(১)
মহারাষ্ট্রের ৩০টা জেলার ৯০টা তালুক ভয়াবহ ভাবে বন্যা কবলিত হয়েছে শেষ ২ মাসে, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ বিদর্ভ অঞ্চল। মারাঠওয়াড়ায় বন্যায় ৭০ লক্ষ একর জমির ফসল ধ্বংস হয়ে গেছে। জলবায়ু পরিবর্তন, কৃষকদের ক্ষতিপূরণ, বেকারত্ব, খারাপ রাস্তা, যানজট এবং জলাবদ্ধতার বিষয়টি সমাধানের পরিবর্তে, বিজেপি নেতা মন্ত্রীরা পরে রয়েছে মুম্বই পুরসভা তথা বিএমসি নির্বাচন নিয়ে। সেই অকৃত্রিম হিন্দু-মুসলিম বিভাজনের রাজনীতিতে মজে আছে বিজেপি ও সংঘ পরিবার। মুম্বাইয়ের বিজেপি প্রধান অমিত সাটম প্রকাশ্যে হুমকি দিচ্ছে- বিজেপি হেরে গেলে মুম্বাইয়ে মুসলিম মেয়র হবে ও মুম্বই পাকিস্তান হয়ে যাবে। আরেক মন্ত্রী নীতেশ রানে প্রকাশ্যে বলছে- হিন্দুরাষ্ট্র ঘোষণা করে, তার আওতাতে ভোট হোক, কারন হিন্দুরাই দেশপ্রেমিক তারা বিজেপিকে ভোট দেয়, বাকিরা দেশদ্রোহী।
আশার কথা হচ্ছে বিজেপির এই ফাঁদে সাধারণ মারাঠা মানুষ পা দেয়নি, বিরোধী শিবসেনা, কংগ্রেস ও বামদলগুলোর লাগাতার আন্দোলনে অবশেষে জাতীয় বিপর্যয় ঘোষণা করে- জমির কর, বাচ্চাদের স্কুল ফিজ, ইলেকট্রিক বিল মকুব এর মত, মানুষকে কিছুটা নিষ্কৃতি দিয়েছে পরবর্তী ৬ মাসের জন্য। পাশাপাশি ৩১৬২৮ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ প্যাকেজের ঘোষণাও হয়েছে। এ অবধি শুনে কী মনে হচ্ছে, বিজেপি সরকার সর্বরোগহরা কল্পতরু জনদরদী হয়ে গেছে? আসল খেলাটা এখান থেকেই শুরু। নবী মুম্বই ও মাড আইল্যান্ডের জমি আম্বানিকে দিয়ে দেওয়া, আদানিকে ধারাভি বস্তি দান করে দেওয়ার জবাবদিহির জ্বলা তো ছিলোই, তার উপরে ‘লাডকি বেহেন যোজনা কেলেঙ্কারির’তে বিজেপির ফড়নবিস সরকার ল্যাজেগোবরে হয়ে বসে আছে, সেসব থেকে নজর ঘোরাতেই ক্ষতিপূরণ প্রতিশ্রুতির গল্প ফেঁদেছে।
শুরুতেই বলে রাখি সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, মব লিঞ্চিং, গোষ্ঠী দ্বন্দ্ব, জাতপাতের বিভেদ, মনুবাদি বর্ণভেদ মূলত দলিতের উপরে অত্যাচার, গোরক্ষার নামে গরীব মুসলিম অত্যাচার ও হত্যা, বে-রোজগারি, আম্বানি, আদানি এগুলোকে আজকের ‘দুর্নীতি’ তালিকাতে স্বতন্ত্রভাবেই রাখিনি, কারন বিজেপির পরিচয় ই এগুলো। ঘটনাক্রমে এদের কেউ এসে গেলে সেটা একান্তই বাধ্যতামূলক। এছাড়া ললিত মোদি কেলেঙ্কারি, ছত্তিশগড়ের চাল কেলেঙ্কারি, প্রিয়দর্শিনী ব্যাঙ্ক কেলেঙ্কারি, গুজরাটের SGPC কেলেঙ্কারি, বিজয় মাল্যকে দেশ থেকে সেফ প্যাসেজ কেলেঙ্কারি, গির টাইগার রিজার্ভ কেলেঙ্কারি, পাঞ্জাবে ভূমি কেলেঙ্কারি, পানামা পেপার কেলেঙ্কারি, লাভলি অ্যামনেস্টি স্কিম কেলেঙ্কারি, টেলিকম কেলেঙ্কারি, রাফালে কেলেঙ্কারি ও রানিং চলা ভোট চুরি কেলেঙ্কারি গুলো অতি জনপ্রিয় ও প্রায় সকলেই জানে, তাই এগুলোকেও বাদ রাখছি আলোচনা থেকে।
এর চেয়ে তুলনামূলক কিছু কম জনপ্রিয় কেলেঙ্কারি যেমন- Freedom 251 (2016), Birla-Sahara Diary (2016), PNB-Nirav Modi (2018), IL&FS Crisis (2018), PMC Bank (2019), DHFL Fraud (2019), Karvy Broking (2019), Yes Bank (2020), PM CARES Fund (2020), Pegasus (2021), Hindenburg (2023), Electoral Bonds (2024), NEET Leak (2024), UGC-NET Leak (2024), Digital Arrest Scams (2022-2025) ইত্যাদি দুর্নীতি গুলো প্রত্যেকটা এক একটা অন্তত ৬ ভলিউমের উপন্যাস এর সমান পৃষ্ঠা দাবী করে, তাই এগুলোর শুধু নাম নিয়েই ক্ষান্ত দিলাম। মোদীর পিছনে একটা লম্বা তালিকা যুক্ত ‘ভাইপো’ দের তালিকা আছে, যেদের আসল পরিচয় ‘নেপোকিড’ নামে, এরাও বাপের রাজনৈতিক পরিচয় ভাঙিয়ে জোঁকের মত জনগনের করের টাকা চুষে খাচ্ছে।
গত ১১ বছরে নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে, সাড়ে ৭ হাজার ভারতীয় কোম্পানি দেউলিয়া হওয়ার জন্য আবেদন করেছে, যার মধ্যে ১,২৭৪টি কোম্পানি পরিত্রাণ চাইতে চাইতেই অবলুপ্ত হয়ে গেছে। ২০২৫ এর মার্চ অবধি মেহুল ভাই, নীরব ভাই, বিজয় ভাই, সন্দেসারা ভাই এর মত গুজ্জু ব্যাঙ্ক জালিয়াতেরা ৯,৩৫,০০০ কোটি টাকার লুঠ করে বিদেশ পালিয়েছে। মার্চ ২০২৫ অবধি শেষ ১০ বছরে ১৬.৩৫ লক্ষ কোটি টাকার অনাদায়ী কর্পোরেট ঋণ মুছে দিয়েছে, এসব তথ্য আমাদের মুখস্ত, তাই আজকের আলাপটা একটু অন্য আঙ্গিকে অন্য দ্যোতনায় দেখার চেষ্টা করি।
মোদী সরকারের নতুন রাষ্ট্রীয় শিক্ষা পলিসি, দুর্নীতির স্বর্গ। সরকার UGC কে আগামীতে আর ফান্ডিং করবেনা। সরকার সুদী মহাজন হয়ে ছাত্রদের লোন দেবে- HEFA নামের সংস্থা কানাড়া ব্যাঙ্কের সাথে জয়েন্ট ভেঞ্চারে ক্রেডিট কার্ডের মত লোন দিচ্ছে। শিক্ষাকে মুনাফাখোরি ধান্দায় পরিনত করেছে, এটাই বিকাশ। এমনিতেই দেশে মৌলিক গবেষণার তেমন সুযোগ নেই, আগামীদিনে শিক্ষকেরা কেউ পার্মানেন্ট চাকরিতে থাকবে তো? নাকি সেখানেও সিভিক প্রথা নিয়োগ হবে! ছাত্রদের স্কলারসিপ সম্পূর্ণ বন্ধ, কারন টাকা শুধু গুজ্জু কর্পোরেট ভাইদের জন্য বরাদ্দ। সামান্য হোস্টেল ফিজ মাসে ১০ হাজার বা তারও বেশী, এর সাথে সেমিস্টার ফিস, আরো অন্যান্য আনুসাঙ্গিক খরচা রয়েছে। অর্থাৎ উচ্চশিক্ষা থেকে ক্রমশ গরীবকে তাড়িয়ে দেবার প্ল্যান পাকা, ধনী উচ্চবর্ণের ছেলেপুলেই কেবলমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবে। রাজ্যওয়ারি যে শিক্ষা প্রতিশষ্ঠান গুলো রয়েছে সেখানে নামেই কলেজ, বাকি কোনো ফেসিলিটি আধুনিক শিক্ষার আছে কি?
নিতীন গড়কড়ির দপ্তর রাস্তা তথা সড়ক দপ্তর। স্পেস ট্যেকনোলজি ব্যবহার করার ভাঁওতাবাজি বাজারে ছেড়েছিলো, দেশজুড়ে একটা রাস্তাও ৬ মাস পার হয়নি, এমনকি অয্যোধ্যার রামপথও বাকি সব সড়কের মত ফুটিফাটা হয়ে খানাখন্দে ভর্তি হয়ে গেছে। দুর্ঘটনা বাড়ছে, জানজট হচ্ছে, সময় নষ্ট হচ্ছে, গাড়ির মাইলেজ কমে যাচ্ছে; এদিকে গড়কড়িকে নাকি দুবাই এর বাদশা ডাকছে- চুরির কৌশল শিখতে বোধহয়। আসলে প্রতিটা টেন্ডারে ৪০-৫৫% টাকা ঘুরপথে বিজেপির নেতা, মন্ত্রী, পার্টি ফান্ড, স্থানীয় বাহুবলী, আমলা থেকে চাপরাশি সবাইকে খাওয়াতে হয়, নাহলে একটা গাঁইতির অবধি ছোঁয়াতে দেবেনা। বিজ্ঞানীদের গবেষণা বলছে, আমাদের ভারতীয় ট্রপিক্যাল আবহাওয়াতে যেখানে VG-40 মানের বিটুমিন ব্যবহার করা কম্পালসারি, সেখানে VG-10 মানের নিকৃষ্ট বিটুমিন ব্যবহার করা হচ্ছে সর্বত্র। এতে দুটো লাভ, এক প্রথম দফার কাটমানি, দ্বিতীয় হলো পরবর্তী মেন্টেনেন্স এর টেন্ডার থেকেও কাটমানি। রাস্তা ১০ বছরের জাইগাতে ৩ বছরেই ধুয়ে মুছে গেলে আবার নতুন করে টেন্ডার, আবার নতুন কাটমানি- এক অনন্ত বৃত্ত। শুধু নিম্নমানের বিটুমিন ব্যবহারের দরুন প্রতি কিলোমিটার রাস্তাতে এরা ৩ লাখেরও বেশী চুরি করেছে। গোটা দেশের নিরিখে অঙ্কটা এবারে গণনা করে নিন।
রাস্তায় মূলত চারটে লেয়ার হয়। জল চোঁয়ানো বন্ধ করতে গেলে সাব বেস লেয়ার, বেস লেয়ার ও বিটুমিন মাখা পাথরের লেয়ার কমপক্ষে ২০ সেন্টিমিটার পুরু হওয়া দরকার। সবার উপরে ৬ সেন্টিমিটারের পুরু বিটুমিনের চাদর বিছানোর টাকা বরাদ্দ হয় মন্ত্রক থেকে। সেখানে বিজেপির চোরের সাম্রাজ্য ৩টে মিলিয়েও ৩০ সেন্টিমিটার লেয়ার লাগায়না। পাতলা লেয়ারের দরুন ভারি রোলার ব্যবহার করতে পারেনা, হালকা ২-৩ টনের রোলার ঘষে দায় সারে, যেখানে অন্তত ১৫-২০ টনের রোলার আবশ্যিক- এয়ার পকেট বন্ধ করতে। ফলত কিন্তু ভারি লোডের গাড়ি সেই রাস্তায় চড়লেই রাস্তা ফেটে যায়, সেখান দিয়ে জল চুঁইয়ে গর্ত তৈরি হয়। এই লেয়ার, রোলার ভাড়া, ডিজেল, লেবার বাবদও প্রতি কিমিতে এরা ৫ লাখের বেশী চুরি করে। আগামীতে মোদী সরকারের দুর্নীতি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা হবে।
স্বাস্থ্যসেবা খাতের দুর্নীতিও পাহাড় প্রমাণ। বৃহৎ আকারের সরকারি প্রকল্প গুলোর উদ্দেশ্যই জালিয়াতিমূলক কার্যকলাপকে প্রমোট করার জন্য। দেশের অধিকাংশ হাসপাতালে পরিষেবা প্রদানের নুন্যতম পরিবেশ টুকু নেই, সেখানে প্রযুক্তিগত অত্যাধুনিক বিষয় তো চাঁদমারি। কর্পরেট হাঙরদের জন্য নিত্য বাড়িয়ে যাচ্ছে ওষুধের দাম। চিকিৎসা শিক্ষা দুর্নীতি আরেক বড় আর্থিক কেলেঙ্কারি। সিবিআই তদন্তে দেশব্যাপী ৩৯০০০ কোটি ঘুষের টাকার চক্র উন্মোচিত করেছে। কোভিড-১৯ মহামারী চলাকালীন চিকিৎসা সরঞ্জাম, ও ভ্যাকসিন ক্রয় প্রক্রিয়ায় ২৭ হাজার কোটি টাকার ‘গুরুতর দুর্নীতি’ ধামাচাপা দিয়ে দিয়েছে। CAG রিপোর্ট অনুযায়ী ৭.৫ লক্ষ সুবিধাভোগীকে একটি মাত্র মোবাইল নম্বরের সাথে সংযুক্ত করা হয়েছে, যা গোটাটাই সরকারী টাকার জালিয়াতি।
আয়ুষ্মান ভারত-প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা (AB-PMJAY), এটারও রন্ধ্রে রন্ধ্রে জালিয়াতি আর তহবিল তছরুপের গল্প। মার্চ, ২০২৫ অবধি, জাতীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের (NHA) জালিয়াতি বিরোধী ইউনিট, জালিয়াতিমূলক কার্যকলাপের জন্য ৩,২০০ টিরও বেশি হাসপাতালের সুপারের বিরুদ্ধে জরিমানা ও FIR করেছে। সংসদে কেউ কোনো জবাবদিহি করেনি। এদের কাজই হচ্ছে ভুয়ো বিল ‘আপকোডিং’, যেখানে চিকিৎসার আসল খরচের চেয়ে বেশি, মানে ৩-১০ গুন অবধি ব্যয়বহুল দেখানো হয়।
ORG-Marg Research ও International non-governmental organisation Transparency International নামের
দুটি আন্তর্জাতিক সংস্থার সমবেত জরিপ অনুসারে, ভারতের জনগণের বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে স্বাস্থ্যসেবা ভারতের
সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত পরিষেবা খাত। বিশ্বের ৩০টি সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের মধ্যে ভারতের স্থান চতুর্থ। জনগণের প্রতি চারজনের একজনকে স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার জন্য ঘুষ দিতে হয়। হাসপাতাল কর্মী, চিকিৎসকদের দুই-তৃতীয়াংশ ঘুষখোর, প্রত্যেকের দাবী উপরতলায় নাকি টাকা দিতে হয়।
টাকা গুলো বিজেপির নেতা মন্ত্রীরা ছাড়া কে খায়?
একটা আন্তর্জাতিক সংস্থার জরিপের মতে দেশের সবচেয়ে বড় দুরর্নীতিগ্রস্থ সংস্থা হলো- বিচার ব্যবস্থা, যেখানে ৮০% এর বেশী কর্মকর্তা নানা ভাবে নানান ধরণের জালিয়াতি করে, সাথে বিপুল পরিমান আর্থিক দুর্নীতিতে যুক্ত এই সিস্টেমটার নিচে থেকে উপর মহল সর্বত্র। এর পর ৭৫% কোরাপ্টেড অফিসার নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে খাদ্য দপ্তর, ফার্মাসিটিউক্যাল দপ্তর, জনস্বাস্থ্য কারিগরী দপ্তর, স্বাস্থ্য দপ্তর, ও মেট্রোলজি দপ্তর। তৃতীয় দুর্নীতিগ্রস্থ দপ্তর হলো শ্রম দপ্তর, ৬৯% অফিসারই কোরাপ্টেড। ভূমি দপ্তরে ৬৭%, GST দপ্তরে ৬২%, দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদে ৫৯%, পুরসভা ও আর্বান উন্নয়ন দপ্তরে ৫৭%, ইনকাম ট্যাক্স দপ্তরে ৪৭%, অগ্নিনির্বাপক ও বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরে ৪৫%, পুলিশে ৪৩%, পরিবহণ দপ্তরে ৪২%, বিদ্যুৎ বিভাগে ৪১%, আর আবগারি দপ্তরে ৩৮% অফিসার দুর্নীতির সাথে যুক্ত। এটাই মোদী রাজের অমৃতকাল।
মোদী সরকারের সবচেয়ে আলোচিত প্রোজেক্টের মধ্যে রয়েছে ডিজিটাল ইন্ডিয়া, বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও, আয়ুষ্মান ভারত, জল জীবন মিশন। বেটি বাঁচাও প্রকল্পের ৭৯% পয়সাই গোদি মিডিয়ার পেটে গেছে। তবে গত ১০ বছরে সবথেকে বেশী বাজেট বরাদ্দ হয়েছে নমনী গঙ্গা প্রজেক্ট ও স্বচ্ছভারত অভিযান নামের দুই প্রকল্পে। প্রথমটাতে ৩০ হাাজার কোটি গঙ্গায় কীভাবে তলিয়েছে কেউ জানেনা, জেডি আগরওয়ালার নাম কেউই জানিনা হয়তবা, ইনি কোনো এলেবেলে মানুষ ছিলেননা। IIT রুরকির এই এ্যালুমনি একসময় সেন্ট্রাল পলিউশন কন্ট্রোল বোর্ডের সদস্য ছিলেন। বিজ্ঞানী ও গবেষক মানুষটি গঙ্গা দূষন রোধের নামে আসা ‘নমনী গঙ্গা প্রোজেক্টের’ সরকারী টাকার নয়ছয় ও আসল কাজ না হওয়ার প্রতিবাদে আমরণ অনশনে বসেছিলেন হৃষীকেশে। ১১১ দিন ধরে লড়াই করে শহীদ হয়ে গেছেন, সরকারের তরফে কেউ সামান্যতম খোঁজ টুকু করেনি। মিডিয়াও এ খবর দেখায়নি, কারন গঙ্গা সাফাই এর বরাদ্দকৃত টাকা তো বিজ্ঞাপনের নামে তাদের পেটেই চলে গেছে, কেন দেখাবে!
স্বচ্ছভারতের নামে দেশজুড়ে ৭ লাখ টয়লেট বানিয়ে প্রকল্পের জন্য বরাদ্দকৃত ৯৭ হাজার কোটি টাকার বাজেট খরচা হয়ে গেছে। বাকি প্রকল্পগুলোর কথা নাইবা বললাম। এই সমস্ত প্রজেক্ট গুলোর ৫৫% এর বেশী টাকা গিয়েছে দেশের মিডিয়া হাউজগুলোতে, সেটা ইলেকট্রনিক্স হক বা প্রিন্ট মিডিয়া। মোদী সরকার, মিডিয়াকে কেনার জন্য ‘সচেতনতা আর সরকারী প্রকল্পের প্রচার’ নামের আড়ালে লক্ষ লক্ষ কোটি টাকার এই হরির লুঠ চালিয়েছে। এমনি এমনি ভারতীয় মিডিয়া ‘গোদি মিডিয়া’ হয়ে যায়নি, বিপুল পরিমান টাকার বিনিময়ে এরা বিক্রি হয়ে সারাদিন সরকারের পক্ষে ঘেউ ঘেউ করে। চুম্বকে, মিডিয়াকে কিনতেই এই ভুয়ো প্রজেক্টগুলো লঞ্চ করা হয়েছিলো সুক্ষ পরিকল্পনা করে, যার মাধ্যমে দিনের আলোতে জনগণের করের টাকা দিয়ে মিডিয়া পোষা যায়। আপনি RTI করুন, সরকার কোনো তথ্য দেবেনা, কারন এর চেয়ে বড় দুর্নীতি আর কিছু নেই।
গোটা দেশজুড়ে বিজেপি আর দুর্নীতি আজ একশব্দে ‘সমার্থক’, তারা শুধু আদানি আম্বানিকে দেশের সম্পদ তুলে দিচ্ছে এমন একতরফা নয় বিষয়টা, করোনার পর থেকে প্রায় প্রতিটা রাষ্ট্রীয় পদে ক্ষমতাসীন বিজেপি নেতা ব্যক্তিগত স্তরে কোটি কোটি টাকা চুরি করছে চোখের সামনে। গড়করি থেকে অশ্বিনী বৈষ্ণব সবকটা পেশাদার দুর্নীতিবাজ। রাজ্যওয়ারি স্থানীয় স্তরে এদের অকপর্ম নিয়ে কিছুটা হইচই হলেও দিল্লি কেন্দ্রিক ‘পোষ্য’ মিডিয়া হাউস গুলোকে দিয়ে এগুলো চেপে দেওয়া হচ্ছে, সোস্যালমিডিয়াতে ভয়াবহ ভাবে সেন্সর করা হচ্ছে। স্রোতের মত দুর্নীতির ধারা বইছে, চুরি, খুন, গুম সব রয়েছে, একটার রেশ মিটতে না মিটতেই পরবর্তী আরো অনেক বড় একটা কেচ্ছা সামনে এসে যাচ্ছে। বিজেপির আইটি সেল ও গোদি মিডিয়া হিন্দু, মুসলমান, গরু শুয়োরের অযৌক্তিক ন্যারেটিভ প্রোপ্যাগান্ডা লাগাতার প্রচার করছে, যেন ওটাই মূল সমস্যা, ফলে জনগনের ফ্ল্যাস মেমোরি থেকে সাম্প্রতিক অতীতটা দ্রুত ধামাচাপা পরে যাচ্ছে।
(২)
‘দ্য ওয়ার’ এর একটা রিপোর্ট মোতাবেক, বিগত ১০ বছরে ২৮জন স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সাংবাদিক খুন হয়েছে বিজেপি শাসিত রাজ্যে। এটা অফিসিয়াল সত্য, এর বাইরেও ১০০ এর বেশী ছোট এলাকার সাংবাদিক, ইউটিউবার গায়েব হয়েছে, কার লাশ পাওয়া গেছে, কারো যায়নি। এগুলোকে কোনোটা পরকীয়া, কোনটা ডিপ্রেশন, কোনোটা সাংসারিক কলহ নাম দিয়ে ‘কেস ক্লোজ’ করে দেওয়া হয়েছে। এদের দোষ ছিলো একটাই, বিজেপি সরকার ও তাদের নেতা মন্ত্রীদের ভ্রষ্টাচার প্রকাশ করে দিয়েছিলো ভিডিওতে। যাদের গুম খুন করতে পারছেনা, তাদের উপরে দেশদ্রোহীতা, UAPA, মানহানী সহ এমন সব ধারা লাগাচ্ছে যে, জেল আর আদালতের চক্কর কাটতে কাটতে জীবন শেষ হয়ে যাচ্ছে।
পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে, মোদীর ‘শিক্ষিত’ ইলেকট্রনিক্স এবং তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব, সংসদে বিল আনতে চলেছে- যেখানে কোনো নেতা বা মন্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির বিষয়ে লিখতে গেলে সরকারের থেকে অনুমতি নিতে হবে, অন্যথায় ৫০০ কোটি টাকা অবধি জড়িমানা, অনাদায়ে জেল হবে। সুতরাং, মহারাষ্ট সরকারের ৩১৬২৮ কোটি ক্ষতিপুরণ প্যাকেজ আসলে দেখতে শুনতেই ভালো, এই টাকা কার পেটে যাবে কেউ জানেনা। প্রশ্ন করলেই প্রশ্নকর্তা গায়েব হয়ে যাবে। আগামীতে এই প্রশ্ন করে আরো কতজন স্বাধীনভাবে কাজ করা সাংবাদিক প্রাণ খোয়াবে কে জানে!
রাজীব প্রতাপ, এই নামের কাউকে আপনার চেনার কথা নয়। মাত্র ৩৬ বয়সী ছেলেটি ‘দিল্লি উত্তরাখণ্ড লাইভ’ নামে একটি ডিজিটাল নিউজ চ্যানেল চালাত। উত্তরাখণ্ডের বিজেপি সরকারের নানান বিষয়গুলি নিয়ে রিপোর্ট করত। সম্প্রতি সে উত্তরকাশীর জেলার একটা সরকারী হাসপাতালের দুরবস্থা এবং একটি সরকারী ইস্কুলের মিডডে মিল, শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে লাগাতার টিউটিউবে পোষ্ট করে সরকারের থেকে জবাব চাইছিলো।
শুরুতে ভিডিও ডিলিট করতে বলে হুমকি ফোন, তারপর গত ১৬ সেপ্টেম্বর গাঙ্গোরি নামের একটা স্থানে যাওয়ার পথে নিখোঁজ হয়ে যায়। সন্দেহজন কয়েকজন লোকজনের পিছু করা দেখে উদ্বিগ্ন বোধ করেছিলো বেচারা, সেই রাত্রে স্ত্রীকে মেসেজও করেছিলো ছেলেটি। ফোন সিগন্যালের আওতাতে না থাকার কারনে ২ দিন পর, হঠাৎ গভীর রাতে মেসেজটি তার স্ত্রীর কাছে ঢোকে। ১৯ সেপ্টেম্বর গাঙ্গোরীর কাছে ভাগীরথী নদীতে তার গাড়িটি দোমড়ানো মোচড়ানো অবস্থায় পাওয়া যায়, জোশিয়ারা ব্যারেজ সংলগ্ন নদী থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এর পর? বিচারপতি লোয়া’র খুনের যেখানে বিচার হয়না, সেখানে কে আশা করবে যে এই অখ্যাত রাজীব প্রতাপের মৃত্যুর সত্য উদ্ধারে তদন্ত হবে!
মিডিয়া হাঙরদের কথা উঠলে আমরা শুধু গোদি মিডিয়াদের কথাই শুনি, গোদি মিডিয়া তৈরিতে মোদীজি মাস্টার হলে, উত্তরখন্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি মোদীরও গুরু। উত্তরাখণ্ড বিজেপি সরকার নিজেদের ও মোদীর ঢাক পেটানোর জন্য প্রতিদিন প্রায় ৫৫ লক্ষ টাকা খরচ করেছে শুধু টিভি মিডিয়াতে, ৫ বছরে প্রায় ১,০০১ কোটি টাকা। এ ছাড়া বুকলেট, আউটডোর এ্যাড, রেডিও, ইউটিউব, ফেসবুক, খবরের কাগজ, ফোনের SMS, ও সিনেমাতে ‘সনাতনী’ প্রযোজনা বাবদ- শেষ পাঁচ বছরে ৯২৩ কোটি টাকা খরচা করেছে, যার মধ্যে মিসলেনিয়াস খাতে ১২৮ কোটি টাকা। একটা নামহীন চ্যানেলকে ১৩ কোটি ৫৯ লাখ টাকার বিজ্ঞাপন দিয়েছে, ৫ বছর আগে যাদের অস্তিত্বই ছিলোনা। ২০২১-২২ সালেই ৭ কোটির বিজ্ঞাপন পেয়েছিলো। এটা উত্তরাখন্ডেরই এক মন্ত্রীর ছেলের সংবাদ সংস্থা।
গত ৩ বছরে বিভিন্ন আর্থিক দুর্নীতির দায়ে ২০০ এর উপরে ব্যাক্তি জেলে, মূলত তোলা আদায়, ভাগা আর ঘুষ কান্ডে। এরা সকলেই বিজেপির নেতা, সরকারী চাপরাশি থেকে আমলা সব পর্যায়ের কর্মী আছে। সরকারী টাকার হরির লুঠ চলছে। রামদেব আর তার স্যাঙাৎ নেপালের বাসিন্দা আচার্য বালকৃষ্ণ মিলে যেভাবে উত্তরাখন্ডকে লুঠেছে, তাতে ব্রিটিশরাও লজ্জা পাবে। হালের ইকো ট্যুরিজমের নামে ৩০ হাজার কোটির টেন্ডার দুর্নীতি তো হিমশৈলের চুড়া মাত্র। এখানকার ফার্মা কোম্পানি গুলোর থেকে নিয়মিত তোলা আদায়ের কারনে ওষুদের দাম বেড়ে আকাশ ছুঁয়েছে, কেউ বলার নেই। আইনটা খুব সহজ, হয় টাকা খেয়ে তাদের গুনগান গাও, অথবা মুখ বন্ধ রেখে দাও- নতুবা রাজীব প্রতাপ হয়ে যাবে।
গুজরাটে কিছু নামহীন দল রয়েছে, যাদের Registered Unrecognised Political Parties (RUPPs) নামে নিবন্ধীকরণ করা আছে। এদের নাম কেউ কখনও শোনেনি- কিন্তু তারা ৪৩০০ কোটি টাকার অনুদান পেয়েছে ইলেকওরাল বণ্ডের মাধ্যমে। এই ১০টি দলের মধ্যে ৮টি কখনও কোনো নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেনি, ফলত দুর্বল নির্বাচনী পারফরম্যান্সের কারণে সামান্য রাজ্য দল হিসেবেও স্বীকৃতি পায়নি। লোকশাহী সত্তা পার্টি ২০১৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ১০৪৫ কোটি টাকা পেয়েছে। নিউ ইন্ডিয়া ইউনাইটেড পার্টি ২০২২-২৩ সালে ৪০৭ কোটি টাকা পেয়েছে। সত্যবাদী রক্ষক পার্টি, ভারতীয় জনপরিষদ, সৌরাষ্ট্র জনতা পার্টি, জনমান পার্টি, মানবাধিকার জাতীয় পার্টি এবং মাতৃভূমি জাতীয় পার্টি নামের দলগুলো সকলে এমন টাকা পেয়েছে। অথচ একই বছরে বিজেপি মাত্র ৫৭৬ কোটি টাকা পেয়েছিলো।
এদের পেছনে কে লগ্নি করেছে? এই হাজার হাজার কোটি টাকার উৎস কোথায়? কোন উদ্দেশ্যে দিয়েছে এই টাকা? টাকা গুলো গেলো কোথায়? কারা এগুলো খরচা করেছে? নির্বাচন কমিশন তদন্ত করবে? মোটেও নয়, তারা এখানেও এখানেও হলফনামা চেয়েছে, ফলত কোনো তদন্ত হয়নি এদের উপরে। এরই মধ্যে দলগুলো তথ্য বিকৃতি বা উপাত্ত মুছে দেওয়ার বন্দোবস্ত করে ফেলেছে সময় নিয়ে, যত্নের সাথে।
নিশ্চিতভাবে দলগুলি বেনামে রেজিস্ট্রার করা হয়েছিলো, না ইলেকশন কমিশন না গুজরাত সরকার, কেউ তাদের নাম পরিচয় অবধি প্রকাশ করেনি। তার চেয়েও বড় কথা হচ্ছে এদের অস্তিত্ব ও অর্থপ্রাপ্তির বিষয়টা অস্বীকারও করেনি। এই দলগুলি থেকে মাত্র দুটো পার্টি তিনটি নির্বাচনে - ২০১৯ সালের লোকসভা, ২০২৪ সালের লোকসভা এবং ২০২২ সালের বিধানসভা নির্বাচন - মাত্র ৪৩ জন প্রার্থীকে দাঁড় করিয়েছিল, যারা সম্মিলিতভাবে মাত্র ৫৪,০৬৯ ভোট পেয়েছিল। তাদের নির্বাচনী হিসাবে সর্বমোট ৩৯.০২ লক্ষ টাকা ব্যয় দেখানো হলেও, ২০২৫ এর আগষ্টে প্রকাশিত অডিট রিপোর্টে ৩,৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। যেহেতু এই নির্বাচনী বণ্ডের অনুদান গুলো ভারতীয় আয়কর আইনের 80G ধারায় করমুক্ত, সুতরাং আয়কর ফাঁকি দেওয়ার জন্যই এই হাজার হাজার কোটি টাকার জালিয়াতি করা হয়েছিল। ঘটনা হলো বিজেপি সরকার কেন চুপ?
২০১৭-২০১৮, ২০১৯-২০২০ এই দুটো অর্থবর্ষে শেষবারের মত অডিট হয়েছিল গুজরাতের ৮টি পুরসভাতে। আমেদাবাদ, গান্ধীনগর, জামনগর, রাজকোট, ভাবনগড়, জুনাগড়, সুরাট ও বরোদা- শেষ ৬-৭ বছরে কোনো অডিট হয়নি বা করতে দেওয়া হয়নি, যেখানে খরচা হওয়া ২ লক্ষ কোটি টাকা কোথায় কীভাবে খরচা হয়েছে কেউ জানেনা। কী ভাবছেন CAG কোথায় গিয়েছে? গিরীশ মুর্মুকে মনে নেই? ২০২০ থেকে ২০২৪ অবধি CAG প্রধান ছিলো, সেখান থেকে রিটায়ার্ড করে সোজা কাশ্মীরের রাজ্যপাল হয়ে গিয়েছিলো। মুর্মুর আগের জন, রাজীব মেহরিশি বর্তমানে জিও ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেডের বোর্ডে একজন স্বাধীন ডিরেক্টর পদে আসীন। ওই পুরসভা গুলোর অডিট করে যদি উনি অবসরে যেতেন, মোটাভাই কী ওনাকে এই শাঁসালো পদ দিতো? বর্তমান CAG অধিকর্তা K. Sanjay Murthy এর কী রাজ্যপাল হতে শখ যায়না?
ওখানে সাংবাদিকেরা কেন কিছু বলেনি! জুনেইদ খান পাঠান, কিশোর দাভে, চিরাগ প্যাটেলদের নাম আপনি আমি না জানলেও গুজরাতের বাপ মায়েরা জানে বৈকি। তাই তাদের সন্তান টোটো চালিয়ে খাক, তবুও সাংবাদিকতা বা লেখালেখি যেন কোনোভাবে না করে, সেই দিকে শ্যেন দৃষ্টি নিয়ে নজর রাখেন, কেইবা আর যুবক সন্তানের লাশ কাধে তুলতে চায় বলুন! যেখানে হরেন পান্ডিয়ার মত বিজেপির মাতব্বর নেতা খুন হয়ে যায়, বিজয় রুপানির ফ্লাইট কীভাবে ক্রাশ করল কেউ জানেনা। IPS সঞ্জীব ভাট আজও বিনা বিচারে জেলে, কালোটাকা সাদা করার যে মামলা তার কোনো নিষ্পত্তি হয়নি গত ১১ বছরে। সেখানে কে বাহুবলী সেজে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করবে!
নিরঞ্জন টাকলা, যিনি জাজ লোয়া হত্যাকান্ডের উপরে প্রবন্ধ লিখেছিলো, কয়েকশো মামলাতে উনি জর্জরিত। সেখানে গুজরাতের ওই অনামী ছেলেপুলে খুনের বিচার হবে, এটা আপনি বিশ্বাস করেন? এর পর গুগুল করে চিনে নিন মহেশ লাঙ্গাকে, মিথ্যা মামলাতে জেরবার। গত ১০ বছরে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে, শুধু গুজরাতের নানা আদালত ও থানায় ৮০৭টা মামলা দায়ের হয়েছে, যার কোনোটার নিষ্পত্তি হয়নি। নিত্য পুলিশি হয়রানি, ফৌজদারি ও মানহানি মামলা, উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের ক্যাডারদের দ্বারা সর্বক্ষণ হুমকি ধমকি, এর সাথে ফেক এনকাউন্টার এর বিপদ মাথায় নিয়ে কোন মানুষ প্রকাশ্যে মৃত্যুর ফেরিওয়ালাদের সাথে কবাডি খেলবে?
দুর্নীতির কথা আসবে আর দেশের সবচেয়ে বড় রাজ্য উত্তরপ্রদেশ
আসবেনা তা হয়! অন্ধভক্তদের কাছে দাবাং ভাবমূর্তি রক্ষা করতে যোগীকে হিংস্র অবতার বাঁচিয়ে
রাখতেই হয়। ফলে নিয়মিত এই জাতীয় সহিংসতার খবরের মাধ্যমে দেশজুড়ে হেডলাইনে থাকতে- গরীব
মুসলমান ও দলিতদের উপরে অত্যাচার, খুন, জখম, বাড়িতে বুলডোজার চালানো, সম্পত্তি দখলের
মত ঘটনা গুলো অত্যন্ত প্ল্যানমাফিক করা হয়। উত্তরপ্রদেশে ৭৫টা জেলা, যোগী প্রতি মাসে
একটা করে জেলায় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাঁধালে, একটা ৫ বছরের টার্মে রাজ্যের সব জেলায়
সে পৌঁছাতেই পারবেনা, আবার ৬ বছরেরও পর সেই জেলাটার পালা আসবে। লোকে ততদিনে ভুলে যায়।
(৩)
খুব সংক্ষেপে শুধু মূল পয়েন্ট গুলো উল্লেখ করি, নাহলে শুধু উত্তরপ্রদেশের যোগী ও তার দুর্নীতিকে নিয়েই ১০টা ফুল ভলিউম এনসাইক্লোপিডিয়ার সাইজের বই লেখা যাবে। হিন্দুত্ববাদি রাজনীতি ভেক ধরা ভণ্ড যোগী, রামমন্দিরের নামেও বিপুল টাকা নয়ছয় করেছে। রামপথ তৈরিতে অধিকৃত জমির মালিককে যে টাকা দিয়েছে, ৫ বছর পর, তার প্রায় ৮০ থেকে ২০০ গুণ অবধি বেশী দাম দেখানো হয়েছে অডিট রিপোর্টে। এরা রামকেও ছাড়েনি। সেখানে দুর্নীতি এমন লাগামছাড়া যে যোগী নিজে ৬০০ সরকারি অফিসারকে চাকরিচ্যুত করেছে, ২০০ জনকে স্বেচ্ছা অবসরে পাঠিয়েছে। ১১ জন IAS অফিসারের নামে মামলা করে তাদের সাসপেন্ড করে তদন্ত চালাচ্ছে। তার রাজ্যের বিচারপতির ঘরে কোটি কোটি কালো টাকা পাওয়া গেলেও কোনো বিচার হয়না।
বিরোধী দলের ক্রমাগত আন্দোলনের ফলে, প্রতিটি সরকারি কর্মচারী ও বিজেপির নেতা মন্ত্রীদের ব্যক্তিগত সম্পদের পরিমান, হলফনামা দিয়ে ঘোষণা করতে বলে, যোগী সরকার একটা আইন আনে ২০২৪ সালে। সরকার সেই সমস্ত তথ্য রাজ্যের 'মানব সম্পদ' পোর্টালে তুলে দেওয়ার ঘোষণাও দেয়। আজ অবধি ৯৫% নেতা ও সরকারী কর্মচারী কোনও তথ্য দেয়নি সরকারকে। বেতন আঁটকে দেবার ঘোষণা করেও কিচ্ছু লাভ হয়নি, অবশেষে ধামাচাপা পরে গেছে। যেমন ধামাচাপা পরে গেছে কুম্ভমেলায় পদপৃষ্ট হয়ে মৃতের সংখ্যা। গত ২৯শে জানুয়ারি ২০২৫ তারিখ মহাকুম্ভে পদপিষ্ট হয়ে মৃত প্রতিটি পরিবারকে ২৫ লক্ষ টাকা করে দেবার ঘোষণা করেছিলো যোগী নিজে। সবচেয়ে মজার বিষয়টা হচ্ছে যাদের নাম এই ক্ষতিপূরণ তালিকায় রয়েছে, তারা প্রায় প্রত্যেকে আরএসএসের প্রচারক বা মৃত প্রচারকের স্ত্রী। কুম্ভে পদপিষ্ট হওয়ার সাথে এদের কখনও কোনো সম্পর্ক ছিলোনা। এখানে কেউ কোনো দুর্নীতি খোঁজেনি, হিন্দুত্বের বিভূতিতে সব মাফ।
দালাল রাজ- যোগী সরকারের দুর্নীতি শিল্পের মুকুট। জন্ম থেকে মৃত্যুর মাঝে যা যা কিছু আছে, সর্বত্র ঘুষ না দিয়ে, বিজেপি স্বীকৃত দালাল না ধরে, আপনার ক্ষমতা কী কোনো কাজ আদায় করবেন। মাফিয়া রাজ খতমের নামে মুসলমান ও বিরোধী নেতাদের এনকাউন্টার করাটা যোগীর অবসরকালীন শখ, অথচ তার প্রশাসনের গোটাটা নিয়ন্ত্রণ করছে ‘হোয়াইট কলার’ মাফিয়াদের দল। সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পে কমিশন আদায় কেলেঙ্কারি, ভূমি অধিগ্রহণ কেলেঙ্কারি, সেচ ও জলসম্পদ বিভাগের দুর্নীতি, EPF কেলেঙ্কারি, সরকারি চাকরিতে নিয়োগে দুর্নীতি, খনি কেলেঙ্কারির মত সরকারের প্রতিটা দপ্তরে দুর্নীতির ঘুঘুর বাসা বেঁধে রয়েছে। যোগীর অনুচ্চারিত চ্যালেঞ্জ, কার হিম্মৎ আছে আয় দেখি; বেশী বাড়াবাড়ি করতে গেলে হয় গুম খুন করে দেবে, কিম্বা ভুয়ো মামলাতে এ্যারেষ্ট করে পুলিশ দিয়ে ফেক এনকাউন্টার করে মেরে দেবে। খেল খতম।
Zipnet নামে দিল্লি পুলিশের একটা পোর্টাল, যা কেন্দ্রীয় সরকারের ডাটাবেস এর অধীনস্ত, তাদের তথ্য মতে গত দেড় বছরে শুধুমাত্র দিল্লিতে প্রায় ৮,০০০ এর বেশী ব্যক্তি নিখোঁজ। এর মধ্যে নারী পুরুষের হার প্রায় সমান সমান, অধিকাংশই দরিদ্র শ্রমজীবী সম্প্রদায়ের মানুষ। দিল্লি পুলিশের বিভিন্ন সংস্থাগুলি গোটা দেশের অন্যান্য রাজ্য গুলোতে তথ্য অনুসন্ধান করে, নিখোঁজদের তালিকা এবং অজ্ঞাত মৃতদেহগুলি সনাক্ত করেও এদের কোনো হদিস বের করতে পারেনি। দিল্লির উচ্চ-নিরাপত্তা সম্পন্ন নয়াদিল্লি এলাকা, তিলক মার্গ, চাণক্যপুরী এবং পার্লামেন্ট স্ট্রিট এর মতো এলাকা থেকে সবচেয়ে বেশী মানুষ গায়েব হয়ে গেছে। কেউ জানেনা অবৈধ অঙ্গ তথা কিডনি পাচারকারীর দল এদের গুম খুন করে, পেট থেকে অঙ্গ প্রত্যঙ্গ খুলে বেচে দিয়েছে কিনা। যারা স্বজনহারা হয়েছে তারা ছাড়া কারো কোনো হেলদোল নেই। সরকারের নিখোঁজ তালিকাতে উঠেনি এমন সংখ্যার খবর কার কাছে থাকা সম্ভব ১৫০ কোটির দেশে!
