শনিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

মুজরা সম্রাটের মনিপুর ভ্রমণ

 



রাষ্ট্রপতি শাসন জারিকৃত মনিপুরে, ১০ হাজার কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করে রেখে, ১৬টা জেলার ১৩টাতে অঘোষিত কার্ফিউ ঘোষণা করে, ৫৪ টারও বেশী মহকুমার যানবাহন সহ রাস্তাঘাট বন্ধ রাখে, ইস্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় দোকানপাট জবরদস্তি বন্ধ করিয়ে, স্থানীয় জনজীবন সমস্তটা স্তব্ধ করে- বুলেটপ্রুফ বিদেশী গাড়ি বহর নিয়ে, কাঁচ বন্ধ রেখে, AC কোচ থেকে রোড শো করে- ভাঁড় মহাশয়, মণিপুরের মানুষের সাথে একাত্ম হয়ে এসেছেন আজ।

২০২৩ থেকে মণিপুরের সমস্যা কী নিয়ে ছিলো জানেন?

যেকোনো মূল্যে উপজাতিদের উচ্ছেদ করে তাদের জমি কেড়ে নিয়ে সেখানকার খনিজ সম্পদ আদানির হাতে তুলে দেওয়া। হ্যাঁ, এটুকুই, একমাত্র এটাই।
জিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার তথ্য মতে, মণিপুরের কুকি অধ্যুষিত জেলা গুলোতে প্রচুর পরিমাণে পেট্রোলিয়াম এবং অন্যান্য খনিজ সম্পদ মজুদ রয়েছে। কুকি সম্প্রদায়ের গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ যে- উপত্যকাবাসী ও বিজেপির মদতে থাকা 'মেইতেই' সরকার তাদের সবকিছু কেড়ে নিতে চায়।
সাহেব আজকাল যেখানেই যান, তার আগে ফেউ এর মত Adler Industrial Services এর ডিরেক্টর অশ্বিনী বৈষ্ণব পৌঁছে যায় রেলের নতুন প্রোজেক্ট নিয়ে। যারা হাওড়া সাউথ লাইনে যাতায়াত করেন, তারা জানেন রেলের হাল আসলে কতটা যন্ত্রণাময়। যেগুলো আছে সেই রেল গুলোই সামলাতে গিয়ে হেগে ফেলছে 'শিক্ষিত রেলমন্ত্রী', ওদিকে ‘বৈরাবি-সাইরাং’ নামে নতুন প্রকল্প ঘোষণা করে ভক্তদের গান্ডু বানানোতে কোনও খামতি নেই। রেলের ফ্রেট করিডরের অধিকাংশই ইতিমধ্যে DP World ও আদানিকে বেচে দিয়েছে, যারা আগামীকাল অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপে পাকিস্তান ম্যাচ ঘটানোর মূল হোতা।

গত দুই বছর ধরে ৩০০ এর বেশী মানুষ প্রকাশ্যে খুন হয়েছে, ২০০০ এর বেশী মানুষের অঙ্গহানি ঘটেছে, কেউ খোঁড়া, কেউ অন্ধ, কারো হাত নেই, কারো চোয়াল নেই, তো কারো শরীরে গুলি বিঁধে রয়েছে। ৫০০০ এর বেশী মানুষ আহত, ১৫০০ এর বেশী নিখোঁজ মানুষ ও ৯০,০০০ এরও বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষ গৃহহীনের দলে নাম লিখিয়ে- ত্রান শিবিরের আশ্রয়ে কোনো মতে বেঁচে আছে।

এটা কোনো আভ্যন্তরীন দ্বন্দ্বগত সমস্যা ছিলোনা, না ছিলো হিন্দু-খ্রিষ্ট্রান এর জাতি লড়াই, না ছিলো মায়ানমার থেকে আসা অবৈধ অভিবাসন সমস্যা, না এটা কোনো মাদক সংক্রান্ত সমস্যা ছিলো, এই ধ্বংসাত্মক সংঘাত ছিলো আদানির স্বার্থে তৈরি করা- বিজেপি সৃষ্ট নারকীয় সন্ত্রাস। আর মূল উদ্দেশ্য ঢাকতে নানান মিথ্যা ন্যারেটিভ সেট করা হয়েছিলো বিজেপির প্রোপ্যাগান্ডা মেশিনারি দিয়ে।।
মণিপুর হিংসা ইচ্ছাকৃতভাবে উস্কে দেওয়া একটা পরিকল্পিত দাঙ্গা। যেটা পরিচালনা করেছিলো ‘মেইতেই’ ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার। মেইতেই-রা মূলত হিন্দু, এবং তারা অধিকাংশই ইম্ফল লাগোয়া সমতল ও উপত্যকা অঞ্চলে বসবাস করে। মণিপুরের মাটির তলায় আবিষ্কৃত বিপুল প্ল্যাটিনাম মজুদ রয়েছে। সেই খনি যেকোন মূল্যে আদানির হাতে তুলে দিতেই এই নরসংহার যজ্ঞ ছিলো।
যে অংশে প্ল্যাটিনামের মজুদ রয়েছে, সেটা পাহাড়ের আদিবাসী সম্প্রদায়ের বসবাসের জমিতেই সীমাবদ্ধ। কুকি জনগোষ্ঠীর গাংতে, হমার, পাইতে, সিমতে, সুক্তে, থাদৌ, ভাইফেই, জো এবং কিছু ছোট উপজাতির বাস সেখানে। এছাড়া নাগা উপজাতির আঙ্গামি, কাবুই, কাঁচা নাগা, মাও, মারাম, পৌমাই, সেমা, তাংখুল নামের উপজাতিদেরও বাস ওই অঞ্চলে।
একটা গোটা প্রজন্মের ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গেছে, উপজাতি পরিবারগুলি গৃহহীন, সেই অঞ্চলের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান শ্মশানে। অনিশ্চিত ভবিষ্যত আর অপরিমাপযোগ্য ক্ষতির সাথে লড়াই করা মানুষগুলোর জীবনে আজও শান্তি অধরা। সাহেব সেই মানুষগুলোর কাছে যায়নি, তাদের ব্যাথার উপসম হয়ে যন্ত্রণার কথা শোনেননি, উনি কিছু ভাড়াটে লোক দাঁড় করিয়ে আত্মরতি নিয়েছেন কেবল, যাতে গোদি মিডিয়া এই ‘আত্মরিতির’ এডিটেড অংশ সারাদিন টিভিজীবীদের গেলাতে পারে, ভক্তদের অর্গাজম দিতে পারে। স্থানীয় উপজাতিরা তার সামনে নাচতে রাজি না হওয়ার, মুজরা সম্রাটের উপজাতি নৃত্য দেখা হলোনা এ যাত্রায়।
আজকে মাননীয় 'লৌড়েন ভোজ্যম' আসলে ‘জো’ হয়েছে কিনা দেখতে এসেছিলেন- কতদিনে প্রভু আদানির হাতে জমিগুলো তুলে দিতে পারবেন, তার রেইকি করে গেলেন নিজে, সরেজমিনে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

তৃণমূলের প্ররোচনার ফাঁদে পা দেবেন না

⛔ সতর্কতামূলক পোষ্ট ⛔ আজ SIR এর ভোটারলিষ্ট বার হবার পর- জনরোষের দোহায় দিয়ে দিকে দিকে ‘সংগঠিত অশান্তি’ লাগাবার ‘ফুল প্ল্যান’ নিয়ে এগোচ্ছে শাা...