অর্থনীতি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
অর্থনীতি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬

ইরান যুদ্ধের সম্ভাব্য গতিপথ ও নতুন বিশ্বব্যবস্থা


বিশ্ব রাজনীতির এক যুগান্তকারী সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে রয়েছি আমরা। চলমান পরিস্থিতির গতিপ্রকৃতি অনুযায়ী জিওপলিটিক্সের স্নায়ুতন্ত্রের DNA পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে। এটা বাষ্প-জল-বরফের মতো কোনো অন্তহীন পরিবর্তন চক্র নয়, এটা কাঠ পুড়ে ছাই হওয়ার মতো, যেখানে ছাই কখনই আর কাঠে রুপান্তর হবে না। এটা পক্ষ নেওয়ার সময়, আমি কোন দলে সেটা বেছে নিতে হবে। রাষ্ট্রের পরিচালকেরা তারা নিজের মতো করে বেছে নেবে, অধিকাংশ জনগণ যে পক্ষে থাকবে, রাষ্ট্রকেও সেই পক্ষে যেতেই হবে নতুবা জনগণ রাষ্ট্রের নের্তৃত্বেরই পরিবর্তন ঘটিয়ে দেবে ভোটের মাধ্যমে।

আমাকে অনেকে দাগিয়ে দিচ্ছে, আমি ইরানকে সমর্থন করছি কারণ আমি নিজে মুসলমান বলে। অথচ বাংলাদেশে যখন জুলাই বিপ্লবের সময় আওয়ামি লিগ মার খাচ্ছিলো, একটাও ভারতীয় মুসলমান বাংলাদেশের কোনো মুসলমানের পক্ষ নিয়েছিলো? RSS এর মতো উগ্র ধর্মান্ধ জম্বিদের রাজত্বে এটা বাক্তিগত বিড়ম্বনার কারণ না হলেও, নিয়মিত কটুক্তির সামনে পড়তে হয়, এবং আমি নিশ্চিত এটা শুধু আমাকে নয়, আমার মতো প্রতিটা মুসলমান সহ অসাম্প্রদায়িক হিন্দু ভাই বোনেদেরও হয়রানির শিকার হয়ে হয় RSS এর অনুগামীদের কাছে। বস্তুত, হিন্দুদের সাথে ইহুদিদের ধর্মগত কোনো মিল নেই, তবুও রাজ্যে বা দেশের বড় অংশের হিন্দু ইরানের বিরুদ্ধে। কারণ এরা আমেরিকাকে মানসিকভাবে সমর্থন করছে শুধুমাত্র ইসলামোফোবিয়ার কারণে, যেহেতু ইরান মুসলমান রাষ্ট্র।

আমাদের মতো কিছু মানুষের চরিত্র বড় অদ্ভুত। দেশজ রাজনীতিতে আমরা সিপিএম এর সমর্থক, যারা রাষ্ট্রের খাতায় শূন্য। বিশ্ব রাজনীতিতে আমরা পুতিনের ফ্যান বয়। আমরাই একসময় ভিয়েতনাম ছিলাম, আজ আমরা ভেনেজুয়েলা, আমরা সোমালিয়া, আমরা তালিবান বিরোধী কিন্তু আমরা আফগানিস্তানের সাধারণ নাগরিকের পক্ষে, আমরা কিউবা, মরোক্কো, বসিনিয়া, আর্মেনিয়া, ইরান, লিবিয়া, সিরিয়া, গাজা, বুরকিনা ফাসো, এমনি করে সেই সব দেশের পক্ষে মানসিকভাবে অবস্থান করি, যারা কোনো না কোনো শক্তির হাতে অত্যাচারিত। এই দেশগুলোর সাথে আমাদের কারও কোনো সম্পর্ক নেই, না কখনও সেখানে গেছি; না সে সব দেশের কাউকে চিনি, কিম্বা তারা আমাদের কাউকে চেনে। কোনো ব্যক্তিগত বা অর্থনৈতিক লেনদেন নেই, তবুও তারা আমার আপন, কারণ তারা অত্যাচারিত। ক্ষমতার দিকে থাকাটা খুব সহজ, চাটুকারিতা আর উপস্থিতি থাকলে পকেটেও লক্ষীলাভও ঘটে। তবুও আমরা কেউ ক্ষমতার পদলেহনে নেই।

হিন্দু মুসলিম নির্বিশেষে আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষ এমন মানসিক সংস্থাপনায় বসবাস করেন, যারা গোটা বিশ্বজুড়ে যেখানে যে লোকটা অত্যাচারিত, মানসিকভাবে আমরা তার আত্মীয় ভাই-বেরাদার হয়ে যায়; নিজেদের রিলেট করতে শুরু করি; তাদের ধর্ম কী, জাত কী, বর্ণ কী কিছুই জানি না, জানতেও চাইনি কখনও। আমরা যতটা হলোকাস্টকে ঘেন্না করি, ঠিক ততটাই ঘেন্না করি জায়নবাদকে, সমান ঘেন্না করি আইসিস, আলকায়েদা ও RSS কে। আমরা তোজোকে ঘেন্না করি আবার হিরোশিমা নাগাসাকিতে পরমাণু বোমা ফেলাটাকেও পৃথিবীর সবচেয়ে নিকৃষ্টতম পাপ মনে করি। এমনকি আমরা জেলবন্দি ইমরান খানের পক্ষে, ইসরাইলের পার্লামেন্টে কোন বামপন্থী সাংসদ জিতে এলে আমরা তার পক্ষে

আমেরিকান নাগরিক জর্জ ফ্লয়েডের পক্ষে যেমন আমরা ছিলাম, তেমনই ইরানের আয়াতল্লার বিরুদ্ধে গিয়ে মাসা আমিনির পক্ষ নিয়েছিলাম আমরা। আজকের ইরান আমেরিকার প্রেক্ষিতে, তখন আমাদের পক্ষ বদলে গিয়েছিল, সেদিন আমরা আমেরিকার সাধারণ মানুষের পক্ষে আর ইরানের খামেইনির বিরুদ্ধে ছিলাম। আমরা উন্মত্ত শ্রীলঙ্কার জনগণের পক্ষে ছিলাম, আবার ভারতবিরোধী বাংলাদেশী উন্মত্ত জনগণেরও বিপক্ষে ছিলাম, আমরা ইউনুনের নাবালক সমন্বায়ক সরকারের বিপক্ষে ছিলামআমরা নেপালে জেঞ্জিদের পক্ষে ছিলাম না। আমরা দেশ জুড়ে কৃষক আন্দোলনের পক্ষে, আমাদের ধরে পেটানো তৃণমূলের দলদাস সেই DA না পাওয়া পুলিশটার ন্যায্য দাবীর পক্ষে, আমরা দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ লুঠ করা ‘খাঁটি ভারতীয়’ আদানির বিরুদ্ধে। আমরা দেশজ রাজনীতিতে যেখানে বামেরা নেই সেখানে কংগ্রেসের পক্ষে। বিজেপির তুল্যমূল্য বিচারে আমরা বাজপেয়ী জামানার পক্ষে, আমরা আদবানীর সাথে হওয়া দুর্ব্যবহারের বিপক্ষে।

আমরা সেই অর্থে পাল্টিবাজ ধান্দাবাজ হতে পারিনি। আমাদের বন্ধু বৃত্তের অধিকাংশের বয়সটা ৪০ পেরিয়েছে ইতিমধ্যে, আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে তো দেখতে হয়, নিজেকে শুধাতে হয়- আমি আসলে কে! আমি অন্যায়ের বিরুদ্ধে থাকা একটা জীবন্ত সত্ত্বা নাকি লোভের পুঁজে ঠাসা মৃত লাশ? আমি সিপিএম নই, আমি কমিউনিজমের ভাবধারায় বিশ্বাসী। আমি কাঠ মোল্লার অন্ধ বিশ্বাসী ফতোয়ার বিপক্ষে কোরানকে শাশ্বত মানা মুসলমান, আমি কখনই নাগপুরের গাইডলাইন মেপে ‘গুড মুসলিম’ নই, বরং আমি দেশের সংবিধানকে সর্বোচ্চ সম্মান করা এভং অন্তরের ভালোমন্দ বোধের প্রতি দায়বন্ধ- একজন ভারতীয় মুসলমান।

মানুষের মনে যদি বিতৃষ্ণা থাকে সেটা কোনো না কোন দিকে, কখনো না কখনো প্রকাশ পাবেই। সেটা ঘটি বাঙাল ইস্যু হতে পারে, হিন্দু মুসলমান ইস্যু, নারী পুরুষ ইস্যু, ধনী-দরিদ্র ইস্যু অথবা এরকম অসংখ্য ছোট বড় ক্ষেত্রে এটা প্রকাশ পাবেই পাবে। তেমনই মুসলমানেদের মাঝেও শিয়া-সুন্নি একটা প্রভেদ আড়াআড়ি ভাবেই রয়েছে। যেহেতু এই যুদ্ধটা মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে, তাই পৃথিবীর সকল সুন্নিরা সমস্ত রকম প্রভেদ ভুলে শিয়াদের পাশে দাঁড়িয়েছে, দু’চারজন দালাল ব্যাতিরেকে। দেশের শাসক যে দলের খুশি হোক, তার যা খুশি বিদেশনীতি হোক, পৃথিবীর ৮০% মানুষ প্রকাশ্যে বা গোপনে তারা ইরানের সমর্থক। আসলে এরা মার্কিন সাম্রাজ্যবাদকে ঘৃণা করে বলে ইরানের উপরে এদের সমর্থন পুঞ্জীভূত হয়েছে, ইরানকে ভালবেসে নয়।

শুধু মুসলমান বলে যদি কেউ ইরানের প্রতি সমর্থন দিয়ে থাকে, তাহলে ইজরায়েল আমেরিকার দিকে বহু লোকের সমর্থন শুধুমাত্র মুসলমানের প্রতি তীব্র ঘৃণা থেকে ইরানের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে- এটাকে কীভাবে অস্বীকার করবেন? তুল্যমূল্য আলোচনার টেবিলে, দুটো পয়েন্টই একসঙ্গে এই রূপে হাজির করতে হবে। ধর্মান্ধ মৌলবাদ মানে তো শুধু তো র‍্যাডিক্যাল ইসলাম নয়, প্রতিটা ধর্মকেই সেক্ষেত্রে আতশ কাঁচের নিচে নিয়ে আসতে হবে, তবে সত্য প্রতিষ্ঠা পাবে।

পরিস্থিতিকে সময়ের মানদণ্ডে তুল্যমূল্য বিচার করতে হবে পক্ষপাতমুক্ত হয়ে। আমাদের ভারত সরকারকেও সময়ের নিক্তিতে মেপে দেখতে হবে, নতুবা আমাদের জাতির ভবিষ্যৎ ছবি পরিষ্কার হবে না।

বিজেপি নিশ্চিত সমস্যার, কিন্তু বিশ্বগুরুকে মুজরোওয়ালি সাজিয়ে গুজরাত কার্টেল যেভাবে লুঠ করছে, উলঙ্গ হয়ে আমেরিকা CIA এর দালালি করছে, এই গুজরাত কার্টেল বিজেপির চেয়েও ১ কোটি গুণ বেশি ক্ষতিকর ও বিনাশকারী। বাজপেয়ীও বিজেপিই ছিলেন, তাকেও আমরা খারাপ বলতাম ওনার সময়ে। বিশ্বপ্রভুর নের্তৃত্বে বর্তমানে বিজেপির নামে এই গুজরাত কার্টেল না আসলে কী, বাজপেয়ীকে এতোটা উদার, দুরদৃষ্টিসম্পন্ন নিরপরাধ মনে হতো? আমরা মনমোহন সিংকে পাপেট বা মৌনমোহন বলতাম, আজকে বিশ্বগুরু না এলে আসল পাপেটের সংজ্ঞা জানতাম কি? আজকের দিল্লি সরকারকে আমেরিকা রোজ বলাৎকার করে দিলেও, এদের এতটুকু গাটস নেই আমেরিকার বিরুদ্ধে বক্তব্য দিতে পারে; অন্যের বিরুদ্ধে না হোক নিদেনপক্ষে নিজেদের স্বপক্ষেও এরা স্ট্যান্ড নিতে পারে না। আমেরিকার দিকে ন্যূনতম চোখ তুলে তাকাতে পারেনা এরা। ৯৯% মিডিয়াকে ভেড়ুয়া দালাল বানাবার পরেও যার এতটুকু সাহস ও আত্মবিশ্বাস নেই সাংবাদিক সম্মেলন করার, তার চেয়ে বড় পাপেট কে? রাহুল গান্ধীর সাথে রাজনৈতিক মতবিরোধ থাকলেও সে বিশ্বগুরুর মতো মিথ্যাবাদী, দুশ্চরিত্র, লম্পট, হিংস্র, নির্লজ্জ, বেহায়া, ধর্মান্ধ, গণহত্যাকারী, নিরক্ষর নার্সিসস্ট নয়।

এই মুহূর্তে দেশের মূল সমস্যার নাম তাই নরেন্দ্র মোদী। নপুংশক, ভীতু, দুর্বল, অসুস্থ মানসিক বিকারগ্রস্থ এই বৃদ্ধ, এমন একটা ব্যক্তি, যে প্রশ্নকে ভয় পায়, জনগণকে ভয় পায়, পাছে জবাব দিতে হয়! এনাকে আমাদের দেশের পুঁজিবাদী লুঠেরা গোষ্ঠী ‘সাক্ষীগোপাল’ নেতা বানিয়ে রেখেছে। ট্রাম্পও উন্মাদ মেগালো ম্যানিয়াক, তবুও  সে দৈনিক সাংবাদিক ফেস করছে। আমাদের প্রভু সেই মুরোদ টুকু রাখেন না, অশিক্ষা ও মূর্খামি এনার পুঁজি। এনাকে দিয়ে বিশ্বরাজনীতির মঞ্চে ভারতীয় হিসাবে অপমানিত আর লঞ্চিত হওয়ার বাইরে কিছুই মেলেনি আজ অবধি, মিলবেও না।

গ্যাসের দাম ৫০০০ টাকা হোক, ডিজেল ২০০০ টাকা লিটার হোক, ভক্তরা না হয় ইট চিবিয়ে খেয়ে সহ্য করে নেবে, যারা সুস্থ ও স্বাভাবিক মানুষ- সেই ভারতবাসীদের ভবিষ্যৎ কী?

নরেন্দ্র মোদীর এই শাসনকাল দেশের ভিতে ঠিক কতটা ক্ষতি করেছে, যারা বেঁচে থাকবে আগামী ১৫ বছর পর তারা দেখে যাবে। তৎকালীন বিশ্লেষকেরা ডেটা দিয়ে প্রমাণ করবে, যখন গোদী মিডিয়া সময়ের চিতায় পুড়ে ভষ্ম হয়ে যাবে, দুন্দুভি নাগাড়া বাজিয়ে মোদীর ব্যর্থতাকেই সফলতা হিসাবে মিথ্যা প্রচারের ফানুসে ঢেকে দেবে না। ব্রিটিশরা প্রথম ১০০ বছরে যা লুঠ করেনি, অঙ্কের হিসাবে মোদীর ১২ বছরে জামানাতে আদানি আম্বানি ও এমন কর্পোরেট হাঙরেরা তার চেয়ে বেশী লুঠ করেছে আমাদের জনগণের সম্পদ। বুকে হাত রেখে বলুন, গত ১২ বছরে মোদীর সরকার আপনাকে কোন বেনিফিট দিয়েছে?

সংবিধানের প্রতিটা কাঠামোকে এরা দুমড়ে মুচড়ে তুবড়ে দিয়েছে। সর্বোচ্চ আদালত বিশ্বাসের ভিত্তিতে রায় দিচ্ছে, বিচারপতিরা অবসরের পরদিনেই বিজেপি জয়েন করছে। বিজেপির মুখপত্র সরাসরি বিচারকের আসনে আসীন হচ্ছে। সংবাদমাধ্যমের কথা নাই বা বললাম, এদের চেয়ে নিকৃষ্ট আর কিছু পৃথিবীতে কিছু আছে কিনা সেটা গবেষণার বিষয়, এরা সরকারকে প্রশ্নের বদলে ক্ষমতার চাটুকারিতা আর দালালি করে, বিরোধীদের টার্গেট করে তাদের malign করে প্রশ্ন করে। নির্বাচন কমিশন ভোট চুরিতে বিজেপিকে সাহায্য করে, আমাদের মতো ৬০ লক্ষ মানুষকে জিম্মি করে রাখে যারা অধিকাংশই মুসলমান, যাতে বিজেপিকে ক্ষমতার কাছাকাছি এনে দেওয়া যায়। আজকের ভারতে সবচেয়ে যে সরকারী সংস্থাকে মানুষ অবিশ্বাস করে সেটা নির্বাচন কমিশন, আর মিথ্যাবাদী গবেট দালাল বললেই চোখের সামনে যাদের ছবি ভেসে উঠে, তারা দেশের মিডিয়া হাউজগুলো। বিজেপির মুখপাত্র রাজ্যপাল হয়ে যাচ্ছে আর রাজ্যপাল বিজেপির মুখপাত্র হয়ে যাচ্ছে গত ১২ বছরে মোদীর সরকার এটাই করেছে, গণতন্ত্রের স্তম্ভগুলোকে খোকলা করে দিয়ে এই ১৪০ কোটির দেশকে এই পর্যায়ে এনে দাঁড় করিয়েছে।

বিশ্বগুরুর শাসনে আজকের ইন্ডিয়ার যা রেপুটেশন, আগামীতে BRICS আমাদের রাখবে কিনা সন্দেহ। শুধু ১৪০ কোটির বাজার দেখলে হবে না, দিল্লি সরকারের বিদেশ দপ্তরের নেড়ি কুত্তাগুলোকে রোজ ঝাঁটা দিয়ে মেরে, মুখে প্রস্রাব করে দিচ্ছে আমেরিকা, এরা নির্বিকার বদনে সেই মুতই গিলছে সামান্য আওয়াজ না করে। মধ্যপ্রাচ্যে গণধোলাই খাওয়া আমেরিকা পরবর্তী বহুমুখী বিশ্বব্যবস্থার প্রাক্কালে, রাশিয়া চিন ইরান সহ সকলেই দেখেছে ইন্ডিয়ান নের্তৃত্বের এই কাপুরুষোচিত অসহায় আত্মসমর্পন। আগামীতে দিল্লিতে এই বর্তমান নের্তৃত্ব যতদিন থাকবে, এদের সাথে ছালউঠা খেঁকি কুত্তার মতোই আচরণ করে তাদের দাবী মানতে বাধ্য করবে, যেমনটা আজ আমেরিকা করছে। বিশ্বে নতুন যে ক্ষমতার অক্ষ তৈরি হচ্ছে, সেই ঘরে ঢুকতে দেবে না আমাদের দেশকে, কারণ মোদী ব্রিক্সের পিছনে ছুরি মেরেছে আমেরিকার পা চাঁটতে গিয়ে। দরকারে ডেকে, ঘরের বাইরে দাঁড় করিয়ে রেখে দেবে, আমাদের উনিজি তো আবার স্বঘোষিত চৌকিদার। আসলে আমেরিকার বিছানাতে শুয়ে আমাদের জাত গেছে, পেট ভরেনি।

আমাদের দেশের সুবর্ণ সুযোগ, চিতায় তুলে দিয়েছে বিশ্বগুরু আদানি জুটি। আগামীতে BR'I'CS এর I ফর ইন্ডিয়ার বদলে ইরান জুড়ে গেলে আশ্চর্য হব না। ব্রিক্সে, আমাদের ব্যক্তিত্বহীন খোজা বিদেশমন্ত্রী আর এপস্টিন ফাইলের মুজরো প্রভু নের্তৃত্বাধীন ইন্ডিয়ার বিশ্বাসঘাতকতার দরুন, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ক্ষেত্রে আমাদের দেশের বিশ্বাসযোগ্যতা বেশ্যাপল্লীর পতিতাদের সতীত্বের মতো পবিত্র হিসাবে গৃহীত হচ্ছে। গৃহ পরিচারিকার সাথে এক থালায় তবুও খাওয়া যায়, এক পায়খানাতে হাগা যায় না, এটা ভুলে যাবেন না।

মুচলেকা RSS এর জিনে রয়েছে, ইতিমধ্যেই হরমুজের গ্যাস চেয়ে ইরানের কাছে মৌখিক মুচলেকা দিয়েছিল ভয়শঙ্কর; স্বাভাবিকভাবেই ইরান তা মানেনি, আসলে তারা লিখিত মুচলেখা চায়। ক্রমশ পরিস্থিতি যেদিকে যাচ্ছে, নাগপুরের বৃদ্ধ ষন্ড প্রভুর দল ইরানের মোল্লাদের কমোডে ঢুকে- টয়লেট পেপারের বদলে জিভ দিয়ে তাদের শৌচকর্ম না করে দেয়। আমেরিকার এভাবেই তারা তাদের পাছা পরিষ্কার করে চলেছে আমাদের বিদেশ দপ্তরকে দিয়ে। নাগপুরের গোয়ালঘর শক্তের ভক্ত নরমের যম, নেহাত মুর্খ অসভ্য ও বর্বর। এতো কিছুর পরেও- বিতর্কিত ভোটারলিস্ট দিয়ে গত লোকসভার ভোট হলেও, গণতান্ত্রিক উপায়ে নির্বাচিত সরকার পরে যাক তা কখনই চাইব না, সংবিধানের এই কাঠামোটা বড় জরুরী আমাদের সকলের জন্য, যেটাকে মনুবাদীরা ধ্বংসের জন্য উঠে পড়ে লেগে রয়েছে।

ফ্যাব ফোরে সমসাময়িক হিসাবে বিশ্বের চারটে প্রান্তে যে চারজন প্রায় দুর্বৃত্ত ক্ষমতার শীর্ষে উঠেছিল, তাদের মধ্যে ব্রাজিলের বালসেনারো ২৭ জন্য বছরের জেলে বন্দি। নেতানিয়াহুর মৃত্য নিয়ে সোশ্যালমিডিয়ার প্রোপ্যাগান্ডা গুলোকে মান্যতা না দিলেও, বর্তমান যুদ্ধে ইজরায়েলের যা হাল হয়েছে, আপনি লিখে নিন ইজরায়েলে নেতানিয়াহু অধ্যায় ফিনিশ। তালিকাতে ছাগলের তিন নম্বর ছানা মাই ফ্রেন্ড দোলান্ড। পাতাখোর ছাপড়ির মতো মুখ খুললেই দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে; আতঙ্ক, অপমান, অবিশ্বাসে ভুল বকছে নিয়মিত। আগের একটা প্রতিবেদনে লিখেছিলাম- অ্যাাসাসিনেশন না ইমপিচমেন্ট কোনটা যে আগে হবে সেটাই একমাত্র আলোচনা বিষয়। এবারে আপনিই বলুন, এক যাত্রায় পৃথক ফল কীভাবে সম্ভব? আমাদের বিশ্বপ্রভু কোন মন্ত্রে ফাঁকতালে গলে বেরিয়ে যাবে? ‘Godhra meets Gaza’ সফরে, Power on their minds, Hatred in their hearts, Blood on their hands বিষয়গুলো আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে। বাকিটাও brother in the same boat থিওরি মেনেই ঘটবে, সে আপনি বিশ্বাস করুন বা না করুন।

এই রকম ঘৃণ্য DNA যুক্ত শাসক আজকের পৃথিবীতে আরও কয়েক পিস আছে, তারা এদের তুলনাতে কম কুখ্যাত, কিন্তু জিনগত মিল রয়েছে। তুরস্কের এরদোয়ান, ইতালির মেলোনি, পোল্যান্ড দুদা, স্লোভাকিয়া ফিৎসো, হাঙ্গেরির অর্বান, অস্ট্রিয়ার কুর্ৎস, সহ প্রত্যেকের বিদায় ঘটবে, যে মুহূর্তে ইউক্রেনের ভাঁড়টার বিদায় ঘটবে। ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ হলেই এগুলোরও রাজনৈতিক বিসর্জন হয়ে যাবে দ্রুত। আমেরিকার পরাশক্তি সেজে থাকার ধড়াচুড়ো যত খসতে থাকবে, জাপানের কিশিদা, দক্ষিণ কোরিয়ার ইউন সুক ইয়ল, ফিলিপিন্সের দুতার্তে, এবং সিঙ্গাপুরের লি সিয়েন লুং এর চেয়ার তত টলমল হবে। বাকিটা কিম জং উন সামলে নেওয়ার জন্য যথেষ্ট। এর মধ্যেই তাইওয়ানকে চিন হজম করে নেমে। বাকি থাকল লাতিনাতে আর্জেন্টিনা আর আর এল-সালভাদর, ব্রাজিলের বর্তমান সরকার টিকে থাকলে এদেরও পিটিয়ে সোজা করে দেবে।

সকলের কথা হলো, ট্রাম্পকে নোবেলের জন্য সুপারিশ করা প্রথম দেশটা তালিকাতে না থাকলে হবে? বিশ্বজুড়ে আমেরিকার সেনা ঘাঁটি থাকলেও, মার্কিন সেনা ও CIA এর একটা নিজস্ব দেশও আছে, সেটা আমাদের পড়শি। যে দেশের হাঁড়ি চলে ভিক্ষা করে, আর আমেরিকার পরমাণু বোমা পাহারা দিয়ে। আমেরিকা ঠান্ডা হয়ে যাওয়ার আগে সবার আগে পাকিস্তানের রিজিম চেঞ্জ হয়ে যাবে, শরীফ আর মুনির নামের সার্কাসের জোকার দুটোই ইউরোপ বা আমেরিকায় পালাবে।

পাশাপাশি এটাও সত্য, বিশ্বজুড়ে আমেরিকার দাদাগিরি ইলেকট্রিক বাল্বের সুইচ টেপার মতও করে রাতারাতি বন্ধ হবে না, এটাও কয়েক বছরের চলমান প্রক্রিয়া। এই একই সময়ে গোটা বিশ্বজুড়ে বামপন্থীদের উত্থান হতেই হবে, NGO জীবীদের কাছে যে মার্কিন ডলারের স্রোত আসত এতদিন, কমিউনিজমকে ধ্বংস করার জন্য- সেগুলো বন্ধ হলে আমাদের রাজ্যেও বামেদের অবস্থান মজবুত হবে। তার আগে অবশ্যই দলের ভিতরে থাকা প্রতিকুকুর গুলোকে চিহ্নিত করে, তাদের তাড়িয়ে পার্টিকে জঞ্জাল মুক্ত করতে হবে; এরা মমতার চেয়েও বড় ক্ষতিকর।

আরব রাষ্ট্রগুলির পক্ষে মার্কিন ফৌজ সরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া যথেষ্ট কঠিন। প্রথমত, সব সময়েই নিজ পরিবারের ভেতর থেকেই অন্তর্ঘাত ও সেনা অভ্যুত্থানের আতঙ্কে ভোগে সেখানকার রাজপরিবারগুলির ক্ষমতাবানেরা। উপসাগরীয় দেশগুলোর জনসংখ্যাও ক্ষুদ্র, সেনাবাহিনীর বহরও তথৈবচ। প্রায় প্রত্যেকেই অগাধ সম্পদের মালিক হওয়ার জন্য নাগরিকদের কেউ সেনা বাহিনীতে যেতে চায় না, ভাড়াটে সৈন্য একমাত্র ভরষা- যারা যেকোনো সময় বিকিয়ে যেতে পারে। সামরিক সহযোগিতাতে চীন বা রাশিয়া কেউই পাশে থাকার বিষয়ে প্রমাণিত নয়, ফলত বিকল্প নিরাপত্তা অক্ষ না থাকার কারণে মধ্যপ্রাচ্য রীতিমতো ধর্ম সঙ্কটে পড়ে গেছে। দ্বিতীয়ত, উপসাগরীয় দেশগুলির একমাত্র উপার্জনের জায়গা হলো অপরিশোধিত খনিজ তেল ও গ্যাস। বিশ্ববাজারে যা আজও বিক্রি হয় মার্কিন ডলারেই। দৃশ্যত ডলারের কোনো বিকল্প অর্থব্যবস্থা আজকের পৃথিবীতে নেই যা সর্বজনগ্রাহ্য ও প্রতিস্থাপনযোগ্য। স্বভাবতই রাতারাতি আমেরিকার সেনাঘাঁটি ও তাদের মুদ্রা ডলারকে বাতিল করে দিলে সৌদি, আমিরশাহি, কাতার, কুয়েত, ওমান বা বাহরিনের অর্থনীতি রাতারাতি ধ্বসে গিয়ে সিরিয়া বা ইরাকের মতো হয়ে যেতে পারে।

রেজিম চেঞ্জ, মধ্যপ্রাচ্য, হলুদ সাম্রাজ্য, East Block, আরব লীগ সহ আমাদের ভারত- সকলে যুগ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। ইরান যুদ্ধটা শুরু করেছিল তাদের দেশের মধ্যে থাকা প্রতিকুরগুলোকে চিহ্নিতকরণের মধ্য দিয়ে। নিজের দেশের বিরোধীরা আজ শাসকের তান্ডব ও পরাক্রম দেখে বিরোধী কন্ঠস্বর রণেভঙ্গ দিয়েছে, ফলে ইরানের আভ্যন্তরীণ সমস্ত রকম বিদ্রোহ চাপা পড়ে গিয়ে তারা একটা ঐক্যবদ্ধ জাতিতে পরিণত হয়েছে। আব্রাহাম এ্যাকর্ড ও পিস ফোরামের মত এঁটোকাঁটা কমিটিকেও কবর দিয়ে দিয়েছে ইরান। পারস্য উপসাগরের ওপারের পাশের দেশগুলোর পরিণতি ওরা দেখে নিয়েছে। ইরান এবারে যুদ্ধটাকে কাস্পিয়ানের দিকে নিয়ে যেতে চাইবে। ডানে বাঁয়ে আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, জর্জিয়া, তুর্কমেনিস্তান, তাজিখ, কিরঘিজ, কাজাখ, উজবেকিস্তানের মতো যে যে দেশে আমেরিকার ঘাঁটি আছে, সেগুলোকে ঘেঁটে দেবে। মোদ্দা কথা আর একটা ওয়্যারফ্রন্ট খুলে দেবে আমেরিকার সামনে, তাদের নাজেহাল করে দেবার জন্য।

আমাদের কী হবে? আগামী ৩ বছর আমাদের দেশেও কমপক্ষে বিজেপি সরকার থাকছেই, সংসদেও লো-কনফিডেন্স কোনো মুভমেন্ট নেই। কিন্তু, নরেন্দ্র মোদী ও তার বর্তমান প্রশাসনের মোটাভাই, ইন্ডিয়ান জেমস বন্ড, কড়ি নিন্দা সিং, ভয়শঙ্কর, বিরাট শিক্ষিত সেলফি মন্ত্রীর মতো লালুভুলুর টিমের রাজনৈতিক বিসর্জন হওয়া একান্ত জরুরী- এটাই জাতির একমাত্র স্বার্থ। বিজেপির অন্য নতুন টিম আসুক, নতুন ভাবনা আসুক, তারা আর কত খারাপ করবে এদের চেয়ে! অবশ্য যোগী গোষ্ঠী সোশ্যাল মিডিয়াতে তার পক্ষের প্রচারনা শুরু করে দিয়েছে, সে এলে ভারতের প্রতিটা জনগণের জন্য সবচেয়ে ভয়াবহ সময় অপেক্ষা করছে, লিখে নিন। বিরোধী হিসাবে রাহুল গান্ধী পাপ্পু হোক বা না হোক, কংগ্রেসের সবচেয়ে বড় বোঝা হচ্ছে সোনিয়া গান্ধী, মোদির থেকেও বেশি ক্ষতিকর প্রোডাক্ট এই মহিলা। ইতিহাস সাক্ষী আছে 'once a spy, always a spy', তার মন্ত্র অবশ্যই if you're on the team for life, then you're bound by team rules for life. 

আমেরিকা ডুবন্ত নৌকা, ওতে যে চড়বে তাকে নিয়েই ওরা ডুববে। অনেকেই ভাবছেন এপস্টিন দ্বীপে কোনো যৌন শিশু কেলেঙ্কারির কুকীর্তি করে আসার দরুন, বিশ্বগুরু আমেরিকার হাতের পুতুল হয়ে গেছে। একটা দুধের শিশুও জানে আমেরিকা-ইসরাইলের সাথে ভারতের যে তথাকথিত ‘বন্ধুত্ব’, সেটা সমতা, সক্ষমতা ও পারস্পারিক সম্মান, মূল্যবোধের কূটনৈতিক নিয়মের ভিত্তিতে নয়; এটা একতরফা, অপমানজনক, স্বার্থপরতা হিংসায় ডোবানো তুচ্ছ তাচ্ছিল্যের একপেশে ব্ল্যাককমেলিং, যেখানে নিয়মিত হীন প্রতিপন্ন করে রোজ একবার আমাদের অউকাত বুঝিয়ে দেয়। এই পশ্চিমা নের্তৃত্ব কখনই মোদীকে তাদের সমকক্ষ মনে করে পাশে বসায়নি, যখনই ডেকেছে চাকরবাকরের মতো কান মুলে তাদের ইচ্ছামত চুক্তিতে সই করিয়ে নিয়ে, সামান্য উচ্ছিষ্ট ছুঁড়ে দিয়ে পিছনে লাথ মেরে দেশ থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে। নিজে থেকে যখন বিদেশ সফরে গেছে, তার দেশজ প্রভু আদানির হয়ে দালালি করতেই গেছে, দেশের কাজে যায়নি। এই হচ্ছে আমাদের দেশের ‘আয়াতোল্লা মোদানীর’ অউকাত।

তাই আমার ভাবনা একটু ভিন্ন, মোদী/RSS এর ভোটে জেতার যে প্রাণভোমরা- সেই যাবতীয় EVM ম্যানিপুলেশন তথা হ্যাকিং এর সিক্রেট তাদের সম্ভবত এপস্টিন গ্যাং এর হাতে রয়েছে। এই কারণেই মোদী ও তার সাঙ্গোপাঙ্গোরা CIA/ইজরায়েল এর বিরুদ্ধে যেতে পারবে না, ঝাঁটা লাথি খেয়েও তাদের দরজার ঝনকাঠে শুয়ে থাকতে হবে নামাজের সিজদা দেওয়ার ভঙ্গিতে।

 

অধিকাংশ জনই এটাকে কন্ট্রোভার্সিয়াল এবং কন্সপিরেসি থিওরি বলে উড়িয়ে দিতে চাইবে, আপনি কী মনে করেন?


সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬

ভারতীয়েরা কী বিপদ টের পাচ্ছি?