এবছর মহাকুম্ভ মেলার পর ১৬১ পুলিশ অফিসার নিখোঁজ হওয়ার দাবী উঠে। যথারীতি কর্তৃপক্ষ কর্তৃক খণ্ডন করা হয়েছিল। সোশ্যাল মিডিয়া এবং ইউটিউবের প্রচারকে মিথ্যা গুজব প্রমাণে কোনো কসুর করেনি যোগী সরকার। নির্বিচারে ইউটিউবার ও স্বাধীন সাংবাদিকদের গ্রেপ্তার, ভুয়ো মামলায় লকাপে ভরে শারীরিক অত্যাচার করে অধিকাংশ ভিডিও ও প্রতিবেদন ডিলিট করে দেওয়া হয়। আজ ৭-৮ মাস পরেও নিখোঁজ কাউকে উপস্থিত হিসাবে চিহ্নিত করতে পারেনি। উলটে অন্তত ৮০টি এমন পরিবারের সদস্যকে চাকরিতে বহাল করেছে ধামাচাপা দিতে। আজও কেউ জানেনা পদদলিত হয়ে মৃত মানুষের আসল সংখ্যা ঠিক কত ছিলো, আর এই হতভাগ্য পুলিশের দল সেই দলেই ছিলো কিনা! নাকি তারাও কিডনি চক্রের শিকার হয়ে গেছে।
মহারাষ্ট্রের বিজেপি সরকারের নির্লজ্জ দুর্নীতি রোজই কিছু না কিছু উন্মোচিত হচ্ছে, তবুও তারা নির্বিকার, ভয়ডরহীন ভাবে আরেকটা দুর্নীতিতে ঝাঁপিয়ে পড়ছে। সম্প্রতি মহারাষ্ট্র সরকারের MMRDA নামের একটা সংস্থা একটা আন্ডারপাস ও একটা এলিভেটেড রোড বানাবার জন্য টেন্ডার ডাকে। সেখানে দুটো কোম্পানি অংশগ্রহন করে, একটা L&T ও অন্যটা Megha Engineering, মজা হলো সর্বোনিম্ন দর দেওয়া সত্বেও L&T এটা না পেয়ে তারা সুপ্রিম কোর্টে চলে যায়। সেখানে মহারাষ্ট্র সরকার নানান মনগড়া ট্যেকনিক্যাল গ্রাউন্ডের থিওরি দিলেও, পুনরায় টেন্ডার ডাকার পরামর্শ দেয় সুপ্রিম কোর্ট। সুপ্রিম কোর্টের পুনঃটেন্ডারের পরামর্শকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সেই ‘অযোগ্য’ মেঘা ইঞ্জিয়ারিংকেই শেষমেশ বরাতটি দেওয়া হয়েছে।
কেন মেঘা ইঞ্জিয়ারিং অযোগ্য? কেন্দ্রের ন্যাশানাল হাইওয়ে অথোরিটি একে কালো তালিকাভুক্ত করেছে, মহারাষ্ট্রে অবৈধ খনি মামলাতে, দেশের খনি মন্ত্রক ৯৪ কোটি টাকা পেনাল্টি সহ এই কোম্পানিকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে। CBI এই মেঘা ইঞ্জিয়ারিং এর বিরুদ্ধে ৩১৫ কোটি টাকার জালিয়াতি মামলা চালাচ্ছে। তার পরেও কীভাবে এই কোম্পানি কাজের বরাত পাচ্ছে? উত্তর খুব সহজ, ২০২৪ লোকসভা ইলেকশনে এই মেঘা ইঞ্জিয়ারিং বিজেপিকে ৫৮৪ কোটি টাকা চাঁদা দিয়েছিলো। আর কোনো ব্যাখ্যার প্রয়োজন আছে কি?
সাহারা ইন্ডিয়া নামের চিটফান্ডটির কথা ভুলে যাননি সম্ভবত। ২০১৬ সালে তাদের ঘোষিত সম্পত্তির পরিমান ছিলো তৎকালীন দিনে ১ লক্ষ ৮৭ হাজার কোটি টাকার। এরপর দেশে অমৃতকাল এসেছে, কতজন লগ্নিকারী তাদের রিফান্ড পেয়েছে- সাহারা নিয়ে তৈরি করা ‘সিট’ থেকে কেউ জানেনা, কিন্তু খবর হচ্ছে সাহারার সেই সকল সম্পত্তি বিক্রি হয়ে গেছে, ক্রেতা? আবার কে, আদানি গ্রুপ। ৬ই সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে, কেন্দ্র সরকারের মধ্যস্থতায় দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা সাহারা গ্রুপের বিপুল সম্পত্তির ৯০%ই আদানি গ্রুপের কাছে হস্তান্তর করেছে, তিনটে মেগাসিটি প্রোজেক্ট সহ। যার মধ্যে ৫০০ একর জমি ও বিভিন্ন শহরে থাকা ৮৮টা বিল্ডিং এর দাম ধার্য্য করা হয়েছে মাত্র ১২০ কোটি টাকা। অথচ সাহারা গ্রুপের দাবী ছিলো একমাত্র সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে সম্পত্তির মূল্য ঠিক করে সেগুলো নিলামে বিক্রি করে লগ্নিকারীদের টাকা ফেরত দেওয়া হোক, বলাই বাহুল্য তা মানা হয়নি। মানা হলে আদানির এতে কোন লাভ হতো?
