বুধবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

বুদ্ধের দেশ ভারত


 

তৃনমূল নামের রাজনৈতিক দলটির কল্যাণে আমাদের পশ্চিমবাংলার জনসমাজ চুরিকে নিও-নর্মালাইজ করে ফেলেছে। সততার ছদ্মবেশে রাজক্ষমতা হাসিল করার পর, চুরির ডিজাইনকে আরও কার্যকরী এবং সঙ্গতিপূর্ণ ভাবে একটা ব্যাপ্তিময় সমবায় তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে দল তৃনমূল। একই পদ্ধতির পুনরাবৃত্তি হ্রাস করে, আমলা ও প্রশাসন তন্ত্রকে সঙ্গতিপূর্ণ ভাবে ব্যবহার করে গত ১৫ বছরে নিশ্চিত ভাবে চুরিকে শিল্পের মর্যাদায় উন্নত করেছে।

শিল্পের নৈপুণ্য নির্ভর করে কারিগরি দক্ষতা সম্পন্ন উচ্চমানের শিক্ষকের উপরে। মুকুল রায় থেকে শোভনদেব চ্যাটার্জি বা মদন মিত্র কিম্বা জল শোভন, এদের মত প্রতিভাধর ওস্তাদ আচার্য্যরা রিটায়ার্ড করার আগে পরবর্তী বাটপার প্রজন্ম তৈরি করে দিয়ে গেছে। পার্থ চ্যাটার্জি, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, অনুব্রত মণ্ডলদের ইতিহাস কীভাবে মনে রাখবে তা জানিনা, তবে সততার অনুপ্রেরণায় দীক্ষিত এই শিল্পীরা ফলিত চৌর্যবিদ্যার যুগপুরুষ হিসাবে রয়ে যাবে। ফলত জোচ্চুরি, প্রতারণা, ঘুষ ও কাটমানি শিল্পের পরম্পরা অখণ্ড ভাবে রক্ষা হয়ে চলেছে সাফল্যের সাথে

প্রত্যেকটা দুর্নীতির ক্ষেত্র আপোষে ভাগ বাটোয়ারা করে নেওয়া থাকে এদের। কালীঘাটের বৃহত্তর কালেকশন এজেন্ট, ব্যাক্তির ক্ষমতা বুঝে সকলকে নিয়োগ করে। যেমন চিটফান্ডে মুকুল, শিক্ষায় পার্থ ও ব্রাত্য, খাদ্যে জ্যোতিপ্রিয়, সমবায়ে অরূপ, পঞ্চায়েতের সুব্রত,  দমকলে শোভন ও জাভেদ। ওয়াকফ, রাস্তা-সেতু কর্পোরেশনের ববি। লাইব্রেরী যে দুর্নীতির আখড়া হতে পারে তা কোন মানুষের চোদ্দ পুরুষের সঞ্চয়িত জ্ঞানের মধ্যে ছিলোনা, সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরীকে খুঁজে এনে মন্ত্রী না বানালে জাতি জানতেই পারতনা। তবে ওয়াকফের জমি মারার জন্য একমাত্র মুসলমান সিদ্দিকুল্লা, ববি বা জাভেকে দায়ী করে দুর্নাম দেয়া যাবে না। প্রতিটি ক্ষেত্রে এদের কোথাও না কোথাও হিন্দু সারেদ আছেই।

গুন্ডামির মাধ্যমে এলাকা দখলের নামে আসলে আঞ্চলিক অর্থনীতি দখল হয়, এভাবেই রাজ্য অর্থনীতির বৃহত্তর অংশের নিয়ন্ত্রক হয়ে গেছে তৃনমূলের এই ‘তোলা’ সাম্রাজ্য। ভাঙরের আরাবুল পথ দেখালেও ধীরে ধীরে সন্দেশখালির জাহাঙ্গীর, ফলতার শাজাহান, বীরভূমের অনুব্রত মণ্ডলরা বুঝতে পারে এটাই সবচেয়ে লাভজনক ব্যবসা এদের দেখানো পথেই রঙ পাল্টানো ক্যানিং এর শওকত মোল্লা, দিনহাটার উদয়ন গুহ বা চোপড়ার হামিদুর রহমান দু-একটা হাতে গোনা উদাহরণ মাত্র। চলন্ত সিড়ি চড়ে আত্মপ্রকাশ করা সততার প্রতীকের ঝাড়বাতি ভাইপো, সমস্ত তোলাবাজদের নিয়ন্ত্র হয়ে যায় কালের নিয়মে।

রাজ্যের এ মাথা  থেকে ও মাথা কালেকশনের জাল বিছিয়ে ফেলা আজকের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে বাদ দিয়ে তৃনমূলের দুর্নীতি উপাখ্যানের প্রথম পৃষ্ঠা উল্টানো যাবে না।

একসময় মহকুমা শহর গুলোতে ‘employment exchange’ নামের একটা দপ্তর থাকত, সেখানে বেকার যুবকেরা নাম লেখাতো। এখন তৃনমূলের পার্টি অফিসে নাম লেখালেই হাতেকলমে চুরির শিক্ষা পাওয়া যায়। রাজ্যে কোনো শিল্প নেই, বরং যেগুলো ছিলো- তোলাবাজির অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে তারা রাজ্য ছেড়েছে, কেন্দ্রীয় সরকারের তথ্য  মতে জুন ২০২৫ সাল অবধি ৬৬৮৮টি কোম্পানি বাংলা ছেড়েছে। স্বভাবতই কর্মস্থান নেই, হয় পরিযায়ী হও অথবা তৃণমূল করো। এই দুটোই স্থায়ী রোজগারের পথ, সাহসীরা পরিযায়ী হচ্ছে, বাকিরা তৃণমূল। কেউ কেউ বিরোধী দলের মুখোশ পরে দালালি করে লুকিয়ে কাটমানি খাচ্ছে। তৃনমূল দলে চুরি শিল্পে যে যত বেশী মেধাবী, যত বেশী দক্ষতা দেখাতে পারবে, দলীয় পদের উন্নতি সাধন হতে হতে একসময় উন্নয়নের মন্ত্রীসভায় দপ্তর পাওয়ার সুযোগ এসে যায় তার। তাই এরা শুধু অধ্যাবসায় দিয়ে চুরিটা করে যায়।

মার্কসের তত্ত্বকে লেনিন হাতে-কলমে করে দেখিয়েছিল, তেমনি গান্ধীজীর পঞ্চায়েত রাজ স্বপ্নের বাস্তব কারিগর ছিল বামফ্রন্ট সরকার কিন্তু রাজীব গান্ধী একটা অমোঘ সত্য উপলব্ধি করেছিলেন পঞ্চায়েত সিস্টেম সম্বন্ধে। তার বিখ্যাত উক্তি- দিল্লি থেকে যদি একশ টাকা পাঠায়, মানুষের হাতে পৌঁছাতে পৌঁছাতে সেটা ১৫ টাকায় পরিনত হয়”। তৃণমূল এই ১৫ টাকা টাকেও রাখেনি, সূক্ষ্ম থেকে সূক্ষ্মতর ফাঁক ফোকর খুঁজে- সরকারী ঋণ করে সেই টাকাও লুটে খেয়েছে।

গণতন্ত্রকে উপজুপোরি ধর্ষণ করার জন্য পেশাদার হিসাবে বিধানসভার স্পিকার আসনে বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় ধর্ষকশ্রী উপাধির দাবীদার। প্রত্যেকটি সর্বোচ্চ পর্যায়ের দুর্নীতিগ্রস্থর তালিকাতে রয়েছে পঞ্চায়েত মেম্বার, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, সিভিক ভলেন্টিয়ার, এসপি, ডিএম এবং বিপুল IAS অফিসারের এক কর্মীবাহিনী। এদের সকলের মাথার উপরে ছাতা হয়ে বসে আছে সস্ত্রীক কয়লা কুমার। এটাই তোলামুল দলের ইকোসিস্টেম।

রাজ্যে তৃণমূল দলটা দলীয় লোকজন দিয়ে চলেনা, তারা শুধু চুরি-চামারি করে তোলা তোলে। দিদির ভাইয়েরা বোমা মারে, নিচুতলার পুলিশ আর সরকারী কর্মীদের যখন খুশি চাবকায়, ভোটের সময় বুথ দখল করে। গোটাটা নিখুঁত মাফিয়া কার্টেল, যাদের নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা মমতা ব্যানার্জীর নিজেরও অসাধ্য। তাই i-PAC এর মত পেশাদার রেখে দিয়েছে, যারা মূলত অডিটারের কাজ করে, তোলাবাজির টাকা সময়মত হিসাব কষে কালীঘাটের ভাগা পৌঁছে দেওয়ানো করায়।

মমতা ব্যানার্জী দলটা চলছে প্রশাসনের লোকজন দিয়ে, কিছু জনকে ভয় দেখিয়ে বাধ্য করে, আর বাকীটা অসৎ লোকেদের খুঁজে খুঁজে এনে। ব্লক স্তরের প্রতিটা উচ্চ পদে এদেরই পোষ্টিং করেছে বিগত ১০ বছর ধরে। সরকারী অফিসারদের যেহেতু সাসপেন্ড করা যা, চাকরি খাওয়া যায়, তাই এদের দিয়েই গোটা পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে মমতা আসল সংগঠনটা চালাচ্ছে এলাকার BDO গুলোকে বকলমে দলের সভাপতি বানিয়েছে, লোকাল থানার ওসি হলেন পার্টির সম্পাদক, তিনিই মূলত পঞ্চায়েত গুলোকে নিয়ন্ত্রণ করেন। সৎ অফিসারদের হয় ওয়েটিং এ বসিয়ে রাখে অথবা গুরুত্বহীন পদে গ্যারেজ করে দেয়।

বাকি সরকারী কর্মীরা DA না পেলেও, BDO নামের অফিসারেরা cash compensation নামের অতিরিক্ত অর্থ পায় সরকারীভাবে, যাতে তাদের পুষিয়ে যায়। থানার OC/IC দের মান্নীয়া কীভাবে compensation দেন সেটা গুপ্তবিদ্যা। উপরি কামাই যা আছে সে তো তোলামূলের শিল্পেরই অঙ্গ, কালীঘাটে ভাগা পৌঁছে দিলেই সব বৈধ। এই লেখার দোষে কাল আমার ঘরে যে উন্নয়নের পুলিশ আসবেনা তা গ্যারান্টি দিয়ে বলা যাবেনা। পুলিশ আসুক বা না আসুক, বর্তমান তোলামূলের দলীয় গঠনতন্ত্রের এই সত্যতা- রাজ্যের প্রতিটি সুস্থ মানুষই জানে।   

স্বভাবতই, চোর পরিচয় ছাড়া এদের কোনো দ্বিতীয় পরিচয় নেই। বেশ্যা পাড়ায় যে মহিলারা থাকেন, তারাও সন্তান জন্ম দেন, অধিকাংরই পরিবার থাকে, তারা কী কেউ লজ্জা পায় নিজের মাকে, স্ত্রীকে, বোন বা মেয়েকে রোজ রাত্রে আলাদা পুরুষের সাথে দরজাতে খিল দিতে দেখলে? বরং এটাই পতিতাপল্লীর জীবনের স্বাভাবিক ঘটনা। তোলামুলেরও তাই চোর শব্দে আজ সম্মান হানি হয়না, বরং চোর না বললে তাদের আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি দেখা দেয়।

সারদা নারদা নাহয় বিস্মৃতির আঁধারে তলিয়ে গেছেইলেক্টোরাল বন্ড দুর্নীতি, কয়লা, বালি, রেশন, মইদুল মিদ্যা, আনিশ খান এসব ঘটনা আলঝাইমার রোগীর মত আবছা হতে শুরু করেছে। আরজিকর, ২৬ হাজার চাকরি নেই হয়ে যাওয়া, মুর্শিদাবাদ দাঙ্গা, চন্দন দাস, তামান্না, ধুলিয়ান, মহেশতলার ঘটনা গুলোকেও আমরা ডিমেনশিয়া আক্রান্তের মত এড়িয়ে যাচ্ছি সাফল্যের সাথে। শরীরের অবাঞ্ছিত লোম অযত্নে বেড়ে উঠেই অস্তিত্ব বাঁচিয়ে রাখে, সেখানে আমরা মাকুন্দ। ঘৃণা বা প্রতিবাদের গুপ্ত লোমও আজকাল আর গজায়না। “অতীতে বাস করো না, ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখো না’ এই বানীকে আঁকড়ে ধরে রয়েছি, ভারত যে বুদ্ধের দেশ।

বিগত ১২-১৩ বছর ধরে তৃনমূলের চুরির ঘটনা শুনে শুনে জনগনের কান পচে যাওয়াটাই স্বাভাবিকমেথরের কাজ করা শ্রমিকের যেমন গু'য়ে গন্ধ লাগেনা, পার্কসার্কাস বা রাজাবাজারের বাসিন্দারা পচা চামড়ার গন্ধ আলাদা করে ফারাক করতে পারেনা কিম্বা ঘাটালের মানুষের কাছে জন্ম মৃত্যুর মতই বন্যা স্বাভাবিক- আমাদের পশ্চিমবঙ্গের সাধারন জনগণ তেমনি একখানা আটপৌরে সহাবস্থান গড়ে নিয়েছে তোলামূলের চুরির সাথে। তাই নতুন কোনো চুরি, রাহাজানি বা খুনের ঘটনা ঘটলে- অভ্যস্ত ইন্দ্রিয়ে কোনো হেলদোল হয়না গড়পরতা জীবনেবুদ্ধ বলে গেছেন- সবকিছুর মধ্যে ভালো কিছু দেখার জন্য তোমার মনকে প্রশিক্ষণ দাওভারত বুদ্ধের দেশ, তাই আমরা তৃনমূলের মাঝে খারাপ দেখতে নারাজ।

রাজ্যে বিরোধী বলে তেমন কিছু অস্তিত্ব নেই, ব্যতিক্রমী সাজানো আন্দোলন মঞ্চস্থ করে এরা। যাতে গণতন্ত্রের ‘ধরাচূড়া’ খসে না যায় জনগণের চোখে। পাঁজি এবং তিথি নক্ষত্র দেখে এরা রাস্তায় নামে। সরকার পোষিত ‘বাপুরাম সাপুড়ের’ সেই বিখ্যাত সাপ এরা, যে সাপের চোখ নেই, যাদের শিং নেই, নখ নেই, ছোটে না, হাঁটে না, কাউকে কাটে না, করে নাকো ফোঁস্‌ফাঁস্‌, মারে নাকো ঢুঁশঢাঁশ, নেই কোন উৎপাত, খায় শুধু দুধ ভাত। হুম, দুধ ভাত খায়। যেকোনো সরকারের জন্য- রাশিচক্রের লগ্ন মিলিয়ে রাজজোটক বিরোধীপক্ষ। “দুঃখের মূল হলো আসক্তি”- ভারত শাক্যমুনির দেশ, তাই বিরোধীরা ‘শূন্য’, রাজনৈতিক আসক্তিতে

এই কারনেই মমতা ব্যানার্জী প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে ঘোষণা করতে পারে- তিনি না চাইলে তাকে ক্ষমতা থেকে কেউ উৎখাত করতে পারবে নাকারন উনি বিরোধী স্বত্তারই অবশেষ রাখেনি। একই সাথে গত ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পরেও বিরোধী ইজম গুলোর প্রতি তীব্র ঘৃণা জিইয়ে রেখেছে তার সমর্থকদের মাঝে। বিকিয়ে যাওয়া বিরোধী সত্তা গণতন্ত্রকে ফ্যাসিজমের দিকে ঠেলে দেয়। এই কারনে উনি হিটলার থেকে ক্রমশ মুসোলিনি হয়ে উঠেছেন। মার খাওয়া জনগণ একসময় ভুলে যায়- বেঁচে থাকাটা তার অধিকার, দয়া নয়। আমরা পশ্চিমবাংলা বাসীরা যেন পরের দিন সকালবেলা বেঁচে উঠলেই নিজেকে ধন্যবাদ দিচ্ছি। জীবনে ব্যাথা থাকবেই, কিন্তু কষ্টকেই ভালোবাসতে শেখোআমরা কষ্টকে ভালবেসে ফেলেছি, ভারত যে বুদ্ধের দেশ।

চাকরি চোর সরকারের শিক্ষা দপ্তর থেকে লিখিতভাবে নোটিফিকেশন বের হচ্ছে- আমরা এতজনকে ঘুষ দেয়ার বিনিময়ে চাকরি দিয়েছি। একটা স্বাধীন দেশে, জনগণের ভোটে নির্বাচিত রাজ্য সরকার এটা করছে, প্রকাশ্যে। জানিনা গণতন্ত্রের ইতিহাসে এর দ্বিতীয় কোনো নজির আছে কিনা! আজ SSC এর অযোগ্যদের তালিকা প্রকাশের চতুর্থ দিন, রাজ্যের কোনো রাস্তায় কোনো জঙ্গি আন্দোলন হয়েছে? কোনো বিরোধী রাজনৈতিক দল জ্বালাময়ী বক্তব্য রেখেছে?

বিজেপিকে ছেড়ে দিন, ওদের নিজশ্ব ভোটব্যাঙ্ক থাকলেও, নিজশ্ব কোনো নেতৃত্ব নেই। শুরুতে কিছুজনকে বিক্ষুব্ধ তৃনমূল সাজিয়েছে, পরে সেগুলোকেই কেশব ভবনে পোষ্টিং করেছে মমতা ব্যানার্জী, নিজের সবচেয়ে বিশ্বস্ত ও কাছের লোকগুলোকে। বঙ্গ বিজেপি মুরুলীধর স্ট্রিট থেকে নিয়ন্ত্রিত হয় বলে যারা ভাবে, তারা আবার নতুন করে হাগিস পরতেই পারেন, আপনাদের নাবালকত্ব এখনও ঘোঁচেনি। নাগপুরের গোয়ালঘরে জন্মানো দুটো দলেরই রাজনৈতিক কার্যকরী দপ্তর কালীঘাটের টালির চাল। রাজ্য বিজেপির বিরোধীতার ব্যাঞ্জনে কতটা লবন থাকবে, কতটা লঙ্কার ঝাঁঝ থাকবে, সেটা মাস্টার সেফ মমতা ব্যানার্জী নিজে পরিমাপ করে দেন।

ভারত সত্যই নৈতিকতার দেশ, এখানেই পঞ্চতন্ত্রের গল্প লেখা হয়েছিল, জাতকের গল্প লেখা হয়েছিলো, গ্রীক ইশপের গল্প জনপ্রিয় হয়। এখানে সরকার চলে আদালতের পদাঘাত খেয়ে। বুদ্ধ বলে গেছেন- “সুখের জন্ম হয় মনের গভীরে। এটি কখনও  বাইরের কোনো উৎস থেকে আসে নাতাই বিরোধী শীর্ষ নেতৃত্ব সেভাবে ঘরের বাইরে বের হয়না তিথি নক্ষত্র বিচার না করে। স্বাভাবতই আমাদের রাজ্যের বিরোধী দলের শীর্ষ নেতৃত্বদের কারো বিরুদ্ধে তেমন কোন মামলা নেই, যেটাকে তারা উদযাপন করে সফলতা হিসাবে। মীনাক্ষী হোক বা নৌশাদ- এদের মত মুষ্টিমেয় যে কজন রাস্তায় নামে, মমতাকে রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয়, তাদের নামে মামলার শেষ নেই।

ভারত গৌতম বুদ্ধের দেশ। আর পশ্চিমবঙ্গে বাম ধারার রাজনীতিতে এখন ‘মহাসঙ্গীতি কাল’ চলছে। আলিমুদ্দিন যেন ‘মহাবোধি মন্দির’ এর মুর্ত রূপ। মহাপরিনির্বাণের আগে অবলোকিতেশ্বর ও মৈত্রেয় দের জন্য এখান থেকে নতুন ‘জাতকের গল্প’ রচিত হচ্ছে বৌদ্ধিক আর্য্য সত্য মেনে। যেটা শুধুই দুঃখময়। এখানে কোনো সেলিম নেই, বিমান, সুজন, সৃজন, শতরূপ কেউ নেই। কেউ শ্রেষ্ঠী, কেউ ভদ্রবর্ণীয়, কেউ বুদ্ধবোধি, গঙ্গাপাল, ক্ষান্তি, কাল্মষ, মৈত্রীবল, মৎস্যমৃগ… গোটা দলটাই যেন জাতকের চরিত্র। এখানে রাজনীতি নয়, মৈত্রী, ভ্রাতৃত্ববোধ, মানবতা, সৌহার্দ্যের মতো সম্পর্কগুলো গড়ে তুলেতে উদ্বুদ্ধ করা হয়। তেমনি তৃণমূলকে দয়াবান, সৎ, আদর্শবান ও নীতিবোধসম্পন্ন হয়ে ওঠার মতো নৈতিক শিক্ষা দিয়ে থাকে। নিজেরা পরমতসহিষ্ণু ও পরধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে অষ্টশীল  ভিত্তিকে রক্ষা করে।

যেখানে কলকাতা মহানগরের অবস্থান, সেই হুগলী নদীর পূর্বদিকে- বৃহত্তর কলকাতা এবং দুই ২৪ পরগনা মিলিয়ে ৭৫ টি বিধানসভা আসন রাজ্যের ভোট আসনের ২৫% আর GDP র প্রায় ২৯%। শিয়রে ভোট, এই অঞ্চলের তথাকথিত নেতারা দৈনিক সন্ধ্যেবেলা বাতানুকুল স্টুডিওতে বসে, ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া ক্যামেরার সামনে কফি খেতে খেতে- শুধুমাত্র সর্বজ্ঞ সেজে বক্তব্য দিয়ে মাছিমারা পালোয়ান সাজে। মহিলাদের মাসিক ঋতুস্রাব এর মতন মাসে ২-৩ দিন আলিমুদ্দিনের প্রেস কনফারেন্স ছাড়া, সাংগঠনিক এবং রাজনৈতিকভাবে এক সময়ের শাসক পার্টিটা চোখের সামনে উঠে গেলো।

যার যোগ্যতা যত কম, তার অহংকার ঠিক ততটাই বেশি। স্বভাবতই খুচরো বাম্বাচ্চা গুলো সমালোচনাকারী দেখলেই ‘ষড়যন্ত্রকারী’ হিসাবে চিহ্নিত করে দেয়। সমালোচনাকারীও যে একজন বিশুদ্ধ সমর্থক ও পরামর্শক হতে পারে, সেই বোধ বা শিক্ষা এদের নেইআসলে  সমালোচিত হতে যোগ্যতা লাগে, যা ক্রমশ এরা হারিয়ে ফেলছে

কংগ্রেস বা বাকি অপগন্ডদের বিরোধী হিসাবে আলোচনা করলে, রঞ্জু ঘোষের আত্মা ডাঙ্গসপেটা করবে মাঝরাত্রে একা পেলে।

ED /CBI এর মতো কেন্দ্রীয় এজেন্সিরা দুর্নীতি বিষয়ে চোর গুলোকে ধাওয়া করবে, আর আদালতের বিচারকেরা মমতাকে ক্ষমতা থেকে সরালে তবে বিরোধী দল ক্ষমতার মসনদে বসবে বিরোধীরা শুধু মমতা ব্যানার্জির কাছে ন্যায় এবং বিচার চাইবে। নতুন করে চাকরি চাইবে, স্বচ্ছতা চাইবে, গণতন্ত্র চাইবে, সবকিছু মমতা ব্যানার্জির কাছেই চাইবেনিজেরা যাত্রাদলের বিবেক সেজে রইবে। একটা নির্দিষ্ট বিরামে- মঞ্চের পিছন থেকে দর্শকের মনে ন্যায়বোধ জাগ্রত করতে, পথহারা মানুষকে সঠিক পথ দেখাতে এবং অত্যাচারীদের সতর্ক করতে মমতা ব্যানার্জীকেই অনুরোধ করবে।

জীবনে হাজার লড়াই জেতার থেকে ভাল, তুমি নিজেকে বিজয়ী ঘোষণা করে ফেল। তখন সর্বদা তোমারই জয় হবে। আমাদের রাজ্যের বর্তমান বিরোধী দলেই এটাই ইষ্ট মন্ত্র, কোনো লড়াই না করেই নিজেদের উন্নত ঘোষণা করে দিয়েছে; ভারত যে বুদ্ধের দেশ।

আপনি ভাবছেন, এই বর্তমানের বিরোধীরা- যারা তৃনমূলের কলকেতে তামাক খাচ্ছে, তারা তৃনমূলেরই বিরুদ্ধে আপনার হকের হয়ে লড়াই করবে? যারা নিজেরা মরার আগে চেয়ার ছাড়বেনা, তারা নাকি গণতন্ত্র রক্ষা করবে? মহাস্থবিরেরা এখন অস্তাচলের পথে, বুদ্ধের ভাষায় এনাদের ‘গামিনী প্রতিপদে’ প্রেরণ না করা অবধি পশ্চিমবঙ্গের মানুষের আশু মুক্তি নেই।


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

তৃণমূলের প্ররোচনার ফাঁদে পা দেবেন না

⛔ সতর্কতামূলক পোষ্ট ⛔ আজ SIR এর ভোটারলিষ্ট বার হবার পর- জনরোষের দোহায় দিয়ে দিকে দিকে ‘সংগঠিত অশান্তি’ লাগাবার ‘ফুল প্ল্যান’ নিয়ে এগোচ্ছে শাা...