RSS লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
RSS লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬

কোরবানি ও শুভেন্দু সরকার

শুভেন্দু সরকারের কাছে আসন্ন কুরবানিটা পার করা এই মুহূর্তের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। শ্যাম রাখি না কুল দশায় আঁটকে- গো হত্যার নির্দেশ দিলে ভক্তকুল ক্ষেপে যাবে, না দিলে মুসলমান পাড়ায় হওয়া অশান্তির চেয়েও, পশুপালন ইন্ড্রাস্ট্রির স্ট্রাকচারটা ভেঙে যাবে, যেটা সরকারের আমলারা জানে। শুভেন্দু সরকারের এই হাল আমাদের মতো অনেকের কাছে এক উপভোগ্য বিড়ম্বনা। 

গরু কি শুধু মুসলমান খায়? দেশের ২০ শতাংশ সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী, যাদের মাঝে জৈন ছাড়া সকলেই গোমাংস খায়। ৯% আদিবাসীদের সকলে গরুও খায়, শুয়োরও খায়। দেশের ১৭% তফশিলি, যাদের মাঝে চামার দলিত শ্রেণির তারাও প্রায় সকলেই গোমাংস খায়, সস্তার প্রোটিনের উৎস হিসাবে। এছাড়া বহু উচ্চবর্ণের হিন্দুও কোনো না কোনো সাহাবুদ্দিনের বাড়িতে ‘তিন বাটি’ খেতে চলে যায়, প্রকাশ্যে স্বীকার করে না। দেশের প্রায় অর্ধেক জনগণ যেখানে গরু/মহিষের মাংস খায়, সেখানে কীভাবে বিজেপি গোমাংস বন্ধ করতে পারবে? হ্যাঁ, যেটা সম্ভব সেটা হলো প্রকাশ্যে গোহত্যা বন্ধ, আর এটাকে সমর্থন করা উচিত। কোলকাতার বিফ হোটেলগুলোতে কি শুধু মুসলমানেরা খায়? একবার জরিপ করে দেখে নেবেন না হয়!

অনিয়ন্ত্রভাবে গরু/মহিষ জবাই কেন বিজেপি বন্ধ করতে চায়, সবার আগে এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে। বিজেপি কিন্তু কেরল, গোয়া, সিকিম বা উত্তরপূর্ব ভারতে গোহত্যা বিরোধী নয়, সেখানে প্রকাশ্যে সমর্থন না করলেও বিরোধিতা করে না। সেখানে আবার মিথুন তত্ত্ব বিরাজমান। বিশ্বে গোমাংস রপ্তানিতে ভারতের স্থান দ্বিতীয়, যার বাজার মূল্য ৩.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ভারতীয় মূল্যে ৩২ হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি। এই রপ্তানি কোম্পানিগুলোর মালিকদের অধিকাংশই জৈন, মারোয়াড়ি ও বর্ণ হিন্দু পরিবারের লোকজন, মুসলমানও তাদের মধ্যে রয়েছে আলানা ও লুলু গ্রুপের মতো। অতুল সাবরওয়াল, সুনীল কাপুর, অজয় সুদ, মদন এ্যবটেরা কোটি কোটি টাকা ইলেকশন বন্ডের মাধ্যমে চাঁদা দেয় বিজেপিকে। সুতরাং, এই চাঁদা ওয়ালাদের রিটার্ন গিফট তথা তাদের ব্যবসা সুরক্ষিত করার জন্য, সস্তায় গরু সাপ্লাই দেওয়াটা বিজেপি তথা RSS এর দায়িত্ব। এই কারণেই দেশের গোমাংস খোরদের ‘গোরক্ষা সমিতির’ মাধ্যমে গোহত্যা আঁটকে দিয়ে, সেই গরু যাতে বিজেপির কনফিডেন্সে থাকা গোমাংস রপ্তানি করা কোম্পানির কসাই খানায় পৌঁছে যায় এটাকে নিশ্চিত করে। এটাই মূল ও সহজ সত্য। 

বিজেপি সরকারে এলেই তারা গরু, শুয়োর, মন্দির মসজিদ ও পাকিস্তান নিয়ে আসে। পশ্চিমবঙ্গের সীমানাতে পাকিস্তান নেই, তাই পূর্ব পাকিস্তান আর অনুপ্রবেশ এনে ফেলেছে, যদিও সেই অনুপ্রবেশের ৯৯%ই অমুসলিম। তবে ২০১৬ নাগাদ গরু নিয়ে দেশ জুড়ে যে সেনসেশন ছিল, আজ তার ভগ্নাংশও নেই, তাই বাংলাতে গরু রাজনীতি লকলকে বেড়ে ওঠার আগেই মুখ থুবড়ে পড়েছে। গরু জবাই নিয়ে তোলামুলের ৮০ পিস বিধায়ক এবং তাদের সিভিক আইনজীবী নেত্রীর কিছু বক্তব্য শোনা গেছে কি? আসলে বক্তব্য এলে এদের পিতা নাগপুর থেকেই কান মুলে দেবে। গোমাংস রপ্তানি কোম্পানির থেকে প্রাপ্ত আয় নাগপুরেরও অন্যতম বড় উৎস, রুটিরুজিতে কাউকে বরদাস্ত করবে না ওরা, তাই এরাও চুপ। 

গত কালকের সরকারি নোটিফিকেশন পড়ে যা বুঝলাম, এক কথায় গো-মাতা বৃদ্ধ ও অচল হলে জবাই করে খাওয়া যাবে। কোরবানি সংক্রান্ত রাজ্য সরকারের ফরমানে নতুন কিছু নেই, যা ১৯৫০ সালের কংগ্রেস প্রণীত আইনে ছিল, আজও সেটাই আছে। সেই আইনের পাশাপাশি ০৫/০৭/২০২২ তারিখে জাস্টিস অরিজিৎ ব্যানার্জী ও জাস্টিস রাই চট্টোপাধ্যায়ের একটা ডাবল বেঞ্চের রায়, ১৭/০৭/২০২৩ তারিখে কোলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি জাস্টিস শিভগনামনের একটা রায়ের কপি জুড়ে দিয়েছে ১৩/০৫/২০২৬ এর নবান্নের অধ্যাদেশের সাথে। যেটা অনুচ্চারিত সেটা হল, আমরা শুধু সংবিধান আর আদালতের অর্ডার ইমপ্লিমেন্ট করেছি মাত্র। তাই যারা গেল গেল রব তুলছে তারা আসলে ইচ্ছাকৃত তুলছে, যাতে তৃণমূল কংগ্রেসের দুধেল গাই রাজনীতি জীবিত থাকে এবং RSS এর প্রচ্ছন্ন মদতে এগুলোকে সমাজমাধ্যমে ছড়ানো হচ্ছে যাতে অস্থিরতাটা বজায় থাকে।

☞ পাবলিক প্লেসে কোরবানি করা যাবে না।
☞ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ও ভেটেরিনারি ডাক্তারের যৌথ সার্টিফিকেট লাগবে।
☞ লোকালে সার্টিফিকেট না পেলে রাজ্য সরকারের কাছে দরখাস্ত করতে হবে।
☞ অমান্য করলে ৬ মাসের জেল কিম্বা ১০০০ টাকা জরিমানা হতে পারে অথবা দুটোই হতে পারে।
☞ গরুর বয়স ১৪ বছরের বেশি হতে হবে, কাজের জন্য সম্পূর্ণ অযোগ্য হতে হবে অথবা আঘাতপ্রাপ্ত কিংবা নিরাময়-অযোগ্য রোগে আক্রান্ত হতে হবে, তবেই সার্টিফিকেট পাওয়া যাবে।

অসুস্থ গরু কখনোই কুরবানি হবে না, আর সুস্থ গরু কুরবানির বৈধ সার্টিফিকেট তুমি পাবে না, তাহলে? এলাকার ভেটেরিনারি ডাক্তার না হয় সরকারি কর্মচারী, তাকে তো পাওয়া যাবে; কিন্তু পঞ্চায়েত সমিতির যিনি সভাপতি, তিনি তো তোলামুলের- তাকে কীভাবে পাওয়া যাবে! সে তো ধনেপ্রাণে বাঁচার তাগিদে এলাকা ছাড়া, তাহলে! কোন রকম অসুস্থ প্রাণি কুরবানির জন্য কতটা সঠিক সেটাও তো ধর্মের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে হবে। সুতরাং, ব্যক্তিগত ভাবে আমি মন থেকে চাইছি এ বছর কুরবানি গরু বাদে অন্য কিছুতে হোক, উত্তরটা সময় দিয়ে দেবে। যদিও গরুর বয়স মাপের যে একক, সেটা বেশ জটিল; ফলত এই জানালা খোলা রেখে শুভেন্দু সরকার বিড়াল মারার বন্দোবস্ত করে রেখে দিল। 

টিভি চ্যানেলে আজকাল সবকিছুই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খবর, সব কিছুই ব্রেকিং নিউজ। কিন্তু যতক্ষণে এ সব সংবাদ টিভিতে আসে, তার বহুক্ষণ আগেই সোশ্যাল মিডিয়াতে চলে আসে, তাহলে কেন কেউ টিভি চ্যানেল দেখবে! তাছাড়া ২৪ ঘন্টা ধরে চালাবার মতো খবর কই! অতএব, রাস্তায় ঈদের নামাজ আর কোরবানি উপলক্ষে ওই ২টো লাইনই সারাদিন ধরে চেঁচিয়ে যাচ্ছে। যে বা যারা এই চ্যানেল ভুল করে দেখে ফেলছে, ভাবছে- উফ, বিজেপি সরকার কী চাঁদমারিটাই না করে ফেলেছে হিন্দু হিতার্থে। মোদ্দাকথা, এমন কিছু দেখাও যেগুলো একটা শ্রেণির অ্যাড্রিনালিন ক্ষরণ ঘটবে, কেউ তুরীয় সুখে দেখবে, কেউ আতঙ্কে বারবার শিহরিত হতে চেয়ে দেখবে।

বিজেপির আঁটিসেল যতটা প্রোপ্যাগান্ডা চালাচ্ছে মসজিদ বা গরু নিয়ে, তার চেয়েও মমতার দুধেল গাইগুলো AI জেনারেটেড পোস্টার ভিডিও দিয়ে বেশি বেশি মিথ্যাচার ও আতঙ্ক তৈরির চেষ্টা করছে। আজকে ১০ দিন হলো বিজেপি ক্ষমতায়, সেই অর্থে বড় কোনো সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার খবর নেই, এটা তোলামুল ও তাদের কাঠমোল্লাগুলোর জন্য বুকে ব্যথার বড় কারণ। বিজেপি এই মুহূর্তে ক্ষমতায়, তাদের সেভাবে দাঙ্গার আর প্রয়োজন নেই অন্তত পঞ্চায়েত ভোটের আগে, কিন্তু দুধেল গাই সমাজে ‘বিজেপি জুজু’ জিইয়ে রাখতে গেলে কামব্যাক করতে চাওয়া তৃণমোল্লাদের জন্য দাঙ্গা একান্ত আবশ্যিক; সুতরাং প্রোপ্যাগান্ডায় কোনো মন্দা আসেনি বরং বেড়েছে। তোলামুল ক্যালানি খেলেই মুসলমান এর জামা পরে নিচ্ছে, যেটা পক্ষীদের গর্গ করতে পারেনি বলে অ্যারেস্ট হয়ে গেছে। আগের দিন সুজিত গেছে, আজ রথিনের পালা, মুসলমান সাজার উপায় নেই এদের।

গো-পালন মূলত আমাদের রাজ্যের সদগোপ সমাজ আর আদিবাসী সমাজ করে। ১০টা হেলে/বদল গরু বছরে বেচতে পারলে লাখ তিনেক টাকা আমদানি হয়ে যায়, যা দিয়ে একটা পরিবারের সারাবছর চলে যায়। আরেকটু বিশদে গিয়ে বলা যায়- ভূমিহীন কৃষক, তফসিলি জাতি, বেশিরভাগ কৃষিজীবী পরিবার দুধ ও গোবর জৈব সারের জন্য গরু পালন করে। রাজ্যের ৮০% গোপালন অমুসলিম সম্প্রদায় করে, কিন্তু গরু কেনাবেচা, পরিবহণ, চামড়া শিল্পের সাথে যুক্ত ৮০% এর বেশি মানুষ মুসলমান সম্প্রদায়ের। এখানেই হচ্ছে RSS মূল সুবিধা, যদিও সমাজের নিচুতলায় এই ইকোসিস্টেম শতকের পর শতক ধরে চলছে কোনো সমস্যা ছাড়াই। তাই গো-রক্ষা সমিতির নামে সনাতনী জঙ্গিগোষ্ঠী বানাতে হয়েছে রাজ্যে রাজ্যে। সেই সনাতনী গোরক্ষা সমিতির যে নেতা, তাকে বানানোই হয়েছে রোজ মগজধোলাই করে লুম্পেনগিরি করার জন্য, সে কেন আজ ইকোনোমিকস বুঝবে? অতএব শমীক যতই ক্যামেরার সামনে সাধু সন্তের মতো প্রবচন দিন, শুভেন্দুর সরকার যতই কৌশল অবলম্বন করুক কোরবানিটা উতরে দিতে, গোরক্ষা বাহিনীর দল তান্ডব করবেই কিছু পকেটে।

পশ্চিমবঙ্গে কুরবানির বাজার বিশাল অর্থনৈতিক মার্কেট। কমবেশি ৮ লাখের উপরে গরু জবাই হয় শুধুমাত্র ঐ ১ দিনে। একটা সুস্থ স্বাভাবিক প্রমাণ সাইজের গরুর দাম ২০-২৫ হাজারের মধ্যে হয়। কোরবানির বাজারে সেটাই নূন্যতম ৩৫-৪৫ হাজারে পৌঁছায়। দালাল, হাটমালিক সম্মিলিতভাবে এই অতিরিক্ত দামের থেকে ১০০০ টাকার বেশি ভাগা পায় না, অর্থাৎ সেটা যিনি গোপালক তিনিই পায়। এই ৮ লাখ গরু, তাকে কেন্দ্র করে কমবেশী ৫০০০ কোটির ব্যবসা, যার সাথে হাড়, চামড়ার ব্যবসা, মুচি, পরিবহন, সব মিলিয়ে বিপুল টাকার ব্যবসা। যে ৯টা জেলায় শাসক বিজেপি একচ্ছত্রভাবে জিতেছে, অরতিটা জেলায় পশুপালন বেশী, সমস্যার সুত্রপাতও এখান থেকেই হবে।

সুতরাং, গরু কাটা বন্ধ হলে মোটেও সেটা অনায়াস হবে না রাজ্যের পশুপালক সম্প্রদায়ের জন্য। কোরবানির টাকাটা না এলে দুধ/ঘি/পনির সমস্ত শিল্পে তার আঁচ পড়বে, ভয়াবহভাবেই পড়বে। উত্তরপ্রদেশে বুলডোজার দেখে খুশি হওয়া বীর সনাতনীরা যারা গানও বেঁধেছিল বুলডোজার আর যোগীকে নিয়ে, আজ চোখের জলে তারা মূল্য চোকাচ্ছে। বাঙালি ততটা শিক্ষা না নিলেও, উন্মত্ততার পাগলা ঘোড়ায় কিছুটা লাগাম যে পরবে বা পরেছে তাতে সন্দেহ নেই। ধর্ম নিয়ে রাজনীতি ততক্ষণ দেখতে ভালো, যতক্ষণ না সেটা নিজের ঘরের ভেতরে সেটা ঢুকে যাচ্ছে।

বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬

বামেদের 'শিক্ষিত' ভ্রান্তিবিলাস

যাক পেরেছেন, সেলিম সাহেব এ যাত্রায় পেরেছেন, 
যাক শুরুটা তো হলো, এটাই কি কম আশার কথা!

