বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৫

পতিতা মিডিয়া


কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে কিছু 'অফবিট' বিষয়ে পড়াশোনার দরুন, আলাদাভাবে কিছু জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পেয়েছিলাম, যা অনেকের না থাকাটাই স্বাভাবিক

সামাজিক নৃবিজ্ঞান হল তেমনই বিষয়ক অধ্যয়ন। এই সুত্রে ছাত্রজীবনে কোলকাতার ‘সোনাগাছি’ নামক কুখ্যাত পতিতাপল্লীতে একটা সমীক্ষা করার সুযোগ পেয়েছিলামসেখানকার রূপজীবী মেয়েরা কী ভাবে এখানে এসেছে, কে বিক্রি হয়ে! কে জবরদস্তি কিম্বা কে সেখানেই জন্মেছে! কে কতটা রোজগার করে, সেই রোজগার কোথায় যায়, কারা তাদের গ্রাহক, তারা কীভাবে চিন্তাভাবনা করে, কীভাবে তাদের সামাজিক সম্পর্ক গুলো গঠিত ও রক্ষিত হয় ওই পরিবেশে ইত্যাদি গুলো স্বচক্ষে দেখেছিলাম

একটা অদ্ভুত বিষয় লক্ষ্য করেছিলাম, প্রথমত সমাজের প্রতিটি অর্থনৈতিক স্তর থেকেই এই পেশাতে মহিলারা রয়েছে। এতো বিপুল সংখ্যায় মহিলা যে এই পেশাতে স্বেচ্ছায় আসে, নিজে না দেখলে বিশ্বাস করা অসম্ভব ছিলো। মোট যৌনকর্মীদের ৬৭% এর উপরের মহিলাই মূলত স্বেচ্ছায় এসেছে, পারিপার্শ্বিক নানা গল্প, অধিকল্প, কাহিনী, অত্যাচার, পারিবারিক বাধ্যবাধকতা থাকলেও, মূল যেটা হল- অসংগঠিত শ্রমের ক্ষেত্রে অন্যান্য শ্রমজীবী বৃত্তিতে একজন অদক্ষ মহিলার যতটা আয় করা সম্ভব, তার চেয়ে অনেক কম পরিশ্রমে যৌনপেশায় অনেক বেশী রোজগার সম্ভব। কেবল আবেগ বিসর্জন দিয়ে, লৌকিকতাকে হজম করে, নিজেকে লজ্জা ঘেন্নার উর্ধ্বে নিয়ে যেতে হবে। প্রথম দিন, প্রথম বার, প্রথম কয়েক মিনিট শুধু লজ্জা বা দ্বিধাদ্বন্দ্ব, এরপর শুধুই অভ্যাস। বাকীটা পেশাগত সমস্যা, আপদ, বিপদ, জটিলতা। এখানে কোনো নীতি, কোনো নৈতিকতা, কোনো অবৈধতা, কোনো ভদ্রতা, কোনো নিষিদ্ধতা, কোন দায়বদ্ধটা নেই।

অধিকাংশ রূপজীবী সম্বন্ধে ওখানকার এক ‘মাসী’ বলেছিলেন- বাবারে, এখানে এসে এরা বেশ্যা হয়নি, বেশ্যা হয়ে তারপর এরা এখানে এসেছে। এ পাড়াতে আসার আগে কজনের সাথে শুয়েছিলো, সেটা বড় বিষয় নয়, একান্তই কুমারী মেয়েটিও মানসিকভাবে বেশ্যা না হলে স্বেচ্ছায় এখানে এসে পৌঁছাতে পারতনা। পৃথিবীর সব মহিলাই কারো না কারো সাথে শোয়, এটাই স্বাভাবিক। অনেকে একজনের সংসারে থেকে অন্য একাধিক পুরুষের সাথে শারীরিক সম্পর্ক রাখে, তারাও আসলে বেশ্যা, কিছু একটা কুযুক্তি খাঁড়া করে এই অবৈধ পাপকে ন্যায়সঙ্গত বানিয়ে নেয়। মহিলার বদলে তিনি ‘পুরুষ’ হলেও সত্য বদলায়না। আজকাল লিভইন কিম্বা বয়ফ্রেন্ড পালনের নামে অধিকাংশ মেয়েরা যতদিনে বিয়ের পিঁড়িতে পৌঁছায়, ততদিনে ‘আমার শরীর আমার অধিকার’ এই পশ্চিমা মন্ত্র জপে শতাধিক পুরুষের ইমানদণ্ডে সাওয়ার হয়ে ফেলে, এটাই এই প্রজন্মের সতী সাবিত্রীর সাত্ত্বিক সংজ্ঞা।

