তোলামূল লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
তোলামূল লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ১০ মে, ২০২৬

মমতা ব্যানার্জি একটা অপ্রাসঙ্গিক অবাঞ্ছিত নাম আজকের তারিখে

 

মুষলপর্ব- ১

 

মমতা ব্যানার্জী খেজুরিতে যেতে পারবে না। যাওয়া উচিত ছিল নিশ্চিতভাবে, কিন্তু যেতে পারবে না, সাহস নেই। ভাইপো এখন দিল্লি পালিয়ে গেছে, সেখান সেফ হাউজে থেকে জনগণকে একত্রিত হওয়ার উপদেশ দিচ্ছে। কল্যাণ ব্যানার্জীও সেফ হাউজে, বাকি সমস্ত তোলামুলী লোকজন অজ্ঞাতবাসে লুকিয়ে কুলোর বাতাস দিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করেছে।

ভাইপো ঠান্ডা ঘরের নেতা, লড়াই আন্দোলনে জন্মানো ঘাম রক্তের নেতা নয়, সারোগেসি বা টেস্টটিউব বেবী। বাইরে বের হলেই আক্ষরিক অর্থে সে বলাৎকারের শিকার হবে। আগে তাকে তৃণমূলের একটা বড় অংশ ক্যালাবে, তাদের হাত থেকে যদি কিছুটা বেঁচে ফেরে প্রাক্তন তৃণমূলীরা মারবেই মারবে, এরপর শাসক দল বিজেপি ক্যালাবে এবং বামেদের একটা অংশ আদা ছ্যাঁচা করবে, আর আমার মতো যারা মনে মনে অন্তত ভাইপোর গায়ে থুতু দিতে চায়- তারাও তো লাইনে আছি। মমতার যে কেরিয়ার শেষ, ২০২৩ থেকে প্রতি মাসে একবার করে লিখেছি, তাই ওটা নিয়ে আজ নতুন করে লেখার কিচ্ছু নেই, বর্তমান রাজনীতির মঞ্চে মমতা ব্যানার্জী একটা অপ্রাসঙ্গিক অবাঞ্ছিত নাম।

২০১১ তে সুর্যকান্ত মিশ্র, নিরূপম সেন, বিমান বসু, মহঃ সেলিম, বুদ্ধদেব বাবু কেউ যেতে পারেনি অধিকাংশ আক্রান্তদের পাশে, দলটা উঠে গিয়েছিল। বৃদ্ধ কিছু নেতার দল, তাদের পার্টি অফিস, তাদের ফাঁপা শৃঙ্খলা, অতীতের পাহাড় প্রমাণ বনেদিয়ানা জমিদারির ইতিহাস, আর শূন্যগর্ভ বক্তৃতা- ২০২০ অবধি সিপিএম এই ফাঁদে আঁটকে গিয়েছিল। তোলামুলের ক্ষেত্রেও এর কোনো আলাদা কিছু হবে না। আগামী ৩ মাস মাস পর প্রতিটা তোলামুল নেতার স্নায়ুরোগ হবে। কলিং বেল বাজলে প্যান্টে মুতে ফেলবে।

আজ তৃণমূল মার খেলেই সে মুসলমান হয়ে যাচ্ছে, এটা কি অস্বীকার করা যাবে রাজ্যের ৯০% মুসলমান ভোট তৃণমূলের ঝুলিতে গেছে। প্রতিটা গ্রামের প্রায় প্রতিটা ইমামকে দিয়ে মসজিদে মাদ্রাসাতে ভোট প্রচার করিয়েছিল মমতা ব্যানার্জী, জমিয়ত উলামা প্রকাশ্যে তৃণমূলের হয়ে ভোট প্রচার করেছে, তাদের অফিসগুলো তৃণমূলের পার্টি অফিসে পরিণত হয়েছিল। প্রতিটা মুসলিম সংগঠন উলঙ্গ হয়ে ‘বিজেপিকে রুখতে’ তৃণমূলকে ভোট দিন বলে তান্ডব নৃত্য করেছিল। ভোটের সময় সময় তুমি তৃণমূল ছিলে, নির্দিষ্ট করে তোমাদের রাজনৈতিক পরিচয় ছিল, তুমি চুরি তোলাবাজি কাটমানির ভাগা নিয়েছ; আজ মার খাওয়ার সময় ধার্মিক হয়ে ধর্ম এগিয়ে আসছে কেন; কেন বলতে পারছ না যে আমরা তৃণমূলকে ভোট দিয়েছি, আমরা ওই দলেরই কর্মী সমর্থক, ওদের হয়ে সমস্ত পাপ করেছি বা করাকে সমর্থন করেছি বলে, আজ আমাদের উপরে অত্যাচার হচ্ছে! আসলে তৃণমূলও চাইছে এই ক্যালানির ঘটনাতে সাম্প্রদায়িক রঙ লাগুক। 

মমতা ব্যানার্জী সংখ্যালঘু উন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী ছিল। আপনাদের পাড়া এবং চেনা জানা সমস্ত মুসলমান পাড়ায় কোন উন্নতিটা করেছে? সংখ্যালঘু মানে শুধু মুসলমান? বৌদ্ধ, জৈন, খ্রীষ্টান এরা সংখ্যালঘু নয়? এদের পিছিয়ে পড়া সমাজ থেকে কতজনকে গত ১৫ বছরে চাকরি দিয়েছে?

☞ কতজন গরিব মুসলমানের চিকিৎসার দায় নিয়েছে?

☞ কতজন জেলে থাকা মুসলমানকে আইনি সাহায্য দিয়েছে?

☞ মুসসলমান সমাজের পিছিয়ে থাকা ছাত্রছাত্রীর কতজনকে স্কলারশিপ দিয়েছে? 

☞ কতজন মুসলমান ব্যবসায়ীকে বিনা সুদে লোন দিয়েছে? 

☞ কতজন গরিব মুসলমানকে বাড়ি করে দিয়েছে? 

☞ কটা আধুনিক মাদ্রাসা তৈরি করেছে বা মাদ্রাসার আধুনিকীকরণ করেছে? 


আসলে কয়েকটা লোক যারা এই দপ্তরের নামে মন্ত্রিত্ব পায়, তারা নিজেরা আপন আখের গুছিয়েছে, তার বাইরে এই দপ্তর থেকে আমাদের চেনা জানা একটিও মানুষ উপকৃত হয়নি। 

এর মানে কি হিন্দুত্ববাদী RSS এর দুষ্কৃতিরা হামলা করছে না মুসলমান ও তাদের সম্পত্তির উপরে? অবশ্যই করছে; কিন্তু তেমনটা ১টা হলে, ৯টা তোলামুলের উপরে আক্রমণ হচ্ছে, যেটাকে মুসলমানের উপরে অত্যাচারের মোড়ক লাগিয়ে পরিবেশনা করা হচ্ছে, কারণ বিজেপি মানেই সাম্প্রদায়িক, ফলত তাদের ওই খাতে মিটার উঠে যাচ্ছে।

আগামীতে ৩ দফায় আসল মার শুরু হবে তোলামুলের। আজ কাল যেগুলো হচ্ছে সেগুলো সেই- হ্যালো হ্যালো মাইক টেস্টিং ১ ২ ৩ ৪... এই হচ্ছে। তোলামুল নামের দানবের বিসর্জন হয়েছে বলে আমাদের মতো অনেকেই খানিকটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছি, তার মানে এই নয় যে বিজেপি সভ্য মানুষের দল হয়ে গেছে। তারা যে পর্যায়ের নিকৃষ্ট বেহায়া নির্লজ্জ পুঁজিপতিদের দাস ছিল সেটাই থাকবে, তারা সাম্প্রদায়িক ছিল, তারা সংখ্যালঘু অত্যাচারী ছিল, মনুবাদী ব্রাহ্মন্যবাদী ছিল, সেটাই থাকবে। এবারে লড়াইটা আর ঘোমটার আড়ালে নয়, সরাসরি হবে।

তোলামুলের হিন্দু অংশের অধিকাংশই বিজেপিতে চলে যাবে, যাদের হাতে হারামের টাকা আছে, তারা অনেকে টাকা জরিমানা দিয়ে প্রাণে বেঁচে গেলেও- প্রত্যেকে আগামী ৬ মাসে বুঝবে আতঙ্ক কাকে বলে। মুসলমান অঞ্চলের মালগুলো মূল ক্যালানিটা খাবে। আর এদের হাল দেখার পর- তোলামুলের ডিমে তা দিয়ে কোনো বাচ্চা ফু্টবে না। বরং আগামীতে তোলামুল নেতানেত্রীদের যৌন প্রোটেকশন দরকার হবে না- ক্ষমতায় থাকাকালীন তৃণমূলের যেকোনো স্লোগান বললেই বীর্যের শুক্রাণুগুলো নিজেই আত্মহত্যা করে মরে যাবে। না কন্ডোম, না কন্ট্রাসেপটিভ পিল- নির্বীজকরণের এটা এক যুগান্তকারী আবিষ্কার। আজ বুঝবে না সকলে, যত সময় যাবে, আমার কথাগুলোর বাস্তবতা বুঝতে পারবে।

বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা পদে বসছেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। ডেপুটি বিরোধী দলনেতা হচ্ছেন তৃণমূলের দুই মহিলা মুখ, অসীমা পাত্র এবং নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়। বিরোধী দল তৃণমূলের চিফ হুইপ পদে বসছেন ফিরহাদ হাকিম। মমতা শোভনদেবকে বিরোধী দলনেতা করেছে এক নম্বর কারণ নিজের কন্ট্রোলে থাকবে, শোভনদেবের বয়স ৮৩ উল্টোদিকে ববি ৭০। দুই নম্বর কারণ- দক্ষিণ কলকাতা। তিন নম্বর কারণ মমতা ভয়ঙ্কর সাম্প্রদায়িক, ব্রাহ্মণ বলে একমাত্র নির্বাচিত করেছে। নয়না সুদীপের বউ এবং ব্রাহ্মণ দুই ক্যাটাগরিতে ঢুকেছে। অসীমা পাত্র ওর বাড়ির কাজের লোক। তালিকা সমাপ্ত।

দেবী ঘৃণাতে সাওয়ার হয়ে এসেছিলেন, ঘৃণাতেই বিসর্জন হয়েছে। বিজেপি RSS উভয়েই জানে, তারা মমতার প্রতি ঘৃণার স্রোতে ক্ষমতায় এসেছে, যেমন বামেদের প্রতি তীব্র রাগের নৌকায় চড়ে মমতা ক্ষমতায় এসেছিল। শুভেন্দু যদি যোগীর মতো আচরণ না করে তাহলে বাংলার লোকজন খানিকটা জায়গা দেবে। বিজেপির শুভেন্দুর সবচেয়ে বড় সমস্যা তৃণমূলের শুভেন্দুর বলা সংলাপগুলো। পরবর্তী সমস্ত জীবন তাকে নিজের সাথে লড়াই করতে হবে। বাঙালি হিন্দুদের ৬০% এর বেশি ভোট বিজেপির ঝুলিতে গেছে বিজেপির হিন্দুত্বকে সাপোর্ট করে নয়, মমতাকে উৎখাত করতে, বহু মুসলমান বুথেও বিজেপির প্রার্থীরা না হলে ভোট পেতো না।

খুব সত্য ঘটনা হচ্ছে, বহু স্থানে বিজেপি কর্মীরা আফসোস করছে, তাদের হাত নিসপিস করলেও ,সাম্পদায়িক রং লাগার ভয়ে তারা তোলামুলকে চেয়েও ক্যালাতে পারছে না। অনেক স্থানে অশান্তি করতে চেয়েও পারছে না, যা সময়ের দাবী; উলটে ব্রেক মারতে হচ্ছে, পাছে তোলামুল ক্যালাতে গিয়ে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বলে চিহ্নিত হয়ে যায়। সদ্য এরা সরকার এসেছে, এই লাইনে অনেক চোর তোলাবাজ বেঁচে যাচ্ছে এই মুহূর্তে। এর পরের মারগুলো গতরে হওয়ার চেয়েও পুলিশি আর অর্থনৈতিক মার বেশি হবে। তাই যারা ভাবছে বেঁচে যাচ্ছি, তারা কেউ বাঁচবে না, কাকে কতটা ক্যালানি দেওয়া হবে এবং কোন লেভেলের হবে- সেইটার তালিকা তৈরি হচ্ছে।

চোরগুলো কেউ ১০০ কোটির মালিক, কেউ ৫০ কোটি তো কেউ ৫ কোটির। সামান্য পঞ্চায়েতের সদস্যও ৫০ লাখ বাগিয়ে বসে আছে। কাকে জরিমানা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হবে, কাকে অঞ্চল ছেড়ে চলে যেতে বলবে, প্রতিটা প্রেসক্রিপসন আলাদা আলাদা হবে। মেদিনীপুরিয়ান কি জিনিস, বিশ্ব সংসারে এদের নিয়ে যে বা যারা ঘর করেছে একমাত্র তারাই জানে। এদের মত জেদী, গোঁয়ার, ছেঁড়া ন্যাকড়ার আগুনের মতো লেগে থাকার মানসিকতা যুক্ত প্রতিহিংসা পরায়ণ জাতি বিশ্ব সংসারে দ্বিতীয়টি নেই, আসল তো বটেই- এরা সুদেরও সুদ আদায় করা লোকজন। সুতরাং, ছাড় দিলেও ছেড়ে দেবে না। 

এতো কিছু বলার উদ্দেশ্য একটাই, পূর্ব বর্ধমানে কমল গায়েন, প্রদীপ তা খুন হয়েছিলেন মমতার প্রত্যক্ষ মদতে, তিন মেদিনীপুর, বাঁকুড়া পুরুলিয়া - সিপিএম সবচেয়ে বেশি মার খেয়েছিল এই জেলাগুলোতে। আজও সিপিএম সেই আতঙ্ক কাটিয়ে উঠে একটা কচি নেতাও জন্ম দিতে পারেনি। সরি, জন্ম দেওয়া দূর অস্ত, গর্ভধারণ অবধি করতে পারেনি। আরো ৫-৭ বছর লাগবে ২০১১ সালের আতঙ্ক দূর করে, সেই ট্রমা কাটিয়ে সুস্থ স্বাভাবিক হতে। 

বামেদের নিজশ্ব ইউনিক সাপ্লাই লাইন থাকা সত্বেও তারা আজ অবধি মানসিক ভীতি কাটিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি, রাজ্য জুড়ে অন্তত ১৬টা জেলাতে তারা হামাগুড়ি দিচ্ছে। শরিকগুলোর তো ঝাঁপ বন্ধ হয়ে গেছে। ২০১১ এর সময়কার কোনো বড় বাম নেতার যা খুশি রোগ থাক, কোষ্ঠকাঠিন্য নেই। মমতার নাম দু'বার করলে পোঁদ দিয়ে জিভ বেরিয়ে আসে, সেখানে রেক্টামে গু আঁটকে থাকার প্রশ্নই নেই। আজ তোলামুল নামের সাপটা মারা গেছে, খোলস পরে আছে। সেটাকে দেখেই পাখি আর বাঁদরের দল কিচিরমিচির করছে। ভুলে যেও না SUCI এরও পলিটব্যুরো আছে। ২০ বছর পরেও অফিসিয়ালি তৃণমূল কংগ্রেস দলটার অফিস থাকবে কোলকাতার কোথাও না কোথাও। কিন্তু এরা ৫% ভোটও পাবে না ঠিক আগামীকাল নির্বাচন হলেও। যেসব ঘাটের মরাদের যাবার জাইগা নেই, তারা কালীঘাটের ভিকিরি আর ঘেও কুত্তা হয়ে পরে থাকবে।

পরবর্তী ৬ মাসে যে হারে এরা শারীরিক, মানসিক এবং অর্থনৈতিক যে মার খাবে, সেই আতঙ্ক কাটানো তো দুরস্থান- এদের শুক্রাণুর কেউ রাজনীতির নামটুকু মুখে আনবে না। নির্দিষ্ট আদর্শ থাকা সিপিএমের ধ্বজভঙ্গ আজও দশা কাটেনি, কারণ সিপিএম যখন মার খেয়েছিল সাধারণ মানুষ সেটাকে উদযাপন করেছিল। কোনো ধরনের আদর্শহীন তোলামুলকেও যখন মার খেতে দেখবে, একটা পাশবিক জিঘাংসা বৃত্তি কাজ করবে জনগণের মনে। ১৫ বছর ধরে করা প্রতিটা পাপের সাথে আজকের অত্যাচারকে জাস্টিফাই করে- হিসাব মিলিয়ে দেবে। এরপর এরা এতোটাই দুর্বল হয়ে যাবে যে, ওই গোটা বাংলা জুড়ে সাকুল্যে ২-৪টে পার্টি অফিস বাঁচবে, SUCI এর সাথে জোটে করে, কংগ্রেসের রক্ষীতা হয়ে তাদের দয়া দাক্ষিণ্যের উপরে বেঁচে থাকবে। ঘাটের মরা মালগুলো, যেগুলোকে আস্তাকুঁড়ের ডাব্বাও নেবে না- সেগুলোই জলসাঘরের ছবি বিশ্বাসের মতো বসে থাকবে।

এরপর সিভিক পুলিশ ধরবে, এদের উপরেই ফার্স্ট ফ্লাসের ক্যালানি শুরু হবে। সিভিকের পরেই পঞ্চায়েত, মিউনিসিপ্যালিটির ডেটা এন্ট্রি অপারেটরদের শরীরে হাত বোলালেই জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের মতো প্যান্টে হেগে মুতে দেবে, তাদের থেকে পাওয়া তথ্যতেই তো মূল প্রাণভোমরা রয়েছে সরকারি চুরিচামারির। এরপর আইপ্যাকের মেজো ও উঁচু পদের পেদোর দল, ডেটা তাদের কাছেও কম কিছু নেই। দুর্নীতির হাতে-কলমে প্রয়োগ যদি সিভিক পুলিশগুলো করে থাকে, তাহলে এসি ঘরে বসে তার রূপায়ণ করেছে এইসব ডেটা এন্ট্রি অপারেটরগুলো- আইপ্যাকের তত্ত্বাবধানে। পঞ্চায়েতে পঞ্চায়েতে লক্ষ কোটির ঋণ আছে নানান কন্ট্রাকটারের। তারা টাকা পাবে না, তোলামুলের নেতাদের সম্পত্তি বেচে টাকা আদায়ের আগে দ্বিতীয় দফার ক্যালানি ও খুনোখুনি শুরু হবে এদের মাধ্যমে। এর পর তো পঞ্চায়েত ভোটের আগে আসল সাম্প্রদায়িক খেলা শুরু হবে।

তাই যারা ভাবছে খেলা শেষ, তাদের বলি- খেলা শুরুই হয়নি এখনও।



রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬

“আমায় ক্যালানি থেকে কে বাঁচাবে”

 


আসসালামু আলাইকুম ,

প্রিয় মমতা ব্যানার্জীর উম্মত- দুধেল গাই সম্প্রদায়ের আঁতেল, চোদনা, বোকাচোদা, আলেম চোদা, বুদ্ধিবিচি, ঝুলন্ত বিচি, লাল দাড়ির ধর্মধ্বজী, সুদখোর, মাগীবাজ, মাতাল, গাঁজাখোর, চটিচাটা, চাচার জন্ম, মামার জন্ম, শরিয়তী শুয়োর, মারেফতি ভন্ড, সদগা জাকাতের হারাম খাওয়া উলামা মোহাদ্দিস, হ্যান্ডেল মারা পানুমাস্টার, দুপুর ঠাকুরপো, বেজন্মা ইতর, আতাক্যালানে, চুদিরভাই, নিমকহারাম, মুনাফেক ও সুস্থ সভ্য ভদ্র শিক্ষিত মুসলমান, কর্মঠ শ্রমিক কৃষক সম্প্রদায় গণ। আগামী ২৯ তারিখ ভোটের বোতাম টেপার আগে মনে রেখে ভোটটা দেবেন।

রাজ্যে মমতা ব্যানার্জী ক্ষমতায় থাকলে RSS এর বিজেপিকে ক্ষমতায় আনার কোনো দরকার নেই। ২০২৬ এর তৃণমূল প্রার্থী তালিকাতে অন্তত ৫০ জন এমন আছে, যারা প্রত্যেকে সক্রিয় RSS কর্মী। উদাহরণ হিসাবে পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামের পবিত্র কর, ময়না কেন্দ্রের প্রার্থী চন্দন মন্ডল, ১ মাস আগেও এরা বিজেপি ছিল। হাওড়ার বাগনানের অরুনাভ সেন(রাজা) এমন তালিকা শেষ হবে না, যারা প্রকাশ্যে প্রত্যক্ষভাবে RSS এর সাথে যুক্ত। এই তৃণমূল মুসলমানকে শুধু ব্যবহার করে, আর সারা বছর RSS এর হয়ে কাজ করে।

২০১১ থেকে ২০২৬ সবচেয়ে বেশি অনৈতিক দল বদল হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। প্রত্যেকবার পাবলিক অ্যাকাউন্ট কমিটির চেয়ারম্যান বিজেপি থেকে হয়েছে, পরবর্তীতে সে তৃণমূলে ঢুকে গেছে। যেহেতু প্রত্যেকটি চুরি যাওয়া টাকার তহবিল অনুমোদন করতে তাকে সই করতে হয়- সেই জন্য সে বাইরে তৃণমূল ভেতরে বিজেপি। বিধানসভার স্পিকার আর বিরোধী দলনেতা বসে বসে মজা নিয়েছে এতদিন, কারণ দুটো দলেরই মালিক এক। পশ্চিমবঙ্গের একটি লোকেরও এতোদিন এই গল্প মনে পড়েনি। নতুন সরকার গঠন হওয়া অবধি এই আইনের কোনো পরিবর্তন চাই না। কারণ তৃণমূল একশ'র নিচে সিট পাবে। সেক্ষেত্রে বিজেপি, কংগ্রেস, আব্বাস আর হুমায়ূন মিলে তৃণমূলকে সেই পথেই শেষ করবে, যেটা এতদিন তাদের অস্ত্র ছিল।

২০২৬ এর ৪ঠা মে, এই প্রথমবার নির্বাচনে একটা ত্রিশঙ্কু অবস্থায় তৈরি হতে চলেছে বাংলাতে, সেখানে তৃণমূল এবং বিজেপির MLA রা গরু ছাগলের মতো বিক্রি হবে এবেলা ওবেলা। তাদের সমর্থকদের সবচেয়ে বেশি ভয় হচ্ছে, আমার ভোট দেওয়া লোকটা আমার না কথা শুনে অন্যদিকে চলে গেলে আমার ক্যালানি কে বাচাবে! পশ্চিমবঙ্গে যে লুঠের রাজত্ব কায়েম ছিল, সেটা শুধুমাত্র সরকারি মদতে হয়নি, এখানে বিরোধী দল বিজেপির সাথে একটা প্রকাশ্য বোঝাপড়া ছিল। শুধু একা তৃণমূল চুরি করেনি, প্রত্যেকটি চুরির সাথে পাবলিক অ্যাকাউন্ট কমিটির চেয়ারম্যান জড়িত ছিল। যেমন সুমন কাঞ্জিলাল, কৃষ্ণ কল্যাণী এরা সকলে RSS এর লোক, মমতা তাদের পদে বসিয়েছে, আর দুই ফুলে রাজ্যটাকে লুঠে খেয়েছে। তৃণমূল সমর্থকরা চুরি করেছে আর বিজেপি সমর্থকেরা সেই চুরিটাকে সমর্থন দিয়ে সই করে দিয়েছে, তাদের বড়বাবুরা ভাগও পেয়েছে। গত পাঁচ বছর ধরে পুরো দুর্নীতির ব্যবস্থাটাকে শুভেন্দু অধিকারী নিজে মদত দিয়েছে, কী মনে হয়- তিনি মাগনা করেছেন এসব?

বিজেপি কখনও তোলামূলের বিকল্প নয়, এরা তোলামূলেরই বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠী মাত্র। পুরুলিয়ার হরতান বুথ (১৬৩), জয়পুর বিধানসভা (২৪১) এলাকার মানুষেরা নাকি ভোট বয়কট করেছে। তাদের নাকি রাস্তাঘাট নেই, শিক্ষা নেই, রেশন বন্ধ, হাসপাতাল নেই ইত্যাদি এই সব নানা অভিযোগ। আরে শুয়ারের বাচ্চারা, ভোট দেওয়ার সময় বিজেপিকে ভোট দিবি যারা কেবল মাত্র হিন্দু খতরেমে হ্যায় গল্প শুনিয়েছে, কিম্বা তোলামূলকে ভোট দিবি যারা ‘আমরা না এলে বিজেপি চলে আসবে’ জুজু দেখিয়েছে। যারা শিক্ষা, স্বাস্থ্য, উন্নয়নের কথা বলে- তাদের তো শূন্য করে দিয়ে বিজয়ীর হাসি হেসেছিলি। আজ পোঁদ মারা গেলে মুখ ফুটছে কেন! কাঠ খেয়েছিস, ফার্নিচার তোদেরই হাগতে হবে বাছা।

অবশিষ্ট বাংলাবাসীর জন্য এটা একটা বিপদ সঙ্কেত। যে বুঝবে না তাকে আত্মলিঙ্গম পশ্চাদপূরম করতে দিন, আপনি যদি না বোঝেন, আপনার সন্তানের ভবিষ্যতে গ্যামাক্সিন, কাঁদার জন্য ঘরের কোণা টুকু বাঁচবে না, দুই ফুলের গোলকধাঁধায় ঘুরে ঘুরে কুত্তার মতো মরে পড়ে থাকবেন। তাই সাধু সাবধান। 


  • • মুসলমানের ভোটে জেতা এই মমতা ব্যানার্জী ক্ষমতায় থাকাকালীন দীঘায় জগন্নাথ মন্দির, শিলিগুড়িতে মহাকাল মন্দির, নিউটাউনে দূর্গা অঙ্গন করেছে, এই ১৫ বছরে মুসলমানদের জন্য কী করেছে? 
  • • বোমা শওকত, তোলাবাজ জাহাঙ্গির, দাঙ্গাবাজ শাহজাহান, জমিয়ত বেচে খাওয়া সিদ্দিকুল্লা, এদের মতো মুনাফেকদের মুসলমানদের নেতা বানিয়ে বাংলার ৩০% মুসলমান জাতি কী পেয়েছে?
  • • আপনার সন্তান নিজের রাজ্যে কাজ পেয়েছে?
  • • কেন সে পরিযায়ী শ্রমিক হয়ে বিজেপি শাসিত পশ্চিমের রাজ্যগুলোতে গিয়ে পড়ে রয়েছে?
  • • বেকারদের কৰ্মসংস্থান কোথায় হয়েছে?
  • • শিক্ষক নিয়োগের নামে নির্লজ্জ ও প্রকাশ্য চাকরি বিক্রি করা সরকার। আদালতে স্বীকার করেছে যে এরা চোর।
  • • চাকুরিজীবীদের কুকুরের সাথে তুলনা করেছে।
  • • মুসলমানকে দুধেল গাই বলে অপমান করেছে।
  • • সরকারি চাকরিতে মুসলমানকে ইতিহাসের সবচেয়ে বঞ্চিত অবস্থানে নিয়ে গেছে এই তৃণমূল সরকার।
  • • ওয়াকফের সম্পত্তি কেড়ে নিয়েছে, আন্দোলন করতে গেলে দিল্লি যেতে বলা হয়েছে।
  • • OBC থেকে মুসলমান ছাত্রছাত্রীদের তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
  • • SIR এর নামে মুসলমানদের জিম্মি করে তাদের বেনাগরিক করে দেওয়ার চক্রান্ত করেছে।
  • • কোরানের অপমান করেছে প্রকাশ্যে।
  • • মাদ্রাসা শিক্ষা প্রায় তুলে দিয়েছে।
  • • শুক্রবারে নামাজ পড়তে আসা সকলে সন্ত্রাসী বলে দাগিয়ে দিয়েছে।
  • • ক্লাবে ক্লাবে টাকা বিলি করেছে অন্তহীন, অথচ সরকারি কর্মীদের প্রাপ্য DA দেয়নি।
  • • কয়লা চুরি করে কালো টাকার পাহাড় জমিয়েছে।
  • • রেশনের চাল গম চিনি চুরি করেছে।
  • • ত্রাণের চাল ত্রিপল চুরি করেছে।
  • • আবাস যোজনার টাকায় কাটমানি খেয়েছে।
  • • সরকারি মান্ডিতে ধান বিক্রি করতে গেলেও কাটমানি দিতে হয়েছে।
  • • সর্বত্র সন্ত্রাস আর গুন্ডামির পরিবেশ কায়েম করেছে।
  • • সারদা চিটফান্ডের টাকা আত্মসাৎ করেছে।
  • • নারদার থেকে প্রকাশ্যে ঘুষ খেয়েছে।
  • • রোজভ্যালি চিটফান্ডের টাকা আত্মসাৎ করেছে।
  • • রাজ্যের সর্বত্র ন্যাংটা তোলাবাজির রাজত্ব কায়েম করেছে।
  • • জমি মাফিয়া।
  • • বালি মাফিয়া।
  • • রাজ্য জুড়ে সিন্ডিকেট রাজ।
  • • চপ শিল্প করতে বলে শিক্ষিত বেকারকে অপমান।
  • • তার দলের পঞ্চায়েত স্তরের নেতারাও কি চপ ঘুগনি কেউ বিক্রি করে?
  • • পঞ্চায়েত নির্বাচনে ব্যাপক সন্ত্রাস (যার বিভৎসতা চরমে পৌঁছে ছিল)।
  • • কাটমানি খেয়ে উড়ালপুল বিপর্যয়।
  • • চোলাই মদ বিপর্যয়।
  • • সিভিক টিচার নিয়োগ।
  • • মাধ্যমিকের সব পত্রের প্রশ্ন ফাঁস।
  • • কোটি টাকার ছবি বিক্রি।
  • • সর্বত্র মেলা খেলা উৎসব, যাতে সেখান থেকে সরকারি টাকা নয়ছয় করা যায়।
  • • মুসলমানকে গুন্ডা বানানো, মারছে মুসলমান মরছে মুসলমান।
  • • চোরদের বাঁচাতে তাদের সমর্থনে রাস্তায় ধর্ণা।
  • • চোরদের বাঁচাতে প্রকাশ্যে তাদের সমর্থন।
  • • ৬০০০০ Group-D কৰ্মী নিয়োগের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি।  
  • • কেন্দ্রীয় প্রকল্পকে নিজের নামে চালানো।
  • • শিল্প সম্মেলনের নামে মানুষকে বোকা বানানো, পছন্দের লোকেদের কোটি কোটি টাকা পাইয়ে দেওয়া।
  • • ভাইপোর কোটি কোটি টাকার সম্পত্তির উৎস কী? সে কোন ব্যবসা করে?
  • • সততার প্রতীক স্লোগান কোথায় গেল?
  • • যাত্রা শিল্পীদের 15000 টাকা ভাতা, আর শিক্ষকদের ২০০০ টাকা ভাতা!
  • • কামদুনি ধর্ষণ কান্ডে শাস্তি না হওয়া।
  • • সারের দাম জানতে চাওয়ায় "মাওবাদী" তকমা।
  • • সরকারি টাকায় চামচাদের নিয়ে বিদেশে ফুর্তি মারতে যাওয়া।
  • • যেকোনো মূল্যে বিরোধী দলের কণ্ঠরোধ করা।
  • • শিক্ষিত বেকার পরিযায়ী শ্রমিক হবে, ওদিকে গোষ্ঠী দ্বন্দ্ব কিম্বা চোলাই খেয়ে মরলে হয় ১০ লাখ টাকা কিম্বা সরকারি চাকুরি।
  • • সাদা খাতা জমা দেওয়া BDO ও শিক্ষক নিয়োগ। চাকুরি যারা পেয়ছে তারা কত নম্বর পেয়েছিল?
  • • প্রশ্ন করলেই মাওবাদী তকমা।
  • • পরিযায়ী শ্রমিকদের করোনা এক্সপ্রেস বলা।
  • • নারী সুরক্ষার অবনতি ও RG Kar কান্ডে দোষীদের আড়াল করা।
  • • মুর্শিদাবাদে সামশেরগঞ্জে হরগোবিন্দ দাস ও চন্দন দাস খুন।
  • • নদীয়াতে বোমা মেরে তামান্না খাতুনকে খুন।
  • • আইপ্যাকের সবুজ ফাইল লোপাট।
  • • হাসখালী কাণ্ড।
  • • বগটুই কাণ্ড।
  • • নিরন্তর মিথ্যার ফুলঝুরি ছোটানো, উদ্ধত অহংকারী প্রতিহিংসা পরায়ণ আচরণ।
  • • তৃণমূল সরকারের আমলে গত ১৫ বছরে পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (RSS) বা সঙ্ঘের শাখা ৫৩০টি থেকে বেড়ে ৪,৩০০টির বেশি হয়েছে। এরা নাকি বিজেপিকে রুখবে?
  • • ১৯৯৮ সালে বাজপেয়ী সরকারের রেল চেয়ারপার্সন এই মমতা ব্যানার্জী।
  • • ১৯৯৯ সালে বিজেপি সরকারের রেলমন্ত্রী এই মমতা ব্যানার্জী।
  • • ২০০২ সালে বিজেপির সরকারে দপ্তরবিহীন মন্ত্রী এই মমতা ব্যানার্জী।
  • • ২০০৪ সালের লোকসভা ভোটে বিজেপির সাথে জোট করেছিল এই মমতা ব্যানার্জী।
  • • ২০০৬ সালে বিধানসভা ভোটে পুনরায় বিজেপির সাথে জোট করেছিল এই মমতা ব্যানার্জী।
  • • 'আমি RSS নেতাদের সম্মান করি'- বক্তা এই মমতা ব্যানার্জী।
  • • স্বাধীনতার ইতিহাসে ব্রিটিশের দালালি করা RSS কে ‘প্রকৃত দেশপ্রেমিক’ আখ্যা দিয়েছিল এই মমতা ব্যানার্জী।
  • • RSS এর সর্বোচ্চ নেতা এই মমতা ব্যানার্জীকে দুর্গা বলে সম্বোধন করেছিল।

বিজেপিকে রুখতে মমতা ব্যানার্জীকে দরকার? বিজেপির চাষ কে করেছিল এই রাজ্যে? একটাই নাম, মমতা ব্যানার্জী। মমতা ব্যানার্জি না থাকলে বাংলার মাটিতে বিজেপি আজকের রূপে আসত না। এই অসভ্য, ইতর, চোর, তোলাবাজ, কাটমানিখোর, মুসলমান বিদ্বেষী তোলামুল সরকারকে তাড়ানোটা একজন দায়িত্ববান পশ্চিমবঙ্গবাসী ও একজন ঈমানদার মুসলমান হিসাবে আমাদের সকলের কর্তব্য ও দায়িত্ব।

শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬

২০২৬ বিধানসভা ভোটের প্রথম দফাঃ একটি তুল্যমূল্য আলোচনা


উত্তরবঙ্গের ৬টা জেলার ২৭ আসনে, তোলামূল সর্বোচ্চ ৬-৮ টা পেতে পারে কুঁতিয়ে কঁকিয়ে। দুই দিনাজপুরে সর্বোচ্চ ৫টা। মালদাতে সর্বোচ্চ ২টো। মুর্শিদাবাদে ২টো সর্বোচ্চ। বীরভূমে খুব ভালো হলে তবে ৫টা। পুরুলিয়া- ০-১ টা। বাঁকুড়া- ০-১ টো। পূর্ব মেদিনীপুর ৬-৮ টা, আরো কম হবে আশা করা যায় পশ্চিম মেদিনীপুর ৮-১০টা। পশ্চিম বর্দধমানে ৩-৪টে। সব মিলিয়ে: +-৪৫টা আসন, যা বাড়ার কোনো জাইগা নেই। বরং ত্রিমুখী চতুর্মুখী লড়াইতে সংখ্যাটা ৩০এ নেমে না গেলেই আশ্চর্য হবো।

২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে মুর্শিদাবাদের ২২টা আসনের মধ্যে ২০টা তোলামূল পেয়েছিল। ৫৪.৫% ভোট পাওয়া তোলামূল- ২৩.১% ভোট পাওয়া বিজেপির চেয়ে এগিয়ে ছিলো ৩১.৪% ভোটে, যেখানে বামে কংগ্রেস মিলে ১৯% ভোট পেয়ে তিন আর চার নাম্বারে ছিলো। SIR এ এই মুর্শিদাবাদে নাম বাদ গেছে প্রায় ৭ লাখ ৪০ হাজার, যেখানে মোট ভোটার ৫০ লাখ ২৬ হাজার মতো। যেমন শামসেরগঞ্জে ২৯.৫%, রঘুনাথগঞ্জে ১৭.২৯%, সুতিতে ১৩.৪২% ভোটার তালিকাতে নেই। অর্থাৎ, গোটা জেলার নিরিখে ১৪.৭২% ভোটার নেই হয়ে গেছে প্রথম দফার ভোট অবধি।

অনুরূপ মালদা জেলায় SIR এ বাদ চিত্রে- ৩১ লাখ ৯৯ হাজার ভোটারের ২ লাখ ৩৯ হাজার নেই। এখানে জেলার নিরিখে শতাংশের হার তেমন ভয়াবহ না দেখালেও, মোথাবাড়ি ১৮.৩%, মালতীপুর, রতুয়া, মানিকচক এই আসনগুলোতেও গড়ে ১২-১৪% নাম নেই। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে দলগুলির প্রাপ্ত ভোটের হার ছিল- তৃণমূল কংগ্রেসঃ ৫৩.০%, বিজেপিঃ ৩২.৮%, জাতীয় কংগ্রেসঃ ৮.৮%, সিপিএমঃ ১.৬%। তোলামুলের জয়ের মার্জিন ছিল গড়ে ২০.২%। 

মুর্শিদাবাদে ১৫% ভোটার নেই, মালদাতেও যেগুলো মুসলমান অধ্যুষিত তৃণমূলের আসন সেখানে গড়ে ১৪% ভোটার নেই। এই নেই ভোটারদের যারা সত্যিকারের মৃত-স্থানান্তরিত বা পাতি বাংলাতে ভুতুড়ে ভুয়ো ভোটার, তারা তোলামুলের বাক্সেই ভোটটা দিয়ে যেতো। যেটা কমপক্ষে গত ভোটার লিস্টে থাকা ভোটারের ৯% এর কাছাকাছি।

ধান ভানতে এত শিবের গীতের কেন প্রয়োজন হলো! ৯% মৃত বা স্থানান্তরিত ভোটার যার পুরোটাই একপ্রকার তোলামূলের নিজস্ব ভোটব্যাঙ্ক ছিল, যারা এবারে নেই। এর পাশাপাশি যারা বৈধ হওয়া সত্বেও ‘ডিলিটেড’ তাদের পরিবারের লোকেরা কোন দিকে ভোট দিয়েছে কেউ জানে না। ১০ হাাজার বৈধ ‘ডিলিটেড’ পরিবারে গড়ে ৩ জন করে থাকলেও, সংখ্যাটা নুন্যতম ৩০ হাজারে দাঁড়ায়। এনাদের সামান্য কিছু ভোট তোলামূল নিশ্চিত পাবে, কিন্তু অধিকাংশ ভোট তো তোলামূলের বিপক্ষেই পরবে, বিজেপির পাওয়ার প্রশ্নই নেই। এর সাথে আছে বাম ও কংগ্রেসের দুর্দান্ত উত্থান। কোন অঙ্কে তোলামূল মালদা ও মুর্শিদাবাদে তাদের বিগত নির্বাচনের জয়ের মার্জিন ৩১% ও ২০% কে ধরে রাখবে? মানে কোন মন্ত্রে?

কোলকাতার মেট্রোগলির ফুটপাতে যারা কখনও কেনাকাটা করেছেন তারা জানেন, এখানে মালের দাম শুরু হয় ৩০০০ টাকা থেকে। আমাদের মা-বোনেরা ও স্ত্রী ধনেরা বার্গেনিং এ প্রত্যেকে গবেষক লেভেলের, তারাও চোখ বুঝে বলে দেন ৫০টাকায় দিলে দিন, না দিলে গেলাম। দোকানদার বলে আর ২০টাকা দিন প্লিজ, কেনা দামেই ছেড়ে দিচ্ছি বৌনির সময়। এটাও ঐ বৌনির সময়, প্রথম দফায় হয়ে যাওয়া ১৫২ আসনের মধ্যে তোলামূল বলছে ১৩৫টা তো বিজেপি বলছে ১২৫টাতে জিতবে। এমন দিনকাল এলো যে, হুমায়ূনও দাবী করছে ৭৮টা আসন পাবো। আসলে কে কী পাবে সেটা গতকাল অনুব্রতর ভিডিও ও আজকের বাইরন বিশ্বাসের ভিডিও তে পরিষ্কার। কুনাল ঘোষ বা ভাইপো নিজেরাও জানে ২৯ তারিখ অবধি তাদের কর্মী সমর্থকদের আত্মবিশ্বাসের যেন যাতে ঘাটতি না হয়, তার জন্য এই প্রকাশ্য মিথ্যা চালিয়ে যেতেই হবে। সকলেই খেয়ালি পোলাও বানাচ্ছে, সুতরাং তাতে ঘি চামচের বদলে বালতি করে ঢাললে ক্ষতিটা কোথায়।

২০১১ সালে রাজ্যে পরিবর্তনের সময় তোলামূল ১২.২৯% ভোট বাড়িয়েছিল। তবে কংগ্রেস যেহেতু তাদের জোটসঙ্গী ছিল, তাই পুরো ভোটটা যে তাদের পক্ষে এটা বলা যাবে না। এদিকে এই ভোটে বামেরা ভোট খুইয়ে ছিল ৭.০৫%। যা ভারতের ইতিহাসে সর্বোচ্চের প্রায় কাছাকাছি। তথ্য বলছে ২০১১ সালে কংগ্রেসের ভোট ১৪.৭১% থেকে ৯.০৯ % তে নেমে যায়, মানে ৫.৬২% কংগ্রেস ভোট খেয়েই তোলামূল যাত্রা শুরু করেছিল। বিজেপি যথারীতি ৫% এর নিচে ছিল।

১৯৭৭ সালে যখন বামেরা ক্ষমতায় এসেছিল, একা সিপিএম ৮% এর সামান্য বেশি সুইং এর লাভ পেলেও, দলগতভাবে ক্ষমতায় আসা বামজোট ৬% এর সামান্য বেশি সুইং হাসিল করেছিল নিজেদের পক্ষে।

স্বাধীনতা পরবর্তী ইতিহাসের দিকে তাকালে দেশের সর্বত্র দেখা যায়- সাধারনভাবে ৪/৫% ভোটের সুইং করলে সরকার টলে যায়, পরিবর্তন ঘটে যায়। আজ অবধি সরকারে থাকা দলের বিপক্ষে সর্বোচ্চ ভোট সুইং এর পরিমাণ রাষ্ট্রীয়ভাবে সর্বোচ্চ ৭.৪৯%। সেখানে ১৪-১৫% ভোট যখন নেই, সেখানে তোলামূলকে যদি তার পুরনো ৯৩টা আসন ধরে রাখতে হয়, ঠিক এই ১৪% ভোট নিজেদের অনুকুলে ফেরাতে হবে এই SIR ও এ্যান্টি-ইনকাম্বেন্সির পরেও; যা অতীতে কখনো হয়নি কোন শাসকদলের জন্য। চতুর্থবারের জন্য ক্ষমতায় ফিরতে গেলে তৃণমূলকে পৃথিবীর রাজনৈতিক ইতিহাস ও সেফোলজি বিজ্ঞানকে মিথ্যা প্রমাণিত করতে হবে।

প্রথম দফার নির্বাচন শেষে মূল প্রাপ্তির বিষয়টা কী কী-

  1. বামেরা কান্নাকাটি করে সহানুভূতি ভিক্ষা করেনি। এমনকি ফেসবুকের বাম্বাচ্চা গুলোও ফুটো এ্যালুমিনিয়ামের বাটি হাতে করুণা ভিক্ষা করেনি। একই সাথে আলিমুদ্দিন থেকে এখন অবধি কোন ভাটের বিবৃতি প্রকাশ হয়নি।
  2. কংগ্রেস বিধবার মতো চিল্লিয়ে মরাকান্না কাঁদেনি। অধীর চৌধুরী প্রকাশ্যে অন্তত ২৫ হাজারের বেশি ভোটে জিতবে যেমন ঘোষণা করে দিয়েছে, তেমনই কংগ্রেসের তরফে কোথাও ত্রিমুখী বা কোথাও চতুর্মুখী প্রতিদ্বন্দ্বীতার জন্য আরও অনেকগুলি আসন জেতা সম্ভব বুঝতে পেরে,  ফেসবুকে সময় নষ্টের বদলে, তাদের নিজস্ব বাহিনী নিয়ে স্ট্রংরুম পাহারা দিতে মাঠে নেমে পড়েছে।
  3. হুমায়ূন হাউমাউ করে রুদালি গীত গায়নি। সারাদিন ধরে বিভিন্ন ভাষায় তৃণমূলের মাতৃ-পিতৃ বন্দনা করার পর, এখন অবধি টানা প্রত্যেকটি সাংবাদিকের ফোন ধরছে এবং যথাযথভাবে তার ভাষায় উত্তর দিচ্ছে। শুধু তাই নয়, মোদীর মতো পালিয়ে না গিয়ে প্রত্যেকটি সাংবাদিক সম্মেলনে রীতিমতো ঝড় তুলে দিচ্ছে। 
  4. এমনকি মেদিনীপুরের রুহুল আমিনও নূন্যতম ফোঁপায়নি। তেমনি বীরভূম থেকে মেদিনীপুর এমনকি পশ্চিম বর্ধমানে পর্যন্ত বিরোধীদল আর জনগণ রাস্তায় দাঁড়িয়ে থেকে খালি ইভিএম বয়ে নিয়ে যাওয়া ফেক কর্মীদের সমস্ত পরিকল্পনা জন্মের উৎসস্থলে পাঠিয়ে দিয়েছে।


এর পাশাপাশি দেখা গেল বিজেপির প্রার্থী, ইলেকশন এজেন্ট, পোলিং এজেন্ট এনারা কেউ কেউ বেধড়ক মার খেয়ে জামা কাপড় ছিঁড়ে ফেললেন, কেউ বা অজ্ঞান হয়ে গেলেন, কারো গাড়ি ভাঙচুর হলো, কেউ আবার প্যান্টে হেগে মুতে ফেললেন আক্ষরিক অর্থেই। যা খুশি হোক, বিরোধীদের কেউ বুথ দখলের অভিযোগ করেনি, কেউ ছাপ্পা জালিয়াতির অভিযোগ করেনি, কেই রি-পোলের দাবী তোলেনি। তৃণমূল জিতুক বা হারুক, নির্বাচনটা যে সুস্থ ও স্বাভাবিক হয়েছে এটা অন্তত নিশ্চিত করেছে কমিশন। মোটামুটি ভাবে মানুষ নিজের ভোট নিজেই দিয়েছে। প্রথম দফায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর কাজ সম্পূর্ণ সন্তোষজনক না হলেও অসন্তোষজনক নয়, কারণ প্রথম দফায় একটা মায়ের কোলও খালি হয়নি; যেটার ক্রেডিট ১০১% কমিশনেরই প্রাপ্য। তবে হ্যাঁ, এতো কাঁড়া-নাগারা বাজিয়ে বিজেপি যদি তার লক্ষ্যে সফল না হয়, জ্ঞানেশ কুমারকে ইমপিচ করতে চাওয়ার রাহুল গান্ধীর যে বাসনা, সেটারও প্রয়োজন ফুরাবে। রসগোল্লার কড়াই থেকে যেরকম আরশোলা তুলে ফেলে দেয় ময়রা, বিজেপিও ঠিক ওইভাবে জ্ঞানেশ কুমারকে ছুঁড়ে ডাস্টবিনে ফেলে দেবে। 

২৩ তারিখ সারাদিনে গোটা রাজ্য থেকে ৬৩৫টা অভিযোগ নির্বাচন কমিশনে জমা পড়লেও সিরিয়াস এলিগেশন আসলে ওই ১৭০ টা মতো, যা অন্যান্য গত ২৫ বছরের অন্যান্য নির্বাচনের তুলনায় মাত্র বাইশ শতাংশ। নির্বাচন উপলক্ষে প্রায় রক্তপাতহীন ও মৃত্যুহীন একটা ভোট- এটা সুস্থ নাগরিকদের জন্য একটা বিরাট প্রাপ্তি। পাইকারি ভাবে ছাপ্পা বা রিগিং, ভয় দেখিয়ে বুথে আসতে না দেওয়া ইত্যাদি শিল্পকলাগুলো সেভাবে করতে পারেনি তোলামূলের সম্পদেরা। প্রথম দফার, প্রায় ৪৫০০০ বুথের মধ্যে কোথাও দু'চারটে বা দশটা বুথে এই ধরনের শৈল্পিক কাজ যদি তোলামূল করে থাকেও, সেটা শতাংশের বিচারে কোন গণনাতেই আসবে না।

অনেকে একটা সরলীকরণ করছে পোলিং ভোটের শতাংশ হার নিয়ে। ১০০০ তে ভোট পড়তো ৮০০, সেটা ১২% SIR এ বাদ পড়ার পর ৮৮০টা ভোটারে ভোট পড়েছে ৮২০, তাই শতাংশের হার বেশি দেখাচ্ছে।  মোটামুটি প্রায় সমস্ত বিশেষজ্ঞদের এটাই মতামত। কিন্তু একটা জিনিস ভুলে যাচ্ছে এই ১২ শতাংশের মধ্যে অন্তত সাত থেকে আট শতাংশ মৃত স্থানান্তরিত ইত্যাদি ভুয়ো ভোটার ছিল, বিকাল তিনটার পর তারা সকলে ঊর্ধ্বলোক থেকে সরাসরি নেমে এসে ভোটটা শাসকদলের বাক্সে দিয়ে আবার বাতাসে মিলিয়ে যেত। 

অর্থাৎ, ভোট শতাংশে যারা গণনার হিসেবে থাকতো,  এবারে সেই অদৃশ্য পিতৃ পুরুষদের আত্মার আগমন ঘটাতে পারেনি তোলামূলের অকাল বোধন।  ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে যে ৭৯.৫৯ শতাংশ ভোট পড়েছিল, তার মধ্যে সাত থেকে আট শতাংশ পিতৃপুরুষের আত্মা ছিল। ওটাকে ভোট বাদ দিলে একচুয়াল অঙ্কটা দাঁড়াত- ৭১/৭২% এর কাছাকাছি। সুতরাং ৯২% হারে এই বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফায় যে ভোট পড়েছে সেটা আদতেই ১০ শতাংশ বেশি ভোট পড়েছে।

তৃতীয়, হুমায়ূন ফ্যাক্টর। বিশেষ করে মুর্শিদাবাদ এবং মালদার একটা বড় অংশে হুমায়ূন ফ্যাক্টর ঘামাচির মতো লেপ্টে ছিল। মৃত পশুর ভুঁড়ি যেভাবে ফাঁসানো হয় ভাগাড়ে, ঠিক সেইভাবে তৃণমূলের দুধেল-গাই সম্প্রদায়ের ভোট ব্যাঙ্ক এর উন্মত্ত ভক্ত সম্প্রদায়কে- ভুঁড়ি ফাঁসানোর মতো ফাঁসিয়ে দিয়েছে। হুমায়ূনের ‘বাঁশি’ যে কটা ভোট পাবে, তার ১০০% তৃণমূলের বাক্স থেকেই আসবে, তাতে সে একটি ভোট পাক কিংবা ১০০ টি, হুমায়ূনের লোকসানের দায় একমাত্র তোলামূলকে বইতে হবে।

তাহলে বাকি রইল কী! ২৯ তারিখের নির্বাচনে তৃণমূল মরিয়া হয়ে অলআউট আক্রমণে চলে যাবে। যারা অন্যান্য দল করে, প্রত্যেকের কিছু না কিছু পেশা আছে। তৃণমূল দল যারা করে, রাজনীতি করাটাই তার একমাত্র রুটিরুজি। এখান থেকেই হারামের কামাই তোলাবাজি, কাটমানি, চুরি, লুটপাট ইত্যাদি করে পেট চালায়। সুতরাং, তারা পেটের দায়ে জান লড়িয়ে দেবে। দ্বিতীয় পর্যায় লাশবিহীন করাটাই আসল চ্যালেঞ্জ। অতএব বাম-কংগ্রেস এদের আশান্বিত হওয়ার ভয়ংকর রকম কারণ রয়েছে। যদি না কোন মিরাকেল হয় আগামী ৩-৪ দিনে, কোনো যাদুকরের পক্ষেও তৃণমূলের সরকার গঠন করে দিতে পারবে না। 

চটি চাটা মিডিয়া অঙ্কের মা-মাসি করে তথ্য উপাত্ত ইতিহাস ভূগোল ভাঙ্গারি বাজারে বিক্রি করে দিয়ে, মমতাকে খুশি করতে কালীঘাটের ছাঁচে ফেলা গল্প আপনাকে শোনাবে, যার সঙ্গে বাস্তবের কোনো সম্পর্ক নেই। শেষ দফার নির্বাচনে যাতে বামেরা আরও বেশি পরিমাণ আসন নিয়ে একটা সুস্থ সরকার গঠন করতে পারে, প্রয়োজনে কংগ্রেস বা অন্যান্য ছোট দলের সাথে জোট করে হলেও, তার জন্য বাম এবং আইএসএফ প্রার্থীদের বিপুল ভোটে জয়ী যুক্ত করুন। এই চোর তোলাবাজ ধাপ্পাবাজদের রাজনৈতিক কবর দিন।

বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬

বিজেপি কোনোভাবেই ক্ষমতায় আসবে না



বিজেপি কোনোভাবেই ক্ষমতায় আসবে না এ রাজ্যে, আসতে পারে না, যদিনা তৃণমূল দলটা তাদের বিজয়ী MLA নিয়ে সরাসরি বিজেপিতে মিশে যায় ভোট পরবর্তী সময়ে বহুমুখী সমীকরণে। তাই তৃণমূল ও মমতা ব্যানার্জী- যে বিজেপি জুজু দেখিয়ে আরও একবার মুসলমান ভোটকে নিজের বাক্সে ফেলতে চাইছে, তার উপরে থুতু ছিটিয়ে দিন। নিচের অঙ্কটা দেখে নিন, বাকি সিদ্ধান্ত আপনার।

২০১৯ লোকসভা, ২০২১ বিধানসভা এবং ২০১৪ লোকসভা, এই তিনটে নির্বাচনের নিরিখে বিজেপি ৫৫ টা আসনে তিন বারই টানা জিতেছে বা এক নম্বর স্থানে ছিল। ৩৮ টা আসনে দু'বার জিতেছে কিংবা এগিয়েছিল। আর ৫৩ টি আসনে এই তিনটে নির্বাচনের, অন্তত একবার তারা জিতেছিল কিংবা এগিয়েছিল। 

সবেধন নীলমনি এই ১৪৬ আসনেই আজ অবধি বিজেপির চাষবাস। একটা নতুন আসনের দোকান খুললে, অন্য ২টো দোকানের ঝাঁপ বন্ধ হয় তাদের, এটাই তাদের ভোট চরিত্রের স্ট্রাকচার। বেশ কয়েকটা এমন আসনও ছিল যেখানে মুসলমান ভোট মেজরিটি। এবারে সেটি হবে না, তেমনই মতুয়া অঞ্চলে বিজেপির 'পতিদাহ' প্রথা পালিত হবে জীবন্ত চিতায় তুলে।

সুতরাং পাটিগণিতের নিয়ম বলুন কিংবা পারমুটেশন কম্বিনেশন, রেসিপ্রোক্যাল, জিওমেট্রি কিম্বা ফিবোনাচ্চি- আপনি যেভাবেই হিসেব করুন না কেন, ইতিহাসের পর্যালোচনা এবং পশ্চিমবঙ্গের জাতি জনঘনত্বের পরিমাপের অঙ্কে, বিজেপি কোনো গণিতের বলেই সংখ্যাটা একলাফে কক্ষণও ১০০ পার করতে পারবে না। বাকিটা মমতা ব্যানার্জীর বিজেপি জুজুর নামে নির্লজ্জ মিথ্যাচার প্রহসন, আর বিজেপির বিপুল অর্থব্যায়ে চালানো প্রচারযন্ত্রের আষাঢ়ে গল্প। তাতেও আজ অবধি ১৪৬টা আসনেই বুড়ি ছুঁতে পেরেছে বিজেপি, আর কনফার্ম বলতে সেই ৫৫টি। বাকিটা গ্যাস বেলুন যা শুধুমাত্র মিডিয়াতেই উপস্থিত।

পশ্চিমবঙ্গের মাটি চৈতন্যের মাটি, সম্প্রীতির মাটি, একটা দীর্ঘ সময় ধরে চলা কমিউনিস্ট আদর্শ ও আন্দোলনের মাটি, এখানে RSS এর উগ্র হিন্দুত্ব আর বাঁদর রাজত্ব- ওই নির্দিষ্ট সংখ্যক একটা জম্বি হিন্দুদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। বাকিরা কেউ মানুষ নয়, সামান্য কিছু ভক্ত, বাকিরা মহাদেবের ধর্মের ষাড়। অধিকাংশ সুস্থ স্বাভাবিক হিন্দুই, সন্ত্রাসী হিন্দুত্ববাদী সংগঠন RSS কে অন্তর থেকে ঘৃণা করেন, একটা মুসলমান যতটা ঘৃণা করে বরং তার চেয়েও বেশি প্রতিবাদ-প্রতিরোধ দেশের সংখ্যাগুরুদের তরফেই পরিলক্ষিত হয়। 

তাই যারা ভাবছেন বিজেপিই বোধহয় তৃণমূলের বিকল্প, তারা আসলে তৃণমূলের পায়ে শক্তি যোগাচ্ছেন আরও একটা টার্ম ক্ষমতায় আসার দৌড়ে। গত ১৫ বছর ধরে এই বিজেপির বেনা বনে মুক্ত ছড়িয়েছেন, আগে রাম পরে বামের তত্ত্ব ছড়িয়ে ছিলেন। নিট ফল- ফক্কা। মমতার নের্তৃত্বে প্রতিবার RSS এর সরকার প্রতিষ্ঠা হয়েছে। 

এবারও যদি আপনি হিন্দু ভাইটি বিজেপিকেই ভোট দেন, এবার কিন্তু তৃণমূলের সরকার প্রতিষ্ঠা হবে না। কারণ মুসলমান সমাজ মমতা ব্যানার্জীর ভন্ডামি প্রতারণা ধরে ফেলেছে ,তাকে উচিত শিক্ষা দিতে সমগ্র মুসলিম সমাজ বদ্ধপরিকর।  সুতরাং আপনারা যারা যেকোনো মূল্যে তৃণমূল-বিজেপি বাইনারির মধ্যে থেকে একটা RSS এর সরকার প্রতিষ্ঠা করতে অঙ্গীকারবদ্ধ, তাদের জন্য মহা দুঃসংবাদ। ২০২৬ সালে RSS এর সরকার গঠিত হবে না পুনরায়।

গত একুশের নির্বাচনে এবারের প্রথম ফেজে হতে চলা ১৫২টা আসনের মধ্যে তোলামূল পেয়েছিল ৯২টি, আপনি নিশ্চিত থাকুন আজকের ভোটে তোলামূল ৫০ ক্রশ করবে না কোনোভাবেই, আর বিজেপিও যেখানে ছিল তার আশেপাশেই থাকবে, কমলেও কমতে পারে। মালদা মুর্শিদাবাদ এবং দুই দিনাজপুরে তৃণমূল খাতা খুলতে পারলে সেটাই তার জন্য চরম প্রাপ্তি হিসেবে গণ্য হবে। বাকি সমস্ত সমীক্ষা- টিস্যু পেপারে করে যেমন পায়ুপথ মোছে, সেইভাবে মুছে ফেলে দিন ওগুলো। এগুলো সব পেইড প্রোমোশন, আপনার ভাবনাকে ডাইভার্ট করার জন্য। 

সুতরাং তোলাবাজ, কাটমানি খোর, প্রবঞ্চক, প্রতারক, ধর্ষক, চোর, পাতাখোর, দুশ্চরিত্র, মিথ্যাবাদী, সাম্প্রদায়িক এবং ঔদ্ধত্যপূর্ণ এই তোলামূল সরকারকে যদি বিসর্জন দিতে চান তাহলে- বিজেপিকে ভোট দিয়ে সেই লক্ষ্য হাসিল করা সম্ভব নয়। সাম্প্রদায়িক বিজেপি কখনো বিকল্প হতে পারে না শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর বাংলাতে, স্বামী বিবেকানন্দ, রবীন্দ্রনাথ,  নজরুল, হাজী মহসিনের বাংলাতে।

তৃণমূল এবং বিজেপি বাদে যে যেখানে শক্তিশালী তাকে ভোট দিন।  বাম জোট-ISF কে পছন্দ হলে তাদের দিন, আমি ব্যক্তিগতভাবে এদেরই রেকমেন্ড করবো। বামে এলার্জি থাকলে কংগ্রেসকে ভোট দিন। এমনকি হুমায়ূন কিম্বা রুহুল আমিনের প্রার্থীকে পছন্দ না হলেও, সে যদি শক্তিশালী হয় আপনার এলাকায় তাহলে এবারের ভোটটা তাকেই দিন। ভোট যেন নষ্ট না হয়। 

আপনি নিশ্চিন্ত থাকুন তৃণমূল কোনভাবেই তিন সংখ্যার ভিজিট পার হবে না আগামী ৪ঠা মে। আর বিজেপির অতীত কোষ্ঠী কি বলছে তা উপরে লেখা আছে, তার জিনের মধ্যে ঢুকে রয়েছে তার অউকাত, ঐ সর্বোচ্চ ৯০ এর আশেপাশে- ব্যাস গল্প শেষ। 

যুক্তফ্রন্ট জাতীয় একটা সংযুক্ত সরকার গঠন হতে চলেছে এবারে, যেখানে বামজোট নির্ণায়ক শক্তি হবে। আপনার মূল্যবান ভোট দুই বিষ ফলের মধ্যে কাউকে দিয়ে যদি নষ্ট করেন, তার দায় একান্তই আপনার। এর মূল্য রক্ত দিয়ে চোকাতে হবে। তৃণমূল হোক বা বিজেপি সে আপনার রক্ত চুষে নেবেই।  এর সাথে আপনার সন্তানকেও বইতে হবে আপনার এই পাপের ভার। উত্তর প্রজন্মের কাছে অপরাধী হয়ে জবাবদিহি করতে হবে - ১৫ বছর ধরে প্রতিটি লোকসভা, প্রতিটি বিধানসভা, প্রতিটি পঞ্চায়েত, প্রতিটি পুরসভায়- প্রতিবার ঠকার পরেও একই পাপের পুনরাবৃত্তি কীভাবে করেছিলেন!!


শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬

আলেম ক্যালানো যখন ফরজ



টুপি দাড়িওয়ালা একশ্রেনীর আলেম মৌলানা হাফেজ যেভাবে মমতা ব্যানার্জীর উম্মত সেজে, উলঙ্গ হয়ে ফতোয়াবাজি শুরু করেছে, ভোটের পর যখন এদেরকে রাস্তায় ফেলে লোকে কুত্তা ক্যালান দেবে- তখন কি এরা 'সংখ্যালঘু মুসলমান' আক্রান্ত বলে ‘র‍্যান্ডি রোনা’ করলে কি জনগণ প্রভাবিত হবে?

আমি হলফ করে বলতে পারি, অরাজনৈতিক মুখোশধারী এই চটি চাঁটা 'দাড়ি-টুপি' ওয়ালা খবিশ ইবলিশ গুলোকে ঝুলিয়ে ক্যালানোটা ফরজ ইবাদতের মধ্যে গন্য হবে ভোটের পর। নতুবা মুসলমানের ঈমান নিয়ে প্রশ্ন উঠে যাবে। আবু-জেহেল, আবু-লাহাব, মুগিরা এরাও সকলে লম্বা জোব্বা, লম্বা দাড়ি, মাথায় টুপি লাগিয়েই থাকত, এটা যেন মুসলমান সমাজ ভুলে না যায়।

এক শুয়োরের বাচ্চা এর আগে মুখ খোলেনি, যখন- ওয়াকফের সম্পত্তিকে যখন ১ নং খতিয়ানে তুলে দিয়েছিলো মমতা ব্যানার্জির সরকার, কেউ কোনো সাংবাদিক সম্মেলন করেনি। OBC, মাদ্রাসা শিক্ষা, SIR এর নামে মুসলমানকে যখন জিম্মি করা হয়েছিলো- এই প্রতিটা খ'য়ের ছেলে মুখে চটি গুঁজে বসে ছিলো, মমতা বিপদে পরতেই এরা রে রে করে এক হাতে ফতোয়া আর এক হাতে বিচি সম্বল করে ধেই ধেই করে নাচতে শুরু করে দিয়েছে।

এক শালার কোনো চাকুরি বা ব্যবসা নেই, প্রায় সবকটা খারিজী মাদ্রাসার শিক্ষক। সেই খারিজী মাদ্রায় আয় বলতে দান আর চাঁদার টাকা। মাদ্রাসা চালাবার নামে সাদাকা, জাকাতের পয়সাতে যারা নিজেদের পেট ভরায়, আজ তারা তোলামূলের হারামের টাকা খেয়ে বিজেপির জুজু ফেরি করছে। কোচবিহার থেকে কাকদ্বীপ একটাও এই জাতের কোনো মুনাফেক রেহাই পাবেনা ইনশাল্লাহ। মিথ্যাচার করে একটা সমাজকে গুমরাহ করার মূল্য নগদে চোকাতে হবে, কোনো ধারবাকি থাকবেনা।

বাকিরা দেওয়াল লিখন পড়ে যা বোঝার বুঝে নিন। জনগণের মার, ক্যাওড়াতলা পাড়। ভাইপো তো বিদেশ পালাবে, এই বেশ্যার বাচ্চা বেজন্মা ফতোয়াবাজদের কে বা কারা বাঁচাবে?


শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬

মুসলমান আলেম পরিচয়ে তোলামূলের হয়ে খেপ খাটা এরা আসলে কারা?

 

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতি জটিল অবস্থায় দাঁড়ালে- হিন্দু তৃণমূল বিজেপির দিকে চলে যাবে। তখন মুসলমান গুলো যাতে কংগ্রেস বা বাম জোটের দিকে চলে যেতে না পারে সেই জন্য হুমায়ূনকে সৃষ্টি করা হয়েছে। বিজেপির কোন অবস্থায় পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় আসা সম্ভব নয, একমাত্র তৃণমূল যদি না বিজেপির মধ্যে বিলীন হয়ে যায়। ১১৮টা মুসলমান অধ্যুষিত আসন যেখানে বিজেপির লড়াই নোটার সাথে, আর ৪০টা মতুয়া প্রভাবিত আসল- যেখানে বিজেপিকে ঘাটে তুলে দেওয়া হয়েছে। তাহলে বাকি সবটা আসনেও ১০০% বিজেপিই জেতে, তাতেও ম্যাজিক ফিগার ছুঁতে পারবেনা। তাহলে, কোন মন্ত্রে বিজেপির জুজু দেখাচ্ছে তৃণমূল ও তাদের পোষ্য মিডিয়া ও ভাতাজীবিরা?

হুমায়ূন নিয়ে নতুন কিছু বলার নেই, গতকাল তাকে নিয়ে আমার বক্তব্য বলে দিয়েছি। যে লোকটা বিজেপির সাথে ইতিমধ্যে ঘর করেছে, যে লোকটা ২ মাস আগে হেলিকাপ্টারে চড়ে প্রচারের ঘোষনা দিয়েছে, যে লোকটা ৩ মাসের দল খুলেই ১৮২টা প্রার্থী দেওয়ার ক্ষমতা ধরেছে, যে লোকটা ৩ মাসের দল খুলেই স্থায়ী প্রতীক পেয়ে গেছে, যে লোকটা রাতারাতি Y ক্যাটেগরির সিকিউরিটি বহর পেয়ে গেছে কেন্দ্র সরকারের থেকে- মাকুন্দ গোপনাঙ্গ বিশিষ্ট আতা ক্যালানে মাল আর মিথ্যাবাদী ছাড়া যেকোনো সুস্থ মানুষ জানতো বিজেপি-তোলামূলের মত কেউ এনাকে পিছন থেকে ব্যাকাপ দিচ্ছে। অতএব, হুমায়ুনকে নিয়ে ঈশপের ‘নীতিমালা’ গল্প ফাঁদার কোনো সুযোগ নেই। 

এতোদিন যারা হুমায়ূনের দলে পদাধিকারী ছিলো, তারা কেউ জানতনা হুমায়ূনের এই বিপুল টাকার উৎস কি? আসলে সকলে সবটা জানতো, আর সেই টাকা উচ্ছিষ্ট খেতেই এই মালগুলো দলে দলে ভিড় জমিয়ে ছিলো। যেগুলো আজ ‘তথাকথিত’ বিদ্রোহ করছে, সেগুলো নেহাত বেজন্মা বেশ্যার বাচ্চা, হারামের মালের গন্ধ পেয়ে চেটে, চুষে, কামড়ে, হামলে পরে খাবো বলে গিয়ে আজ সতী সাজছে। খাবো সবটাই, শুধু যেন সেটা জনগণ জানতে না পারে- এই হচ্ছে মোদ্দা ইস্যু। 

আচ্ছা, ইসলাম মানে তো কোরানের নির্দেশিকা আর আমাদের নবী করীম(সাঃ) এর জীবনধারা তথা হাদিস এর নীতিমালা। এখানে কোথায় চাঁদা তুলে খাওয়া পীর ফকিরির ব্যবসার উল্লেখ রয়েছে? ইসলামের নীতিমালা কি নতুন করে লেখা হয়েছে? আচ্ছা যিনি এই ইসলাম ধর্মের প্রবর্তন করেছেন সেই নবী করিম(সাঃ) তো নিজে ব্যবসায়ী ছিলেন, তাঁর যারা সরাসরি অনুগামী ছিলো সেই সাহাবী, তাবেঈন, তাবে-তাবেঈণ- এনারা কি রাষ্ট্রের ভাতাজীবি ছিলেন? এনারা আলেম সেজে সদগা যাকাত তুলে ‘বেতনের’ নামে সেখান থেকে রুটিরুজি যোগার করতেন? এনাদের প্রত্যেকের নিজস্ব পেশা ছিলো, এনারা সকলে স্বনির্ভর ও পরিশ্রমী ছিলেন। কেউ কৃষক ছিলেন, কেউ মজদুর, কেউ শ্রমিক, কেউ মরুদ্যানে সরাইখানা চালাতেন, কেউ নানান মাপের ব্যবসায়ী ছিলেন, অর্থাৎ কেউ ভাতা আর চাঁদা তুলে খেতোনা ইসলামের নামে।

আজকে দেশ ও রাজ্য জুড়ে এই আলেম ও পীরের দোকান খুলে বসা মালগুলো, যারা ইসলামের ঠিকেদারি নিয়ে রেখেছে, এদের রুজিরুটির উৎস কি? এই যে এতো মৌলানা সাহেব, হাফিজ সাহেব, আলেম, ক্বারী, মোহাদ্দিস, ইমাম, যারা ফতোয়া দিচ্ছেন তোলামুলের পক্ষে- এনাদের হালাল পেশা কি? গুটি কয়েক হাতেগোনা ‘মুমিন’ ব্যক্তি বাদ দিলে, এরা প্রত্যেকে ‘ইসলাম ধর্মকে’ পুঁজি বানিয়ে জোব্বা, চোগা, গোঁফ বিহীন দাড়ি আর মাথায় ফেজ টুপির দোকান সাজিয়ে হয় চাঁদা তুলে খাচ্ছে, কিম্বা ঝাড়ফুঁক জলপড়া তেলপড়া তাবিজ কবজের লোক ঠকানো ব্যবসা করে হারামের কামাই খাচ্ছে। এর পাশাপাশি সমানে চেষ্টা থাকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার বৃত্তের কাছাকাছি পৌঁছে ‘বাইতুল’ মালের যে রাজনৈতিক লুঠ চলছে, সেখান থেকে যেন একটা অংশ তাদের ভাঁড়ারে চলে আসে। তার জন্য এরা ইমান, আমল বিক্রি করা, ইসলামকে বিকৃত করা- সব কিছু করতে রাজি।

আপনি প্রমাণ দেখান, যারা যারা সমাজের ওই অংশ থেকে মানে ‘ইসলামকে’ বেচে খাওয়া লোকজন, তথাকথিত আলেম সমাজ মুসলমানের নেতা হওয়ার চেষ্টা করেছে, এবং মুসলমান সমাজও যাদের হাতে নেতৃত্বের ঝান্ডা দিয়েছে- তারা পিছিয়ে থাকা মুসলমান সমাজের জন্য কি দিয়েছে? বা ১৫ বছরের তৃণমূল সরকারের থেকে কি আদায় করাতে পেরেছে?

মমতা ব্যানার্জির দল সাংসদে তিন তালাক বিলে বিজেপির পক্ষে ছিলো, এই আলেম সাজা চমনচুতিয়া গুলো মুখ খুলেছিলো সেদিন মমতা ও বিজেপির সম্পর্ক নিয়ে? CAA/NRC বিলে তৃণমূলের ৮ জন সাংসদ ভোট দেয়নি, এই বাঁদির বাচ্চা গুলো মুখ খুলেছিলো? দীর্ঘদিন সরকারী মাদ্রাসাতে শিক্ষক নিয়োগ না করে মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থাটাকে পঙ্গু করে দিয়েছে RSS এর প্ল্যান মাফিক, এক শুয়োরের বাচ্চা মুখ খুলেছে এ নিয়ে গত ১৫ বছর? রাজ্যে ৩০% মুসলমান, সরকারী চাকরিতে মুসলমানের ছেলে মেয়েরা মাত্র ৪% অংশীদার, কেউ আন্দোলন করেছে বা সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার নুন্যতম দিশা দেখিয়েছে? রাজ্যে ৩০% মুসলমান, রাষ্ট্রীয় জনপ্রতিনিধি মাত্র ১২%, এই শুয়োরের বাচ্চারা এই বিষয়ে একবারও আন্দোলন বা প্রতিবাদ করেছে? OBC তে যে মুসলমান সমাজকে ধোঁকা দেওয়া হলো, ওয়াকফের সম্পত্তি কেড়ে নেওয়া হলো, কোন মামার সন্তান ‘আলেম’ আজ যারা তলামূলকে ভোট দিতে আহ্বান জানাচ্ছে, তারা জান লাগিয়ে প্রতিবাদ করেছিলো?

এরা চুপ থাকার বিনিময়ে তৃণমূল দল ও মমতা ব্যানার্জি সরকারের থেকে হারামের মাল কামিয়েছে এতদিন। আজ তাই মমতার হয়ে এদের হা-রে-রে-রে করে নেমে পরতে হয়েছে, ‘কওম’ কে এরা এভাবেই বিক্রি করেছে মুসলমান সমাজকে ঠকিয়ে। ঠিক যেমন মমতা ব্যানার্জী, বিজেপি-RSS এর মুসলমান বিরোধী প্রকল্প গুলোকে পাশ করিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে টাকা নিয়েছে। সামান্য হুমায়ুন যদি দাবী করে বিজেপি তাকে ১০০০ কোটির অফার করেছে, তাহলে ভাবুন মমতা ব্যানার্জী বিজেপি-RSS এর কাছে গত ১৫ বছরে ধরে সহস্রবার বিক্রি হয়ে কত টাকা কামিয়েছে!

এদেরকে চিনে নিন। প্রথমেই তোলামুলের পক্ষে থাকা এই আলেমদের শুধান, আপনাদের পেশা কি? মানে পেট চলে কীভাবে? রুজিরুটির বন্দোবস্ত কীভাবে ও কোথা থেকে আসে! তারপর উপরে করা প্রশ্নগুলো এদের শুধান। আসলে এই শয়তান ইহুদির বাচ্চা গুলো ক্ষমতার কাছে বিক্রি হয়ে মুসলমান সমাজকে কাঁকড়ার মত টেনে আঁকড়ে ধরে বসে আছে, কোনোভাবে এগোতে দেবেনা। মুসলমান জনতা যত মুর্খ থাকবে, তত তাদের ভয় দেখিয়ে এদের পেট ভরাবে। মানুষ শিক্ষিত হলে এই শুয়োরের বাচ্চাদের পেটে সবার আগে লাথি মারবে। শিক্ষিত সম্প্রদায় তখন বিভিন্ন ‘মিশন’ নামক প্রতিষ্ঠানে টাকা দেবে, যারা পিছয়ে থাকা মুসলমান সমাজের সন্তানদের ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার প্রফেসর শিক্ষক বানাচ্ছে, সর্বোপরি শিক্ষিত বানাচ্ছে। তারা ইসলামিয়ার মত হাসপাতালে দান করবে, নিজেরা অনেকে হাসপাতাল বানাচ্ছে, কমিউনিটি সেন্টার বানাচ্ছে, যেখানে সমাজের পিছিয়ে পরা অংশটা আবার মূলস্রোতে ফিরে এসে সম্মান জনক রুটিরুজি যোগার করতে পারে, খেতে খেতে পারে।

এরা কেবল খারিজী মাদ্রাসা বানায়।

একটা উদাহরণ নিন, সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী। শতাব্দী প্রাচীন জমিয়ত উলামা হিন্দের সর্বোচ্চ পদাধিকারী ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ শাখার। সেই পদকে মমতার কাছে বেচে MLA ও মন্ত্রী হয়েছেন। কোলকাতা শহরে বিপুল পরিমান ওয়াকফের সম্পত্তি দীর্ঘদিন ধরে ব্যক্তিগত সম্পত্তির মত ভোগদখল করে চলেছে। নিজে সারা জীবনে ডজন খানেক বালবাচ্চা পয়দা করেছেন ওনার আব্বা জানের মতই। সব মিলিয়ে সিদ্দিকুল্লাহ সাহেবের ভাই, সন্তান, জামাতা ও তাদের ওয়ারিসান সকলে মিলে নর্মালি রাস্তা দিয়ে হেঁটে গেলে ৫০০ লোকের মিছিল মনে হয়। মন্ত্রী ও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় বলিয়ান সিদ্দিকুল্লাহ সাহেব এই মিছিলের অধিকাংশের আখের গুছিয়ে দিয়েছেন। পরিবারের বাইরে থাকা কোটি কোটি মুসলমানের জন্য কি করেছেন? 

সিদ্দিকুল্লাহ সাহেব ও ওনার মত তোলামূলের পে-রোলে থাকা বহু আলেমই খারিজী মাদ্রাসার সাথে যুক্ত, সিদ্দিকুল্লাহর ভায়েদের পেশাও তাই। কারন মাদ্রাসার নামে তোলা সদগা, যাকাত, ফিৎরা, সদগায়ে জারিয়া, কাফফারা, নজর, মানত, ফিদইয়া ইত্যাদির রাশি রাশি টাকা গুলো বেতনের নামে ভোগ দখল এরাই করে। মাদ্রাসা চালানোই এদের মূল পেশা। সেই প্রতিটা মদ্রাসাতে কোনো আধুনিক শিক্ষা নেই, যেখানে পড়াশোনা করে ১ জন মুসলমান শিক্ষার্থী- এই সমাজের ব্যবসা ও চাকরির কম্পিটিশনের বাজারে সামান্যতম প্রতিযোগিতা করতে পারে! এদেরকে মাদ্রাসাতে ছেলেপুলে ভর্তি করতেই হবে, এর প্রধান শর্ত হচ্ছে মুসলমান সম্প্রদায় গরীব হওয়া। কারনে গরীব অনাথ শিশুদের না দেখালে ওখানে দানের টাকা কেউ দেবে কেন? সিদ্দিকুল্লারা তাই সকলে খারিজী মাদ্রাসা চালায়, মুসলমানকে দেখায় দেখো আমরা কোরান হাদিসের শিক্ষা দিচ্ছি। যে কোরান হাদিসের শিক্ষা নিজেদের রুজি রোজগার ও জীবন যাত্রাতে এতটুকু লাগু করেনা, যেটুকু ভেক ধরার জন্য না পরলেই নয়। এনারা কেউ হাসপাতাল করেছে? এনারা কটা এতিম খানা খুলেছে? কটা আধুনিক শিক্ষা কেন্দ্র খুলেছে, যেখানে মুসলমানেদের পিছয়ে পরা সমাজের জন্য বৃত্তিমূলক শিক্ষা প্রতিযোগিতামূলক চাকরির জন্য ট্রেনিং দেওয়া হয়? ওয়াজ মেহেফিলের নামে ‘পার নাইট’ হিসাবে লাখ টাকায় ধর্ম বেচার কারবারিরা কেবল ততটুকু ফতোয়া দেয়, যতটা তাদের ‘চেটে’ খেতে ও হাত পেতে খাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয়।

এরা ‘দ্বীন’ এর কথা বিক্রি করে, নিজেরা দুনিয়া দুনিয়া করে উন্মাদ হয়ে রয়েছে, সর্বক্ষণ কি করে দুটো মেরে মুচরে নিয়ে এসে নিজের ঝুলি ভরবো- এই হচ্ছে এদের ঈমানের একমাত্র কাজ। এরা কেউ গত ১৫ বছরে মমতা ব্যানার্জী ও তৃণমূল দলের বিরুদ্ধে ১টা কথা বলেছে? না বলার কারন দুটো হতে পারে, প্রথমত মমতা সরকারের কোনো ভুল ছিলোনা, তৃণমূল সরকার আসলে মুসলমানদের জন্য ‘খিলাফায়ে রাশেদিন’ প্রতিষ্ঠা করে রেখেছিলো এতোদিন, দ্বিতীয়ত ওনারা মুনাফেক মিথ্যাবাদী। আসানসোলে দাঙ্গা হোক বা মুর্শিদাবাদের অশান্তি- এনারা মুখে চটি গুঁজে বসে ছিলেন। এরা বাবুল সুপ্রিয়র বিরুদ্ধেও এতটুকু রা কাটেনি, যে আসানসোল দাঙ্গার মূল নায়ক। উপরন্তু তৃণমূলে যোগ দেওয়া বাবুল সুপ্রিয়কে এরা ‘বাপ’ হিসাবে মেনে নিয়ে, বালিগঞ্জের মত মুসলমান অধ্যুষিত আসনে তাকে জিতিয়েও এনেছিলো। ওয়াকফ নিয়ে মমতা ব্যানার্জীর ধাষ্টামির বিপরীতে এদের কোন অবস্থান ছিলোনা, মমতার পদলেহন ছাড়া? এদের শুধু মুনাফেকই নয়, এরা জ্যান্ত শয়তান। সামান্য সরকারী অনুগ্রহের লোভে এরা মুসলমান সমাজের সাথে প্রতারনা করে গুমরাহ করছে।

এরাই ফতোয়া দিচ্ছে, মমতাকে ভোট না দিলে বিজেপি চলে আসবে। রোজার সময় এদের চালিত প্রতিটা মাদ্রাসা বাইরের রাজ্যে যাকাতের টাকা আদায় করতে যায়। এদের পাখির চোখ রাজ্যগুলোর নাম জানেন? গুজরাত, হরিয়ানা, দিল্লি, মহারাষ্ট্র, আসাম, উত্তরপ্রদেশ ইত্যাদি; যেগুলোর সবকটা বিজেপি শাসিত রাজ্য। বিগত ১০-১৫ বছর ধরেই এগুলো বিজেপি শাসিত রাজ্য, এনারা কেউ বিজেপির ভয়ে সেখানে ‘আদায়’ করতে যাওয়া ছেড়েছে। সেখানে রোজ মুসলমান নিগৃহীত ও খুন হচ্ছে, সেই তালিকাতে কেবল গরীব মুসলমান, একটা মৌলানা আদায়কারী হেনস্থার শিকার হয়েছে? কারন তারা সেখানে বিজেপির সাথে আপোষ করে চলে। রাজ্যের ৯০% পরিযায়ী শ্রমিক এই বিজেপি শাসিত রাজ্যেত কাজে যায়, তখন এরা কেউ ফতোয়া দেয়না যে বিজেপি শাসিত রাজ্যে যাওয়া যাবো না। 

বিজেপি তো নর্দমা, মুসলমান বিদ্বেষই তার একমাত্র রাজনৈতিক হাতিয়ার। কই, এই সব আলেম, পীরের ছানারা তাদের অনুগামীদেরও কি মানা করেছে- ভাই ওখানে বিজেপি আছে যেয়োনা, মারা যাবে। নিজেরাও অধিক দানের লোভে, মাসের পর মাস বছরের পর বছরে বিজেপি শাসিত রাজ্যে পরে থাকে, এরা যোগীর রাজ্য গিয়ে সাহারানপুর দেওবন্দে পড়াশোনা করে, সেখানে যেতে কেউ মানা করেনা, যে বিজেপি আছে কেউ যাসনা পড়তে। শুধু এ রাজ্যে ভোটের সময় বিজেপির জুজু মনে পরে যায়। বিজেপি প্রকাশ্য শত্রু হলে, এই ভন্ডগুলো তার চেয়েও বড় শত্রু মুসলমানের জন্য।

সুতরাং, মমতা না এলে বিজেপি চলে আসবে, এটা এদের ভাতা পাওয়ার ধান্দাবাজি, রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডা। সরকারী টাকায় মন্দির বানানো মমতা ক্ষমতায় আসীন থাকলে, রাজ্যে বিজেপিকে আদৌ দরকার রয়েছে RSS এর? বিজেপি কোনটা করবে, যে পাপ মমতা ব্যানার্জী ইতিমধ্যে করেনি? আলেমগুলো যদি সত্যিই যদি বিজেপিকে ঘেন্না করত বা তাদের ভয় পেতো, তাহলে তারা নিজেরা ও তাদের অনুগামীদের বিজেপির রাজ্যে যেতে মানা করতো। সামান্য চাঁদার জন্য এখানে তারা বিজেপির সাথে কেন আপোষ করছে? ইরাণের মুসলমানেরা কি ইজরায়েলে কাজে যায়? এরা শুয়োরের মাংসকে হারাম বলে, কিন্তু ঝোলটা শরীয়ত মেনে হালাল হিসাবে খায়। এরা তোলামুলের কাছে ফুটো পয়সাতে ঈমান আমল বিক্রি করে রেখেছে। মমতা ব্যানার্জী মুসলমানকে ‘দুধেল গাই’ সাজিয়ে ‘ভোটব্যাঙ্ক’ হিসাবে ব্যবহার করে দ্বিতীয় শ্রেনীর নাগরিক বানিয়ে রেখেছে, এই আলেম গুলো সেই পাপের প্রত্যক্ষ অংশীদার। আজ হুমায়ূন যে কারনেই হোক, সেই ‘দুধেল গাই’ ভোটব্যাঙ্কে থাবা বসাতেই- মমতা ব্যানার্জী উন্মাদ হয়ে এই বিকৃত আলেম সমাজকে নামিয়ে দিয়েছে; যারা আসলেই মমতার পোষা কুত্তা। এদের ফতোয়া মুসলমান সমাজকে বাঁচানো বা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য নয়, আতঙ্কে দিশেহারা মমতা ব্যানার্জীকে বাঁচানো ও মমতাকে সামনে রেখে এদের নিজেদের রুজি রোজগার বাঁচানোই এদের মুখ্য উদ্দেশ্য।

হুমায়ূনের ভিডিও কান্ডে একটা জিনিস পরিষ্কার হয়ে গেছে, মমতার হয়ে খেপ খাঁটা যত মুনাফেক মুসলমান ছিলো, অনেক আগেই মমতা যাদের পোঁদের কাপর কেড়ে নিয়েছিলো; হুমায়ুনের সামান্য পরিমান জনভিত্তি দেখে রাতের ঘুম উড়ে যাওয়া মমতা ব্যানার্জী- সেই পোঁদের কাপর বিহীন ‘কাটা মোল্লার’ সব কটার সামনের কাপড় কেড়ে নিয়ে, ন্যাংটা করে বাজারে নামিয়ে দিয়েছে। সোজা হিসাব, এতদিন তদের ভাত কাপড় দিয়ে কি মিছিমিছি পুষেছি? সুতরাং, হুমায়ূনের বিরুদ্ধে ফতোয়া দে, আর মমতা না এলে বিজেপি চলে আসবে এই বলে মুসলমানকে বোকাচোদা বানা। 

হুমায়ূনের বিরুদ্ধে আজ কারা খাপ বসিয়েছে? নারদার টাকা নিতে দেখা স্যান্ডো ববি, আর সারদার টাকা চুরিতে সরাসরি অভিযুক্ত ও জেলখাটা আসামী কুনাল ঘোষ। চালুনির দল ছুঁচের বিচার করতে বসেছে, ওদের নিজেদের ঘরোয়া কেচ্ছা নিজেরাই মেটাক। ওমা, কিছু কিছু বাম্বাচ্চা ববি কুনালের চেয়েও বীর বিক্রমে ন্যাংটা হুমায়ুনকে ঠিল মারছে। আরে মদন, নর্দমাতে ঢিল মারলে কাদা তোর জামাতেই উঠবে। হুমায়ুন কোনো বাম ভোট কাটবেনা, সে তোলামুলের ভোটই কাটবে। আর তাতে যদি সে সফল হয়, তবে বামের ঘরে দু-চারটে আসন আসতে পারে। 

সিপিএমের সোশ্যাল মিডিয়া ব্রিগেড আরেক গান্ডুর দল। সিপিএমের নানান শাখা সংগঠন আছে, কিন্তু সেগুলো খাতায় কলমে। কেউ মূল সিপিএম, কেউ সিটু, কেউ যুব, কেউ ছাত্র তো কেউ ক্ষেতমজুর। এরাই গত ৫-৭ বছর ধরে প্রতিটা মিছিলে মিটিং এ যায়, এরাই ব্রিগেডে ১০ লাখের জমায়েত করে। আসলে দিনের শেষে সাকুল্যে এই ১০ লাখই হারাধনের ছেলে দশটি ছেলে,  কুমিরের বাচ্চা দেখানোর মত এদেরকেই সব জাইগাতে দেখা যেতো। একটা বুথ থেকে এরা ১২ জন আসতো, সেই ১২টা ভোটও পার্টি পেতোনা, ফলে সর্বত্র জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। তোদের জ্ঞানের বহর আর অউকাত তো গত ১৫ বছরে রাজ্যের লোক দেখে নিয়েছে। মুখ খুললেই যখন শুধু দুর্গন্ধই বের হয়, তখন চুপ থাকাটা শেখ না ভাই। আজ তো মানুষই পরিস্থিতি বদলে দিচ্ছে, কৃষিপ্রধান মন্তেশ্বরে শতরূপের সভাতে টুপি দাড়ির মুসলমান আর ঘোমটা দেওয়া মহিলাদের ভিড়, রাজ্যে দিন বদলের আশা জাগাচ্ছে। তোরা অন্তত মুখ আর পোঁদ- এই দুই ফুটো বন্ধ রাখ। দলের পক্ষে অফিসিয়াল বিবৃতি দেওয়ার তো লোক আছে, উনাদেরকে আগে বলতে দে, তারপর নাহয় তোরা সেই লাইন ধরে ঝাঁ ঝাঁ করে বলতে শুরু করবি।

তৃণমূল আজ ক্রমশ ২০১৭ সালের সিপিএমে পরিনত হচ্ছে। যেখানে যত ছুপা তোলামুল ছিলো, আজ সবাই প্রকাশ্যে হাজির হয়ে গেছে। অর্থাৎ, এই মাল কটাই সবেধন নীলমনি হয়ে অবশিষ্ট রয়েছে তৃণমূলে। চাকুরীজীবি জনগণ নেই, মধ্যবিত্ত নেই, সাধারণ গরীব মুসলমান, অফশিলি ও আদিবাসি, শ্রমিক কৃষক সবাই তৃণমূলের উৎখাত চাইছে যেকোনো মূল্যে। এই তোলাবাজ কাটমানিখোর চোর গুলোর হাত থেকে রাজ্যবাসী পরিত্রাণ চাইছে; এই সময় যারা তোলামূলের ঢাল হিসাবে সামনে আসবে, তারা মৌলানা আলেম হোক বা সাধু সন্ন্যাসী, মুখে জাষ্ট মুতে দিয়ে লাথি মেরে রাস্তার বাইরে ফেলে দিন। 

যাদবদের জন্য লালু অখিলেশ দল খুললে সেটা সিদ্ধ, চামার দলিতের জন্য দল খোলা মায়াবতীর দোষ নেই, দ্রাবিড়দের জন্য খোলা দল আছে তামিলনাড়ুতে, মাঠারাদের জন্য দল আছে, কন্নরদের জন্য দল আছে, তেলেগু জাতিস্বত্তার ভিত্তিতে দল হলে তা সমান ও রাষ্ট্র স্বীকৃত হয়, শিখদের জন্য আকালি দল আছে, দেশে সকল জাতি ও গোষ্ঠীর নিজেদের রাজনৈতিক দল আছে। পাহাড়ীদের জন্য নিজস্ব দল আছে, আদিবাসীদের নিজেদের দল আছে। আসাম সহ উত্তরপূর্বে নানান ধর্ম ও জাতি ভিত্তিক দল আছে। ব্রাহ্মণ্য বাদীদের জন্য খোদ RSS রয়েছে, মুসলমানদের সেই অর্থে কোনো দল নেই, তারা কেবল ভোট ব্যাঙ্ক। দল খুললেই সে সাম্প্রদায়িক, এমনকি সন্ত্রাসীও বটে। মুসলমানদের নেতা রাহুল গান্ধী, মমতা ব্যানার্জী, অধীর চৌধুরী, লালু প্রসাদ, মুলায়ম সিং, করুণানিধি, জ্যোতি বসু, বা প্রমুখেরা; সৌজন্যে এই হারামি শয়তান আলেমগুলো, যারা ইসলামকে বেচে এসেছে যুগে যুগে- সামান্য ভাতা আর কিছু উচ্ছিষ্টের বিনিময়ে। 

“মুসলমান আর ভয় পাচ্ছেনা, বিজেপি NRC জুজু দেখিয়ে মমতার ভয়ের দোকানের ঝাঁপ বন্ধ হয়ে গেছে”। এই লাইনটার জনক খুব নির্দিষ্টভাবে আমি নিজে। টুপিওয়ালা মুসলমান আর ঘোমটা দেওয়া মহিলা ব্রিগেড- এবারে ঠিক করে দেবে রাজ্যের শাাসক কে হবে। মুসলমান সমাজে যারা ‘মানুষ’, তারা এবারে ভোটটা দেবে- ১৫ বছরে কি পেয়েছে, কি পায়নি, আর কি কি পেতে পারতো যা তার অধিকার ছিলো, আগামীতে কি কি পেতে পারে সেই বুঝে ভোট দেবে। এই সব দু পয়সাতে বিক্রি হয়ে যাওয়া আলেমদের ফতোয়াকে পোঁদে মুছে ফেলে দিন জাষ্ট। সুযোগ পেলে মুখে মুতেও দিন, তাতে আপনার খানিকটা নেকি বাড়বে বৈ কমবেনা। 

তাই যে শুয়োরের বাচ্চা, নিজেকে মুসলমান সম্প্রদায়ের হনু বলে ফতোয়া দিয়ে তোলামুলের হয়ে দালালি করতে আসবে, শুরুতেই তাকে খানকির ছেলে ও শুয়োরের বাচ্চা বলাটা ফরজ, এটা আমলও বটে। এটা না বললে আপনার ঈমান নিয়ে প্রশ্ন উঠবে, আদৌ আপনি মুসলমান, না শয়তানের ধোঁকায় পরা গুমরাহ ব্যাক্তি এখানে বিচার হবে। এর পর সেই দালালকে শুধান- আপনি ওয়াকফ, OBC, SIR এর নামে মুসলমান সম্প্রদায়কে যখন ক্ষতির মুখে ফেলা হচ্ছিলো, আপনি বা আপনারা কোথায় ছিলেন? 
   
ধর্মকে বেচে খাওয়া যাদের রুটিরুজি- যাদের দোকান চলে ‘কওম’কে চুতিয়া বানিয়ে; তারা ‘কওম’ নিয়ে কিছু বলতে আসলেই মুখে থুতু দিন। এরা নিজেরা সারাবছর চটির নিচে পরে থাকে ভাতাজীবি হয়ে, ভোটের বাজারে ব্ল্যাকমেল করে কিছু কামিয়ে নেওয়ার তালে এই মালগুলো মুখ খুলেছে। এদের এই খোলা মুখে হেগে দিন। এদেরকে মুসলমান সমাজের নেতা বানানোর ধাষ্টামি বন্ধ করুন, গরীব স্বল্পশিক্ষিত মুসলমান বোকা হতে পারে, তাদেরকে বোকাচোদা ভাবার আর সুযোগ নেই। যাকে খুশি ভোট দিন, তৃণমূল বিজেপিকে বাদে।

রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬

ক্ষুদ্র ঋণের ফাঁদে গ্রাম বাংলার মা বোনেরা

 

❌ ক্ষুদ্র ঋণের ফাঁদে গ্রাম বাংলার মা-বোনেরা ও তৃণমূল এর তোলাবাজি আর কাটমানির অন্ধকারের রাজত্ব। ❌

🟥 অনিয়ন্ত্রিত ঋণ + উচ্চ সুদ + কম আয় = ঋণের ফাঁস

পশ্চিমবঙ্গে ক্ষুদ্রঋণ এখন “double-edged sword”, সঠিক ব্যবহার হলে উন্নয়ন, ভুল ব্যবস্থায় ঋণের ফাঁস। স্বনির্ভর গোষ্ঠীর (Self-Help Group) ঋণ বর্তমান ক্ষেত্রে গরিব মানুষের জন্য আশীর্বাদের বদলে অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্ষুদ্র ঋণের প্রাথমিক উদ্দেশ্য অত্যন্ত ভালো ছিলো। এতে করে গ্রামীণ মহিলাদের স্বনির্ভরতা বেড়েছিলো। নানান ধরণের ছোট ব্যবসা, পশু পালন, মাছচাষ ইত্যাদি শুরুও হয়েছিলো। ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার বাইরে থাকা একটা বিপুল সংখ্যার মানুষ বিশেষত মহিলারা, রাষ্ট্রের মূল অর্থনৈতিক ব্যবস্থার মধ্যে চলে এসেছিলো। গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা হয়েছিলো। তোলাবাজ সরকারের অপদার্থতা আজকে এটাকে মারন ফাঁদে পরিণত করেছে।

বিগত ১৫ বছরে রাজ্যে কোনো শিল্প আসেনি, ভারি বহু কোম্পানি রাজ্য ছেড়ে পালিয়েছে; ফলত কর্মসংস্থান নেই। কৃষি পণ্যের দাম নেই, রাজ্যের ১৮% চাষযোগ্য জমি অনাবাদি হয়ে পরে রয়েছে। সারের কালোবাজারি, কীটনাশকের অভাবের সাথে রয়েছে কৃষিতে কাজ করা শ্রমিকের সমস্যা। কারন, বহু গ্রামীণ মানুষ যারা জমিতে ‘মুনিশ’ খাটতেন তারা পরিযায়ী শ্রমিক হয়ে ভিনরাজ্যে চলে গেছে। ভাতা রাজনীতি আর করোনার সময় থেকে পাওয়া ‘ফ্রি’ চালের কল্যাণে সমাজের একটা কর্মঠ অংশের মানুষকে মানসিকভাবে ঘড়কুনো কুঁড়ে বানিয়ে দিয়েছে। 

🟢 বাংলার প্রেক্ষাপটে সমস্যা কেন বেড়েছে? 

প্রথমেই রয়েছে কৃষিতে প্রাকৃতিক অনিশ্চয়তা, অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি তো আছেই; উচ্চমূল্যের ডিজেল, ততোধিক চড়া বিদ্যুতের বিল, বহু স্থানে জলস্তর নেমে যাওয়াতে গভীর নলকূপ সেচ বন্ধ, মেলা খেলার সরকার নদী থেকে ক্যানালের মাধ্যমে সেচের বন্দোবস্ত করতে পারেনি। ফলত, রাজ্যজুড়ে কৃষিতে একটা হাহাকার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এরপর ফসলের ন্যায্য দাম পেতে গেলে সেখানেও শাসক দলের ভয়াবহ তোলাবাজি। অধিকাংশ ‘কোটা’ ফড়েরা ভুয়ো কাগজ জমা করে ভরিয়ে দিচ্ছে তৃণমূলের ক্যাডার আর কিছু অসৎ অফিসারের সাথে ষড়যন্ত্র করে, আসল চাষীরা বঞ্চিত থেকে যাচ্ছে। স্থানীয় নেতাদের চাঁদাবাজি, রাস্তায় পুলিশের তোলাবাজির উৎপাতে ভিনরাজ্যে কৃষিপন্য রপ্তানি শিল্প এক দুঃস্বপ্ন আজকের পশ্চিমবঙ্গে। ফলত চাষীর হাতে টাকা নেই, গ্রামীণ অর্থনীতি বন্ধ্যা হয়ে গেছে একপ্রকার। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, শ্রমজীবী পরিবারগুলোতে নুনভাত টুকু কোনোক্রমে জুটে গেলেও, অন্য মৌলিক চাহিদা মিটছেনা।

যেহেতু নির্দিষ্ট আয়ের উৎস নেই, ব্যবসা নেই, চাকরি নেই। শিল্প বলতে তোলাবাজি, কাটমানি আর চপ ঘুগনি। প্রথম দুটো তোলামূলের জন্য সংরক্ষিত, বাকি দুটো রাজ্যে শিক্ষিত বেকারদের নিয়ে চরম তাচ্ছিল্য। সরকারের গৃহ প্রকল্পে যে টাকা আসে, তা কাটমানির নামে অর্ধেক আগেই কেটে রাখে তোলামুলের সম্পদেরা, ফলে সেই ঘর শেষ করতে ঋণ নিতে বাধ্য হচ্ছে দরিদ্র মানুষেরা। এমন উদাহরণ ভুরিভুরি রয়েছে। এরপর, মেয়ের বিয়ে, চিকিৎসা, পড়শির সাথে তাল রেখে ঠাটবাট বাড়াতে গিয়ে ভোগ্যপন্য ক্রয়ের ফাঁদ ইত্যাদিতে, মানুষ মাকরসার জালের মত আঁটকা পরে গেছে। ফলত, ঐ ঋণের টাকা কোনো লাভজনক ব্যবসায় না খাটিয়ে পারিবারিক খরচ বা আপদকালীন প্রয়োজনে ব্যয় করলে তা আর ফেরত দেওয়ার ক্ষমতা থাকছে না। লোন নেওয়া পর থেকে- Collection agent-এর চাপ, সাপ্তাহিক মিটিংয়ে অপমান, পরিবারের ওপর মানসিক চাপ ও শেষে গয়না/সম্পত্তি বিক্রি; এই হচ্ছে চক্র।

গ্রামে স্বনির্ভর গোষ্ঠী (SHG), মাইক্রোফাইন্যান্স কোম্পানি বা NGO গুলো খুব সহজ শর্তে ঋণ দেয়। ক্ষুদ্রঋণের সুদ সাধারণ ব্যাঙ্কের তুলনায় ভয়ানক বেশি, অনেক সময় ২৪%–৩৬% পর্যন্ত হয়। ফলে ঋণ ছোট অঙ্কের হলেও অল্প দিনেই সুদ জমে বিপুল বড় বোঝা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এই উচ্চ সুদের হার সর্বগ্রাসী হয়ে লেলিহান আগুনের মত গ্রাস করেছে গোটা সমাজকে। প্রায় প্রতিটা ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র ঋণদানকারী সংস্থাগুলোর সুদের হার ভয়াবহ, সেই সুদ মেটাতে গিয়ে গরিব মানুষ আরও ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছে। একটা ঋণের কিস্তি মেটাতে গিয়ে আরেকটা ঋণ নিচ্ছে, ফলত চক্রবৃদ্ধি ঋণের ফাঁদ জড়িয়ে যাচ্ছে গরীব মানুষ। 

পাহাড়প্রমাণ সাপ্তাহিক বা মাসিক কিস্তির কড়াকড়ি গরিব মানুষের সঞ্চয় করার ক্ষমতা কেড়ে নিয়েছে। যাচ্ছে। আয়ের স্থায়িত্ব না থাকা কৃষক, দিনমজুরের নিয়মিত কিস্তি দেওয়া কঠিন। সারামাসে যা খুদকুঁড়ো জুটিয়ে আনছে, এই মহাজনী সুদের চক্করে ঘটি বাটি সব বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। এরপর শুরু হচ্ছে আসল যন্ত্রণা, অধিকাংশ গ্রামীণ গরীব পরিবারগুলো চরম আতঙ্কে থাকে, এ এক ভয়ানক সামাজিক চাপ। ঋণের কিস্তি সময়মতো দিতে না পারলে গোষ্ঠীর অন্য সদস্যদের চাপ ও সামাজিকভাবে লাঞ্ছিত হওয়ার ভয়ে অনেকে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন, যা চরম ক্ষেত্রে আত্মহত্যার মতো ঘটনাও ঘটাচ্ছে। 

✅ সমাধান-

🔸সর্বপ্রথম প্রতিটা হাতে স্থায়ী কাজের যোগান দিতে হবে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করে, দয়া ভিক্ষা নয়, কাজের পরিবেশ সৃষ্টি করে দিলে শ্রমজীবী মানুষ খেটে খাবে। আগামী সরকারকে সকলের হাতে কাজের বন্দোবস্ত করতে হবে। 

🔸 দুর্যোগ হলে যাদের আয় বন্ধ হয়ে যায়, ও যারা মৌসুমি কৃষি শ্রমিক হিসাবে কাজ করে, তাদেরকে বৃত্তিমূলক কাজের প্রশিক্ষণ দিয়ে ‘অফ সিজেনে’ রোজগারের বিষয়টা সুনিশ্চিত করতে হবে।

🔸 উৎপাদনমুখী কাজে ঋণ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

🔸 গ্রামের স্বল্পশিক্ষিত মানুষের মাঝে আর্থিক সচেতনতা বাড়াতে হবে, যাতে এই চক্রব্যূহ্যে না ফেঁসে যায়। 

🔸 প্রয়োজনে সরকারের তরফে একবার গণহারে ঋণমুক্তি করে পুনরায় এই সাইকেল নতুনভাবে চালু করতে হবে। 

🔸 কম সুদের বিকল্প ঋণ দিতে হবে সরকারি ও কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের মাধ্যমে। 

🔸 সুদের সর্বোচ্চ হার বেঁধে দিয়ে ‘টেনিয়োর’ বাড়িয়ে দিতে হবে। 

🔸 অধিক সুদের লোভে যে সকল সংস্থ পুরাতন ঋণের স্ট্যাটাস না দেখে তার উপরে পুনরায় ঋণ দেয়, তাদের কালো তালিকা ভুক্ত করতে হবে। 

🔸 সরকারি নজরদারি ও নিয়ম কঠোর করতে হবে।

🔸 সরকারকে বাজারের সাপোর্ট নিশ্চিত করতে হবে।



তৃণমূলের স্ট্যাটেস্টিক জালিয়াতি


SIR প্রক্রিয়ার শুরু থেকেই মমতা ব্যানার্জীর দাবী ছিল ২০২৪ সালের ভোটারলিস্ট দিয়ে এই বিধানসভা নির্বাচনটা করাতে হবে। সুপ্রিম কোর্টে এ বিষয়ে রীতিমতো হলফনামা দিয়ে তার ওই দাবী রেজিস্টার করে এসেছে। কেন ২০২৪ এর ভোটারলিস্ট এত গুরুত্বপূর্ণ ছিল মমতা ব্যানার্জীর কাছে, সেটার জন্য কেন্দ্র সরকারের একটা ডেটার দিকে আপনাদের নজর রাখতে হবে। আমরা রোজ বলে এসেছি ভুতুড়ে আর মৃত ভোটারে ভর্তি ২০২৪ এর ভোটারলিস্টই মমতার কারচুপির প্রাণভোমরা। সায়েন্টিফিক রিগিং এর অনুরূপ স্ট্যাটেস্টিক জালিয়াতি।  

🔰 নিচের চার্টের দিকে খেয়াল করুন, এটা ২৮শে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে বের হয়েছিল। 

🟥 ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গের মোট জনসংখ্যা ছিল ৯ কোটি ১৩ লাখ, যার মধ্যে ১৮+ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ ছিল ৬ কোটি ১১ লাখ, আর ভোটার ছিল ৫ কোটি ৬৩ লাখ। 


✅ প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষ ও ভোটারের অনুপাত ছিলো ৯২.১%


👉 এরপর ২০১৪ সালে দেখুন, উপরোক্ত অনুপাত বেড়ে ৯৮.১% তে পৌঁছে গেছে। ২০১৬ সালে সেটা ৯৯.৪%, এবং যাবতীয় নির্লজ্জতার সীমা অতিক্রম করে ২০১৯ সালে ১০১.৬%, ২০২১ সালে ১০২.৬%, ২০২৪ সালে ১০১.২% ও ২০২৫ সালে সর্বোচ্চ ১০২.৮% তে পৌঁছে যায়। মানে মূল প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের চেয়ে ভোটারের সংখ্যা বেশি। উন্নয়নের জোয়ার আসলে কোন গুপ্ত নদীতে বইছিল আশাকরি বুঝে গেছেন। 


🔸 প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ ১০০ জন, কিন্তু ভোটার প্রায় ১০৩ জন- একেই বলে পারফেক্ট উন্নয়ন। 


এমতোবস্থায় কেন মমতা ব্যানার্জী একটা সুষ্ঠু SIR করতে দেবে বলুন তো? যেই মুহূর্তে SIR লাগু হয়েছে, মমতা ব্যানার্জীর উন্নয়নের ঝুলির বেড়াল গায়েব হয়ে সেই ২০১১ সালের হিসাবের কাছাকাছি ফের ৯২.৬%তে এসে পৌঁছে গেছে প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যা আর ভোটারের আনুপাতিক হার। তৃণমূল তাদের জামানার শুরু থেকে ভোটারলিস্ট কারচুপি করে এসেছে, আসলে শুধু তৃণমূল বললে দুর্বৃত্তায়নের বৃত্তকে খাটো করে দেওয়া হবে, এটা আসলে নাগপুরের মাস্টার গেমপ্ল্যান, তাদের শরিক তৃণমূল এই রাজ্যে সেই গেমপ্ল্যান ইমপ্লিমেন্ট করেছিল মাত্র। ফলত, শুরু থেকেই ২০২৪ এই ভোটারলিস্ট ধরে ভোট করতে মরিয়া মমতা ব্যানার্জী, শেষমেষ BLO ও BDO দের দিয়ে গোটা বিষয়টাকে ঘেঁটে দিয়ে, তার ‘দুধেল গাই’দের জিম্মি বানিয়ে নিল।

আপনি ক্রনোলজি খেয়াল করুন, লাইনে দাঁড়িয়ে মানুষ অসুস্থ হওয়া, কাজের চাপে BLO এর মৃত্যুর প্রোপাগাণ্ডা, পর্যাপ্ত অফিসার না দিয়ে চূড়ান্ত অসহযোগিতা- মানে মমতা ব্যানার্জির পক্ষে যে যে ভাবে সমস্যা তৈরি করা সম্ভব ছিল, সেই সাম-দাম-দন্ড-ভেদ সমস্ত কিছু এপ্লাই করে আজকের এই ডিলিটেড ভোটারের হাহাকার অব্দি পৌঁছে দিয়েছে মুসলমান সম্প্রদায়, তপশিলি জাতি এবং উপজাতি সম্প্রদায়ের মানুষকে। আসলে তৃণমূল চেয়েছিল ঠিক চাকরি চুরির ফর্মুলা অনুযায়ী খেলতে, ঘেঁটে গুলিয়ে দিয়ে চাল কাঁকর মিলিয়ে ভাত রেঁধে খাইয়ে দেবো। SIR এর ক্ষেত্রে এক পলিসি- অফিসার দেবো না, BLO দের দিয়ে ভুল ডেটা ফিড করব, সেম ফর্মুলা সেম প্যাটার্ন। কিন্তু এবারে শেষ রক্ষা করতে পারেনি, নিজেই নর্দমার মধ্যে ডুবে গেছে।

সাবিনা ইয়াসমিনকে দিয়ে বিচারকদের আঁটকে হেনস্থা করাটাও মমতা ব্যানার্জীরই নিঁখুত পরিকল্পনার অংশ। মাঝখান থেকে মোফাক্কেরুল খোদার খাসি হয়েছে কিম্বা খোঁচর হিসাবে 'জেলে যাওয়া ডিরেক্টর হিসাবে' এপোয়েন্টেড ছিল। নতুবা মমতা ব্যানার্জীর অধীনে থাকা SDO/DM/SP এরা কি পায়ে ঘুঙুর বেঁধে মুজরো দেখছিল? নির্দিষ্ট অর্ডার বিনা তারা যদি ইচ্ছাকৃতই ভাবে ১৪ ঘন্টা ধরে নিশ্চুপ থাকে, তাহলে আজও তাদের কাউকে কেন সাসপেন্ড করা হয়নি? তাদের বিরুদ্ধে কেন মামলা করা হয়নি? একটা চুনোপুঁটি মোফাক্কেরুল, একটা বেচারা সাংবাদিক আর একজন ISF এর প্রার্থী, তিনজন 'মুসলমানকে' গ্রেফতার করে বিরাট বীরত্ব দেখাচ্ছে পুলিশের কর্তারা, তার চেয়েও বেশি বগল বাজাচ্ছেন মাননীয়া নিজে। আসলে তিনি প্রমাণ করতে চাইছেন মুসলমানকে মারলে তিনিই মারবেন, বাঁচালে তিনি বাঁচাবেন। যেন উপরওয়ালার কাছ থেকে ইজারা নিয়ে এসেছেন। 

তবে সাবিনা ইয়াসমিন কেন এখনও জেলের বাইরে এ নিয়ে মমতার কোনো জবাব নেই। নির্বাচন কমিশনও বেশ্যাবাড়ির দালালের মতো চক্ষু লজ্জাহীন হয়ে চুপটি মেরে বসে আচ্ছে সাবিনা বিষয়ে। উচ্ছিষ্টভোগী পাপোশ মিডিয়া সানাই এর পোঁ ধরে ‘মূল চক্রী’ গ্রেফতারের ব্রেকিং নিউজ চালিয়ে মানুষকে ধোঁকা দেবার ব্যর্থ চেষ্টা করলেও, বঙ্গ সমাজে হাসির খোরাক হয়েছে গত পাকিস্তান যুদ্ধে গদি মিডিয়ার লাহোর দখল করে নেওয়ার ফ্যান্টাসি রিয়েলিটি শো এর অনুরূপ।

বিচারক আঁটকে রাখার ঘটনাটা ঘটেছে মালদার কালিয়াচক দুই নম্বর ব্লকে। সেখানকার আসল গল্পটা জানেন? 

জনগণ কিন্তু ওখানে মোটেই অবরোধ করতে যায়নি। যেহেতু বিপুল পরিমাণ মানুষের নাম ‘ডিলিট’ হয়ে গেছে, যাদের বড় অংশটাই স্বল্পশিক্ষিত, তারা বিডিও অফিসে গিয়ে পরিত্রাণের উপায় জানতে গিয়েছিল- কীভাবে এই পরিস্থিতি থেকে তারা মুক্তি পেতে পারে অর্থাৎ বিডিও অফিসের থেকে তারা সাহায্য ও সহযোগিতা চাইতে গেছিল। যেহেতু তৃণমূল সরকারের উদ্দেশ্য অসৎ এবং থানার OC/IC ও BDO দের দলীয় ক্যাডার বানিয়ে বা বাধ্য করে দল চালিয়েছে, এখানেই তার ব্যতিক্রম ঘটনি।  ভুলে গেলে চলবে না যে গত লোকসভার নিরিখে মালদার প্রতিটা বিধানসভা আসনে তৃণমূল গোহারা হেরে রয়েছে।

কালিয়াচক দুই নম্বর ব্লকের BDO কৈলাশ প্রসাদ, বিচারক আঁটক কান্ডে এই অফিসারকে কেন আঁচলের ছায়াতলে আইসোলেট করে রেখেছে মমতা ব্যানার্জী। এই লোকটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বহু অনৈতিক কাজ করেছেন অতীতে, যার মধ্যে বিপুল পরিমাণ মানুষের নামকে এডজুডিকেশনে পাঠানো এনারই হাতযশ। পুরো প্রক্রিয়াকে গুলিয়ে দিয়ে জনগণের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে দেওয়ার জন্য, অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে জমায়েত হওয়া মানুষকে এই বিডিও আর সাবিনা ইয়াসমিন সহ তৃণমূল নেতৃত্ব মিথ্যা আশ্বাস দিতে থাকে যে- ‘এইবার তোমাদের সাথে কথা বলা হবে। উপর তলার অফিসারেরা রয়েছেন, ওনারা তোমাদের কথা শুনবে’। বিচারপতিরা যে ওই অফিসের মধ্যে ছিলেন, এই ব্যাপারে সাধারণ মানুষের কাছে কোনো তথ্যই ছিল না। ক্রমশ উদ্বিগ্ন মানুষের সংখ্যা ক্রমশ বাড়তে থাকে, যথারীতি শয়তানি কুবুদ্ধি খাটিয়ে সাধারণ মানুষের ধৈর্যকে বিক্ষোভের দিকে নিয়ে যায় মন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন সমেত সংশ্লিষ্ট বিডিও ও ওই অফিসের সরকারি কর্মচারীরূপী তৃণমূল ক্যাডার বাহিনী, সিভিক পুলিশের দল। এই বিডিও কৈলাশ প্রসাদ, গাড়ি চাপা দিয়ে মানুষ খুন করার অপচেষ্টা অবধি করেছিল ওইদিন। অন্যান্য সরকারি কর্মীরা যেখানে নূন্যতম DA টুকু পায় না, সেখানে এই BDO গুলো স্পেশাল ইনক্রিমেন্ট পেয়ে তাদের সেই ‘রেলা’ সাধারণ মানুষের উপরে দেখায়। সরকার পরিবর্তন হলে এদেরকেও পাই পাই হিসাব চুকাতে হবে জনগণ ও আইনের কাঠগড়াতে দাঁড়িয়ে। 

জনগণকে ভিলেন বানানো হচ্ছে সর্বোচ্চ আদালতের সামনে।

গত ০২/০৪/২৬ তারিখ অবধি ৫.৬২ লাখ ভোটারের নাম ডিলিট হয়েছে। এইগুলোর প্রতিটাতেই ভুলভাল আছে, এর পিছনে সঙ্গত কারণও আছে। যে ভুলের মূল চক্রী BLO রূপী তৃণমূলের ক্যাডার বাহিনী, যারা মূলত সরাসরি তোলামূলের কর্মী। AI যেমন যন্ত্র, যারা বিচারক তারাও আসলে যন্ত্রই, প্রাপ্ত ডকুমেন্টের ভিত্তিতে তারা নাম রেখে দিচ্ছেন কিম্বা পর্যাপ্ত ডকুমেন্ট না পেয়ে নাম ডিলিট করে দিচ্ছেন। এখানে কারো সাথে তো ব্যক্তিগত শত্রুতা নেই বিচারকদের। বিচারকদেরকে ভিলেন বানিয়ে দিচ্ছে তৃণমূলের মিডিয়া সেল, যাতে মানুষ ভুল দিশাতে ছুটে যায় শত্রুর সন্ধানে।

কেন সুপ্রিমকোর্টকে বিচারকদের এই কাজে নিয়োগ করতে হলো? তারা কি কেরানি? নাকি তাদের কাজ বাড়ন্ত ছিল? তারা মানুষের দুর্দশা দূর করতে এসে তৃণমূলের পাঁকে ডুবে গেছেন। ওনারা সারাজীবন সংবিধান, তথ্য, যুক্তি আর প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে বিচার করেন, এখানেও তারা ডকুমেন্ট পেলে অনুমোদন করছেন না পেলে করছেন না।  মমতা ব্যানার্জীর চাল কাঁকর মিলিয়ে গুলিয়ে ঘেঁটে দেওয়ার খেলায় তারা তো শুধু ক্রীড়নক মাত্র। এই যে প্রতিবাদের অপভ্রংশ, জজসায়েবদের অবরোধ করে রাখলেই ওনারা নাম তুলে দেবে, এটা কি আদৌ সম্ভব?

BLO দের দিতে মমতা ব্যানার্জী ঠিক কোন পাপটা করিয়েছে, জানেন?

👇👇👇👇👇👇👇

🔹১) জনগণ ডকুমেন্ট জমা দিয়েছে কিন্তু BLO আপলোড করেনি।

🔹২) আপলোড করলেও অত্যন্ত খারাপ মানের অস্পষ্ট ঝাপসা ছবি আপলোড করেছে, যা দেখে কারও বোঝার ক্ষমতা নেই ওটা বার্থ সার্টিফিকেট নাকি, পাশপোর্ট নাকি তালাকনামা।

🔹৩) হেয়ারিং এ নেওয়া ডকুমেন্ট নিয়ে স্থানীয় তৃণমূল পার্টি অফিসে দিয়ে এসেছে, সেখানে তৃণমূলের নেতার দল, আইপ্যাকের ভাড়াটে কর্মী আর ডেটা এন্ট্রি অপারেটরেরা মিলে ঠিক করেছে কতগুলো নাম বাদ দেবে। সেইমতো তৃণমূল বিরোধী নাম বেছে বেছে তাদের ডকুমেন্ট ওখানেই পুড়িয়ে দিয়েছে। AERO, ERO, DEO এই প্রতিটা লেভেলে এই পাপ সংগঠিত করিয়েছে তৃণমূল।

🔹৪) BLO কে একটা সার্টিফিকেট দিতে হয় পুরো আপলোড প্রক্রিয়ার শেষে- ‘verified with the original document and found in order অথবা verified with the original document and found correct’. ৯০% এর বেশী ক্ষেত্রে এটা দেয়নি।

নতুবা এমন গণহারে ডিলিট হতে পারে না নাম। উদাহরণ হিসাবে, সামসেরগঞ্জ বিধানসভায় মুসলমান নাম ডিলিটেড ৩৬৭৩৫ জন, অমুসলিম নাম ডিলিটেড ১৫৬ জন। আইনের চোখ বাঁধা থাক বা না থাক, রাষ্ট্র ব্যবস্থা কিন্তু হিন্দু মুসলমান ঠিকিই চিনে নিয়েছে। এটার জবাব অবশ্যই মাননীয় বিচারকদের দিতে হবে, তারা ইচ্ছাকৃত এভাবে মুসলমানদের নাম বাদ দিয়েছে নাকি ওনারা ডকুমেন্টস পাননি বলে নাম বাদ দিতে বাধ্য হয়েছে, এখানেই মমতা ব্যানার্জী ও তার সরকারের যাবতীয় ষড়যন্ত্র ধরা পড়ে যাবে। সুপ্রিম কোর্টকে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে। কিন্তু প্রশ্ন হল RSS কি তার দুর্গার বিরুদ্ধে যাবে? 

যে সকল রাজ্যে বিজেপির শাসন রয়েছে, এবং মুসলমান নিগ্রহে যে উত্তরপ্রদেশ দৈনিক শিরোনামে থাকে, সেখানেও মুসলমান এভাবে অত্যাচারিত হয়নি SIR এর নামে। সেখানে তার নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার চক্রান্ত হয়নি, এই নির্বাচন কমিশনই সেখানে SIR এর কাজ করেছে। অন্যান্য সকল রাজ্যে এরকম 'এডজুডিকেশন' বলে কোনো তালিকা হয়নি- গুজরাটে নয়, উত্তরপ্রদেশে নয় এমনকি বিহারেও নয়। ভোটের মুখে বিহারে বহু জলজ্যান্ত ভোটারের নাম স্রেফ মৃত হিসেবে বাদ পড়েছিল বলে জাতীয় রাজনীতিতে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। আসলে সেই সকল রাজ্যের শাসক দল SIR কে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানায়নি এই পর্যায়ে। মমতা ব্যানার্জী মুসলমান, SC/ST ভোটারদের একাংশকে জিম্মি বানিয়েছিল ভোটের স্বার্থে। মুসলমানের নাম আগে কেটে, পরে মসিহা সেজে তাদের বাঁচানোর নাটক করে বলবে- দেখো আমিই মুসলমানদের ত্রাতা, আমি না থাকলে বিজেপি এসে যাবে। বিজেপি নিকৃষ্ট সাম্প্রদায়িক দল সন্দেহ নেই, কিন্তু মমতা ব্যানার্জী বিজেপির চেয়েও নিকৃষ্ট মিথ্যাবাদী নির্লজ্জ আর বেহায়া।

কেরালা বা তামিলনাড়ুতে কিছু মানুষের তো ১ কিমি লম্বা নাম, ভীষণ খটমট। তারা শুরুতেই হলফনামা করে ইলেকশন কমিশনকে জানিয়ে দিয়েছিলো যে অমুক অমুক অমুক নাম বা পদবী আসলে একই। যেমন Sk, Shek, Seikh কিম্বা মুখার্জী, মুখোপাধ্যায়, Haque, Hoque, Haq এমন তো বাংলার সর্বত্র। মমতা এসবের ধারে কাছে যায়নি, উনি কেবল গুলিয়ে দিতে চেয়েছিলেন। কেরালা সরকার প্রশাসনিক চাপ ও ভোটারদের সমস্যার কথা উল্লেখ করে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছিল SIR বন্ধ/স্থগিত করার জন্য, কারণ একই সময়ে লোকাল বডি নির্বাচন চলছিল। IUML সহ বহু রাজনৈতিক দল SIR বন্ধ করার জন্য সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিল। তামিলনাড়ুতে সিপিএম সহ আরো অনেক রাজনৈতিক দল সুপ্রিম কোর্টে SIR-এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে মামলা করেছিল, আমাদের রাজ্য সিপিএমও মোস্তারি বানুকে বাদী করে মামলা করেছিল। যার ফলে আদালত SIR প্রক্রিয়ায় “logical discrepancy”তে থাকা নাম প্রকাশ করতে বাধ্য করে নির্বাচন কমিশনকে। মমতা ব্যানার্জি নাটক ছাড়া কি করেছিল এই পর্যায়ে?

প্রতিটা সংখ্যালঘু মেজরিটি বিধানসভা আসন গুলিতে SIR এর কারণে বিপুল সংখ্যক ভোটারকে ‘লজিক্যাল ডিস্ক্রিপেন্সির’ মাধ্যমে ডিলিট করা হয়েছে, যেগুলোর একটি সিটেও বিজেপি প্রতিযোগিতাতেই নেই। ভোটার ডিলিট করে বিজেপি অন্তত ওই আসন গুলিতে কোন লাভ করতে পারবে না, ওরা তিন নম্বর ছাগলছানা হয়েই রয়ে যাবে। লড়াই CPIM, ISF, কংগ্রেসের সাথে তৃণমুলের। যে নামগুলো ডিলিট করা হয়েছে, তারা প্রায় সকলেই অঞ্চলে তৃণমূল বিরোধী হিসেবে সুপরিচিত। সাদা খাতার দলদাস BLOরা স্থানীয় তৃণমূল পার্টি অফিসে বসে এদের নাম দায়িত্ব নিয়ে adjudication পাঠিয়ে দিয়েছিল। এইসব মুসলমান ভোট না দিতে পারলে একমাত্র লাভবান হবে তৃণমুল কংগ্রেস।

শুরুর দিন থেকে আমরা রোজ চেঁচিয়ে গেছি, মমতা ব্যানার্জী রাজ্যের একাংশের মুসলমানকে জিম্মি করেছে SIR এর নামে। অন্য কোনো রাজ্যে ডিসক্রিপেন্সি নেই, কিন্তু এ রাজ্যে আছে। প্রতিটা রাজ্যে এই একই SIR প্রক্রিয়া নির্বিগ্নে মিটেছে, কিন্তু বাংলাতে মুসলমানকে আঁটকে দেওয়ার জন্য এই ষড়যন্ত্র মমতা ব্যানার্জী রচনা করেছে। শুরুতেই ১ কোটি ৬৭ লাখ মানুষকে লজিক্যাল ডিস্ক্রিপেন্সিতে ফেলে দিয়ে পারফেক্ট হাহাকার পরিস্থিতি তৈরি করতে সক্ষম হয়েছিল। হেয়ারিং এ যখন ১ কোটি ৭ লক্ষ ব্যাক্তি ষড়যন্ত্রের জাল কেটে বেরিয়ে এল, মমতা ব্যানার্জী আরও মরিয়া হয়ে অফিসার দেওয়া বন্ধ করে দিল। ৬০ লাখ মানুষকে আন্ডার এডজুডিকেশনে পাঠিয়ে পুরো কাজ থমকে দিল। সুপ্রিম কোর্টের আদেশে রাজ্যের প্রায় সমস্ত আদালতের স্বাভাবিক কাজকর্ম স্তব্ধ রেখে বিচারকেরা ওই এডজুডিকেট ভোটারের ঠিকুজি কোষ্ঠী বিচারে বসে গেলেন, তারপর আজকের এই ‘ডিলিট’ পরিস্থিতি। বাদ পড়ে যাওয়া বৈধ মানুষেরা জানে না কবে ট্রাইবুনাল চালু হবে, আতঙ্কে দিশাহারা হয়ে প্রতিবাদ জানাতে গেলে রাষ্ট্রীয় খড়্গ নেমে আসছে। মুসোলিনি বেঁচে থাকলে ফ্যাসিবাদের ম্যানিফেস্টো যে মমতা ব্যানার্জীকে দেখেই লিখতেন, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। 

কেন মালদাতেই সবচেয়ে বেশি সমস্যা হচ্ছে! মালদা জেলার মৌলভীবাজার সাব ডিভিশন কেটে স্বাধীনতার সময় পূর্ব পাকিস্তানকে দেওয়া হয়েছিল। বিনিময়ে ওখান থেকে যশোর জেলার বনগাঁ সাব ডিভিশন এখানে এসেছিল। মতুয়াদের মধ্যে যে সমস্যা আছে, মালদা জেলায় গাজোল আর হাবিবপুর বাদ দিয়ে প্রত্যেকটি বিধানসভা কেন্দ্রে সেই একই সমস্যা আছে। বাংলাদেশের সাথে মুর্শিদাবাদ জেলার পুরোটাই নদী সীমান্ত। কোনো আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট নেই যেখান দিয়ে মানুষজন যাতায়াত করতে পারে, কিন্তু মালদা জেলায় দুটোই আছে। মালদা মুর্শিদাবাদ জেলায়, বিশেষ করে মালদা জেলায় প্রচুর পরিমাণ বাংলাদেশি হিন্দু আছে যারা সাম্প্রতিককালে এসেছে। মুসলমানকে জিম্মি করতে গিয়ে কমপক্ষে ৮-১০ লাখ হিন্দু অনুপ্রবেশকারী বহাল তবিয়তে ভোটারলিস্টে রয়ে গেছে। অবশ্য শুরু থেকেই রাজ্যের একটি রাজনৈতিক দলও হিন্দু অনুপ্রবেশকারীদের কোনোভাবে তাড়াতে চায়নি, সেটা কংগ্রেস হোক, সিপিএম হোক, বিজেপি হোক বা তৃণমূল। তৃণমূল মুসলমানকে জিম্মি করাতে এই অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের তাড়ানোটা ধামাচাপা পড়ে গেছে এই পর্বে।

মমতার পুলিশ সাবিনা ইয়াসমিনকে গ্রেপ্তার করবে না। দাঙ্গা লাগাবার কারিগরদের মমতা ব্যানার্জী মন্ত্রীত্বের পুরস্কার দেয়, রাজ্যসভায় পাঠায়। অতীতে হাজি নুরুল যেমন ছিল, টাটকা উদাহরণ- আসানসোল দাঙ্গার নায়ক বাবুল সুপ্রিয়র মতো একটা নিকৃষ্ট নর্দমার ছুঁচোকে রাজ্যসভায় পাঠিয়েছে। স্বভাবতই, সাবিনা ইয়াসমিন বা বাকি তোলামূলের নেতৃত্বরা আগামীতে পুরষ্কিত হওয়ার আশায় দিন গুণছে। প্রতিদিন মমতা ব্যানার্জীর মুখোশ একটু একটু করে খসে যাচ্ছে, সরকার থেকে বিসর্জন এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা, তারপর মানুষ এদের সুদে-আসলে বুঝে নেবে পাড়ায় পাড়ায়।

SIR এ যাদের নাম ‘Delete’ গেছে, বৈধতার সমস্ত ধরণের প্রমানাদি থাকা সত্বেও, রাষ্ট্র যন্ত্র তাদের নাগরিকত্ব কেড়ে নিয়েছে। ঠিক এই মুহূর্তে তারা বেনাগরিক ও রাষ্ট্রহীন। সেই তারা যখন বাপ দাদা চোদ্দ পুরুষের ভিটেতে দাঁড়িয়ে বৈধ কাগজাদি নিয়ে রাষ্ট্রের কাছে প্রশ্ন করছে কেন আমাকে বাদ দেওয়া হলো- বিজেপি, RSS, নির্যাতন কমিশন আর মমতা ব্যানার্জী তাদের হিংস্র দাঁত নখ নিয়ে হামলে পড়ছে নিজের নাগরিকের উপরে সর্বশক্তি দিয়ে, যেন ‘বেনাগরিক’ বানিয়ে দেওয়া মানুষগুলো দুষ্কৃতি বা রাষ্ট্রদ্রোহী। রাষ্ট্রযন্ত্র নিজে ব্যর্থ হয়েছে বা তাকে ব্যর্থ হতে বাধ্য করেছে তার নিজের নাগরিককে চিহ্নিত করতে, সেই ব্যর্থতার দায় থেকে মুখ লুকাতে, পুনরায় সেই আক্রান্ত মানুষগুলোকেই আবার টার্গেট করা হচ্ছে। এটা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এটা পরিকল্পিত চক্রান্ত। 

SIR দুর্নীতিতে তৃণমূল কংগ্রেস তার অতীতের সমস্ত ধরণের জালিয়াতি শয়তানিকে ছাড়িয়ে গেছে। মালদা, মুর্শিদাবাদ, বর্ধমান, নদীয়া তো ছিলই, ৪ঠা এপ্রিল তারিখে মতুয়া সমাজও যশোর রোড অবরুদ্ধ করে রেখেছিল। কোলকাতার বিভিন্ন ওয়ার্ডে লাগাতার বিক্ষোভ প্রদর্শন চলছে। চালাকি ধরে পরে যাওয়াতে ব্যাকফুটে থাকা মমতা ব্যানার্জী, RSS, ইলেকশন কমিশন আর বিজেপি, প্রত্যেকে একই ভাষায় কথা বলছে; যেন একজন কেউ লিখে দিয়েছে আর সকলেই মূল ভাব বজায় রেখে কপি পেস্ট করে চলছে। ফলত ঠকে যাওয়া মানুষগুলো গণতান্ত্রিক আন্দোলনে গেলেই - রাষ্ট্র তখন গ্রেফতারি, জামিন অযোগ্য মামলা আর CBI/NIA লেলিয়ে দিচ্ছে। এমতাবস্থায় একটাই উপায় বেঁচে থাকে, আদর করা। কিন্তু কাকে আদর করবেন? 

ইরানের মতো নিখুঁত টার্গেট সেট করে ভালবাসাবাসি শুরু করুন। সবার আগে অঞ্চলের BLO কে গিয়ে চেপে ধরুন, প্রশ্ন করুন- তুই কী কী আপলোড করেছিলি দেখা। না দেখাতে পারলেই হালকা করে সোহাগ করে দিন। গড়গড় করে সব সত্য উগরে দিতে শুরু করবে। এরপর তৃণমূলের নেতারা যখন ভোট চাইতে আসবে, অক্টোপাসের মতো জড়িয়ে ধরে চুমু খান। বেশি নয়, ব্লক, জেলা আর রাজ্য স্তরের ১ গণ্ডা করে তোলামূলের নেতাকে উপর্জুপরি ‘চুমুতে চুমুতে’ ভিজিয়ে দিন, দেখবেন আপনার নাম ডিলিটেড থেকে নিজে থেকেই সাপ্লিমেন্টারি তালিকাতে চলে এসেছে, গণতান্ত্রিক আন্দোলন করলে যারা মিথ্যা মামলা দেয়, 'আদরই' তাদের একমাত্র ওষুধ। এখানে আদর কিন্তু ডাকনাম।

ভাইপো সহ তৃণমূলের নেতারা কোন এমন তালেবর যে তাদের সুরক্ষার জন্য ৩০০০ এর বেশি পুলিশের বহর থাকবে! ৪ঠা মে এর পর এই পুলিশ ওদের কে দেবে? পাব্লিকের ক্যালানির হাত থেকে বাঁচতে ওরা নিজেরাই না কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলোর কাছে গিয়ে ধর্না দেয় যে- আমাকে এরেস্ট করো, জেলে অন্তত বেঁচে থাকব। লাথোকা ভুত বাতোসে নেহি মানতা হ্যায়।



মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ, ২০২৬

সাদা খাতার প্রজন্ম

 


সর্বত্র সাদা খাতা কেস, আজকের সাপ্লিমেন্টারী ভোটার লিষ্ট রাষ্ট্র পরিচালিত প্রকাশ্য জালিয়াতি। সাদা খাতার শিক্ষকদের BLO বানিয়ে SIR করানো, সাদা খাতার BDO দিয়ে নোডাল অফিসারের কাজ করানোর পর, মহামান্য বিচারপতিদের এই অপূর্ব শিল্পকলা - সাপ্লিমেন্টারি ভোটারলিস্ট এর নামে সাদা খাতা। মোটাদাগে ভণ্ডামি।

শুক্রবার এসে দাঁড়ালো সোমবারে। সোমবার দুপুর গড়িয়ে বিকাল হয়ে মাঝরাত্রে সাইট খুললো, কিন্তু তাতে কি? ম্যাজিক-

No adjudication pertaining to this part till 5 PM on 23.3.2026

৩০ লাখের নিষ্পত্তির গল্প শুনিয়ে, আদতে গোটা রাজ্যের হাতে গোনা কয়েকটা বুথে হাজার তিনেকের বেশী কোনো সমস্যার নিষ্পত্তি হয়নি। পুরোটা একটা নির্জলা মিথ্যাচার, ধাপ্পাবাজি। এই অসভ্য ধোঁকাবাজিতে আমাদের বিচারব্যবস্থাও কোনোভাবে দায় এড়াতে পারেনা, তারাও সমান ভাবে এই বৃহৎ ষড়যন্ত্রের অংশীদার আজ থেকে।

রাজ্যের সর্বত্র এই এক অবস্থা, মানুষ সারা রাত জেগে চেষ্টা করে যাচ্ছে মরিয়া হয়ে- তার নাম আছে তো নাগরিকের তালিকাতে! অত্যন্ত নিকৃষ্ট একটা নোংরামি করলো এই নির্যাতন কমিশন। ECI এর মত গণতান্ত্রিক কাঠামোর মূল স্তম্ভ যখন এভাবে প্রকাশ্যে সাংবাদিকদের সামনে এসে ডাঁহা মিথ্যাচার করে, তখন গণতন্ত্রের পোশাকের আড়ালে স্বৈরাচারী একনায়কতন্ত্রের দাঁতনখ গুলো স্পষ্টভাবে ফুটে উঠে।

মিডিয়া আগেই বিকিয়ে গিয়েছে, দেশের সংসদ 'জর্জ অরওয়েলের' পশুখামারের আদর্শ রূপ, এখন বিচারব্যবস্থাও জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের সর্বনাশ করতে উঠেপরে লেগেছে, নির্যাতন কমিশনের প্রতারণা খেলার পার্টনার হয়ে গেছে। গণতন্ত্রের শিরচ্ছেদ করে গণকে বলি দিয়ে তন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করতে মরিয়া। Absolute Bureaucracy 

তোলামূল যেনতেন ভাবে ২০২৪ ভোটার লিস্ট দিয়ে ভোট করাতে মরিয়া, বিজেপি এডজুডিকেশনের নামে পৌনে এক কোটি মানুষকে জিম্মি বানিয়ে, ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে ক্ষমতায় আসতে মরিয়া। বাকি সব রাজনৈতিক দল MLA বানাবার প্রক্রিয়াতে ব্যস্ত, পৌনে ১ কোটি মানুষ বঞ্চিত বেনাগরিক হয়ে চরম দুর্দশায়।

মানুষ এতোদিন চুপ করে সয়ে যাচ্ছিলো, তারপরে আজকের এই প্রতারনার পর যদি এই পৌনে এক কোটি দিশেহারা মানুষ উন্মত্ত হয়ে উঠে দলে দলে রাস্তায় নেমে আসে- রাষ্ট্রের মুরোদ আছে তাদের নিয়ন্ত্রণ করা? নাকি রাষ্ট্রযন্ত্রই তার নাগরিকদের উপরে বুলেট বৃষ্টি করে মরদ সাজবে? 

বিজেপি কি এটাই চাইছে, যেকোনো মূল্যে অশান্তি দাঙ্গা পরিস্থিতি তৈরি করে আইনশৃঙ্খলার দোহায় দিয়ে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করতে? নাগরিকত্বের মৌলিক অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলা- আসলে আগুন নিয়ে খেলা, যে আগুন দাবানল হয়ে উঠার দ্বারপ্রান্তে।

ক্ষোভ নামের বারুদের স্তুপে আগুন যেকোনো সময় বিস্ফোরণ লাগাতে পারে। নগর পুড়লে কি দেবালয় রক্ষা পাবে? নাকি সেই দেবতারা রক্ষা পাবে যারা ক্ষমতার দম্ভে মত্ত হয়ে নিজেদেরকে দেবতার স্তরে বসিয়ে ফেলেছে!

এক চরম মাৎস্যন্যায় নৈরাজ্যের পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিলো আমাদের রাজ্যকে, আজকের পর প্রতিটা অরাজকতার দায় নির্যাতন কমিশনের। যুদ্ধটা যখন নাগরিকদের সাথে, তারাই বুঝে নেবে কীভাবে চাবকে রাষ্ট্রকে আবার গণতন্ত্রের নামতা শেখাতে হয়।



শুক্রবার, ২০ মার্চ, ২০২৬

তৃণমূলকে ভোট না দিলে বিজেপি চলে আসবে, এই ধাপ্পাবাজি আর চলবেনা।

 

পশ্চিমবঙ্গে মুসলমান ভোটারদের প্রভাব কিছু ক্ষেত্রে “নির্ণায়ক” আর কিছু ক্ষেত্রে “সংখ্যাগরিষ্ঠ”। বিভিন্ন সমীক্ষা ও নির্বাচনী বিশ্লেষণ থেকে মোটামুটি যে অঙ্কটি বর্তমানে উঠে এসেছ- 


✅৩০টি আসনে মুসলমান ভোটার ৫০% এর বেশী।

✅৮৯টি আসনে মুসলমান জনসংখ্যা ৩০%-এর বেশি।

✅১১২টি আসনে মুসলমান জনসংখ্যা ২৫%-এর বেশি


ডেটার নিরিখে রাজনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঠিক এই মুহুর্তে রাজ্যের ১১৮টি আসনের জয় পরাজয় নির্ধারিত হবে- মুসলমানেরা কাকে ভোট দেবে তার উপরে। বিশেষ করে ক্লোজ ফাইট হলে মুসলিম ভোটই ফলাফল নির্ধারন করে দেবে। আর একজনও মুসলমান সজ্ঞানে বিজেপিকে ভোট দেবেনা। অতএব বিজেপি শুরুতেই ১১৮টা কেন্দ্র থেকে আউট। 

পশ্চিমবঙ্গে মতুয়া (নমশূদ্র) ভোটাররা প্রধানত সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ ও নির্ণায়ক ভূমিকা নেয় জয় পরাজয়ে। বাগদা, ২টো বনগাঁ, গাইঘাটা, স্বরূপনগর, হাবরা, অশোকনগর, ৩টে রানাঘাট উত্তর পূর্ব, কল্যাণী, চাকদা ইত্যাদির মত বিধানসভা অঞ্চলগুলোকে মতুয়ারা অধ্যুষিত/প্রভাবশালী তথা মতুয়া রাজনীতির অন্যতম কেন্দ্র ধরা হয়।

মতুয়া ভোটের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, এনারা বাংলাদেশ (পূর্ববঙ্গ) থেকে আগত শরণার্থী। কেন্দ্রের বিজে সরকারের জনবিরোধী SIR নীতি- মতুয়া সম্প্রদায়ের একটা বড় অংশকে বে-নাগরিক করে দিয়ে তাদের পথে বসিয়ে দিয়েছে। অথচ গত দেড় দশক ধরে এই ভোটব্যাঙ্ক মূলত বিজেপিকে পুষ্ট করে এসেছিলো, এবারে তারা বিজেপিকে বিসর্জন দিয়ে আসবে ইছামতির জলে।

পশ্চিমবঙ্গে ২০টি বিধানসভা আসনে মতুয়া ভোটাররা নির্ণায়ক, আরো ২০টি বিধানসভা আসনে মতুয়া ভোটাররা প্রভাবশালী। এখানেও মোট ৪০টা আসন, যেখানে বিজেপি তৃতীয় আর চতুর্থ স্থানের জন্য লড়াই করবে।

তাহলে ১১৮টা মুসলমান অধ্যুষিত আর ৪০ টা মতুয়া অধ্যুষিত, এই ১৫৮টা বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি শুরুই করছে ‘নেই’ হিসাবে। বাকি থাকে ১৩৬টা আসন, সেখানে তো প্রতিটা দল রয়েছে লড়াইয়ের ময়দানে, তর্কের খাতিরে যদি ধরেও নিই- অর্ধেক আসন বিজেপি জিতবে, তাহলেও তারা ৭০ সংখ্যা পার হবেনা কোনো ভাবেই। 

সুতরাং ‘বাংলায়’ বিজেপি জুজু আসলে মিথ্যা বানোয়াট গল্প, প্রোপ্যাগান্ডা। যেমন আমেরিকা বিশ্বের দাদা ছিলো তাদের মিডিয়া প্রোপাগান্ডায়, যতদিন না ইরানের কাছে গণধোলাই খেয়ে ন্যাংটা হয়ে গেছে। বিজেপিকে তৃনমূলই এতদিন ফাঁপিয়ে প্রচারে রেখেছে- মুসলমান ভোটকে কুক্ষিগত করার জন্য, ভয় দেখাবার জন্য; নতুবা আপনি অঙ্কের নিরিখে দেখান কীভাবে বিজেপি বাংলার ক্ষমতাতে আসতে পারে?

বিজেপি নামের বিষবৃক্ষকে বাংলার পবিত্র মাটিতে লালনপালন করেছেন তৃনমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জী নিজে। ‘সাপ হয়ে কেটে ওঝা হয়ে ঝেড়ে’ এতোদিন মুসলমানকে বিজেপি জুজু দেখিয়ে ক্ষমতায় ছিলেন। এবারে আর মানুষকে বোকা বানানো যাবেনা। তৃণমূলের সহযোগিতা না পেলে বিজেপি আবার তার অউকাতে ফিরে যাবে ঐ ৫% এর ভোটের গণ্ডিতে, আঁদাড়ে পাঁদাড়ে ২/৪টের বেশী আসন পাবেনা কোনোভাবেই।

তাই বিজেপি জুজু ভেবে তৃণমূলকে ভোট দেওয়া মানে আবার বিজেপিকে জিইয়ে রাখা। ঘাস কেটে দিলে, গরু এমনিতেই পালাবে। তৃণমূল নিজেদের স্বার্থে বিজেপি জুজুকে জিইয়ে রাখবে, মুসলমানকে ভয় দেখাবার জন্য। ওদের চক্রান্ত ভেস্তে দিন। এতোদিনের এই ভয়ানক প্রতারণার জবাব দিন ভোটের বাক্সে, তৃণমূল দলকে রাজনৈতিক কবরে পাঠিয়েই স্বস্তির নিঃশ্বাস নিন। একবার ভোটে হেরে গেলে ৭ দিনের মধ্যে দলটার অস্তিত্ব মুছে যাবে। একবার ইরানের মত বুকে বল নিয়ে তোলাবাজ কাটমানিখোর শয়তানদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান, শয়তানের সব মুখোশ খসে যাবে, পালাবার বাহানাতে তখন হাঁটু মুড়ে সহানুভুতি আর ক্ষমা ভিক্ষা করবে। 


এবার মানুষের জয় নিশ্চিত। 

মাননীয়া মমতা ব্যানার্জী

আজ আমি অনেকক্ষণ ধরে ভাবলাম, যা বুঝলাম- আমি সত্যিকারের একজন মমতাপ্রেমী মানুষ, আপনার সবচেয়ে জাবড়া ফ্যানদের মধ্যের শীর্ষস্থানীয়। আমি চটি চাঁটা ...