সিপিএমের কথা বলছিলাম, রাজ্য জুড়ে আক্রান্ত হচ্ছে তৃণমূলের লুঠেরা বাহিনী সন্দেহ নেই, কিন্তু কিছু কিছু পকেটে সাধারণ মানুষও আক্রান্ত হয়ে চলেছে, মূলত মুসলমান সম্প্রদায় টার্গেট হলেও ওই দলে নিম্নবর্নের হিন্দু ও আদিবাসীও রয়েছে। ধনী শ্রেনীর কোনো তোলামুল বা সাধারণ মানুষ আক্রান্ত হয়েছে বলে এই অপবাদ- আজ এই লেখার সময় অবধি নেই। ধনী মুসলমান অবধি আক্রান্ত হওয়ার খবর নেই। জনগণের তো আর রঙ হয় না, তারা ভোটার, আজ ফুলের তো কাল কাঁচির, এদের জন্যই তো এত সভা-সমিতি-বক্তৃতা-প্রকল্প-নীতি-আদর্শ। এই আক্রান্ত জনগণের পাশে গিয়ে দাঁড়াবার দরকার ছিল সিপিএম দলের, একে তো এরা গরিব মানুষ, তথাপী এরাই তাত্ত্বিক বামপন্থার ‘শ্রেণিবন্ধু’। দেরি করে হলেও, এবারে সিপিএম জেলা অবধি যেতে সক্ষম হয়েছে। 

বামেদের মানে সিপিএমের সমস্যাটা কোথায়! লাল ফিতের ফাঁস হলো মূল সমস্যা। ধরুন, কারও বুকে ব্যাথা উঠেছে, কোন হাসপাতালে নিয়ে যাবে, তার চেয়ে বড় প্রশ্ন হচ্ছে আদৌ হাসপাতালে নিয়ে যাবে কিনা সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন জেলা বা রাজ্য কমিটির থেকে অনুমতি নিতে হবে। ততক্ষণে রুগী পটল তুলেছে। হুগলির নেতা পাশের জেলা পূর্ব বর্ধমানে বা হাওড়াতে যেতে পারবে না, অনুমতি প্রয়োজন। শৃঙ্খলার নামে এক বিকৃত নাগপাশে বন্দি করে ফেলেছে সাহসী উদ্যমী নেতাদের। সেলিম সাহেবের আজকে খেজুরি যাওয়া কিছুটা আশার আলো অবশ্যই, তবে উনি রাজ্য সম্পাদক, সুতরাং আরও অচলায়ন ভাঙতে হবে। প্রয়োজনে পুলিশের QRT এর মতো ৫টা প্রশাসনিক বিভাগে ৫টা টিম গঠন করা হোক নবীন প্রবীণ নেতাদের মিলিয়ে যারা দ্রুত পৌঁছে যেতে পারবে। আগামীতে সমস্যা আর সমাধান নামে একটা প্রবন্ধ লিখব।

আলিমুদ্দিন, তাদের পক্ককেশ বর্ষীয়ান নেতা, উঠতি নেতা, যুব নেতা, ছাত্র নেতা, দিল্লী লবি, জেলার লবি, বিশেষ নেতার লবি, এরিয়া কমিটির লবি, শরিকের লবি- সর্বত্র যেটা সর্বজন স্বীকৃত, সেটা হচ্ছে বামেদের প্রার্থীরাই বিধানসভাতে যাওয়ার একমাত্র যোগ্য। কারণ তারা শিক্ষিত, যুব সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি ও রুচিবান। একচক্ষু বিশিষ্ট হরিণ যতটা শঙ্কিত থাকে তার যে দিকের চোখটা নেই সেই দিক বিষয়ে, তার চেয়েও বেশি আত্মবিশ্বাসী থাকে যে পানে চোখ রয়েছে সেই দিকে। দেখা যায়, অধিকাংশ শিকারির আক্রমণ ভালো চোখের দিক থেকেই হয়। সিপিএমেরও সেটাই হয়েছে- ফাঁপা আত্মবিশ্বাস। গণেশ যেমন মাতা পার্বতীর চতুর্দিকে পাক দিয়ে বিশ্ব পরিভ্রমণ করেছিলেন, বামেরা সেই নিজেদের সংক্ষিপ্ত ‘বিন্দু’ বৃত্ত পানে চেয়েই শিক্ষিত ও রুচিবানের ট্রেন্ড সেট করেছে। গণেশ নিজেই বিঘ্নহর্তা ও সিদ্ধিদাতা ছিলেন, সিপিএমের শিক্ষিতেরা হোলটাইমার- ফলত সিপিএমের একজন জনপ্রিয় মুখও ‘গণপতি’ হয়ে উঠতে পারেনি।

শুরুতেই একটা ডিসক্লেইমার দিয়ে রাখি, যে লোকটা বিজেপি করে- তার মনের কোণে অনু পরিমাণ হলেও সাম্প্রদায়িকতা থাকবেই, মনুবাদ থাকবে, ব্রাহ্মণ্যবাদ থাকবে, মুসলমানদের প্রতি অকারণ তীব্র ঘৃণা থাকবে, সমাজের প্রতি ধর্ষকাম মানসিকতা থাকবে, পুঁজির প্রতি তীব্র মোহ থাকবে, ভণ্ডামি থাকবে, ভেক থাকবে, নিয়মিত মিথ্যাচারে অভ্যস্ত হতে হবে। এগুলো একজন প্রাথমিক বিজেপি সমর্থক হওয়ার সহজাত বৈশিষ্ট্যসমূহ। যিনি বিজেপির প্রার্থী হন, সবার আগে উনি দলের সমর্থক। প্রার্থী হয়ে নেতা হওয়ার মাধ্যমে উনি ওই নিকৃষ্ট মানসিকতা যুক্ত মানুষগুলোকে একত্রিত করে, উপরে উল্লেখিত বৈশিষ্টগুলো গুণিতক হারে বাড়িয়ে অসভ্য চূড়ামণি রত্নে পরিণত হন। গু’য়ের ভালো ও মন্দ দিক হয় না, শুকনো বা কাঁচা হতে পারে, কিন্তু গু মানে গু ই। 

তোলামুল স্বীকৃত চোর, সেটা পাড়ার ভ্যানওয়ালা হলে সে ও চোর, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য থেকে উচ্চস্তরের আমলা যে খুশি হোক- সে চোর চোর চোর। কিন্তু বিজেপির প্রার্থী তালিকার দিকে কখনও তাকিয়ে দেখেছেন? মেজো খোকার মত দু-এক জন ছাড়া যেহেতু কেউ কখনও প্রশাসনিক পদে গিয়ে শাসক হয়নি, তার চোর হওয়ার সুযোগও আসেনি, অর্থাৎ আজকের দিন অবধি বিজেপির ৯৯% বিধায়ক অর্থনৈতিক ভাবে ‘অপরীক্ষিত’ সৎ। দেখুন, শুভেন্দু অধিকারী, দিলীপ ঘোষ, মমতা ব্যানার্জী, বিনয় কোনার, বিমান বসু এনাদের মতো মানুষদের নেতৃত্ব গুণ দিয়ে মাপা হয়, শিক্ষাগত যোগ্যতা নেহাতই অপ্রাসঙ্গিক একটা বিষয় এনাদের ক্ষেত্রে। কিন্তু শিক্ষাগত যোগ্যোতা যখন প্রার্থীদের মাপকাঠি, বিজেপি সেখানে কোথায় দাঁড়িয়ে? তাদের ৫২ জন পোস্ট গ্র্যাজুয়েট, ৯৬ জন গ্র্যাজুয়েট/গ্র্যাজুয়েট প্রফেশনাল, ৩১ জন উচ্চমাধ্যমিক পাশ, ১৯ জন মাধ্যমিক পাশ। ৯ জন এ্যাকাডেমিক ভাবে স্বাক্ষর। ২০৭ জনের মধ্যে PhD / ডক্টরেট ডিগ্রিধারী, স্বনামধন্য বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রীধারী, ইঞ্জিনিয়ার ও টেকনিক্যাল গ্র্যাজুয়েট, ডাক্তার, আইনজীবীর সম্মিলিত সংখ্যা ৮৪ জন। এই বিজয়ী সদস্যদের মধ্যে ৭৬% জনের বয়স ৪২-৪৮ এর মধ্যে অর্থাৎ তরুণ। 

বিজেপির প্রার্থী তালিকা গবেষণা করে দেখা গেছে, সেখানে একটা নির্দিষ্ট প্যাটার্ন রয়েছে। প্রথম ধাপে উচ্চ শিক্ষিত শ্রেণি, দ্বিতীয় ধাপে বিপুল বিত্তবান মধ্য মেধার লোকজন, এনারা রীতিমতো পেশা উল্লেখ করে ITR ফাইলে দাখিল করা সম্পদ উল্লেখ করেছে হলফনামাতে। তৃতীয় শ্রেণিতে RSS লবি থেকে সরাসরি আসা লোকজন, যেখানে শিক্ষা-রুচি বিষয়টা অপ্রয়োজনীয়; চতুর্থত গুন্ডা মস্তান শ্রেণির যারা তোলামুলের লেঠেল বাহিনীর সাথে লড়াই করেছে মাঠে ময়দানে, সেটা তাদের বিরুদ্ধে হওয়া মামলার সংখ্যা দেখলেই বোঝা যায়। 

খরগ্রামের মিতালী মাল, চণ্ডীপুরের পীযুষ কান্তি দাস এরা দ্বিতীয় শ্রেণির- মূলত বিত্তবান। গোটা হুগলি, বাঁকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, মুর্শিদাবাদ ও উত্তরবঙ্গ জুড়ে দলে দলে RSS এর মুখেরা বিজেপির বিধায়ক হয়েছে, যারা তৃতীয় পর্যায়ে ছিল। কাটোয়ার কৃষ্ণ ঘোষ, পাঁশকুড়া পশ্চিমের সিন্টু সেনাপতি, আসানসোলের কৃষ্ণেন্দু মুখার্জী এনারা চতুর্থ শ্রেণিতে, যারা গুন্ডা মস্তান। বিজেপির নেতারা একদিন সিপিএমের জনপ্রিয় মহিলা নেত্রীদের কাজের মাসীর সাথে তুলনা করে ছিল বলে সমাজমাধ্যমে ঢি-ঢি রব পরে গিয়েছিল, সেই বিজেপিই এবারে রেখা পাত্র, কলিতা মাঝি, মামনি বারুই, শুক্রা মুন্ডাদের বিধানসভাতে এনেছে, যাদের পেশা আক্ষরিক অর্থেই কাজের মাসি বা দিনমজুর; বাম মেনিফেস্টোর তত্ত্বগত হিসাবে এরাই ‘শ্রেণিবন্ধু’। 

প্রথম শ্রেণিতে তাহলে কারা আছে? জামুরিয়ার ডাঃ বিজন মুখার্জী, কাঁথির অরুপ কুমার দাস, কুলটির অজয় পোদ্দার, তমলুকের হরেকৃষ্ণ বেরা, রাম নগরের ডাঃ চন্দ্রশেখর মন্ডল, ভগনবানপুরের শান্তনু প্রামাণিক, পাঁশকুড়ার সুব্রত মাইতি, কেসিয়ারির ভদ্র হেমব্রম, মেদিনীপুর শহরের শঙ্কর গুছাইত, শিলিগুরির শঙ্কর ঘোষ, ডেবরার শুভাশীষ ওম, সিউরির জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, মুর্শিদাবাদের গৌরি শঙ্কর ঘোষ, কালনার সিদ্ধার্থ মজুমদার, বর্ধমানের মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র, বারাবনির অরিজিৎ রায়, রানীগঞ্জের পার্থ ঘোষ, গোপীবল্লভপুরের রাজেশ মাহাতো, ঝাড়গ্রামের লক্ষীকান্ত, নয়াগ্রামের অমিয় কিস্কু, কাশিপুরের কমলাকান্ত হাঁসদা, বড়জোড়ার বিল্লেশ্বর সিনহা, দুবরাজপুরের অনুপ সাহা, সাঁইথিয়ার কৃষ্ণকান্ত সাহা, বহরমপুরের সুব্রত মৈত্র, কৃষ্ণনগরের তারকনাথ চ্যাটার্জি, এনারা প্রত্যেকে উচ্চশিক্ষিত এবং প্রায় সকলেই শিক্ষাগত যোগ্যোতা নূন্যতম মাস্টার্স, যার মধ্যে বিজ্ঞান ও আইন বিভাগই আধিক্য। এছাড়া বাকিরা রাষ্ট্রবিজ্ঞান, ভূগোল ও ইংরাজি সাহিত্যের মানুষও আছে। আরও ৮০-১০০ জনের নাম লেখাই যায়, তাতে অহেতুক তালিকা লম্বা করা ছাড়া কোনো লাভ নেই। 

সেখানে বামেদের তথাকথিত শিক্ষিত ‘যোগ্য’ প্রার্থীদের একাডেমিক যোগ্যোতা কি এদের চেয়ে বেশি? মিলিয়ে দেখেছি, কাঁধেকাঁধেও বলার উপায় নেই। সিপিএমে মূলত নিম্ন ও মধ্যমেধার হামবড়া সবজান্তা উন্নাসিক লোকজন। কেউ কেউ আবার উত্তরাধিকার সূত্রে বাম বা সিপিএম; কোন বাবা, দাদু, মেসো, ঠাকুমা কবে বাম নেতা ছিলেন সেই কারণে তার সিপিএম হওয়াটা অধিকার, যেন জিনে বাম আদর্শ জিনবাহিত একটা বিষয়। মানে আত্মজাহির পরায়ণতার পরাকাষ্ঠা। ব্রাহ্মন্যবাদীরা যেমন গোত্র খোঁজে জন্ম, মৃত্যু বা বিয়ের সময়, একইভাবে সিপিএম বৃত্তে পারিবারিক বাম ঐতিহ্যের গন্ধ বিচার করে একশ্রেণির পোঁয়াপাকা যন্তরের দল কুলীন সাজার মরিয়া প্রয়াস চালাচ্ছে। বিজেপির প্রার্থীদের দেখুন তারা সকলে কমবেশি খেটে খায়, পেশা যা খুশি হোক। বামেদের ‘যোগ্য’ প্রার্থীদের অধিকাংশের পেশা কী? পার্টির হোলটাইমার, যারা জীবনে কখন ২ পয়সা রোজগার করে দেখেনি, তারা নাকি রুজি রোজগারের আন্দোলন করছে! বিজেপির প্রার্থীদের আমরা চিনি না, কিন্তু প্রতিটা এলাকার মানুষ তো তার প্রার্থীকে চিনতো, বামেদের প্রচার ছিলো শিক্ষিত রুচিশীল যোগ্যকে বেছে নিন, তারা বেছে নিয়েছে। 

বামেদের তথাকথিত যোগ্য প্রার্থীদের প্রায় প্রত্যেকে পার্টির হোলটাইমার হিসাবে পাওয়া সামান্য টাকায় দিন গুজরান করে। কে কে কোন নিরাপদ স্থায়ী ব্যবসা/চাকরি ছেড়ে অনিশ্চিত রাজনীতিতে জনসেবা করতে এসেছে? কঠিন জীবন সংগ্রামের লড়াইতে কাল থেকে ছেড়ে দিলে, এদের একজনও সামান্য টোটো চালিয়ে, দুটো কোদাল কুপিয়ে, কাস্তে টেনে, হাতুড়ি পিটিয়ে, সামান্য মুদি দোকান, মিস্টির দোকানে, এমনকি শপিং মলের সেলস গার্ল/বয়ের কাজটুকুও করতে পারবে না, এমন অজ অকর্মার ঢেঁকি এগুলো। কেন এই মেধাহীন কাগুজে শিক্ষিত ধর্মের ষাঁড় গুলোকে মানুষ বেছে নেবে? তাহলে কি এরা বাতিলের দলে, মোটেও নয়, এদের শুধুমাত্র শিক্ষিত, একমাত্র যোগ্য, রুচিশীল এই সব প্যাকেজিং করে রাজনীতির বাজারে বিক্রি করা বন্ধ হোক। সাধারণ বাম আন্দোলনের সর্বক্ষণের কর্মী হিসাবে আসুক না ভোটের ময়দানে, কে মানা করেছে! 

পুঁথিগত শিক্ষাই কি শিক্ষার একমাত্র মাপদন্ড? যিনি নৌকার মাঝি, সে তার পেশায় অশিক্ষিত? যিনি নাপিত, যিনি দর্জি, যিনি জুতো সেলাই করে, মাঠে ধান রোয়ার কাজ করেন, যিনি লেদ মেসিনে কাজ করেন, যিনি রঙের মিস্ত্রি, যিনি মাঠে হাইটেনশন বিদ্যুৎ লাইনের তার লাগাচ্ছেন, এনারা কি অশিক্ষিত? আসলে তিনি তার বৃত্তিতে সর্বোচ্চ শিক্ষিত। ওই ফাঁপা একাডেমিক ডিগ্রীধারী ‘মেধাহীন’ শিক্ষিত সিপিএমের দল, যারা একবেলা নিজের পেটের ভাত নিজে যোগাড় করে খেতে সক্ষম নয়, তারা অন্যকে কাজের দাবীতে আন্দোলন বোঝাতে গেলে লোকে শুনবে কেন? সিপিএম সর্বক্ষণ একটা ইলিউশন বৃত্তের বাস করে, যেখানে আমরাই শ্রেষ্ঠ, আমরাই সৎ, আমরাই একমাত্র গরিবের বন্ধু, আমরা 'লড়াকু' যারা ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে বুঝে নেয়। আরে বাম পাঁঠার দল, সৎ আর শিক্ষিত হওয়াটা কোনো যোগ্যোতা নয়, মানুষের স্বাভাবিক গুণ এগুলো, আর বামপন্থী দল করতে গেলে এটা আবশ্যিক শর্ত। দুর্নীতিবাজ তোলামুলের কল্যাণে সততাকে আজকাল ডিগ্রী বলে মনে হয়।

একটা দলে তাত্ত্বিক নেতা অবশ্যই দরকার, সেটা ১০% বা বড়জোড় ২০%, আজকের সিপিএমে প্রায় সকলে তাত্ত্বিক নেতা, সকলে পার্টির লেভি বা চাঁদার রোজগারে পালিত। দল করাটাই যেহেতু এদের পেশা, তার কারণে এনারা সারাবছর রাস্তায় থাকেন। জ্যোতি বসুকে কখনও ব্যারিস্টার শিক্ষিত প্রমাণ করতে হয়েছিল? হরেকৃষ্ণ কোনার বা সুকুমার সেনগুপ্তেরা হোলটাইমারের টাকায় পেট চালাতেন? কেউ এনাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা কখনও জানতে চেয়েছিল? বিজেপি এই ২০২৬ ভোটে তাদের কোন প্রার্থীকে শুধুমাত্র ‘শিক্ষিত’ প্রোজেক্ট করে ভোট চেয়েছে? তাদের প্রতিটা ‘শিক্ষিত’র কেউ হোলটাইমার নয়, প্রত্যেকের নিজ নিজ পেশা আছে, এমনকি RSS এর রক্তবীজগুলোও কিছু না কিছু করে খায়। যদিও এরা সাম্প্রদায়িক রাজনীতিই করবে আগামীতে, তার পরেও এদের মুখে কাজের দাবির কথা, রুটি রুজির কথা মানায়। সুতরাং, বামের ভোট শুধুমাত্র ধর্মীয় মেরুকরণের ফলে রামে যায়নি। যারা নিজেরা কাঠ বেকার, কোনো কাজটি করে না- তাদের মুখে কাজের দাবীতে লড়াই এর কথা আর মমতার মুখে দুর্নীতি মুক্ত সততার কথা আসলে একই। এই কারণেই জনপ্রিয় কোনো সিপিএম ‘শিক্ষিত তরুণ’ নেতার বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি হয়নি সমাজে।

শিক্ষিত নেতা অবশ্যই প্রয়োজন, কিন্তু আসল দরকার শ্রমিকদের মধ্যে থেকে নেতা, কৃষকদের মধ্যে থেকে নেতা চাই, ট্যাক্সিচালকদের মধ্যে থেকে নেতা চাই, শিক্ষকদের মধ্যে থেকে নেতা চাই, আইনজীবীদের মধ্যে থেকে চাই, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে আসা ছেলেপুলে চাই, গ্রামের রাস্তায় রাস্তায় ধুলোমাখা নেতা চাই। আলিমুদ্দিনে বসা নের্তৃত্বের দৃষ্টিভঙ্গির বদল সবার আগে দরকার। নির্দিষ্ট ছোট ছোট লক্ষ্য দরকার, যেগুলোকে পূর্ণ করার উপরে আগামী নির্ভর করবে। মঞ্চের সামনে নাচ গান দিয়ে কোলকাতার রাজনীতিও চলে কিনা জানি না, গ্রামে এগুলোকে নেটোপালা বলে। এখানে মানুষ পরিযায়ী শ্রমিক, এখানে মানুষ ১৫ বছর ধরে তোলাবাজদের অত্যাচারের শিকার, এখানে স্কুল কলেজ নেই, ধর্মীয় মেরুকরণের শিকার, একঘরে হয়ে থাকা, ঘরছাড়া হয়ে পালিয়ে বেড়ানো, ক্ষুদ্রঋণের ফাঁস গ্রামে গ্রামে ক্যান্সার হয়ে গেছে। এগুলোর জন্য শুধু মাত্র ‘মেধাহীন কাগুজে শিক্ষিত’ নেতা চায় না জনগণ।

ISF নিজের পায়ে কুড়ুল মেরেছে। আরাবুলকে দলে না নিলে তারা দুই ২৪ পরগণা মিলিয়ে কমপক্ষে ৭-৮টা আসন পেতে পারত। আরাবুল ইসলাম হচ্ছে- ক্রমশ অত্যাচারীদের মুখ হয়ে ওঠা মমতা ব্যানার্জীর কোম্পানির বিজ্ঞাপনী মডেল, তৃণমূল সংস্কৃতির মূল্যায়নের একক। তাকে দলে নিতেই সাধারণ মানুষ সরে গেছে, যারা এতদিন অত্যাচার করেছে, তাকেই কেন আবার অন্য দলের জামায় ফিরিয়ে আনবে? অতি লোভ নৌসাদ-আব্বাসকে ১০ বছর পিছিয়ে দিয়েছে, যতই নৌসাদের পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি থাক, মিন্টু সাহজি আর আরাবুলের অতীতের পাপ কি আন্না হাজারের ভাগে যাবে? জোট যেমন আছে থাকুক, কিন্তু বুথ স্তরে সিপিএম নিজে সংগঠন গোছাক। ISF কোনো দীর্ঘমেয়াদি কোনো সমাধান নয়।

রাজ্যের প্রকৃত বাম কারা? পথ ভাবে আমি দেব, রথ ভাবে আমি, মূর্তি ভাবে আমি দেব, হাসেন ‘ক্ষিতি গোস্বামী’। আসলে নরেন চট্টোপাধ্যায়, মনোজ ভট্টাচার্য, স্বপন ব্যানার্জীদের মতো বোঝাদের বয়ে চলা সিপিএম এর জবাব দিতে পারবে না। দীপঙ্কর ভট্টাচার্য আসলে কার প্রতিপক্ষ! এক্ষেত্রে একটাই নাম SUCI, ব্র‍্যাকেট ক্লোজড। এনাদের ম্যানিফেস্টোর সাথে কর্মকান্ডের মিল খোঁজার মতো লুম্পেন নিশ্চয় আপনি নন। দক্ষিণ কোলকাতার রাস্তায় বিপ্লবের ‘রগরগে' স্লোগান, পাহাড়ি নদীর মতো স্রোতস্বিনী মিছিল, এর সাথে পিটুনি খাওয়া আদিম প্রতিভা, সরকারের পর সরকার বদলালেও এদের ঠ্যাঙানি সহ্যের যে সহজাত সৃজনী ক্ষমতা তা বঙ্গ রাজনীতিতে বিরল। আবেগতাড়িত সুড়সুড়ি ভাষণ, মিথ্যার মোড়কে বিল্পবের আরক মিশিয়ে লেখার ‘চালাকি’ এবং বিপ্লবের মরুদ্যানে ‘মরীচিকা’ বিক্রির রাজনৈতিক লাইন বেয়ে অভিষ্ঠ লক্ষ্যে পৌঁছাতে চাওয়া SUCI এই বিধানসভা ভোটে কোথায় দাঁড়িয়ে কেউ কি খোঁজ করেছেন?

আমরা একটা নিষ্কর্ষে পৌঁছেছি- শ্রমজীবি মানুষ, শোষিত প্রান্তিক মানুষ, বঞ্চিত অত্যাচারিত নিম্নবিত্ত, নিপীড়িত তফসিলি আদিবাসী সংখ্যালঘু মানুষদের সাথে থাকা (কঠোরভাবে যাদবপুর থেকে ধর্মতলা অবধিই) রাজ্যের ‘আগামার্কা’ খাঁটি বিপ্লবী দল যারা, সেই SUCI এর ভোট শতাংশ বিশ্রী হারে কমে গেছে এই ২০২৬ এর ভোটে। এটা যে বাঙালি সমাজের একটা চূড়ান্ত অবক্ষয়, মহান বিপ্লবী শিবদাস ঘোষ এবং নীহার মুখার্জীর আত্মার তরফে সেই আকাশবাণী আসার অপেক্ষায় প্রভাষ ঘোষ, কে রাধাকৃষ্ণ, কৃষ্ণ চক্রবর্তীর মতো পলিটব্যুরোর আগুনখেকো বিপ্লবীরা প্রতীক্ষায় রয়েছেন। তাদের বাঙালি ‘চে’ আনন্দরূপ বা তাদের জন রিড, গ্লেন গ্রিনওয়ার্ল্ড, এজরা ক্লেইন কিম্বা পাতি ভারতীয় সাঁইনাথের চেয়েও উন্নত, বিশ্ববরেণ্য সাংবাদিক ভাদুড়ি মশাইও গবেষণা করে বের করতে পারেননি যে- ৯৯.৯০% আসনে NOTA কেন তাদের সাথে লড়াই করল? 

বিজেপি, তৃণমূল, কংগ্রেস, সিপিএম এরা তো সামান্য মুষ্টিমেয় দু’চারটে স্বৈরাচারী, কর্তৃত্ববাদী, সর্বগ্রাসী, বুর্জোয়া দল; SUCI দাঁতে দাঁত চেপে প্রতিটা কেন্দ্রে লড়াই করেছে তাদের নির্দিষ্ট টার্গেট নোটা’র সাথে। এর সাথে ছিল হাজারে হাজারে ভিন্ন ভিন্ন মতাদর্শ যুক্ত নির্দলদের দল। নির্দলদের সাথে আসল টক্কর বাংলা জুড়ে কে নিয়েছে? SUCI নিয়েছে, তথ্য মিলিয়ে দেখে নিতে পারেন। NOTA কি পর্ণশবরীর অভিশাপ নাকি নিকষছায়া? নোটা কি বুর্জোয়া? নোটা ফ্যাসিস্ট? নোটারা ঠিক কোনো কোনো ক্ষেত্রে SUCI এর চেয়ে এগিয়ে রয়েছে যার কারণে নোটা SUCI এর চেয়ে বেশি ভোট পেয়েছে? এ বিষয়ে তারা একটা একটা প্লেনাম ডেকে পর্যালোচনা করবে বলে জানিয়েছে বিশ্বস্ত সুত্র। 

পক্ষীদের গর্গদা নাকি মামাবাড়ি গেছে, ভাগ্যিস কুমির সৈকত বিদেশে সেটেলড, কে জানে বরেণ্য সাংবাদিক জিম সাহেব(করবেট নন) আজকাল কোথায় আছে, গত ১৫ দিনের সমস্ত ফেসবুক পোস্ট ডিলিটেড, লর্ড জাহাঙ্গীরের সাথে ছবি সহ। দীপক ব্যাপারি, নির্ভীক অনিন্দ্য এরা প্লাস্টিক সার্জারি না করে কি বাজারে লঞ্চ হবে? বাকি অনেক শুঁয়োপোকা, এ্যানাল-থিসিস লেখা লোকজন এখন রাহুল গান্ধীর সাথে থাকা ছবি দিচ্ছে। এরা প্রত্যেকে তৃণমূলের শাখা সংগঠনের প্রধান, কোনো নিরপেক্ষ কেউ নন। কেউ কি মেজো খোকা, সোনা বিজ্ঞানী তথা রিঙ্কু বৌদির উনি, পাল বাড়ির দর্জি কাকিমার বিরুদ্ধে থাকা ফৌজদারী মামলাগুলো পড়ে দেখেছেন? কারা সেই মামলার বাদীপক্ষ? দেখলে বুঝে যাবেন ঋজু দত্ত, কোহিনুর মজুমদার, কার্তিক ঘোষ, সুপ্রিয় চন্দ বা রাজ চক্রবর্তীরা কোনো রাসায়নিক পরিবর্তনের ফলে কেউ তাড়াতাড়ি সাসপেনশ আনিয়ে নিল বা কেউ রাজনীতি ছেড়ে দিল, সব উত্তর ওখানেই নিহিত রয়েছে।

রাজনীতিতে মূলত তিন ধরনের দুষ্কৃতি থাকে, প্রথমটা মস্তান, এরা ধর্ষণ, চুরি, খুন বা হত্যা করতে পারে না। অশান্তি, মারামারি, লাঠালাঠি, মাথা ফাটানো, উত্তপ্ত ভাষণ দেওয়া এগুলো এদের কাজ। দ্বিতীয় হচ্ছে গুন্ডা, যারা তোলা আদায়, থ্রেট দেওয়া, ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া, এমনকি উত্তেজনার মাথায় খুন অবধি করে ফেলে নির্দ্বিধায়। মস্তানেরা গুন্ডাদের আইডল মানে। তৃতীয় শ্রেণি হচ্ছে ক্রিমিনাল, এরা মাঠে নেমে মারামারি করে না, কখনও নিজের হাতে চাকু, বোমা, বন্দুক হয়ত ছুঁয়ে দেখেনি। কিন্তু প্রতিটা গুন্ডাকে এরা নিয়ন্ত্রণ করে, প্রতিটা গুন্ডার ধর্ম বাপ হচ্ছে এই ক্রিমিনালেরা। প্রতিটা তোলাবাজি, প্রতিটা দাদাগিরি, প্রতিটা দাঙ্গা, প্রতিটা খুনের পিছনে এনাদের বরফ শীতল মস্তিষ্ক কাজ করে, এনাদের অঙ্গুলি লেহনেই বাবলু সিংহ, নিশিকান্ত মন্ডল, নান্টু প্রধান, দেবাশীষ আচার্য কিম্বা চন্দ্রনাথেরা খুন হয়। হিরেন পান্ডিয়া, গোপীনাথ মুণ্ডে, দীনদয়াল উপাধ্যায়, মনোহর পারিক্কর, বিপিন রাওয়াতদের খুনের কোনো তদন্ত হয় না যাদের নির্দেশে, বিচারপতি লোয়ার আত্মা আজও ভুত হয়ে জাস্টিস খোঁজে যাদের কারণে- তারাই হচ্ছে ক্রিমিনাল। রাষ্ট্রীয় স্তরে এই শিল্পের গুণীশ্রেষ্ঠ শিল্পী মোটাভাই হলে, রাজ্যস্তরে সেই গুণের গুণী যে আমাদের মেজোখোকা, সেটা আলাদা করে উল্লেখ করতে হয় না। এদের আসল নাম আপনি জানেন, আমি খুন হতেও চাইনা, জেলে যাবারও শখ নেই আর, তাই লিখিনি। 

