RSS লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
RSS লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

সাসপেন্ডেড AERO এর উপরে, মমতার এঁটো দরদ কিসের ইঙ্গিত?

 


মমতা ব্যানার্জীর তৃণমূল কংগ্রেস ভুতুড়ে ভোটারওয়ালা ২০২৪ এর ভোটারলিস্ট দিয়ে ২০২৬ এর নির্বাচন করতে মরিয়া ছিল, তাই গোটা SIR প্রক্রিয়াটাকে গুলিয়ে দিতে অধিকাংশ জালিয়াতি অপকর্ম করেছে। তারা জানে আসন্ন নির্বাচনে জালিয়াতি না করলে সরকার টিকিয়ে রাখতে পারবে না।

SIR হেয়ারিং এর শুরু থেকেই এই কথাগুলো রোজ রোজ চেঁচিয়ে বলেছি- ইচ্ছাকৃত নামের ভুলগুলো মুরুলীধর স্ট্রিটের কেশব ভবন বা দিল্লির অশোক রোডে নির্যাতন কমিশনের সদর দপ্তর থেকে কেউ করেনি। বিজেপি ও নির্যাতন কমিশন উভয়েই শঠ, দুবৃত্ত, প্রবঞ্চক, মিথ্যুক, কিন্তু বাংলাতে এদেরকে ছাড়িয়ে গেছে শাসক তৃণমূল। সাদা খাতা জমা দেওয়া 'শিক্ষক' বাহিনী, বাহুবলী BDO দের দল ও তোলামূলের পে-রোলে থাকা ডেটা এন্ট্রি অপারেটর এর ত্রিবেণী সঙ্গমের গর্ভে, i-Pac এর ঔরসে গোটা SIR ম্যাসাকারটা সংগঠিত হয়েছে। যাবতীয় হয়রানির মাস্টারমাইন্ড তৃণমূল কংগ্রেস, সাপ হয়ে কেটে ওঝা হয়ে ঝাড়তে এসেছে। না হলে কমিশন যদি দুর্নীতির দায়ে কাউকে সাসপেন্ড করে, মমতা ব্যানার্জীর এঁটো দরদ কেন উথলে পড়ছে? কারণ পরিষ্কার, তারা মমতা ব্যানার্জীর নির্দেশেই ইচ্ছাকৃত এই ভুলগুলো করেছিল।

এ বিষয়ে না আলিমুদ্দিন স্পষ্ট করে সাংবাদিক সম্মেলন করেছে আজ অবধি, না তাদের সোশ্যাল মিডিয়ার সর্বজ্ঞ 'আদর্শবাদী' বাম্বাচ্চাগুলো এ নিয়ে হল্লাচিল্লা করেছে, যতটা তারা দীপ্সিতার জামাত বধে উল্লসিত ছিলো। জেনেরিক উদগান্ডু হলে তাদের ভাবনাও আঁটকে যায় ভক্তির পর্দার মাঝে। যেহেতু শুরু থেকে সাদাকে কালো আর কালোকে সাদা শেখানো হয়েছে, তাই যতই আসল 'সাদা-কালো'র প্রভেদটা কেউ চোখে আঙুল দিয়ে দেখাক, এরা গান্ধারির মতো স্বেচ্ছা অন্ধ সেজেই থাকবে।

চুরি দুর্নীতির পাঁকে ডুবে রয়েছেন মমতা ব্যানার্জী। ফলত তার রাজনৈতিক চরিত্রের image cleansing এর জন্য এখন রোজ ‘প্যাথলজিক্যাল মিথ্যা’ সম্বলিত আলফাল বকবেন, মৃত মানুষদের নিয়ে মিথ্যাচার করবেন, নতুন ভড়ং ধরবেন, সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ করবেন, ইনশাল্লাহ মাসাল্লাহ বিষ্ণুমাতা জয় জহর ইত্যাদি বকবেন, ছোটখাটো দাঙ্গা লাগাবেন ধর্মীয় মেরুকরণের জন্য, বিরোধী দল ভাঙানোর চেষ্টা করবেন, মিথ্যা মামলাতে ফাঁসিয়ে বিরোধী স্বরকে জেলহাজতে পাঠাবেন- ওনার গোটা রাজনৈতিক জীবনটাই এই কটা স্তম্ভের উপরে দাঁড়িয়ে আছে। পাশাপাশি RSS ও চাইবে না তাদের তাদের ‘দেবী’র গদি টলে যাক। মুসলমানকে SIR এ ভয় দেখানো যায়নি, তাই আতঙ্কিত গোটা তৃণমূল নেতৃত্ব অলআউট আক্রমণে গিয়ে দাঁতনখ দিয়ে ছিঁড়ে খাবার সব ধরণের অগণতান্ত্রিক অসংবিধানিক অপচেষ্টা চালাবে।

এখনও সময় আছে, SIR এ হেয়ারিং এর নামে এই হয়রানি ও তাতে নাম বাদ যাওয়ার মাস্টারমাইন্ড যে তোলামুল, সেটাকে অষ্টপ্রহর সঙ্কীর্তন এর মতো রোজ জনগণের সামনে বাজানো। এসবের বদলে মমতা ব্যানার্জী সাংবাদিকদের কী বলেছেন, সেই নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে বস্তুত ওনারই প্রচার করে যাচ্ছে সমস্ত বিরোধী শিবির। এখনও বামাতি লালবাবুদের দল ‘সেটিং’ তত্ত্বের বাইরে বের হয়ে বলতে পারছে না- কোথাও কোনো সেটিং নেই, কেউ বিজেমূল নয়। 

বামেদের গোটা ন্যারেটিভ ‘সেটিং আর বিজেমূল’ তত্ত্বে আঁটকে রয়েছে, যা গত ১০ বছর ধরে লাগাতার ফেল মেরেছে, জনগণ এটা খায়নি প্রত্যাখ্যান করেছে। আসলে TMC ও BJP এরা এক মায়ের পেটের দুই ভাইবোন, এদের একটাই বাপ- RSS, ভাই ভাই-এ বা ভাইবোনে সেটিং হয় না, ওটা ওদের নাড়ির টান। বাকি সবটাই তাদের ঘরোয়া খুনসুটি কিম্বা পারিবারিক কলহ। ওরা কোনো ভিন্ন সত্ত্বা নয়। সেটিং শব্দে আসলে ওদের আলাদা করে দেওয়াই হয়, বিজেমূল নামের হাঁসজারু সন্ধি ওদের অভিন্ন সত্ত্বাকে অস্বীকার করে। গোটা ন্যারেটিভটাই ভুল ‘লাইন’।

