বুধবার, ১ অক্টোবর, ২০২৫

খুঁজে চলেছি একটা ভাঙ্গা হৃদয়


আমি প্রতিবার ভেঙ্গে যাওয়া একটা হৃদয় খুঁজেছি। যতবার পেয়েছি ততবার নুঁড়ি পাথরের মতো বহু যত্নে আদরে ভালোবাসায় ধূলি মাখা ক্ষত-বিক্ষত হৃদয়টাকে কুড়িয়ে এনে আমার হৃদয়ের ঝুড়িতে জায়গা দিয়েছি। আমি জানি ভেঙ্গে যাওয়া একটা হৃদয়ের বিধ্বস্ততা কতটুকু, কতটুকু অপূর্ণতায় ঘিরে থাকে সকল কিছু। কিভাবে নিঃশব্দে বুকের পাজরগুলো ভেঙ্গে পড়ে অদৃশ্য মায়া জালে আটকে থেকে কিভাবে রাতের আঁধারে চোখের অশ্রু ঝরায়। কিভাবে সমস্ত বিষক্রিয়া হৃদয়ে ধারণ করে হাসি মুখে নিজের অভিনয়টা চালিয়ে যায় প্রতিনিয়ত

প্রতিদিনের ভিজে থাকা কান্না মাখা জীবন পাতার ডায়েরিটা স্নেহ মমতা ভালোবাসা দিয়ে একটু একটু করে জুড়েছি রোজ। ক্ষত-বিক্ষত হৃদয়টা প্রতিনিয়ত শুকিয়ে দিয়েছি পরম ঘেন্নায় কিন্ত যত্নের সাথে। ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে থাকা জীবন আরশির গল্পটা নিয়ে কখনো কবিতা কখনো গান অথবা আস্ত একটি উপন্যাস রচনা করেছি। পরিপূর্ণ ভাবে একটা জীবন্ত জীবন সাজিয়ে দেব তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছি নিজেকে। সম্পূর্ণ একটি গল্প রচনা হবার পর একে একে সবাই আমাকে ছেড়ে গিয়েছিল, তাই আজও সম্পর্কের হিসেব মিলাতে গিয়ে যগে ভুল করি প্রতি লাইনে।

জীবনের প্রতি একটা অলস নিঃস্বার্থ ভালোবাসায় মুগ্ধ হয়ে বন্ধুর মতো পাশে থাকার অঙ্গীকার অনেকেই করেছে, বিনিময়ে কেউ কথা রাখতে পারেনি। আমার নমনীয়তায় এতোটাই মুগ্ধ হয়েছে যে বন্ধুত্বের পোশাকে থেকে ভালোবাসার নতুন রূপে আঁকড়ে থাকতে চেয়েছে। কিন্তু সময়ের স্রোতের বাঁকে সম্মান আর বিশ্বাস ধরে রাখতে যতটুকু ত্যাগ প্রয়োজন তা না করে নীরবে হারিয়ে গেছে তারা

আমরা সবাই সফররত অবস্থায় রয়েছি, প্রত্যেকের গন্তব্য আলাদা কিন্তু জীবনের চলচিত্রে কার কারো উপস্থিতি ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ, নিজের অস্তিত্বের মতই সমান্তরালেএটাই আসল জীবন যাত্রা শৈশব থেকে শুরু করে বয়স্ক লজ্জ্বরে বৃদ্ধদশা অবধি ক্রমাগত বিচ্ছেদকে গুণে যাওয়া ও তাদেরকে ভুলে যাওয়া সহ্য করাই এই যাত্রার মূল প্রতিপাদ্য, যাকে কোনোভাবে উপেক্ষা করার উপায় নেই।

আমি দেখেছি মুখে মিথ্যে হাসি নিয়ে ভালো থাকার অভিনয় করা মানুষের মিছিল, অজস্র সহস্র মানুষ এই শহরে মুখোশের আড়ালে নিজেকে লুকিয়ে রেখেছে। মুখোশ খুলে গেলে এক নিমিষেই হারিয়ে যেতে পারে, হারিয়ে যাবে তাকে ঘিরে গড়ে উঠা শত সহস্র স্বপ্ন, মিথ্যে আশার বহর। নিরাশার বালিচরে অযত্নে গড়াগড়ি খাওয়া কত মৃত স্বপ্নেরা স্থির চোখে ঝিকমিক করা তারার আলোর দিকে চেয়ে থাকে, যে তারাটা কত শত আলোকবর্ষ দূরে মৃত হয়ে হারিয়ে গেছে কোনো কৃষ্ণগহ্বরে। বিশ্রী অন্ধকার কুপে মিথ্যাই কেবল শান্তি, একটু বেঁচে থাকার সুখ পেতে। চলমান নাটকের ভিড়ে হারিয়ে লুকাবো নাকি লুকিয়ে হারাবো– সারাক্ষণ এরই দ্বন্দ্ব।

অতীত নিয়ে গর্ব নেই, অনুশোচনা আছে, প্রগাঢ় রয়েছে। তারপরেও আমি নিজেকে দেখি, আমি কীভাবে এগিয়ে যাচ্ছি কঠোর পরিশ্রমে কাকে পেতে কে জানে! কোনও যাত্রাই দর্পহীন হয়না, প্রতিটিথেই স্পর্ধার বাঁধা অতিক্রম করতে হয় কখনও বুঝে করি, অধিকাংশ সময় করে বুঝি। হাল ছেড়ে দেওয়ার প্রাক মুহুর্তে আবার অভ্যাসে ফিরে আসি অধ্যবসায়ের গুণে।

কেউ বা দুটো হাত এক করে সারজীবন পাশাপাশি থেকে আগামীর পথ চলার অঙ্গীকার করতে চেয়েছে। আবার কেউ নষ্টামি করতে না পারায়- মিথ্যে অপবাদ দিয়ে দূরে সরে গিয়েছেঅথচ আমি ভালোবাসাময় একটা পরিপূর্ণ পৃথিবী সাজাতে চেয়েছিলাম। যেখানে হৃদয় ভাঙ্গার আর্ত চিৎকার থাকবেনা, থাকবেনা আকাশে বাতাসে অভিশাপের দীর্ঘশ্বাস। থাকবে না কোন একাকিত্ব আর নিঃসঙ্গতা, শুধুই পূর্ণতায় ঘিরে হৃদয়ের মেলা বসবে

কিন্তু তা হয়নি, সবাই শুধু স্বার্থের টানে ভালোবেসে কাছে পেতে চেয়েছে নিজেদের মতো করেআসলে কারো হৃদয়ের টান ছিলো না, তারা শুধু অভিনয় করে গেছে ভাঙ্গা-গড়ার মিথ্যা খেলায়কেউ কখনো জানতে চায়নি- আমি কেমন আছি! আমি কী চায়! আমার হৃদয়ের কোনো পাড় ভেঙ্গে পরেছে, কোন পাড় কষ্টের আঘাতে জীর্ণ? কেউ জানতে চাইনি আমি কখনো রাতের আঁধারে হারিয়ে যায় কিনা একাকিত্বের নীরব কোনো অভিশাপে! কেউ আমার প্রাণের, আমার শ্বাসের খোঁজ রাখেনি যা নিঃশব্দে ধুঁকে চলেছে

এটা অনিবার্য সত্য আমি সারাজীবন ধরে কেবল খারাপ সিদ্ধান্ত নিয়েছিনিশ্চিত তাতে অনেকের ক্ষতিও করে থাকতে পারি, প্রতিটি সিদ্ধান্তই এমন একটি বোবা প্রান্তে গিয়ে শেষ হয়েছিল, যেখান থেকে আর ফেরা যায়না, শুধু আমরা শিখতে পারি। প্রতিটি সিদ্ধান্তই অবস্থানের পরিপ্রেক্ষিতে আপেক্ষিক, যদি ভিন্ন সিদ্ধান্ত নিতাম- আমি কী ভিন্ন ব্যক্তি হয়ে যেতাম? আজ আমি যা কিছু সমস্তটাই সেই অতীতের সিদ্ধান্তের জন্য, এর জন্য গর্বিত হতে বাঁধা থাকলেও লজ্জিত হবার উপায় নেই। ওগুলোই মাকে আজকের ব্যক্তিতে পরিণত করেছে।

তবুও আমি সর্বময় খুঁজেছি একটা ভাঙ্গা হৃদয়, যে আমারি মতো করে আমাকে নিজে বাঁচবে শুধু আমাকে একটু একটু করে আবিষ্কারর করবে আমার চোখের ভাষায়,  আমার ভালবাসা মেপে নেবে রাগের উষ্ণতাতে, নিজেকে বেঁধে নেবে আমার শাসনের ব্যাঞ্জনায়। না পাওয়ার অতৃপ্তি গুলোকে ঢেকে দেবে সোহাগে আবদারে, হাসি মুখে মিটিয়ে দিবে আমার সকল অপূর্তাগুলো। দুটো প্রাণের একটা সংসার হবে, নিভৃতে- শত কোলাহল, শত অভিযোগ, শত দূরত্বের ব্যবধানে থেকেও জুড়ে থাকবে সর্বক্ষণ আলাদা অস্তিত্ব নিয়ে সপ্রতিভ ভাবে।

নিশ্চিত প্রতিটি চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে, প্রতিবার নিজেকে উন্নত করেছি। চুপচাপ বসে অঙ্ক মেলাতে থাকি, দূরে মানুষগুলো আমাকে ঠকায়নি, বাইরের কেউ প্রতারিত করেনি। তারপরেও আমি আপন খুঁজে ফিরছি ইতিবাচক গর্বের সাথে। কারো চোখে এটা আবার ভুল, কারো ভাবনাতে বিতর্কিত- কিন্তু কোটোটাই কী যুক্তিসঙ্গত? আমার যে যাত্রা, সেখানে নানা জনের নানান ভূমিকা, কিন্তু আমার ডুবে ডুবে ভেসে চলা নোৌকার হাল কী ধরবে সেই সমালোচকেরা, সকলের ভূমিকাই যে নির্দিষ্ট।

আজকাল কষ্টের পরিভাষা বদলে গেছে, দৈন্য দুর্দশা কিম্বা অসচ্ছলতা মুখোমুখি হলে গর্বিত হই- এগুলো ততটাও সংগ্রামময় নয় যতটা বিচ্ছেদের পাঁজর ভাঙা যন্ত্রণা। জীবনের কঠিন সময়গুলোর সীমারেখাও ক্রমশ সীমানা বদলে ফেলেছে, আজকাল আর পরাজিত হতে ভয় পায়না, না মরে আজ বেঁচে থাকাটাই আসল চ্যালেঞ্জ

 

তাই আমি-

প্রতিনিয়ত খুঁজে চলেছি একটা ভাঙ্গা হৃদয়।

যে শুধু আমার হবে আমার মতো করে ।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

তৃণমূলের প্ররোচনার ফাঁদে পা দেবেন না

⛔ সতর্কতামূলক পোষ্ট ⛔ আজ SIR এর ভোটারলিষ্ট বার হবার পর- জনরোষের দোহায় দিয়ে দিকে দিকে ‘সংগঠিত অশান্তি’ লাগাবার ‘ফুল প্ল্যান’ নিয়ে এগোচ্ছে শাা...