শুক্রবার, ১ আগস্ট, ২০২৫

গুজ্জু কার্টেল - Neo Colonialism




সম্প্রতি CAG এর একটা রিপোর্ট বের হয়েছে। কৃষকদের কল্যাণের জন্য নির্ধারিত রাসায়নিক সার উন্নয়ন তহবিলের ৯০% টাকা, গত পাঁচ বছর ধরে মধ্যপ্রদেশে সরকারি যানবাহন জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য খরচা করা হয়েছে।

ভাগ্যিস দেশে গোদি মিডিয়া আছে, তাই পাবলিক এগুলোর সম্প্রচার দেখেনি, নতুবা বিজেপির ভোট আরো বেড়ে যেত। গোদি মিডিয়া বলতে মনে পড়ল আদানি-আম্বানির নিউজ চ্যানেলের নামে প্রোপ্যাগান্ডা মেশিনারি তথা বর্তমানে দেশকে গ্রাস করা গুজ্জু কার্টেলের কথা।

০২৩ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত, মাত্র একটা আর্থিক বর্ষে বিশ্বগুরুর প্রভু শ্রী গৌতম আদানীর সম্পদের মূল্য প্রায় ৯৯% বৃদ্ধি পেয়েছে। আর পাবেনাই বা কেন! আপনার মুঠোতে যদি মুম্বাইয়ের ৫৪১ একর রিয়েল এস্টেট সহ এমন আরও অনেক কিছু প্রায় ফোকেটে চলে আসে, আমার আপনারও সম্পদ ১০০ গুনই বেড়ে যাবে।

আদানী ‘দেখো আমি বাড়ছি মাম্মি’ এ্যাড দেবে, আর আম্বানি চেয়ে চেয়ে দেখার জন্য বসে আছে! সরকারি সম্পদ লুঠের বিষয়ে প্রতিযোগিতায় হেরে গেলে নিজেদের গুজ্জু কমিউনিটিতে যে মুখ দেখাতে পারবেনা। অতএব, মুকেশ আম্বানির মালিকানাধীন RIL নবি মুম্বাইয়ের ৫,২৮৬ একর প্রাইম রিয়েল এস্টেটের দখল নিয়েছে।

Thank you, গুজ্জু কার্টেল মোদী-শাহ-আদানি-আম্বানি’ চতুষ্টয়। এই চৌরঙ্গী সঙ্গম না থাকলে জানাই যেতোনা যে এতো ভাবে দিনে ডাকাতি করা যায়, দেশপ্রেমের নামে, হিন্দুতের নামে। আপনার হাতে যদি বিপুল পরিমান সম্পদ থাকে, আপনি অবশ্যই একটা সরকারকে পোষ্য বানাতেই পারেন। বড়লোকের নানা শখ, কেউ চিতা পোষে, কেউ হাতি। আদানি আম্বানি সরকার কিনে মোদী-শাহ পুষেছে। কথায় আছে শখের দাম লাখ টাকা।

মজা হচ্ছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি এই পোষ্যদের হাতে, সরকার এই সুপার ধনীদের কেনা গোলাম। গুজ্জু কার্টেলের সম্পদ আড়ে-বহরে বাড়বেনা তো আমার আপনার বাড়বে! মহারাষ্ট্র সরকারকে ধন্যবাদ না জানানোটা অপরাধ, কারন তারা ভনিতা না করেই বিক্রির নামে দান করেছেআপনার আমার ব্যর্থতা কোথায় জানেন! আমরা একটা সরকার কেনার মত যথেষ্ট ধনী নই, তাই আমাদের বিবেক আর আদর্শের পাঁচন খেয়ে হস্থমৈথুন করে তেজস্খলন করি।