যুদ্ধকে যারা আমরা একটা রিয়েলিটি শো এর মতো রোজ উপভোগ করছি ফেসবুক ইউটিউব রিলসে, তাদের ধারণা নেই এই যুদ্ধ আর কিছুদিন চললে আমাদের ভারতের মতো দেশের বিপদ আসলে ঠিক কতটা।

হয়তো ভাবছেন যুদ্ধটা সুদূর মধ্যপ্রাচ্যে, আপনার ডাইনিং টেবিলে তার উত্তাপ পৌঁছাবে না? যুদ্ধের ধোঁয়াতে আকাশ ঢাকতেই কুয়েত, কাতার, বাহারিন সহ সৌদির তেল উত্তোলনে ধস নেমেছে, বিশ্ববাজারে তেলের দাম রোজ লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়বে। আমেরিকা তেলের দাম ধরে রাখতে মরিয়া, যাতে দেখানো যায় যে ইরানের কোনো ক্ষমতাই নেই তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণের। এর ফলে জি-৭ দেশগুলির ইমার্জেন্সি তেল রিজার্ভ হতে ৪০০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল ছাড়ার বিষয়ে বিবেচনা করছে। যদিও এই রিজার্ভ তেল দিয়ে বড়জোর ২ সপ্তাহ মত সাপ্লাই চেইন সামলাতে পারবে। এই সময়টুকু তারা ইরান হুমকি মোকাবেলা ও হরিমুজ প্রনালি মুক্ত করার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা করবে। 

আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে কেউই গভীরে যাচ্ছেনা, ভাবছে তেল গ্যাসের দাম বাড়ার মতো প্রত্যক্ষ দুটো ক্ষতি হবে, আর পরোক্ষ হিসাবে অল্প বিস্তর দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়বে পরিবহণ ও উৎপাদনের খরচ বাড়ার দরুন। বাস্তবে ভয়টা আরও ভয়াবহ ও সর্বনেশে। ভিডিওতে দেখুন, এক্সপোর্ট মোটামুটি একপ্রকার বন্ধই হয়ে রয়েছে আমাদের পশ্চিম উপকুলের বন্দরগুলো দিয়ে। পেরিসিবল আইটেম মানে কাঁচা মালগুলো আর কয়েকদিনের মধ্যেই পচে যাবে যেগুলো রাস্তায় রয়েছে, ওদিকে উৎপাদনও থেমে নেই। রোজার সময় ওখানে একটা বড় বাজার থাকে, সেটা তো শেষই, নর্মাল বাজারও শেষ। ফলত মারা যাবে আমাদের দেশের চাষী, কৃষিকাজের সাথে জড়িয়ে থাকা ভারতের ৫৮% মানে প্রায় ৮৫ কোটি মানুষ সর্বনাশের সম্মুখীন হবে। আমাদের মত উন্নয়নশীল ‘গরিব’ দেশের জন্য এটা অপূরনীয় ক্ষতি। 

রপ্তানি সংক্রান্ত তথ্যের দিকে নজর দিলে দেখবেন, মধ্যপ্রাচ্য মাত্র ১৫% এর রপ্তানি অনংশীদার। কিন্তু যখন আপনি নির্দিষ্ট করে কৃষি পণ্যের দিকে তাকাবেন, দেখবেন আমাদের চালের  ৪০% এই অঞ্চলেই যায়। মাংস রপ্তানির প্রায় ৭১% এবং ডিমের ৬৭% রপ্তানি এই আরব দেশগুলোতে যায়। মোট মসলা, চা এবং কাজু বাদামের মতো পণ্যের ৫৫% রপ্তানি এই অঞ্চলের বাজারের সাথে যুক্ত। 

সাধারণ চাল ছাড়াও গম এবং ভুট্টা প্রচুর পরিমাণে পাঠানো হয় ওই দেশগুলোতে। মুসুর, মটর, ছোলা এবং অন্যান্য ডালজাতীয় শস্য সহ ঘি, পনির এবং অন্যান্য দুগ্ধজাত সামগ্রী সবই বিপুল মাত্রায় পাঠাই আমরা। আম, কলা, বেদানা, আঙুর এর মতো তাজা ফল যায় লক্ষ লক্ষ ডলারের। সবচেয়ে বেশি চাহিদাসম্পন্ন পেঁয়াজের বাইরেও, টমেটো, আলু, ভেন্ডি থেকে লাউশাক কোন সব্জি যায় না? ভারত থেকে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত ও পরিশোধিত চিনি রপ্তানি করা হয়। প্রক্রিয়াজাত খাদ্য যেমন ফলের রস, আচার, শুকনো ফল, রেডি-টু-ইট খাবার। মধ্যপ্রাচ্য মূলত একটা হাব, বিশেষত দুবাই, সেখান থেকে ইউরোপ ও আফ্রিকার বহু দেশে ট্রান্সশিপমেন্ট হয়। এই যুদ্ধের কারণে সেটাও সম্পূর্ণভাবে ধ্বসে পরেছে, আসন্ন মুক্তির দিশা নাই।

গোটা বিশ্বকে আজ ক্ষতির সামনে এনে দিয়েছে এপস্টিং গ্যাং এর এই যুদ্ধ। সমগ্র পৃথিবী যুদ্ধের আঁচে জ্বলছে আর আমাদের সরকার সত্য লুকাচ্ছে। যুদ্ধের প্রথম ৬ দিনের হিসাবটা কিছু এমন, এপস্টিন গ্যাং এর দণ্ডমুণ্ডের কর্তা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজার থেকে ৩.২ ট্রিলিয়ন ডলার মুছে গেছে, ভারতীয় টাকার হিসাবে ২৯১ লক্ষ কোটি টাকা। এপস্টিন গ্যাং এর মূল দালাল ইসরায়েল বাজার থেকে ৭০ হাজার কোটি টাকা গায়েব হওয়ার সাথে সাথে প্রতিদিন ভারতীয় মুদ্রাতে ৩৫ হাজার কোটি টাকার অস্ত্র সরঞ্জাম পুড়ে যাচ্ছে, এর সাথে কয়েক লক্ষ টাকার অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি যা তাদের অনুমানের বাইরে ছিল। 

দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, চীন, সহ ইউরোপের প্রতিটি দেশের শেয়ার মার্কেট থেকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার মূলধন জাস্ট মুছে গেছে। ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের হুমকির মুখে দাঁড়িয়ে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, জর্ডন, লেবানন, ওমান সর্বত্র কাজকর্ম উৎপাদন সব বন্ধ, খাদ্য সঙ্কট দেখা দিয়েছে, লুঠপাঠ হচ্ছে রীতিমত। ইরাক ইয়েমেনে আবার দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছে, লক্ষ লক্ষ মানুষ শরণার্থী হয়ে গেছে। মাঝখান থেকে পাকিস্তান নামের ভিখারিটা সৌদির সাথে সামরিক চুক্তি করে ফেঁসে গেছে, তার উপরে রমজান মাসে জাকাতের মরসুমে এমন আর্থিক অবরোধে তাদের হাঁড়ি বন্ধ হয়ে যাবার দশা, জ্বালানি গ্যাস ও তেলের আকাল শুরু হয়েছে, দ্রুত পাকিস্তানেও জনবিদ্রোহ শুরু হওয়ার মুখে দাঁড়িয়ে।

ইরানও ধ্বংসের কিনারাতে দাঁড়িয়ে। তাদের ৭০% তেল অবকাঠামো ধ্বংস, ইতিমধ্যেই প্রায় ৪০ লক্ষ ইরানি জনগণ বাস্তুচ্যুত। যেহেতু তারা খাদ্য উৎপাদনে প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ, তাই আধপেটা খেয়ে বেঁচে যাবে হয়তো বা, এপস্টিন গ্যাং যায়োনিস্টদের এই বিধ্বংসী মার হজম করে। কারণ ৫০ বছর বৈশ্বিক অবরোধের অভ্যাস তাদের রয়েছে, পাশাপাশি তারা এনার্জিতেও স্বয়ংসম্পূর্ণ।

জ্বালানির দাম বাড়লে পরিবহন ও বিদ্যুৎ খরচ বেড়ে যাবেই। চাল, ডাল, চিনি, ভোজ্য তেল, এসব ৩০-৫০% অবধি বেড়ে যাবে; এলপিজি, কনজিউমার গুডস, ছোটখাটো নিত্যপ্রয়োজনীয় গৃহস্থালি জিনিস, গরীব ও মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে চলে গিয়ে নাভিশ্বাস তুলে দেবে। এই সংকট বর্তমানে আপনার উঠোনে অপেক্ষা করছে, যেকোনো মুহুর্তে ঘরে ঢুকে পরলো বলে। রফতানি কমলে কলকারখানা বন্ধ হয়ে সাপ্লাই চেন ভেঙে যাবে, মানুষ ভোগ্যপন্য কম ক্রয় করবে, পর্যটন ও রেস্টুরেন্ট শিল্প মার খাবে, গিগ শ্রমিকেরা কর্মহীন হয়ে যাবে; দেশ এক ভয়াবহ দীর্ঘমেয়াদী মন্দার কবলে পড়বে। সরকার পরিস্থিতি সামাল দিতে মরিয়া হয়ে নোট ছাপাবে, আর সেই ছাপানো কাগজের ভিড়ে আপনার জমানো টাকার মান খড়কুটোর মতো উড়ে যাবে, ১ ডলারের বিপরীরে ভারতীয় টাকা দেড়শো পাড় করে গেলেও আশ্চর্য হবেননা। শ্রমজীবী মানুষের জন্য এ এক অস্তিত্বের সংকট তৈরি করতে পারে।

পার্থিব ইকোসিস্টেমে সূচ থেকে হাতি, সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করে বৈশ্ব রাজনীতির বাপ-কাকারা। যারা চাষাবাদ করে খান, তারা অন্তত না খেতে পেয়ে মরবেনা, বাকিদের জন্য অপেক্ষা করছে এক অন্ধকার সময়। এই মহাদুর্যোগে একমাত্র সোনা, রুপা কিংবা ভূমিতে বিনিয়োগ করা লোকেরাই নিজেদের সম্পদ রক্ষা করতে পারবে, কারণ খুব দ্রুত এগুলোর দাম দফার দফায় গতিতে বাড়বে।

আমরা যারা সুস্থ স্বাভাবিক মানুষ, আমাদের হাতে কোনও উপায় নেই এই যুদ্ধকে নিয়ন্ত্রণ করার, আমাদের দেশেরও বস্তুত কোনো ক্ষমতা নেই এই যুদ্ধ থামাবার দিশা দেখাবার, প্রয়োজনও নেই যুদ্ধের শরিক হওয়ার। কিন্তু অতি উৎসাহী হয়ে আড়ঙের বাজি পটকা ফাটা দেখা আর হলিউডি যুদ্ধের সিনেমাকে লাইভ দেখার মতো করে আনন্দ নেওয়া থেকে মানসিকভাবে বিরত থেকে, নিজেদের আসন্ন অতীত নিয়ে ভীত হতেই পারি। দেশের চাষী মরলে আপনার বেঁচে পালাবার কোনো সুযোগ নেই। কেউ নিরাপদ নয়, কেউ নিরাপদ নয়।

বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

Board of Peace, কি ও কেন?


 

Board of Peace, কি ও কেন?

 

মূলত গাজায় যুদ্ধবিরতি তদারকি এবং পুনর্গঠনের লক্ষ্যে ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে সুইজারল্যান্ডের দাভোস শহরে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সাইডলাইনে এই কাউন্সিলটি আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে, ডোনাল্ড ট্রাম্প তথা আমেরিকার নিজস্ব ও একান্ত উদ্যোগে। বর্তমানে সদস্য হিসেবে ২৬টি দেশ যুক্ত হয়েছে। এই হলো যুদ্ধবাজ আমেরিকার ‘শান্তি কমিটি’ স্থাপনের ইতিবৃত্ত, এ যেন মমতা ব্যানার্জীর উদ্যোগে ‘চোর ও কাটমানিখোর মুক্ত রাষ্ট্র’- এমন নামের সংগঠন তৈরি হওয়া।

পেট্রোডলারের সমাপ্তি, গোটা বিশ্বজুড়ে প্রতিটা দেশের ডি-ডলারাইজেশন এবং BRICS এর উত্থান গোটা আমেরিকার মাথা নষ্ট করে দিয়েছে, ডোলান্ড ট্রাম্প সেই আতঙ্ক সূচকের নমুনা মাত্র। ‘সুপার পাওয়ার’ শব্দটা বিষয়ে আমাদের সকলের সুপার ইলিউশন রয়েছে, এর অন্যতম কারণ আমেরিকার প্রোপ্যাগান্ডা মেশিনারি। গত ৭৫ বছরে ‘সুপার পাওয়ার’ আমেরিকা, তাদের শুরু করা প্রতিটা যুদ্ধ, হয় শেষ হওয়ার আগেই পালিয়েছে আফগানিস্তানের মতো, কিম্বা গোহারা হেরে মুখ লুকিয়ে মজন্তালি সরকারের মতো হাত উঁচিয়ে বলেছে জিতেছি- উদাহরণ ভিয়েতনাম। এপস্টিন ফাইলস পশ্চিমা ক্ষমতাধর ও বিত্তশালীদের তথাকথিত মানবতা, নারী ক্ষমতায়ন আর গণতন্ত্রের বুলি আওড়ানোকে প্রহসনে পরিণত করে, একটা মিথ্যুক বেহায়া ন্যাংটা হিসাবে উন্মোচিত করে দিয়েছে। ইতিহাস লেখা হয় বিজয়ীদের কলমে, এই ন্যাংটারা তাদের নিজেদের সুমহান উন্নত ও সভ্য হিসাবে দেখিয়ে এসেছে, আমরা সেটাকেই অমৃত ভেবে চেটেপুটে খেয়ে চলেছি।

তোমার নাম আমার নাম ভিয়েতনাম ভিয়েতনাম, ছোটবেলায় খুব শুনতাম বামপন্থীদের মুখে। সেই ভিয়েতনাম আজকে আর বামপথে নেই, যুদ্ধ পরবর্তী ভিয়েতনাম ‘Doi-Moi’ বা যাকে বাংলাতে বলে সংস্কার, অর্থাৎ অর্থনীতিকে মার্কিনীদের পায়ে সঁপে দেওয়ার প্রক্রিয়াতে চলে গিয়েছিল, যেমন ভাবে নব্বই এর দশকের শুরুতে গর্বাচেভের রাশিয়া ‘পেরেস্ত্রেইকা’ লাগু করেছিল। সুতরাং, আজকের ভিয়েতনাম আসলে মার্কিনীদের পোষা কুত্তার বেশি কিছু নয়, ফলত ২০ তম দেশ হিসাবে তারা ট্রাম্পের এই ‘এঁটো-কাঁটা’ কমিটিতে থাকবে, এতে আর আশ্চর্য কোথায়! ভিয়েতনামে আবার শেষে ফিরছি।

বাকি ২৫ টা দেশ কারা!  চলুন ম্যাপ অনুযায়ী একটু বোঝার চেষ্টা করি, কারণ বিশ্ব মানচিত্রে তাদের অবস্থানের তাৎপর্যই এখানে একমাত্র বিচার্য। নতুবা গাজার শান্তি নিয়ে প্যারাগুয়ে, মঙ্গোলিয়া, এল-সালভাদর, বেলারুশ বা কসভোর মতো দেশের কাজ কী? আজ ২ বছর ধরে গাজায় গণহত্যা চালাচ্ছে ইজরায়েল, এ বিষয়ে এদের কোনো বক্তব্য ছিল বলে কেউ জানে? এদের সকলের মাথা ঘামানো, অনেকটা ওই ২১শে জুলাই কোলকাতায় ডিম্ভাত খেতে যাওয়ার মতো। আপনার যাওয়া বা না যাওয়া, কোনো কিছুর উপরেই ২১শে জুলাইয়ের মঞ্চে কারা থাকবে সেটা নির্ভর করে না। আপনি না বলতে পারবেন কেন ১৯৯৩ সালে ২১শে জুলাই সমাবেশ হয়েছিল, না উদ্যোক্তারা জানেন আপনার উপস্থিতির কথা। কিন্তু পাড়ার বদ্দা যেহেতু ডেকেছে, তাই আপনি যান, তেমনই এই দেশগুলো কমিটিতে আছে। মিছিলের পিছন থেকে জিন্দাবাদ বলার লোক তো চাই, এছাড়া এদের ফুটো পয়সার গুরুত্ব নেই এই এঁটোকাঁটা কমিটিতে, এরা কখনও বিশ্ব রাজনীতিতে শেষ ৩০০ বছরে নূন্যতম  গুরুত্বপূর্ণ ছিল না। 

 

১) চীনের উত্তর মাথায় স্থলবেষ্টিত চীন ও রাশিয়ার মধ্যেকার একমাত্র বিভাজক রাষ্ট্র মঙ্গোলিয়া।

২) কাস্পিয়ান সাগরের পূর্ব পাড়ের দুটি পূর্বতন সোভিয়েত রাষ্ট্র- কাজাকস্তান ও তারও দক্ষিণে থাকা উজবেকিস্তান। চীন এবং রাশিয়ার মধ্যে মধ্য এরাই এশিয়ার বৃহত্তম রাষ্ট্র। 

৩) কৃষ্ণসাগর আর কাস্পিয়ান সাগর এর মধ্যবর্তী ককেশীয় রাষ্ট্র, পূর্বতন সোভিয়েতের আজারবাইজান ও আর্মেনিয়া। 

৪) কৃষ্ণসাগর ও মারমারা সাগরের সংযোগস্থলের বসফরাস প্রণালী তথা ইস্তানবুল প্রণালী এবং মারমারা সাগর ও ভূমধ্যসাগরের সংযোগের রাস্তা দার্দানেলিস প্রণালীর নিয়ন্ত্রক রাষ্ট্র- তুরস্ক। 

৫) কৃষ্ণসাগরের পশ্চিম পাড়ে পূর্বতন সোভিয়েত নিয়ন্ত্রিত ইস্ট ব্লকের বুলগেরিয়া। তারই পশ্চিমে সার্বিয়ার দক্ষিণ মাথার বিতর্কিত অঞ্চলে তৈরি কোসোভো, ম্যাপে তার নিচে দীর্ঘ সমুদ্র সৈকত থাকা রাষ্ট্র আলবেনিয়া ও ইউরোপের কেন্দ্রবিন্দু হাঙ্গেরি। 

৬) পার্সিয়ান গাল্ফের পশ্চিম তীর ও গাল্ফ অফ আরবের পূর্ব পাড়, লোহিত সাগরের পূর্ব দিকে এশিয়া প্রান্তের নিয়ন্ত্রক রাষ্ট্র- সৌদি আরব।

৭) পার্সিয়ান গাল্ফের পশ্চিম তীরের নিয়ন্ত্রক সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার ও দ্বীপরাষ্ট্র বাহরাইন। 

৮) গাল্ফ অফ আরবের এর পূর্ব পাড়ের নিয়ন্ত্রক দুই রাষ্ট্রের অন্যতম জর্ডান।

৯) আতলান্তিকের উত্তর পাড় ও ভূমধ্যসাগরে দক্ষিণ মাথায় জিব্রাল্টার প্রণালীর অন্যতম নিয়ন্ত্রক আফ্রিকান রাষ্ট্র- মরক্কো। 

১০) ভারত, চীন ও ইরানের মাঝে আমেরিকান পরমাণু বোমার চৌকিদার, আরব সাগরের উত্তর পাড়ের রাষ্ট্র- পাকিস্তান। 

১১) বঙ্গোপসাগর এবং দক্ষিণ চীন সাগরের সংযোগকারী মালাক্কা প্রণালীর দক্ষিণ প্রান্তের নিয়ন্ত্রক রাষ্ট্র- ইন্দোনেশিয়া।

১২) দক্ষিণ আতলান্তিকের পশ্চিম পাড়ে দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রাষ্ট্র আর্জেন্টিনা, এবং ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার মধ্যের স্থলবেষ্টিত রাষ্ট্র প্যারাগুয়ে। মেক্সিকোর লেজের নিচে থাকা এল-সলভাদর। 

১৩) দক্ষিণ চীন সাগরের পূর্ব মাথায় চীনের গা থেকে শুরু করে গাল্ফ অফ থাইল্যান্ড অবধি বিস্তৃত- ভিয়েতনাম। ভিয়েতনামের আরেক পড়শি কম্বোডিয়া।

১৪) রাশিয়া আর ইউক্রেনের পড়শি স্থলবেষ্টিত বেলারুশ। 

১৫) আর এদের সকলের সাথে রয়েছে গাজার উপরে এই গণহত্যার নায়ক ইজরায়েল স্বয়ং।

 

ট্রাম্পের দাবী অনুযায়ী এই কাউন্সিলের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য- ফিলিস্তিনের গাজায় সংগঠিত গণহত্যার প্রেক্ষিতে ‘শান্তি ও পুনর্গঠন’। এখানে ফিলিস্তিন শব্দের কোনো উল্লেখ বা বক্তব্য কিছুই নেই। পাশাপাশি এটার মাধ্যমে গোটা বিশ্বকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়াও হলো যে, ওয়েস্ট ব্যাঙ্ক এবং গোলান উপত্যকায় শান্তি প্রতিষ্ঠা হয়ে গেছে; তাই বিশ্ব শান্তির লক্ষ্যে বিশ্বগুরুর দায়িত্ব কেবল- ইসরাইলের শরীরের মধ্যে এক টুকরো খাঁজের ভিতর কোনোমতে নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা এক ফালি কেকের মতো টুকরো ভূখন্ডিতে। গাজার সাইজ জানেন? লম্বায় ব্যারাকপুর থেকে জোকা, চওড়াতে বড়বাজার থেকে সল্টলেক, ব্যাস এতটুকুই মাত্র। এই লোকগুলোকে গুম খুন করে হাপিস করে না ফেললে, পালিয়ে প্রাণ বাঁচাবার একমাত্র জায়গা হচ্ছে মিশর, সেই মিশর কিন্তু এই কমিটিতে নেই। সুতরাং, একথা লেখার কোনো যুক্তি নেই যে গাজার নামে এই কমিটি বানালেও, এর উদ্দেশ্য কোনোভাবেই গাজা অন্তত নয়।

The UN chief has told states that the organization is at risk of “imminent financial collapse,” citing unpaid fees and a budget rule that forces the global body to return unspent money- এটা গত ৩০শে জানুয়ারি Times of Israel এ প্রকাশিত সংবাদ, গুগুলে খুঁজলেই পেয়ে যাবেন। অর্থাৎ জাতিসঙ্ঘ নামের সাদা হাতিটার ডেথ সার্টিফিকেট লেখাই আপাতত বাকি রয়েছে। অবশ্য তার মুরোদই বা কী ছিল!  গাজায় ১১২ বিলিয়ন ডলার লগ্নি হবে গাজাকে ‘লাক্সারি’ ভাবে পুনঃনির্মান করতে, যার আর্ধেক ৬০ বিলিয়ন দেবে আমেরিকা, বাকিটা সদস্য দেশ ও নানান লগ্নিকারী সংস্থা বিনিয়োগ করবে। 

এর অফিসয়াল নাম ‘প্রোজেক্ট সানরাইজ’, যার শীর্ষে রয়েছে ট্রাম্পের জামাই- জেরার্ড কুশনার। এই ‘রি-বিল্ড’ সময়কালে গাজার মানুষগুলোকে কোথায় সরিয়ে রাখবে? জবাব দেওয়ার কেউ নেই। পরবর্তীতে এই ‘লাক্সারি’ আল্ট্রা হাইটেক গাজা অদৌ সেখানকার অধিবাসীরা ফিরে পাবে? নাকি জেরুজালেম থেকে মাত্র ৬০/৭০ কিমি দূরের সমুদ্র সৈকত বিশিষ্ট গাজাকে একটা জনপ্রিয় টুরিস্ট ডেস্টিনেশন তথা বিজনেস হাব বানানো হবে? এক লক্ষ হাউজিং, ৭৫টা মাল্টি স্পেশালিটি হাসপাতাল, ২০০ আন্তর্জাতিক মানের ইস্কুল, ১৮০টা ধর্মস্থান এগুলো গাজার হাভাতে যুদ্ধ পীড়িতদের জন্য বানানো হচ্ছে? এসব অপ্রিয় প্রশ্নের উত্তর জাতিসঙ্ঘ দেয়নি, ট্রাম্পের এঁটোকাঁটা কমিটিও দেবে না, মাঝখান থেকে গাজার মানুষগুলোকে উচ্ছেদ করে স্থায়ী উদবাস্তু বানিয়ে দেওয়া হবে।  

ট্রাম্পের এই এঁটোকাঁটা কমিটি শুরুর আগে থেকেই প্রশ্নবিদ্ধ, বিগত ১০০ বছর ধরে আমেরিকার প্রমাণিত বন্ধু দলের কেউ নেই, যেমন সমগ্র পশ্চিম ইউরোপ বা কানাডা। ব্রিটেন, ফ্রান্স, ইতালি ও জার্মানি রীতিমতো লিখিতভাবে এই কমিটিতে না থাকার কথা ঘোষণা দিয়েছে। ট্রাম্প ভারত ও চীনকে ডাকলেও, আজকের দিন অবধি সেই আমন্ত্রণকে দুই দেশের কেউ নূন্যতম গুরুত্ব দেয়নি। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এটিকে জাতিসংঘের বিকল্প হিসেবে দেখছে, ফলে আন্তর্জাতিকভাবে আরেক বিতর্কের জন্ম হয়েছে। 

অবশ্য জাতিসংঘ নামের সাদা হাতিটা কী কারণে রয়েছে নিয়ে প্রশ্ন তোলা বারণ। আরব বসন্তের নামে তিউনিসিয়া, মিশর, লিবিয়া, ইয়েমেন এবং সুদানে সরকার ফেলে দিলেও এরা চোখ বন্ধ করে থাকে। ইরাক ও লিবিয়া নামের পেট্রোলিয়াম সম্পদে ভরপুর দেশগুলোতে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার নামে তাদের দেউলিয়া ভিখারি বানিয়ে দেওয়া যায়। অনায়াসে সুদান ইয়েমেনকে কেটে দু’টুকরো করে দেওয়া যায়, সিরিয়ার শাসক উৎখাত করা যায়, নাইজেরিয়ার গৃহযুদ্ধ বা ইউক্রেন যুদ্ধ চালিয়ে গেলেও- গান্ধীজীর বাঁদরের মতো চোখ, কান, মুখ বন্ধ করে থাকা যায়। আর্মেনিয়া, আজারবাইজান কিংবা লাওস, কম্বোডিয়া যুদ্ধ- যখন ইচ্ছা শুরু ও বন্ধ করা যায়। 

ভারত পাকিস্তান সংঘাতের ব্যাপারে যত কম বলা যায় ততই সময় বাঁচে। গুচ্ছের উদাহরণ টেনে আলোচনাটা বড় না করে বরং ঘরের পাশের বাংলাদেশের দিকে তাকালেই দেখা যায়, ইচ্ছামতো সরকার ফেলা বা ইচ্ছামতো অন্য দেশের নাগরিক এনে মন্ত্রীসভা তৈরি করে পৃথিবীর অন্যতম চলমান অর্থনীতিকে পথে বসিয়ে দেওয়া যায়। রাষ্ট্রপুঞ্জ বা জাতিসঙ্ঘ এটাই করে এসেছে শুরু থেকে, যা আমেরিকারই তৈরি ছিল। আজকের এই বহুমেরু পৃথিবীতে, আমেরিকা বা ইজরায়েলের দাদাগিরির বিরুদ্ধে জাতিসঙ্ঘের সভাতে প্রতিবাদ হচ্ছে রোজই, তাই নিজের তৈরি সংস্থাকেই বাইপাস করে আবার একটা নতুন ফাঁদ পেতেছে এই নতুন এঁটোকাঁটা কমিটির মাধ্যমে। 

ঠিক এই মুহূর্তে বিশ্বজুড়ে ৬৭ টি যুদ্ধ বা সংঘাত বা উত্তেজনা চালু থাকার পরও, যে সংস্থার মুখে সেলোটেপ মারা থাকে, তার মরে যাওয়াই ভালো। সদস্যদের কার ভেটো পাওয়ার আছে, কার নেই, কী তার উদ্দেশ্য- সেসব নিয়ে বিশ্বের বেশিরভাগ লোকের আজ আর মাথাব্যথা থাকার কথা নয়। একটা স্বাধীন সার্বভৌম দেশের ঘরে ঢুকে, তাদের রাষ্ট্রপতিকে তুলে এনে নিজের কারাগারে বন্দি করে দিলেও, গুটিকয় রাষ্ট্র ছাড়া বাকি সবাই যখন চুপ থাকে, তখন জাতিসঙ্ঘ আসলে আন্তর্জাতিক প্রহসনের সার্কাস হয়ে যায়। 

আধিপত্য টিকিয়ে রাখার নেশায়, বিশ্বজোড়া মানুষের ক্ষোভ বিক্ষোভকে পরিমাপ করতে আর অর্থনীতির উপর নতুন করে নিয়ন্ত্রণ আনার প্রচেষ্টায় নতুন কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার বাসনা জন্মায় বটে। এহেন পরিস্থিতিতে আরেকটি আধিপত্যবাদী সমান্তরাল সংস্থার জন্ম হবে, এমন চিন্তার মেঘ উত্তর আটলান্টিকের পশ্চিম পাড়ে অনেক আগেই দানা বেঁধে ছিল; তাই এই পিস ফোরাম এর ভূমিষ্ঠ হওয়াটা মোটেই আশ্চর্য হওয়ার নয়। তবে অন্য সমস্যাও আছে, এই এঁটোকাঁটা কমিটির স্থায়ী সদস্য হতে প্রতি দেশকে নগদ ১০০ কোটি ডলার দিতে, এটাই বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শেষ অবধি এই টাকা কতজন দেশ দেবে তা নিয়েও ঘোর সন্দেহ রয়েছে।

হরমুজ প্রণালী পারস্য উপসাগরকে যুক্ত করেছে আরব সাগরের সঙ্গে। এই পথ দিয়ে প্রবাহিত হয় বিশ্বের মোট এলপিজি গ্যাসের তিন ভাগের একভাগ আর কাঁচা তেলের ৩৫ শতাংশ। প্রতিবছর ৯৪ হাজার জাহাজ চলাচল করে এই পথে। এশিয়ার সঙ্গে উত্তর আতলান্তিকের তীরে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের প্রধান দেশগুলির জলপথ বাণিজ্যের একমাত্র পথ সুয়েজ ক্যানেল। বসফরাস প্রণালী রাশিয়া এবং ইউক্রেনের কৃষি ও জ্বালানি বাণিজ্যের ভূমধ্যসাগরীয় একমাত্র সংযোগ পথ। সুতরাং, সমস্যা এখানেই বাঁধাবে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী হিংস্র থাবা।

বোর্ড অফ পিস ব্লকে সই করা রাষ্ট্রগুলির মাধ্যমে, আসলে কম্পিয়ান সাগর, আরল সাগর, কৃষ্ণসাগর, মারমরা সাগর, সর্বোপরি ইউরোপ, আফ্রিকা, এশিয়ার সবদিক থেকে ভূমধ্যসাগরের উপর নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে কের্চ প্রণালী, বসফরাস প্রণালী, দার্দানেলিস প্রণালী, পার্শিয়ান গাল্ফ, গাল্ফ অফ এডেন, লোহিত সাগর, গাল্ফ অফ আরব, জিব্রাল্টার প্রণালী, আরব সাগর, দক্ষিণ চীন সাগর ও গাল্ফ অফ থাইল্যান্ড, পূর্ব থেকে পশ্চিমের বাণিজ্য পথে সংযোগকারী মালাক্কা প্রণালী, সর্বপরি দক্ষিণ আতলান্তিক মহাসাগরের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করার কুনাট্য মঞ্চস্থ করা হচ্ছে। 

দৃষ্টি আরেকটু পরিষ্কার করলেই দেখা যাচ্ছে BRICS নতুন মুদ্রা চালু হবার আগে বা BRICS বাণিজ্য জোট সম্পন্ন হওয়ার আগেই বর্তমানে BRICS-এর মধ্যে পূর্ণ সদস্য দেশ গুলির মধ্যে ভাঙ্গন ধরিয়ে ধরিয়ে BRICS-এর উপর থাবা মারার প্রয়াসের অংশ এটা। BRICS এর ১০টি পূর্ণ সদস্য দেশের তালিকায় চোখ বুলালে ব্যাপারটা আরও পরিষ্কার হবে। ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন, দক্ষিণ আফ্রিকা, মিশর, ইথিওপিয়া, ইরান, ইন্দোনেশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত। শান্তি চুক্তি জোটের নামে রাশিয়া, চীন, ভারত, ইরান, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ব্রাজিলের বাণিজ্য পথের উপরে নিয়ন্ত্রণ করার প্রচেষ্টা শুরু করেছে।

চলুন আরেকবার ভিয়েতনামে ফিরি, Đổi Mi নীতি প্রয়োগের মাধ্যমে, ঘোষিত সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র হয়েও, মুক্ত বাজার অর্থনীতিকেই সমাধানের একমাত্র পথ হিসাবে আঁকড়ে ধরে। পদক্ষেপ হিসাবেঃ- 

 

১) অবাধ বিদেশি বিনিয়োগের অনুমতি

২) প্রতিটি বেসরকারি উদ্যোগে নানান ধরণের কর ছাড়

৩) রপ্তানিমুখী শিল্পের উপরে জোর দেওয়া। 


একই সাথে বিদেশ নীতির ১৮০ ডিগ্রী পরিবর্তন করে যুদ্ধের ২০ বছরের মাথায় পুঁজিবাদী আমেরিকার জন্য রেড কার্পেট পেতে দেয় ভিয়েতনাম। US–Vietnam কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের ফলে ASEAN অঞ্চলে আমেরিকার প্রভাব বাড়তে থাকে।

ধীরে ধীরে US–Vietnam Trade Agreement আর ভিয়েতনামের WTO সদস্য পদ গ্রহণের মধ্যে দিয়ে, ভিয়েতনাম গ্লোবাল সাপ্লাই চেইনের অংশ হিসাবে আমেরিকান কোম্পানিগুলো গার্মেন্টস, ইলেকট্রনিক্স, চিপ অ্যাসেম্বলি ইউনিট চীন থেকে ভিয়েতনামে সরিয়ে নিয়ে আসে। কৌশলগত সহযোগিতার নামে মার্কিন সামরিক প্রশিক্ষণ ও গোয়েন্দা সহযোগিতা শুরু হয়, ভিয়েতনামের উপর থেকে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা প্রতাহার, US Navy র ভিয়েতনাম বন্দরে প্রবেশ, একই সাথে South China Sea এ তেল, গ্যাস, মৎস্য নিয়ে চীন ও ভিয়েতনামের বিরোধও শুরু হয়। রিমোট কন্ট্রোলে কলকাঠি নেড়ে চীনকে রুখে দিতে ভিয়েতনামের মাধ্যমে মার্কিন প্রয়াস চালু হয়। সুতরাং, এই আমেরিকাপন্থী অবস্থানের কারণেই, কয়েক হাজার কিলোমিটার দূরে থাকা নিতান্ত সম্পর্কহীন, গাজা শান্তি চুক্তির বোর্ড অফ পিসে সই করার জন্য মনোনীত করা হয়েছে ভিয়েতনামকে। বাকি ২৫টা দেশের ব্যাপারেও এভাবে ধরে ধরে বিশ্লেষণ করাই যায়, তাতে লেখনি লম্বা হবে মাত্র।

সাম্প্রতিককালে ইরানের উদ্দেশ্যে লিবিয়ার প্রাক্তন শাসক, গাদ্দাফি কন্যার একটি চিঠি প্রকাশিত হয়। সেখানে উনি খোলা চিঠিতে ইরানের জনগণের উদ্দেশ্যে আবেদন জানিয়ে বলেন, কীভাবে মার্কিন ফাঁদে পা দিয়ে তার বাবা লিবিয়ার মতো একটি সমৃদ্ধ অর্থনীতির সর্বনাশ ডেকে এনে, নিজের জীবন দিয়ে শেষে সর্বস্বান্ত লিবিয়াকে ফেলে রেখে যেতে বাধ্য হয়েছিল। হয়তো আগামী দিনে ভিয়েতনাম বা অন্য দেশ থেকেও থেকেও এরকম কোন চিঠি প্রকাশিত হবে, তখন অবশ্য অনেক দেরি হয়ে যাবে। প্রবাদ বাক্যে ন্যাড়া বেলতলা দিয়ে একবার যায়, কিন্তু বাস্তবের ভিয়েতনামেরা বারবার যায়।

বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার তথাকথিত মুরুব্বি রাষ্ট্রসঙ্ঘ, পরমাণু শক্তিধর সামরিক জোট ন্যাটো, বিশ্ব বাণিজ্যের নিয়ন্ত্রক বলে পরিচিত ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন, মোল্লা রাজাদের মধ্যপ্রাচ্য ও খোদ ইসরাইল অবধি, আজ প্রত্যেকেই হাড়ে হাড়ে অনুভব করছে, মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ আসলে কী এবং তা কতটা নির্মম ও স্বার্থান্ধ হতে পারে।

বামপন্থীরা বহু ক্ষেত্রে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি- এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই। নীতি ও আদর্শের সামান্য বিচ্যুতিকেও অনেক সময় অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়ার ফলে তাদের নিজেদের মধ্যেই ঐক্যের অভাব দেখা দিয়েছে। এর ফলেই হয়তো পৃথিবীর বুকে যে মাত্রার রাজনৈতিক ও সামাজিক আধিপত্য তারা বিস্তার করতে পারত, তা পুরোপুরি সম্ভব হয়ে ওঠেনি। কিন্তু এই সীমাবদ্ধতার মধ্যেও, দূরদর্শী বামপন্থীরা যে একটি ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী কুশলতার পরিচয় দিয়েছে, তা হলো মার্কিন সাম্রাজ্যবাদকে সময়ের অনেক আগেই সঠিকভাবে চিহ্নিত ও বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা। এই বোধ ও সতর্কতা পৃথিবীর অন্য কোনো গোষ্ঠী, সংগঠন বা মতাদর্শ সেই সময়ে দেখাতে পারেনি। বরং তারা ভুল সিদ্ধান্ত ও ভ্রান্ত মূল্যায়নের ফাঁদে পড়ে সময়ের স্রোতে ধীরে ধীরে বিলীন হয়ে গেছে।

 

শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬

সোনার দাম কেন বাড়ছে?


 সোনার দাম কেন বাড়ছে?


🔰 সোনার দাম কেন বাড়ছে? 🔰


এর কারণ পুরোটাই অর্থনৈতিক এবং আমেরিকান ডলারকেন্দ্রিক। কোনো জিনিসের দাম নির্ভর করে ‘ডিমান্ড আর সাপ্লাই’ এর সামঞ্জস্যতার উপরে। চলুন সংক্ষেপে একটু ব্যাখ্যা করা যাক।


বিজ্ঞানীদের ভাষ্যমতে, সমগ্র পৃথিবীর সোনা এক জায়গায় করলে সেটা ২৩ ঘনমিটার জায়গার মধ্যে সবটুকু চলে আসবে। মানে একটা মাঝারি সাইজের আলুর কোল্ডস্টোরের মধ্যে পৃথিবীর সমস্ত সোনা, হ্যাঁ সমস্ত সোনা ঢুকে যাবে। সোনা যেহেতু গাছে ফলে না বা ফ্যাক্টরিতে প্রোডাকশন করা যায় না, তাই সোনার সাপ্লাই বা পরিমাণ নির্দিষ্ট বা ধ্রুবক। গোল্ডমাইন থেকেও উৎপাদন অতি নগণ্য এবং ভীষণ ব্যয় বহুল; বাকিটা কেবল হাতফেরৎ হয়। সুতরাং, সভ্যতার শুরু থেকে আজ অবধি সোনার পরিমাণ খুব বেশি বাড়েনি, আগামীতেও বাড়বে সেই সম্ভাবনাও ক্ষীণ বা নেই। তাহলে এই মূল্যবৃদ্ধির একমাত্র কারণ- ডিমান্ড বৃদ্ধি।

 

এখানেই প্রশ্ন, রাতারাতি কে এই ডিমান্ড বাড়ালো? আমি আপনি কি বিপুল সোনা কিনেছি? উত্তরটা হলো- না। তাছাড়া আমরা যদি কিনতামও, সেই দু-দশ ভরি কেনাকাটায় দামে অতি সামান্য হেরফের হতো, যেমনটা গত শতাব্দীতে হতো। স্বাভাবিক বাজারে কেউ যেমন কিনছে, তেমন আরেক জন আবার বিক্রিও করছে, এই ভাবেই বাজারের স্থিতাবস্থা বজায় থাকে। কিন্তু বর্তমানে একটা শ্রেণি রয়েছে যারা সোনাটা কিনে মজুদ করে ফেলছে, সেটা পুনরায় আর বাজারে ফেরৎ আসছে না, ফলতো অবশিষ্ট সোনাটুকুর জন্য অন্যজন অনেক বেশি দাম অফার করছে; এভাবেই দাম বাড়ছে।

 

তাহলে কারা সোনাটা কিনে মজুদ করছে? এটা জানতে গেলে ইতিহাসের দিকে তাকাতে হবে।


দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ‘ব্রেটন উডস’ সিস্টেমের নামে শয়তানি করে বিশ্বের প্রায় ৭৩% সোনা আমেরিকা তাদের দেশে নিয়ে চলে যায় নানান ছলচাতুরি করে, পরবর্তীতে যা তারা আত্মসাৎ করে দেয়। কীভাবে নিয়ে গিয়েছিল তা লিখতে বসলে টন টন কাগজ লাগবে, এত বড় সেই শঠতার ইতিহাস। আগামীতে কখনও সে নিয়ে লেখা যেতেই পারে, শুধু এটুকু জেনে রাখুন সেই সোনার পরিমাণ প্রায় সাড়ে আট হাজার টন, কল্পনাতীত। পরবর্তীতে বাকি দেশগুলো যখন তাদের সোনা ফেরৎ চায়, তাদের রাষ্ট্রপ্রধানদের বন্দুকের ডগায় রেখে, সেই সোনার বিনিময়ে কাগুজে বন্ড ইস্যু করে আমেরিকা- বিনিময়ের ‘ইনস্ট্রুমেন্ট’ হিসাবে’, একেই আমরা ডলার বলে চিনি।


আমাদের দেশের টাকাতেও লেখা থাকে- "চাহিবা মাত্র ইহার বাহককে দিতে বাধ্য থাকিবে"। অর্থাৎ টাকা একটা সরকারি হাতচিঠি বৈ কিছু নয়। নোটের নিজস্ব কোনো মূল্য নেই, রাষ্ট্র নিজে জামিনদার থেকে ওই ‘টাকা’ নামের কাগজটাকে আসল সম্পদের প্রতিরূপ হিসাবে হিসাবে মূল্যবান করে তোলে। এই হিসাবে দেশে যত টাকা আছে, তত পরিমাণ সম্পদ তথা সোনা/রূপা থাকা উচিৎ। কিন্তু তা নেই, কারণ সোনা আছে আমেরিকার কাছে, তার পরিবর্তে আমেরিকা ডলার দিয়ে রেখেছে, ডলারই আমাদের সহ গোটা বিশ্বের প্রতিটা দেশের সঞ্চিত সম্পদ। কারণ ডলার ছাড়া কোনো দেশ জ্বালানি তেল কিনতে পারবে না কোথাও থেকে, এই জন্যই ডলারের অপর নাম পেট্রোডলার।


পেট্রোডলার কীভাবে শুরু হয়েছিল? ১৯৭৩-১৯৭৪ সৌদির মোল্লাদের সাথে আমেরিকা একটা চুক্তি করে। সৌদি আরব তার দেশের 'পেট্রোল/ডিজেল' শুধুমাত্র আমেরিকান ডলারের মাধ্যমে বিক্রি করবে, অন্য কোন কিছু বিনিময় মূল্য হিসাবে দিলে, সৌদি সরকার তাকে তেল দেবে না। এর বিনিময়ে আমেরিকা সৌদি আরবকে অস্ত্রশস্ত্র, প্রযুক্তি ইত্যাদি দিয়ে সামরিক ও সামাজিক নিরাপত্তা দেবে। যে কারণে গত ৫০/৬০ বছর ধরে মধ্যপ্রাচ্যের সর্বত্র অশান্তির আগুন জ্বললেও সৌদিতে নূন্যতম কোনো অশান্তি হয়নি। কারণ অশান্তি যে পাকায়, সেই আমেরিকাই সৌদির পাহারাদার, অশান্তি করবে টা কে!


অন্যান্য পেট্রোলিয়াম সমৃদ্ধ দেশ যারা এই ডলার ভিন্ন অন্য মুদ্রা কিম্বা সোনার বিনিময়ে তেল বিক্রি করতে গিয়েছিল, তাদের সকলকে আমেরিকা শেষ করে দিয়েছে নানা বাহানাতে। সেটা লিবিয়ার গাদ্দাফি হতে পারে, ইরাকের সাদ্দাম হোসেন হতে পারে কিংবা বর্তমানে ভেনেজুয়েলার মাদুরো; চোখের সামনে এইসব জ্যান্ত উদাহরণ রয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধেও এতো ক্ষোভের মূল কারণ এটাই, তারা ডলার ছাড়া তেল বেচছে ইন্ডিয়ান রুপি, রাশিয়ান র‍ুবেল ও চীনা ইউয়ানে।


আজকের দুনিয়ায় জ্বালানি তেল ছাড়া গোটা সভ্যতা অচল, সুতরাং প্রতিটা দেশকে তেল কেনার জন্য ‘ডলার’ কিনতেই হতো আমেরিকার কাছ থেকে, পাশাপাশি মজুদও রাখতে হতো। যেহেতু বিশ্বের সকলের কোষাগারে ডলার মজুদ আছে ‘তেলের’ ক্রেতা-বিক্রেতা নির্বিশেষে, অচিরেই বিশ্বের যেকোনো দুটো দেশের নিজেদের মাঝের ব্যবসা-বাণিজ্যও ডলারের মাধ্যমেই হতে শুরু করে দিয়েছিল। এভাবেই ডলার বৈশ্বিক মুদ্রা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করে রেখেছিল, যুদ্ধ বোমা বন্দুকের ভয় দেখিয়ে পেট্রোডলারের মাধ্যমে। এতে করে বিশ্বের যে কেউ যে কোনো আন্তর্জাতিক ব্যবসা করুক, আমেরিকা সেখান থেকেই একটা কাটমানি খেতো।


গত পাঁচটা দশক ধরে আপনার কাছে যে ধরনের মুদ্রায় থাক কিংবা সোনাদানা মোহর হিরে জহরত, কোনো কিছু দিয়ে আপনি তেল কিনতে পারেননি কিংবা বিনা ডলারে একটিও বৈদেশিক বাণিজ্য করতে পারেননি। এই সবকিছু সোনাদানা হিরে জহরতের বিনিময়ে আপনাকে আমেরিকার কাছ থেকে ডলার কিনতে হতো। আমাদের সরকার আমেরিকাকে সোনা দিত আর আমেরিকা সেই সোনার বিনিময়ে ডলারের নামে কাগজ ছাপিয়ে দিত। ফলত এতদিন সোনার থেকেও ডলার বেশি মূল্যবান ছিল।


মজার কথা হলো, ২০২৪ জুনের ৯ তারিখ সৌদির সাথে করা সেই পেট্রোডলার চুক্তি শেষ হয়ে গিয়েছিল, সেটাকে টেনে দেড় বছর আনঅফিসিয়ালি চালাচ্ছিলো। কিন্তু এই জানুয়ারির ৯ তারিখ সৌদি আরব এই চুক্তিকে নবায়ন করতে মানা করে দিয়েছে, সরকারিভাবে। এতেই আমেরিকা পড়েছে তাদের সাম্রাজ্যের ইতিহাসে সবচেয়ে গভীর অস্তিত্ব সংকটে, ওয়াশিংটন/নিউইয়র্কে হাহাকার পড়ে গেছে, তারা মরিয়া ক্ষ্যাপা কুকুর হয়ে উঠেছে ইরাণে যুদ্ধ লাগাবার জন্য, ভেনেজুয়েলা বা গ্রীনল্যান্ড দখলের জন্য। কে বলতে পারে, ইরানের নামে বোমাবারুদ জড়ো করে আসলে যুদ্ধটা সৌদিতেই না লাগিয়ে বসে উন্মত্ত আমেরিকা।


ঠিক আজকের দিনে গোটা বিশ্বের অর্ধকের বেশি পেট্রোলিয়াম বাণিজ্য তথা জ্বালানি তেল বিক্রি হচ্ছে স্থানীয় মুদ্রায় বা পণ্য বিনিময় প্রথার মাধ্যমে। ধরা যাক ভারত, আমরা তেলের দাম সৌদি আরবকে রুপিতে পেমেন্ট করছি অথবা চাল, আনাজ, শস্য কিংবা কয়লা দিচ্ছি। পাশাপাশি শ্রীলংকা সিংহলি মুদ্রার বিনিময়ে তেল কিনছে, চীন তাদের মুদ্রা ইউয়ানে কিনছে। কারো কাছে ডলারে কেনাটা আজ আর বাধ্যতামূলক নয়, ফলত ডলার রোজ একটু একটু করে গুরুত্বহীন হয়ে যাচ্ছে মূল্য হারিয়ে।


যেমন আমাদের দেশে ৫০০/১০০০ টাকার নোট দেশের রিজার্ভ ব্যাঙ্ক বাতিল করে দিতেই সেগুলো বাজে কাগজে পরিণত হয়েছিল, রাশিয়ার ক্ষেত্রেও এমনটা হয়েছে। আমেরিকা রাশিয়া দ্বন্দ্বের কারণে, রাশিয়ার সেন্ট্রাল ব্যাঙ্কে সঞ্চিত ডলার ছিল, সেগুলোকে আমেরিকা রাতারাতি বাতিল করে দিয়েছে, যেমনটা গত সপ্তাহে ইরানের সাথেও করেছে। আমেরিকার এই গুন্ডামি দেখে বিশ্বের বাকি দেশগুলোর কপালে ভাঁজ পড়েছে। আমাদের যেমন রিজার্ভ ব্যাঙ্কে ডলার মজুদ আছে, প্রতিটা দেশের রিজার্ভ ব্যাঙ্কেও তাই আছে, কিন্তু আমেরিকার এই দাদাগিরির ভয়ে আজকের দিনে প্রতিটা দেশ শঙ্কিত, এমনকি তাদের মিত্র ইউরোপও ব্যতিক্রম নয়।


তাই পেট্রোডলার চুক্তি শেষ হবার কিছু আগে থেকেই ডলার ছেড়ে দেওয়া বা নতুন করে ডলার না কেনার ধুম পরে গিয়েছিল বিশ্বজুড়ে, ২০২৪শে চুক্তি শেষ হতে সেটা মহামারীর আকার ধারণ করেছে। নতুন করে কেউ আর ডলার কিনছে না, বরং যেগুলো আছে সেগুলোও ছেড়ে দিচ্ছে। এদিকে ডলারের বিপরীতে বিকল্প কোনো মুদ্রা বৈশ্বিক ভরষা যোগাড় করে উঠতে পারেনি, ব্রিকসও নতুন মুদ্রা বাজারে আনতে পারেনি। ফলত প্রতিটা দেশ ডলারের বদলে, আসল সম্পদ ‘সোনা’ মজুদ করছে, তাদের দেশজ সঞ্চয় ভান্ডারের জন্য।


সুতরাং, গোটা বিশ্বজুড়ে প্রতিটা দেশ সোনা মজুদের দিকে নজর দিতেই বাজার থেকে সোনা কমতে শুরু করেছে এবং পরিমাণ যত কমতে থাকছে, অবশিষ্ট সোনার দাম তত চড়তে থাকছে। পৃথিবীর প্রতিটা দেশের রিজার্ভ ব্যাঙ্ক, নিজেদের সামর্থ্য মত টন টন সোনা কিনে মজুদ করছে। যেমন আমাদের ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কে ৮৮০ টন সোনা মজুদ রয়েছে, যা দৈনিক আরও বাড়াচ্ছে আমাদের সরকার। ডলারের এই পরিস্থিতিতে শেয়ার মার্কেটও টালমাটাল, আমেরিকা যখন তখন যার তার উপরে স্যাংশন/ট্যারিফ লাগিয়ে দিচ্ছে, সর্বক্ষণ যুদ্ধ পরিস্থিতি। তাই বড় শিল্পপতি, পুঁজিপতিরাও সেফ ইনভেস্ট হিসাবে সোনাতে লগ্নি করছে। কারণ সোনার দামের উপরে আমেরিকা বা অন্য কোনো দেশের নিয়ন্ত্রণ নেই, সোনা প্রতিটা দেশে প্রতিটা যুগে প্রতিটা সাম্রাজ্যে প্রতিটা ব্যক্তির কাছে সম্পদ হিসাবে মুল্যবান।


পদার্থ বিজ্ঞান বলছে- পতনশীল বস্তুর গতি সময়ের সাথে সমানুপাতিক হারে বৃদ্ধি পায়, মার্কিন ডলারের পতনও রোজ বাড়বে। ডলারের এই পতনের সাথে সোনার মূল্য বৃদ্ধিও সমানুপাতিক; উল্টোটাও সঠিক- সোনার মূল্য বৃদ্ধির সাথেও ডলারের পতন সমানুপাতিক। এই যে ডি-ডলারাইজেশন পদ্ধতির মধ্যে দিয়ে বিশ্ব ব্যবস্থা যাচ্ছে, এটা আমেরিকাকে ভেতর থেকে ফোকলা করে দিচ্ছে প্রতি মুহূর্তে, যে কারণে ডোনাল্ড ট্রাম্প মাতালের মতো আচরণ শুরু করেছে।


সোনার এই মূল্যবৃদ্ধি আসলে পাঁচ লাখে থামবে না দশ বিশ লাখে লাফ দেবে, সেটা আজকের দিনে বলা অত্যন্ত মুশকিল। আমেরিকা তার সঞ্চিত সোনা বাজারে না ছাড়া অবধি সোনার দাম রোজ লাফ দিয়ে বাড়তেই থাকবে। তবে, আমেরিকাও যখন নিজেদের সোনা বিক্রি করতে লাগবে, তখন সে উচ্চ মূল্যেই বিক্রি করবে, আর এটা তাকে করতেই হবে। যে হারে গোটা বিশ্ব ডলারকে পরিত্যাগ করছে, সেই হার চলতে থাকলে দু'এক মাসের মধ্যে আমেরিকাকে তাদের রিজার্ভে থাকা ওই সাড়ে আট হাাজার টন সোনা ধীরে ধীরে বাজারে ছাড়তে হবে। এছাড়া আমেরিকার বিন্দুমাত্র বিশ্বাসযোগ্যতা নেই বাজারে, তাই ডলার নামের অস্ত্র দিয়ে বিশ্বকে লুট করার দিন তার আর ফিরবে না।


আমেরিকা ৫০ টা ভাগে ভাগ হওয়া শুধু সময়ের অপেক্ষা, যে কোনোদিন ভোর বেলায় উঠে শুনবেন মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ আর নেই। অস্ত্র ছাড়া আমেরিকার নিজস্ব কোনো উৎপাদন নেই, তারা বিশ্বের নানা দেশ থেকে মালপত্র নিয়ে এসে বড়জোর এ্যাসেম্বল করে কিম্বা অন্যের পণ্য মার্কেটিং করে নিজেদের লোগো লাগিয়ে। আমেরিকার রিজার্ভ সোনা বাজারে আসতে শুরু করলেই তাদের ‘ফোলানো ফাঁপানো’ কোম্পানিগুলো মুখ থুবড়ে পড়বে, শেয়ার বাজার রাতারাতি ক্রাশ করে যাবে।


আমেরিকাতে গৃহযুদ্ধ লেগে যাওয়া সময়ের দাবী। তবে সেটা আটঁকাতে হলে আমেরিকাকে রাতারাতি অন্যত্র যুদ্ধ লাগাতেই হবে, যাতে অস্ত্র বিক্রি করতে পারে। নতুন একাধিক দেশ খুঁজতে হবে যেখান থেকে সম্পদ লুঠ করতে পারে, এবং ডলারকে পুনরায় বিশ্ব বানিজ্যের মুখ্য ও একমাত্র বিনিময় মুদ্রা রেখে দেওয়ার বিনিময়ে কাটমানি খেতে পারে। আর এগুলোর তিনটেই একসাথে করতে হবে, একটাতেও ব্যর্থ হলেই খেল খতম। কিন্তু আজকের বৈশ্বিক রাজনীতিতে চীন ও রাশিয়া~ আমেরিকার বিরুদ্ধে থাকা সমশক্তির পরাশক্তি, তাই গেলাম আর জয় করলাম- এমন একতরফা হওয়ার নয়। অতি শীঘ্র অতীতের স্প্যানিশ সাম্রাজ্য, ব্রিটিশ সাম্রাজ্য, উসমানীয় সাম্রাজ্যের মতো ইতিহাসের এক কোণে আস্তাকুঁড়ে ঠাই পাবে ‘প্রতারক ও লুঠেরা’ মার্কিন পশ্চিমা সভ্যতা।


আপনার বাজারে সোনার দাম বাড়ার এর সাথে আমেরিকার পতন অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত বা বলা ভালো দুটোই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। তবে সোনার দাম আগামী ৫/৭ বছর আর কমছে না, বাড়তেই থাকবে, বাড়তেই থাকবে, যতক্ষণ না সম্পদ জনগণের ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যায়।


ফেসবুকীয় সিপিএমঃ ফিউজড আইনগাইডেড কামিকাজে ড্রোন

  ফেসবুকের ‘সিপিএম’ নামক এই চুড়ান্ত আঁতেল ও প্রায় সর্বজ্ঞ গোষ্ঠীটার পূর্ণ বোধোদয় বা পূর্ণ বিনাশ না ঘটা অবধি রাজ্যের বাম নেতৃত্বের খুব বেশী ...