কেন এই বেশ্যাদের টানলাম আজ? কারন সুধীর চৌধুরী একটা পডকাস্ট। দেশজ মিডিয়া বেশ্যাদের এককালের মক্ষীরানী, এখন দালাল মাসি। আপনি উপরের গোটা লেখাটাতে ‘বেশ্যা’র স্থানে সাংবাদিক, আর পতিতাপল্লীর স্থানে ‘গোদি মিডিয়া’ পড়ুন, বাকী ১টা শব্দ আপনি পরিবর্তণ করতে পারবেননা, হুবহু মিলে যাবে ছত্রে ছত্রে। দেশজ মিডিয়ায় এরা কেউ পেটের দায়ে গদি মিডিয়া বা বেশ্যা মিডিয়া হয়নি, এরা ‘বাই চয়েস’ এটা হয়েছে। অযোগ্য সাংবাদিকেরা বিজেপির কাছে ‘লজ্জা ঘেন্না ইজ্জত’ বিক্রি করে, অর্থের বিনিময়ে বিকিয়ে গিয়ে সমাজে মিথ্যা, ঘৃণা, হিংসা, অপসংস্কৃতি, কুসংস্কার, বিদ্বেষ প্রচার করেছে- শুধুমাত্র যোগ্যতার বাইরে গিয়ে রোজগারের জন্য। এরাও আসলে সামাজিক বেশ্যাই, শুধু গোদি মিডিয়া নামের একটা সোনাগাছির রেড লাইট এরিয়া খুঁজে নিয়েছে, এটাই এদের একমাত্র সর্বোচ্চ পেশাগত নৈপুণ্য

এই মিডিয়া বেশ্যাদের অর্থের যোগান আসছে কোথা থেকে? জনগণের করের টাকায় সরকারে থাকা RSS- মিডিয়াকে নিজেদের ‘বাইজি’ বানিয়ে নিয়ে ইচ্ছামত নাচাচ্ছে। সেটা সরাসরি বিজেপি দলের মাধ্যমে হোক কিম্বা রাজ্যে রাজ্যে RSS এর বাফার রাজনৈতিক দল- যেমন তৃনমূল, নিতীশ, নবীন পট্টনায়ক কিম্বা আকালি দলের মত সরকারের মাধ্যমে ‘বেশ্যা’ মিডিয়াকে আর্থিকভাবে পুষ্ট করেছে। তৃণমূল বিজেপির মধ্যে কোনো সেটিং নেই, একে অন্যকে ছাপিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা আছে। কারন দুটো দলেরই মালিক এক, আলাদা আলাদা মঞ্চে আলাদা আলাদা ভাবে এরা অভিনয় করছে, ক্ষমতায় যে খুশি থাকুক- মালিক RSS এর উদ্দেশ্য সাধন হয়ে যাচ্ছে। একই ভাবে বিচার ব্যবস্থার একটা অংশকেও পতিতাদের মত লজ্জাহীন, নিকৃষ্টভাবে বিবস্ত্র করে ফেলেছে RSS এর সমাজবিজ্ঞানীরা। দিল্লি কেন্দ্রিক প্রিন্ট আর ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার সাথে, আমাদের বাংলার আনন্দ বা নিরানন্দ গ্রুপ কেউ কম যায়না, সকলেই এই ‘পতিতা’ মহাবিশ্বের অংশ। কেউ সোনাগাছিতে দোকান খুলেছে, তো কেউ কামাঠিপুরায়, কেউ জিবি রোডে; এটুকুই এদের ফারাক।

একটা সম্প্রদায়ের মানুষের সাথে কিছুদিন নিত্য বসবাস না করলে, তাদের সম্বন্ধে গভীরভাবে জানা সম্ভব নয়। নিগূঢ় পর্যবেক্ষণ করে এবং তাদের সামাজিক জীবনযাত্রায় অংশগ্রহণ করে শেখার মাধ্যমে, সামাজিক নৃবিজ্ঞানীরা তাদের রীতিনীতি এবং জীবনযাত্রাকে গভীরভাবে বর্ণনা করতে সক্ষম হন। সংস্কৃতি এবং সমাজের তুল্যমূল্য মিল এবং পার্থক্য অন্বেষণ করে, অন্যান্য ইতিহাসবিদ, সমাজ বিজ্ঞানী এবং দার্শনিকদের দেওয়া তথ্য উপাত্তের সাথে সাধারণীকরণ, একত্রীকরণ তথা সমাবেশ করে, অঙ্কের সুত্রে ফেলে, অর্থনীতির আঙিনাতে সমস্তটার প্রকৃতি বিশ্লেষণের মাধ্যমেই- সর্বোত্তমভাবে সেই সমাজকে ব্যাখ্যা করা সম্ভব।

প্রতিটি সমসাময়িক বিশ্বে সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক বিষয়গুলি সমাজ বিদ্যায় গভীরভাবে প্রভাব ফেলে। ইতিহাস থাকবে, কিন্তু সে ইতিহাসকে সঠিকভাবে ব্যাখ্যা করে, তার শিক্ষা গুলো সমাজে ছড়িয়ে দিতে গেলে সোশ্যাল ইঞ্জিয়ারিং একান্ত আবশ্যিক। আপনি সমাজবিজ্ঞানী, মনোবিজ্ঞানী, দার্শনিক যে খুশি হন, নৃতাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে পাওয়া তথ্য উপাত্ত ভিত্তিক অনুপ্রেরণা ছাড়া আপনি শ্রেণীর কাছে পৌঁছাতেই পারবেননা, পদ্ধতিটা আপনি জেনে বুঝে প্রয়োগ করুন, কিম্বা না জেনে বুঝে- দিনের শেষ পথ টাই

আমাদের বাংলার বামপন্থা রাজনীতি এখানে এসেই ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে, সমাজের সাথে যে এনারা কানেক্ট করতে পারছেন না, সেটাই এনাদের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের বোধের বাইরে। তাই মুখে শ্রেনী শ্রেনী করে মুখে ফেনা তুলে ফেললেও, শ্রেনী এদের যোগ্য মনে করছেনা, নিজেদের আওয়াজ মনে করছেনা। শুধুমাত্র সৎ হওয়া কোনো মাপকাঠি হতে পারেনা, নিজেদের ‘শিক্ষিত’ বোদ্ধা দাবী করলে সমাজের পিছিয়ে পরা মানুষটা বামেদের পিছনে এসে লাইন দেবেনা, এই সত্যিটা বুঝতে হবে। আর বুঝে সেই মত কর্মসূচী নিতে হবে, দীর্ঘমেয়াদী হলেও এই পথে সফলতা আসতে বাধ্য। নতুবা সমাজে রাজনৈতিক বেশ্যাদের রাজত্ব কায়েম করেই রাখবে পুঁজিবাদ, বিকল্পের সন্ধানে থাকা কমরেডদের গালভরা বিপ্লবী স্লোগানের আঁচে হাড়ির জল ফুটবেনা।

RSS খুব মোটা দাগে সোস্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং করেছে ভারতীয় সমাজের উপরে। প্রশান্ত কিশোরের আই-প্যাকও সোশ্যাল ইনঞ্জিয়ারিং-ই করছে, নাম যা খুশি দিক। গোবলয়ে যা খুশি হোক, আমাদের পশ্চিম বাংলাতে বিজেপি আসলে একটা কনসেপ্ট, কোথাও এদের সেভাবে কোনো মজবুত সংগঠন নেই। এদের নেতৃত্ব আছে, আর আছে ভোট। সংগঠন সবটাই RSS এর, তাই RSS এর মোকাবিলা কনসেপ্ট স্তরে না করতে পারলে বিজেপিকে থামানো যাবেনা। RSS যেখানে সরাসরি বিজেপিকে ঢোকাতে পারেনি, সেখানে একটা মুখোশ বা ‘বাফার’ দল তৈরি করেছে। কংগ্রেসের ভেঙে আসা অংশ অথবা তাদের লোভী নেতাদের দিয়ে ছোট ছোট ‘বাফার’ দল তৈরি করিয়েছে গোটা দেশ জুড়ে। কোথাও এর নাম তৃনমূল, কোথাও নীতিশ, কোথাও এই বাফারের নাম নবীন পট্টনায়ক। এদের দিয়ে কমিউনিষ্ট ও সোসালিষ্ট দলগুলোকে RSS আস্তে আস্তে খেয়ে নিয়েছে। বর্তমানে এক দশকের বেশী কেন্দ্রীয়ভাবে RSS রাষ্ট্রের ক্ষমতায় থাকার দরুন, বাফার দলগুলোর প্রয়োজন ফুরিয়েছে। ফলত, আজকে RSS নিজেই এদের গিলে নিয়ে তাদের মূল রাজনৈতিক দল বিজেপিকে সামনাসামনি নামিয়ে দিয়েছে।

RSS, বহুত্ববাদী পৌত্তলিক সনাতনীদের, একেশ্বর বাদীদের মত একটা রামের দিকে বেঁধে ফেলতে চাইছে। তাই তো এরা- কে কি খাবে, কে কি পড়বে, কে কি পরিধান করবে, কোথায় যাবে বা কোথায় যাবেনা, এই সব মৌলিক অধিকারে অনৈতিক হস্তক্ষেপ করছে। আজ থেকে ২০-৪০ বছর আগের গ্রামীণ ভারতীয় পৌত্তলিক সমাজে, তৎকালীন যে সনাতনী সামাজিক ধর্মীয় সংস্কৃতি ছিলো, তাকে প্রায় ৯০% খেয়ে ফেলেছে RSS বিজেপির প্রচারযন্ত্র। এইভাবে চললে আগামী তিন চার দশক পর হিন্দুত্বও একেশ্বরবাদী ধর্ম হিসাবেই পরিগনিত হবে, নতুবা বহু ভাষাভাষী ভারতকে একটা কমন প্রোগ্রাম দিয়ে তারা বাঁধতে পারবেনা। এই কারনেই কাকদ্বীপে মুর্তি ভাঙলে, সেটাকেই RSS ঈশ্যু বানিয়ে তুলছে- বিজেপি তৃনমূল বাইনারির মাঝেই যেন সমাজটা ডুবে থাকে। এটাই এদের সাফল্য।

RSS এর এই যাত্রা পথে, তাদের বিচারধারাকে তৃণমূল স্তর অবধি পৌঁছে দিতে- সবচেয়ে বেশী যোগদান রয়েছে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাথে সাথে বলিউডি সিনেমারআজকে দেখুন দুটোই অন্তিম শ্বাস নিচ্ছে, এরা জানে এরা কোন পাপটা করেছে, অর্থের বিনিময়ে একটা সমাজকে আড়াআড়ি ভাগ করে দিয়েছে শেষ তিনটে দশক ধরে। সাধারণ মানুষ এদের থেকে গণহারে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, বিজেপি সরকারের চেষ্টার অন্ত নেই এদের টিকিয়ে রাখার। সোস্যালমিডিয়াতে সরকারের সেভাবে কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই, আজকে সোস্যাল মিডিয়াতে একটা মিথ্যা প্রপাগান্ডামূলক প্রচার এলে, প্রায় সাথে সাথে তার পালটা চলে আসেযে কেউ তার জবাব দিতে পারেন, জনগন তার বিচারবুদ্ধি দিয়ে তুল্যমূল্য বিচার করতে পারে। কিন্তু সোস্যালমিডিয়া যুগের পূর্বে এই বিকৃত মিডিয়া আর সিনেমা- একতরফা আপনার আমার মনে বিদ্বেষের বিষ ঢুকিয়ে গেছে দিনের পর দিন। ঠিক আজ এই মুহুর্তে এরা সবকটা চ্যানেল ও সিনেমার মাধ্যম মরে গেলেও, এদের পাপ খন্ডন হবেনা। আগামী ৩০ বছর ধরে অন্তত ৩টে প্রজন্ম এই বিদ্বেষ, ঘৃণা বয়ে নিয়ে চলবে

বামেরা কেন এলো এই বেশ্যা মিডিয়ার আলাপে? আসলে ২০০৮ সালে কেন্দ্রীয় সরকারে উপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহারের পর থেকেই RSS বিজেপির এই উত্থানটা সম্ভব হয়েছে সরকারি প্রশাসনিক স্তরে। মনমোহন সরকারের উপরে ‘ওয়াচ ডগের’ যে ভূমিকাটা বামেরা রাখতো, সেটা সরে যাওয়া একটা ব্লান্ডার। এই ফাঁক গলেই দুর্নীতি আর দুর্নীতির ধুয়ো ধরে RSS বিজেপি- কংগ্রেসকে প্রতিস্থাপিত করে ফেলে। ফলাফল আজকের উন্মাদ ভক্তদের ভারতবর্ষ, মোদীর আতঙ্ককাল। স্বাধীনতা পররর্তী সময় থেকে তো বটেই, ৭০ বা ৯০ দশকের শ্রেণীর সাথে আজকের ২০২৫ এর শ্রেণী মন মানসিকতা বহু পার্থক্য এসে গেছে বিশেষ করে ইন্টারনেট সহজলভ্য হওয়ার পর জগৎ জুড়ে চাহিদা, যোগান আর অর্থনীতির মৌলিক সংজ্ঞা গুলোই ধাক্কা খেয়ে চলেছে প্রতিনিয়ত। সেখানে প্রতি আক্রমণের পদ্ধতি, হৃত জমি পুনরুদ্ধার আর গণতান্ত্রিক ভাবে বৈপ্লবিক পুনরাক্রমণ সম্ভব নয়- তথাকথিত কপিবুক স্টাইলের তাত্ত্বিক বাম পন্থায়। এই সামান্যতম ধারণাটাই সর্বোচ্চ নেতৃত্বের মধ্যে আসছে না, ফলে অজুহাত হতাশা বিলাপ আর দোষারোপের গণ্ডিতেই- তাদের বিপ্লব প্রতি বিপ্লবের যুদ্ধ আঁটকা পরে গেছে

মোদ্দাকথা, দেশের স্বার্থে বামেদের শক্তিশালী হওয়াটা অন্তত জরুরী, আর শক্তিশালী হতে গেলে প্রান্তিক মানুষের আস্থা ভরষা ফিরে পেতে হবে। বাৎসরিক ব্রিগেড নয়, রোজকার মিছিলে তাদের স্বতঃস্ফূর্ত যোগদান থাকতে হবে। তত্ত্বের কচকচি, ইতিহাসের দৃষ্টান্ত, পার্টির শৃঙ্খলা ইত্যাদি কপচিয়ে, টিভিতে বা সোস্যালমিডিয়াতে বোদ্ধা সেজে থাকলে, তা কেবল দেখতেই ভালো। খানিকটা আত্মরতির বাইরে- এতে না দলের, না দেশের, কারো জন্য মঙ্গল নেই। যদ্দিন এটা না হবে, ততদিন পুঁজিবাদ ঠিক একটা RSS বানিয়ে নেবে, জনগণের সম্পত্তি পাচার হয়ে যাবে, বেশ্যা মিডিয়া সেটাকেই দেশপ্রেম বলে প্রচার করবে। বর্তমান বাজারি মিডিয়া বেশ্যা, আর বেশ্যাদের থেকে স্বতন্ত্র দুরত্ব রক্ষা করাটাই ভদ্রসমাজের সৌন্দর্য। এই বিকৃত বেশ্যা মিডিয়ার বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক যুদ্ধ করাটা বামেদের দায়।

ইতিহাস সাক্ষী, হিংসার কারবারীদের অন্তিম পরিনিতি অতি ভয়াবহ, ইতিহাস খুলে দেখুন- নির্মম পরিনতি অপেক্ষা করছে তাদের জন্য। কিন্তু তার আগে আমাদের আরো কত প্রাণের বলিদান দিতে হবে, কত রক্ত গঙ্গা বইবে সেটাই জানিনা।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

তৃণমূলের প্ররোচনার ফাঁদে পা দেবেন না

⛔ সতর্কতামূলক পোষ্ট ⛔ আজ SIR এর ভোটারলিষ্ট বার হবার পর- জনরোষের দোহায় দিয়ে দিকে দিকে ‘সংগঠিত অশান্তি’ লাগাবার ‘ফুল প্ল্যান’ নিয়ে এগোচ্ছে শাা...