রবিবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৫

দুবলাগুড়ি


 

Dublagadi Sea Beach দুবলাগাড়ি সমুদ্র সৈকত

বাঙালীর ভ্রমণ এখন আর শুধু দীপুদাতে আঁটকে নেই। পাহাড় ব্যতিরেকে সমুদ্র বলতেই দীঘা আর পুরী দুচোখের মনিতে ভাসে আম বাঙালীর, তার বাইরে মন্দারমনি, তাজপুর মোটামুটি এই বৃত্তেই ঘোরাঘুরি করে গন্তব্য গুলো। এবারে যদি স্বাদ বদলাতে চান, তাহলে হাওড়া থেকে ট্রেন যোগে মাত্র ঘন্টা চারেকের দুরত্বে পড়শি রাজ্যের একটা সমুদ্র সৈকত থেকে নাহয় টুক করে একটু ঘুরে আসুন। ঘুড়ে দেখুন দুবলাগারি সমুদ্রসৈকত। ধু ধু বালিয়ারি, ঝাউবনকে সঙ্গী করে যারা নির্জনতাকে উপভোগ করতে চান, তাদের জন্য ‘পারফেক্ট ডেস্টিনেশন’। কোলাহল মুক্ত দুষণহীন পরিবেশে খানিক লাল কাঁকড়ার সাথে লুকোচুরি নেহাত মন্দ লাগবেনা

দুদিনের ছুটিতে হাওড়া থেকে টুক করে বালাসোর স্টেশনে নেমে পরুন। সিজেন টাইমে গেলে হোটেল বুক করে রাখা উত্তম, সেক্ষেত্রে হোটেলে বলে রাখলেই তারা স্টেশনে গাড়ি পাঠিয়ে দেবেদুবলাগাড়ি নির্জন মানে জনহীন এমনটা নয়, সপ্তাহান্তে বা ছুটির দিনগুলোতে অল্পবিস্তর পর্যটক সমাগম হয় বৈকি, তবে সেটা দীঘা বা পুরীর তুলনাই নেহাতই নগণ্য, তাই প্রশান্তি খুঁজলে এই গন্তব্যের বিকল্প কম। ছোট বড় নানা মানের ক্যাম্প, রিসর্ট, হোমস্টে বা হোটেল পেয়ে যাবেন সুলভে, আবার রুমেরও নানান মান আছে- স্ট্যান্ডার্ড-ডিলাক্স এসি বা নন এসি সবই আছে।

খাবার দাবার সাধারনত রিসর্ট/ক্যাম্পেই পেয়ে যাবেন। ডাবের জল দিয়ে খানিকটা নিজেকে রিফ্রেস করে মধ্যাহ্নভোজন আর তারপর ক্লান্তি জুড়িয়ে নিতে একটা ছোট্ট করে ভাতঘুম। বাঙালী ঘাবারদাবারের কোনো কমতি পাবেননা এখানে। কাছেই পাঁচুপাড়া-বারাদিয়া নদীর মোহনা ও সেই সংলগ্ন একটা মাছ বাজার থাকাতে সি-ফুডের বিপুল সম্ভার পেয়ে যাবেন। ইলিশ, ভেটকি, পাবদা, পারসে, আমুদি, চিঙড়ি, কাঁকড়া, পমফ্রেট কোন মাছ চাই আপনার, রসনা তৃপ্তির সমস্ত উপাদান পেয়ে যাবেন। সন্ধ্যায় বন্ধু বা পরিবারের সাথে বসে জমাটি আড্ডার সময় বারবিকিউ’ এর স্বাদ নিতেই পারেন এমন অবসরে। রাত্রে কব্জি ডুবিয়ে খাসির মাংস খেয়ে সদলবলে নৈশ ঝাউবন অভিসারে যাওয়াটা বেশ এডভেঞ্চারাস অভিজ্ঞতা।

এখানকার এই ঘন ঝাউবন বরাবর তিনটে সৈকত পরে, দুবলাগারি, বাগদা আর পারিখি, একটাই লম্বা সমুদ্রতট- আলাদা আলাদা নাম। এখানে সমুদ্রের জল জোয়ার ভাঁটার সাথে বেশ খানিকটা এগিয়ে পিছিয়ে যায়। ভাঁটা পরলে সৈকত জুড়ে অসংখ্য রংবেরংয়ের বিভিন্ন সাইজের ঝিনুক, শামুক, শঙ্খ দেখে মন পুলকিত হবেনা এমন মানুষ পাওয়া ভার

এখানে ঘুরতে এসে খুব বেশী লম্ফঝম্প, সাইটিসিয়িং এর নামে গলদঘর্ম হওয়ার মাঝে তেমন সার্থকতা নেই। তবে ঐতিহাসিক বুড়িবালাম নদীর পাশে গিয়ে আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের প্রতি শ্রদ্ধা অর্পন করাটা নাগরিক কর্তব্য। অন্যথায় চুপটি করে বন্ধুদের সাথে বা প্রেয়সীর সাথে নির্জন দুপুরের ঝাউবনে নাম না জানা পাখিদের সাথে নাহয় একটু নিভৃত যাপন করলেন। মন চাইলে একটু সমুদ্র স্নান, আর বাকি সময় নিখাদ ল্যাদ খেয়েই কাটিয়ে দিন। তবে হ্যাঁ, স্থানীয় বাজার খানিকটা দূরে। ধূমপায়ী ও সুরাপায়ীরা অবশ্যই তাদের পাথেয় আগাম মজুদ করেই নিয়ে আসবেন, চা বা কফিপ্রেমীরা তাদের যাবতীয় উপাদান হোটেলেই পেয়ে যাবেন।

ভাপা ইলিশ, সরষে ইলিশ, ডাব চিঙড়ি বা চিঙড়ির মালাইকারি, ভেটকির পাতুরি, পমফ্রেটের রোষ্ট, পাবদার ঝাল, গন্ধরাজ কাঁকড়া, পারশে মাছের তেল ঝোল, কুড়কুড়ে আমুদে, চিকেন বার্বিকিউ কিম্বা মাটন কষা- এই নিরিবিলির রাজ্যে দুদিনের রাজা হতে আর কিইবা চায়! রাজকীয় খাওয়াদাওয়া, আন্তরিক আপ্যায়ন, প্রকৃতির সাথে তার মত করে দুটো দিনের এই অবসর যাপনের অভিজ্ঞতাকে সহজে ভোলা যাবেনা। তাহলে প্ল্যান বানান, আর উপভোগ করুন একটা দুর্দান্ত উইকএন্ড।

 

 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

তৃণমূলের প্ররোচনার ফাঁদে পা দেবেন না

⛔ সতর্কতামূলক পোষ্ট ⛔ আজ SIR এর ভোটারলিষ্ট বার হবার পর- জনরোষের দোহায় দিয়ে দিকে দিকে ‘সংগঠিত অশান্তি’ লাগাবার ‘ফুল প্ল্যান’ নিয়ে এগোচ্ছে শাা...