গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসানোতেই কি একমাত্র সমাধান?
টিভি খুলুন, সারাক্ষণ মারাত্মক ভয়ের পরিবেশ- এই বোধহয় আপনার পালা। সোশ্যাল মিডিয়াতে ‘ভলেন্টিয়ার’, এর সাথে রয়েছে মোদী-মমতার ইমেজ বাঁচানো হরেক পেইড বিজ্ঞাপন, যেগুলো ঠিক খবরের মতোন করেই আপনার কাছে পরিবেশন করা হচ্ছে। আপনি এইসবের মধ্যে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পরেছেন।
ধর্ম দিয়ে মানুষকে সফট টার্গেট বানানো যায় অনায়াসে, ফলত ধর্মও যে কখনও কখনও সফট টার্গেট হবে তা বলাই বাহুল্য। যার জন্য কখনও নিজামুদ্দিন জামাত কিম্বা এবারের কুম্ভ- দেগে দেওয়ার একটা সহজ পন্থায় মানুষকে কটা দিন এই সব ফালতু চর্চার মধ্যে রেখে সরকার দিব্যি গা বাঁচিয়ে নিল।
আচ্ছা বলুন তো, এতে আপনার কী লাভ হয়েছে?
মিডিয়া জুড়ে সারাক্ষণ চিতা জ্বলল, এলাহাবাদ গঙ্গার তীরে সারি সারি শব- আপনার ভয় পাওয়াটাই স্বাভাবিক। একবারও ভেবেছেন, মিডিয়ার যেখানে আপনাকে সচেতন করার কথা ছিল, সেটা না করে আপনাকে সন্ত্রস্ত করে রাখার মাঝে ওদের লাভ কী? ওরা শুধু চিতাল কেন দেখানো হল, কবর কী দেখান যেতনা! এক্ষেত্রে শুধুই হিন্দু কেন?
কেউ জানে না করোনা কীভাবে ছড়াচ্ছে, হ্যাঁ আজও কেউ জানে না। যে যা বলছে মনগড়া বলছে, সে মাস্ক হোক, দূরত্ব বজায় হোক বা অন্যান্য সাবধানতা অবলম্বন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) যারা এই প্যানডেমিক ও ইত্যাদি বিষয়ে মূল মোড়লের ভূমিকাতে, তারাও নিশ্চিতভাবে কিছু লিখিত দিতে পারেনি, উল্টে প্রায় প্রতিটি কথা একে অন্যের সাথে পরস্পরবিরোধী। এরা ক্ষুধিত পাষাণের মেহের আলী সেজে বসে আছে। লকডাউনের জন্য সর্বোচ্চ সাওয়াল করে বিশ্বের অর্থনীতিকে কোমায় পাঠিয়েছিল, এ বছরে বলছে ওটা ভুল ছিল।
গত বছর কেন্দ্র সরকার লকডাউন করেছিল, এ বছর রাজ্য সরকার করেছে, মানুষের ভোগান্তি একই আছে। প্রতীক্ষায় আছি, এরাও কবে বলবে- “তফাত যাও, তফাত যাও! সব ঝুট হ্যায়, সব ঝুট হ্যায়”।
আমরা সাধারণ জনগণ, পাকা আতার মতো বুদ্ধিমান; ঠিক ভুলের পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব করি তার সাধ্য কী! তার উপরে- সরকার যাহা বলে তাহাই সত্য, তাহার ব্যত্যয় ভাবি সাধ্য নেই, পেয়াদা পাঠিয়ে কবে দেয় শ্রীঘরে ভরে। তার পরেও কিছু অসভ্য, প্রশ্ন তোলে বৈকি- যেমন আমি। দেশে অক্সিজেনের অভাব, এই নিয়েই সকলে মেতে রয়েছে। এর ফাঁকে বহু প্রশ্ন বর্ষার লবণের মতো গলে- সময়ের ড্রেনে মিশে হারিয়ে যাচ্ছে।
ভারতে এই মুহূর্তে উপলব্ধ দুটি ভ্যাক্সিনই তার তৃতীয় দফার ‘ট্রায়ালে’ রয়েছে। সরকার পরিষ্কার বলে দিয়েছে, ভ্যাকসিন নিয়ে সরকারের কোনো দায় নেই, নিলে নিজ দায়িত্বে নিন। পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে দেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী যা বলার বলে দায় সেরে রেখেছে।
দুটো ভ্যাক্সিন কোম্পানি- কোভিশিল্ড ও কোভ্যাক্সিন, তাদের ওয়েবসাইটেই গোটা গোটা অক্ষরে লিখে দিয়েছে- কেবলমাত্র ‘ইমারজেন্সি রোগীর ক্ষেত্রে’ ব্যবহারের জন্য। কিন্তু সুস্থ মানুষেরা পিঁপড়ের ঝাঁকের মতো ভ্যাক্সিনের জন্য হিতাহিতজ্ঞানশূণ্য হয়ে দৌড়াচ্ছে। প্রথম ডোজ নেওয়ার পরই শুধু নয়, দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার পরেও তাদের মাঝে মৃত্যুহার ব্যাপক। গ্রামাঞ্চলে সেভাবে ভ্যাক্সিনেশন হয়নি, যা হয়েছে শহরাঞ্চলের মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্তদের মাঝে, অথচ আশ্চর্যজনক ভাবে সেখানেই মৃত্যুহার বেশি। স্পষ্ট করে বললে দেখা যাচ্ছে- যারা মারা যাচ্ছে, তাদের অধিকাংশই ভ্যাক্সিন নেওয়া সুস্থ মানুষের দল।
গত পয়লা জুন তারিখ হিন্দি সন্মার্গ পত্রিকাতে একটা প্রতিবেদন বেড়িয়েছে, একটি RTI এর তথ্যে সরকার যা জবাব দিয়েছে- তাতে মৃতেরা আবার প্রশ্ন করতে পারে, “আমাদের কেন শুধুশুধু গিনিপিগ বানানো হলো!” সত্যি বলতে আপনাকে গিনিপিগ কেউ বানায়নি, না সরকার কোনো GO বেড় করেছে ‘ভ্যাক্সিন বাধ্যতামূলক’ মর্মে না ভ্যাক্সিন কোম্পনি নিজে বলেছে ভ্যাক্সিন কিনুন। আপনি মিডিয়ার নিরবিচ্ছিন্ন প্রচারেই মেতে গেছেন। অপেক্ষা করুন এরপর ‘ডিজাইনার ভ্যাক্সিন’ শপিংমলেও পাবেন।
কোনো বায়োকেমিষ্ট বলতে পারেনি, কেন করোনা জাতের অন্য ভাইরাসের ভ্যাক্সিন বাজারে নেই, তাও করোনার ভ্যাক্সিন বাজারে বিক্রি হচ্ছে। যে সরকার মূলত ভ্যাক্সিন কোম্পানির এজেন্টের ভূমিকাতে, সেই সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রকও স্বীকার করে নিয়েছে, দুটো ভ্যাক্সিনই হৃদয়ে রক্ত জমাট বাঁধাচ্ছে। আপনি চ্যালেঞ্জ করবেন, সে উপায় নেই- কারণ করোনাতে মরা রোগীর পোস্টমর্টেম হয় না কোনো এক অজানা কারনে। ভ্যাক্সিন-কোম্পানি ও সরকারের এক্কেবারে উইন-উইন সিচুয়েশন, কারণ আইন তারা আগেই ফেঁদে রেখেছে; তাছাড়াও ১৪০ কোটির গুন্তিতে আমাদের জান-মালের কোনও মূল্য আছে কি?
যাই হোক, নিজের ভাল ক্ষ্যাপাতেও বোঝে। প্রত্যেকে তার নিজের বুদ্ধি মতো সিদ্ধান্ত নিক, এই লেখায় প্রভাবিত না হয়ে। আমরা এই প্রবন্ধে একটা অন্য বিষয়ের উপরে নজর দেবো।
ভারতের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি কারা জানেন? ২০২১ সালের মার্চে প্রকাশিত ফোর্বস পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী অবশ্যই প্রথমে মুকেশ আম্বানি এবং দ্বিতীয়তে গৌতম আদানি।
এই তালিকাতে অষ্টম নম্বরে একটা নাম আছে- সাইরাস পুনাওয়ালা। শেষোক্ত দুইজন শেষ ৭ বছরে ৭ ধাপের চেয়েও বেশি উপরে উঠেছে।
একজন সামান্য ঘোড়ার ব্রিডার থেকে ভ্যাক্সিন কোম্পানির মালিক হওয়াটা তেমন আশ্চর্যের নয়, কারণ ভ্যাক্সিন তৈরির প্রক্রিয়ার সাথে ঘোড়ার সম্পর্ক অঙ্গাঙ্গী। কিন্তু সে কীভাবে এই জুনের শেষে ভারতের তৃতীয় সর্বোচ্চ ধনী হয়ে যাতে পারে! ইয়ে, একবার আগুনও ধরে গেছিল- ব্যাস নথি নেই বলার জন্য আর কি চায়!
একটা আনলিস্টেড কোম্পানি, যার অথোরাইজড ক্যাপিটাল ৫৫ কোটি টাকা, সে ৩০০০ কোটির ঋণ পেয়ে পায় পাবলিক ব্যাঙ্ক থেকে। তার পরেও সরকার তাকে সুদমুক্ত ৩০০০ কোটি টাকার সফট লোন দেয় ২০ বছরের মেয়াদে। এর জন্য নিশ্চই প্রয়োজনীয় আইনের সংশোধন যা করার দরকার ছিল, সেটা করে নিয়েছে।
POONAWALLA REAL ESTATES AND HOTELS
Jaypee Hotels
POONAWALLA CONSTRUCTIONS LLP
এই তিন কোম্পানি ২০১৩ সালে খোলা হয়েছিল। ২০১৮ পর্যন্ত সেভাবে আহামরি কোনো কর্মকাণ্ড ছিল না জেপি হোটেলস ছাড়া। তবে এসব নামে বেশ কিছু বড় বড় ব্যাঙ্ক লোন ছিল, যেটা ২০২১ সালে এসে সকলই ঋণ মুক্ত হয়ে গেছে। এই মুহূর্তে এই কোম্পানি তিনটেই ঋণহীন ব্যক্তিগত মালিকানাধীন। কেন ও কীভাবে নিজে বুঝে নিন- এটাও বুঝে নিন, শাসক দলের নির্বাচনী তহবিলে কীভাবে হাজার হাজার কোটি টাকা উড়ে আসে!
আরেক কোম্পানি, POONAWALLA PROPERTIES PRIVATE LIMITED, এদের একজন হোলটাইম ডিরেক্টর রয়েছে যার নাম দীপক শাহ্, গুজরাটি। আমি সূত্র দিচ্ছি মাত্র, যোগ করে দেখার দায়িত্ব আপনার।
কিছু লোন, যেগুলো শোধ হয়ে গেছিল গত বছরে। প্রসঙ্গত, এরা বিল গেটসের থেকে গত বছর মোটা অনুদান পেয়েছিল।
১) 2020-06-16,
1,842,012,000
BNP Paribas
২) 2020-06-02
2,500,000,000
KOTAK MAHINDRA PRIME LIMITED
৩) 2020-06-08
2,500,000
INDUSIND BANK LTD.
৪) 2020-06-15
579,000,000
KOTAK MAHINDRA INVESTMENTS LIMITED
৫) 2020-05-29
3,279,060,000
The Hongkong and Shanghai Banking Corporation Limited
এছাড়াও-
KOTAK SECURITIES LIMITED
AMBIT CAPITAL PRIVATE LIMITED
PHILLIPCAPITAL (INDIA) PRIVATE LIMITED
ICICI SECURITIES LIMITED
BANK OF BARODA
EXPORT--IMPORT BANK OF INDIA
JULIUS BAER WEALTH ADVISORS (INDIA) PRIVATE LIMITED
Citi Bank N.A.
এই সকল ব্যাঙ্কগুলোতে এই মুহূর্তে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার ঋণ বাকি ছিল, যা এই বছর শোধ হয়ে গেছে। মুকেশ আম্বানির রিলায়েন্সের পদাঙ্ক অনুসরণ করে অন্যতম ঋণমুক্ত কোম্পানি হয়ে গেছে, এবারে ইংল্যাণ্ডের অভিজাত পার্ক কেনার বিড করেছে ‘সিরামের’ মালিক, হয়ত বা ছোটখাটো একটা দেশও কিনবে শিগগিরি।
একটা অবাস্তব হিসাবের গল্প শোনায়। অঙ্কটা কিছুটা এমন- গড়ে প্রতি ডোজ (সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে) ৩০০ টাকা। বছরে দুটো করে ডোজ, ৩ বছর- অর্থাৎ ৬ টা ডোজ। ১০০ কোটি ভারতীয়কেই যদি কাস্টোমার ধরা হয়- ১৮০০ টাকা x ১০০ কোটি। কত হয়? ওই ১ লাখ ৮০ হাজার কোটির মতো। নতুন ১৮ বছর বয়সী, পড়শি দেশ মিলিয়ে ওটা ওই রাউন্ড ফিগারে ২ লাখ কোটি ধরেই নিন, মানা তো কেউ করছে না। ভ্যাক্সিনের দাম হয় আমার আপনার পকেট থেকে সরাসরি যাবে, নতুবা ট্যাক্সের টাকা থেকে সরকার দিয়ে দেবে- ভ্যাক্সিন কোম্পানি টাকা উশুল করে নেবে।
মিডিয়াকে ধরুন- ২০ হাজার কোটি
শাসক দলের ফান্ডে- ৩০ হাজার কোটি
ভ্যাক্সিন ওয়ালার- ৫০ হাজার কোটি
বাকিটা মাস্টারমাইন্ড- গেটস ফাউইন্ডেশনের।
লগ্নি কিন্তু ছিল- ৭ হাজার কোটি মাত্র।
আমার কচকচানি শেষ, চলুন- টিভিটা খুলে এবার ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের গল্পটা শুনি।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন