দুটো ভিডিও, একটাতে সেই বৃদ্ধ, যে মাননীয় প্রধান বিচারপতির দিকে জুতো তাক করে মেরেছে। দ্বিতীয়টি তার, যে ক্রমাগত উস্কানি দিয়ে যাচ্ছিলো এমনটা করার জন্য। উস্কানি অবশ্য সে একা দেয়নি, এর মত অন্তত ১০ জন আছে, যারা প্রকাশ্যে বিচারপতির বিরুদ্ধে হামলার কথা বলেছে।
উমর খালিদ বা গুলফিজার মত এরা মুসলমান নয়, নাহলে দেশের বিচারব্যবস্থা দেখিয়ে দিত তারা কতটা ক্ষমতাবান। আগামী ৫ বছর ধরে জেলে পচলে বাকিরা বুঝে যেত জুতো ছুটলে কী পরিনাম হয়, বিনা ট্রায়ালেই ৫ বছর কাবার। এরা হয় ডাইরেক্ট সঙ্ঘ পরিবারের বা তাদের ঘনিষ্ট, তাই বিচার ব্যবস্থার চোখে ঠুলি, শরীরে বাতের বেদনা, কানে জল, মেরুদণ্ডে পুঁইশাক, আর অন্ডকোষের নিরিখে বিচিহীন খাসি।
কদিন আগেই মাননীয় প্রধান বিচারপতির মা এর RSS সভায় অতিথি হিসাবে যাবার এক চরম আলোচনা উঠেছিলো। চতুর্দিকে ছিঃ ছিঃ রব, আম্বেদকর পন্থী বলে দাবী করা পরিবারের কেউ কীভাবে মনুবাদী সংগঠনের সভাতে যেতে পারে ইত্যাদি। বেগতিক বুঝে মূল অনুষ্ঠানের দিনের দিন সকালে মাননীয় 'মা' প্রোগ্রাম ক্যান্সিল করেন। এই হচ্ছে চুম্বকে গল্প।
আজকাল মোদীর ভারতে RSS যোগ ছাড়া কোনো পদ পাওয়া যাবেনা, সে বিচারপতি হোক বা আমলা কিম্বা উপাচার্য্য। সামান্য কেরানির চাকরিতেও অগ্রাধিকার RSS. সেখানে রঞ্জন গগৈ বা চন্দ্রচূড়ের মত নিকৃষ্ট মালগুলোর সাথে RSS এর ঘনিষ্ট যোগাযোগ প্রমানিত। এখন 'মা' এর যাওয়া নিয়ে বর্তমানের উপরে সরাসরি স্বয়ংসেবকের ছাপ পরে যাবার উপক্রম হয়েছিলো।
এটাকেই ধামাচাপা দিতে, বা চাক্ষুসভাবে RSS এর সংযোগ ফারাক দেখাতে- এই জুতো ছড়ার আয়োজন ছিলো কিনা কে জানে! তবে নাথুরাম গডসের সাথে এই বৃদ্ধের কোনো ফারাক নেই, জুতোর বদলে কেউ যদি বন্দুক তুলে দিতো উনি সেটাই ছুড়ত। RSS এর প্রতিটা শাখা সংগঠনে এই জুতো ছোড়াকে সেলিব্রেট করা হচ্ছে সোৎসাহে ইভেন্ট বানিয়ে। এই কারনেই RSS বিষাক্ত।
আর বিচার ব্যবস্থাকেও একটা কথাই বলার, এতো লুকচুরি কেন, আমরা রামভক্ত গোপালকে যেমন দেখছি তেমনই সঙ্ঘ ঘনিষ্ট বিচারপতির ঘরে অবৈধ টাকার পাহাড় পাওয়া গেলেও তাকে বুক ফুলিয়ে হাকিমগিরিও করতে দেখছি। এতো ঘোমটার দরকারটা কী, খ্যামটাই তো নাচছেন, প্রকাশ্যেই নাচুন।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন