মঙ্গলবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

।। দুঃখ বিলাস ।।


সকলেই সুখে থাকতে চান, যে কোন মুল্যে। কিন্তু সকলে সুখের সাগরে ভেষে, তার উদযাপন নাও করতে পারেন, কল্পিত দুঃখের মানে নিজেকে সযত্নে লালন করে তার মাঝে জীবনের সারবত্তা খুঁজে ফেরেন বহুজনেই।

জগতে কিছু মানুষ আছেন, যারা অত্যন্ত পেশাদারি ঘরাণাতে দু:খ বিলাস যাপন করেন, সুখের নিমিত্তে।

আমার মতে তাদের যোগ্যোতা, ও ভাগ্যগুন বা ইশ্বর/আল্লার আশির্বাদেই বলুন, সুস্থভাবে বেঁচেথাকার জন্য একটা নির্দিষ্ট রোজগারের সাম্মানিক পেশা যাদের রয়েছে, তারাই মূলত এই বিলাসযাপনটা করেন। আপনারাও খেয়াল করে দেখবেন, বুঝবেন এরাই তারা।

পেটে টান পরলে বিলাসিতা জানালা দিয়ে পালায়।

এনারা ভুলে যায়, যে পৃথিবীতে কতশত মানুষ প্রতিনিয়ত ক্ষুধার জন্য কতটা বিকিয়ে দিচ্ছে নিজেকে, প্রতিমুহুর্তে কত শত আপোষ শুধু বাঁচবে বলে।

একজন বেশ্যা.......
সে কারো মেয়ে, কারো বোন, কারো স্ত্রী, কারো মা....
কতটা নির্মম পরিস্থিতি হলে, তিনি তার শরীর বেচেন!! ব্যাতিক্রমি দুশ্চারিণী দু একজন অবশ্যই থাকে, কিন্তু অধিকাংশই পেটের টানে বা দ্বিতীয় উপায়ান্তর না থাকার দরুন এই আদিম পেশার শিকার। প্রতিটি মানুষ তার নিজের শরীরটা সংরক্ষিত রাখে তার একান্ত মনের মানুষকে উপহার দেবার জন্য, কেও কতটা অসহায় হলে সেই একান্ত নিজের শরীরটি কিছু যৌনক্ষুধিত মানুষের সামনে নিজেকে নগ্ন করেন, সামান্য অর্থের বিনিময়ে। এটা একটা উদাহরণ দিলাম বেশ্যবৃত্তি দিয়ে, এমন অনেক পেশা আছে পৃথিবীতে। অনেক মানুষ ডাষ্টবিন থেকে খাবার খুঁটে খান....
বেঁচে থাকার জন্য...

এনাদের জীবনটা দু:খ দুর্দশার পাঁকে ডুবে থাকলেও দু:খ নিয়ে কোন বিলাস নেই। এরা বেঁচে থাকেন বাঁচার আনন্দে। রাশি রাশি দু:খ যন্ত্রনার বিনিময়ে কেনা সামান্যটুকু সুখ নিয়েই আগামীর জন্য স্বপ্ন দেখেন।ওই মানুষগুলোর আর্থিক অনটন নেই, তাই দুঃখটাকে বিলাসের পর্যায়ে নামাতে পেরেছেন।

ইচ্ছাশক্তি দ্বারা বহুকিছুই সম্ভব। এটা ধর্ম থেকে বিজ্ঞান সবক্ষেত্রেই প্রমানিত। তাই যারা এমন ধরনের বিলাস করেন তারা আসলে একটা নেশার ঘোরে ডুবে থাকেন। তাই সময়েন নিয়মে সুখ যদি জীবনে আসার চেষ্টাও করে, এনারা তাদের ওই ইচ্ছাশক্তির গুনে ওই সুখকেও দুঃখের নদীতে পরিণত করেই ছারবে, যে কোন মুল্যে। এই ধরনের মানুষদের মনে একটা প্রচ্ছন্ন অহংকার থাকে, যে তিনি যেটা করছেন সেটাই একমাত্র ঠিক, বাকি সবাই ভুল। সকল সময় একটা তীব্র ঋণাত্মক জীবনীশক্তি দিয়ে নিজের বলয় তৈরি করে রাখে, সেই বলয় কে টপকে অন্য কেও সুখ নিয়ে তার জীবনে প্রবেশই করতেই পারেনা। এমনও হয় যে, ওই বলয় ভেদকরা একসময় তার নিজের পক্ষেই দুঢ়হ হয়ে যায়।

ঘিরে ধরে নির্মম একাকিত্ব। সামাজিক ও মানসিক দুই জগতেই। তার নিজশ্ব মেকি বিচারবুদ্ধি দিয়ে গড়া পৃথিবী, শ্বাস নেওয়ার অযোগ্য হয়ে যায়। তখন মৃত্যুর শীতল যন্ত্রণা থেকেও বেঁচে থাকাটা আরো বেশি বিভীষিকা মনে হয়।

সমাজের নিন্মবৃত্ত পরিবারের ছেলেমেয়ের মাঝে এই ধরনের রোগের ব্যাকটেরিয়ার প্রাদুর্ভাব থাকেনা মোটেই, আবার যাদের জীবন পেশাগত ক্ষেত্রে অকৃতকার্যে ভরা, তারাও এই বিলাস করতে অক্ষম, কারন ভবিষ্যতের ভয়াল কল্পনা তাদের বিলাস করার সময়টুকু দেয়না। এটা করে মুলত মধ্যবিত্ত সমাজের আর্থিকভাবে স্বচ্ছল স্বাবলম্বী কিছু মানুষ, আর উচ্চবিত্ত ও হাতে কাজ না থাকা মানুষের দল, যাদের জীবনে বস্তুসুখের কোন অভাব নেই। মোটকথা, খেয়েপরে একটা সময়ের পর যখন জীবন লক্ষ্যহীন হয়ে যায় তখনই এমন বিচিত্র বিলাসের সূচনা।

হ্যাঁ, আপনাকেই বলছি। যদি মনেহয় আপনি সেই মানুষটা যাদের কথা উপরে লিখলাম, তাহলে বলি আপনি ভীষন ভীষন আর ভীষন ভাবে অসুস্থ, শারীরিক মানসিক দুভাবেই। আপনি কাউন্সিলিং করান, জীবনের মজা নিন। প্রেম করুন, আনন্দ করুন, দিনে একঘন্টা প্রান খুলে হাসুন। কোন মৌলিক, সামাজিক কর্ম বা নিজেকে কোন শিল্পকর্মের মাঝে নিয়োজিত করুন। দেখবেন জীবনকে অনেক স্বচ্ছ মনে হবে।

জীবনটা আপনার, তাই আপনিই জানেন কি পরিমাণ চড়াই উতরাই পেরিয়ে আপনি আজকের দিনে পৌঁছেছেন। আপনার জীবনটা কারো দয়ার দান নয় যে লুটের ভাগের মত, সময়ের সিড়িতে নিজেকে নিচের দিকে গড়িয়ে দেবেন, দিলে নিজেই আঘাতপ্রাপ্ত হবেন, অন্যেরা মজা দেখবেন। আপনি দু;খ উপভোগ করছেন, অন্যে আপনাকে দেখে বিনোদন প্রাপ্ত হবে। জীবন যদি শোনপাপড়ি হয় তাহলে কেবল তার গঠনগত ফোলানো ফাঁপানো আয়তন আর জটিলটার দিকে দৃষ্টিপাত করে, যন্ত্রনাক্লিষ্ট হয়ে কি লাভ! কার লাভ? বরং সেই সোনপাপড়ির মিষ্টতা নিন চুটিয়ে।

দেখুন প্রত্যেকের জীবনেই তার নিজের নিজের মতন করে দারুন দারুন জটিল সমস্যা আছে। যার জীবনের যতটা ব্যাপ্তি, তার যন্ত্রনা ততটাই বেশি থাকে। সফল ব্যাক্তিদের সফলতার আলোকে ব্যার্থতা চাপা পরে যায়, আর ব্যার্থ মানুষের ব্যার্থতাতে, মানুষটাই চাপা পরে যায়, তাই জীবনকে উপভোগ করুন। নাস্তিক হলে গল্প উপন্যাস বই পরুন না হলে ইশ্বর বিলাস করুন, দেখবেন আপনার কৃত যাবতীয় ভালমন্দের যায়, ঈশ্বরের ঘাড়ে চাপিয়ে নিশ্চিন্তে আগামির লক্ষে এগিয়ে যান। অবশ্যই অন্যের অযথা ক্ষতিসাধন না করে। ভাবনা চিন্তাতে ধনাত্বক ভাব আনুন। গ্লাস অর্ধেক খালি না দেখে দেখুন গ্লাস অর্ধেক ভর্তি। খুনটা খুনই, অন্যকে হত্যা করলেও সেটা অপরাধ, নিজেকে করলেও তাই।

জীবন সকলকে সুযোগ দেয়, নিজেকে বদলে নেবার, শুধরে নেবার। জীবনকে নিজের থেকে দূরে ঠেলে দিলে আপনিই আসলে একা হয়ে যাবেন।

নিজে বাঁচুন অন্যকে বাঁচার রসদ দিন।

মনে রাখবেন, অনেক দু:খ আছে বলেই না সুখের কদর এতো বেশি।


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ফেসবুকীয় সিপিএমঃ ফিউজড আইনগাইডেড কামিকাজে ড্রোন

  ফেসবুকের ‘সিপিএম’ নামক এই চুড়ান্ত আঁতেল ও প্রায় সর্বজ্ঞ গোষ্ঠীটার পূর্ণ বোধোদয় বা পূর্ণ বিনাশ না ঘটা অবধি রাজ্যের বাম নেতৃত্বের খুব বেশী ...