এই যে এতদিন সিপিএমের আক্রান্ত স্থলে যেতে না পারা, এই অক্ষমতার দর্পনেই আজ তোলামুল দলটার ‘নেই’ হয়ে যাবার বীজ রোপন করা আছে। মাত্র ১ সপ্তাহ আগেও রাজ্যের সবচেয়ে সংগঠিত রাজনৈতিক দলটার নাম ছিল তৃণমূল কংগ্রেস, এরাই প্রতি ১০০ জনের মধ্যে ৪০ জনের ভোট পেয়েছে। পুলিশ প্রশাসন, গুন্ডা, মস্তান, ক্রিমিনালের ৯৯% এদের অধীনেই ছিল। ফল বের হওয়ার মাত্র ৭ দিনে তারা বৈধব্যে এসে গেছে, ৭ সপ্তাহে তারা যক্ষ্মা রোগীর মতো কঙ্কালসার হয়ে যাবে, ৭ মাসে তাদের বংশে বাতি দেওয়ার মতো কেউ রইবে না, ৭ বছর পর নামটুকু নেওয়ার জন্য কেউ অবশিষ্ট থাকবে না। দল হিসাবে সিপিএম তাদের চেয়ে অনেক অনেক উন্নত, ক্ষমতা যাবার দেড় দশক পরেও রাজ্যের ৮০% বুথে নিজেদের এজেন্ট দিতে পেরেছিল। আগামীতে রাজ্যে যখন পরিবর্তন আসবে, সেই সরকার CPM ছাড়া গঠিত হবে না- দেওয়ালে খোদাই নিন। কিন্তু সেটা ৫ বছর পর নাকি ২৫ বছর পর সেটা নির্ভর করবে গত বিধানসভা ভোট থেকে তারা কিছু শিক্ষা নিয়েছে কিনা তার উপরে।

গণশক্তির একটা ট্যাগলাইন আছে, “আমরা নিরপেক্ষ নই, মেহনতী মানুষের পক্ষে”। কিন্তু মেধাহীন শিক্ষা দিয়ে মেহনতী মানুষের কাছে আদৌ আপনারা পৌঁছতে পারবেন? শেষ ১৮ বছর ধরে পারেননি, উন্নাসিকতা ঝেরে ফেলে ‘বাস্তবিক’ শিক্ষিত না হলে আগামী ১৮০ বছরেও পারবেন না।

রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬

মুসলমান ও হুমায়ূনের বাবরি মসজিদ

 

বাবরি মসজিদ, বেলডাঙা


বাবরি মসজিদ আর পাঁচটা মসজিদের মত শুধুমাত্র চার দেওয়ালের একটা নামাজ পড়ার ঘর নয়, এটা আপামর মুসলমানের আবেগের নাম। উগ্র হিন্দুত্ববাদী জঙ্গিরা ১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদের মাথায় চড়ে তাকে ধ্বংস করে ভারতের মুসলমানদের উপরে উত্যাচারের যে সূচনা করেছিলো, তারই হাত ধরে প্রথমে বাজপেয়ী সরকার ও বর্তমানের অত্যাচারী ফেরাউন মোদী সরকারের আগমন ঘটে। এরই ধারাবাহিকতায় মুসলমান হত্যাকারী কশাই যোগী আদিত্যনাথ ও হেমন্ত বিশ্বশর্মাদের মত জাহান্নামের কীটেদের উত্থান। এদের মূল এ্যাজেন্ডাই হলো মুসলমানকে ক্ষতিগ্রস্ত করো, মুসলমানের সম্পদ কেড়ে নাও, তাকে নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত করে উল্লাস করো। ভারতের মাটিতে উগ্রহিন্দুত্ববাদী রাজনীতির যে যুগ, সেটার সূচনা হয়েছিলো এই বাবরি মসজি ধ্বংসের হাত ধরেই। এটাই হিন্দুত্ববাদী উগ্রপন্থীদের, নাগপুরের গোয়ালঘরের জিতে যাওয়ার প্রাথমিক ধাপ ছিলো।

এক শ্রেণীর বুদ্ধিভ্রষ্ট উন্মাদ হিন্দু ভাইয়েরা RSS-BJP এর রাজনৈতিক কর্মসূচীকে, সনাতন ধর্মের অনংশ ভেবে ভেবে RSS এর প্রোপাগান্ডাতে ভেসে গিয়ে, তারাও সরাসরি এই মুসলমান ও দলিত নিধন যজ্ঞে সামিল হয়ে যাচ্ছে। এরা সকলে ব্রেন ওয়াস করা জঙ্গি। এমনই এক জঙ্গি আমাদের স্বাধীন ভারতের জাতির পিতা মহাত্মা গান্ধীকে হত্যা করেছিল- স্বাধীনতা উত্তর ভারতের প্রথম জঙ্গি যাকে সাপ্লাই করেছিলো এই RSS। এরা নিকৃষ্ট ব্রাহ্মণ্যবাদী একটা মুষ্টিমেয় সম্প্রদায়, যারা জঘন্য বর্ণ প্রথায় বিশ্বাসী, মনুবাদ যাদের সংবিধান- তারা যে কোন মূল্যে নিম্ন বর্ণের হিন্দু এবং আদিবাসীদের উপর অমানুষিক অত্যাচার করে, তাদের সম্পদ কেড়ে নেওয়াকে, তাদের উপরে নারকীয় হামলা করাকে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব ও বীরত্ব বলে দাবি করে। এরা একসময় ব্রিটিশদের দালালি করত, এখন গুটিকয়েক গুজরাতি পুঁজিপতির ওই দালালি করে; যাদের মূল উদ্দেশ্য দেশের সম্পদ জনগণের সম্পদ লুটপাট করে বিক্রি করে দেওয়া। হিন্দুত্বের নামে এরা দেশের সংখ্যাগুরু সনাতনী ভাইদের সাথেও ভয়ংকর রকম প্রতারণায় লিপ্ত। মুসলমানেদের কচুকাটা করে, তাদের সম্পদ দখল করে নিয়ে বেনাগরিক কিম্বা তৃতীয় শ্রেনীর নাগরিক বানিয়ে দেবার যে চক্রান্ত- এই সবের প্রতীক হচ্ছে বাবরি মসজিদের ধ্বংস হওয়া। 

দীর্ঘ ৩৩ বছর পর এই সুবিশাল ভারবর্ষের বুকে 'বাপের ব্যাটা' হুমায়ুন কবীর, প্রতিদিন হেরে যাওয়া মুসলমানের হেঁট হয়ে থাকা যে শির- সেটাকে আবার উঁচু করে দিয়েছে। বাংলার পাক জমিনে বাবরি মসজিদকে পুনরায় নির্মাণ করার মাধ্যমে। রাজনৈতিক চরিত্রের বিচারে হুমায়ূন কবীর একজন গণিকা হলেও, একটা হেরে যাওয়া আত্মবিশ্বাসের অভাবে ভোগা জাতিকে জাগাতে যেভাবে সাহস নিয়ে এগিয়ে এসেছে, তার জন্য কোনো সাধুবাদই যথেষ্ট নয়। হিন্দু ধরর্মেও তো বেশ্যাবাড়ির মাটি ব্যাতিরেকে দুর্গাপুজা সম্পন্ন হয়না, হুমায়ুনও এক্ষেত্রে সেই সাহসী ব্যাক্তিটা, যে মিইয়ে যাওয়া বারুদের স্তুপেও যে স্ফুলিঙ্গ ধরানো যায় সেই বিশ্বাসটা জাগাতে সক্ষম হয়েছে।

RSS, বিজেপি ও তাদের ক্ষমতাধর রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রতিটা সংস্থা ও প্রতিটা তন্ত্রকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বাংলার জমিনে ভারতীয় মুসলমানের ইজ্জত 'বাবরি মসজিদ' স্থাপনের যে হিম্মত দেখিয়েছেন হুমায়ুন কবীর- গত ৩৩ বছরে তাবড় মুসলমান নেতৃত্ব এবং গালভরা নামের সংগঠন যত ছিল- তাদের সকলকে ছাপিয়ে গেছেন। যে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের মধ্যে দিয়ে হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির এতো ফুলে ফেঁপে উঠা, সেই মসিজিদ পুনঃনির্মানের মাধ্যমে আজ মুসলমান সমাজকে একত্রিত করে- বিজেপি, RSS আর তাদের রাজনৈতিক হিন্দুত্বকে কবর দিয়ে দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রতিকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করাই যেকোনো সুস্থ মুসলমানের লক্ষ্য। এই বাংলা রবীন্দ্র নজরুলের মাটি, এই বাংলা শ্রীচৈতন্যের সাম্যের গান গাওয়ার মাটি, এই মাটি অসংখ্য পীর আউলিয়ার মাটি, এখানে RSS এবং তাদের মত সমমতাদর্শিত দলের কোন স্থান নেই। 

আজ আমাদের সামনে কেবল বিজেপিই বাঁধা নয়, RSS এর অন্যান্য শাখা সংগঠন যেমন তৃণমূল কংগ্রেস বা তাদের নেত্রী মমতা ব্যানার্জি, যিনি ১৯৯২ সালে নরসিমা রাও এর মন্ত্রীসভাতে ৩টে দফতরের মন্ত্রী ছিলেন, তিনি সে সময় ন্যূনতম প্রতিবাদ টুকু করেননি। কোনো ভিডিও বা সংবাদ পত্রের কাটিং এমন দেখাতে পারবেন না, যেখানে মমতা ব্যানার্জি বাবরি মসজিদ ধ্বংসের জন্য কোনরকম নিন্দা প্রস্তাব করেছিলেন।

আজকে এই মমতা ব্যানার্জি গত ১৫ বছর ধরে মুসলমানদের ভোটে জিতে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। ২০২৬ এর নির্বাচনেও তিনি কমপক্ষে ৫০ জন RSS এর ক্যাডারকে তার দলের প্রার্থী বানিয়েছে। RSS এর পরিকল্পনা মত মুসলমানকে ঠকিয়ে তাদের ওয়াকফ সম্পত্তি কেড়ে নিয়েছে, OBC থেকে মুসলমানকে বঞ্চিত করেছে, মাদ্রাসা শিক্ষাতে প্রায় লাটে তুলে দিয়েছে, শিক্ষা এবং চাকরি থেকে মুসলমানকে বঞ্চিত করে তাদের সন্তানকে পরিযায়ী শ্রমিক বানিয়ে দিয়েছে। SIR এর নামে মুসলমানকে জিম্মি করে, বৈধ ভারতীয় হওয়ার পরেও তাদের নাম কেটে ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানোর ষড়যন্ত্র করেছে।

RSS এর অফিসিয়াল রাজনৈতিক দল বিজেপি এবং ঘোমটা পরা মুখোশধারী রাজনৈতিক শাখা- তৃণমূল কংগ্রেসকেও রাজনৈতিকভাবে ধ্বংস করতে না পারলে, প্রতিবার এরা মুসলমানের বন্ধু সেজে ভেক ধরে মুসলমান সমাজের সাথে প্রতারণা করবে। মুসলমানের ভোট নিয়ে ক্ষমতায় যাবে, তারপর তারা সরকারি টাকায় মন্দির বানাবে, দুর্গাপুজোয় হাজার হাজার কোটি টাকা বিলি করবে, কার্নিভ্যাল করবে, মেলা খেলা করবে; আর মুসলমান যে তিমিরে ছিল এখানেই রয়ে যাবে, সমাজের অন্ত্যজ শ্রেনী হয়ে। 

এই ভোটে মুসলমান সমাজকে একজোট হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। নিজেদের সাংবিধানিক অধিকার, যা আমাদের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র আমাদের গোষ্ঠীকে দিয়েছে, সেটাকে বুঝে নেওয়ার এটাই সময়। একটা হুমায়ুন কবীর, একটা বাবরি মসজিদ আমাদের বাঙালি মুসলমানদের সামনে দুর্দান্ত সুযোগ এনে দিয়েছে- সমস্ত ফিরকা বিবাদ ভুলে মুসলমান সমাজকে এক হয়ে মুসলমানের শত্রুদের বিপক্ষে একজোট হয়ে লড়ার। এর জন্য সাচ্চা মুসলমানের প্রতিনিধি চাই। কোনো চটি চটা RSS এর দালালি করা মুনাফিক মুসলমান দিয়ে এ কাজ হবে না। আমাদের প্রতিনিধি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় গেলে আল্লাহর কসম, তারা আমাদের কওমের জন্য আওয়াজ তুলবে এবং আমাদের সাংবিধানিক অধিকার ছিনিয়ে আনবে আমাদের সন্তানদের জন্য।


মুসলমান পিছিয়ে পড়া জাতি নয় আমাদের পিছিয়ে রাখা হয়েছে। আজ অধিকার বুঝে নেওয়ার সময়। আলহামদুলিল্লাহ, আমদের প্রত্যেককে লড়াইয়ের পথে ফিরতে হবে। অন্নবস্ত্র বাসস্থান, উন্নত সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থা, উন্নত স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, কৃষি ও শেচ ব্যবস্থায় উন্নতি, বৃত্তিমূলক কর্মসংস্থান গড়ে তোলা, হাতে হালাল রোজগার এবং শ্রমজীবী মানুষের জন্য সম্মানের জীবনযাপন এর সুযোগ করে জয় আমাদের লক্ষ্য। সুদের ফাঁস থেকে গ্রামীণ সমাজের মা বোনদের রক্ষা করাও আমাদের অন্যতম লক্ষ্য হওয়া উচিৎ। 

জনগণকে সাথে নিয়ে, আমরা আমাদের লক্ষ্যে সফল হবো ইনশাল্লাহ। 

আমিন



রবিবার, ১৫ মার্চ, ২০২৬

যতই করো হামলা, আবার জিতবে বাংলা।

 


গতকালের গিরীশ পার্কের ‘হামলা’, এটা তাদের ভোট প্রচারের ‘আত্মার’ প্রাণ প্রতিষ্ঠা করতেই।

যতই করো হামলা, আবার জিতবে বাংলা।

ডিসক্লেইমারঃ- আইপ্যাক অনেক আগেই বুঝে গিয়েছিল দলদাস পুলিশ সরে গেলেই, স্যাটাভাঙা ক্যালানি দিয়ে চোর, কাটমানিখোর তোলাবাজগুলোর পিঠের চামড়া খিঁচে চুরির মাল বের করে নেবে জনতা। সেই ভয়ে ভীত তোলামুলের ওই চোর, কাটমানিখোর তোলাবাজ সম্প্রদায়কে ভরষা দিতেই লেখা হয়েছে এই চরম দূরদর্শী স্লোগানটা- যতই করো হামলা, আবার জতবে বাংলা। বার্তা পরিষ্কার, এই দফাতে ক্যালানি খেয়ে টিকে যেতে পারলে আবার চুরিচামারির সুযোগ পাবি। তাই হামলা হলে ভেঙে পড়িস না, এটুকু সইতেই হবে, পেটে খেলে পিঠে সয়।

এই ছবিটা গত ২৭শে ডিসেম্বর তোলামূলের অফিসিয়াল পেজে প্রকাশিত হয়েছিল। এটাই এবারের ভোট বৈতরণী পেরোতে আইপ্যাকের মস্তিষ্কপ্রসুত ন্যারেটিভ, যেমন একবার ছিল ‘পরিবর্তন চাই’, একবার ‘খেলা হবে’ ইত্যাদি। তা সে যাই হোক, ন্যারেটিভ না হয় নামানো হলো, কিন্তু শাসক দলই যে তোলামূল, হামলা করবেটা কে? করলেই সরকারি পুলিশ প্রশাসন দিয়ে গাঁজা কেস, সাজানো রেপ কেস, মার্ডার কেস ইত্যাদি, এমন শিল্পের তো অভাব নেই প্রতিটা থানার IC/OC ও লোকাল BDO/SDO দের অস্ত্রভান্ডারে।

এদিকে হামলা না হলে ন্যারেটিভ দাঁড় করানো যাচ্ছে না, আবার হামলা হলে আইনশৃঙ্খলা ও গোয়ান্দা ব্যর্থতার দায়ও ঘুরেফিরে পুলিশমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর উপরেই এসে পড়ে। উভয়সঙ্কট পরিস্থিতি। এগোলে সর্বনাশ, না এগোলে নির্বংশ। এদিকে সিপিএম/ISF এর হাতে মার খেলে শুধু জাত যাবে তা ই নয়, প্যান্ডরার বাক্স খুলে যাবার চান্স প্রবল- বাংলা জুড়ে ছোঁয়াচে রোগের মতো কুত্তা ক্যালানি শুরু হয়ে যেতে পারে পাড়ায় পাড়ায়। নিদেন পক্ষে হুমায়ুনের উপরেও ক্যালানি বিষয়ে ভরষা করতে পারেনি কালীঘাট, পাছে সত্যি সত্যি কেলিয়ে লাট করে দেয়। 

তাহলে সব বাঁচিয়ে, কীভাবে ‘হামলা’ পরিস্থিতি তৈরি করা যায়, যেখানে মান খোয়ালেও জাত যাবে না। RSS প্রভুর দারস্থ হতেই, তাদের মূল প্রোডাক্টে সিগন্যাল দিয়ে দেওয়া হলো, বাকিটা তো স্ক্রিপ্ট অনুযায়ী একটা লং সিন শ্যুট করা। বিজেপিও তাদের প্রভুর সভার দিন মেইনট্রিম টিভি মিডিয়াতে, ‘ব্রিগেড’ শিরোনামে নিরবচ্ছিন্ন বিজ্ঞাপন দেখাবার সুযোগ পেয়ে গেলো সকাল থেকেই। অতএব, মোদীর ব্রিগেডকে লক্ষ করে ব্রাহ্মমুহুর্ত স্থির করা হলো, মোদীর বদলে যদি যোগী বা জুমলা শাহও এমন বড় কোনো পাবলিক মিটিং করতেন এই সময়, সেখানেও এমন হামলা নামের চিৎপুরের যাত্রাপালাটা অনুষ্ঠিত হতো।

এমতাবস্থায়, গতকালের তারিখটাকে বেছে নেওয়া, আসলে আইপ্যাকের এবারের ‘থিম সং’ স্লোগানটা বাস্তবের মঞ্চে মঞ্চস্থ করতে। এমনিতেই ব্রিগেডে বিজেপির সভাতে আসাম, ঝাড়খন্ড বিহার থেকে কয়েক লাখ ভাড়াটে দিনমজুরকে নিয়ে আসেতে হয় মাঠ ভরাতে; এই দিন ‘হামলা’ হলে এই অজ্ঞাত পরিচয়দের নামে বিল ফেড়ে দিলে, জাত কুল দুটোই রক্ষা হবে। হামলাও হলো, দোষও কারো ঘাড়ে পরল না, পারফেক্ট উইন উইন সিচুয়েশান। 

সোনাগাছি থেকে দালাল শ্রেণির কিছু মালকে দিয়ে র‍্যান্ডম ঢিল ছোঁড়ানো চলছিল কোলকাতা পুলিশের কঠোর তত্ত্বাবধান ও নজরদারিতে। প্রথম আধাঘন্টায় কেউ সেভাবে বিষয়টাকে আমলে নেয়নি, কিন্তু একটা বাসে ‘বিজেপি’র কিছু মাতাল বোঝাই ছিল, সেখানে ঢিল পড়তে তারাও খানিক ঢিল ছুঁড়ে ব্রিগেডের দিকে রওনা হয়ে যায়। এ অবধি ঠিকই ছিল, প্রশ্ন হলো এতো ঢিল কোলকাতা শহরের বুকে এলো কীভাবে? হোয়াইট হাউস থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তি থেকে জানলাম, NASA স্যাটেলাইট চিত্র মোতাবেক, কোলকাতা পুলিশই নাকি পার্কসার্কাস রেললাইনের ধার থেকে খোয়া এনে ‘হামলা’র মঞ্চ প্রস্তুত করে রেখেছিল, কীজানি হবেও হয়তো বা, যারা আন্তর্জাতিক মিডিয়া ফলো করে তারাই ভালো বলতে পারবে এই দাবীর সত্যতা। তো ছিল গতকালের গোটা গল্পটা।

তোলামূলের এবারের থিম যেহেতু ‘হামলা’, আগামীতে ভোটের অন্তিম দিন অবধি আবার এরা নিয়মিত পাতানো ম্যাচে হালকা ফুলকো ক্যালানি খেয়ে সহানুভূতির দোকান খুলে বসবে রোজ। গতকাল যেমন জামার উপর দিয়ে ব্যান্ডেজ বাঁধা আহত রোগী দেখলাম, ভয়ঙ্কর অসুস্থ শশী পাঁজা যিনি নাকি বসতে পারছিলেন না, তিনিও অবলীলায় ১ ঘন্টার উপরে সাংবাদিক সম্মেলন করে গেলেন। এমন টিভি সিরিয়াল মার্কা ‘হামলা’ শুটিং আগামীতে যখনই হবে, জনগণের উচিৎ হাতের কাছে ঝাঁপের লাঠি, খুঁটির বাঁশ যা কিছু পাবে, তাই দিয়ে এলোপাথাড়ি ভাবে ফেলে ক্যালানো চোর, কাটমানিখোর তোলাবাজ সম্প্রদায়কে। ডজন খানকে চোর, কাটমানিখোর তোলাবাজকে সত্যি সত্যি হাসপাতালে পাঠিয়ে দিলেই, এদের এবারের ন্যারেটিভ ধ্বসে যাবে ভোটের আগে।

সিপিএম, কংগ্রেস ও ISF, এদের প্রত্যেকের নৈতিক ও সামাজিক দায় রয়েছে এই হামলাতে অংশ নেওয়া, প্রত্যক্ষ পরোক্ষ যেভাবে খুশি হোক। পাতানো ম্যাচে হামলা নামের খেলা হলে, সেটাকে কাঠে কপাটে লাগিয়ে গণধোলাই এর বন্দোবস্ত করা- জাতির সাথে সাথে আইপ্যাকও সেটাই চাইছে। ফাঁসির আসামীরও শেষ ইচ্ছা পূর্ণ করা হয়, সেখানে তোলামূলের ক্যালানি খাওয়ার শেষ ইচ্ছা পূর্ণ না করলে ‘রাজনাথ সিং’ও আপনাদের জন্য কক্ষণও কড়ি নিন্দা করবে না। আপনারা মহাপাতকের দলে পরিগণিত হবেন। 

তামাম পাবলিককে বিষয়টা জানিয়ে দেওয়ার গুরুদায়িত্ব আপনার, কারণ এবারে ক্যালানি খাবে বলেই বাংলার সর্বত্র হোর্ডিং টাঙিয়েছে তোলামূল, ওদের মনোবাসনা পূর্ণ করা আমাদের পবিত্র কর্তব্য। নতুবা ওরা আবার ফিরে এলে কেন ‘হামলা’ করিনি, এই অপরাধে আমার আপনার চামড়া খিঁচে নেবে, যেমনটা গত ১৫ বছর ধরে করেছে।

বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬

আমেরিকার কাছে ভারতের সাধারণ জনগন যখন মোদীর কল্যাণে জিম্মি

 


কোনো গনিকাপুত্র বেজন্মা কি- বিশ্বগুরু প্রভুর সরকারকে প্রশ্ন করেছে ~ কেন হোয়াইট হাউস থেকে এই ধরণের 'এ্যাক্টর' উপমা দেবে? কি অউকাত আছে তাদের? সরকারে থাকা 'বিরাট হিন্দু' হৃদয় সম্রাটের কোন দুর্বলতা রয়েছে? গোটা দেশ ওয়াসিংটন থেকে পাওয়া নির্দেশ মত চলছে। 

বেহায়া নির্লজ্জ দু কান কাটা গরুর বাচ্চারা জাবর কাটছে নিশ্চিন্তে, কারন সাদা চামরার জুতো চাঁটা RSS এর জিনে রয়েছে। এই ধরণের প্রকাশ্যে মুখে মুতে দেওয়ার পরেও মিসাইলে পোড়া ফাদারল্যান্ডের ইমানদন্ড মুখে ভরে বসে রয়েছে কেন নাগপুরের জন্তু জানোয়ার গুলো? এপস্টিন দ্বীপে 'পিৎজা'র দাম মেটাচ্ছে এভাবে? 

ইরান যদি যুদ্ধে না হারে, বিশ্বরাজনীতির DNA পরিবর্তন হয়ে যাবে। ভারতের এই গোবোরখেকো আদানির দাস বিশ্বপ্রভুর চর্বি পোঁদ দিয়ে গেলে নেবে নতুন বিশ্ব ব্যবস্থা। 

ইজরায়েলকে ফাদারল্যান্ড বানিয়ে 'গাজা মিটস গোধরা' সামিটের হালুয়া বানাবে রাশিয়া চিন ইরান মিলে। সমস্যা আমাদের ১৪০ কোটি সাধারণ মানুষের, এই মুর্খ এপস্টিন গ্যাং এর কুর্কর্মের মূল্য আমাদের চোকাতে হবে পাই পাই হিসাবে। 

রবিবার, ৮ মার্চ, ২০২৬

দুই ফুলের ধাষ্টামিকে এড়িয়ে যান

 


৬০ লাখ মানুষ যেখানে রাষ্ট্রের কাছে নাগরিকত্বের প্রশ্নে জিম্মি হয়ে হয়েছে, সেখানে রাষ্ট্রপতি পদে থাকা একজন RSS এর কাঠপুতুলকে নিয়ে সময় নষ্ট করার বাহুল্যতা কি খেটে খাওয়া মানুষের রয়েছে? RSS এর নির্দেশে বিজেপিকে প্রাসঙ্গিক করতে মিডিয়ার ন্যারিটিভ ফিরিয়ে আনতে এই সমস্ত আয়োজন। এই বিতর্কে দেশের কোনো মানুষের কিচ্ছুটি লাভ বা ক্ষতি নেই। এমনিতেই রাজ্যপাল আর রাষ্ট্রপতি পদ দুটোর নামে সাদা হাতি পোষার প্রয়োজন রাষ্ট্রের রয়েছে কিনা সেটাই সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক প্রশ্ন আজকের দিনে দাঁড়িয়ে।

বুকে হাত রেখে বলুন তো, এই ‘ফালতু’ ঘটনা না হলে ভারতের রাষ্ট্রপতির নাম আপনার মনে ছিলো? কালাম সাহেবের পর ভারতের রাষ্ট্রপতি একটি অত্যন্ত গুরুত্বহীন রবার স্ট্যাম্প মার্কা পদ হয়ে গেছে। গুগল না করে এর আগের রাষ্ট্রপতির নাম বলতে পারবে না অধিকাংশ মানুষ, শুধু এইটুকু মনে আছে আগের রাষ্ট্রপতি তপশিলি জাতির ছিলেন, বর্তমান রাষ্ট্রপতি তপশিলি উপজাতির। গত ১০ বছরে দেশের তপশিলি জাতি ও উপজাতিরা ঠিক কতটা উপকৃত হয়েছে কেউ জানাবেন দয়া করে? 

এখনও অবধি বিজেপি যাদের যাদের সাথে জোট করেছে তাদের সবাইকে খেয়ে ফেলেছে, বাকি শুধু তৃণমূল কংগ্রেস। মমতা ব্যানার্জী অত্যন্ত নিকৃষ্ট শ্রেনীর রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, চূড়ান্ত অসৎ ও বেপারোয়া। তার পরেও এমন ব্যক্তিকে সেই ১৯৮৯ সাল থেকে বয়ে চলেছ, একদিন হজম করে ফেলবে এই বিশ্বাসে। যেহেতু মমতা ভাবের ঘরে চুরি প্রায় করে না বললেই চলে, তাই তাকে এখনও হজম করা হয়নি বিজেপির। এর মূল কারণ RSS যতটা ছোটলোক ইতর ও বর্বর, প্রয়োজনে মমতা ব্যানার্জী তার থেকেও নিচে নামতে পারেন, দ্রুত ও প্রকাশ্যে। এবারে প্রায় চিবিয়ে এনেছে, শুধু গিলে নিতে হবে ঢক করে, আর ঠিক এই স্থানেই মমতা ব্যানার্জী বিজেপির কন্ঠনালীতে আঁটকে রয়েছে।

রাষ্ট্রপতিকে রাজ্যে প্রাসঙ্গিক করতেই হতো, রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হওয়া সম্ভবত সময়ের অপেক্ষা, অন্তত মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যেও পরিষ্কার- ‘কদিন বিশ্রাম করে নিয়ে আবার নামতে পারব’।

স্বভাবতই, কোন ভণ্ডামি মঞ্চে কে পায়চারি করছেন, মহুয়া ‘শশী’ মৈত্র কাকে কীভাবে বাঙালি পরিচয়ের সার্টিফিকেট বিলি করছেন, কোথায় কখন রাষ্ট্রপতি এসে কী বলছেন, দাঙ্গা বাবুল এবিপির কাকে চমকালো, চটিচাঁটা গায়িকা ইমন সোশ্যাল মিডিয়াতে ফিরল কিনা, কবির সুমন কোন গান গাইছে বা কোন ধান্দাবাজ কোন দল থেকে কোন আস্তাকুঁড়ে গিয়ে পৌঁছাল তাতে আমাদের কিচ্ছুটি যায় আসে না। যুদ্ধের আবহে তেল গ্যাসের বাজারে আগুন, নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজারে হাহাকার শুরু হলো বলে, তার উপরে SIR এর নামে ইচ্ছাকৃত নাগরিক বিপর্যয়, এসবকে উপেক্ষা করে দুই ফুলের ধাষ্টামিকে নাকের পোঁটার মতো ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে আন্দোলনের পথেই থাকুন।



বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

সাসপেন্ডেড AERO এর উপরে, মমতার এঁটো দরদ কিসের ইঙ্গিত?

 


মমতা ব্যানার্জীর তৃণমূল কংগ্রেস ভুতুড়ে ভোটারওয়ালা ২০২৪ এর ভোটারলিস্ট দিয়ে ২০২৬ এর নির্বাচন করতে মরিয়া ছিল, তাই গোটা SIR প্রক্রিয়াটাকে গুলিয়ে দিতে অধিকাংশ জালিয়াতি অপকর্ম করেছে। তারা জানে আসন্ন নির্বাচনে জালিয়াতি না করলে সরকার টিকিয়ে রাখতে পারবে না।

SIR হেয়ারিং এর শুরু থেকেই এই কথাগুলো রোজ রোজ চেঁচিয়ে বলেছি- ইচ্ছাকৃত নামের ভুলগুলো মুরুলীধর স্ট্রিটের কেশব ভবন বা দিল্লির অশোক রোডে নির্যাতন কমিশনের সদর দপ্তর থেকে কেউ করেনি। বিজেপি ও নির্যাতন কমিশন উভয়েই শঠ, দুবৃত্ত, প্রবঞ্চক, মিথ্যুক, কিন্তু বাংলাতে এদেরকে ছাড়িয়ে গেছে শাসক তৃণমূল। সাদা খাতা জমা দেওয়া 'শিক্ষক' বাহিনী, বাহুবলী BDO দের দল ও তোলামূলের পে-রোলে থাকা ডেটা এন্ট্রি অপারেটর এর ত্রিবেণী সঙ্গমের গর্ভে, i-Pac এর ঔরসে গোটা SIR ম্যাসাকারটা সংগঠিত হয়েছে। যাবতীয় হয়রানির মাস্টারমাইন্ড তৃণমূল কংগ্রেস, সাপ হয়ে কেটে ওঝা হয়ে ঝাড়তে এসেছে। না হলে কমিশন যদি দুর্নীতির দায়ে কাউকে সাসপেন্ড করে, মমতা ব্যানার্জীর এঁটো দরদ কেন উথলে পড়ছে? কারণ পরিষ্কার, তারা মমতা ব্যানার্জীর নির্দেশেই ইচ্ছাকৃত এই ভুলগুলো করেছিল।

এ বিষয়ে না আলিমুদ্দিন স্পষ্ট করে সাংবাদিক সম্মেলন করেছে আজ অবধি, না তাদের সোশ্যাল মিডিয়ার সর্বজ্ঞ 'আদর্শবাদী' বাম্বাচ্চাগুলো এ নিয়ে হল্লাচিল্লা করেছে, যতটা তারা দীপ্সিতার জামাত বধে উল্লসিত ছিলো। জেনেরিক উদগান্ডু হলে তাদের ভাবনাও আঁটকে যায় ভক্তির পর্দার মাঝে। যেহেতু শুরু থেকে সাদাকে কালো আর কালোকে সাদা শেখানো হয়েছে, তাই যতই আসল 'সাদা-কালো'র প্রভেদটা কেউ চোখে আঙুল দিয়ে দেখাক, এরা গান্ধারির মতো স্বেচ্ছা অন্ধ সেজেই থাকবে।

চুরি দুর্নীতির পাঁকে ডুবে রয়েছেন মমতা ব্যানার্জী। ফলত তার রাজনৈতিক চরিত্রের image cleansing এর জন্য এখন রোজ ‘প্যাথলজিক্যাল মিথ্যা’ সম্বলিত আলফাল বকবেন, মৃত মানুষদের নিয়ে মিথ্যাচার করবেন, নতুন ভড়ং ধরবেন, সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ করবেন, ইনশাল্লাহ মাসাল্লাহ বিষ্ণুমাতা জয় জহর ইত্যাদি বকবেন, ছোটখাটো দাঙ্গা লাগাবেন ধর্মীয় মেরুকরণের জন্য, বিরোধী দল ভাঙানোর চেষ্টা করবেন, মিথ্যা মামলাতে ফাঁসিয়ে বিরোধী স্বরকে জেলহাজতে পাঠাবেন- ওনার গোটা রাজনৈতিক জীবনটাই এই কটা স্তম্ভের উপরে দাঁড়িয়ে আছে। পাশাপাশি RSS ও চাইবে না তাদের তাদের ‘দেবী’র গদি টলে যাক। মুসলমানকে SIR এ ভয় দেখানো যায়নি, তাই আতঙ্কিত গোটা তৃণমূল নেতৃত্ব অলআউট আক্রমণে গিয়ে দাঁতনখ দিয়ে ছিঁড়ে খাবার সব ধরণের অগণতান্ত্রিক অসংবিধানিক অপচেষ্টা চালাবে।

এখনও সময় আছে, SIR এ হেয়ারিং এর নামে এই হয়রানি ও তাতে নাম বাদ যাওয়ার মাস্টারমাইন্ড যে তোলামুল, সেটাকে অষ্টপ্রহর সঙ্কীর্তন এর মতো রোজ জনগণের সামনে বাজানো। এসবের বদলে মমতা ব্যানার্জী সাংবাদিকদের কী বলেছেন, সেই নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে বস্তুত ওনারই প্রচার করে যাচ্ছে সমস্ত বিরোধী শিবির। এখনও বামাতি লালবাবুদের দল ‘সেটিং’ তত্ত্বের বাইরে বের হয়ে বলতে পারছে না- কোথাও কোনো সেটিং নেই, কেউ বিজেমূল নয়। 

বামেদের গোটা ন্যারেটিভ ‘সেটিং আর বিজেমূল’ তত্ত্বে আঁটকে রয়েছে, যা গত ১০ বছর ধরে লাগাতার ফেল মেরেছে, জনগণ এটা খায়নি প্রত্যাখ্যান করেছে। আসলে TMC ও BJP এরা এক মায়ের পেটের দুই ভাইবোন, এদের একটাই বাপ- RSS, ভাই ভাই-এ বা ভাইবোনে সেটিং হয় না, ওটা ওদের নাড়ির টান। বাকি সবটাই তাদের ঘরোয়া খুনসুটি কিম্বা পারিবারিক কলহ। ওরা কোনো ভিন্ন সত্ত্বা নয়। সেটিং শব্দে আসলে ওদের আলাদা করে দেওয়াই হয়, বিজেমূল নামের হাঁসজারু সন্ধি ওদের অভিন্ন সত্ত্বাকে অস্বীকার করে। গোটা ন্যারেটিভটাই ভুল ‘লাইন’।

ক্রিকেটে আপনি যদি ‘লাইন’ মিস করেন, লোপ্পা ছয় মারার বলেও খোঁচা লাগিয়ে ক্যাচ তুলে দিতে পারেন কিম্বা তিনকাঠি উড়ে যেতে পারে। কানায় কানায় পরিপূর্ণ স্টেডিয়াম আপনার সমর্থকে ভর্তি, টিভির ওপারে আরও কয়েক কোটি আপনার জয়ের প্রতাশ্যাতে ক্ষণ গুনছে। রৌদ্রোজ্জ্বল পরিবেশ, প্রতিপক্ষ চোটগ্রস্থ, আপনি ধড়াচুড়ো পরে রয়েছেন, প্যাড গ্লাভস হেলমেড এ্যাবডোমেন গার্ড সব রয়েছে। বাউন্ডারির বাইরে সাজঘরে দেওয়ালে আপনার সোনালী অতীতের দেওয়ালচিত্রের নিচে বসে থাকা বাঘা বাঘা এ্যানালিস্ট, কোচ, ট্রেনার, ব্রডকাস্টার সবাই প্রস্তুত। কিন্তু ‘লাইন’ মিস করে আপনি আত্মাহুতি দিলে, এই ম্যাচে আপনার কোনো সুযোগ নেই, এই যাত্রাতেও আপনার নামের পাশে ‘আর্যভট্ট’ই লেখা থাকবে। 

আমাদের নীতি, আমাদের প্রয়োজনে সেটার মাপকাঠি আমরা ঠিক করব প্রতিবার, বারংবার। এটা জোর দিয়ে বলতে কুন্ঠা কীসের?

কে গেল কিম্বা আর কে কে যাবে, ও সব ভবিতব্যের উপরে ছেড়ে দিন। যারা যাবার তারা ইতিমধ্যেই মানসিকভাবে চলে গেছে, ধরে বেঁধে রাখলে সেটাতে বড়জোর কিছুদিন লাশটা থাকবে, উল্টে আরও বেশী অন্তর্ঘাতের সুযোগ পেয়ে যাবে তাদের শয়তানি মস্তিষ্ক। গু খাওয়া গরুকে আপনি বেশিদিন ঘাস বিচালি খাওয়াতে পারবেন না, সে দড়ি ছিঁড়ে হলেও গু খেতে পালাবে। তৃণমূল চাইছে অপ্রয়োজনীয় ইস্যুতে বামেদের ফোকাস টলে যাক, তাই চুরির দায়ে জেলখাটা তাদের মূর্খপাত্র নীতি নৈতিকতার জ্ঞান দিচ্ছে, তাবড় মিডিয়াকুলও ঠেকা নিয়ে রেখেছে- কতটা হেলে গেলে বামেদের ‘নৈতিকতা’ কতটা টোল খাবে ইত্যাদি, যেন তাদেরকে নৈতিকতার চ্যুতির ঠিকেদারি দেওয়া আছে। সতীদাহ প্রথায় যেমন মৃতের স্ত্রীদের জ্যান্ত চিতায় জ্বালিয়ে দেওয়া হতো ধর্মীয় আদর্শের কথা বলে, একই ভাবে নীতি আদর্শের নামে বামকে শূন্যতেই রেখে দেওয়ার পবিত্র কর্তব্যে নিয়োজিত  এই দালাল মিডিয়া ও বিশ্বমাচাদো বুদ্ধিজীবিরা।  

আপনারা দ্রুত স্থির করুন করুন- আপনাদের ফোকাস ঠিক কীসে থাকবে আর কোন ‘লাইন’, কোন ন্যারেটিভ আপনাদের প্রচারে গুরুত্ব পাবে। আপনারা ঠিক করুন কোনটা আপনাদের নীতি আর কোনটা আপনাদের আদর্শ। আপনারা যেটাতে সীলমোহর দেবেন, সেটাই সঠিক- মিডিয়ার ঠিক করে দেওয়া পথে হেঁটে সম্ভাবনাকে ভুঁইয়ে মুড়িয়ে রাখার মাঝে আদর্শ নীতি নৈতিকতা বেঁচে থাকবে না। আদর্শ আর নীতি কপচিয়ে সতী হয়ে চিতায় উঠলে, বিপুল কর্মী সমর্থকেরা আপনাদের সাথে সহমরণে যাবে, অনাথ হবে শ্রেণি গরিবগুর্বের দল। মিডিয়া আবার তার রমনের সাথী খুঁজে নেবে আপনাকে চিতায় পাঠিয়ে। 

দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে সেই মতো প্রচার শুরু করে দিন, হাতে সময় নেই আর।





রবিবার, ২ নভেম্বর, ২০২৫

শিন্ডলার এফেক্ট ও মার্ক্স


অস্কার শিন্ডলারকে চেনেন?

না চেনাই স্বাভাবিক, ইনি একজন জার্মান শিল্পপতি ও ফিকশনাল চরিত্র। বিশ্বখ্যাত সিনেমা পরিচালক স্টিভেন স্পিলবার্গ এর বানানো ১৯৯৩ সালের একটি সিনেমা শিন্ডলার্স লিস্ট Schindler's List- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পটভূমিকাতে নাৎসিদের হাত থেকে এক হাজারেরও বেশি ইহুদিকে ‘রক্ষা করা’ জার্মান শিল্পপতি অস্কার শিন্ডলারের গল্প নিয়ে তৈরি। সময় সুযোগ হলে একবার সিনেমাটা দেখে নেবেন, আমাজন প্রাইমে পেয়ে যাবেন।

বন্ধু কিংশুক তা আমাদের একটা ক্লোজ গ্রুপে প্রশ্ন করেছিলো, সত্যিই যদি কয়েক কোটি মানুষ বাদ পরে যায় SIR এ, তারা যাবে কোথায়! ওকে বলেছিলাম, আসামে D-Voter হওয়া ১৯ লক্ষ ভোটার কোথায় গেছে? সে উত্তর দিতে পারেনি। আপনার আমার কাছেও বিশদে এর জবাব নেই। যারা NRC করেছে, তাদের কাছেও জবাব নেই।

আচ্ছা রাষ্ট্র কি? রাষ্ট্রবিজ্ঞানের তত্ত্ব মতে, গুগুল জবাব দিলো- রাষ্ট্র হলো একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক অঞ্চলের জনগোষ্ঠী নিয়ে গঠিত একটি রাজনৈতিক সংগঠন, যার একটি সরকার আছে এবং এটি নিজস্ব আইন ও সার্বভৌম ক্ষমতা প্রয়োগ করে। রাষ্ট্রের চারটি মূল উপাদান হলো—জনসংখ্যা, নির্দিষ্ট ভূখণ্ড, সরকার এবং সার্বভৌম ক্ষমতা। অনেকে জাতির সাথে রাষ্ট্রকে গুলিয়ে ফেলে। জাতি তৈরি হয় একটা সার্বজনীন ভাষা, যৌথ ইতিহাস, যৌথ সংস্কৃতি এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে সন্নিহিত ভৌগলিক অঞ্চলের জনগণ দ্বারা তৈরি একটি গোষ্ঠী দ্বারা। এক জাতি হওয়ার জন্য সীমানা লাগেনা, সরকার গঠনের প্রয়োজনীয়তা থাকেনা, স্বভাবতই সার্বভৌমতার কোনো বিষয় থাকেনা সমজাতি হওয়ার জন্য। 

অর্থাৎ, নির্দিষ্ট ভৌগলিক এলাকার নির্দিষ্ট মানুষ তথা জনগণ তাদের সরকার চয়ন করবে, যারা একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সার্বভৌম ক্ষমতা পাবে রাষ্ট্র পরিচালনার। সুতরাং, বিদেশী কোনো অনুপ্রবেশকারী, আমাদের গণতান্ত্রিক সরকার চয়নের প্রক্রিয়াতে অংশগ্রহন করতে পারেনা, করলে সেটা অবৈধ ও বাতিল হিসাবের গন্য হবে। বাঙালি হিসাবে বাংলাদেশীদের প্রতি, তামিল হিসাবে শ্রীলঙ্কানদের প্রতি, বৌদ্ধ হিসাবে নেপালীদের প্রতি কিম্বা সিন্ধি বা পাঞ্জাবি হিসাবে পাকিস্তানীদের প্রতি আপনার দুর্বলতা তথা সহমর্মিতা থাকতেই পারে, কিন্তু তার মানে এই নয় যে তারা আমাদের দেশের সরকার গঠনের প্রক্রিয়াতে অংশ নেবে অবৈধ ভাবে- আর আপনি বা আমি আমাদের রাজনৈতিক দলের স্বার্থে সেই অবৈধতাকে সাপোর্ট করব, এটাও অপরাধ। এই পয়েন্টে এসে SIR মান্যতা পেয়ে যায় যে, ভারত রাষ্ট্রের ভোটাধিকার প্রক্রিয়াতে শুধু মাত্র ভারতীয়েরাই অংশগ্রহন করবে, বিদেশী কোনো অনুপ্রেবেশকারী নয়। রাষ্ট্রের সংজ্ঞাতে ভৌগলিক সীমানা যেমন গুরুত্বপূর্ন, তেমনই সীমানার গণ্ডিতে থাকা মানুষের পরিচয়ও গুরুত্বপূর্ণ এবং নির্দিষ্ট। যে কেউ যখন খুশি তার ইচ্ছামত, নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য সাধনের জন্য আমি অমুক দেশের ‘নাগরিক’ দাবী করতে পারেনা।

সমস্যাটা কোথায়! সমস্যা প্রক্রিয়াতে নয়, প্রক্রিয়া সাধনের গূঢ় উদ্দেশ্য ও পদ্ধতিতে। সমস্যা প্রপাগান্ডায়। কারন কেন্দ্রে RSS পরিচালিত যে বিজেপি সরকার রয়েছে তাদের রাজনৈতিক পরিচয়ই হলো- মুসলমান, দলিতকে অত্যাচার করার মাধ্যমে হিন্দুত্ববাদী মেরুকরণ করে সেখান থেকে রাজনৈতিক লাভ নেওয়া। মনুবাদকে সংবিধান মেনে মানুষের খাওয়া, পরার মত মৌলিক বিষয়গুলোকে অনৈতিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা। সর্বক্ষণ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, হিন্দু মুসলমান অপ্রয়োজনীয় দ্বন্দ্ব, মসজিদ মন্দির, গরু শুয়োরের বৃত্তে সাধারণ মানুষকে আঁটকে রেখে দেওয়া, যাতে পুঁজিবাদী শোষক গোষ্ঠী সেই অকারন অশান্তির আড়ালে ফাঁকতালে রাষ্ট্রের সম্পত্তি বেহিসাবি লুঠ করতে পারে। 

২০১৫ সালে এই বিজেপি NRC করার নামে দেশের জনগণকে ক্ষেপিয়ে তুলেছিলো। ১৪% মুসলমানের জন্য নাকি দেশের ৮০% হিন্দু ‘খতরেমে’। ভোটের হিসাবে অন্তত ৩৭% মানুষ এটাকে বিশ্বাসও করেছে বলে আরো দুটো টার্মে মোদী সরকারকে ক্ষমতায় ফিরিয়ে এনেছে, ভোট চুরিকে আমি উহ্যই রাখলাম। দেশের ৪৬% হিন্দু RSS এর বিপক্ষে, এনাদের চাপ সহ মুসলমান ও অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, বামপন্থীদের লাগাতার আন্দোলনে সেই যাত্রাই NRC/CAA থেকে পিছু হাঁটলেও, ওরা ভুলে যায়নি। দৃশ্যত এদের উদ্দেশ্য, দেশ থেকে কিছু মুসলমানকে তড়ানো, আর বাকিদের উপরে হেনস্থা আর অত্যাচার করা- যাতে মৌলবাদী হিন্দু গোষ্ঠীটার কাছে একটা অর্গাজমের বার্তা পৌঁছায়, ঘৃণার আবহে ভোট কুক্ষিগত করা যায়। 


আসামের NRC এর রেজাল্ট ২০২৫ এর শেষে এসে কোন স্থানে দাঁড়িয়ে? ১৯ লক্ষের বেশী মানুষ অবৈধ ঘোষিত হয়েছিলো, যাদের মধ্যে সাড়ে ৯ লক্ষ হিন্দু রয়েছে, এবং বাকিরা মুসলমান বলে শুরুতে ঘোষণা করেছিলো আসাম সরকার। পরে দেখা যায় তার মধ্যে এক লক্ষ নেপালী গোর্খা, সাড়ে পাঁচ লক্ষ বাঙালী হিন্দু- যাদের মধ্যে কোচ, রাজবংশীই বেশী। ১৯ লাখের বাকি থাকে সাড়ে তিন লাখ, এদের মধ্যে বড়জোর দেড় লাখ মুসলমান। যাদের অধিকাংশকে জবরদস্তি ডিটেনশনে রেখে এসেছিলো বিজেপি সরকার, মামলা লড়ে বহু মুসলমান নাগরিক তার নাগরিকত্ব ফিরে পেয়েছে। অতএব বাকিরাও হিন্দু বা অন্যান্য উপজাতী সম্প্রদায়ের, যাদের পরিচয়পত্র নেই। CAA এর মাধ্যমে যারা নাগরিকত্ব ফিরে পায়নি। অর্থাৎ, হিন্দু খতরেমে। বিহারে রোহিঙ্গা তাড়াবার নামে SIR হলো হৈ হৈ রবে, সেখানে বাদ যাওয়া ৬৫ লাখ ভোটারের মধ্যে ২১ লাখ মৃত ও স্থায়ী পরিযায়ী। অবশিষ্ট ৪৪ লক্ষ মানুষের মধ্যে প্রায় সকলেই হিন্দু। অর্থাৎ, হিন্দু খতরেমে। পশ্চিমবঙ্গে SIR নিয়ে গরীব মানুষ কিছুটা বিভ্রান্তিতে থাকলেও, যে মুসলমানকে লক্ষ্য করে এত আয়োজন, তারাই একমাত্র নিশ্চিন্ত, প্রায় সকলেই কাগজ রেডি করে রেখেছে। কিন্ত অর্ধেকের বেশী হিন্দু সমাজ আতঙ্কিত, সেটা মতুয়া হোক বা নমঃশূদ্র। অর্থাৎ, হিন্দু খতরেমে। 

মুহাম্মদ বিন কাশিম থেকে শেষ মুঘল বাহাদুর শাহ জাফর অবধি দীর্ঘ ১০০০ বছরের মুসলমান শাসনে হিন্দুরা ‘খতরেমে’ ছিলনা, ২০০ বছরের ইংরেজ উপনিবেশিক শাসনামলেও হিন্দুরা বহাল তবিয়তে ছিলো। কংগ্রেস ও অন্যান্য জোট সরকার পরিচালিত স্বাধীন গণতান্ত্রিক ভারতের প্রথম ৬৭ বছরের ইতিহাসে হিন্দুরা অসুরক্ষিত ছিলোনা, কিন্তু ২০১৪ পরবর্তী RSS এর রাজত্বে সত্যিই হিন্দু খতরেমে। মোদীর প্রধানমন্ত্রীত্বে কোটি কোটি হিন্দু ভিটেমাটি হারিয়ে পথের ভিখারি হয়ে যাবার পথে। মোদী শুরু থেকেই জানত তাদের এ্যাজেন্ডা, তাই কোনো ভনিতা না করে ‘হিন্দু খতরেমে হ্যায়’ মন্ত্রে হিন্দুকে অভ্যস্ত করে দিয়েছিলো। কিন্তু এটা বলেনি- এই খতরাটা RSS এর নির্দেশে ‘বিকাশ পুরুষই’ লাগু করবে। মুসলমানকে জব্দ করা যাবে এই আনন্দে বিভোর হয়ে হিন্দুত্ববাদী ভক্ত পাবলিক তুড়ীয় মেজাজে সপ্তমে চড়ে ছিলো, আজ দেখছে মগডালে তুলে দিয়ে হিন্দু হৃদয় সম্রাট নিজেই মই কেড়ে নিয়েছে। তাই জগন্নাথকে ‘বর্ডার তুলে দেব’র মত আজগুবি গল্প বলতে হচ্ছে, মমতাবালাকে অনশনের নাটক করতে হচ্ছে।

শুধু মুসলমানকে তাড়াবার উদ্দেশ্য হলে, বেছে বেছে মুসলমানদের SIR/NRC করলেই ল্যাঠা চুকে যেতো। সমস্ত মতুয়া, নমঃশূদ্র হিন্দুদের যদি CAA তে এ্যাপ্লিকেশন করলেই নাগরিকত্ব দিয়ে দেবে, সেক্ষেত্রে সরাসরি দিলেই তো হয়ে যেতো, তাদের SIR প্রক্রিয়াতে আনার প্রয়োজনীয়তাই ছিলোনা। এই খানেই ধাপ্পাবাজিটা লুকিয়ে। আসামে আজ ৮ বছরের কতজন হিন্দুকে CAA এর মাধ্যমে ইন্ডিয়ান নাগরিকত্ব দিয়েছে বিজেপির ডাবল ইঞ্জিন সরকার? তারা নাকি বাংলাতে SIR এর মাধ্যমে D-Voter হয়ে যাওয়া পাব্লিককে ভারতীয় নাগরিকত্ব দেবে, এটা আপনি বিশ্বাস করলে আপনি একজন ফুটফুটে চুতিয়া, আপনি নিজেই ‘আত্মলিণঙ্গম পশ্চাদপূরম’ করে বসে আছে, আপনার পায়ুমর্দন অন্য কেউ করবে সেই সুযোগ কোথায়! 

আপনি ছোট জাতের হিন্দু, তাই আপনার ক্ষয়ক্ষতিতে ব্রাহ্মণ্যবাদী মনুবাদীদের কিচ্ছু যায় আসেনা। RSS ব্রাহ্মণ্যবাদী দল, একটা মুসলমানের সাথে একটা দলিত, একটা মতুয়া বা একটা নমঃশূদ্রের কোনোর পার্থক্য নেই। সবকটাই তাদের কাছে অস্পৃশ্য, অশুচি, ম্লেচ্ছ মনুষ্যেতর ইতর জীব, যাদের জন্মের একমাত্র উদ্দেশ্য ব্রাহ্মণদের সেবা করা। কিন্তু মেকি হিন্দুপ্রেমী সেজে মধু ঝরায় আপনার ভোটটা নেওয়ার জন্য। সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমানাধিকারের ধারাতে এই কারনে RSS এর এতো গাত্রদাহ। এই কারনেই সংবিধান সংশোধন করতে চায়, যাতে মনুবাদকে লাগু করতে পারে।

কিংশুকের প্রশ্নে ফিরে আসি, কেন RSS এই SIR করাচ্ছে? কোথায় যাবে এত বিপুল সংখ্যার মানুষ? কী হবে এদের ভবিষ্যৎ? খুব সহজ, কোনো এক মহান অস্কার শিন্ডলার এসে এদের কর্মসংস্থান দিয়ে ঈশ্বর হয়ে যাবে। এই শিন্ডলারের এর ভারতীয় পদবী আম্বানি হতে পারে, আদানি, টাটা, বিড়লা, নারায়নমূর্তি, হক, খান, মন্ডল, ব্যানার্জি, প্যাটেল, শর্মা যা খুশি হতে পারে। শিন্ডলারেরা অতি সস্তার লেবার খুঁজে নেওয়ার মাধ্যমে অবৈধ দের পুনর্বাসন দেবে। এতদিন ভারত থেকে চাল, পাথর পেঁয়াজ, গোমাংস রপ্তানি হয়েছে অফিসিয়ালি, এরপর জ্যান্ত মানুষ রপ্তানি হবে। D-Voter মানুষ, যার দেশ নেই, যার পরিচয় নেই, যার রাষ্ট্র নেই। কিন্তু পেট আছে, বেঁচে থাকার আকাঙ্খা আছে, তাই সে যা খুশি কাজ করতে রাজি হয়ে যাবে- যে কোনো মূল্যে। দাসপ্রথা নতুন পোশাকে এসে হাাজির হবে সামনের দশকে।

কি হয় যখন কেউ D-Voter হয়ে যায়?

প্রথমত তার পরিচয় পত্র কেড়ে নেওয়া হয়। এরপর সে একটা ফোনের সিম অবধি কিনতে পারবেনা। ট্রেনে ও বিমানে যাতায়াত করতে পারবেনা যেখানে পরিচয়পত্র দেখাতে হয়। যতই অত্যাচারিত হোক, আইন আদালতে যেতে পারবেনা, কারন সেখানেও পরিচয়পত্র লাগে। বাচ্চাদের ইস্কুলে ভর্তি করতে পারবেনা, বীমা পাবেনা, রেশন পাবেনা, সরকারী হাসপাতালে চিকিৎসা পাবেনা, কোনো কাজে গিয়ে হোটেলে থাকার ঘর পাবেনা। সরকারী বা বেসরকারি কোনো ক্ষেত্রেই চাকরি করতে পারবেনা। একমাত্র কাজ, যে এলাকাতে থাকবে সেই অতি সংক্ষিপ্ত এলাকাতে দম বন্ধ পরিস্থিতিতে গতরে খাটা কাজ, যারা নগদে মজুরী পেমেন্ট করে, সেই কাজ করতে বাধ্য হওয়া। এখানেই পুঁজিবাদ সস্তার শ্রমকে গ্রাস করতে আস্কার শিন্ডলার সেজে, ত্রাতা হয়ে দাঁড়াবে বুভুক্ষু আতঙ্কিত মানুষগুলোর সামনে। 

"Capital is dead labour, which, vampire-like, lives only by sucking living labour, and lives the more, the more labour it sucks."

এখানেই মহামতী মার্ক্স অমর হয়ে রয়ে গেছেন। আপনারা পালাবার পথ নেই। হেগেলের দ্বন্দ্ববাদ কিম্বা ফয়ারবাখের বস্তুবাদী দর্শনের সমন্বয় জটিল তাত্বিক বিষয়, যা সকলের বোঝার বিষয় নয়। মার্ক্স ঈশ্বর নন, না প্রফেট না কোনো স্বঘোষিত গুরু কিম্বা পাদ্রী, উনি চিরন্তন হয়ে রয়েছেন “শ্রমশক্তি, মূল্যের শ্রম তত্ত্ব এবং শ্রমের বিভাজন” এই শ্রমের মন্ত্রের উপরে। SIR ও তার ফলাফল আবার চোখে আঙুল দিয়ে মানুষকে বাধ্য করছে মার্ক্সের প্রাথমিক পাঠে ফিরে যেতে। পুঁজিবাদী সমাজে- শ্রমের বিভাজন শ্রমিককে তার শ্রমের পণ্য এবং নিজের কাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করে, যা শ্রমিককে শোষিত করে এবং এতে মুনাফা বৃদ্ধি পায়। SIR দ্বারা সৃষ্ট অদক্ষ ও অসংগঠিত শ্রমিকের শ্রমকে বিনামূল্যে, পেটেভাতে কিম্বা অতি স্বল্পমূল্যে কিনে নেবার জন্য এই বৃহত্তর আয়োজন। যে কোনো মূল্যে সস্তার লেবার ‘শ্রেনী’ তৈরি করা যাতে মুনাফা কামানো যায়। মার্ক্সের ‘সারপ্লাস ভ্যালু থিওরি’ অনুসারে শ্রমিকের শ্রমের একটি অংশ বিনা পারিশ্রমিকে দখল করা হয় এটাই শ্রমের 'মূল্য চুরি'। NRC-SIR এর গোপন ও মূল উদ্দেশ্য এটাই।

"The worker becomes an even poorer commodity the more wealth he produces; the more that his production increases in power and amount, the more orphaned he becomes of his own product and the more he is determined by the capitalist."

পশ্চিমা দেশগুলোতে সাধারণ মধ্যবিত্তরাও আমাদের টাকার নিরিখে মাসে ১০-২০ লাখ টাকা রোজগার করে, কিন্তু সে দেশের আইনের গেরোতে একটা গৃহ সহায়িকা, পরিচারিকা, ড্রাইভার বা মালি রাখার অউকাত থাকেনা। কারন একজনের সভ্যভদ্র ভাবে থাকা খাওয়া, বেতন ও অন্যান্য জরুরী নুন্যতম সুযোগ সুবিধা দিতে গেলে, ওই মাসিক ১০-২০ লাখও কম পরবে, অগত্যা জুতো সেলাই থেকে চণ্ডীপাঠ সবটাই নিজেকে করতে হয়। আগামীতে এই D-Voter ও তাদের সন্তানাদির দল, দলে দলে পশ্চিমা বিশ্বে শুধু পেটে খেতে পাবে এই শর্তেই যেতে রাজি হয়ে যাবে। মা ও মেয়ে একই সাথে মালিকের যৌন লালসা তৃপ্ত করবে। মেনে নেওয়া ছাড়া উপায় আছে কী? 

তাদের তথাকথিত উন্নত বিশ্বের আইন? আইন তো মানুষের জন্য, দেশের নাগরিকদের জন্য, সেটা যে দেশেরই হোকনা কেন! D-Voter দের দেশ কোথায় যে তাদের উপরে শ্রম আইন লাগু হবে? বিনা মুল্যে শ্রমের অফুরান উৎস, মার্ক্স এই কারনেই পুঁজিবাদকে ঘেন্না করার সাথে সাথে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার নিদান দিয়ে গেছেন। 

"The philosophers have only interpreted the world, in various ways. The point, however, is to change it."

সুতরাং, এখানে কেউ ততটা হিন্দুপ্রেমী নেই, কেউ ততটা মুসলমান বিদ্বেষীও নেই, যতটা তারা পুঁজি বাদীদের দাস। RSS জন্মলগ্ন থেকে উপনিবেশিক শোষক ইংরেজ প্রভুদের হয়ে গোলামি করে এসেছে, তাদের লুন্ঠন, অত্যাচার ও বঞ্চিতদের উপরে শোষনকে সমর্থন করে এসেছে। তাদের রক্তে, তাদের জিনে রয়েছে শ্রেনীকে শোষণ করা। ২০১৪ এর পর নিরঙ্কুশ ক্ষমতা পেতেই RSS পুঁজিবাদীদের এ্যাজেন্ডাকে বাস্তবায়িত করছে মাত্র, ধর্মের মোড়কে। আজ আদানি, আম্বানিকে দেশ বেচছে, কাল ভালো দাম পেলে পশ্চিমা হোক, চীন কিম্বা রাশিয়া, অথবা আরবী শেখ- যাকে খুশি বেচে দেবে যে বেশী দাম দেবে।

অস্কার শিন্ডলার এর গল্পে, নাৎসি বাহিনীর সমর্থক হিসেবে শিন্ডলার মেটাল, গ্লাস, সেরামিকের ব্যবসা করে ফুলে ফেঁপে ওঠেন। যুদ্ধের কালোবাজারি মরশুমে লাভের অঙ্ক আরও স্ফীত করবার জন্য ইহুদী ব্যবসায়ী, নাৎসি বাহিনীর উঁচু পদে থাকা অফিসারদের সাথে সম্পর্ক ভাল করে, এর ফলে ব্যবসা আরও বড় হয়ে যায়। এই ব্যবসার জন্য প্রচুর কর্মীর দরকার হয়। কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প ইহুদী বন্দীদের কাজে লাগানোর জন্য নাৎসি অফিসারদের সাথে আর্থিক লেনদেনের কথা শুরু হয়। এই যুদ্ধবন্দীরা জানত মৃত্যুই ছিল ভবিতব্য, তবুও নিয়তির মুচকি হাসি বেঁচে থাকবার আশা জিইয়ে রেখেছিলো। সামান্য অঙ্কের বিনিময়ে একেকজন বন্দীর জীবন রক্ষা করার নামে তালিকাভুক্ত বন্দিদের ওনার ফ্যাক্টরিতে পেটেভাতের শ্রমিক বানিয়ে দিয়েছিলো।

RSS এভাবেই ইতিহাসের সবচেয়ে নিকৃষ্ট অধ্যয়গুলোকে জীবন্ত করছে, ভারতীয় সংস্কৃতির ধাঁচে ফেলে অনুশীলন করছে, এবং সুক্ষ প্রয়োগ করছে হিন্দুত্বের মোড়ক লাগিয়ে।

