সোমবার, ১১ মে, ২০২৬

বাংলার লজ্জা বাঙালীর লজ্জা


বাংলার লজ্জা, বাঙালির লজ্জা

আজকে বাংলাতে একটা শার্প শ্যুটার অব্দি নেই, যাকে সুপারি দিয়ে বাঙালি একটা রবীন্দ্র/নজরুলের ঘরানায় কাব্যিক মার্ডার অবধি করতে পারে। এ লজ্জা বামেদের, ৩৪ বছরের চূড়ান্ত ব্যর্থতা। আজকের আলিমুদ্দিনের দায় নেওয়া উচিত। মমতা ব্যানার্জীর অতিবড় দোষ থাকলেও তাকে কেউ খুনী মমতা বলে না, সে চোর মমতা, মিথ্যুক মমতা, সে বামেদের অনুসরণ করে গেছে মাত্র। পাড়ায় পাড়ায় তোলাবাজি করালেও, একটা শ্যুটার বানাতে ব্যর্থ হয়েছে। কত বড় কলঙ্ক আজ আন্তর্জাতিক মহলে, ছিঃ ছিঃ রব পড়ে গেছে। শান্তিনিকেতন থেকে শান্তিকুঞ্জ হয়ে রিঙ্কু বৌদির প্রাতঃভ্রমণ- সর্বত্র শিল্পীদের হাহাকার। 

এই লজ্জা বাঙালি রাখবে কোথায় ঘরে আজকাল না ট্যাঙ্ক রয়েছে, না সিন্দুক রয়েছে, না উঠোনে গোলা রয়েছে। থাকার মধ্যে গেরুয়া ধুতি, যাতে পকেটটুকু নেই। অবিলম্বে দেউচা পাঁচামিতে গভীর খুনি খনন করা হোক,  সেখানকার কয়লা দ্রুত উত্তোলন করে গর্ত করা হোক,  যে গর্তে বাঙালি তার ৩৪ বছর প্লাস ১৫ বছর মোট ৪৯ বছরের লজ্জা গচ্ছিত রাখতে পারে। কিংবা তাজপুরে গভীর সমুদ্র বন্দর আপনা করে,  কিংবা কলকাতার শ্যামাপ্রসাদ বন্দর থেকে বিশেষ ফ্রেড় করিডর এর মাধ্যমে দেশের গুজরাট উপকূলের সমুদ্রে গিয়ে বাঙালির লজ্জা কে বিসর্জন দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক।  অবশ্যই সেটা মহান দেশপ্রেমিক আদানী শেঠকে সম্পূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হোক, প্রয়োজনে কলকাতা বিমানবন্দর তার হাতে অর্পণ করা হোক। নতুরা এই পাপ স্খলনের কোনো শর্টকাট নেই।

মমতা ব্যানার্জী সার বেঁধে টালিগঞ্জের শিল্পীদের লাইনে দাঁড় করিয়ে মঞ্চ জুড়ে দাপিয়ে গান গেয়েছে, ধমেকেছে, চমকেছে, ছবি এঁকেছে, কাব্য করেছে- কিন্তু শ্যুটার? না না না- ব্যর্থ। বামেরা? তারাও ভাত খাওয়ার কথা বলে, গুলি খাওয়াটাকে তারা গণনাতেই আনেনি, ধিক্কার রইল তাদের যুব নেতৃত্বের প্রতি।

দেখুন আজ উত্তর প্রদেশকে, হিংসায় জ্বলে পুড়ে যাচ্ছে না লেনিনের বাচ্চাদের? এই হচ্ছে ডবল ইঞ্জিন সরকার, যোগী মডেল। সবাই শুধু বুলডোজার মডেলটাকে সামনে রাখাতে শৈল্পিক বিষয়গুলোকে আজ ইচ্ছাকৃতভাবে ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে, এটা সনাতনী স্বার্থের উপর সরাসরি আঘাত। এর জবাব বাংলার মানুষ একদিন দেবে। আজ সারা দেশে শার্প শ্যুটার সাপ্লাই দিচ্ছে উত্তরপ্রদেশ, সেটা সরকারিভাবে 'সিংহম' এর মাধ্যমে হোক বা চন্দ্রনাথের খুনী হিসাবে - মোদ্দা কথা এই যে শ্যুটিং শিল্পের উন্নতি, তা তো করে দেখিয়েছে যোগীজী। গতকাল তীরন্দাজিতে সোনা না কি একটা জিতেছে দেশের মেয়েরা, আগামীতে শার্প শুটিং এ প্লাটিনাম, হিলিয়াম, বোরিয়াম জিতবে। হিরেন পান্ডিয়া, মনোহর পারিক্কর, গোপীনাথ মুন্ডের দিব্যি রইল- বাঙালিকে প্রমাণ করতে হবে, তারা পিছিয়ে নেই।

আশা করব, বাংলাও দ্রুত এই শার্প শিল্প শিখে নেবে 'স্বাধীন' পশ্চিমবঙ্গের প্রথম রাষ্ট্রবাদী মুখ্যমন্ত্রীর শাসনে। ব্রিটিশ আমল থেকে বাঙালি বোমা শিল্পে উন্নত, সেটা সন্দেশখালি থেকে গরুকেষ্টর নাড়ু- কিন্তু আজ সময় বদলেছে। দীলুদার নেতৃত্বে আগামীতে শুটিং শিল্পে বাংলাকে স্বাবলম্বী করতে তুলতে হবে, এই হোক আমাদের অঙ্গীকার।

জয় সেমাপোসাদ
জয় সিরি জোগিজি
জয় সারপেনটার বাবা

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

বাংলার লজ্জা বাঙালীর লজ্জা

বাংলার লজ্জা, বাঙালির লজ্জা আজকে বাংলাতে একটা শার্প শ্যুটার অব্দি নেই, যাকে সুপারি দিয়ে বাঙালি একটা রবীন্দ্র/নজরুলের ঘরানায় কাব্...