এটা একটা সংখ্যা মাত্র। ,৬০,০০০,০০,০০,০০০ (৫.৬ লক্ষ কোটি) মুম্বাই প্রোজেক্ট থেকে আদানিদের অর্জিত মোট আয়ের পরিমান, যার মধ্যে ৮৪,০০০ কোটি টাকা মুনাফা হিসাবে দেখানো হয়েছে। মুম্বাইয়ের এই রিয়েল এস্টেট সম্পদের বৃদ্ধির সাথে সাথে- খরিদকৃত ফড়নবিশ সরকার এবং পোষ্য মোদীর কেন্দ্র সরকার- আদানির প্রকল্পের জন্য স্ট্যাম্প শুল্ক, প্রিমিয়াম এবং অন্যান্য আইনগত বকেয়া মাফ করে দেবেই। সাথে সাথে লাভের পরিমান আরো ৪-৫ গুণ বৃদ্ধি পাবে।

আদানি মডেল আসলে নব্য উপনিবেশবাদের ইষ্ট ইন্ডিয়া ভার্সন।

শুরুতে এরা অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য স্বতঃপ্রণোদিত প্রস্তাবনা পেশ করে। অবাস্তব প্রতিশ্রুতি দেয়, জনকল্যান ও রাষ্ট্রের রাজস্ব পূর্বাভাসের একটা রূপকতথার গল্প ফাঁদে। এভাবেই একে একে পশ্চিমঘাটে আদানি গ্রুপের HEP প্রকল্প; গ্রেটার নিকোবর দ্বীপ (GNI) শিপমেন্ট টার্মিনাল প্রকল্প; বাংলাদেশে বিদ্যুৎ বিক্রয়, দেশজ বিমানবন্ধ ও সমুদ্রবন্দর অধিগ্রহণ, রেলওয়ে পণ্য পরিবহনের ব্যবস্থাপনা অধিগ্রহন, জোমো কেনিয়াত্তা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (JKIA), নাইরোবি, কেনিয়া কিম্বা দেশের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বানাবার একতরফা প্রতিদ্বন্দীহীন টেন্ডার প্রাপ্তি- সবটাই আছে।

২০২২ সালের জুন মাসে উদ্ধব সরকার পতন ঘটে; ২০২২ সালের অক্টোবরে ধারাভির জন্য আদানি ৫,০৬৯ কোটি টাকায় দরপত্র জিতে নেয় এবং পরের ৩ বছরের মধ্যে মুম্বাইয়ের ৫৪১ একর প্রাইম রিয়েল এস্টেট আদানির কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এই কারনেই উদ্ধব ঠাকরের নেতৃত্বাধীন উৎখাত করাটা জরুরী ছিল। এরা থাকলেও চুরি হতো, কিন্তু সেটা গুজ্জু কার্টেলের পেটে যেতোনা হয়ত, তাই সরানো। একনাথ শিন্ডে, সহ-দলত্যাগীর দল, এসবই কেবল ঘুঁটিআসল খেলার জন্য একটি নিখুঁত ছদ্মবেশ তৈরি করে এই রাজনৈতিক ছায়া-চিত্র গুলো। পাবলিক ভাবে ওহ- বিরাট কিছু একটা ঘটছে। বিষয়টা হচ্ছে গুজ্জু কার্টেল কর্তৃক মুম্বাই দখলের রূপকথা

পূর্ববর্তী টেন্ডারে আদানির ৪,৪৩৯ কোটি টাকার প্রস্তাবের বিপরীতে সংযুক্ত আরব আমিরাত ভিত্তিক সেকলিংক টেকনোলজিস কর্পোরেশন ৭,২০০ কোটি টাকা প্রস্তাব করেছিল। তবে, রেলওয়ের জমি অন্তর্ভুক্তির অজুহাতে এই টেন্ডার বাতিল করা হয়।

সেকলিংক আদালতে গিয়েছিল এবং সেখানেই এটি ফাইলচাপা পরে রয়েছে। এমন সব কারনেই ‘আরতি অরুণ সাঠে’, যিনি ২০২৩ সালেও মহারাষ্ট্র বিজেপির রাজনৈতিক মুখপাত্র ছিল, আগষ্ট ২০২৫ থেকে তিনি বোম্বে হাইকোর্টের বিচারপতি হয়ে যায় আমরা আম ভারতীয়রা ভাবি, আমাদের জীবন, আমাদের স্বাধীনতা এবং আমাদের গণতন্ত্রের উপর আমাদের নিরঙ্কুশ দখল রয়েছে। আসলে গান্ডু হওয়ার জন্য বেশি কিছু লাগেনা অন্ধ ভক্তি ছাড়া।

