আন্না হাজারে নামের RSS এর একটা খোঁচরের
নাম মনে আছে! লোকপাল নিয়ে মাথায় পাকস্থলীর দুষ্ট বায়ু মগজে তুলে ফেলেছিলো। মোদীর নেতৃত্বে RSS এর সরকার প্রতিষ্ঠার পর থেকে নিকৃষ্টটা শুধু গায়েবই হয়ে যায়নি, তার আশেপাশে ‘দেশ ও জনসেবা’র মুখোশ ধারী সবকটা ধান্দাবাজ ভিন্ন-ভিন্ন শাঁসালো
রাষ্ট্রীয় পদে আসীন হয়েছিলো। তাদের থেকে উপঢৌকন পেয়ে মহানন্দে 'ফুল অর্গাজম' লাইফ কাটাচ্ছে, ফলত ‘হাাজারের ব্যাজার নেই’। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বহু দুর্নীতি দেখেছে দেশের মানুষ, কিন্তু আন্না আন্দোলনের মতো এই ধরণের ধাপ্পাবাজি স্বাধীন
ভারতের ইতিহাসে প্রথম।
যে লোকপালকে নিয়ে
একটা সরকারই উলটে গেলো, বিজেপি তার প্রথম ৫ বছরের শাসনামলে বিষয়টাকে ছুঁয়েই দেখেনি। আন্নার কোনো কান্না কেউ শোনেনি,
কারন ততদিনে তার সাঙ্গোপাঙ্গো, যেমন, রামদেব, অরবিন্দ কেজরীওয়াল,
শান্তি ভূষণ, কিরণ বেদী, রাম জেঠমালানি, স্বামী অগ্নিবেশ, কর্নেল দেবেন্দর শেহরাওয়াত, সুনীতা গোদারা, হর্ষ মন্দার, দিল্লির আর্চবিশপ, বিচারপতি ডি. এস.
তেওয়াটিয়া, দেবেন্দর শর্মা, পিভি রাজগোপাল, ত্রিলোক শর্মা সহ অনেকেই তকখন রাষ্ট্রীয় ক্ষীর খেতে
ব্যস্ত। রামলীলা ময়দানের আন্দোলন ছিলো বিজেপিকে ক্ষমতায় আনার লড়াই, লোকপাল বা লোকায়ুত
ধাপ্পাবাজি ছিলো। স্বভাবতই, বিজেপি এই লোকপালকে শুধু নিষ্ক্রিয়ই করে রাখেনি, ২০১৯শে প্রবল চাপের মুখে চালু করলেও,
পরবর্তী ৬ বছরে এরা ঠিক কোন কাজটা করেছে কেউ জানেনা। তাই লোকপাল
আসলে ভোগপাল হয়ে গেছে। যেকোনো মূল্যে অবসরকালীন জীবনেও
কিছু আমলা আর বিচারপতিদের সরকারী ‘ভোগের’ বন্দোবস্ত করে দেওয়া। কিন্তু, আজ হঠাৎ এই ভোগপালেরা আলোচনায় এলো কেন! এরা
কোন এমন ভোগলীলা করলো?