গত ১০ বছর ধরে হরিয়ানাতে ডাবল ইঞ্জিন বিজেপি সরকার চলছে। উত্তরপ্রদেশের পর সবচেয়ে বেশী সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, মব লিঞ্চিং এই রাজ্যেই ঘটেছে। বিজেপির দাঙ্গা হাঙ্গামার কথা বলবনা বললেও হরিয়ানার ক্ষেত্রে বলতে হবে, কারন এখানেই জুনেইদ নামের এক মুসলমানকে গনপিটুনিতে খুন করে দেওয়া হয়। যেখানে রামরহিম বাবার ডেরা ভায়োলেন্স হয়, যেখানে রামপাল আশ্রমের মত হিংস্র ঘটনা ঘটে, সাড়ে পাঁচ হাজার উন্মাদ গ্রেপ্তার হয়, সেখানে দাঙ্গার মত দুর্নীতিকে এড়িয়ে যাওয়া যায়না। এর পর জাঠ বিদ্রোহ আছে, এখানেও ২১০০ আলাদা আলাদা FIR করা হয়।
গোটা দেশজুড়ে সরকারী চাকরিতে যে নিয়োগ দুর্নীতি চলছে, এটা RSS এর কোনো গোপন ম্যানিফেস্তো হতে পারে। আমাদের রাজ্যে ঠিক যেমন চিত্র, হরিয়ানার গল্পেও আলাদা কিছু নেই, সেখানেও স্বজনপোষণের দায়ে গোটা রিক্রুটমেন্ট প্রক্রিয়াকে বাতিল করে দেয় আদালত। HSSC নামের বোর্ডের কর্তারা জেলে যায় চাকরি দেবার নামে ঘুষ নিতে গিয়ে ধরা পরতে। এছারা বাস লিজ কেলেঙ্কারি, DLF কেলেঙ্কারি, ভূমি বিল কেলেঙ্কারি, কৃষক আন্দোলন কেলেঙ্কারি, জনসংবাদ কেলেঙ্কারি, মদ কেলেঙ্কারি, HPSC কেলেঙ্কারি, খনি কেলেঙ্কারি, ন্যাশানাল গ্রীন ট্রাইবুনাল কেলেঙ্কারি, পেপার লিক কেলেঙ্কারির মত অজস্র ছোট বড় আর্থিক দুর্নীতি রয়েছে।
এগুলোকে থেকে মুক্তি পেতে খাট্টারকে তাড়িয়ে সাইনিকে আসতে বাধ্য হয়েছিলো বিজেপি। হরিয়ানা সরকারের ‘রাজস্ব ও দুর্যোগ মোকাবিলা বিভাগের অধীনে’ সিট গঠন করে দুর্নীতি বিরোধী অভিযান শুরু করলে দেখা যায়- কমিশন যে ৩৭০ জন ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ কর্মকর্তাকে ধরেছে, তারা সকলেই বিজেপি ঘনিষ্ট সরকারী কর্মচারী। ১৭০ জন দালাল যাদের মাধ্যমে দুর্নীতির চক্র চলে তারাও প্রত্যেকে বিজেপির নানা মাপের নেতা।
মধ্যপ্রদেশের বিজেপি সরকার দুর্নীতির বিষয়ে সবচেয়ে নির্লজ্জ, বিজেপির ১৮ বছরের শাসনামলে ২৫০ টিরও বেশি আর্থিক ‘বড় কেলেঙ্কারি’ তালিকাভুক্ত রয়েছে। তালিকার শীর্ষে রয়েছে ব্যাপম, নার্সিং জালিয়াতি, সরকারী চাকরিতে নিয়োগ কেলেঙ্কারি সহ, সরকারের প্রতিটি দপ্তরে লক্ষ কোটি টাকার আর্থিক তছরুপে কোনো ক্লান্তি নেই, যার শেষ উদাহরণ হচ্ছে সরকারি দপ্তরের জন্য ৭০০ শতাংশ বেশী দামে মহেন্দ্র স্করপিও গাড়ি ক্রয়। যেকোনো সরকারী টেন্ডার পেতে গেলে দপ্তরের অফিসারদের কাটমানি রেট হচ্ছে ৪০%, যার ভাগা রাজ্য ও কেন্দ্রের বিজেপি নেতাদেরও দিতে হয়।
গোয়াতে বিজেপির প্রমোদ সাওয়ন্ত সরকারের দুর্নীতি যেন আধুনিক কবিতা। প্রাক্তন মন্ত্রী এবং প্রবীণ বিজেপি নেতা পাণ্ডুরঙ্গ মাডকাইকার দাবী করেছে, প্রতিটা মন্ত্রীকে মন্ত্রী হওয়ার জন্য বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে কোটি কোটি টাকা দিয়ে মন্ত্রীত্ব কিনতে হয়েছে। ফলত এখন সেই লগ্নির টাকা তো তুলতে হবে যেকোনো মূল্যে। গত দেড় বছরে গোয়ার মত ছোট্ট রাজ্যের বিভিন্ন থানায় দায়ের হওয়া দুর্নীতির অর্থের পরিমান ৩০০৪০ কোটি টাকা। শুধুমাত্র ভিজিল্যান্স বিভাগে ২,৭৪১টি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এই ভিজিল্যান্স দপ্তরেরই সরকারি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, গত পাঁচ বছরে, সরকারি কর্মচারী এবং জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে প্রতিদিন গড়ে ২৭টা দুর্নীতি ও আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে, যার একটারও তদন্ত হয়নি, কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। কারন প্রত্যেকেই স্বপদে বসার জন্য দেওয়া ঘুষের লগ্নি তুলতেই হবে, তাই প্রকাশ্যেই তোলাবাজি, কাটমানি আর ঘুষের ওপেন সিক্রেট সরকার চলছে।
শুধু মাত্র ২০২৩ সালে ২৪৬৭৮টা রেল এ্যাক্সিডেন্ট রেকর্ড হয়েছে, যেখানে ২১৮০৩ জন মারা গেছে। আদানির NDTV এই রিপোর্ট প্রকাশ করেও ডিলিট করে দেয়। উইনট্রাক নামের এক কোম্পানি দেশ ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে- কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও আমলাদের তোলা আদায়ে অতিষ্ট হয়ে। তারা পালালে চেন্নাই পোর্টটা আদানির হাতে তুলে দেওয়াতে আর বাঁধা থাকেনা, দিনের শেষে উইনট্রাককে অঅত্যাচারের কারন এটাই। রাজস্থানে মাত্র ২ বছরের ভজনলাল শর্মার সরকার, সেখানেও মাত্রাহীন ঘুষ আর তোলা আদায়ে ব্যবসায়ী থেকে সরকারি অফিসে পরিষেবা নিতে যাওয়া রাজ্যবাসী প্রত্যেকে অতিষ্ট। এর সাথে আছে ‘জল জীবন’ প্রকল্পে ১৬ হাাজার কোটির দুর্নীতি, কোনো মিডিয়া কভারেজ নেই এগুলো নিয়ে। ওদিকে গোটা ছত্রিশগড় রাজ্যটাকেই আদানির হাতে তুলে দিয়েছে চৌকিদার সাহেব, সেখানে আদানিকে টপকে আলাদা করে কেউ দুর্নীতি করবে সে হিম্মৎ কার আছে?
ED, CBI কে রাজনৈতিক শোষণ যন্ত্রে পরিনত করেছে, বিরোধী নেতা এবং সমালোচনা করা মিডিয়াকে লক্ষ্যবস্তু করাই এদের একমাত্র কাজ। সেবি এখন কর্পোরেটদের পোষা কুত্তা, পরিবেশ মন্ত্রণালয় দপ্তরটা ফিকির খোঁজে কীভাবে পরিবেশকে উচ্ছুন্নে পাঠানো
যায়। অন্যান্য সমস্ত নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলিকে ঠুঁটো জগন্নাথ বানিয়ে রেখেছে। যারা বিজেপির ফান্ডে চাঁদা
দিচ্ছে সেই নির্দিষ্ট
ব্যবসায়ীদের উপরে একমাত্র অনুগ্রহ বর্ষিত হচ্ছে, বাকিরা ইনকাম ট্যাক্স, জিএসটি
আর ইডির ফাঁসে জেরবার।
গোটা নর্থ ইষ্ট জুড়ে লুঠপাঠ, সিকিমের বাঁধ ও অরণ্য দুর্নীতি,
গোটা মনিপুরকে ২ বছর ধরে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে খাক করে দিয়েছে বিজেপি সরকারের লাগামহীন দুর্নীতি।
এরাই আপনাকে অখন্ড ভারতের গল্প শোনায়, চতুর্থ অর্থনীতির চাঁদোয়া দেখায়, আপনার ভিতরে থাকা হিন্দুরাষ্ট্রের খোয়াব বেচে,
দ্রেশপ্রেমের সার্টিফিকেট বিলি করে। মানুষ কবে বুঝবে যে এরা হিন্দুত্ব আর দেশপ্রেমের
চোলাই খাইয়ে আসলে ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বা নাদির শাহের মত দেশকে লুন্ঠন করে যাচ্ছে
দিনের আলোতে! মানুষ কী আজও এতো বোকা? সত্যিই এরা ভোট চুরি না করলে ক্ষমতায় থাকত ২০২৪
সালে?

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন