মেঘ ফাটে, বৃষ্টি নামে কিন্তু সরকার ঘাবড়ায়না, কারণ বন্যায় শব ভেসে যায়, উৎসব নয়, ভোটের উৎসব।
মাত্র ৩ বছর আগে উত্তরাখণ্ডের এই ধরালিতে মাত্র ২০টি বাড়ি ছিল, যেমনটা পাহাড়িদের হয়। শেষ ৩ বছরে পর্যটনের নামে ২০০টির বেশী বড় বড় বিল্ডিং তৈরি হয়েছে। নিয়ম হচ্ছে নদী তীর থেকে কমপক্ষে থেকে ২০০ মিটার দূরে হোটেল-রিসর্ট তৈরি করা। কিন্তু, কিন্তু- এই বিল্ডিং গুলো পরিবেশের নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে একদম প্রায় নদী গহ্বরেই তৈরি করা হয়েছিল।
কেন্দ্র সরকার, রাজ্যসরকার, স্থানীয় MP, স্থানীয় MLA, স্থানীয় জিলা পরিষদ, স্থানীয় পঞ্চায়েত সব বিজেপির। আরতি অরুণ সাঠে, যে ২০২৩ সালেও মহারাষ্ট্র বিজেপির রাজনৈতিক মুখপাত্র ছিল, আজ থেকে তিনি বোম্বে হাইকোর্টের বিচারপতি হয়ে গেছে। এদের রাজত্বে কেউ কীভাবে সুরক্ষিত থাকতে পারে?
কংগ্রেস বা অন্য কেউ থাকলে যে পরিস্থিতি বদলে যেত সেটা নয়, আমাদের রাজনৈতিক ব্যবস্থাটাই আসলে এমন, ভিতর থেকে ভঙ্গুর ফাঁপা। নির্দিষ্ট পরিমানের একটা ঘুষের বিনিময়ে আইনের মা-মাসি করা জলভাত। সেই টাকার ভাগ দিল্লির আমলা-মন্ত্রী মহলেও ঠিক পৌঁছে যায় শতাংশ হিসাব করে। এই হোয়াইট কলার চোরেরা সুরক্ষিত থাকে, মারা যায় লোভী লগ্নিকারীর অর্থ আর কিছু পর্যটকের সাথে পেটের দায়ে কাজ করতে আসা গরীব পরিযায়ী কর্মচারীর দল।
এই ধরনের অঞ্চলে কোনো ধরনের কনস্ট্রাক্সন করা পরিবেশ মন্ত্রকের গাইডলাইন মতে সম্পূর্ণ অবৈধ। তাহলে এটাকে কী শুধু মাত্র প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলে দায় এড়িয়ে দেওয়া যাবে? এটা কী মানবসৃষ্ট দুর্যোগ নয়? রাষ্ট্রব্যবস্থার ব্যর্থতা নয়? শুধু উত্তরাখণ্ড নয়, হিমাচলে, কাশ্মীরে, কালিম্পং, সিকিমে, অরুণাচলে, মেঘালয়ে- সর্বত্র সাংবিধানিক আইনকে উল্লঙ্ঘন করার উৎসব চলছে, সাথে দেদার লুঠ। হারামের কামাই দিয়ে বিদেশী ব্যাঙ্কে জমছে সম্পদের রাশি।
আগামীকাল, হিমালয়ের আবার
কোনো একটা অঞ্চলে এমন ‘বিকাশ’ হবে, আরেকটি ধরালিকে
মানচিত্র থেকে মুছে ফেলবে প্রকৃতির রোষ। এবং, তারপর- নির্বাচনী ফানুসে চড়ে কোনো বিশ্বগুরু আসবেন উন্নয়নের ফেরিওয়ালা হয়ে। চারটে গালফোলানো
বুলি আউড়িয়ে উড়ে যাবে ঘুষের ভাগা নিতে। আমি আপনি এই গণতান্ত্রিক অশ্বমেধের যজ্ঞে বলিদানের ঘোড়া হয়ে আত্মতৃপ্তি লাভ করব “ভোগের সমিধ” হয়ে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন