বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬

বালিশব্রতের দলচুরি



অনেকে ভাবছে একটা কবিতাই বোধহয় 'বাসি' বিষফুল উপড়ে নিল কালীঘাট থেকে। দুটো ফুলের একটা ফুল মুছে গেল। বিষয়টা আসলে এটা নয়, মমতার জামানাতে মুকুল রায়, সুমন কাঞ্জিলাল, কৃষ্ণ কল্যাণী, এরা বাইরে তৃণমূল কিন্তু বিধানসভার ভিতরে বিজেপি ছিল- ফলত পাবলিক একাউন্টস কমিটির চেয়ারম্যান ছিল।

আজ যে গোমূত্রখোর তোলামূলের জন্ম হলো বালিশব্রতর নেতৃত্বে, সেটাও ঐ PAC পদটা যাতে মেজোখোকার নিজের পদানত থাকে তার জন্য, এই পলাশফুল 'মিথুন'কে দিয়ে সরোগেসি করানো। এর সাথে মমতার দলের বিনাশ করার একটা তৃপ্তিও- মেজোখোকা নেবে। চোরগুলো আপাতত একটা ছাদ পেল, আপদকালীন আশ্রয়ের। স্যান্ডো ববির জন্য খানিকটা দোওয়া করবেন আফনারা, আর কুণাল ঘোষ যে শকুনি 'টু' হয়ে প্রতিজ্ঞা রক্ষা করল- এটাও বিরলতম। শেষবেলাতেও মমতার সমস্ত প্রচারের আলো কেড়ে নিয়ে, উল্টে তাকে দিয়ে পাখার বাতাস করিয়ে নিল। এখানে ন্যাড়া বাগচি নিতান্তই লোমফোঁড়া। কুণাল সত্যিই তোলামূলকে নির্বংশ করে ছ্বড়ে দিলো। 

মোদী আদবানীকে মার্গদর্শক মন্ডলীতে পাঠিয়েছিল, ঋতব্রত মমতাকে একই দশা করল। ক্লাস এইট ফেল ভাইপোকে দিয়ে আর যাই হোক রাজনীতি হবে না। বছর খানেক পর বা কিছু আগে-পরে, মৈথুন ব্রত একটা লেনিন- মার্ক্স এর নাম সহ দল খুলবে, যাতে বাম্বাচ্চাদের ভোটও টানা যায়।

শত্রুর শেষ রাখতে নেই, অনিল বিশ্বাস মমতাকে ছাড় দিয়েছিল। শুভেন্দুকে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ছাড় দিয়েছিল। শুভেন্দুকে মমতাও ছাড় দিয়েছিল, শুভেন্দুও আগামীতে কাকে কাকে ছাড় দেবে জানিনা- ঋতব্রতকে দিয়ে সেই ছাড়ের যাত্রা শুরু হলো, এটা বলাই যায়। শুভেন্দুর ফ্রাঙ্কেনস্টাইন কে হবে তা ভবিষ্যতের গর্ভে।

মুসলমানের চারটে বিয়ে হালাল, ঋত বামনার চারটে রাজনৈতিক বিবাহ কমপ্লিট। সিপিএম থেকে লাথ খাবার পর, মুকুল রায়ের পায়ের তলায় বিজেপি ঘুরে এসে তোলামূল হয়েছিল। আজ চটিচাঁটা তোলামূল থেকে বালিশচাঁটা গোমূত্রখোর মিথুনে রুপান্তরের মাধ্যমে- ঋতুচক্র কমপ্লিট হলো। এর পর শুধু অজিত পাওয়ার হওয়া বাকি রইল কামব্রতর। তবে, কে ভালো হেলিকপ্টার শট মারে, আগামী প্রজন্ম তার বিশ্লেষণ করবেই- ধোনী নাকি মোটাভাই!!

তবে, Pratikur Rahaman এর একটা হিল্লে হলো অবশেষে।  না সে চুরির ভাগ পেয়েছে, না ক্ষমতার সুখ। 'ভালো তোলামূল' হওয়ার কল্যাণে যদি এবারে ভাগ্য ফেরে। এত আল্লাকে ডেকেছে, লোকে ৫ বার নামাজ পড়ে, বাতাসে গুঞ্জন- সে নাকি ৬-৭ বার করে নামাজ পড়ছিল ইদানিং। নাস্তিক প্রতিকুর এতদিনে আল্লার মাহাত্ম্য উপলব্ধি করল। স্রোতের গু হয়ে ভেসে যাবার আগে আবার একটা ঠেক পেয়ে গেল গোমূত্রখোর তোলামূলের ইজেরের তলে। নন্দীগ্রামে কি প্রতিকুর গোমূত্রখোর সনাতিনী তোলামূলের প্রার্থী হতে পারে?

যা হচ্ছে,  এটা রাজনৈতিক ব্যাপারের চেয়েও আগামীর প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির নীল নক্সা আঁকা হলো আজ। তৃণমূল যে দুর্নীতির ধারা শুরু করেছিল, আজ সেই জুতোতে অফিশিয়ালি পা গলালো মেজোখোকার সরকার। মমতা ব্যানার্জী অপ্রাসঙ্গিক একটা জঞ্জালের নাম, ভাইপো জেলে গিয়ে বেঁচে থাকবে। মেরুদণ্ডহীন রাজ্য সরকারি কর্মীরা, বিশেষ করে 'নোবেল পোপেশনের বুদ্ধিজীবী' মাস্টারের দল DA নিয়ে চাঁদমারি হয়ে আত্মলিঙ্গম সমেহনে ছাল চামড়া উঠিয়ে নিজের জ্বালায় জেরবার। জয় শ্রীরাম বলে গলার শিরা ফোলানো সিপিএমের 'শ্রেণিবন্ধু', যারা 'আগে রাম পরে বাম তত্ত্ব' ঢকঢক করে দশরথের বড় ছেলেকে ঈষদুষ্ণ গরম জলে মিশিয়ে- আয়েশ নিয়ে গিলেছিল, তারা আজ বুলডোজারের সাথে লড়ছে।

আর মুসলমানকে টাইট দিতে যাওয়া বিরাট হিন্দু নিম্নবিত্ত বাঙালি - আজ গ্যাস আর পেট্রোল কিনতে গিয়ে, এখনও বজরং দল বা গোরক্ষা সমিতি বানিয়েই উঠতে পারেনি। তেরোপাতারি অন্নপূর্ণা ভান্ডারের প্রাপকেরাও কেউ দুর্গাবাহিনী বানাতে পারেনি। মাঝখান থেকে মুসলমান নিজেই গরুকে জাতীয় পশু বানাবার দাবী তুলে- নাগপুরকে পথে বসিয়ে দিয়েছে।

মেজোখোকার সরকারের হানিমুন পিরিয়ড আরও তিন মাস চলবে, নতুন বউ এর বগলে গন্ধ হয় না, দাঁত মাজতে দেখলেও একটা উর্বশী মেনকা ফিলিংস আসে। পুরাতন হোক একটু, অষ্টমঙ্গলার ঘোর কাটলে বোঝা যাবে- রকেট ক্যাপসুলের দৌড় কতটা।

আজ এটুকুই থাক। তবে গণতন্ত্রের পক্ষে মাত্র একমাত্র এক মাসে একটা দল সর্বোচ্চ ক্ষমতাসীন অবস্থা থেকে জাস্ট গায়েব হয়ে যাওয়া- মোটেও কোনো ভালো বিজ্ঞাপন নয়। এর মূল্য আগামীতে বিজেপিও চোকাবে, যেভাবে আজ তোলামূল তার কর্মফল মেটাচ্ছে। আগামীতে এ নিয়ে বড় লিখব।

মৃত্যুতে অশৌচ পালন করতে হয়, আজ মমতা ব্যানার্জীর রাজনৈতিক মৃত্যুর শ্রাদ্ধশান্তি পালিত হোক নিষ্ঠার সাথে। দেখবেন, যেন কোনো খামতি না হয়।

ইন্না-লিল্লাহ ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নাগপুর ও শিক্ষা দূুর্নীতি

পেপার লিক বা প্রশ্নপত্র ফাঁস কোন বিচ্ছিন্ন দুর্নীতি নয়।  এটা একটা পরিকল্পিত অর্থনৈতিক মডেল যেটা সরাসরি নাগপুর থেকে পরিচালিত হয়। এটার পেছনে...