তোলামূল লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
তোলামূল লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

অঙ্কঃ ২০২৬ ভোটের আগেই তৃনমূল ফিনিশ

 

মমতা ব্যানার্জীর রাজনৈতিক কেরিয়ার শেষ, ভোটের আগেই তৃণমূলও ফিনিস। অঙ্ক সেটাই বলছে। মিলিয়ে নিন নাহয়-

মুখ্যমন্ত্রী মোটামুটি নিশ্চিত ১কোটি ২০ লাখ নাম কাটা যাচ্ছেই। কিছু ভুলভ্রান্তি বাদে, ধরে নেওয়া যায় ১ কোটি ১০ বা ৫ লাখ অবৈধ ও ভুয়ো ভোটার। নিদেন পক্ষে ১ কোটি নাম বাদ যাওয়া কেউ রুখতে পারবেনা।

রাজ্যে ২০২৪ সালের ভোটার লিষ্টে ৭ কোটি ৬০ লাখ ভোটার ছিলো। যার মধ্যে পোল হয়েছিলো ৬ কোটি ৫ লাখ মত ভোট। উপরোক্ত ওই সম্ভাব্য বাদ যাওয়া ১ কোটির আশেপাশে ভুতুরে ভোটারের প্রায় সমস্ত ভোটটাই পোল হয়েছিলো, যার ৮০% তৃণমূলের বাক্সেই গিয়েছিলো, এটা বলার জন্য কোনো বিশেষজ্ঞ হতে হয়না। 

পোলিং ভোটের ৬ কোটির নিরিখে ওই ১ কোটি মানে ১৬.৬৬% ভোট নেই হয়েছে। যার মধ্যে ১৪% এরও বেশী ভোট ভুতুরে ভোট তৃণমূলের ছিলো, যেটা গায়েব হতে, ২০২৪ এর ভোটে প্রাপ্ত তৃণমূলের ৪৩.৬৯% ভোট শেয়ার কমে দাঁড়াবে- ২৯.৬৯% তে। 

২০২৬ এর নিরিখে রাজ্যে মুসলমান ভোট দাঁড়াবে কমবেশী ৩০%, যার মধ্যে বাম+কংগ্রেস ও অন্যান্য ছোট দল মিলে ৫% পায়। বাকি ২৫% এর গোটাটা তৃণমূল পেয়ে এসেছে গত ১৪ বছর ধরে প্রতিটা নির্বাচনে। এখন এই মুসলমান ভোটের মাত্র অর্ধেক, হ্যাঁ- যদি অর্ধেকও যদি তৃণমূলের মুখে ঝাঁটার বারি মারে, তৃণমূলের ২৯.৬৯% ভোট কমে ১৭%তে মুখ থুবড়ে পরবে। ৫০টা আসনে জিতলেই তৃণমূল বর্তে যাবে। এর পর চুরি দুর্নীতির কারনে কিছু বাদ গেলে তো আরো শেষ। 

পিসি ভাইপো গায়ক নায়ক ধমকে চমকে টাকা ছড়িয়ে,  জাপানি তেল রকেট ক্যাপসুল ভায়াগ্রা সর্বিট্রেট RSS কোনো ওষুধই তৃণমূলের শ্মশানযাত্রা আঁটকাতে পারবেনা নিশ্চিত। দুর্নীতিগ্রস্থ BDO/SDO আর থানার অসাধু দলদাস OC/IC এর দলও যদি তৃণমূলের হয়ে প্রকাশ্যে রাস্তায় নেমে পরে উলঙ্গ হয়ে- তারাও জনরোষের শিকার হবে, তাদেরও পরিবার পরিজন আছে। হারামের টাকায় ফুর্তিমারা কোনো চোর বাটপার এবারে পাড় পাবেনা।

সুতরাং, আতঙ্কিত মমতা ও i-Pac সমানে SIR এর মুসলমানকে বাদ দিচ্ছে এমন গল্প ফেঁদে মুসলমান সমাজকে অশান্ত করে রাজ্যে অরাজকতা সৃষ্টি করতে চাইছে। মুসলমান সম্প্রদায়কে ভয় দেখিয়ে উস্কিয়ে রাজ্যে দাঙ্গা পরিস্থিতি তৈরি করতে চাইছে। আসল সমস্যার লক্ষ গুন মিথ্যা প্রচার। যেমন SIR এর লাইনে লোকে অসুস্থ হবার গল্প ছড়াচ্ছিলো, অথচ বেকার ভাতার লাইনে সবাই ফুর্তিতে রয়েছে। আতঙ্কিত মুসলমান নয়, আতঙ্কিত তৃণমূল। মুসলমানের নাম বাদ কতটা যাবেনা জানিনা, কিন্তু তৃণমূলের নাম নিশান মুছে যাবে রাজ্যের বুক থেকে- এটার দেওয়াল লিখন পড়া যাচ্ছে।

যতটা আতঙ্কিত হবার কথা, তার লক্ষ গুণ আতঙ্ক তৃণমূল নিজে ছড়াচ্ছে তাদের পোষ্য মিডিয়া আনন্দবাজার, সংবাদ প্রতিদিন, TV9 বাংলা, আজকাল আর বর্তমান মিলে। সাথে ফেসবুক আর ইউটিউবের ভাতাজীবি কিছু স্বঘোষিত মিডিয়া আর বিশ্বমাচাদো সাংবাদিক কুল। তোলামূলের হারামের টাকায় পুষ্ট এরা আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য জান কবুল লড়াই করছে যাতে তাদের রোজগার বেঁচে থাকে।

মমতা ব্যানার্জীও সর্বশক্তি দিয়ে চেষ্টায় আছে, যেন তেন প্রকারে ২০২৪ এর ভুতুরে ভোটারলিস্ট ধরে ভোট করাতে। SIR নিতে তার মূল আপত্তি ভুতুরে ভোটার বাদ দেওয়া যাবেনা। মমতা ব্যানার্জী নিজেও ভোটে না দাঁড়িয়ে পালাতে চাইছে- এতে তাদের ভয় ও আতঙ্ক স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আগামীতে যা খুশি হোক- মমতা ব্যানার্জীর রাজনৈতিক কেরিয়ার দৃশ্যত ফিনিস।

সুতরাং, কোমর বেঁধে রাস্তায় নেমে পরুন। আমীতে রাজ্যের ক্ষমতায় কে আসবে তার চিত্র আজও পরিষ্কার নয়, কিন্তু এটা নিশ্চিত যে- ২০২৬শে কোনো অঙ্কে তোলামূল আর ফিরছেনা- এটার চেয়ে সত্যি এই মুহুর্তে আই কিচ্ছু নেই।

CPIM এর জন্যও এ এক চুড়ান্ত সুযোগ, মিডিয়াকে ভৌ ভৌ করতে দিন, কুত্তা ভৌভৌ করবে, কষিয়ে ক্যাৎ করে একটা লাথ মারলে কেঁউকেঁউ করে লেজ গুটিয়ে পালাবে। শুধু মাটিতে দাঁত কামড়ে পড়ে থেকে ভোট গণনা অবধি জান লাগিয়ে দিতে হবে। 


জনগণের বিজয় অদুৱেই। 


সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

দাঙ্গা ALART

 

যেকোনো সময় রাজ্যে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগিয়ে দিতে পারে তৃণমূল বিজেপি ও তাদের বাপ RSS. সমস্ত ধরনের জাপানি তেল, রকেট ক্যাপসুল, ভায়াগ্রা, তন্ত্রমন্ত্র, ঝাড়ফুঁক ইত্যাদি কোনো কিছুতেই বিজেপি - তৃণমূল বাইনারি দাঁড়াচ্ছে না। তারা মরিয়া হয়ে উঠেছে সংবাদ শিরোনাম ফিরে পেতে।

রাজ্যের মুসলমান ১৫ বছর ধরে রোজ ঠকেছে মমতা ব্যানার্জীর কাছে। সাচার কমিটির রিপোর্ট দেখিয়ে ক্ষমতায় এসে, মুসলমানকে আরও খাদে ঠেলে দিয়েছে। মুসলমানের চাকরি হয়নি, তাদের OBC গেছে, ওয়াকফের সম্পত্তি খেয়ে নিয়েছে তৃণমূল সরকার, মুসলমান বাড়ির ছেলেরা পরিযায়ী হয়ে বালবাচ্চা পরিবার ছেড়ে ভিনরাজ্যে ধুঁকছে- তাই মুসলমান সমাজ এবারে তৃণমূলকে কুরবানি দিয়ে তবে কুরবানির ঈদ পালন করবে বলে একটা সিদ্ধান্তে এসে গেছে।

এদিকে মুসলমান ভোট না পেলে তোলামুলের হাতে হ্যারিকেন পিছনে বাঁশ। ভাইপো সহ গোটা মন্ত্রীসভা ও দলের হোমরাচোমরারা জেলের দেওয়ালে আঁকিবুঁকি কাটবে। স্বভাবতই দেবাংশু, কুণাল ঘোষ, পোষ্য ভাতাজীবি বুদ্ধিবিচি ভাঁড়ের দল, বিশ্বমাচাদো সাংবাদিক কুল, এবং স্বয়ং ভাইপো- চেষ্টার খামতি রাখেনি। কিন্তু কোনো অস্ত্রেই, মমতা ব্যানার্জী এই যাত্রায় বিজেপি জুজু দাঁড় করাতে পারেনি আজ অবধি। তাই বাধ্য হয়ে মোদীকে নামতে হয়েছে আসরে।

