মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই, ২০২৫

বাঙালী অত্যাচার



বাঙালির উপর অত্যাচার আজকে নতুন কিছু নয়। মুম্বাইতে বিহারি খেদাও অভিযান, এটাও খুব পুরানো নয়। আসল কথা গরিবের উপর অত্যাচার। কোন বড়লোকের উপর আজ অব্দি কখনো কোন রাজ্যে, কোন দেশে অত্যাচার হয়নি।

চতুর্দিকে প্রচারণার আলোকে থাকা তথাকথিত 'বাঙালির উপর অত্যাচার', এই ডাইলেক্ট এর বাইরে গিয়ে আমার এই লেখাটা আপনাকে ঝটকা দেবে। প্রচারণার ধাক্কানিনাদে আমরা কি ক্রমশ সত্য থেকে দূরে সরে যাচ্ছি না?
বাঙালির প্রথম কর্তব্য মমতা ব্যানার্জিকে অবিশ্বাস করা। এটা করতে পারলে আপনি প্রাথমিকভাবে সফল, এবং আপনার চোখ মন এবং ভাবনাচিন্তা সঠিক বিষয় কাজ করবে। নতুবা আপনি এদের প্রচারণার তাবুতে নিজেকে ঢেকে ফেলে ঠিক ততটুকু দেখবেন, যেটা এরা দেখাতে চাইছে।
যে রাজ্যে হামলা হচ্ছে সেখানে মমতা সরকারের কোন বিধায়ক বা সাংসদ যায়নি। না এর বিরুদ্ধে রাজ্য সরকার কোন বিল পাস করেছে। না সংসদে কোন আওয়াজ তুলেছে তাদের সাংসদেরা। না কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে দিল্লিতে গিয়ে আন্দোলন করেছে। তৃণমূলের সাংসদ সামিরুল আলম নিয়মিত রোজ মিথ্যাচার করে যাচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়াতে। এর সাথে আরও সাঙ্গোপাঙ্গগুলো তো রয়েছেই।
RSS যেমন হিন্দুদের চুতিয়া বানাচ্ছে রোজ, তৃণমূল তথা মমতা ব্যানার্জি দুধেল গাইদের গান্ডু বানাচ্ছে বিজেপি জুজু দেখিয়ে।
মমতা ব্যানার্জি গেছে বীরভূমে, এরপর যাবে মালদা মুর্শিদাবাদে। কারণ এখানকার পরিযায়ী শ্রমিকেরাই আক্রমণের শিকার হচ্ছে। এদের পরিবারের ভোটগুলোকে সুরক্ষিত করতে তাদের সান্ত্বনা দিতে যাচ্ছে। যেখানে আক্রমণ হচ্ছে সেখানে যায় না গিয়ে।
মাননীয় যে দ্রুত এই সাজানো মামলায় সেমসাইড করবে - সেটা প্রত্যাশিত ছিল। প্রতিটা পদক্ষেপ দূর্নীতিতে ডুবে থাকা এই সরকারের দরকার নতুন নতুন ইস্যু। যাতে করে দুর্নীতির প্রশ্ন কক্ষনো না ওঠে, সাথে রয়েছে সেটিং করে থাকা তথাকথিত বিপ্লবী বিরোধী এবং একই হাঁড়ির রান্না খাওয়া বিজেপি। মানুষ দিশেহারা হচ্ছে, হবেও; তবে শেষও আছে।
শ্রমজীবী মানুষের উপর অত্যাচার হচ্ছে, এর চেয়ে বড় সত্যি ভারতবর্ষে কমই আছে; কিন্তু মাননীয়া যেটা দেখাচ্ছেন সেটা যে অধিকাংশটাই বানোয়াট, এ বিষয়ে সন্দেহ আমারও ছিল না। তাই এ নিয়ে সাম্প্রতিক অতীতে কোন লেখা নামাবার ভরষা পায়নি।
কোথাও তো একটা বড় ষড়যন্ত্র রয়েছে। আগামীতে প্রতিটা গল্প ফাঁস হয়ে যাবে- ঠিক কোথায় কে এই অত্যাচারগুলো করেছিল। লিখে রাখুন, প্রতিটা হামলার নির্দিষ্ট পরিকল্পনা আছে। যার জন্য তৃণমূলের একটা সেল কাজ করে যাচ্ছে। প্রতিটা হামলাত এনডোর্সসিং, প্রোডিউস ও প্রোমোট সবটাই করেছে তৃণমূল।
মিডিয়া এই গোটা নাটকের একটা বড় অংশ জুড়ে রয়েছে। টিভি মিডিয়া এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় উত্তেজনা তৈরি করার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে চোর সরকারের পক্ষে। গোটা ষড়যন্ত্রের বড় স্টেক হোল্ডার , দল তৃণমূলের পরেই।
আপনারা সবাই জানেন গুন্ডা কে কন্ট্রোল করে।
বড্ড দুর্বল চিত্রনাট্য, খুব বাজে অভিনয়। সব মিলিয়ে ধরা পরতেই হতো। ভিনরাজ্যে ঘটে চলা প্রতিটা অত্যাচারের পিছনে এই দল তৃণমূল রয়েছে যারা টার্গেট করে কোথাও পুলিশ সেজে কোথাও গুন্ডা সেজে অত্যাচার চালাচ্ছে। প্রতিটা ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট প্রমাণ আছে। হামলাকারী=তৃণমূল। যে জল মাননীয়া ঘোলা করে মানুষকে ঘুলিয়ে দিতে চেয়েছেন, সেটাই উনার জন্য বুমেরাং হয়ে যাবে। যাতে করে এই রাজ্যে একটা অবাঙালি দের প্রতি ক্ষোভ তৈরি হয় এবং সেটাকে কেন্দ্র করে হানাহানি শুরু হয়ে যায়।
সিট বেল্ট বেঁধে বসে পড়ুন, SIR এর নোটিফিকেশনে রাজ্য সরকারি কর্মীদের রীতিমতো হুমকি-ধমকি দিয়ে ফেলেছেন। এরপর আরো নাটক শুরু হবে। কমপ্লিট এন্টারটেইনমেন্ট আসতে চলেছে। মহারাষ্ট্রের মতো এই রাজ্য সোশ্যাল মিডিয়াতে সরকারের সমালোচনা নিষিদ্ধ হলে আশ্চর্য হবেন না।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

তৃণমূলের প্ররোচনার ফাঁদে পা দেবেন না

⛔ সতর্কতামূলক পোষ্ট ⛔ আজ SIR এর ভোটারলিষ্ট বার হবার পর- জনরোষের দোহায় দিয়ে দিকে দিকে ‘সংগঠিত অশান্তি’ লাগাবার ‘ফুল প্ল্যান’ নিয়ে এগোচ্ছে শাা...