ক্রিকেটে আপনি যদি ‘লাইন’ মিস করেন, লোপ্পা ছয় মারার বলেও খোঁচা লাগিয়ে ক্যাচ তুলে দিতে পারেন কিম্বা তিনকাঠি উড়ে যেতে পারে। কানায় কানায় পরিপূর্ণ স্টেডিয়াম আপনার সমর্থকে ভর্তি, টিভির ওপারে আরও কয়েক কোটি আপনার জয়ের প্রতাশ্যাতে ক্ষণ গুনছে। রৌদ্রোজ্জ্বল পরিবেশ, প্রতিপক্ষ চোটগ্রস্থ, আপনি ধড়াচুড়ো পরে রয়েছেন, প্যাড গ্লাভস হেলমেড এ্যাবডোমেন গার্ড সব রয়েছে। বাউন্ডারির বাইরে সাজঘরে দেওয়ালে আপনার সোনালী অতীতের দেওয়ালচিত্রের নিচে বসে থাকা বাঘা বাঘা এ্যানালিস্ট, কোচ, ট্রেনার, ব্রডকাস্টার সবাই প্রস্তুত। কিন্তু ‘লাইন’ মিস করে আপনি আত্মাহুতি দিলে, এই ম্যাচে আপনার কোনো সুযোগ নেই, এই যাত্রাতেও আপনার নামের পাশে ‘আর্যভট্ট’ই লেখা থাকবে। 

আমাদের নীতি, আমাদের প্রয়োজনে সেটার মাপকাঠি আমরা ঠিক করব প্রতিবার, বারংবার। এটা জোর দিয়ে বলতে কুন্ঠা কীসের?

কে গেল কিম্বা আর কে কে যাবে, ও সব ভবিতব্যের উপরে ছেড়ে দিন। যারা যাবার তারা ইতিমধ্যেই মানসিকভাবে চলে গেছে, ধরে বেঁধে রাখলে সেটাতে বড়জোর কিছুদিন লাশটা থাকবে, উল্টে আরও বেশী অন্তর্ঘাতের সুযোগ পেয়ে যাবে তাদের শয়তানি মস্তিষ্ক। গু খাওয়া গরুকে আপনি বেশিদিন ঘাস বিচালি খাওয়াতে পারবেন না, সে দড়ি ছিঁড়ে হলেও গু খেতে পালাবে। তৃণমূল চাইছে অপ্রয়োজনীয় ইস্যুতে বামেদের ফোকাস টলে যাক, তাই চুরির দায়ে জেলখাটা তাদের মূর্খপাত্র নীতি নৈতিকতার জ্ঞান দিচ্ছে, তাবড় মিডিয়াকুলও ঠেকা নিয়ে রেখেছে- কতটা হেলে গেলে বামেদের ‘নৈতিকতা’ কতটা টোল খাবে ইত্যাদি, যেন তাদেরকে নৈতিকতার চ্যুতির ঠিকেদারি দেওয়া আছে। সতীদাহ প্রথায় যেমন মৃতের স্ত্রীদের জ্যান্ত চিতায় জ্বালিয়ে দেওয়া হতো ধর্মীয় আদর্শের কথা বলে, একই ভাবে নীতি আদর্শের নামে বামকে শূন্যতেই রেখে দেওয়ার পবিত্র কর্তব্যে নিয়োজিত  এই দালাল মিডিয়া ও বিশ্বমাচাদো বুদ্ধিজীবিরা।  

আপনারা দ্রুত স্থির করুন করুন- আপনাদের ফোকাস ঠিক কীসে থাকবে আর কোন ‘লাইন’, কোন ন্যারেটিভ আপনাদের প্রচারে গুরুত্ব পাবে। আপনারা ঠিক করুন কোনটা আপনাদের নীতি আর কোনটা আপনাদের আদর্শ। আপনারা যেটাতে সীলমোহর দেবেন, সেটাই সঠিক- মিডিয়ার ঠিক করে দেওয়া পথে হেঁটে সম্ভাবনাকে ভুঁইয়ে মুড়িয়ে রাখার মাঝে আদর্শ নীতি নৈতিকতা বেঁচে থাকবে না। আদর্শ আর নীতি কপচিয়ে সতী হয়ে চিতায় উঠলে, বিপুল কর্মী সমর্থকেরা আপনাদের সাথে সহমরণে যাবে, অনাথ হবে শ্রেণি গরিবগুর্বের দল। মিডিয়া আবার তার রমনের সাথী খুঁজে নেবে আপনাকে চিতায় পাঠিয়ে। 

দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে সেই মতো প্রচার শুরু করে দিন, হাতে সময় নেই আর।





রবিবার, ২ নভেম্বর, ২০২৫

শিন্ডলার এফেক্ট ও মার্ক্স


অস্কার শিন্ডলারকে চেনেন?

না চেনাই স্বাভাবিক, ইনি একজন জার্মান শিল্পপতি ও ফিকশনাল চরিত্র। বিশ্বখ্যাত সিনেমা পরিচালক স্টিভেন স্পিলবার্গ এর বানানো ১৯৯৩ সালের একটি সিনেমা শিন্ডলার্স লিস্ট Schindler's List- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পটভূমিকাতে নাৎসিদের হাত থেকে এক হাজারেরও বেশি ইহুদিকে ‘রক্ষা করা’ জার্মান শিল্পপতি অস্কার শিন্ডলারের গল্প নিয়ে তৈরি। সময় সুযোগ হলে একবার সিনেমাটা দেখে নেবেন, আমাজন প্রাইমে পেয়ে যাবেন।

বন্ধু কিংশুক তা আমাদের একটা ক্লোজ গ্রুপে প্রশ্ন করেছিলো, সত্যিই যদি কয়েক কোটি মানুষ বাদ পরে যায় SIR এ, তারা যাবে কোথায়! ওকে বলেছিলাম, আসামে D-Voter হওয়া ১৯ লক্ষ ভোটার কোথায় গেছে? সে উত্তর দিতে পারেনি। আপনার আমার কাছেও বিশদে এর জবাব নেই। যারা NRC করেছে, তাদের কাছেও জবাব নেই।

আচ্ছা রাষ্ট্র কি? রাষ্ট্রবিজ্ঞানের তত্ত্ব মতে, গুগুল জবাব দিলো- রাষ্ট্র হলো একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক অঞ্চলের জনগোষ্ঠী নিয়ে গঠিত একটি রাজনৈতিক সংগঠন, যার একটি সরকার আছে এবং এটি নিজস্ব আইন ও সার্বভৌম ক্ষমতা প্রয়োগ করে। রাষ্ট্রের চারটি মূল উপাদান হলো—জনসংখ্যা, নির্দিষ্ট ভূখণ্ড, সরকার এবং সার্বভৌম ক্ষমতা। অনেকে জাতির সাথে রাষ্ট্রকে গুলিয়ে ফেলে। জাতি তৈরি হয় একটা সার্বজনীন ভাষা, যৌথ ইতিহাস, যৌথ সংস্কৃতি এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে সন্নিহিত ভৌগলিক অঞ্চলের জনগণ দ্বারা তৈরি একটি গোষ্ঠী দ্বারা। এক জাতি হওয়ার জন্য সীমানা লাগেনা, সরকার গঠনের প্রয়োজনীয়তা থাকেনা, স্বভাবতই সার্বভৌমতার কোনো বিষয় থাকেনা সমজাতি হওয়ার জন্য। 

অর্থাৎ, নির্দিষ্ট ভৌগলিক এলাকার নির্দিষ্ট মানুষ তথা জনগণ তাদের সরকার চয়ন করবে, যারা একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সার্বভৌম ক্ষমতা পাবে রাষ্ট্র পরিচালনার। সুতরাং, বিদেশী কোনো অনুপ্রবেশকারী, আমাদের গণতান্ত্রিক সরকার চয়নের প্রক্রিয়াতে অংশগ্রহন করতে পারেনা, করলে সেটা অবৈধ ও বাতিল হিসাবের গন্য হবে। বাঙালি হিসাবে বাংলাদেশীদের প্রতি, তামিল হিসাবে শ্রীলঙ্কানদের প্রতি, বৌদ্ধ হিসাবে নেপালীদের প্রতি কিম্বা সিন্ধি বা পাঞ্জাবি হিসাবে পাকিস্তানীদের প্রতি আপনার দুর্বলতা তথা সহমর্মিতা থাকতেই পারে, কিন্তু তার মানে এই নয় যে তারা আমাদের দেশের সরকার গঠনের প্রক্রিয়াতে অংশ নেবে অবৈধ ভাবে- আর আপনি বা আমি আমাদের রাজনৈতিক দলের স্বার্থে সেই অবৈধতাকে সাপোর্ট করব, এটাও অপরাধ। এই পয়েন্টে এসে SIR মান্যতা পেয়ে যায় যে, ভারত রাষ্ট্রের ভোটাধিকার প্রক্রিয়াতে শুধু মাত্র ভারতীয়েরাই অংশগ্রহন করবে, বিদেশী কোনো অনুপ্রেবেশকারী নয়। রাষ্ট্রের সংজ্ঞাতে ভৌগলিক সীমানা যেমন গুরুত্বপূর্ন, তেমনই সীমানার গণ্ডিতে থাকা মানুষের পরিচয়ও গুরুত্বপূর্ণ এবং নির্দিষ্ট। যে কেউ যখন খুশি তার ইচ্ছামত, নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য সাধনের জন্য আমি অমুক দেশের ‘নাগরিক’ দাবী করতে পারেনা।

সমস্যাটা কোথায়! সমস্যা প্রক্রিয়াতে নয়, প্রক্রিয়া সাধনের গূঢ় উদ্দেশ্য ও পদ্ধতিতে। সমস্যা প্রপাগান্ডায়। কারন কেন্দ্রে RSS পরিচালিত যে বিজেপি সরকার রয়েছে তাদের রাজনৈতিক পরিচয়ই হলো- মুসলমান, দলিতকে অত্যাচার করার মাধ্যমে হিন্দুত্ববাদী মেরুকরণ করে সেখান থেকে রাজনৈতিক লাভ নেওয়া। মনুবাদকে সংবিধান মেনে মানুষের খাওয়া, পরার মত মৌলিক বিষয়গুলোকে অনৈতিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা। সর্বক্ষণ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, হিন্দু মুসলমান অপ্রয়োজনীয় দ্বন্দ্ব, মসজিদ মন্দির, গরু শুয়োরের বৃত্তে সাধারণ মানুষকে আঁটকে রেখে দেওয়া, যাতে পুঁজিবাদী শোষক গোষ্ঠী সেই অকারন অশান্তির আড়ালে ফাঁকতালে রাষ্ট্রের সম্পত্তি বেহিসাবি লুঠ করতে পারে। 

২০১৫ সালে এই বিজেপি NRC করার নামে দেশের জনগণকে ক্ষেপিয়ে তুলেছিলো। ১৪% মুসলমানের জন্য নাকি দেশের ৮০% হিন্দু ‘খতরেমে’। ভোটের হিসাবে অন্তত ৩৭% মানুষ এটাকে বিশ্বাসও করেছে বলে আরো দুটো টার্মে মোদী সরকারকে ক্ষমতায় ফিরিয়ে এনেছে, ভোট চুরিকে আমি উহ্যই রাখলাম। দেশের ৪৬% হিন্দু RSS এর বিপক্ষে, এনাদের চাপ সহ মুসলমান ও অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, বামপন্থীদের লাগাতার আন্দোলনে সেই যাত্রাই NRC/CAA থেকে পিছু হাঁটলেও, ওরা ভুলে যায়নি। দৃশ্যত এদের উদ্দেশ্য, দেশ থেকে কিছু মুসলমানকে তড়ানো, আর বাকিদের উপরে হেনস্থা আর অত্যাচার করা- যাতে মৌলবাদী হিন্দু গোষ্ঠীটার কাছে একটা অর্গাজমের বার্তা পৌঁছায়, ঘৃণার আবহে ভোট কুক্ষিগত করা যায়। 


আসামের NRC এর রেজাল্ট ২০২৫ এর শেষে এসে কোন স্থানে দাঁড়িয়ে? ১৯ লক্ষের বেশী মানুষ অবৈধ ঘোষিত হয়েছিলো, যাদের মধ্যে সাড়ে ৯ লক্ষ হিন্দু রয়েছে, এবং বাকিরা মুসলমান বলে শুরুতে ঘোষণা করেছিলো আসাম সরকার। পরে দেখা যায় তার মধ্যে এক লক্ষ নেপালী গোর্খা, সাড়ে পাঁচ লক্ষ বাঙালী হিন্দু- যাদের মধ্যে কোচ, রাজবংশীই বেশী। ১৯ লাখের বাকি থাকে সাড়ে তিন লাখ, এদের মধ্যে বড়জোর দেড় লাখ মুসলমান। যাদের অধিকাংশকে জবরদস্তি ডিটেনশনে রেখে এসেছিলো বিজেপি সরকার, মামলা লড়ে বহু মুসলমান নাগরিক তার নাগরিকত্ব ফিরে পেয়েছে। অতএব বাকিরাও হিন্দু বা অন্যান্য উপজাতী সম্প্রদায়ের, যাদের পরিচয়পত্র নেই। CAA এর মাধ্যমে যারা নাগরিকত্ব ফিরে পায়নি। অর্থাৎ, হিন্দু খতরেমে। বিহারে রোহিঙ্গা তাড়াবার নামে SIR হলো হৈ হৈ রবে, সেখানে বাদ যাওয়া ৬৫ লাখ ভোটারের মধ্যে ২১ লাখ মৃত ও স্থায়ী পরিযায়ী। অবশিষ্ট ৪৪ লক্ষ মানুষের মধ্যে প্রায় সকলেই হিন্দু। অর্থাৎ, হিন্দু খতরেমে। পশ্চিমবঙ্গে SIR নিয়ে গরীব মানুষ কিছুটা বিভ্রান্তিতে থাকলেও, যে মুসলমানকে লক্ষ্য করে এত আয়োজন, তারাই একমাত্র নিশ্চিন্ত, প্রায় সকলেই কাগজ রেডি করে রেখেছে। কিন্ত অর্ধেকের বেশী হিন্দু সমাজ আতঙ্কিত, সেটা মতুয়া হোক বা নমঃশূদ্র। অর্থাৎ, হিন্দু খতরেমে। 

মুহাম্মদ বিন কাশিম থেকে শেষ মুঘল বাহাদুর শাহ জাফর অবধি দীর্ঘ ১০০০ বছরের মুসলমান শাসনে হিন্দুরা ‘খতরেমে’ ছিলনা, ২০০ বছরের ইংরেজ উপনিবেশিক শাসনামলেও হিন্দুরা বহাল তবিয়তে ছিলো। কংগ্রেস ও অন্যান্য জোট সরকার পরিচালিত স্বাধীন গণতান্ত্রিক ভারতের প্রথম ৬৭ বছরের ইতিহাসে হিন্দুরা অসুরক্ষিত ছিলোনা, কিন্তু ২০১৪ পরবর্তী RSS এর রাজত্বে সত্যিই হিন্দু খতরেমে। মোদীর প্রধানমন্ত্রীত্বে কোটি কোটি হিন্দু ভিটেমাটি হারিয়ে পথের ভিখারি হয়ে যাবার পথে। মোদী শুরু থেকেই জানত তাদের এ্যাজেন্ডা, তাই কোনো ভনিতা না করে ‘হিন্দু খতরেমে হ্যায়’ মন্ত্রে হিন্দুকে অভ্যস্ত করে দিয়েছিলো। কিন্তু এটা বলেনি- এই খতরাটা RSS এর নির্দেশে ‘বিকাশ পুরুষই’ লাগু করবে। মুসলমানকে জব্দ করা যাবে এই আনন্দে বিভোর হয়ে হিন্দুত্ববাদী ভক্ত পাবলিক তুড়ীয় মেজাজে সপ্তমে চড়ে ছিলো, আজ দেখছে মগডালে তুলে দিয়ে হিন্দু হৃদয় সম্রাট নিজেই মই কেড়ে নিয়েছে। তাই জগন্নাথকে ‘বর্ডার তুলে দেব’র মত আজগুবি গল্প বলতে হচ্ছে, মমতাবালাকে অনশনের নাটক করতে হচ্ছে।

শুধু মুসলমানকে তাড়াবার উদ্দেশ্য হলে, বেছে বেছে মুসলমানদের SIR/NRC করলেই ল্যাঠা চুকে যেতো। সমস্ত মতুয়া, নমঃশূদ্র হিন্দুদের যদি CAA তে এ্যাপ্লিকেশন করলেই নাগরিকত্ব দিয়ে দেবে, সেক্ষেত্রে সরাসরি দিলেই তো হয়ে যেতো, তাদের SIR প্রক্রিয়াতে আনার প্রয়োজনীয়তাই ছিলোনা। এই খানেই ধাপ্পাবাজিটা লুকিয়ে। আসামে আজ ৮ বছরের কতজন হিন্দুকে CAA এর মাধ্যমে ইন্ডিয়ান নাগরিকত্ব দিয়েছে বিজেপির ডাবল ইঞ্জিন সরকার? তারা নাকি বাংলাতে SIR এর মাধ্যমে D-Voter হয়ে যাওয়া পাব্লিককে ভারতীয় নাগরিকত্ব দেবে, এটা আপনি বিশ্বাস করলে আপনি একজন ফুটফুটে চুতিয়া, আপনি নিজেই ‘আত্মলিণঙ্গম পশ্চাদপূরম’ করে বসে আছে, আপনার পায়ুমর্দন অন্য কেউ করবে সেই সুযোগ কোথায়! 

আপনি ছোট জাতের হিন্দু, তাই আপনার ক্ষয়ক্ষতিতে ব্রাহ্মণ্যবাদী মনুবাদীদের কিচ্ছু যায় আসেনা। RSS ব্রাহ্মণ্যবাদী দল, একটা মুসলমানের সাথে একটা দলিত, একটা মতুয়া বা একটা নমঃশূদ্রের কোনোর পার্থক্য নেই। সবকটাই তাদের কাছে অস্পৃশ্য, অশুচি, ম্লেচ্ছ মনুষ্যেতর ইতর জীব, যাদের জন্মের একমাত্র উদ্দেশ্য ব্রাহ্মণদের সেবা করা। কিন্তু মেকি হিন্দুপ্রেমী সেজে মধু ঝরায় আপনার ভোটটা নেওয়ার জন্য। সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমানাধিকারের ধারাতে এই কারনে RSS এর এতো গাত্রদাহ। এই কারনেই সংবিধান সংশোধন করতে চায়, যাতে মনুবাদকে লাগু করতে পারে।

কিংশুকের প্রশ্নে ফিরে আসি, কেন RSS এই SIR করাচ্ছে? কোথায় যাবে এত বিপুল সংখ্যার মানুষ? কী হবে এদের ভবিষ্যৎ? খুব সহজ, কোনো এক মহান অস্কার শিন্ডলার এসে এদের কর্মসংস্থান দিয়ে ঈশ্বর হয়ে যাবে। এই শিন্ডলারের এর ভারতীয় পদবী আম্বানি হতে পারে, আদানি, টাটা, বিড়লা, নারায়নমূর্তি, হক, খান, মন্ডল, ব্যানার্জি, প্যাটেল, শর্মা যা খুশি হতে পারে। শিন্ডলারেরা অতি সস্তার লেবার খুঁজে নেওয়ার মাধ্যমে অবৈধ দের পুনর্বাসন দেবে। এতদিন ভারত থেকে চাল, পাথর পেঁয়াজ, গোমাংস রপ্তানি হয়েছে অফিসিয়ালি, এরপর জ্যান্ত মানুষ রপ্তানি হবে। D-Voter মানুষ, যার দেশ নেই, যার পরিচয় নেই, যার রাষ্ট্র নেই। কিন্তু পেট আছে, বেঁচে থাকার আকাঙ্খা আছে, তাই সে যা খুশি কাজ করতে রাজি হয়ে যাবে- যে কোনো মূল্যে। দাসপ্রথা নতুন পোশাকে এসে হাাজির হবে সামনের দশকে।

কি হয় যখন কেউ D-Voter হয়ে যায়?

প্রথমত তার পরিচয় পত্র কেড়ে নেওয়া হয়। এরপর সে একটা ফোনের সিম অবধি কিনতে পারবেনা। ট্রেনে ও বিমানে যাতায়াত করতে পারবেনা যেখানে পরিচয়পত্র দেখাতে হয়। যতই অত্যাচারিত হোক, আইন আদালতে যেতে পারবেনা, কারন সেখানেও পরিচয়পত্র লাগে। বাচ্চাদের ইস্কুলে ভর্তি করতে পারবেনা, বীমা পাবেনা, রেশন পাবেনা, সরকারী হাসপাতালে চিকিৎসা পাবেনা, কোনো কাজে গিয়ে হোটেলে থাকার ঘর পাবেনা। সরকারী বা বেসরকারি কোনো ক্ষেত্রেই চাকরি করতে পারবেনা। একমাত্র কাজ, যে এলাকাতে থাকবে সেই অতি সংক্ষিপ্ত এলাকাতে দম বন্ধ পরিস্থিতিতে গতরে খাটা কাজ, যারা নগদে মজুরী পেমেন্ট করে, সেই কাজ করতে বাধ্য হওয়া। এখানেই পুঁজিবাদ সস্তার শ্রমকে গ্রাস করতে আস্কার শিন্ডলার সেজে, ত্রাতা হয়ে দাঁড়াবে বুভুক্ষু আতঙ্কিত মানুষগুলোর সামনে। 

"Capital is dead labour, which, vampire-like, lives only by sucking living labour, and lives the more, the more labour it sucks."

এখানেই মহামতী মার্ক্স অমর হয়ে রয়ে গেছেন। আপনারা পালাবার পথ নেই। হেগেলের দ্বন্দ্ববাদ কিম্বা ফয়ারবাখের বস্তুবাদী দর্শনের সমন্বয় জটিল তাত্বিক বিষয়, যা সকলের বোঝার বিষয় নয়। মার্ক্স ঈশ্বর নন, না প্রফেট না কোনো স্বঘোষিত গুরু কিম্বা পাদ্রী, উনি চিরন্তন হয়ে রয়েছেন “শ্রমশক্তি, মূল্যের শ্রম তত্ত্ব এবং শ্রমের বিভাজন” এই শ্রমের মন্ত্রের উপরে। SIR ও তার ফলাফল আবার চোখে আঙুল দিয়ে মানুষকে বাধ্য করছে মার্ক্সের প্রাথমিক পাঠে ফিরে যেতে। পুঁজিবাদী সমাজে- শ্রমের বিভাজন শ্রমিককে তার শ্রমের পণ্য এবং নিজের কাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করে, যা শ্রমিককে শোষিত করে এবং এতে মুনাফা বৃদ্ধি পায়। SIR দ্বারা সৃষ্ট অদক্ষ ও অসংগঠিত শ্রমিকের শ্রমকে বিনামূল্যে, পেটেভাতে কিম্বা অতি স্বল্পমূল্যে কিনে নেবার জন্য এই বৃহত্তর আয়োজন। যে কোনো মূল্যে সস্তার লেবার ‘শ্রেনী’ তৈরি করা যাতে মুনাফা কামানো যায়। মার্ক্সের ‘সারপ্লাস ভ্যালু থিওরি’ অনুসারে শ্রমিকের শ্রমের একটি অংশ বিনা পারিশ্রমিকে দখল করা হয় এটাই শ্রমের 'মূল্য চুরি'। NRC-SIR এর গোপন ও মূল উদ্দেশ্য এটাই।

"The worker becomes an even poorer commodity the more wealth he produces; the more that his production increases in power and amount, the more orphaned he becomes of his own product and the more he is determined by the capitalist."

পশ্চিমা দেশগুলোতে সাধারণ মধ্যবিত্তরাও আমাদের টাকার নিরিখে মাসে ১০-২০ লাখ টাকা রোজগার করে, কিন্তু সে দেশের আইনের গেরোতে একটা গৃহ সহায়িকা, পরিচারিকা, ড্রাইভার বা মালি রাখার অউকাত থাকেনা। কারন একজনের সভ্যভদ্র ভাবে থাকা খাওয়া, বেতন ও অন্যান্য জরুরী নুন্যতম সুযোগ সুবিধা দিতে গেলে, ওই মাসিক ১০-২০ লাখও কম পরবে, অগত্যা জুতো সেলাই থেকে চণ্ডীপাঠ সবটাই নিজেকে করতে হয়। আগামীতে এই D-Voter ও তাদের সন্তানাদির দল, দলে দলে পশ্চিমা বিশ্বে শুধু পেটে খেতে পাবে এই শর্তেই যেতে রাজি হয়ে যাবে। মা ও মেয়ে একই সাথে মালিকের যৌন লালসা তৃপ্ত করবে। মেনে নেওয়া ছাড়া উপায় আছে কী? 

তাদের তথাকথিত উন্নত বিশ্বের আইন? আইন তো মানুষের জন্য, দেশের নাগরিকদের জন্য, সেটা যে দেশেরই হোকনা কেন! D-Voter দের দেশ কোথায় যে তাদের উপরে শ্রম আইন লাগু হবে? বিনা মুল্যে শ্রমের অফুরান উৎস, মার্ক্স এই কারনেই পুঁজিবাদকে ঘেন্না করার সাথে সাথে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার নিদান দিয়ে গেছেন। 

"The philosophers have only interpreted the world, in various ways. The point, however, is to change it."

সুতরাং, এখানে কেউ ততটা হিন্দুপ্রেমী নেই, কেউ ততটা মুসলমান বিদ্বেষীও নেই, যতটা তারা পুঁজি বাদীদের দাস। RSS জন্মলগ্ন থেকে উপনিবেশিক শোষক ইংরেজ প্রভুদের হয়ে গোলামি করে এসেছে, তাদের লুন্ঠন, অত্যাচার ও বঞ্চিতদের উপরে শোষনকে সমর্থন করে এসেছে। তাদের রক্তে, তাদের জিনে রয়েছে শ্রেনীকে শোষণ করা। ২০১৪ এর পর নিরঙ্কুশ ক্ষমতা পেতেই RSS পুঁজিবাদীদের এ্যাজেন্ডাকে বাস্তবায়িত করছে মাত্র, ধর্মের মোড়কে। আজ আদানি, আম্বানিকে দেশ বেচছে, কাল ভালো দাম পেলে পশ্চিমা হোক, চীন কিম্বা রাশিয়া, অথবা আরবী শেখ- যাকে খুশি বেচে দেবে যে বেশী দাম দেবে।

অস্কার শিন্ডলার এর গল্পে, নাৎসি বাহিনীর সমর্থক হিসেবে শিন্ডলার মেটাল, গ্লাস, সেরামিকের ব্যবসা করে ফুলে ফেঁপে ওঠেন। যুদ্ধের কালোবাজারি মরশুমে লাভের অঙ্ক আরও স্ফীত করবার জন্য ইহুদী ব্যবসায়ী, নাৎসি বাহিনীর উঁচু পদে থাকা অফিসারদের সাথে সম্পর্ক ভাল করে, এর ফলে ব্যবসা আরও বড় হয়ে যায়। এই ব্যবসার জন্য প্রচুর কর্মীর দরকার হয়। কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প ইহুদী বন্দীদের কাজে লাগানোর জন্য নাৎসি অফিসারদের সাথে আর্থিক লেনদেনের কথা শুরু হয়। এই যুদ্ধবন্দীরা জানত মৃত্যুই ছিল ভবিতব্য, তবুও নিয়তির মুচকি হাসি বেঁচে থাকবার আশা জিইয়ে রেখেছিলো। সামান্য অঙ্কের বিনিময়ে একেকজন বন্দীর জীবন রক্ষা করার নামে তালিকাভুক্ত বন্দিদের ওনার ফ্যাক্টরিতে পেটেভাতের শ্রমিক বানিয়ে দিয়েছিলো।

RSS এভাবেই ইতিহাসের সবচেয়ে নিকৃষ্ট অধ্যয়গুলোকে জীবন্ত করছে, ভারতীয় সংস্কৃতির ধাঁচে ফেলে অনুশীলন করছে, এবং সুক্ষ প্রয়োগ করছে হিন্দুত্বের মোড়ক লাগিয়ে।

মধ্যযুগে বর্বর ইউরোপীয়েরা দেশ আবিষ্কার আর বানিজ্যের নামে এশিয়া আফ্রিকা আর লাতিন দেশ থেকে অবাধে লুন্ঠনের সাথে ‘মানুষ’ বেঁধে আনত খাঁচায় করে। সেই হতভাগাদের ইউরোপীয় শ্রমের বাজারে উচ্চমুল্যে বিক্রি করত- অতি সামান্য দৈনিক খাদ্য আর অকথ্য শারীরিক অত্যাচারের বিনিময়ে। সামান্য ২০০-৫০০ জন ইউরোপিয়ান কি আর নিজেদের শক্তি বলে সেই সব ভিনদেশি মানুষদের বন্দি বানাত? স্থানীয় অধিবাসীদের একটা অংশ, সাদা চামড়ার ইউরোপিয়ানদের দালাল হয়ে কাউকে লোভে ফেলে, কাউকে ফাঁদে ফেলে, কাউকে জবরদস্তি বন্দি বানিয়ে ইউরোপ গামী জাহাজে তুলে দিতো। SIR/NRC এর মাধ্যমে দালাল বিজেপি RSS এটাই করছে আদানি, আম্বানির হয়ে। 

তৃণমূল এই পুঁজিবাদেরই অংশ, RSS এর নানান ব্রান্ডের মধ্যে একটা মেকী গান্ধিবাদী দোকান। তারা কাড়া-নাকাড়া বাজিয়ে মানুষকে মূল সমস্যা থেকে বিমুখ করে দিচ্ছে। নন ইস্যুকে ইস্যু বানিয়ে আপনার যন্ত্রণার আওয়াজকে ঢেকে দিচ্ছে, কারন তাকেও দিনের শেষে পুঁজিকেই তুষ্ট করতে হবে। কোনো গান্ধীবাদ, কোনো মনুবাদ, কোনো মোদী ম্যাজিক, কোনো বড়মার ঠাকুরবাড়ি আপনাকে রক্ষা করবেনা। বুঝে হোক বা না বুঝে, মার্ক্সের স্মরণে আসা ছাড়া আপনার মুক্তি নেই। স্পিলবার্গের অস্কার শিন্ডলার কোনো ইশ্বর ছিলোনা, সে ছিলো শ্রমিকের রক্ত চুষে খাওয়া মুনাফাখোর পুঁজিবাদী শয়তান। RSS ও তাই, হিন্দুত্বের ত্রাতা মুখোশ পরে রক্তচোষা মুর্তিমান শয়তান।

সামনে ছয় মাসের মধ্যে বিধানসভা ভোট, সিদ্ধান্ত নিন- পুঁজিবাদীদের দালাল RSS এর দুই ফুলের ‘ধর্মের নামে’ মেকি লড়ায়ের মাঝে আতঙ্কে বাঁচবেন, নাকি পুরাতন পাপের প্রায়শ্চিত্ত করে, মার্ক্সবাদীদের হাত শক্ত করবেন, নিজের বেঁচে থাকার স্বার্থে। অপসন একটাই, সিদ্ধান্ত আপনার। 


#হককথন

#BanRSS

শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৫

মুসলমান সাবধান


বিগত ১ সপ্তাহ ধরে নদীয়া ও বর্ধমানের বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে সিদ্দিকুল্লাহ দের মত কিছু আরবি নামধারী RSS (ভায়া তোলামুল) মুসলমান গ্রামগুলোতে এক অদ্ভুত ধরণের প্রচারনা চালাচ্ছে। বেছে বেছে নির্দিষ্ট কিছু মুসলিম গ্রামে তারা ‘অপারেশন’ চালাচ্ছে- ঠিক যার পাশে কোনো হিন্দু পাড়া রয়েছে। ইনিয়ে বিনিয়ে এদের মূল দাবী হলো, হিন্দু মানেই RSS, অতএব সঙ্ঘী জঙ্গিদের টাইট দিতে, নিজেদের মুসলমানত্ব জাহির করতে তাদের উপরে আক্রমণ করো। Attack is the best form of defence, এইটা মগজে ঢোকাচ্ছে অল্পবয়সী মুসলমান ছেলেপুলের মগজে, সাথে কিছু ভুলভাল হাদিশ কোরানের বানী মিশিয়ে ‘সহিহ’ বানিয়ে দিচ্ছে। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন জানেনা এটা হতেই পারেনা, তৃণমূল দলটাই চলছে পুলিশ আর BDO/SDO দিয়ে। তাই প্রশাসনের উপরে কোনো ভরষা নেই, বরং এরা নীরবে উস্কানি দেবে যতক্ষননা সেই রক্ষক্ষয়ী দাঙ্গা থেকে RSS সরাসরি লাভ পাওয়ার জাইগাতে পৌঁছে যায়।

মুসলমান- সাবধান হয়ে যাও। এটা RSS এরই পাতা ফাঁদ। কিছু কাটা মোল্লাকে কিনে নিয়ে তোলামুলের পোশাক পরিয়ে আপনাকে, আপনার সন্তান বা ভাইকে রক্তাক্ষয়ী ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। SIR নিয়ে মুসলমানকে ভয় দেখানো যায়নি, অথচ সামনে ৬ মাসের মধ্যে ভোট, একটা দাঙ্গা না হলে যে বাইনারি তৈরি হয়না RSS এর দুই দল- বিজেপি ও তৃণমূলের মাঝে। আপনি ওদের ফাঁদে পা দিয়ে নিজেদের ভবিষ্যৎ জাহান্নামে পাঠাবেন কিনা সেটা আপনার সিদ্ধান্ত। আগামীতে এরা এমন নানা ধরণের ফাঁদ পাতবে ক্রমাগত, আপনাকে সাফল্যের সাথে বিজেপি-তৃণমূলকে অবিশ্বাস করে যেতে হবে দৃঢ় ঈমানের অঙ্গ হিসাবে। সেটাই আপনার সাফল্য। 

তথ্য কী বলছে জানেন? আমাদের দেশের প্রতি ১০০ জন মানুষের মধ্যে ১৪ জন মুসলমান। ৮০ জন হিন্দু ও ৬% অন্যন্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়- যেমন শিখ, খ্রীষ্টান, জৈন, বৌদ্ধ প্রমুখ। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি সাকুল্যে ৩৬% ভোট পেয়েছিল। তাও এর মধ্যে চুরি চামারি, বাটপারি, লুঠপাঠ সব আছে।

মানে ১৪% মুসলমান, ৬ শতাংশ অন্যান্য সংখ্যালঘু ছাড়াও ৪৬% হিন্দু RSS এর বিরুদ্ধে রয়েছে আজও। যারা দেশের মোট মুসলমানের ৩ গুনেরও বেশী। এদের মধ্যে বামপন্থী বড়জোর ২-৩%, বাকিরা সমাজের প্রতিটা স্তর থেকে রয়েছে। হিন্দুত্ব RSS এর বাপত্ব সম্পত্তি, হিন্দুইজম নয়। না তারা দেশের ঠিকেদারি নিয়ে বসে আছে। যেকোনো সুস্থ, সভ্য, শিক্ষিত হিন্দু মানুষ RSS এর বিরুদ্ধেই রয়েছে আপনার মত, তারাও এই মনুবাদী জঙ্গীদের বিরুদ্ধে রোজ লড়াই করছে, কিছু ক্ষেত্রে আপনার চেয়ে বেশী লড়াই করছে। সুতরাং তোলামুলের যে মৌলবাদী অংশটা গ্রামে গ্রামে পাড়ায় পাড়ায় হিন্দু মানেই RSS, তাদের গিয়ে ক্যালাও বলে উস্কানি দিচ্ছে, তারা আসলে আপনাকে কুরবানির খাসি বানাবার প্রচেষ্টা করছে। আপনি RSS এর সাথে অতি সরলীকরন করে হিন্দু ক্যালাতে গেলেই ফেঁসে যাবেন। আপনার বাড়িঘর, পাড়া, মহল্লা জ্বলেপুড়ে যাবে।

RSS এটাই চায়, যেকোনো মূল্যে দাঙ্গা। RSS এর দুটো রাজনৈতিক মুখ, বিজেপি ও তৃনমূল- এই দুই দলের বাইনারির খেলাকে রুখে দিন। তোলামূলের চোর চামার গুলোর কথাকে শুয়োরের মাংসের মত হারাম না করতে পারলে, আপনার সন্তান আগামীতে আপনার মৃত্যুর পর আপনার জন্য মাগফেরাতের দোয়ার পরিবর্তে- জাহান্নামে যাওয়ার গালি দেবে, শাপশাপন্ত অভিশাপ দেবে; কারন আপনি তাদের জন্য একটা অশান্ত সমাজ রেখে গেছেন তৃনমূলের মাধ্যমে RSS কে বাংলাতে প্রতিষ্ঠা করে। আপনি সিপিএম হবেন, নাকি কংগ্রেস হবেন কিম্বা তৃতীয় যা খুশি কিছু হতে পারেন, শুধু RSS এর ঘৃন্য পাঁক থেকে বেরিয়ে এসে, তোলামুলের দুধেল গাই থেকে- মানুষ হোন প্রথমে।

ধর্ম মেখে যে ভাত খাওয়া যাবেনা এটা রাজ্যের হিন্দু মুসলমান সবাই বুঝে গেছে। এখন আপনি ঠিক করুন, আপনি তৃনমূলের দাড়িওয়ালা মোল্লা জঙ্গিগুলো, যারা RSS এর নামে বিল কেটে হিন্দু ক্যালাবার উস্কানি দিচ্ছে, তাদের ফাঁদে পড়বেন নাকি চোখ কান খুলে তথ্য দেখবেন, যে ৪৬% হিন্দু আপনার মতই RSS এর সাথে লড়াই করছে আপনাকে বাঁচাতে, আপনার হকের জন্য, সংবিধানের জন্য, দেশের জন্য।


