অর্থনীতি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
অর্থনীতি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

Board of Peace, কি ও কেন?


 

Board of Peace, কি ও কেন?

 

মূলত গাজায় যুদ্ধবিরতি তদারকি এবং পুনর্গঠনের লক্ষ্যে ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে সুইজারল্যান্ডের দাভোস শহরে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সাইডলাইনে এই কাউন্সিলটি আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে, ডোনাল্ড ট্রাম্প তথা আমেরিকার নিজস্ব ও একান্ত উদ্যোগে। বর্তমানে সদস্য হিসেবে ২৬টি দেশ যুক্ত হয়েছে। এই হলো যুদ্ধবাজ আমেরিকার ‘শান্তি কমিটি’ স্থাপনের ইতিবৃত্ত, এ যেন মমতা ব্যানার্জীর উদ্যোগে ‘চোর ও কাটমানিখোর মুক্ত রাষ্ট্র’- এমন নামের সংগঠন তৈরি হওয়া।

পেট্রোডলারের সমাপ্তি, গোটা বিশ্বজুড়ে প্রতিটা দেশের ডি-ডলারাইজেশন এবং BRICS এর উত্থান গোটা আমেরিকার মাথা নষ্ট করে দিয়েছে, ডোলান্ড ট্রাম্প সেই আতঙ্ক সূচকের নমুনা মাত্র। ‘সুপার পাওয়ার’ শব্দটা বিষয়ে আমাদের সকলের সুপার ইলিউশন রয়েছে, এর অন্যতম কারণ আমেরিকার প্রোপ্যাগান্ডা মেশিনারি। গত ৭৫ বছরে ‘সুপার পাওয়ার’ আমেরিকা, তাদের শুরু করা প্রতিটা যুদ্ধ, হয় শেষ হওয়ার আগেই পালিয়েছে আফগানিস্তানের মতো, কিম্বা গোহারা হেরে মুখ লুকিয়ে মজন্তালি সরকারের মতো হাত উঁচিয়ে বলেছে জিতেছি- উদাহরণ ভিয়েতনাম। এপস্টিন ফাইলস পশ্চিমা ক্ষমতাধর ও বিত্তশালীদের তথাকথিত মানবতা, নারী ক্ষমতায়ন আর গণতন্ত্রের বুলি আওড়ানোকে প্রহসনে পরিণত করে, একটা মিথ্যুক বেহায়া ন্যাংটা হিসাবে উন্মোচিত করে দিয়েছে। ইতিহাস লেখা হয় বিজয়ীদের কলমে, এই ন্যাংটারা তাদের নিজেদের সুমহান উন্নত ও সভ্য হিসাবে দেখিয়ে এসেছে, আমরা সেটাকেই অমৃত ভেবে চেটেপুটে খেয়ে চলেছি।

তোমার নাম আমার নাম ভিয়েতনাম ভিয়েতনাম, ছোটবেলায় খুব শুনতাম বামপন্থীদের মুখে। সেই ভিয়েতনাম আজকে আর বামপথে নেই, যুদ্ধ পরবর্তী ভিয়েতনাম ‘Doi-Moi’ বা যাকে বাংলাতে বলে সংস্কার, অর্থাৎ অর্থনীতিকে মার্কিনীদের পায়ে সঁপে দেওয়ার প্রক্রিয়াতে চলে গিয়েছিল, যেমন ভাবে নব্বই এর দশকের শুরুতে গর্বাচেভের রাশিয়া ‘পেরেস্ত্রেইকা’ লাগু করেছিল। সুতরাং, আজকের ভিয়েতনাম আসলে মার্কিনীদের পোষা কুত্তার বেশি কিছু নয়, ফলত ২০ তম দেশ হিসাবে তারা ট্রাম্পের এই ‘এঁটো-কাঁটা’ কমিটিতে থাকবে, এতে আর আশ্চর্য কোথায়! ভিয়েতনামে আবার শেষে ফিরছি।

বাকি ২৫ টা দেশ কারা!  চলুন ম্যাপ অনুযায়ী একটু বোঝার চেষ্টা করি, কারণ বিশ্ব মানচিত্রে তাদের অবস্থানের তাৎপর্যই এখানে একমাত্র বিচার্য। নতুবা গাজার শান্তি নিয়ে প্যারাগুয়ে, মঙ্গোলিয়া, এল-সালভাদর, বেলারুশ বা কসভোর মতো দেশের কাজ কী? আজ ২ বছর ধরে গাজায় গণহত্যা চালাচ্ছে ইজরায়েল, এ বিষয়ে এদের কোনো বক্তব্য ছিল বলে কেউ জানে? এদের সকলের মাথা ঘামানো, অনেকটা ওই ২১শে জুলাই কোলকাতায় ডিম্ভাত খেতে যাওয়ার মতো। আপনার যাওয়া বা না যাওয়া, কোনো কিছুর উপরেই ২১শে জুলাইয়ের মঞ্চে কারা থাকবে সেটা নির্ভর করে না। আপনি না বলতে পারবেন কেন ১৯৯৩ সালে ২১শে জুলাই সমাবেশ হয়েছিল, না উদ্যোক্তারা জানেন আপনার উপস্থিতির কথা। কিন্তু পাড়ার বদ্দা যেহেতু ডেকেছে, তাই আপনি যান, তেমনই এই দেশগুলো কমিটিতে আছে। মিছিলের পিছন থেকে জিন্দাবাদ বলার লোক তো চাই, এছাড়া এদের ফুটো পয়সার গুরুত্ব নেই এই এঁটোকাঁটা কমিটিতে, এরা কখনও বিশ্ব রাজনীতিতে শেষ ৩০০ বছরে নূন্যতম  গুরুত্বপূর্ণ ছিল না। 

 

১) চীনের উত্তর মাথায় স্থলবেষ্টিত চীন ও রাশিয়ার মধ্যেকার একমাত্র বিভাজক রাষ্ট্র মঙ্গোলিয়া।

২) কাস্পিয়ান সাগরের পূর্ব পাড়ের দুটি পূর্বতন সোভিয়েত রাষ্ট্র- কাজাকস্তান ও তারও দক্ষিণে থাকা উজবেকিস্তান। চীন এবং রাশিয়ার মধ্যে মধ্য এরাই এশিয়ার বৃহত্তম রাষ্ট্র। 

৩) কৃষ্ণসাগর আর কাস্পিয়ান সাগর এর মধ্যবর্তী ককেশীয় রাষ্ট্র, পূর্বতন সোভিয়েতের আজারবাইজান ও আর্মেনিয়া। 

৪) কৃষ্ণসাগর ও মারমারা সাগরের সংযোগস্থলের বসফরাস প্রণালী তথা ইস্তানবুল প্রণালী এবং মারমারা সাগর ও ভূমধ্যসাগরের সংযোগের রাস্তা দার্দানেলিস প্রণালীর নিয়ন্ত্রক রাষ্ট্র- তুরস্ক। 

৫) কৃষ্ণসাগরের পশ্চিম পাড়ে পূর্বতন সোভিয়েত নিয়ন্ত্রিত ইস্ট ব্লকের বুলগেরিয়া। তারই পশ্চিমে সার্বিয়ার দক্ষিণ মাথার বিতর্কিত অঞ্চলে তৈরি কোসোভো, ম্যাপে তার নিচে দীর্ঘ সমুদ্র সৈকত থাকা রাষ্ট্র আলবেনিয়া ও ইউরোপের কেন্দ্রবিন্দু হাঙ্গেরি। 

৬) পার্সিয়ান গাল্ফের পশ্চিম তীর ও গাল্ফ অফ আরবের পূর্ব পাড়, লোহিত সাগরের পূর্ব দিকে এশিয়া প্রান্তের নিয়ন্ত্রক রাষ্ট্র- সৌদি আরব।

৭) পার্সিয়ান গাল্ফের পশ্চিম তীরের নিয়ন্ত্রক সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার ও দ্বীপরাষ্ট্র বাহরাইন। 

৮) গাল্ফ অফ আরবের এর পূর্ব পাড়ের নিয়ন্ত্রক দুই রাষ্ট্রের অন্যতম জর্ডান।

৯) আতলান্তিকের উত্তর পাড় ও ভূমধ্যসাগরে দক্ষিণ মাথায় জিব্রাল্টার প্রণালীর অন্যতম নিয়ন্ত্রক আফ্রিকান রাষ্ট্র- মরক্কো। 

১০) ভারত, চীন ও ইরানের মাঝে আমেরিকান পরমাণু বোমার চৌকিদার, আরব সাগরের উত্তর পাড়ের রাষ্ট্র- পাকিস্তান। 

১১) বঙ্গোপসাগর এবং দক্ষিণ চীন সাগরের সংযোগকারী মালাক্কা প্রণালীর দক্ষিণ প্রান্তের নিয়ন্ত্রক রাষ্ট্র- ইন্দোনেশিয়া।

১২) দক্ষিণ আতলান্তিকের পশ্চিম পাড়ে দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রাষ্ট্র আর্জেন্টিনা, এবং ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার মধ্যের স্থলবেষ্টিত রাষ্ট্র প্যারাগুয়ে। মেক্সিকোর লেজের নিচে থাকা এল-সলভাদর। 

১৩) দক্ষিণ চীন সাগরের পূর্ব মাথায় চীনের গা থেকে শুরু করে গাল্ফ অফ থাইল্যান্ড অবধি বিস্তৃত- ভিয়েতনাম। ভিয়েতনামের আরেক পড়শি কম্বোডিয়া।

১৪) রাশিয়া আর ইউক্রেনের পড়শি স্থলবেষ্টিত বেলারুশ। 

১৫) আর এদের সকলের সাথে রয়েছে গাজার উপরে এই গণহত্যার নায়ক ইজরায়েল স্বয়ং।

 

ট্রাম্পের দাবী অনুযায়ী এই কাউন্সিলের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য- ফিলিস্তিনের গাজায় সংগঠিত গণহত্যার প্রেক্ষিতে ‘শান্তি ও পুনর্গঠন’। এখানে ফিলিস্তিন শব্দের কোনো উল্লেখ বা বক্তব্য কিছুই নেই। পাশাপাশি এটার মাধ্যমে গোটা বিশ্বকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়াও হলো যে, ওয়েস্ট ব্যাঙ্ক এবং গোলান উপত্যকায় শান্তি প্রতিষ্ঠা হয়ে গেছে; তাই বিশ্ব শান্তির লক্ষ্যে বিশ্বগুরুর দায়িত্ব কেবল- ইসরাইলের শরীরের মধ্যে এক টুকরো খাঁজের ভিতর কোনোমতে নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা এক ফালি কেকের মতো টুকরো ভূখন্ডিতে। গাজার সাইজ জানেন? লম্বায় ব্যারাকপুর থেকে জোকা, চওড়াতে বড়বাজার থেকে সল্টলেক, ব্যাস এতটুকুই মাত্র। এই লোকগুলোকে গুম খুন করে হাপিস করে না ফেললে, পালিয়ে প্রাণ বাঁচাবার একমাত্র জায়গা হচ্ছে মিশর, সেই মিশর কিন্তু এই কমিটিতে নেই। সুতরাং, একথা লেখার কোনো যুক্তি নেই যে গাজার নামে এই কমিটি বানালেও, এর উদ্দেশ্য কোনোভাবেই গাজা অন্তত নয়।

The UN chief has told states that the organization is at risk of “imminent financial collapse,” citing unpaid fees and a budget rule that forces the global body to return unspent money- এটা গত ৩০শে জানুয়ারি Times of Israel এ প্রকাশিত সংবাদ, গুগুলে খুঁজলেই পেয়ে যাবেন। অর্থাৎ জাতিসঙ্ঘ নামের সাদা হাতিটার ডেথ সার্টিফিকেট লেখাই আপাতত বাকি রয়েছে। অবশ্য তার মুরোদই বা কী ছিল!  গাজায় ১১২ বিলিয়ন ডলার লগ্নি হবে গাজাকে ‘লাক্সারি’ ভাবে পুনঃনির্মান করতে, যার আর্ধেক ৬০ বিলিয়ন দেবে আমেরিকা, বাকিটা সদস্য দেশ ও নানান লগ্নিকারী সংস্থা বিনিয়োগ করবে। 

এর অফিসয়াল নাম ‘প্রোজেক্ট সানরাইজ’, যার শীর্ষে রয়েছে ট্রাম্পের জামাই- জেরার্ড কুশনার। এই ‘রি-বিল্ড’ সময়কালে গাজার মানুষগুলোকে কোথায় সরিয়ে রাখবে? জবাব দেওয়ার কেউ নেই। পরবর্তীতে এই ‘লাক্সারি’ আল্ট্রা হাইটেক গাজা অদৌ সেখানকার অধিবাসীরা ফিরে পাবে? নাকি জেরুজালেম থেকে মাত্র ৬০/৭০ কিমি দূরের সমুদ্র সৈকত বিশিষ্ট গাজাকে একটা জনপ্রিয় টুরিস্ট ডেস্টিনেশন তথা বিজনেস হাব বানানো হবে? এক লক্ষ হাউজিং, ৭৫টা মাল্টি স্পেশালিটি হাসপাতাল, ২০০ আন্তর্জাতিক মানের ইস্কুল, ১৮০টা ধর্মস্থান এগুলো গাজার হাভাতে যুদ্ধ পীড়িতদের জন্য বানানো হচ্ছে? এসব অপ্রিয় প্রশ্নের উত্তর জাতিসঙ্ঘ দেয়নি, ট্রাম্পের এঁটোকাঁটা কমিটিও দেবে না, মাঝখান থেকে গাজার মানুষগুলোকে উচ্ছেদ করে স্থায়ী উদবাস্তু বানিয়ে দেওয়া হবে।  

ট্রাম্পের এই এঁটোকাঁটা কমিটি শুরুর আগে থেকেই প্রশ্নবিদ্ধ, বিগত ১০০ বছর ধরে আমেরিকার প্রমাণিত বন্ধু দলের কেউ নেই, যেমন সমগ্র পশ্চিম ইউরোপ বা কানাডা। ব্রিটেন, ফ্রান্স, ইতালি ও জার্মানি রীতিমতো লিখিতভাবে এই কমিটিতে না থাকার কথা ঘোষণা দিয়েছে। ট্রাম্প ভারত ও চীনকে ডাকলেও, আজকের দিন অবধি সেই আমন্ত্রণকে দুই দেশের কেউ নূন্যতম গুরুত্ব দেয়নি। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এটিকে জাতিসংঘের বিকল্প হিসেবে দেখছে, ফলে আন্তর্জাতিকভাবে আরেক বিতর্কের জন্ম হয়েছে। 

অবশ্য জাতিসংঘ নামের সাদা হাতিটা কী কারণে রয়েছে নিয়ে প্রশ্ন তোলা বারণ। আরব বসন্তের নামে তিউনিসিয়া, মিশর, লিবিয়া, ইয়েমেন এবং সুদানে সরকার ফেলে দিলেও এরা চোখ বন্ধ করে থাকে। ইরাক ও লিবিয়া নামের পেট্রোলিয়াম সম্পদে ভরপুর দেশগুলোতে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার নামে তাদের দেউলিয়া ভিখারি বানিয়ে দেওয়া যায়। অনায়াসে সুদান ইয়েমেনকে কেটে দু’টুকরো করে দেওয়া যায়, সিরিয়ার শাসক উৎখাত করা যায়, নাইজেরিয়ার গৃহযুদ্ধ বা ইউক্রেন যুদ্ধ চালিয়ে গেলেও- গান্ধীজীর বাঁদরের মতো চোখ, কান, মুখ বন্ধ করে থাকা যায়। আর্মেনিয়া, আজারবাইজান কিংবা লাওস, কম্বোডিয়া যুদ্ধ- যখন ইচ্ছা শুরু ও বন্ধ করা যায়। 

ভারত পাকিস্তান সংঘাতের ব্যাপারে যত কম বলা যায় ততই সময় বাঁচে। গুচ্ছের উদাহরণ টেনে আলোচনাটা বড় না করে বরং ঘরের পাশের বাংলাদেশের দিকে তাকালেই দেখা যায়, ইচ্ছামতো সরকার ফেলা বা ইচ্ছামতো অন্য দেশের নাগরিক এনে মন্ত্রীসভা তৈরি করে পৃথিবীর অন্যতম চলমান অর্থনীতিকে পথে বসিয়ে দেওয়া যায়। রাষ্ট্রপুঞ্জ বা জাতিসঙ্ঘ এটাই করে এসেছে শুরু থেকে, যা আমেরিকারই তৈরি ছিল। আজকের এই বহুমেরু পৃথিবীতে, আমেরিকা বা ইজরায়েলের দাদাগিরির বিরুদ্ধে জাতিসঙ্ঘের সভাতে প্রতিবাদ হচ্ছে রোজই, তাই নিজের তৈরি সংস্থাকেই বাইপাস করে আবার একটা নতুন ফাঁদ পেতেছে এই নতুন এঁটোকাঁটা কমিটির মাধ্যমে। 

ঠিক এই মুহূর্তে বিশ্বজুড়ে ৬৭ টি যুদ্ধ বা সংঘাত বা উত্তেজনা চালু থাকার পরও, যে সংস্থার মুখে সেলোটেপ মারা থাকে, তার মরে যাওয়াই ভালো। সদস্যদের কার ভেটো পাওয়ার আছে, কার নেই, কী তার উদ্দেশ্য- সেসব নিয়ে বিশ্বের বেশিরভাগ লোকের আজ আর মাথাব্যথা থাকার কথা নয়। একটা স্বাধীন সার্বভৌম দেশের ঘরে ঢুকে, তাদের রাষ্ট্রপতিকে তুলে এনে নিজের কারাগারে বন্দি করে দিলেও, গুটিকয় রাষ্ট্র ছাড়া বাকি সবাই যখন চুপ থাকে, তখন জাতিসঙ্ঘ আসলে আন্তর্জাতিক প্রহসনের সার্কাস হয়ে যায়। 

আধিপত্য টিকিয়ে রাখার নেশায়, বিশ্বজোড়া মানুষের ক্ষোভ বিক্ষোভকে পরিমাপ করতে আর অর্থনীতির উপর নতুন করে নিয়ন্ত্রণ আনার প্রচেষ্টায় নতুন কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার বাসনা জন্মায় বটে। এহেন পরিস্থিতিতে আরেকটি আধিপত্যবাদী সমান্তরাল সংস্থার জন্ম হবে, এমন চিন্তার মেঘ উত্তর আটলান্টিকের পশ্চিম পাড়ে অনেক আগেই দানা বেঁধে ছিল; তাই এই পিস ফোরাম এর ভূমিষ্ঠ হওয়াটা মোটেই আশ্চর্য হওয়ার নয়। তবে অন্য সমস্যাও আছে, এই এঁটোকাঁটা কমিটির স্থায়ী সদস্য হতে প্রতি দেশকে নগদ ১০০ কোটি ডলার দিতে, এটাই বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শেষ অবধি এই টাকা কতজন দেশ দেবে তা নিয়েও ঘোর সন্দেহ রয়েছে।

হরমুজ প্রণালী পারস্য উপসাগরকে যুক্ত করেছে আরব সাগরের সঙ্গে। এই পথ দিয়ে প্রবাহিত হয় বিশ্বের মোট এলপিজি গ্যাসের তিন ভাগের একভাগ আর কাঁচা তেলের ৩৫ শতাংশ। প্রতিবছর ৯৪ হাজার জাহাজ চলাচল করে এই পথে। এশিয়ার সঙ্গে উত্তর আতলান্তিকের তীরে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের প্রধান দেশগুলির জলপথ বাণিজ্যের একমাত্র পথ সুয়েজ ক্যানেল। বসফরাস প্রণালী রাশিয়া এবং ইউক্রেনের কৃষি ও জ্বালানি বাণিজ্যের ভূমধ্যসাগরীয় একমাত্র সংযোগ পথ। সুতরাং, সমস্যা এখানেই বাঁধাবে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী হিংস্র থাবা।

বোর্ড অফ পিস ব্লকে সই করা রাষ্ট্রগুলির মাধ্যমে, আসলে কম্পিয়ান সাগর, আরল সাগর, কৃষ্ণসাগর, মারমরা সাগর, সর্বোপরি ইউরোপ, আফ্রিকা, এশিয়ার সবদিক থেকে ভূমধ্যসাগরের উপর নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে কের্চ প্রণালী, বসফরাস প্রণালী, দার্দানেলিস প্রণালী, পার্শিয়ান গাল্ফ, গাল্ফ অফ এডেন, লোহিত সাগর, গাল্ফ অফ আরব, জিব্রাল্টার প্রণালী, আরব সাগর, দক্ষিণ চীন সাগর ও গাল্ফ অফ থাইল্যান্ড, পূর্ব থেকে পশ্চিমের বাণিজ্য পথে সংযোগকারী মালাক্কা প্রণালী, সর্বপরি দক্ষিণ আতলান্তিক মহাসাগরের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করার কুনাট্য মঞ্চস্থ করা হচ্ছে। 

দৃষ্টি আরেকটু পরিষ্কার করলেই দেখা যাচ্ছে BRICS নতুন মুদ্রা চালু হবার আগে বা BRICS বাণিজ্য জোট সম্পন্ন হওয়ার আগেই বর্তমানে BRICS-এর মধ্যে পূর্ণ সদস্য দেশ গুলির মধ্যে ভাঙ্গন ধরিয়ে ধরিয়ে BRICS-এর উপর থাবা মারার প্রয়াসের অংশ এটা। BRICS এর ১০টি পূর্ণ সদস্য দেশের তালিকায় চোখ বুলালে ব্যাপারটা আরও পরিষ্কার হবে। ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন, দক্ষিণ আফ্রিকা, মিশর, ইথিওপিয়া, ইরান, ইন্দোনেশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত। শান্তি চুক্তি জোটের নামে রাশিয়া, চীন, ভারত, ইরান, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ব্রাজিলের বাণিজ্য পথের উপরে নিয়ন্ত্রণ করার প্রচেষ্টা শুরু করেছে।

চলুন আরেকবার ভিয়েতনামে ফিরি, Đổi Mi নীতি প্রয়োগের মাধ্যমে, ঘোষিত সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র হয়েও, মুক্ত বাজার অর্থনীতিকেই সমাধানের একমাত্র পথ হিসাবে আঁকড়ে ধরে। পদক্ষেপ হিসাবেঃ- 

 

১) অবাধ বিদেশি বিনিয়োগের অনুমতি

২) প্রতিটি বেসরকারি উদ্যোগে নানান ধরণের কর ছাড়

৩) রপ্তানিমুখী শিল্পের উপরে জোর দেওয়া। 


একই সাথে বিদেশ নীতির ১৮০ ডিগ্রী পরিবর্তন করে যুদ্ধের ২০ বছরের মাথায় পুঁজিবাদী আমেরিকার জন্য রেড কার্পেট পেতে দেয় ভিয়েতনাম। US–Vietnam কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের ফলে ASEAN অঞ্চলে আমেরিকার প্রভাব বাড়তে থাকে।

ধীরে ধীরে US–Vietnam Trade Agreement আর ভিয়েতনামের WTO সদস্য পদ গ্রহণের মধ্যে দিয়ে, ভিয়েতনাম গ্লোবাল সাপ্লাই চেইনের অংশ হিসাবে আমেরিকান কোম্পানিগুলো গার্মেন্টস, ইলেকট্রনিক্স, চিপ অ্যাসেম্বলি ইউনিট চীন থেকে ভিয়েতনামে সরিয়ে নিয়ে আসে। কৌশলগত সহযোগিতার নামে মার্কিন সামরিক প্রশিক্ষণ ও গোয়েন্দা সহযোগিতা শুরু হয়, ভিয়েতনামের উপর থেকে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা প্রতাহার, US Navy র ভিয়েতনাম বন্দরে প্রবেশ, একই সাথে South China Sea এ তেল, গ্যাস, মৎস্য নিয়ে চীন ও ভিয়েতনামের বিরোধও শুরু হয়। রিমোট কন্ট্রোলে কলকাঠি নেড়ে চীনকে রুখে দিতে ভিয়েতনামের মাধ্যমে মার্কিন প্রয়াস চালু হয়। সুতরাং, এই আমেরিকাপন্থী অবস্থানের কারণেই, কয়েক হাজার কিলোমিটার দূরে থাকা নিতান্ত সম্পর্কহীন, গাজা শান্তি চুক্তির বোর্ড অফ পিসে সই করার জন্য মনোনীত করা হয়েছে ভিয়েতনামকে। বাকি ২৫টা দেশের ব্যাপারেও এভাবে ধরে ধরে বিশ্লেষণ করাই যায়, তাতে লেখনি লম্বা হবে মাত্র।

সাম্প্রতিককালে ইরানের উদ্দেশ্যে লিবিয়ার প্রাক্তন শাসক, গাদ্দাফি কন্যার একটি চিঠি প্রকাশিত হয়। সেখানে উনি খোলা চিঠিতে ইরানের জনগণের উদ্দেশ্যে আবেদন জানিয়ে বলেন, কীভাবে মার্কিন ফাঁদে পা দিয়ে তার বাবা লিবিয়ার মতো একটি সমৃদ্ধ অর্থনীতির সর্বনাশ ডেকে এনে, নিজের জীবন দিয়ে শেষে সর্বস্বান্ত লিবিয়াকে ফেলে রেখে যেতে বাধ্য হয়েছিল। হয়তো আগামী দিনে ভিয়েতনাম বা অন্য দেশ থেকেও থেকেও এরকম কোন চিঠি প্রকাশিত হবে, তখন অবশ্য অনেক দেরি হয়ে যাবে। প্রবাদ বাক্যে ন্যাড়া বেলতলা দিয়ে একবার যায়, কিন্তু বাস্তবের ভিয়েতনামেরা বারবার যায়।

বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার তথাকথিত মুরুব্বি রাষ্ট্রসঙ্ঘ, পরমাণু শক্তিধর সামরিক জোট ন্যাটো, বিশ্ব বাণিজ্যের নিয়ন্ত্রক বলে পরিচিত ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন, মোল্লা রাজাদের মধ্যপ্রাচ্য ও খোদ ইসরাইল অবধি, আজ প্রত্যেকেই হাড়ে হাড়ে অনুভব করছে, মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ আসলে কী এবং তা কতটা নির্মম ও স্বার্থান্ধ হতে পারে।

বামপন্থীরা বহু ক্ষেত্রে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি- এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই। নীতি ও আদর্শের সামান্য বিচ্যুতিকেও অনেক সময় অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়ার ফলে তাদের নিজেদের মধ্যেই ঐক্যের অভাব দেখা দিয়েছে। এর ফলেই হয়তো পৃথিবীর বুকে যে মাত্রার রাজনৈতিক ও সামাজিক আধিপত্য তারা বিস্তার করতে পারত, তা পুরোপুরি সম্ভব হয়ে ওঠেনি। কিন্তু এই সীমাবদ্ধতার মধ্যেও, দূরদর্শী বামপন্থীরা যে একটি ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী কুশলতার পরিচয় দিয়েছে, তা হলো মার্কিন সাম্রাজ্যবাদকে সময়ের অনেক আগেই সঠিকভাবে চিহ্নিত ও বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা। এই বোধ ও সতর্কতা পৃথিবীর অন্য কোনো গোষ্ঠী, সংগঠন বা মতাদর্শ সেই সময়ে দেখাতে পারেনি। বরং তারা ভুল সিদ্ধান্ত ও ভ্রান্ত মূল্যায়নের ফাঁদে পড়ে সময়ের স্রোতে ধীরে ধীরে বিলীন হয়ে গেছে।

 

শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬

সোনার দাম কেন বাড়ছে?


 সোনার দাম কেন বাড়ছে?


🔰 সোনার দাম কেন বাড়ছে? 🔰


এর কারণ পুরোটাই অর্থনৈতিক এবং আমেরিকান ডলারকেন্দ্রিক। কোনো জিনিসের দাম নির্ভর করে ‘ডিমান্ড আর সাপ্লাই’ এর সামঞ্জস্যতার উপরে। চলুন সংক্ষেপে একটু ব্যাখ্যা করা যাক।


বিজ্ঞানীদের ভাষ্যমতে, সমগ্র পৃথিবীর সোনা এক জায়গায় করলে সেটা ২৩ ঘনমিটার জায়গার মধ্যে সবটুকু চলে আসবে। মানে একটা মাঝারি সাইজের আলুর কোল্ডস্টোরের মধ্যে পৃথিবীর সমস্ত সোনা, হ্যাঁ সমস্ত সোনা ঢুকে যাবে। সোনা যেহেতু গাছে ফলে না বা ফ্যাক্টরিতে প্রোডাকশন করা যায় না, তাই সোনার সাপ্লাই বা পরিমাণ নির্দিষ্ট বা ধ্রুবক। গোল্ডমাইন থেকেও উৎপাদন অতি নগণ্য এবং ভীষণ ব্যয় বহুল; বাকিটা কেবল হাতফেরৎ হয়। সুতরাং, সভ্যতার শুরু থেকে আজ অবধি সোনার পরিমাণ খুব বেশি বাড়েনি, আগামীতেও বাড়বে সেই সম্ভাবনাও ক্ষীণ বা নেই। তাহলে এই মূল্যবৃদ্ধির একমাত্র কারণ- ডিমান্ড বৃদ্ধি।

 

এখানেই প্রশ্ন, রাতারাতি কে এই ডিমান্ড বাড়ালো? আমি আপনি কি বিপুল সোনা কিনেছি? উত্তরটা হলো- না। তাছাড়া আমরা যদি কিনতামও, সেই দু-দশ ভরি কেনাকাটায় দামে অতি সামান্য হেরফের হতো, যেমনটা গত শতাব্দীতে হতো। স্বাভাবিক বাজারে কেউ যেমন কিনছে, তেমন আরেক জন আবার বিক্রিও করছে, এই ভাবেই বাজারের স্থিতাবস্থা বজায় থাকে। কিন্তু বর্তমানে একটা শ্রেণি রয়েছে যারা সোনাটা কিনে মজুদ করে ফেলছে, সেটা পুনরায় আর বাজারে ফেরৎ আসছে না, ফলতো অবশিষ্ট সোনাটুকুর জন্য অন্যজন অনেক বেশি দাম অফার করছে; এভাবেই দাম বাড়ছে।

 

তাহলে কারা সোনাটা কিনে মজুদ করছে? এটা জানতে গেলে ইতিহাসের দিকে তাকাতে হবে।


দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ‘ব্রেটন উডস’ সিস্টেমের নামে শয়তানি করে বিশ্বের প্রায় ৭৩% সোনা আমেরিকা তাদের দেশে নিয়ে চলে যায় নানান ছলচাতুরি করে, পরবর্তীতে যা তারা আত্মসাৎ করে দেয়। কীভাবে নিয়ে গিয়েছিল তা লিখতে বসলে টন টন কাগজ লাগবে, এত বড় সেই শঠতার ইতিহাস। আগামীতে কখনও সে নিয়ে লেখা যেতেই পারে, শুধু এটুকু জেনে রাখুন সেই সোনার পরিমাণ প্রায় সাড়ে আট হাজার টন, কল্পনাতীত। পরবর্তীতে বাকি দেশগুলো যখন তাদের সোনা ফেরৎ চায়, তাদের রাষ্ট্রপ্রধানদের বন্দুকের ডগায় রেখে, সেই সোনার বিনিময়ে কাগুজে বন্ড ইস্যু করে আমেরিকা- বিনিময়ের ‘ইনস্ট্রুমেন্ট’ হিসাবে’, একেই আমরা ডলার বলে চিনি।


আমাদের দেশের টাকাতেও লেখা থাকে- "চাহিবা মাত্র ইহার বাহককে দিতে বাধ্য থাকিবে"। অর্থাৎ টাকা একটা সরকারি হাতচিঠি বৈ কিছু নয়। নোটের নিজস্ব কোনো মূল্য নেই, রাষ্ট্র নিজে জামিনদার থেকে ওই ‘টাকা’ নামের কাগজটাকে আসল সম্পদের প্রতিরূপ হিসাবে হিসাবে মূল্যবান করে তোলে। এই হিসাবে দেশে যত টাকা আছে, তত পরিমাণ সম্পদ তথা সোনা/রূপা থাকা উচিৎ। কিন্তু তা নেই, কারণ সোনা আছে আমেরিকার কাছে, তার পরিবর্তে আমেরিকা ডলার দিয়ে রেখেছে, ডলারই আমাদের সহ গোটা বিশ্বের প্রতিটা দেশের সঞ্চিত সম্পদ। কারণ ডলার ছাড়া কোনো দেশ জ্বালানি তেল কিনতে পারবে না কোথাও থেকে, এই জন্যই ডলারের অপর নাম পেট্রোডলার।


পেট্রোডলার কীভাবে শুরু হয়েছিল? ১৯৭৩-১৯৭৪ সৌদির মোল্লাদের সাথে আমেরিকা একটা চুক্তি করে। সৌদি আরব তার দেশের 'পেট্রোল/ডিজেল' শুধুমাত্র আমেরিকান ডলারের মাধ্যমে বিক্রি করবে, অন্য কোন কিছু বিনিময় মূল্য হিসাবে দিলে, সৌদি সরকার তাকে তেল দেবে না। এর বিনিময়ে আমেরিকা সৌদি আরবকে অস্ত্রশস্ত্র, প্রযুক্তি ইত্যাদি দিয়ে সামরিক ও সামাজিক নিরাপত্তা দেবে। যে কারণে গত ৫০/৬০ বছর ধরে মধ্যপ্রাচ্যের সর্বত্র অশান্তির আগুন জ্বললেও সৌদিতে নূন্যতম কোনো অশান্তি হয়নি। কারণ অশান্তি যে পাকায়, সেই আমেরিকাই সৌদির পাহারাদার, অশান্তি করবে টা কে!


অন্যান্য পেট্রোলিয়াম সমৃদ্ধ দেশ যারা এই ডলার ভিন্ন অন্য মুদ্রা কিম্বা সোনার বিনিময়ে তেল বিক্রি করতে গিয়েছিল, তাদের সকলকে আমেরিকা শেষ করে দিয়েছে নানা বাহানাতে। সেটা লিবিয়ার গাদ্দাফি হতে পারে, ইরাকের সাদ্দাম হোসেন হতে পারে কিংবা বর্তমানে ভেনেজুয়েলার মাদুরো; চোখের সামনে এইসব জ্যান্ত উদাহরণ রয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধেও এতো ক্ষোভের মূল কারণ এটাই, তারা ডলার ছাড়া তেল বেচছে ইন্ডিয়ান রুপি, রাশিয়ান র‍ুবেল ও চীনা ইউয়ানে।


আজকের দুনিয়ায় জ্বালানি তেল ছাড়া গোটা সভ্যতা অচল, সুতরাং প্রতিটা দেশকে তেল কেনার জন্য ‘ডলার’ কিনতেই হতো আমেরিকার কাছ থেকে, পাশাপাশি মজুদও রাখতে হতো। যেহেতু বিশ্বের সকলের কোষাগারে ডলার মজুদ আছে ‘তেলের’ ক্রেতা-বিক্রেতা নির্বিশেষে, অচিরেই বিশ্বের যেকোনো দুটো দেশের নিজেদের মাঝের ব্যবসা-বাণিজ্যও ডলারের মাধ্যমেই হতে শুরু করে দিয়েছিল। এভাবেই ডলার বৈশ্বিক মুদ্রা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করে রেখেছিল, যুদ্ধ বোমা বন্দুকের ভয় দেখিয়ে পেট্রোডলারের মাধ্যমে। এতে করে বিশ্বের যে কেউ যে কোনো আন্তর্জাতিক ব্যবসা করুক, আমেরিকা সেখান থেকেই একটা কাটমানি খেতো।


গত পাঁচটা দশক ধরে আপনার কাছে যে ধরনের মুদ্রায় থাক কিংবা সোনাদানা মোহর হিরে জহরত, কোনো কিছু দিয়ে আপনি তেল কিনতে পারেননি কিংবা বিনা ডলারে একটিও বৈদেশিক বাণিজ্য করতে পারেননি। এই সবকিছু সোনাদানা হিরে জহরতের বিনিময়ে আপনাকে আমেরিকার কাছ থেকে ডলার কিনতে হতো। আমাদের সরকার আমেরিকাকে সোনা দিত আর আমেরিকা সেই সোনার বিনিময়ে ডলারের নামে কাগজ ছাপিয়ে দিত। ফলত এতদিন সোনার থেকেও ডলার বেশি মূল্যবান ছিল।


মজার কথা হলো, ২০২৪ জুনের ৯ তারিখ সৌদির সাথে করা সেই পেট্রোডলার চুক্তি শেষ হয়ে গিয়েছিল, সেটাকে টেনে দেড় বছর আনঅফিসিয়ালি চালাচ্ছিলো। কিন্তু এই জানুয়ারির ৯ তারিখ সৌদি আরব এই চুক্তিকে নবায়ন করতে মানা করে দিয়েছে, সরকারিভাবে। এতেই আমেরিকা পড়েছে তাদের সাম্রাজ্যের ইতিহাসে সবচেয়ে গভীর অস্তিত্ব সংকটে, ওয়াশিংটন/নিউইয়র্কে হাহাকার পড়ে গেছে, তারা মরিয়া ক্ষ্যাপা কুকুর হয়ে উঠেছে ইরাণে যুদ্ধ লাগাবার জন্য, ভেনেজুয়েলা বা গ্রীনল্যান্ড দখলের জন্য। কে বলতে পারে, ইরানের নামে বোমাবারুদ জড়ো করে আসলে যুদ্ধটা সৌদিতেই না লাগিয়ে বসে উন্মত্ত আমেরিকা।


ঠিক আজকের দিনে গোটা বিশ্বের অর্ধকের বেশি পেট্রোলিয়াম বাণিজ্য তথা জ্বালানি তেল বিক্রি হচ্ছে স্থানীয় মুদ্রায় বা পণ্য বিনিময় প্রথার মাধ্যমে। ধরা যাক ভারত, আমরা তেলের দাম সৌদি আরবকে রুপিতে পেমেন্ট করছি অথবা চাল, আনাজ, শস্য কিংবা কয়লা দিচ্ছি। পাশাপাশি শ্রীলংকা সিংহলি মুদ্রার বিনিময়ে তেল কিনছে, চীন তাদের মুদ্রা ইউয়ানে কিনছে। কারো কাছে ডলারে কেনাটা আজ আর বাধ্যতামূলক নয়, ফলত ডলার রোজ একটু একটু করে গুরুত্বহীন হয়ে যাচ্ছে মূল্য হারিয়ে।


যেমন আমাদের দেশে ৫০০/১০০০ টাকার নোট দেশের রিজার্ভ ব্যাঙ্ক বাতিল করে দিতেই সেগুলো বাজে কাগজে পরিণত হয়েছিল, রাশিয়ার ক্ষেত্রেও এমনটা হয়েছে। আমেরিকা রাশিয়া দ্বন্দ্বের কারণে, রাশিয়ার সেন্ট্রাল ব্যাঙ্কে সঞ্চিত ডলার ছিল, সেগুলোকে আমেরিকা রাতারাতি বাতিল করে দিয়েছে, যেমনটা গত সপ্তাহে ইরানের সাথেও করেছে। আমেরিকার এই গুন্ডামি দেখে বিশ্বের বাকি দেশগুলোর কপালে ভাঁজ পড়েছে। আমাদের যেমন রিজার্ভ ব্যাঙ্কে ডলার মজুদ আছে, প্রতিটা দেশের রিজার্ভ ব্যাঙ্কেও তাই আছে, কিন্তু আমেরিকার এই দাদাগিরির ভয়ে আজকের দিনে প্রতিটা দেশ শঙ্কিত, এমনকি তাদের মিত্র ইউরোপও ব্যতিক্রম নয়।


তাই পেট্রোডলার চুক্তি শেষ হবার কিছু আগে থেকেই ডলার ছেড়ে দেওয়া বা নতুন করে ডলার না কেনার ধুম পরে গিয়েছিল বিশ্বজুড়ে, ২০২৪শে চুক্তি শেষ হতে সেটা মহামারীর আকার ধারণ করেছে। নতুন করে কেউ আর ডলার কিনছে না, বরং যেগুলো আছে সেগুলোও ছেড়ে দিচ্ছে। এদিকে ডলারের বিপরীতে বিকল্প কোনো মুদ্রা বৈশ্বিক ভরষা যোগাড় করে উঠতে পারেনি, ব্রিকসও নতুন মুদ্রা বাজারে আনতে পারেনি। ফলত প্রতিটা দেশ ডলারের বদলে, আসল সম্পদ ‘সোনা’ মজুদ করছে, তাদের দেশজ সঞ্চয় ভান্ডারের জন্য।


সুতরাং, গোটা বিশ্বজুড়ে প্রতিটা দেশ সোনা মজুদের দিকে নজর দিতেই বাজার থেকে সোনা কমতে শুরু করেছে এবং পরিমাণ যত কমতে থাকছে, অবশিষ্ট সোনার দাম তত চড়তে থাকছে। পৃথিবীর প্রতিটা দেশের রিজার্ভ ব্যাঙ্ক, নিজেদের সামর্থ্য মত টন টন সোনা কিনে মজুদ করছে। যেমন আমাদের ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কে ৮৮০ টন সোনা মজুদ রয়েছে, যা দৈনিক আরও বাড়াচ্ছে আমাদের সরকার। ডলারের এই পরিস্থিতিতে শেয়ার মার্কেটও টালমাটাল, আমেরিকা যখন তখন যার তার উপরে স্যাংশন/ট্যারিফ লাগিয়ে দিচ্ছে, সর্বক্ষণ যুদ্ধ পরিস্থিতি। তাই বড় শিল্পপতি, পুঁজিপতিরাও সেফ ইনভেস্ট হিসাবে সোনাতে লগ্নি করছে। কারণ সোনার দামের উপরে আমেরিকা বা অন্য কোনো দেশের নিয়ন্ত্রণ নেই, সোনা প্রতিটা দেশে প্রতিটা যুগে প্রতিটা সাম্রাজ্যে প্রতিটা ব্যক্তির কাছে সম্পদ হিসাবে মুল্যবান।


পদার্থ বিজ্ঞান বলছে- পতনশীল বস্তুর গতি সময়ের সাথে সমানুপাতিক হারে বৃদ্ধি পায়, মার্কিন ডলারের পতনও রোজ বাড়বে। ডলারের এই পতনের সাথে সোনার মূল্য বৃদ্ধিও সমানুপাতিক; উল্টোটাও সঠিক- সোনার মূল্য বৃদ্ধির সাথেও ডলারের পতন সমানুপাতিক। এই যে ডি-ডলারাইজেশন পদ্ধতির মধ্যে দিয়ে বিশ্ব ব্যবস্থা যাচ্ছে, এটা আমেরিকাকে ভেতর থেকে ফোকলা করে দিচ্ছে প্রতি মুহূর্তে, যে কারণে ডোনাল্ড ট্রাম্প মাতালের মতো আচরণ শুরু করেছে।


সোনার এই মূল্যবৃদ্ধি আসলে পাঁচ লাখে থামবে না দশ বিশ লাখে লাফ দেবে, সেটা আজকের দিনে বলা অত্যন্ত মুশকিল। আমেরিকা তার সঞ্চিত সোনা বাজারে না ছাড়া অবধি সোনার দাম রোজ লাফ দিয়ে বাড়তেই থাকবে। তবে, আমেরিকাও যখন নিজেদের সোনা বিক্রি করতে লাগবে, তখন সে উচ্চ মূল্যেই বিক্রি করবে, আর এটা তাকে করতেই হবে। যে হারে গোটা বিশ্ব ডলারকে পরিত্যাগ করছে, সেই হার চলতে থাকলে দু'এক মাসের মধ্যে আমেরিকাকে তাদের রিজার্ভে থাকা ওই সাড়ে আট হাাজার টন সোনা ধীরে ধীরে বাজারে ছাড়তে হবে। এছাড়া আমেরিকার বিন্দুমাত্র বিশ্বাসযোগ্যতা নেই বাজারে, তাই ডলার নামের অস্ত্র দিয়ে বিশ্বকে লুট করার দিন তার আর ফিরবে না।


আমেরিকা ৫০ টা ভাগে ভাগ হওয়া শুধু সময়ের অপেক্ষা, যে কোনোদিন ভোর বেলায় উঠে শুনবেন মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ আর নেই। অস্ত্র ছাড়া আমেরিকার নিজস্ব কোনো উৎপাদন নেই, তারা বিশ্বের নানা দেশ থেকে মালপত্র নিয়ে এসে বড়জোর এ্যাসেম্বল করে কিম্বা অন্যের পণ্য মার্কেটিং করে নিজেদের লোগো লাগিয়ে। আমেরিকার রিজার্ভ সোনা বাজারে আসতে শুরু করলেই তাদের ‘ফোলানো ফাঁপানো’ কোম্পানিগুলো মুখ থুবড়ে পড়বে, শেয়ার বাজার রাতারাতি ক্রাশ করে যাবে।


আমেরিকাতে গৃহযুদ্ধ লেগে যাওয়া সময়ের দাবী। তবে সেটা আটঁকাতে হলে আমেরিকাকে রাতারাতি অন্যত্র যুদ্ধ লাগাতেই হবে, যাতে অস্ত্র বিক্রি করতে পারে। নতুন একাধিক দেশ খুঁজতে হবে যেখান থেকে সম্পদ লুঠ করতে পারে, এবং ডলারকে পুনরায় বিশ্ব বানিজ্যের মুখ্য ও একমাত্র বিনিময় মুদ্রা রেখে দেওয়ার বিনিময়ে কাটমানি খেতে পারে। আর এগুলোর তিনটেই একসাথে করতে হবে, একটাতেও ব্যর্থ হলেই খেল খতম। কিন্তু আজকের বৈশ্বিক রাজনীতিতে চীন ও রাশিয়া~ আমেরিকার বিরুদ্ধে থাকা সমশক্তির পরাশক্তি, তাই গেলাম আর জয় করলাম- এমন একতরফা হওয়ার নয়। অতি শীঘ্র অতীতের স্প্যানিশ সাম্রাজ্য, ব্রিটিশ সাম্রাজ্য, উসমানীয় সাম্রাজ্যের মতো ইতিহাসের এক কোণে আস্তাকুঁড়ে ঠাই পাবে ‘প্রতারক ও লুঠেরা’ মার্কিন পশ্চিমা সভ্যতা।


আপনার বাজারে সোনার দাম বাড়ার এর সাথে আমেরিকার পতন অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত বা বলা ভালো দুটোই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। তবে সোনার দাম আগামী ৫/৭ বছর আর কমছে না, বাড়তেই থাকবে, বাড়তেই থাকবে, যতক্ষণ না সম্পদ জনগণের ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যায়।


শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০২৬

অশান্ত ইরাণঃ অর্থনীতির কানাগলি


 অর্থনীতির কানাগলিতে অবরুদ্ধ ইরাণ ও মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন কালেকশন এজেন্ট ইসরাইল”

                                                 (1)

প্রতি আক্রমণ করা ছাড়া ইরাণের আর কোনো পথ খোলা রয়েছে কি? আর সেই আক্রমণ বোমা বারুদের যুদ্ধ হলে, সেটা পরমাণু যুদ্ধের দিকে গড়াবে না, সেই নিশ্চয়তা দেওয়ারও কেউ নেই। যে যতই ধর্মের জিগির তুলুক, গণতন্ত্র বা মোল্লাতন্ত্রের চশমাতে দেখার চেষ্টা করুক- অর্থনৈতিক বিপর্যয়ই মূল সমস্যা, সেখান থেকেই দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক-সামাজিক সংকট জন্ম নিয়েছে। তথ্যগত ভিত্তি অনুযায়ী চুম্বকে এটাই দৃশ্যমান কারণ।

মাৎস্যন্যায় শুরু হলে ঐতিহ্য পথের ধুলোয় গড়াগড়ি খায়। হাজার বছরের পারস্য ঐতিহ্যের ইতিহাস এখন হাজার হাজার মানুষের লাশের স্তুপ এর নিচে চাপা পড়ে যাবার প্রস্তুতি নিয়েছে। ধর্ম, রাজরোষ আর বিপ্লব- এই তিনটে শব্দবন্ধে পুরো সমস্যাকে খাটো করে দেওয়ার উপায় নেই। পশ্চিমা বিশ্বের মোড়লদের অবরোধ না থাকলে অর্থনীতি এতটা ভাঙত না, ফলে মানুষের বেতন আটকে যেত না ও বিক্ষোভের মাত্রা এইরকম হতো না। অবরোধের প্রভাব সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রযন্ত্র ও প্রশাসন, সামরিক খাতে অগ্রাধিকার বজায় রেখেও স্বচ্ছতার সাথে দুর্নীতি মুক্ত ও দক্ষ হাতে সামাজিক সুরক্ষার ন্যূনতম দিকগুলি উপেক্ষা না করে পরিস্থিতি সামাল দিতে পেরেছে সেদিকে আলোকপাত করা প্রয়োজন।

ইরাণের উপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার প্রভাবে তেল রপ্তানি সীমিত হয়ে গিয়েছিলো আগেই, ফলত রাষ্ট্রীয় আয় কমে যায়। পাশাপাশি ইরাণ পশ্চিমা বানিজ্য ব্যবস্থা SWIFT থেকে বিচ্ছিন্ন, তাই বিদেশী লেনদেন রুদ্ধ, আমদানি ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বিদেশী বিনিয়োগও বন্ধ, ফল স্বরূপ ইরাণী মুদ্রা রিয়াল ভয়াবহভাবে পড়তে শুরু করেছে। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ভয়াবহ হয়ে ওঠাটাও এটারই ফলাফল। আমরা ইরাণ সংক্রান্ত যে খবরগুলো শুনি বা দেখি সেগুলো সবই পশ্চিমা মিডিয়ার তৈরি খোরাক, তারা যেভাবে উপস্থাপনা করে আমরা সেই চশমাতেই দেখি। আমাদের মধ্যে যাবতীয় ধারণা তৈরি হয় পশ্চিমাদের তৈরি করা বাইনারিতে, তাই আসল সত্য জানতে গেলে পশ্চিমা মিডিয়ার বাইরে ও তাদের করায়ত্বের বাইরে থাকা সংবাদ খুঁজে নিতে হয় কষ্ট করে।

একে তো ইরাণের এই অবরুদ্ধি, তার ওপর যুদ্ধ মানেই ঝুঁকি। আর যে সে দেশের সাথে যুদ্ধ নয়, একেবারে ইজরাইলের সাথে- মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার নিজস্ব কালেকশনে এজেন্ট কিম্বা বলা ভালো ঘুর পথে আমেরিকার সাথেই যুদ্ধ। নতুন শিল্প বিনিয়োগ আগেই ছিল না, এরপর যুদ্ধের বাইপ্রোডাক্ট হিসাবে নতুন অবকাঠামো শিল্প কারখানা সম্প্রসারণ বন্ধ হয়ে যায়। বিশেষ করে অটোমোবাইল, পেট্রোকেমিক্যাল ও কনজিউমার গুডস শিল্পে কর্মসংস্থান একেবারে তলানিতে চলে গেছে। পাশাপাশি CIA ও তাদের মধ্যপ্রাচ্যের জারজ শাখা মোসাদের লাগাতার ষড়যন্ত্র, উস্কানি এবং তাদের সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে ইরাণকে অশান্ত করে রাখাতে কোনো খামতি রাখেনি। কারণ, শক্তিশালী ইরাণ দখলদার ইজরায়েলের অস্তিত্বের জন্য সবসময়ের জন্য ঝুঁকি।

ইহুদি নিয়ন্ত্রিত অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে যুদ্ধের ঝুঁকি ও প্রোপ্যাগান্ডা যত বেড়েছে, ততই ইরাণের মানুষ সম্পদ/সোনা কিনে রিয়াল বাজারে ছেড়ে দিয়েছে, স্বভাবতই শেয়ার মার্কেট থেকে আম জনতার ঘর অবধি আতঙ্ক ছড়িয়েছে। এভাবেই ইরাণী রিয়াল প্রত্যেকদিন দুর্বল হয়েছে আর যেসব দ্রব্য আমদানি পণ্য করতে হয় যেমন- খাবার ওষুধ কিংবা বিভিন্ন রকম স্পেয়ার পার্টস ইত্যাদির দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে। যুদ্ধে আমেরিকা ও ইজরায়েল লেজে গোবরে হয়েছে, ফলে তাদের তরফে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরো বেড়েছে। অসভ্য ট্রাম্পের মাতলামি, নিত্য নতুন স্যাংশন, কড়াকড়ি আর আর্থিক নজরদারিতে ইরাণ একেবারেই এক ঘরে হয়ে গেছে। চীন, ভারত সমেত মধ্যপ্রাচ্যের ক্রেতারা ইরাণের সঙ্গে লেনদেনের বিষয়ে আগের থেকে আরও অনেক বেশী সতর্ক। ইরাণের তেল বিক্রি হয়ত স্তব্ধ হয়নি কিন্তু দামদড়ে ছাড় বাড়াতে হয়েছে, পেমেন্ট পেতে দেরি হচ্ছে, আর সেটাও রুবেল, ইউয়ান বা সেই প্রাচীন বার্টার পদ্ধতি অবলম্বন করতে হচ্ছে। ফলত দেশের বর্তমান অর্থনীতির নিরিখে অনেক কিছুই আজ অপ্রয়োজনীয়। অর্থনীতির সহজ ভাষায় Cost of Doing Business বেড়েছে। তারই ধাক্কায় ইরাণের এই ভয়ংকর মুদ্রাস্ফীতি, ক্ষোভ বিক্ষোভ আর রাষ্ট্র ক্ষমতায় বর্তমান শাসকের টিকে থাকা নিয়ে এই অরাজকতা।

একটি রাষ্ট্রের হাতে নগদ অর্থ না থাকলে অর্থনীতির নিয়মে যা যা হওয়ার ছিল, ইরাণে সেটাই হচ্ছে। সরকারি কর্মচারী, শিক্ষক, স্বাস্থ্যকর্মী এবং শিল্প-শ্রমিক সমেত প্রায় সবার ক্ষেত্রেই বেতন দেরিতে হচ্ছে অথবা আংশিক দেওয়া হচ্ছে, কিছু ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর প্রভাবে বাজারে মানি সারকুলেশন ভয়ঙ্কর ভাবে প্রভাবিত হয়েছে, এই পথ ধরে সিঁড়ি ভাঙ্গা অংকের মতো করে একটি সমাজব্যবস্থায় যা যা বিশৃঙ্খলা হবার সেগুলোই হয়ে চলেছে। কাজ আছে, আয় নেই, মাসের পর মাস বেতন নেই, শিক্ষিত যুবক বেকার আর অল্প শিক্ষিত যুব ও ছাত্র কর্মহীনতার সাগরে ডুবে আছে, দেশের বিপুল পরিমাণ নারীশক্তি সামাজিকভাবে অবরুদ্ধ।

দ্রব্যমূল্য এমনভাবে নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেছে যে, মানুষ শিক্ষা-দীক্ষা কৃষ্টি সংস্কৃতি রুচি ঐতিহ্য ইত্যাদি সবকিছু ভুলে গিয়ে শুধু দুবেলা দুটো অন্নের চিন্তায় দ্বিতীয় কোন কিছু নিয়ে মাথা ঘামিয়ে সময় নষ্ট করতে রাজি নয়। যায়নবাদী আমেরিকা, আর দখলদার ইজরায়েলের সেটাই মোক্ষ ছিল। এই পরিস্থিতিতে প্রাচীন পশ্চিমা গ্রীক সমাজবিজ্ঞানের যে টেমপ্লেট, ইরাণেও সেই পালাগানই মঞ্চস্থ হচ্ছে। মানুষের মধ্যে জন্ম নেওয়া ক্ষোভ, প্রতিবাদ হয়ে নামে রাস্তায় নেমে এসেছে। দেশের প্রায় প্রত্যেকটি সংস্থায় ধর্মঘট শুরু হয়েছে, কিন্তু সেই পথেও সমাধানের কোন সূত্র খুঁজে না পেয়ে শেষে রাজনৈতিক বিক্ষোভ শুধু দেশের বড় বড় শহরে সীমাবদ্ধ নেই, একেবারে প্রকাশ্যে ছোট বড় একশটি শহরকে মানুষ ঘিরে ফেলেছে। বিগত ৫ দশক ধরে এমন পরিস্থিতি তৈরির যে স্বপ্ন আমেরিকা দেখেছিল, তাতে তারা অনেকটাই সফল হয়েছে ২০২৫ এর শেষে এসে।

অবরুদ্ধ অর্থনীতিতে বৈধ আমদানি রপ্তানি কমে যায়, ফলে সত্যিই বাধ্য হয়ে সরকারকে গোপন বা ঘুরপথে লেনদেন করতে হয়; তাই খুব স্বাভাবিক নিয়মে ক্ষমতার কাছাকাছি থাকা গুটিকয় ব্যবসায়ী ও সামরিক গোষ্ঠী লাইসেন্স দেওয়া-নেওয়া, তেল রপ্তানি, ডলার লেনদেন জাতীয় কাজগুলি নিজেদের হাতে কুক্ষিগত করে রেখেছে, ফলস্বরূপ রাষ্ট্রের টাকা জনগণের কাছে পৌঁছাচ্ছে না এবং বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়। এটাই একটা black parallel economy তৈরি করেছে।

অবরুদ্ধ সরকার সবার আগে কী করে? প্রথম সিদ্ধান্ত নেয়, ‘রাষ্ট্র আগে বাঁচুক, মানুষ পরে’, এর হাতে-কলমে ফল হয়- সেনা, ক্ষেপণাস্ত্র, অস্ত্র এবং রেভল্যুশনারি গার্ড খাতে বাজেট বৃদ্ধি। স্বভাবতই শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও শ্রমিক বেতনে কাটছাঁট হয় ব্যাপক ভাবে। বাস্তবে সামরিক খাত কোনো কর্ম সৃষ্টি করে না, উল্টে অর্থনীতির উৎপাদনশীল অংশ শুষে নেয় এবং যুবকের কর্মহীনতার কারণে বেকারত্ব ও ক্ষোভ বৃদ্ধি পায়। যুদ্ধ অর্থনীতি রাষ্ট্রকে হয়ত ভৌগোলিক সীমানার গরিমায় টিকিয়ে রাখে কিন্তু সেই রাষ্ট্রের সমাজব্যবস্থাকে নিচে থেকে উপর অবধি ভেতরে ভেতরে ঘুণ পোকার মতো ঝাঁঝরা করে দেয়। একই সাথে জাতীয় নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে তথ্য গোপন করার প্রবণতা বৃদ্ধি পায়, ফলে প্রকৃত রাষ্ট্রীয় আয়, কোন খাতে কত ব্যায় আর বাস্তব ঘাটতি- সবকিছুই জনগণের কাছে অজানা অস্পষ্ট হয়ে যায়।

ইজরাইলের ওপর হামলা ইরাণের অর্থনীতিকে আরও দুর্বল করে দেবে তা ইরাণ জানত। তাদের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে আর জনগণের উপর চাপ বাড়বে না, এটা কি তাদের দেশে অর্থনীতিবিদরা জানতেন না? কিন্তু আঞ্চলিক শক্তির ভাবমূর্তি ধরে রাখতে হলে, মার্কিন শোষণ যন্ত্রে দেশের সম্পদ লুন্ঠন থেকে রক্ষা পেতে গেলে নিজেদের ‘দুর্বল দেখালে’ শাসক এর আসন টিকবে না। সুতরাং মেনে নিতেই হবে পেজেস্কিয়ান তথা খামেইনি সরকার জেনেশুনেই এই ক্ষতি মেনে নিয়েছে। এছাড়া শুধু কি ইজরায়েলের সাথে সরাসরি ১২ দিনের যুদ্ধ! মোটেই নয়, ওই যুদ্ধ ছাড়াও আছে ৩৫৬ দিন ধরে চলা নানা ফ্রন্টের প্রক্সি যুদ্ধ, হিজবুল্লাহ, হামাস, মিলিশিয়া, হুথি, ইত্যাদি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গোষ্ঠীগুলোকে সারাবছর পোষার খরচ- হাতি পোষার থেকে কোনো অংশে কম নয়। যুদ্ধ আমেরিকাও করে, তারাও প্রক্সি পোষে, কিন্তু তারা যুদ্ধের মাধ্যমে সেই দেশ থেকে নানান ছলে সম্পদ লুঠ করে নিয়ে যায়, যুদ্ধাস্ত্র বিক্রি করে; যুদ্ধই আমেরিকার মুখ্য ব্যবসা। এদিকে যুদ্ধ থেকে ইরাণের কোনো ব্যবসা বা লাভ নেই। যুদ্ধ থেকে ইরাণের অর্থনৈতিক রিটার্ন নেই কিন্তু রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা থেকে দিনের পর দিন ধরে কাঁড়ি কাঁড়ি অর্থ কুয়োতে ঢেলে যাওয়া, অর্থনীতির আদর্শ ব্ল্যাক হোল।

 

(২)

যেহেতু আমেরিকান ড্রিম আপনাকে বিক্রি করতে হবে, আপনাকে গেলাতে হবে তাদের নগ্ন সভ্যতাই আসলে আধুনিকতা~ তাই আমেরিকা বা ইজরায়েলের সাধারণ নাগরিকের সমস্যা ও সেখানকার প্রতিবাদ আন্দোলন কিছুই আপনাকে দেখানো হবেনা। কিন্তু ইরাণের আন্দোলন, আমার আপনার তৃতীয় বিশ্বের আন্দোলন প্রতিমুহূর্তে বারংবার আপনাকে আমাকে দেখানো হবে যাতে মনে হয় পশ্চিমা সভ্যতা ছাড়া বাকি সকল রাষ্ট্র বর্বর ইত্যাদি।

সমস্যা কি শুধু একা ইরাণের? মোটেই তা নয়, ইজরায়েলেও সমানে বিক্ষোভ হচ্ছে। এই শতকে ইরাণের সাথে সত্যিকারের যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া ছাড়া ইসরাইলকে কোনো রকম সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়নি এতদিন, উল্টে ইজরাইল রীতিমতো বিপুল ভাতা প্রাপ্ত মার্কিন মদতপুষ্ট দেশ, কারণ মার্কিন কালেকশন এজেন্ট হিসেবে ইজরায়েলের পারফরম্যান্স রীতিমতো সন্তোষজনক। এর আগে ইজরায়েল শেষ যুদ্ধ করেছিল ১৯৭৩ সালে ইয়ুম কিপুরের যুদ্ধে। দুর্বল ফিলিস্তিনের সাথে একতরফা আক্রমণ আর নানান মিলিশিয়া প্রক্সি যোদ্ধাদের সাথে নিয়মিত সংঘর্ষের বাইরে, এতদিনে ইজরায়েল সত্যিকারের লড়াই করতে গিয়ে প্যান্টে হেগে ফেলেছে ইরাণের বিপক্ষে। এখানেই ইজরাইলের জনগণও দেশব্যাপী ভয়ঙ্কর বিক্ষোভ দেখাচ্ছে। কিন্তু কেন?

ইজরায়েলেদের দাবী তাদের দেশের বর্তমান বিক্ষোভ ‘বামপন্থী ষড়যন্ত্র’, এটা আর নতুন করে হাসির উদ্রেগ করে না, কারণ মার্কিনী ও তাদের মিত্রদের কমিউনিজমের ভূত তাড়া করে ফিরবে এটাই স্বাভাবিক। আসলে এটা নিজের জনগণের সরকারের উপরে আস্থা হারানোর ফল, এটা সরাসরি যায়োনবাদীদের রাজনৈতিক ব্যর্থতা। ইজরায়েল অবরুদ্ধ নয়, কিন্তু যুদ্ধকেন্দ্রিক ভুল রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে নিজেই নিজের অর্থনীতির কবর খুঁড়ে ফেলেছে। যুদ্ধের সাথে জুড়ে আছে রাজনৈতিক ব্যর্থতা, যা ভেঙে দিয়েছে বহুল আলোচিত ‘আইরন ডোম’ আর মোসাদের ফানুস, সেই মিথ আর আক্ষরিক ধ্বংসস্তূপের দাঁড়িয়ে চলছে- পৃথিবীর ব্যাংকার রাষ্ট্রের স্থপতিদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বিক্ষোভ।

ইজরাইলের ‘ভাতাখোর’ অপুষ্যি মানুষের দল বুঝতে পেরেছে- ভূমধ্যসাগরের তীরে বন্ধুর প্রকৃতির মধ্যে আতঙ্ককে সঙ্গী করে নেওয়া মানুষের প্রতি ‘পশ্চিমা সমর্থন আছে, কিন্তু ভবিষ্যৎ নেই’। ঠিক অপর পারে ভূমধ্যসাগরের পশ্চিম প্রান্তে ইউক্রেনের জনগণ বুঝতে না পারলেও, ইজরাইলের সেয়ানা জনগণ ইরাণ কর্তৃক আক্রান্ত হবার পর হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে- আমেরিকা অস্ত্র দেবে কিন্তু সন্তান মরেছে তাদের। ফিলিস্তিনে ঢুকে অন্যের নিরস্ত্র সন্তান মেরে আসা আর তেল আভিভের বুকে, ক্ষেপনাস্ত্র যুদ্ধের মাঝে সাইরেন শুনে বাঙ্কারের মধ্যে ছেলের লাশ আগলে থেকে কবরের জন্য অপেক্ষা করা- এক নয়। স্বভাবতই প্রতি মুহূর্তে ইসরাইলি সমাজ দ্বিখণ্ডিত হচ্ছে আর তাদের অর্থনীতি ভাঙছে। তাদেরও প্রাপ্তি বলতে শুধুই ধ্বংস। ইজরায়েল এর জনগণ বিশ্বাস করতে শুরু করেছে- যায়োনিস্ট সরকার যুদ্ধ চালাচ্ছে তাদের দেশের জন্য নয়, নিজেদের পেটোয়া গুটিকয় লোকের আখের গোছানোর জন্য এতো আয়োজন। তাদের দেশের মানুষ জানতে চাইছে- গাজা যুদ্ধ আর কতদিন চলবে? হামাসের হাতে বন্দিদের মুক্তি কবে? আর কতদিন ৪০০০ বছর আগের ধর্মীয় আরক মাখানো ‘মাসায়া’র গল্প শুনিয়ে ইহুদিদের অর্ধচন্দ্র বানানো হবে? এই নিরিবচ্ছিন্ন অশান্তির শেষটা কী?

যথারীতি যায়নিস্ট শাসকের কাছে কোনো প্রশ্নের উত্তর নেই। মিডিয়া সবচেয়ে বেশি অবরুদ্ধ যদি উত্তর কোরিয়াতে হয়, ইজরায়েল অবশ্যই দ্বিতীয় স্থানে আসবে সেন্সরের নিরিখে, ইরাণের চেয়েও ইজরায়েলের মিডিয়া বেশি সেন্সরড; তাই তাদের আন্দোলনের ছবি খবর ইহুদি নিয়ন্ত্রিত কোনো সোশ্যালমিডিয়া, ইলেকট্রনিক্স ও প্রিন্ট মিডিয়াতে আসছেই না।

ইজরায়েলের মার্কিন সাহায্য আসে মূলত সামরিক খাতে। অস্ত্র কেনায় লোন দেওয়া আর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ঢেলে সাজিয়ে তোলার কাজ আমেরিকা করে। এবারে যুদ্ধটা একবার যদি লাগিয়ে দেওয়া যায়, তবে দীর্ঘ সময় ধরে যুদ্ধকালীন লজিস্টিক সাপোর্ট হিসাবে অর্থের যোগান দেওয়া আর একটা দেশের সাধারণ অর্থনীতি চালনা এক নয়। যুদ্ধের জন্য টাকা এলে সেগুলো অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবা, কর্মসংস্থান, পর্যটন, প্রযুক্তি কোনো শিল্পে লগ্নি হয়না, ফলত সেই টাকা থেকে দেশ ও জনগণ লাভবান হয়না। শেষমেষ যুদ্ধ ছাড়া কোনো শিল্পই বাঁচে না।

ঠিক এই ফর্মুলা অনুসরণ করে ইজরায়েলের অর্থনীতির উপরে একবার আলো ফেলা যাক।

ইসলামিক মিলিশিয়া গোষ্ঠীদের সাথে লাগাতার প্রক্সি যুদ্ধ ও সংঘর্ষ বিরতি মাঝে দম নিয়ে নূতন করে মোকাবিলা করার জন্য রসদ সংগ্রহ করে নেওয়া- এটাই চুম্বকে শেষ সাড়ে তিন দশকের ইজরায়েল। লাভ বলতে গরীব ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ, জবরদখল করে প্রতিটা প্রতিবেশীর জমি হাতিয়ে নেওয়া, এটাই ইজরায়েলের একমাত্র সফলতা। ইজরায়েলের পশ্চিমের জলসীমা প্রাকৃতিক কারণেই সুরক্ষিত, মিশরের হোসেন-ই-মোবারক আর সিরিয়ার আসাদের পতনের পর ইজরায়েলের সীমানা যেমন বেড়েছে, উল্টো দিক থেকে আক্রমণের তীব্রতা ততই কমেছে। লেবানন বলে একটা সুপ্রাচীন বাজারের কথা শুধুমাত্র ম্যাপ বইয়ের পাতা ছাড়া মানুষ ভুলতে বসেছে। একতরফা ভাবে গাজাতে বর্বর আক্রমণ আর দিনশেষে উল্লাস এটুকুই প্রাপ্তি। তবুও তার মধ্যে বোড়ে খোয়ানো বা অন্য শিবিরে বন্দী হওয়া জাতীয় ছোটখাটো ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া যাচ্ছিল এতদিন; কিন্তু ইরাণের মতো এরকম সর্বগ্রাসী ঘোষিত আক্রমণের মুখোমুখি হওয়ার অভিজ্ঞতা অতীতে ইজরাইলের কখনও ছিল না, এমনকি আরব ইসরাইল যুদ্ধেও না।

ইজরায়েলের জনসংখ্যা বলতে ওখানে জন্মানো নাগরিক ছাড়া পৃথিবীর যেকোন প্রান্তের ধর্মীয়ভাবে ইহুদির একটা লিংক থাকলেই হয়। অনেকটা আমাদের SIR প্রক্রিয়ায় লিংক দিয়ে জুড়ে নাগরিকত্ব প্রমাণ করার মতো। রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্যের শপথ মানে- আগামী দিনে কোনো ভক্ত যদি এই ফাঁদে পা দেয় তার পথ খুলে রাখা। বাস্তবে ইহুদি নাগরিক বলতে আশকেনাজি, সেফার্দি, মিজরাহি এবং রাশিয়া, ইউক্রেন, ইথিওপিয়া ইত্যাদি থেকে আসা মানুষেরা মোট জনসংখ্যার ৭৩–৭৪%। দ্রুজ, চের্কেস ও অন্যান্য বিদেশি বংশোদ্ভূত কিন্তু নাগরিকত্ব প্রাপ্ত- এমন সব মিলিয়ে ৫-৬ %। এদের অধিকাংশই ভবঘুরে, কুঁড়ে, দাগী অপরাধী বা ভাতা পেয়ে বসে খাবো মানসিকতার। ইজরায়েল আসলেই ইউরোপ ও আমেরিকার পাতাখোর বা ড্রাগের নেশা করা রাষ্ট্রের জঞ্জাল ইহুদিগুলোকে রিহ্যাব করার ওপেন হাসপাতাল।

ইজরাইল নিজেকে "Jewish State" বললেও তাদের নাগরিকদের সবাই ধর্মীয়ভাবে ইহুদি নয়- এদের জেনটাইল নামে ডাকা হয়। যারা ধর্মে ইহুদি, সে পৃথিবীর যে প্রান্তেই থাকুক সে ইজরায়েলের নাগরিক। কিন্তু যারা ওই দেশের মাটিতে ঐতিহাসিকভাবে ছিল ও আছে- তারা নাগরিক কিনা সেটা ঠিক করে তাদের যায়োনিস্ট সরকার। ক্রমবর্ধমান ভূখণ্ডের মধ্যে আরব জাতির ২০–২১%, এরা ইজরাইলি নাগরিক কিন্তু এদের ধর্ম মুসলিম, খ্রিস্টান, দ্রুজ। এদের মাতৃ ভাষা আরবি, যাদের সকলেই ১৯৪৮ সালে রাষ্ট্র প্রক্রিয়া শুরুর সময় ঐ ভৌগোলিক সীমার ভেতরে থাকা ফিলিস্তিনি পরিবার। এরা নাগরিক হলেও জমি, চাকরি, রাজনৈতিক অধিকার সব ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক।

অবৈধ খাজনা আদায় করতে গেলে পেয়াদা দলের ক্ষতি হবেই। এই বাস্তব সত্য স্বীকার করে নিয়ে ইজরাইলে ১৮ বছর বয়স হলে সামরিক প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক, মানে গোটা দেশের সব নাগরিককে ছলে বলে কৌশলে সামরিক বাহিনীর অন্তর্ভুক্ত করে নেওয়া হয়। আর সমস্যা এখানেই সবচেয়ে বেশি। বাস্তবে ইজরায়েল রাষ্ট্র গড়ে উঠেছে পুরাতন বস্তাপচা আব্রাহামীয় ধর্মীয় বিশ্বাস, হিটলারের গণহত্যার ভয়, অবৈধ দখলদারি আর পরস্পরের প্রতি অবিশ্বাসের মধ্য দিয়ে। তাই সামরিক প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে ভাগাভাগি আছে, যেমন ইহুদী হলে পুরুষ নারী উভয়েই বাধ্যতামূলক, দ্রুজ আর চের্কেস এর মধ্যে পুরুষরা বাধ্যতামূলক। ২০% জেনটাইল আরব নাগরিক প্রশিক্ষণের তালিকা থেকে বাদ অবিশ্বাসের কারণে। এর বাইরেও বিরাট ধার্মিকের ছাড় পাওয়ার জন্য একটা গোঁজামিল পদ্ধতি আছে, যারা ধর্মীয় নেতা রাব্যাই এর দল- মূলত যারা ইজরায়েল এর সমাজ ও সরকার নিয়ন্ত্রণ করে তারাও সামরিক প্রশিক্ষণের বাইরে থাকে। ইজরাইলে প্রতিমুহূর্তে NRC চালু করা রয়েছে। ফলে, গোলান উপত্যকার বড় অংশ ইজরায়েলের দখলে এসে গেলেও, দ্রুজদের অধিকাংশই সিরিয়ান নাগরিকত্ব ছাড়েনি। ফলে যুদ্ধের মুখোমুখি হতেই, অলঙ্ঘনীয় আইরন ডোমের কার্যকারিতার মতোই- সামরিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সুদক্ষ নাগরিকের দেশপ্রেম উধাও হয়ে গেছে। বিশ্ব নাগরিকের অবশ্য মাথাব্যথা নেই এইসব বেকার ঝুট ঝামেলা নিয়ে, তাদের দ্বৈত্ব নাগরিকত্ব আছে, ঝামেলা বাঁধলেই পালিয়ে যায় তারা।

এই যুদ্ধ বিধ্বস্ত পরিস্থিতি দেখার পর- প্রাণ হাতে করে কোনো পর্যটক আসছে না, ফলে ইজরায়েলের পর্যটন শিল্প প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত। পরিস্থিতির বিপাকে মেধার সাথে সাথে, প্রতিনিয়ত দেশ ছাড়ছে টেক স্টার্ট-আপ এর ইনভেস্টমেন্ট, সেটা সাময়িক হলেও সরছেই। শুধু ল্যান্ড আর ক্যাপিটাল থাকলেই তো শিল্প হবে না, উৎপাদনের অন্যতম বড় শর্তই হলো শ্রমিক তথা লেবার। বর্বর অত্যাচারের ফলে স্বল্পমূল্যের ফিলিস্তিনি ‘জেনটাইল’ কমছে রোজই, যে কারণে অবকাঠামো ও নির্মাণ শিল্প প্রায় থমকে গেছে। যুদ্ধ বিধ্বস্ত অংশের পুনঃনির্মাণের জন্য পৃথিবীর অন্য অংশ থেকে লেবার আনতে গিয়ে ঢাকের দায়ে মনসা বিকিয়ে যাচ্ছে, চুকাতে হচ্ছে তিনগুণ চার গুণ অর্থ। অর্থনীতির অন্যতম বড় চালিকাশক্তি ছোট ব্যবসা গতি হারিয়েছে, কারণ চাহিদা নেই, মানুষ যুদ্ধের ভয়ে টাকা/সম্পদ জমাতে আগ্রহী, খরচ করছে না।

২০২৩–২০২৫ সময় কালেই লক্ষ লক্ষ ইজরায়েলি জনগণকে রিজার্ভ সেনা হিসেবে যোগ দেবার জন্য নোটিশ জারি করে ডাকা হয়েছে, ফলে উৎপাদনশীল বয়সী পুরুষ জাতীয় কর্মক্ষেত্রের বাইরে চলে গেছে। একই সাথে বহু ব্যবসা, স্টার্ট-আপ ও ফ্যাক্টরি আংশিক বা পুরো বন্ধ, ফলত বিপুল মেধা দেশ ছেড়েছে। অবরুদ্ধ ইরাণ ফাটা বাঁশে আটকে গিয়ে অর্থনীতিকে কার্যত ‘মিলিটারাইজড’ করে ফেলেছে বলে পশ্চিমে দুনিয়া অভিযোগ করছে, কিন্তু মুক্ত হওয়াতে বাস করেও ইজরাইলের অর্থনীতি যে কার্যত ‘মিলিটারাইজড’ হয়ে গেছে এটা স্বীকার করতে তারা লজ্জা পাচ্ছে। তাই লুকাচ্ছে। ইরাণের সাথে তুলনা করলে- ইজরাইলের সাথে প্রায় সবার সাথে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চালু আছে, ডলার ও ইউরো প্রবাহ আছে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্বাধীন ভাবে কাজ করতে পারছে। তবুও ইজরাইলের প্রায় সব সেক্টর ভেঙে পড়েছে। ইম্মিডিয়েড পড়শী দেশ থেকে কিছু স্থায়ী লুঠপাঠের বন্দোবস্ত না করলে তাদের অর্থনীতিও পাতালে চলে যাবে।

দেশের বেকারত্বের হার লুকাতে গিয়ে সরকারকে মিথ্যা সংখ্যাতত্ত্ব প্রকাশ করতে হচ্ছে। ভয়ংকর বেকারত্ব একমাত্র বাস্তব সত্য আর আমাদের দেশের মতো পরিযায়ী শ্রমিক হয়ে কোনোমতে নিজেকে টিকিয়ে রাখার মতো কোন অবস্থা ঐ দেশে নেই। ফলে কর্মক্ষম মানুষ ভয়ংকর ভাবে কর্মহীনতায় ভুগছে। এখনো কর্মক্ষম অংশের যেটুকু নিজেদের সামরিক বাহিনীর বাইরে রাখতে পেরেছে, তারা বাস্তবেই কর্মহীন। এই পরিস্থিতিতে ইজরায়েলের শেকেল, ইরাণের রিয়ালের মতো হুড়মুড় করে ভেঙে পডার কথা কিন্তু দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলেও শেকেল কোনমতে টিকে আছে কিভাবে? ইজরাইল ৩.৮ বিলিয়ন ডলার সামরিক অনুদান পেয়েছে আমেরিকার কাছ থেকে, সঙ্গে যুদ্ধের সময় অতিরিক্ত সহায়তা। এভাবেই ভেন্টিলেশনে চলে যাওয়া অর্থনীতিতে শুধুমাত্র বাইরে থেকে পাম্প করে টিকিয়ে রাখা হয়েছে।

ইউক্রেন বা ইজরাইল নয়, যুদ্ধকালীন এরকম অনুদান পাওয়ার তালিকাটি সুদীর্ঘ। নাইজেরিয়া, লাউস, কম্বোডিয়া, দক্ষিণ সুদান, সিরিয়া, ইথিওপিয়া ও সাম্প্রতিককালে তালিকায় যুক্ত হওয়া প্রতিবেশী বাংলাদেশ। আর এই অনুদান বাজেটের চাপ প্রশমিত করার করার তাগিদেই ভেনেজুয়েলা সহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের নিত্য নতুন তেল তথা সম্পদ ভান্ডারে আক্রমণ বাড়বে বই কমবে না। ভবিষ্যতে মাদুরোর নামের পাশে আরো এমন অনেক নাম যে যুক্ত হবে, সে কথা এখনই বলে দেওয়া যেতে পারে।

অতীতে স্প্যানিস সাম্রাজ্য, ব্রিটিশ উপনিবেশবাদ ও সোভিয়েত সাম্রাজ্যের পতন এভাবেই হয়েছিলো। স্পেন সময় নিয়েছিলও ১০ বছর, ইংল্যান্ড ৫ বছর আর সোভিয়েত মাত্র দেশ বছরের একটু বেশী। পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদের একই নীল নক্সাতে তৈরি মার্কিন সাম্রাজ্যবাদও উপরোক্ত ৩ ধরনের আগ্রাশনের বাইরে কিছু নয়, স্থান ও কালভেদে মোড়কটা শুধু আলাদা। ক্রণোলজি মেনে চললে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ দুম করে কয়েক মাসের মধ্যে ধ্বসে পড়লে আশ্চর্য হবেন না। আমেরিকার এখন চাই বিপুল টাকা, তার জন্য বিপুল লুঠের সুযোগ, সুযোগ না পেলেই যুদ্ধ অবধারিত। আমেরিকা নিজেদের তৈরি বৈশ্বিক যে বন্দোবস্ত বানিয়েছিলো, সেই UN, WMF, WHO জাতীয় সমস্ত প্রতিষ্ঠান থেকে নিজেই বিলিয়ে যাবার মুখে। পেট্রো ডলার অর্থনীতি অতীত, ৯ই জানুয়ারি পেট্রো ডলার চুক্তি শেষ হয়েছে সৌদির সাথে। তাই হুমকি ধমকি দিয়ে নতুন ভাবে মধ্যযুগীয় উপনিবেশ প্রথা চালুর চেষ্টা চলছে। কিন্তু চেষ্টা করা আর সফল হওয়া এক নয়। বর্তমান পৃথিবী আর একমেরু নেই, বন্ধুর সমস্যাতে চীন হিজড়ের মতো আচরণ করলেও শক্তিধর সন্দেহ নেই, রাশিয়া, আমাদের ভারত সকলে রয়েছে। এই সকল রাষ্ট্র মেনে নেবে কী? পরমাণু অস্ত্র যে অনেকেই রাখে আজকের দিনে।

আমাদের রাজ্যে একটা চালু কথা আছে- যার মাথায় ‘ওনার’ হাত, তিনি খাবেন জেলের ভাত। এই বাক্যটির আন্তর্জাতিকরণ করলে দাঁড়ায়- “পশ্চিমা সমর্থন আছে মানেই অর্থনীতি মায়ের ভোগে যাবে” এই ধারণাটা মিথ হয়ে গেছে। ইউক্রেন, ইজরাইল হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে এবং অতীতের আফগানিস্তান, ইরাক, লিবিয়া, সিরিয়া, মিশর এমনকি লতিন আমেরিকার আর্জেন্টিনা, ইউরোপের ঐতিহ্যশালী দেশ স্পেন ও গ্রীস, সর্বশক্তিমান ন্যাটো ও গোটা ইউরোপের সীমানা মুছে ‘এক মহাদেশ এক মুদ্রার’ মতো যুগান্তকারী ব্যবস্থা নেওয়ার মতো সাহস দেখানো ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী; আর হাতের কাছে সবচেয়ে বড় উদাহরণ পাকিস্তান তো আছেই। সুতরাং, মস্তিষ্কের ঝুল ফাঁদগুলো সরিয়ে ‘আমেরিকান ড্রিম’ এর কাজল মুছে বোঝার চেষ্টা না করলে এই ইম্পিরিয়াল পতনের পদধ্বনি শুনতে পাবেন না।

তাই আজকে ইরাণের মুদ্রার মান প্রায় শূন্য করে দেওয়ার পর, তাদের কী হচ্ছে তার উপরে বিশ্বের স্থিতিশীলতার ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে। ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে ন্যাটো লেজে গোবরে, তাদের লুন্ঠনের রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে ট্রাওরের আফ্রিকা। ইরাণ যদি আজকের পর ৬ মাসও টিকে যায়, ডলারের হাল শুরুর ৯০ এর দশকের রুবেলের চেয়ে খারাপ হবে সেটা লিখে রাখুন। সেক্ষেত্রেও আমেরিকা ভাঙবে, আবার যুদ্ধ বাঁধিয়েও যে বেঁচে যাবে তারও নিশ্চয়তা নেই, সেখানেও রসদে ঘাটতি হবে এবং বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন দাদাগিরির অস্ত্র- সেনাঘাঁটি গুলো গায়েব হয়ে যাবে। ১৪ই জানুয়ারির আগে অবধি ট্রাম্প রোজ হাড়হিম করা ধমকি দিচ্ছিলো, যেন কালই খামেইনিকে ছিপে তুলে নেবে। ওদিকে মার্কিন সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম আর শাহি কট পড়ে রাজ মুকুটের স্বপ্নে বিভোর রেজা পল্লব রোজই মিটিনং করছিলো কীভাবে ইরাণকে ‘দিশা’ দেখাবে।

১৪ই জানুয়ারি রাত্রে অন্যান্য সমস্ত দেশ ইরাণ থেকে তাদের দেশের নাগরিকদের ডেকে নেয়। কাতারের সেনা ঘাঁটি খালি- এই আক্রমণ হয় তো সেই আক্রমণ হয়। পরদিন সকালে ফুস…, মোসাদ, MI-6, CIA সকলের সমস্ত কিছু ব্যর্থ হয়েছে, গাঁড়ল ট্রাম্পের মুখে পরাজয়ের ছাপ স্পষ্ট। এর আগে যায়নিষ্ট ‘গোদি মিডিয়া’ কী তাদের তরফে প্রোপ্যাগান্ডা চালাতে কসুর কম করেছে? BBC, Fox, ABC, হারেৎজ, টাইমস, রয়টার্স সহ সবাই মিলে ১০ হাজার লোকের মৃত্যুর গল্প ফেঁদে একটা হেজিমনি খাড়া করতে গিয়েছিল। পরে নিজেরাই ‘সরি বাবু’ বলে সেটাকে ৬৬৭ তে এনে থামিয়েছে, যার মধ্যে ইরাণের সেনাবাহির সদস্যই ৭০% এর অধিক, এই হল চুম্বকে সংবাদ।

সমস্ত ধরনের অতীতের নির্লজ্জতাকে এরা ছাপিয়ে গিয়েছে এবারে, কানাডার এক মেয়ের ছবিকে ইরাণের বলে ভাইরাল করেছিলো সোস্যাল মিডিয়াতে; যেখানে খামেইনির ছবি পুড়িয়ে মেয়েটিকে সিগারেট জ্বালাতে দেখা যাচ্ছিলো। খামেইনি ভালো না খারাপ সেই বিচারে যাচ্ছিনা, কিন্তু যে লোকটা আমেরিকার বিরুদ্ধে লড়ছে, সে যে খুশি হোক, আমি তার পক্ষে।

মিডল ইস্টের ১৯টা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে ইরান প্রাথমিক লক্ষ্য বানিয়ে ছিলো তো বটেই, আর এগুলো মুছে গেলে দেশ হিসাবে ইজরায়েলের আয়ু আর আধাঘন্টা বড় জোর। তাছাড়া পরমানু অস্ত্রের ভয় থেকে আঙ্কেল শ্যাম নিজেও কি মুক্ত? সবচেয়ে বড় কথা বিশ্বের একটা রাষ্ট্রও তার বন্ধু নয়, সামান্য দুর্বল হলে পাশের প্রতিটা জনই টিপে ধরবে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদকে শ্বাসরোধ করার জন্য। নতুন করে অর্থের একমাত্র সংস্থান তো লুণ্ঠন, সেই লুঠ না করতে পারলেও আমেরিকা ভাঙবে। দেখা যাক সেটা কত তাড়াতাড়ি হয় আর কোন পথ ধরে হয়!

 

#হককথন

তৃণমূলের প্ররোচনার ফাঁদে পা দেবেন না

⛔ সতর্কতামূলক পোষ্ট ⛔ আজ SIR এর ভোটারলিষ্ট বার হবার পর- জনরোষের দোহায় দিয়ে দিকে দিকে ‘সংগঠিত অশান্তি’ লাগাবার ‘ফুল প্ল্যান’ নিয়ে এগোচ্ছে শাা...