মধ্যযুগে বর্বর ইউরোপীয়েরা দেশ আবিষ্কার আর বানিজ্যের নামে এশিয়া আফ্রিকা আর লাতিন দেশ থেকে অবাধে লুন্ঠনের সাথে ‘মানুষ’ বেঁধে আনত খাঁচায় করে। সেই হতভাগাদের ইউরোপীয় শ্রমের বাজারে উচ্চমুল্যে বিক্রি করত- অতি সামান্য দৈনিক খাদ্য আর অকথ্য শারীরিক অত্যাচারের বিনিময়ে। সামান্য ২০০-৫০০ জন ইউরোপিয়ান কি আর নিজেদের শক্তি বলে সেই সব ভিনদেশি মানুষদের বন্দি বানাত? স্থানীয় অধিবাসীদের একটা অংশ, সাদা চামড়ার ইউরোপিয়ানদের দালাল হয়ে কাউকে লোভে ফেলে, কাউকে ফাঁদে ফেলে, কাউকে জবরদস্তি বন্দি বানিয়ে ইউরোপ গামী জাহাজে তুলে দিতো। SIR/NRC এর মাধ্যমে দালাল বিজেপি RSS এটাই করছে আদানি, আম্বানির হয়ে। 

তৃণমূল এই পুঁজিবাদেরই অংশ, RSS এর নানান ব্রান্ডের মধ্যে একটা মেকী গান্ধিবাদী দোকান। তারা কাড়া-নাকাড়া বাজিয়ে মানুষকে মূল সমস্যা থেকে বিমুখ করে দিচ্ছে। নন ইস্যুকে ইস্যু বানিয়ে আপনার যন্ত্রণার আওয়াজকে ঢেকে দিচ্ছে, কারন তাকেও দিনের শেষে পুঁজিকেই তুষ্ট করতে হবে। কোনো গান্ধীবাদ, কোনো মনুবাদ, কোনো মোদী ম্যাজিক, কোনো বড়মার ঠাকুরবাড়ি আপনাকে রক্ষা করবেনা। বুঝে হোক বা না বুঝে, মার্ক্সের স্মরণে আসা ছাড়া আপনার মুক্তি নেই। স্পিলবার্গের অস্কার শিন্ডলার কোনো ইশ্বর ছিলোনা, সে ছিলো শ্রমিকের রক্ত চুষে খাওয়া মুনাফাখোর পুঁজিবাদী শয়তান। RSS ও তাই, হিন্দুত্বের ত্রাতা মুখোশ পরে রক্তচোষা মুর্তিমান শয়তান।

সামনে ছয় মাসের মধ্যে বিধানসভা ভোট, সিদ্ধান্ত নিন- পুঁজিবাদীদের দালাল RSS এর দুই ফুলের ‘ধর্মের নামে’ মেকি লড়ায়ের মাঝে আতঙ্কে বাঁচবেন, নাকি পুরাতন পাপের প্রায়শ্চিত্ত করে, মার্ক্সবাদীদের হাত শক্ত করবেন, নিজের বেঁচে থাকার স্বার্থে। অপসন একটাই, সিদ্ধান্ত আপনার। 


#হককথন

#BanRSS

শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৫

মুসলমান সাবধান


বিগত ১ সপ্তাহ ধরে নদীয়া ও বর্ধমানের বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে সিদ্দিকুল্লাহ দের মত কিছু আরবি নামধারী RSS (ভায়া তোলামুল) মুসলমান গ্রামগুলোতে এক অদ্ভুত ধরণের প্রচারনা চালাচ্ছে। বেছে বেছে নির্দিষ্ট কিছু মুসলিম গ্রামে তারা ‘অপারেশন’ চালাচ্ছে- ঠিক যার পাশে কোনো হিন্দু পাড়া রয়েছে। ইনিয়ে বিনিয়ে এদের মূল দাবী হলো, হিন্দু মানেই RSS, অতএব সঙ্ঘী জঙ্গিদের টাইট দিতে, নিজেদের মুসলমানত্ব জাহির করতে তাদের উপরে আক্রমণ করো। Attack is the best form of defence, এইটা মগজে ঢোকাচ্ছে অল্পবয়সী মুসলমান ছেলেপুলের মগজে, সাথে কিছু ভুলভাল হাদিশ কোরানের বানী মিশিয়ে ‘সহিহ’ বানিয়ে দিচ্ছে। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন জানেনা এটা হতেই পারেনা, তৃণমূল দলটাই চলছে পুলিশ আর BDO/SDO দিয়ে। তাই প্রশাসনের উপরে কোনো ভরষা নেই, বরং এরা নীরবে উস্কানি দেবে যতক্ষননা সেই রক্ষক্ষয়ী দাঙ্গা থেকে RSS সরাসরি লাভ পাওয়ার জাইগাতে পৌঁছে যায়।

মুসলমান- সাবধান হয়ে যাও। এটা RSS এরই পাতা ফাঁদ। কিছু কাটা মোল্লাকে কিনে নিয়ে তোলামুলের পোশাক পরিয়ে আপনাকে, আপনার সন্তান বা ভাইকে রক্তাক্ষয়ী ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। SIR নিয়ে মুসলমানকে ভয় দেখানো যায়নি, অথচ সামনে ৬ মাসের মধ্যে ভোট, একটা দাঙ্গা না হলে যে বাইনারি তৈরি হয়না RSS এর দুই দল- বিজেপি ও তৃণমূলের মাঝে। আপনি ওদের ফাঁদে পা দিয়ে নিজেদের ভবিষ্যৎ জাহান্নামে পাঠাবেন কিনা সেটা আপনার সিদ্ধান্ত। আগামীতে এরা এমন নানা ধরণের ফাঁদ পাতবে ক্রমাগত, আপনাকে সাফল্যের সাথে বিজেপি-তৃণমূলকে অবিশ্বাস করে যেতে হবে দৃঢ় ঈমানের অঙ্গ হিসাবে। সেটাই আপনার সাফল্য। 

তথ্য কী বলছে জানেন? আমাদের দেশের প্রতি ১০০ জন মানুষের মধ্যে ১৪ জন মুসলমান। ৮০ জন হিন্দু ও ৬% অন্যন্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়- যেমন শিখ, খ্রীষ্টান, জৈন, বৌদ্ধ প্রমুখ। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি সাকুল্যে ৩৬% ভোট পেয়েছিল। তাও এর মধ্যে চুরি চামারি, বাটপারি, লুঠপাঠ সব আছে।

মানে ১৪% মুসলমান, ৬ শতাংশ অন্যান্য সংখ্যালঘু ছাড়াও ৪৬% হিন্দু RSS এর বিরুদ্ধে রয়েছে আজও। যারা দেশের মোট মুসলমানের ৩ গুনেরও বেশী। এদের মধ্যে বামপন্থী বড়জোর ২-৩%, বাকিরা সমাজের প্রতিটা স্তর থেকে রয়েছে। হিন্দুত্ব RSS এর বাপত্ব সম্পত্তি, হিন্দুইজম নয়। না তারা দেশের ঠিকেদারি নিয়ে বসে আছে। যেকোনো সুস্থ, সভ্য, শিক্ষিত হিন্দু মানুষ RSS এর বিরুদ্ধেই রয়েছে আপনার মত, তারাও এই মনুবাদী জঙ্গীদের বিরুদ্ধে রোজ লড়াই করছে, কিছু ক্ষেত্রে আপনার চেয়ে বেশী লড়াই করছে। সুতরাং তোলামুলের যে মৌলবাদী অংশটা গ্রামে গ্রামে পাড়ায় পাড়ায় হিন্দু মানেই RSS, তাদের গিয়ে ক্যালাও বলে উস্কানি দিচ্ছে, তারা আসলে আপনাকে কুরবানির খাসি বানাবার প্রচেষ্টা করছে। আপনি RSS এর সাথে অতি সরলীকরন করে হিন্দু ক্যালাতে গেলেই ফেঁসে যাবেন। আপনার বাড়িঘর, পাড়া, মহল্লা জ্বলেপুড়ে যাবে।

RSS এটাই চায়, যেকোনো মূল্যে দাঙ্গা। RSS এর দুটো রাজনৈতিক মুখ, বিজেপি ও তৃনমূল- এই দুই দলের বাইনারির খেলাকে রুখে দিন। তোলামূলের চোর চামার গুলোর কথাকে শুয়োরের মাংসের মত হারাম না করতে পারলে, আপনার সন্তান আগামীতে আপনার মৃত্যুর পর আপনার জন্য মাগফেরাতের দোয়ার পরিবর্তে- জাহান্নামে যাওয়ার গালি দেবে, শাপশাপন্ত অভিশাপ দেবে; কারন আপনি তাদের জন্য একটা অশান্ত সমাজ রেখে গেছেন তৃনমূলের মাধ্যমে RSS কে বাংলাতে প্রতিষ্ঠা করে। আপনি সিপিএম হবেন, নাকি কংগ্রেস হবেন কিম্বা তৃতীয় যা খুশি কিছু হতে পারেন, শুধু RSS এর ঘৃন্য পাঁক থেকে বেরিয়ে এসে, তোলামুলের দুধেল গাই থেকে- মানুষ হোন প্রথমে।

ধর্ম মেখে যে ভাত খাওয়া যাবেনা এটা রাজ্যের হিন্দু মুসলমান সবাই বুঝে গেছে। এখন আপনি ঠিক করুন, আপনি তৃনমূলের দাড়িওয়ালা মোল্লা জঙ্গিগুলো, যারা RSS এর নামে বিল কেটে হিন্দু ক্যালাবার উস্কানি দিচ্ছে, তাদের ফাঁদে পড়বেন নাকি চোখ কান খুলে তথ্য দেখবেন, যে ৪৬% হিন্দু আপনার মতই RSS এর সাথে লড়াই করছে আপনাকে বাঁচাতে, আপনার হকের জন্য, সংবিধানের জন্য, দেশের জন্য।


সিদ্ধান্ত আপনার


নাগপুরী জঙ্গি রোহিত আর্য



গতকাল মুম্বাইয়ের পাওয়াই এলাকাতে একটা ফিল্মি স্টুডিও বিল্ডিং এ ১৭ জন বাচ্চাকে জিম্মি করে রোহিত আর্য নামের এক নাগপুরি RSS জঙ্গি। বিজেপির আঁটি সেল এর ট্রোল বাহিনী এটাকে ইসলামী জিহাদীদের কাজ বলে প্রোপাগান্ডা প্রচারণা চালাতে থাকে জানপ্রাণ লাগিয়ে। কিন্তু NSG কমান্ডো বাহিনী যখন এই জঙ্গিকে শুট এ্যাট সাইট অপারেশনে এনকাউন্টার করে, বিজেপির প্রোপাগান্ডা মেসিনারি রোহিত আর্য্যকে কংগ্রেস প্রমাণে মরিয়া চেষ্টা চালায় ও আবার নিজেদের গু নিজেরাই চেঁটে খায়।

একটা ওয়েব সিরিজের জন্য অডিশনের নামে ১০০ জনকে ডাকে ওই স্টুডিওতে। সেখান থেকে ১৭ জন বাচ্চাকে জিম্মি বানিয়ে তাদের হত্যা করার হুমকি দেয়। আসলে ফ্রাঙ্কেনস্টাইন এভাবেই জন্ম নেয়।

কে এই রোহিত আর্য? মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং RSS এর কার্যকর্তাও বটে। ২০২৩ সাল থেকে মহারাষ্ট্র সরকার এই জঙ্গীকে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে পুরস্কৃত করেছিল। ছবি কমেন্ট সেকশনে।

পেশায় স্কুল শিক্ষকতার পাশাপাশি রোহিত আর্য ইউটিউব ভিডিও দিয়ে দেশের মুসলমান ও দলিত নিধনের নানান পন্থার সন্ধান দিতো। মহারাষ্ট্রের শিক্ষামন্ত্রী দীপক কেসারকারের সাথে তার ডিল হয়েছিলো স্বচ্ছতা অভিযানের জন্য মহারাষ্ট্রে একটি প্রকল্প বিষয়ে। সেই প্রকল্পের বরাদ্দ দু’কোটি টাকা হজম করে দেওয়া নিয়ে মৃত জঙ্গী রোহিত আর শিক্ষামন্ত্রীর মাঝে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। বার দুয়েক অনশনের নাটকও মঞ্চস্থ হয়েছিলো, দুর্নীতিবাজ বিজেপির ঘরোয়া দ্বন্দ্বে ১৭ টা মাসুম বাচ্চার জীবন নিলামে উঠে গিয়েছিল। একে জীবন্ত এরেস্ট করলে বিজেপির দুর্নীতি ফাস্ট হয়ে যেত, তাই পুলিশ দিয়ে জঙ্গিটাকে নিকেশ করে দিয়েছে মহারাষ্ট্র সরকার।

হারীন পান্ডিয়া হয়ে বিচারপতি লোয়া থেকে বিজয় রূপানি- বিজেপি-RSS এর এই 'খতম' করে দুর্নীতি ধামাচাপা দেওয়ার তালিকাতে আরেকটা নাম যুক্ত হলো- নাগপুরী গোয়ালের গেরুয়া জঙ্গী, রোহিত আর্য।

RSS এবং জঙ্গি কার্যকলাপ একে অন্যের পরিপূরক, গত 100 বছর ধরে এটাই ওদের পরম্পরা, প্রতিষ্ঠা ও অনুশাসন। গান্ধীকে হত্যা করেছিল যে সংগঠন তারাই আজকের দিনে ফুলেফেঁপে উঠে গোটা রাষ্ট্র এবং সমাজকে পচিয়ে দিয়েছে। বিজেপি,বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, বজরং দল বা তৃণমূল কংগ্রেসের মতো রাজনৈতিক দলগুলো আসলে RSS এর মুখোশ, তাই মূল লড়াইটা RSS এর সাথেই লড়তে হবে গোটা ভারতবাসীকে।

যতদিন না পুনরায় RSS নিষিদ্ধ হবে, এবং এদের চাঁই গুলোকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হবে, ততদিন ভারতবর্ষে সাংবিধানিক আইন কানুন গণতান্ত্রিক নিয়ম মেনে প্রতিষ্ঠিত হবে না। মিডিয়া, বিচার ব্যবস্থা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অন্যান্য প্রতিটি সাংবিধানিক কাঠামো- যেগুলো নরেন্দ্র মোদি শোভিত RSS এর শাসন ব্যবস্থায় ভেঙে পড়েছে, সেগুলোকে পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে না।

RSS এর মূল কাজ হল সমাজে সাম্প্রদায়িক বিভেদ, দাঙ্গা, অস্থিরতা এবং অশান্তি তৈরি করা- রোহিত আর্যদের মত 'গেরুয়া' জঙ্গিদের জন্ম দিয়ে। রোহিত আর্য কোন বিচ্ছিন্ন ব্যক্তি নয়, এ হলো নাথুরাম গডসের ধ্বজাধারী কয়েক লক্ষ উত্তরসূরীর অন্যতম, যার জীবনের মূল এজেন্ডা হল মুসলমান এবং দলিতকে অত্যাচার করা। এই দাঙ্গা হাঙ্গামা অস্থিরতা আড়ালে দেশের জনগণের সম্পদকে পুঁজিবাদী আদানি আম্বানির হাতে তুলে দিয়া এদের মূল লক্ষ্য।

বিহার নির্বাচনের আগে একটা দাঙ্গা লাগানোর লক্ষ্যে চেষ্টার কসুর করছে না RSS ও তার শাখা সংগঠনগুলো। মানুষকে সাবধান থাকতে হবে এদের তৈরি করা ফাঁদ থেকে।


#BanRSS

#ModiHaiToMumkinHai

মাননীয়া মমতা ব্যানার্জী

আজ আমি অনেকক্ষণ ধরে ভাবলাম, যা বুঝলাম- আমি সত্যিকারের একজন মমতাপ্রেমী মানুষ, আপনার সবচেয়ে জাবড়া ফ্যানদের মধ্যের শীর্ষস্থানীয়। আমি চটি চাঁটা ...