সিদ্ধান্ত আপনার


নাগপুরী জঙ্গি রোহিত আর্য



গতকাল মুম্বাইয়ের পাওয়াই এলাকাতে একটা ফিল্মি স্টুডিও বিল্ডিং এ ১৭ জন বাচ্চাকে জিম্মি করে রোহিত আর্য নামের এক নাগপুরি RSS জঙ্গি। বিজেপির আঁটি সেল এর ট্রোল বাহিনী এটাকে ইসলামী জিহাদীদের কাজ বলে প্রোপাগান্ডা প্রচারণা চালাতে থাকে জানপ্রাণ লাগিয়ে। কিন্তু NSG কমান্ডো বাহিনী যখন এই জঙ্গিকে শুট এ্যাট সাইট অপারেশনে এনকাউন্টার করে, বিজেপির প্রোপাগান্ডা মেসিনারি রোহিত আর্য্যকে কংগ্রেস প্রমাণে মরিয়া চেষ্টা চালায় ও আবার নিজেদের গু নিজেরাই চেঁটে খায়।

একটা ওয়েব সিরিজের জন্য অডিশনের নামে ১০০ জনকে ডাকে ওই স্টুডিওতে। সেখান থেকে ১৭ জন বাচ্চাকে জিম্মি বানিয়ে তাদের হত্যা করার হুমকি দেয়। আসলে ফ্রাঙ্কেনস্টাইন এভাবেই জন্ম নেয়।

কে এই রোহিত আর্য? মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং RSS এর কার্যকর্তাও বটে। ২০২৩ সাল থেকে মহারাষ্ট্র সরকার এই জঙ্গীকে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে পুরস্কৃত করেছিল। ছবি কমেন্ট সেকশনে।

পেশায় স্কুল শিক্ষকতার পাশাপাশি রোহিত আর্য ইউটিউব ভিডিও দিয়ে দেশের মুসলমান ও দলিত নিধনের নানান পন্থার সন্ধান দিতো। মহারাষ্ট্রের শিক্ষামন্ত্রী দীপক কেসারকারের সাথে তার ডিল হয়েছিলো স্বচ্ছতা অভিযানের জন্য মহারাষ্ট্রে একটি প্রকল্প বিষয়ে। সেই প্রকল্পের বরাদ্দ দু’কোটি টাকা হজম করে দেওয়া নিয়ে মৃত জঙ্গী রোহিত আর শিক্ষামন্ত্রীর মাঝে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। বার দুয়েক অনশনের নাটকও মঞ্চস্থ হয়েছিলো, দুর্নীতিবাজ বিজেপির ঘরোয়া দ্বন্দ্বে ১৭ টা মাসুম বাচ্চার জীবন নিলামে উঠে গিয়েছিল। একে জীবন্ত এরেস্ট করলে বিজেপির দুর্নীতি ফাস্ট হয়ে যেত, তাই পুলিশ দিয়ে জঙ্গিটাকে নিকেশ করে দিয়েছে মহারাষ্ট্র সরকার।

হারীন পান্ডিয়া হয়ে বিচারপতি লোয়া থেকে বিজয় রূপানি- বিজেপি-RSS এর এই 'খতম' করে দুর্নীতি ধামাচাপা দেওয়ার তালিকাতে আরেকটা নাম যুক্ত হলো- নাগপুরী গোয়ালের গেরুয়া জঙ্গী, রোহিত আর্য।

RSS এবং জঙ্গি কার্যকলাপ একে অন্যের পরিপূরক, গত 100 বছর ধরে এটাই ওদের পরম্পরা, প্রতিষ্ঠা ও অনুশাসন। গান্ধীকে হত্যা করেছিল যে সংগঠন তারাই আজকের দিনে ফুলেফেঁপে উঠে গোটা রাষ্ট্র এবং সমাজকে পচিয়ে দিয়েছে। বিজেপি,বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, বজরং দল বা তৃণমূল কংগ্রেসের মতো রাজনৈতিক দলগুলো আসলে RSS এর মুখোশ, তাই মূল লড়াইটা RSS এর সাথেই লড়তে হবে গোটা ভারতবাসীকে।

যতদিন না পুনরায় RSS নিষিদ্ধ হবে, এবং এদের চাঁই গুলোকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হবে, ততদিন ভারতবর্ষে সাংবিধানিক আইন কানুন গণতান্ত্রিক নিয়ম মেনে প্রতিষ্ঠিত হবে না। মিডিয়া, বিচার ব্যবস্থা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অন্যান্য প্রতিটি সাংবিধানিক কাঠামো- যেগুলো নরেন্দ্র মোদি শোভিত RSS এর শাসন ব্যবস্থায় ভেঙে পড়েছে, সেগুলোকে পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে না।

RSS এর মূল কাজ হল সমাজে সাম্প্রদায়িক বিভেদ, দাঙ্গা, অস্থিরতা এবং অশান্তি তৈরি করা- রোহিত আর্যদের মত 'গেরুয়া' জঙ্গিদের জন্ম দিয়ে। রোহিত আর্য কোন বিচ্ছিন্ন ব্যক্তি নয়, এ হলো নাথুরাম গডসের ধ্বজাধারী কয়েক লক্ষ উত্তরসূরীর অন্যতম, যার জীবনের মূল এজেন্ডা হল মুসলমান এবং দলিতকে অত্যাচার করা। এই দাঙ্গা হাঙ্গামা অস্থিরতা আড়ালে দেশের জনগণের সম্পদকে পুঁজিবাদী আদানি আম্বানির হাতে তুলে দিয়া এদের মূল লক্ষ্য।

বিহার নির্বাচনের আগে একটা দাঙ্গা লাগানোর লক্ষ্যে চেষ্টার কসুর করছে না RSS ও তার শাখা সংগঠনগুলো। মানুষকে সাবধান থাকতে হবে এদের তৈরি করা ফাঁদ থেকে।


#BanRSS

#ModiHaiToMumkinHai

তৃণমূলের প্ররোচনার ফাঁদে পা দেবেন না

⛔ সতর্কতামূলক পোষ্ট ⛔ আজ SIR এর ভোটারলিষ্ট বার হবার পর- জনরোষের দোহায় দিয়ে দিকে দিকে ‘সংগঠিত অশান্তি’ লাগাবার ‘ফুল প্ল্যান’ নিয়ে এগোচ্ছে শাা...