বুধবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৫

শুন্য পকেটের তৃপ্তি


স্কুল জীবনে বন্ধুদের সাথে কাড়াকাড়ি করে আলু কাবলি খাওয়া, আর চালসের কোঠায় ঢুকে যাওয়া হাফ বুড়ো বয়সের জীবনের আলুকাবলির স্বাদ কখনই এক নয়। শুধু স্বাদই বা কেন, উৎসাহ আর আনন্দের মাঝেও আকাশ পাতাল তফাৎ। ছোটোবেলায় কখনই হাতে টাকা থাকতনা, দিনে বড়জোড় আটআনা পাওয়া যেতো চেয়েচিন্তে, উৎসবে অথিতিদের দেওয়া উপহার দরুন টাকা আর সময় সুযোগ বুঝে মায়ের কৌটো থেকে চুরি, এটিই ছিলো সাময়িক আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্যের একমাত্র উৎস।

ইস্কুলের সামনে নারান ঘুগনি, বিলাতি আমড়া, টোপা কুল, কদবেল, কামরাঙ্গা এইসব বেচতো। একটু দূরে হরণ দাদু বেচতো আলুকাবলি, এদিকে মেয়েদের ভিড় তুলনামূলক কম হওয়াতে আমরা আজন্ম হা-ঘরের দল সেখানে সকলের পুঁজি যোগ করে আলুকাবলি কিনতাম। সেই পুঁজি কখনই দেড় টাকা ক্রশ করেনি, কারন আমি, গৌরাঙ্গ বা প্রদীপ গরীব ছিলাম, বাকি ৩-৪ জন ছিলো নিঃশ্ব। সেই আলুকাবলির উপরে কাঁচা ছোলা ছড়িয়ে দিতো, ছোট বকুলতলার ছায়াতে বসে আমরা কী যে পরম তৃপ্তিতে ওই টুকু পরিমান ৬-৭ জন ভাগ করে খেতাম তা আজ ভাবলে কেমন একটা মিশ্র ভাললাগার অনুভুতি কাজ করে। আমিনিয়া বা করিমসে বসে একটা ডিনারে ৬০০০ উড়িয়েও আজকাল সেই সুখকর পরিতৃপ্তি আসেনা।

আমাদের ছেলেবেলাতে ঘর থেকে টিফিন নিয়ে যাবার আয়েসি বড়লোকি আনা ছিলোনা। একান্নবর্তী সংসারে মা কাকিমারা দম ফেলার ফুরসৎ পেতোনা হেঁসেল থেকে, তার উপরে ঠাকমার চোখ এড়িয়ে আলাদা কিছু বানাবার সাহস টুকুও মায়েদের ছিলোনা। তাই দুই চার আনার পুঁজিতে ইস্কুলের বাইরের ওই ফেরিওয়ালারাই ছিলো আমাদের টিফিনবেলার আপনজন।

এক সময় কত স্বপ্ন দেখতাম, বড় হয়ে ঘুগনিওয়ালা হবো। নিজের হাঁড়ি হাঁড়ি ঘুগনি থাকবে, যা বিক্রি হবে হবে, নাহলে আমিই খেয়ে নেবো, কিছুটা বোন আর বন্ধুদের দিয়ে।

তবে সেই ঘুগনিওয়ালা না হলেও, হোটেলের ব্যবসার সুত্রে প্রায় প্রতিটা হোটেলেই ব্রেকফাস্টে লুচির সাথে সপ্তাহে ৩ দিন ঘুগনি হয় বটে, কিন্তু সেই হাঁড়ি ধরে সবটা খাওয়ার বাসনাটা আজ হারিয়ে গেছে।

আজকের আলুকাবলিটা মা বানিয়েছেন। ডায়াবিটিসের জন্য নানান বিধিনিষেধ, তবুও এই সান্ধ্য আলো আঁধারিতে আলুকাবলির পথ বেয়ে ইস্কুলের দিনগুলোতে ফিরে যেতে একটু নাহয় অনিয়মই করলাম-

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

তৃণমূলের প্ররোচনার ফাঁদে পা দেবেন না

⛔ সতর্কতামূলক পোষ্ট ⛔ আজ SIR এর ভোটারলিষ্ট বার হবার পর- জনরোষের দোহায় দিয়ে দিকে দিকে ‘সংগঠিত অশান্তি’ লাগাবার ‘ফুল প্ল্যান’ নিয়ে এগোচ্ছে শাা...