ওনারা সব
পেয়েছেন,
আপনি কী পেয়েছেন?
১) একটা ‘নীতিনির্ধারক কমিটির’ ৭৯% সদস্য কখনও না কখনও
জনপ্রতিনিধি ছিলেন।
২) সেই কমিটির ৭০ শতাংশেরও কিছু বেশি জনের স্ত্রী/ঘরের লোক সরকারি চাকরি করেন বা করতেন- যা পুর্বতন সুসময়ে, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার থাকাকালীন সময়ে প্রাপ্ত।
৩) অতএব, ওই সকলেরই মাস শেষে পেনশনের আর্থিক সুরক্ষার নিশ্চয়তা রয়েছে। এনারা নিজেরা কেউ সর্বহারা নন, প্রত্যেকের ভাত ডাল রুটির সংস্থান আছে। সেই অর্থে কেউ কৃষক, শ্রমিক শ্রেনীর প্রতিনিধিও নয়, বরং সুবিধাবাদী মধ্যবিত্তের প্রতিনিধি।
৪) অল্প বিস্তর ব্যাঙ্ক ব্যালেন্সের সাথে হরেক রকমের বীমাপত্র রয়েছে প্রায় নব্বই ছুঁইছুঁই শতাংশ জনের।
৫) ৮০ শতাংশের কিছু বেশি জন- কখনও না কখনও লালবাতি লাগানো গাড়ি চড়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা চেটেপুটে ভোগ করেছেন, চুইয়ে চুইয়ে সব রস আস্বাদন করেছেন দীর্ঘদিন ধরে।
৬) তাদের মধ্যে ৯০% জনের অনেকটাই বেশি - দলীয়ভাবে উঁচু উঁচু পদে পৌঁছে গেছেন সেইকালেই, অর্থাৎ চূড়ান্ত দলীয় ক্ষমতা ভোগ করেছেন ও করছেন।
৭) ৮২ শতাংশের কিছু বেশি জনই, ভাল ভাল জায়গাতে ঘরবাড়ি বানিয়ে নিয়েছিল, হাতে যখন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ছিল। অর্থাৎ কেউ ভূমিহীন নন।
৮) ৭২ শতাংশের কিছু বেশি জন, তাদের ছেলেপুলেকে সেই আমলে নানান সরকারি-বেসরকারি সুযোগ-সুবিধা দিয়ে ভাল ভাল স্থানে ঢুকিয়ে দিয়েছে। তাদের অধিকাংশের সন্তানেরা আজ সুরক্ষিত।
৯) এখানে যারা আছেন, তাঁরা সকলেই কমপক্ষে কলেজ পাস কিম্বা উচ্চশিক্ষিত। ভূমীহীন কৃষক, ক্ষেতমজুর, খনিশ্রমিক, পরিবহণ শ্রমিক, চা বাগান শ্রমিক, নির্মান শিল্প শ্রমিক, মাঝিমাল্লা, মৎস্যজীবী, রাইসমিল শ্রমিক, কোল্ডস্টোরেজ শ্রমিক, তন্তুবায়, কুটির শিল্প, কুলি, মুটিয়া, হকার, দিনমজুর এমন অসংখ্যা ক্ষেত্র, যারা আসল শ্রেনীর প্রতিনিধিত্ব করেন- এই সমিতির ৯৭% সদস্য উপরোক্ত পরিবার থেকে আসেননি।
১০) সংখ্যালঘু মুসলমানের প্রতিনিধিত্বও মাত্র ১১%, মহিলা ১৫%, আদিবাসী ৪%। অথচ প্রায় ২৭% ব্রাহ্মণ্যবাদী পদবী যুক্ত।
১১) মূল কমিটিতে একজনও রেগুলার প্রাক্টিসরত আইনজীবি নেই, একজনও অর্থনীতিবিদ নেই। কোনো কমার্স বিশেষজ্ঞ নেই, কোনো চাটার্ড একাউটেন্ট নেই, না রয়েছে কোনো স্ট্যাটেস্টিসিয়ান, না কোনো তথ্যপ্রযুক্তিবিদ, না কোনো কৃষিবিদ, না কেউ ম্যানেজমেন্টের ছাত্র।
অর্থাৎ এনারা না জানেন আইন, না বোঝেন অর্থনীতি, না বোঝেন বানিজ্যিক হিসাব, না বোঝেন রাশিবিজ্ঞান। আর তথ্যপ্রযুক্তি থেকে এনাদের যা দুরত্ব, তার চেয়ে চাঁদ- পৃথীবির অনেক কাছে। গোটা কমিটিটাই কার্যত মধ্যমেধার অকারণ মানুষজন দিয়ে ভর্তি।
১০) এই কমিটির ৭০%ই সরকারি হিসাবে অবসরের বয়স পেরিয়েছে বেশ কিছু বছর আগে।
১১) এনাদের ১০০% কেউ কখনও জঙ্গি আন্দোলন করেননি সারা জীবনে, ৪৮% সারাজীবনে কোনো আন্দোলনই করেননি।
আপনিই বলুন, এমন বিচক্ষণ মানুষেরা- ‘সেটেলড’ নির্ভাবনাময় অবসর জীবন ছেড়ে, কেন আন্দোলনমুখী হয়ে অযথা স্থিতিশীল জীবনে হুজ্জতি আনবেন? গুছিয়ে অবসর জীবন উদযাপন করছেন ৮৭% জন।
সমস্যায় আপনি আছেন, সমস্যায় আপনার পরিবার আছে, সমস্যায় আপনার প্রতিবেশী আছে, সমস্যায় রাজ্য তথা দেশ আছে, চাকরি আপনার ছেলের দরকার, মাসিক রোজগারের সুরক্ষা আপনার দরকার, মাথায় স্থায়ী ছাদ আপনার দরকার, শিক্ষা ও চিকিৎসার মৌলিক দাবী আপনার ব্যাক্তিগত, রাজনৈতিক উচ্চাশা আপনার রয়েছে, আপনার ঘরের লোক বেকার, আপনার সন্তানের শিক্ষা নেই। আপনি আন্দোলন করুন, লড়াইয়ের ময়দানে যায়- দায় আপনার। মার খান, গুলি খান, মামলাতে জর্জরিত হোন- যা খুশি হয়ে যাক, আপনার যাবে।
উপরোক্ত ওই কমিটির কীসের অভাব রয়েছে! একটা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের কোন কোন চাহিদা থাকে যা তাঁরা পাননি? একটা রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্বের কোন অধরা আকাঙ্ক্ষা থাকলে পরে লড়াইয়ের উদগ্র বাসনা জন্মায়? তেনারা নতুন করে কী পাবার জন্য মিছিমিছি হল্লাচেল্লা করবেন?
এনারা একপ্রকার সর্বদিক থেকে মোক্ষ লাভ করে মহানির্বাণ প্রাপ্ত হয়েছেন, তাই পরিস্থিতি যতই জটিল, যতই উত্তাল হোক না কেন, এনাদের ব্যক্তি জীবনের প্রশান্তিবলয় ভেদ করে- আমার, আপনার সমস্যার কথা ঢোকাবার সাধ্যি নেই। ধ্যানস্থ বুদ্ধের মতোই এনারা বোধিসত্ত্বে উত্তীর্ণ মহাপুরুষে পরিণত হয়ে অপার্থিব হয়ে উঠেছেন।
খেয়াল রাখতে হবে, শৃঙ্খলা যেন ভঙ্গ না হয়। কারণ প্রশান্তির ধ্যান তাতে ভঙ্গ হতে পারে।
সকলকে জানাই বর্ণালিমিতি সেলাম।
কিছু একটা
জিন্দাবাদ।
(আস্তে আস্তে মনে মনে পড়বেন, ভগবান নিদ্রা গিয়েছেন, কুপিত হতে পারেন)
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন