প্রাচীন ভারতে যুদ্ধ ইতিহাস ও মুসলমানঃ নারকীয় ধ্বংস যজ্ঞ পর্ব
প্রথম কিস্তি
আমাদের দেশের সবচেয়ে বিচক্ষণ ব্যক্তি বোঝাতে চালু উপমাটা হলো- ‘চাণক্য’; যার কূটনীতি দিয়ে ২৩৪ বছরের একটা সাম্রাজ্য মেয়াদী হয়েছিল, অথচ যে কূটনীতি দিয়ে প্রায় হাজার বছরের ইসলামিক শাসনের ইতিহাস, তাদের নাকি কোনো জ্ঞানীগুণী, বিচক্ষণ ব্যক্তিই ছিল না; সকলেই হিংস্র আর বর্বর ছিল। এ লজ্জা মুসলমানেদের নিজেদের একান্ত লজ্জা। মনুবাদীরা ২০০০ বছরের পুরাতন মনীষীকে আদর্শ হিসাবে খাড়া করতে পারে, তার গৌরবের ছটায় সকলে উদ্ভাসিত হয়। ইহুদীরা, খ্রিস্টানেরা হাজার বছরের গৌরবে গৌরাবান্বিত, আর মুসলমান সামান্য ২০০ বছর পিছনের অতীতকে সোজা কবরে চালান করে দিয়ে মুসলমানত্ব বজায় রেখেছে- লুঙ্গি, দাড়ি, সুরমা, আতর, বিরিয়ানি আর ‘বছর বিয়ানি’ খানকতক বিবি দিয়ে নিজেকে সাজিয়ে। না এগুলো করার মাঝে দোষ কিছু নেই, কিন্তু অতীতকে না জানার প্রচেষ্টা, নিজেকে শিক্ষিত হওয়ার বাসনা থেকে দূরে রাখা ও প্রজন্মকে শিক্ষিত করার দায়বোধ না থাকা- শাস্তিযোগ্য অপরাধ; আর এই শাস্তিটাই ভারতের মুসলমানেরা ভোগ করছে সঙ্ঘ পরিবারের বিভিন্ন শাখা দ্বারা।
বাংলাদেশের দিকে নজর দিলে তো সেখানে অবস্থা আরও ভয়াবহ, তারা যে গত শতকের মধ্যভাগ পর্যন্তও ভারতেরই অংশ ছিল সেটাকে প্রায় ভুলিয়ে দিতে পেরেছে তাদের নব প্রজন্মকে। তারা যে একটা মহান ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় সভ্যতার অংশ ছিল সেটা প্রাণপণে মুছে ফেলে বাঁচতে চাইছে, ইংরেজদের ভাগ করে দেওয়া পরিচয় বুকে আঁকড়ে, এদের ইসলামী পরিচয়ের সেই জোর নেই যা দিয়ে আরববিশ্বে ‘সহি মুসলমান’ হিসাবে স্বীকৃতি পাবে, অগত্যা গরুখোর ভারতবিদ্বেষী সারশূন্য জাতি হিসাবে বেড়ে উঠছে- ‘ইমাম মাহদির’ প্রতীক্ষাতে। এদেশে সঙ্ঘ পরিবার যেটা করেছে, বাংলাদেশেও উগ্র মৌলবাদী সংগঠনগুলো সেটাই করেছে, অতীত থেকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে; আর শিকড়হীন গাছ সামান্য ঝড়েই যেমন পড়ে যায়, এক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হবে না। এখন দেখতে সব ‘ওক্কে মামা’ লাগলেও তাদেরও দুর্দিন ঘনিয়ে আসবে, আর দুর্দিনের জন্য যে অন্য জাতি লাগে না, সেটা বাংলাদেশিদের চেয়ে ভাল আর কে বোঝে! পাকিস্তানিরাও মুসলমানই ছিল, যারা আম বাংলাদেশিদের প্রাণ ও সম্পদ নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলা করত। ভারতের সেনাবাহিনীর সাথ না পেলে যে আজও পাকিস্তানিদের গোলামি করতে হতো সেটা তারা ভুলে গেছে। তাদের নেতারা ভারতকে শত্রু হিসাবে খাড়া করে দিয়েছে রাজনৈতিক স্বার্থে; আত্মবিস্মৃত জাতি হিসাবে এদেরও পতন অনিবার্য, না হলে ইতিহাসের মৌলিক সূত্রই বদলে যাবে।
পাকিস্তানের বিষয়ে প্রায় কিছুই জানি না, তাই তারা ঠিক কতটা নিজেদের অতীতকে ভুলেছে সে আলোচনা করার সুযোগ নেই। তাহলে দেখা গেল, ইতিহাস বিস্মৃত হওয়ার জন্য মনুবাদের প্রয়োজন নেই, ইসলামিক জামাতি মৌলবাদের দল হোক বা খ্রিস্টিও বা জায়নবাদীদের দল- ক্ষমতার চক্করে ইতিহাসকে হয় এরা ভুলিয়ে দেয় বা নতুবা বিকৃত করে; খোজা প্রজন্ম বাধ্য হয়ে পশ্চিমা ন্যাংটা সংস্কৃতির মাঝে নিজের আইডল খুঁজে ফেরে। চলুন আবার প্রবন্ধের বিষয়ে ফিরি-
সুমেরীয়, হুরিয়ান, ব্যাবিলনীয়, অসিরিয়ান, আক্কিডিয়ান, হিট্টিয়ান, মেদিয়ান, কার্থাগিনিয়ান, পার্থিয়ান ইত্যাদি সাম্রাজ্যের সমসাময়িক কোনো ভারতীয় সাম্রাজ্যের স্পষ্ট ঐতিহাসিক দলিল সম্বলিত উল্লেখ নেই ইতিহাসে। পারস্য সাম্রাজ্যের ইলামাইট সংস্কৃতি ও তৎপরবর্তী ফেনিসিয়া, আখমেনিড, সাসানিড প্রমুখ সাম্রাজ্যের সমসাময়িক কাল থেকে তৎকালীন ভারতের সামাজিক ইতিহাস নিয়ে দু’কলম লেখার মতো তথ্য-উপাত্ত পাওয়া যায়। যদিও মধ্য এশিয়ার পাশাপাশি আফ্রিকার মিশরীয় সাম্রাজ্য তো খ্রিস্টপূর্ব ৪০০০ বছরেরও বেশি পুরাতন, যার পূর্ণাঙ্গ সামাজিক ও রাজনৈতিক লিপিবদ্ধ ইতিহাস রয়েছে। সেটা মিশরের আদিকালের থেনিস মেমফিস থেকে শুরু করে, পিরামিড কালের ‘খুফু, খাফ্রে, মেনকুরে’ ফ্যারাও হয়ে ‘সাক্কারার ডিজেসার’ হোক বা গিজার ‘গ্রেট স্ফিংস’– এদের ইতিহাস মোটামুটিভাবে অক্ষত প্রায়। এর পরবর্তীতে আমেনহোতেপ, রামোসিস, সিয়ামুন, ওসোরকোন হয়ে খ্রিস্টের জন্মের মাত্র কয়েক'শ বছর আগের নেকানতাবোর ইতিহাস পর্যন্ত অক্ষুণ্ণ আছে।
...ক্রমশ
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন