ধর্মতত্ত্ব লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ধর্মতত্ত্ব লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বিজেপির খাদ্য বিধান ও বাঙালি হিন্দু সমাজ

 


মিডিয়া খুললেই এখন সর্বত্র সনাতনী নিদান বা বিধানের রিলস বা লেখা চোখে পরছে, সদ্য গজানো বাবা বা সনাতনী  সদ্য গজানো ধর্মগুরুর দল রীতিমত দোকান খুলে বসেছে। আর নিশ্চিতভাবেই এই প্রতিটা ধর্মগুরুদের একটাই মূল সংগঠন, যার নাম RSS, এই আর.এস.এস পশ্চিমবঙ্গের সাড়ে ৬ কোটি হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষ এর দীর্ঘদিনের আচার, সংস্কৃতি, পদ্ধতিগত ও আবহমান চিরায়ত কৃষ্টিগত রুচি বদলে যাক, যার সাথে বাকী ভারতের হিন্দুদের পার্থক্যটা বেশ মোটাদাগের। কোনো অঞ্চলের খাদ্যাভ্যাস এবং সংস্কৃতি- নানান উপাদানের ভিত্তিতে ক্রম অনুশীলনের মাধ্যমে গড়ে ওঠে। মানুষ তার বেঁচে থাকার তাগিদে এবং চারপাশের পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে নিতেই এই অভ্যাসগুলো স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে তৈরি করে ফেলে।

সংস্কৃতির সবচেয়ে প্রধান ভিত্তি হচ্ছে ভৌগোলিক অবস্থান ও এলাকার জলবায়ু, আমাদের বাংলা নদীমাতৃক ও উর্বর পলিমাটির দেশ হওয়ায় প্রধান খাদ্য মাছ-ভাত, স্বভাবতই বঙ্গবাসী মানুষের ধর্মীয় অনুশাসন ও বিশ্বাস তাদের প্রতিদিনের জীবনযাত্রা ও খাদ্যাভ্যাসকে গভীরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। দুর্গাপূজার মহোৎসব সেই খাদ্য সংস্কৃতিরই অবিচ্ছেদ্য অংশ। বাঙালী হিন্দু সমাজে ব্রাহ্মণ ৪%, বৈশ্যও সম শতাংশের বা কিছু কম, বাকীরা ক্ষত্রিয় ও শুদ্র বা দলিত সম্প্রদায়ের, নাগপুরের ব্রাহ্মন্যবাদীদের ভাষায় ‘ছোটজাতের’, যারা মোট বাঙালী হিন্দু জনসংখ্যার ৯২%। এরা আমিষ খাবেনা তো কারা খাবে? বাঙালী ব্রাহ্মনদেরও আমিষ নিয়ে কোনো ছুৎমার্গ নেই আজও। নৃতত্ববিজ্ঞানকে আপনি কীভাবে উপেক্ষা করবেন বা ভুলিয়ে দেবেন নাগপুরি হিন্দুত্বের আরক গিলিয়ে?

হিন্দু ধর্মের যে মূল গ্রন্থ, চার বেদ, উপনিষদ, গীতা রামায়ণ, মহাভারত এবং সমস্ত স্মৃতি গ্রন্থের কোথাও বৈশ্য, ক্ষত্রিয় ও শুদ্রদের আমিষে মানা করা নেই। এমনকি RSS এর প্রস্তাবিত সংবিধান ‘মনুস্মৃতির’ ৫ম অধ্যায়ের ৩২ ও ৩৩ নম্বর শ্লোকে বলা হয়েছে, যজ্ঞের উদ্দেশ্যে কিংবা শাস্ত্রীয় বিধি মেনে মাংস খাওয়া কোনো অপরাধ নয়। এছাড়া যুদ্ধবিদ্যা বা শিকারের মাধ্যমে অর্জিত মাংস ভক্ষণ ক্ষত্রিয়দের পূণ্যের কাজ। শূদ্রদেরও কঠোর শারীরিক পরিশ্রম ও কৃষিকাজের সাথে যুক্ত থাকতে হতো, যার কারণে তাদের খাদ্যাভ্যাসে মাংসের ওপর কোনো কঠোর ধর্মীয় নিষেধাজ্ঞা চাপানো হয়নি কোনো শাস্ত্রেই। দেবতার উদ্দেশ্যে যজ্ঞ মানেই তো ছিলো বলি, সেই মাংস কি ফেলে দিতো পুরাকালে?

এর পর আসে মানুষ জীবিকা। আমাদের কৃষিপ্রধান সমাজ, ফলত ঘরে ঘরে পশুপালনের চল রয়েছে। অতএব, আমাদের খাদ্যাভ্যাস্যে মাংস থাকাটা কোনো ইউরোপীয় বা আরবি সংস্কৃতি থেকে আসেনি। কঠোর পরিশ্রমী কৃষক বা শ্রমজীবী মানুষের খাদ্য তালিকায় কার্বোহাইড্রেট তথা পেটপুরে ভাত খাওয়াটাই থাকে, যা তাৎক্ষণিক শক্তি দেয়। সুতরাং, এই সমাজে প্রতিটা লোকৎসব তা দুর্গোৎসব হোক বা অন্য উৎসব- সবই এই বঙ্গীয় খাদ্য সংস্কৃতিকে কেন্দ্র করেই গড়ে ওঠেছে কালের পরিক্রমায়।

বর্তমানে বিশ্বায়নের যুগেও বিজ্ঞান ও আধুনিক প্রযুক্তির সাথে তাল মেলানো আধুনিক বাঙালি হিন্দু, শরীর সচেতন হয়ে স্বাস্থ্যের জন্য হানিকর খাবার এড়িয়ে গেলেও, জলবায়ু তথা প্রকৃতিকে কীভাবে অস্বীকার করবে? বাঙালি কি গণহারে বার্গার, পিৎজা, সুসি কিম্বা থাই খাবারে অভ্যস্ত হতে পেরেছে আজও? বাংলার এই প্রকৃতিতে জন্ম নেওয়া কৃষ্টি সংস্কৃতিকে কীভাবে রাতারাতি ছুঁড়ে ফেলে দেবে? 

ইতিহাসের পরিভ্রমণে, অভিবাসন আর বিশ্বায়নের নানান পর্যায়ে মানুষ যখন অন্য দেশে প্রব্রাজন বা দেশান্তরী হয়েছে, কিম্বা অন্য দেশ বা অঞ্চল থেকে আমাদের ভূমিতে অন্যেরা এসে স্থায়ী হয়েছে- তখন ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতি নিজেদের মিথস্ক্রিয়া ও আদান-প্রদানের মাধ্যমে, একটা দীর্ঘ সময়ের আবর্তে বৈচিত্র ঘটিয়েছে। এভাবেই আমরা আলু, টমেটো, ও লঙ্কা খেতে শিখেছি, বিরিয়ানি, মোগলাই কিম্বা শুক্তো খেতে শিখেছি। বাঙালী মেয়েরা শাড়ির বদলে সালোয়ার, নাইটি, জিন্স; পুরুষেরা কামিজ ধুতির বদলে ট্রাউজার শর্টস আর শার্টে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। আর এগুলোর কোনোটার ফতোয়া বা ধর্মীয় বিধানের ফাঁসজালে বেঁধে রেখে ঘটেনি।

বড়পুজোতে বাঙালি হিন্দুর নস্টালজিক আবহ ছিল নিতান্তই ঘরোয়া, আন্তরিক এবং মানবীয় অনুভূতির মেলবন্ধন। আজকের কর্পোরেট জাঁকজমক আর সোশ্যাল মিডিয়ার রিল বানানোর হুজুগও সেই আবেগ কেড়ে নিতে পারেনি। এই সময় ছুটি যেহেতু সার্বজনীনভাবেই পরে সরকারী ভাবে, স্বভাবতই বাঙালির ঘরগুলোতে উচ্ছাসে ভরা অদ্ভুত শান্ত, স্নিগ্ধ এবং আবেগে ভরা উৎসবমন্ডিত পরিবেশ থাকে। এই ছুটির আবহে জীবনকে শুষে নেয় প্রত্যেকে তার নিজের মত করে। কেউ পুজোবার্ষিকী ও নানান ধরণের গল্পের বই পড়ে ফেলে, কেউ এই অবসরে বেড়াতে যায়, নতুন জামার গন্ধ ও আলমারি বন্দি সুখ সারা শরীর ও মনে রোমাঞ্চ তৈরি করে আজও। পাড়ার বয়োঃজ্যেষ্ঠদের আড্ডা, সন্ধিপুজোতে পাঁঠাবলি ও যৌথ পাত পেড়ে খাওয়া, সব শেষে বিজয়ার শুভেচ্ছা। আজকের আমিষ ফতোয়ার ফরমানে এই টুকরো টুকরো মূল্যবান আবেগ গুলোকে একটা নির্দিষ্ট গণ্ডিতে বেঁধে ফেলা সম্ভব?

বিজেপির সাংস্কৃতিক ফরমান পুরো ভারতীয় ঐতিহ্যকে কলুষিত করছে এই ‘হিন্দি অগ্রাসন’ চাপিয়ে দিয়ে। বিজেপি তার রাজনৈতিক ফায়দার জন্য মানুষকে একটি অভিন্ন জাতীয় পরিচয়ে জবরদস্তি বেঁধে ফেলতে খড়গহস্ত হয়ে উঠেছে। ভারতের মত সুবিশাল দেশের সংস্কৃতিতে বিবিধতা বা সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য হাজার বছরের পরম্পরা; প্রতিটা সমাজ, অঞ্চল থাকা ভিন্ন ভিন্ন জাতি, ধর্ম, ভাষা, লিঙ্গ, খাদ্যাভ্যাস ও ভিন্ন জীবনযাত্রার মানুষেরা স্বচ্ছন্দ্যে সহাবস্থান করে তাদের নিজস্ব সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যের প্রকাশ ধরে রেখেছে। এটাই জীবনের বহুরূপতা বা রকমারি ভাব। বিজেপি এখানে কোনো হিন্দি বলয়ের হিন্দুত্ববাদকে শ্রেষ্ঠ হিসাবে ধার্য করে, প্রতিটা দ্বিতীয় সংস্কৃতিকে গোবলয়ের হিন্দুত্ব সংস্কৃতির চেয়ে নিকৃষ্ট হিসাবে দাগিয়ে দিয়ে নির্দিষ্টভাবে RSS এর ব্রাহ্মণ্য সংস্কৃতি জবরদস্তি করে চাপিয়ে দিচ্ছে। বিগত দুই বা তিন শতাব্দী ধরে বাঙালি হিন্দু যে সংস্কৃতিকে নিজস্ব রূপ, নিজের সম্মান ও নিজেদের মর্যাদা হিসাবে দেখে এসেছে, আজ তাকে শেখানো হচ্ছে তুমি পাপ করেছো। এতে বাঙালি জাতির নুন্যতম কোনো বৌদ্ধিক, সামাজিক কিম্বা অর্থনৈতিক উন্নতি হবে কি? যা হবে সেটা বিজেপির রাজনৈতিক এজেন্ডার বাস্তবায়ন। এটা ধর্ম নয়, এটা শাস্ত্রীয় বিধান নয়, এটা রাজনৈতিক ভণ্ডামি আর দ্বিচারিতা।

নিজ নিজ আচার-অনুষ্ঠান পালন, ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী মানুষের পোশাক ও খাবারের ভিন্নতা, ভিন্ন অঞ্চলের নাচ, গান, স্থাপত্য এবং লোকশিল্প, একটি বিশাল দেশে একঘেয়ে সংস্কৃতির মাঝে বৈচিত্র্য নিয়ে আসে। সমাজকে অনেক বেশি প্রাণবন্ত ও দৃষ্টিনন্দন করে তোলে। ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের সাথে মেলামেশা, মানুষকে উন্নত করে তোলে, মন উদার হয় এবং অন্যের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা বাড়ে। বিজেপি-RSS এর লক্ষ্য শুধুমাত্র ভোটে জিতে ক্ষমতায় জেতা, তাই বৈচিত্র্যকে যেকোনো মূল্যে খুন না করলে বৈপরীত্য চলে আসবে। দীর্ঘস্থায়ী ক্ষমতা পেতে অচলায়তন সৃষ্টি করা জরুরী বা প্রাথমিক লক্ষ্য। অচলায়তন-এর মূল ভিত্তিই হলো স্থবিরতা, অন্ধ সংস্কার, প্রাচীর দিয়ে ঘেরা এক কৃত্রিম জগত যা পরিবর্তনকে রুখে দেয়। ক্ষমতা চলে যাবার প্রতি প্রতি চরম ভয় থেকে এই ধর্মীয় কুনাট্যের প্রেক্ষাপট তৈরি করেছে নাগপুর, যাতে বৈচিত্র্য এবং বৈপরীত্য পাশাপাশি অবস্থান না করতে পারে, যা জড়তাকে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয় এবং ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ জানায়। বিজেপি এই কারনে ধর্মকে হাতিয়ার করে সমাজ বদলে দিতে চাইছে একটা সমসত্ব ভোটব্যাঙ্ক তৈরি করতে। ভুয়ো আদর্শিক রূপকল্প- ‘এক দেশ, এক আদর্শ’, ফাঁপা দেশপ্রেমের বুলি দিয়ে একটা মেকি দর্শন বানাতে চাইছে, যেখানে সমগ্র রাষ্ট্রকে একটা নির্দিষ্ট স্থান থেকে ‘একক কমান্ড’ দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা যায় খুব সহজে।

মহারাষ্ট্র ছত্রপতি শিবাজীর ভূমি, সেখানে নাগপঞ্চমী দিয়ে যে অশ্লীলতা শুরু হয়েছিল, এখন ‘দহি হান্ডি’র মাধ্যমে তা আরও এক ধাপ এগিয়েছে। গোবলয়ের কুরুচিকর ছামিয়া নাচের দৃশ্য আমরা সকলেই কাঁওয়ার যাত্রার সময় দেখেছি, এটাকেই নতুন হিন্দু সংস্কৃতির একক বানিয়ে দিয়েছে নাগপুরের RSS কর্তৃপক্ষ, উগ্র ধর্মীয় আচারের সাথে মদ গাঁজা, অশ্লীল নৃত্য পরিবেশনা আর অন্য ধর্মের প্রতি বিদ্বেষমূলক ঘৃণাসূচক মন্তব্য- এটাই বিজেপির রাজনৈতিক হিন্দুত্বের প্রতীক। একটা সময় দূর্গাপুজো মানে ছিলো বাংলা আধুনিক গান, বিজেপি গোবলয়ের ঐ ছামিয়া নাচকেও বাংলাতে প্রতিষ্ঠা করতে চাইবে দূর্গাপুজোতে, নাহলে সবাই কীভাবে লেজকাটা শেয়াল হবে!

আজকে পশ্চিমবাংলার পুরো মন্ত্রীসভা মধ্যপ্রদেশের হিন্দি বলয়ের ‘ভন্ড বাবা’ ধীরেন্দ্র গর্গকে নিয়ে এসে ‘মেদনীপুরী’ মুখ্যমন্ত্রীর পাশে বসে দুর্গাপুজোর খাদ্যাভাস্যের নিয়ম ঠিক করে দিচ্ছে। যে বাংলা সন্ন্যাসী হিসাবে স্বামী বিবেকানন্দ, শ্রী রামকৃষ্ণ, ঋষি অরবিন্দ, স্বামী প্রণবানন্দ বা অভয়চরণ দে এর মত বিশ্বমানের মনীষীর জন্ম দিয়েছে, সেই বাঙলি হিন্দুর উপরে বিজেপির হিন্দি ও RSS এর হিন্দুত্ব চাপিয়ে দিচ্ছে- একটা উদ্ধত, দাম্ভিক, বিনয়হীন দেড় পয়সার বাগাড়ম্বরকারী অসারবাগী কপট ভন্ড ধর্ম ব্যবসায়ী। এটা আজকের বাঙালী হিন্দু সমাজের জন্য লজ্জা আর কলঙ্কের দিন বৈকি। বাঙালী হিন্দুসমাজ যদি কাপুরুষ না হয়, অবশ্যই আসন্ন দুর্গাপুজোতে সমুচিত জবাব দেবে, মুখে নয়- কাজে।

শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬

আলেম ক্যালানো যখন ফরজ



টুপি দাড়িওয়ালা একশ্রেনীর আলেম মৌলানা হাফেজ যেভাবে মমতা ব্যানার্জীর উম্মত সেজে, উলঙ্গ হয়ে ফতোয়াবাজি শুরু করেছে, ভোটের পর যখন এদেরকে রাস্তায় ফেলে লোকে কুত্তা ক্যালান দেবে- তখন কি এরা 'সংখ্যালঘু মুসলমান' আক্রান্ত বলে ‘র‍্যান্ডি রোনা’ করলে কি জনগণ প্রভাবিত হবে?

আমি হলফ করে বলতে পারি, অরাজনৈতিক মুখোশধারী এই চটি চাঁটা 'দাড়ি-টুপি' ওয়ালা খবিশ ইবলিশ গুলোকে ঝুলিয়ে ক্যালানোটা ফরজ ইবাদতের মধ্যে গন্য হবে ভোটের পর। নতুবা মুসলমানের ঈমান নিয়ে প্রশ্ন উঠে যাবে। আবু-জেহেল, আবু-লাহাব, মুগিরা এরাও সকলে লম্বা জোব্বা, লম্বা দাড়ি, মাথায় টুপি লাগিয়েই থাকত, এটা যেন মুসলমান সমাজ ভুলে না যায়।

এক শুয়োরের বাচ্চা এর আগে মুখ খোলেনি, যখন- ওয়াকফের সম্পত্তিকে যখন ১ নং খতিয়ানে তুলে দিয়েছিলো মমতা ব্যানার্জির সরকার, কেউ কোনো সাংবাদিক সম্মেলন করেনি। OBC, মাদ্রাসা শিক্ষা, SIR এর নামে মুসলমানকে যখন জিম্মি করা হয়েছিলো- এই প্রতিটা খ'য়ের ছেলে মুখে চটি গুঁজে বসে ছিলো, মমতা বিপদে পরতেই এরা রে রে করে এক হাতে ফতোয়া আর এক হাতে বিচি সম্বল করে ধেই ধেই করে নাচতে শুরু করে দিয়েছে।

এক শালার কোনো চাকুরি বা ব্যবসা নেই, প্রায় সবকটা খারিজী মাদ্রাসার শিক্ষক। সেই খারিজী মাদ্রায় আয় বলতে দান আর চাঁদার টাকা। মাদ্রাসা চালাবার নামে সাদাকা, জাকাতের পয়সাতে যারা নিজেদের পেট ভরায়, আজ তারা তোলামূলের হারামের টাকা খেয়ে বিজেপির জুজু ফেরি করছে। কোচবিহার থেকে কাকদ্বীপ একটাও এই জাতের কোনো মুনাফেক রেহাই পাবেনা ইনশাল্লাহ। মিথ্যাচার করে একটা সমাজকে গুমরাহ করার মূল্য নগদে চোকাতে হবে, কোনো ধারবাকি থাকবেনা।

বাকিরা দেওয়াল লিখন পড়ে যা বোঝার বুঝে নিন। জনগণের মার, ক্যাওড়াতলা পাড়। ভাইপো তো বিদেশ পালাবে, এই বেশ্যার বাচ্চা বেজন্মা ফতোয়াবাজদের কে বা কারা বাঁচাবে?


শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬

মুসলমান আলেম পরিচয়ে তোলামূলের হয়ে খেপ খাটা এরা আসলে কারা?

 

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতি জটিল অবস্থায় দাঁড়ালে- হিন্দু তৃণমূল বিজেপির দিকে চলে যাবে। তখন মুসলমান গুলো যাতে কংগ্রেস বা বাম জোটের দিকে চলে যেতে না পারে সেই জন্য হুমায়ূনকে সৃষ্টি করা হয়েছে। বিজেপির কোন অবস্থায় পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় আসা সম্ভব নয, একমাত্র তৃণমূল যদি না বিজেপির মধ্যে বিলীন হয়ে যায়। ১১৮টা মুসলমান অধ্যুষিত আসন যেখানে বিজেপির লড়াই নোটার সাথে, আর ৪০টা মতুয়া প্রভাবিত আসল- যেখানে বিজেপিকে ঘাটে তুলে দেওয়া হয়েছে। তাহলে বাকি সবটা আসনেও ১০০% বিজেপিই জেতে, তাতেও ম্যাজিক ফিগার ছুঁতে পারবেনা। তাহলে, কোন মন্ত্রে বিজেপির জুজু দেখাচ্ছে তৃণমূল ও তাদের পোষ্য মিডিয়া ও ভাতাজীবিরা?

হুমায়ূন নিয়ে নতুন কিছু বলার নেই, গতকাল তাকে নিয়ে আমার বক্তব্য বলে দিয়েছি। যে লোকটা বিজেপির সাথে ইতিমধ্যে ঘর করেছে, যে লোকটা ২ মাস আগে হেলিকাপ্টারে চড়ে প্রচারের ঘোষনা দিয়েছে, যে লোকটা ৩ মাসের দল খুলেই ১৮২টা প্রার্থী দেওয়ার ক্ষমতা ধরেছে, যে লোকটা ৩ মাসের দল খুলেই স্থায়ী প্রতীক পেয়ে গেছে, যে লোকটা রাতারাতি Y ক্যাটেগরির সিকিউরিটি বহর পেয়ে গেছে কেন্দ্র সরকারের থেকে- মাকুন্দ গোপনাঙ্গ বিশিষ্ট আতা ক্যালানে মাল আর মিথ্যাবাদী ছাড়া যেকোনো সুস্থ মানুষ জানতো বিজেপি-তোলামূলের মত কেউ এনাকে পিছন থেকে ব্যাকাপ দিচ্ছে। অতএব, হুমায়ুনকে নিয়ে ঈশপের ‘নীতিমালা’ গল্প ফাঁদার কোনো সুযোগ নেই। 

এতোদিন যারা হুমায়ূনের দলে পদাধিকারী ছিলো, তারা কেউ জানতনা হুমায়ূনের এই বিপুল টাকার উৎস কি? আসলে সকলে সবটা জানতো, আর সেই টাকা উচ্ছিষ্ট খেতেই এই মালগুলো দলে দলে ভিড় জমিয়ে ছিলো। যেগুলো আজ ‘তথাকথিত’ বিদ্রোহ করছে, সেগুলো নেহাত বেজন্মা বেশ্যার বাচ্চা, হারামের মালের গন্ধ পেয়ে চেটে, চুষে, কামড়ে, হামলে পরে খাবো বলে গিয়ে আজ সতী সাজছে। খাবো সবটাই, শুধু যেন সেটা জনগণ জানতে না পারে- এই হচ্ছে মোদ্দা ইস্যু। 

আচ্ছা, ইসলাম মানে তো কোরানের নির্দেশিকা আর আমাদের নবী করীম(সাঃ) এর জীবনধারা তথা হাদিস এর নীতিমালা। এখানে কোথায় চাঁদা তুলে খাওয়া পীর ফকিরির ব্যবসার উল্লেখ রয়েছে? ইসলামের নীতিমালা কি নতুন করে লেখা হয়েছে? আচ্ছা যিনি এই ইসলাম ধর্মের প্রবর্তন করেছেন সেই নবী করিম(সাঃ) তো নিজে ব্যবসায়ী ছিলেন, তাঁর যারা সরাসরি অনুগামী ছিলো সেই সাহাবী, তাবেঈন, তাবে-তাবেঈণ- এনারা কি রাষ্ট্রের ভাতাজীবি ছিলেন? এনারা আলেম সেজে সদগা যাকাত তুলে ‘বেতনের’ নামে সেখান থেকে রুটিরুজি যোগার করতেন? এনাদের প্রত্যেকের নিজস্ব পেশা ছিলো, এনারা সকলে স্বনির্ভর ও পরিশ্রমী ছিলেন। কেউ কৃষক ছিলেন, কেউ মজদুর, কেউ শ্রমিক, কেউ মরুদ্যানে সরাইখানা চালাতেন, কেউ নানান মাপের ব্যবসায়ী ছিলেন, অর্থাৎ কেউ ভাতা আর চাঁদা তুলে খেতোনা ইসলামের নামে।

আজকে দেশ ও রাজ্য জুড়ে এই আলেম ও পীরের দোকান খুলে বসা মালগুলো, যারা ইসলামের ঠিকেদারি নিয়ে রেখেছে, এদের রুজিরুটির উৎস কি? এই যে এতো মৌলানা সাহেব, হাফিজ সাহেব, আলেম, ক্বারী, মোহাদ্দিস, ইমাম, যারা ফতোয়া দিচ্ছেন তোলামুলের পক্ষে- এনাদের হালাল পেশা কি? গুটি কয়েক হাতেগোনা ‘মুমিন’ ব্যক্তি বাদ দিলে, এরা প্রত্যেকে ‘ইসলাম ধর্মকে’ পুঁজি বানিয়ে জোব্বা, চোগা, গোঁফ বিহীন দাড়ি আর মাথায় ফেজ টুপির দোকান সাজিয়ে হয় চাঁদা তুলে খাচ্ছে, কিম্বা ঝাড়ফুঁক জলপড়া তেলপড়া তাবিজ কবজের লোক ঠকানো ব্যবসা করে হারামের কামাই খাচ্ছে। এর পাশাপাশি সমানে চেষ্টা থাকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার বৃত্তের কাছাকাছি পৌঁছে ‘বাইতুল’ মালের যে রাজনৈতিক লুঠ চলছে, সেখান থেকে যেন একটা অংশ তাদের ভাঁড়ারে চলে আসে। তার জন্য এরা ইমান, আমল বিক্রি করা, ইসলামকে বিকৃত করা- সব কিছু করতে রাজি।

আপনি প্রমাণ দেখান, যারা যারা সমাজের ওই অংশ থেকে মানে ‘ইসলামকে’ বেচে খাওয়া লোকজন, তথাকথিত আলেম সমাজ মুসলমানের নেতা হওয়ার চেষ্টা করেছে, এবং মুসলমান সমাজও যাদের হাতে নেতৃত্বের ঝান্ডা দিয়েছে- তারা পিছিয়ে থাকা মুসলমান সমাজের জন্য কি দিয়েছে? বা ১৫ বছরের তৃণমূল সরকারের থেকে কি আদায় করাতে পেরেছে?

মমতা ব্যানার্জির দল সাংসদে তিন তালাক বিলে বিজেপির পক্ষে ছিলো, এই আলেম সাজা চমনচুতিয়া গুলো মুখ খুলেছিলো সেদিন মমতা ও বিজেপির সম্পর্ক নিয়ে? CAA/NRC বিলে তৃণমূলের ৮ জন সাংসদ ভোট দেয়নি, এই বাঁদির বাচ্চা গুলো মুখ খুলেছিলো? দীর্ঘদিন সরকারী মাদ্রাসাতে শিক্ষক নিয়োগ না করে মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থাটাকে পঙ্গু করে দিয়েছে RSS এর প্ল্যান মাফিক, এক শুয়োরের বাচ্চা মুখ খুলেছে এ নিয়ে গত ১৫ বছর? রাজ্যে ৩০% মুসলমান, সরকারী চাকরিতে মুসলমানের ছেলে মেয়েরা মাত্র ৪% অংশীদার, কেউ আন্দোলন করেছে বা সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার নুন্যতম দিশা দেখিয়েছে? রাজ্যে ৩০% মুসলমান, রাষ্ট্রীয় জনপ্রতিনিধি মাত্র ১২%, এই শুয়োরের বাচ্চারা এই বিষয়ে একবারও আন্দোলন বা প্রতিবাদ করেছে? OBC তে যে মুসলমান সমাজকে ধোঁকা দেওয়া হলো, ওয়াকফের সম্পত্তি কেড়ে নেওয়া হলো, কোন মামার সন্তান ‘আলেম’ আজ যারা তলামূলকে ভোট দিতে আহ্বান জানাচ্ছে, তারা জান লাগিয়ে প্রতিবাদ করেছিলো?

এরা চুপ থাকার বিনিময়ে তৃণমূল দল ও মমতা ব্যানার্জি সরকারের থেকে হারামের মাল কামিয়েছে এতদিন। আজ তাই মমতার হয়ে এদের হা-রে-রে-রে করে নেমে পরতে হয়েছে, ‘কওম’ কে এরা এভাবেই বিক্রি করেছে মুসলমান সমাজকে ঠকিয়ে। ঠিক যেমন মমতা ব্যানার্জী, বিজেপি-RSS এর মুসলমান বিরোধী প্রকল্প গুলোকে পাশ করিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে টাকা নিয়েছে। সামান্য হুমায়ুন যদি দাবী করে বিজেপি তাকে ১০০০ কোটির অফার করেছে, তাহলে ভাবুন মমতা ব্যানার্জী বিজেপি-RSS এর কাছে গত ১৫ বছরে ধরে সহস্রবার বিক্রি হয়ে কত টাকা কামিয়েছে!

এদেরকে চিনে নিন। প্রথমেই তোলামুলের পক্ষে থাকা এই আলেমদের শুধান, আপনাদের পেশা কি? মানে পেট চলে কীভাবে? রুজিরুটির বন্দোবস্ত কীভাবে ও কোথা থেকে আসে! তারপর উপরে করা প্রশ্নগুলো এদের শুধান। আসলে এই শয়তান ইহুদির বাচ্চা গুলো ক্ষমতার কাছে বিক্রি হয়ে মুসলমান সমাজকে কাঁকড়ার মত টেনে আঁকড়ে ধরে বসে আছে, কোনোভাবে এগোতে দেবেনা। মুসলমান জনতা যত মুর্খ থাকবে, তত তাদের ভয় দেখিয়ে এদের পেট ভরাবে। মানুষ শিক্ষিত হলে এই শুয়োরের বাচ্চাদের পেটে সবার আগে লাথি মারবে। শিক্ষিত সম্প্রদায় তখন বিভিন্ন ‘মিশন’ নামক প্রতিষ্ঠানে টাকা দেবে, যারা পিছয়ে থাকা মুসলমান সমাজের সন্তানদের ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার প্রফেসর শিক্ষক বানাচ্ছে, সর্বোপরি শিক্ষিত বানাচ্ছে। তারা ইসলামিয়ার মত হাসপাতালে দান করবে, নিজেরা অনেকে হাসপাতাল বানাচ্ছে, কমিউনিটি সেন্টার বানাচ্ছে, যেখানে সমাজের পিছিয়ে পরা অংশটা আবার মূলস্রোতে ফিরে এসে সম্মান জনক রুটিরুজি যোগার করতে পারে, খেতে খেতে পারে।

এরা কেবল খারিজী মাদ্রাসা বানায়।

একটা উদাহরণ নিন, সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী। শতাব্দী প্রাচীন জমিয়ত উলামা হিন্দের সর্বোচ্চ পদাধিকারী ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ শাখার। সেই পদকে মমতার কাছে বেচে MLA ও মন্ত্রী হয়েছেন। কোলকাতা শহরে বিপুল পরিমান ওয়াকফের সম্পত্তি দীর্ঘদিন ধরে ব্যক্তিগত সম্পত্তির মত ভোগদখল করে চলেছে। নিজে সারা জীবনে ডজন খানেক বালবাচ্চা পয়দা করেছেন ওনার আব্বা জানের মতই। সব মিলিয়ে সিদ্দিকুল্লাহ সাহেবের ভাই, সন্তান, জামাতা ও তাদের ওয়ারিসান সকলে মিলে নর্মালি রাস্তা দিয়ে হেঁটে গেলে ৫০০ লোকের মিছিল মনে হয়। মন্ত্রী ও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় বলিয়ান সিদ্দিকুল্লাহ সাহেব এই মিছিলের অধিকাংশের আখের গুছিয়ে দিয়েছেন। পরিবারের বাইরে থাকা কোটি কোটি মুসলমানের জন্য কি করেছেন? 

