অন্বেষণ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
অন্বেষণ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬

মুসলমান আলেম পরিচয়ে তোলামূলের হয়ে খেপ খাটা এরা আসলে কারা?

 

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতি জটিল অবস্থায় দাঁড়ালে- হিন্দু তৃণমূল বিজেপির দিকে চলে যাবে। তখন মুসলমান গুলো যাতে কংগ্রেস বা বাম জোটের দিকে চলে যেতে না পারে সেই জন্য হুমায়ূনকে সৃষ্টি করা হয়েছে। বিজেপির কোন অবস্থায় পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় আসা সম্ভব নয, একমাত্র তৃণমূল যদি না বিজেপির মধ্যে বিলীন হয়ে যায়। ১১৮টা মুসলমান অধ্যুষিত আসন যেখানে বিজেপির লড়াই নোটার সাথে, আর ৪০টা মতুয়া প্রভাবিত আসল- যেখানে বিজেপিকে ঘাটে তুলে দেওয়া হয়েছে। তাহলে বাকি সবটা আসনেও ১০০% বিজেপিই জেতে, তাতেও ম্যাজিক ফিগার ছুঁতে পারবেনা। তাহলে, কোন মন্ত্রে বিজেপির জুজু দেখাচ্ছে তৃণমূল ও তাদের পোষ্য মিডিয়া ও ভাতাজীবিরা?

হুমায়ূন নিয়ে নতুন কিছু বলার নেই, গতকাল তাকে নিয়ে আমার বক্তব্য বলে দিয়েছি। যে লোকটা বিজেপির সাথে ইতিমধ্যে ঘর করেছে, যে লোকটা ২ মাস আগে হেলিকাপ্টারে চড়ে প্রচারের ঘোষনা দিয়েছে, যে লোকটা ৩ মাসের দল খুলেই ১৮২টা প্রার্থী দেওয়ার ক্ষমতা ধরেছে, যে লোকটা ৩ মাসের দল খুলেই স্থায়ী প্রতীক পেয়ে গেছে, যে লোকটা রাতারাতি Y ক্যাটেগরির সিকিউরিটি বহর পেয়ে গেছে কেন্দ্র সরকারের থেকে- মাকুন্দ গোপনাঙ্গ বিশিষ্ট আতা ক্যালানে মাল আর মিথ্যাবাদী ছাড়া যেকোনো সুস্থ মানুষ জানতো বিজেপি-তোলামূলের মত কেউ এনাকে পিছন থেকে ব্যাকাপ দিচ্ছে। অতএব, হুমায়ুনকে নিয়ে ঈশপের ‘নীতিমালা’ গল্প ফাঁদার কোনো সুযোগ নেই। 

এতোদিন যারা হুমায়ূনের দলে পদাধিকারী ছিলো, তারা কেউ জানতনা হুমায়ূনের এই বিপুল টাকার উৎস কি? আসলে সকলে সবটা জানতো, আর সেই টাকা উচ্ছিষ্ট খেতেই এই মালগুলো দলে দলে ভিড় জমিয়ে ছিলো। যেগুলো আজ ‘তথাকথিত’ বিদ্রোহ করছে, সেগুলো নেহাত বেজন্মা বেশ্যার বাচ্চা, হারামের মালের গন্ধ পেয়ে চেটে, চুষে, কামড়ে, হামলে পরে খাবো বলে গিয়ে আজ সতী সাজছে। খাবো সবটাই, শুধু যেন সেটা জনগণ জানতে না পারে- এই হচ্ছে মোদ্দা ইস্যু। 

আচ্ছা, ইসলাম মানে তো কোরানের নির্দেশিকা আর আমাদের নবী করীম(সাঃ) এর জীবনধারা তথা হাদিস এর নীতিমালা। এখানে কোথায় চাঁদা তুলে খাওয়া পীর ফকিরির ব্যবসার উল্লেখ রয়েছে? ইসলামের নীতিমালা কি নতুন করে লেখা হয়েছে? আচ্ছা যিনি এই ইসলাম ধর্মের প্রবর্তন করেছেন সেই নবী করিম(সাঃ) তো নিজে ব্যবসায়ী ছিলেন, তাঁর যারা সরাসরি অনুগামী ছিলো সেই সাহাবী, তাবেঈন, তাবে-তাবেঈণ- এনারা কি রাষ্ট্রের ভাতাজীবি ছিলেন? এনারা আলেম সেজে সদগা যাকাত তুলে ‘বেতনের’ নামে সেখান থেকে রুটিরুজি যোগার করতেন? এনাদের প্রত্যেকের নিজস্ব পেশা ছিলো, এনারা সকলে স্বনির্ভর ও পরিশ্রমী ছিলেন। কেউ কৃষক ছিলেন, কেউ মজদুর, কেউ শ্রমিক, কেউ মরুদ্যানে সরাইখানা চালাতেন, কেউ নানান মাপের ব্যবসায়ী ছিলেন, অর্থাৎ কেউ ভাতা আর চাঁদা তুলে খেতোনা ইসলামের নামে।

আজকে দেশ ও রাজ্য জুড়ে এই আলেম ও পীরের দোকান খুলে বসা মালগুলো, যারা ইসলামের ঠিকেদারি নিয়ে রেখেছে, এদের রুজিরুটির উৎস কি? এই যে এতো মৌলানা সাহেব, হাফিজ সাহেব, আলেম, ক্বারী, মোহাদ্দিস, ইমাম, যারা ফতোয়া দিচ্ছেন তোলামুলের পক্ষে- এনাদের হালাল পেশা কি? গুটি কয়েক হাতেগোনা ‘মুমিন’ ব্যক্তি বাদ দিলে, এরা প্রত্যেকে ‘ইসলাম ধর্মকে’ পুঁজি বানিয়ে জোব্বা, চোগা, গোঁফ বিহীন দাড়ি আর মাথায় ফেজ টুপির দোকান সাজিয়ে হয় চাঁদা তুলে খাচ্ছে, কিম্বা ঝাড়ফুঁক জলপড়া তেলপড়া তাবিজ কবজের লোক ঠকানো ব্যবসা করে হারামের কামাই খাচ্ছে। এর পাশাপাশি সমানে চেষ্টা থাকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার বৃত্তের কাছাকাছি পৌঁছে ‘বাইতুল’ মালের যে রাজনৈতিক লুঠ চলছে, সেখান থেকে যেন একটা অংশ তাদের ভাঁড়ারে চলে আসে। তার জন্য এরা ইমান, আমল বিক্রি করা, ইসলামকে বিকৃত করা- সব কিছু করতে রাজি।

আপনি প্রমাণ দেখান, যারা যারা সমাজের ওই অংশ থেকে মানে ‘ইসলামকে’ বেচে খাওয়া লোকজন, তথাকথিত আলেম সমাজ মুসলমানের নেতা হওয়ার চেষ্টা করেছে, এবং মুসলমান সমাজও যাদের হাতে নেতৃত্বের ঝান্ডা দিয়েছে- তারা পিছিয়ে থাকা মুসলমান সমাজের জন্য কি দিয়েছে? বা ১৫ বছরের তৃণমূল সরকারের থেকে কি আদায় করাতে পেরেছে?

মমতা ব্যানার্জির দল সাংসদে তিন তালাক বিলে বিজেপির পক্ষে ছিলো, এই আলেম সাজা চমনচুতিয়া গুলো মুখ খুলেছিলো সেদিন মমতা ও বিজেপির সম্পর্ক নিয়ে? CAA/NRC বিলে তৃণমূলের ৮ জন সাংসদ ভোট দেয়নি, এই বাঁদির বাচ্চা গুলো মুখ খুলেছিলো? দীর্ঘদিন সরকারী মাদ্রাসাতে শিক্ষক নিয়োগ না করে মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থাটাকে পঙ্গু করে দিয়েছে RSS এর প্ল্যান মাফিক, এক শুয়োরের বাচ্চা মুখ খুলেছে এ নিয়ে গত ১৫ বছর? রাজ্যে ৩০% মুসলমান, সরকারী চাকরিতে মুসলমানের ছেলে মেয়েরা মাত্র ৪% অংশীদার, কেউ আন্দোলন করেছে বা সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার নুন্যতম দিশা দেখিয়েছে? রাজ্যে ৩০% মুসলমান, রাষ্ট্রীয় জনপ্রতিনিধি মাত্র ১২%, এই শুয়োরের বাচ্চারা এই বিষয়ে একবারও আন্দোলন বা প্রতিবাদ করেছে? OBC তে যে মুসলমান সমাজকে ধোঁকা দেওয়া হলো, ওয়াকফের সম্পত্তি কেড়ে নেওয়া হলো, কোন মামার সন্তান ‘আলেম’ আজ যারা তলামূলকে ভোট দিতে আহ্বান জানাচ্ছে, তারা জান লাগিয়ে প্রতিবাদ করেছিলো?

এরা চুপ থাকার বিনিময়ে তৃণমূল দল ও মমতা ব্যানার্জি সরকারের থেকে হারামের মাল কামিয়েছে এতদিন। আজ তাই মমতার হয়ে এদের হা-রে-রে-রে করে নেমে পরতে হয়েছে, ‘কওম’ কে এরা এভাবেই বিক্রি করেছে মুসলমান সমাজকে ঠকিয়ে। ঠিক যেমন মমতা ব্যানার্জী, বিজেপি-RSS এর মুসলমান বিরোধী প্রকল্প গুলোকে পাশ করিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে টাকা নিয়েছে। সামান্য হুমায়ুন যদি দাবী করে বিজেপি তাকে ১০০০ কোটির অফার করেছে, তাহলে ভাবুন মমতা ব্যানার্জী বিজেপি-RSS এর কাছে গত ১৫ বছরে ধরে সহস্রবার বিক্রি হয়ে কত টাকা কামিয়েছে!

এদেরকে চিনে নিন। প্রথমেই তোলামুলের পক্ষে থাকা এই আলেমদের শুধান, আপনাদের পেশা কি? মানে পেট চলে কীভাবে? রুজিরুটির বন্দোবস্ত কীভাবে ও কোথা থেকে আসে! তারপর উপরে করা প্রশ্নগুলো এদের শুধান। আসলে এই শয়তান ইহুদির বাচ্চা গুলো ক্ষমতার কাছে বিক্রি হয়ে মুসলমান সমাজকে কাঁকড়ার মত টেনে আঁকড়ে ধরে বসে আছে, কোনোভাবে এগোতে দেবেনা। মুসলমান জনতা যত মুর্খ থাকবে, তত তাদের ভয় দেখিয়ে এদের পেট ভরাবে। মানুষ শিক্ষিত হলে এই শুয়োরের বাচ্চাদের পেটে সবার আগে লাথি মারবে। শিক্ষিত সম্প্রদায় তখন বিভিন্ন ‘মিশন’ নামক প্রতিষ্ঠানে টাকা দেবে, যারা পিছয়ে থাকা মুসলমান সমাজের সন্তানদের ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার প্রফেসর শিক্ষক বানাচ্ছে, সর্বোপরি শিক্ষিত বানাচ্ছে। তারা ইসলামিয়ার মত হাসপাতালে দান করবে, নিজেরা অনেকে হাসপাতাল বানাচ্ছে, কমিউনিটি সেন্টার বানাচ্ছে, যেখানে সমাজের পিছিয়ে পরা অংশটা আবার মূলস্রোতে ফিরে এসে সম্মান জনক রুটিরুজি যোগার করতে পারে, খেতে খেতে পারে।

এরা কেবল খারিজী মাদ্রাসা বানায়।

একটা উদাহরণ নিন, সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী। শতাব্দী প্রাচীন জমিয়ত উলামা হিন্দের সর্বোচ্চ পদাধিকারী ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ শাখার। সেই পদকে মমতার কাছে বেচে MLA ও মন্ত্রী হয়েছেন। কোলকাতা শহরে বিপুল পরিমান ওয়াকফের সম্পত্তি দীর্ঘদিন ধরে ব্যক্তিগত সম্পত্তির মত ভোগদখল করে চলেছে। নিজে সারা জীবনে ডজন খানেক বালবাচ্চা পয়দা করেছেন ওনার আব্বা জানের মতই। সব মিলিয়ে সিদ্দিকুল্লাহ সাহেবের ভাই, সন্তান, জামাতা ও তাদের ওয়ারিসান সকলে মিলে নর্মালি রাস্তা দিয়ে হেঁটে গেলে ৫০০ লোকের মিছিল মনে হয়। মন্ত্রী ও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় বলিয়ান সিদ্দিকুল্লাহ সাহেব এই মিছিলের অধিকাংশের আখের গুছিয়ে দিয়েছেন। পরিবারের বাইরে থাকা কোটি কোটি মুসলমানের জন্য কি করেছেন? 

সিদ্দিকুল্লাহ সাহেব ও ওনার মত তোলামূলের পে-রোলে থাকা বহু আলেমই খারিজী মাদ্রাসার সাথে যুক্ত, সিদ্দিকুল্লাহর ভায়েদের পেশাও তাই। কারন মাদ্রাসার নামে তোলা সদগা, যাকাত, ফিৎরা, সদগায়ে জারিয়া, কাফফারা, নজর, মানত, ফিদইয়া ইত্যাদির রাশি রাশি টাকা গুলো বেতনের নামে ভোগ দখল এরাই করে। মাদ্রাসা চালানোই এদের মূল পেশা। সেই প্রতিটা মদ্রাসাতে কোনো আধুনিক শিক্ষা নেই, যেখানে পড়াশোনা করে ১ জন মুসলমান শিক্ষার্থী- এই সমাজের ব্যবসা ও চাকরির কম্পিটিশনের বাজারে সামান্যতম প্রতিযোগিতা করতে পারে! এদেরকে মাদ্রাসাতে ছেলেপুলে ভর্তি করতেই হবে, এর প্রধান শর্ত হচ্ছে মুসলমান সম্প্রদায় গরীব হওয়া। কারনে গরীব অনাথ শিশুদের না দেখালে ওখানে দানের টাকা কেউ দেবে কেন? সিদ্দিকুল্লারা তাই সকলে খারিজী মাদ্রাসা চালায়, মুসলমানকে দেখায় দেখো আমরা কোরান হাদিসের শিক্ষা দিচ্ছি। যে কোরান হাদিসের শিক্ষা নিজেদের রুজি রোজগার ও জীবন যাত্রাতে এতটুকু লাগু করেনা, যেটুকু ভেক ধরার জন্য না পরলেই নয়। এনারা কেউ হাসপাতাল করেছে? এনারা কটা এতিম খানা খুলেছে? কটা আধুনিক শিক্ষা কেন্দ্র খুলেছে, যেখানে মুসলমানেদের পিছয়ে পরা সমাজের জন্য বৃত্তিমূলক শিক্ষা প্রতিযোগিতামূলক চাকরির জন্য ট্রেনিং দেওয়া হয়? ওয়াজ মেহেফিলের নামে ‘পার নাইট’ হিসাবে লাখ টাকায় ধর্ম বেচার কারবারিরা কেবল ততটুকু ফতোয়া দেয়, যতটা তাদের ‘চেটে’ খেতে ও হাত পেতে খাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয়।

এরা ‘দ্বীন’ এর কথা বিক্রি করে, নিজেরা দুনিয়া দুনিয়া করে উন্মাদ হয়ে রয়েছে, সর্বক্ষণ কি করে দুটো মেরে মুচরে নিয়ে এসে নিজের ঝুলি ভরবো- এই হচ্ছে এদের ঈমানের একমাত্র কাজ। এরা কেউ গত ১৫ বছরে মমতা ব্যানার্জী ও তৃণমূল দলের বিরুদ্ধে ১টা কথা বলেছে? না বলার কারন দুটো হতে পারে, প্রথমত মমতা সরকারের কোনো ভুল ছিলোনা, তৃণমূল সরকার আসলে মুসলমানদের জন্য ‘খিলাফায়ে রাশেদিন’ প্রতিষ্ঠা করে রেখেছিলো এতোদিন, দ্বিতীয়ত ওনারা মুনাফেক মিথ্যাবাদী। আসানসোলে দাঙ্গা হোক বা মুর্শিদাবাদের অশান্তি- এনারা মুখে চটি গুঁজে বসে ছিলেন। এরা বাবুল সুপ্রিয়র বিরুদ্ধেও এতটুকু রা কাটেনি, যে আসানসোল দাঙ্গার মূল নায়ক। উপরন্তু তৃণমূলে যোগ দেওয়া বাবুল সুপ্রিয়কে এরা ‘বাপ’ হিসাবে মেনে নিয়ে, বালিগঞ্জের মত মুসলমান অধ্যুষিত আসনে তাকে জিতিয়েও এনেছিলো। ওয়াকফ নিয়ে মমতা ব্যানার্জীর ধাষ্টামির বিপরীতে এদের কোন অবস্থান ছিলোনা, মমতার পদলেহন ছাড়া? এদের শুধু মুনাফেকই নয়, এরা জ্যান্ত শয়তান। সামান্য সরকারী অনুগ্রহের লোভে এরা মুসলমান সমাজের সাথে প্রতারনা করে গুমরাহ করছে।

এরাই ফতোয়া দিচ্ছে, মমতাকে ভোট না দিলে বিজেপি চলে আসবে। রোজার সময় এদের চালিত প্রতিটা মাদ্রাসা বাইরের রাজ্যে যাকাতের টাকা আদায় করতে যায়। এদের পাখির চোখ রাজ্যগুলোর নাম জানেন? গুজরাত, হরিয়ানা, দিল্লি, মহারাষ্ট্র, আসাম, উত্তরপ্রদেশ ইত্যাদি; যেগুলোর সবকটা বিজেপি শাসিত রাজ্য। বিগত ১০-১৫ বছর ধরেই এগুলো বিজেপি শাসিত রাজ্য, এনারা কেউ বিজেপির ভয়ে সেখানে ‘আদায়’ করতে যাওয়া ছেড়েছে। সেখানে রোজ মুসলমান নিগৃহীত ও খুন হচ্ছে, সেই তালিকাতে কেবল গরীব মুসলমান, একটা মৌলানা আদায়কারী হেনস্থার শিকার হয়েছে? কারন তারা সেখানে বিজেপির সাথে আপোষ করে চলে। রাজ্যের ৯০% পরিযায়ী শ্রমিক এই বিজেপি শাসিত রাজ্যেত কাজে যায়, তখন এরা কেউ ফতোয়া দেয়না যে বিজেপি শাসিত রাজ্যে যাওয়া যাবো না। 

বিজেপি তো নর্দমা, মুসলমান বিদ্বেষই তার একমাত্র রাজনৈতিক হাতিয়ার। কই, এই সব আলেম, পীরের ছানারা তাদের অনুগামীদেরও কি মানা করেছে- ভাই ওখানে বিজেপি আছে যেয়োনা, মারা যাবে। নিজেরাও অধিক দানের লোভে, মাসের পর মাস বছরের পর বছরে বিজেপি শাসিত রাজ্যে পরে থাকে, এরা যোগীর রাজ্য গিয়ে সাহারানপুর দেওবন্দে পড়াশোনা করে, সেখানে যেতে কেউ মানা করেনা, যে বিজেপি আছে কেউ যাসনা পড়তে। শুধু এ রাজ্যে ভোটের সময় বিজেপির জুজু মনে পরে যায়। বিজেপি প্রকাশ্য শত্রু হলে, এই ভন্ডগুলো তার চেয়েও বড় শত্রু মুসলমানের জন্য।

সুতরাং, মমতা না এলে বিজেপি চলে আসবে, এটা এদের ভাতা পাওয়ার ধান্দাবাজি, রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডা। সরকারী টাকায় মন্দির বানানো মমতা ক্ষমতায় আসীন থাকলে, রাজ্যে বিজেপিকে আদৌ দরকার রয়েছে RSS এর? বিজেপি কোনটা করবে, যে পাপ মমতা ব্যানার্জী ইতিমধ্যে করেনি? আলেমগুলো যদি সত্যিই যদি বিজেপিকে ঘেন্না করত বা তাদের ভয় পেতো, তাহলে তারা নিজেরা ও তাদের অনুগামীদের বিজেপির রাজ্যে যেতে মানা করতো। সামান্য চাঁদার জন্য এখানে তারা বিজেপির সাথে কেন আপোষ করছে? ইরাণের মুসলমানেরা কি ইজরায়েলে কাজে যায়? এরা শুয়োরের মাংসকে হারাম বলে, কিন্তু ঝোলটা শরীয়ত মেনে হালাল হিসাবে খায়। এরা তোলামুলের কাছে ফুটো পয়সাতে ঈমান আমল বিক্রি করে রেখেছে। মমতা ব্যানার্জী মুসলমানকে ‘দুধেল গাই’ সাজিয়ে ‘ভোটব্যাঙ্ক’ হিসাবে ব্যবহার করে দ্বিতীয় শ্রেনীর নাগরিক বানিয়ে রেখেছে, এই আলেম গুলো সেই পাপের প্রত্যক্ষ অংশীদার। আজ হুমায়ূন যে কারনেই হোক, সেই ‘দুধেল গাই’ ভোটব্যাঙ্কে থাবা বসাতেই- মমতা ব্যানার্জী উন্মাদ হয়ে এই বিকৃত আলেম সমাজকে নামিয়ে দিয়েছে; যারা আসলেই মমতার পোষা কুত্তা। এদের ফতোয়া মুসলমান সমাজকে বাঁচানো বা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য নয়, আতঙ্কে দিশেহারা মমতা ব্যানার্জীকে বাঁচানো ও মমতাকে সামনে রেখে এদের নিজেদের রুজি রোজগার বাঁচানোই এদের মুখ্য উদ্দেশ্য।

হুমায়ূনের ভিডিও কান্ডে একটা জিনিস পরিষ্কার হয়ে গেছে, মমতার হয়ে খেপ খাঁটা যত মুনাফেক মুসলমান ছিলো, অনেক আগেই মমতা যাদের পোঁদের কাপর কেড়ে নিয়েছিলো; হুমায়ুনের সামান্য পরিমান জনভিত্তি দেখে রাতের ঘুম উড়ে যাওয়া মমতা ব্যানার্জী- সেই পোঁদের কাপর বিহীন ‘কাটা মোল্লার’ সব কটার সামনের কাপড় কেড়ে নিয়ে, ন্যাংটা করে বাজারে নামিয়ে দিয়েছে। সোজা হিসাব, এতদিন তদের ভাত কাপড় দিয়ে কি মিছিমিছি পুষেছি? সুতরাং, হুমায়ূনের বিরুদ্ধে ফতোয়া দে, আর মমতা না এলে বিজেপি চলে আসবে এই বলে মুসলমানকে বোকাচোদা বানা। 

হুমায়ূনের বিরুদ্ধে আজ কারা খাপ বসিয়েছে? নারদার টাকা নিতে দেখা স্যান্ডো ববি, আর সারদার টাকা চুরিতে সরাসরি অভিযুক্ত ও জেলখাটা আসামী কুনাল ঘোষ। চালুনির দল ছুঁচের বিচার করতে বসেছে, ওদের নিজেদের ঘরোয়া কেচ্ছা নিজেরাই মেটাক। ওমা, কিছু কিছু বাম্বাচ্চা ববি কুনালের চেয়েও বীর বিক্রমে ন্যাংটা হুমায়ুনকে ঠিল মারছে। আরে মদন, নর্দমাতে ঢিল মারলে কাদা তোর জামাতেই উঠবে। হুমায়ুন কোনো বাম ভোট কাটবেনা, সে তোলামুলের ভোটই কাটবে। আর তাতে যদি সে সফল হয়, তবে বামের ঘরে দু-চারটে আসন আসতে পারে। 

সিপিএমের সোশ্যাল মিডিয়া ব্রিগেড আরেক গান্ডুর দল। সিপিএমের নানান শাখা সংগঠন আছে, কিন্তু সেগুলো খাতায় কলমে। কেউ মূল সিপিএম, কেউ সিটু, কেউ যুব, কেউ ছাত্র তো কেউ ক্ষেতমজুর। এরাই গত ৫-৭ বছর ধরে প্রতিটা মিছিলে মিটিং এ যায়, এরাই ব্রিগেডে ১০ লাখের জমায়েত করে। আসলে দিনের শেষে সাকুল্যে এই ১০ লাখই হারাধনের ছেলে দশটি ছেলে,  কুমিরের বাচ্চা দেখানোর মত এদেরকেই সব জাইগাতে দেখা যেতো। একটা বুথ থেকে এরা ১২ জন আসতো, সেই ১২টা ভোটও পার্টি পেতোনা, ফলে সর্বত্র জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। তোদের জ্ঞানের বহর আর অউকাত তো গত ১৫ বছরে রাজ্যের লোক দেখে নিয়েছে। মুখ খুললেই যখন শুধু দুর্গন্ধই বের হয়, তখন চুপ থাকাটা শেখ না ভাই। আজ তো মানুষই পরিস্থিতি বদলে দিচ্ছে, কৃষিপ্রধান মন্তেশ্বরে শতরূপের সভাতে টুপি দাড়ির মুসলমান আর ঘোমটা দেওয়া মহিলাদের ভিড়, রাজ্যে দিন বদলের আশা জাগাচ্ছে। তোরা অন্তত মুখ আর পোঁদ- এই দুই ফুটো বন্ধ রাখ। দলের পক্ষে অফিসিয়াল বিবৃতি দেওয়ার তো লোক আছে, উনাদেরকে আগে বলতে দে, তারপর নাহয় তোরা সেই লাইন ধরে ঝাঁ ঝাঁ করে বলতে শুরু করবি।

তৃণমূল আজ ক্রমশ ২০১৭ সালের সিপিএমে পরিনত হচ্ছে। যেখানে যত ছুপা তোলামুল ছিলো, আজ সবাই প্রকাশ্যে হাজির হয়ে গেছে। অর্থাৎ, এই মাল কটাই সবেধন নীলমনি হয়ে অবশিষ্ট রয়েছে তৃণমূলে। চাকুরীজীবি জনগণ নেই, মধ্যবিত্ত নেই, সাধারণ গরীব মুসলমান, অফশিলি ও আদিবাসি, শ্রমিক কৃষক সবাই তৃণমূলের উৎখাত চাইছে যেকোনো মূল্যে। এই তোলাবাজ কাটমানিখোর চোর গুলোর হাত থেকে রাজ্যবাসী পরিত্রাণ চাইছে; এই সময় যারা তোলামূলের ঢাল হিসাবে সামনে আসবে, তারা মৌলানা আলেম হোক বা সাধু সন্ন্যাসী, মুখে জাষ্ট মুতে দিয়ে লাথি মেরে রাস্তার বাইরে ফেলে দিন। 

যাদবদের জন্য লালু অখিলেশ দল খুললে সেটা সিদ্ধ, চামার দলিতের জন্য দল খোলা মায়াবতীর দোষ নেই, দ্রাবিড়দের জন্য খোলা দল আছে তামিলনাড়ুতে, মাঠারাদের জন্য দল আছে, কন্নরদের জন্য দল আছে, তেলেগু জাতিস্বত্তার ভিত্তিতে দল হলে তা সমান ও রাষ্ট্র স্বীকৃত হয়, শিখদের জন্য আকালি দল আছে, দেশে সকল জাতি ও গোষ্ঠীর নিজেদের রাজনৈতিক দল আছে। পাহাড়ীদের জন্য নিজস্ব দল আছে, আদিবাসীদের নিজেদের দল আছে। আসাম সহ উত্তরপূর্বে নানান ধর্ম ও জাতি ভিত্তিক দল আছে। ব্রাহ্মণ্য বাদীদের জন্য খোদ RSS রয়েছে, মুসলমানদের সেই অর্থে কোনো দল নেই, তারা কেবল ভোট ব্যাঙ্ক। দল খুললেই সে সাম্প্রদায়িক, এমনকি সন্ত্রাসীও বটে। মুসলমানদের নেতা রাহুল গান্ধী, মমতা ব্যানার্জী, অধীর চৌধুরী, লালু প্রসাদ, মুলায়ম সিং, করুণানিধি, জ্যোতি বসু, বা প্রমুখেরা; সৌজন্যে এই হারামি শয়তান আলেমগুলো, যারা ইসলামকে বেচে এসেছে যুগে যুগে- সামান্য ভাতা আর কিছু উচ্ছিষ্টের বিনিময়ে। 

“মুসলমান আর ভয় পাচ্ছেনা, বিজেপি NRC জুজু দেখিয়ে মমতার ভয়ের দোকানের ঝাঁপ বন্ধ হয়ে গেছে”। এই লাইনটার জনক খুব নির্দিষ্টভাবে আমি নিজে। টুপিওয়ালা মুসলমান আর ঘোমটা দেওয়া মহিলা ব্রিগেড- এবারে ঠিক করে দেবে রাজ্যের শাাসক কে হবে। মুসলমান সমাজে যারা ‘মানুষ’, তারা এবারে ভোটটা দেবে- ১৫ বছরে কি পেয়েছে, কি পায়নি, আর কি কি পেতে পারতো যা তার অধিকার ছিলো, আগামীতে কি কি পেতে পারে সেই বুঝে ভোট দেবে। এই সব দু পয়সাতে বিক্রি হয়ে যাওয়া আলেমদের ফতোয়াকে পোঁদে মুছে ফেলে দিন জাষ্ট। সুযোগ পেলে মুখে মুতেও দিন, তাতে আপনার খানিকটা নেকি বাড়বে বৈ কমবেনা। 

তাই যে শুয়োরের বাচ্চা, নিজেকে মুসলমান সম্প্রদায়ের হনু বলে ফতোয়া দিয়ে তোলামুলের হয়ে দালালি করতে আসবে, শুরুতেই তাকে খানকির ছেলে ও শুয়োরের বাচ্চা বলাটা ফরজ, এটা আমলও বটে। এটা না বললে আপনার ঈমান নিয়ে প্রশ্ন উঠবে, আদৌ আপনি মুসলমান, না শয়তানের ধোঁকায় পরা গুমরাহ ব্যাক্তি এখানে বিচার হবে। এর পর সেই দালালকে শুধান- আপনি ওয়াকফ, OBC, SIR এর নামে মুসলমান সম্প্রদায়কে যখন ক্ষতির মুখে ফেলা হচ্ছিলো, আপনি বা আপনারা কোথায় ছিলেন? 
   
ধর্মকে বেচে খাওয়া যাদের রুটিরুজি- যাদের দোকান চলে ‘কওম’কে চুতিয়া বানিয়ে; তারা ‘কওম’ নিয়ে কিছু বলতে আসলেই মুখে থুতু দিন। এরা নিজেরা সারাবছর চটির নিচে পরে থাকে ভাতাজীবি হয়ে, ভোটের বাজারে ব্ল্যাকমেল করে কিছু কামিয়ে নেওয়ার তালে এই মালগুলো মুখ খুলেছে। এদের এই খোলা মুখে হেগে দিন। এদেরকে মুসলমান সমাজের নেতা বানানোর ধাষ্টামি বন্ধ করুন, গরীব স্বল্পশিক্ষিত মুসলমান বোকা হতে পারে, তাদেরকে বোকাচোদা ভাবার আর সুযোগ নেই। যাকে খুশি ভোট দিন, তৃণমূল বিজেপিকে বাদে।

বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬

হুমায়ূন ও হাজার কোটির ডিলের ভিডিও

 


না মানে আপনি আজকে টের পেলেন যে হুমায়ুন কবির মানুষটা আসলে খারাপ লোক! নতুবা এতদিন উনি নিরীহ নিষ্পাপ ও ‘নির্দোষ’ ছিলেন! না মানে, আপনি যে এমন অপাপবিদ্ধ নির্মলমতি সরল ও কোমল যে, আপনাকে বা আপনাদের তো ডায়পার পরিয়ে রাখা উচিৎ, কখন যে শিশুর মতো হেগে মুতে ফেলবেন প্যান্টে, টেরই পাবেন না। ভাগ্যিস আপনাদের গোপনাঙ্গে বা বগলে লোম গজায়নি, নাহলে এতদিন লজ্জাতেই মরে যেতেন বার চারেক।

মুর্শিদাবাদের হুমায়ুন কবির সম্পর্কে নতুন একটা ভিডিও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে আজ। যেখানে ব্যক্তি হুমায়ুনের মুখ দেখিয়ে কিছু বক্তব্য শোনা ও দেখা যাচ্ছে। যার মাধ্যমে তোলামূল ও তাদের পোষিত সংবাদ মাধ্যম প্রমাণ করার চেষ্টা করছে যে, হুমায়ুন বিজেপির কাছ থেকে টাকা খেয়ে তৃণমূলের সর্বনাশ করার চেষ্টা করেছে। সেই ভিডিও অনুযায়ী, মোট ১০০০ কোটি টাকার ডিল হয়েছে, যার মধ্যে আপাতত ৩০০ কোটি টাকা এডভান্স হিসেবে পেয়েছে, বাকিটা ধাপে ধাপে পাবে। এই হচ্ছে মোদ্দা গল্প। ভিডিও সত্য মিথ্যা আমি কিছুই জানি না, জানার আগ্রহও নেই।  

মাকুন্দ গোপোনাঙ্গ বিশিষ্ট এলিট আঁতেল সমাজ, নাবালক ও নিতান্ত মূর্খ ছাড়া প্রত্যেকেই জানে হুমায়ুনের সাথে বিজেপির যোগাযোগ গভীর, যেটা কোনো ভাসা ভাসা লিঙ্ক নয়- একদম গলায় গলায় দহরম মহরম। কারণ তিনি হুমায়ুন কবির ২০১৯ সালে লোকসভা ভোটে বিজেপির প্রার্থী হওয়ার দরুন, বিজেপির অন্দরমহলে পৌঁছে ‘ভক্ত’দের বাবাদের সাথে এক বিছানাতে শুয়ে এসেছে, এক থালায় খেয়েও এসেছে। এই সবকিছু জেনেও ২০২১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস তথা মমতা ব্যানার্জী এই হুমায়ূন কবিরকে জামাই আদর করে ঘরে নিয়ে এসে প্রার্থী করে জিতিয়ে ছিল বিধানসভাতে। 

শুধু কী তাই? ২০২৪ এর লোকসভা ভোটের প্রচার চলাকালীন যোগীর বিরোধী মুখ হিসেবে এই হুমায়ূন কবিরকেই তোলামূল ব্যবহার করেছিল। অধীর চৌধুরী আর মোহাম্মদ সেলিমের বিরুদ্ধে নিকৃষ্ট দৃষ্টিভঙ্গিমূলক চূড়ান্ত সাম্প্রদায়িক ভাষণ দিয়ে মুর্শিদাবাদ জেলার দুটি লোকসভা আসনে তৃণমূলের নিশ্চিত পতন বাঁচিয়ে ছিল। সুতরাং, হুমায়ুন নিজে কাঁচা না পাকা খেলোয়ার জানি না, তবে তার যাবতীয় কিছু খারাপ ও সেই সমস্ত খারাপত্বকে তৃণমূল সর্বোচ্চ পর্যায়ে ব্যবহার করেছে নিয়মিত ও দীর্ঘদিন। 

প্রয়াত ‘চাণক্য’ মুকুল রায়, বঙ্গ বিজেপির পোস্টারবয় শুভেন্দু অধিকারী, আর বর্তমান পাবলিক একাউন্টস কমিটির চেয়ারম্যান সুমন কাঞ্জিলাল, রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়, সব্যসাচী দত্ত, অর্জুন সিং, সৌমিত্র খাঁ, অনুপম হাজরা, দীনেশ ত্রিবেদী, জিতেন্দ্র তিওয়ারি, রুদ্রনীল ঘোষ, হীরণ চ্যাটার্জী, তন্ময় ঘোষ, বাবুল সুপ্রিয়, দীপেন্দু বিশ্বাস, কৃষ্ণ কল্যাণী, মুকুটমনি অধিকারী, লাভপুরের মনিরুল প্রমুখেরা আসলে কোন দলের প্রতিনিধি? এরা সকলেই আসলে RSS এর প্রতিনিধি, গোয়ালঘর থেকে যে দোকানে ডিউটি দেয় নাগপুরের হেড অফিস, এরা সেই দোকানে গিয়ে তেড়েফুঁড়ে লেগে পড়ে। এটা কেবল পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য পর্যায়ের নেতাদের একটা সংক্ষিপ্ত তালিকা দিলাম, জেলা বা ব্লক স্তরের তালিকা দিলে তো বিয়েবাড়ির মুদিখানার ফর্দ হয়ে যাবে। 

অনেকেই পাল্টা প্রশ্ন করবে, সিপিএম থেকেও তো তোলামুল আর বিজেপিতে দলে দলে নেতা গেছে, তার বেলা। হ্যাঁ, ধান্দাবাজ চোরগুলো গেছে তো, অন্দরে এরা ঘুঘুর বাসা বেঁধে ছিল বলেই তো আজ দল ‘শূন্য’। প্রশ্ন হচ্ছে চলে যাওয়া কাউকে কি কাউকে পুনরায় ফেরানো হয়েছে? তোলামুল বিজেপির কথা বাদ দিন, এরা একে অন্যের বমি-গু সব খায়। বাম দল থেকে যারা যায়, সেগুলো হেগে ফেলার মতো। একবার মলাশয় থেকে বেরিয়ে গেলেই সোজা ফ্ল্যাশ করে দেওয়া হয়। এর পর সেই বর্জ্য ভেসে ভেসে কার দুয়ারে গিয়ে উঠল সেটা খুঁজে ফেরা পোষিত মিডিয়া আর দক্ষিণপন্থী দলগুলোর কাজ। একবার হেগে দিয়ে গু খালাস হয়ে গেলে, শতচেষ্টা করেও তা আর পায়ুপথে ফেরত পাঠানো যায় না। 

হুমায়ুন নতুন কোনটা করেছে যা মমতা ব্যানার্জী করেনি? হুমায়ুন নতুন দল খুলেই ১৮২টা কেন্দ্রে প্রার্থী দিয়েছেন, ঠিক মমতা ব্যানার্জী যেমন ১৯৯৮ সালে ২৯টা লোকসভা আসনে প্রার্থী দিয়েছিল বিজেপির বগলদাবা করে। হুমায়ুনও তাঁর একদা নেত্রীর দেখানো পদাঙ্কই অনুসরণ করেছে মাত্র। ঠিক যেভাবে মমতা ব্যানার্জী দল খোলার প্রায় সাথে সাথে ‘জোড়াফুল’ প্রতীক পেয়ে গিয়েছিল বিজেপির সৌজন্যে, হুমায়ুনের দলও তেমন ‘বাঁশি’ চিহ্ন পেয়ে গেছে নাগপুরের বংশী বাদকদের বদান্যতায়। হুয়ায়ুন সাহেব কোলকাতার এক ফাইভস্টার হোটেলে ঘাঁটি বেঁধে রয়েছেন বিগত দেড় মাস, ১ মাস আগে থেকে হেলিকপ্টারে চড়ে প্রচারের ঘোষণা করে রেখেছেন- সেদিন গোপনাঙ্গে মাকুন্দর দল টেরই পায়নি এই টাকার আসলে উৎস কোথায়! আজ ভিডিও প্রকাশ পেতে হুমায়ুনের নাকি জাত নষ্ট হয়েছে! বলি তোদের দেয় কে?

একটা ত্রিভুজের তিনটে বাহু, উপরের শীর্ষ বিন্দুতে নাগপুরের গোয়ালঘর, বাকি দুটো বিন্দুর একটা কালীঘাটের বিন্দুপিসি, অন্যটাতে মুরুলীধর স্ট্রিট- এই বৃত্তে প্রতিনিয়ত নিজেদের মধ্যে চলাচল করে সর্বক্ষণ ‘হটলাইন’ রক্ষা করে চলেছে দুই ফুল। এই ‘নাগপুর ট্রায়াঙ্গেল’ অনেক বেশি প্রকাশ্য বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলের চেয়ে, কই এই ‘হটলাইন’ গ্রিন চ্যানেল নিয়ে কোনো গোপোনাঙ্গ মাকুন্দো তো কোনো প্রশ্ন তোলেনি। 

প্রশ্ন কখন উঠেছিল? তখন যখন মহঃ সেলিমের সঙ্গে দেখা করার পর, হুমায়ুন কবির তার অতীত কৃতকর্মের জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছিল জনগণের কাছে- তখন সুশীল সমাজ আর আনন্দবাজার যাত্রাদলের বিবেকের ভূমিকাতে অবতীর্ণ হয়ে রীতিমতো গেলো গেলো রব তুলেছিল। সেদিনও গোপনাঙ্গে মাকুন্দের দল বুঝে উঠেনি হুমায়ুনের সাথে বিজেপির সম্পর্ক ছিল। মিডিয়ার নামে পশ্চিমবঙ্গে যে সব গাজনের সঙের দলেরা হাতে মাইকের বুক আর কপালে অণ্ডকোষ নিয়ে সারাদিন দৌড়ে বেড়ায়, তারাও এতদিন হুমায়ুনের সাথে বিজেপির সংযোগ বিষয়ে জানতে পারেনি। আজ ভিডিও লিক হওয়ার পর বুঝেছে, হুমায়ুন নামের টগর বোষ্টমী, বিজেপি নামক নন্দ মিস্ত্রিকে রান্না ঘরে ঢুকতে দিয়ে আসলেই জাত খুইয়েছে।   

আচ্ছা ভেবে দেখুন তো, আজকের এই ভিডিও কোন মিডিয়া হাউস এর কাছে না গিয়ে সরাসরি তৃণমূলের কাছে চলে এলো কীভাবে? এর দ্বারা অন্তত একটা জিনিস নিশ্চিত হওয়া গেল যে, ওই চুক্তির মধ্যে একা হুমায়ুনই শুধু নেই, বিজেপির সাথে তাদের সহোদর তৃণমূল কংগ্রেসও একই সাথে উপস্থিত ছিল ঐ আলোচনার টেবিলে। ওই আলোচনার টেবিলের উল্টো দিকে দাঁড়িয়ে ভিডিওটা কে করছিলো তৃণমূল সে বিষয়ে কিছু বলেছে, বলতেই পারতো বিমান বসু, সেলিম, অধীর চৌধুরী কিম্বা রাহুল গান্ধী নিদেনপক্ষে শুভঙ্করের নামও নিতেই পারতো। ট্রুথ সোশ্যালও ফলো করলাম, ট্রাম্পের তরফেও কোনো ক্রেডিট দাবী করে পোষ্ট আসেনি। কোন গ্রীন চ্যানেলে ভিডিওটা তৃণমূলের কাছে চলে এলো, প্রশ্ন তো এটাও!!    

হুমায়ুন সাহেব দাবী করতেই পারেন যে ভিডিওটা AI জেনারেট, কারণ বিষয়টাকে আইনি দীর্ঘসূত্রিতার মাঝে একবার ফেলে দিতে পারলে বিষয়টা সময়ের কবরে দাফন হয়ে যাবে, তারপর মানুষের আর মনেই থাকবে না। সারদা কেসে যেখানে হাজার কোটি টাকার নয় ছয় হয়েছিল সরাসরি তৃণমূলের নেতৃত্বে, আজ তার মালিক জামিন পেয়ে গেলেও কোথাও কোনো সামান্য বিক্ষোভ প্রদর্শনটুকু হয় না- সেখানে ১০ বছর পর যখন এই ভিডিওর সত্যতা সামনে আসবে ল্যাব থেকে, ততক্ষণে মানুষ ভুলেই যাবে কীসের ভিডিও ছিল ওটা। 

আসলে জাপানি তেল প্রয়োগ করেও কোনো মিডিয়া হাউস এখন অবধি পশ্চিমবঙ্গের এই ভোটের বাজারে তৃণমূল-বিজেপি বাইনারি সেট করতে পারেনি। তাই এতদিন বিজেপির সাথে ঘর করে চলা তৃণমূলের এই সতীপনা, রাজ্যের সাধারণ জনগণ- বিজেপির সাথে গোপন চুক্তিতে বাইনারি সৃষ্টির প্রচেষ্টা বলেই ধরে নিয়েছে। অনেকে ভাবছে মুসলমান সমাজে বিপরীত প্রতিক্রিয়া হবে হুমায়ুনকে নিয়ে, বরং উল্টোটা হবে। তার যে সব প্রার্থীরা ও সমর্থকেরা দোলাচলে ছিলো যে- বুথ স্তরে তোলামুলের সাথে লড়তে গেলে একটা তো পুঁজি দরকার, হুমায়ুন সাহেব সেটা দিতে পারবেন তো? হুমায়ুনের যারা ভোটার বা সমর্থক ও প্রার্থী তাদের ক্লাসও তো তাদের নেতার মতোই, একটা ভিডিও দেখে তারা কেউ পালাবে না, বরং উল্লসিত হবে যে এত বিপুল পরিমান টাকা আসছে। এরা সকলে আজ আশ্বস্ত হলো যে, ‘নাহ, হুমায়ুন সাহেবের কাছে ‘মাল’ আছে, অতএব, লড়াইটা দিতে পারবে কাঠে কপাটে’।

আরেকটা জিনিস ভুলে যাচ্ছে পাব্লিক তথা বাম সমর্থকেরা, হুমায়ুন তৃণমূলের বাক্স থেকে কিছুটা মুসলমান ভোট কাটবে, এটাকে ধরে নিয়েই তো বামেরা কিছু আসন পেতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে সংখ্যালঘু বেল্টে। পাশাপাশি তোলামুলও এমন খেঁকি কুত্তার মতো চেঁচাচ্ছে মুসলমান ভোট চলে যাওয়ার আতঙ্কে! কারণ এই সেই সংখ্যালঘু ভোট ব্যাঙ্ক, যাদেরকে দুধেলগাই সাজিয়ে মমতা ব্যানার্জী ওনার পৈতৃক সম্পত্তি ভেবে রেখেছিলেন। বিজেপির ঔরসে জন্মানো তৃণমূল কংগ্রেস, আজ বিজেপির সাথে পরকীয়া করতে গিয়ে ধরা খাওয়া হুমায়ুনের জাত নিয়ে প্রশ্ন তুলছে! তৃণমূলকে শুধাচ্ছি আপনাদের যে জন্ম হয়েছিল, সেই জন্মদাতা বাপের নামটা কী? 

তবে কী জানেন, দিনের শেষে জয়ের হাসিটা কিন্তু আজ হুমায়ুনই হাসল। এই ভিডিওর কল্যাণে আবার ফোকেটে একটা গোটা দিন রাজ্যের সংবাদ শিরোনামে তিনি রয়ে গেলেন। ভোটের বাক্সে তিনি সত্যিকারের হ্যামলিনের ‘বাঁশিওয়ালা’ হয়ে উঠতে পারেন কিনা ৪ঠা মে তার জবাব মিলবে।



রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬

ক্ষুদ্র ঋণের ফাঁদে গ্রাম বাংলার মা বোনেরা

 

❌ ক্ষুদ্র ঋণের ফাঁদে গ্রাম বাংলার মা-বোনেরা ও তৃণমূল এর তোলাবাজি আর কাটমানির অন্ধকারের রাজত্ব। ❌

🟥 অনিয়ন্ত্রিত ঋণ + উচ্চ সুদ + কম আয় = ঋণের ফাঁস

পশ্চিমবঙ্গে ক্ষুদ্রঋণ এখন “double-edged sword”, সঠিক ব্যবহার হলে উন্নয়ন, ভুল ব্যবস্থায় ঋণের ফাঁস। স্বনির্ভর গোষ্ঠীর (Self-Help Group) ঋণ বর্তমান ক্ষেত্রে গরিব মানুষের জন্য আশীর্বাদের বদলে অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্ষুদ্র ঋণের প্রাথমিক উদ্দেশ্য অত্যন্ত ভালো ছিলো। এতে করে গ্রামীণ মহিলাদের স্বনির্ভরতা বেড়েছিলো। নানান ধরণের ছোট ব্যবসা, পশু পালন, মাছচাষ ইত্যাদি শুরুও হয়েছিলো। ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার বাইরে থাকা একটা বিপুল সংখ্যার মানুষ বিশেষত মহিলারা, রাষ্ট্রের মূল অর্থনৈতিক ব্যবস্থার মধ্যে চলে এসেছিলো। গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা হয়েছিলো। তোলাবাজ সরকারের অপদার্থতা আজকে এটাকে মারন ফাঁদে পরিণত করেছে।

বিগত ১৫ বছরে রাজ্যে কোনো শিল্প আসেনি, ভারি বহু কোম্পানি রাজ্য ছেড়ে পালিয়েছে; ফলত কর্মসংস্থান নেই। কৃষি পণ্যের দাম নেই, রাজ্যের ১৮% চাষযোগ্য জমি অনাবাদি হয়ে পরে রয়েছে। সারের কালোবাজারি, কীটনাশকের অভাবের সাথে রয়েছে কৃষিতে কাজ করা শ্রমিকের সমস্যা। কারন, বহু গ্রামীণ মানুষ যারা জমিতে ‘মুনিশ’ খাটতেন তারা পরিযায়ী শ্রমিক হয়ে ভিনরাজ্যে চলে গেছে। ভাতা রাজনীতি আর করোনার সময় থেকে পাওয়া ‘ফ্রি’ চালের কল্যাণে সমাজের একটা কর্মঠ অংশের মানুষকে মানসিকভাবে ঘড়কুনো কুঁড়ে বানিয়ে দিয়েছে। 

🟢 বাংলার প্রেক্ষাপটে সমস্যা কেন বেড়েছে? 

প্রথমেই রয়েছে কৃষিতে প্রাকৃতিক অনিশ্চয়তা, অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি তো আছেই; উচ্চমূল্যের ডিজেল, ততোধিক চড়া বিদ্যুতের বিল, বহু স্থানে জলস্তর নেমে যাওয়াতে গভীর নলকূপ সেচ বন্ধ, মেলা খেলার সরকার নদী থেকে ক্যানালের মাধ্যমে সেচের বন্দোবস্ত করতে পারেনি। ফলত, রাজ্যজুড়ে কৃষিতে একটা হাহাকার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এরপর ফসলের ন্যায্য দাম পেতে গেলে সেখানেও শাসক দলের ভয়াবহ তোলাবাজি। অধিকাংশ ‘কোটা’ ফড়েরা ভুয়ো কাগজ জমা করে ভরিয়ে দিচ্ছে তৃণমূলের ক্যাডার আর কিছু অসৎ অফিসারের সাথে ষড়যন্ত্র করে, আসল চাষীরা বঞ্চিত থেকে যাচ্ছে। স্থানীয় নেতাদের চাঁদাবাজি, রাস্তায় পুলিশের তোলাবাজির উৎপাতে ভিনরাজ্যে কৃষিপন্য রপ্তানি শিল্প এক দুঃস্বপ্ন আজকের পশ্চিমবঙ্গে। ফলত চাষীর হাতে টাকা নেই, গ্রামীণ অর্থনীতি বন্ধ্যা হয়ে গেছে একপ্রকার। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, শ্রমজীবী পরিবারগুলোতে নুনভাত টুকু কোনোক্রমে জুটে গেলেও, অন্য মৌলিক চাহিদা মিটছেনা।

যেহেতু নির্দিষ্ট আয়ের উৎস নেই, ব্যবসা নেই, চাকরি নেই। শিল্প বলতে তোলাবাজি, কাটমানি আর চপ ঘুগনি। প্রথম দুটো তোলামূলের জন্য সংরক্ষিত, বাকি দুটো রাজ্যে শিক্ষিত বেকারদের নিয়ে চরম তাচ্ছিল্য। সরকারের গৃহ প্রকল্পে যে টাকা আসে, তা কাটমানির নামে অর্ধেক আগেই কেটে রাখে তোলামুলের সম্পদেরা, ফলে সেই ঘর শেষ করতে ঋণ নিতে বাধ্য হচ্ছে দরিদ্র মানুষেরা। এমন উদাহরণ ভুরিভুরি রয়েছে। এরপর, মেয়ের বিয়ে, চিকিৎসা, পড়শির সাথে তাল রেখে ঠাটবাট বাড়াতে গিয়ে ভোগ্যপন্য ক্রয়ের ফাঁদ ইত্যাদিতে, মানুষ মাকরসার জালের মত আঁটকা পরে গেছে। ফলত, ঐ ঋণের টাকা কোনো লাভজনক ব্যবসায় না খাটিয়ে পারিবারিক খরচ বা আপদকালীন প্রয়োজনে ব্যয় করলে তা আর ফেরত দেওয়ার ক্ষমতা থাকছে না। লোন নেওয়া পর থেকে- Collection agent-এর চাপ, সাপ্তাহিক মিটিংয়ে অপমান, পরিবারের ওপর মানসিক চাপ ও শেষে গয়না/সম্পত্তি বিক্রি; এই হচ্ছে চক্র।

গ্রামে স্বনির্ভর গোষ্ঠী (SHG), মাইক্রোফাইন্যান্স কোম্পানি বা NGO গুলো খুব সহজ শর্তে ঋণ দেয়। ক্ষুদ্রঋণের সুদ সাধারণ ব্যাঙ্কের তুলনায় ভয়ানক বেশি, অনেক সময় ২৪%–৩৬% পর্যন্ত হয়। ফলে ঋণ ছোট অঙ্কের হলেও অল্প দিনেই সুদ জমে বিপুল বড় বোঝা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এই উচ্চ সুদের হার সর্বগ্রাসী হয়ে লেলিহান আগুনের মত গ্রাস করেছে গোটা সমাজকে। প্রায় প্রতিটা ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র ঋণদানকারী সংস্থাগুলোর সুদের হার ভয়াবহ, সেই সুদ মেটাতে গিয়ে গরিব মানুষ আরও ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছে। একটা ঋণের কিস্তি মেটাতে গিয়ে আরেকটা ঋণ নিচ্ছে, ফলত চক্রবৃদ্ধি ঋণের ফাঁদ জড়িয়ে যাচ্ছে গরীব মানুষ। 

পাহাড়প্রমাণ সাপ্তাহিক বা মাসিক কিস্তির কড়াকড়ি গরিব মানুষের সঞ্চয় করার ক্ষমতা কেড়ে নিয়েছে। যাচ্ছে। আয়ের স্থায়িত্ব না থাকা কৃষক, দিনমজুরের নিয়মিত কিস্তি দেওয়া কঠিন। সারামাসে যা খুদকুঁড়ো জুটিয়ে আনছে, এই মহাজনী সুদের চক্করে ঘটি বাটি সব বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। এরপর শুরু হচ্ছে আসল যন্ত্রণা, অধিকাংশ গ্রামীণ গরীব পরিবারগুলো চরম আতঙ্কে থাকে, এ এক ভয়ানক সামাজিক চাপ। ঋণের কিস্তি সময়মতো দিতে না পারলে গোষ্ঠীর অন্য সদস্যদের চাপ ও সামাজিকভাবে লাঞ্ছিত হওয়ার ভয়ে অনেকে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন, যা চরম ক্ষেত্রে আত্মহত্যার মতো ঘটনাও ঘটাচ্ছে। 

✅ সমাধান-

🔸সর্বপ্রথম প্রতিটা হাতে স্থায়ী কাজের যোগান দিতে হবে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করে, দয়া ভিক্ষা নয়, কাজের পরিবেশ সৃষ্টি করে দিলে শ্রমজীবী মানুষ খেটে খাবে। আগামী সরকারকে সকলের হাতে কাজের বন্দোবস্ত করতে হবে। 

🔸 দুর্যোগ হলে যাদের আয় বন্ধ হয়ে যায়, ও যারা মৌসুমি কৃষি শ্রমিক হিসাবে কাজ করে, তাদেরকে বৃত্তিমূলক কাজের প্রশিক্ষণ দিয়ে ‘অফ সিজেনে’ রোজগারের বিষয়টা সুনিশ্চিত করতে হবে।

🔸 উৎপাদনমুখী কাজে ঋণ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

🔸 গ্রামের স্বল্পশিক্ষিত মানুষের মাঝে আর্থিক সচেতনতা বাড়াতে হবে, যাতে এই চক্রব্যূহ্যে না ফেঁসে যায়। 

🔸 প্রয়োজনে সরকারের তরফে একবার গণহারে ঋণমুক্তি করে পুনরায় এই সাইকেল নতুনভাবে চালু করতে হবে। 

🔸 কম সুদের বিকল্প ঋণ দিতে হবে সরকারি ও কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের মাধ্যমে। 

🔸 সুদের সর্বোচ্চ হার বেঁধে দিয়ে ‘টেনিয়োর’ বাড়িয়ে দিতে হবে। 

🔸 অধিক সুদের লোভে যে সকল সংস্থ পুরাতন ঋণের স্ট্যাটাস না দেখে তার উপরে পুনরায় ঋণ দেয়, তাদের কালো তালিকা ভুক্ত করতে হবে। 

🔸 সরকারি নজরদারি ও নিয়ম কঠোর করতে হবে।

🔸 সরকারকে বাজারের সাপোর্ট নিশ্চিত করতে হবে।



তৃণমূলের স্ট্যাটেস্টিক জালিয়াতি


SIR প্রক্রিয়ার শুরু থেকেই মমতা ব্যানার্জীর দাবী ছিল ২০২৪ সালের ভোটারলিস্ট দিয়ে এই বিধানসভা নির্বাচনটা করাতে হবে। সুপ্রিম কোর্টে এ বিষয়ে রীতিমতো হলফনামা দিয়ে তার ওই দাবী রেজিস্টার করে এসেছে। কেন ২০২৪ এর ভোটারলিস্ট এত গুরুত্বপূর্ণ ছিল মমতা ব্যানার্জীর কাছে, সেটার জন্য কেন্দ্র সরকারের একটা ডেটার দিকে আপনাদের নজর রাখতে হবে। আমরা রোজ বলে এসেছি ভুতুড়ে আর মৃত ভোটারে ভর্তি ২০২৪ এর ভোটারলিস্টই মমতার কারচুপির প্রাণভোমরা। সায়েন্টিফিক রিগিং এর অনুরূপ স্ট্যাটেস্টিক জালিয়াতি।  

🔰 নিচের চার্টের দিকে খেয়াল করুন, এটা ২৮শে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে বের হয়েছিল। 

🟥 ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গের মোট জনসংখ্যা ছিল ৯ কোটি ১৩ লাখ, যার মধ্যে ১৮+ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ ছিল ৬ কোটি ১১ লাখ, আর ভোটার ছিল ৫ কোটি ৬৩ লাখ। 


✅ প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষ ও ভোটারের অনুপাত ছিলো ৯২.১%


👉 এরপর ২০১৪ সালে দেখুন, উপরোক্ত অনুপাত বেড়ে ৯৮.১% তে পৌঁছে গেছে। ২০১৬ সালে সেটা ৯৯.৪%, এবং যাবতীয় নির্লজ্জতার সীমা অতিক্রম করে ২০১৯ সালে ১০১.৬%, ২০২১ সালে ১০২.৬%, ২০২৪ সালে ১০১.২% ও ২০২৫ সালে সর্বোচ্চ ১০২.৮% তে পৌঁছে যায়। মানে মূল প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের চেয়ে ভোটারের সংখ্যা বেশি। উন্নয়নের জোয়ার আসলে কোন গুপ্ত নদীতে বইছিল আশাকরি বুঝে গেছেন। 


🔸 প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ ১০০ জন, কিন্তু ভোটার প্রায় ১০৩ জন- একেই বলে পারফেক্ট উন্নয়ন। 


এমতোবস্থায় কেন মমতা ব্যানার্জী একটা সুষ্ঠু SIR করতে দেবে বলুন তো? যেই মুহূর্তে SIR লাগু হয়েছে, মমতা ব্যানার্জীর উন্নয়নের ঝুলির বেড়াল গায়েব হয়ে সেই ২০১১ সালের হিসাবের কাছাকাছি ফের ৯২.৬%তে এসে পৌঁছে গেছে প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যা আর ভোটারের আনুপাতিক হার। তৃণমূল তাদের জামানার শুরু থেকে ভোটারলিস্ট কারচুপি করে এসেছে, আসলে শুধু তৃণমূল বললে দুর্বৃত্তায়নের বৃত্তকে খাটো করে দেওয়া হবে, এটা আসলে নাগপুরের মাস্টার গেমপ্ল্যান, তাদের শরিক তৃণমূল এই রাজ্যে সেই গেমপ্ল্যান ইমপ্লিমেন্ট করেছিল মাত্র। ফলত, শুরু থেকেই ২০২৪ এই ভোটারলিস্ট ধরে ভোট করতে মরিয়া মমতা ব্যানার্জী, শেষমেষ BLO ও BDO দের দিয়ে গোটা বিষয়টাকে ঘেঁটে দিয়ে, তার ‘দুধেল গাই’দের জিম্মি বানিয়ে নিল।

আপনি ক্রনোলজি খেয়াল করুন, লাইনে দাঁড়িয়ে মানুষ অসুস্থ হওয়া, কাজের চাপে BLO এর মৃত্যুর প্রোপাগাণ্ডা, পর্যাপ্ত অফিসার না দিয়ে চূড়ান্ত অসহযোগিতা- মানে মমতা ব্যানার্জির পক্ষে যে যে ভাবে সমস্যা তৈরি করা সম্ভব ছিল, সেই সাম-দাম-দন্ড-ভেদ সমস্ত কিছু এপ্লাই করে আজকের এই ডিলিটেড ভোটারের হাহাকার অব্দি পৌঁছে দিয়েছে মুসলমান সম্প্রদায়, তপশিলি জাতি এবং উপজাতি সম্প্রদায়ের মানুষকে। আসলে তৃণমূল চেয়েছিল ঠিক চাকরি চুরির ফর্মুলা অনুযায়ী খেলতে, ঘেঁটে গুলিয়ে দিয়ে চাল কাঁকর মিলিয়ে ভাত রেঁধে খাইয়ে দেবো। SIR এর ক্ষেত্রে এক পলিসি- অফিসার দেবো না, BLO দের দিয়ে ভুল ডেটা ফিড করব, সেম ফর্মুলা সেম প্যাটার্ন। কিন্তু এবারে শেষ রক্ষা করতে পারেনি, নিজেই নর্দমার মধ্যে ডুবে গেছে।

সাবিনা ইয়াসমিনকে দিয়ে বিচারকদের আঁটকে হেনস্থা করাটাও মমতা ব্যানার্জীরই নিঁখুত পরিকল্পনার অংশ। মাঝখান থেকে মোফাক্কেরুল খোদার খাসি হয়েছে কিম্বা খোঁচর হিসাবে 'জেলে যাওয়া ডিরেক্টর হিসাবে' এপোয়েন্টেড ছিল। নতুবা মমতা ব্যানার্জীর অধীনে থাকা SDO/DM/SP এরা কি পায়ে ঘুঙুর বেঁধে মুজরো দেখছিল? নির্দিষ্ট অর্ডার বিনা তারা যদি ইচ্ছাকৃতই ভাবে ১৪ ঘন্টা ধরে নিশ্চুপ থাকে, তাহলে আজও তাদের কাউকে কেন সাসপেন্ড করা হয়নি? তাদের বিরুদ্ধে কেন মামলা করা হয়নি? একটা চুনোপুঁটি মোফাক্কেরুল, একটা বেচারা সাংবাদিক আর একজন ISF এর প্রার্থী, তিনজন 'মুসলমানকে' গ্রেফতার করে বিরাট বীরত্ব দেখাচ্ছে পুলিশের কর্তারা, তার চেয়েও বেশি বগল বাজাচ্ছেন মাননীয়া নিজে। আসলে তিনি প্রমাণ করতে চাইছেন মুসলমানকে মারলে তিনিই মারবেন, বাঁচালে তিনি বাঁচাবেন। যেন উপরওয়ালার কাছ থেকে ইজারা নিয়ে এসেছেন। 

তবে সাবিনা ইয়াসমিন কেন এখনও জেলের বাইরে এ নিয়ে মমতার কোনো জবাব নেই। নির্বাচন কমিশনও বেশ্যাবাড়ির দালালের মতো চক্ষু লজ্জাহীন হয়ে চুপটি মেরে বসে আচ্ছে সাবিনা বিষয়ে। উচ্ছিষ্টভোগী পাপোশ মিডিয়া সানাই এর পোঁ ধরে ‘মূল চক্রী’ গ্রেফতারের ব্রেকিং নিউজ চালিয়ে মানুষকে ধোঁকা দেবার ব্যর্থ চেষ্টা করলেও, বঙ্গ সমাজে হাসির খোরাক হয়েছে গত পাকিস্তান যুদ্ধে গদি মিডিয়ার লাহোর দখল করে নেওয়ার ফ্যান্টাসি রিয়েলিটি শো এর অনুরূপ।

বিচারক আঁটকে রাখার ঘটনাটা ঘটেছে মালদার কালিয়াচক দুই নম্বর ব্লকে। সেখানকার আসল গল্পটা জানেন? 

জনগণ কিন্তু ওখানে মোটেই অবরোধ করতে যায়নি। যেহেতু বিপুল পরিমাণ মানুষের নাম ‘ডিলিট’ হয়ে গেছে, যাদের বড় অংশটাই স্বল্পশিক্ষিত, তারা বিডিও অফিসে গিয়ে পরিত্রাণের উপায় জানতে গিয়েছিল- কীভাবে এই পরিস্থিতি থেকে তারা মুক্তি পেতে পারে অর্থাৎ বিডিও অফিসের থেকে তারা সাহায্য ও সহযোগিতা চাইতে গেছিল। যেহেতু তৃণমূল সরকারের উদ্দেশ্য অসৎ এবং থানার OC/IC ও BDO দের দলীয় ক্যাডার বানিয়ে বা বাধ্য করে দল চালিয়েছে, এখানেই তার ব্যতিক্রম ঘটনি।  ভুলে গেলে চলবে না যে গত লোকসভার নিরিখে মালদার প্রতিটা বিধানসভা আসনে তৃণমূল গোহারা হেরে রয়েছে।

কালিয়াচক দুই নম্বর ব্লকের BDO কৈলাশ প্রসাদ, বিচারক আঁটক কান্ডে এই অফিসারকে কেন আঁচলের ছায়াতলে আইসোলেট করে রেখেছে মমতা ব্যানার্জী। এই লোকটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বহু অনৈতিক কাজ করেছেন অতীতে, যার মধ্যে বিপুল পরিমাণ মানুষের নামকে এডজুডিকেশনে পাঠানো এনারই হাতযশ। পুরো প্রক্রিয়াকে গুলিয়ে দিয়ে জনগণের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে দেওয়ার জন্য, অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে জমায়েত হওয়া মানুষকে এই বিডিও আর সাবিনা ইয়াসমিন সহ তৃণমূল নেতৃত্ব মিথ্যা আশ্বাস দিতে থাকে যে- ‘এইবার তোমাদের সাথে কথা বলা হবে। উপর তলার অফিসারেরা রয়েছেন, ওনারা তোমাদের কথা শুনবে’। বিচারপতিরা যে ওই অফিসের মধ্যে ছিলেন, এই ব্যাপারে সাধারণ মানুষের কাছে কোনো তথ্যই ছিল না। ক্রমশ উদ্বিগ্ন মানুষের সংখ্যা ক্রমশ বাড়তে থাকে, যথারীতি শয়তানি কুবুদ্ধি খাটিয়ে সাধারণ মানুষের ধৈর্যকে বিক্ষোভের দিকে নিয়ে যায় মন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন সমেত সংশ্লিষ্ট বিডিও ও ওই অফিসের সরকারি কর্মচারীরূপী তৃণমূল ক্যাডার বাহিনী, সিভিক পুলিশের দল। এই বিডিও কৈলাশ প্রসাদ, গাড়ি চাপা দিয়ে মানুষ খুন করার অপচেষ্টা অবধি করেছিল ওইদিন। অন্যান্য সরকারি কর্মীরা যেখানে নূন্যতম DA টুকু পায় না, সেখানে এই BDO গুলো স্পেশাল ইনক্রিমেন্ট পেয়ে তাদের সেই ‘রেলা’ সাধারণ মানুষের উপরে দেখায়। সরকার পরিবর্তন হলে এদেরকেও পাই পাই হিসাব চুকাতে হবে জনগণ ও আইনের কাঠগড়াতে দাঁড়িয়ে। 

জনগণকে ভিলেন বানানো হচ্ছে সর্বোচ্চ আদালতের সামনে।

গত ০২/০৪/২৬ তারিখ অবধি ৫.৬২ লাখ ভোটারের নাম ডিলিট হয়েছে। এইগুলোর প্রতিটাতেই ভুলভাল আছে, এর পিছনে সঙ্গত কারণও আছে। যে ভুলের মূল চক্রী BLO রূপী তৃণমূলের ক্যাডার বাহিনী, যারা মূলত সরাসরি তোলামূলের কর্মী। AI যেমন যন্ত্র, যারা বিচারক তারাও আসলে যন্ত্রই, প্রাপ্ত ডকুমেন্টের ভিত্তিতে তারা নাম রেখে দিচ্ছেন কিম্বা পর্যাপ্ত ডকুমেন্ট না পেয়ে নাম ডিলিট করে দিচ্ছেন। এখানে কারো সাথে তো ব্যক্তিগত শত্রুতা নেই বিচারকদের। বিচারকদেরকে ভিলেন বানিয়ে দিচ্ছে তৃণমূলের মিডিয়া সেল, যাতে মানুষ ভুল দিশাতে ছুটে যায় শত্রুর সন্ধানে।

কেন সুপ্রিমকোর্টকে বিচারকদের এই কাজে নিয়োগ করতে হলো? তারা কি কেরানি? নাকি তাদের কাজ বাড়ন্ত ছিল? তারা মানুষের দুর্দশা দূর করতে এসে তৃণমূলের পাঁকে ডুবে গেছেন। ওনারা সারাজীবন সংবিধান, তথ্য, যুক্তি আর প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে বিচার করেন, এখানেও তারা ডকুমেন্ট পেলে অনুমোদন করছেন না পেলে করছেন না।  মমতা ব্যানার্জীর চাল কাঁকর মিলিয়ে গুলিয়ে ঘেঁটে দেওয়ার খেলায় তারা তো শুধু ক্রীড়নক মাত্র। এই যে প্রতিবাদের অপভ্রংশ, জজসায়েবদের অবরোধ করে রাখলেই ওনারা নাম তুলে দেবে, এটা কি আদৌ সম্ভব?

BLO দের দিতে মমতা ব্যানার্জী ঠিক কোন পাপটা করিয়েছে, জানেন?

👇👇👇👇👇👇👇

🔹১) জনগণ ডকুমেন্ট জমা দিয়েছে কিন্তু BLO আপলোড করেনি।

🔹২) আপলোড করলেও অত্যন্ত খারাপ মানের অস্পষ্ট ঝাপসা ছবি আপলোড করেছে, যা দেখে কারও বোঝার ক্ষমতা নেই ওটা বার্থ সার্টিফিকেট নাকি, পাশপোর্ট নাকি তালাকনামা।

🔹৩) হেয়ারিং এ নেওয়া ডকুমেন্ট নিয়ে স্থানীয় তৃণমূল পার্টি অফিসে দিয়ে এসেছে, সেখানে তৃণমূলের নেতার দল, আইপ্যাকের ভাড়াটে কর্মী আর ডেটা এন্ট্রি অপারেটরেরা মিলে ঠিক করেছে কতগুলো নাম বাদ দেবে। সেইমতো তৃণমূল বিরোধী নাম বেছে বেছে তাদের ডকুমেন্ট ওখানেই পুড়িয়ে দিয়েছে। AERO, ERO, DEO এই প্রতিটা লেভেলে এই পাপ সংগঠিত করিয়েছে তৃণমূল।

🔹৪) BLO কে একটা সার্টিফিকেট দিতে হয় পুরো আপলোড প্রক্রিয়ার শেষে- ‘verified with the original document and found in order অথবা verified with the original document and found correct’. ৯০% এর বেশী ক্ষেত্রে এটা দেয়নি।

নতুবা এমন গণহারে ডিলিট হতে পারে না নাম। উদাহরণ হিসাবে, সামসেরগঞ্জ বিধানসভায় মুসলমান নাম ডিলিটেড ৩৬৭৩৫ জন, অমুসলিম নাম ডিলিটেড ১৫৬ জন। আইনের চোখ বাঁধা থাক বা না থাক, রাষ্ট্র ব্যবস্থা কিন্তু হিন্দু মুসলমান ঠিকিই চিনে নিয়েছে। এটার জবাব অবশ্যই মাননীয় বিচারকদের দিতে হবে, তারা ইচ্ছাকৃত এভাবে মুসলমানদের নাম বাদ দিয়েছে নাকি ওনারা ডকুমেন্টস পাননি বলে নাম বাদ দিতে বাধ্য হয়েছে, এখানেই মমতা ব্যানার্জী ও তার সরকারের যাবতীয় ষড়যন্ত্র ধরা পড়ে যাবে। সুপ্রিম কোর্টকে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে। কিন্তু প্রশ্ন হল RSS কি তার দুর্গার বিরুদ্ধে যাবে? 

যে সকল রাজ্যে বিজেপির শাসন রয়েছে, এবং মুসলমান নিগ্রহে যে উত্তরপ্রদেশ দৈনিক শিরোনামে থাকে, সেখানেও মুসলমান এভাবে অত্যাচারিত হয়নি SIR এর নামে। সেখানে তার নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার চক্রান্ত হয়নি, এই নির্বাচন কমিশনই সেখানে SIR এর কাজ করেছে। অন্যান্য সকল রাজ্যে এরকম 'এডজুডিকেশন' বলে কোনো তালিকা হয়নি- গুজরাটে নয়, উত্তরপ্রদেশে নয় এমনকি বিহারেও নয়। ভোটের মুখে বিহারে বহু জলজ্যান্ত ভোটারের নাম স্রেফ মৃত হিসেবে বাদ পড়েছিল বলে জাতীয় রাজনীতিতে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। আসলে সেই সকল রাজ্যের শাসক দল SIR কে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানায়নি এই পর্যায়ে। মমতা ব্যানার্জী মুসলমান, SC/ST ভোটারদের একাংশকে জিম্মি বানিয়েছিল ভোটের স্বার্থে। মুসলমানের নাম আগে কেটে, পরে মসিহা সেজে তাদের বাঁচানোর নাটক করে বলবে- দেখো আমিই মুসলমানদের ত্রাতা, আমি না থাকলে বিজেপি এসে যাবে। বিজেপি নিকৃষ্ট সাম্প্রদায়িক দল সন্দেহ নেই, কিন্তু মমতা ব্যানার্জী বিজেপির চেয়েও নিকৃষ্ট মিথ্যাবাদী নির্লজ্জ আর বেহায়া।

কেরালা বা তামিলনাড়ুতে কিছু মানুষের তো ১ কিমি লম্বা নাম, ভীষণ খটমট। তারা শুরুতেই হলফনামা করে ইলেকশন কমিশনকে জানিয়ে দিয়েছিলো যে অমুক অমুক অমুক নাম বা পদবী আসলে একই। যেমন Sk, Shek, Seikh কিম্বা মুখার্জী, মুখোপাধ্যায়, Haque, Hoque, Haq এমন তো বাংলার সর্বত্র। মমতা এসবের ধারে কাছে যায়নি, উনি কেবল গুলিয়ে দিতে চেয়েছিলেন। কেরালা সরকার প্রশাসনিক চাপ ও ভোটারদের সমস্যার কথা উল্লেখ করে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছিল SIR বন্ধ/স্থগিত করার জন্য, কারণ একই সময়ে লোকাল বডি নির্বাচন চলছিল। IUML সহ বহু রাজনৈতিক দল SIR বন্ধ করার জন্য সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিল। তামিলনাড়ুতে সিপিএম সহ আরো অনেক রাজনৈতিক দল সুপ্রিম কোর্টে SIR-এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে মামলা করেছিল, আমাদের রাজ্য সিপিএমও মোস্তারি বানুকে বাদী করে মামলা করেছিল। যার ফলে আদালত SIR প্রক্রিয়ায় “logical discrepancy”তে থাকা নাম প্রকাশ করতে বাধ্য করে নির্বাচন কমিশনকে। মমতা ব্যানার্জি নাটক ছাড়া কি করেছিল এই পর্যায়ে?

প্রতিটা সংখ্যালঘু মেজরিটি বিধানসভা আসন গুলিতে SIR এর কারণে বিপুল সংখ্যক ভোটারকে ‘লজিক্যাল ডিস্ক্রিপেন্সির’ মাধ্যমে ডিলিট করা হয়েছে, যেগুলোর একটি সিটেও বিজেপি প্রতিযোগিতাতেই নেই। ভোটার ডিলিট করে বিজেপি অন্তত ওই আসন গুলিতে কোন লাভ করতে পারবে না, ওরা তিন নম্বর ছাগলছানা হয়েই রয়ে যাবে। লড়াই CPIM, ISF, কংগ্রেসের সাথে তৃণমুলের। যে নামগুলো ডিলিট করা হয়েছে, তারা প্রায় সকলেই অঞ্চলে তৃণমূল বিরোধী হিসেবে সুপরিচিত। সাদা খাতার দলদাস BLOরা স্থানীয় তৃণমূল পার্টি অফিসে বসে এদের নাম দায়িত্ব নিয়ে adjudication পাঠিয়ে দিয়েছিল। এইসব মুসলমান ভোট না দিতে পারলে একমাত্র লাভবান হবে তৃণমুল কংগ্রেস।

শুরুর দিন থেকে আমরা রোজ চেঁচিয়ে গেছি, মমতা ব্যানার্জী রাজ্যের একাংশের মুসলমানকে জিম্মি করেছে SIR এর নামে। অন্য কোনো রাজ্যে ডিসক্রিপেন্সি নেই, কিন্তু এ রাজ্যে আছে। প্রতিটা রাজ্যে এই একই SIR প্রক্রিয়া নির্বিগ্নে মিটেছে, কিন্তু বাংলাতে মুসলমানকে আঁটকে দেওয়ার জন্য এই ষড়যন্ত্র মমতা ব্যানার্জী রচনা করেছে। শুরুতেই ১ কোটি ৬৭ লাখ মানুষকে লজিক্যাল ডিস্ক্রিপেন্সিতে ফেলে দিয়ে পারফেক্ট হাহাকার পরিস্থিতি তৈরি করতে সক্ষম হয়েছিল। হেয়ারিং এ যখন ১ কোটি ৭ লক্ষ ব্যাক্তি ষড়যন্ত্রের জাল কেটে বেরিয়ে এল, মমতা ব্যানার্জী আরও মরিয়া হয়ে অফিসার দেওয়া বন্ধ করে দিল। ৬০ লাখ মানুষকে আন্ডার এডজুডিকেশনে পাঠিয়ে পুরো কাজ থমকে দিল। সুপ্রিম কোর্টের আদেশে রাজ্যের প্রায় সমস্ত আদালতের স্বাভাবিক কাজকর্ম স্তব্ধ রেখে বিচারকেরা ওই এডজুডিকেট ভোটারের ঠিকুজি কোষ্ঠী বিচারে বসে গেলেন, তারপর আজকের এই ‘ডিলিট’ পরিস্থিতি। বাদ পড়ে যাওয়া বৈধ মানুষেরা জানে না কবে ট্রাইবুনাল চালু হবে, আতঙ্কে দিশাহারা হয়ে প্রতিবাদ জানাতে গেলে রাষ্ট্রীয় খড়্গ নেমে আসছে। মুসোলিনি বেঁচে থাকলে ফ্যাসিবাদের ম্যানিফেস্টো যে মমতা ব্যানার্জীকে দেখেই লিখতেন, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। 

কেন মালদাতেই সবচেয়ে বেশি সমস্যা হচ্ছে! মালদা জেলার মৌলভীবাজার সাব ডিভিশন কেটে স্বাধীনতার সময় পূর্ব পাকিস্তানকে দেওয়া হয়েছিল। বিনিময়ে ওখান থেকে যশোর জেলার বনগাঁ সাব ডিভিশন এখানে এসেছিল। মতুয়াদের মধ্যে যে সমস্যা আছে, মালদা জেলায় গাজোল আর হাবিবপুর বাদ দিয়ে প্রত্যেকটি বিধানসভা কেন্দ্রে সেই একই সমস্যা আছে। বাংলাদেশের সাথে মুর্শিদাবাদ জেলার পুরোটাই নদী সীমান্ত। কোনো আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট নেই যেখান দিয়ে মানুষজন যাতায়াত করতে পারে, কিন্তু মালদা জেলায় দুটোই আছে। মালদা মুর্শিদাবাদ জেলায়, বিশেষ করে মালদা জেলায় প্রচুর পরিমাণ বাংলাদেশি হিন্দু আছে যারা সাম্প্রতিককালে এসেছে। মুসলমানকে জিম্মি করতে গিয়ে কমপক্ষে ৮-১০ লাখ হিন্দু অনুপ্রবেশকারী বহাল তবিয়তে ভোটারলিস্টে রয়ে গেছে। অবশ্য শুরু থেকেই রাজ্যের একটি রাজনৈতিক দলও হিন্দু অনুপ্রবেশকারীদের কোনোভাবে তাড়াতে চায়নি, সেটা কংগ্রেস হোক, সিপিএম হোক, বিজেপি হোক বা তৃণমূল। তৃণমূল মুসলমানকে জিম্মি করাতে এই অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের তাড়ানোটা ধামাচাপা পড়ে গেছে এই পর্বে।

মমতার পুলিশ সাবিনা ইয়াসমিনকে গ্রেপ্তার করবে না। দাঙ্গা লাগাবার কারিগরদের মমতা ব্যানার্জী মন্ত্রীত্বের পুরস্কার দেয়, রাজ্যসভায় পাঠায়। অতীতে হাজি নুরুল যেমন ছিল, টাটকা উদাহরণ- আসানসোল দাঙ্গার নায়ক বাবুল সুপ্রিয়র মতো একটা নিকৃষ্ট নর্দমার ছুঁচোকে রাজ্যসভায় পাঠিয়েছে। স্বভাবতই, সাবিনা ইয়াসমিন বা বাকি তোলামূলের নেতৃত্বরা আগামীতে পুরষ্কিত হওয়ার আশায় দিন গুণছে। প্রতিদিন মমতা ব্যানার্জীর মুখোশ একটু একটু করে খসে যাচ্ছে, সরকার থেকে বিসর্জন এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা, তারপর মানুষ এদের সুদে-আসলে বুঝে নেবে পাড়ায় পাড়ায়।

SIR এ যাদের নাম ‘Delete’ গেছে, বৈধতার সমস্ত ধরণের প্রমানাদি থাকা সত্বেও, রাষ্ট্র যন্ত্র তাদের নাগরিকত্ব কেড়ে নিয়েছে। ঠিক এই মুহূর্তে তারা বেনাগরিক ও রাষ্ট্রহীন। সেই তারা যখন বাপ দাদা চোদ্দ পুরুষের ভিটেতে দাঁড়িয়ে বৈধ কাগজাদি নিয়ে রাষ্ট্রের কাছে প্রশ্ন করছে কেন আমাকে বাদ দেওয়া হলো- বিজেপি, RSS, নির্যাতন কমিশন আর মমতা ব্যানার্জী তাদের হিংস্র দাঁত নখ নিয়ে হামলে পড়ছে নিজের নাগরিকের উপরে সর্বশক্তি দিয়ে, যেন ‘বেনাগরিক’ বানিয়ে দেওয়া মানুষগুলো দুষ্কৃতি বা রাষ্ট্রদ্রোহী। রাষ্ট্রযন্ত্র নিজে ব্যর্থ হয়েছে বা তাকে ব্যর্থ হতে বাধ্য করেছে তার নিজের নাগরিককে চিহ্নিত করতে, সেই ব্যর্থতার দায় থেকে মুখ লুকাতে, পুনরায় সেই আক্রান্ত মানুষগুলোকেই আবার টার্গেট করা হচ্ছে। এটা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এটা পরিকল্পিত চক্রান্ত। 

SIR দুর্নীতিতে তৃণমূল কংগ্রেস তার অতীতের সমস্ত ধরণের জালিয়াতি শয়তানিকে ছাড়িয়ে গেছে। মালদা, মুর্শিদাবাদ, বর্ধমান, নদীয়া তো ছিলই, ৪ঠা এপ্রিল তারিখে মতুয়া সমাজও যশোর রোড অবরুদ্ধ করে রেখেছিল। কোলকাতার বিভিন্ন ওয়ার্ডে লাগাতার বিক্ষোভ প্রদর্শন চলছে। চালাকি ধরে পরে যাওয়াতে ব্যাকফুটে থাকা মমতা ব্যানার্জী, RSS, ইলেকশন কমিশন আর বিজেপি, প্রত্যেকে একই ভাষায় কথা বলছে; যেন একজন কেউ লিখে দিয়েছে আর সকলেই মূল ভাব বজায় রেখে কপি পেস্ট করে চলছে। ফলত ঠকে যাওয়া মানুষগুলো গণতান্ত্রিক আন্দোলনে গেলেই - রাষ্ট্র তখন গ্রেফতারি, জামিন অযোগ্য মামলা আর CBI/NIA লেলিয়ে দিচ্ছে। এমতাবস্থায় একটাই উপায় বেঁচে থাকে, আদর করা। কিন্তু কাকে আদর করবেন? 

ইরানের মতো নিখুঁত টার্গেট সেট করে ভালবাসাবাসি শুরু করুন। সবার আগে অঞ্চলের BLO কে গিয়ে চেপে ধরুন, প্রশ্ন করুন- তুই কী কী আপলোড করেছিলি দেখা। না দেখাতে পারলেই হালকা করে সোহাগ করে দিন। গড়গড় করে সব সত্য উগরে দিতে শুরু করবে। এরপর তৃণমূলের নেতারা যখন ভোট চাইতে আসবে, অক্টোপাসের মতো জড়িয়ে ধরে চুমু খান। বেশি নয়, ব্লক, জেলা আর রাজ্য স্তরের ১ গণ্ডা করে তোলামূলের নেতাকে উপর্জুপরি ‘চুমুতে চুমুতে’ ভিজিয়ে দিন, দেখবেন আপনার নাম ডিলিটেড থেকে নিজে থেকেই সাপ্লিমেন্টারি তালিকাতে চলে এসেছে, গণতান্ত্রিক আন্দোলন করলে যারা মিথ্যা মামলা দেয়, 'আদরই' তাদের একমাত্র ওষুধ। এখানে আদর কিন্তু ডাকনাম।

ভাইপো সহ তৃণমূলের নেতারা কোন এমন তালেবর যে তাদের সুরক্ষার জন্য ৩০০০ এর বেশি পুলিশের বহর থাকবে! ৪ঠা মে এর পর এই পুলিশ ওদের কে দেবে? পাব্লিকের ক্যালানির হাত থেকে বাঁচতে ওরা নিজেরাই না কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলোর কাছে গিয়ে ধর্না দেয় যে- আমাকে এরেস্ট করো, জেলে অন্তত বেঁচে থাকব। লাথোকা ভুত বাতোসে নেহি মানতা হ্যায়।



শুক্রবার, ২০ মার্চ, ২০২৬

তৃণমূলকে ভোট না দিলে বিজেপি চলে আসবে, এই ধাপ্পাবাজি আর চলবেনা।

 

পশ্চিমবঙ্গে মুসলমান ভোটারদের প্রভাব কিছু ক্ষেত্রে “নির্ণায়ক” আর কিছু ক্ষেত্রে “সংখ্যাগরিষ্ঠ”। বিভিন্ন সমীক্ষা ও নির্বাচনী বিশ্লেষণ থেকে মোটামুটি যে অঙ্কটি বর্তমানে উঠে এসেছ- 


✅৩০টি আসনে মুসলমান ভোটার ৫০% এর বেশী।

✅৮৯টি আসনে মুসলমান জনসংখ্যা ৩০%-এর বেশি।

✅১১২টি আসনে মুসলমান জনসংখ্যা ২৫%-এর বেশি


ডেটার নিরিখে রাজনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঠিক এই মুহুর্তে রাজ্যের ১১৮টি আসনের জয় পরাজয় নির্ধারিত হবে- মুসলমানেরা কাকে ভোট দেবে তার উপরে। বিশেষ করে ক্লোজ ফাইট হলে মুসলিম ভোটই ফলাফল নির্ধারন করে দেবে। আর একজনও মুসলমান সজ্ঞানে বিজেপিকে ভোট দেবেনা। অতএব বিজেপি শুরুতেই ১১৮টা কেন্দ্র থেকে আউট। 

পশ্চিমবঙ্গে মতুয়া (নমশূদ্র) ভোটাররা প্রধানত সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ ও নির্ণায়ক ভূমিকা নেয় জয় পরাজয়ে। বাগদা, ২টো বনগাঁ, গাইঘাটা, স্বরূপনগর, হাবরা, অশোকনগর, ৩টে রানাঘাট উত্তর পূর্ব, কল্যাণী, চাকদা ইত্যাদির মত বিধানসভা অঞ্চলগুলোকে মতুয়ারা অধ্যুষিত/প্রভাবশালী তথা মতুয়া রাজনীতির অন্যতম কেন্দ্র ধরা হয়।

মতুয়া ভোটের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, এনারা বাংলাদেশ (পূর্ববঙ্গ) থেকে আগত শরণার্থী। কেন্দ্রের বিজে সরকারের জনবিরোধী SIR নীতি- মতুয়া সম্প্রদায়ের একটা বড় অংশকে বে-নাগরিক করে দিয়ে তাদের পথে বসিয়ে দিয়েছে। অথচ গত দেড় দশক ধরে এই ভোটব্যাঙ্ক মূলত বিজেপিকে পুষ্ট করে এসেছিলো, এবারে তারা বিজেপিকে বিসর্জন দিয়ে আসবে ইছামতির জলে।

পশ্চিমবঙ্গে ২০টি বিধানসভা আসনে মতুয়া ভোটাররা নির্ণায়ক, আরো ২০টি বিধানসভা আসনে মতুয়া ভোটাররা প্রভাবশালী। এখানেও মোট ৪০টা আসন, যেখানে বিজেপি তৃতীয় আর চতুর্থ স্থানের জন্য লড়াই করবে।

তাহলে ১১৮টা মুসলমান অধ্যুষিত আর ৪০ টা মতুয়া অধ্যুষিত, এই ১৫৮টা বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি শুরুই করছে ‘নেই’ হিসাবে। বাকি থাকে ১৩৬টা আসন, সেখানে তো প্রতিটা দল রয়েছে লড়াইয়ের ময়দানে, তর্কের খাতিরে যদি ধরেও নিই- অর্ধেক আসন বিজেপি জিতবে, তাহলেও তারা ৭০ সংখ্যা পার হবেনা কোনো ভাবেই। 

সুতরাং ‘বাংলায়’ বিজেপি জুজু আসলে মিথ্যা বানোয়াট গল্প, প্রোপ্যাগান্ডা। যেমন আমেরিকা বিশ্বের দাদা ছিলো তাদের মিডিয়া প্রোপাগান্ডায়, যতদিন না ইরানের কাছে গণধোলাই খেয়ে ন্যাংটা হয়ে গেছে। বিজেপিকে তৃনমূলই এতদিন ফাঁপিয়ে প্রচারে রেখেছে- মুসলমান ভোটকে কুক্ষিগত করার জন্য, ভয় দেখাবার জন্য; নতুবা আপনি অঙ্কের নিরিখে দেখান কীভাবে বিজেপি বাংলার ক্ষমতাতে আসতে পারে?

বিজেপি নামের বিষবৃক্ষকে বাংলার পবিত্র মাটিতে লালনপালন করেছেন তৃনমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জী নিজে। ‘সাপ হয়ে কেটে ওঝা হয়ে ঝেড়ে’ এতোদিন মুসলমানকে বিজেপি জুজু দেখিয়ে ক্ষমতায় ছিলেন। এবারে আর মানুষকে বোকা বানানো যাবেনা। তৃণমূলের সহযোগিতা না পেলে বিজেপি আবার তার অউকাতে ফিরে যাবে ঐ ৫% এর ভোটের গণ্ডিতে, আঁদাড়ে পাঁদাড়ে ২/৪টের বেশী আসন পাবেনা কোনোভাবেই।

তাই বিজেপি জুজু ভেবে তৃণমূলকে ভোট দেওয়া মানে আবার বিজেপিকে জিইয়ে রাখা। ঘাস কেটে দিলে, গরু এমনিতেই পালাবে। তৃণমূল নিজেদের স্বার্থে বিজেপি জুজুকে জিইয়ে রাখবে, মুসলমানকে ভয় দেখাবার জন্য। ওদের চক্রান্ত ভেস্তে দিন। এতোদিনের এই ভয়ানক প্রতারণার জবাব দিন ভোটের বাক্সে, তৃণমূল দলকে রাজনৈতিক কবরে পাঠিয়েই স্বস্তির নিঃশ্বাস নিন। একবার ভোটে হেরে গেলে ৭ দিনের মধ্যে দলটার অস্তিত্ব মুছে যাবে। একবার ইরানের মত বুকে বল নিয়ে তোলাবাজ কাটমানিখোর শয়তানদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান, শয়তানের সব মুখোশ খসে যাবে, পালাবার বাহানাতে তখন হাঁটু মুড়ে সহানুভুতি আর ক্ষমা ভিক্ষা করবে। 


এবার মানুষের জয় নিশ্চিত। 

সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬

ইরান যুদ্ধঃ প্রতিশোধ ও প্রতিরোধের এক অসম লড়াই


(১)

হিন্দ রজবকে চেনেন আপনারা? সম্ভবত না। ‘দ্য ভয়েস অব হিন্দ রজব’ নামের একটা সিনেমা আছে, দেখে নিতে পারেন। না চেনা অস্বাভাবিক নয়, হিন্দ রজবের নামানুসারে যুক্তরাষ্ট্রের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি হলকে ‘হিন্ডস হল’ (Hind’s Hall) নামে নামকরণ করা হয়েছে। কে এই হিন্দ রজব?

২০২৪ সালের জানুয়ারিতে গাজায় ইজরায়েলি হামলায় নিহত অপুষ্টিতে ভোগা ৫ বছরের এক নিরীহ ফিলিস্তিনি শিশুকন্যা, যার আর্তনাদ ও উদ্ধারের জন্য ফোনকলের অডিও আমাকে প্রতিবার কাঁদিয়ে দেয়। হিন্দ রজবের ভাষা আমি বুঝিনা, কেবল আকুতিটা বুঝি, তাই একজন সন্তানের বাবা হয়ে নিজেকে ধরে রাখতে পারি না। গাজা ছেড়ে হিন্দের পরিবার যখন পালাচ্ছিল, সেই সময় ইজরায়েলি সেনারা তাদের গাড়িটিকে আক্রমণ করে। এরপর বেশ কয়েকটি ইজরায়েলি ট্যাঙ্ক ও সেনা সদস্য মিলে এক নৃশংস খেলায় মেতে উঠে, যার ভিডিও রেকর্ড করে তারা। খেলার ছলে তাড়িয়ে তাড়িয়ে গুলি করে পরিবারের সবাই খুন করে। 

গাড়িতে হিন্দ এবং তার কিশোরী দিদি লায়ান বেঁচে ছিল, যারা প্যালেস্টাইন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিকে (PRCS) ফোন করে সাহায্য চায়। প্রচণ্ড আতঙ্কে ও কান্নারত অবস্থায় হিন্দ ফোনে বলেছিল, ‘আমাকে আপনারা নিতে আসবেন? আমি খুব ভয় পাচ্ছি’। ওদের উদ্ধারের জন্য পাঠানো অ্যাম্বুলেন্সটিও ইজরায়েলি ট্যাঙ্কের গোলায় দুজন প্যারামেডিক স্টাফ সহ উড়ে যায়। অতঃপর সব চুপচাপ। ১২ দিন পর, হিন্দ, তার আত্মীয় মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়, তার সাথে ফোনে রেকর্ড হয়ে থাকা, কচি গলার সেই মর্মান্তিক আর্ত বাঁচার আবেদন- ইজরায়েলি গণহত্যায় শিশু মৃত্যুর প্রতীক হচ্ছে হিন্দ রজব। এক নারকীয় উল্লাসে হিন্দের অতটুকু ছোট্ট শরীরে তারা মাত্র ৩৫০টা বুলেট গেঁথে দিয়েছিল।

হিন্দ রজবের খুনের বিচার হবে না? হবে নয়, হচ্ছে। তেল আবিব আর গাজা- ধ্বংসস্তুপ দেখে বোঝার উপায় নেই এটা কোন জাইগা। তেল আবিবের বিস্তীর্ন এলাকা, বাত ইয়াম, হোলোন, রামাত গান, বেরশেবা, হাইফা, রেহোভোট জুড়ে আজ চরম বিশৃঙ্খলা, রাজপথের সর্বত্র নাগরিক বিদ্রোহ। সর্বনাশা সাইরেন বাজলেই দৌড় দৌড় আর দৌড়ে পালিয়ে গর্তে আশ্রয়, কে জানে কার মাথায় নামে মৃত্যুর ছোবল। নেতানিয়াহুকে ঘিরে গুজব চরমে উঠেছে, মিথ্যা তথ্য ক্ষেপণাস্ত্রের মতোই বিধ্বংসী। সোশ্যাল মিডিয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে, ইজরায়েলি সরকার নীরব। যুদ্ধবাজদের ঘরে আজ যুদ্ধ ঢুকতেই তাদের ‘শক্তিশালী’ নেতারা অদৃশ্য হয়ে গেছে। তাদের প্রধানমন্ত্রী সহ অধিকাংশ কর্মকর্তা যেমন বেন গাভির, ইওভ গ্যালান্ট, হারজি হালেভিরা, হয় মরে গেছে অথবা পালিয়েছে। ইরানি ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্রে দিশেহারা যুদ্ধোন্মাদ জায়োনিস্টরা, হিন্দ রজবের শরীরে বুলেট বেঁধানো কাপুরুষদের আজ ভূগর্ভস্থ পাতালবাসী করে দিয়েছে অদৃষ্টের পরিহাস।

পশ্চিমা সাম্রাজ্য সর্বশক্তিমান সাজার একটা মিথ্যা আখ্যান তৈরি করেছিল, আজকের বাস্তবতা এটিকে ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছে। এখানে ইরানি শৌর্যের রূপকথা লেখা হচ্ছে না, ৪৮ ঘন্টা ধরে একটা গাড়িতে বাবা মায়ের লাশের সাথে বন্দি থাকা হিন্দ রজবের ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে বোবা কান্নার তীব্র শ্লেষ মাখানো ঘৃণামাখা অভিসম্পাতের চারণকাব্য আঁকা হচ্ছে। নরহত্যাকারী নেতানিয়াহু হয়তো মারা গেছে কিম্বা যায়নি, কিন্তু কাপুরুষদের সাহস মারা গেছে সন্দেহ নেই। তেল আবিবের রাস্তাগুলি খাঁ খাঁ শূন্য, মাটির নিচের আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে আতঙ্ক আর হিন্দ রজবের মত ১৯ হাজার ফিলিস্তিনি অবোধ শিশুর খুনিরা- দিশেহারা হয়ে ভয়াল ত্রাসকে আলিঙ্গন করে মৃত্যুর প্রতীক্ষা করছে। 

বিশ্ব মানচিত্র থেকে ইসরাইল নামক রাষ্ট্রটা মানসিকভাবে মুছে গেছে গতবছর জুন মাসেই। প্রদীপের মতো নিভে যাওয়ার আগে শেষবারের মতো জ্বলে উঠতে চেয়েছিল; কিন্তু একটু একটু করে গ্রাস হয়ে যাওয়া পূর্ণাঙ্গ ফিলিস্তিনের শেষ নায়ক- ইয়াসির আরাফাতের কবরে শ্রদ্ধা জানাতেই হোক, কিম্বা ছিটমহলের মতো টিকে থাকা একটুখানি গাজা, একটু খানি ওয়েস্ট ব্যাঙ্ক অথবা গোলান উপত্যকার মানুষের বোবা কান্না মুছে দেবার দায়িত্বেই হোক, মধ্যপ্রাচ্যের নপুংশক মোল্লা রাজাগুলোর কবরের পথ প্রশস্ত করার তাগিদেই হোক, অথবা নিরপরাধ নিরীহ মানুষের রক্তঋণ শোধ করার সব দায়িত্ব একা নিজের কাঁধে তুলে নিয়ে, বিশ্ব ইতিহাসকে নতুন করে লেখার তাগিদে, কয়েক হাজার বছরের পুরনো কৃষ্টি সংস্কৃতি ইতিহাস অর্থনীতি আর দেশের প্রত্যেকটি মানুষের জীবনকে বাজি রেখে, সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে দাঁড়িয়ে সাম্রাজ্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে এস্পার-ওসপার নির্ণায়ক লড়াইতে অসম যুদ্ধ করছে ইরান।

ইজরায়েল নামের টিউমার রাষ্ট্রটা জন্মের পর প্রতিবেশী প্রায় সকলকে আঁচড়ে কামড়ে ক্ষতবিক্ষত করে এসেছে ৭৭ বছর ধরে। এগুলো করতে গিয়ে তারা যখনই বিপদে পরেছে, অ্যাম্বুলেন্সের মতো সাইরেন বাজাতে বাজাতে আমেরিকা তার ন্যাটো বহর নিয়ে নির্বিচারে আসমানি বোমাবর্ষণ করে ইজরায়েলকে রক্ষা করার চেয়েও সংশ্লিষ্ট দেশটিকে ধুলিস্যাৎ করে দিয়েছে। ইয়াম কিপুর আর ছয় দিনের যুদ্ধে মিশর, জর্ডান এবং সিরিয়ার বিশাল ভূখণ্ড দখল করে ইজরায়েল; প্রতিটাতে দুর্বল প্রতিপক্ষের সাথে জয়ী হয়, সৌজন্যে উপরোল্লেখিত আমেরিকা। ইতিহাসে প্রথমবার ইজরায়েলে এমন থার্ডডিগ্রি কম্বল ধোলাই খাচ্ছে, প্রতিবারের মত এবারেও আমেরিকাকে ডেকে এনেছিল ইরানকে জবাই করতে, উল্টে আমেরিকাই জীবনে প্রথমবার বেধড়ক স্যাটাভাঙা ক্যালানির সামনে দাঁড়িয়েছে। রাগে, হতাশায় উন্মত্ত হয়ে চীনের সহযোগিতা চাইছে, যাকে শায়েস্তা করতেই শেষ দু’বছর খরচা করে ফেলেছিলো ট্রাম্প। আজকে আবার বলেছে- “হয়তো আমাদের ইরানে যাওয়া একেবারেই উচিত হয়নি, কারণ আমাদের সেটার প্রয়োজন ছিলোনা। আমাদের কাছে প্রচুর তেল আছে।”

AIDS কোনো রোগ নয়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা চলে যাবার লক্ষণ মাত্র, এটা সিস্টেমের পতন। এই রোগে সামান্য হাঁচি কাশি কিম্বা বাতকর্ম করতে গিয়েও স্ট্রোক হয়ে মারা যায় রোগী। সুরক্ষা বিনা লাগাতে গেলে AIDS অবশ্যম্ভাবী, আমেরিকা এই ভুলটাই করেছে, বিনা এক্সিট প্ল্যানে বিনা সুরক্ষাতে ইরানকে ঠুকে দিয়েছে। ফলাফল চোখের সামনে, আমেরিকার যাবতীয় ফাঁপানো ফোলানো পরাশক্তির মিথ, মেলার পাঁপড়ভাজা হয়ে হুড়মুড় করে ভেঙে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। ইরানের এই স্যাটাভাঙা মারে হোয়াইট হাউজের প্রতিটা বক্তব্য এখন অক্সিমোরন। মিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের অত্যাধুনিক অস্ত্রের বিরুদ্ধে, সামান্য মোটর সাইকেলের ইঞ্জিন, এগজহস্ট ফ্যানের ব্লেড, লেদ মেসিনে বানানো কাঠামোর ভেতরে, গন্ধক, কাঠকয়লার সাথে মেসানো সোরা দিয়ে বানানো পাতি হাউই বা ছুঁচোবাজি প্রযুক্তিতে বানানো, ঝাঁক ঝাঁক ড্রোন দিয়ে মার্কিন ঔদ্ধত্যের চামড়া খিঁচে নিচ্ছে ইরান। এভাবে আর কিছুদিন চললে ট্রাম্পের অণ্ডকোষই শেষ সম্বল হয়ে রয়ে যাবে আমেরিকার হাতে। 

ইরান হঠাৎ করে ঘুম থেকে উঠে আমেরিকাকে আক্রমণ করার সিদ্ধান্ত নেয়নি। বিগত ৩০ বছর ধরে তিল তিল করে অস্ত্র আর সাহস সঞ্চয় করেছে আষ্টেপৃষ্টে বেঁধে রাখা নানান প্রতিবন্ধকতাকে টপকে। ইরান এই যুদ্ধে একবারও জেতার চেষ্টা করেছে কি? তারা যুদ্ধবাজ আমেরিকাকে হারাচ্ছে, যুদ্ধ শুধু মিসাইল দিয়ে লড়ছে না ইরান, আমেরিকার অর্থনৈতিক পাঁজরকে ঝাঁঝরা করে দিচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে কার্ফিউ জারি রেখে রেখে। আচ্ছা, ইরানও কি জানত তারা এভাবে আমেরিকা ইজরায়েলকে একসাথে বেঁধে পেটাতে পারে? সম্ভবত তারাও জানত না আমেরিকাও আসলে কাগুজে বাঘ। এই আতঙ্কিত আমেরিকাকে সামনে থেকে পেটানো ইরান কি আর সেই আগের দুর্বল ইরানের মতো আচরন করে আমাদের ইন্ডিয়ার সাথে তথাকথিত 'বন্ধুত্ব' বজায় রাখবে? নাকি পাড়ার নতুন দাদা হিসাবে তারাও আমাদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য করবে শত্রু দেশ হিসাবে- সৌজন্যে বিশ্বগুরুর বিদেশনীতি! ক্ষমতার তো নিজস্ব পরিভাষা আছে, বাকিটা সময় জবাব দেবে আগামীতে।

ইরান কোনো এলোমেলো ভাবে এগোচ্ছেনা, অত্যন্ত অঙ্ক কষে দাবার বোর্ডের ঘোড়ার মত আড়াই চালে মাত করে দিচ্ছে। প্রতিটা মোল্লারাজাকে হারেমে থাকা তাদের বিবিদের আঁচলের খুঁটে বেঁধে রেখেছে চরম আতঙ্কের জোব্বায় ঢেকে রেখে, আমেরিকার ১টা মিত্র দেশ তাকে সাথ দেয়নি যুদ্ধে, রোজ একা ট্রাম্প আর তার যুদ্ধ মন্ত্রী খেঁকি কুত্তার মত চেঁচিয়ে যাচ্ছে। প্রথম দিন থেকে আজকের ১৬ তম দিনে, প্রতি মুহুর্তে আমেরিকার মুখ লুকাচ্ছে মিথ্যার পাহড়ের আড়ালে। সর্বক্ষণ কুৎসিত ঔদ্ধত্য দম্ভ ভরা মিডিয়া প্রেজেন্টেশন আসছে, যে- দেখো আমেরিকা আসলে কতটা শক্তিশালী, বস্তুত ন্যাংটাকেই প্রমাণ করতে হয় তার ইজ্জত অবশিষ্ট আছে। এর পরেও মিডিয়ার বিরুদ্ধে জিহাদের ঘোষণা দিচ্ছে ট্রাম্প। বন্ধুপরিজন রহিত এই চরম দুরবস্থায় অবস্থায়, ট্রাম্প হয় পরমানু হামলা করবে কিম্বা কুত্তার মত লেজ গুটিয়ে পালানোর বাইরে বস্তুত কোনো তৃতীয় অপসন নেই আমেরিকার।

এপস্টিন গ্যাং ইরানের অস্ত্র ভান্ডার শেষ করতে গিয়েছিলো, উলটে তাদের অস্ত্র শেষ হয়ে বাকি দুনিয়া সেঁচে অস্ত্র জড়ো করে ইজরায়েলকে বাঁচাতে হচ্ছে। যে কটা রণতরী নিয়ে এসেছে তার অধিকাংশই বিকলাঙ্গ হয়ে গেছে, জেরাল্ড ফোর্ড ও ইউএসএস নিমিৎজ নামের আমেরিকার গৌরব, এই দুটো বিমানবাহী অত্যাধুনিক জাহাজকে লোহিত সাগরে মেরে তুবড়ে দিয়েছে। এই হচ্ছে পরাশক্তির বাস্তব অবস্থা, ওদিকে ইজরায়েলের কথা যত কম বলা যায় ততই ভালো। দেশের ৭০% নাগরিক পালিয়েছে, অবশিষ্ট ৩০% কে আমেরিকা মৃত্যুমুখে জিম্মি করেছে, ইরানের ক্ষেপনাস্ত্রের সামনে নিজেদের মুখ রক্ষার খাতিরে। দেশের ৪০% স্থাপনা সম্পূর্নভাবে ধ্বংসস্তুপে পরিনত হয়েছে। ককিয়ে কাঁদার মত শক্তি অবশিষ্ট নেই, সোস্যালমিডিয়াতে ত্রাণ ভিক্ষা করছে। 

ইজরায়েল আড়াই বছর ধরে নিরবিচ্ছিন্ন হাজার হাজার টন বোমা বর্ষণ করেও হামাস শেষ করতে পারেনি, উলটে নিজেদের কিছু জনকে হামাস সাজিয়ে False Flag Operation করিয়েছে, যাতে গাজার উপরে মানবেতর হামলার পক্ষে ওজর খাড়া করতে পারে। গত ৪০ বছর ধরে চার হাজার বার ‘হিজবুল্লাহ’ খতম দাবী করা ইজরায়েলী সেনা আজও সেই হিজবুল্লাহ আতঙ্কে কিংকর্তব্যবিমূঢ়। বাধ্য হয়ে আজ ১৬ই মার্চ ২০২৬, লেবাননের ভূমি দখল করতে নেমেছে ইজরায়েল। আসলে এই proxy war এর মাধ্যমে আমেরিকাকে বুঝে নিতে চাইছে, স্থলযুদ্ধে ইরানের কতটা সক্ষমতা আছে। ওদিকে, হুথি বলছে বাব-আল-মান্দাব বন্ধ করে দিয়ে গোটা মধ্যপ্রাচ্যকে জিম্মি করে নেবে। আসলে এরা কেউ হামাস, হিজবুল্লাহ বা হুথি নয়, সবটাই ইরাণের আর্মি। যেমন আমাদের ভারতের মূল সেনা ইন্ডিয়ান আর্মি হলেও CISF, CRPF, BSF, ITBP, SSB, NSG, আসাম রাইফেলস ইত্যাদি নানা ধরণের ফ্রন্ট খুলে রাখা আছে আলাদা আলাদা এলাকার নির্দিষ্ট দায়িত্ব দিয়ে; ইরানও দীর্ঘদিন ধরে উপসাগরীয় এলাকাতে বিভিন্ন ফ্রন্টে ভিন্ন ভিন্ন নামে বাহিনী রেখে দিয়েছে। তাই ইজরায়েল কখনই এগুলোকে শেষ করতে পারেনি, পারবেওনা। এপস্টিন গ্যাং ইরানের সামরিক শক্তিকে খাটো করে দেখাবার জন্য মিলিশিয়া নাম দিলেও , আজকে দিনে সবটা পরিষ্কার হয়ে গেছে, এরা কি ও কেন!


 (২)

আজকের দুনিয়া বড় নির্মম আর প্রতিশোধ স্পৃহা অতি ভয়ংকর। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী রাশিয়া, চিন ও ইরানকে নিয়ে গড়ে ওঠা ত্রিভুজ এর যে অক্ষটা ক্রমশ শক্তিশালী হয়ে চলেছে, ব্রিকস এর ছাতার আড়ালে তারা যেকোনো মূল্যে ভারতের রাষ্ট্রক্ষমতার শীর্ষ পদ থেকে বিশ্বগুরুর রাজনৈতিক ধ্বংস চায়। দিল্লির বুকে একটা শক্তিশালী রাষ্ট্রপ্রধানকে তারা চায়, যে আমেরিকার পোষ্য নপুংসক ক্লীব না হয়ে দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম ব্যক্তিত্বের সাথে। এটা শুধু তাদের নিজেদের স্বার্থ রক্ষার তাগিদে নয়, বরং ভক্তরা সহ ১৪০ কোটি ভারতবাসীর প্রত্যেকের সম্মানজনক সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনীতির নিরাপত্তা স্বার্থেও বিশ্বগুরুর বিসর্জনই এখন একমাত্র বিকল্প।

ফাইনান্সিয়াল টাইমস এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফ্রান্স ও ইতালি বুঝতে পেরেছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজের নিরাপদ চলাচলের ক্ষেত্রে ইরানের অনুমতিই গুরুত্বপূর্ণ, আমেরিকা নয়। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, অষ্ট্রেলিয়া, সুইজারল্যান্ড সহ বহু দেশ এখন সরাসরি ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় করতে আগ্রহ দেখাচ্ছে। আজ অবধি এটাকে ইরানের জন্য এটাকে বড় জয় বলা যেতে পারে। দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক অবরোধ ও আমেরিকাকে পাশ কাটিয়ে পূর্ব এশিয়া ও ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণের এক বড় সুযোগ হতে চলেছে এটা। আটলান্টিকের পশ্চিম পাড়ের কানাডা, পূর্বপাড়ে ইংল্যান্ড ফ্রান্স জার্মানি স্পেন ইতালি ছাড়াও, আটলান্টিক থেকে বহু দূরে পূর্ব ইউরোপের বাল্টিক সাগর বা কাস্পিয়ান সাগরে কোলের রাষ্ট্রগুলি, এমনকি মধ্য ইউরোপের রাষ্ট্রগুলিকে অবধি ন্যাটো নামক সামরিক জোটের সদস্য করা হয়েছিলো ধীরে ধীরে। মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে আমেরিকার সবচেয়ে বড় অস্ত্র বিক্রির বাজার এটাই। 

আমেরিকার ছাতার তলায় থেকেও যদি ইসরাইল এইভাবে প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়, তাহলে ইসরাইলের পশ্চিম দিকের ইষ্টব্লক এবং পূর্ব দিকে মধ্যপ্রাচ্য আগামীতে মার্কিন অস্ত্র কিনবে কেন? আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যদি অস্ত্র বিক্রি করতে না পারে তাহলে তাদের ডমিন্যান্স তাদের হেজিমনি ধরে রাখতে পারবেনা। এই কারনে মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক বেস গুলো তারা ধরে রাখতে যেমন মরিয়া, তেমনই চীন রাশিয়া ব্লকও আমেরিকাকে এখানেই পুঁতে দিতে বদ্ধপরিকর। ইজরায়েলকে বাঁচাতে দুনিয়া সেঁচে অস্ত্র জড় করতে হচ্ছে, দক্ষিণ কোরিয়া থেকে যেই মাত্র ‘থার’ তুলে আনছে, অমনি কিম জং উন মার্কিন সেনা ঘাঁটির কানের কাছ দিয়ে ১০টা ব্যালেস্টিক মিসাইল এর গান শুনিয়ে দিয়েছে। তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভিতরে ঢুকেই রয়েছি আমরা, অফিসিয়ালি ঘোষনা তখনই হবে যখন আমেরিকা তার মিত্রদের সহ মধ্যপ্রাচ্যের মোল্লা রাজাগুলোকে যুদ্ধে সামিল করে নিতে সক্ষম হবে।

পশ্চিমা জায়োনিষ্ট প্রোপ্যাগান্ডা মিডিয়ার কাছে গোদি মিডিয়া নেহাতই দুগ্ধ পোষ্য শিশু। সেই পশ্চিমা মিডিয়া আজ অবধি আমেরিকাকে জেতাতে পারেনি ন্যারেটিভ বানিয়ে। অথচ ট্রাম্প, তার বিদেশ মন্ত্রী, যুদ্ধ মন্ত্রী, সেনাকর্তারা সকলে মিলে সমস্বরে দিনে চারবার করে শেষ ১৪ দিন ধরে দাবী করেছে- ইরান ধ্বংস হয়ে গেছে ও আমেরিকার বিজয় হয়েছে। মার্কিন বাহিনীর রাডার, ইন্টারসেপ্টরকে কালী পুজোর পটকার পর্যায়ে এনে নামিয়ে দিয়েছে ইরান। ওদিকে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ থেকে F সিরিজে, B সিরিজ, MQ সিরিজ, A সিরিজ, EA সিরিজ, KC সিরিজ, এমনকি আর্মি কার্গো C সিরিজের বিমানকেও ভাদ্রমাসের পাকা তালের মত ঝরে পরতে দেখা যাচ্ছে অনবরত; আলজাজিরার মতে ৩১টি বিমান ঝরেছে, আমেরিকা ১৯টা স্বীকার করেছে। ১৭টি মার্কিন ফ্লাগের মার্চেন্ট নেভি ডুবে যাবার খবর হোয়াইট হাউস স্বীকার করেছে, ইরানের দাবী ৩৩ টা। ৯টা সর্বাধুনিক বিমানবাহী জঙ্গি যুদ্ধ জাহাজেরও পঞ্চত্বপ্রাপ্তি ঘটেছে। প্রতিপক্ষ শক্তিশালী হলে মিডিয়া ট্রায়াল হাস্যকর হয়ে যায়।  

পশ্চিমা মিডিয়ার আরেক চরম প্রোপ্যাগান্ডা হচ্ছে, যারা তার বিরুদ্ধে- তারাই চরম খারাপ। চিন, রাশিয়া, নর্থ কোরিয়া থেকে ইরান, কোথাও নাকি সাংবাদিক স্বাধীনতা নেই, নারীরা গৃহবন্দি। এই দেশগুলোর সব কিছুতে ভয়াবহ সেন্সরসিপ। অথচ এই যুদ্ধের সময় কি দেখা গেলো? ইরানের মাটিতে CNN আর BBC চুটিয়ে সংবাদ সংগ্রহের কাজ করছে, ওদিকে সৌদি, কুয়েত কাতার, বাহারিনের মার্কিন বেসের ছবি তুলতে গিয়ে সাংবাদিকেরা গুলি খেয়েছে, জেলে পচছে। ইজরায়েলে সাংবাদিক ঢোকা তো দূরঅস্ত, সাধারণ মানুষ অবধি মোবাইলে ছবি তুলতে গেলে তাকে জেলে ভরে দেওয়া হচ্ছে। তাদের নিজেদের হিব্রু সংবাদ মাধ্যম ছাড়া কেবল আদানি প্রভুর NDTV আর আজতককে রেখেছে ইন্ডিয়ার ভক্তদের সাথে সাথে বিশ্বজোড়া মার্কিন ভক্তদের চোখে ‘কিচ্ছু হয়নি’ ইমেজ টিকিয়ে রাখতে। ইরানের মিসাইল আঁটকাতে না পারা IDF সেনারা কেবল ভিডিও ক্যামেরা আঁটকাচ্ছে বা CCTV ভাঙছে, যাতে সুপার পাওয়ারের মার খাওয়ার ছবি, প্রকৃত মৃত্যু সংখ্যা বাইরে না যায়। এতেও হচ্ছেনা, আজকে ট্রাম্প দাবী করেছে মিডিয়া সঠিকভাবে আমেরিকা ইজরায়েলের পক্ষে বলছেনা, আসলে সোস্যালমিডিয়ার দাপটে মেইনস্ট্রিম মিডিয়ার মিথ্যার বেসাতিতে ত্রাহি মধুসূদন রব উঠে যেতে- তারা মাঝেমাঝে সত্যও দেখিয়ে ফেলছে, এখানেই আমেরিকার পরাশক্তি সাজা ‘শান্তিগোপালের’ পোশাক খুলে যাচ্ছে।

খামেইনির মৃত্যুর খবরে সমগ্র ফার্সি জাতি নিজেদের আভ্যন্তরীণ সকল দ্বন্দ্ব ভুলে, সিয়া-সুন্নি সহ নানান ধরনের ফিরকার ঊর্ধ্বে গিয়ে তারা এক হয়ে গেছে। নেতানিয়াহুর গায়েব হয়ে যাওয়া ও মৃত্যুর খবর চাউর করে ইজরায়েলও যে এমন কিছু একটা করার ব্যর্থ চেষ্টা করছে না, সেটা কে বলতে পারে! ইরানের নকল করতে সক্ষম হলেও, ইরানের মানুষের মতো সাহস আর ইমানি জোশ কোথা থেকে আনবে দখলদারেরা? ফলত নেতানিয়াহু সত্যিই মারা যাক বা লুকিয়ে থাকুক, আজ ৮ দিন ধরে ইচ্ছাকৃত রহস্য জিইয়ে রেখেছে ইজরায়েল। অন্য আরেকটা সম্ভাবনাও রয়েছে, মৃত্যুর খবর বাইরে আসা মানেই পশ্চিমা পরাশক্তির চোখ উপড়ে নেওয়ার সামিল। তাদের সেনারা মানসিকভাবে হেরে যাবে, তাদের নেতার মৃত্যুর খবরে। এই কারনেই ক্রমাগত AI দিয়ে ভিডিও বানিয়ে ভক্তদের মুর্কখ বানানো হচ্ছে।

সমগ্র পৃথিবীতে মানবতা, শান্তি, গণতন্ত্র, নারী স্বাধীনতা, ব্যক্তিস্বাধীনতার নামে বোমা মেরে মানুষ খুন করা পশ্চিমারা মধ্যপ্রাচ্যের মোল্লারাজাদের প্রাসাদে কখনও বোমা ফেলেনি, কারন ওই হারেম গুলোই পশ্চিমাদের পরাশক্তি সাজার ইন্ধন। অনেকেই উত্তর খুঁজে ফেরেন- কেন মোল্লা রাজাগুলো সিরিয়া, ইয়েমেন, ইরাক, লেবাননের মুসলমানদের উপরে বোমা ফেলে? কেন মোল্লা রাজা গুলো নিজেরা বৈভবের নিকৃষ্ট প্রদর্শনে ব্যস্ত থাকলেও তারা গাজা, ইয়েমেন বা লেবাননের উদবাস্তু শিবিরে নিপীড়িত অসহায় মানুষকে নুন্যতম খাদ্য দেয়না? কেন মোল্লা রাজাগুলো আলকায়দা, আইসিস, IS এর মত জঙ্গিদের পৃষ্ঠপোষক? কি কারনে মোল্লারাজাগুলো জায়োনিষ্টদের সাথে আব্রাহাম চুক্তিতে গিয়ে ফিলিস্তিনি লেবাননি ইয়েমেনি শিশুদের রক্তে মাখা ভাত নিশ্চিন্তে খায়? মোল্লারাজা গুলো কেন কোনো মুসলমান দেশগুলোকে কেন রক্ষা করতে এগিয়ে আসছেনা? এমন অসংখ্য প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে নিজেরা কোন্দলে জড়িয়ে পরছে।

যারা ভাবে মোল্লারাজা গুলো আসলে আমেরিকার দালাল, তারা গোড়ায় ভুল করছেন; এরা ব্রিটেন ও আমেরিকারই নপুংসক সন্তান। এদের নিজস্ব কোনো চিন্তাভাবনা নেই, শারীরিক আর মানসিক খিদে মেটানো জঘন্য পশু এরা। এদের জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্যই খুব নির্দিষ্ট ছিলো- আজকের এই অত্যাচারকে মঞ্চস্থ করা, নৃশংস খুনিদের পৃষ্ঠপোষকতা করার মাধ্যমে আরব মুলুকের সম্পদকে যাতে পশ্চিমা শয়তানের দলেরা কুক্ষিগত করতে পারে। যারা নবী(সাঃ) এর দেশ, পবিত্র হজ্বের ভূমি বলে কেঁদে গাঁ মাথায় করছেন, তারা নবীর(সাঃ) দেশের বর্তমান জালিম শাসকের ইতিহাস আর অপকর্ম বিষয়ে চোখ নাক কান বন্ধ করে রেখে শুধু ফতোয়া দেয়। শেষ দেড় হাজার বছরের ইতিহাসে, মধ্যপ্রাচ্য গত শতাব্দি অবধি কোনো না কোনো সাম্রাজ্য অথবা খিলাফতের অধীনে ছিলো, রাষ্ট্র হিসাবে এদের কখনও কোনো অস্তিত্ব ছিলোনা। আজকের আকারে যে দেশগুলো দেখছেন, এদের জন্মই দিয়েছে ইংল্যান্ড আর আমেরিকার ‘লরেন্স অফ আরাবিয়া’ জায়োনিস্টরা, গত শতাব্দীর তিনের দশকের আশেপাশে, একটা দেশেরও বয়স ১০০ বছর নয়। যে দেশগুলোর জন্ম জায়োনিস্টদের গর্ভে, কীভাবে তারা আমেরিকা ইজরায়েলের বিরুদ্ধে যাবে?

গোটা বিশ্বজুড়ে একশ্রেণির মানুষ আবার ভয়াবহ হতাশার মাঝে ডুবে যাচ্ছে রোজ, ইরান কেন এখনও আত্মসমর্পন করেনি এই দেখে তারা স্থবির বাকরুদ্ধ হয়ে যাচ্ছে। এরা যে কেউ ইরানের ঘোর বিরোধী তেমনটা হয়, আবার চরম ইজরায়েল প্রেমীও নয়। কিন্তু এরা ভয়ানকভাবে আমেরিকান ড্রিমে বিশ্বাসী, পৃথিবীতে যদি সত্য বলে কিছু থাকে সেটা ‘সুপার পাওয়ার’ আমেরিকা। বিষয়টা আর কিছু নয়, মাসল মেমোরির সাথে বাস্তব যখন খাপে খাপে মিলছে না, অমনি এদের মাইগ্রেন শুরু হয়ে যাচ্ছে। এতদিন ধরে লালন করা পশ্চিমা প্রোপাগান্ডা জনিত বিশ্বাসে এরা আমেরিকার উপরে ঐশ্বরিকত্ব আরোপ করে ফেলেছেন। মাইটি আমেরিকাকে এভাবে মার খেতে দেখে যুদ্ধ শুরুর প্রথম ৩ দিন চরম অবিশ্বাসে আয়না অবধি দেখেনি এরা, নিজের প্রতি ঘৃণায়। এরপর সেটা হজম হোক বা না হোক, গিলে নিলেও এখন চরম বিভ্রমে ফেঁসে রয়েছে। একটা বিশ্বাসে রোজ ঘুমাতে যাচ্ছে- কালকে ঠিক ইরান হেরে যাবে, আমেরিকান হেজিমনি আবার প্রতিষ্ঠা পেয়ে যাবে। চোখের সামনে সত্যকে দেখতে পেলেও বিশ্বাসকে টোল খাওয়াতে নারাজ, এরা মিরাকেলের প্রত্যাশাতে রয়েছে, একমাত্র অন্ধ বিশ্বাসের বাইরে যার কোনও বাস্তব ভিত্তি নেই। 

ফারিস উদেহ, একটা ফিলিস্তিনি কিশোর। সমগ্র বিশ্বজুড়ে সাম্রাজ্যবাদী প্রতিরোধের মুখ এই কিশোরটি, যে সর্বাধুনিক সমরাস্ত্রে সজ্জিত একটা ইজরায়েলি ট্যাঙ্কের সামনে সামান্য একটা মাটির ঢিল হাতে রুখে দাঁড়িয়েছিল। কারণ তার খেলার সাথী খুড়তুতো ভাইকে ঘুমন্ত অবস্থায় ‘বাকিদের ভয় দেখাতে’ হত্যা করেছিল এই জায়নবাদি দখলদার বাহিনী। যে বয়সে রঙিন মাছ, মুনিয়া পাখি কিম্বা খরগোস পোষে সমস্ত পৃথিবী, যে বয়সে কোনো এক কিশোরীকে দেখে প্রথম প্রেমের অব্যক্ত রঙিন স্বপ্ন আঁকে, সদ্য গজানো গোঁফের রেখা নিয়ে স্কুল জীবনের বড় পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নেয়, ক্রিকেট ফুটবল ভিডিও গেমসে বুঁদ থাকার বয়স যেটা- নিশ্চিত মৃত্যু জেনেও ফারিস ওই বয়সে এক আসামঞ্জস্য প্রতিরোধ হয়ে দাঁড়িয়েছিলো, চরম ক্ষমতাবানের ঔদ্ধত্য, দম্ভ আর উন্মত্ততার সামনে। ফারিস জানত তার হাতের মাটির ঢিলে ওই শক্তিশালী ট্যাঙ্কের লোহার বর্মের শরীরে একটা আঁচড় অবধি কাটবে না, ফারিসেরা জানে তারা মৃত্যু থেকে মাত্র একটা বুলেট দূরে, যেকোনো মুহূর্তে দখলদারেরা তাকে হত্যা করে উল্লাস উদযাপন করবে। তাও তারা হাতের ঢিল নিয়েই রুখে দাঁড়ায়, লক্ষ দিন লক্ষ ফারিসের দল মরতে মরতে একদিন ঠিক তার উত্তরাধিকার প্রাপ্ত কেউ জিতে যুদ্ধে জিতে যায় কয়েকযুগ বা কয়েক শতাব্দী পর। প্রসঙ্গত, ইজরায়েলি সেনা ফারিসের গলায় গুলি করে হত্যা করেছিল। 

এটা লক্ষ লক্ষ শহীদ ফারিসদের প্রতিরোধের উত্তরাধিকারকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার যুদ্ধ। এটা ফারিস উদেহদের জীবন উৎসর্গ করা প্রতিরোধের যুদ্ধ, সামান্য সক্ষমতা দিয়ে সাহস, আত্মবিশ্বাস দিয়ে শৌর্যবীর্যের লড়াই এটা। সেই মহাশক্তিধর নরপিশাচ কাপুরুষদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ, যারা বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ কিশোরকে হত্যা করেছে, তাদের নিজস্ব ভূমির সম্পদ লুঠ করতে। এটা প্রতিশোধ নেওয়ার লড়াই, হিন্দ রজবের মতো দুই লক্ষ শিশুদের যারা বুলেট আর বোমার আঘাতে গত ৮০ বছর ধরে খুন করেছে, লাতিন আমেরিকা থেকে আফ্রিকা হয়ে মধ্যপ্রাচ্যে, এশিয়ার অন্যান্য দেশে; সেই সকল নিষ্পাপ শিশুদের তরফে প্রতিশোধ নেওয়া পতাকাটার নাম আজ- হিন্দ রজব। 

এটা যুদ্ধক্ষেত্র, এখানে একমাত্র নিশ্চিয়তা হলো অনিশ্চয়তা। এটা কেবল ইরান আমেরিকার যুদ্ধ নয়, এটা প্রতিরোধ ও প্রতিশোধের যুদ্ধ। এটা গাজার অপুষ্টিতে ভোগা নিরস্ত্র অবোধ শিশুটিকে ট্যাঙ্ক দিয়ে পিষে দেওয়া নয়, এটা সত্যিকারের যুদ্ধ। এটা সেটলার হয়ে গরিব ফিলিস্তিনি লেবানিজের বাড়িটা বন্দুকের ডগায় দখল করে নেওয়া নয়, এটা সেয়ানে সেয়ানে যুদ্ধ। এটা টিভিতে দেখা যুদ্ধের খবর নামের এন্টারটেনমেন্ট নয়, রাস্তায় দাঁড়িয়ে প্রতীকী যুদ্ধ বিরোধী আন্দোলনের আদুরে আলাপ নয়, এটা রক্তের বন্য বইয়ে দেওয়া যুদ্ধ, রক্তের বদলা হিসাবে রক্তাক্ত করার যুদ্ধ। শোষনের বিরুদ্ধে, বঞ্চনার বিরুদ্ধে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে, ভন্ডামির বিরুদ্ধে, উপনিবেশবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ। এটা গুজবের প্রহেলিকা, এটা ভয়ের সাম্রাজ্যকে ছারখার করে দেওয়ার যুদ্ধ। এটা যুদ্ধ, এটা পাপের শাস্তি, এটা ঔদ্ধত্যের সমাধি, এটা ভবিষ্যতকে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ থেকে মুক্তি দেওয়ার যুদ্ধ। 

রবিবার, ১৫ মার্চ, ২০২৬

ইজরায়েলে কী নেতানিয়াহু রিজিমের পতন ঘটলো?

 



শেষমেশ কি তাহলে রেজিম চেঞ্জ হয়েই গেল? 

না হলে যুদ্ধ চলাকালীন ইসরাইলে বসে ইসরাইলের 'আনন্দবাজার' পত্রিকা হারেৎজ, প্রতিপক্ষ ইরানের নেতা লারজানি সম্পর্কে এরকম উচ্ছাসিত খবর ছাপে কী করে ! 

অন্য সময় হলে আলাদা কথা ছিল, এখন সামনাসামনি যুদ্ধ চলছে, রিজিম চেঞ্জ না হলে সরকারি পার্টির লোক পিটিয়ে ছাল ছাড়িয়ে দেবে। যাইহোক, নেতানুনু আর তার সাগরেদ বেন গাভর মরুক বা গর্তে লুকিয়ে থাকুক, বর্তমান বিষয়টাতে মজা পাইসি।

ঝিনুকের চাঁদ দেখা নিয়ে একটা বহুল প্রচলিত গল্প রয়েছে। আকাশে পূর্ণিমার চাঁদ দেখতে পেলে নাকি সামুদ্রিক ঝিনুক তার খোলস খুলে দেয়, আর কাঁকড়ার দল সেই ফুরসতে একটা বড় পাথর তার ভেতরে ফেলে দেয়। আর কী, ঝিনুক শতচেষ্টা করেও খোলস বন্ধ করতে পারেনা। তখন কাঁকড়ার দল ঝিনুকের নরম মাংস কুরে কুরে খায়। চিন আর রাশিয়া মিলে আমেরিকা নামের ঝিনুকটাকে ইরানের আকাশে খামেইনি নামের চাঁদ দেখিয়ে খোলস খুলিয়ে দিয়েছে, এরপর হরমুজ নামের পাথর ফেলে দিয়েছে খোলা ঝিনুকের ভিতরে। বাকিটা তো চোখের সামনে।

এদিকে খবর হচ্ছে, আজ থেকে ইরান 'সিজ্জিন' নামের অস্ত্র প্রয়োগ করবে। আরবিতে সিজ্জিন মানে জাহান্নাম তথা নরকের তলদেশ। এক ফাতাহ এর চোটে কাঁথা কাপড়ে হেগে বসে আছে মাইটি পরাশক্তির দল, সিজ্জিনের ছ্যাঁকা খেলে কী হবে কে জানে! ওদিকে হোয়াইট হাউজের লিখিত বিবৃতি এসেছে- হরমুজ খুলে দিতে পারলেই নাকি আমেরিকা জয়ী হবে। অথচ আমেরিকা ইরানে স্বতপ্রবৃত্ত হয়ে বোমা মারার আগে তো হরমুজ খোলাই ছিলো, তাদের বোমা হরমুজ বন্ধ করেছে। আসলে, গরু হারিয়ে উন্মাদ হলে, বৌকে মা বলে ডাকতে হয়।

তবে বিশ্বগুরুর 'মাই ফেন্ড দোলান' যেভাবে অন্য দেশের সহযোগিতা চাইছে চিনের নাম লিখিতভাবে দিয়ে, তাতে আমেরিকান ড্রিমস এর প্রতি ঐশ্বরিক বিশ্বাস স্থাপন করা মার্কিন ভক্তদের নির্ঘুম রাতগুলো আরো লম্বা হতে চলেছে।


https://www.haaretz.com/middle-east-news/2026-03-14/ty-article-magazine/.highlight/ruthless-leader-brilliant-philosopher-ali-larijani-irans-most-powerful-man/0000019c-e193-d6d5-af9c-e5f35e980000?fbclid=IwY2xjawQkqmRleHRuA2FlbQIxMABicmlkETFCcXZacDg1aDJRdW15dFFyc3J0YwZhcHBfaWQQMjIyMDM5MTc4ODIwMDg5MgABHjjpSodCo_FeeJUt06VWc3s88TWs3U0aWuarz5yh0sRizrI9ayeWgba-pvKH_aem_-qd1kC0N38xTevcE4YnUGw

শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬

খুব সোজা একটা একটা প্রশ্নঃ মোদীর পরিবর্তে কাকে আনবে RSS?


 

খুব সোজা একটা একটা প্রশ্নঃ মোদীর পরিবর্তে কাকে আনবে RSS?


মোদীকে বানপ্রস্থে যেতে হবেই যদিনা মিরাকেল কিছু ঘটে, কারন আদানি। আমাদের চুরি যাওয়া টাকা দিয়ে আদানি ইজরায়েলের হাইফা বন্দর লিজে নিয়েছে বলে? আজ্ঞে না, ইরানের মাটিতে যে সব অস্ত্র গোলাবারুদ ইজরায়েলের তরফে ফেলা হচ্ছে এই যুদ্ধে, তার সিংহভাগ তৈরি করেছে Adani Defence & Aerospace। কোথায় তৈরি করেছে? মোসাদ ও CIA এর ভয়ানক কড়া পাহাড়ায় আমাদের ভারতের মাটিতে, উত্তরপ্রদেশের কানপুর আর প্লাসনা কারখানাতে গোলাবারুদ তৈরি হচ্ছে, তেলেঙ্গানার হায়দরাবাদ ফ্যাক্টারিতে– ড্রোন উৎপাদন হচ্ছে, কর্ণাটকের বেঙ্গালুরু ফেসেলিটিতে- মিসাইলের যন্ত্রাংশ ও হাইটেক ড্রোনের যন্ত্রাংশ বানানো হচ্ছে। ইজরায়েলের অস্ত্রের সাপ্লাই লাইন মানে Adani Defence, আদানি মানে তার চাকর স্বঘোষিত বিশ্বগুরু, আর আমরা হলাম ভারত রাষ্ট্রের হতভাগ্য নাগরিক। 

আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারত কখনই চাপরাশি বা চাকরবাকর ছিল না আজকের মতো, মঞ্চের প্রথম সারির নেতা না হলেও রাজারাজড়ার সাথেই উঠাবসা ছিল। পারিবারিক ঐতিহ্য সম্মান ধরে রাখতে হয়, বিশ্বগুরুর মতো তৃতীয় শ্রেণির নিকৃষ্ট দালাল, আজ দেশের সম্মান নিয়ে লোফালুফি খেলতে খেলতে আজ ভারতকে অচ্ছুতের দলে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।যুদ্ধের ১৩ তম দিনে টুইটারে ফার্সি ভাষায় ইরানের প্রধানমন্ত্রীর সাথে কথা হওয়ার যে দাবী, সেটাকে ইরানের প্রধানমন্ত্রী স্বীকারই করেনি। ইরানের প্রধানমন্ত্রী কোনো ‘গাটর গ্যাস বিজ্ঞানী’ নন, সামান্য একজন কার্ডিয়্যাক সার্জেন, তিনি হৃদয়ঘটিত বিষয়টা বেশিই বোঝেন। তারপরেও বিশ্বগুরুর জন্য ১টা অক্ষর খরচা করেননি, অথচ সেখানে রাশিয়া ও পাকিস্তান আছে। অন্য টুইটে অন্য দেশের উল্লেখও রয়েছে। এটা হচ্ছে গোদী মিডিয়ার বানানো বিশ্বগুরুর অউকাত।

‘হিন্দু খতরে মে’ এর মিথ্যা স্লোগানকে আজ সত্যি হতে দেখছি। আদানি প্রভু আর তার পোষ্য বিশ্বগুরু আক্রান্ত হলে আমরা দেশবাসি কীভাবে সুস্থ থাকব! আমরাও কমবেশি সকলেই ক্ষতিগ্রস্ত হবো, যেমন তেল গ্যাস সঙ্কটে ক্ষতির মধ্যে আছে দেশের প্রতিটা মানুষ, প্রতিটা হিন্দু। সত্যিই তো আজ হিন্দু খতরেমে হ্যাঁয়, সৌজনে বিজেপি। সৌজন্য বিশ্বগুরুর লালুভুলু দলের বিদেশনীতি, সৌজন্যে এপস্টিন গ্যাং এর সাথে অতিরিক্ত সখ্যতা, সৌজন্যে গুজরাত কার্টেল। ইরানের নতুন লিডার লিখিত বিবৃতি দিয়েছে যে তারা এবার প্রতিশোধ নেবে ইজরায়েল, আমেরিকা ও তাদের মিত্রদের উপরে; বোঝা গেলো আজ অবধি যা তান্ডব করেছে সেগুলো ‘প্রতিরোধ’ এর নামে নেট প্র্যাকটিস। ইজরায়েলের অস্ত্র কারখানায়, মানে আদানির অস্ত্র কারখানায় মানে আমাদের দেশের শহরগুলোতে! আসলে যেভাবেই আপনি উল্লেখ করুন, জাইগা তো আসলে একটাই- Adani Defence। এটা লেখার জন্য আমাকে কি দেশদ্রোহী ঘোষণা করতে পারে অমিত শাহ এর প্রশাসন?

মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী যে অক্ষটা ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে ইরান যুদ্ধের অজুহাতে, তারা যে কোনো মুল্যে মোদীর রাজনৈতিক নিধন চায়। বিগত ৬ বছর ধরে BRICS এর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা তো আছেই, মূল সমস্যা আরো গভীরে। ইরানের মুখোশ পরে এই যুদ্ধে চিন ও রাশিয়া যে পিছন থেকে কলকাঠি নাড়ছে তা কুনাল ঘোষের মত ইডিয়ট থার্ডক্লাস মুর্খটাও জানে। চিন আমাদের ঘোষিত শত্রু হলেও রাশিয়া ও ইরান পরম মিত্র হিসাবে গত ৫ দশকের সুসম্পর্ক, আমাদের বিশ্বপ্রভু দায়িত্ব নিয়ে এপস্টিন গ্যাং এর সাথে আতালান্তিকের জলে ডুবিয়ে এসেছে। 

রাশিয়ার সঙ্গে আমাদের সুসম্পর্ক স্বাধীনতার সেই জন্ম লগ্ন থেকে। আলাদা করে ১৯৭১ সালে Indo-Soviet Treaty of Peace, Friendship and Cooperation সই পর্যন্ত হয়েছিল। আজও  ভারতের প্রতিরক্ষা অস্ত্রের বড় অংশ রাশিয়ান, যেকোনো চিন পাকিস্তান যুদ্ধই তার প্রমাণ। আলাদা করে পারমাণবিক শক্তি, মহাকাশ গবেষণা সহযোগিতা, জ্বালানি, শিল্প ও কৃষি বিপ্লবের প্রত্যেকটি ধাপের উন্নতি, রাশিয়া তথা সোভিয়েত ইউনিয়নের হাত ধরেই। আজকে আমাদের অস্ত্র ভাণ্ডারের কোহিনুর ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র, যেটার বলে আমেরিকাও আমাদের সম্ভ্রমের চোখে দেখে, সেটাও রাশিয়ার সহযোগিতায় বানানো। আমাদের ব্রহ্মপুত্র আর রাশিয়ার মস্কোভা নদীর আদ্যংশ জুড়ে তাই এমন নাম।

ইরানের সাথে আমাদের প্রায় ২৫০০ বছরেরও বেশি পৌরাণিক সাংস্কৃতিক সম্পর্ক, বেদ-জেন্দা আবেস্তা কালের চেয়েও পুরাতন। প্রাচীন পারস্য সাম্রাজ্যের সময় থেকেই ভারত ইরানের মধ্যে বাণিজ্য ও সাংস্কৃতিক লেনদেনে নাড়ির যোগাযোগ। স্বাধীনতার পর দেশভাগের কারণে ইরানের সাথে সরাসরি সীমান্ত হারালেও, বন্ধুত্বের স্মারক হিসেবে তাদের দেশের গুরুত্বপূর্ণ চাবাহার বন্দরে বিনিয়োগ এর সুযোগ করে দেয়। এর মাধ্যমে পাকিস্তানের মাটিতে তৈরি চিনের গদর বন্দরকে টক্কর দেওয়াতে, ভারতের দিকে সম্পূর্ণ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলো ইরান। এতে করে আফগানিস্তান সহ পুরো মধ্য এশিয়ার বাণিজ্যের দরজার খুলে গিয়েছিল ভারতের ব্যবসায়ীদের জন্য। কিন্তু ওই, চোর আদানি। আদানিকে ইজরায়েল ট্র‍্যাপ করল, তার দেশের অস্ত্র বানানোর জন্য। অমনি দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে আমরা সমস্ত ঐতিহ্য, কূটনীতি, বিদেশনীতি ভুলে ইজরায়েলকে ‘ফাদারল্যান্ড; বানিয়ে ফেললাম। উগ্র হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির ময়দানে সিগন্যাল পাঠিয়ে দিল, ইরান মোল্লাদের দেশ বলে হিন্দু হৃদয় সম্রাটের এই ইজরায়েলি মাস্টারস্ট্রোক। ফলাফল? তেল-গ্যাস কিনতে গিয়ে ‘হিন্দু খতরেমে’। দেশের মূল সমস্যা আদানি, ওরফে তার পোষ্য চাকরটা।

তেল আভিবের বাতাসে পোড়া লাশের চেয়েও যে খবরটা সবচেয়ে বেশী দুর্গন্ধময় আতঙ্ক ছড়াচ্ছে তা হলো- নেতানুনু অদৌ বেঁচে আছে তো! ওদিকে শ্যাম চাচার দেশে, উন্মাদ ট্রাম্পকে হয়ত CIA ই খালাস করে দিয়ে যুদ্ধের উপসংহার টানবে, স্থায়ী ভাবে মধ্যপ্রাচ্য থেকে পাততাড়ি গুটিয়ে। তাহলে হাতে পেন্সিল ছাড়া আর কি রইলো? একমাত্র আদানি। আদানি সংহার হবেই, যতই তার নিজের কেনা মিডিয়া আর গুজরাত কার্টেলের পে-রোলে থাকা প্রতিটা ধামাধরা চাটুকার মোসায়েবের, বিশ্বগুরুকে গ্লোরিফাই করে পরিস্থিতি ও প্রশ্নকে ধামাচাপা দেওয়া চেষ্টা করুকনা কেন, এ যাত্রায় সম্ভবত রক্ষে নেই আদানি শেঠের, স্বর্গীয় absolute miracle ছাড়া। বারে বারে ঘুঘু তুমি খেয়ে যাও ধান, এবার ঘুঘু তোমার বধিব পরান।

আদানি ভোগে গেলে বিশ্বগুরুর অস্তিত্বের প্রয়োজনটা কোথায় রাষ্ট্রের কাছে? আক্ষরিক অর্থেই তো তিনি মুর্খ ভাঁড়, বেতনভুক ভৃত্য মাত্র। মালিক যখন চিতায় উঠবে তার পোষ্যকেও সহমরণে যেতে হবে, বাকিরা বলোহরি হরিবোল বলে প্রভুর সাথে সতী বানিয়ে ছবি করে দেবে। আদানির বড় ভাই বিনোদ, এই মালটা সাইপ্রাস দ্বীপের নাগরিক হলেও, বাস করে দুবাই-এ। আমাদের দেশের যাবতীয় চুরচামারির মাল নিয়ে মার্কিন ও ব্রিটিশ সেনা ঘাঁটির কাছাকাছি একটা দূর্গ মত বাড়িতে গচ্ছিত রাখা আছে সাইপ্রাসে। এই কচ্ছপটাকে খ্যাপলা জাল দিয়ে টেনে নিয়ে এসে চাবাহারের মাছ বাজারে আঁশ ছাড়ানো, হলেই প্রভু আদানি প্রাণপাখি ছটপট করা শুরু করবে। এদিকে আম্বানি মোটাভাই আমাদের থেকে চুষে নেওয়া হারামের সম্পদ আমেরিকাতে সাইফন করতে মরিয়া, রাশিয়া-চিন-ইরান অক্ষ ওনাকে আমেরিকায় যেতে দেবে বামাল সহ? আর গেলে জামনগরের অয়েল রিফাইনারি বেঁচে থাকবে বলে আপনি বিশ্বাস করেন?

আমাদের MEA মুখপাত্র সাংবাদিক সম্মেলনে জানিয়েছেন- আফ্রিকার নাম না জানা দেশগুলো হরমুজ দিয়ে তেল গ্যাস নিয়ে চলে যাচ্ছে, আমারা যাদের রোজ হ্যাটা করি সেই বাংলাদেশও হরমুজ কূটনীতিতে সফল, সেখানে আমরা মিডিয়া প্রোপাগান্ডা দিয়ে জাহাজ ভরছি তেল গ্যাসের বদলে। আদানির পোষা লেজ বিশিষ্ট কেউ নয়, কোনো একজন ‘ভারতের’ প্রধানমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দিক- দেশের স্বার্থে হওয়া বিদেশনীতির পক্ষে, ভারতের প্রত্যেকটা রাজনৈতিক দল বিনা বাধায় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়ে সর্বদলীয় প্রস্তাব পাশ করিয়ে দেবে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে। তখন ওই ইরান, ওই রাশিয়া, ওই চিনা জাহাজ আমাদের  ১৩টা আন্তর্জাতিক সমুদ্র বন্দরে লাইন দিয়ে তেল গ্যাস পৌঁছে দিয়ে যাবে নিজেদের খরচায়। 

২০২৫ এর ফেব্রুয়ারি থেকে ট্রাম্প কাড়া নাগাড়া বাজিয়ে ‘ট্যারিফ’ ওয়্যার শুরু করেছিল, বাবু তার ইচ্ছামতো যাকে খুশি যেমন খুশি ট্যারিফ লাগাচ্ছিলেন, যাকে খুশি স্যাংশন এর সাজা ঘোষণা করে দারুণ একটা খেলা খেলছিল। সেই প্রতিটা ট্যারিফ-স্যাংশনকে আস্তাকুড়ে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছে ইরান, ২০২৫ জুড়ে ট্রাম্পের পুরো ‘ট্যারিফ’ মেহনত জাগ্রোস পাহাড়ির খাদে কবর দিয়ে দিয়েছে। ট্যারিফ যুদ্ধে চিনের সাথে মুখ থুবড়ে পরলেও রাশিয়ার উপরে হাজারটা নিষেধাজ্ঞা দিয়ে সে যুদ্ধে প্রায় একতরফা জিতে গিয়েছিল আমেরিকা। আমাদের বিশ্বগুরুকে মাদারির বাঁদরের মতো লাঠির ডগায় নাচিয়ে একতরফা শর্তে যখন যেমন খুশি, তেমন বোঝা চাপিয়ে দিয়েছে, আর আমাদের লালুভুলু কোম্পানি মেনেও নিয়েছে টুঁ শব্দটি না করে। প্যান্টের উপরে লাল জাঙিয়া পরলেই সুপার হিরো হওয়া যায় না, চাড্ডি তো নাগপুরের গোয়ালের রাখালগুলোও পরে। একটা ভিসন লাগে, যা দিয়ে মিশন কমপ্লিট করতে হয়। RSS এর মুচলেকা আর জুতো চাঁটা আদর্শ দিয়ে হিরো হওয়া যায় না, সারেন্ডার করাই যায়।

গত কালও লিখেছিলাম, আমাদের দেশের মূল সমস্যা হচ্ছে বিশ্বগুরু। বাজপেয়ীও বিজেপি তথা RSS ছিলেন, কিন্তু বিশ্বগুরুর মতো এমন প্রকাশ্য নির্লজ্জ মিথ্যাবাদী ছিলেননা, এমন দেশদ্রোহীর মতো কর্পোরেটের গোলামি করেননি। বাজপেয়ী ‘উনিজির’ মতো নিরেট মুর্খও ছিলেন না, নাহলে কংগ্রেস ওনাকে বিরোধীদলের নেতা হিসেবে রাষ্ট্রসঙ্ঘে দেশের প্রতিনিধি করে পাঠাতো না। নেতা, চাকরবাকর আর দালালের মাঝে ঠিক যতটা ফারাক, বিশ্বগুরুর সাথে তার পূর্বসূরিদের পার্থক্য ঠিক ততটাই। বাজপেয়ি দেশের বিদেশনীতি ঘেঁটে দেওয়ার চেষ্টা করেননি, সংসদে দাঁড়িয়ে ঘোষণা করেছিলেন- “সাম্রাজ্যবাদী ইসরাইল, ফিলিস্তিনের মাটি থেকে সরে যাও। ভারতবর্ষ অখন্ড ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বের পাশে ছিল আছে থাকবে”। 

এখন আমেরিকার এমন শোল পোড়া অবস্থায়, তার যারা চাটুকার ফ্যান বয়, যেমন আমাদের বিশ্বগুরু- ওনাদের কাঠে কপাটে অবস্থা, না বইতে পারছেন- না সইতে পারছেন; প্রাণ খুলে কাঁদার উপায়ও নেই। মন্ডপের মুর্তি যখন বানানো হয়, কাঠামো খড় মাটি লেপে পুঁছে রঙ চড়িয়ে কাপর ফুল মালা দিয়ে অনেক কটা দিন ধরে সাজানো হয়, অনেকগুলো মানুষের মেহনতে; বিসর্জন কিন্তু টুক করে সবটা একসাথে হয়। আমাদের বিশ্বগুরু গেলে তার সাথে তার সাথে থাকা ভক্তের দল, তার পিছনে মিছিল করে চলা গুজরাত কার্টেল, তার অনুগত মিডিয়া বাহিনী, তার রাষ্ট্রযন্ত্র, অতীত বর্তমান সব কিছু নিয়েই উনি অস্ত যাবেন। কেউ কেউ সোলার টোপরের মত হয়তবা ভেসে গিয়ে বেঁচে যাবে। ঠাকুর বিসর্জনের সময় ঢোল কাঁসা নিয়ে তারাই উল্লাস করে কোলাকুলি করে, যারা এতোদিন এই মুর্তিটারই আরাধনা করেছে। সুতরাং, কাঁসি ঢোল নিয়ে RSS ই যে বিসর্জনের ভাসান ড্যান্স করবে, সেটা বলাই বাহুল্য।      

ইরানের পুরাতন নের্তৃত্বের প্রায় সকলকেই খালাস করে দিয়েছে এপস্টিন গ্যাং, নতুন নের্তৃত্ব হিসাবে যারা এসেছে, তাদের নুন্যতম ঘনিষ্টতা নেই বর্তমান ভারতীয় প্রায় সকল নের্তৃত্বের সাথে, ফলত সম্পর্কের লেগাসিও নেই। এই কারনেই প্রথমে লেজারশঙ্কর ও পরে বিশ্বগুরু নিজে ফোন করে মৌখিক মুচলেকা দিলেও, কাজের কাজ হয়নি। চিনা নের্তৃত্ব আমাদের বিশ্বপ্রভুকে কখনও গুনতিতেই ধরেনি মানুষ হিসাবে। ওদিকে শোনা যাচ্ছে রাশিয়ান প্রথম সারির কূটনীতিবিদেরা ফোনের ওপার থেকে বিশ্বগুরুর সাথে কথাই বলতে চায়নি শেষ ২ সপ্তাহ ধরে, গ্রুপ-সি টাইপ চাপরাশি লেভেলের রাশিয়ান কর্তারাও বিশ্বগুরুর মা মাসিকে ‘সম্মান’ করে সম্বোধন করেছে বলে জোর খবর। এই অবস্থায় মস্কোতে গিয়ে মুজরো করলে কোনো কাজে দেবেনা, তেহরানে গিয়ে যে কান ধরে উঠবোস করবে বা নাকে খৎ দেওয়ার রিল বানাবে ‘বিরাট শিক্ষিত’ মন্ত্রী বৈষ্ণবকে দিয়ে, সে সম্ভাবনারও গোঁড়া কেটে দিয়েছে ইরানের প্রধানমন্ত্রী, গতকালের মাত্র ৯০ সেকেন্ডের ফোনালাপে।

দেশে সারের সঙ্কট শুরু হবার মুখে, কৃষক মার খাবে, খাদ্য শস্যে টান পরবে। পেট্রোকেমিক্যাল শিল্প, কাচ ও সিরামিক শিল্প, স্টিল ও ছোট ম্যানুফ্যাকচারিং ইউনিট বন্ধ হয়ে যাবে। মিডডে মিল থেকে উৎসব অনুষ্ঠান, হোটেল রেস্টুরেন্ট ও পর্যটন শিল্প ধ্বসে যাচ্ছে রান্নার গ্যাসের অভাবে। অনেকে বলছে রেস্টুরেন্ট বাবু বিবিদের খাবারের জাইগা, আজ্ঞে না, ওখানে যারা কাজ করে তারা অধিকাংশই শ্রমিক ও দিনমজুর, আর দেশে এদের সংখ্যাটা প্রায় ২৮ কোটি মানুষের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ রুটিরুজির প্রশ্ন। এক অদ্ভুত গণসঙ্কটের দিকে চলেছি আমরা।

বিশ্বগুরুর ফাঁপা বেলুনে কতক্ষণ আর হাওয়ার ভেসে থাকবে! বিশ্বগুরুকে রোজ সকালে বিকালে নিয়ম করে কান মুলে দেন যিনি, সেই ট্রাম্প ও তার প্রশাসন নিজেরাই ল্যাজেগোবরে, এখন সাহেবকে কে সেল্টার দেবে? মুচলেকা যাদের জিনে রয়েছে, সারেন্ডার তাদের চরিত্রের সৌন্দর্য। এখন কি দলবদল করে রাশিয়া ইরানের পায়ে ধরে বিশ্বপ্রভুকে দিয়ে সারেন্ডার করালে, আদানি প্রভুর মুক্তি মিলবে? আমেরিকা আরেকটা কাজ করতেই পারে, তারা শাহ এর পুত্র, ওই বেঢপ নাকের ভাঁড়টাকে আয়াতেল্লা রেজিমের বিপক্ষে প্রোজেক্ট না করে, আমাদের দেশের শাহ টাকে ওখানে নিয়ে ছেড়ে দিলে তো পারে। ‘টাকলা শাহ জুমলাবাদী’ গাঁজা কেস, রেপ কেস, আর্মস কেস, UAPA দিয়ে কিছু জনকে ভরে দিয়ে, বাকি সবাইকে কিনে নিয়ে মার্কিন পন্থী সরকার বানিয়ে দেবেন। নেহাত সেটাও না হলে, ইরানের নাম চেঞ্জ করে হরমুজে বুলডোজার নামিয়ে দেওয়া শিল্পীও তো আমাদের দেশেই ছিলো। শুধু বিশ্বগুরুর একার দিকে নজর দিতে গিয়ে হোয়াইট হাউজ এই দুটো নমুনা, সরি প্রতিভাকে মর্যাদাই দিতে পারলোনা।

স্বস্তিক বাহিনী স্ট্যালিনগ্রাদে কবরস্থ হয়েছিলো, তার সাথে জাপান, ইতালি সহ হাঙ্গেরি, রোমানিয়া , বুলগেরিয়া, ফিনল্যান্ড, থাইল্যান্ড কেউ রক্ষা পায়নি। হরমুজ নামের আজকের স্ট্যালিনগ্রাদে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ রূপী ‘ভেরমাখট’ বাহিনী একা ডুববেনা, মাই ফ্রেন্ড দোলান্ড মঞ্চে কিম্বা Godhra Meets Gaza সামিটে কোলাকুলি করে ফাদারল্যান্ড আবিষ্কার করা- বিশ্বগুরুর মত মোসায়েব খোঁচর গুলোকে সাথে নিয়েই ডুববে। নিউটনের সুত্র বলে, পতনশীল বস্তুর প্রাপ্ত বেগ সময়ের সাথে সমানুপাতিক। সুদান ইতিমধ্যেই আমিরাতের দখলদার বাহিনীকে খেদা করে দেশ উদ্ধার করা শুরু করেছে, আমাদের দেশেও আদানি আম্বানির খপ্পর থেকে দেশজ সম্পদ ফিরিয়ে আনতে হবে।  ইরানে যদি আয়াতেল্লার হেজিমনি থাকে, আমাদের দেশে সঙ্ঘের হেজিমনি চলছে কর্পোরেটদের সাথে পার্টনারসিপ করে, শেষ দুই দশক ধরে। যারা ইরানের রেজিম চেঞ্জের পক্ষে গলার শিরা ফোলাচ্ছে, সেই তারাই আবার মনুবাদী সঙ্ঘের রেজিমের পক্ষে। এটার নামই হিপোক্রেসি, এই ফাঁদেই আমরা ১৪০ কোটি ভারতীয় আঁটকা পরে বিশ্ব রাজনীতির মঞ্চে জিম্মি হয়ে গেছি।

ভারতের একটা ‘ভারতীয়’ প্রধানমন্ত্রী দরকার, যে চাটুকার ভাঁড় সেজে কোনো কর্পোরেটের দালালি করবেনা, দেশের মানুষের কথা বলবে। সরকারী টাকায় ১১৩ বার বিদেশে প্রমোদ ভ্রমণে গিয়ে, নির্লজ্জের হাসি হেসে ছোটলোকের মত জড়িয়ে ধরবেনা। ইজরায়েলি পতাকার সামনে মাথা নোয়াবেনা। ঐতিহ্য ও পরম্পরাকে সম্মান করে, দেশের মানুষের জন্য পদক্ষেপ নেবে জাতি ধর্মের উর্ধ্বে উঠে।

পরিস্থিকে যথাসাধ্য ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করলাম। অনেকটা এডভান্স লিখে ফেলছি বলে অনেকেরই হজম হবেনা আমার আজকের কথা গুলো, ভক্তরা যারা বিশ্বগুরুর ছবিতে ঈশ্বর প্রতিষ্ঠা করে ফেলেছেন, তারা বাদেও অনেক নিরপেক্ষ সুশীলেরও পরিপাক হবেনা। তাই শুরুর প্রশ্নে ফিরে যায়, ইরান যদি না হারে, আদানির বিরুদ্ধে আক্রমনাত্বক হামলা আসবেই। তখন লক্ষবার ধ্যানে বসলেও ক্ষমতার গনেশ উল্টাবেই। এমতাবস্থায়, বিশ্বগুরুর স্থলাভিষিক্ত কে হবে? নতুন আনকোরা কাউকে ঝুলি থেকে বের করবে নাকি পুরাতন কোনো ভাঁড়কে সিংহাসনে বসাবে RSS! 


আপনার কি মনে হয়?

বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬

নাড়ু 'চে' ব্যানার্জী জিন্দাবাদ



বর্ধমানের 'ভিঞ্চিদা' তৌসিফ প্রতিকুর হক যখন ঐ বারোভাতারি হোয়াটস্যাপ গ্রুপ গুলো খুলেছিলো SIR এ 'আন্ডার এডজুডিকেশনে' থাকা মানুষগুলোকে নিয়ে, সেখানে কোনো একটা অংশে তার লিখিত দাবী ছিলো- আমি আলিমুদ্দিনে কথা বলে নিয়েছি, চাপ নেই।

সেদিন ওই খোঁচরের কথার ব্যাপ্তিটা ধরতে না পারলেও, আজকে অসুবিধা হচ্ছেনা, 'সম্প্রীতির সোনাগাছি' বানিয়ে আসলে কে বা কারা তৌসিফকে তথাকথিত অনুমতি দিয়েছিলো। প্রতিকুর একা পচেনি, গোটা দক্ষিণ ২৪ পরগনার পার্টি স্ট্রাকচারটার রন্ধ্রে রন্ধ্রে পচন ছড়িয়েছে। প্রতিকুর সেই পচনের পুঁজ অংশটা যে ফিনকি দিয়ে বেরিয়ে এসেছে। প্রতিকুর সামান্য অংশ মাত্র, আসল পচাগলা অংশটা শরীরের ভিতরেই রয়ে আছে।

নাড়ু ডাক্তারকে কি বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান এমিরেটাস বানানো যায়না আসক্ত নবতিপর বিমান বসুকে বিশ্রাম দিয়ে? বিজেপির ভাবধারায় তৃণমূলের আদর্শে দীক্ষিত মানুষজনের দাবী মত CPIM এর নতুন যে রূপ যুগের সাথে তাল মিলিয়ে, তার শীর্ষে নাড়ুবাবুর চেয়ে যোগ্য আর কেউ আছে কি? আলিমুদ্দিন নামটাও বড্ড সেকেলে, মোল্লা ছাপ; নারায়ন ব্যানার্জী ভবন হলে এই ভাবের ঘরে চুরির ল্যাটা চুকে যায়।

SIR নিয়ে ভাইপো ও তোলামূলের যা দাবী, ভাইপোর আগের দফায় ভাইপোর ডায়মন্ড কেন্দ্রের বিদায়ী সাংসদ তথা গণশক্তির সম্পাদকের যে 'SIR এ মৃত্যু মিছিল' গল্পটা কী পার্টির বক্তব্য নাকি গণশক্তির নাকি ব্যক্তির নিজের? কারন পার্টি সম্পাদক সহ বাকি নেতৃত্ব তো এই লাইনে যায়নি। ভাইপোর ফ্লপ হওয়া রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডাকে এনারা, এই দক্ষিণ ২৪ পরগণা নের্তৃত্ব কবর থেকে খুঁচিয়ে তুলে আনছেন, কী মনোরম এই দৃশ্য। মিলে সুর মেরা তুমহারা, যেন ৯০ এর দশকের ডিডি ন্যাশেনাল। লালকে গেরুয়া, সবুজ ও নীলে মিশিয়ে দেওয়া- রাজ্য রাজনীতির পলিটিক্যাল ইন্ট্রিগ্রিটি তথা সমন্বয়ের একটা মুখ খুঁজতে হলে সেটা নাড়ু ব্যানার্জীর চেয়ে আদর্শ কেউ হতে পারেনা। ভাইপোর পে-রোলের রেঞ্জ নিয়ে সিরিয়াসলি ভাবনা চিন্তা করতে হবে জনগণকে।

'চে' ডাক্তার ছিলেন, অনেকেই তার ট্যাটু বানান নিজ শরীরে। নারায়ণ ব্যানার্জী বাবু, আপনিও তো ডাক্তার, বিপ্লবীও বটে। একইসাথে প্রতিটা রাজনৈতিক দলে অবাধ গেরিলা যাতায়াত আপনার। পরেরবার যে যে আলিমুদ্দিনের নেতৃবৃন্ধ আপনার সাথে দেখা করতে আসবে, প্লিজ তাদের কপালে ও পাছায় আপনার চাঁদ বদনের একটা ট্যাটু করে দেবেন। হ্যাঁ পাছাতেও, যাতে যৌণ মিলনের সময়েও সংশ্লিষ্ট নের্তৃত্বের সঙ্গী/সঙ্গীনী আপনার ট্যাট্যুকৃত ছবি দেখে উত্তেজনায় 'বুর্জোয়া' জল খসাতে পারে। নতুবা রাজ্যে ততক্ষণ বামেরা সংখ্যাতে ফিরবেনা, যতক্ষণনা 'চে' এর পোজে আপনার থোবরাঙ্কিত ট্যাটুতে বৈপ্লবিক বীর্যপাতে শাহী স্নান করাচ্ছে। 

আমি আপনার সাথে একমত, একশ্রেনীর উদার বাম নেতা আজ আর 'বস্তাপচা' মার্ক্সবাদে নয়, আপনার দেওয়া আধুনিক 'নাড়ুবাদে' বিশ্বাসী হয়ে উঠেছেন। তাদের জন্য আপনি ম্যানিফেস্টো রোজই লিখছেন ফেসবুকে, এবার ভোটের আগে সেটাই বই আকারে প্রকাশ করুন প্লিজ, আপনার অনুগামী বামেদের বক্তিতাতে সুবিধা হবে।

- ইতি

আপনার একান্ত ভক্ত, রাষ্ট্রের হাতে জিম্মি থাকা ৬০ লাখের একজন চুড়ান্ত প্রতিক্রিয়াশীল হার্মাদ







ফেসবুকীয় সিপিএমঃ ফিউজড আইনগাইডেড কামিকাজে ড্রোন

  ফেসবুকের ‘সিপিএম’ নামক এই চুড়ান্ত আঁতেল ও প্রায় সর্বজ্ঞ গোষ্ঠীটার পূর্ণ বোধোদয় বা পূর্ণ বিনাশ না ঘটা অবধি রাজ্যের বাম নেতৃত্বের খুব বেশী ...