নিম্নলিখিত এই চমন বাটপার কজনই হলো বর্তমান লোকপাল সদস্য, কেন্দ্রীয় সরকারের দুর্নীতি রোধ করার জন্য গঠিত একটি কর্তৃপক্ষ (ভোগ সর্বস্ব)। এনারা বেশিরভাগই
অবসরপ্রাপ্ত বিচারক বা আমলা বাবু।
- Justice AM
Khanwilkar
- Justice LN
Swamy
- Justice Sanjay
Yadav
- Sushil Chandra
- Justice RR
Awasthi
- Pankaj Kumar
- Ajay Tirkey
এনারা নিজেদের চড়ার জন্য সাতটি গাড়ির দরপত্র আহ্বান করেছে, এর জন্য ₹৭০ লক্ষ মূল্যের BMW 3 সিরিজ Li গাড়ি নির্দিষ্ট করা রয়েছে। এলেবেলে গাড়ি হলে হবেনা, BMW ছাড়া এনাদের গুহ্যদ্বার রাষ্ট্রীয় আসনে আসীন হওয়ার মত যথেষ্ট সম্মানের অভাব বোধ করছেন। কতবড় ব্যাভিচারি নির্লজ্জ হলে এমনটা করা সম্ভব
পাতি বাংলাতে, হারামের মাল আত্মসাৎ, সরকারি টাকার হরির লুঠ, এবং ভণ্ডামির একটি নিখুঁত উদাহরণ এই লোকপাল কমিটিটা। ভারত রাষ্ট্রের ‘প্রধান’ দুর্নীতি দমন তদারককারী হিসেবে কাজ করার কথা যাদের, তারা তাদের মূল কর্তব্য পালন ভুলে আয়েসি বিলাসিতায় লিপ্ত। এরপর এনাদের অতৃপ্ত বাসনা পূরণ করতে মুজরার জন্য লৌক্ষৌ স্টাইলে নবাবী মজলিস, রাতপরীদের নিয়ে মৌতাতের জন্য ‘ছামিয়া’র দরপত্র অর্ডার না করলেই সেটা আশ্চর্য হবে।
সাত সদস্যের জন্য প্রতি বিএমডব্লিউ গাড়িতে ৭০ লক্ষ টাকা খরচ করা সত্যিই যুক্তিযুক্ত বটে। যেখানে স্বঘোষিত প্রধান সেবক ১০ লাখী স্যুট পরিধান করেন- সেই দেশের নাগরিকদের কাছে ‘লোকপালের’ BMW না চড়াই বরং অপমানজনক। এই লোকপালের পদে পৌঁছাতে কম ঘুষ তো আর দিতে হয়নি, তারপর RSS এর পশ্চাদলেহন করতে হয়েছে! তাহলে আজ কেন ব্যক্তিগত আরাম, বিলাসিতা এবং জাগতিক সুখ ভোগ করবেনা তারা! দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের জবাবদিহি করার জন্য এই প্রতিষ্ঠান নামেই রয়েছে সাইনবোর্ড হিসাবে, আসলে প্রভুপাদ শ্রী শ্রী মোদী ও তার স্যাঙাৎ দের বিরুদ্ধে অভিযোগ এলে সেই প্রমান গুলোকে নষ্ট করা এদের মুখ্য কর্তব্য। বিজেপি ও RSS নেতাদের তস্করীয় ভোগ সর্বস্ব জীবনচর্যায় যাতে কোনো ধরণের নৈতিক স্খলনের না হয়, তার দিকে শ্যেনদৃষ্টি রাখাই ভোগপালেদের কাজ।
পরিসংখ্যান বলছে, বিগত পাঁচ
বছরে ৮,৭০৩টি অভিযোগের মধ্যে মাত্র ২৪টি
তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, আর তার মধ্যে হতে মাত্র ছয়টি তদন্ত মামলার মুখোমুখি হয়েছিল।
৯০% অভিযোগ কারিগরি বিষয়ের উপর দায় চাপিয়ে সেগুলো নথিবদ্ধ করতে প্রত্যাখ্যান করেছে মাননীয় ভোগপালেরা। করলে
বিচারপতি যশোবন্ত ভার্মার ঘরে ‘নগদ’ সুখ কী সম্পন্ন হতো? গিরিরাজ সিং এর স্ত্রীর সম্পদ
কীভাবে বৃদ্ধি পেতো! রীলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের Adler Industrial Services কোম্পানির
৭১৮% বৃদ্ধি হতো? ভোগপালরা ভোগ করবে, নাকি ফালতু ফালতু ‘অমৃতকালের মন্ত্রীদের’ বিরুদ্ধে
অভিযোগ নেবে, সুতরাং তদন্ত কোন গ্রহের বস্তু বটে!
