ইউরোপ  বা RSS এর ভারত- উগ্র জাতীয়তাবাদী মিথ্যা ভুয়ো দেশপ্রেমের নামে দেশের সম্পদ নির্দিষ্ট কিছু পুঁজিবাদী শোষক সংস্থার কাছে তুলে দেওয়ার জন্য যাবতীয় নিপীড়নের আয়োজন। 

১২ বছরের BJP শাসন রাষ্ট্রের প্রতিটি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করে দিয়েছে, সর্বত্র নোংরা ধর্মীয় মেরুকরন করা হয়েছে ভোটের বাক্সে তাৎক্ষণিক ফায়দা লুঠতে আর এই জন্য যেকোনো মাত্রার সহিংসতাতে মেতে উঠতে এদের কোনো ক্ষেপ-আক্ষেপ থাকেনা। আমাদের ঐতিহাসিকভাবে শক্তিশালী সংবিধান ও তার প্রতিষ্ঠানগুলোকে রোজ আক্রমণের মুখে ফেলে ভঙ্গুর করে তোলা হচ্ছে। সিভিল সোসাইটি উদভ্রান্ত, আদালতের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ, নির্বাচন সংস্থার ভূমিকা শাসকের দলদাসের, সর্বত্র একটা অশান্তি আর অবিশ্বাসের পরিবেশ। কয়েকটি নির্দিষ্ট ব্যাক্তি তথা কয়েকটি পুঁজিবাদী গোষ্ঠীর হাতে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হয়ে গেছে। এরা যেকোনো মূল্যে নির্বাচন বা গণতান্ত্রিক কাঠামোর বিলোপ চায়।

বিরোধী কন্ঠস্বরকে তাচ্ছিল্ল্যের সাথে হিংস্রভাবে দমন করা হচ্ছে সর্বত্র, যাতে প্রশ্ন করতে ভয় পায়। জাতিগত হানাহানি, ধর্মীয় বা অভিবাসী সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে শত্রুতামূলক নীতি গ্রহণ করে এরা নাগরিক অধিকার সংকুচিত করতে মরিয়া, তাই কখনও NRC তো কখনও SIR এর মত নিরীহ পদ্ধতিকে ধারালো অস্ত্রের মত ব্যবহার করছে সংখ্যালঘু সংহারের জন্য। ভিন্নমতাবলম্বীদের যেকোনো মুল্যে নৃশংস হাতে দমন করা নিত্য নৈমিত্তিক প্র্যাকটিস। সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে বৈষম্য বা নিপীড়ন করাটাকে রাজনৈতিক ম্যানিফেস্টো বানিয়ে ফেলেছে এই চরম ফ্যাসিবাদী RSS. 

স্বাধীন সাংবাদিকতা যা সরকারকে জবাবদিহির মধ্যে রাখে, তাদের সিংহভাগকে কিনে নিয়ে পোষ্য কুকুর বেড়ালে পরিনত করেছে, তারা সেটাই বলছে যা শাসক চায়। যাদের কিনতে পারেনি তাদের গলায় মামলার বেড়ি লাগিয়ে দিয়েছে, তাতেও না হলে হত্যা করে দিয়েছে। এই হচ্ছে সংবাদমাধ্যমের ঘুণে ধরা দশা, কোনটা সংবাদ আর কোনটা প্রোপাাগান্ডা সেটার ফারাক করাই আজ জনগণের কাছে কঠিন হয়ে গেছে। রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যমের প্রকোপ আজ সর্বত্র, তা প্রিন্ট মিডিয়া, ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া হোক কিম্বা সোশ্যাল মিডিয়া।
.
আমাদের রাজ্যের দিকে তাকালেও একই দশা, একটু অন্য আঙ্গিকে কিন্তু লক্ষ্য সেই এক- প্রশ্নহীন আনুগাত্য। শাসক দল, রাজ্য প্রশাসন ও পুলিশ একদেহে লীন হয়ে গেছে। রাষ্ট্রীয় বলে আর কোনো শব্দ নেই, সবটাই রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত। সর্বত্র চুরি রাহাজানি আর লুঠপাঠ অন্ধকারের রাজত্ব। সরকার নিজে তার কর্মীদের টাকা চুরি করছে প্রাপ্য DA না দিয়ে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে কোমায় পাঠিয়ে কর্পোরেট পুঁজির জন্য মঞ্চ প্রস্তুত করে গেছে গত ১৫ বছর ধরে। RSS এর মন্দির মসজিদ গরু শুয়োরের রাজনীতিকে যথাযত প্রয়োগ করে ঠিক ভোটের আগে দাঙ্গার রাজনীতি করা, ধর্মীয় মেরুকরন ও ভোট লুঠের উদ্দেশ্যে গাঁ-গঞ্জে রক্তের নদী বইয়ে দিয়ে নির্লজ্জ নিরুত্তাপ থাকার এক অদ্ভুত কৌশল আমরা দেখেছি RSS স্পনসর্ড তৃনমূল সরকারের আমলে।

পশ্চিমা ভাবধারার দক্ষিণপন্থা, দিনের শেষে আপনার টুঁটি ধরবেই- তা সে যে ভেক ধরেই আসুকনা কেন। একে প্রতিহত করার নামই বিজয়। গণতন্ত্রে ভোটের মাধ্যমেই নীরব বিপ্লব সংগঠিত হয়, আগামীতে আমাদের সামনে সুযোগ এসেছে সেই বিপ্লবের সাক্ষী হতে, যোদ্ধা হতে, যুগ বদলের অন্যতম কাণ্ডারি হতে। চলুন সমূলে উপড়ে দিয়ে, ছুঁড়ে ফেলি এই বিষাক্ত ফ্যাসিবাদী শক্তিকে।

বৃহস্পতিবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৩

অভিযোগ বিহীন সম্পর্ক

 


অভিযোগ বিহীন সম্পর্ক অনেকটা লবণহীন তরকারীর মতো, যেটাতে কোনো স্বাদ পাওয়া যায় না। যদি দুটো মানুষই একে অপরের খোঁজ না নিয়ে দিনের পর দিন কাটিয়ে দেয়, আর সেইটা নিয়ে যদি একে অপরের মাঝে কোনো অভিযোগ না থাকে, তাহলে সেই সম্পর্ক একদিন বিচ্ছেদে গড়াবেই। অতিরিক্ত অভিযোগ যেমন লবণপোড়া অখাদ্য, তেমনই হিমশীতল সম্পরর্কের আয়ুও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারেনা। পরিমিতবোধ এটার জন্য জরুরী, কোনটা আমার আর কোনটা আমার নয়। কোনটা দীর্ঘস্থায়ী আর কোনটা ক্ষণস্থায়ী। কোনটা দায় আর কোনটা দায়িত্ব, এই সুক্ষ বিষয়ের মধ্যে দিয়েই হিমালয়সম সুউচ্চ মায়া, সমুদ্রের মত গভীর প্রেম- ভালবাসার সকল বড় বড় প্রতিশ্রুতি উবে যায় কর্পূরের মত।

যে মানুষটা তোমাকে ভালোবাসবে, সে অভিযোগ করবেই, কারণে অকারণে অভিযোগ করবেই, খোঁজ নিলেও করবে, না নিলেও করবে। হ্যাঁ, এটাই ভালোবাসার ধর্ম, পজেসিভনেস বা অধিকারপ্রিয়তা সম্পর্কের আশির্বাদদুটো মানুষের মাঝের দৃষ্টিভঙ্গির কারনে এর রূপ নানা ভাবে ধরা দেয়। যারা একে অপরকে ভালবেসে সম্পর্কে জড়ায়, তাদের প্রথম প্রয়রিটি তথা অগ্রাধিকার যদি একে অন্যের প্রতি না হয়ে- পেশা, বা অন্য তৃতীয় কেউ হয়– হতে পারে সেটা বাবা, মা বা অন্য নিকটআত্মীয়, কিম্বা সন্তানই সই, সেই সম্পর্ক শুকিয়ে যাওয়া সময়ের দাবী। ক্রমশ টানহীনতা অনুভব করবে উল্টদিকের মানুষটা, আর এর রাশ টের পাবে অন্য মানুষটাও, যে ভালবাসার মানুষকে উপেক্ষা করে বাকি পৃথিবীকে দায় বা দায়িত্ব ভেবে অস্থির হয়ে রয়েছে। সম্পরর্কের মাঝে টান কমে আসে, দূরত্ব বাড়ে, যোগাযোগ কমে যায়। টানহীন সম্পর্ক হচ্ছে ছাদহীন ঘরের মতো, যেখানে একে অপরের জন্য টান নে, মায়া নেই, সেখানে সম্পর্কের কোনো মূল্যও নেই। এ সম্পর্ক মৃত, আর মৃতের শুধুই সৎকার করা যায়।

ভালোবাসার বিপরীতে মানুষ অভিযোগ করবেই, অল্পবিস্তর সন্দেহ থাকাটাও সুস্থতার লক্ষণ, এতে করে ভালবাসার গভীরতা প্রকাশ পায়, সাথীকে হারিয়ে ফেলার ভয়ের অস্থির একটা মধুময় ভাবের চিত্র ফুটে উঠে, কারন ভালোবাসা এখানে গভীর থাকে। যেখানে কৈফিয়ত দেবার প্রয়োজন নেই, যেখানে অভিযোগ নেই, যেখানে সন্দেহ নেই, যেখানে অধিকারপ্রিয়তা নেই, সেখানে ভালোবাসাও নেই। পরে থাকে শুষ্ক মৃত সামাজিকতা, আর যেচে নেওয়া কিছু দায়- বস্তুত যা ছিল একান্ততই অপ্রয়োজনীয় দুজনের সম্পর্কের মাঝে। মৃতের সাথে সংসার হয়না, সহবাস হয়না, ভালবাসাও হয়না, শুধু সৎকার হয়।

একটু খোঁজ না নিলে যে মানুষটা অভিযোগ কর, একবেলা ফোন না করলে বা না ধরলে যে মানুষটা রেগে বেহুঁশ যেতো, সে তোমাকে ভালোবাস বিধায় এমনটা কর। মানুষটা তোমার আরও কাছে যাবার আশায় অভিমান করত, তোমার এ্যাটেনশন পেতে চাইতোযেদিন ভালবাসা মরে যায়, মাস ঘুরে বছর গেলেও সেই ফোন না করা বা না ধরা নিয়ে আর কোনো মানবিক বিকার মনের পটে দাগ কাটেনা। স্নায়ু আর সেই উত্তেজনা বোধ করেনা, কারন কমিটমেন্ট যেখানে মরে যায়, সেই সম্পর্কের আনুষ্ঠানিক শ্রাদ্ধ শান্তি করে মৃতদের তালিকাতে নাম লেখাতে হয়, সময়ের দাবী মেনে।  

সত্য হচ্ছে, যেখানে অভিযোগের কদর পাওয়া যায় না, সেখানে মানুষ থাকতে চায় না, অভিযোগ ছাড়া কোনো সম্পর্ক হয় না, মনের চাওয়া পাওয়া থেকেই মানুষ মূলত অভিযোগ করে। ভেবে দেখো তো, আজ যে মানুষটার অভিযোগ তোমার কাছে বিরক্তিকর মনে হচ্ছে, কাল সেই মানুষটা অভিযোগ করা বন্ধ করে দিলে তখন পরিবর্তনটা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে? হ্যাঁ, একসময় অভ্যস্ত হয়ে যাবে সেই নতুন জীবনে, হত নতুন কেউ আসবে, কিম্বা গতানুগতিক ধারাতে চলবে। কিন্তু ফেলে আসা অনেক স্বপ্নের সম্পর্কটাকে কবর দিতেই হবে, কারন অবহেলার আঁচে এতদিনে সে মৃত। আর মৃতকে ঘরে ফেলে রাখলে সে দুর্গন্ধের ছাড়া কিছুই দেবেনা।

যে মানুষটা ভালবাসে, কদর করে, তার অভিযোগ, অভিমান, রাগ সবকিছুর সমান গুরুত্ব দাবী রাখে। নতুবা যে ‘দায়’দের জন্য এই অভিযোগ, উপযোগের, মিষ্টি মধুর তিক্ততা থেকে দূরে গিয়ে সম্পর্কটাকে মেরে ফেলা হয় অবহেলা দিয়ে, সেই ‘দায়’রা আগামীতে নিজেদের জীবনে সেটেলড হয়ে তোমাকে নিয়ে আহা উহু করে খানিকটা করুণা দেখাবে বড়জোর। আর তখনকার তুমি খানিকটা অভিযোগ শোনার জন্য, খানিকটা ফোনের আশায়, খানিকটা সেই টক মিষ্টি তিক্ততার আশাতে হাপিত্যেশ করবে চাতকের মত শেষ নিঃশ্বাস অবধি। কারন তুমি জানো, তুমি খুন করেছো সম্পর্ককে মিথ্যে ‘দায়’ এর অজুহাতে, নিজেকে, নিজের সুবর্ণ রঙিণ অতীতকে আর একটা দুর্দান্ত সম্ভাবনাময় আগামীকে। অন্যের সুখ দেখে, ভালবাসাময় ঘরগার্হস্থ্য দেখে হাহাকার, ঈর্শা আর লোভটুকুই দৈনন্দিনের সাথী হবে।

ভালবেসে যে একদিন বেহায়া হয়েছিল, দুনিয়ার প্রতি অন্ধ হয়েছিল, তারও চোখ খুলে দেয় সময়। গুরুত্ব পাচ্ছেনা জেনে সে চিৎকার করতে থাকে, অপরাধ নেই জেনেও ক্ষমা চায়, কারন মায়ায় ঘেরা স্মৃতির জঙ্গলে সে হাঁসফাঁস করতে থাকে। ভালবাসাকে লালন করাটা বড় জরুরী, তাকে যত্নআত্তি না করলে, তাকে অভিযোগ- অনুযোগ আর অধিকারপ্রিয়তার মসলাতে না নিত্য সেঁকলে একদিন সে মরে যায়, সৎকারের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করে নেয়, আর সেটা ছবি হয়ে যায় একদিন। ভালবাসা এমন এক অনুভবের নাম, যা মানুষকে দিয়ে সব করাতে পারে, জীবন দিতেও পারে, নিতেও পারে।

শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০

মূর্খ নির্লজ্জ হলে সাংবাদিক হয়



এটা একটা জনপ্রিয় নিউজপোর্টাল এর খবর।


সাংবাদিকেরা কতবড় মূর্খ নির্লজ্জ হলে অবলীলায় এমনটা লিখতে পারে।

এখানে উল্লেখ্য সিঙ্গুরের সঞ্জীব বাবু তিনি কয়েক বিঘা জমির মালিক কিন্তু এই মুহূর্তেও তার কাছে 10 টন ধান মজুদ রয়েছে, মানে কথার প্রসঙ্গে ধরেই নেয়া যায় আগেও তার আরো ধান ছিল।

এক্ষেত্রে সিঙ্গুরের মাটিতে ধানের ফলন বিঘাপ্রতি ৫-৬ কুইন্টালের বেশি হওয়া সম্ভব নয় সেখানে ১০ টন ধান হতেও কমপক্ষে ১৮ থেকে ২০ বিঘা জমি প্রয়োজন। কয়েক বিঘা জমিতে সর্বোচ্চ ২ টন ধান হওয়া সম্ভব তার বেশি হয়। আর যার ২৫-৩০ বিঘা জমি আছে তাকে কয়েক বিঘা বলা যায়?

তাছাড়া সঞ্জীব বাবু, এতোদিন আপনার ধান কে বেশি দামে বাইরে বেচতে মানা করেছিল? আমরা তো ছত্রিশগড়ের চাষীর থেকেও মাল কিনে এনেছি আমাদের ফ্যাক্টারির জন্য, চাষীর নিজের উৎপাদিত শস্য আগে গোটা দেশে বা দেশের বাইরে বেচতে অসুবিধা কোথায় ছিল? আর বাকি রইলো MSP, মমতার জামানাতেও বিগত ১০ বছর ধরে ও তার আগেও বাম জামানায় বেনফেড, নাফেড, ECSC ইত্যাদি সমবায় গুলো গ্রামে গ্রামে ক্যাম্প করে সারা বাংলা জুড়েই ধান সংগ্রহ করেছে। মমতা তো চেকে পেমেন্টও করেছে, তার পরেও প্রতি বছর ধানের দাম আকাশ ছুঁয়েছে যা MSP এর চেয়ে অনেকটাই বেশি। আপনি বা আপনার ব্যাঙ্ক একাউন্টে কি MSP এর থেকে কমে মাল বিক্রির কোনো নথি আছে?

