‘ব্ল্যাক মানি’র গল্প শুনিয়ে তথা অসদুপায়ে উপার্জিত অর্থকে
নিয়ন্ত্রণ করার নামে ২০১৬ সালে ভক্ত সম্রাট মোদীজি নোট
বন্দি করেছিলেন। সে সময় কোটি কোটি টন নিউজ প্রিন্ট সহ, ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া হোক বা সোস্যাল
মিডিয়া- সর্বত্র হাহাকার পরে যাওয়া বিভিন্ন
ধরনের বিষয়গুলো সামনে এসেছিল পক্ষে বা বিপক্ষে। অবশ্য এমন অবিবেচকের মত কোন
উদ্দেশ্যে কিছু (মোট জন সংখ্যার ১-২% বড়জোর) অসাধু ব্যবসায়ী-আমলা- রাজনীতিবিদদের জন্য
দেশের আমজনতা কেন এই চরম নারকীয় ভোগান্তির শিকার হবে!
প্রশ্ন করতে গেলেই “হামারে জাওয়ান সিয়াচেন মে লড় রাহা হ্যায়” জাতীয় কথাবার্তা সামনে আনা হয়েছিল বিজেপির প্রোপাগান্ডা মেসিনারি দ্বারা, এবং নাগপুর নিয়ন্ত্রিত দিল্লি কেন্দ্রিক টেলিভিশন সংবাদ মাধ্যমের দ্বারা। সেই সময়ে আমি বহুবার বলার চেষ্টা করেছিলাম- এখানে একটা দীর্ঘমেয়াদী ষড়যন্ত্র রয়েছে। জানিনা সে সময় কতজনের মাথায় ঢুকেছিল, আমাকে পাগল ছাগল ভাবেনি এমন মানুষের সংখ্যাই বেশি ছিল।
গোটা বিশ্বজুড়ে ওয়াল্ড অর্ডার নামে যে বিষয়টা প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছে তার অন্যতম কান্ডারী বিল গেটস তা আজ প্রমানিত সত্য, গত করোনাকালে সময়ে আমরা না ভাবে এই বিল গেটসকে দেখেছি চিকিৎসা ব্যবসায়ী কিভাবে পয়সা লাগিয়েছে। আপনার আশ্চর্য হয়ে যাবেন যদি একটু নিজেরাই গবেষণা করেন তাহলে দেখতে পাবেন আশি খানা দেশের সরকার যারা এই এক বিশ্ব শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এগোচ্ছে তাদের মূল ফাইন্যান্স স্যার হচ্ছে বিল গেটস। এদের উদ্দেশ্য কি উদ্দেশ্য একটাই মানুষের সম্পদকে নিয়ন্ত্রণ করা? ২০১৬ এর আগে UPI কোন বিষয় আমাদের কোথাও ছিল না অথচ আজকে দিনে দাঁড়িয়ে ইউপিআই ছাড়া google pay ফোন-পে ইত্যাদি বাদ দিলে জীবনটাই যেন অন্ধ হয়ে যায়. এটা করে আমাদের সুবিধা হয়েছে বিস্তর কিন্তু তলে তলে ক্ষতির পরিমাণটাও কম কিছু নয়।
আগে আপনার হাতে সম্পদ থাকলে আপনি সেটা দেখতে পেতেন, আপনার নিয়ন্ত্রণে থাকতো। আজকে এই 500 টাকা আর হাজার টাকা ডি-মনিটাইজেশনের মাধ্যমে আপনার কাছে আপনার মনে ভয় ঢুকিয়ে দিয়েছে ক্যাশ টাকা রাখা দেবে যাবে না। শিকারি সেটারই সিকুয়েল হিসেবে আজ ২০০০ টাকার নোটও ব্যান করে দেয়া হলো। এতে করে মানুষ আরো ডিজিটাল কারেন্সির দিকে ঝুঁকে যাবে। সেদিন খুব বেশি দূরে নয় যেদিন সরকার চাইলেই আপনার একাউন্ট ব্লক করে দেবে। রাতারাতি ফকির হয়ে যাবেন। কয়েক মুহূর্তে হ্যাকিং এর নাম করে যেকোনো দাদাগিরি কোন সংস্থা আপনার অ্যাকাউন্ট জিরো করে দিতে পারে, কারণ আপনার কাছে সম্পদ বলতে খাওয়া দাওয়া সামান্য টাকা আর একটা বাড়ি গাড়ি।
সম্পত্তি হিসেবে স্থাবর কিছু, যদি না সেগুলো লোনে
থাকে বাকি সবকিছুই কিন্তু অ্যাকাউন্টে ছিল। এবার আপনাকে
দিয়ে যা খুশি কুড়িয়ে নেওয়া যাবে, কারণ আপনার সমস্ত সম্পদ
স্বীকৃত সরকার দাড়া কোন একটা বিশেষ গোষ্ঠী আপনাকে নিয়ন্ত্রণ করছে বা করবে। সেই দিনটা খুব বেশি দূরে নয় হয়তো আগামী
১০ বছর, ততদিনে যাবে কিনা সন্দেহ।
আজকের এই কথাগুলো সেদিন চোখের সামনে ফলতে দেখবেন। তাই অনুরোধ
করব অর্থ যদি আপনার থেকে থাকে সেটাকে স্থাবর সম্পত্তিতে
কনভার্ট করে ইনভেস্ট করুন। জমিতে ইনভেস্ট করা সবথেকে ও সহজ
কিন্তু এর বাইরেও একটা সত্য আছে যেটা লাগতে পারে ফানি কিন্তু সোনা মজুদ করার চেয়ে
ভালো অপশন আর কিচ্ছু নেই কিচ্ছু নেই।
আগামী দিনে বিশ্বপ্রভুদের একটা গোষ্ঠী সরকারকে কেন্দ্র করে
শ্রমজীবী মানুষের উপরে কি পরিমান যে যথেচ্ছাচার চালাবে সেটা আজকের দিনে স্পষ্ট। এরা পেপার কারেন্সির মাধ্যমে সর্ব প্রথমে নিজেরা সোনা মুদ্রা হস্তগত করে
নিয়ে আপনার হাতে কাগজ ধরিয়ে দিয়েছিল। এরপরে প্লাস্টিক
মানি তারপরে বুলি বা বন্ড আর এখন সংখ্যা। এরপর সংখ্যা তো যে
কোন মুহূর্তে জিরো হয়ে যেতে পারে। তাই এর পিছনের কন্সপিরেসি
খুব ঠান্ডা মাথায় না বুঝলে আপনার আগামী প্রজন্মের জন্য আপনি
হাহাকার ছাড়া কিছু রেখে যাবেন না।
হয়তো বলবেন সকলের যা হবে আমারও তাই হবে, কিন্তু না গরিব খেটে
খাওয়া মানুষ তারা যারা দিন আনে দিন খায় তাদের খুব একটা অসুবিধা হবে না। কেননা তাদের মজুদ সঞ্চয় বলে কিছু নেই, কিন্তু আপনি
আজকে গোটা জীবন ধরে যেটা সঞ্চয় করলেন কালকে সরকারকে শিখন্ডী বানিয়ে
বিশ্বপ্রভুদের একটা অংশ আপনার সেই কষ্টার্জিত অর্থ ভোগ করবে
অথবা আপনাকে দিয়ে এমন কাজ করাতে বাধ্য হবে যা আপনি কখনো চান না। আর এই ফাঁদ থেকে বাঁচার কোন
অপশন নেই, আপনাকে ডিজিটাল কারেন্সিতে ঢুকতেই হবে, সে আপনি চান না চান।
আমি আপনাকে প্রেসক্রাইব করব ব্যাংকে ততটুকু টাকায় রাখুন, যতটুকু না রাখলে নয়। বাকিটা সোনা বা ওই জাতীয় সম্পদ এবং স্থাবর
সম্পত্তিতে কনভার্ট করে ফেলুন। বাকিটা আপনার মর্জি। আমাদের স্মরণকালের মধ্যেই কিন্তু ২০০০ নোট এর জন্ম হয়েছিল, পরবর্তী ইউপিআই এর প্রচলন, সেটার ব্যাপকভাবে
প্রসারের জন্য করোনা নাম দিয়ে প্রোপাগান্ডা এবং আজ ২০০০ নোট। সুতরাং সময় খুব দ্রুত গতিতে চলছে, এই গতি রোজ আরো
ত্বরান্বিত হবে। আপনি নিজেই দেখে যাবেন এদের চক্রান্তটা, কিভাবে আপনাকে সর্বস্বান্ত করার জন্য করা ছিল
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন