অন্বেষণ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
অন্বেষণ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

অঙ্কঃ ২০২৬ ভোটের আগেই তৃনমূল ফিনিশ

 

মমতা ব্যানার্জীর রাজনৈতিক কেরিয়ার শেষ, ভোটের আগেই তৃণমূলও ফিনিস। অঙ্ক সেটাই বলছে। মিলিয়ে নিন নাহয়-

মুখ্যমন্ত্রী মোটামুটি নিশ্চিত ১কোটি ২০ লাখ নাম কাটা যাচ্ছেই। কিছু ভুলভ্রান্তি বাদে, ধরে নেওয়া যায় ১ কোটি ১০ বা ৫ লাখ অবৈধ ও ভুয়ো ভোটার। নিদেন পক্ষে ১ কোটি নাম বাদ যাওয়া কেউ রুখতে পারবেনা।

রাজ্যে ২০২৪ সালের ভোটার লিষ্টে ৭ কোটি ৬০ লাখ ভোটার ছিলো। যার মধ্যে পোল হয়েছিলো ৬ কোটি ৫ লাখ মত ভোট। উপরোক্ত ওই সম্ভাব্য বাদ যাওয়া ১ কোটির আশেপাশে ভুতুরে ভোটারের প্রায় সমস্ত ভোটটাই পোল হয়েছিলো, যার ৮০% তৃণমূলের বাক্সেই গিয়েছিলো, এটা বলার জন্য কোনো বিশেষজ্ঞ হতে হয়না। 

পোলিং ভোটের ৬ কোটির নিরিখে ওই ১ কোটি মানে ১৬.৬৬% ভোট নেই হয়েছে। যার মধ্যে ১৪% এরও বেশী ভোট ভুতুরে ভোট তৃণমূলের ছিলো, যেটা গায়েব হতে, ২০২৪ এর ভোটে প্রাপ্ত তৃণমূলের ৪৩.৬৯% ভোট শেয়ার কমে দাঁড়াবে- ২৯.৬৯% তে। 

২০২৬ এর নিরিখে রাজ্যে মুসলমান ভোট দাঁড়াবে কমবেশী ৩০%, যার মধ্যে বাম+কংগ্রেস ও অন্যান্য ছোট দল মিলে ৫% পায়। বাকি ২৫% এর গোটাটা তৃণমূল পেয়ে এসেছে গত ১৪ বছর ধরে প্রতিটা নির্বাচনে। এখন এই মুসলমান ভোটের মাত্র অর্ধেক, হ্যাঁ- যদি অর্ধেকও যদি তৃণমূলের মুখে ঝাঁটার বারি মারে, তৃণমূলের ২৯.৬৯% ভোট কমে ১৭%তে মুখ থুবড়ে পরবে। ৫০টা আসনে জিতলেই তৃণমূল বর্তে যাবে। এর পর চুরি দুর্নীতির কারনে কিছু বাদ গেলে তো আরো শেষ। 

পিসি ভাইপো গায়ক নায়ক ধমকে চমকে টাকা ছড়িয়ে,  জাপানি তেল রকেট ক্যাপসুল ভায়াগ্রা সর্বিট্রেট RSS কোনো ওষুধই তৃণমূলের শ্মশানযাত্রা আঁটকাতে পারবেনা নিশ্চিত। দুর্নীতিগ্রস্থ BDO/SDO আর থানার অসাধু দলদাস OC/IC এর দলও যদি তৃণমূলের হয়ে প্রকাশ্যে রাস্তায় নেমে পরে উলঙ্গ হয়ে- তারাও জনরোষের শিকার হবে, তাদেরও পরিবার পরিজন আছে। হারামের টাকায় ফুর্তিমারা কোনো চোর বাটপার এবারে পাড় পাবেনা।

সুতরাং, আতঙ্কিত মমতা ও i-Pac সমানে SIR এর মুসলমানকে বাদ দিচ্ছে এমন গল্প ফেঁদে মুসলমান সমাজকে অশান্ত করে রাজ্যে অরাজকতা সৃষ্টি করতে চাইছে। মুসলমান সম্প্রদায়কে ভয় দেখিয়ে উস্কিয়ে রাজ্যে দাঙ্গা পরিস্থিতি তৈরি করতে চাইছে। আসল সমস্যার লক্ষ গুন মিথ্যা প্রচার। যেমন SIR এর লাইনে লোকে অসুস্থ হবার গল্প ছড়াচ্ছিলো, অথচ বেকার ভাতার লাইনে সবাই ফুর্তিতে রয়েছে। আতঙ্কিত মুসলমান নয়, আতঙ্কিত তৃণমূল। মুসলমানের নাম বাদ কতটা যাবেনা জানিনা, কিন্তু তৃণমূলের নাম নিশান মুছে যাবে রাজ্যের বুক থেকে- এটার দেওয়াল লিখন পড়া যাচ্ছে।

যতটা আতঙ্কিত হবার কথা, তার লক্ষ গুণ আতঙ্ক তৃণমূল নিজে ছড়াচ্ছে তাদের পোষ্য মিডিয়া আনন্দবাজার, সংবাদ প্রতিদিন, TV9 বাংলা, আজকাল আর বর্তমান মিলে। সাথে ফেসবুক আর ইউটিউবের ভাতাজীবি কিছু স্বঘোষিত মিডিয়া আর বিশ্বমাচাদো সাংবাদিক কুল। তোলামূলের হারামের টাকায় পুষ্ট এরা আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য জান কবুল লড়াই করছে যাতে তাদের রোজগার বেঁচে থাকে।

মমতা ব্যানার্জীও সর্বশক্তি দিয়ে চেষ্টায় আছে, যেন তেন প্রকারে ২০২৪ এর ভুতুরে ভোটারলিস্ট ধরে ভোট করাতে। SIR নিতে তার মূল আপত্তি ভুতুরে ভোটার বাদ দেওয়া যাবেনা। মমতা ব্যানার্জী নিজেও ভোটে না দাঁড়িয়ে পালাতে চাইছে- এতে তাদের ভয় ও আতঙ্ক স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আগামীতে যা খুশি হোক- মমতা ব্যানার্জীর রাজনৈতিক কেরিয়ার দৃশ্যত ফিনিস।

সুতরাং, কোমর বেঁধে রাস্তায় নেমে পরুন। আমীতে রাজ্যের ক্ষমতায় কে আসবে তার চিত্র আজও পরিষ্কার নয়, কিন্তু এটা নিশ্চিত যে- ২০২৬শে কোনো অঙ্কে তোলামূল আর ফিরছেনা- এটার চেয়ে সত্যি এই মুহুর্তে আই কিচ্ছু নেই।

CPIM এর জন্যও এ এক চুড়ান্ত সুযোগ, মিডিয়াকে ভৌ ভৌ করতে দিন, কুত্তা ভৌভৌ করবে, কষিয়ে ক্যাৎ করে একটা লাথ মারলে কেঁউকেঁউ করে লেজ গুটিয়ে পালাবে। শুধু মাটিতে দাঁত কামড়ে পড়ে থেকে ভোট গণনা অবধি জান লাগিয়ে দিতে হবে। 


জনগণের বিজয় অদুৱেই। 


সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

দাঙ্গা ALART

 

যেকোনো সময় রাজ্যে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগিয়ে দিতে পারে তৃণমূল বিজেপি ও তাদের বাপ RSS. সমস্ত ধরনের জাপানি তেল, রকেট ক্যাপসুল, ভায়াগ্রা, তন্ত্রমন্ত্র, ঝাড়ফুঁক ইত্যাদি কোনো কিছুতেই বিজেপি - তৃণমূল বাইনারি দাঁড়াচ্ছে না। তারা মরিয়া হয়ে উঠেছে সংবাদ শিরোনাম ফিরে পেতে।

রাজ্যের মুসলমান ১৫ বছর ধরে রোজ ঠকেছে মমতা ব্যানার্জীর কাছে। সাচার কমিটির রিপোর্ট দেখিয়ে ক্ষমতায় এসে, মুসলমানকে আরও খাদে ঠেলে দিয়েছে। মুসলমানের চাকরি হয়নি, তাদের OBC গেছে, ওয়াকফের সম্পত্তি খেয়ে নিয়েছে তৃণমূল সরকার, মুসলমান বাড়ির ছেলেরা পরিযায়ী হয়ে বালবাচ্চা পরিবার ছেড়ে ভিনরাজ্যে ধুঁকছে- তাই মুসলমান সমাজ এবারে তৃণমূলকে কুরবানি দিয়ে তবে কুরবানির ঈদ পালন করবে বলে একটা সিদ্ধান্তে এসে গেছে।

এদিকে মুসলমান ভোট না পেলে তোলামুলের হাতে হ্যারিকেন পিছনে বাঁশ। ভাইপো সহ গোটা মন্ত্রীসভা ও দলের হোমরাচোমরারা জেলের দেওয়ালে আঁকিবুঁকি কাটবে। স্বভাবতই দেবাংশু, কুণাল ঘোষ, পোষ্য ভাতাজীবি বুদ্ধিবিচি ভাঁড়ের দল, বিশ্বমাচাদো সাংবাদিক কুল, এবং স্বয়ং ভাইপো- চেষ্টার খামতি রাখেনি। কিন্তু কোনো অস্ত্রেই, মমতা ব্যানার্জী এই যাত্রায় বিজেপি জুজু দাঁড় করাতে পারেনি আজ অবধি। তাই বাধ্য হয়ে মোদীকে নামতে হয়েছে আসরে।

তৃণমূলের মুসলমান নেতাদের হাল দেখুন। জাভেদ খান গ্যারেজ, ববি হাকিম প্রতিষ্ঠিত চোর, ওয়াকফের সম্পত্তি চুরি করে রাজনীতি থেকেই পালিয়ে যেতে চাইছে। উত্তরের রব্বানি, হামিদুর, করিম চৌধুরী, আকতারুজ্জামান, খলিলুর, আবু তাহের, গিয়াসউদ্দিন মোল্লা, সহ অধিকাংশ মুসলমান MLA/MP লাগাতার চুরিচামারি করে এখন প্রায় চলৎশক্তিহীন লোলচর্ম বৃদ্ধ। সৌমিক হোসেনরা নেই, মৌসমের মত হাওয়া মোরগের দল আগেই দলবদল করে কংগ্রেসে ফিরেছে। সাবিনা ইয়াসমিন ধুঁকছে, পাবলিক জুতো ছুড়ছে। 

ডোমকলের জাফিকুল ইসলাম কয়েক'শ বিএড কলেজের মালিক ছিল, ইডি রেইড করতেই আতঙ্কে রক্তবমি করে পটল তুলেছে। কালীগঞ্জের নাসিরউদ্দিন আহমেদও মরে গেছে, তারপর সেই বোম কাণ্ডের পরে ওখানে তৃণমূল গোরস্থানে বসে আছে- মাটি দিয়ে জানাজা পড়া বাকি। নাকাশীপাড়ার কল্লোল খাঁ, পাঁচ'ছ বারের MLA, ভয়ংকর ভাবে অ্যান্টি এস্টাবলিশমেন্ট এর কবলে। একই কেস পাঁচলার গুলশন মল্লিকের।

বীরভূমে কাজল সেখ বা শাহনাওয়াজ পাড়ার কুত্তা, ফুটো মস্তান। একদা ফেমাস লাবপুরের মনিরুল কোথায় কেউ জানে না। সিদ্দিকুল্লাহ নিজের দলের কর্মীদের হাতেই সকাল বিকাল ক্যালানি খাচ্ছে। ভাই এর মৃত্যু বেচে নেতা হওয়া রুকবানুর চুরি ছাড়া আর কিছুই করেনি। ইউসুফ পাঠান- না খায় না গায়ে মাখে নিজেই জানেনা। আকবর আলি খন্দকার বা সুলতান আহমেদের বউ সহানুভূতির  বিধবা ভাতা কোটার প্রোডাক্ট। আফরিন আলির সত্যিকারের ধর্ম কেউ জানে না। পার্কস্ট্রিট ধর্ষণ কান্ডের আসামি কাদেরের বান্ধবী ন্যাংটা নুসরত কয়েকটা বিয়ে করে গ্যারেজ।

মমতার মুসলমান প্রেম দেখতে হলে অবিভক্ত মেদিনীপুরের দিকে তাকাতে হবে। এখানকার ৩৫ টা বিধানসভা কেন্দ্র মুসলমানদের কতটা গুরুত্ব দিয়েছে তা নিশ্চিত ভাবে বোঝা  যায়, যখন দুই মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম থেকে মুসলমানদের প্রতিনিধি হচ্ছে জুন মালিয়া আর দেব। বর্ধমানের মুসলমান প্রতিনিধি রাজ চক্রবর্তীর স্ত্রী মহানায়িকা শুভশ্রী। পাঁশকুড়ার পশ্চিমের ফিরোজা বিবির শহীদের রক্তের গল্প ফুরিয়ে গেছে। হুগলিতে ফুরফুরার লাল দাড়ি ত্বহা চাচাকে মাঝে মাঝে ঝাঁপি থেকে বের করে আগে ফোঁস করাত, নৌসাদের চোটে কাকা পীরের দম শেষ। আগে টিপু সুলতান মসজিদের ইমাম মমতার হয়ে ওয়াজ করতেন, তিনিও দেহ রেখেছেন।

সোনারপুর উত্তরের ফেরদৌসী বেগম 'মোমো কাণ্ডের' ২৫ টা লাশ লুকাতে ব্যস্ত, নিজে টিকিট পাবে কিনা তাই সন্দেহ। ওদিকে আমডাঙার রফিকুর যদি টিকিট না পায়, একদা বাম তথা অধুনা তোলামুলের সম্পদ আব্দুল সাত্তারের পেছনে হুঁড়কো গুঁজে দেবে, অতএব সাত্তার আউট।

কলকাতা সংলগ্ন ২৪ পরগনার ইদ্রিশ আলি, হাজি নুরুল, ইকবাল আহমেদ, এমন অনেকে কবরে শুয়ে কাটমানি খাচ্ছে। থাকার মধ্যে রয়েছে শওকত, কাইজার, আরাবুল, জাহাঙ্গির আর শাহজাহান - এই হচ্ছে মমতার আসল মুসলমান মুখ। সবকটা গন্ডমুর্খ, সবকটা প্রতিষ্ঠিত চোর, সবকটা দুষ্কৃতি সমাজবিরোধী হিসাবে 'বাংলার গর্ব'।  এরাই হচ্ছে মমতার পাঁচে পঞ্চবান।

সবেধন নীলমনি ছিল বেলডাঙার হুমায়ূন, সে তো এখন মোঘল সুলতান। ডেবরার পুলিশ অফিসার হুমায়ূন কবীর যেকোনো দিন মোঘলাই হুমায়ূনের টিমে চলে যাবে। বীরভূমের হাল আরো খারাপ, হাসান, নলহাটি, মুরারই তিনটে কেন্দ্রে প্রায় ৫৫% এর উপরে মুসলমান- মুসলমান জনপ্রতিনিধি নেই।

এরা মুসলমানকে উচ্ছিষ্টভোগী চোর আর লেঠেল বানিয়ে রেখেছে। 

তাহলে তোলামূলের ভোট বৈতরণী কাকে দিয়ে পার করাবে ২০২৬ এর নির্বাচনে? পাতি-কুরে এমনি এমনি লগ্নি করতে করতে হয়নি i-pac কে। তার পরেও মুসলমান ভোটকে ভয় দেখাতে পারছে না মমতা ব্যানার্জী, বিজেপি, RSS ও তাদের খোঁচর সংগঠনগুলো। এটা ভয়ানক সিঁদুরে মেঘ ওদের জন্য, অতএব সাধু সাবধান।

সবজি বাজার আগুন, মুদি, গ্যাস, ওষুধপত্র কিনতে গিয়ে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠে যাচ্ছে। কেউ হিন্দু বলে কি অন্য হিন্দু দোকানদারটা দাম কম নিচ্ছে? সুতরাং বিজেপির জামানার এই দ্রবমূল্যবৃদ্ধি ও কর্মহীনতা- বিভ্রান্ত হিন্দু ভাইবোনেদের অনেকেরই ধর্মান্ধতার নেশা ছুটিয়ে দিয়েছে।

এই অবস্থায় হিন্দু ও মুসলমান - উভয়ের ভোটকে মেরুকরণ করতে গেলে ভীষণভাবে একটা দাঙ্গা প্রয়োজন। ভীষণ ভীষণ ভীষণ। তাই আপনারা আমরা শুভবুদ্ধি সম্পন্ন সকলেই যেন হুশিয়ার ও সতর্ক থাকি- তৃণমূল বিজেপির পাতা ফাঁদ থেকে। এরা পারে না হেন কোনো নিকৃষ্ট কাজ নেই। আর দাঙ্গা লাগানোতে RSS সার্টিফায়েড শয়তান। এদের সমস্ত চক্রান্ত আমাকে আপনাকেই ভেস্তে দিতেই হবে। দল হিসাবে CPIM, Indian National Congress, Nawsad Siddique প্রত্যেককে এই বিষয়ে বিশেষ সতর্কতা মূলক উদ্যোগ নিতে হবে।

মুসলমান সমাজ জানে আগামী ২৭শে মে কোরবানির ঈদ, ২০২৬ বিধানসভা ভোটের ফলাফলও এর আশেপাশেই বের হবে সম্ভবত। এই কোরবানি ঈদেই আমরা তৃণমূল সরকারকে জবাই করে দেব গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে, ইনশাল্লাহ।

রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

শৃঙ্খলা ও বামপন্থা

 


(১)

টিভি মিডিয়ার সান্ধ্য খেঁউড়ের আসর আর সোশ্যাল মিডিয়ায় সর্বজ্ঞানী আখড়া থেকে- ২০০৯ পরবর্তী জন্মানো নেতাদের সেন্সর করুন, দেখবেন রাজ্য CPIM পার্টি দু'দিনে দাঁড়িয়ে পড়েছে। মূর্খ সমর্থকের দল শূন্য পাবে এটাই স্বাভাবিক ঘটনা। প্রজা রাজা নির্বাচন করবে, এটাও গণতন্ত্রেরই নিয়ম। বস্তুত, বামপন্থা, বিপ্লব এগুলো গণতন্ত্রের তরোয়াল, আর তরোয়াল মূর্খ গাধার হাতে মানায় না। সমর্থককূল মেরুদন্ড ফেরত পেলে, দল হরিণের মতো ছুটবে, এর জন্য সবার আগে শৃঙ্খলা প্রয়োজন।

কমিউনিস্ট পার্টিগুলো সমগ্র বিশ্বজুড়ে দাঁড়িয়ে আছে শৃঙ্খলার উপরে। আমাদের পশ্চিমবঙ্গের CPIM সহ বাকি বাম দলগুলোর বর্তমান মূল সমস্যা দেখা দিয়েছে শৃঙ্খলাতে। ২০০৯ পরবর্তী যে সকল তরুণ মুখ এসেছে ভায়া SFI, সবচেয়ে বড় সমস্যা এদের মাঝে। টিভির বুম পেলেই এদের প্রায় সকলে মুখ দিয়ে হাগতে শুরু করে দেয়। আজকাল আবার সেজেগুজে পডকাস্ট নামের এক শ্যো-অফ সাক্ষাৎকার শুরু হয়েছে। ফুটেজের কী নিদারুন লোভ! ফেসবুক ইউটিউভ খুললেই সদ্য লোম গজানো নেতানেত্রীরাও এমন ‘পোস্ট ও বাইট’ দিচ্ছে, যেন আদর্শ নৈতিকতার প্রশ্নে চে, ফিদেল বা চমস্কিকে এনারাই শিক্ষিত করেছিলেন। অধিকাংশ কথাবার্তায় রাজনীতির দূরদূরান্তে কোনো সম্পর্ক নেই। দলেরও কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই এদের উপরে। 

ছাত্রাবস্থায় বামপন্থা আঁকড়ে ধরে বহু ছেলেমেয়ে মানুষ হয়; সমাজবাদ, সাম্য, বিপ্লব নামের শব্দগুলো তখন নেশার মতো বুড়বুড়ি কাটে চেতনা জুড়ে। একটা নির্দিষ্ট সময়ের পরে মানসিকভাবে এই ভাবনাগুলোকে, মানে বামপন্থাকে নিয়মিত অনুশীলন তথা লালন করতে হয়। যেটা ৯০% ছেলেমেয়ে পারে না, পারিবারিক, সামাজিক, পারিপার্শ্বিক রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা ইত্যাদি নানা কারণে। কিন্তু সদ্য যৌবনের শেখা বামধারার চেতনা, আর ফলিত বাস্তবের লোভ, লালসা ও ভোগের তীব্র আকাঙ্ক্ষা কামনা বা অভিলাষ- মন আর শরীরকে দুটো পৃথক দিকে চালনা করে। পুরনো শিক্ষাও ফেলনা নয়, তাই সেগুলো মাঝে মাঝে বেরিয়ে আসে কিম্বা বের করে আনে সুযোগ সুবিধা মতো। গরুর মতো চর্বিত চর্বন করে জাবর কাটে, যা বিজ্ঞাপিত করে বেচাকেনার বাজারে নিজের দর বাড়িয়ে নেয়। 

২০০৯ সাল থেকে এ রাজ্যে যারা SFI এর শীর্ষপদ দখল করেছে, সংগঠনটার সেক্রেটারি প্রেসিডেন্ট পদে থাকার সুবাদে অটোমেটিক রাজ্য কমিটিতে চলে গেছে ‘কোটা’র বলে। কৌস্তভ চ্যাটার্জি-সায়নদীপ মিত্র, দেবজ্যোতি দাস-মধুজা সেন রায়, সৃজন ভট্টাচার্য-প্রতিকুর রহমান অবধি সেই একই ধারা। এরা কোন বিশেষ যোগ্যতায় পার্টির রাজ্য কমিটি অবধি যেতে পেরেছে কেউ জানে না। শেষের দুজনের আমলের মতো জঘন্য পিরিয়ড SFI এর জীবনকালে বেনজির। একের পর এক কলেজে সংগঠনের ঝাঁপ বন্ধ হয়েছে, সৃজন গিটার বাজিয়েছে আর অমেরুদণ্ডী পরজীবী প্রতীকুর হাত্তালি দিয়েছে। এটা আজ বলছি না, সেই ২০২১ থেকে নিয়মিত বলে এসেছি, আমার টাইমলাইন ঘাঁটলেই পেয়ে যাবেন। কোন বিশেষ অউকাতে বা গুণের কারণে তারা প্রতিটা নির্বাচনে লড়ার টিকিট পেয়েছে- ফেলুদার ভাষায় ‘হাইলি সাসপিসাস’। ক্রমশ পাতালে প্রবেশ ছাড়া দল বা সমাজের প্রাপ্তি কী এদের থেকে? 

আমাদের মতো দুর্নীতিগ্রস্ত তৃতীয় বিশ্বের দেশের রাজনীতিতে ‘সহানুভূতি’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কোয়ালিফিকেশন; যে কারণে দলত্যাগ করে পালিয়ে যাবার আগে একটা সহানুভূতির জামা পরিধান করে, ঠিক কাউকে না কাউকে একটা ভিলেন বানিয়ে যাবে- এটাই প্যাটার্ণ। RSS-এর পরিসরে এটা খুব চেনা ছক- দলে থেকে কাজ করতে পারছি না বা আমাকে গলা টিপে ধরা হয়েছিল। তৃণমূল হোক বা বিজেপি, দিনের শেষে সেই তো RSS নামের গু, একটা কাঁচা আর একটা শুকনো। 

বর্তমান শীর্ষ নেতৃত্বের প্রায় সকলেরই কলেজ জীবন শেষ হওয়ার আগে পার্টি ক্ষমতায় চলে এসেছিল। রাতারাতি প্রশাসক হয়ে গিয়েছিলেন, সময়ের পরিভ্রমণে মধ্য পঞ্চাশ তথা ষাট ছোঁয়ার আগেই এনারা বিরোধী আসনে। ফলত রাস্তায় নেমে যে জঙ্গী আন্দোলনের ধারা, এনারা তেমন কিছুই জানেন না। স্বভাবতই বর্তমান প্রজন্মের মাঝেও সেই স্পৃহা, সেই স্ফুলিঙ্গ ভরে দিতে পারেননি এনারা। ভারতীয় স্পেস টেকনোলজি চাঁদে চলে গেলেও, CPIM পার্টি রয়ে গেছে ষাটের দশকের আমলাতান্ত্রিক শিকলের গেরোতে, যেখানে হেঁচকি তুলতে গেলে লোকাল কমিটি থেকে পলিটব্যুরো- অনুমতি পেতে পেতেই ঈশ্যু পটল তোলে। ফলত আধুনিক ট্যেকস্যাভি সময়ের সাথে পার্টির ফলিত কার্যগত পরিচালনাতে এক ভয়াবহ দ্বান্দ্বিক ফাটল তৈরি হয়েছে, যা শীর্ষ নের্তৃত্বের সংজ্ঞার বাইরে; আর এইখান থেকে যাবতীয় উৎশৃঙ্খলতার সৃষ্টি। 

ভাইপো প্লান্টেড পরগাছা রাজনৈতিক সমাজের বুকে, পিসি যদ্দিন ক্ষমতায় আছে তদ্দিন ইনিও আছেন। ক্ষমতা হারালে সবার আগে যে লোকটি তৃণমূল ছেড়ে চম্পট দেবে- তার নাম ভাইপো। সুতরাং, আজকের দিনের তৃণমূল দল যে কোনো স্থায়ী আস্তানা নয়, চার অক্ষরের বোকা ছাড়া তা সকলেই বোঝে। ফলত যা কিছু লেনদেন সবই তাৎক্ষণিক ও সবটাই আর্থিক। তৃণমূল দল উঠে গেলে এই সব দলবদলুদের ছোট একটা অংশ জাতীয় কংগ্রেসের ঘরে পরিচারিকা সেজে ক্ষুন্নিবৃত্তি করবে, বাকিরা "I beg to remain, Sir, Your most obedient servant" জপতে জপতে নাগপুরের গোয়ালঘরে গোমুত্র সেবন করবে। এটাই ভবিতব্য। by the way,  মহুয়া মৈত্র কেন কাউকে ৪(চার) লাখের গুচি/লুইভিটোর হাত ব্যাগ গিফট করেছে, এসবের খোঁজও সেলিমকেই একা দায়িত্ব নিয়ে করতে হবে কেন? দলের অন্যান্য শৃঙ্খলা বাহিনীর লালুভুলুর দল কি জাবর কেটেই ক্লান্ত? 

দোষ সেলিম সাহেবেরও আছে, একে হাঁড়িতে চাল বাড়ন্ত, তার উপরে রাজ্যেজুড়ে অন্তত ৬টা আলাদা আলাদা শিবির তৈরি হয়েছে; এর দায় মহঃ সেলিম এড়াতে পারেন না CPIM রাজ্য সম্পাদক হিসাবে। SFI এর পারফরম্যান্স ২০১১ পরবর্তী সময়টা আতস কাঁচের তলায় আনা হোক, মিলিয়ে দেখা হোক- অপদার্থ লোক ক্ষমতার বৃত্তে ঢুকে পড়ে কী কী আচরণ করেছিল, এদের সঙ্গে ঋতব্রতর পার্থক্য আসলে কতটা! তবে, কার সদস্যপদ দিল্লিতে আর সেটা সে রিনিউ করল কিনা, সেটার দায় সেলিমের নয়। আমাদের গ্রাম বাংলার রাজনীতিতে আদৌ চুল পরিমান গুরুত্ব রাখেনা এই সব আপদের ‘গলা নাচানো’ উপস্থিতি। কে শতরূপের বিরুদ্ধে প্রার্থী হবে আর কে মীনাক্ষীর বিরুদ্ধে দাঁড়াবে- এসব হিসাবনিকাশের গল্পও কানে আসছে বৈকি। দাঁত কেলিয়ে ‘জল মাপছি’ বলে ফুটেজ খাওয়ার দিন শেষ, হয় এস্পার নয় ওস্পার। আসলে শৃঙ্খলা অবলুপ্ত হলে বেহায়াপনাই সংস্কৃতি হিসাবে নিজেকে জাহির করে। 

এদিকে সারদার টাকা চোর কুনাল ঘোষ প্রকাশ্যে জোর গলায় বলছে- আলিমুদ্দিনের যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ মিটিং এর মিনিটস ১০ মিনিটে তার কাছে পৌঁছে যায়। পার্টির অভ্যন্তরের গোপনীয়তা, আস্থা ও পারস্পরিক ভরষার বিসর্জনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে এই দাবী। এখান থেকে কিন্তু পার্টি বের হতে পারবে না। শুধু একা সেলিম সাহেব নন, গোটা আলিমুদ্দিনকে এই প্রশ্নের জবাব আজ হোক বা কাল দিতেই হবে। সবাই মিলে দল বেঁধে কুণাল ঘোষকে খিল্লি করতেই পারেন, গোপনীয়তার প্রশ্নে কুনাল ঘোষ CPIM দলের প্যান্ট জামা খুলে রাস্তায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। রোগ সেই শৃঙ্খলাহীনতা। আসলে পার্টির কলকাতার বৃত্তের একটা অংশ কুনাল ঘোষের হারেমে খোজা সেজে উপুড় হয়ে শুয়ে পয়সা রোজগার করে।

কোলকাতার বাবু কালচারে জন্ম নেওয়া মধ্যমেধার কিছু উন্নাসিক দাম্ভিক লোকজন নিজেদের কমিউনিস্ট দাবী করে দলটাকে অক্টোপাশের মতো আষ্টেপৃষ্টে  বেঁধে রয়েছে। এই সব কলকাত্তাইয়া বাম, ফেসবুকের নির্বোধ বাম, কলেজ স্ট্রীটের আঁতেল বাম, JNU বাম, হারামের টাকায় আজও ক্যান্টিন চালানো যাদবপুরী বাম, এই সবগুলো অনেকটা ঘেয়ো কুত্তার মতো- কামড়ালেই ১৪টা ইঞ্জেকশন। ভোটের রাজনীতিতে এদের মূল্যমান জাস্ট শূন্য, অথচ এরাই পার্টির নিয়ন্ত্রক। শেষ ১৫ বছরে এই সেক্টর থেকেই বামেদের তথাকথিত ‘তরুন মুখে’দের ৮০% উঠে এসেছে। এদের পাশে গ্রাম মফঃস্বল থেকে আসার নেতানেত্রীরা নেহাতই সংখ্যালঘু, অথচ রাজ্যের ৭০%ই গ্রামাঞ্চল, যেখানে কৃষক পরিযায়ী শ্রমজীবী মানুষের বাস। উপরোক্ত শহুরে অন্তঃসারশূন্য ফাঁপা আদর্শের বুলি কপচানো মধ্যমেধার বামেদের কারণেই CPIM দলের মধ্যে কম্প্রোমাইজ করা অসৎ অংশের সৃষ্টি হয়েছে, এরাই পার্টির পতনের অন্যতম বড় কারণ, এদেরই কেউ কেউ প্যাক মানে খেয়ে দলের অভ্যন্তরে থেকে বিশ্বাসঘাতকতা করে চলেছে।

(২)
আমাদের মা মেয়ে বোনেরা যবে থেকে প্রাপ্তবয়স্ক হন, প্রতিমাসে একটা করে ডিম্বাণু জন্ম দেন। অধিকাংশই রজঃস্রাবে বের হয়ে যায় অনিষিক্ত অবস্থায়, কিছু নিষিক্ত হলেও অকালে গর্ভপাত হয়ে খানিকটা রক্তমাংসের দলার সাথে অনেকটা ব্যথা বেদনা উপহার দিয়ে যায়। এটা জীবনের স্বাভাবিক ঘটনা। ১০০০টা চারাগাছ পুঁতলে তবে ১০০টা বাঁচার সম্ভাবনা থাকে। কিছু ছাগলে খাবে, কিছু রোদে শুকাবে, কিছু ঝড়ে উড়বে, কিছু বাঁদরে ভাঙবে ইত্যাদি। মহীরুহ রাতারাতি হয়না, বট, পাকুর বা অশ্বত্থের চারা নার্সারিতে তৈরি হয়না। তাই কে কোথাকার ছেঁড়া লোম যে, সেই গর্ভঃস্রাবের কথাকে ধ্রুবক মেনে গুরুত্ব দিতে হবে! বাজারি সংবাদ মাধ্যম তাদের মালিকের সদ্য কেনা ‘পাঁঠা’কে কাঁঠাল পাতা খাওয়াবার ভিডিও করবেই। CPIM পার্টির দেওয়া আলঙ্কারিক পদগুলো ছিলো বলেই বিক্রির বাজারে পাঁঠার দামটা মিলেছে। তৃণমূলের হারামের চুরির টাকায় ফুর্তি মারবে বলে যে দল ছেড়েছে, আজ শুধু দল ছাড়েনি কাল বউও ছাড়বে, পরশু ঘর ছাড়বে। কারণ লীলাতে এদের আদর্শ পার্থ আর শোভন, চুরিতে ভাইপো। যেখানে ঘরে বউ এর সাথে কয়েকটা রক্ষিতা রাখা যে দলের অন্যতম রাজনৈতিক ক্যালিবার- সেখানে কালো মোটা গেঁয়ো বউ খুব বেশি দিন পছন্দ হবে না বিপ্লবী বাবুর।

বিক্রির লাইনে তো অনেকেই আছে, ভট্টাচার্য থেকে সেন, রায়, দাস, মিত্র, ঘোষ, বোস, খান, সেখ অনেকেই। কিন্তু ভাইপোর ‘ভট্টাচার্য’ সহ বাকিদের ততটা দরকার নেই যতটা একটা রেডি দুধেলগাই বলদ দরকার ছিল। ওহ, আপনি তো আবার লালবাবু ভক্ত, এই সব ভট্টাচার্য, সেন, রায়, দাস, মিত্র, বোস, খান, সেখ, ঘোষেদের নাম শুনলে আপনার পবিত্র ঈমান টলে যায়। আপনি হালকা মুতে শুয়ে পড়ুন, কিম্বা খোঁচর নেত্রী যিনি দাদু থেকে বাবার জিন সেঁচে ‘ধর ধর’ রবে DNA বেয়ে বামপন্থা বয়ে এনেছেন, আপনি বরং সেই হেমাটোলজি জেনেটিক্স নিয়ে PhD করুন, জুটিতে মিলবে ভালো। দোষটা একা এই ভট্টাচার্য, সেন, রায়, দাস, মিত্র, বোস, খান, সেখ, ঘোষদের যতটা, আলিমুদ্দিনের বাস্তুঘুঘুদেরও দায় ঠিক ততটাই। যৌবনে স্খলন কোনো পাহাড় ভাঙা হাহাকার ব্যতিক্রমী নয়, উল্টোদিকে যখন চুরির টাকার কুমিরেরা সমানে হাতছানি দেয়। নিয়ন্ত্রণ আপনাকে করতে হবে, বেছে নেওয়ার দায় আপনার। উঠতি মূলো ঋতব্রতে চেনা যায়। 

৯৩ টা বুড়ো খাসি জবাই করা হবে, এই খাসি সব পিসি তোলামূলের হারেমের। কসাইখানার মালিকানা বদলেছে, তাই বাজারে নতুন পাঁঠা খোঁজার কাজ চলছে ভাইপোনিকেতনের খোঁয়াড়ের জন্য। মমতা ব্যানার্জীর রাজনৈতিক কেরিয়ার বয়সের কারণেই অস্তাচলে, ভাইপো নতুন টিম তৈরি করছে তার মতো। পাঁঠা বা পাঁঠি হিসাবে বিক্রি হতে অনেকেই রাজি কিন্তু ক্রেতাও চাইত। শাসক মমতার জামানাতে কোনো যুব নেতা নেত্রী তৈরি হয়নি, তারা চোর তৈরি করেছে। স্বভাবতই ভাইপো তার চারপাশে কাউকে পাচ্ছে না, যে হোমে যজ্ঞিতে লাগবে। এদিকে তিনি নিজেই ব্যানার্জী, ফলত যতটা মুসলমান তার দরকার, ততটা ভট্টাচার্য মিত্র দাস দরকার নেই ঠিক এই মুহূর্তে। তাই অনেকেই লাইনে থাকলেও সেভাবে দাম না পাওয়ার দরুন অনেকেই ‘আদর্শে’ অবিচল রয়ে গেছে এই যাত্রাতে। একটা কথা মনে রাখবেন, কমিউনিস্ট পার্টিতে ভোট হয় চিহ্ন দেখে, ব্যক্তি নয়।

সমস্যা সমর্থকদের তরফেও রয়েছে, তারা ভাবে আমাদের নেতাও ‘ওদের’ মতো করে বলুক সর্বত্র। জামা পরে থাকবো কমিউনিস্ট পার্টির, চাইব পুঁজিবাদী সিস্টেমের ভোগবাদী বিলাসিতা, ন্যাংটামো করব তৃণমূলের মতো- দুটো একসাথে হয় না। জাতীয় কংগ্রেস বা তৃণমূলের মতো পার্টির নেতাদের যেভাবে বলতে দেখে অভ্যস্ত, সেইভাবে দেখেই তাদের ভোটারেরা ভোট দেয়। প্রত্যেকটা সিস্টেম তার নিজের মতো করে আলাদা, গাছেরও খাবো আবার তলারও কুড়াবো একসাথে হয় না, অগত্যা দল পাল্টাতেই হবে। সমর্থকেরা অনেকেই ভাবে, এই তো খানিক আগেই ‘আমার’ সঙ্গে কথা বলল, সে তো আমাদের নিজেদের লোক। আসলে মানুষ সিদ্ধান্ত নেয় নিজের মতো করে, তখন আর কেউ নিজের লোক থাকে না। বিবাহিত মেয়েই যেখানে জন্মদাতা বাবার থাকে না, সেখানে আপনি তো কেবল পরিচিত মাত্র।

হোটেলের ওয়েটার বা পাড়ার মোড়ে পান বিড়ির টোঙ চালায় কিম্বা অনুষ্ঠানের সিজেনে ক্যাটারিং এ কাজ করে- মোদ্দাকথা কোনো ঢং এর কাজ যাদের জোটেনি, তারাই আজকাল সাংবাদিক। সাংবাদিকতা বিষয়ে পড়াশোনা বা জ্ঞান ওসব গাধার ঘাড়ে যাক, হাতে একটা ক্যামেরা মোবাইল আছে, ফেসবুক ইউটিউবে একটা পেজ- আর কী চায়! ঠিক আজকের দিনে দেশ জুড়ে ৯৯% সাংবাদিকই এই জাতের টুকটুকে গাব, যাদের না খাওয়া যায় না গায়ে মাখা যায়। এরা মূলত ক্ষমতার পদতলে চামচাগিরি করে পেট চালায়। বছরে যা মূলধারার রোজগার এদের, তাতে যেকোনো দক্ষিণপন্থী দলের নেতাদের উচ্ছিষ্টটুকু মাঝেসাঁঝে পেলেই এদের জীবনে অষ্টমী বা ঈদের সন্ধ্যা নেমে আসে। এদের সামনেই মুখ দিয়ে হাগতে শুরু করে দেয় উশৃঙ্খল স্বঘোষিত ‘বাম’ নেতানেত্রীর দল।

এটাকে কঠোর ভাবে বন্ধ করতে হবে, দ্বিতীয় কোনো অপসন নেই।

তোলামূলের ২২৫ জন MLA আছে কালিম্পং এর বিষ্ণু প্রসাদকে ধরে, ২৯ জন সদস্য লোকসভায় আর ১৩ জন রাজ্যসভার MP আছে। মেরেকেটে ৩০ জন বাদে বাকি ২৪৬ জনের কারো নামই আপনি জানেন না। সারা বছর তাদের পার্টির তরফে মূলত কুণাল ঘোষ কথা বলে, আলফাল বকার দপ্তরে দেবাংশু রয়েছে। পার্টির মালিক হিসাবে মমতা ব্যানার্জী আর ভাইপো কথা বলেন। বাকি কোনো নেতাকে দেখেছেন মাইক পেলেই উন্মত্ত হয়ে বিজ্ঞ সেজে জ্ঞানের জাঙিয়া মেলে ধরে? টিভিতে তাদের হয়ে আসে দেবনারায়ন আর বিজন মাস্টার, এরা তৃনমূলের কোন পদে রয়েছে? অনুরূপ বিজেপির ১২টা লোকসভা সদস্য, ২ জন রাজ্যসভা সদস্য, ৬৪ জন MLA আছে, কজন বিজ্ঞবিচি সর্বজ্ঞ সেজে টিভির খেঁউড়ে পৌঁছে যায় আর মাইকের বুম পেলেই মুখ দিয়ে বাতকর্ম করতে থাকে?

এই প্রজন্মের মধ্যে শতরূপই একমাত্র, যে দুর্দান্তভাবে মিডিয়া হ্যান্ডেল করে। বাকি প্রায় সকলেই যারা মূলত সোশ্যাল মিডিয়াতে ফুটেজ খায়, তারা রাজনীতির বাইরে সব কিছু করে। এদের সবার আগে রেস্ট্রিকশন করতে হবে। পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুরের পঙ্কজ রায় সরকারও বিক্রি হয়ে গেছিল কিছু মাস আগে, আজ সে কোথায়? শোনা কথা- দুর্গাপুর পশ্চিম আসনের জন্য সে প্রত্যেকদিন ইচ্ছা প্রকাশ করছে আর আইপ্যাক তাকে রিজেক্ট করছে। মুখের সামনে ক্যামেরা ধরলেই যে গড়গড় করে বলতে আরম্ভ করবে, তাকে আমতলার পার্টি অফিসে পৌঁছে দেওয়া হোক জঞ্জাল ফেরার গাড়ি করে। ফেসবুকটাকে বারোয়ারী উঠোন বানিয়ে যারা ‘পার্টিকে’ বাপত্ব সম্পত্তি মনে করে, লাগামহীন নিজস্ব মতামত প্রকাশ করে চলেছে- হয় তাদের হুঁশিয়ার করা হোক, নতুবা লাথি মেরে তাড়ানো হোক। ভাবখানা এমন যেন একটা বামপন্থী দল নয়, সোশ্যাল মিডিয়ার পেজ চালাচ্ছে কন্টেন্ট ক্রিয়েটর হয়ে, প্রতিটা বিষয়ে রোজ নিজের মতামত দিয়ে যাচ্ছে। কোথায় থামতে হয় কেউ জানে না।

পুনশ্চঃ- কেউ দলত্যাগ করছে বা পার্টি সদস্যপদ রিনিউ করছে না বলেই, তার তোলা প্রশ্নগুলো ভিত্তিহীন অযৌক্তিক বলে দাগিয়ে দেয় যারা, তারাও আসলে শয়তান বা পার্টির ভাষায় প্রতিক্রিয়াশীল। সেই বক্তব্যগুলোর সবটা মিথ্যে বা অসমর্থনীয় নয়, ব্যক্তির স্খলনের বিরোধিতা করতে গিয়ে প্রদীপের নিচের আঁধারকে জাস্টিফাই করা যাবেনা। শৃঙ্খলা জরুরী, তার জন্য সেন্সরও জরুরী যদি প্রয়োজন পড়ে, কিন্তু পার্টির অভ্যন্তরে খোলামেলা আলোচনা যদি না হয়, ভুল বা দোষগুলো কিন্তু ঘা-আলসারের মতো আড়ালে বাড়তেই থাকবে ক্যান্সার না হওয়া অবধি।

২০১৬ সালের ব্রিগেডে ময়দানে CPIM এর তৎকালীন রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র প্রকাশ্য সমাবেশে বলেছিলেন- আমাদের পার্টিতে এমন অনেকে আছে, যাদের আমাদের দিকে থাকা উচিৎ নয়; আবার ওইদিকে এমন অনেক লোক আছে যাদের আমাদের দিকে থাকা উচিত ছিল। দশ বছর পরেও এখনো এই বাক্যের তাৎপর্য সেদিনের মতোই সমান উজ্জ্বল।



বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

সাসপেন্ডেড AERO এর উপরে, মমতার এঁটো দরদ কিসের ইঙ্গিত?

 


মমতা ব্যানার্জীর তৃণমূল কংগ্রেস ভুতুড়ে ভোটারওয়ালা ২০২৪ এর ভোটারলিস্ট দিয়ে ২০২৬ এর নির্বাচন করতে মরিয়া ছিল, তাই গোটা SIR প্রক্রিয়াটাকে গুলিয়ে দিতে অধিকাংশ জালিয়াতি অপকর্ম করেছে। তারা জানে আসন্ন নির্বাচনে জালিয়াতি না করলে সরকার টিকিয়ে রাখতে পারবে না।

SIR হেয়ারিং এর শুরু থেকেই এই কথাগুলো রোজ রোজ চেঁচিয়ে বলেছি- ইচ্ছাকৃত নামের ভুলগুলো মুরুলীধর স্ট্রিটের কেশব ভবন বা দিল্লির অশোক রোডে নির্যাতন কমিশনের সদর দপ্তর থেকে কেউ করেনি। বিজেপি ও নির্যাতন কমিশন উভয়েই শঠ, দুবৃত্ত, প্রবঞ্চক, মিথ্যুক, কিন্তু বাংলাতে এদেরকে ছাড়িয়ে গেছে শাসক তৃণমূল। সাদা খাতা জমা দেওয়া 'শিক্ষক' বাহিনী, বাহুবলী BDO দের দল ও তোলামূলের পে-রোলে থাকা ডেটা এন্ট্রি অপারেটর এর ত্রিবেণী সঙ্গমের গর্ভে, i-Pac এর ঔরসে গোটা SIR ম্যাসাকারটা সংগঠিত হয়েছে। যাবতীয় হয়রানির মাস্টারমাইন্ড তৃণমূল কংগ্রেস, সাপ হয়ে কেটে ওঝা হয়ে ঝাড়তে এসেছে। না হলে কমিশন যদি দুর্নীতির দায়ে কাউকে সাসপেন্ড করে, মমতা ব্যানার্জীর এঁটো দরদ কেন উথলে পড়ছে? কারণ পরিষ্কার, তারা মমতা ব্যানার্জীর নির্দেশেই ইচ্ছাকৃত এই ভুলগুলো করেছিল।

এ বিষয়ে না আলিমুদ্দিন স্পষ্ট করে সাংবাদিক সম্মেলন করেছে আজ অবধি, না তাদের সোশ্যাল মিডিয়ার সর্বজ্ঞ 'আদর্শবাদী' বাম্বাচ্চাগুলো এ নিয়ে হল্লাচিল্লা করেছে, যতটা তারা দীপ্সিতার জামাত বধে উল্লসিত ছিলো। জেনেরিক উদগান্ডু হলে তাদের ভাবনাও আঁটকে যায় ভক্তির পর্দার মাঝে। যেহেতু শুরু থেকে সাদাকে কালো আর কালোকে সাদা শেখানো হয়েছে, তাই যতই আসল 'সাদা-কালো'র প্রভেদটা কেউ চোখে আঙুল দিয়ে দেখাক, এরা গান্ধারির মতো স্বেচ্ছা অন্ধ সেজেই থাকবে।

চুরি দুর্নীতির পাঁকে ডুবে রয়েছেন মমতা ব্যানার্জী। ফলত তার রাজনৈতিক চরিত্রের image cleansing এর জন্য এখন রোজ ‘প্যাথলজিক্যাল মিথ্যা’ সম্বলিত আলফাল বকবেন, মৃত মানুষদের নিয়ে মিথ্যাচার করবেন, নতুন ভড়ং ধরবেন, সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ করবেন, ইনশাল্লাহ মাসাল্লাহ বিষ্ণুমাতা জয় জহর ইত্যাদি বকবেন, ছোটখাটো দাঙ্গা লাগাবেন ধর্মীয় মেরুকরণের জন্য, বিরোধী দল ভাঙানোর চেষ্টা করবেন, মিথ্যা মামলাতে ফাঁসিয়ে বিরোধী স্বরকে জেলহাজতে পাঠাবেন- ওনার গোটা রাজনৈতিক জীবনটাই এই কটা স্তম্ভের উপরে দাঁড়িয়ে আছে। পাশাপাশি RSS ও চাইবে না তাদের তাদের ‘দেবী’র গদি টলে যাক। মুসলমানকে SIR এ ভয় দেখানো যায়নি, তাই আতঙ্কিত গোটা তৃণমূল নেতৃত্ব অলআউট আক্রমণে গিয়ে দাঁতনখ দিয়ে ছিঁড়ে খাবার সব ধরণের অগণতান্ত্রিক অসংবিধানিক অপচেষ্টা চালাবে।

এখনও সময় আছে, SIR এ হেয়ারিং এর নামে এই হয়রানি ও তাতে নাম বাদ যাওয়ার মাস্টারমাইন্ড যে তোলামুল, সেটাকে অষ্টপ্রহর সঙ্কীর্তন এর মতো রোজ জনগণের সামনে বাজানো। এসবের বদলে মমতা ব্যানার্জী সাংবাদিকদের কী বলেছেন, সেই নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে বস্তুত ওনারই প্রচার করে যাচ্ছে সমস্ত বিরোধী শিবির। এখনও বামাতি লালবাবুদের দল ‘সেটিং’ তত্ত্বের বাইরে বের হয়ে বলতে পারছে না- কোথাও কোনো সেটিং নেই, কেউ বিজেমূল নয়। 

বামেদের গোটা ন্যারেটিভ ‘সেটিং আর বিজেমূল’ তত্ত্বে আঁটকে রয়েছে, যা গত ১০ বছর ধরে লাগাতার ফেল মেরেছে, জনগণ এটা খায়নি প্রত্যাখ্যান করেছে। আসলে TMC ও BJP এরা এক মায়ের পেটের দুই ভাইবোন, এদের একটাই বাপ- RSS, ভাই ভাই-এ বা ভাইবোনে সেটিং হয় না, ওটা ওদের নাড়ির টান। বাকি সবটাই তাদের ঘরোয়া খুনসুটি কিম্বা পারিবারিক কলহ। ওরা কোনো ভিন্ন সত্ত্বা নয়। সেটিং শব্দে আসলে ওদের আলাদা করে দেওয়াই হয়, বিজেমূল নামের হাঁসজারু সন্ধি ওদের অভিন্ন সত্ত্বাকে অস্বীকার করে। গোটা ন্যারেটিভটাই ভুল ‘লাইন’।

ক্রিকেটে আপনি যদি ‘লাইন’ মিস করেন, লোপ্পা ছয় মারার বলেও খোঁচা লাগিয়ে ক্যাচ তুলে দিতে পারেন কিম্বা তিনকাঠি উড়ে যেতে পারে। কানায় কানায় পরিপূর্ণ স্টেডিয়াম আপনার সমর্থকে ভর্তি, টিভির ওপারে আরও কয়েক কোটি আপনার জয়ের প্রতাশ্যাতে ক্ষণ গুনছে। রৌদ্রোজ্জ্বল পরিবেশ, প্রতিপক্ষ চোটগ্রস্থ, আপনি ধড়াচুড়ো পরে রয়েছেন, প্যাড গ্লাভস হেলমেড এ্যাবডোমেন গার্ড সব রয়েছে। বাউন্ডারির বাইরে সাজঘরে দেওয়ালে আপনার সোনালী অতীতের দেওয়ালচিত্রের নিচে বসে থাকা বাঘা বাঘা এ্যানালিস্ট, কোচ, ট্রেনার, ব্রডকাস্টার সবাই প্রস্তুত। কিন্তু ‘লাইন’ মিস করে আপনি আত্মাহুতি দিলে, এই ম্যাচে আপনার কোনো সুযোগ নেই, এই যাত্রাতেও আপনার নামের পাশে ‘আর্যভট্ট’ই লেখা থাকবে। 

আমাদের নীতি, আমাদের প্রয়োজনে সেটার মাপকাঠি আমরা ঠিক করব প্রতিবার, বারংবার। এটা জোর দিয়ে বলতে কুন্ঠা কীসের?

কে গেল কিম্বা আর কে কে যাবে, ও সব ভবিতব্যের উপরে ছেড়ে দিন। যারা যাবার তারা ইতিমধ্যেই মানসিকভাবে চলে গেছে, ধরে বেঁধে রাখলে সেটাতে বড়জোর কিছুদিন লাশটা থাকবে, উল্টে আরও বেশী অন্তর্ঘাতের সুযোগ পেয়ে যাবে তাদের শয়তানি মস্তিষ্ক। গু খাওয়া গরুকে আপনি বেশিদিন ঘাস বিচালি খাওয়াতে পারবেন না, সে দড়ি ছিঁড়ে হলেও গু খেতে পালাবে। তৃণমূল চাইছে অপ্রয়োজনীয় ইস্যুতে বামেদের ফোকাস টলে যাক, তাই চুরির দায়ে জেলখাটা তাদের মূর্খপাত্র নীতি নৈতিকতার জ্ঞান দিচ্ছে, তাবড় মিডিয়াকুলও ঠেকা নিয়ে রেখেছে- কতটা হেলে গেলে বামেদের ‘নৈতিকতা’ কতটা টোল খাবে ইত্যাদি, যেন তাদেরকে নৈতিকতার চ্যুতির ঠিকেদারি দেওয়া আছে। সতীদাহ প্রথায় যেমন মৃতের স্ত্রীদের জ্যান্ত চিতায় জ্বালিয়ে দেওয়া হতো ধর্মীয় আদর্শের কথা বলে, একই ভাবে নীতি আদর্শের নামে বামকে শূন্যতেই রেখে দেওয়ার পবিত্র কর্তব্যে নিয়োজিত  এই দালাল মিডিয়া ও বিশ্বমাচাদো বুদ্ধিজীবিরা।  

আপনারা দ্রুত স্থির করুন করুন- আপনাদের ফোকাস ঠিক কীসে থাকবে আর কোন ‘লাইন’, কোন ন্যারেটিভ আপনাদের প্রচারে গুরুত্ব পাবে। আপনারা ঠিক করুন কোনটা আপনাদের নীতি আর কোনটা আপনাদের আদর্শ। আপনারা যেটাতে সীলমোহর দেবেন, সেটাই সঠিক- মিডিয়ার ঠিক করে দেওয়া পথে হেঁটে সম্ভাবনাকে ভুঁইয়ে মুড়িয়ে রাখার মাঝে আদর্শ নীতি নৈতিকতা বেঁচে থাকবে না। আদর্শ আর নীতি কপচিয়ে সতী হয়ে চিতায় উঠলে, বিপুল কর্মী সমর্থকেরা আপনাদের সাথে সহমরণে যাবে, অনাথ হবে শ্রেণি গরিবগুর্বের দল। মিডিয়া আবার তার রমনের সাথী খুঁজে নেবে আপনাকে চিতায় পাঠিয়ে। 

দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে সেই মতো প্রচার শুরু করে দিন, হাতে সময় নেই আর।





সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

২০২৬ প্রাক বিধানসভা নির্বাচনী প্রেক্ষাপটঃ সিদ্ধান্ত নেওয়া সময়

 

শত্রু কখনও বিশ্বাসঘাতকতা করে না, তারা মন দিয়ে শত্রুতা করে; বিশ্বাসঘাতকতা ঘরের লোকে করে।

(৪)

বাংলা এখন ট্রাঞ্জিশন ফেজে রয়েছে, যা CPIM সহ বিরোধীদের জন্য ঘুড়ে দাঁড়াবার সুবর্ণ সুযোগ। সেখানে কবর খুঁড়ে সত্য-অসত্য- অর্ধসত্য মেসানো ইতিহাস হাাজির করছে তৃণমূল, দীপ্সিতার এই ফোঁপরদালালির সৌজন্যে। ১৯৬৪ থেকে ২০০৫, এই দীর্ঘ সময়ে পলিটব্যুরো সম্পূর্ণ মহিলা বর্জিত ছিল। পশ্চিমবঙ্গ, কেরালা এবং ত্রিপুরা এই তিন রাজ্যে কয়েক দশক ধরে শাসন করলেও আশ্চর্যজনকভাবে গত ৬০ বছরে তারা এক জন নারী মুখ্যমন্ত্রীও তৈরি করতে পারেনি, ইত্যাদি ইত্যাদি। পদ্মনিধি ধরকেও টেনে এনেছে ওরা, আপনার চোখে পড়ছে না বলে এগুলো ঘটছে না তা নয়, চোখ বন্ধ করে থাকলে প্রলয়  থেমে থাকে না। বিপুল সম্ভাবনা অঙ্কুরে বিনষ্ট হওয়ার মুখে দাঁড়িয়ে।   

অনেকেই আবার নওশাদকে নিয়ে খিল্লি করছে তীব্র ভাষায়, এটাও একপ্রকার চরম উন্নাসিক ঔদ্ধত্বের প্রকাশ। টুপি মাথার মুসলমান দেখলেই একশ্রেণির সেকুলারের মুখোশ খুলে যায়, দাঁত নখ বেরিয়ে আসে। এই নওশাদ গত ৫-৬ বছরে বাংলার বুকে ততটুকু গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে, যেখানে দাঁড়িয়ে তারা বামফ্রন্টের কাছে ৪২ টা আসনের দাবি করছে। আজ ১৬/০২/২৬ বিকালে পার্টি সেক্রেটারি নিজে জানিয়েছেন ৫-৬টা আসন নিয়ে ISF এর সাথে মতানৈক্য ব্যাতিরেকে একটা সহমতে চলে এসেছে। ৩৪ বছর ক্ষমতায় থাকা একটা দলকে যখন, নওশাদের মতো ৩ দিনের যোগীর সাথে আসন রফা করতে হয়, সেখানে আপনার মতো ফেসবুকীয় বিশ্বমাচাদোর কোনো অউকাত জন্মায়না ওকে রাজনীতির পাঠ পড়ানোর। দীপ্সিতারা যতদিন এমন লাগামহীন ভাবে বাম দলের নেত্রী থাকবে বা এদের লালন করবে আলিমুদ্দিন, আপনি লিখে নিন- আগামীতে দীপ্সিতা দেবীর দল কটা আসনে লড়াই করবে- সেটা এই সব ৩ দিনের আল-বাল-ছাল যোগীরা ঠিক করে দেবে। উদাহরণ চান? ইতিহাসে ফিরে গিয়ে দেখে আসুন, People's United Left Front (PULF), United Left Front (ULF), United Left Election Committee, Communist Revolutionary League of India (CRLI), West Bengal Socialist Party (WBSP), Nirjatita Samaj Biplabi Party, Right Party of India, The Religion of Man Revolving Political Party of India- এদের সমর্থকেরাও কম বোদ্ধা ছিলেন না নিজের সময়ে, আজ তাদের অস্তিত্ব আছে?

আমার পেশাগত কারণে রোজ কমপক্ষে ৮০-১০০ জন নতুন নতুন মানুষের সাথে আলাপের সুযোগ ঘটে। সকলের সাথে না হলেও অধিকাংশের সাথেই রাজনীতির প্রসঙ্গ চলে আসেই, দরদামের প্রাক্কালে হোক বা রাত্রে সমবেত ডিনারের টেবিলের খেজুরে আলাপে। আমার হোটেল ব্যবসা কোনো এলিট বা ধনীদের নিয়ে নয়, এনারা গোটা পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটা পকেট থেকে আসা নেহাতই গরিব, কেউ মধ্যবিত্ত, বড়জোর উচ্চমধ্যবিত্ত সমাজের, যাদের ৯৫% বাঙালি। ফলত চেয়ারে বসেই নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও এদের আশেপাশের সমাজটাকে জানা যায়, তাদের ভাবনাতে নিজের জ্ঞানকে পুষ্ট করা যায় অনেকটাই। তাই আমাকে প্রতিক্রিয়াশীল উন্মাদ বলে মিডিয়াতে না হয় দীপ্সিতাকে বাঁচিয়ে দিলেন, তাতে আপনাদের ভোটবাক্সে কোনো লাভের প্রতিফলন হবে না।

সোশ্যাল মিডিয়ার তথাকথিত ‘সেকুলার’ অমুসলিম সমাজ ঠিক করে দিচ্ছে মুসলমানদের কোন শব্দে কতটা প্রতিক্রিয়া দিতে হবে কিম্বা হবে না। এদের সাথে তাল মেলাতে গিয়ে কিছু আরবী নামধারী যারা দীপ্সিতার হয়ে গলা চড়াচ্ছেন, তারা কি নিজেরা মসজিদে যান? এতক্ষণে তৃণমূল তো সেখানে সিপিএমের নামে বিষ ঢেলে এসেছে। এখন সেখানে একটা ভ্যানওয়ালা আপনাকে এ বিষয়ে শুধালে জবাব দিতে পারবেন তো? আজ অবধি ইমাম ভাতার টাকা সরকার না ওয়াকফ বোর্ড দেয়- সেটা বোঝাতে পারেননি। লক্ষ্মীর ভান্ডার সহ প্রতিটা সরকারি ভাতার টাকা যে আমার আপনার করের টাকা থেকে আসে, ওটা তৃণমূল বা মমতা ব্যানার্জীর পৈতৃক সম্পত্তি থেকে দেয় না- সেটা বোঝাতে পারেননি, আর দীপ্সিতার ‘উপহাস’ বুঝিয়ে দেবেন, তাও প্রতিকুর বিপর্যয়ের পড়েও! ঘোড়ায় হাসবে কাকা।

যারা হা রে রে করে দীপ্সিতার ঢাল হয়ে দাঁড়িয়ে ভাবছেন বিরাট সেকুলার হিসাবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন, তারা কি নিজেরা জানেন ইনশাল্লাহ সুবহানাল্লাহ আলহামদুল্লিল্লাহ শব্দের মানে? এটা কী অমুসলিম সমাজের কথ্য শব্দমালা, যেমন বাবাগো, মাগো, Oh my God বা সমজাতীয় শব্দের মতো? আপনারা নিজেরা কখনও এই শব্দ দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহার করেন? এগুলো নির্দিষ্ট করে মুসলমানদের দৈনন্দিন মুখের ভাষা। যুক্তি হিসাবে- মমতা ব্যানার্জীকে ব্যঙ্গ করে নাকি এটা বলেছে। ভালো কথা, মমতা তো RSS এর নেত্রী, প্যাথোলজিকাল লায়ার ও ভড়ং ধরতে উস্তাদ, RSS এর এ্যাজেন্ডা লাগু করতে তার মুখে এই কথাই তো মানায়। 

আপনারাই মূলত ফেসবুক শাসন করেন, বছরে একবার ব্রিগেড যান, বড় নেতার সাথে ছবি তোলেন, নিজেদের মধ্যে গেট-টু করে আর সারাদিন খাপ পঞ্চায়েত বসিয়ে হোয়াটস অ্যাপে স্ক্রিনশট চালাচালি করেন। কিন্তু যখন রাস্তার মিছিলে হাঁটার ব্যাপারটা আসে, অমনি আপনাদের ৫০% গায়েব। এরপর নিজের পাড়ার জনসংযোগের সময় আরও ২০% হাওয়া হয়ে যান, আর লড়াই প্রতিরোধের পরিস্থিতে বাকি ২৮% হাওয়া। যতক্ষণে বুথে দাঁড়িয়ে থেকে ভোটটা করাবার দিন আসে- ২% পার্টিজান বাদে, আপনারা বাকি সমস্ত ফেসবুকীয় লালমুখো বাঁদরের দল গায়েব হয়ে যান। তাই, যারা ভাবে আপনারা পার্টির সম্পদ, আজ্ঞে না- আপনারা আপদ, মূর্তিমান অভিশাপ। আপনারা মেরুদন্ডহীন, আদর্শের ফাঁপা বুলি কপচানো কিছু কাপুরুষ, যারা টাইমপাসের জন্য বামবৃত্তের উপস্থিত হন মূলত মনোরঞ্জন খোঁজে। আপনারাই দলবেঁধে সর্বক্ষণ মমতাকে খিল্লির বাহানাতে, বস্তুত তৃণমূলের হয়েই নেগেটিভ প্রচারটা করে দেন দায়িত্ব নিয়ে।

ব্যক্তি দীপ্সিতাকে আমি চিনিনা, আগ্রহও নেই। তবে মিডিয়াতে দেখে যেটুকু অনুমান করেছি- তার গাত্রবর্ণ আমার মতোই কালো, এ নিয়ে তার ভিতরে চরম হীনমন্যতা কাজ করে। পাশাপাশি আবার বিদেশ ভ্রমণ, JNU ও PhD নিয়ে একটা সুপিরিয়র কমপ্লেক্সে ভোগে। যার দরুন একটা দ্বিমুখী বৈপরিত্য কাজ করে এর চরিত্রে। নিজেকে নির্দিষ্ট সময় অন্তর মিডিয়াতে ভাসিয়ে রাখতে এ্যারোগেন্সি মাখা অসভ্যতামিটা চরিত্রে প্রকট করে তুলেছে। এর চেয়েও ভয়াবহ হলো- এটাকেই জনসংযোগের মাধ্যম বানিয়েছে। আছে বামদলে, কথা বলে মমতার ভাষায়, বার্তা দেয় RSS কে। সদ্য অতীতের আগুনখেকো বাম নেতৃত্বের ঋতব্রত, কানাইয়া কুমার কিম্বা প্রসেনজিত বসু- দীপ্সিতার চেয়ে কম ফুটেজ খাননি, এনারাও উস্তাদই ছিলেন। এদের হয়েও সে সময় ভক্ত লালবাবুর দল ঢাল হয়ে সে কী লড়াইটাই না দিতেন। 

এই আপাত উদগান্ডু কথাবার্তায় সূক্ষ্মভাবে একটা ব্রাহ্মণ্যবাদী মানসিকতা কাজ করে দীপ্সিতা ধরের মাঝে, যা জামাতিদের মূল চরিত্র। অমিত শাহ, মোহন ভাগবত আজও পহেলগাঁও হামলাতে ইসলামিক সন্ত্রাসবাদ শব্দ বলেনি, দীপ্সিতা আগ বাড়িয়ে সেটা বলে খুব হাততালি কুড়িয়ে নিয়েছিল। অতীতে কত রথী মহারথী তলিয়ে গেছে ভোগের লালসার হাতছানির কুম্ভীপাকে, যাদের চরিত্র দীপ্সিতার সাথে হুববু মিলে যায়, তাহলে দীপ্সিতা কেন সন্দেহের গণ্ডিতে আসবে না?

যে এবিপি বামেদের কোনো কর্মসূচি নুন্যতম দেখায় না– সেই এবিপির TRP বাড়াতে ইনি অষ্টমীর সন্ধ্যায় দেবাংশুর সাথে খুনশুটি আড্ডায় হাজির হয়ে যান। তৃণমূলের কেউ নাকি বিপুল দামী ব্যাগ উপহার দেয় ওনাকে, কখনও নাচছে, কখনও ওয়েব সিরিজে অভিনয় করছে, না এগুলো দোষের কিছু নয়; কিন্তু রাজনৈতিক পরিচয় ছাপিয়ে যখন এগুলোই তার জনসংযোগের এর মুখ্য হাতিয়ার যায়, তখন উঠতি মুলো ঋতব্রততে চেনা যায়। এই কারণেই এই নেত্রীকে নিয়ে আমি ব্যক্তিগভাবে ভীষণ সন্দিহান। আমি বেঁচে থাকব কিনা জানি না, এই মহিলা আগামীতে ডানপন্থী পুঁজিবাদী কোনো দলে গিয়ে আলহামদুলিল্লাহ সুবহানাল্লাহ বলে আজকের বাম সমর্থকদের উপহাস করবে- বাকিটা জবাবটা ‘চে’ এর ট্যাটু ওয়ালা শঙ্কর ঘোষ, বঙ্কিম ঘোষ বা তাপসী মন্ডলদের কাছ থেকে জেনে নিতে পারেন।

শেষ ৩টে নির্বাচনে হিন্দু অধ্যুষিত অঞ্চলে ভোটে দাঁড়িয়েও আপনি দীপ্সিতা ধর তিন নাম্বার ছাগলছানা হয়েছেন, শুধুমাত্র ফেসবুকের ভক্তকুলের আদর্শবান ‘সেকুলার’ ভোট আপনাকে দু নাম্বারে তুলতে পারেনি। ইনশাল্লাহ সুবহানাল্লাহ আলহামদুলিল্লাহ বলে যে সম্প্রদায়কে হ্যাটা করলেন ‘মমতা ব্যানার্জী’ নামের ঢালের আড়ালে, তাদের ভোটটা পেলে হয়তো জিতে যেতেন। আগামীতেও এদের ভোট না পেলে আপনি অন্য দলে পালিয়ে যাবেন মধু খেতে, আপনার দল SUCI এর সাথে মহাশূন্যে বসে 'গড পমিস' লিখে- আসমানি দেওয়ালে ধুসর আঁকিবুঁকি করবে। বামপন্থা আপনার পৈতৃক সম্পত্তি নয়। ফেসবুকের লাইক বিপ্লব, এ্যাকাডেমিক ডিগ্রী আর বিদেশে থাকার ছবি দিয়ে যে ভোটের রাজনীতিতে যে ঠনঠনে গোপাল হতে হয়- যেটা বাংলাদেশী জামাতের ফরাসি আমির পিনাকী ভট্টাচার্যকে দেখে কিছুটা শিক্ষা নিতে পারেন। 

হুমায়ুনের (আপনার আঙ্কল) সাথে আলাপের জন্য সেলিমকে সতর্ক করেছে রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলী, আর দীপ্সিতার মতো ফুটেজ সর্বস্ব ভোগবাদী মানসিকতার মহিলা- প্রকাশ্যে বারংবার সমগ্র মুসলমান কমিউনিটিকে কখনও জঙ্গী, কখনও উপহাস করেও, কোন যাদুমন্ত্রে ছাড় পেয়ে যায়, এটা কিন্তু আম মুসলমানকে ভাবাবে। প্রান্তিক মুসলমানকে বাদ দিয়ে কোচবিহার থেকে কাকদ্বীপ- CPIM কি খাতা খুলতে পারবে? আপনি ভাবছেন এটা আরও হাজারটা ইস্যুর মতো থিতিয়ে যাবে চতুর্থ দিনে, বিশ্বাস করুন তা হবে না। তৃণমূল ও RSS সেটা হতে দেবে না, এটা পাড়ায় পাড়ায় CPIM দলের মনোভাব বলেই প্রচার করবে। তাই, ইম্মিডিয়েট দলের তরফে সতর্ক না করলে এটা ক্যান্সার হয়ে যাবে, আর তা হলে মুসলমান ভোটব্যাংক ফিরবে না কাস্তেতে, হাতে রইবে পেনসিল। 

দিনের আলোর মতো স্পষ্ট হয়ে গেছে SIR এর গুঁতোতে তৃণমুল ব্যাকফুটে, বিজেপি রিং এর বাইরে। RSS এর ফাটল এখন স্পষ্ট, কোনো মলমে কাজ কাজ হচ্ছে না মেরামতিতে। আগামীতে বামেদের বিপুল আসন পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ফলত মুসলমান যাতে সিপিএমের থেকে দূরে সরে যায়, তারই হয়তো খেলাটা দীপ্সিতাকে দিয়ে খেলিয়ে দিয়েছে। একে তাকে দিয়ে নানাভাবে গুলিয়ে দেবেই RSS, তারাই এই ফুটেজখোর দীপ্সিতাকে ট্রোজেন হর্স বানায়নি কে গ্যারান্টি নেবেন ঋতব্রতের কসম খেয়ে? ফুটেজ খেতে গিয়ে, RSS এর হাতে লুকিয়ে তামাক খাওয়াটা ধরা পড়ে গেল কিনা- এটাও নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে কি? 

আগের পর্বেই লিখেছি এ রাজ্যে বিজেপির প্রতিটা মহিলা লগ্নি সব ফেল মেরেছে, নাম ধরে ধরে লেখা আছে। সেই রকম একটা পরিস্থিতিতে দীপ্সিতাই কেন বারংবার এমনটা করছে! ৯০ দশকের মমতা ইচ্ছাকৃত অশান্তি সৃষ্টির জন্য তৎকালীন কংগ্রেসের তাবড় বাঘা নেতাদের টপকে প্রদেশের সর্বোচ্চ নেত্রী হতে চেয়েছিলো। ঋতব্রতর প্রকাশ্য অসভ্যতামি গুলো ভুলে গেছেন? এগুলোই তো লক্ষণ। উনি যে পথে সংসদীয় রাজনীতিতে এসেছেন, সেই JNU এর ছাত্রনেতা উমর খালিদ জেলে, ঐশি ঘোষের মাথা ফাটিয়েছিল, প্রাক্তন বাম ছাত্রনেতা কানাইয়াও কম মারধোর খায়নি, সেই তুলনাতে এই নেত্রীর বলার মতো কোনো সাফল্যটা আছে? মহিলা চাইছে দল তাকে তাড়াক, নতুবা পশ্চিমবঙ্গের নোংরা দিক নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করছে কেন? মহিলার ‘পপুলার’ TRP জোন হচ্ছে মুসলমান আর বাঙাল পরিচয়। মূর্খ একটা চাষীও জানে ধান বীজতলায় বাড়ে না, তাকে অন্য স্থান থেকে তুলে জো ধরা জমিতে পুঁততে হয়। রাজন্যার মতো ‘পাতি’ প্রেসিডেন্সিতে যখন RSS বড়শি দেয়, তারা NJU কে টার্গেট করবে না?

বামপন্থা একটা জীবনশৈলীর নাম, সারাজীবন ধরে একে লালন ও যাপন করতে হয়। যে কারণে আমি বা আমার মতো কোটি মানুষ কখনও বামপন্থী হতে পারব না, কারণ আমাদের মাঝে ভোগের লালসা রয়েছে। আপনি বিমান বসুর ত্যাগের বিজ্ঞাপন করবেন, আর দীপ্সিতার মতো নমুনাকে বাজারে প্রকাশ্যে ছেড়ে রাখবেন- দুটো একসাথে হতে পারে না। ব্রতীন সেনগুপ্ত, ৩ বারের রাজ্যসভার মেম্বারকে সদ্য গোঁফ গজানো বামাতিদের মনে থাকার কথা নয়। মজিদ মাস্টার, রেজ্জাক মোল্লা, শওকত মোল্লা, তাপস চ্যাটার্জি, সুজিত বোস, আবু আয়েস মন্ডল, আব্দুল সাত্তার, মৈনুল হাসান- এনাদের অতীত পরিচয় কর্মী সমর্থকেদের কাছে বিস্মৃত হয়ে গেলেও, ঘর পোড়া শীর্ষ আলিমুদ্দিন আজও কীভাবে সিঁদুরে মেঘ চিনতে ভুল করেন! 

রাষ্ট্রের আর্থিক সহায়তা হাতের কাছে পেলে প্রত্যেকে নেবে, মুসলমানও নিয়েছে। কিন্তু সেই সহায়তা না পেলে মুসলমান মরে যাবে ব্যাপারটা এমন সরল নয়, তাই তাকে নিয়ন্ত্রণের দুটো জায়গা ধর্ম এবং ভয়। ভয়ের জায়গাটা যখন সে কাটিয়ে উঠে নিজস্ব বুদ্ধিমত্তা প্রয়োগ করে একটা সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার দিকে পা বাড়িয়েছে, তখনই শেষ চেষ্টা হিসেবে ধর্মের দিক থেকে ‘অকারণ’ কিছু একটা টেনে RSS অন্তিম চালটা দীপ্সিতার মাধ্যমে দেয়নি কে বলবে! 

কথিত আছে, ‘বিড়াল কালো না সাদা, তাতে কিছু যায় আসে না, যতক্ষণ না সে ইঁদুর ধরে’। নেকুপুষু দীপ্সিতাদের লালন করতে গিয়ে প্রতিকুরেরা যে ব্রাত্য হচ্ছে না, দায়িত্ব নিয়ে বলতে পারবেন? এমতাবস্থায়, জনগণ যদি সর্বহারা এই উদ্ধত নেত্রীকে সেন্সার করার সিদ্ধান্ত নেয়, তার ওজন দল CPIM বইতে পারবে তো?
 

২০২৬ প্রাক বিধানসভা নির্বাচনী প্রেক্ষাপটঃ অন্তর্ঘাত পর্ব

 


ভীষণ আনপপুলার অপিনিয়ন


(৩)


দীপ্সিতা ধরকে CPIM সেন্সর করবে নাকি জনগণই তাকে সেন্সর করবে? 


ডিসক্লেইমারঃ ও পাড়ের জামাত আর এ পাড়ের RSS, এদেরকে যদি আপনি অন্তর থেকে ঘেন্না না করতে পারেন, তাহলে নিজের মনুষ্যত্ব নিয়ে নিজেকে প্রশ্ন করা উচিত। তাই জামাত ও তাদের বিষাক্ত আমিরকে নিয়ে ব্যঙ্গোক্তি বিষয়ে- কোনো প্রশ্ন থাকতে পারে না সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের। জামাত কোনো নির্দিষ্ট দেশের নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল নয়, একটা একটা কুৎসিত কনসেপ্ট তথা আদর্শের নাম। নাইজেরিয়াতে বোকো হারাম, আফগানিস্তানের তালিবান, শ্রীলঙ্কার LTTE, মিয়ানমার সামরিক বাহিনী (তাতমাদো), গোটা পাকিস্তান রাষ্ট্র কিম্বা ভারতের RSS, এরা সকলেই জামাত। এদের এক ভাবাদর্শ, একই চিন্তাধারা, শুধু দেশ ভেদে নাম গুলো আলাদা।

বিজেপির জামানাতে তীব্র ইসলামোফোবিয়া আক্রান্ত টক্সিক রাজনীতির অভিঘাতে এদেশের মুসলমানরা প্রতি মুহূর্তে আতঙ্কিত হয়ে রয়েছে। আপনি অমুসলিম হলে সেই আতঙ্কের ধাক্কার ১% অনুভব করতে পারবেন না। এই আতঙ্কই মমতার মূল হাতিয়ার ছিল- তৃণমূলকে ভোট না দিলেই বিজেপি চলে আসবে। আমরা শুরু থেকে বলে আসছি, মমতা ব্যানার্জি প্রান্তিক মুসলমানকে ভয় দেখাতে পারেনি, যে মুসলমানের ভোট পেয়ে উনি ক্ষমতার মসনদে। ২০২১ সালে NRC জুজুতে মুসলমান ভোট পোলারাইজেশন হয়েছিল, SIR ইস্যুতে তৃণমূলের ভয় দেখাবার প্রতিটা চাল বিফলে গেছে। চুরি দুর্নীতি বাদেও OBC ও ওয়াকফ ইস্যুতে গোটা সম্প্রদায় ফুসঁছে। ভোট দিতে পারলে তারা তৃণমূলের বিকল্পেই ভোট দেবে, আর সেটাই CPIM এর সামনে সুবর্ণ সুযোগ। লড়াইটা তো অন্ন বস্ত্র বাসস্থানের, লড়াইটা খেটে খাওয়া মানুষের রুটিরুজির। গত ১২ তারিখ অবধিও তো সেটাই ছিল। শেষ ৩ দিন ফেসবুক ইউটিউব খুললেই দীপ্সিতা, কেউ পক্ষে তো কেউ বিপক্ষে। গোটাটাই অনর্থক বিষয়ে, এমনকি আমার এই পর্বটাও। 

বামেদের এই সমূহ সম্ভাবনাময় পরিস্থিতে একমাত্র নিজেদের ঘর থেকে সাবোটেজ না হলে আশাতীত ফলাফল অপেক্ষা করছে CPIM ও তার শরিকদের জন্য। যেকোনো ধরনের ধর্ম নিয়ে এমন উপহাস বিদ্রুপাত্মক লাগাতার নিকৃষ্ট মন্তব্যের উদাহরণ, অতীতে কোনো বাম নেতার নেই, এটা বামেদের ঘরানাই নয় গোটা বিশ্বজুড়ে। 

প্রতিকুর কেন ইস্তফা দিয়েছে জানি না, কিছু আগামীর সম্ভাবনা বীজ পুঁতেই সে যে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এটার জন্য গনৎকার হতে হবে না। কেউ যখন আজকে পালাচ্ছে, এটা শুধু ঘোষনার দিন মাত্র; মানসিকভাবে সে ছ’মাস এক বছর আগেই বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। শাসকের মার খাওয়াটা কারো একমাত্র যোগ্যোতা হতে পারে না, রাজ্য জুড়ে প্রতিটা বুথে এমন অসংখ্য বামকর্মী সমর্থক আছে, যারা শাাসকের অত্যাচারে ঘটি বাটি পরিবার সব খুইয়েছে। ফুটেজখোর হয়ে যাওয়াটা ভয়াবহভাবে মানসিক সমস্যা তৈরি করে। সৃজন-প্রতিকুর জুটির আমলে SFI এর সংগঠনের অন্তর্জলী যাত্রা সবচেয়ে দ্রুত হয়েছে, নতুন ইউনিট খোলা তো দূরস্থান বরং একের পর এক কলেজে ঝাঁপ বন্ধ হয়েছে, নির্বাচন হয়নি, তার জন্য আন্দোলনটুকুও করেনি এরা। সৃজন গিটারবাদক হয়ে এবিপিতে গান গেয়েছে, প্রতিকুর হাত্তালি দিয়ে দন্ত বিকশিত করে ওই পথ বেয়ে রাজ্য নেতৃত্বে উত্তীর্ণ হয়েছে। 

SFI এর পদ সরে যেতেই প্রচারের লাইমলাইট হাওয়া হয়ে গেছে, এবারে ফুটেজ পেতে গেলে ময়দানে দৌড়ে কাজ করতে হবে কিম্বা সাম্প্রদায়িক এ্যাঙ্গেলে ফেসবুকে খেলতে হবে, দুটোতেই ফেল মেরেছে। এদিকে ISF, INC, JUP এর নিষিদ্ধ হাতছানি তো আছেই, বাকিটা সময় উত্তর দেবে। সৃজন, প্রতিকুর, দীপ্সিতা এদের রোগই হচ্ছে ভোটে দাঁড়ানো, বিধানসভা হোক বা লোকসভা- অমনি দাঁড়িয়ে যাওয়া, ফুটেজের পরাকাষ্ঠা। একই রোগে আক্রান্ত সুজন চক্রবর্তী এবং পার্টি সম্পাদক নিজেও। ভবিষ্যতে যদি দলের হাল আরও খারাপ হয় কখনও, এনারা কোমর বেঁধে পঞ্চায়েত বা মিউনিসিপ্যাল ইলেকশনেও দাঁড়িয়ে পড়বেন অতীতের ট্রেন্ড অনুযায়ী। সকলকে MLA/MP ই হতে হবে কেন? বাম রাজনীতিতে ‘রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা’ নিজেকেই কেন পেতে হবে!

একে তো হিন্দু ভোটের একটা বড় অংশ RSS এর ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক উন্মাদনার কারণে বিভ্রান্তির শিকার। ফলত এনাদের ভোটটা BJP পায়, যেটা প্রায় ১০%। বিজেপির কোর ভোটার ৫-৬%। বাকি প্রায় ২৩% হিন্দু ভোটার CPIMকে শাসক হিসাবে বিশ্বাস করা তো দুরস্থান, সামান্য বিরোধী হিসাবেও ভরষা না করার কারণে, তারা তৃণমূলকে ঠেকাতে বিজেপিকে ভোট দেয়। উত্তরবঙ্গে ৭টা জেলার দিকে তাকালেই তো উদাহরণ পায়ে হেঁটে এসে চোখে ঢুকে যায়। ২৩+১০, এই ৩৩% ভোটকে রাতারাতি সিপিএমের বাক্সে আনা যাবে না যতদিন RSS এর সরকার থাকবে রাজ্যে। 

ইনশাল্লাহ সুবাহানাল্লাহ আলহামদুল্লিলাহ বলা জনগোষ্ঠীর পুরো ভোটটা CPIM এর ঘরে ফেরা সম্ভব তৃণমূলের ঘর থেকে। এই সম্প্রদায়ের ০.১% জনগণও বিজেপিকে ভোট দেবে না মরে গেলেও। এদের ভোটার সংখ্যা তালিকাতে ৩০% ছুঁইছুঁই হলেও, পোলিং ভোটের ৪৩%। এই ভোটটা পুঁজি করেই তৃণমূল ক্ষমতায়, যারা নানা ভাবে তৃণমূলের উপরে অতিষ্ট ও মুক্তির পথ খুজঁছে। সেই সময় তাদের পাশে মরমী হয়ে দাঁড়াতে হবে, তাদের আপনজন হতে হবে, দেখনদারিতেও কার্যক্ষেত্রেও। মার্ক্স মাও লেনিন কপচিয়ে, উপহাস, ব্যঙ্গ, বিদ্রুপ করে প্রান্তিক মুসলমানকে ভরষা দিতে পারবেন না। 

RSS এর বিরোধিতা করতে গিয়ে কেউ বেদের বিরুদ্ধে, রামায়ণ মহাভারতের বিরুদ্ধে বা হিন্দু ধর্মের আরাধ্য দেবদেবী বা পূজার মন্ত্র নিয়ে উপহাস তুচ্ছতাচ্ছিল্য করতে পারি না। আমাকে কেউ সেই অধিকার দেয়নি। তাই জামাত বা RSS এর নামের আড়ালে এগুলো যে করে, তার উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই। এতে ধর্মীয় ভাবাবেগ আহত না হলেও সামনের ব্যক্তিটির মনোভাব পরিষ্কার হয়ে যায়।

আসল সমস্যাটা গোড়ায়। আমাদের সমাজের সংখ্যাগুরু হিন্দু সম্প্রদায়ের ৯৭% মানুষ, মুসলমান সমাজের পরিকাঠামো সম্বন্ধে নূন্যতম ধারণা রাখেন না, প্রয়োজনও বোধ করেননি কখনও। যা আছে তা ওই ভাষা ভাষা, ওরা গরু খায়, কাকাতো মাসতুতো ভাই বোনে বিয়ে করে, এক একজন একগাদা বিয়ে করে, ওরা সিমুই লাচ্ছা খেয়ে গাদা গাদা বাচ্চা পয়দা করে, আর ক্রিকেট ম্যাচে পাকিস্তানকে সাপোর্ট করে। ফুলস্টপ। এর বেশি কিচ্ছু জানে না। কিছু নাস্তিক, শহুরে আঁতেল ও সোস্যাল মিডিয়ার মুসলমানকে দেখেই গোটা সম্প্রদায়কে জেনারালাইজড করে ফেলে, যেখানে মুসলমান সমাজে নাস্তিকের সংখ্যা ১% বা তারও কম। গোটা সম্প্রদায়ের ৮৩% মানুষই কৃষক বা শ্রমিক- আমার জ্ঞান মতে এরাই তো শ্রেণি। এরা তত্ত্ব বোঝে না, ইনশাল্লাহ সুবহানাল্লাহ-টা এদের মুখের আম ভাষা, ধর্মের পাশাপাশি তাদের সংস্কৃতি এটা। মমতা ব্যানার্জীর স্টাইলের ভাষা ওগুলো নয়, যেটা উপহাসের সাবজেক্ট। 