আদারে নোংরা মানসিকতার চাষী হলে অপরিপক্ষ নরম ভিজে ধান মেসিনে একদিনে কেটে এবারে যদি রাইসমিলারকে MSP তে কিনতে চাপ দেওয়া হয় তা কে নেবে? নর্মাল ধানে ১৬% ময়শ্চার স্বাভাবিক যাকে FAQ মান বলা হয়। এখনকার অধিকাংশ চাষীই অপরিপক্ক ভিজে ধান কেটে নেয়, যাতে কমপক্ষে ২৫% ময়শ্চার থাকে উর্ধে ৩৫% পর্যন্ত। স্বাভাবিকভাবেই ১৬ এর অধিক ময়শ্চার বিজ্ঞানের নিয়মে ওজন হিসাবে বাদ যাবেই। এই ধান ২৪ ঘন্টা মজুদ রাখা যায়না, গাদা করে রাখলে তলায় আগুন ধরে যাবে এমন অবস্থা হয়, সাথে পচে গিয়ে বিচ্ছিরি গন্ধ হয়ে তা থেকে আর গোটা চাল না হয়ে খুদ তৈরি হয়। সুতরাং MSP না পাওয়ার দায় সরকার বা অন্য কারোর নয়, ফসলের মান FAQ কিনা সেটা তো চাষীকেই নির্ধারন করতে হবে।

নতুন বিলে আগামীতে যে আর MSP টাই থাকলোনা, কারন EC এ্যাক্ট ধানে প্রযোজ্য নয়, যে কোনো সময় MSP বিলুপ্ত হতে পারে বিনা নোটিসে, তখন কি করবেন?

যত্তোসব ভুঁয়ো ফালতু গুল-গল্পের ভাঁওতাবাজি-

আসলে ঘরে বসে নেট ঘেঁটে কনটেন্ট রাইটার হয়ে গোদী মিডিয়া বা নাইটি সেলের ভাড়াটে সৈনিক হলে যা হয় আরকি-

ছ্যাঃ

শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২০

নোট বন্দি খেলা- রহস্যটা কোথায়?

 



ব্ল্যাক মানি’র গল্প শুনিয়ে তথা অসদুপায়ে উপার্জিত অর্থকে নিয়ন্ত্রণ করার নামে ২০১৬ সালে ভক্ত সম্রাট মোদীজি নোট বন্দি করেছিলেন সে সময় কোটি কোটি টন নিউজ প্রিন্ট সহ, ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া হোক বা সোস্যাল মিডিয়া- সর্বত্র হাহাকার পরে যাওয়া বিভিন্ন ধরনের বিষয়গুলো সামনে এসেছিল পক্ষে বা বিপক্ষে। অবশ্য এমন অবিবেচকের মত কোন উদ্দেশ্যে কিছু (মোট জন সংখ্যার ১-২% বড়জোর) অসাধু ব্যবসায়ী-আমলা- রাজনীতিবিদদের জন্য দেশের আমজনতা কেন এই চরম নারকীয় ভোগান্তির শিকার হবে!

প্রশ্ন করতে গেলেই “হামারে জাওয়ান সিয়াচেন মে লড় রাহা হ্যায়” জাতীয় কথাবার্তা সামনে আনা হয়েছিল বিজেপির প্রোপাগান্ডা মেসিনারি দ্বারা, এবং নাগপুর নিয়ন্ত্রিত দিল্লি কেন্দ্রিক টেলিভিশন সংবাদ মাধ্যমের দ্বারা। সেই সময়ে আমি বহুবার বলার চেষ্টা করেছিলাম- এখানে একটা দীর্ঘমেয়াদী ষড়যন্ত্র রয়েছে। জানিনা সে সময় কতজনের মাথায় ঢুকেছিল, আমাকে পাগল ছাগল ভাবেনি এমন মানুষের সংখ্যা বেশি ছিল

গোটা বিশ্বজুড়ে ওয়াল্ড অর্ডার নামে যে বিষয়টা প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছে তার অন্যতম কান্ডারী বিল গেটস তা আজ প্রমানিত সত্য, গত করোনাকালে সময়ে আমরা না ভাবে এই বিল গেটসকে দেখেছি চিকিৎসা ব্যবসায়ী কিভাবে পয়সা লাগিয়েছে আপনার আশ্চর্য হয়ে যাবেন যদি একটু নিজেরাই গবেষণা করেন তাহলে দেখতে পাবেন আশি খানা দেশের সরকার যারা এই এক বিশ্ব শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এগোচ্ছে তাদের মূল ফাইন্যান্স স্যার হচ্ছে বিল গেটসএদের উদ্দেশ্য কি উদ্দেশ্য একটাই মানুষের সম্পদকে নিয়ন্ত্রণ করা? ২০১৬ এর আগে UPI কোন বিষয় আমাদের কোথাও ছিল না অথচ আজকে দিনে দাঁড়িয়ে ইউপিআই ছাড়া google pay ফোন-পে ইত্যাদি বাদ দিলে জীবনটাই যেন অন্ধ হয়ে যায়. এটা করে আমাদের সুবিধা হয়েছে বিস্তর কিন্তু তলে তলে ক্ষতির পরিমাণটাও কম কিছু নয়

আগে আপনার হাতে সম্পদ থাকলে আপনি সেটা দেখতে পেতেন, আপনার নিয়ন্ত্রণে থাকতো আজকে এই 500 টাকা আর হাজার টাকা ডি-মনিটাইজেশনের মাধ্যমে আপনার কাছে আপনার মনে ভয় ঢুকিয়ে দিয়েছে ক্যাশ টাকা রাখা দেবে যাবে না শিকারি সেটারই সিকুয়েল হিসেবে আজ ২০০০ টাকার নোটও ব্যান করে দেয়া হলো এতে করে মানুষ আরো ডিজিটাল কারেন্সির দিকে ঝুঁকে যাবে সেদিন খুব বেশি দূরে নয় যেদিন সরকার চাইলেই আপনার একাউন্ট ব্লক করে দেবে। রাতারাতি ফকির হয়ে যাবেন কয়েক মুহূর্তে হ্যাকিং এর নাম করে যেকোনো দাদাগিরি কোন সংস্থা আপনার অ্যাকাউন্ট জিরো করে দিতে পারে, কারণ আপনার কাছে সম্পদ বলতে খাওয়া দাওয়া সামান্য টাকা আর একটা বাড়ি গাড়ি

সম্পত্তি হিসেবে স্থাবর কিছু, যদি না সেগুলো লোনে থাকে বাকি সবকিছুই কিন্তু অ্যাকাউন্টে ছিল এবার আপনাকে দিয়ে যা খুশি কুড়িয়ে নেওয়া যাবে, কারণ আপনার সমস্ত সম্পদ স্বীকৃত সরকার দাড়া কোন একটা বিশেষ গোষ্ঠী আপনাকে নিয়ন্ত্রণ করছে বা করবে সেই দিনটা খুব বেশি দূরে নয় হয়তো আগামী ১০ বছর, ততদিনে যাবে কিনা সন্দেহ আজকের এই কথাগুলো সেদিন চোখের সামনে ফলতে দেখবেন। তাই অনুরোধ করব অর্থ যদি আপনার থেকে থাকে সেটাকে স্থাবর সম্পত্তিতে কনভার্ট করে ইনভেস্ট করুন জমিতে ইনভেস্ট করা সবথেকে ও সহজ কিন্তু এর বাইরেও একটা সত্য আছে যেটা লাগতে পারে ফানি কিন্তু সোনা মজুদ করার চেয়ে ভালো অপশন আর কিচ্ছু নেই কিচ্ছু নেই

আগামী দিনে বিশ্বপ্রভুদের একটা গোষ্ঠী সরকারকে কেন্দ্র করে শ্রমজীবী মানুষের উপরে কি পরিমান যে যথেচ্ছাচার চালাবে সেটা আজকের দিনে স্পষ্ট এরা পেপার কারেন্সির মাধ্যমে সর্ব প্রথমে নিজেরা সোনা মুদ্রা হস্তগত করে নিয়ে আপনার হাতে কাগজ ধরিয়ে দিয়েছিল এরপরে প্লাস্টিক মানি তারপরে বুলি বা বন্ড আর এখন সংখ্যা এরপর সংখ্যা তো যে কোন মুহূর্তে জিরো হয়ে যেতে পারে। তাই এর পিছনের কন্সপিরেসি খুব ঠান্ডা মাথায় না বুঝলে আপনার আগামী প্রজন্মের জন্য আপনি হাহাকার ছাড়া কিছু রেখে যাবেন না

হয়তো বলবেন সকলের যা হবে আমারও তাই হবে, কিন্তু না গরিব খেটে খাওয়া মানুষ তারা যারা দিন আনে দিন খায় তাদের খুব একটা অসুবিধা হবে না কেননা তাদের মজুদ সঞ্চয় বলে কিছু নেই, কিন্তু আপনি আজকে গোটা জীবন ধরে যেটা সঞ্চয় করলেন কালকে সরকারকে শিখন্ডী বানিয়ে বিশ্বপ্রভুদের একটা অংশ আপনার সেই কষ্টার্জিত অর্থ ভোগ করবে অথবা আপনাকে দিয়ে এমন কাজ করাতে বাধ্য হবে যা আপনি কখনো চান না আর এই ফাঁদ থেকে বাঁচার কোন অপশন নেই, আপনাকে ডিজিটাল কারেন্সিতে ঢুকতেই হবে, সে আপনি চান না চান

আমি আপনাকে প্রেসক্রাইব করব ব্যাংকে ততটুকু টাকায় রাখুন, যতটুকু না রাখলে নয় বাকিটা সোনা বা ওই জাতীয় সম্পদ এবং স্থাবর সম্পত্তিতে কনভার্ট করে ফেলুন বাকিটা আপনার মর্জি আমাদের স্মরণকালের মধ্যেই কিন্তু ২০০০ নোট এর জন্ম হয়েছিল, পরবর্তী ইউপিআই এর প্রচলন, সেটার ব্যাপকভাবে প্রসারের জন্য করোনা নাম দিয়ে প্রোপাগান্ডা এবং আজ ২০০০ নোট সুতরাং সময় খুব দ্রুত গতিতে চলছে, এই গতি রোজ আরো ত্বরান্বিত হবে আপনি নিজেই দেখে যাবেন এদের চক্রান্তটা, কিভাবে আপনাকে সর্বস্বান্ত করার জন্য করা ছিল

বুধবার, ২০ মে, ২০২০

বিজেপির আয় বৃদ্ধি


আত্মনির্ভরতা কাকে বলে বিজেপিকে দেখে শিখুন।

লিঙ্কে রইল সাইফনিং এর ফলাফল, যা নিয়ে প্রায় রোজই লেখালেখি করি আমি।
আমার মতে এটা যা দেখছি সেটা হিমশৈলের চূড়া মাত্র। প্রতিটি সরকারী টেন্ডার থেকেই কাটমানি খায় এই দলটি।
নোটবন্দি থেকে রাফাল হয়ে আধুনা কিট কেলেঙ্কারি, এর মাঝে স্ট্যাচু কেলেঙ্কারির মত কত শত লাখ ছোট মেজ কেলেঙ্কারি রয়ে গেছে। আর রয়ে গেছে জাষ্টিস লোয়ার রহস্য মৃত্যু ও জাস্টিস গগৈ এর রাতারাতি সংসদ হওয়া অবসরের পরই। এখানেই বোধহয় গণতন্ত্রের আধুনিক সংজ্ঞা দেওয়া রয়েছে।
নতুবা বিশ্বজোড়া এই তীব্র অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মাঝেও এদের আনুষ্ঠানিক শ্রীবৃদ্ধিতে কোনো খামতি নেই।
আত্মনির্ভরতার বিষয়ে যেটা জানা গেল, "মেক ইন ইন্ডিয়া" ঢক্কানিনাদের লোগোটিও বিদেশী কোম্পানীর তৈরি করা। মধ্যপ্রদেশের সমাজকর্মী তথা আইনজীবী চন্দ্রশেখর গৌড়ের এক RTI এর প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তর জানিয়েছে- "ওয়াইডেন-কেনেডি" নামের এক মার্কিন কোম্পানীকে মেক ইন ইন্ডিয়ার ঢাক পেটাবার জন্য ১১ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল। তারাই এই লোগো বানিয়ে দেয়। বন্ধু কুশল ভট্টাচার্যের একটা TOI লিঙ্ক থেকে বিষয়টা গোচরে আছে।
কিন্তু আপনি তো ভক্ত, আপনার কিইবা যায় আসে! মোদীজি যখন করেছেন- নিশ্চই ভালর জন্যই করেছেন।
ছিল গণতন্ত্র, এলো ভক্তিতন্ত্র....
মোদী হ্যায় তো মুমকিন হ্যায়

শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২০

আবাপতে মান্নীয়ার মুখ কেন?

 


কেউ কী আমাকে বুঝিয়ে দেবে-
'আবাপ'তে এই ধরনের বিজ্ঞাপন দিয়ে করোনার বিরুদ্ধে কীভাবে লড়াই হচ্ছে? অনলাইন পেজ খুললেই এই বিজ্ঞাপন দেখা যাচ্ছে।

১) এই বিজ্ঞাপন সাধারন মানুষকে কীভাবে উপকৃত করছে?

২) বিজ্ঞাপনে খরচা কত হয়েছে নাকি আবাপ বিনামূল্যে ছেপেছে? টাকা নিলে কত নিয়েছে? এই মহামারির অর্থকষ্টের সময় আবাপ'র পকেট ভরলে কোন নাগরিকের লাভ?

৩) তথাকথিত এই বিশ্বসেরারা কোন দেশে থেকে করোনার বিরুদ্ধে সফল লড়াই এর নজির রেখেছেন?

৪) ভাইরাস নিজে কি এই বিজ্ঞাপন দেখতে পাচ্ছে? মানুষ বুঝতে পারলেও হতেই পারে যে ভাইরাসকে ধমকানো চমকানোর জন্য এই বিজ্ঞাপন।

৫) এনারা ঠিক কি কি বিষয়ে গবেষণা করছেন, মানে ছবিতে যারা রয়েছেন। তারা তাদের মহামুল্যবান গবেষনা আর কাউকে না দিয়ে শুধুমাত্র বাংলাকে রক্ষা করতেই বা এলেন কেন?

৬) একজন মেডিসিনের ডাক্তার, একজন HIV বিশেষজ্ঞ, একজন হু' এর প্রাক্তন আঞ্চলিক অধিকর্তা, দুজন অর্থনীতি বিশেষজ্ঞ, একজন আমেরিকার কি একটা বিশেষজ্ঞ, একজন আমলা, একজন প্রাক্তন জনস্বাস্থ্য আধিকারিক। সাকুল্যে মোট আট জন।

৭) এটা কীভাবে 'জনস্বার্থ' সুরক্ষা করছে? কোন নাগরিকের স্বার্থ এতে উপকৃত আবাপ ছাড়া? এই বোর্ড কোন পরামর্শ দিয়েছে যেটার সফল প্রয়োগ করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার?

৮) এনারা ঠিক কে কীভাবে গবেষনা ও অনুপ্রেরণাকে অনুপ্রানিত করছেন? বিশেষ করে আমেরিকার অবস্থা সবচেয়ে খারাপ করোনাতে- তা ওই আমেরিকান ভদ্রলোককে নিজের দেশের সরকারই পাত্তা না দিলেও ওনার অনুপ্রেরণা ওনালে খুঁজে এনে ফেলেছেন।

৯) বাকিরা ঠিক কি বিষয়ে রাজ্যবাসীর সহযোগিতা করছেন যেটা কেন্দ্র সরকার বা WHO এর গাইডলাইন দিতে পারছেনা?

১০)বিশেষজ্ঞদের জন্য কত আর্থিক বরাদ্দ হয়েছে? সেই টাকায় কিট, PPE, ভাইরাস গবেষণা বা জনগনের পিছনে খরচা না করে এদের পকেট ভরা কেন?

মোটা মাথা তো, তাই কটা প্রশ্ন করেই ফেল্লাম।
আসলে এমন অনুপ্রেরণা তো সেভাবে বিশ্বে আর কোনো নজির নেই, তাই তাদের থেকেও জানা যায়নি। সেজন্যই শুধানো। যাদের এমন বিশ্ব এডভাইসারি বোর্ড নেই তারা কতটা লোকসানে আছে আর আমাদের রাজ্য ঠিক কতটা এগিয়ে আছে?

দিনের শেষে করোনার নামে কেন্দ্রের বরাদ্দ, লোকজনের থেকে চাওয়া অর্থ তথা পাব্লিক মানি দিয়ে এ কার প্রচার হচ্ছে সেটা জানাটা নাগরিকের মৌলিক অধিকার।

বুধবার, ১৬ আগস্ট, ২০১৭

অকপট পত্রিকা শারদ অর্ঘ্যঃ সম্পাদকীয়


সম্পাদকীয়

অকপট পত্রিকা শারদ অর্ঘ্য

সমাজ একটি জীবন্ত শরীরের ন্যায়, যাহার পদপৃষ্ঠের নখরও সামান্যতম চোটগ্রস্থ হইলে ওই শরীরের মস্তকে অস্থিরতা শুরু হইয়া যায়। অসুস্থতার মূল কারনই হইল দুষ্ট সংক্রামক রোগের বীজাণু, সমাজের পীড়ার ক্ষেত্রেও এ নিয়ম ব্যাতিক্রম নহে। প্রামাণ্য যুক্তিগ্রাহ্যতার বাহিরে যাইয়া কল্পিত ভ্রমকে, সত্য রূপে প্রতিষ্ঠিত করিবার ব্যাধি আজিকের সমাজে দুষ্ট সংক্রমণকারি মহামারী রূপে বিস্তারলাভ করিয়াছে। আশাবাদী মানুষসকলই ভবিষ্যৎ দ্রষ্টা হন ও উন্নত আগামী গঠন করিয়া থাকেন, যাহার জন্য প্রয়োজন দৃঢ় সংকল্প। তথাপি কেহ প্রবল আশাবাদী হইয়া, বাস্তব ভুলিয়া কল্পিত ভবিষ্যতে অনেকেই বসবাস করিতে শুরু করিয়া দেন; সেই একই বাস্তব সংকল্প ও উদ্যোমের সহিত। সমাজে তখনই উন্মাদ নামক প্রজাতির সৃষ্টি হয়, যাহাদের অযৌক্তিক উন্মত্ততাই সমাজের বুকে অস্থিরতার জন্ম দান করিয়া থাকে।
সামাজিক জীব মানব ক্ষুন্নিবৃত্তি নিবারনের জন্য পৃথক পৃথক পেশার সহিত যুক্ত হইয়া থাকে। সামাজিক অবস্থানের বিচারে গোটা পৃথিবীজুড়িয়া সম্মানের পেশা হিসাবে স্বীকৃত ‘বিজ্ঞানচর্চা’ জনপ্রিয়। আজিকের অবশিষ্ট শিক্ষিত সমাজ, বিজ্ঞানের সেবকদিগকে পৃথক সম্প্রদায় হিসাবে বিজ্ঞের মর্যাদা দান করিয়া থাকে। এক্ষেত্রে বিজ্ঞান আর বিজ্ঞ শব্দ দুইটি উপস্থিত, অতএব পরিসরে যুক্তি নামক শব্দ বন্ধটিকেই যে সর্বচ্চো পদে আসীন করানো হইবে, তাহা বলাই বাহুল্য। যুক্তি সর্বদাই প্রামান্য দলিলের উপরে নির্ভরশীল, কল্পিত প্রতীতি সংজ্ঞার উপরে নয়। কিন্তু সার্বিক বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন উদ্যাপিত করিবার জন্য কতিপয় ব্যাক্তিবর্গের গন্ডি অতিক্রম করিয়া, গোটা সমাজেরই উচিৎ যুক্তিগ্রাহ্য মতামতকে প্রাধান্য দিয়া আপনাভ্যন্তরে জারিত করিয়া লওয়া।
প্রতিটি ধর্মীয় মতবাদই তাহাদের পুস্তকে দাবি করিয়া থাকেন যে তাহারাই শ্রেষ্ঠ ও সর্বচ্চ সহনশীল মতবাদের অধিকারী। আম জনগন, যাহাদের সাধারন বুদ্ধিতে সেই মতবাদ মর্মোদ্ধার করিতে অক্ষম হইলে বা প্রশ্ন উঠাইলেই সহনশীলতার ব্যবহারিক প্রয়োগ ভুলিয়া; মারন অস্ত্রের ঝঙ্কার দ্বারা শান্তি কায়েম করিতে রত হয়। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, ইহার কোনো হিন্দু, মুসলমান, খ্রীষ্টান, শিখ, বৌদ্ধ , ইহুদী ইত্যাদি প্রভেদ নাই, আঞ্চলিক শক্তির বিচারে যে দল বলশালী, তাহারাই উপরোক্ত পদ্ধতিতে সহনশীলতা প্রদর্শন করিয়া থাকে।
বিজ্ঞানীগনও এই সমাজেই বসবাস করেন, তথাপি আপন অধ্যয়ন বিনা বহির্বিশ্বের যাবতীয় সমাজের প্রতি কোনো দায়বদ্ধতা সাধারনত তাঁহারা দেখাননা। যুক্তির দক্ষ বিশ্লেষণ এনাদের থেকে ভাল আর কেই বা করিতে সক্ষম নিজ নিজ বিষয়ে। অথচ সামাজিক অস্থিরতার প্রশ্নে তাঁহারা সম্পূর্ণ মূক ও বধিরতা অবলম্বন করিয়া থাকেন। ধর্মগ্রন্থগুলি দাবি করিয়া থাকে তাহার অভ্যন্তরেই যাবতীয় বিজ্ঞানচর্চার বীজ প্রেথিত, অথচ যাহারা নতুন কিছু আবিষ্কারক হিসাবে ঘোষিত; তাঁহারা কোথাও দাবি করেননি যে, কোনো বিশেষ ধর্মগ্রন্থ পড়িয়াই এই আবিষ্কার করিয়াছেন অথবা নুন্যতম সাহায্য পাইয়াছিলেন।। অথচ তাহারা সরকারি পৃষ্ঠপোষকতাতে নিজেদের সুরক্ষিত কক্ষেই বন্দি করিয়া রাখেন, আর দেশ তথা সমাজকে কিছু অশিক্ষিত বা অর্ধশিক্ষিত রাজনৈতিক নেতাদের হাতে উন্মুক্ত করিয়া দেন।
নিকৃষ্ট স্বার্থবাজেদের দল সকল সময় আবেগকে পুঁজি করিয়া থাকেন, গ্যালিলিও –কোপারনিকাসদের আমল হইতেই যুক্তির সহিত স্বার্থান্ধদের বৈরিতা সর্বজন বিদিত। ঈশ্বরবাদের সহিত বিজ্ঞানের প্রতক্ষ্য সংঘাত নেই, কুসংস্কার, অলৌকিক বিশ্বাসের সাহিত অবশ্যই রহিয়াছে। জনগন পরিকল্পিত ছলচাতুরিতে পারদর্শী নয়, তাহারা যুক্তিও বোঝেন। প্রয়োজন শুধু যুক্তিবাদীদের সাথে জনগনের ক্রম সম্মেলনের। রাষ্ট্রকেই এই সকল যুক্তিবাদী সম্মেলনের পৃষ্ঠপোষক হইয়া; ইহার সহিত জুড়িয়া থাকা সকল ব্যাক্তিকে সামাজিক সুরক্ষা প্রদান নিশ্চিত করিতে হইবে, মানবজাতীর স্বার্থে।
এক্ষনে রাষ্ট বা রাষ্ট্রপিতাই যদি কুযুক্তির প্রজ্ঞাপন করেন তথা পৃষ্ঠপোষক হয়, সাধারন জনগনের সমাজকে দুষ্ট সংক্রমন থেকে বাঁচাইবে কে?

মঙ্গলবার, ৯ মে, ২০১৭

।। চলতে চলতে~ ২ ।।



দুপাশে কিশোর পাটগাছের ক্ষেতের ভয়ানক গুমোট গরম সাথে করে, ধুলোউড়া গ্রামের পথে যতক্ষনে বাইক চালিয়ে প্রান্তিক নদীয়ার হল্ট স্টেশনটিতে এসে পৌছালাম, ততক্ষনে ডাউন ট্রেনের খবর হয়ে গেছে। ফাঁকা ধু ধু মাঠের মাঝে একটি ছোট্ট বর্ধিষ্ণু চাষী গ্রাম, আর তার মানানসই আরো ছোট স্টেশনটি।
এখানে প্রতি বছর বন্যার জল ওঠে, এবং বলা যেতেই পারে গঙ্গা কয়েক হাতের মধ্যে। তাই স্টেশনটা অদ্ভুত ভাবে মাটি থেকে কমপক্ষে শহুরে ফ্ল্যাটের সাইজের ৩ তলা উপরে। শুনেছি এই স্টেশনে নাকি জনা চারেক রেলের স্টাফ আছে, আজ পর্যন্ত আমার দর্শনে ২ জন ছাড়া কাওকে পাইনি। একজন দিনে অন্যজন রাত্রে। যিনি ডিউটিতে থাকেন তিনিই ঘোষক, টিকিট ভেন্ডার, সিগন্যাল ম্যান ও চেকার। প্রয়োজনে প্রথমিক এ্যালোপ্যাথি চিকিৎসা, হাত দেখা সহ নানান পরিষেবা, তুলনামূলক যুবক চাকুরে ভদ্রলোকটি শুনেছি দিয়ে থাকেন।
গাড়িটা স্টেশনের নিচের গ্যারেজে রেখে চাবিটা একটা লোপ্পা ক্যাচে গ্যারাজওয়ালার হাতে গচ্ছিত রেখে প্রায় দৌড়ে গিয়ে একটা রিটার্ণ টিকিট কাটলাম। দুপুর ১১:১৭ এর ট্রেন, কাঠের বগি বা কয়লার আমলে এটা নাকি ক্যাশ গাড়ি ছিল, জানিনা বর্তমানে কি স্ট্যাটাস। স্টেশনে কিছু শব্জি বিক্রেতা দেহাতি মহিলা, কয়েকজন হকার, কিছু পাশের ইঁটভাঁটা শ্রমিকের ছেলেপুলের দল আর গোটা তিনেক বাস্তু ভবঘুরে আর হাতে গোনা কয়েকজন প্যাসেঞ্জার রীতিমত ধুঁকছেন। আসে পাশের গাছ গুলোর মাথা প্ল্যাটফর্ম থেকে ছোঁয়া যায়, তাই ছায়ার প্রশ্নও নেই, ফুট ওভার ব্রিজের নিচে এক চিলতে ছায়া, সেখানেই গোটা স্টেশন আশ্রয় নিয়েছে। হাওয়া চলছে ঠিকিই কিন্তু সে হাওয়া ভীষন উষ্ণ। পকেট থেকে রুমাল বের করে ঘাম মুছে একটা সিগারেট জ্বালালাম, সুখটান পর্যন্ত পৌছানোর আগেই হুইসেল দিতে দিতে ১২ বগির অফ হোয়াইট আর বেগুনীর বর্ডার দেওয়া আধুনিক মডেলের উইন্ডস্ক্রিন যুক্ত নতুন EMU ট্রেন প্ল্যাটফর্মে ঢুকে পড়ল।
হকার ভাইদের তৎপরতাকে টেক্কা দিয়ে ট্রেনে চড়তেই ট্রেন ছেরে দিল। এই দুপুরের ট্রেনেও বেশ ভাল ভিড়, সিট নেই মোটেও। তবে দাঁড়িয়ে যাওয়া যায়। দুপুরের ট্রেনগুলোর সুবিধা হচ্ছে এখানকার যাত্রীগুলো সব ঘরোয়া মানুষজন, ডেলিপ্যাসেঞ্জার নামের কলঙ্ক ওই অসভ্যগুলোর প্রাদুর্ভাব থাকেনা। আত্মীয়স্বজন বাড়িগামী বা ঘরমুখো মানুষজনের সাথে বড় বড় লাগেজে ঠাসা বগি। স্কুল কলেজের ছেলেমেয়েরাও আছে, মাঠের মুনিশ আছে, বাউল, ঢাউস বালতি সহ দুধ বিক্রেতা, আর বেচারামুখো স্বামীতে থিকথিক করছে।
মাথার ঘাম মেরুদন্ডের নদী বেয়ে ভায়া জাঙ্গিয়া পাছায় পৌঁছে প্যান্ট আর দাপনা ভিজিয়ে রেখেছিল। ট্রেনটা চলতেই দমকা হাওয়া.... প্রানে নির্মল শান্তি প্রদান করল। কাঁধ থেকে ব্যাগটা উপরের তাকে রেখে সেই প্যাসেজেই ঢুকে গেলাম। ঘামে মাথাটা ভিজেই ছিল, তীব্র হাওয়াতে, চোখের পাতাদুটোকে নিয়ন্ত্রনের বাইরে নিয়ে চলে যাচ্ছিল প্রায়, এমন সময়....
-' ও দাদা, কামড়াবেন নাকি! এক্কে বারে কচি দেহ। 
ছাল ছাড়িয়ে দিচ্ছি, বিট নুন দিয়ে.....'
তন্দ্রা ছুটে গেল। বুঝলাম শশা বিক্রেতার বিপণন কৌশল।
-.... ও দাদা, গরমে ঠান্ডা। খাবেন নাকি! পোড়া আম দিয়ে বানানো ঠান্ডা সরবৎ....
.... জল, সিল প্যাক ঠান্ডা জল, জল......
.... রুমাল সংগ্রহ করবেন নাকি! শান্তিনিকেতন এর তাঁতের কাপড়, পিওর সুতি.....
নাহ, ঘোড়ার মত দাঁড়িয়ে ঘুমানোটা আজ আর হচ্ছেনা। হঠাৎ পায়ের উপরে আরেকটা জুতোর চাপ,... আ... করে মুখ দিয়ে ব্রজবুলি বেড় হতে হতে থেমে গেলাম। একটি ৫-৬ বছরের বাচ্চা তার মায়ের কাছে কিছু একটার জন্য ঝোঁক ধরেছে। সুতরাং অতি উৎসাহে আমার পা অগ্রাহ্য করাই যায়.....
....পেপসি, দই চিনি আর বারো রকমের লবন ও মশালা দিয়ে, গরমে আরাম..... মাত্র ৫ টাকায়.... পেপসি....
বাচ্চাটি পেপসি পান করছে, ট্রান্সপারেন্ট পলিথিনের লম্বা প্যাকে হালকা হলুদাভ 'পেপসি'। বাচ্চাটি খাচ্ছেনা, পাছে তাড়াতাড়ি ফুরিয়ে যায়। এর পর দেখলাম সরু স্ট্র করে টেনে কিছুটা পানীয় মুখে নিল, খানিকক্ষন মুখে সেটা রেখে সম্পূর্ন সুখ নিয়ে সেই স্ট্র দিয়েই আবার চিকচিকেতে ফিরৎ পাঠালো। দারুন জমে উঠা খেলা। এই মুহুর্তে কোটি টাকাও ফেল এই অনবিল সুখের কাছে। চিকচিকির বাইরে বিন্দু বিন্দু জল জমা হয়ে সেগুলো আমারই পায়ে টোপা টোপা হয়ে ঝড়ছে।
আমি একজনকে ফোনে পাবার চেষ্টাতে ব্যাস্ত। তাকে ফোনে পেতেই শুনলাম তিনি নাকি রাস্তায় দাঁত কেলিয়ে পরেছিলেন গরমের চোটে। হঠাৎ পায়ে কিছু একটা কিলবিল করছে, এক ঝটকাতে পাটা সরাতেই আওয়াজ...
-এজ্ঞে, আমিমি। ছিলাটা তুমার পায়ে লুংরা ফিলেছে, তাই পুচে দিচ্চি।
- আরে না না, ধুর কি করছেন। পথে ঘাটে চলতে চলতে এমন তো হয়েই থাকে।
সে যাত্রায় ভদ্রমহিলা ব্যার্থমনোরথে ক্ষান্ত দিলেন। আমার চোখে সানগ্লাস, সুতরাং প্রতক্ষ দেখতে মানা নেই, অবশ্য মন পারমিট করলে তবে। দেখলাম....
সদ্য কুড়ি পেড়োনো এক উচ্ছল যুবতী। আশ্বিনের নদীর মত ভরা শরীর, অথচ শান্ত। কর্মঠ অবশ্যই, নতুবা এমনতর নির্মেদ হওয়া সম্ভবপর নয়। এবারে আমি গোটা কামরাটা একবার প্রদক্ষিণ করলাম চোখ দিয়ে, যতটা করা সম্ভব। তাতে করে এক আশ্চর্য উপলব্ধি হল।
কামরাতে শিশু থেক বৃদ্ধা অনেক সুন্দরীর উপস্থিতি, জীবনে কম সুন্দরীদের সহচর্যে আসিনি, তবুও কেন জানিনা এই মেয়েটিকেই আমার দেখা অন্যতম শ্রেষ্ঠ সুন্দরী মনে হল। পাকা জামের মত গায়ের রঙ, তা সত্বেও কাটারির মত মোটা ভ্রু সৌন্দর্য বৃদ্ধি করেছে শতগুণ। নাকটা চাপা, আর নাকের পেটিগুলো ফোলা ফোলা, যেমনটা আমাদের আদিবাসী রমনীদের হয়, ইনিও তার ব্যাতিক্রম নন। চোখগুলো ছোট ছোট কোটরে বাই ডিফল্ট ঢোকা। কর্নিয়া অস্বাভাবিক রকমের সাদা, যেমন দাঁত গুলো। খেয়াল করলাম হাসলে মাড়ি দেখা যাচ্ছে।
এর সৌন্দর্য আসলে এর সাবলীলতাতে। মুখে নুন্যতম প্রসাধনী কারুকার্য নেই। হয়ত পুকুরে স্নান করার সময় লাইফবয় সাবান দিয়েই মুখ ধুয়েছে। নাহ এদের নিম ফেসওয়াস লাগেনা। সম্ভবত হালখাতার মিষ্টির প্যাকেটের রঙিন গাডারে চুলটা বাঁধা। আকর্ষনীয় সাজ, যেখানে অন্যে কি ভাববে তার বালাই নেই, আত্মাকে শান্তি দিতে নুন্যতম পরিমান ভাবের ঘরে চুরি নেই। দুনিয়া যা ভাবে ভাবুক, সে তার মত সেজেছে। শুরুটা পা দিয়েই করি। নিশ্চিত ভবে ইনি স্কুলে যাননি, তবে একটা শখ হয়ত মনে ছিল। পায়ে উজালা দিয়ে নীল করা কাপড়ের ফিতে বাঁধা কেডস। নাহ, মোজা ছিলনা।
একটা গোলগলা কলারওয়ালা জয়পুরী প্রিন্টেড ব্লাউজ, হাফ হাতা। এনার সান্সক্রিমের পরতে মোড়া 'ফর্সা' পিঠ পৃথিবীকে দেখানোর দায় নেই। পোষাক লজ্জা নিবারণের জন্য, অন্য সকলকে আকর্ষিত করার জন্য নয়। ইনি সেটা না বুঝেও বোঝেন, বোদ্ধারা যুক্তির মোমবাতি জ্বালান।
বাজুতে একটা রুপোর তাগা। বেশ পুরাতন, হয়ত স্মৃতিরক্ষার পরম্পরা ওইটি। পরনে একটা উজ্জ্বল ডিপ গোলাপি সিফন শাড়ি, যার জমিতে ও আঁচলা জুড়ে সোনালি জড়ির কাজ। হাতের নখে ঘসে যাওয়া নখপালিশ। সেটা আবার গাঢ় সবুজাভ। হাতের লালচে সাদা তালুতে সে কি অনবদ্য সুন্দর দৃশ্য।
নাহ, লোকে কি বলবে সেই ভয়ে এ মেয়ে ভীত নয়। অশ্লীল কিছু নয় এমন সকল শখ সে পূরন করেছে। আত্মাকে প্রশান্তি দিয়েছে, এ মেয়ে ছারা কে হতে পারে স্বাধীনচেতার নমুনা!
আধা ঘন্টা পরেই সিট পেয়ে গেলাম। আমি জানালার পাসে, মাঝে বাচ্চাটি তার পাশে সেই রমনী। চোখের ইশারাতে বাচ্চাকে শাষনে রাখার ব্যার্থ চেষ্টা সযত্নে চালু রয়েছে মায়ের। আচ্ছা আমরা যারা নাকি আধুনিক বলে দাবি করি, তারা কি বিশ্বায়নের দাস নই? বিজ্ঞাপণ সর্বস্ব পৃথিবীতে সাজানো চমকের ফাঁদে তলিয়েও মজন্তালি সরকারের মত জিতে যায়।
সৌন্দর্য কি বহি:রঙ্গে? মাটির প্রতিমার মত অপূর্ব মুখশ্রীর এক বৌদি ঠিক আমায় পিছন করে সমুখপানের জানালা দখল করে বসে আছেন। ট্রেন সামনের দিকে চলছে, স্লিভলেস বৌদির বগলের "সিক্রেট টেম্পটেশন ট্যাল্ক" আমার কানের পাশ দিয়ে নাকে ঢুকছে। নামার সময় সেই সুগন্ধ প্রদান হেতু তাকে খানিক দেখলাম, রোদচসমার ফাঁক দিয়েই। জারদৌসি শাড়ি নাভির নিচ থেকে শুরু হয়েছে। মাঝের উন্মুক্ত লোভনীয় চর্বিযুক্ত পেটিদেশ ও নাভিকূপ এটা পৌষমাস হলেও অনেককেই ঘামিয়ে দেবার জন্য যথেষ্ট ছিল।
ভাবছিলাম, তাহলে ভারতমাতার রূপ কোনটা? সন্দেহের কোনো অবকাশই নেই যে, ভারত মাতার আধুনিক সন্তানেরা কোন রূপটির আরাধনা করবেন। নির্মল স্বকিয়তাতে ঠাসা একজন মা, যিনি নিজের রূপ সম্বন্ধে ওয়াকিবহাল, তবুও সে নিজের ভাবনাতেই একনিষ্ঠ। নেটের দুনিয়াতে বিভোর এক আধুনিকা মামনি নুডুলস স্ট্রিপের টপের চারিবেড়ের ঘামাচি চুলকাতে চুলকাতে পাশের বন্ধুটির সাথে খিল্লি নিয়ে ব্যাস্ত, উদ্দেশ্য অবশ্যই আমার পাশেরজন। তাকে ঘামাচি লুকাবার জন্য মেকি রূপচর্চার সময় ব্যায় করতে হয়না। উন্মাদের চোখ বলে কিনা জানিনা, রামকিঙ্কর বেজের কাদা পাথরের ভাষ্কর্য কি এদেরকে হুবহু নকল করে বানানো নয়?
চলতে চলতে কোন একটা স্টেশনে নেমে যাওয়ার আগে আরেকবার আমার কাছে অন্যায়কারীসুচক চোখে তাকিয়ে ভিড়ের মাঝে মিশে গেলেন। আমার মনে ভারতমাতৃকার একটা ছাপ রয়ে গেল।
আজ গুরুদেবের জন্মদিন, সাধে কি তিনি বলেছিলেন-
"কৃষ্ণকলি আমি তারেই বলি......"
ধন্য কবিগুরু, তুমি নাহলে কোনো শেষটাই শেষ করতে পাতামনা, এবড়োখেবড়ো করেও।

