মঙ্গলবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৫

পেহেলগাম হামলাঃ বদলা চাই



বদলা চাই, সিম্পল

ইসলামিক সন্ত্রাসী? সিম্পলি খতম করো। অস্ত্র কী শুধু ২৬শে জানুয়ারি রাজপথে শো-অফ করার জন্য?
পড়শী দেশ জড়িত? সোজা হামলা করো। কার অনুমতির প্রতীক্ষা করছো?
বৈসরণের অজুহাতে তীব্র পোলারাইজেশন ও Single line narrative সেট করে বাকি দেশজুড়ে সেটার রাজনৈতিক ফসল তুলতে ব্যস্ত। আর এই একটা ন্যারেটিভেই যাবতীয় ব্যর্থতা, মিথ্যা প্রতিশ্রুতি সব উবে গেছে শেষ ৩ ঘন্টার সময়রেখাতে। যেন এ দায় জঙ্গিদের একার নয়, আপামর মুসলমান ধর্মের প্রত্যেকে এটার সাথে জড়িত; এটাই চুম্বকে সত্য প্রামাণে মরিয়া সকল মিডিয়া। প্রশাসন, সেনাবাহিনী কিম্বা গোয়েন্দা দফতর - এনারা তো গোটা বিষয়ের বাইরে শুরু থেকে।
বাংলা, বিহার, আসাম বা তেলেঙ্গনা থেকে কেউ গিয়ে এই নির্বিচারে গুলি চালিয়ে গণহত্যা করেনি, স্থানীয়েরা করেছে, কাশ্মীরীরা করেছে। কাশ্মীরী মুসলমানরা করেছে, এটাই একমাত্র সত্য।
অবশ্যই হিন্দু মরেছে, মুসলমানও মরেছে। তালিকাতে সেই হতভাগাদেরও নাম রয়েছে।
গত ১ বছরে আমেরিকাতে ১৪০০ বন্দুকবাজির ঘটনা ঘটেছে। হ্যাঁ বন্দুকবাজি, গুগুল করুন, প্রতিটা তথ্য পেয়ে যাবেন। কেউ খ্রীষ্টান সন্ত্রাসী বলেনি- কারন মিডিয়া সেই ন্যারেটিভ সেট করেনি। ওরাও বন্দুক নিয়েই মানুষ খুন করেছে পৃথিবীর তথাকথিত সবচেয়ে উন্নত ও সভ্য দেশে- ওরা উগ্রপন্থী নয়। ওদের জন্য খ্রীষ্টান ধর্মের বাকি অনুসারীরাও দোষী সাব্যস্ত হয়নি। যেহেতু ওটা সন্ত্রাস হিসাবে লেখাজোকা হয়নি- তাই বন্দুকবাজ হয়েই রয়ে গেছে ঘটনাগুলো।
অমুক স্থানে হিন্দু সন্ত্রাসীদের হাত তমুক খুন হয়েছিল, ইহুদীদের হাতে মুসলমান হত্যাযজ্ঞ চলছে, খ্রীষ্টানদের হাতে কেউ খুন হচ্ছে- এমন নানান পালটা কুযুক্তি খাড়া করে বৈসরণের বিষয়টির নৃশংসতাকে লঘু করার চেষ্টা করছে তাদের মুখে পেচ্ছাপ করে দিই।
যারা নিরীহ পর্যটকদের উপরে ইসলামের নামে এমন হত্যাযজ্ঞ চালায়- আমি "সেই ইসলামের" অনুসারী নই। আমার কোরান, হাদিস আমাকে শেখায়নি নিরপরাধ মানুষকে খুন করতে, যারা করেছে তাদের ধর্ম "খুনে ধর্ম"। নিজেদের স্বার্থের জন্য সাধারণ নাগরিক হত্যা করেছে।
এই 'হিন্দু' হত্যার লাভ কী কাশ্মীরী মুসলমানেদের নাকি অবশিষ্ট ভারতের ১ জন মুসলমানও এই নারকীয় হত্যাকান্ড থেকে কোনো ফায়দা পাবে? ফায়দা একটা দল ও দের বংশবদ মিডিয়া চ্যানেল গুলোই পায়। সেই জঙ্গি মুসলমানদের পাপের দায়ে যদি আমাকে বা আমার মত বাকি ভারতের মুসলমানদের যারা একপেশে ধর্মীয় পরিচয়গত কারনে bullying হচ্ছি, তাদের মুখেও থুতু দিই।
রাষ্ট্র যদি ধর্মীয়ভাবে এই নারকীয় কান্ড থেকে রাজনৈতিক ফায়দা না তুলতে চায়, পালটা হামলা করুক অপরাধীদের ঘরে ঢুকে। ভয়ানক বদলা নিক, মিডিয়াতে এই ২ লাইনের ন্যারেটিভ ঈশ্যু ক্ষণস্থায়ী। কাল IPL এ হায়দ্রাবাদ ৩০০ করলে সিংহভাগ পাব্লিক সেই নিয়ে মেতে উঠবে। এটাই পাব্লিক চরিত্র এই রিলস প্রজন্মে।
আজকের বৈসরণ একটা তাৎক্ষণিক ঈশ্যু হয়ে যেন না থাকে, পালটা প্রতিশোধ এমনভাবে নেওয়া হোক দাগী চিহ্নিত করে, দৃষ্টান্তমূলক হয়ে থাকে আগামীর জন্য।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

তৃণমূলের প্ররোচনার ফাঁদে পা দেবেন না

⛔ সতর্কতামূলক পোষ্ট ⛔ আজ SIR এর ভোটারলিষ্ট বার হবার পর- জনরোষের দোহায় দিয়ে দিকে দিকে ‘সংগঠিত অশান্তি’ লাগাবার ‘ফুল প্ল্যান’ নিয়ে এগোচ্ছে শাা...