মুসলমান চাষী, মুসলমান মুনিষ, মুসলমান রাজমিস্ত্রী, সোনার কাজ করে, তাঁতি, দর্জি, জরির কাজ, এমব্রডয়ারি, চামড়ার কাজ, পিতলের কাজ, পালিশের কাজ, বিড়ি বাঁধা, ধুপ তৈরি, পশু পালন, মাছ চাষ, ইত্যাদি জাতীয় পেশাগুলো মোটামুটিভাবে মুসলমান দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত। রাজ্য অর্থনীতিতে মুসলমান নারী সম্পূর্ণভাবে রাজ্যের লক্ষীর ভান্ডারের উপরে নির্ভরশীল নয়। অর্থনৈতিক দিক থেকে মুসলমানকে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না, এটা বুঝতে পেরেই একমাত্র বিজেপি জুজুর রাজনীতি আর নাগরিকত্বের প্রশ্নে টালমাটাল করে দেওয়ার মতো আবহ তৈরি করে, মুসলমান ভোটকে এতদিন নিয়ন্ত্রণ করেছে শাসক তৃণমূল। 

যারা গাঁ, গঞ্জ, বস্তির প্রান্তিক গরিব মুসলমান, বিশ্বাস করুন তারা সিংহভাগ ওই তিনটে শব্দের বাইরে আল্লাহ আর নবীটুকুই জানে, আর তেমন কিছুই জানে না। কেউ কেউ বড় জোর নামাজের কয়েকটা সূরা, তাই আবার ১ লাইন আরবি শব্দের মানে জানে না অধিকাংশ। তাদের আস্তিক ধর্মাচারণের নিত্যদিনের জ্ঞাপনের ভাষা ওই ইনশাল্লাহ, মাশাল্লাহ। ‘ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত’ এমন ভারি শব্দের মানেও এদের কাছে অচেনা, কিন্তু ওরা এটা বোঝে- কে আপন আর কে নয়। এই ফুটেজখোর উদ্ধত মহিলাটি ‘আমাদেরকে’ উপহাস করছে, ব্যঙ্গ করছে, বারংবার করেছে- এটা না বোঝার মতো নির্বোধ তারা নয়। 

আপনি বা আমি লেখার ভাষায় যত খুশি তত্ত্বের কচকচি করি না কেন, আম পাবলিক ততটুকুই নেয়, যতটুকু তার দরকার। সাধারন গরিব মুসলমান তারা ডান বা বামপন্থা বোঝে না, তারা অত্যাচার বোঝে, তারা পরিত্রাণ খোঁজে। আর বোঝে- কে তাদেরকে বোঝে। দীপ্সিতার এই ভাষা, সাধারণ মুসলমানকে CPIM থেকে দূরে সরিয়ে দেবেই। এটা না রাজনৈতিক প্রাজ্ঞতার পরিচয় না বুদ্ধিদীপ্ত সারকাজম। স্যাটায়ার ব্যাকফায়ার করে গোটা বিষয়টাকে ছড়িয়ে লাট করে দিয়েছে। লড়াই এর ময়দানে কোনো স্নো পাউডার, রিটেক, পিছনে ফেরা, কোনো কিচ্ছু নেই। প্রান্তিক মুসলমান সমাজের কাছে বার্তা যাচ্ছে- এদের দলই হয়তো একে খোলা ছেড়ে রেখেছে, কারণ ইনি দলের অন্যতম মহিলা মুখ। এটাই তৃণমূল বোঝাচ্ছে, কারণ তাদের ভোটে জিততে হবে। মুসলমান ভোটেই তাদের প্রাণভোমরা টিকে আছে। সিপিএমের সংগঠন এমন অবস্থাতেও নেই যে তারা তৃণমূলের পাল্টা হিসাবে মাঠে ময়দানে মুসলমান মহল্লাতে ‘পাল্টা’ ন্যারেটিভ পৌঁছে দিতে পারবে। এই নেত্রী ও তার ভক্তকুলের মতো ফেসবুকের ফুটেজ বিপ্লবের মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্গাজম দিয়ে শূন্য কাটবে না। 

অথচ, বিষয়টা তেমন গুরুত্বপূর্ণই ছিল না। সামান্য তিল, যাকে তাল পাকিয়ে দিয়েছে এ পাড়ের জামাত মনোভাবাপন্নেরা, যারা চায় CPIM শূন্যই থাকুক। এই মহিলা, বারংবার ফাঁপা স্টান্টবাজি করতে গিয়ে এমন কথা প্রতিবার লেখে, যেটা শুধু অশোভনই নয়, নিতান্তই অপ্রয়োজনীয়। এই ফাঁকে জিম নাওয়াজের মতো বিষাক্ত সাপগুলো, ছুপা জামাতেরা দাঁত নখ বের করে আক্রমণের সুযোগ পেয়ে গেছে। ব্যক্তি দীস্পিতা উহ্য হয়ে গিয়ে গাঁ গঞ্জের প্রান্তিক মুসলমানের কাছে CPIM কে মুসলমান বিদ্বেষী হিসাবে প্রতিকৃত করার অপচেষ্টায় লেগে পড়েছে। 

তৃণমূল রাজনীতি করতে এসেছে, এমন বহু phd ধারীকে ওরা চাকরবাকর বানিয়ে রেখেছে। ভায়া আইপ্যাক, তারা সোশ্যাল ইঞ্জিয়ারিংটা বোঝে, তাই তারা ইউসুফ পাঠান, জুন মালিয়া বা সায়ন্তিকার মতো অপগন্ডদের জিতিয়ে আনতে পারে। মমতা ব্যানার্জী RSS এর সহযোগিতাতে ইনশাল্লাহ সুবহানাল্লাহ আলহামদুলিল্লাহ করতে করতেই গোটা সম্প্রদায়কে দুধেল গাই বানিয়ে দিয়েছে, আর সেটা থেকেই এই সমাজটা মুক্তি চাইছে। মমতা তার বুলি দিয়েই বামফ্রন্টকে শূন্য করে দিয়েছে। যারা দীপ্সিতার সমর্থনে শেষ ৩ দিন ধরে 'ভুলটা কী বলেছে' জপে গেল- তাদের সেই বোধটা থাকলে আর্যভট্টের আবিষ্কারের সাথে একাত্বীভূত হতে হতো না আপনাদের। জামাত শব্দের ঝুলফাঁদে আপনারা গুলিয়ে দিতে পারবেন না। না জানাটা অপরাধ নয়, কিন্তু সেই নির্বুদ্ধিতাকে প্রমাণ করার তাগিদে গলা ফাটালে সেটা যে শুধু হাস্যকরই হয় তা নয়, ভিতরের অন্তঃসার শূন্যতাটাও প্রকাশ পেয়ে যায়।

আমার বেশকিছু বামমনস্ক বন্ধুকে দেখলাম দীপ্সিতার হয়ে অভিষেক শর্মা স্টাইলে চালিয়ে খেলছেন। 'ম্যান টু ম্যান' বিতর্কে যাব না আমি, প্রত্যেকের নিজস্ব মতামত আছে। আমার ভাবনা যেমন আমি চাপিয়ে দিই না, তেমন আমাকেও তেমন আপনার সাথে প্রতিটা বিষয়ে লাইন বাই লাইন ঐক্যমত হতে হবে না। ভক্ত তাদেরই বলে যারা অন্ধ সমর্থক, এক্ষেত্রেও লাইন দিয়ে যারা অন্ধ সমর্থন করছেন আপনারা লালচাড্ডি বা লালবাবু। এই আপনারাই তো বামেদের পক্ষে জান কবুল করে দায়িত্ব নিয়ে দলকে শুধু শূন্যতেই পৌঁছে দেননি, ভোট শতাংশকেও ৫%এ টেনে নামিয়েছেন শেষ এক দশকে। ফেসবুকে আপনাদের ৫০০০ জন সর্বজ্ঞ আদর্শবান কমিউনিস্ট ও সেকুলারের ভোটে ২০২১ এর নির্বাচনে ১৫৮টা কেন্দ্রে জামানতটুকুও বাঁচাতে পারেননি নিজেদের দলের। চাইলেই একটু শিক্ষিত হওয়া যায় বৈকি, তবে মূর্খ ও উদগান্ডু হওয়ার অধিকার সকলেরই আছে।

…ক্রমশ


রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

২০২৬ প্রাক বিধানসভা নির্বাচনী প্রেক্ষাপটঃ ভয় পর্ব

 


(২)

সোভিয়েত পতনের সাথে সাথে সাথেই পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ছোট বড় প্রত্যেকটি পকেটে বামপন্থী কর্মী সমর্থক এবং শাসকের উপরে বিভিন্ন পদ্ধতিতে হামলা শুরু হয়েছিল, পশ্চিমবঙ্গ তার ব্যতিক্রম ছিল না। ১৯৯৩ এ উগ্র বিধ্বংসী আন্দোলনের নামে মমতা ব্যানার্জীর উন্মত্ততা তারই প্রকাশ বলা যেতেই পারে। তাই ৯০ দশকের গোড়াতেই RSS এর ঔরসে কংগ্রেস গর্ভে তৃণমূলের জন্ম নেওয়া যে একটি সুদূর প্রসারী লগ্নি ছিল, তা মেনে নিতে আজ অন্তত দ্বিধা থাকার কথা নয়, যা আজকের তৃণমূলের রাজত্বে প্রমানিত। 

১৯৯৮ সালে জন্ম নিয়েই মমতা ব্যানার্জীর তৃনমূল ২৮টা লোকসাভা আসনে লড়াই করার মতো রসদ যোগাড় করেছিল RSS এর মাধ্যমেই, সেটা প্রামান্য নথিতেই রয়েছে। বিজেপির সাথে ২:১ আসন ভাগে লড়ার সিদ্ধান্ত তো RSS ছাড়া হয়নি, ২৮টা লোকসভা আসন মানে ১৯৬টা বিধানসভা আসনে লড়াই করা কী ছেলেখেলা? কে দিয়েছিল সেই বিপুল অর্থ? পাশাপাশি বিজেপিকেও ৯৮টা আসনে শক্তি দিয়েছিল। সেদিন কি বিজেপি সাম্প্রদায়িক ছিল না? বাবরির ঘা তো তখনও শুকায়নি! এই তৃণমূলই আজকে বিজেপিকে রোখার রঙিন গল্প বলে, মুসলমানকে ভয় দেখায়। আশ্চর্যভাবে দুধেলগাইগুলো বিশ্বাসও করেছিল ও করে। কটা দিন যেতে দিন, মমতার চোর ইমেজের ভাবমুর্তি মুছে দিতে তার নানান পডকাস্ট সাক্ষাৎকার বাজারে আসবে, নানান চ্যানেলে; যেন তিনি ‘দেবী’ এমন ভাবে পোট্রেট করা হবে।

৩৪ বছরের বাম শাসনামলে কংগ্রেস, তৃণমূল বা উভয় জোটের ভোটের শতাংশ কখনই ৩৫ শতাংশের নিচে নামেনি। তাই ২০০৯ বা তার পরবর্তী ২০১১ এর রণনীতি সাজাতে তথা কংগ্রেসের গুরুত্ব অনুধাবন করতে- তৃণমূল নেতৃত্বের খুব একটা ভুল হয়নি। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, ২০১১ এর পরিবর্তন- কংগ্রেসের সাহায্য ছাড়া কোনোমতেই সম্ভব ছিল না। শুধুমাত্র বাম বিরোধিতাকে ভিত্তি করে জন্মানো তৃণমূল- তার জন্মদাত্রী জাতীয় কংগ্রেসের সংগঠন ও ভোটাদের ধীরে ধীরে খেয়ে এমন ছিবড়ে করে ফেলেছে যে, আজকের তারিখে গনি খানের গড়ে তাদের পরিবার কিম্বা অধীর চৌধুরী পর্যন্ত নিজেদের আসন হারিয়ে ফেলেছে। সোমেন মিত্র থেকে মানস ভুঞ্যাঁ, এমন সকলকে চটির নিচে এক লজ্জাজনক আত্মসমর্পন করতে বাধ্য করেছে।

অপারেশন বর্গা ও দীর্ঘ বাম শাসনে রাজ্যের বিরোধী হিসাবে অধিকাংশ সময়কালটাই জাতীয় কংগ্রেসই ছিল। স্বভাবতই তাদের ভোটারের মধ্যে একটা স্থায়ী বাম বিরোধ, বিবাদ বা দ্বন্দ্ব যা খুশি বলুন- এগুলো স্থায়ী হিসাবে চরিত্রে গেঁথে গিয়েছিল। উল্টোদিকে কংগ্রেসের প্রতিও একই অসূয়া বামেদের মধ্যেও তীব্রভাবে ছিল, ফলে উপরতলার জোট তথা সমঝোতা কখনই নিচুতলায় স্বতঃস্ফূর্ততা আনেনি, উল্টে অভিযোগের অন্ত ছিল না। স্বভাবতই কংগ্রেসী ভোটারদের মধ্যে পারিবারিকভাবে একটা স্থায়ী বাম বিরোধীতা অনেকটা উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত। তবুও একটা জিনিস বলা যেতে পারে, যেহেতু নির্বাচনে জিতলে শাসন ক্ষমতা মূল চাবিকাঠি বামেদের হাতে থাকতো, তাই জোটের ব্যাপারে বামেরা যতটা আন্তরিক এবং সক্রিয় ছিল; মনস্তাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গিতে কংগ্রেস সমর্থকদের পক্ষে বামেদের জন্য ততটা আন্তরিক হওয়া সম্ভব ছিল না এবং বাস্তবে তারা হয়ওনি। 'কংগ্রেস আমাকে ভোট দেয় না' বলে কান্নাকাটি করা ফেসবুকের বাম সমর্থকদের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা নিয়ে এই কারণেই বারবার প্রশ্নচিহ্ন ওঠে।

১০ বছরের সম্পর্কে পারস্পারিক অভিযোগগুলো মোটামুটি একই থাকলেও, বামকর্মী সমর্থদের তরফে দাবীগুলোর বাস্তব সারবত্তা ছিল। যেমন, বুথে ঝান্ডা টাঙ্গানোর লোক নেই কংগ্রেসের, পোস্টার ব্যানার ছাপাবার টাকা দেয় না, পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়ার মঞ্চ থেকে মাইক সব নিজেদের খরচা করতে হয়। যেহেতু সবকিছুই চাঁদা দিয়ে করতে হয় তাই কংগ্রেসের প্রার্থীর নামে কেউ চাঁদা দিতে চায় না। কংগ্রেসী সমর্থকরা বাম নেতৃত্বের মিটিং মিছিলে মাঠে আসে না। বক্তা তালিকা কংগ্রেস নিজেদের মতো ঠিক করে, মঞ্চের টাইমে বামেদের বলার সুযোগ দেয় না বা কম দেয়। চাহিদা মতো কংগ্রেসী কোনো বিশিষ্ট বক্তাকে চাইলে তাদের উপেক্ষা করা। যেকোনো গন্ডগোল হলেই পলায়ন করে, পরবর্তী মামলা মোকদ্দমাতে সাথ দেয়না, ইত্যাদি। 

সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল- হাতে গোনা দু-চারটে আসনের বাইরে ৯৯% বুথে কংগ্রেসীদের এজেন্ট না দিতে পারার অক্ষমতা, উলটে বামেদের তরফে এজেন্ট বসাতে হয়েছে। এত কিছু করে ক্যান্ডিডেটকে জেতালে, সে বিক্রি হয়ে তৃণমূলে চলে যাবে না- এই আতঙ্ক সারাক্ষণ তাড়া করে ফিরেছে বামেদের। 

২০১৬ পরবর্তী বাম-কংগ্রেস জোটের পরীক্ষা যে একপ্রকার ব্যর্থ হয়েছে। ২০২৬ এর নির্বাচনের আগে কংগ্রেস নেতৃত্ব তথা রাহুল গান্ধী বিষয়টা বুঝে, একটা স্থির সিদ্ধান্তে আসতে সক্ষম হয়েছে। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে রাহুল গান্ধীর কেরলের ওয়েনাড আসনে দাঁড়ানোটাই জোট ভাঙ্গার ইঙ্গিত ছিল, ২০২৪ এ প্রিয়াঙ্কাকে পুনরায় ওখান থেকে প্রার্থী করে সেটাতে সীলমোহর দিয়েছিল। ইয়েচুরি পরবর্তী বাম নেতৃত্বের তরফে দেওয়াল লিখন পড়তে না পারার দায় তাদের নিজস্ব এ্যাচিভমেন্ট, বিশেষ করে বঙ্গ সিপিএম এর। বঙ্গ CPIM কাটা হাতকে সামনে ঝুলিয়ে রেখে, দুটো চারটে আসনে বৈতরিনী পার হওয়ার ঘিনঘিনে প্রচেষ্টা করলেও, মাটিতে টিকে থাকা বামকর্মী সমর্থকরা যে খুব ভালোভাবে নেয়নি, সেটা শুরুর দিন থেকেই পরিষ্কার ছিল। তাই ভোট পরবর্তী নির্বাচনী ফলাফল ব্যাখ্যার নামে বিরাট একটা বিবৃতি প্রকাশের দ্বারা- দায়িত্ব অস্বীকারের যে প্রবণতা নেতৃত্বের মধ্যে দেখা দিয়েছিল, সেখান থেকে বিভিন্ন রকম অজুহাতের মধ্যে ‘আমরা ভোট দিলেও কংগ্রেস আমাদের ভোট দেয় না’ জাতীয় একটি অক্ষম অজুহাত শুরুতেই বাদ পড়ে গেছে। 

সবচেয়ে বড় সমস্যার মুখোমুখি হতে চলেছে বামফ্রন্টের তথাকথিত শরিক দলগুলি। RSP ইতিমধ্যেই রাজ্যে তাদের সিম্বল হারিয়েছে, এই শতকের শুরুর মুর্শিদাবাদের মাটিতে তাদের শক্তিশালী অংশগুলিতেই আজ হুমায়ূন এর পার্টির উদ্ভব হয়েছে, তবে হুমায়ূন সম্পর্কে মন্তব্য করার মতো সময় এখনো আসেনি। এদিকে CPI আর SUCI এখন এক সারিতে দাঁড়িয়ে, সেই অর্থে এরা পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে কোনো শক্তিই নয়। রাজ্যে CPI এর সিম্বলটুকু টিকে আছে শুধুমাত্র পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কল্যাণে। বামফ্রন্টের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শরিক ফরওয়ার্ড ব্লক- কোচবিহার আর পুরুলিয়াতে পঞ্চায়েত স্তরে সামান্য অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পারলেও, উত্তর দিনাজপুর, হুগলি ও উত্তর ২৪ পরগনা, এমনকি মূল শহর কলকাতার সংগঠন শক্তি ও ভোটার সবকিছুই হারিয়েছে। উত্তরবঙ্গে বিজেপির উত্থান ও দক্ষিণবঙ্গে ISF দলের উত্থানের অন্যতম কারণ ফরওয়ার্ড ব্লকের ব্যর্থতা। 

জোটের দায়বদ্ধতার দরুন সিপিএম নেতৃত্ব নিজের ভাগের আসন ছেড়ে জোট সঙ্গীদের দিলে কোন সমস্যা ছিল না, কিন্তু নিধিরাম সর্দার অন্যান্য বাম শরিক, যাদের দলের ৯৫% চটির নিচে সেঁধিয়ে গেছে, তাদেরকে আসন বিষয়ে ছাড় দিতে বললেই তারা বেড়ালের মতো ফ্যাচ ফ্যাচ করে দাঁত নখ বের করে বাম ঐক্যের বিষয়ে গল্পমালা ফাঁদাটা অভ্যাসে পরিনত করেছে। আশ্চর্যজনকভাবে কেরলের UDF ফ্রন্টে RSP-ফরওয়ার্ড ব্লক কংগ্রেসের সাথেই আছে, সেটা পুরোটাই ভাবের ঘরে চুরি বা ধ্যাষ্টামো।

গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিরোধীরা রাজ্যের যে যেখানেই নির্বাচিত হয়েছে, তারা তৃণমূলের লুঠেরা বাহিনীকে প্রতিহত করে তথা পাল্টা ঠেঙিয়েই জিতেছে। আজ দীর্ঘদিন বাদে এমন ব্যাতিক্রমী পরিস্থিতে মহঃ সেলিম যেভাবে মিডিয়ার বাইনারিকে ভেঙে সিপিএমকে প্রাসঙ্গিক করার চেষ্টা করছেন, সেটার জন্য কোনো সাধুবাদই যথেষ্ট নয়। তাই তৃণমূলীয় লেঠেল বাহিনীর বিরুদ্ধে জিততে গেলে, পাল্টা মার দিতে হবে। নিজেরা না পারলে, যে পারবে তাকে সাথে নিতে হবে। এটাই সমসাময়িক আদর্শ। নতুবা বাংলা কংগ্রেস, স্বরাজ পার্টি, রাষ্ট্রীয় সমাজবাদী কংগ্রেস, প্রগতিশীল ইন্দিরা কংগ্রেস, বাংলা বাঁচাও ফ্রন্ট ইত্যাদির ভিড়ে নিজের দলকে দেখার জন্য মানসিক প্রস্তুতি নিন। CPI, RSP ও ফরোয়ার্ড ব্লক ওই অন্তর্জলী যাত্রার পথে অনেকটাই এগিয়ে গেছে। বামপন্থা তার বৈপ্লবিক আদর্শে নতুন অবতারে নতুন নামে আবার হাজির হবেই, কিন্তু আপনার পছন্দের দলটা এই ফর্মে থাকবে না, এটার গ্যারান্টি দিলাম।

RSS তাই পার্টি সেক্রেটারিকে মুসলমান হিসাবে দাগিয়ে দেবেই, কারণ ওরা মরিয়া। এই কারণেই যেকোনো মূল্যে ISF এর সাথে আসন সমঝোতাটাকে গুলিয়ে দিতে চাইছে RSS, বিজেপি যেহেতু ২০২৬ এর নির্বাচনে বাংলার ক্ষমতা দখলের লড়াই থেকে দৃশ্যত ছিটকে গেছে, তাই তাদের খোঁচর তৃণমূল যেন টিকে থাকে, এই চেষ্টাতে তারা জান লড়িয়ে দেবে, তবেই হিন্দুত্ববাদী রাজনীতি জীবিত থাকবে এই বাংলার মাটিতে, তবেই RSS এর এ্যাজেন্ডার বাস্তবায়ন ঘটবে বিনা বাধায়। এই কারণেই হুমায়ূনের সাথে সামান্য মিটিং করলেই গোটা মিডিয়া ও স্বঘোষিত বুদ্ধিজীবীরা অদ্ভুত জান্তব ব্যথায় ককিয়ে উঠে চেঁচিয়ে গাঁ মাথায় করছে। যেচে সিপিএমকে নীতি নৈতিকতার পাঠ পড়াচ্ছে, যাদের নিজেদের ও জিনিস কখনই ছিল না। 

সুতরাং, বাম-কংগ্রেস জোট না হয়ে বিরোধী ভোটের বিভক্তিতে যেখানে শাসক তৃণমূল শিবিরের উল্লসিত হওয়ার কথা ছিল, তার বদলে আইপ্যাক, তৃণমূল নেতৃবৃন্দ, তাদের কর্মীদল, তৃণমূল পোষিত বুদ্ধিজীবী, বিশ্বমাচাদো বিশ্লেষকের দল ও দালাল মিডিয়ার মধ্যে হাহাকার রব উঠে গেছে বহুমুখী ভোটের অজানা শঙ্কায়। এর পরেও এই পুঁজিবাদী ধর্মান্ধ RSS শেষ মুহুর্ত অবধি বামেদের ভিলেন বানাবার চেষ্টা করবেই। এর জন্য যেকোনো অসাধু উপায় তারা অবলম্বন করতেই পারে।

এখানেই আরো একটা ভয়াবহ বিষয় উঠে আসে, যা বামেদের গোটা সম্ভাবনাকে ভুঁয়ে মুড়িয়ে দিতে পারে। RSS এর ইতিহাস দেখলে দেখা যায়, প্রথমত তারা ডাবল এজেন্ট নিয়োগ করে। সবসময় অনেক দূরের লক্ষ্যে চারা রোপন করে, যেমন মমতা ব্যানার্জীর পিছনে তারা লগ্নি করেছিল, আজ পবন কল্যাণের পিছনে লগ্নি করছে। দ্বিতীয়ত, অন্যের খামারে বেড়ে উঠা তাজা প্রতিশ্রুতিমান লোভী নেতা-নেত্রীদের টার্গেট করে দলে ভিড়িয়ে, নিজেদের পার্পাস সার্ভ করে। ঠিক আজকের দিনে বাংলার শুভেন্দু, মহারাষ্ট্রে শিন্ডে, আসামে হেমন্ত বিশ্বশর্মা, মধ্যপ্রদেশে জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া এমন অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে। আসামে অগপ থেকে বিজয়া চক্রবর্তীকে নিয়ে এসেছিলো RSS, আজকের আসাম সহ গোটা উত্তরপূর্ব ভারতে যে সাম্প্রদায়িক অশান্তি- তার মূল বীজ বপন করেছিলো এই নৃশংস মহিলা। অতীত ঘাটলেও কংগ্রেস, সমাজবাদী দলগুলো এমনকি বামেদের ঘর থেকে গিয়েও অনেকে RSS এর প্রধান রাজনৈতিক শাখা BJP এর মুখ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নারায়ন রাণে, রীতা বহুগুণা যোশী, রভনীত বিট্টু, মুকুল রায়, গৌরব ভাটিয়া, নীরজ শেখর- অগুন্তি। 

মমতাকে কাউন্টার করার জন্য বিজেপির প্রতিটা মহিলা প্রোজেক্ট ফেল করেছে। রূপা গাঙ্গুলী ফেল, লকেট চ্যাটার্জী ফেল, দেবশ্রী চৌধুরী ফেল, অগ্নিমিত্রাও আঁটকে গিয়ে- মুসলমানকে ক্রিমিনাল দাগিয়ে মিডিয়াতে ভেসে থাকার চেষ্টাতে মত্ত। এদিকে বিজেপির একটা আগামীর মুখ ভীষণ দরকার, ইতিমধ্যেই বামেদের মহিলা ব্রিগেড যথেষ্ট শক্তিশালী। ABVP এর পাইপলাইনে এমন একটাও মুখ নেই যাকে নিয়ে ব্রাহ্মণ্যবাদী RSS আশাবাদী হতে পারে। ফাল্গুনি পাত্র, পামেলা গোস্বামী, শ্রীরূপা মিত্র, মৌসুমী বিশ্বাস, চন্দনা বারুই দের নামই শোনেনি বাংলার মানুষ। তাহলে?

এখানেই রাজন্যা হালদারের এ্যান্ট্রি হচ্ছে। না তাকে দলে নিয়েছে বিজেপি, না সে তৃণমূলে রয়েছে। রাজন্যার ডেবিউ হয়েছে স্বপ্নের মত, মমতার উপস্থিতিতে ২১শে জুলাই এর মঞ্চে । রাজন্যা কখনও ভোটেও লড়েনি, অথচ সে যেকোনো বিজেপি নেত্রীর চেয়ে বেশী পরিচিত ও জনপ্রিয়। সে সুন্দরী, প্রেসিডেন্সীর ট্যাগ রয়েছে, ভালো কথা বলে, বাকীটা ঘষামাজা করে নিলেই আগামী এক দেড় দশকে রেডি হয়ে যেতে পারে। দৃশ্যত আজকের জটাধারী রাজন্য হ্যাক হয়ে গেছে RSS এর ফাঁদে। যেমন ৯০ এর দশকের শেষ লগ্নে মমতা ব্যানার্জীতে RSS লগ্নি করেছিলো। তবে রেডি করা আর রেডি হয়ে যাওয়া দুটো এক নয়, রাজন্য একটা বাজি, সে বাজি সফল হবার চান্স যতটুকু, ফেল করার চান্সও ততটুকুই। RSS কী আর কারো দিকে গোপনে ললিপপ ছুঁড়ে দেয়নি হলপ করে বলতে পারবেন? তারা কী অন্য দলের উঠতি নেত্রীদের দিকে টোপ ফেলেনি?

তাই আগামীতেও আমাদের রাজ্যে যে এমন পুনরাবৃত্তি ঘটবে না বা ইতিমধ্যেই কাউকে গোকুলে গোপনে বাড়াচ্ছে না তারা, সে বিষয়ে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে সাথে সিপিএম নেতৃর্ত্বও কি সতর্কতা অবলম্বন করেছে?

এ বিষয়ে এই সিরিজের পরবর্তী কিস্তিতে লিখব, সম্ভাবনা ও সেই সংক্রান্ত ভয়।

…ক্রমশ


শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

২০২৬ প্রাক বিধানসভা নির্বাচনী প্রেক্ষাপটঃ কংগ্রেস পর্ব


 পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনের ৩৬০ ডিগ্রি এ্যাঙ্গেল খুলে গেছে


(১)

শিয়রে এক গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন। যেখানে কমপক্ষে ৬টা আলাদা আলাদা ফ্রন্টে লড়াই হতে চলেছে সম্মুখ সমরে- যারা যেকোনো মুহূর্তে হিসাবনিকেশ ফলাফল উলটে দিতে পারে। ফলত, CPIM তথা বা বাম জোটের কাছে একটা সুবর্ণ সুযোগ এসেছে নিজেদেরকে বেশ কিছুটা গুছিয়ে নিয়ে, সংসদীয় রাজনীতিতে নিজেদের প্রাসঙ্গিক করে তুলতে, যাতে আগামী দিনে কমিউনিস্ট রাজনীতির আদর্শে আবার জনগণকে একটা উন্নত সরকার উপহার দিতে পারে। 

তৃণমূল, বিজেপি, বামফ্রন্ট, কংগ্রেস, হুমায়ূন ও সমগোত্রীয় এবং SIR; নূন্যতম এই ছ'টা আলাদা আলাদা ফ্রন্টে লড়াই হতে চলেছে। প্রথমেই প্রশ্ন জাগবে SIR কেন ষষ্ঠ সত্ত্বা বা entity? আসলে SIR হলো সেই মিস্ট্রি স্পিনার, যার স্পেলে বাদ যাওয়া ভোটারেরা কার ঘর কতটা ভেঙেছে সেটাই সবচেয়ে বড় রহস্য, যা নির্বাচনের অভিমুখ ও বাংলার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে দেবে। আজকের দিনে কটা আসন যে মার্জিনাল, তা অতি বড় ভোট বিশেষজ্ঞও বলতে পারেনি। কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী খসড়াতে মোট বাদ যাওয়া ভোটারের সংখ্যা ৫৮ লক্ষ ২০ হাজার ৮৯৯। মানে প্রতিটা বিধানসভায় গড়ে ২০ হাজার ভোটার নেই হয়ে গেছে। মিথ্যা নথি জমা দিলেই জেল- এই তথ্য জানতে পারার পর, বাগদা বিধানসভায় শুনানিতে ডাক পাওয়া ৬০,৯২৮ জনের মধ্যে মাত্র ২১,৬২৮ জন হাজিরা দিয়েছে। বনগাঁ উত্তরে ৫৪,৪৯৩ জনের মধ্যে ১০,০৬৩ জন হাাজির হয়েছে। বনগাঁ দক্ষিণে ৪৭,৮৮৯ ডাক পাওয়ার মধ্যে ১২,১০৩ জন এসেছিল, গাইঘাটায় ৫৪,৪০৪ জনের মধ্যে ১৬,০৮১ জন হাজির হয়েছে। সুতরাং বিজেপির বুকে কাঁপন ধরিয়ে দেওয়ার জন্য এই পরিসংখ্যান কি যথেষ্ট নয়! ফাইনাল লিস্ট প্রকাশিত হলে প্রতিটা বিজেপি তৃণমূলের নেতামন্ত্রীদের ঘর থেকে মরাকান্নার গোঙানি ওঠা সময়ের অপেক্ষা।

তৃণমূলের হালের দিকে চেয়ে দেখুন, যেমন কোলকাতা পোর্ট কেন্দ্রে তৃণমূলের ফিরহাদ হাকিম ৬৮০০০ ভোটে জিতেছিল ২০২১ সালে, ওই কেন্দ্রে SIR এ বাদ গেছে ৭৪ হাজার নাম। অনুরূপ, বালিগঞ্জ কেন্দ্রে বাদ গেছে ৬৪ হাজার নাম, সেখানে বাবুল সুপ্রিয় ২০ ভোটে জিতেছিল। নন্দীগ্রামে হেরে এসে বাই ইলেকশনে ভবানীপুরে মমতা ব্যানার্জী জিতেছিলেন প্রায় ৫৯ হাজার ভোটে, সেই কেন্দ্রে SIR এ বাদ গেছে ৪৪ হাজার নাম। আর এ সবই প্রাথমিক খসড়া তালিকা অনুসারে, ফাইনাল তালিকাতে আরো কতটা কী বাদ যাবে কেউ জানে না। এই তিনটে তো স্যাম্পেল হিসাবে দিলাম, সবচেয়ে বেশী ভোটারের নাম বাদ যাওয়ার নিরিখে প্রথম ১০টি বিধানসভা কেন্দ্র জোড়াসাঁকো, চৌরঙ্গী, হাওড়া উত্তর, কলকাতা পোর্ট, শ্যামপুকুর, কাশীপুর-বেলগাছিয়া, বেলেঘাটা ইত্যাদির মতো সবকটা তৃণমূলের জেতা আসন। গোটা পশ্চিমবাংলা জুড়েই এই এক চিত্র, ২৯৪ টা আসনের কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারবে না যে এটা আমাদের কনফার্ম আসন। এই কারণেই আইপ্যাক শহর কলকাতা সহ কোথাও এখনো প্রার্থী ঠিক করেই উঠতে পারেনি, ঘোড়ার মুখের খবর ববি হাকিমের রাজ্যসভায় পালিয়ে যেতে চাওয়ার কারণও নাকি এই ঘোলাটে পরিস্থিতি।

এদিকে বামকর্মী সমর্থকদের প্রবল অনিচ্ছা জ্ঞাপনের দরুনই হোক বা শুভঙ্কর সরকারের নেতৃত্বাধীন জাতীয় কংগ্রেসের একলা চলো নীতি- বাম কংগ্রেস বিচ্ছেদ ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের মাঠটাকেই শুধু বড় করে দেয়নি, বাম ও কংগ্রেস উভয়কেই বিবিধ এক সম্ভাবনাময় পরিস্থিতির সামনে দাঁড় করে দিয়েছে; যেখানে RSS তাদের পোষ্য মিডিয়া সৃষ্ট ‘তৃণমূল-বিজেপি’ বাইনারির হেজিমনি হাজারো চেষ্টাতেও দাঁড় করিয়ে রাখতে পারছে না ‘জাপানি তেল’ দিয়েও। 

SIR এ একমাত্র নিশ্চিন্ত কংগ্রেস এবং বামেরা, এদের হারাবার কিছু নেই। কিন্তু তৃণমূল ও বিজেপির নাভিশ্বাস উঠে গেছে, আগেও লিখেছি ৯৩ টা এমন আসন রয়েছে যেখানে তৃণমূলের জয়ের মার্জিনের চেয়ে, খসড়া তালিকাতেই বাদ যাওয়া ভুতুড়ে ভোটারের সংখ্যা অনেক বেশি। পাশাপাশি SIR প্রক্রিয়ার দরুন বিজেপি তার কোর ভোটারদের কাছেই অবিশ্বাসের পাত্র হয়ে উঠেছে।

দেশজ রাজনীতিতে জাতীয় কংগ্রেস দীর্ঘদিন ধরে কখনও মুলায়ম, কখনও লালুপ্রসাদ, কখনও শিবু সোরেন, শরদ পাওয়ার, দেবগৌড়া, কিম্বা পশ্চিমবঙ্গে কখনও মমতা কখনও সিপিএম জাতীয় অসম জোটের মধ্যে থেকে- কংগ্রেস কোথাও শক্তি খুইয়েছে আবার পশ্চিমবঙ্গের মতো কোথাও একেবারে সাইনবোর্ডে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন পরে রাহুল গান্ধীর ‘সাহসী সিদ্ধান্ত’র দরুন বাংলার প্রতিটা প্রান্তের কংগ্রেসি ভোটারেরা অন্তত ২০ বছর পরে নিজের বুথে হাত চিহ্ন দেখতে পাবেন। 

কিন্তু কংগ্রেসের সাথে বামেদের জোট হচ্ছে না, তার জন্য সোশ্যালমিডিয়া জুড়ে তৃণমূল পোষিত বিশ্বমাচাদো বুদ্ধিজীবী, আইপ্যাক, মিডিয়া হাউস, এমনকি বিজেপি অবধি মরাকান্না জুড়েছে, কেন? 

শুরুতে কংগ্রেসী ভোটাররাই মূলত তৃণমূলে কনভার্ট হয়ে গিয়েছিলো বাম বিরোধীতার নামে। পরবর্তীতে তৃণমূল যখন জাতীয় কংগ্রেসকে গ্রাস করে নিঃস্ব করে দিল, তখন পিছন ফিরে আদি কংগ্রেসী ভোটারেরা দেখেছে- আমরা প্রতারিত হয়ে ফেঁসে গেছি, ফেরার পথ নেই। শুরুতেই বলেছি এরা বামেদের ভোট দেবে না কোনও ভাবেই, বিজেপির সাম্প্রদায়িক রাজনীতিকে এনারা ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে ঘেন্না করেন, পড়ে রইল তৃণমূল। গত ১০ বছরে কংগ্রেসের নিজস্ব সিম্বল না পেয়ে অনেকে বাধ্য হয়ে তৃণমূলকে ভোট দিয়েছে, যা এবারে হবে না। এটা তৃণমূলকে একপ্রকার উন্মাদ করে দিয়েছে। ১০ বছর আগের অগ্নিকন্যা দুর্নীতির আগুনে পুড়ে, আপাদমস্তক চোরের দলের মাথা হিসাবে ঘুগনি কন্যায় রুপান্তরিত হয়েছেন; তাই ‘হাত সিম্বল’ পেলে' এই তৃণমূল আর নয়” জপতে জপতে আদি কংগ্রেসী ভোটার ঘরে ফিরে যাবেই যাবে।

কংগ্রেসের ভোট কীভাবে বহুমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে, সেটার দিকে তাকানো যাক। উপরেই বলেছি, নিজের দলকে ভোট দেওয়ার সুযোগ। তৃণমূল ও বিজেপির বিরুদ্ধে প্রতিবাদী ভোট, যারা তৃণমূলের নিপাত চায়, মুক্তি চায়। যারা বিজেপিকে কখনই গ্রহণযোগ্য মনে করে না এবং সাইলেন্ট কংগ্রেস ভোটার। গ্রামগঞ্জে এখনো অনেক বয়স্ক মানুষ আছে, যিনি নিজে ও তার পরিবার আদপেই কন-ম্যান, শাসক বিরোধী কোনো দলের সভায় যায় না, কিন্তু ভিতরে ভিতরে চরম কংগ্রেসপন্থী- এরা হাত চিহ্ন পেলে, ভোটটা তাতেই দেবে। দেশে বহু মানুষ এমন আছেন যারা ঐতিহ্যগত ভাবে কমিউনিজমের বিরুদ্ধে, কিন্তু ধর্মনিরপেক্ষ ও সংবিধানভিত্তিক শাসন চান, তারা কংগ্রেসে ছাপ মারবে। আরেকটা জটিল মনস্তত্ত্বও রয়েছে, বিশেষ করে শিক্ষিত মধ্যবিত্তের একটি অংশ যারা কেন্দ্রে বিজেপির পতন চায়, তারা কংগ্রেসকে শক্তিশালী করতে হাতে ছাপ দেবে, যাতে ভবিষ্যতের জন্য দলকে শক্ত করা যায়। অনেকের ভাবনা, তৃণমূলের পতন হলেই রাজ্যে ডানপন্থী বিজেপি বিরোধী শক্তি হিসাবে কংগ্রেসই আবার উঠে আসবে, যে ট্রেন্ড অন্য অনেক রাজ্যেই হয়েছে, সেটার নান্দীমুখ হিসাবেও অনেকে কংগ্রেসে ভোট দেবে। 

এই বহুমুখী লড়াই এর ময়দানে কংগ্রেস কালো ঘোড়া, তারা কটা আসন জিতবে সেটার চেয়ে বড় হচ্ছে তারা কত শতাংশ ভোট পাবে যদি অবাধ ও লুঠ মুক্ত নির্বাচন হয়। SIR পরবর্তী বাংলাতে অন্তত ১০০ টির বেশি বিধানসভা কেন্দ্রে কংগ্রেসের ভোট আশ্চর্যজনক ভাবে বাড়বে, আর এই ভোটের প্রতিটাই যে তৃণমূল ও বিজেপির ঘর কেটে বেরিয়ে আসবে সেটা বলাই বাহুল্য। আর কিছুদিন গেলেই মিডিয়া জুড়ে ‘বিজেপি আসতে চলেছে’ এই প্রচারে ঢেকে যাবে। প্রতিটা মৌলবাদী শক্তি এভাবেই বাইনারি তৈরি করে, সদ্য সমাপ্ত বাংলাদেশী নির্বাচনে জামাতের ফেসবুকীয় আমির- পিনাকী ভট্টাচার্য মন্ত্রীসভা অবধি গঠন করে দিয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়াতে। বাস্তবের ফলাফল চোখের সামনে, সোশ্যাল মিডিয়া ন্যারেটিভ তৈরি করে, ভোটটা মাটিতে হয়- যেটা করাতে হয় ময়দানে উপস্থিত থেকে। মিডিয়ার বিভ্রান্তি থেকে বেঁচে থাকাটাও এবারে জনগণের বড় পরীক্ষা।

বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

আমেরিকার মালিক কে?



গতকাল হিজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী USA  পার্লামেন্টে গিয়েছিলো। সেখানে এই নপুংশকটা উপস্থিত হওয়া মাত্র মার্কিন সাংসদেরা এমন সমস্বরে উলুধ্বনি ও হাততালি দিয়ে উঠলো, যেন তাদের ভাই হয়েছে। এই উচ্ছাসের কী কারন হতে পারে সাদা চোখে? ইজরায়েল বা নেতানিয়াহু কোন এমন কাজটা করেছে, যার জন্য এমন বাঁধভাঙা উল্লাস? কারন একটাই, ইজরায়েল নামের তোলাবাজটা আছে বলে মধ্যপ্রাচ্যে লুঠের দাদাগিরিটা চালিয়ে আমেরিকার পেট চলছে, আমেরিকা নামের রাষ্ট্রটা টিকে আছে।

কেন নপুংশক? ভিডিওটা দেখুন। আমেরিকা, মানে ইজরায়েলেরই পোষক পিতা, সেখানে এই মরদ নিজের সিকিউরিটি নিয়ে এমন আতঙ্কে আছে যে, বিমানবন্দর থেকে সংসদ ভবনে যাবে, সেই গোটা রাস্তাটা বন্ধ করে দিয়েছে। সামনে পিছনে ২০০ সশস্ত্র গাড়ির কনভয়, আকাশে ৪টে হেলিকপ্টার, সর্বত্র ছড়িয়েছিটিয়ে অসংখ্য সার্প শ্যুটার, আশেপাশের বিল্ডিং এ স্পেশাল ইসরাইলি পুলিশ ।  উঁহু, আমেরিকার কোনো রাষ্ট্রপতির জন্য এমনটা করা হয়না।

হ্যাঁ, এটা আমেরিকার রাস্তায় হিজরায়েলী বীরের বীরত্বের নমুনা। গণহত্যাকারী নিজেই সর্বক্ষণ আতঙ্কে থাকে, এও তার ব্যতিক্রম নয়। গোটা আমেরিকা জুড়ে ইহুদিরা বিক্ষোভ করছে এই হিংস্র নরপশুটার আগমনে। ওদিকে আমেরিকার সেনেটে সে কী উল্লাস-

আমেরিকা নামের দেশটার মালিক আসলে কী ইজরায়েল?

বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

মিডিয়া প্রোপ্যাগান্ডাঃ মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী হাতিয়ার


আগামী শতকে যখন আজকের ইতিহাস লেখা হবে বিশ্লেষণের আলোকে, একটাই মূল ও সার সত্য হিসাবে উঠে আসবে- মিডিয়ার চেয়ে ক্ষতি আর কিচ্ছু করেনি সমকালীন সমাজকে, বিশেষ করে বিংশ শতের শেষ ও একবিংশ শতকের প্রথম দেড় দশক, মোট ৩০ বছর। বিষাক্ত মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ আর তাদের পেটোয়া পুঁজিবাদী প্রতিটা ল্যাসপেন্সারকে বিশ্বজুড়ে প্রতিষ্ঠা করিয়েছে ক্রমাগত মিথ্যা প্রচারণা আর প্রোপাগাণ্ডা দিয়ে। সংবাদপত্র, রেডিও, নিউজ চ্যানেল- এই ট্রায়ো দিয়ে জনমত তৈরি করেছে। মার্কিন কলোনিয়ালিজম এর মূল অস্ত্র পরমানু বোমা, বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ৭০০ সেনাঘাঁটি, আধুনিক রণতরী কিম্বা বোমারু বিমান নয়, মার্কিন ইম্পিরিয়ালিজমের মূল অস্ত্র হলো মিডিয়া। 

নিউ ইয়র্ক টাইমস, দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট, Fox News, CNN, MSNBC, NBC, CBS, ABC - রাজনৈতিক বিশ্লেষণ। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (AP), নিউস কর্পোরেশন (রুপার্ট মারডক), ডিজনি, ওয়ার্নার ব্রাদার্স, ইত্যাদি এগুলো সব মার্কিন মিডিয়া জায়ান্ট। কলোনিয়াল সাম্রাজ্যবাদীদের বাবা অর্থাৎ ইউরোপের সংমাধ্যমগুলো আরো বড় মিথ্যুক, যেমন BBC, AFP, রয়টার্স, গার্ডিয়ান, ল্যা মঁদ বা ডয়েচে ভেলে প্রত্যেকে শয়তান। আমাদের তৃতীয় বিশ্বের প্রতিটা সংবাদ সংস্থার, আন্তর্জাতিক সংবাদের মূখ্য সোর্স এই উপরের প্রতিষ্ঠানগুলোই। এই কারনে ইরাণের কোথায় অশান্তি হচ্ছে সেটা আপনার কানে সর্বক্ষণ বাজানো হলেও, আমেরিকাতে যে রীতিমত গৃহযুদ্ধ চলছে ICE এর ধরপাকরের জন্য, সে খবরের কিছুই জানেননা আপনি। কারন, প্রোপাগান্ডা মেশিনারি আপনাকে জানাতে দিতে চাইনি। আমাদের সংবাদ সংস্থা গুলোর কাছে বিকল্প কোনো অপসনও নেই যেখান থেকে খবর সংগ্রহ করবে। এটাই মিডিয়ার খাদ্যশৃঙ্খল, এভাবেই গত ১০০ বছর ধরে চলে এসেছে, সাম্রাজ্যবাদীরা যেভাবে চেয়েছে যেমনটি চেয়েছে, সেভাবেই প্রচার করেছে। সোভিয়েত খারাপের প্রচার, উত্তর কোরিয়া, ইসলামোফোভিয়া, ‘ফিল্টি’ ভারত, কিম্বা অসভ্য আফ্রিকা- যাকে যা সাজাতে চেয়েছে, মিডিয়ার দ্বারা তারা সেটাই করিয়ে ছেড়েচে। তারা বলেছে ন্যাংটা হয়ে যাওয়া আধুনিকতা, বাকি বিশ্ব সেটাকেই সত্য জেনেছে।   

আজকে সোস্যালমিডিয়া পশ্চিমাদেরই তৈরি, এই অস্ত্র ব্যবহার করেই তিউনিসিয়া থেকে আরব বসন্ত শুরু করেছিলো, যার দ্বারা গোটা মধ্যপ্রাচ্যকে শ্মশান বানিয়ে ছেড়েছে। ইরাণের মাটিতেও যাবতীয় অশান্তি এই সোস্যালমিডিয়া দিয়েই শুরু করেছিলো মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ, ইরান সরকার ইন্টারনেট কেটে দিলেও তারা স্টারলিঙ্ক ডিভাইস দিয়ে সন্ত্রাস জারি রাখার প্রচেষ্টা রেখেছিলো। চিনা প্রযুক্তি, ইলন মাস্কের স্টালিঙ্কের লেজ কেটে দিতে, তবে লাথ খাওয়া ঘেয়ো কুত্তার মত মুখ পুড়িয়ে ফিরেছে CIA  ও মোসাদ বাহিনী। সুতরাং, মিডিয়ার সাহায্য ছাড়া মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ পুরোপুরি অচল, যেমন গোদী মিডিয়া ছাড়া বিজেপি অস্তিত্বহীন। 

বাকি বিশ্বে সোস্যালমিডিয়ার দৌলতেই আজকের জামানাতে প্রিন্ট ও টিভি মিডিয়া পথে বসেছে। মেইনস্ট্রিম মিডিয়ার সাজানো মিথ্যার বেসাতিতে ফর্দাফাই করে ছিঁড়ে দিচ্ছে, প্রতিটা মুহুর্তে তারা ধরা পরে যাচ্ছে। জবাবদিহি করতে গিয়ে দিশেহারা হয়ে যাচ্ছে। ইচ্ছামত ন্যারেটিভ বানাতে পারছেনা, সত্য এসে এদের মিথ্যা ফানুস ফাঁসিয়ে দিচ্ছে। নিজেদের তৈরি করা অস্ত্রেই নিজেরা কুপোকাত হয়ে গেছে। ফলত, মিডিয়া ব্যবসা ও এখান থেকে পেট চালানো বেশ্যা সাংবাদিকেরা আজ বাটি হাতে ভিক্ষার পাত্র নিয়ে বসে পরেছে সরকারের পায়ের নিচে। 

আজও তারা সেটাই করছে যা গত ১০০ বছর ধরে করে এসেছে- ক্ষমতার দালালি, পশ্চিমাদের লিখে দেওয়া স্ক্রিপ্ট অনুযায়ী লাগাতার প্রচার। সেদিন মানুষ এদের অন্ধ বিশ্বাস করত, আজ সার্কাসের মত করে উপভোগ করে। তাদেরই তৈরি টুলকিট লাগাতার যেমন মিথ্যা প্রোপাগান্ডা পোষ্টগুলোকে সামনে আনে, তেমনই কুকি সিস্টেম সেই মিথ্যার পালটা সত্যকেও টাইমলাইনের ফিডে এনে হাজির করে দেয়। ফলে মানুষের সামনে একই সাথে সত্য ও মিথ্যা মুখোমুখি এসে ধরা দেয়। জ্ঞানবানেরা মিডিয়ার এই পক্ষপাতদুষ্টতা ও বিকিয়ে যাওয়া কলমকে দ্রুত ধরে ফেলে, এই জন্য আজ মেইনস্ট্রিম মিডিয়া পথে বসেছে, তাদের গণেশ উল্টানোর দশায় রয়েছে।

মিডিয়ার পাপ ধরতে গেলে রোজ ১০টা করে আর্টিকেল আগামী ১০ বছর ধরে লিখলেও শেষ হবেনা। পুঁজিপতি, এলিট আর ক্ষমতাবানের মুখপত্র হয়ে ছেয়ে রয়েছিলো এই মিডিয়া। সাধারণ মানুষের কথা ততটুকুই এরা ছাপতো, যতটুকু না ছাপলে মুখোশ খুলে যাবে। এই মিডিয়াই করোনার আতঙ্ক বিক্রি করেছিলো, মৃত্যুর খবর রোজ প্রতি ঘন্টায় আপডেট করে 'ভ্যাক্সিন' বিক্রির ব্যাবসার বিজ্ঞাপন করেছিলো। এটা সামান্য উদাহরণ মাত্র। আজ এদের তৈরি নিপা ভাইরাস বাজারে খায়নি। বাংলাদেশের মিডিয়ার দিকে চেয়ে দেখুন, ওদের মিডিয়া T-20 বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে নিজেদের জনগণকে কেমন ‘চদু’ বানাচ্ছে। লাগাতার ভারত বিরোধী জনমত তৈরিতে মিডিয়াই তো মূল ভূমিকা পালন করেছে। দুই কোটি রোহিঙ্গা আর ২৬ লাখ ভারতীয়- হিসাবে খুব পার্থক্য রয়েছে কি? দুটো আলাদা আলাদা দেশ, কিন্তু মিথ্যার আকৃতি এক ছাঁচে তৈরি। যেমন গ্যাস চেম্বারে ৬০ লক্ষ বিশেষ ধর্মের জনগণকে হত্যার গল্প বাজারে এসেছিলো ইউরোপে, নন্দীগ্রামের রসুলপুর নদীর কুমিরের মতই। 

মিডিয়ার চেয়ে হারামি ও শয়তান আর কোনো অভিশাপ আধুনিক সমসাময়িক সমাজের উপরে আসেনি। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ থেকে মোদী- সব এই মিডিয়া প্রোপাগান্ডার ফসল। প্রায় ৮০% হিন্দুর দেশের ৩৪% হিন্দু জনগণ বিশ্বাস করে 'হিন্দু খতরেমে হ্যায়', শুধু মাত্র মিডিয়ার প্রচারণার ফলে- বলা ভালো গোদী মিডিয়ার সৌজন্যে। এই মিডিয়াই আগামী বিধানসভা ভোটে ঝাঁপিয়ে পড়বে বাইনারি তৈরি করতে, অন্ন বস্ত্র বাসস্থানের দাবীকে চাপা দিয়ে মন্দির মসজিদ গরু শুয়োরে ব্যতিব্যস্ত করে রেখে দেবে। কোনো গালিগালাজই এদের জন্য যথেষ্ট নয়।

একটা বোমা একবার মানুষ হত্যা করে ২০০ হোক বা ৫০০ জন। যেকোনো মৌলিবাদী সন্ত্রাসী জঙ্গি হামলাতে নির্দিষ্ট এলাকার নির্দিষ্ট একটা মানুষ মারা যায়। মিডিয়ার সন্ত্রাসী প্রোপাগাণ্ডার ফলে যুগ যুগ ধরে মিথ্যাচার, ঘৃণা আর অবিশ্বাস ছড়ানোর ফলে- গোটা সমাজ পচিয়ে শেষ করে দেয় জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে। মিডিয়ার বাক্য বোমায় প্রজন্মের পর প্রজন্ম মানসিকভাবে বন্ধ্যা হয়ে যায়। এরা বিশ্বাস করতে শেখে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ অজেয়, তারাই একমাত্র পৃথিবীর ভালো চায়, এরা শেখে ৭২ হুর প্রাপ্তিই জীবনের আল্টিমেটাম লক্ষ্য, এরা শেখে গোমুত্রেই জীবনের সারবত্তা লুকিয়ে আছে। মিডিয়াই শিখিয়েছে লোনের পাঁকে ডুবে থেকে, ধার করা জীবনের নাম সফলতা। এরা শয়তানকে ঈশ্বর বানায়, ঈশ্বরকে শয়তান। মিডিয়া জনগণের কল্যাণের জন্য নয়, সাম্রাজ্যবাদী পুঁজিবাদীদের মূল হাতিয়ার ছিলো। হ্যাঁ ছিলো, কারন মেইনস্ট্রিম মিডিয়া আজ তার নিজের পাপের ভারেই ভেন্টিলেশনে চলে গেছে।

গণতন্ত্রের যে ধারা আজ বিশ্বজুড়ে টিকে আছে, সেটা মার্কিনীদের ‘এপস্টিন’ মানবতাবদের অনুপ্রেরণাতে তৈরি। এরাই লাদেন, আলকায়দা, সাদ্দামকে তৈরি করে, আবার এরাই সন্ত্রাসের নামে এদের নিকেশ করে শান্তির দূত সাজে। এদের দাস হলে তুমি যা খুশি করো সব সিদ্ধ, নতুবা গণতন্ত্রের নাম করে ‘ভিয়েতনাম’ বা ‘ইরাক’ বানিয়ে দেবে। মাত্র ১০০ বছরে গণতন্ত্রকে পচিয়ে দিয়েছে এই মিডিয়া। গণতন্ত্রের নামে বিশ্বজুড়ে যা চলছে, সেটারও আপডেট তথা নবায়ন প্রয়োজন। নতুবা স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে অন্ধকারে অপহরন করলে, বা কোন দেশ কোথা থেকে তেল কিনবে সেটা মোড়ল রাষ্ট্র ঘোষণা করে যখন, তখন এই গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রশ্ন না উঠলে নিজের সুস্থতা নিয়ে প্রশ্ন উঠে যাবে। একে পচাবার একমাত্র মূখ্য কারিগর গণতন্ত্রেরই চতুর্থ স্তম্ভ- মিডিয়া।

বাকি তিনটে স্তম্ভের কী অবস্থা রয়েছে মিলিয়ে নিন। বিশ্বের সর্বত্র দেখার দরকার নেই, সামান্য নিজেদের রাজ্যটুকুতে দেখুন, তারপর নিজেকে প্রশ্ন করুন।

১ নং স্তম্ভ- আইনসভা। এই গুলো নাচিয়ে গাইয়ে মূর্খ অশিক্ষিত সমাজবিরোধী দিয়ে ভর্তি। কেন্দ্র হোক বা রাজ্য, সর্বত্র এক চিত্র। প্রায় সকলে মিথ্যুক, সকলে চোর। মানুষই এদের ভোট দেয় মিডিয়ার বাইনারিতে ফেঁসে গিয়ে। ২ নং স্তম্ভ- বিচার ব্যবস্থা। পুরোপুরি পচে না গেলেও- আস্থার উপরে ভরষা করে রামমন্দিরের রায় আসে আজকাল। অবসরের পরেই শাসকের দলে নাম লেখায় বিচারকেরা। যাবজ্জীবন দন্ডে দণ্ডিত ধর্ষক রামরহিম নিয়মিত ছাড়া পেলেও বিনা বিচারে উমর খালিদ বন্দি থাকে অর্ধ দশক। শাসকের ইচ্ছামত মামলা ঝুলিয়ে রাখা যায়, DA দিক বা না দিক, আদালত ঠুঁটো জগন্নাথ। আদানির বিরুদ্ধে মামলা শোনার সাহসই নেই আদালতের, কারন সে আইনেরও উর্দ্ধে। কত বলব এমন?

তৃতীয় হলো - পুলিশ ও প্রশাসন। ১৩ পাওয়া পলাতক বিডিও, আর চেয়ারের নিচে লুকানো ঘুষখোর পুলিশ। গণতন্ত্রের মা'কে এরা পতিতাপল্লীতে বেচে দিয়েছে। এদের সম্বন্ধে লেখা মানে নিজেকে নর্দমাতে ছেড়ে দেওয়া। আর শেষ স্তম্ভ হলো এই মিডিয়া। যারা সকল পাপের মা, কারন মিথ্যাচারটা এরাই করে, লাগাতার, বারবার। দাড়ি সুমন থেকে বিজ্ঞ ঘোষাল হয়ে কুণাল ঘোষ কিম্বা ময়ূখ- সামান্য আরামবাগ টিভির চিল্লানোসরাস থেকে বঙ্গ টিভির মহিলাটি, চেয়ে দেখলেই মিডিয়ার চরিত্র ধরা পরে যাবে।

স্বর্গ নরক জান্নাত জাহান্নাম কোনো জীবিত মানুষ দেখেনি, তবে প্রতিটা কঠিন পাপের সাজা জীবদ্দশায় পেয়ে যায় মানুষ ও তাদের সৃষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো। মিডিয়া ও তাদের সাথে জুড়ে থাকা প্রতিটা মিথ্যুক খুব দ্রুত কঠিন সাজার মুখে পরবেই, প্রত্যেকে পরবে। কীভাবে পরবে তা মহাকালই জানে। সেদিন তাদের হারামের কামাই এর সম্পদও বাঁচাতে পারবেনা।

মিডিয়াকে ঘৃণা করতে শিখুন ও আমাদের উত্তর প্রজন্মকেও শেখান। এটাই ধর্মের বা ইমানের অন্যতম অঙ্গ হওয়া উচিৎ। 



মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

ঘৃণ্য ব্রাহ্মণ্যবাদ, মমতা ব্যানার্জী ও রাজ্যের মুসলমান সম্প্রদায়

 


বিজেপির রাজনৈতিক ন্যারেটিভ কি?


হিন্দু খতরেমে হ্যাঁয়, কারন আগামী দশ বা বিশ বছরের মধ্যেই নাকি গোটা ভারত মোল্লাদের হাতে চলে যাবে, তারা সংখ্যাতে এতো বেশী বাড়ছে। অতএব বিজেপিকে ভোট দাও, RSS কে আর বেশী শক্তিশালী করো।

RSS এর সফট হিন্দুত্ববাদী ও মুসলমানকে অশিক্ষিত হাঙ্গামাবাজ দুধেলগাই বানাবার প্রধান মুখ- মমতা ব্যানার্জী। তোলামূলের আদর্শ বিজেপির ওই উগ্র হিন্দুত্বের মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে, আমাকে ভোট দাও নাহলে বিজেপি চলে আসবে। বাইনারি সম্পূর্ণ।

RSS এর ব্রাহ্মণ্যবাদী উচ্চবর্ণের নেতাগুলো উচ্চবর্ণের হিন্দুদের নেতা তো বটেই, পাশাপাশি মুচি চামার বাগদি সহ প্রতিটা অন্তজ্যদের নেতা, আদিবাসীদের নেতা, মুসলমানদের নেতাও তারাই। এর বাইরে নিম্ন বর্ণের কোনো হিন্দু, কোনো মুসলমান, কোনো খ্রীষ্টান যতক্ষণ ব্রাহ্মণ্যবাদীদের লেঠেল ততক্ষণ সে ঠিক আছে; যদি তাদের কেউ নেতা হিসাবে উঠে আসে বা দাবী করে, এই সমগ্র ব্রাহ্মণ্যবাদী সিস্টেম তাকে সাম্প্রদায়িক হিসাবে দাগিয়ে দেবে। উদাহরণ হিসাবে হুমায়ূনই যথেষ্ট।

সমাজে মাত্র সাড়ে তিন শতাংশের কাছাকাছি একটা সম্প্রদায়, মানে যারা এই ব্রাহ্মণ্যবাদী তথাকথিত উচ্চবর্ণ সমাজ- এরা সকল ধর্মের প্রতিনিধিত্ব করবে। আর এটাই সেকুলারের সংজ্ঞা, এটাই গণতান্ত্রিক সৌন্দর্য, এটাই রাষ্ট্রবাদীতা। কিন্তু একজন মুসলমান বা একজন হরিজন কিম্বা কোনো খ্রীষ্টান যদি সেই দাবী করে, অমনি সে সাম্প্রদায়িক, সে মৌলবাদী। ব্রাহ্মণ তথা উচ্চবর্ণের হিন্দু হলে সে বাই ডিফল্ট সেকুলার। তারা হেমন্ত বিশ্বশর্মা বা অগ্নিমিত্রা পালের মত প্রকাশ্যে সাম্প্রদায়িক উস্কানি দিলেও- রাষ্ট্রযন্ত্র, আইন, মিডিয়া সেগুলোকে তুচ্ছ হিসাবেই গ্রহণ করে। কারন এই সকল প্রতিষ্ঠানের মাথাতেও ব্রাহ্মণ্যবাদীদেরই ভিড়, স্বভাবতই তারা এ বিষয়ে অন্ধ।

এদিকে বামপন্থী সেলিম, হুমায়ূনের সাথে মিটিং করলে, ISF এর সিদ্দিকি ভায়েরা বক্তিতা দিলে, কিম্বা পূর্ব মেদিনীপুরের রুহুল আমিন নতুন JUP দল খুললেই, সে মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক হয়ে যায়। আর এর প্রচারণাটা কে বা কারা করে? ওই ব্রাহ্মণ্যবাদীদের দ্বারা পরিচালিত, তথা ব্রাহ্মণের ঔরসে ‘নিয়োগপ্রথাতে’ যাদের জন্ম, সেই বেজন্মা মিডয়া হাউজ- যেমন আনন্দবাজার, প্রতিদিন, বর্তমান, আজকাল, জি মিডিয়া, রিপাবলিক, এই সময়- এই জাতীয় মিডিয়ার পতিতারা প্রচারের দায়িত্বে থাকে। এর বাইরে কিছু উচ্ছিষ্টভোগী অন্ত্যজ, যারা ব্রাহ্মণ্যবাদীদের পায়ের নিচে থাকাটাকে মোক্ষ মনে করে, তারাও এই প্রোপাাগান্ডার অংশ। এদের ন্যারেটিভ খুব স্পষ্ট- নেতা অবশ্যই ব্রাহ্মণ হতে হবে, নিদেনপক্ষে ক্ষত্রিয়; মুসলমান, বাগদি, আদিবাসী বা হরিজন তাদের স্বজাতির পক্ষে কথা বললেই সেটা সাম্প্রদায়িকতা, সেটাই মৌলবাদ। স্বজাতির মাঝেও তারা কেন নেতা হবে! নেতা শুধু ব্রাহ্মণবাদীদের মধ্য থেকে হবে।

শুরুটা যা দিয়ে করেছিলাম, আগামী সিকি শতকে ভারত নাকি মোল্লাদের দেশ হয়ে যাবে- তাই হিন্দু খতরেমে হ্যাঁয়, এটাই তো বিজেপির একমাত্র ও আদি ইস্যু। তথ্য কী বলছে? জেনে ও শিখে রাখুন, আগামীতে আপনাদের পেশাজনিত কাজে লাগবে, যারা সাংবাদিকতা করে পেট চালান।

তথ্য মোতাবেক আজকের তারিখে দেশের মোট জনসংখ্যার ১১৫ কোটিই হিন্দু, শতাংশের বিচারে যা ৭৯%। মুসলিম জনসংখ্যা প্রায় ১৫%, সংখ্যার বিচারে যা ২১.৮০ কোটির আশেপাশে। খ্রিস্টানদের সংখ্যা প্রায় ৩% এর আশেপাশে, যদিও কিছু প্রতিবেদন অনুযায়ী এই সংখ্যা ১০% এরও বেশী, যা ক্রমবর্ধনশীল। গোপন ধর্মান্তরের কারণে বিপুল পরিমান হিন্দু ক্যাথোলিক খ্রীষ্টানে কনভার্ট হয়েছে, যেটা তথ্যে আসেনা। শিখধর্ম, বৌদ্ধধর্ম, জৈনধর্ম ও অন্যান্য সম্প্রদায়গুলো যথাক্রমে ১.৭%, ০.৭% এবং জৈনরা ০.৪%।

১৯৫১ সালের তথ্য মোতাবেক সদ্য স্বাধীন দেশে হিন্দু জনসংখ্যা ছিলো ৩০.৪০ কোটি, ১৯৬১ সালে এটা পৌঁছায় ৩৬.৭০ কোটিতে। অর্থাৎ, ১০ বছরে বৃদ্ধি ৬.৩০ কোটি। ১৯৭১ সালে হিন্দু জনসংখ্যা ছিলো ৪৫.৩০ কোটি। এই ১০ বছরে বৃদ্ধি ছিলো ৮.৬০ কোটি। হিন্দু জনসংখ্যা ৫৬.২০ কোটিতে পৌঁছায় ১৯৮১ সালে, এই দশকে ১০.৯০ কোটি বৃদ্ধি পায়। ১৯৯১ সালের জনগণনাতে ১২.৮০ কোটি বৃদ্ধি পেয়ে এই জনসনংখ্যা ৬৯ কোটিতে দাঁড়ায়। ২০০০ সালের জনগণনা অনুযায়ী হিন্দু জনসংখ্যা ৮২.৮০ কোটিতে পৌঁছায়, ১৩.৮০ কোটির বৃদ্ধি সহ। সর্বশেষ জনগননা ২০১১ মোতাবেক হিন্দু জনসংখ্যা ৯৬.৬০ কোটিতে ছিলো, ২০২৬ এর আগত জাতি-জনগননা অনুযায়ী পরিসংখ্যান বিদেরা অনুমান করছেন হিন্দু জনসংখ্যা ১১৫ কোটি ছোঁবে। এই সংখ্যা শুধু জন্মহারেই বেড়েছে এমনটা নয়, নেপাল, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তান থেকে আগত হিন্দু শরনার্থী অনুপ্রবেশকারীরাও রয়েছে।

তথ্যের সাদাকোলো হিসাবে মুসলিম জনসংখ্যার ‘গ্রোথ রেট’ কী বলছে!

১৯৫১ সালের তথ্য মোতাবেক সদ্য স্বাধীন দেশে মুসলমান জনসংখ্যা ছিলো ৩.৫০ কোটি, ১৯৬১ সালে এটা পৌঁছায় ৪.৭০ কোটিতে। অর্থাৎ, ১০ বছরে বৃদ্ধি ১.২০ কোটি। ১৯৭১ সালে মোল্লা জনসংখ্যা ছিলো ৬.১০ কোটি। এই ১০ বছরে বৃদ্ধি ছিলো ১.৪০ কোটি। ইসলাম জনসংখ্যা ৮.১০ কোটিতে পৌঁছায় ১৯৮১ সালে, এই দশকে ১.৯০ কোটি বৃদ্ধি পায়। ১৯৯১ সালের জনগণনাতে ২.৬০ কোটি বৃদ্ধি পেয়ে এই জনসনংখ্যা ১০.৭০ কোটিতে দাঁড়ায়। ২০০০ সালের জনগণনা অনুযায়ী মুসলমান জনসংখ্যা ১৩.৮০ কোটিতে পৌঁছায় ৩.১০ কোটির বৃদ্ধি সহ। সর্বশেষ জনগননা ২০১১ মোতাবেক মুসলমান জনসংখ্যা ১৭.২০ কোটিতে ছিলো, ২০২৬ এর আগত জাতি-জনগননা অনুযায়ী পরিসংখ্যান বিদেরা অনুমান করছেন দেশে মুসলমানের সংখ্যা ২১.৮০ কোটি ছোঁবে।

শেষ ৭৫ বছরে ভারতে হিন্দু বৃদ্ধি পেয়েছে বছরে ১.৭৯% হারে। পাশাপাশি মুসলমানেরা বৃদ্ধি পেয়েছে ২.৪৭% বাৎসরিক হারে। অঙ্কের হিসাবে এইভাবেই যদি চলতে থাকে, ৩২৬ বছর পর দুই সম্প্রদায়ের সংখ্যা সমান সমান হবে। ১৯৫১ সালের নিরিখে ৭৫ বছর ইতিমধ্যে অতিক্রান্ত হয়েছে, আগামীতে হিন্দু মুসলমান সমান সমান হতে আরো ২৫১ বছর সময় লাগবে, ২২৭৭ সাল নাগাদ। এই হিসাব আজকের মত স্বাভাবিক পরিস্থিতিকে ধ্রুবক ধরে ভাবা হয়েছে, গাজার মত নির্বিচারে মুসলিম হত্যা, আসামে বিশ্বশর্মা সরকারের তীব্র ইসলাম বিদ্বেষ, মিয়ানমারের মত রোহিঙ্গা বিতারণ, কিম্বা বাংলাদেশের মত হিন্দু অত্যাচার ও বিতারণ হলে হিসাব এলোমেলো যাবে।

২৫১ বছর আগের, মানে ১৭৭৫ সালের পৃথিবী কেমন ছিলো জানেন? স্বাধীন আমেরিকা তখনও জন্মায়নি, তখনকার ভারত ধীরে ধীরে ঔপনিবেশিক শাসনের দিকে চলে যাচ্ছে, একেবারে রূপান্তরের মাঝখানে থাকা বহুভাগে বিভক্ত একটা ভূখন্ড। আজকের ভারতের কনসেপ্টই ছিলোনা তখন, না ছিলো গণতন্ত্র। ভারতজুড়ে নানান আঞ্চলিক শক্তি, মারাঠা সাম্রাজ্য, মহীশূরের হায়দার আলি, লক্ষৌ, হায়দরাবাদ, বাংলা ইত্যাদি অঞ্চল বিবিধ নবাবদের দখলে। গ্রামাঞ্চলে জোতদার জমিদারদের রমরমা। পুরোনো সাম্রাজ্য ভাঙছে, নতুন শাসন গড়ে উঠছে। দিল্লির মুঘল সাম্রাজ্য ভাঙনের দোর গোঁড়ায়। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি দ্রুত শক্তিশালী হচ্ছে দেশে, ১৭৫৭ পলাশীর যুদ্ধ ও ১৭৬৪ সালে বক্সারের যুদ্ধ জয়ের ফলে, ১৭৭৫ নাগাদ বাংলা, বিহার, উড়িষ্যা কার্যত কোম্পানির অধীনস্ত। না ছিল রেল, না বাস বা ইঞ্জিন চালিত গাড়ি, না বিদ্যুৎ, না আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা। মানুষ চলাফেরা করত, ঘোড়া, হাতি, পালকি, গরুর গাড়ি, নৌকা আর পায়ে হেঁটে। শিক্ষা বলতে পাঠশালা, মাদ্রাসা আর টোল।

আগামী ২৫১ বছর পর, ২২৭৭ খ্রীষ্টাব্দে তৎকালীন সভ্যতা ও বিজ্ঞান আমাদের কোথায় নিয়ে যাবে কেউ জানিনা, কিন্তু সেই দিনটার ভয় দেখিয়ে আজকের শিক্ষা, আজকের স্বাস্থ্য, আজকের রোজগার, আজকের প্রয়োজনীয় সব দাবিদাওয়া ভুলিয়ে দিয়ে ‘হিন্দু খতরেমে হ্যাঁয়’ বীজমন্ত্র জপিয়ে উলঙ্গ ভোটের রাজনীতি করছে বিজেপি- ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে। আর এই বিজেপিকে রুখতে আপনাকে তোলামূলের চোরগুলোকে ভোট দিতে হচ্ছে, যারা বিজেপিকে রাজনৈতিক জমি দিয়েছে ঘৃণা চাষের জন্য। নিজেকে চার অক্ষরের বোকা বলে মনে হয়না আপনার?

হ্যাঁ, মুসলমাদের এই বৃদ্ধিতে ব্রাহ্মণ্যবাদী RSS এর উচ্চবর্ণের নেতৃত্ব ভয় পেয়েছে বৈকি। ১৯৫১ সালে তাদের জনসংখ্যা ছিলো ওই ৫% এর কাছাকাছি, আজ ২০২৬ সালে সংখ্যাটা কমে সাড়ে তিন শতাংশ হয়ে গেছে। আদতে সংখ্যালঘু হয়ে, এই নিকৃষ্ট ব্রাহ্মন্যবাদীরা রাষ্ট্রের সমস্ত শাঁসালো পদ দখল করে বসে আছে। তারাই সকলের নেতা হয়ে বসে আছে। এরাই জন্মগত সেকুলার, এরা রাষ্ট্রবাদী এবং এরাই একমাত্র গণতান্ত্রিক। আপনি মুসলমান, নেতা হতে চাইলেই এই কায়েমি গোষ্ঠীটা আপনাকে মৌলবাদী, সাম্প্রদায়িক, সমাজবিরোধী এমনকি রাষ্ট্রবিরোধী বলে দাগিয়ে দেবে- আর এর জন্য কোনো প্রমাণ বা তথ্যের দরকার নেই, তাদের মুখের কথাই যথেষ্ট।

বিজেপি শয়তান এতে সন্দেহই নেই, কিন্তু মমতা ব্যানার্জী কি? দিনের শেষে তিনিও তো সেই RSS এরই নেত্রী। সাচার কমিটির রিপোর্ট ফেরি করে উনি মসিহা সেজে মুসলমানের ভোটে ক্ষমতার সিংহাসনে চড়েছিলেন, ওনার ১৫ বছরের রাজত্বে সরকারী চাকরিতে মুসলমানের সংখ্যা আরো আরো কমেছে। মুসলমানের মাথাপিছু রোজগার কমেছে, মুসলমানের ফ্যাক্টারি ও বড় ব্যবসা গুলো বন্ধ করিয়ে দিয়েছে, মুসলমানের সামাজিক সুরক্ষা কমেছে, OBC সংরক্ষণে মুসলমানদের পথে বসিয়েছে, ওয়াকফের বড় একটা সম্পত্তির অংশ ১ নং খতিয়ানে তুলে দিয়েছে।

বিজেপি জুজু দেখিয়ে সারাক্ষণ ভয়ের পরিবেশ টিকিয়ে রাখার জন্য মুসলমানের প্রশাসনিক হয়রানি বাড়িয়েছে। মুসলমান ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার WBCS অফিসার বাড়লে তার ক্রেডিট আল-আমিন মিশন জাতীয় একান্ত ইসলামিক সংগঠন গুলোর সৌজন্যে, মমতা ব্যানার্জীর কোনো কৃতিত্ব নেই। ওনার কৃতিত্ব ওয়াকফের টাকায় ইমাম ভাতা দিয়ে, সেটার উল্টোপিঠে পুরোহিত ভাতা দেওয়া ট্যাক্সের টাকায়। রেডরোডে ঈদের নামাজ হতো যেহেতু, পালটা হিসাবে সেখানে দুর্গা কার্নিভাল হওয়ানো। ট্যাক্সের টাকায় গুচ্ছের মন্দির বানানো, ক্লাবে ক্লাবে পুজোর জন্য টাকা উড়ানো। ওনার অবদান এটুকুই। মালদা মুর্শিদাবাদে একটা নতুন বিশ্ববিদ্যালয় অদধি করেনি, যাতে সম্প্রদায়টা একটু উন্নত হয়; অবশ্য উন্নত হলে তাদের মানে ব্রাহ্মণ্যবাদীদের হয়ে রক্তক্ষয়ী লড়াই করবে কে!

কিছু সময় বাদ দিলে, গত ১৫টা বছর ধরে রাজ্যের সংখ্যালঘু দপ্তরের মন্ত্রী, ব্রাহ্মণ মমতা ব্যানার্জী। তিনিই মুসলমানদের মসিহা সেজে সম্প্রদায়ের নাম দিয়েছে দুধেলগাই, আজকাল আবার ‘ওই ২৭%’ বলে তাচ্ছিল্যের ডাক ডাকেন উনি। তার বিধানসভায় বিজেপির অগ্নিমিত্রা মুসলমান সমাজকে ক্রিমিনাল বললেও তার মুখে সেলোটেপ বাঁধা থাকে, আসলে ২৯৩টা RSS এর সদস্যের একটা হাউজে কীভাবে মুখ্যমন্ত্রী প্রতিক্রিয়া দেবেন? এখানে দুজনেই RSS কর্মী, সহকর্মী নেত্রীর বিরুদ্ধে বললে নাগপুরে কৈফিয়ত দিতে পারবেন উনি? ব্রাহ্মণ স্পিকার বিমান ব্যানার্জী কী অগ্নিমিত্রা পালের বক্তব্য বিধানসভার কার্য বিবরণী থেকে বাদ দিতে পেরেছেন? সারাবছর তিনি RSS এর মন্দির রাজনীতির বাস্তবায়ন করেন, পরিকল্পিত দাঙ্গা লাগান যাতে মুসলমান ভয়ে থাকে। আর ভোটের আগে মাথায় হিজাব বেঁধে ভড়ং সেজে, মুসলমানকে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের ময়দানে নামিয়ে দেয়, লুঠপাঠ মারামারি করে তোলামূলকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে।

শেষ ১৫ বছরে যতগুলো রাজনৈতিক মৃত্যু হয়েছে, তার মধ্যে সবচেয়ে বেশী মরেছে মুসলমান, পরিবারগুলো সর্বশ্রান্ত হয়েছে। এছাড়া মৃতের তালিকাতে নিম্ন বর্নের হিন্দু আছে, কিছু আদিবাসীর দেখাও মেলে; কিন্তু ১টা মৃত এমন দেখান, যিনি ব্রাহ্মণ। অথচ তোলামূলের মন্ত্রীসভা থেকে দলীয় পদের দিকে তাকান, সেখানে মুসলমান প্রায় নেই, থাকলেও ফিরহাদ হাকিমের মত- ‘গুড মুসলিম’। নেহাত SC, ST OBC সংরক্ষিত আসনগুলিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতিনিধি ও রাজ্য জুড়ে ১১০টা মুসলিম ভোটার অধ্যুষিত আসনে মুসলমানদের মধ্যে থেকেই প্রার্থী দিতে হয় বাধ্য হয়ে, নতুবা উনি সেখানেও দক্ষিণ কোলকাতার ব্রাহ্মণ সন্তানদেরই দাঁড় করাতেন, যিনি RSS এর প্রো-হিন্দুত্ববাদের ধ্বজাধারী।

রাজ্যে ২৭% মুসলমান, সেই হিসাবে ২০২১ সালের তোলামূলের ২৯১ জন প্রার্থীর মধ্যে ৭৮ জন মুসলমান হওয়া উচিৎ ছিলো, টিকিট পেয়েছিলো ৪২ জন। স্বভাবতই তোলামূলের ২২৩ জন MLA এর মধ্যে, ৬০ জন মুসলমান না থেকে, রয়েছে ৪১ জন। ৪৪ জন মন্ত্রীর মধ্যে ১২ জন মুসলমান থাকার বদলে আছে তার অর্ধেক, মাত্র ৬ জন। এই হচ্ছে মমতা ব্যানার্জীর মুখ ও মুখোশ।

বিজেপি আর তোলামূল আলাদা কেউ নয়, দুটোই RSS এর শাখা, একটা মুখ অন্যটা মুখোশ। তাই তোলামূলের বিকল্প কখনও যেমন বিজেপি হতে পারেনা, তেমনই বিজেপি আসুক বা না আসুক- উগ্র হিন্দুত্ববাদ তথা RSS নামের ক্যান্সারের এর বিস্তার থামবেনা তোলামূলের রাজত্বে। গত ১৫ বছরে অফিসিয়ালি ১৫৭% বৃদ্ধি পেয়েছে RSS এর নানান খোঁচর সংস্থা গুলো, যারা সমাজে বিষ ছড়াবার কাজ করে। আপনার ভিতরে সুখের অর্গাজম হচ্ছে, কারন CPM জিরো। এদিকে সেই জিরোর সুবিধা নিয়ে গোটা রাজ্যে RSS এর ১,৪৯২টি শাখা, ৮০০টি মিলন ইউনিট এবং ৩০০টি মণ্ডলী রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্র জুড়ে গজিয়ে উঠেছে। ব্লকের হিসাবে ৩৪১টির মধ্যে ২৬২টিতে তাদের অস্তিত্ব রয়েছে। যারা বিজেপি ও তোলামূল উভয়ের জন্যই কাজ করে। এরা চুড়ান্ত ব্রাহ্মণ্যবাদী, নিম্নবর্ণের হিন্দুদের লেলিয়ে দেয় মুসলমানের সাথে, কিম্বা নিজেদের মধ্যে মিথ্যা কারনে লড়াই করায়, যাতে ব্রাহ্মণ্যবাদীরা ক্ষমতায় টিকে থাকে। কিন্তু আপনি জানেন CMP জিরো, আর সেই সুখেরই তো ঠিকানা নেই, বাকি কিছু ভাবার সময় কোথায়! 

আপনার নেতা কে হবে আপনি ঠিক করুন। উমা ভারতী, স্বাধ্বী প্রজ্ঞা বা যোগী আদিত্যনাথেরা যত গেরুয়া বস্ত্রের ভেক ধরে মূল ধারার রাজনীতিতে সাম্প্রদায়িকতার চাষ করবে, তারই উল্টো পিঠে মিমের আসাউদ্দিন ওয়েইসি, ISF এর নৌসাদ কিম্বা সদ্য গঠিত JUP এর রুহুল আমিনেরাও মাথায় ফেজ টুপি পরে মুসলমানদের নেতা হিসাবে আবির্ভুত হবেই। গত ১৫ বছর ধরে মুসলমানেরা ব্রাহ্মণ মমতা ব্যানার্জীকেই তো নিজেদের নেতা মেনে এসেছিলো, তাতে উনি কী দিয়েছেন? ওয়াকফের সম্পত্তি কেড়ে নিয়েছেন, মুসলমানের সন্তানকে ভিনরাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিক বানিয়েছেন, গোটা সম্প্রদায়কে দুধেল গাই বানিয়েছেন, গুন্ডা আর তোলাবাজ সিন্ডিকেটের লুঠেরা বাহিনী বানিয়েছেন, আর সর্বক্ষণ বিজেপির ভয় দেখিয়েছেন। আজ হুমায়ূন যদি বাবরি মসজিদের নামে নেতা হয়ে যায়, সেই দায় একমাত্র মমতা ব্যানার্জীর।

মুসলমান সমাজ ওনাকে নেতা হিসাবে মেনে নেওয়ার সাথে সাথে, ঢেলে ভোট দিয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতাতে টিকিয়ে রেখেছিলো দেড় দশক। তাতে বিপুল চুরি চামারির শেষে মুসলমানদের জন্য কী করেছেন? বিজেপিকে তাড়াতে গেলে আগে তোলামূল তাড়ান, নতুবা আপনার কোনো ভবিষ্যৎ নেই, আতঙ্কে, দাঙ্গায়, অশিক্ষায় আর দারিদ্রের সাথে পদদলিত হয়ে, ব্রাহ্মণ্যবাদীদের দাস হয়ে বেঁচে থাকা ছাড়া বিকল্প নেই।


তৃণমূলের প্ররোচনার ফাঁদে পা দেবেন না

⛔ সতর্কতামূলক পোষ্ট ⛔ আজ SIR এর ভোটারলিষ্ট বার হবার পর- জনরোষের দোহায় দিয়ে দিকে দিকে ‘সংগঠিত অশান্তি’ লাগাবার ‘ফুল প্ল্যান’ নিয়ে এগোচ্ছে শাা...