মঙ্গলবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

।। দুঃখ বিলাস ।।


সকলেই সুখে থাকতে চান, যে কোন মুল্যে। কিন্তু সকলে সুখের সাগরে ভেষে, তার উদযাপন নাও করতে পারেন, কল্পিত দুঃখের মানে নিজেকে সযত্নে লালন করে তার মাঝে জীবনের সারবত্তা খুঁজে ফেরেন বহুজনেই।

জগতে কিছু মানুষ আছেন, যারা অত্যন্ত পেশাদারি ঘরাণাতে দু:খ বিলাস যাপন করেন, সুখের নিমিত্তে।

আমার মতে তাদের যোগ্যোতা, ও ভাগ্যগুন বা ইশ্বর/আল্লার আশির্বাদেই বলুন, সুস্থভাবে বেঁচেথাকার জন্য একটা নির্দিষ্ট রোজগারের সাম্মানিক পেশা যাদের রয়েছে, তারাই মূলত এই বিলাসযাপনটা করেন। আপনারাও খেয়াল করে দেখবেন, বুঝবেন এরাই তারা।

পেটে টান পরলে বিলাসিতা জানালা দিয়ে পালায়।

এনারা ভুলে যায়, যে পৃথিবীতে কতশত মানুষ প্রতিনিয়ত ক্ষুধার জন্য কতটা বিকিয়ে দিচ্ছে নিজেকে, প্রতিমুহুর্তে কত শত আপোষ শুধু বাঁচবে বলে।

একজন বেশ্যা.......
সে কারো মেয়ে, কারো বোন, কারো স্ত্রী, কারো মা....
কতটা নির্মম পরিস্থিতি হলে, তিনি তার শরীর বেচেন!! ব্যাতিক্রমি দুশ্চারিণী দু একজন অবশ্যই থাকে, কিন্তু অধিকাংশই পেটের টানে বা দ্বিতীয় উপায়ান্তর না থাকার দরুন এই আদিম পেশার শিকার। প্রতিটি মানুষ তার নিজের শরীরটা সংরক্ষিত রাখে তার একান্ত মনের মানুষকে উপহার দেবার জন্য, কেও কতটা অসহায় হলে সেই একান্ত নিজের শরীরটি কিছু যৌনক্ষুধিত মানুষের সামনে নিজেকে নগ্ন করেন, সামান্য অর্থের বিনিময়ে। এটা একটা উদাহরণ দিলাম বেশ্যবৃত্তি দিয়ে, এমন অনেক পেশা আছে পৃথিবীতে। অনেক মানুষ ডাষ্টবিন থেকে খাবার খুঁটে খান....
বেঁচে থাকার জন্য...

এনাদের জীবনটা দু:খ দুর্দশার পাঁকে ডুবে থাকলেও দু:খ নিয়ে কোন বিলাস নেই। এরা বেঁচে থাকেন বাঁচার আনন্দে। রাশি রাশি দু:খ যন্ত্রনার বিনিময়ে কেনা সামান্যটুকু সুখ নিয়েই আগামীর জন্য স্বপ্ন দেখেন।ওই মানুষগুলোর আর্থিক অনটন নেই, তাই দুঃখটাকে বিলাসের পর্যায়ে নামাতে পেরেছেন।

ইচ্ছাশক্তি দ্বারা বহুকিছুই সম্ভব। এটা ধর্ম থেকে বিজ্ঞান সবক্ষেত্রেই প্রমানিত। তাই যারা এমন ধরনের বিলাস করেন তারা আসলে একটা নেশার ঘোরে ডুবে থাকেন। তাই সময়েন নিয়মে সুখ যদি জীবনে আসার চেষ্টাও করে, এনারা তাদের ওই ইচ্ছাশক্তির গুনে ওই সুখকেও দুঃখের নদীতে পরিণত করেই ছারবে, যে কোন মুল্যে। এই ধরনের মানুষদের মনে একটা প্রচ্ছন্ন অহংকার থাকে, যে তিনি যেটা করছেন সেটাই একমাত্র ঠিক, বাকি সবাই ভুল। সকল সময় একটা তীব্র ঋণাত্মক জীবনীশক্তি দিয়ে নিজের বলয় তৈরি করে রাখে, সেই বলয় কে টপকে অন্য কেও সুখ নিয়ে তার জীবনে প্রবেশই করতেই পারেনা। এমনও হয় যে, ওই বলয় ভেদকরা একসময় তার নিজের পক্ষেই দুঢ়হ হয়ে যায়।

ঘিরে ধরে নির্মম একাকিত্ব। সামাজিক ও মানসিক দুই জগতেই। তার নিজশ্ব মেকি বিচারবুদ্ধি দিয়ে গড়া পৃথিবী, শ্বাস নেওয়ার অযোগ্য হয়ে যায়। তখন মৃত্যুর শীতল যন্ত্রণা থেকেও বেঁচে থাকাটা আরো বেশি বিভীষিকা মনে হয়।

সমাজের নিন্মবৃত্ত পরিবারের ছেলেমেয়ের মাঝে এই ধরনের রোগের ব্যাকটেরিয়ার প্রাদুর্ভাব থাকেনা মোটেই, আবার যাদের জীবন পেশাগত ক্ষেত্রে অকৃতকার্যে ভরা, তারাও এই বিলাস করতে অক্ষম, কারন ভবিষ্যতের ভয়াল কল্পনা তাদের বিলাস করার সময়টুকু দেয়না। এটা করে মুলত মধ্যবিত্ত সমাজের আর্থিকভাবে স্বচ্ছল স্বাবলম্বী কিছু মানুষ, আর উচ্চবিত্ত ও হাতে কাজ না থাকা মানুষের দল, যাদের জীবনে বস্তুসুখের কোন অভাব নেই। মোটকথা, খেয়েপরে একটা সময়ের পর যখন জীবন লক্ষ্যহীন হয়ে যায় তখনই এমন বিচিত্র বিলাসের সূচনা।

হ্যাঁ, আপনাকেই বলছি। যদি মনেহয় আপনি সেই মানুষটা যাদের কথা উপরে লিখলাম, তাহলে বলি আপনি ভীষন ভীষন আর ভীষন ভাবে অসুস্থ, শারীরিক মানসিক দুভাবেই। আপনি কাউন্সিলিং করান, জীবনের মজা নিন। প্রেম করুন, আনন্দ করুন, দিনে একঘন্টা প্রান খুলে হাসুন। কোন মৌলিক, সামাজিক কর্ম বা নিজেকে কোন শিল্পকর্মের মাঝে নিয়োজিত করুন। দেখবেন জীবনকে অনেক স্বচ্ছ মনে হবে।

জীবনটা আপনার, তাই আপনিই জানেন কি পরিমাণ চড়াই উতরাই পেরিয়ে আপনি আজকের দিনে পৌঁছেছেন। আপনার জীবনটা কারো দয়ার দান নয় যে লুটের ভাগের মত, সময়ের সিড়িতে নিজেকে নিচের দিকে গড়িয়ে দেবেন, দিলে নিজেই আঘাতপ্রাপ্ত হবেন, অন্যেরা মজা দেখবেন। আপনি দু;খ উপভোগ করছেন, অন্যে আপনাকে দেখে বিনোদন প্রাপ্ত হবে। জীবন যদি শোনপাপড়ি হয় তাহলে কেবল তার গঠনগত ফোলানো ফাঁপানো আয়তন আর জটিলটার দিকে দৃষ্টিপাত করে, যন্ত্রনাক্লিষ্ট হয়ে কি লাভ! কার লাভ? বরং সেই সোনপাপড়ির মিষ্টতা নিন চুটিয়ে।

দেখুন প্রত্যেকের জীবনেই তার নিজের নিজের মতন করে দারুন দারুন জটিল সমস্যা আছে। যার জীবনের যতটা ব্যাপ্তি, তার যন্ত্রনা ততটাই বেশি থাকে। সফল ব্যাক্তিদের সফলতার আলোকে ব্যার্থতা চাপা পরে যায়, আর ব্যার্থ মানুষের ব্যার্থতাতে, মানুষটাই চাপা পরে যায়, তাই জীবনকে উপভোগ করুন। নাস্তিক হলে গল্প উপন্যাস বই পরুন না হলে ইশ্বর বিলাস করুন, দেখবেন আপনার কৃত যাবতীয় ভালমন্দের যায়, ঈশ্বরের ঘাড়ে চাপিয়ে নিশ্চিন্তে আগামির লক্ষে এগিয়ে যান। অবশ্যই অন্যের অযথা ক্ষতিসাধন না করে। ভাবনা চিন্তাতে ধনাত্বক ভাব আনুন। গ্লাস অর্ধেক খালি না দেখে দেখুন গ্লাস অর্ধেক ভর্তি। খুনটা খুনই, অন্যকে হত্যা করলেও সেটা অপরাধ, নিজেকে করলেও তাই।

জীবন সকলকে সুযোগ দেয়, নিজেকে বদলে নেবার, শুধরে নেবার। জীবনকে নিজের থেকে দূরে ঠেলে দিলে আপনিই আসলে একা হয়ে যাবেন।

নিজে বাঁচুন অন্যকে বাঁচার রসদ দিন।

মনে রাখবেন, অনেক দু:খ আছে বলেই না সুখের কদর এতো বেশি।


তৃণমূলের প্ররোচনার ফাঁদে পা দেবেন না

⛔ সতর্কতামূলক পোষ্ট ⛔ আজ SIR এর ভোটারলিষ্ট বার হবার পর- জনরোষের দোহায় দিয়ে দিকে দিকে ‘সংগঠিত অশান্তি’ লাগাবার ‘ফুল প্ল্যান’ নিয়ে এগোচ্ছে শাা...