তৃণমূলের মুসলমান নেতাদের হাল দেখুন। জাভেদ খান গ্যারেজ, ববি হাকিম প্রতিষ্ঠিত চোর, ওয়াকফের সম্পত্তি চুরি করে রাজনীতি থেকেই পালিয়ে যেতে চাইছে। উত্তরের রব্বানি, হামিদুর, করিম চৌধুরী, আকতারুজ্জামান, খলিলুর, আবু তাহের, গিয়াসউদ্দিন মোল্লা, সহ অধিকাংশ মুসলমান MLA/MP লাগাতার চুরিচামারি করে এখন প্রায় চলৎশক্তিহীন লোলচর্ম বৃদ্ধ। সৌমিক হোসেনরা নেই, মৌসমের মত হাওয়া মোরগের দল আগেই দলবদল করে কংগ্রেসে ফিরেছে। সাবিনা ইয়াসমিন ধুঁকছে, পাবলিক জুতো ছুড়ছে। 

ডোমকলের জাফিকুল ইসলাম কয়েক'শ বিএড কলেজের মালিক ছিল, ইডি রেইড করতেই আতঙ্কে রক্তবমি করে পটল তুলেছে। কালীগঞ্জের নাসিরউদ্দিন আহমেদও মরে গেছে, তারপর সেই বোম কাণ্ডের পরে ওখানে তৃণমূল গোরস্থানে বসে আছে- মাটি দিয়ে জানাজা পড়া বাকি। নাকাশীপাড়ার কল্লোল খাঁ, পাঁচ'ছ বারের MLA, ভয়ংকর ভাবে অ্যান্টি এস্টাবলিশমেন্ট এর কবলে। একই কেস পাঁচলার গুলশন মল্লিকের।

বীরভূমে কাজল সেখ বা শাহনাওয়াজ পাড়ার কুত্তা, ফুটো মস্তান। একদা ফেমাস লাবপুরের মনিরুল কোথায় কেউ জানে না। সিদ্দিকুল্লাহ নিজের দলের কর্মীদের হাতেই সকাল বিকাল ক্যালানি খাচ্ছে। ভাই এর মৃত্যু বেচে নেতা হওয়া রুকবানুর চুরি ছাড়া আর কিছুই করেনি। ইউসুফ পাঠান- না খায় না গায়ে মাখে নিজেই জানেনা। আকবর আলি খন্দকার বা সুলতান আহমেদের বউ সহানুভূতির  বিধবা ভাতা কোটার প্রোডাক্ট। আফরিন আলির সত্যিকারের ধর্ম কেউ জানে না। পার্কস্ট্রিট ধর্ষণ কান্ডের আসামি কাদেরের বান্ধবী ন্যাংটা নুসরত কয়েকটা বিয়ে করে গ্যারেজ।

মমতার মুসলমান প্রেম দেখতে হলে অবিভক্ত মেদিনীপুরের দিকে তাকাতে হবে। এখানকার ৩৫ টা বিধানসভা কেন্দ্র মুসলমানদের কতটা গুরুত্ব দিয়েছে তা নিশ্চিত ভাবে বোঝা  যায়, যখন দুই মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম থেকে মুসলমানদের প্রতিনিধি হচ্ছে জুন মালিয়া আর দেব। বর্ধমানের মুসলমান প্রতিনিধি রাজ চক্রবর্তীর স্ত্রী মহানায়িকা শুভশ্রী। পাঁশকুড়ার পশ্চিমের ফিরোজা বিবির শহীদের রক্তের গল্প ফুরিয়ে গেছে। হুগলিতে ফুরফুরার লাল দাড়ি ত্বহা চাচাকে মাঝে মাঝে ঝাঁপি থেকে বের করে আগে ফোঁস করাত, নৌসাদের চোটে কাকা পীরের দম শেষ। আগে টিপু সুলতান মসজিদের ইমাম মমতার হয়ে ওয়াজ করতেন, তিনিও দেহ রেখেছেন।

সোনারপুর উত্তরের ফেরদৌসী বেগম 'মোমো কাণ্ডের' ২৫ টা লাশ লুকাতে ব্যস্ত, নিজে টিকিট পাবে কিনা তাই সন্দেহ। ওদিকে আমডাঙার রফিকুর যদি টিকিট না পায়, একদা বাম তথা অধুনা তোলামুলের সম্পদ আব্দুল সাত্তারের পেছনে হুঁড়কো গুঁজে দেবে, অতএব সাত্তার আউট।

কলকাতা সংলগ্ন ২৪ পরগনার ইদ্রিশ আলি, হাজি নুরুল, ইকবাল আহমেদ, এমন অনেকে কবরে শুয়ে কাটমানি খাচ্ছে। থাকার মধ্যে রয়েছে শওকত, কাইজার, আরাবুল, জাহাঙ্গির আর শাহজাহান - এই হচ্ছে মমতার আসল মুসলমান মুখ। সবকটা গন্ডমুর্খ, সবকটা প্রতিষ্ঠিত চোর, সবকটা দুষ্কৃতি সমাজবিরোধী হিসাবে 'বাংলার গর্ব'।  এরাই হচ্ছে মমতার পাঁচে পঞ্চবান।

সবেধন নীলমনি ছিল বেলডাঙার হুমায়ূন, সে তো এখন মোঘল সুলতান। ডেবরার পুলিশ অফিসার হুমায়ূন কবীর যেকোনো দিন মোঘলাই হুমায়ূনের টিমে চলে যাবে। বীরভূমের হাল আরো খারাপ, হাসান, নলহাটি, মুরারই তিনটে কেন্দ্রে প্রায় ৫৫% এর উপরে মুসলমান- মুসলমান জনপ্রতিনিধি নেই।

এরা মুসলমানকে উচ্ছিষ্টভোগী চোর আর লেঠেল বানিয়ে রেখেছে। 

তাহলে তোলামূলের ভোট বৈতরণী কাকে দিয়ে পার করাবে ২০২৬ এর নির্বাচনে? পাতি-কুরে এমনি এমনি লগ্নি করতে করতে হয়নি i-pac কে। তার পরেও মুসলমান ভোটকে ভয় দেখাতে পারছে না মমতা ব্যানার্জী, বিজেপি, RSS ও তাদের খোঁচর সংগঠনগুলো। এটা ভয়ানক সিঁদুরে মেঘ ওদের জন্য, অতএব সাধু সাবধান।

সবজি বাজার আগুন, মুদি, গ্যাস, ওষুধপত্র কিনতে গিয়ে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠে যাচ্ছে। কেউ হিন্দু বলে কি অন্য হিন্দু দোকানদারটা দাম কম নিচ্ছে? সুতরাং বিজেপির জামানার এই দ্রবমূল্যবৃদ্ধি ও কর্মহীনতা- বিভ্রান্ত হিন্দু ভাইবোনেদের অনেকেরই ধর্মান্ধতার নেশা ছুটিয়ে দিয়েছে।

এই অবস্থায় হিন্দু ও মুসলমান - উভয়ের ভোটকে মেরুকরণ করতে গেলে ভীষণভাবে একটা দাঙ্গা প্রয়োজন। ভীষণ ভীষণ ভীষণ। তাই আপনারা আমরা শুভবুদ্ধি সম্পন্ন সকলেই যেন হুশিয়ার ও সতর্ক থাকি- তৃণমূল বিজেপির পাতা ফাঁদ থেকে। এরা পারে না হেন কোনো নিকৃষ্ট কাজ নেই। আর দাঙ্গা লাগানোতে RSS সার্টিফায়েড শয়তান। এদের সমস্ত চক্রান্ত আমাকে আপনাকেই ভেস্তে দিতেই হবে। দল হিসাবে CPIM, Indian National Congress, Nawsad Siddique প্রত্যেককে এই বিষয়ে বিশেষ সতর্কতা মূলক উদ্যোগ নিতে হবে।

মুসলমান সমাজ জানে আগামী ২৭শে মে কোরবানির ঈদ, ২০২৬ বিধানসভা ভোটের ফলাফলও এর আশেপাশেই বের হবে সম্ভবত। এই কোরবানি ঈদেই আমরা তৃণমূল সরকারকে জবাই করে দেব গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে, ইনশাল্লাহ।

রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

শৃঙ্খলা ও বামপন্থা

 


(১)

টিভি মিডিয়ার সান্ধ্য খেঁউড়ের আসর আর সোশ্যাল মিডিয়ায় সর্বজ্ঞানী আখড়া থেকে- ২০০৯ পরবর্তী জন্মানো নেতাদের সেন্সর করুন, দেখবেন রাজ্য CPIM পার্টি দু'দিনে দাঁড়িয়ে পড়েছে। মূর্খ সমর্থকের দল শূন্য পাবে এটাই স্বাভাবিক ঘটনা। প্রজা রাজা নির্বাচন করবে, এটাও গণতন্ত্রেরই নিয়ম। বস্তুত, বামপন্থা, বিপ্লব এগুলো গণতন্ত্রের তরোয়াল, আর তরোয়াল মূর্খ গাধার হাতে মানায় না। সমর্থককূল মেরুদন্ড ফেরত পেলে, দল হরিণের মতো ছুটবে, এর জন্য সবার আগে শৃঙ্খলা প্রয়োজন।

কমিউনিস্ট পার্টিগুলো সমগ্র বিশ্বজুড়ে দাঁড়িয়ে আছে শৃঙ্খলার উপরে। আমাদের পশ্চিমবঙ্গের CPIM সহ বাকি বাম দলগুলোর বর্তমান মূল সমস্যা দেখা দিয়েছে শৃঙ্খলাতে। ২০০৯ পরবর্তী যে সকল তরুণ মুখ এসেছে ভায়া SFI, সবচেয়ে বড় সমস্যা এদের মাঝে। টিভির বুম পেলেই এদের প্রায় সকলে মুখ দিয়ে হাগতে শুরু করে দেয়। আজকাল আবার সেজেগুজে পডকাস্ট নামের এক শ্যো-অফ সাক্ষাৎকার শুরু হয়েছে। ফুটেজের কী নিদারুন লোভ! ফেসবুক ইউটিউভ খুললেই সদ্য লোম গজানো নেতানেত্রীরাও এমন ‘পোস্ট ও বাইট’ দিচ্ছে, যেন আদর্শ নৈতিকতার প্রশ্নে চে, ফিদেল বা চমস্কিকে এনারাই শিক্ষিত করেছিলেন। অধিকাংশ কথাবার্তায় রাজনীতির দূরদূরান্তে কোনো সম্পর্ক নেই। দলেরও কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই এদের উপরে। 

ছাত্রাবস্থায় বামপন্থা আঁকড়ে ধরে বহু ছেলেমেয়ে মানুষ হয়; সমাজবাদ, সাম্য, বিপ্লব নামের শব্দগুলো তখন নেশার মতো বুড়বুড়ি কাটে চেতনা জুড়ে। একটা নির্দিষ্ট সময়ের পরে মানসিকভাবে এই ভাবনাগুলোকে, মানে বামপন্থাকে নিয়মিত অনুশীলন তথা লালন করতে হয়। যেটা ৯০% ছেলেমেয়ে পারে না, পারিবারিক, সামাজিক, পারিপার্শ্বিক রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা ইত্যাদি নানা কারণে। কিন্তু সদ্য যৌবনের শেখা বামধারার চেতনা, আর ফলিত বাস্তবের লোভ, লালসা ও ভোগের তীব্র আকাঙ্ক্ষা কামনা বা অভিলাষ- মন আর শরীরকে দুটো পৃথক দিকে চালনা করে। পুরনো শিক্ষাও ফেলনা নয়, তাই সেগুলো মাঝে মাঝে বেরিয়ে আসে কিম্বা বের করে আনে সুযোগ সুবিধা মতো। গরুর মতো চর্বিত চর্বন করে জাবর কাটে, যা বিজ্ঞাপিত করে বেচাকেনার বাজারে নিজের দর বাড়িয়ে নেয়। 

২০০৯ সাল থেকে এ রাজ্যে যারা SFI এর শীর্ষপদ দখল করেছে, সংগঠনটার সেক্রেটারি প্রেসিডেন্ট পদে থাকার সুবাদে অটোমেটিক রাজ্য কমিটিতে চলে গেছে ‘কোটা’র বলে। কৌস্তভ চ্যাটার্জি-সায়নদীপ মিত্র, দেবজ্যোতি দাস-মধুজা সেন রায়, সৃজন ভট্টাচার্য-প্রতিকুর রহমান অবধি সেই একই ধারা। এরা কোন বিশেষ যোগ্যতায় পার্টির রাজ্য কমিটি অবধি যেতে পেরেছে কেউ জানে না। শেষের দুজনের আমলের মতো জঘন্য পিরিয়ড SFI এর জীবনকালে বেনজির। একের পর এক কলেজে সংগঠনের ঝাঁপ বন্ধ হয়েছে, সৃজন গিটার বাজিয়েছে আর অমেরুদণ্ডী পরজীবী প্রতীকুর হাত্তালি দিয়েছে। এটা আজ বলছি না, সেই ২০২১ থেকে নিয়মিত বলে এসেছি, আমার টাইমলাইন ঘাঁটলেই পেয়ে যাবেন। কোন বিশেষ অউকাতে বা গুণের কারণে তারা প্রতিটা নির্বাচনে লড়ার টিকিট পেয়েছে- ফেলুদার ভাষায় ‘হাইলি সাসপিসাস’। ক্রমশ পাতালে প্রবেশ ছাড়া দল বা সমাজের প্রাপ্তি কী এদের থেকে? 

আমাদের মতো দুর্নীতিগ্রস্ত তৃতীয় বিশ্বের দেশের রাজনীতিতে ‘সহানুভূতি’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কোয়ালিফিকেশন; যে কারণে দলত্যাগ করে পালিয়ে যাবার আগে একটা সহানুভূতির জামা পরিধান করে, ঠিক কাউকে না কাউকে একটা ভিলেন বানিয়ে যাবে- এটাই প্যাটার্ণ। RSS-এর পরিসরে এটা খুব চেনা ছক- দলে থেকে কাজ করতে পারছি না বা আমাকে গলা টিপে ধরা হয়েছিল। তৃণমূল হোক বা বিজেপি, দিনের শেষে সেই তো RSS নামের গু, একটা কাঁচা আর একটা শুকনো। 

বর্তমান শীর্ষ নেতৃত্বের প্রায় সকলেরই কলেজ জীবন শেষ হওয়ার আগে পার্টি ক্ষমতায় চলে এসেছিল। রাতারাতি প্রশাসক হয়ে গিয়েছিলেন, সময়ের পরিভ্রমণে মধ্য পঞ্চাশ তথা ষাট ছোঁয়ার আগেই এনারা বিরোধী আসনে। ফলত রাস্তায় নেমে যে জঙ্গী আন্দোলনের ধারা, এনারা তেমন কিছুই জানেন না। স্বভাবতই বর্তমান প্রজন্মের মাঝেও সেই স্পৃহা, সেই স্ফুলিঙ্গ ভরে দিতে পারেননি এনারা। ভারতীয় স্পেস টেকনোলজি চাঁদে চলে গেলেও, CPIM পার্টি রয়ে গেছে ষাটের দশকের আমলাতান্ত্রিক শিকলের গেরোতে, যেখানে হেঁচকি তুলতে গেলে লোকাল কমিটি থেকে পলিটব্যুরো- অনুমতি পেতে পেতেই ঈশ্যু পটল তোলে। ফলত আধুনিক ট্যেকস্যাভি সময়ের সাথে পার্টির ফলিত কার্যগত পরিচালনাতে এক ভয়াবহ দ্বান্দ্বিক ফাটল তৈরি হয়েছে, যা শীর্ষ নের্তৃত্বের সংজ্ঞার বাইরে; আর এইখান থেকে যাবতীয় উৎশৃঙ্খলতার সৃষ্টি। 

ভাইপো প্লান্টেড পরগাছা রাজনৈতিক সমাজের বুকে, পিসি যদ্দিন ক্ষমতায় আছে তদ্দিন ইনিও আছেন। ক্ষমতা হারালে সবার আগে যে লোকটি তৃণমূল ছেড়ে চম্পট দেবে- তার নাম ভাইপো। সুতরাং, আজকের দিনের তৃণমূল দল যে কোনো স্থায়ী আস্তানা নয়, চার অক্ষরের বোকা ছাড়া তা সকলেই বোঝে। ফলত যা কিছু লেনদেন সবই তাৎক্ষণিক ও সবটাই আর্থিক। তৃণমূল দল উঠে গেলে এই সব দলবদলুদের ছোট একটা অংশ জাতীয় কংগ্রেসের ঘরে পরিচারিকা সেজে ক্ষুন্নিবৃত্তি করবে, বাকিরা "I beg to remain, Sir, Your most obedient servant" জপতে জপতে নাগপুরের গোয়ালঘরে গোমুত্র সেবন করবে। এটাই ভবিতব্য। by the way,  মহুয়া মৈত্র কেন কাউকে ৪(চার) লাখের গুচি/লুইভিটোর হাত ব্যাগ গিফট করেছে, এসবের খোঁজও সেলিমকেই একা দায়িত্ব নিয়ে করতে হবে কেন? দলের অন্যান্য শৃঙ্খলা বাহিনীর লালুভুলুর দল কি জাবর কেটেই ক্লান্ত? 

দোষ সেলিম সাহেবেরও আছে, একে হাঁড়িতে চাল বাড়ন্ত, তার উপরে রাজ্যেজুড়ে অন্তত ৬টা আলাদা আলাদা শিবির তৈরি হয়েছে; এর দায় মহঃ সেলিম এড়াতে পারেন না CPIM রাজ্য সম্পাদক হিসাবে। SFI এর পারফরম্যান্স ২০১১ পরবর্তী সময়টা আতস কাঁচের তলায় আনা হোক, মিলিয়ে দেখা হোক- অপদার্থ লোক ক্ষমতার বৃত্তে ঢুকে পড়ে কী কী আচরণ করেছিল, এদের সঙ্গে ঋতব্রতর পার্থক্য আসলে কতটা! তবে, কার সদস্যপদ দিল্লিতে আর সেটা সে রিনিউ করল কিনা, সেটার দায় সেলিমের নয়। আমাদের গ্রাম বাংলার রাজনীতিতে আদৌ চুল পরিমান গুরুত্ব রাখেনা এই সব আপদের ‘গলা নাচানো’ উপস্থিতি। কে শতরূপের বিরুদ্ধে প্রার্থী হবে আর কে মীনাক্ষীর বিরুদ্ধে দাঁড়াবে- এসব হিসাবনিকাশের গল্পও কানে আসছে বৈকি। দাঁত কেলিয়ে ‘জল মাপছি’ বলে ফুটেজ খাওয়ার দিন শেষ, হয় এস্পার নয় ওস্পার। আসলে শৃঙ্খলা অবলুপ্ত হলে বেহায়াপনাই সংস্কৃতি হিসাবে নিজেকে জাহির করে। 

এদিকে সারদার টাকা চোর কুনাল ঘোষ প্রকাশ্যে জোর গলায় বলছে- আলিমুদ্দিনের যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ মিটিং এর মিনিটস ১০ মিনিটে তার কাছে পৌঁছে যায়। পার্টির অভ্যন্তরের গোপনীয়তা, আস্থা ও পারস্পরিক ভরষার বিসর্জনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে এই দাবী। এখান থেকে কিন্তু পার্টি বের হতে পারবে না। শুধু একা সেলিম সাহেব নন, গোটা আলিমুদ্দিনকে এই প্রশ্নের জবাব আজ হোক বা কাল দিতেই হবে। সবাই মিলে দল বেঁধে কুণাল ঘোষকে খিল্লি করতেই পারেন, গোপনীয়তার প্রশ্নে কুনাল ঘোষ CPIM দলের প্যান্ট জামা খুলে রাস্তায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। রোগ সেই শৃঙ্খলাহীনতা। আসলে পার্টির কলকাতার বৃত্তের একটা অংশ কুনাল ঘোষের হারেমে খোজা সেজে উপুড় হয়ে শুয়ে পয়সা রোজগার করে।

কোলকাতার বাবু কালচারে জন্ম নেওয়া মধ্যমেধার কিছু উন্নাসিক দাম্ভিক লোকজন নিজেদের কমিউনিস্ট দাবী করে দলটাকে অক্টোপাশের মতো আষ্টেপৃষ্টে  বেঁধে রয়েছে। এই সব কলকাত্তাইয়া বাম, ফেসবুকের নির্বোধ বাম, কলেজ স্ট্রীটের আঁতেল বাম, JNU বাম, হারামের টাকায় আজও ক্যান্টিন চালানো যাদবপুরী বাম, এই সবগুলো অনেকটা ঘেয়ো কুত্তার মতো- কামড়ালেই ১৪টা ইঞ্জেকশন। ভোটের রাজনীতিতে এদের মূল্যমান জাস্ট শূন্য, অথচ এরাই পার্টির নিয়ন্ত্রক। শেষ ১৫ বছরে এই সেক্টর থেকেই বামেদের তথাকথিত ‘তরুন মুখে’দের ৮০% উঠে এসেছে। এদের পাশে গ্রাম মফঃস্বল থেকে আসার নেতানেত্রীরা নেহাতই সংখ্যালঘু, অথচ রাজ্যের ৭০%ই গ্রামাঞ্চল, যেখানে কৃষক পরিযায়ী শ্রমজীবী মানুষের বাস। উপরোক্ত শহুরে অন্তঃসারশূন্য ফাঁপা আদর্শের বুলি কপচানো মধ্যমেধার বামেদের কারণেই CPIM দলের মধ্যে কম্প্রোমাইজ করা অসৎ অংশের সৃষ্টি হয়েছে, এরাই পার্টির পতনের অন্যতম বড় কারণ, এদেরই কেউ কেউ প্যাক মানে খেয়ে দলের অভ্যন্তরে থেকে বিশ্বাসঘাতকতা করে চলেছে।

(২)
আমাদের মা মেয়ে বোনেরা যবে থেকে প্রাপ্তবয়স্ক হন, প্রতিমাসে একটা করে ডিম্বাণু জন্ম দেন। অধিকাংশই রজঃস্রাবে বের হয়ে যায় অনিষিক্ত অবস্থায়, কিছু নিষিক্ত হলেও অকালে গর্ভপাত হয়ে খানিকটা রক্তমাংসের দলার সাথে অনেকটা ব্যথা বেদনা উপহার দিয়ে যায়। এটা জীবনের স্বাভাবিক ঘটনা। ১০০০টা চারাগাছ পুঁতলে তবে ১০০টা বাঁচার সম্ভাবনা থাকে। কিছু ছাগলে খাবে, কিছু রোদে শুকাবে, কিছু ঝড়ে উড়বে, কিছু বাঁদরে ভাঙবে ইত্যাদি। মহীরুহ রাতারাতি হয়না, বট, পাকুর বা অশ্বত্থের চারা নার্সারিতে তৈরি হয়না। তাই কে কোথাকার ছেঁড়া লোম যে, সেই গর্ভঃস্রাবের কথাকে ধ্রুবক মেনে গুরুত্ব দিতে হবে! বাজারি সংবাদ মাধ্যম তাদের মালিকের সদ্য কেনা ‘পাঁঠা’কে কাঁঠাল পাতা খাওয়াবার ভিডিও করবেই। CPIM পার্টির দেওয়া আলঙ্কারিক পদগুলো ছিলো বলেই বিক্রির বাজারে পাঁঠার দামটা মিলেছে। তৃণমূলের হারামের চুরির টাকায় ফুর্তি মারবে বলে যে দল ছেড়েছে, আজ শুধু দল ছাড়েনি কাল বউও ছাড়বে, পরশু ঘর ছাড়বে। কারণ লীলাতে এদের আদর্শ পার্থ আর শোভন, চুরিতে ভাইপো। যেখানে ঘরে বউ এর সাথে কয়েকটা রক্ষিতা রাখা যে দলের অন্যতম রাজনৈতিক ক্যালিবার- সেখানে কালো মোটা গেঁয়ো বউ খুব বেশি দিন পছন্দ হবে না বিপ্লবী বাবুর।

বিক্রির লাইনে তো অনেকেই আছে, ভট্টাচার্য থেকে সেন, রায়, দাস, মিত্র, ঘোষ, বোস, খান, সেখ অনেকেই। কিন্তু ভাইপোর ‘ভট্টাচার্য’ সহ বাকিদের ততটা দরকার নেই যতটা একটা রেডি দুধেলগাই বলদ দরকার ছিল। ওহ, আপনি তো আবার লালবাবু ভক্ত, এই সব ভট্টাচার্য, সেন, রায়, দাস, মিত্র, বোস, খান, সেখ, ঘোষেদের নাম শুনলে আপনার পবিত্র ঈমান টলে যায়। আপনি হালকা মুতে শুয়ে পড়ুন, কিম্বা খোঁচর নেত্রী যিনি দাদু থেকে বাবার জিন সেঁচে ‘ধর ধর’ রবে DNA বেয়ে বামপন্থা বয়ে এনেছেন, আপনি বরং সেই হেমাটোলজি জেনেটিক্স নিয়ে PhD করুন, জুটিতে মিলবে ভালো। দোষটা একা এই ভট্টাচার্য, সেন, রায়, দাস, মিত্র, বোস, খান, সেখ, ঘোষদের যতটা, আলিমুদ্দিনের বাস্তুঘুঘুদেরও দায় ঠিক ততটাই। যৌবনে স্খলন কোনো পাহাড় ভাঙা হাহাকার ব্যতিক্রমী নয়, উল্টোদিকে যখন চুরির টাকার কুমিরেরা সমানে হাতছানি দেয়। নিয়ন্ত্রণ আপনাকে করতে হবে, বেছে নেওয়ার দায় আপনার। উঠতি মূলো ঋতব্রতে চেনা যায়। 

৯৩ টা বুড়ো খাসি জবাই করা হবে, এই খাসি সব পিসি তোলামূলের হারেমের। কসাইখানার মালিকানা বদলেছে, তাই বাজারে নতুন পাঁঠা খোঁজার কাজ চলছে ভাইপোনিকেতনের খোঁয়াড়ের জন্য। মমতা ব্যানার্জীর রাজনৈতিক কেরিয়ার বয়সের কারণেই অস্তাচলে, ভাইপো নতুন টিম তৈরি করছে তার মতো। পাঁঠা বা পাঁঠি হিসাবে বিক্রি হতে অনেকেই রাজি কিন্তু ক্রেতাও চাইত। শাসক মমতার জামানাতে কোনো যুব নেতা নেত্রী তৈরি হয়নি, তারা চোর তৈরি করেছে। স্বভাবতই ভাইপো তার চারপাশে কাউকে পাচ্ছে না, যে হোমে যজ্ঞিতে লাগবে। এদিকে তিনি নিজেই ব্যানার্জী, ফলত যতটা মুসলমান তার দরকার, ততটা ভট্টাচার্য মিত্র দাস দরকার নেই ঠিক এই মুহূর্তে। তাই অনেকেই লাইনে থাকলেও সেভাবে দাম না পাওয়ার দরুন অনেকেই ‘আদর্শে’ অবিচল রয়ে গেছে এই যাত্রাতে। একটা কথা মনে রাখবেন, কমিউনিস্ট পার্টিতে ভোট হয় চিহ্ন দেখে, ব্যক্তি নয়।

সমস্যা সমর্থকদের তরফেও রয়েছে, তারা ভাবে আমাদের নেতাও ‘ওদের’ মতো করে বলুক সর্বত্র। জামা পরে থাকবো কমিউনিস্ট পার্টির, চাইব পুঁজিবাদী সিস্টেমের ভোগবাদী বিলাসিতা, ন্যাংটামো করব তৃণমূলের মতো- দুটো একসাথে হয় না। জাতীয় কংগ্রেস বা তৃণমূলের মতো পার্টির নেতাদের যেভাবে বলতে দেখে অভ্যস্ত, সেইভাবে দেখেই তাদের ভোটারেরা ভোট দেয়। প্রত্যেকটা সিস্টেম তার নিজের মতো করে আলাদা, গাছেরও খাবো আবার তলারও কুড়াবো একসাথে হয় না, অগত্যা দল পাল্টাতেই হবে। সমর্থকেরা অনেকেই ভাবে, এই তো খানিক আগেই ‘আমার’ সঙ্গে কথা বলল, সে তো আমাদের নিজেদের লোক। আসলে মানুষ সিদ্ধান্ত নেয় নিজের মতো করে, তখন আর কেউ নিজের লোক থাকে না। বিবাহিত মেয়েই যেখানে জন্মদাতা বাবার থাকে না, সেখানে আপনি তো কেবল পরিচিত মাত্র।

হোটেলের ওয়েটার বা পাড়ার মোড়ে পান বিড়ির টোঙ চালায় কিম্বা অনুষ্ঠানের সিজেনে ক্যাটারিং এ কাজ করে- মোদ্দাকথা কোনো ঢং এর কাজ যাদের জোটেনি, তারাই আজকাল সাংবাদিক। সাংবাদিকতা বিষয়ে পড়াশোনা বা জ্ঞান ওসব গাধার ঘাড়ে যাক, হাতে একটা ক্যামেরা মোবাইল আছে, ফেসবুক ইউটিউবে একটা পেজ- আর কী চায়! ঠিক আজকের দিনে দেশ জুড়ে ৯৯% সাংবাদিকই এই জাতের টুকটুকে গাব, যাদের না খাওয়া যায় না গায়ে মাখা যায়। এরা মূলত ক্ষমতার পদতলে চামচাগিরি করে পেট চালায়। বছরে যা মূলধারার রোজগার এদের, তাতে যেকোনো দক্ষিণপন্থী দলের নেতাদের উচ্ছিষ্টটুকু মাঝেসাঁঝে পেলেই এদের জীবনে অষ্টমী বা ঈদের সন্ধ্যা নেমে আসে। এদের সামনেই মুখ দিয়ে হাগতে শুরু করে দেয় উশৃঙ্খল স্বঘোষিত ‘বাম’ নেতানেত্রীর দল।

এটাকে কঠোর ভাবে বন্ধ করতে হবে, দ্বিতীয় কোনো অপসন নেই।

তোলামূলের ২২৫ জন MLA আছে কালিম্পং এর বিষ্ণু প্রসাদকে ধরে, ২৯ জন সদস্য লোকসভায় আর ১৩ জন রাজ্যসভার MP আছে। মেরেকেটে ৩০ জন বাদে বাকি ২৪৬ জনের কারো নামই আপনি জানেন না। সারা বছর তাদের পার্টির তরফে মূলত কুণাল ঘোষ কথা বলে, আলফাল বকার দপ্তরে দেবাংশু রয়েছে। পার্টির মালিক হিসাবে মমতা ব্যানার্জী আর ভাইপো কথা বলেন। বাকি কোনো নেতাকে দেখেছেন মাইক পেলেই উন্মত্ত হয়ে বিজ্ঞ সেজে জ্ঞানের জাঙিয়া মেলে ধরে? টিভিতে তাদের হয়ে আসে দেবনারায়ন আর বিজন মাস্টার, এরা তৃনমূলের কোন পদে রয়েছে? অনুরূপ বিজেপির ১২টা লোকসভা সদস্য, ২ জন রাজ্যসভা সদস্য, ৬৪ জন MLA আছে, কজন বিজ্ঞবিচি সর্বজ্ঞ সেজে টিভির খেঁউড়ে পৌঁছে যায় আর মাইকের বুম পেলেই মুখ দিয়ে বাতকর্ম করতে থাকে?

এই প্রজন্মের মধ্যে শতরূপই একমাত্র, যে দুর্দান্তভাবে মিডিয়া হ্যান্ডেল করে। বাকি প্রায় সকলেই যারা মূলত সোশ্যাল মিডিয়াতে ফুটেজ খায়, তারা রাজনীতির বাইরে সব কিছু করে। এদের সবার আগে রেস্ট্রিকশন করতে হবে। পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুরের পঙ্কজ রায় সরকারও বিক্রি হয়ে গেছিল কিছু মাস আগে, আজ সে কোথায়? শোনা কথা- দুর্গাপুর পশ্চিম আসনের জন্য সে প্রত্যেকদিন ইচ্ছা প্রকাশ করছে আর আইপ্যাক তাকে রিজেক্ট করছে। মুখের সামনে ক্যামেরা ধরলেই যে গড়গড় করে বলতে আরম্ভ করবে, তাকে আমতলার পার্টি অফিসে পৌঁছে দেওয়া হোক জঞ্জাল ফেরার গাড়ি করে। ফেসবুকটাকে বারোয়ারী উঠোন বানিয়ে যারা ‘পার্টিকে’ বাপত্ব সম্পত্তি মনে করে, লাগামহীন নিজস্ব মতামত প্রকাশ করে চলেছে- হয় তাদের হুঁশিয়ার করা হোক, নতুবা লাথি মেরে তাড়ানো হোক। ভাবখানা এমন যেন একটা বামপন্থী দল নয়, সোশ্যাল মিডিয়ার পেজ চালাচ্ছে কন্টেন্ট ক্রিয়েটর হয়ে, প্রতিটা বিষয়ে রোজ নিজের মতামত দিয়ে যাচ্ছে। কোথায় থামতে হয় কেউ জানে না।

পুনশ্চঃ- কেউ দলত্যাগ করছে বা পার্টি সদস্যপদ রিনিউ করছে না বলেই, তার তোলা প্রশ্নগুলো ভিত্তিহীন অযৌক্তিক বলে দাগিয়ে দেয় যারা, তারাও আসলে শয়তান বা পার্টির ভাষায় প্রতিক্রিয়াশীল। সেই বক্তব্যগুলোর সবটা মিথ্যে বা অসমর্থনীয় নয়, ব্যক্তির স্খলনের বিরোধিতা করতে গিয়ে প্রদীপের নিচের আঁধারকে জাস্টিফাই করা যাবেনা। শৃঙ্খলা জরুরী, তার জন্য সেন্সরও জরুরী যদি প্রয়োজন পড়ে, কিন্তু পার্টির অভ্যন্তরে খোলামেলা আলোচনা যদি না হয়, ভুল বা দোষগুলো কিন্তু ঘা-আলসারের মতো আড়ালে বাড়তেই থাকবে ক্যান্সার না হওয়া অবধি।

২০১৬ সালের ব্রিগেডে ময়দানে CPIM এর তৎকালীন রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র প্রকাশ্য সমাবেশে বলেছিলেন- আমাদের পার্টিতে এমন অনেকে আছে, যাদের আমাদের দিকে থাকা উচিৎ নয়; আবার ওইদিকে এমন অনেক লোক আছে যাদের আমাদের দিকে থাকা উচিত ছিল। দশ বছর পরেও এখনো এই বাক্যের তাৎপর্য সেদিনের মতোই সমান উজ্জ্বল।



শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

প্রতিটা চোরের 'আঁশ ছাড়ানো' হবে



মাননীয় অপ্রিয় Kunal Ghosh মহাশয় সমীপেষু, 

আপনার দল তৃণমূল কংগ্রেস- রাজ্যের মুসলমানকে SIR এ ভয় দেখাতে পারেননি। OBC ও ওয়াকফ ঈশ্যুতে মুসলমান ভোট আপনাদের এই ঈদে 'জাকাতের' খাতায় তুলে দিয়েছে। ফলত আপনাদের মত প্রতিটা বিশেষজ্ঞ জেলখাটা চোরেদের অন্ডকোষ লাফ মেরে যে কপালে উঠে 'আব' হয়ে গেছে, তা আপনাদের ছটপটানি দেখে অনুমান করা কঠিন কিছু নয়।

সমগ্র মিডিয়া থেকে বিজেপি বাইনারি উবে গেছে, এই মুহুর্তে বাংলাতে বিজেপি খোঁজার চেয়ে 'ইয়েতি' খোঁজা সহজ। বিজেপি উবে যেতেই তৃণমূল অস্তিত্ব সঙ্কটে পরে গেছে। নাগরিকত্ব চলে যাওয়ার জুজু আর বিজেপি চলে আসবে আতঙ্ক কাটিয়ে- মুসলমান ঘুরে দাঁড়িয়েছে নিজের যোগ্যতায়। ইজতেমা করে যে মুসলমানদের সমাজে সুড়সুড়ি দেওয়া যাবে, সে গুড়েও বালি। মুসলমান ভোট আপনাদের চাই ই চাই, যেকোনো মূল্যে। উন্নয়ন যে গাধার ঘাড়ে চলে গেছে তা আপনারা জানেন। আপনাদের কাছে গোয়েন্দা তথ্য ও i-Pac বলছে মুসলমান সম্প্রদায় আপনাদের হাতে বাটি ধরিয়ে দেবে। তাই আপনারা সিপিএমকে এভাবে টার্গেট করেছেন, কারন মুসলমান ভোট বিজেপিতে যাবেনা, সিপিএমেই ফিরবে। আপনারা চালাক হতেই পারেন, জনগণ উদগান্ডু বোকা নয়। 

প্রথমে ডায়মন্ড হারবারের পশুহাট থেকে রোজার শুরুতেই কোরবানির 'পাঁঠা' কিনলেন। আজ ফিরদৌস শামিমের নামে মলেস্ট মলেস্ট খেলা শুরু করেছেন। অচিরেই আপনাদের যে কাঙ্খিত লক্ষ্য- মহঃ সেলিমকে সাম্প্রদায়িক প্রতিপন্ন করা, অন্ধ ছাড়া যে কেউ এই লাইনটা ধরতে পেরে গেছে। আপনারা চালাক আর মানুষ বোকা, এতোটা সরলীকরণ নাইবা করলেন! আপনারা যে ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক এ্যাঙ্গেলে খেলা শুরু করেছে আপনাদের পিতা RSS এর নির্দেশে, প্রার্থনা করুন আপনাদের RSS এর সরকারই যেন ২০২৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়- সেটা তৃণমূল বা বিজেপি যে ফর্মেই হোকনা কেন। নতুবা চুরির দায়ে জেলা খাটা আসামি আপনি ও আপনার প্রতিটা ছোট বড় স্যাঙাতের 'আঁশ ছাড়ানো' হবে ফেলুদা স্টাইলে।

আমরা বারংবার লিখছি- মুসলমান ভোটেই আপনাদের মানে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাণভোমরা টিকে আছে। তাই মুসলমান বাম যুব নেতাকে কিনেছেন, মুসলমান বাম উকিলকে দুশ্চরিত্র প্রমানে দেওয়াল চাপড়াচ্ছেন, CPIM পার্টি সেক্রেটারি আসলে মুসলমান ও 'সাম্প্রদায়িক মানুষ'- এই সব কেচ্ছার তাস আপনি খেলবেন তা দিনের আলোয় প্রিজন ভ্যান চাপড়ানোর থেকেও পরিষ্কার। মাধ্যমিক পাশ বিশ্বমাচাদো সাংবাদিক আপনি আর আপনারা যাকে নেতা বানাতে চাইছেন- সেই কয়লা চোর মাধ্যমিক পাস বিশ্বমাচাদো বিপ্লবী ভাইপো, আপনাদের ভবিতব্য ওই চাক্কি পিসিং এন্ড পিসিং- তিন ছক্কা পুটে। প্রকাশ্য আদালতে আপনাদের পাপের বিচার হবে আইনের শাসনে।

পুলিশটা আপনাদের কন্ট্রোলে বলে এ সব লিখে বা বলে ছাড় পেয়ে যাচ্ছেন। প্রার্থনা করুন- জনগণ যেন সিপিএমকে সেই ম্যান্ডেট না দেয়। দিলে আপনাদের সান্ধ্য আড্ডার আসরটা জেলের ভিতরের অন্যান্য কয়েদীদের সাথেই হবে। জনৈক কুন্তল ঘোষের জন্য যে হারামের সম্পদ বানিয়ে যাচ্ছেন মূর্খপাত্র সেজে আলবাল বকে, সেই সব সম্পদ 'অপারেশন কাটমানি' করে চামড়ার মত সব খাবলে খুবলে টেনে বের করে নেবে দিনমজুর জনগন, আমরা দাঁড়িয়ে থেকে সেটাতে নেতৃত্ব দেব। 

আমাকে মামলা দেবেন? মেয়েছেলে কেস? গাজা কেস? পুরাতন কোনো মামলায় ধারা জুড়বেন? এসব অনেক পুরাতন খেলা, অলরেডি খেলে ফেলেছেন। প্রার্থনা করুন RSS যেন সহায় থাকে শেষ অবধি, নতুবা একই জিনিস আপনাদের সকলের সাথে হবে। তাই প্রার্থনা করুন, সিপিএম যেন নির্নায়ক শক্তি না হয়ে যায় আগামী নির্বাচনে। সততার কসম, এবারে আপনার দাড়ি পা অবধি ঝুলে আসবে, আর ঘুমের ওষুধ ৩০০টা থাকবে কৌটোতে। চক্র কিন্তু ঘুরছে। 

চলুন তদ্দিন বিজ্ঞবিচি সেজে বকে যান। আগামীর দিন গুলো আপনাদের মত জেলখাটা প্রতিটা চোরের জন্য ভয়ঙ্কর। প্রতিটা চোরের ঘর থেকে হারামের সম্পদ বার করে এনে গরীব গুর্বোর মাঝে বিলিয়ে দেব। এটাই আমাদের অলিখিত ম্যানিফেস্টো।


সাথের ছবিটা স্মৃতি রোমন্থনের জন্য। 


মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

ঘৃণ্য ব্রাহ্মণ্যবাদ, মমতা ব্যানার্জী ও রাজ্যের মুসলমান সম্প্রদায়

 


বিজেপির রাজনৈতিক ন্যারেটিভ কি?


হিন্দু খতরেমে হ্যাঁয়, কারন আগামী দশ বা বিশ বছরের মধ্যেই নাকি গোটা ভারত মোল্লাদের হাতে চলে যাবে, তারা সংখ্যাতে এতো বেশী বাড়ছে। অতএব বিজেপিকে ভোট দাও, RSS কে আর বেশী শক্তিশালী করো।

RSS এর সফট হিন্দুত্ববাদী ও মুসলমানকে অশিক্ষিত হাঙ্গামাবাজ দুধেলগাই বানাবার প্রধান মুখ- মমতা ব্যানার্জী। তোলামূলের আদর্শ বিজেপির ওই উগ্র হিন্দুত্বের মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে, আমাকে ভোট দাও নাহলে বিজেপি চলে আসবে। বাইনারি সম্পূর্ণ।

RSS এর ব্রাহ্মণ্যবাদী উচ্চবর্ণের নেতাগুলো উচ্চবর্ণের হিন্দুদের নেতা তো বটেই, পাশাপাশি মুচি চামার বাগদি সহ প্রতিটা অন্তজ্যদের নেতা, আদিবাসীদের নেতা, মুসলমানদের নেতাও তারাই। এর বাইরে নিম্ন বর্ণের কোনো হিন্দু, কোনো মুসলমান, কোনো খ্রীষ্টান যতক্ষণ ব্রাহ্মণ্যবাদীদের লেঠেল ততক্ষণ সে ঠিক আছে; যদি তাদের কেউ নেতা হিসাবে উঠে আসে বা দাবী করে, এই সমগ্র ব্রাহ্মণ্যবাদী সিস্টেম তাকে সাম্প্রদায়িক হিসাবে দাগিয়ে দেবে। উদাহরণ হিসাবে হুমায়ূনই যথেষ্ট।

সমাজে মাত্র সাড়ে তিন শতাংশের কাছাকাছি একটা সম্প্রদায়, মানে যারা এই ব্রাহ্মণ্যবাদী তথাকথিত উচ্চবর্ণ সমাজ- এরা সকল ধর্মের প্রতিনিধিত্ব করবে। আর এটাই সেকুলারের সংজ্ঞা, এটাই গণতান্ত্রিক সৌন্দর্য, এটাই রাষ্ট্রবাদীতা। কিন্তু একজন মুসলমান বা একজন হরিজন কিম্বা কোনো খ্রীষ্টান যদি সেই দাবী করে, অমনি সে সাম্প্রদায়িক, সে মৌলবাদী। ব্রাহ্মণ তথা উচ্চবর্ণের হিন্দু হলে সে বাই ডিফল্ট সেকুলার। তারা হেমন্ত বিশ্বশর্মা বা অগ্নিমিত্রা পালের মত প্রকাশ্যে সাম্প্রদায়িক উস্কানি দিলেও- রাষ্ট্রযন্ত্র, আইন, মিডিয়া সেগুলোকে তুচ্ছ হিসাবেই গ্রহণ করে। কারন এই সকল প্রতিষ্ঠানের মাথাতেও ব্রাহ্মণ্যবাদীদেরই ভিড়, স্বভাবতই তারা এ বিষয়ে অন্ধ।

এদিকে বামপন্থী সেলিম, হুমায়ূনের সাথে মিটিং করলে, ISF এর সিদ্দিকি ভায়েরা বক্তিতা দিলে, কিম্বা পূর্ব মেদিনীপুরের রুহুল আমিন নতুন JUP দল খুললেই, সে মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক হয়ে যায়। আর এর প্রচারণাটা কে বা কারা করে? ওই ব্রাহ্মণ্যবাদীদের দ্বারা পরিচালিত, তথা ব্রাহ্মণের ঔরসে ‘নিয়োগপ্রথাতে’ যাদের জন্ম, সেই বেজন্মা মিডয়া হাউজ- যেমন আনন্দবাজার, প্রতিদিন, বর্তমান, আজকাল, জি মিডিয়া, রিপাবলিক, এই সময়- এই জাতীয় মিডিয়ার পতিতারা প্রচারের দায়িত্বে থাকে। এর বাইরে কিছু উচ্ছিষ্টভোগী অন্ত্যজ, যারা ব্রাহ্মণ্যবাদীদের পায়ের নিচে থাকাটাকে মোক্ষ মনে করে, তারাও এই প্রোপাাগান্ডার অংশ। এদের ন্যারেটিভ খুব স্পষ্ট- নেতা অবশ্যই ব্রাহ্মণ হতে হবে, নিদেনপক্ষে ক্ষত্রিয়; মুসলমান, বাগদি, আদিবাসী বা হরিজন তাদের স্বজাতির পক্ষে কথা বললেই সেটা সাম্প্রদায়িকতা, সেটাই মৌলবাদ। স্বজাতির মাঝেও তারা কেন নেতা হবে! নেতা শুধু ব্রাহ্মণবাদীদের মধ্য থেকে হবে।

শুরুটা যা দিয়ে করেছিলাম, আগামী সিকি শতকে ভারত নাকি মোল্লাদের দেশ হয়ে যাবে- তাই হিন্দু খতরেমে হ্যাঁয়, এটাই তো বিজেপির একমাত্র ও আদি ইস্যু। তথ্য কী বলছে? জেনে ও শিখে রাখুন, আগামীতে আপনাদের পেশাজনিত কাজে লাগবে, যারা সাংবাদিকতা করে পেট চালান।

তথ্য মোতাবেক আজকের তারিখে দেশের মোট জনসংখ্যার ১১৫ কোটিই হিন্দু, শতাংশের বিচারে যা ৭৯%। মুসলিম জনসংখ্যা প্রায় ১৫%, সংখ্যার বিচারে যা ২১.৮০ কোটির আশেপাশে। খ্রিস্টানদের সংখ্যা প্রায় ৩% এর আশেপাশে, যদিও কিছু প্রতিবেদন অনুযায়ী এই সংখ্যা ১০% এরও বেশী, যা ক্রমবর্ধনশীল। গোপন ধর্মান্তরের কারণে বিপুল পরিমান হিন্দু ক্যাথোলিক খ্রীষ্টানে কনভার্ট হয়েছে, যেটা তথ্যে আসেনা। শিখধর্ম, বৌদ্ধধর্ম, জৈনধর্ম ও অন্যান্য সম্প্রদায়গুলো যথাক্রমে ১.৭%, ০.৭% এবং জৈনরা ০.৪%।

১৯৫১ সালের তথ্য মোতাবেক সদ্য স্বাধীন দেশে হিন্দু জনসংখ্যা ছিলো ৩০.৪০ কোটি, ১৯৬১ সালে এটা পৌঁছায় ৩৬.৭০ কোটিতে। অর্থাৎ, ১০ বছরে বৃদ্ধি ৬.৩০ কোটি। ১৯৭১ সালে হিন্দু জনসংখ্যা ছিলো ৪৫.৩০ কোটি। এই ১০ বছরে বৃদ্ধি ছিলো ৮.৬০ কোটি। হিন্দু জনসংখ্যা ৫৬.২০ কোটিতে পৌঁছায় ১৯৮১ সালে, এই দশকে ১০.৯০ কোটি বৃদ্ধি পায়। ১৯৯১ সালের জনগণনাতে ১২.৮০ কোটি বৃদ্ধি পেয়ে এই জনসনংখ্যা ৬৯ কোটিতে দাঁড়ায়। ২০০০ সালের জনগণনা অনুযায়ী হিন্দু জনসংখ্যা ৮২.৮০ কোটিতে পৌঁছায়, ১৩.৮০ কোটির বৃদ্ধি সহ। সর্বশেষ জনগননা ২০১১ মোতাবেক হিন্দু জনসংখ্যা ৯৬.৬০ কোটিতে ছিলো, ২০২৬ এর আগত জাতি-জনগননা অনুযায়ী পরিসংখ্যান বিদেরা অনুমান করছেন হিন্দু জনসংখ্যা ১১৫ কোটি ছোঁবে। এই সংখ্যা শুধু জন্মহারেই বেড়েছে এমনটা নয়, নেপাল, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তান থেকে আগত হিন্দু শরনার্থী অনুপ্রবেশকারীরাও রয়েছে।

তথ্যের সাদাকোলো হিসাবে মুসলিম জনসংখ্যার ‘গ্রোথ রেট’ কী বলছে!

১৯৫১ সালের তথ্য মোতাবেক সদ্য স্বাধীন দেশে মুসলমান জনসংখ্যা ছিলো ৩.৫০ কোটি, ১৯৬১ সালে এটা পৌঁছায় ৪.৭০ কোটিতে। অর্থাৎ, ১০ বছরে বৃদ্ধি ১.২০ কোটি। ১৯৭১ সালে মোল্লা জনসংখ্যা ছিলো ৬.১০ কোটি। এই ১০ বছরে বৃদ্ধি ছিলো ১.৪০ কোটি। ইসলাম জনসংখ্যা ৮.১০ কোটিতে পৌঁছায় ১৯৮১ সালে, এই দশকে ১.৯০ কোটি বৃদ্ধি পায়। ১৯৯১ সালের জনগণনাতে ২.৬০ কোটি বৃদ্ধি পেয়ে এই জনসনংখ্যা ১০.৭০ কোটিতে দাঁড়ায়। ২০০০ সালের জনগণনা অনুযায়ী মুসলমান জনসংখ্যা ১৩.৮০ কোটিতে পৌঁছায় ৩.১০ কোটির বৃদ্ধি সহ। সর্বশেষ জনগননা ২০১১ মোতাবেক মুসলমান জনসংখ্যা ১৭.২০ কোটিতে ছিলো, ২০২৬ এর আগত জাতি-জনগননা অনুযায়ী পরিসংখ্যান বিদেরা অনুমান করছেন দেশে মুসলমানের সংখ্যা ২১.৮০ কোটি ছোঁবে।

শেষ ৭৫ বছরে ভারতে হিন্দু বৃদ্ধি পেয়েছে বছরে ১.৭৯% হারে। পাশাপাশি মুসলমানেরা বৃদ্ধি পেয়েছে ২.৪৭% বাৎসরিক হারে। অঙ্কের হিসাবে এইভাবেই যদি চলতে থাকে, ৩২৬ বছর পর দুই সম্প্রদায়ের সংখ্যা সমান সমান হবে। ১৯৫১ সালের নিরিখে ৭৫ বছর ইতিমধ্যে অতিক্রান্ত হয়েছে, আগামীতে হিন্দু মুসলমান সমান সমান হতে আরো ২৫১ বছর সময় লাগবে, ২২৭৭ সাল নাগাদ। এই হিসাব আজকের মত স্বাভাবিক পরিস্থিতিকে ধ্রুবক ধরে ভাবা হয়েছে, গাজার মত নির্বিচারে মুসলিম হত্যা, আসামে বিশ্বশর্মা সরকারের তীব্র ইসলাম বিদ্বেষ, মিয়ানমারের মত রোহিঙ্গা বিতারণ, কিম্বা বাংলাদেশের মত হিন্দু অত্যাচার ও বিতারণ হলে হিসাব এলোমেলো যাবে।

২৫১ বছর আগের, মানে ১৭৭৫ সালের পৃথিবী কেমন ছিলো জানেন? স্বাধীন আমেরিকা তখনও জন্মায়নি, তখনকার ভারত ধীরে ধীরে ঔপনিবেশিক শাসনের দিকে চলে যাচ্ছে, একেবারে রূপান্তরের মাঝখানে থাকা বহুভাগে বিভক্ত একটা ভূখন্ড। আজকের ভারতের কনসেপ্টই ছিলোনা তখন, না ছিলো গণতন্ত্র। ভারতজুড়ে নানান আঞ্চলিক শক্তি, মারাঠা সাম্রাজ্য, মহীশূরের হায়দার আলি, লক্ষৌ, হায়দরাবাদ, বাংলা ইত্যাদি অঞ্চল বিবিধ নবাবদের দখলে। গ্রামাঞ্চলে জোতদার জমিদারদের রমরমা। পুরোনো সাম্রাজ্য ভাঙছে, নতুন শাসন গড়ে উঠছে। দিল্লির মুঘল সাম্রাজ্য ভাঙনের দোর গোঁড়ায়। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি দ্রুত শক্তিশালী হচ্ছে দেশে, ১৭৫৭ পলাশীর যুদ্ধ ও ১৭৬৪ সালে বক্সারের যুদ্ধ জয়ের ফলে, ১৭৭৫ নাগাদ বাংলা, বিহার, উড়িষ্যা কার্যত কোম্পানির অধীনস্ত। না ছিল রেল, না বাস বা ইঞ্জিন চালিত গাড়ি, না বিদ্যুৎ, না আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা। মানুষ চলাফেরা করত, ঘোড়া, হাতি, পালকি, গরুর গাড়ি, নৌকা আর পায়ে হেঁটে। শিক্ষা বলতে পাঠশালা, মাদ্রাসা আর টোল।

আগামী ২৫১ বছর পর, ২২৭৭ খ্রীষ্টাব্দে তৎকালীন সভ্যতা ও বিজ্ঞান আমাদের কোথায় নিয়ে যাবে কেউ জানিনা, কিন্তু সেই দিনটার ভয় দেখিয়ে আজকের শিক্ষা, আজকের স্বাস্থ্য, আজকের রোজগার, আজকের প্রয়োজনীয় সব দাবিদাওয়া ভুলিয়ে দিয়ে ‘হিন্দু খতরেমে হ্যাঁয়’ বীজমন্ত্র জপিয়ে উলঙ্গ ভোটের রাজনীতি করছে বিজেপি- ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে। আর এই বিজেপিকে রুখতে আপনাকে তোলামূলের চোরগুলোকে ভোট দিতে হচ্ছে, যারা বিজেপিকে রাজনৈতিক জমি দিয়েছে ঘৃণা চাষের জন্য। নিজেকে চার অক্ষরের বোকা বলে মনে হয়না আপনার?

হ্যাঁ, মুসলমাদের এই বৃদ্ধিতে ব্রাহ্মণ্যবাদী RSS এর উচ্চবর্ণের নেতৃত্ব ভয় পেয়েছে বৈকি। ১৯৫১ সালে তাদের জনসংখ্যা ছিলো ওই ৫% এর কাছাকাছি, আজ ২০২৬ সালে সংখ্যাটা কমে সাড়ে তিন শতাংশ হয়ে গেছে। আদতে সংখ্যালঘু হয়ে, এই নিকৃষ্ট ব্রাহ্মন্যবাদীরা রাষ্ট্রের সমস্ত শাঁসালো পদ দখল করে বসে আছে। তারাই সকলের নেতা হয়ে বসে আছে। এরাই জন্মগত সেকুলার, এরা রাষ্ট্রবাদী এবং এরাই একমাত্র গণতান্ত্রিক। আপনি মুসলমান, নেতা হতে চাইলেই এই কায়েমি গোষ্ঠীটা আপনাকে মৌলবাদী, সাম্প্রদায়িক, সমাজবিরোধী এমনকি রাষ্ট্রবিরোধী বলে দাগিয়ে দেবে- আর এর জন্য কোনো প্রমাণ বা তথ্যের দরকার নেই, তাদের মুখের কথাই যথেষ্ট।

বিজেপি শয়তান এতে সন্দেহই নেই, কিন্তু মমতা ব্যানার্জী কি? দিনের শেষে তিনিও তো সেই RSS এরই নেত্রী। সাচার কমিটির রিপোর্ট ফেরি করে উনি মসিহা সেজে মুসলমানের ভোটে ক্ষমতার সিংহাসনে চড়েছিলেন, ওনার ১৫ বছরের রাজত্বে সরকারী চাকরিতে মুসলমানের সংখ্যা আরো আরো কমেছে। মুসলমানের মাথাপিছু রোজগার কমেছে, মুসলমানের ফ্যাক্টারি ও বড় ব্যবসা গুলো বন্ধ করিয়ে দিয়েছে, মুসলমানের সামাজিক সুরক্ষা কমেছে, OBC সংরক্ষণে মুসলমানদের পথে বসিয়েছে, ওয়াকফের বড় একটা সম্পত্তির অংশ ১ নং খতিয়ানে তুলে দিয়েছে।

বিজেপি জুজু দেখিয়ে সারাক্ষণ ভয়ের পরিবেশ টিকিয়ে রাখার জন্য মুসলমানের প্রশাসনিক হয়রানি বাড়িয়েছে। মুসলমান ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার WBCS অফিসার বাড়লে তার ক্রেডিট আল-আমিন মিশন জাতীয় একান্ত ইসলামিক সংগঠন গুলোর সৌজন্যে, মমতা ব্যানার্জীর কোনো কৃতিত্ব নেই। ওনার কৃতিত্ব ওয়াকফের টাকায় ইমাম ভাতা দিয়ে, সেটার উল্টোপিঠে পুরোহিত ভাতা দেওয়া ট্যাক্সের টাকায়। রেডরোডে ঈদের নামাজ হতো যেহেতু, পালটা হিসাবে সেখানে দুর্গা কার্নিভাল হওয়ানো। ট্যাক্সের টাকায় গুচ্ছের মন্দির বানানো, ক্লাবে ক্লাবে পুজোর জন্য টাকা উড়ানো। ওনার অবদান এটুকুই। মালদা মুর্শিদাবাদে একটা নতুন বিশ্ববিদ্যালয় অদধি করেনি, যাতে সম্প্রদায়টা একটু উন্নত হয়; অবশ্য উন্নত হলে তাদের মানে ব্রাহ্মণ্যবাদীদের হয়ে রক্তক্ষয়ী লড়াই করবে কে!

কিছু সময় বাদ দিলে, গত ১৫টা বছর ধরে রাজ্যের সংখ্যালঘু দপ্তরের মন্ত্রী, ব্রাহ্মণ মমতা ব্যানার্জী। তিনিই মুসলমানদের মসিহা সেজে সম্প্রদায়ের নাম দিয়েছে দুধেলগাই, আজকাল আবার ‘ওই ২৭%’ বলে তাচ্ছিল্যের ডাক ডাকেন উনি। তার বিধানসভায় বিজেপির অগ্নিমিত্রা মুসলমান সমাজকে ক্রিমিনাল বললেও তার মুখে সেলোটেপ বাঁধা থাকে, আসলে ২৯৩টা RSS এর সদস্যের একটা হাউজে কীভাবে মুখ্যমন্ত্রী প্রতিক্রিয়া দেবেন? এখানে দুজনেই RSS কর্মী, সহকর্মী নেত্রীর বিরুদ্ধে বললে নাগপুরে কৈফিয়ত দিতে পারবেন উনি? ব্রাহ্মণ স্পিকার বিমান ব্যানার্জী কী অগ্নিমিত্রা পালের বক্তব্য বিধানসভার কার্য বিবরণী থেকে বাদ দিতে পেরেছেন? সারাবছর তিনি RSS এর মন্দির রাজনীতির বাস্তবায়ন করেন, পরিকল্পিত দাঙ্গা লাগান যাতে মুসলমান ভয়ে থাকে। আর ভোটের আগে মাথায় হিজাব বেঁধে ভড়ং সেজে, মুসলমানকে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের ময়দানে নামিয়ে দেয়, লুঠপাঠ মারামারি করে তোলামূলকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে।

শেষ ১৫ বছরে যতগুলো রাজনৈতিক মৃত্যু হয়েছে, তার মধ্যে সবচেয়ে বেশী মরেছে মুসলমান, পরিবারগুলো সর্বশ্রান্ত হয়েছে। এছাড়া মৃতের তালিকাতে নিম্ন বর্নের হিন্দু আছে, কিছু আদিবাসীর দেখাও মেলে; কিন্তু ১টা মৃত এমন দেখান, যিনি ব্রাহ্মণ। অথচ তোলামূলের মন্ত্রীসভা থেকে দলীয় পদের দিকে তাকান, সেখানে মুসলমান প্রায় নেই, থাকলেও ফিরহাদ হাকিমের মত- ‘গুড মুসলিম’। নেহাত SC, ST OBC সংরক্ষিত আসনগুলিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতিনিধি ও রাজ্য জুড়ে ১১০টা মুসলিম ভোটার অধ্যুষিত আসনে মুসলমানদের মধ্যে থেকেই প্রার্থী দিতে হয় বাধ্য হয়ে, নতুবা উনি সেখানেও দক্ষিণ কোলকাতার ব্রাহ্মণ সন্তানদেরই দাঁড় করাতেন, যিনি RSS এর প্রো-হিন্দুত্ববাদের ধ্বজাধারী।

রাজ্যে ২৭% মুসলমান, সেই হিসাবে ২০২১ সালের তোলামূলের ২৯১ জন প্রার্থীর মধ্যে ৭৮ জন মুসলমান হওয়া উচিৎ ছিলো, টিকিট পেয়েছিলো ৪২ জন। স্বভাবতই তোলামূলের ২২৩ জন MLA এর মধ্যে, ৬০ জন মুসলমান না থেকে, রয়েছে ৪১ জন। ৪৪ জন মন্ত্রীর মধ্যে ১২ জন মুসলমান থাকার বদলে আছে তার অর্ধেক, মাত্র ৬ জন। এই হচ্ছে মমতা ব্যানার্জীর মুখ ও মুখোশ।

বিজেপি আর তোলামূল আলাদা কেউ নয়, দুটোই RSS এর শাখা, একটা মুখ অন্যটা মুখোশ। তাই তোলামূলের বিকল্প কখনও যেমন বিজেপি হতে পারেনা, তেমনই বিজেপি আসুক বা না আসুক- উগ্র হিন্দুত্ববাদ তথা RSS নামের ক্যান্সারের এর বিস্তার থামবেনা তোলামূলের রাজত্বে। গত ১৫ বছরে অফিসিয়ালি ১৫৭% বৃদ্ধি পেয়েছে RSS এর নানান খোঁচর সংস্থা গুলো, যারা সমাজে বিষ ছড়াবার কাজ করে। আপনার ভিতরে সুখের অর্গাজম হচ্ছে, কারন CPM জিরো। এদিকে সেই জিরোর সুবিধা নিয়ে গোটা রাজ্যে RSS এর ১,৪৯২টি শাখা, ৮০০টি মিলন ইউনিট এবং ৩০০টি মণ্ডলী রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্র জুড়ে গজিয়ে উঠেছে। ব্লকের হিসাবে ৩৪১টির মধ্যে ২৬২টিতে তাদের অস্তিত্ব রয়েছে। যারা বিজেপি ও তোলামূল উভয়ের জন্যই কাজ করে। এরা চুড়ান্ত ব্রাহ্মণ্যবাদী, নিম্নবর্ণের হিন্দুদের লেলিয়ে দেয় মুসলমানের সাথে, কিম্বা নিজেদের মধ্যে মিথ্যা কারনে লড়াই করায়, যাতে ব্রাহ্মণ্যবাদীরা ক্ষমতায় টিকে থাকে। কিন্তু আপনি জানেন CMP জিরো, আর সেই সুখেরই তো ঠিকানা নেই, বাকি কিছু ভাবার সময় কোথায়! 

আপনার নেতা কে হবে আপনি ঠিক করুন। উমা ভারতী, স্বাধ্বী প্রজ্ঞা বা যোগী আদিত্যনাথেরা যত গেরুয়া বস্ত্রের ভেক ধরে মূল ধারার রাজনীতিতে সাম্প্রদায়িকতার চাষ করবে, তারই উল্টো পিঠে মিমের আসাউদ্দিন ওয়েইসি, ISF এর নৌসাদ কিম্বা সদ্য গঠিত JUP এর রুহুল আমিনেরাও মাথায় ফেজ টুপি পরে মুসলমানদের নেতা হিসাবে আবির্ভুত হবেই। গত ১৫ বছর ধরে মুসলমানেরা ব্রাহ্মণ মমতা ব্যানার্জীকেই তো নিজেদের নেতা মেনে এসেছিলো, তাতে উনি কী দিয়েছেন? ওয়াকফের সম্পত্তি কেড়ে নিয়েছেন, মুসলমানের সন্তানকে ভিনরাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিক বানিয়েছেন, গোটা সম্প্রদায়কে দুধেল গাই বানিয়েছেন, গুন্ডা আর তোলাবাজ সিন্ডিকেটের লুঠেরা বাহিনী বানিয়েছেন, আর সর্বক্ষণ বিজেপির ভয় দেখিয়েছেন। আজ হুমায়ূন যদি বাবরি মসজিদের নামে নেতা হয়ে যায়, সেই দায় একমাত্র মমতা ব্যানার্জীর।

মুসলমান সমাজ ওনাকে নেতা হিসাবে মেনে নেওয়ার সাথে সাথে, ঢেলে ভোট দিয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতাতে টিকিয়ে রেখেছিলো দেড় দশক। তাতে বিপুল চুরি চামারির শেষে মুসলমানদের জন্য কী করেছেন? বিজেপিকে তাড়াতে গেলে আগে তোলামূল তাড়ান, নতুবা আপনার কোনো ভবিষ্যৎ নেই, আতঙ্কে, দাঙ্গায়, অশিক্ষায় আর দারিদ্রের সাথে পদদলিত হয়ে, ব্রাহ্মণ্যবাদীদের দাস হয়ে বেঁচে থাকা ছাড়া বিকল্প নেই।


তৃণমূলের প্ররোচনার ফাঁদে পা দেবেন না

⛔ সতর্কতামূলক পোষ্ট ⛔ আজ SIR এর ভোটারলিষ্ট বার হবার পর- জনরোষের দোহায় দিয়ে দিকে দিকে ‘সংগঠিত অশান্তি’ লাগাবার ‘ফুল প্ল্যান’ নিয়ে এগোচ্ছে শাা...