এগুলো কোনো ব্যতিক্রমী কিছু নয়, মারাঠা রাজনীতির বেশিরভাগ নেতা- হয় দলীয়ভাবে নয়ত ব্যক্তিগতভাবে এই গুজ্জু কার্টেলের অংশীদার, প্রতক্ষ্য বা পরোক্ষ যে রূপেই হোক। নয়তো গুজ্জু মোদানি কার্টেল এদের আরব সাগরের জলে বিসর্জন দিয়ে দেবে।

মুকেশ আম্বানির নেতৃত্বাধীন রিলায়েন্স গ্রুপ সস্তা রাশিয়ান তেল কিনে বাজারে প্রিমিয়াম দামে বিক্রি করে বিশাল মুনাফা অর্জন করেছে, রাষ্ট্রের দরিদ্রতম ব্যাক্তিটাও এই প্রিমিয়াম দরে পেট্রোল/ডিজেল কিনেছে বাধ্য, কারন গুজ্জু কার্টেলের মোদী-শাহ সেই সুযোগ দিয়েছে আম্বানিকে। সস্তার তেলের লাভ ভারতের কোনও আম নাগরিক পায়নি, আমাদের জীবন উন্নত করার তাগিদে নয় গুজ্জু কার্টেল কাজ করেনা- তারা শুধু মাত্র নিজেদের স্বার্থ সুরক্ষিত করে গেছে।

গুজ্জু কার্টেলের প্রতিটা প্রোজেক্টের জন্য অর্থ সরবরাহ করা হয় আমার আপনার গচ্ছিত সঞ্চয় থেকে, জনসাধারণের সম্পদ রাষ্ট্রায়াত্ব ব্যাঙ্ক থেকে। হিন্দুত্ব আর দেশপ্রেমের নামে গড়া এই ভেদাভেদের খুনে রাজনীতিতে লাভবান দিনের শেষে এই গুজ্জু কার্টল। আপনি কোন লাভটা পেয়েছেন ধর্মের এই রাজনীতি থেকে?

আমরা বেশিরভার মানুষ কুকুর শিয়ালের মতো জীবন যাপন করছিভাবছি আমরা স্বাধীন, আসলে আমরা মানসিক প্রতিবন্ধী। আমরা নিজেরা চিন্তা করিনা। অন্য কেউ আমাদের হয়ে চিন্তা করে দেয়বেশিরভাগ মানুষ নিজে সিদ্ধান্ত নিইনা, আমাদের হয়ে অন্য কেউ সিদ্ধান্ত নেয়

আমরা সারাদিন রিলস দেখে জ্ঞান সঞ্চয় করি। হোয়াটস্যাপে আসা মেসেজকে মনে করে শিক্ষা। ঝালমুড়ি সিনেমার গল্পকে ইতিহাস মনে করি। সোস্যালমিডিয়াই আমাদের ভূগোল। ইউটিউব আমাদের লাইব্রেরী। কোনো সুস্থ স্বাভাবিক কাজ না পাওয়া 'স্যোসাল ইনফ্লুয়েন্সারেরা" শিক্ষক।

আমরা গুজ্জু কার্টেলের শিকার হবোনা তো কে হবে?

 



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

তৃণমূলের প্ররোচনার ফাঁদে পা দেবেন না

⛔ সতর্কতামূলক পোষ্ট ⛔ আজ SIR এর ভোটারলিষ্ট বার হবার পর- জনরোষের দোহায় দিয়ে দিকে দিকে ‘সংগঠিত অশান্তি’ লাগাবার ‘ফুল প্ল্যান’ নিয়ে এগোচ্ছে শাা...