“২০২৬ এ সিপিএম অষ্টম বামফ্রন্ট সরকার গড়বে- দেখা মাত্র শেয়ার করুন”
এই মেসেজটি ১১ জনকে শেয়ার করুন। আগামি ৭২ ঘন্টার মধ্যেই একটা সুসংবাদ পাবেন, ২৯ বছর ধরে ফ্রন্টের চেয়ারম্যান থাকা কমরেড বোসের গ্যারান্টি।
মেদনীপুরের জনৈক সৌরভ নন্দী নামের একজন শিক্ষক, এটা মিথ্যাপ্রচার মনে করেছিল, গতকাল সন্ধ্যায় হঠাৎ শিরদাঁড়ার নিচে ব্যাথা অনুভব হওয়াতে, তার পরিবারের লোকজন ডাঃ নির্মল মাজির কাছে গেলে ডাক্তারবাবু বলেন - সৌরভের লেজ গজিয়েছে। গোবরডাঙার জনৈক চক্রবর্তী বাবু এক মহিলার দেওয়া প্যান্ডেলের ছবিতে কমেন্ট করতে গিয়ে- বুর্জ খলিফার স্থানে ‘মিয়া খলিফার মত লাগছে’ লিখে ফেলায়, গত ২ দিনে ৩ বার খাপ বসেছে।
আরেক জন হুগলি জেলার নয়ন কাকু বলে এক ব্যাক্তিও এটা মিথ্যা মনে করেছিল। স্যান্ডি সাহা ওনাকে ক্রমাগত প্রেমের প্রস্তাব পাঠাচ্ছে। উনি বর্তমানে করণ জোহরের ঠিকানা খুঁজছেন প্রতিকারের আশাতে। উত্তরপাড়া নিবাসী ইন্দ্রনীল মন্ডল নামের এক কায়স্ত পুরুষ বিষয়টা নিয়ে স্ত্রীর সাথে ঠাট্টা করেছিলো রাত্রে। পরদিন শ্বশুরবাড়ির যাত্রা কালে লোকল ট্রেনে চড়তেই তার এমন জোরে প্রকৃতির ডাক আসে যে, পান্ডুয়া গামী ট্রেন তালান্ডুতে থামার আগেই প্রায় চলন্ত ট্রেন থেকে হুমড়ি খেয়ে নেমে, দৌড়ে ‘বড় বাইরে’ করে মানে বেঁচেছে।
মুর্শিদাবাদের মোমিন
নামের এক দুধেল গাই, হো হো করে হেসে ধুপের ধোয়ার সাথে বিষয়টিকে উড়িয়ে দিয়েছিলো। সকালে
ঘুম থেকে উঠা ইস্তক হেঁচকির সাথে শুধু ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি বের হচ্ছে, ডাক্তারে বলেছে
সেলাইনের পাইপ দিয়ে শরীরে গো-চোনা না পাঠালে কোনো আশা নেই। ক্যানিং এর এক অন্ধ দিদিভক্ত
আব্দুল এটাকে নিয়ে ফেসবুকে মিম ছেড়েছিলো, সে নাকি কুমির হয়ে নদীতে ভেসে বেড়াচ্ছে, কয়েকটা
ইউটিউবার সাংবাদিক ও ট্রাভেল ব্লগারের ক্যামেরাতে সেই অলীক দৃশ্য ধরাও পরেছে। যদিও
নিন্দুকে তাকে টাকার কুমির বলত পিঠপিছে।
ঠাকুরপুকুরের নাস্তিক সরকারি চাকুরে সুব্রত মণ্ডল নামের এক অবিশ্বাসীর জীবনের ঘটনা আরো বড় করুণ, তিনিও
অবিশ্বাস করেছিলেন, ব্যাস- প্রাক্তন কলেজ লাইফের প্রেমিকা, তার একগন্ডা আন্ডাবাচ্চা সহ সেই পুরাতন প্রেমিক সুব্রত বাবুর
বাড়ির নিচতলায় এসে ধর্ণা জুড়েছে- ‘প্রেম আমার ফিরিয়ে দাও’ প্ল্যাকার্ড সহ।
শামিম নামের এক কবি, সুবোধ কবির মত দারুন কবিতা লিখত।
আজ সেই কবিতাই শাপগ্রস্থ হয়ে, রঞ্জন বাঁড়ুজ্জের
মত ‘রানুর প্রেমের রক্ত ও ভানু’ শীর্ষক- সেমি পানু চটি-লেখা লিখেই ক্ষান্ত হয়নি, ফেসবুকে পোষ্ট করেও ফেলেছে। বলাই বাহুল্য, সে ও চুরান্ত
অবিশ্বাসীর দলেই ছিল।
বিখ্যাত কমিউনিস্ট ষাঠোর্ধ হালদার মশাই, এর বিপক্ষে প্রচার করার দরুন- কেশবভবন থেকে তার ডাক পেয়েছে দেশপ্রেমিক কোঠায়, এছাড়া বাজারে গুঞ্জন- রাজন্যা নামে তার একটি নাতনি জন্মেছে। ওদিকে বর্ধমান জেলার বর্ধিষ্ণু স্বাস্থের অধিকারী তন্ময় হক নামের এক অত্যন্ত আস্তিক ও স্বাত্বিক মানুষ, ভীষন নিষ্ঠা ভরে ১১ জনকে শেয়ার করতেই, শবনম তালুকদার নাম্নী এক অতি কৃপণ মহিলা- হক বাবুকে বাড়িতে বিরিয়ানির নিমন্ত্রণ দিয়েছে। আরেক বর্ধমান নিবাসি জমিদার- ‘তা’ বাবুও তাচ্ছিল্যের সাথে এটাকে অবিশ্বাস করেছিলো, পরদিন সকালে তাকে খুঁজে না পাওয়া গেলে, তার স্ত্রী নিকটবর্তী পুলিশ স্টেশনে নিখোঁজের বিজ্ঞপ্তি দায়ের করেন। শেষে মায়াপুরের এক মঠে তিলক কাটা বৈষ্ণব রূপে একটা গোশালায়- একটা নৃত্যরত গরুর পিঠে হাত বুলিয়ে উচ্চরক্তচাপের নিরাময় করতে দেখা গেছে তা-কে।
মারাঠা প্রদেশ নিবাসী এক ব্রাহ্মণ সন্তান প্রদীপ তুলশীতলা, বিষয়টিকে তাচ্ছিল্য করাতে সদ্য খেয়ে উঠা বিরিয়ানি দু’দু বার বমি করে ফেলে, গত রাত্রের এক বিয়ে বাড়িতে খাওয়া
খাসির চর্বিও উঠিয়ে ফেলাতে বিষয়টা লোকসানের খাতে চলে যায়।
তৎক্ষনাৎ সদবুদ্ধির উদয় হওয়াতে, মেসেজ করব বলে শুধু মনস্থির করেছিল। দু’ঘন্টার মধ্যে চারটে বিয়েবাড়ির নিমন্ত্রণ এসেছে, যেখানে বুফে সিস্টেমে খাওয়া দাওয়া হবে।
তাই দয়া করে কেউ ম্যাসেজ সেন্ড না করে, আমেন/জয় বাংলা না লিখে এড়িয়ে যাবেন না!
প্রচারেঃ ‘ভক্ত’ ছাপ বাম্বাচ্চার দল।
সহযোগিতাতেঃ আমার মত বঞ্চিত বাঞ্চোতের দল।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন