রবিবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৫

ইসলামিক মৌলবাদ শব্দবন্ধ ও ভণ্ডামি

 




এই মুহুর্তে ভারত রাষ্টজুড়ে সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য ব্যাক্তি/প্রতিষ্ঠানের নাম কী?

TRF- দ্য রেজিস্ট্যান্ট ফোর্স

ঠিকই শুনেছেন, এটাই বা এরাই

পেহেলগাঁও জঙ্গি হামলার তদন্ত শুরু হয়েছে নিশ্চই, সেই সংস্থা বা টিম যারা তদন্তের সাথে জড়িত তাদের জানিনা, জানতেও চাইনা। কালের নিয়মে রাষ্ট্র হয়ত তদন্ত করবে, তার ফলাফল আসতেও পারে, নাও আসতে পারে পুলওয়ামার মত। তবে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জনগন হিসাবে দাবী আছে, সেটা হচ্ছে- তারা রিপোর্ট জমা দিয়েছে কী? ইন্টেলিজেন্স ও নিরাপত্তায় গাফিলতি স্বীকার করে নিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, এটা সর্বদলীয় বৈঠকে ‘অন রেকর্ড’, কিন্তু এই ব্যর্তথতার দায় কেউ নিয়েছে কী?

রাষ্ট্র হিসাবে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক “ইসলামিক সন্ত্রাসবাদ” শব্দটি ব্যবহার করেনি সচেতনভাবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনস্ত জম্মুকাশ্মীর পুলিশ এই শব্দবন্ধ ব্যবহার করেছে কী? দেশের প্রধানমন্ত্রী তথা ভক্তদের পিতা তথা হিন্দু হৃদয়সম্রাট কোনো বিবৃতিতে এই শব্দবন্ধ ব্যবহার করেছেন? অমিত শাহ? দেশের সেনাবাহীনির প্রধান? এমনকি RSS এর প্রধান মোহন ভাগবত ইসলামিক সন্ত্রাসবাদ শব্দের ব্যবহার করেনি। বিরোধী দলের কেউ এমন কিছু বলেনি। বামদল গুলোর পক্ষেও তাদের অফিসিয়াল পেজ থেকে বা শীর্ষস্থানীয় কোনো নেতাকেও এমন কিছু কোটেড শব্দ বলতে দেখা যায়নি।

চোদি মিডিয়া তাদের রাজনৈতিক দলের ফায়দা দেওয়ার জন্য বিভাজনের রাজনীতি করবে, এটা গত ১২ বছরের পরম্পরা ও স্বাভাবিক ঘটনা বিজেপির রাজত্বে। Post Truth যুগের এটাই ধর্ম

এই মিডিয়াকে হাতিয়ার করে দেশজুড়ে বানরসেনার দল লম্ফঝম্প করে করে যাচ্ছে, একজন নিরীহ বিরিয়ানি দোকানিকে হত্যার মত পবিত্র কর্ম সম্পন্ন করে ফেলেছে ইতিমধ্যে। মিডিয়া অত্যন্ত দায়িত্ব নিয়ে সেই নির্বোধ খুনির আস্ফালন দেখিয়ে জঙ্গি হামলার প্রতিশোধ নিয়ে নিশ্চিত ‘হিন্দু’ অন্তর’কে তৃপ্তি দিয়েছে। এছাড়া দু-চারটে খুচরো মুসলমান নাগরিক বিনা কারনেই মিডিয়ার সামনে মারধোর খেয়েছে।

আমাদের রাজ্যের খোকা বাহিনী তাদের চরিত্র অনুযায়ী ‘সেকুলার’ সংহারের যাত্রাপালা চালিয়ে যাচ্ছে, যতই তাদের নাগপুরী বাবার দল তাদের পালে হাওয়া লাগাবার মত কোনো রসদ দিতে ব্যর্থ। ভক্তদের মায়ের পঞ্চম স্বামী ট্রাম্পেশ্বর মহারাজ আবার কাশ্মীর সমস্যাকে হাজার বছরের পুরাতন বলে দাবী করে দুই দেশেই তাদের বন্ধু বলে দাবী করে আঁটিসেলের মুখে প্রস্রাব করে দিয়েছে

এ অবধি সব কিছুই নিখুঁত ভাবেই চলছে। সমস্যা আমার বা আমাদের, যারা বিজেপি ও তৃনমূল দুইকেই ঘেন্না করি, দুটোই RSS এর সন্তান- একটা স্বীকৃত অন্যটা জারজ। আমরা বাম রাজনীতির একজন প্রান্তিক সমর্থক মাত্র। তবে রাজ্যের সিপিএম দলের বর্তমান অবস্থান, একটা অদ্ভুত ঘোলাটে, পুরোটাই ভাসাভাসা ও বিভ্রান্তকর পরিস্থিতি যুক্ত।

সিপিআই(এম) দলের অফিসিয়াল হ্যান্ডেলে ‘ইসলামিক সন্ত্রাস’ শব্দের ব্যবহার হয়নি। অথচ শতরূপ ঘোষ ও দীপ্সিতা ধর- দুজন প্রায় সর্বজ্ঞ ‘মহান’ লেভেলের বিপ্লবী নেতানেত্রী কিন্তু তাদের ফেসবুক টাইমলাইনে সুস্পষ্টভাবে এই শব্দবন্ধ উল্লেখ করেছেন। ভেবেছিলাম এটা হয়ত ব্যাক্তিগত মতামত, যদিও বামদলে এভাবে পার্টি লাইনের বাইরে গিয়ে নিজশ্ব মতামত থাকতে পারেনা। এর পরেই আবার শহীদ ঝন্টু সেখের বাড়িতেও যখন দেখি সেই শতরূপ ঘোষ হাজির, পার্টির পক্ষে অফিসিয়ালি- বিভ্রান্ত হই চরমভাবে।

রিপাবলিক টিভি ও তার এ্যাঙ্কর ময়ূখ মর্কটের সান্ধ্য খেউর শো-তে দৈনিক বামেদের ও সেকুলারদের মা মাসি উদ্ধার করা হয়, মুসলিম বিদ্বেষের মত প্রচারযন্ত্র আর দ্বিতীয়টি নেই এই বাংলাতে। প্রকাশ্যে ধর্মীয় বিভাজনের ঘৃণা ছড়িয়ে যাচ্ছে, মমতা প্রশাসনের সুরক্ষা ও আস্কারাতে। ময়ুখ নিজের ভূমিকাতে অভিনয় করছে মাত্র, তার উপরে রাগের চেয়ে করুনা বেশী হয়, এটা না করলে সে খেতে পাবেনা। এমনকি তেলাপিয়া নন্দীকেও পথে বসিয়েছে ময়ূকখের বাঁদরামি। এই রিপাবলিক চ্যানেলে সিপিএম পার্টির মুখপাত্র হিসাবে সিপিএম উপস্থিত থাকেন নিয়ম করে, বিশেষ করে শতরূপ ঘোষ। ফলত বাম সমর্থকেরা রিপাবলিক টিভি ও জোকার ময়ূখের মাদারি নাচ দেখে। এটা কোন মেহেনতি মানুষের স্বার্থে বলতে পারেন? রিপাবলিক তো এবিপির মত ঘোমটার আড়ালে বিজেপির মুখপত্র নয়, ঘোষিতভাবে বিজেপির চ্যানেল। সেখানে বাম প্রতিনিধি যাওয়া মানে, পার্টিও চায় বাম সমর্থকেরা রিপাবলিক দেখুক ও পোষ্ট ট্রুথের শিকারে বিভ্রান্ত হোক

রাজ্য সিপিএম দৃশ্যত দুদুও খাচ্ছে আবার তামাকও খাচ্ছে। হিন্দুত্ববাদীদের তুষ্ট করতে ‘হিন্দু’ শতরূপ-দীপ্সিতাদের দিয়ে ‘ইসলামিক সন্ত্রাসবাদ’ পোষ্ট করাচ্ছে। আবার ‘মুসলমান’ সেলিম নতুন ওয়াকফ আইনের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করছেন দুধেল গাইদের আস্থা অর্জনে, দেখো আমরা তোমাদেরই লোক। অথচ যখন কৃষক কালা আইন নিয়ে দেশ উত্তাল, সেই আইনের বিরুদ্ধে সেলিম সাহেব কিন্তু আদালতে যাননি। অবস্থান- Loud and Clear. সিপিএম নেতৃত্বের একটা অংশ ‘বিজেপি-তৃণমূলের’ usp এই হিন্দু মুসলমান রাজনীতির পালে পাখার বাতাস করছেন তা চোখ এড়াচ্ছেনা কারোরই

সঙ্গদোষে লোহা ভাসে, নিয়মিত রিপাবলিক যারা যাচ্ছে- অন্য বিজেপি-তৃণমূল মুখপাত্রদের সাথে বন্ধুত্ব হচ্ছে সিপিএম মুখপাত্রদের। নিত্য এই গা শোঁকাশুঁকিতে চরিত্র বদলাতে বাধ্য, হয় ওরা বাম দিকে ঘেঁষবে অথবা এদের বামপন্থী চরিত্র নষ্ট হবে। কী হয়েছে তা ‘ইসলামিক সন্ত্রাসবাদ’ পোষ্টেই প্রমাণনিত। পার্টি কিন্তু কোনো কন্ডেমড করেনি, তারমানে সূক্ষ্মভাবে তোষনের রাজনীতির দিকে ঝুঁকে যাচ্ছে প্রকাশ্যে।

ভক্ত কেবল চাড্ডি বা ছাগুদের হয়না, বামেদেরও হয়। তারা হাঁ হাঁ করে তেড়ে আসবে দলবেঁধে আমার বিরুদ্ধে, তা আসুন, কিন্তু দলকে প্রশ্ন করুন, এই দ্বিচারিতার মুখোস কোন মেহেনতি শ্রমজীবীর পক্ষে, কোন সেকুলারিজমকে বাঁচাতে? যা রাষ্ট্র বলেনি, যা দল বলেনি, এমনকি দেশের স্বীকৃত ঘৃণা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান- ভাগবতও যা বলেনি- শতরূপ ও দীপ্সিতা তা প্রকাশ্যে লিখেছে। এর দরুন সিপিএম রাজ্য কমিটি তিরষ্কার করেনি বরং পুরষ্কৃত করেছে, দলের প্রতিনিধিত্ব করেছে ঝন্টু সেখের বাড়িতে পাঠিয়ে।

অনেক বাম্বাচ্চা হয়ত লিখবেন- প্রকাশ্যে কেন সমালোচনা করছেন দলের! তাদের বলি শতরূপ বা দীপ্সিতা কী গোপন গ্রুপে পোষ্ট করেছিল? সমালোচনা হয় বলেই তো দলটা বামপন্থী পরিচয়ে আছে, নতুবা মৌলবাদীদের সাথে ফারাক কোথায়? প্রাইমেট বর্গের প্রানীদের মাথায় ঘিলু থাকে, তাই তারা উন্নত। আপনি যদি চিঙড়ির মত মাথায় গু ভর্তি করে অমেরুদণ্ডীদের মত নেতাদের পশ্চাদলেহন করেন, আপনিও বামপন্থীর ছদ্মবেশে একজন চাঁটাপন্থী মাত্র, সুযোগ পাননি বলে তৃণমূলে আপনি যাননি

বাম চরিত্র হারিয়ে যাওয়া আর চরিত্রহীন হয়ে যাওয়ার মাঝে কোনো পার্থক্য নেই। আমাদের চোখে মৌলবাদের চমা নেই, আমরা বোকা হতে পারি চার অক্ষরের বোকা ভাববেননা প্লিজতৃণমূল বিজেপি কিন্তু সফল বিভাজনের রাজনীতিতে জনগণকে বুঁদ করে রাখতে, ২৩ লক্ষ মানুষ পথে বসে আছে, ২৬ হাজারের চাকরি নেই, আরো ৬০ হাজারের মাথায় একই খাঁড়া ঝুলছে। ওয়াকফ, মালদা, মুর্শিদাবাদ আর কাশ্মীর দিয়ে রুটিরুজি আর চুরির প্রশ্ন আপাতত হারিয়ে গেছে। একই গড্ডালিকা প্রবাহে বাম রাজনীতিও ভেসে গেছে।

প্রশ্নটা রইল, সাধারণ মানুষকে গাঁড়ল ভাববেন না। শূন্যকে জাস্টিফাই করবেন না এভাবে, আজও আপনাদের বিশ্বাস করে বলে লক্ষ মানুষে ব্রিগেড ভরে যায়, আজও স্বচ্ছ নির্বাচন হলে মানুষ আপনাদের প্রার্থীদের ভোট দেয়। তাই নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করুন, আপনারা ধর্ম আর জিরাফকে মিলিয়ে দিয়ে নতুন ইতিহাস তৈরির চেষ্টা আপনাদের নেতৃত্বকে আস্তাকুড়ে ছুড়ে ফেলে দেবে

 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

তৃণমূলের প্ররোচনার ফাঁদে পা দেবেন না

⛔ সতর্কতামূলক পোষ্ট ⛔ আজ SIR এর ভোটারলিষ্ট বার হবার পর- জনরোষের দোহায় দিয়ে দিকে দিকে ‘সংগঠিত অশান্তি’ লাগাবার ‘ফুল প্ল্যান’ নিয়ে এগোচ্ছে শাা...