‘মিলে সুর মেরা তুমহারা’
গান গাইতে গাইতে ‘অযোগ্য’ হয়েও পদে আসীন হওয়া এমন একটি
প্রতিষ্ঠান ন্যায়বিচার প্রদানের করবে শুনলে গাধায় হাসবে। ফলত, কর্মহীন ভোগপালের গোটা সিস্টেমটা আনুষ্ঠানিকতায় ধড়াচুড়োতেই অধিক আগ্রহী হিসাবে প্রমাণিত। কেন অযোগ্য, আসলে অবসরপ্রাপ্ত কিছু নাগপুরী গোয়ালঘরের নৈতিকতাহীন ব্যক্তি, যারা কর্মজীবনে RSS এর পক্ষে কাজ
করে গেছে,
তাদের একটা বিলাসবহুল বানপ্রস্থ দেওয়ার নাম লোকপালের মত কমিটিগুলো।
মমতা ব্যানার্জী যেমন শাঁওলি মিত্র, অপর্না সেন দের একটা করে এঁটোকাঁটা কমিটিতে ঢুকিয়ে
দিয়েছিলো সরকারি টাকা লুটে খাও প্রকল্পের অধীনে, বিজেপি আমলের লোকপালও তেমনই এঁটোকাঁটা
কমিটি।
জনসাধারণের আস্থার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে গেছে আন্না নামের পাপাচারীটা, এজ তার মুকখে কুলুপ- যেন চির মৌনব্রত পাল করছে। তাহলে আজকে এই ভোগপাল পোষার নামে করদাতাদের অর্থের এই অপচয় কী এমনি এমনি? আজ্ঞে না, তদন্ত করতে গেলে ঠগ বাছতে গাঁ উজার হয়ে যাবে, মোদী ও তার সরকারের সবকটা মন্ত্রী দুর্নীতির আখড়া, কাটমানির অবতার। এনাদের ঘনিষ্ট সবকটা আমলা, পুলিশকর্তা, অধিকাংশ বিচারপতিই ঘুষখোর ও দুর্নীতিবাজ। লোকপালেরা কখনও এদের বিপক্ষে একটাও টুঁ শব্দ করেছে! বরং প্রত্যেককে ছেড়ে রেখেছে, সেখানে সামান্য ৭০ লাখের গাড়ি চাওয়া কী খুব বেশী চাওয়া! অবসরপ্রাপ্ত বলে কী তারা করের টাকার হরির লুঠ আর চুরি থেকে বঞ্চিত থাকবে?
বিলাসবহুল গাড়ি প্রদর্শনের পরিবর্তে, লোকপাল সদস্যদের নিয়োগ
প্রক্রিয়া সংস্কার, অভিযোগের
গুরুত্ব অনুধাবন করে সেটাকে দক্ষতার সাথে তদন্ত করা এবং বিশ্বাসযোগ্যতা
পুনরুদ্ধারের দিকে মনোনিবেশ- অন্তত
মোদী সরকারের জামানাতে হবেনা।
করলে নিজের রাজত্বেই সবকটার হাজতবাস নিশ্চিত। দেশের সর্বোচ্চ বিচারব্যবস্থা যেখানে
আস্থার ভিত্তিতে রামমন্দিরের রায় দেয়, বিনা বিচারে উমর খালিদরা জেলে পচে, ধৃতরাষ্ট্র সেজে বিচারপতিরা বিচারের প্রতীক অন্ধ নারীটার রজঃস্রাবের ন্যাকড়া নিজেদের চোখে বেঁধে রাখে; সেখানে এই বেজন্মার বাচ্চা ভোগপাল গুলো যে দুর্নীতি দমন সংস্থার মাথায় বসে
জবাবদিহিতার পরিবর্তে চুরিই করবে, এতে আর আশ্চর্য কোথায়।
এটাই মোদীর আতঙ্ককাল। মোদী হ্যায় তো মুমকিন হ্যায়।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন