কোনো এক অজানা কারনে হঠাৎ করে ভাবনাস্থল গর্ভবতী হওয়ার কারনে অক্ষরের রূপে প্রসবিত কিছু প্রলাপের সংকলন এই ঠেক। গুনী লেখকের সমৃদ্ধশালী লেখনি পড়তে পড়তে, অক্ষমের প্রয়াসে কম্পিউটারের কিবোর্ডে হাত চলে যায়। ফল স্বরূপ, ঘটে চলা রাজনীতি, সমকাল, মানবিক বিকার, সময়চর্চা, ছ্যাঁচোর এর মত রিকেটগ্রস্থ লেখনীর জন্ম হয়। এরই রেশ ধরে সময়চর্চা, রবিবাসরীয়, সমকাল সহ রম্য, রচনা, গল্প ইত্যাদি ভুলভাল গুলোকে সংরক্ষিত করা হয়েছে এই টোলে। এটা সমমনষ্ক মানুষদের ভাব বিনিময়ের স্থান। উন্মাদের টোলে সকলকে স্বাগতম জানাই।
বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬
আমেরিকার কাছে ভারতের সাধারণ জনগন যখন মোদীর কল্যাণে জিম্মি
শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬
সোনার দাম কেন বাড়ছে?
🔰 সোনার দাম কেন বাড়ছে? 🔰
এর কারণ পুরোটাই অর্থনৈতিক এবং
আমেরিকান ডলারকেন্দ্রিক। কোনো জিনিসের দাম নির্ভর করে ‘ডিমান্ড আর সাপ্লাই’ এর
সামঞ্জস্যতার উপরে। চলুন সংক্ষেপে একটু ব্যাখ্যা করা যাক।
বিজ্ঞানীদের ভাষ্যমতে, সমগ্র পৃথিবীর সোনা এক
জায়গায় করলে সেটা ২৩ ঘনমিটার জায়গার মধ্যে সবটুকু চলে আসবে। মানে একটা মাঝারি
সাইজের আলুর কোল্ডস্টোরের মধ্যে পৃথিবীর সমস্ত সোনা, হ্যাঁ সমস্ত সোনা ঢুকে যাবে। সোনা
যেহেতু গাছে ফলে না বা ফ্যাক্টরিতে প্রোডাকশন করা যায় না, তাই সোনার সাপ্লাই বা
পরিমাণ নির্দিষ্ট বা ধ্রুবক। গোল্ডমাইন থেকেও উৎপাদন অতি নগণ্য এবং ভীষণ ব্যয় বহুল; বাকিটা কেবল হাতফেরৎ হয়।
সুতরাং, সভ্যতার শুরু থেকে আজ অবধি সোনার পরিমাণ খুব বেশি বাড়েনি, আগামীতেও বাড়বে সেই
সম্ভাবনাও ক্ষীণ বা নেই। তাহলে এই মূল্যবৃদ্ধির একমাত্র কারণ- ডিমান্ড বৃদ্ধি।
এখানেই প্রশ্ন, রাতারাতি কে এই ডিমান্ড বাড়ালো? আমি আপনি কি বিপুল সোনা
কিনেছি? উত্তরটা হলো- না। তাছাড়া আমরা যদি কিনতামও, সেই দু-দশ ভরি কেনাকাটায় দামে অতি
সামান্য হেরফের হতো, যেমনটা গত শতাব্দীতে হতো। স্বাভাবিক বাজারে কেউ যেমন
কিনছে, তেমন আরেক জন আবার বিক্রিও করছে, এই ভাবেই বাজারের স্থিতাবস্থা বজায়
থাকে। কিন্তু বর্তমানে একটা শ্রেণি রয়েছে যারা সোনাটা কিনে মজুদ করে ফেলছে, সেটা পুনরায় আর বাজারে
ফেরৎ আসছে না, ফলতো অবশিষ্ট সোনাটুকুর জন্য অন্যজন অনেক বেশি দাম অফার করছে; এভাবেই দাম বাড়ছে।
তাহলে কারা সোনাটা কিনে মজুদ করছে? এটা জানতে গেলে ইতিহাসের
দিকে তাকাতে হবে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ‘ব্রেটন
উডস’ সিস্টেমের নামে শয়তানি করে বিশ্বের প্রায় ৭৩% সোনা আমেরিকা তাদের দেশে নিয়ে
চলে যায় নানান ছলচাতুরি করে, পরবর্তীতে যা তারা আত্মসাৎ করে দেয়। কীভাবে নিয়ে
গিয়েছিল তা লিখতে বসলে টন টন কাগজ লাগবে, এত বড় সেই শঠতার ইতিহাস। আগামীতে
কখনও সে নিয়ে লেখা যেতেই পারে, শুধু এটুকু জেনে রাখুন সেই সোনার পরিমাণ প্রায় সাড়ে
আট হাজার টন, কল্পনাতীত। পরবর্তীতে বাকি দেশগুলো যখন তাদের সোনা ফেরৎ চায়, তাদের রাষ্ট্রপ্রধানদের
বন্দুকের ডগায় রেখে, সেই সোনার বিনিময়ে কাগুজে বন্ড ইস্যু করে আমেরিকা-
বিনিময়ের ‘ইনস্ট্রুমেন্ট’ হিসাবে’, একেই আমরা ডলার বলে চিনি।
আমাদের দেশের টাকাতেও লেখা থাকে-
"চাহিবা মাত্র ইহার বাহককে দিতে বাধ্য থাকিবে"। অর্থাৎ টাকা একটা সরকারি
হাতচিঠি বৈ কিছু নয়। নোটের নিজস্ব কোনো মূল্য নেই, রাষ্ট্র নিজে জামিনদার থেকে ওই
‘টাকা’ নামের কাগজটাকে আসল সম্পদের প্রতিরূপ হিসাবে হিসাবে মূল্যবান করে তোলে। এই
হিসাবে দেশে যত টাকা আছে, তত পরিমাণ সম্পদ তথা সোনা/রূপা থাকা উচিৎ। কিন্তু তা
নেই, কারণ সোনা আছে আমেরিকার কাছে, তার পরিবর্তে আমেরিকা ডলার দিয়ে রেখেছে, ডলারই আমাদের সহ গোটা
বিশ্বের প্রতিটা দেশের সঞ্চিত সম্পদ। কারণ ডলার ছাড়া কোনো দেশ জ্বালানি তেল কিনতে
পারবে না কোথাও থেকে, এই জন্যই ডলারের অপর নাম পেট্রোডলার।
পেট্রোডলার কীভাবে শুরু হয়েছিল? ১৯৭৩-১৯৭৪ সৌদির
মোল্লাদের সাথে আমেরিকা একটা চুক্তি করে। সৌদি আরব তার দেশের 'পেট্রোল/ডিজেল' শুধুমাত্র আমেরিকান
ডলারের মাধ্যমে বিক্রি করবে, অন্য কোন কিছু বিনিময় মূল্য হিসাবে দিলে, সৌদি সরকার তাকে তেল
দেবে না। এর বিনিময়ে আমেরিকা সৌদি আরবকে অস্ত্রশস্ত্র, প্রযুক্তি ইত্যাদি দিয়ে
সামরিক ও সামাজিক নিরাপত্তা দেবে। যে কারণে গত ৫০/৬০ বছর ধরে মধ্যপ্রাচ্যের
সর্বত্র অশান্তির আগুন জ্বললেও সৌদিতে নূন্যতম কোনো অশান্তি হয়নি। কারণ অশান্তি যে
পাকায়, সেই আমেরিকাই সৌদির পাহারাদার, অশান্তি করবে টা কে!
অন্যান্য পেট্রোলিয়াম সমৃদ্ধ দেশ
যারা এই ডলার ভিন্ন অন্য মুদ্রা কিম্বা সোনার বিনিময়ে তেল বিক্রি করতে গিয়েছিল, তাদের সকলকে আমেরিকা শেষ
করে দিয়েছে নানা বাহানাতে। সেটা লিবিয়ার গাদ্দাফি হতে পারে, ইরাকের সাদ্দাম হোসেন
হতে পারে কিংবা বর্তমানে ভেনেজুয়েলার মাদুরো; চোখের সামনে এইসব জ্যান্ত উদাহরণ
রয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধেও এতো ক্ষোভের মূল কারণ এটাই, তারা ডলার ছাড়া তেল
বেচছে ইন্ডিয়ান রুপি, রাশিয়ান রুবেল ও চীনা ইউয়ানে।
আজকের দুনিয়ায় জ্বালানি তেল ছাড়া
গোটা সভ্যতা অচল, সুতরাং প্রতিটা দেশকে তেল কেনার জন্য ‘ডলার’ কিনতেই
হতো আমেরিকার কাছ থেকে, পাশাপাশি মজুদও রাখতে হতো। যেহেতু বিশ্বের সকলের
কোষাগারে ডলার মজুদ আছে ‘তেলের’ ক্রেতা-বিক্রেতা নির্বিশেষে, অচিরেই বিশ্বের যেকোনো
দুটো দেশের নিজেদের মাঝের ব্যবসা-বাণিজ্যও ডলারের মাধ্যমেই হতে শুরু করে দিয়েছিল।
এভাবেই ডলার বৈশ্বিক মুদ্রা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করে রেখেছিল, যুদ্ধ বোমা বন্দুকের ভয়
দেখিয়ে পেট্রোডলারের মাধ্যমে। এতে করে বিশ্বের যে কেউ যে কোনো আন্তর্জাতিক ব্যবসা
করুক, আমেরিকা সেখান থেকেই একটা কাটমানি খেতো।
গত পাঁচটা দশক ধরে আপনার কাছে যে
ধরনের মুদ্রায় থাক কিংবা সোনাদানা মোহর হিরে জহরত, কোনো কিছু দিয়ে আপনি তেল কিনতে
পারেননি কিংবা বিনা ডলারে একটিও বৈদেশিক বাণিজ্য করতে পারেননি। এই সবকিছু সোনাদানা
হিরে জহরতের বিনিময়ে আপনাকে আমেরিকার কাছ থেকে ডলার কিনতে হতো। আমাদের সরকার
আমেরিকাকে সোনা দিত আর আমেরিকা সেই সোনার বিনিময়ে ডলারের নামে কাগজ ছাপিয়ে দিত।
ফলত এতদিন সোনার থেকেও ডলার বেশি মূল্যবান ছিল।
মজার কথা হলো, ২০২৪ জুনের ৯ তারিখ
সৌদির সাথে করা সেই পেট্রোডলার চুক্তি শেষ হয়ে গিয়েছিল, সেটাকে টেনে দেড় বছর
আনঅফিসিয়ালি চালাচ্ছিলো। কিন্তু এই জানুয়ারির ৯ তারিখ সৌদি আরব এই চুক্তিকে নবায়ন
করতে মানা করে দিয়েছে, সরকারিভাবে। এতেই আমেরিকা পড়েছে তাদের সাম্রাজ্যের
ইতিহাসে সবচেয়ে গভীর অস্তিত্ব সংকটে, ওয়াশিংটন/নিউইয়র্কে হাহাকার পড়ে
গেছে, তারা মরিয়া ক্ষ্যাপা কুকুর হয়ে উঠেছে ইরাণে যুদ্ধ লাগাবার জন্য, ভেনেজুয়েলা বা
গ্রীনল্যান্ড দখলের জন্য। কে বলতে পারে, ইরানের নামে বোমাবারুদ জড়ো করে
আসলে যুদ্ধটা সৌদিতেই না লাগিয়ে বসে উন্মত্ত আমেরিকা।
ঠিক আজকের দিনে গোটা বিশ্বের
অর্ধকের বেশি পেট্রোলিয়াম বাণিজ্য তথা জ্বালানি তেল বিক্রি হচ্ছে স্থানীয়
মুদ্রায় বা পণ্য বিনিময় প্রথার মাধ্যমে। ধরা যাক ভারত, আমরা তেলের দাম সৌদি
আরবকে রুপিতে পেমেন্ট করছি অথবা চাল, আনাজ, শস্য কিংবা কয়লা
দিচ্ছি। পাশাপাশি শ্রীলংকা সিংহলি মুদ্রার বিনিময়ে তেল কিনছে, চীন তাদের মুদ্রা ইউয়ানে
কিনছে। কারো কাছে ডলারে কেনাটা আজ আর বাধ্যতামূলক নয়, ফলত ডলার রোজ একটু একটু
করে গুরুত্বহীন হয়ে যাচ্ছে মূল্য হারিয়ে।
যেমন আমাদের দেশে ৫০০/১০০০ টাকার
নোট দেশের রিজার্ভ ব্যাঙ্ক বাতিল করে দিতেই সেগুলো বাজে কাগজে পরিণত হয়েছিল, রাশিয়ার ক্ষেত্রেও এমনটা
হয়েছে। আমেরিকা রাশিয়া দ্বন্দ্বের কারণে, রাশিয়ার সেন্ট্রাল ব্যাঙ্কে সঞ্চিত
ডলার ছিল, সেগুলোকে আমেরিকা রাতারাতি বাতিল করে দিয়েছে, যেমনটা গত সপ্তাহে ইরানের সাথেও
করেছে। আমেরিকার এই গুন্ডামি দেখে বিশ্বের বাকি দেশগুলোর কপালে ভাঁজ পড়েছে। আমাদের
যেমন রিজার্ভ ব্যাঙ্কে ডলার মজুদ আছে, প্রতিটা দেশের রিজার্ভ ব্যাঙ্কেও
তাই আছে, কিন্তু আমেরিকার এই দাদাগিরির ভয়ে আজকের দিনে প্রতিটা দেশ শঙ্কিত, এমনকি তাদের মিত্র
ইউরোপও ব্যতিক্রম নয়।
তাই পেট্রোডলার চুক্তি শেষ হবার
কিছু আগে থেকেই ডলার ছেড়ে দেওয়া বা নতুন করে ডলার না কেনার ধুম পরে গিয়েছিল
বিশ্বজুড়ে, ২০২৪শে চুক্তি শেষ হতে সেটা মহামারীর আকার ধারণ করেছে। নতুন করে কেউ আর ডলার
কিনছে না, বরং যেগুলো আছে সেগুলোও ছেড়ে দিচ্ছে। এদিকে ডলারের বিপরীতে বিকল্প কোনো মুদ্রা
বৈশ্বিক ভরষা যোগাড় করে উঠতে পারেনি, ব্রিকসও নতুন মুদ্রা বাজারে আনতে
পারেনি। ফলত প্রতিটা দেশ ডলারের বদলে, আসল সম্পদ ‘সোনা’ মজুদ করছে, তাদের দেশজ সঞ্চয়
ভান্ডারের জন্য।
সুতরাং, গোটা বিশ্বজুড়ে প্রতিটা
দেশ সোনা মজুদের দিকে নজর দিতেই বাজার থেকে সোনা কমতে শুরু করেছে এবং পরিমাণ যত
কমতে থাকছে, অবশিষ্ট সোনার দাম তত চড়তে থাকছে। পৃথিবীর প্রতিটা দেশের রিজার্ভ ব্যাঙ্ক, নিজেদের সামর্থ্য মত টন
টন সোনা কিনে মজুদ করছে। যেমন আমাদের ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কে ৮৮০ টন
সোনা মজুদ রয়েছে, যা দৈনিক আরও বাড়াচ্ছে আমাদের সরকার। ডলারের এই
পরিস্থিতিতে শেয়ার মার্কেটও টালমাটাল, আমেরিকা যখন তখন যার তার উপরে
স্যাংশন/ট্যারিফ লাগিয়ে দিচ্ছে, সর্বক্ষণ যুদ্ধ পরিস্থিতি। তাই বড় শিল্পপতি, পুঁজিপতিরাও সেফ ইনভেস্ট
হিসাবে সোনাতে লগ্নি করছে। কারণ সোনার দামের উপরে আমেরিকা বা অন্য কোনো দেশের
নিয়ন্ত্রণ নেই, সোনা প্রতিটা দেশে প্রতিটা যুগে প্রতিটা সাম্রাজ্যে প্রতিটা ব্যক্তির কাছে
সম্পদ হিসাবে মুল্যবান।
পদার্থ বিজ্ঞান বলছে- পতনশীল
বস্তুর গতি সময়ের সাথে সমানুপাতিক হারে বৃদ্ধি পায়, মার্কিন ডলারের পতনও রোজ বাড়বে।
ডলারের এই পতনের সাথে সোনার মূল্য বৃদ্ধিও সমানুপাতিক; উল্টোটাও সঠিক- সোনার
মূল্য বৃদ্ধির সাথেও ডলারের পতন সমানুপাতিক। এই যে ডি-ডলারাইজেশন পদ্ধতির মধ্যে
দিয়ে বিশ্ব ব্যবস্থা যাচ্ছে, এটা আমেরিকাকে ভেতর থেকে ফোকলা করে দিচ্ছে প্রতি
মুহূর্তে, যে কারণে ডোনাল্ড ট্রাম্প মাতালের মতো আচরণ শুরু করেছে।
সোনার এই মূল্যবৃদ্ধি আসলে পাঁচ
লাখে থামবে না দশ বিশ লাখে লাফ দেবে, সেটা আজকের দিনে বলা অত্যন্ত
মুশকিল। আমেরিকা তার সঞ্চিত সোনা বাজারে না ছাড়া অবধি সোনার দাম রোজ লাফ দিয়ে
বাড়তেই থাকবে। তবে, আমেরিকাও যখন নিজেদের সোনা বিক্রি করতে লাগবে, তখন সে উচ্চ মূল্যেই
বিক্রি করবে, আর এটা তাকে করতেই হবে। যে হারে গোটা বিশ্ব ডলারকে পরিত্যাগ করছে, সেই হার চলতে থাকলে দু'এক মাসের মধ্যে
আমেরিকাকে তাদের রিজার্ভে থাকা ওই সাড়ে আট হাাজার টন সোনা ধীরে ধীরে বাজারে ছাড়তে
হবে। এছাড়া আমেরিকার বিন্দুমাত্র বিশ্বাসযোগ্যতা নেই বাজারে, তাই ডলার নামের অস্ত্র
দিয়ে বিশ্বকে লুট করার দিন তার আর ফিরবে না।
আমেরিকা ৫০ টা ভাগে ভাগ হওয়া শুধু
সময়ের অপেক্ষা, যে কোনোদিন ভোর বেলায় উঠে শুনবেন মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ আর নেই। অস্ত্র ছাড়া
আমেরিকার নিজস্ব কোনো উৎপাদন নেই, তারা বিশ্বের নানা দেশ থেকে মালপত্র নিয়ে এসে বড়জোর
এ্যাসেম্বল করে কিম্বা অন্যের পণ্য মার্কেটিং করে নিজেদের লোগো লাগিয়ে। আমেরিকার
রিজার্ভ সোনা বাজারে আসতে শুরু করলেই তাদের ‘ফোলানো ফাঁপানো’ কোম্পানিগুলো মুখ
থুবড়ে পড়বে, শেয়ার বাজার রাতারাতি ক্রাশ করে যাবে।
আমেরিকাতে গৃহযুদ্ধ লেগে যাওয়া
সময়ের দাবী। তবে সেটা আটঁকাতে হলে আমেরিকাকে রাতারাতি অন্যত্র যুদ্ধ লাগাতেই হবে, যাতে অস্ত্র বিক্রি করতে
পারে। নতুন একাধিক দেশ খুঁজতে হবে যেখান থেকে সম্পদ লুঠ করতে পারে, এবং ডলারকে পুনরায় বিশ্ব
বানিজ্যের মুখ্য ও একমাত্র বিনিময় মুদ্রা রেখে দেওয়ার বিনিময়ে কাটমানি খেতে পারে।
আর এগুলোর তিনটেই একসাথে করতে হবে, একটাতেও ব্যর্থ হলেই খেল খতম।
কিন্তু আজকের বৈশ্বিক রাজনীতিতে চীন ও রাশিয়া~ আমেরিকার বিরুদ্ধে থাকা সমশক্তির
পরাশক্তি, তাই গেলাম আর জয় করলাম- এমন একতরফা হওয়ার নয়। অতি শীঘ্র অতীতের স্প্যানিশ
সাম্রাজ্য, ব্রিটিশ সাম্রাজ্য, উসমানীয় সাম্রাজ্যের মতো ইতিহাসের এক কোণে আস্তাকুঁড়ে
ঠাই পাবে ‘প্রতারক ও লুঠেরা’ মার্কিন পশ্চিমা সভ্যতা।
আপনার বাজারে সোনার দাম বাড়ার এর
সাথে আমেরিকার পতন অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত বা বলা ভালো দুটোই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। তবে
সোনার দাম আগামী ৫/৭ বছর আর কমছে না, বাড়তেই থাকবে, বাড়তেই থাকবে, যতক্ষণ না সম্পদ জনগণের
ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যায়।
বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৫
সিকিম সরকারের গিমিক
এতোদিন ধরে
আলাদা কিছু ছিলো কী? এর মধ্যে শেষ ৫
বছরে কোনটা নতুন?
২০২৩ থেকে উত্তর সিকিমের লাচেন একপ্রকার বন্ধই, অথচ গুরুদংমারের টানেই অধিকাংশ পর্যটক সিকিম ভ্রমণে আসেন। লাদাখের প্যাংগং হ্রদের রূপ একপ্রকার, কিন্তু গুরুদংমারের ভয়ঙ্করী শান্ত রূপ অনন্য। মাউন্টেন এ্যাডভেঞ্চার বাইকারদের একমাত্র পাখির চোখ এই সুউচ্চ হিমালয়ান হ্রদটিকে কেন্দ্র করেই ঘোরাফেরা করে। যদিও ছাঙ্গু হ্রদ বাদে, কুপুপ বা খেঁচিপেরি নিয়ে পর্যটকদের মাঝে তেমন আগ্রহ নেই। লোনাক, সামিতি কিম্বা সলামো হ্রদ সাধারণ পর্যটকদের অগম্য, পরে পাওয়া চোদ্দ আনার মত- সাংলাফু নামে হ্রদের পাড়ে যাওয়ার কোনও সহজ উপায় বের করতে পারেনি আজও, যাতে পর্যটন ব্যবসা কিছুটা মুক্তি পায় দম বন্ধ করা দশা থেকে। ফলত, গুরুদনংমার যাত্রা বন্ধ থাকলে, এ্যাডভেঞ্চার বাইকারদের আসার হার কমে যায় ৯০% এরও বেশী মাত্রায়। নর্থ সিকিমের ব্যবসাটাই লাটে তুলে দিয়েছে। লাচুং খোলা, কিন্তু সরকারের উদাসীনতাতে কোনো কিছুই স্বচ্ছ নয় পর্যটকের কাছে।
সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
ভারতীয় চিংড়ি চাষীঃ শুল্কবাণের সমস্যা
ভারতীয় চিংড়ি চাষীদের পাশে এ বার চিন।
মাই ফ্রেন্ড ‘দোনাল্ড টাম্পের’ ৫০ শতাংশ
শুল্ক ধাক্কা সামলাতে আমেরিকা ছেড়ে এ বার চিনের বাজার ধরায়
মন দিয়েছেন ভারতীয় চিংড়ি ব্যবসায়ীরা।
রাশিয়া থেকে আম্বানির সস্তার তেল কেনার কারণে ‘জরিমানা’ গুনছে আরো অনেক ব্যবসার মত আমাদের চিংড়ি চাষীরা। ট্রাম্পের শুল্কনীতির জেরে ভারতের যে সকল আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ধাক্কা খেয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম সমুদ্রজাত খাদাপণ্য তথা সি-ফুডের বহুবিধ পণ্য রফতানির ব্যবসা। সস্তার রাশিয়ান তেলে আম্বানি দিনে দিনে ফুলেফেঁপে ঢোল হলেও, আশঙ্কাজনক ভাবে বিপুল ক্ষতির মুখে পরেছে ভারতের অগনিত জেলে, মাঝি, সি-ফুড মৎস্যজীবী, মৎস্য চাষী ও সি-ফুড রপ্তানিকারীরা।
বাংলা, উড়িষ্যা, অন্ধ্রপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, গোয়া ও গুজরাত জুড়ে বিস্তৃত বিশাল উপকূলরেখার কারণে এই অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে চিংড়ি, কাঁকড়া এবং নানান মাছ চাষের কেন্দ্রবিন্দু। বারবার ঘূর্ণিঝড়ের কারণে লবণাক্ত জলের অনুপ্রবেশ ঐতিহ্যবাহী কৃষিকাজ ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠতে মানুষ বিকল্প খুঁজে নিয়েছিলো। এতদ অঞ্চলের লবণাক্ত জলাশয়কে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনজীবনের জীবিকা নির্বাহের এটাই একমাত্র কার্যকর পেশা। ফলত, গত দুই দশক ধরে, লবণাক্ত জলের চিংড়ি কাঁকড়া চাষের উল্লেখযোগ্য সম্প্রসারণ ঘটেছে দেশে।
বিগত কয়েক বছরে সি-ফুড রফতানির দিক থেকে ফুলেফেঁপে উঠেছিল ভারত। বাণিজ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবর্ষে প্রায় ১৭ লক্ষ টন সি-ফুড রফতানি করেছে ভারত। এর মধ্যে শুধু চিংড়ি রফতানি থেকে আয় হয়েছিল প্রায় ৫০০ কোটি ডলার, ভারতীয় মুদ্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকারও বেশি। চিংড়ি ঠিক কতটা অর্থকরী ফসল, তার জন্য এই ডেটাটাই বোধহয় যথেষ্ট। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ভারত থেকে ২৪০ কোটি ডলার মূল্যের চিংড়ি আমদানি করেছিল আমেরিকা।
ভারতে উৎপন্ন সি-ফুড যতটা না এ দেশে খাওয়া হয়, তার চেয়ে অনেক বেশি রফতানি হয়, মোট উৎপাদনের ৫০ শতাংশেরও বেশি। পরিমাণের দিক থেকে এবং মূল্যের নিরিখে ভারতের সবচেয়ে বেশি রফতানি হওয়া পণ্যগুলির মধ্যে অন্যতম হলো চিংড়ি, স্বাভাবিকভাবেই সি-ফুডের রফতানিতে চিংড়িই শীর্ষস্থানে যা সামগ্রিক সি-ফুডের দুই-তৃতীয়াংশ।
ভারতীয় সি-ফুড রফতানির ব্যবসায়িক মূল্য প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকার। এই চিংড়ি-সহ রপ্তানি হওয়া সামগ্রিক সি-ফুডের ৩৫ শতাংশের বেশী একাই আমেরিকা নিয়ে নিতো। শুধুমাত্র চিংড়ি আর কাঁকড়া উৎপাদন ও বিপণনের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে যুক্ত প্রায় ৩ কোটি মানুষ, ফলে ট্রাম্পের শুল্কবাণে এই ৬০ হাজার কোটির বাজারে হাহাকার উঠে গিয়েছিলো। ওদিকে বিশ্ববাজারে অন্য খেলোয়ারেরা বাজার দখলের জন্য ওৎ পেতে বসে আছে; ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, ইকুয়েডর দেশগুলির সি-ফুড খাদ্যপণ্য উৎপাদনের পরিমাণ আমাদের থেকে বেশি।
ফলত আমেরিকার বিকল্প বাজার ধরতে মরিয়া মৎস্যচাষীরা। আমেরিকা ছাড়া সি-ফুডের চাহিদা রয়েছে এমন দেশ, যেমন রাশিয়া, ব্রিটেন, নরওয়ে, সুইৎজ়ারল্যান্ড, চিন, জাপান, পশ্চিম এশিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলিতে বিকল্প বাজার খোঁজার চেষ্টা চলছে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, এবং দক্ষিণ কোরিয়ার বাজার ধরারও চেষ্টা করছে রফতানি কারকেরা। ভারতীয় চিংড়ি চাষীদের বিপদ থেকে রক্ষা করতে ‘দেবদূত’ হয়ে এগিয়ে এসেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU)। ভারতের সি-ফুড রফতানি বৃদ্ধির লক্ষ্যে অতিরিক্ত ১০২টি ভারতীয় সংস্থাকে রফতানির অনুমোদন দিয়েছে EU।
আমেরিকার পরে চিংড়ির দ্বিতীয় বৃহত্তম আমদানিকারক চিন। ফলত, আমেরিকার শুল্কাঘাত ভারতীয় চিংড়ি রফতানিকারকদের জন্য আশীর্বাদ বলে প্রমাণিত হতেই পারে। চিনের বাজারই সবচেয়ে সম্ভাবনাময়, যারা ভারতীয় চিংড়ির শীর্ষ আমদানিকারক হয়ে উঠতে পারে ভবিষ্যতে। ভারতীয় সি-ফুড রফতানিকারকদের আবেদনে চিনও সাড়া দিয়েছে। চিনা দেশীয় বাজারে সি-ফুড, বিশেষ করে চিংড়ির চাহিদা ব্যাপক। সেই কারণে ভারতীয় চিংড়ি তাদের প্লেটে নতুন স্বাদের জোয়ার আনতে পারে। দু’পক্ষের মধ্যে চুক্তি হলে ভারতীয় সি-ফুডের জন্য চিন দ্রুত বর্ধনশীল বাজারে পরিণত হবেই। সি-ফুড, প্রক্রিয়াকরণ এবং পুনঃরফতানির জন্য ভারতীয় পণ্যে প্রাধান্য দিয়েছে চিন, ফলে বিগত কয়েক দিনে ভারত থেকে চিংড়ি আমদানির পরিমাণ বেড়েছে।
বিগত কিছু বছরে রপ্তানিতে লাভের মুখ দেখার কারনে সি-ফুড খাদ্যপণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছিল দেশের অভ্যন্তরে। কৃত্রিম ভাবে ভেড়ি তৈরি করে চিংড়ির চাষ বৃদ্ধি পেয়েছিল, কিন্তু ট্রাম্পের শুল্কবৃদ্ধির কারণে তাদের মাথায় হাত পরে যায়। আমাদের রাজ্যগুলির মধ্যে সবচেয়ে বেশি চিংড়ি চাষ হয় অন্ধ্রপ্রদেশে, সে রাজ্যের চাষীদের উপরই প্রভাব পড়ে সবচেয়ে বেশি। চিংড়ি উৎপাদনে আমাদের রাজ্য দ্বিতীয় স্থানে। বিস্তীর্ন সুন্দরবন অঞ্চল, দুই মেদিনীপুর, উত্তর ২৪ পরগণা জুড়ে চিংড়ি চাষ একটি গুরুত্বপূর্ণ আয়ের উৎস। রাজ্যের ভ্যানামেই চিংড়ি বিদেশের মার্কেটে দারুন চাহিদা রয়েছে।
ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ চিংড়ি রপ্তানিকারক। মানসম্পন্ন চিংড়ি উৎপাদন, প্রজাতি বৈচিত্র্যকরণ, রপ্তানিমুখী প্রজাতির প্রচার, ব্র্যান্ডিং, মান ও সার্টিফিকেশন, প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধি, ফসল পরবর্তী পুকুরের অবকাঠামো তৈরিতে সহায়তা প্রদানের জন্য ২০২০ সালে প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনা (PMMSY) স্কিমে চালু করা হয়েছিল। কিন্তু তার সুফল কৃষক স্তরে সামান্যই পৌঁছেছে, ফলস্বরূপ ট্রাম্পের শুল্কনীতির জেরে অন্যান্য সি-ফুড খাদ্যপণ্যের রফতানি এক ধাক্কায় ২০ শতাংশের বেশী কমলেও, চিংড়ি রফতানি কমেছে প্রায় ৫০ শতাংশ। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই দাম কমাতে বাধ্য হয়েছে চাষীরা, লোকসান হওয়ায় কৃত্রিম ভাবে চিংড়ির চাষও বন্ধ হয়ে গেছে বহু জায়গায়।
তাই একজন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা বা সমবায় চিংড়ি চাষীদেরও হাতে হ্যারিকেন, বিশেষ করে আমাদের রাজ্যে। দুধেল গাইদের বিজেপি ভয় দেখাবার বাইরে মাননীয়ার সময় তো শুধু মন্দির বানাতে আর মেলা খেলায়। বর্ধিত উৎপাদন খরচ, প্রযুক্তিগত জ্ঞানের অভাব, কাজে লাগে এমন কোনো সরকারী কর্মশালা নেই, মাত্রাতিরিক্ত জল ও মাটি দূষণ, নিত্য নতুন রোগব্যাধি, পরিবেশগত নানান অবনতি, রিল প্রজন্মের কারনে অদক্ষ শ্রমিকের অভাব, অদক্ষ খামার ব্যবস্থাপনা, সুষ্ঠু সরাকারি নীতিমালার অভাব- বিশাল অংশের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর উপর বৃহত্তর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। বৈদেশিক বাজারে শুল্ক আরোপে চাহিদা কমে যাওয়াতে নতুন করে ‘মড়ার উপরে খাঁড়ার ঘা’।
চিংড়ি চাষের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য, বিদ্যুৎ, সমস্ত উপকরণের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে, চাষীদের জন্য টিকে থাকাই বড় চ্যালেঞ্জ। অধিকাংশ চাষীর কাছে অত্যাবশ্যকীয় কোনো প্রযুক্তিগত তথ্য নেই, না আছে আধুনিক চাষ পদ্ধতির জ্ঞান যাতে খরচা কমে, যাবতীয় চ্যালেঞ্জ হয় নিজে মোকাবিলা করো, নতুবা পেশা পরিবর্তন করো। সরকার কর আদায় ছাড়া কিচ্ছুটি করবেনা। আজও রাজ্যের প্রান্তিক পর্যায়ে যথাযথ পরিবহণ, সংরক্ষণ ও স্থানান্তরের নূন্যতম পরিষেবা করে উঠতে পারেনি সরকার।
যখন তখন বন্যা মাছচাষের জন্য মহামারী সমস্যা, এতে জলবাহিত রোগজীবাণু দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং দুষিত জলে সব চিংড়ি মরে যায়। বৈদেশিক মান ধরে রাখতে আজকাল চিংড়ি চাষে পেস্টিসাইড ব্যবহার করা হয় আন্তর্জাতিক মান মেনে, যেখানে মূলত প্রোবায়োটিকই ভরষা, সেখানে বাণের জল আসলে চিংড়ি চাষীদের কপাল ফাটিয়ে দিয়ে চলে যায়। এছাড়া মাটি ও ভূগর্ভস্থ জলে আর্সেনিকের প্রভাব বাড়ছে, বাড়ছে লবণাক্ততা। চিংড়ির উৎপাদনশীলতার পাশাপাশি পরিবেশের স্বাস্থ্যকে চরমভাবে প্রভাবিত করছে।
আমাদের রাজনীতি সর্বস্ব অর্ধশিক্ষিতের দেশে চাষীদের সমস্যার কোনো অভাব নেই, নিত্য কিছু না কিছু লেগেই আছে। বিভিন্ন নদী সঙ্গমের উর্বর ব-দ্বীপ অঞ্চলের শালি, সোনা বা ডাঙা জমি সহ জলাভূমিগুলির বিশাল জীববৈচিত্র্য রয়েছে, যা প্রকৃতির নিজশ্ব সংরক্ষণ প্রক্রিয়ার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সরকারের অসৎ অংশ, স্থানীয় দুষ্কৃতী, দুর্নীতিগ্রস্ত পুলিশ আর কোলকাতার নেতাদের উদ্বৃত্ত অবৈধ পুঁজির কল্যাণে সেই সব অংশে চিংড়ি খামার তৈরি হচ্ছে, প্রাকৃতিক ধ্বংসযজ্ঞ বিপর্যয় ডেকে আনার জন্য এগুলো যথেষ্ট। সরকারের উপরতলা ভাগা পেয়েই সন্তুষ্ট। সুন্দরবন অঞ্চলেও পরিকল্পনাহীন উপকূলীয় ম্যানগ্রোভ ধ্বংস করে চিংড়ি চাষের ভেড়ি তৈরি হচ্ছে সেই শাসক দলের দাদাদের অর্থায়ন ও মদতে। সমস্ত বিধিনিষেধকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সে মুনাফা কামিয়ে যাচ্ছে, যা এলাকার জীবন জীবিকার দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্বকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে।
বিশ্বব্যাপী
নানা গবেষণায় উপকূলীয় অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত
করার জন্য ম্যানগ্রোভ-ভিত্তিক জলজ চাষকে একটি কার্যকর, প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধান হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে চিংড়ি ও কাঁকড়া চাষ একটি
প্রাথমিক জীবিকা। এই সমন্বিত পদ্ধতি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং চিংড়ি চাষ উভয়ের সহাবস্থান নিশ্চিত করে- যা দীর্ঘমেয়াদে স্থানীয়
সম্প্রদায়ের জন্য উপকারী। ভিয়েতনাম এবং থাইল্যান্ডের মতো দেশগুলি জীবিকা
নির্বাহের পাশাপাশি অবনতিশীল উপকূলীয় বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য
ম্যানগ্রোভ-সমন্বিত চিংড়ি চাষে দারুন সফলতা লাভ করেছে। দেশে
কেরালা এই মডেলে সফলতা পেয়েছে।
অন্ধ্রপ্রদেশ এবং তামিলনাড়ুর কিছু জায়গায়, ছোট জেলেদের সাথে একই রকম পদ্ধতি গ্রহণ করে সফলতা পেয়েছে।
তাই বিকল্প বাজার খোঁজার পাশাপাশি আরো নানা ভাবে চাষীকে বাঁচানো সম্ভব, ও তার পথ খুঁজতে হবে।
- পরিবেশগত নিয়মকানুনকে কাঁচকলা দেখিয়ে যারা উর্বর শালি ও ম্যানগ্রোভ এলাকায় দখলদার চিংড়ি খামার বাইয়ে বসে আছে, তাদের অপসারণের পদক্ষেপ নিলে- আসলে যারা চিংড়ি, কাঁকড়া তথা মৎস্য চাষী এবং শ্রমিক তাদের জীবিকা ঝুঁকিমুক্ত করা সম্ভব। এতে সরবরাহ কমলে আসল চাষী, যাদের এটাই মূল জীবিকা তারা উপকৃত হবে।
- ঘূর্ণিঝড়
এবং ক্রমবর্ধমান লবণাক্ততার কারণে, যেখানে ঐতিহ্যবাহী কৃষিকাজের কোনো বিকল্প নেই-
সেই অনুর্বর জমি চিহ্নিত করে সেগুলোকেই চিংড়ি
ও কাঁকড়া চাষের জন্য সংরক্ষিত করা
হোক।
- সংরক্ষণ এবং
জীবিকার মধ্যে দ্বন্দ্ব কমাতে বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করে তাদের যুক্তি ও ব্যবস্থাপনার একটি কাঠামোগত মডেল ও নীতি কাঠামো বানাতে
হবে, যা চিংড়ি চাষ ও পরিবেশ সংরক্ষণকে একসাথে একত্রীভূত করবে।
- জৈব জলজ চাষ হিসেবে চিংড়ি ও কাঁকড়াকে স্বীকৃতি দিতে হবে। এ বিষয়ে এমএস স্বামীনাথন রিসার্চ ফাউন্ডেশন (এমএসএসআরএফ) এর সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ‘আর রামাসুব্রামানিয়ান’ এর মত ব্যক্তিদের পরামর্শ মানতে হবে, তাদের মত ব্যাক্তিদের বেশী বেশী করে এই ধরণের প্রকল্পে নিয়োগ করতে হবে।
- সরকারের স্কিমের সুফলকে যথাসম্ভব দ্রুত প্রতিটি প্রান্তিক চাষীর কাছে পৌঁছে দেবার দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে।
- লাইসেন্স
প্রদান বা তার নবায়নে আমলাতান্ত্রিক বিলম্ব হ্রাস
করতে হবে।
- প্রতিটি রাজ্যের উপকূলীয় জলজ চাষ উপকূলীয় জলজ পালন কর্তৃপক্ষ (CAA) বিধি সংশোধনীর অধীনে এনে,
নতুন খামার নিবন্ধন এবং বিদ্যমান খামারগুলির জন্য সিস্টেমকে সহজ বানাতে হবে।
- আধুনিক যন্ত্রপাতি ক্রয়ের উপরে ভর্তুকি ও স্বল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে।
- প্রতি ত্রৈমাসিকে ফসলের রোগ ও তার প্রতিকার বিষয়ে গ্রামে গ্রামে কর্মসুচি করাতে হবে বিভিন্ন কৃষি বিজ্ঞানীদের দল গঠন করিয়ে।
- প্রতিটা অঞ্চলে পরিবহণ ব্যবস্থার উন্নতি করতে হবে, প্রক্রিয়াজাতকরণ এর বন্দোবস্ত ও মজুদের জন্য হিমঘর স্থাপন আসু প্রয়োজন।
- পরিবহনের সময় রাস্তায় পুলিশি জুলুম, বাজারে তোলাবাজদের জুলুম, সরকারি অফিসে চাঁদা ও ঘুষের জুলুম থেকে চাষী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীকে মুক্তি দিতে।
মোদ্দাকথা সদিচ্ছা থাকতে
হবে। যার জন্য একটা শিক্ষিত সরকার প্রয়োজন। একদিকে সর্বক্ষণ ধর্মের মেরুকরণ করা একদল
উন্মাদ, অন্যদিকে কোথা থেকে একটু চুরিচামারি করব, সারাদিন তার ফিকিরে ঘোরা একদল চোরের
দল সরকারে বসে আছে- কীভাবে চাষীকে উপসম দিতে পারে এরা! সরকার সার ভেবে নিয়ে মাসে ৫
কেজি চাল আর ৫০০-১০০০ টাকার ‘ভিক্ষা’ দিয়ে দায় সেরে ফেলছে। কিন্তু চাষী
না বাঁচলে সমাজ বাঁচবে তো? টাকা কী চিবিয়ে খাবেন?
বৃহস্পতিবার, ১৯ জুন, ২০২৫
ব্রিক্স ও ভারত
ব্রিক্স ও ভারত
ব্রিক্স সম্মেলন শেষ না হতেই নরেন্দ্র মোদী ও তার দলবল জার্মানি চলে গেছেন। ব্রিক্স সম্মেলনে যাবার আগে কানাডা ও আমেরিকা ভারতকে বেশ ঘষে দিয়েছে। এতদিন যে মোদীজী আমেরিকা, ইজরায়েল করে লাফালেন। অস্ত্রশস্ত্র আমদামি করলেন রাশিয়াকে পিছনে ফেলে, কিন্তু তাতে লাভের লাভ কি হল? ফ্রান্সের যে র্যাফায়েল যুদ্ধবিমান নিয়ে এত নাচানাচি, সেই বিমান কিন্তু ইউক্রেনে পাঠায়নি ফ্রান্স।
আমেরিকা ডেনমার্কের মাধ্যমে বুক ফুলিয়ে F-16 বিমান পাঠিয়েছিল, তার অর্ধেক উড়ার আগেই ধ্বংস করে ফেলেছে রাশিয়া। আমেরিকার একশো মিলিয়ান
ডলারের রিপার ড্রোনও কোনো কাজে
আসেনি। প্যাট্রিয়ট এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ৯০% উড়িয়ে দিয়েছে
রাশিয়া। ইজরায়েল এতদিন বরাক টরাক নিয়ে গর্ব করতো, ভারতকে বিক্রিও করেছে বিলিয়ান বিলিয়ান ডলার
নিয়ে, সেসব ধ্বংস করে এখন ইজরায়েলের অস্ত্র ব্যাবসাতে লালবাতি জ্বালিয়ে দিয়েছে ইরান একাই। ফিলিস্তিন নিয়ে ভারতের এত দশকের অবস্থান এর বিপরীত অবস্থান
নিয়ে আমেরিকার পদলেহন করে বাকি বিশ্বে প্রায় একঘরে হয়ে গেছে মোদীর ভারত।
স্বভাবতই ব্রিক্স সম্মেলনে ভারতের গুরুত্ব ভয়ানক হ্রাস পেয়েছে। পাঁচজন
প্রতিষ্ঠাতা দেশের একজন হয়েও ব্রিক্সে মোদীর ভারত তেমন পাত্তা পায়নি এইবারে, যেমন পেয়েছে ইরান বা তুর্কিয়ে। আসলে কাজান ডিক্লেরেশনে
ভারত সই করেছে বটে, কিন্তু মোদীর ভারতের দুই নৌকায় পা দিয়ে চলাটা সবাই লক্ষ্য করেছে। বস্তুত চীন ও রাশিয়া ব্রিক্সের পোল
পজিশনে, ভবিষ্যতে তারাই ব্রিক্সের দিক নির্দেশ করবে।
এদিকে রাশিয়া, চীন, পাকিস্তান, ইরান যৌথভাবে নৌ-মহড়া ভারত
মহাসাগরে শুরু করছে, ভারত সেখানে দর্শক।
মূল সমস্যা হল ভারতের ক্রমবর্ধমান অর্থনীতির তুলনামূলক অবনতি, প্রায় প্রত্যেক দেশের সাথেই বানিজ্য ঘাটতি। চীন নিয়ে মোদী
প্রশাসনের এত চেঁচামেচি, সেই চীনের সাথে ভারতের বানিজ্য ভয়ানক লজ্জাজনক। চীন ভারতে রপ্তানী করে ১০০ বিলিয়ান
ডলারের পণ্য আর ভারত সেখানে খুব
বেশ হলে ১০ বিলিয়ান ডলার ছুঁতে পেরেছে। আসলে চীন প্রায়
সর্বক্ষেত্রেই ভারতের থেকে ১৫-২০ বছর এগিয়ে রয়েছে। মোবাইল প্রযুক্তির ৯৫% যন্ত্রাংশ, ওষুধের ৯০% ভাগ কাঁচামাল, কৃষি মেশিনারি, কেমিক্যালস, ব্যাটারি, সব ক্ষেত্রেই চীনের আধিপত্য।
ভারতকে ৯৫% তেল আমদানি করতে হয়, কিন্তু মোদীর সাহস নেই ভেনিজুয়েলা বা ইরান থেকে সস্তায় তেল
আমদানি করার। রাশিয়ার থেকে ডিসকাউন্টে যে তেল কেনে ভারত, তার বেশিটাই রিফাইন হয়ে ইউরোপে যায় বলে
আমেরিকা কিছু বলেনি। অথচ ইরান থেকে স্বল্প খরচে তেল আমদনি করা যেত, যা অতীতে করাও হয়েছে।
ভারতের একমত্র জোরের যাইগা তার আভ্যন্তরীণ বাজার, এবং প্রভুত ক্রয়ক্ষমতাসপন্ন মধ্যবিত্ত সম্প্রদায়। এদেরই করের টাকা দেশের যত লম্ফঝম্ফ! অথচ ইরান, তুর্কিয়ে চমকে দেবার মত উন্নতি করেছে। অবশ্যই ভারতও
করেছে,
কিন্তু তা প্রয়োজনের তুলনায় সামান্য মাত্র।
লক্ষ্য করলে দেখা যাবে চীন শিক্ষা, স্বাস্থ্যে যে পরিমাণ বিনিয়োগ গত পনেরো বছরে করেছে, ভারত তার কুড়িভাগের একভাগও করেনি। এখানেই আসল সমস্যা। এক
সময়ে ভারতীয় রেলের থেকে চীনের রেল খারাপ ছিল। চীন কিন্তু লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা রেলের উন্নয়নে খরচ করেছে, সেকখানে ইন্ডিয়ান রেলের এ্যাচিভমেন্ট
হচ্ছে দৈনিক দুর্ঘটনায় রেকর্ড সৃষ্টি করে। লক্ষ লক্ষ রেলের চাকুরিতে পদ খালি, নতুন লাইনের কখবরই নেই। আজ রেলের গণপরিবহনে চীন পৃথিবীর সেরা।
ভারতকে বিশ্বে সম্মানের সাথে টিকে থাকতে হলে নিজের ঘরের দিকে নজর দিতেই হবে। শিক্ষা, গণস্বাস্থ্য, বাসস্থান ও কর্মসংস্তথান সৃষ্টির ক্ষেত্রে বিপুল বিনিয়োগ করতে হবে।
পাকিস্তান প্রতিপক্ষ নয়, কিন্তু
চিনের সাথে পাল্লা দিতে হলে, অস্ত্র দিয়ে নয়- শিক্ষার উন্নতি দিয়ে করতে হবে, স্বাস্থ্যের
উন্নতি করতে হবে। কয়লা পেট্রোলের বদলে বিকল্প জ্বালানি,
বিকল্প বিদ্যুতের ব্যবস্থা করতে হবে। কিন্তু হবে কি? বিজেপি থাকলে আশা কম বা নেই। বিশেষ করে অশিক্ষিত নরেন্দ্র মোদী ক্ষমতায়
থাকলে আগামীতে কোনো সম্ভাবনা নেই ভারতের।
প্রস্তাবিত ব্রিক্স কারেন্সি এখনও চালু হয় নি, অদূর ভবিষ্যতে হতে চলেছে। আসলে ব্রিক্স অর্থব্যবস্থা বিভিন্ন ধাপের অন্তিম ধাপ হল, ব্রিক্স কারেন্সি। তার প্রথম ধাপ হল ব্রিক্স সেটলমেন্ট সিস্টেম, ব্রিক্সপে। এখন দুই দেশের মধ্যে বানিজ্য করতে হলে, তা করতে ডলার বা ইউরোর মাধ্যমে। এসব নিয়ন্ত্র করে SWIFT নামের একটি সংস্থা, যার নিয়ন্ত্রক হল আমেরিকার নেতৃত্বাধীন পশ্চিমী ইউরোপ।
যেমন ধরা যাক ভারত ইরান থেকে তেল আমদানি করবে। ভারতীয় টাকার সাথে ডলারের
মুল্য স্থির বা ইরানের সাথে
ডলারের মুল্য স্থির করে ওই সুইফট নামক সংস্থা। এর জন্য যা ইচ্ছে ট্রানজাকশন চার্জ
করে সুইফট। সমস্যা শুধু সেখানেই নয়, তার ওপরে আছে নিষেধাজ্ঞা, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক। এই নিষেধাজ্ঞা আগে জারি করত রাস্ট্রপুঞ্জ এবং তা সর্বতমান্য ছিল। এখন শুরু হয়েছে আমেরিকা ও
পশ্চিমী ইয়োরোপের নিষেধাজ্ঞা। অর্থাৎ আমেরিকা গোঁসা করলেই যে কোন দেশের মাথায়
বজ্রাঘাত। আমদানি রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা। এর প্রধান বলি ইরান, রাশিয়া, গণ প্রজাতন্ত্রী কোরিয়া, ভারত, চীন সহ আরও অনেক
দেশ। অর্থাৎ আমেরিকান ডলার শুধু রিজার্ভ কারেন্সিই নয়, এখন তা পশ্চিমাদের রাজনৈতিক অস্ত্র।
এটা যে কোন দেশের সার্বভৌমতা ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতার অবমনন। এ ছাড়া আরও অস্ত্র প্রয়োগ করা হয়, ওয়ার্ল্ড ব্যাঙ্ক, ইনটারন্যাশন্যাল মনিটারি ফান্ড, বিশ্ববানিজ্য নিয়ামক সংস্থার মাধ্যমে। আমেরিকা বা ডলারের বিরুদ্ধে লড়াই নয়, মূলত এসব একদেশদর্শী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে, অন্য একটা কার্যকরী অর্থনীতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্যই ব্রিক্সের সৃষ্টি।
অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ইউনিপোলারিটির বিপক্ষে একটি মাল্টিপোলারিটি ব্যবস্থা, যেখানে কোন দেশের আধিপত্য বা নিয়ন্ত্রণ চলবে না। কথায়
কথায় কোন দেশের সম্মপত্তি বাজেয়াপ্ত করা যাবে না। নিষেধাজ্ঞার আড়ালে কোনো দেশে
রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ করা যাবেনা। আপাতত পৃথিবীর ন’টি দেশ
এখন ব্রিক্সের সদস্য, প্রাথমিক পাঁচটি
সদস্য দেশ ধরে। ব্রাজিল, রাশিয়া, ইন্ডিয়া, চীন ও সাউথ আফ্রিকা। এ বছর যুক্ত হয়েছে ইরান, ইথিওপিয়া, ইজিপ্ট ও
ইউনাইটেড আরব এমিরেটস। সদস্য হবার পথে তুর্কিয়ে ও সৌই আরব। এ ছাড়া আরও বত্রিশটি
দেশ সদস্যপদের আবেদন জানিয়েছে। এর মধ্যে এক চীন ছাড়া
সকলেই উন্নয়শীল ইকোনমি।
ব্রিক্সপে আর একটা ধাপ হল, ডলারে বদলে
কান্ট্রি টু কান্ট্রি বার্টার। যেমন ধরা যাক ভারত ইরান থেকে তেল আমদানি করবে, বদলে ভারত
চাল, গম, মুর্গি রপ্তানি করবে। বিনিময়ের অনুপাত বা পরিমাণ একমাত্র দুই দেশই ঠিক
করবে। এখনকার মত লন্ডন গ্রেন এক্সচেঞ্জ বা শিকাগো গ্রেন মার্কেট দাম ঠিক করবে না
বা নিউইয়র্ক তেলের দাম নিয়ন্ত্রণ করবে না। এর মধ্যে দুই দেশের সম্মতি ব্যাতীত
তৃতীয় কোন দেশের খবরদারীও চলবে না।
লক্ষ্য হল, এইসব লেনদেন হবে মূলত ডিজিটাল কারেন্সিতে অর্থাৎ ব্রিক্স কারেন্সিতে। এতো গেলো কান্ট্রি টু
কান্ট্রি ব্যবস্থা। এ ছাড়াও বিজনেস টু বিজনেস এবং বিজনেস টু পিপল ব্যবস্থার প্রশ্নও আছে এতে। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে এগুলির সমন্বয় করবে
সিবিডিএস বা সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক ডিজিটাল সিস্টেম। দেশের ক্ষেত্রে তা করবে সে দেশের
সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক। যেমন ভারতের ক্ষেত্রে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক।
একটা বিকল্প অর্থনৈতি ব্যবস্থা গড়ে উঠতে অনেক সময় লাগে, ব্রিক্সেরও লাগবে। বিভিন্ন দেশের অর্থনীতি, রাজনৈতিক স্থিতি, এক রকম নয়। যেমন ভারতে ক্ষেত্রে UPI বা চীনের mPay কিংবা রাশিয়ার মীর খুবই বিস্তৃত। কিন্তু বিভিন্ন দেশে তা এখনও গড়ে ওঠে নি, তার জন্য সময় লাগবে, সেটার প্রসেস শুরুও হয়েছে। মনে রাখা দরকার G-7 ভুক্ত দেশের মোট জিডিপি ও জনসংখ্যার থেকে ব্রিক্সের সম্মিলিত জিডিপি বেশি, জনসংখ্যাও অনেক বেশি। তাই খুব অল্পদিনেই দেখব ডলার তার মান হারাবে, একমাত্র বিনিময় মুদ্রা থাকার কারনে ডলারের যে দাদাগিরি ছিল, সেটার অবসয়ান হওয়া শুধু সময়ের অপেক্ষা মাত্র। ব্রিক্সপে এবং ব্রিক্স কারেন্সি এসে গেছে।
মুশকিলটা কী জানেন,
ঠিক এই সময়ে যখন একজন শিক্ষিত প্রধানমন্ত্রীর দরকার ছিল ব্রিক্সের রাশ হাতে নিয়ে বিশ্বগুরু
হয়ে উঠার জন্য, সেখানে অশিক্ষিত মোদীর লাল চোখের সার্কাস- ইন্ডিয়াকে ক্রমশ মূল্যহীন
একঘরে করে দেওয়ার দিকেই নির্দেশ করছে। হাতে পাওয়া সুযোগ ছেড়ে দেবার আরেক নজির আমাদের
চোকখের সামনে ঘটে চলেছে।
ফেসবুকীয় সিপিএমঃ ফিউজড আইনগাইডেড কামিকাজে ড্রোন
ফেসবুকের ‘সিপিএম’ নামক এই চুড়ান্ত আঁতেল ও প্রায় সর্বজ্ঞ গোষ্ঠীটার পূর্ণ বোধোদয় বা পূর্ণ বিনাশ না ঘটা অবধি রাজ্যের বাম নেতৃত্বের খুব বেশী ...
-
(১) জাতীয় ডিম্ভাত দিবস ১৯৯৩ সালের ২১শে জুলাই এর জমায়েত কী উদ্দেশ্যে হয়েছিলো জানেন? তোলামূলের রাজ্যে না জানাটাই আপনার অধিকার। ভোটার তাল...
-
ছোটবেলায় বাবা বলতেন "শাগ খেলে বাঘের বল"। যদিও তিনি ওটাকে শাকই বলতেন আমরা কচি কানে বাঘের সাথে মিলিয়ে শাগ শুনতাম। এহেন পরিস্থ...