সিদ্দিকুল্লাহ সাহেব ও ওনার মত তোলামূলের পে-রোলে থাকা বহু আলেমই খারিজী মাদ্রাসার সাথে যুক্ত, সিদ্দিকুল্লাহর ভায়েদের পেশাও তাই। কারন মাদ্রাসার নামে তোলা সদগা, যাকাত, ফিৎরা, সদগায়ে জারিয়া, কাফফারা, নজর, মানত, ফিদইয়া ইত্যাদির রাশি রাশি টাকা গুলো বেতনের নামে ভোগ দখল এরাই করে। মাদ্রাসা চালানোই এদের মূল পেশা। সেই প্রতিটা মদ্রাসাতে কোনো আধুনিক শিক্ষা নেই, যেখানে পড়াশোনা করে ১ জন মুসলমান শিক্ষার্থী- এই সমাজের ব্যবসা ও চাকরির কম্পিটিশনের বাজারে সামান্যতম প্রতিযোগিতা করতে পারে! এদেরকে মাদ্রাসাতে ছেলেপুলে ভর্তি করতেই হবে, এর প্রধান শর্ত হচ্ছে মুসলমান সম্প্রদায় গরীব হওয়া। কারনে গরীব অনাথ শিশুদের না দেখালে ওখানে দানের টাকা কেউ দেবে কেন? সিদ্দিকুল্লারা তাই সকলে খারিজী মাদ্রাসা চালায়, মুসলমানকে দেখায় দেখো আমরা কোরান হাদিসের শিক্ষা দিচ্ছি। যে কোরান হাদিসের শিক্ষা নিজেদের রুজি রোজগার ও জীবন যাত্রাতে এতটুকু লাগু করেনা, যেটুকু ভেক ধরার জন্য না পরলেই নয়। এনারা কেউ হাসপাতাল করেছে? এনারা কটা এতিম খানা খুলেছে? কটা আধুনিক শিক্ষা কেন্দ্র খুলেছে, যেখানে মুসলমানেদের পিছয়ে পরা সমাজের জন্য বৃত্তিমূলক শিক্ষা প্রতিযোগিতামূলক চাকরির জন্য ট্রেনিং দেওয়া হয়? ওয়াজ মেহেফিলের নামে ‘পার নাইট’ হিসাবে লাখ টাকায় ধর্ম বেচার কারবারিরা কেবল ততটুকু ফতোয়া দেয়, যতটা তাদের ‘চেটে’ খেতে ও হাত পেতে খাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয়।

এরা ‘দ্বীন’ এর কথা বিক্রি করে, নিজেরা দুনিয়া দুনিয়া করে উন্মাদ হয়ে রয়েছে, সর্বক্ষণ কি করে দুটো মেরে মুচরে নিয়ে এসে নিজের ঝুলি ভরবো- এই হচ্ছে এদের ঈমানের একমাত্র কাজ। এরা কেউ গত ১৫ বছরে মমতা ব্যানার্জী ও তৃণমূল দলের বিরুদ্ধে ১টা কথা বলেছে? না বলার কারন দুটো হতে পারে, প্রথমত মমতা সরকারের কোনো ভুল ছিলোনা, তৃণমূল সরকার আসলে মুসলমানদের জন্য ‘খিলাফায়ে রাশেদিন’ প্রতিষ্ঠা করে রেখেছিলো এতোদিন, দ্বিতীয়ত ওনারা মুনাফেক মিথ্যাবাদী। আসানসোলে দাঙ্গা হোক বা মুর্শিদাবাদের অশান্তি- এনারা মুখে চটি গুঁজে বসে ছিলেন। এরা বাবুল সুপ্রিয়র বিরুদ্ধেও এতটুকু রা কাটেনি, যে আসানসোল দাঙ্গার মূল নায়ক। উপরন্তু তৃণমূলে যোগ দেওয়া বাবুল সুপ্রিয়কে এরা ‘বাপ’ হিসাবে মেনে নিয়ে, বালিগঞ্জের মত মুসলমান অধ্যুষিত আসনে তাকে জিতিয়েও এনেছিলো। ওয়াকফ নিয়ে মমতা ব্যানার্জীর ধাষ্টামির বিপরীতে এদের কোন অবস্থান ছিলোনা, মমতার পদলেহন ছাড়া? এদের শুধু মুনাফেকই নয়, এরা জ্যান্ত শয়তান। সামান্য সরকারী অনুগ্রহের লোভে এরা মুসলমান সমাজের সাথে প্রতারনা করে গুমরাহ করছে।

এরাই ফতোয়া দিচ্ছে, মমতাকে ভোট না দিলে বিজেপি চলে আসবে। রোজার সময় এদের চালিত প্রতিটা মাদ্রাসা বাইরের রাজ্যে যাকাতের টাকা আদায় করতে যায়। এদের পাখির চোখ রাজ্যগুলোর নাম জানেন? গুজরাত, হরিয়ানা, দিল্লি, মহারাষ্ট্র, আসাম, উত্তরপ্রদেশ ইত্যাদি; যেগুলোর সবকটা বিজেপি শাসিত রাজ্য। বিগত ১০-১৫ বছর ধরেই এগুলো বিজেপি শাসিত রাজ্য, এনারা কেউ বিজেপির ভয়ে সেখানে ‘আদায়’ করতে যাওয়া ছেড়েছে। সেখানে রোজ মুসলমান নিগৃহীত ও খুন হচ্ছে, সেই তালিকাতে কেবল গরীব মুসলমান, একটা মৌলানা আদায়কারী হেনস্থার শিকার হয়েছে? কারন তারা সেখানে বিজেপির সাথে আপোষ করে চলে। রাজ্যের ৯০% পরিযায়ী শ্রমিক এই বিজেপি শাসিত রাজ্যেত কাজে যায়, তখন এরা কেউ ফতোয়া দেয়না যে বিজেপি শাসিত রাজ্যে যাওয়া যাবো না। 

বিজেপি তো নর্দমা, মুসলমান বিদ্বেষই তার একমাত্র রাজনৈতিক হাতিয়ার। কই, এই সব আলেম, পীরের ছানারা তাদের অনুগামীদেরও কি মানা করেছে- ভাই ওখানে বিজেপি আছে যেয়োনা, মারা যাবে। নিজেরাও অধিক দানের লোভে, মাসের পর মাস বছরের পর বছরে বিজেপি শাসিত রাজ্যে পরে থাকে, এরা যোগীর রাজ্য গিয়ে সাহারানপুর দেওবন্দে পড়াশোনা করে, সেখানে যেতে কেউ মানা করেনা, যে বিজেপি আছে কেউ যাসনা পড়তে। শুধু এ রাজ্যে ভোটের সময় বিজেপির জুজু মনে পরে যায়। বিজেপি প্রকাশ্য শত্রু হলে, এই ভন্ডগুলো তার চেয়েও বড় শত্রু মুসলমানের জন্য।

সুতরাং, মমতা না এলে বিজেপি চলে আসবে, এটা এদের ভাতা পাওয়ার ধান্দাবাজি, রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডা। সরকারী টাকায় মন্দির বানানো মমতা ক্ষমতায় আসীন থাকলে, রাজ্যে বিজেপিকে আদৌ দরকার রয়েছে RSS এর? বিজেপি কোনটা করবে, যে পাপ মমতা ব্যানার্জী ইতিমধ্যে করেনি? আলেমগুলো যদি সত্যিই যদি বিজেপিকে ঘেন্না করত বা তাদের ভয় পেতো, তাহলে তারা নিজেরা ও তাদের অনুগামীদের বিজেপির রাজ্যে যেতে মানা করতো। সামান্য চাঁদার জন্য এখানে তারা বিজেপির সাথে কেন আপোষ করছে? ইরাণের মুসলমানেরা কি ইজরায়েলে কাজে যায়? এরা শুয়োরের মাংসকে হারাম বলে, কিন্তু ঝোলটা শরীয়ত মেনে হালাল হিসাবে খায়। এরা তোলামুলের কাছে ফুটো পয়সাতে ঈমান আমল বিক্রি করে রেখেছে। মমতা ব্যানার্জী মুসলমানকে ‘দুধেল গাই’ সাজিয়ে ‘ভোটব্যাঙ্ক’ হিসাবে ব্যবহার করে দ্বিতীয় শ্রেনীর নাগরিক বানিয়ে রেখেছে, এই আলেম গুলো সেই পাপের প্রত্যক্ষ অংশীদার। আজ হুমায়ূন যে কারনেই হোক, সেই ‘দুধেল গাই’ ভোটব্যাঙ্কে থাবা বসাতেই- মমতা ব্যানার্জী উন্মাদ হয়ে এই বিকৃত আলেম সমাজকে নামিয়ে দিয়েছে; যারা আসলেই মমতার পোষা কুত্তা। এদের ফতোয়া মুসলমান সমাজকে বাঁচানো বা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য নয়, আতঙ্কে দিশেহারা মমতা ব্যানার্জীকে বাঁচানো ও মমতাকে সামনে রেখে এদের নিজেদের রুজি রোজগার বাঁচানোই এদের মুখ্য উদ্দেশ্য।

হুমায়ূনের ভিডিও কান্ডে একটা জিনিস পরিষ্কার হয়ে গেছে, মমতার হয়ে খেপ খাঁটা যত মুনাফেক মুসলমান ছিলো, অনেক আগেই মমতা যাদের পোঁদের কাপর কেড়ে নিয়েছিলো; হুমায়ুনের সামান্য পরিমান জনভিত্তি দেখে রাতের ঘুম উড়ে যাওয়া মমতা ব্যানার্জী- সেই পোঁদের কাপর বিহীন ‘কাটা মোল্লার’ সব কটার সামনের কাপড় কেড়ে নিয়ে, ন্যাংটা করে বাজারে নামিয়ে দিয়েছে। সোজা হিসাব, এতদিন তদের ভাত কাপড় দিয়ে কি মিছিমিছি পুষেছি? সুতরাং, হুমায়ূনের বিরুদ্ধে ফতোয়া দে, আর মমতা না এলে বিজেপি চলে আসবে এই বলে মুসলমানকে বোকাচোদা বানা। 

হুমায়ূনের বিরুদ্ধে আজ কারা খাপ বসিয়েছে? নারদার টাকা নিতে দেখা স্যান্ডো ববি, আর সারদার টাকা চুরিতে সরাসরি অভিযুক্ত ও জেলখাটা আসামী কুনাল ঘোষ। চালুনির দল ছুঁচের বিচার করতে বসেছে, ওদের নিজেদের ঘরোয়া কেচ্ছা নিজেরাই মেটাক। ওমা, কিছু কিছু বাম্বাচ্চা ববি কুনালের চেয়েও বীর বিক্রমে ন্যাংটা হুমায়ুনকে ঠিল মারছে। আরে মদন, নর্দমাতে ঢিল মারলে কাদা তোর জামাতেই উঠবে। হুমায়ুন কোনো বাম ভোট কাটবেনা, সে তোলামুলের ভোটই কাটবে। আর তাতে যদি সে সফল হয়, তবে বামের ঘরে দু-চারটে আসন আসতে পারে। 

সিপিএমের সোশ্যাল মিডিয়া ব্রিগেড আরেক গান্ডুর দল। সিপিএমের নানান শাখা সংগঠন আছে, কিন্তু সেগুলো খাতায় কলমে। কেউ মূল সিপিএম, কেউ সিটু, কেউ যুব, কেউ ছাত্র তো কেউ ক্ষেতমজুর। এরাই গত ৫-৭ বছর ধরে প্রতিটা মিছিলে মিটিং এ যায়, এরাই ব্রিগেডে ১০ লাখের জমায়েত করে। আসলে দিনের শেষে সাকুল্যে এই ১০ লাখই হারাধনের ছেলে দশটি ছেলে,  কুমিরের বাচ্চা দেখানোর মত এদেরকেই সব জাইগাতে দেখা যেতো। একটা বুথ থেকে এরা ১২ জন আসতো, সেই ১২টা ভোটও পার্টি পেতোনা, ফলে সর্বত্র জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। তোদের জ্ঞানের বহর আর অউকাত তো গত ১৫ বছরে রাজ্যের লোক দেখে নিয়েছে। মুখ খুললেই যখন শুধু দুর্গন্ধই বের হয়, তখন চুপ থাকাটা শেখ না ভাই। আজ তো মানুষই পরিস্থিতি বদলে দিচ্ছে, কৃষিপ্রধান মন্তেশ্বরে শতরূপের সভাতে টুপি দাড়ির মুসলমান আর ঘোমটা দেওয়া মহিলাদের ভিড়, রাজ্যে দিন বদলের আশা জাগাচ্ছে। তোরা অন্তত মুখ আর পোঁদ- এই দুই ফুটো বন্ধ রাখ। দলের পক্ষে অফিসিয়াল বিবৃতি দেওয়ার তো লোক আছে, উনাদেরকে আগে বলতে দে, তারপর নাহয় তোরা সেই লাইন ধরে ঝাঁ ঝাঁ করে বলতে শুরু করবি।

তৃণমূল আজ ক্রমশ ২০১৭ সালের সিপিএমে পরিনত হচ্ছে। যেখানে যত ছুপা তোলামুল ছিলো, আজ সবাই প্রকাশ্যে হাজির হয়ে গেছে। অর্থাৎ, এই মাল কটাই সবেধন নীলমনি হয়ে অবশিষ্ট রয়েছে তৃণমূলে। চাকুরীজীবি জনগণ নেই, মধ্যবিত্ত নেই, সাধারণ গরীব মুসলমান, অফশিলি ও আদিবাসি, শ্রমিক কৃষক সবাই তৃণমূলের উৎখাত চাইছে যেকোনো মূল্যে। এই তোলাবাজ কাটমানিখোর চোর গুলোর হাত থেকে রাজ্যবাসী পরিত্রাণ চাইছে; এই সময় যারা তোলামূলের ঢাল হিসাবে সামনে আসবে, তারা মৌলানা আলেম হোক বা সাধু সন্ন্যাসী, মুখে জাষ্ট মুতে দিয়ে লাথি মেরে রাস্তার বাইরে ফেলে দিন। 

যাদবদের জন্য লালু অখিলেশ দল খুললে সেটা সিদ্ধ, চামার দলিতের জন্য দল খোলা মায়াবতীর দোষ নেই, দ্রাবিড়দের জন্য খোলা দল আছে তামিলনাড়ুতে, মাঠারাদের জন্য দল আছে, কন্নরদের জন্য দল আছে, তেলেগু জাতিস্বত্তার ভিত্তিতে দল হলে তা সমান ও রাষ্ট্র স্বীকৃত হয়, শিখদের জন্য আকালি দল আছে, দেশে সকল জাতি ও গোষ্ঠীর নিজেদের রাজনৈতিক দল আছে। পাহাড়ীদের জন্য নিজস্ব দল আছে, আদিবাসীদের নিজেদের দল আছে। আসাম সহ উত্তরপূর্বে নানান ধর্ম ও জাতি ভিত্তিক দল আছে। ব্রাহ্মণ্য বাদীদের জন্য খোদ RSS রয়েছে, মুসলমানদের সেই অর্থে কোনো দল নেই, তারা কেবল ভোট ব্যাঙ্ক। দল খুললেই সে সাম্প্রদায়িক, এমনকি সন্ত্রাসীও বটে। মুসলমানদের নেতা রাহুল গান্ধী, মমতা ব্যানার্জী, অধীর চৌধুরী, লালু প্রসাদ, মুলায়ম সিং, করুণানিধি, জ্যোতি বসু, বা প্রমুখেরা; সৌজন্যে এই হারামি শয়তান আলেমগুলো, যারা ইসলামকে বেচে এসেছে যুগে যুগে- সামান্য ভাতা আর কিছু উচ্ছিষ্টের বিনিময়ে। 

“মুসলমান আর ভয় পাচ্ছেনা, বিজেপি NRC জুজু দেখিয়ে মমতার ভয়ের দোকানের ঝাঁপ বন্ধ হয়ে গেছে”। এই লাইনটার জনক খুব নির্দিষ্টভাবে আমি নিজে। টুপিওয়ালা মুসলমান আর ঘোমটা দেওয়া মহিলা ব্রিগেড- এবারে ঠিক করে দেবে রাজ্যের শাাসক কে হবে। মুসলমান সমাজে যারা ‘মানুষ’, তারা এবারে ভোটটা দেবে- ১৫ বছরে কি পেয়েছে, কি পায়নি, আর কি কি পেতে পারতো যা তার অধিকার ছিলো, আগামীতে কি কি পেতে পারে সেই বুঝে ভোট দেবে। এই সব দু পয়সাতে বিক্রি হয়ে যাওয়া আলেমদের ফতোয়াকে পোঁদে মুছে ফেলে দিন জাষ্ট। সুযোগ পেলে মুখে মুতেও দিন, তাতে আপনার খানিকটা নেকি বাড়বে বৈ কমবেনা। 

তাই যে শুয়োরের বাচ্চা, নিজেকে মুসলমান সম্প্রদায়ের হনু বলে ফতোয়া দিয়ে তোলামুলের হয়ে দালালি করতে আসবে, শুরুতেই তাকে খানকির ছেলে ও শুয়োরের বাচ্চা বলাটা ফরজ, এটা আমলও বটে। এটা না বললে আপনার ঈমান নিয়ে প্রশ্ন উঠবে, আদৌ আপনি মুসলমান, না শয়তানের ধোঁকায় পরা গুমরাহ ব্যাক্তি এখানে বিচার হবে। এর পর সেই দালালকে শুধান- আপনি ওয়াকফ, OBC, SIR এর নামে মুসলমান সম্প্রদায়কে যখন ক্ষতির মুখে ফেলা হচ্ছিলো, আপনি বা আপনারা কোথায় ছিলেন? 
   
ধর্মকে বেচে খাওয়া যাদের রুটিরুজি- যাদের দোকান চলে ‘কওম’কে চুতিয়া বানিয়ে; তারা ‘কওম’ নিয়ে কিছু বলতে আসলেই মুখে থুতু দিন। এরা নিজেরা সারাবছর চটির নিচে পরে থাকে ভাতাজীবি হয়ে, ভোটের বাজারে ব্ল্যাকমেল করে কিছু কামিয়ে নেওয়ার তালে এই মালগুলো মুখ খুলেছে। এদের এই খোলা মুখে হেগে দিন। এদেরকে মুসলমান সমাজের নেতা বানানোর ধাষ্টামি বন্ধ করুন, গরীব স্বল্পশিক্ষিত মুসলমান বোকা হতে পারে, তাদেরকে বোকাচোদা ভাবার আর সুযোগ নেই। যাকে খুশি ভোট দিন, তৃণমূল বিজেপিকে বাদে।

মঙ্গলবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৫

সিদ্দিকুল্লাহ~ আসানসোলে গোরক্ষার তান্ডব



সিদ্দিকুল্লাহ নামের নেড়িটা জীবিত আছে? মাস দেড়েক আগে যে নাকি লক্ষ লক্ষ ঘেউ নামিয়ে রাজ্য অবরুদ্ধ করে দিতে চাইছিলো! পারলে ওর গাঁড়ে গোলমরিচের আরক গুঁজে বলে আসতাম- আসানসোল শহরটা বাংলাতে রে বেইনস্টোক। এখানে ওকে কেউ ঘেউঘেউ করতে দেখেনি।

আরেকটা মর্কট আছে, ত্বোহা সিদ্দিকি, যার পেশাই হলো ধর্ম ব্যবসা- তাবিজ কবজ। এর বাইরে অনেক এঁটোকাঁটা খোর জীবজন্তু আছে, যারা নিজেদের ভাগায় কম পরলে ফোঁস করে উঠে।
এরাই পাড়ায় পাড়ায় গিয়ে বোঝায়- তৃণমূলকে ভোট না দিলে বিজেপি চলে আসবে। রাজ্যে তৃণমূল থাকলে বিজেপির প্রয়োজনটা কী?
মুসলমান সম্প্রদায় কী বুঝতে পারছে যে এই সব আলেম সাজা চুতিয়া গুলো আসলে RSS এর দালাল। ধর্মকে সামনে রেখে, হাদিস-কোরানকে সামনে রেখে গোটা বাঙালি মুসলমান সমাজকে বোকাদোচা বানাচ্ছে।
এরা চুরির ভাগা তথা হারামের টাকার জন্য দ্বীন-দুনিয়া-আখেরাত সব বেচে দিয়েছে। জোব্বার আড়ালে। সবকটা শয়তান-এ-আজম, মুনাফেক। ইহুদীরা প্রকাশ্য শত্রু, এই আলেম সাজা মালগুলো তার চেয়েও ভয়ানক।
ভাই মুসলমানেরা, জেগে উঠো। এই শয়তানদের দোজোখে পাঠাবার সময় এসেছে। জিহাদ যদি করতে হয়, আগে এদের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক জিহাদ করুন। এটাও ফরজ, এটাও সুন্নত ইবাদত এখন। শয়তানকে বর্জন করা। নুতুবা কিয়ামতের ময়দানে জবাব দিতে পারবেন তো এই কবিরা গুনাহের?

বুধবার, ২ জুলাই, ২০২৫

গণতন্ত্র ও জায়োনিজম



কি ভাবছেন তারা গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করে?

আপনি ভাবছেন তারা শুধুমাত্র সম্পদের জন্য লড়াই করছে!
আপনি ভাবছেন তারা শুধুমাত্র দাদাগিরি করার জন্য লড়াই করছে!
আপনি ভাবছেন মুসলমান সব থেকে বড় ধর্মোন্মাদ জাতি, কেউ বলবে খ্রিস্টানরা সব থেকে বড় ধর্মোন্মাদ জাতি, তারাই তো ক্রুসেডের নামে লক্ষ কোটি মানুষকে জবাই করেছিল। আরেকটা দল ভাবছে উগ্র হিন্দু তথা আরএসএস বাদী ভক্ত ও তাদের নাগপুরি প্রভুরা সবথেকে ধর্ম উন্মাদ সম্প্রদায়। আসলে আপনি একটি নিরেট গর্ধব, ততটুকুই বোঝেন যতটা আপনাকে বোঝানো হচ্ছে, আপনার চোখ কান নাক এবং পঞ্চ ইন্দ্রিয় শুধুমাত্র ভোগবিলাসের জন্য, জ্ঞান আহরণের জন্য নয়।
এরা লড়াই করছে ইমাম মাহাদীকে আটকানোর জন্য, দাজ্জালকে বসানোর জন্য, মাসায়া বা মেসিকে স্বাগত জানানোর জন্য। এরা জেরুজালেমের আল-আকসা মসিজদকে- 'হাইকেল ই সুলাইমানি' বা সিনাগগে রূপান্তর করেতে চায়, তাই ইহুদিরা গোটা বিশ্ব থেকে প্রমিশ ল্যান্ডে আসছে ইউরোপ আমেরিকার সুস্থির স্বাচ্ছন্দ্য জীবন ছেড়ে এসে। এরা বিশ্বাস করে তাদের মাসায়া বা পরিত্রাতাএলে ইহুদিরা বিশ্ব শাসন করবে। আর ইসলাম বলছে ইমাম মাহদি ইহুদিদের মাসায়া বা দাজ্জালের সবচেয়ে বড় শত্রু, যে মাসায়াকে কখনও রাজা হতে দেবেনা। এটাই মোটাদাগে গল্পটা। বাকিটার জন্য ইউটিউবে প্রচুর লিঙ্ক পেয়ে যাবেন, বিস্তারিত শুনে নিন আগ্রহ থাকলে।
আপনার কাছে হাস্যকর ও উদ্ভট মনে হতো এগুলো আমি বললে। আজ থেকে দশ-বারো বছর আগে যখন আমরা কেউ কেউ জায়োনিষ্ট শব্দটা লিখতাম এই ফেসবুকের নানা প্রবন্ধে, আপনাদের কাছে মনে হতো এটা আবার কোন ভাষা! পাগল ছাগল জোটে যত্তসব, ব্যাটা ইসলামিক মৌলবাদী ইত্যাদি পদবী জুটতো আমার। সব আজকের দিনে এসে জায়োনিষ্ট শব্দটা বাচ্চা বাচ্চাও জানে। আগামীতে আপনারাও জানবেন কে ইমাম মাহদি, কে দাজ্জাল, কে মাশায়া কিম্বা কে ঈসামসী। সত্যকে চেপে রাখা যায়না মিথ্যার জুমলা দিয়ে।
এই অবধি এক মুহূর্তের জন্য আপনার মাথায় আসেনি- ইহুদিরা পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি মৌলবাদী ধর্মান্ধ জাতি। প্রতিটা আমেরিকান প্রেসিডেন্ট মৌলবাদের সর্বোচ্চ পৃষ্ঠপোষক। বর্তমান মার্কিন বিদেশ মন্ত্রী 'রুবিও' একজন ধর্মান্ধ মৌলবাদী জায়োনিস্ট। পশ্চিমা মিডিয়া যেহেতু আপনাকে শেখায়নি এরা মৌলবাদী ধর্মান্ধ, তাই এই ভাবনা আপনার মাথায় আসেইনি। পশ্চিমারা জানে আপনি একটা বুদ্ধিহীন ভাঁড়, সূটেড বুটেড মানেই তারা সর্বোৎকৃষ্ট এবং তারা সমস্ত প্রশ্নের উর্ধ্বে দেবদূতদের আধুনিক রুপ। তারা আপনাকে শিখিয়েছে 'ইসলামিক মৌলবাদ' শব্দটা আর আপনি ওইটুকু জেনেই অর্গাজম করে ফেলেছেন।
আসলে আপনি যা দেখছেন ও ভাবছেন তা হিমশৈলের চূড়াটুকু মাত্র। পৃথিবীতে থাকা প্রতিটি ইহুদি বিশ্বাস করে তারাই একমাত্র মানুষ এবং পৃথিবীর সমস্ত সম্পদ তাদের। তারা জন্মগতভাবে শাষক। বাকিরা কেউ বেঁচে থাকার যোগ্য নয়, একেবারে ব্রাহ্মণ্যবাদের দাদাঠাকুর। সে আপনি হিন্দু, মুসলমান, খ্রিস্টান, শিখ, আদিবাসী যা খুশি ধর্ম পালন করুন কিংবা আপনি নাস্তিক হন- কিচ্ছু যায় আসে না তাদের। এটা তাদের ধর্মীয় বিশ্বাসের অঙ্গ, ইমান। ইহুদি ও জায়োনিষ্টদের ধর্মবিশ্বাস মতে, আপনি তাদের চাকরবাকর, আপনার প্রাণের দাম একটা মশা-মাছির চেয়ে এক পয়সাও বেশী নয়।
চোখ বন্ধ করে থাকলে প্রলয় আঁটকায় না। তাই চোখ খুলুন, জ্ঞান বাড়ান। আমার জন্য নয়, আপনার নিজের জন্য, নিজের পরিবারের জন্য, আপনার সন্তানের জন্য। চিনে নিন, দেখে নিন আপনার আসল শত্রু কারা।
আলকায়দা ও ওসামা তাদের তৈরি। আইসিস তাদের তৈরি। তালিবান তাদের তৈরি। অস্ত্র ও অর্থ দিয়ে কে তাদের সৃষ্টি করেছে? গোটা পৃথিবী জুড়ে থাকা ৯৫ শতাংশ মিলিশিয়া জঙ্গি সন্ত্রাসী গ্রুপ এই জায়োনিষ্টদের তৈরি। গোটা পাকিস্তান নামের একটা সন্ত্রাসী রাষ্ট্র দেশ সেনাবাহিনী অধীনে, যে সেনাবাহিনীকে নিয়ন্ত্রণ করে এই জায়নবাদী প্রভু গোষ্ঠী, ভারতকে চাপে রাখতে, যুদ্ধের অস্ত্র বিক্রি করতে। এগুলো কি আপনাকে আজকে শিখিয়ে দিতে হবে? আপনি নিজেই তো জানেন সত্যটা।
ভক্তদের বলি, আপনারা যে ইহুদি ধর্মকে আদর্শ করে ইসরাইলকে দ্বিতীয় বাপ বানিয়েছেন, তারা আপনাদের মানুষ বলেই মনে করে না। আপনার ধর্মকে তারা সবচেয়ে বেশী ঘৃণা করে, মুসলমানদের চেয়েও বেশী। আপনার প্রাণের মূল্য গোবরে থাকা কীটপতঙ্গের থেকেও কম। অবশ্য আপনারা গোবরের পোকামাকড়ই বটে।
যুদ্ধটা অর্থনৈতিক ভাবে অবশ্যই চাবাহার আর হাইফার লড়াই। কিন্তু তার পিছনে রয়েছে ৩৫০০ বছরের ধর্মীয় অন্ধবিশ্বাস, যার কারনে ইজরায়েল দেশটা ফিলিস্তিনে; ইউরোপ, আমেরিকা বা আফ্রিকাতে নয়।
ইহুদি মৌলবাদ আর জায়োনিষ্ট সন্ত্রাসীরা এখন ভয় পাচ্ছে, আপনি কী শুনতে পাচ্ছেন?

শুক্রবার, ২ মে, ২০২৫

বঙ্গে গাঁজা

 


 ১) “ডলার এবং মেমসায়েবের লোভে সুকণ্ঠ ভেকধারী বাউলরা ক্রমে ব্যাকুল হয়ে ওঠেন। বাউল-ফকিররা গাঁজা খান। বাউলদের গাঁজা যৌনাচার হিপি ঐতিহ্যের স্মারক। অতএব ওই পথের পথিক মেমসায়েব বাউলের সঙ্গ ধরবে, এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই”।

— সৈয়দ মুস্তফা সিরাজ, দৈনিক আজকাল, ৩০শে মে, ২০০৪; সুধীর চক্রবর্তীর বই নানা মনের চোখে, দেবাশিস মুখোপাধ্যায়, পৃ ১১৪

২) “বিদ্যাসাগর জিজ্ঞাসা করলেন, "কি হারান, শুনলাম তুমি নাকি কাশীবাসী হয়েছ? গাঁজা খেতে শিখেছ কি?” হারানবাবু উত্তর দেন, "কাশীবাসী হওয়ার সঙ্গে গাঁজা খাওয়ার কি সম্পর্ক' বুঝতে পারলাম না।" বিদ্যাসাগর বলেন, "এত সহজ ও সোজা সম্পর্ক'টা বুঝতে পারলে না? জান তো, লোকের বিশ্বাস কাশীতে যাঁর মৃত্যু হয় তিনি সাক্ষাৎ শিব হন। শিব হলেন পাঁড় গাঁজাখোর। কাশীতে মৃত্যুর পর যখন শিব হবে তখন তোমাকেও তো গাঁজা খেতে হবে। তাই বলছিলাম, মৃত্যুর আগেই যদি একটু প্র্যাকটিস করে রাখতে, তা হলে শিব হওয়ার সুবিধে হত”।

— কেদারনাথ ভট্টাচার্য, প্রবন্ধ: শিক্ষা ও সংস্কৃতির অনন্য পথিকৃৎ ঈশ্বরচন্দ্র বিস্যাসাগর, 'বঙ্গীয় নবজাগরণের অগ্রপথিক' বইয়ে সংকলিত, পৃ ১৭৪, নবপত্র প্রকাশন, ১৯৫৯, কলকাতা

৩) “…৩০ নং পদে প্রধান প্রধান হিন্দু সমাজের সম্প্রদায়গুলির বৈশিষ্ট্যসহ পরিচয় পাওয়া যায়। বৈষ্ণবেরা বিষ্ণুরূপ ধ্যান করত, মালা-তিলক ব্যবহার করত। শাক্ত করত শক্তির সাধনা। পঞ্চতত্ত্বজ্ঞানী পঞ্চোপাসনা করতেন। সপ্তপন্থী ব্যাখ্যা করতেন সপ্তরূপ। আগম-নিগমের উল্লেখ আছে গানে; আছে জটা, লোহার ত্রিশূল, গাঁজা প্রভৃতি ব্যবহারকারী শৈব, শাক্ত সাধুদের ছবি। অনেকে গাঁজা খেয়ে "ব্যোম কালী" ধ্বনি দিতেন। মদ খেয়েও মাতাল হতো অনেকে। নানারকম মালা, মড়ার মাথার খুলি, হাড় ও হাড়ের মালা এরা ব্যবহার করত।”

— শক্তিনাথ ঝা, ফকির লালন সাঁই: দেশ কাল ও শিল্প, পৃ ২৫৮, সংবাদ প্রকাশ, কলকাতা, ১৯৯৫

৪) “গাঁজা খাওয়ার ব্যাপারে আমাদের সরকার মনে হয় নমনীয়। মাজার মানেই গোল হয়ে গাঁজা খাওয়া। লালনের গান শুনতে কুষ্টিয়ায় লালন শাহর মাজারে গিয়েছিলাম। গাঁজার উৎকট গন্ধে প্রাণ বেরিয়ে আসার উপক্রম হলো। এর মধ্যে একজন এসে পরম বিনয়ের সঙ্গে আমার হাতে দিয়ে বলল, 'স্যার, খেয়ে দেখেন। আসল জিনিস। ভেজাল নাই।' সিগারেটের তামাক ফেলে গাঁজা ভরে এই আসল জিনিস বানানো হয়েছে।”

— হুমায়ুন আহমেদ, হিজিবিজি, প্রবন্ধ: নিষিদ্ধ গাছ, পৃ ৬৫, প্রিন্ট: ২০১৩ 

৫) “তবে গাঁজা মহালের প্রজাদের সঙ্গে মিশে আমার একটা শিক্ষা হয়েছিল। ওরা হাতে কলমে শিখেছিল কেমন করে গণতন্ত্র চালাতে হয়, সমাজতন্ত্রের জন্যে এগিয়ে থাকতে হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গ্রামে গ্রামে সমবায় পদ্ধতিতে চাষবাস প্রবর্তন করতে যান। এর জন্যে ভিত পাতা হয়েছিল পঞ্চাশ বছর আগে নওগাঁয়। এখন তার কী অবস্থা জানিনে। কারণ গাঁজা যারা কিনত তারা প্রধানত হিন্দু ও তাদের বাস প্রধানত আজকের দিনের ভারতে। বাংলাদেশ এখন তার গাঁজার বাজার হারিয়েছে। খান সাহেব মোহাম্মদ আফজল লিখেছেন বর্তমানে গাঁজা চাষ ১০০ বিঘা জমির মধ্যে সীমাবদ্ধ। আগেকার সীমা ছিল ৯০০০ একর।”

— অন্নদাশংকর রায়, যুক্তবঙ্গের স্মৃতি, পৃ ১১, মিত্র ও ঘোষ পাবলিশার্স প্রাঃ লিঃ, কলকাতা।

৬) “অভীষ্ট বস্তুর অনুসন্ধানে অভয়াচরণ সতের বৎসর পাহাড়-পর্বত পরিভ্রমণ করিলেন। বহু সাধু সন্ন্যাসীর সঙ্গে তাঁহার ( অভয় ব্রহ্মচারীর ) সাক্ষাৎ হইল। গঞ্জিকা-সেবন তাঁহার সাধন-ভজনের সহায়ক মনে করিয়া, তিনি ইহা অভ্যাস করিয়াছিলেন। সতের বৎসর পর তিনি পুনরায় ময়মনসিংহে ফিরিয়া আসিয়া নেত্রকোণা মহকুমায় মালনী গ্রামে একটি আশ্রম স্থাপন করিলেন। অতি অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁহার আশ্রমটির সংবাদ চতুর্দিকে ছড়াইয়া পড়িল, এবং তিনি "অভয় ব্রহ্মচারী" নামে অভিহিত হইলেন। নানা শ্রেণীর বহু লোক তাঁহার শিষ্য ও ভক্ত হইতে লাগিল।”

—শ্রী রমেশ চন্দ্র সরকার বি. এ. বি. টি. ; গ্রন্থ: বারদীর শ্রীশ্রীলোকনাথ ব্রহ্মচারী, পৃষ্ঠা নং ৯৯; প্রেসিডেন্সী লাইব্রেরী, কলিকাতা-১২; প্রকাশ: ১৮৯০ সাল

৭) “অভয়াচরণ প্রায় প্রতি মুহূর্তেই গাঁজা খেতেন। কিন্তু শিব চতুর্দশীর দিন জীবন্ত শিবের দর্শন পাবেন বলে গাঁজার পিপাসা অতি কষ্টে দমন করে আছেন। অভয়াচরণ আশ্রমে আসার সঙ্গে সঙ্গে অন্তর্যামী বাবা লোকনাথ তাঁর গাঁজার পিপাসা মেটান তাতে অভয়াচরণের মনে হয়েছিল, বাবার কৃপা অবশ্যই তিনি লাভ করবেন। কিন্তু তিনি যখন বাবার কৃপা প্রার্থনা করেন, তখন বাবা তাঁকে বলেন, তুই নিজেই ত ব্রহ্মচারী। আমার কাছে কৃপা প্রার্থনা করছিস কেন?”

— পরমপুরুষ শ্রী শ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারী, পৃষ্ঠা নং ১৬৫

৮) “শ্রীযুত তারাকিশোর চৌধুরী মহাশয়ের একবার খুব জ্বর হয়। তখন তিনি কলিকাতার "হাইকোর্টে" ওকালতি করেন। তাঁহার মনে হইল, শ্রীযুত বাবাজী মহারাজ গাঁজা খান, তাঁহাকে গাঁজা ভোগ দিয়া যদি সেই প্রসাদ পান, তাহা হইলে তাঁহার জ্বর ছাড়িয়া যাইবে। এই মনে করিয়া তিনি শ্রীযুত বাবাজী মহারাজকে গাঁজা ভোগ দিলেন এবং নিজে সেই গাঁজা খাইলেন। গাঁজা খাওয়া তাঁহার কখনও অভ্যাস ছিল না; কিন্তু সেই প্রসাদী গাঁজা যথেষ্ট পরিমাণ খাওয়া সত্ত্বেও তাঁহার কিছুই হইল না, জ্বর ছাড়িয়া গেল।

কয়েক মাস পরে তিনি বৃন্দাবনে যান। তাঁহার সেখানে থাকিবার সময় শেষ হইলে তিনি কলিকাতায় ফিরিবার দিন স্থির করিলেন। রওয়ানা হইবার কিছু সময় পূর্ব্বে শ্রীযুত বাবাজী মহারাজ গাঁজার কল্কি হাতে দিয়া বলিলেন-"এ প্রসাদী গাঁজা, তুমি খাও।” সেখানে কয়েকজন ব্রজবাসী বসিয়াছিল, এত সময় শ্রীযুত বাবাজী মহারাজ তাঁহাদের সঙ্গেই গাঁজা খাইতেছিলেন। তন্মধ্যে একজন জিজ্ঞাসা করিল -"বাবু কি গাঁজা খান?" শ্রীযুত বাবাজী মহারাজ-“না, বাবু গাঁজা খান না বটে; তবে জ্বর হ'লে আমাকে ভোগ দিয়ে প্রসাদ পান।” ভাবিয়া দেখ, প্রকৃত সদ্গুরুর শক্তি কি অসীম!”

— শিশিরকুমার সাহা, কাঠিয়া বাবা, (শ্রীযুক্ত রামদাস কাঠিয়া বাবাজী মহারাজের জীবনী), পৃ ৮২-৮৩, প্রিন্ট ১৯৩০, কলকাতা

৯) ওরশের সময়ে এখানে হিন্দুয়ানী কায়দায় মেলা বসে। মেলায় নারী-পুরুষ সকলেই আসে। গান-বাজনা, মদ-গাঁজা, জুয়ার আড্ডা কিছুই বাদ যায় না। এখানকার খাদেমরা বেশরাহ ফকির। এদের ইংগিতে এখানে অনেক বেশরাহ কার্যকলাপ চলে। হযরত শাহজালালের নামে লেখা বহু গান প্রচলিত আছে। মারেফতী গান গাইলে সওয়াব মিলে, এমন একটা ধারণা অজ্ঞ মুসলমানদের মধ্যে এখনও রয়েছে। তাই নারী-পুরুষে সমস্বরে মারেফতী গান গায়। এ-রকম একটি গান:-

'তুমি রহমতের নদীয়া

দয়া করো মোরে হযরত

শাহজালাল আউলিয়া।'

এই গান যারা গায়, তারা জানে না যে, রহমত একমাত্র আল্লাহর এক্তিয়ারে।”

— মুহাম্মদ হাবীবুর রহমান, কিতাব: হযরত শাহজালাল (রহ.), পৃ ৪১, জয় প্রকাশন, ঢাকা, প্রিন্ট: ফেব্রুয়ারি, ২০১৮

১০) “উত্তরবঙ্গের দিনাজপুর জেলায় কৃষকদের এক আঞ্চলিক ঠাকুর আছেন, যাঁর নাম 'কাণ্ডী'। ইনি স্থানীয় অধিবাসীদের কাছে তাঁদের গবাদি পশুসমূহের রক্ষাকর্তা এবং ঐ সমস্ত পশুদের যন্ত্রণাদায়ক রোগের পরিত্রাতারূপে গণ্য হন। এখন এই দেবতাকেও প্রসন্ন করার জন্য গাঁজা দেওয়া হয় এবং যাতে তিনি ধূমপান করতে পারেন তার জন্য হুঁকা এবং ছিলিমও নিবেদন করা হয়।”

— 'উত্তরবঙ্গের গ্রাম্য দেবতা-সমূহ': 'হিন্দুস্থান রিভিয়্যু' ফেব্রুয়ারি ১৯২২; পৃ. ১৫৩-৫৪; বাঘ ও সংস্কৃতি, সনৎকুমার মিত্র সম্পাদিত, পৃ ১৬, পুস্তক বিপণি, কলকাতা, প্রিন্ট ১৯৮০।

 

১১) “সমস্ত বাউল গাঁজা খায় না। বাউলদের একাংশ গাঁজার ভক্ত কিন্তু মদের বিরোধী। সাঁই এবং রাঢ়ের বহু গায়ক মদ্য-মাংসের একনিষ্ঠ সেবক।

লালনের গান থেকে তাঁর সময়ের বহু তথ্য ও ইতিহাসের বহু উপাদান সংগ্রহ করা যেতে পারে। সেকালে তামাক, গাঁজা এবং মদ মাদকদ্রব্য হিসাবে সমাজে প্রচলিত ছিল। লালন নিজে গাঁজা খেতেন কি? তাঁর শিষ্য দুদ্দু গাঁজার তীব্র বিরোধী ছিলেন। প্রবাসীতে লালনের রচিত 'হুকার গান' নামে একটি পদ প্রকাশিত হয়েছিল। এ পদটি থেকে মনে হতে পারে যে তিনি 'হুকা' খেতেন।”

— শক্তিনাথ ঝা, ফকির লালন সাঁই: দেশ কাল ও শিল্প, পৃ ১৫৭ ও ২৪১, প্রিন্ট: ১৯৯৫, সংবাদ প্রকাশ, কলকাতা।

 

১২) “হালিশহর কোনা মোড় ছাড়িয়ে বিশালাক্ষ্মী ঘাট পেরোলেই শীতলাতলার সম্মুখে পূর্ণ সাধুর আশ্রম। লোকমুখে তিনি ফক্করবাবা। আশ্রম বলতে গঙ্গার কিনারায় বন-জঙ্গলে ঘেরা খানিকটা পরিত্যক্ত জমি, জমির আসল মালিক শুনেছি শ্যামদাস গুপ্তবাবুরা। পূর্ণ তার উপরে ঘর বেঁধে আছে বহুকাল ধরে জমিটার মাঝ বরাবর। মাথায় চালা ঠ্যাকে। হাত ছয় সাত প্রস্থে দৈর্ঘ্যে ছোট, বারান্দাসহ মাটির দেয়াল দেওয়া ঝুপড়ি ঘরখানিতে পূর্ণ থাকে। উত্তর সীমানায় আর একটু বড় আকারের প্রায় অনুরূপ বেড়া দেওয়া টালির ছাউনি ঘর। ওখানেই থাকেন মহেশ বাবা। সঙ্গে আছেন ওঁর সাধনসঙ্গিনী লীলা মা। নিভৃত নিলয়। পশ্চিমে গা ঘেঁষে গঙ্গা বইছে।

বর্ষাকালে সীমানার ভাঙন পেরিয়ে উঠে আগে আসত গঙ্গা। এখন প্রতিরোধ পেয়েছে। সরকারি ওয়াল। এর ধারেই অন্য আর এক মালিকের একখণ্ড জমি। সেখানে ইট বাঁধানো দুর্গামাতার আশ্রমবাড়ি। মূর্তি নেই। ঘটে পুজো হয়। লীলা মা পুজো সারেন। মহেশ বাবার দুর্গামূর্তিতে বিশ্বাস নেই। বললে বলেন, শরীরের ভেতরই দুর্গা রয়েছেন। আলাদা করে আর মূর্তি প্রতিষ্ঠা করার দরকার কী? মহেশ বাবা তাহেরপুরের বয়সের গাছ-পাথর পেরোনো সাধক দয়াল বাবার শিষ্য। কেউ বলেন, বাবার বয়স একশ বিশ, কেউ বা একশ তিরিশ। আমি গেছি ওঁর ওখানে। ছিন্নমস্তার উপাসক। বহাল তবিয়তে বেঁচেবর্তে আছেন দিনে একবার গাঁজা সেবা।


সুধাসুন্দরীর কাছ থেকে কোনওমতে পালিয়ে বেঁচেছি আমি। তিনি আমাকে প্রস্তাব দিয়েছিলেন কথা কিছুদূর এগোতে তাঁর বুকে হাত রাখতে। তাতেই না কি আমি বুঝতে পারব যে, সেখানে কেমন নদী বইছে। তিনি আমাকে এও বলেছিলেন যে, বীর্যধারণ আমাকে তিনি নিজে হাতে শিখিয়ে দেবেন। এতে যার-তার সঙ্গে যখন-তখন শোয়া যাবে। বাচ্চা হওয়ারও ভয় থাকবে না। একসময় তিনি চরম হতাশায় বললেন, 'বিন্দু ধরতে দম লাগে। এ ভৈরব এখন পারেন না। শালার দম নেই। সাধনে আসবেন। সব শেখায়ে দেবো আপনেরে। চলেন পালাই। আশ্রম বানাই।' একবার এক ভৈরব-ভৈরবী দুজনেই আমাকে শেষে বলে বসলেন, 'আপন শক্তিরে এখানে নিয়ে আসবেন। মা আপনার শক্তির দম-শ্বাস শেখাবেন। আমি আপনারে। কত লোকে শিখতে আসে।' বুঝতে আমার একটু অসুবিধে হল না শেখার নামে এখানে শরীর ব্যবসা আসলে চলে রমরমিয়ে। আর এক ভৈরবী আমাকে আরও অবাক করে বলেছিলেন, তাঁদের দেহমিলনের ছবি পর্যন্ত তুলে নিয়ে যায় অনেকে। এ ছবি নাকি ভালো বিক্রি হয়। লোকে দেখেদুখে শেখে। এভাবেই যুগল সাধনায় শরীরী ব্যবসা, নীল ছবির ব্যবসা চলছে রমরম করে প্রশাসনকে ফাঁকি দিয়ে। অনেক সময় নিজে দেখেছি প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা পর্যন্ত গিয়ে উঠেছেন তান্ত্রিকদের ডেরায়। মদ-গাঁজা-চরসের প্রাপ্য হিস্যা বুঝে নিতে, আবার মেয়েমানুষের লোভে। তন্ত্রসাধনার এও এক দিক। যেদিকে বিন্দুধারণের নামগন্ধে ম ম করছে কামগন্ধ, ব্যভিচার, যৌনবৃত্তি আর চোরাকারবার। তবে তার আলোর দিকটি গ্রীষ্মজীবনের বাইরে নক্ষত্রে নক্ষত্রে আকাশ ঝিকমিক।

হালিশহর শাশানঘাটে বসে মূলাধার চক্রের ব্যাখ্যা এভাবেই আমাকে শোনাচ্ছিলেন তান্ত্রিক আলো সাধু। শ্মশানঘাটে মা ছিন্নমস্তার মন্দির বহুদিন ধরে সামলাচ্ছিলেন তিনি। প্রাজ্ঞ মানুষ তিনি। শাস্ত্রজ্ঞ। আমার সঙ্গে অনেকদিনেরই পরিচয়। আমার কৌতুহলকে তিনি মাঝে মাঝেই নিশ্চিহ্ন করতে সহায়ক হয়ে ওঠেন। আসতে বলেন। বিশেষত অমাবস্যায়। নিজে হাতে ভোগ রান্না করে তিনি তিনি প্রতি অমাবশ্যাতে মা-কে দেন। আমাকে বলেন প্রসাদ নেওয়ার জন্য। আমাকে তিনি তন্ত্রের নানা আয়োজন সম্পর্কে মাঝেসাজেই পাঠ দেন। তবে আমি জিজ্ঞাসা করলেই। না হলে তিনি সদাই ভাবমগ্ন। চুপ করে থাকেন। ভক্ত-শিষ্য আসেন। মদ-গাঁজা আনলে জোরাজুরিতে তিনি একটু প্রসাদ করে দেন।”

— সোমব্রত সরকার, কাপালিক তান্ত্রিক যোগী কথা, পৃ ১৩, ১০৬, ১৭০।

১৩) “এ গোকুলে শ্যামের প্রেমে কেবা না মজেছে সখি।

কারো কথা কেউ বলে না আমি একা হই কলঙ্কী ॥

অনেকে তো প্রেম করে

এমন দশা ঘটে কারে

গঞ্জনা দেয় ঘরে পরে

শ্যামের পদে দিয়ে আঁখি ॥

তলে তলে তল গাঁজা খায়

লোকের কাছে সতী বলায়,

এমন সৎ অনেক পাওয়া যায়

সদর যে হয় সেই পাতকী ॥

অনুরাগী রসিক হ'লে,

সে কি ডরায় কুলশীলে

লালন বেড়ায় কুছি খেলে

ঘোমটা দিয়ে চায় আড়চোখি ॥”

— লালন সাঁইয়ের গান, পূর্ণদাস বাউল সম্পাদিত, বই: বৃহৎ বাউল সঙ্গীত, পৃ ৫১, প্রিন্ট: জুলাই, ১৯৫৫, কলকাতা; লালন-গীতিকা, মতিলাল দাশ ও পীযূষকান্তি মহাপাত্র সম্পাদিত, ৩৬৪ নং গান, পৃ ২৫০, প্রিন্ট: ১৯৫৮, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রকাশিত।

১৪) “বাসার সামনে এলে হারান ফকির আমার আগ্রহ দেখে আরও কয়েকটা গান শোনাল। প্রশ্ন করে জানতে পারলাম- গানগুলো লালন সাঁইজির। ছেউড়িয়া গ্রামে তাঁর আখড়া। এটা শুনবার পর, পরদিন সেখানে যাবার জন্য প্রস্তুতি নিলাম। তখন কেউই লালন ফকির এবং তাঁর গান সম্বন্ধে জানে না। ছেউড়িয়ার বন্ধু ইসমাইল বলল- তাদের গ্রামেই লালনের আখড়া। বললে, -তুই যাসনে। ওরা গাঁজা খায়। মেয়ে ছেলে একসাথে থাকে। সারারাত গান করে। তুই নামাজ পড়িস। ওখানে গেলে তোকে তুকতাক করে ফেলবে।”

— ড. সুজিতকুমার বিশ্বাস, বাংলার লোক ঐতিহ্যের অধিকারী যতীন্দ্রনাথ রায়, পৃ ৪২, প্লাসেন্টা পাবলিকেশন্স, নদীয়া, কলকাতা বইমেলা ২০২৪

১৫) "গাঁজা খোর গাঁজার মর্ম বুঝে মান্য করে মারে

বাদশা উজির নেশার ঘোরে।

যখন গাঁজা খায় নবাবী ভয়পায়-দমে দম লাগায়

নেশায় ইস্তি কোন খোন্ডা দেবে।

তালের আঁটি বানিয়ে খোলা বলে ব্রহ্মার কমণ্ডুল।

বলে কৃষ্ণের হাতে বাঁশি।

ডুমুরের ডাল লয়েছে করে; এক ছিলিম পুরে

চারইয়ারে লক্ষটাকার মজা মারে।

নেশাতে হয় বিদগ্ধ, বলে পেলাম ব্রহ্মপদ যেমন ধারা চতুষ্পদ।

কলুর ঘানি আছে ঘাড়ে, গাঁজার পাতা ভাসিয়ে জলে

ধূয়া কলের জাহাজ চলে।

বসে থাকে নোঙর ফেলে অকূল পাথার সমুদ্দরে

গোঁসাই চরণ-চাঁদে বলেন কুবির, ভবির কথায় ভুলিসনারে"।”

— কুবির গোঁসাইয়ের রচিত লোকগীতি, 'সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে নদীয়ার গ্রাম' বইয়ে রণজিৎ কুমার বিশ্বাস কর্তৃক উদ্ধৃত, পৃ ১৯৯, ইন্দিরা প্রকাশনী, কলকাতা, ২০০২

 

   -তাহসিন আরাফত

ঘৃণার যাত্রাপথঃ স্টেট স্পনসর্ড টেরোরিজম ও RSS

  ধর্মীয় শোভাযাত্রা এখন দাঙ্গা বাঁধানোর মূল অস্ত্র, নাগপুরের হিন্দুত্ব আধিপত্যবাদীরা ভারতের আত্মাকে ছিন্নভিন্ন করছে দিয়েছে; যার মেরামতিতে কয়...