শনিবার, ২৮ অক্টোবর, ২০১৭

।। আত্মকথা ।।

শুরুটা কিভাবে করা যায় সেটা ভাবতে গিয়ে একটু ছ্যাকা খেলাম। তবুও ভাবলাম যদি না দিই এই ট্রেন্ডে, সমাজ কি আমায় মেনে নেবে!
ইতিহাস বলে কোনো এক ঘোষ অমাবস্যা তিথিতে 'তুকুড়ি' লগ্নে জন্ম। তার পর বাকিরা যা যা করে আমিও তেমনটাই করেছি। ফারাকটা হল তখন, যখন সকলের বাল দশা ঘুচে বোধি প্রাপ্ত হয়ে উঠল, আমি সেই আবাল দশাতেই রয়ে গেলাম। জন্মের পর দিদা মুখে গুঁড়ো বাতাসার পরিবর্তে সম্ভবত ভুল করে গ্যামাক্সিন দিয়েছিলেন, তাই কথাবার্তাতে কোনো তার শোয়াদ নেই। গরীবের সংসারে মধু না থাকার প্রত্যক্ষ কারন।
এর পরও অন্যদের অনুকরণ ও অনুসরণ করে বাকিরা যেমনটি যেমনটি করে ইশকুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যায়য়ের গণ্ডি টপকেছে আমার ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি।
ছোট বেলায় ইচ্ছা ছিল বাবা হব, কারন জানিনা, পরে বাবা হবার কারন হব এমন ভাবনাতে স্টে করেছিলাম।
আমি ছবি আঁকতে পারিনা, গান গাইতে পারিনা, মদ খাইনা, মামনি বাজিতে পাত্তা পাইনা। কবিতা আসেনা, গল্পে গরু গাছে তুলে ফেলি, প্রবন্ধের পাঠক কবন্ধেরা। তবে টেরাই মারি, পিসির মত সব কিছুতেই। ঝাড়ি মারিনা কারন ভুলে যাওয়া রোগ আছে, পরে নিশ্চিত ধরা খেয়ে যাব। আমি পোষ্ট পড়ি কম, মন্তব্য বেশি পড়ি। আমার মতে ওখানেই বেশি মনিমানিক্য থাকে ফেবু পাড়াতে। চায়ের দোকানে বসে নাসা থেকে আমাশা, যে কোনো বিষয়ে মতামত দিতে পারদর্শী , যেমনটি বাঙালিরা দেয়। উৎসব দঙ্গলে হেদিয়ে পরি, বই পাড়াতে উদাস সাজি, বিডন স্ট্রিটে সবজান্তা।
ঘরের খেয়ে বনের মোষ তারানোটাই একমাত্র পোর্টফোলিও।
বিদঘুটে নাম, পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির সাথে সাযুস্য হলেও; আদতে কিন্তু সেই দুর্বল স্পেনীয় বীর্যজাতই। আদ্যোপান্ত মাছেভাতে বাঙালী, কড়ে আঙুল দিয়ে নাক খুঁটি, গঙ্গা স্নানে গেলে হিসি পায়ই পায়, দুপুরে ভাতঘুম আছে, পরকীয়া দেখতে শুনতে ও করতে হেব্বি এন্থু পায়। স্ট্যাটাসকে কাব্য ভাবি, যাদপুরকে বিপ্লব। ভ্রমণ মানে পুরী- দার্জিলিং-পুরী এই ট্রায়ো। আরং এ নাচি, ল্যাদ খেয়ে বাঁচি। সেক্সো কবির রোমিও থেকে, ট্রেনের কামরার হোমিও, ডি কে লোধের পোষ্টার থেকে চটি সব পড়ি। এর মাঝে জীবনানন্দ, সুনীল, গুরুদেব, সুকুমারী, হুমায়ূন যা আছে পেলেই পড়ি।
মা চেয়েছিলেন ছেলে মানুষ হোক, বাবার চাহিদা ছিল মুনিষ। মাঝামাঝি তকাই, বিস্কুট হয়ে লটকাচ্ছি এদিকে ২৬ ওদিকে ২৬ নিয়ে। পেশাতে ব্যাবসায়ী, নেশাতে 'ইয়ে'।
এই নিয়েই রসেবসেতে কেটে যাচ্ছে দিন।
সাথের সেলফিটা দিলাম। উন্মাদের ছবি যখন তখন সেরা উন্মাদের ছবিটাই বেষ্ট।

বুধবার, ২৫ অক্টোবর, ২০১৭

।। সীতার বনবাস ।।



তখন গড়িয়াতে মেসে থাকি আমরা ১১ জন মিলে। ৫ জন ক্লাসমেট, তাই এক সাথেই যাতায়াত করতাম বা যাবতীয় রুটিন প্রায় একই ছিল। একজন কাজের মাসি ছিল, কিন্তু তিনি শুধুই ঘর মোছা, থালা ধোয়া আর কেটে-বেঁটে দিয়ে যেতেন। রান্না নিজেদেরই করতে হত পালা করে। এক সন্ধ্যাতে আমাদের পাঁচজনের রান্নার পালা, হঠাৎ করে সীতানাথ দা এসে খবর দিল যে; সে প্রেমে পরেছে। এই ধরনের খবর মেস বাড়িতে নতুন কিছু নয়, খাওয়া হাগার মতই রোজকার স্বাভাবিক বিষয় প্রেমে পরা ও ছাড়া। কিন্তু সীতানাথ দা তো আর আমাদের মত কলেজ পড়ুয়া লম্পট ছিলনা, তিনি তখন সদ্য বছর খানেক দীনবন্ধু এন্ড্রুজ কলেজে লেকচারার হিসাবে জয়েন করেছে।

ভীষণ একাগ্র মেধাবী ছেলে ছিলেন সীতাদা, আর তার প্রতি আমাদের সকলের একটা গভীর প্রেম বা অনুরাগ ছিল। কারনটা ততোধিক নচ্ছার। মেসে ওনারই একমাত্র কম্পিউটার ছিল, আর ফি শনিবার তাতে প্রায় হোলনাইট পানু প্রদর্শন হত। আশেপাশের মেস থেকেও সম্মানীয় অতিথিরা তাতে অংশ নিতেন চাট ও বোতল সহ। মেসের মালিক যতীন বিশ্বাস পূর্ববঙ্গীয় মানুষ, মধ্য পঞ্চাশের অকৃতদার। উনিও গলাখাকারি দিয়ে এসে রীতিমত সভাপতির পদ অলঙ্কৃত করতেন। প্রথম প্রথম চক্ষুলজ্জার খাতিরে ব্যাপারটা হজম না হলেও পরে সয়ে গেছিল। মানে ওই একটা দিন আমাদের সাপ্তাহিক পিকনিক ছিল। আমরা জানতাম সীতাদা স্বমৈথুন করে, পানু দেখে, আর পড়াশোনাও করে। তা বলে প্রেম! হরপ্পা সভ্যতা আমলে বহরমপুরের স্কুলে পড়াকালীন একটা প্রেমিকা ছিল বটে, আজও তার জন্য রোজ কাঁদে এটাই জানি। উল্টে আমরা যারা নিয়ম করে রোজ প্রেমে পরতাম তাদের মধ্যমা প্রদর্শন করত। তাই ওনার প্রেমিকার খোঁজটা আমাদের কাছে বেশ কৌতুহলেরই ছিল।

তো সীতাদা বলে বসল বাচ্চেলোগ, বিড়ি লাওসীতাদা আর বিড়ি! যাই হোক আমার ভাণ্ডারে ভগাদা বিড়ি কখনই অপ্রতুল রাখেনি। সেখান থেকে একটা বিড়ি সীতাদাকে দিতে, তিনি ধরিয়ে টান দিতেই চোখ নাক দিয়ে জল বের হতে শুরু হল। অনভ্যাসের গলা সইতে পারবে কেন! তার পর শুরু হল বিশাল ভণিতা পর্ব, কিন্তু কি হয়েছে আর বলেনা। পাবলিক উসখুক করছে, এই পর্ব শেষ হয়ে কখন আসল শো শুরু হবে। ধৈর্য নিয়ে বসে আছে, কিন্তু সীতাদা ভাবছে তাঁরা বোধহয় তার প্রেমের গল্পেই মশগুল। শেষে যখন আজ আর পানুশো হবেনা ভেবে, খাওয়া দাওয়া সেরে যে যার মত শুয়ে যাবার উপক্রম করছে; সীতাদা বুঝল পাবলিক আকর্ষন হারিয়েছে। তখন আবার তোড়জোড়ে দ্বিতীয় কনক্লুসন পার্টের ঝাঁপি খুলে বসল।

বিশদে সে অনেক কথা, কিন্তু চুম্বকে যেটা জানা গেল, উনি যে মেয়েটির প্রেমে পড়েছে সেটি পুলিসের মেয়ে, তারই কলেজের তথা ক্লাসের ছাত্রী। তাই ভয়ে তাকে বলা তো দুরঅস্ত ভাবলেই যেন ক্লীব হয়ে যাচ্ছে। প্রতিটি দলেই একটা হোৎকা টাইপের হুপোমার্কা বন্ধু থাকে, যারা সবেতেই হ্যাঁ বলে। যথারীতি বাবাই বলে বসল, চলো গুরু তুলে আনব। কারন এর আগে এমনই এক-দুটো কেসে সাফল্য এসেছিল তাই ঝাঁপিয়ে পরতে দ্বিতীয়বার ভাবতে হয়নি। শো শুরুর আগেই পলিটবুর‍্যোর মিটিং বসল, পরদিন রবিবার। অতএব কালই হোক, অভিযানের নেশাতে দুম করে বাবাই এর প্রস্তাব লুফে নিলাম। ৬ জন বাড়ি চলে যাবে পরদিন, সীতাদা বাদে বাকি থাকবে চার। আমি, বাবাই, পার্থ, প্রদীপ। ঠিক হল আমরাই প্রস্তাব নিয়ে মেয়ের বাড়ি যাব, চরৈবেতি।

পর দিন সকাল থেকেই চরম বৃষ্টি, সে কি ভীষণ জোশ সহ বেড়িয়ে ষ্টেশনে এলাম। মেয়ের বাড়ি বালিগঞ্জের এলিট পাড়ায়। সারারাত বৃষ্টিতে বাস ট্যাক্সি প্রায় নেই, শেয়ালদা ষ্টেশনে জল জমে ট্রেন চলাচলও সেই সময় বন্ধ। তখন আমরা ট্যোটাল বিপ্লবী মুডে, এই সব অবরোধ থোড়াই কেয়ার। হেঁটেই পৌছালাম বালিগঞ্জ ষ্টেশনে রেললাইন ধরে ধরে। এড্রেস চিনে চিনে ঠিক বাড়ির সামনে পৌঁছে কলিং বেল টিপতেই একজন পরিচারিকা এসে দরজা খুলে দিল।

- কাকে চাই
- সাহা বাবু বাড়িতে আছেন?
- আছেন, কি বলব?
- বলুন খুব গুরুত্বপূর্ন বিষয়ে কথা আছে।

খানিকক্ষণ পর সেই পরিচারিকা আমাদের ভিতরের বসার ঘরে বসিয়ে রেখে আরো অন্তঃপুরে চলে গেলেন। ফ্যান চলছিল, বাইরে বৃষ্টিটা বেশ জোরের সাথেই আবার এলো তাই ঠান্ডা লাগতে শুরু করেদিল। আসলে আমরা প্রায় চার জনেই কাকভেজা অবস্থাতে ছিলাম। দেখি মধ্য বয়স্ক এক ভদ্রলোক এলেন, দেখেই মনে নয় যেন কোষ্ঠকাঠিন্যের পেসেন্ট। খেকুশে মার্কা চেহারা, মেজাজ তিরিক্ষে হয়েই আছে। ৪০-৪৫ এর মধ্যের বয়স, দশাসই চেহারা। ইনিই যে সেই পুলিস বুঝিনি, পরে নিজেই নিজেকে এড্রেস করতে বুঝলাম। সটান আমি শুধালাম

- অনিন্দিতা আপনার আত্মিয়া?
- হ্যাঁ, বলুন কি বিষয়ে এসেছেন!
- আমরা একটা গুরুত্বপূর্ন প্রস্তাব নিয়ে এসেছি
- কি বিষয়ে সেটাই তো শুধাচ্ছি? কি করো তোমরা?
- সেটা না জালনলেও চলবে- প্রদীপ দীপ্ত ভঙ্গীতে জবাব দিল।
- বুঝলাম, কি বিষয়ে বলুন, আমিই ওর লিগাল গার্জেন
- আগে ওকে ডাকুন, সামনাসামনি ছাড়া কথা বলা যাবেনা- বাবাই বেশ জোরের সাথে কথাকটা বলল
- অনি.........

একটা ভীষণ গোলগাল মোটাসোটা ও স্কার্ট পরিহিতা মেয়ে প্রায় গড়াতে গড়াতে সসামনে এলো। চোখের ফিতে দিয়ে ৫-৬ বার মাপলাম পা থেকে মাথা পর্যন্ত, নাহ প্রতিবারই পাঁচফুটের নিচেই পরিমাপ দাঁড়ালো। ফোলাফোলা গালের আড়ালে থাকা চাইনিস চোখগুলো দিয়ে কুতুকুতু করে আমাদের দেখতে লাগল। তবে যতই অখাদ্য মত গড়ন হোক, সীতানাথের পছন্দ আমাদের তাতে কি! তার বর্ণনার সাথে হবহু মিল দেখে বুঝলাম এনিই তিনি।

- সীতানাথকে চেনো?- আমি শুধালাম
- কোন সীতা?
- এন্ডুজ কলেজের প্রফেসর সীতানাথ পাল
- হ্যাঁ চিনবনা কেন, আমাদের স্যার তো
- আর বাকিটা? - প্রদীপ শুধালো
- কি বাকিটা?
- এই ছোকরা যা বলবে সোজাভাবে বলো- সেই বয়স্ক ভদ্রলোক রাগত স্বরেই বললেন
- শুনুন, আমরা অনিন্দিতাকে তুলে নিয়ে যেতে এসেছি, তার প্রেমিকের আদেশে। এই জালিম দুনিয়া...
মানে এর পর হিন্দি, বাংলা, ইংলিশ, ও পানু সিনেমার বিভিন্ন ডায়লোগকে একত্রে পাঞ্চ করে একটা নতিদীর্ঘ ভাষণ দিতে শুরু করল। আমরা তাতে মগ্ন হয়ে ছুলাম, শেষ হতেই বুঝলাম সেই ভদ্রলোক আমাদের সামনে নেই। এদিকে অনিন্দিতা রেগে কাইমাই করছে বিচিত্র ভাষাতে। বাইরের দিক থেকে আওয়াজ এলো, “কলেজের নামে তুই এইসব করছিস?”

কানে অনুভব করলাম পালাবার গেটে তালা পরে গেল। যথারীতি ১০-১৫ মিনিটের মধ্যে পুলিসের জিপ এসে আমাদের তুলে নিয়ে গেল। তারপর? জীবনে প্রথববার লালবাজারের লকাপ দর্শন। আর ক্যালানি!! শুধু পাছাতে, আজও আয়নাতে পাছা দেখলে শিউরে উঠি। পরদিন আমাদের মেসের মালিক ব্যাক্তিগত বন্ড দিয়ে ছাড়িয়ে নিয়ে এলেন আমাদের।

আমাদের মামাবাড়ি যাবার খবর মেস পর্যন্ত পৌছাতেই সীতা বনবাস নিয়ে গায়েব হয়ে গেছিল।

পরে তাকে কলেজে গিয়ে একবার শুধিয়েছিলাম- সীতা দা তুমি কি জানতেনা যে অনিন্দিতা পুলিসের মেয়ে নয়, বয়স্ক পুলিসের তরুনী স্ত্রী। আমরা না হয় জোশের বসে প্রায় না থাকা সিঁদুর খেয়াল করিনি ওই অন্ধকারাচ্ছন্ন ঘরে, কিন্তু তুমি?”!

সীতাদার একটাই জবাব ছিল- কম্পিউটারটা আমি আর নিয়ে আসছিনা বুঝলি, তোরা ব্যবহার করতে পারিস

~সমাপ্ত
উন্মাদ হার্মাদ

  

চুলকানি

 


১)

রাত তখন দুটো। চুলটা শাঁকচুন্নিদের মতো এলোমেলো করে বেডরুম থেকে বেরিয়ে এলো তৃষা। কি কারনে! কারন কি আর একটা যে সেটাকে রসিয়ে রসিয়ে বলা যায়! তবে  টেনসন হলে চুল সে এলোমেলো করবেই। এ এক ধরনের প্রতিভা, যেমন কবি কলম ধরে কবিতা লেখেন, ভাস্কর মুর্তি গড়েন ছেনি-হাতুরি দিয়ে, তুলি দিয়ে চিত্রকর ছবি আঁকেন; তৃষাও তেমনই ওর ওই সুন্দর কোঁচকানো একরাশ খোলা চুল দিয়ে নিজকে শাঁকচুন্নি বানায়।

"কেউ আমাকে ভালোবাসে না.... আমার কথা কেউ ভাবে না.."

হ্যাঁ এই প্লটের উপরেই ভাবনাটা চাগার দিয়ে উঠল, মাঝরাত্রের ঘুমটা ভেঙে। স্বগোতোক্তির ঢঙে বেশ কয়েকবার কথা কটা গজগজ করতে করতে ডাইনিং এর শোকেশের ড্রয়ারটা খুলে ওষুধের বক্সটা বের করলো। কপাল থেকে চুলের গোছাটা সরিয়ে একটা লম্বা দীর্ঘশ্বাস নিল। চারপাশে একবার শতর্ক চোখ বুলিয়ে নিল। নাহ কেউ কোথাও আড়চোখে দেখছেনা। এমনকি ‘ধুম তা না না না’ ‘ধুম তা না না না’ ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকও বাজছেনা, যেমনটা টিভি সিরিয়ালে বাজে আরকি।

এতে তার মনটা আরো খাপ্পা হয়ে গেল, গলায় পাকিয়ে আসা চরম কষ্টকে সে আর সহ্য করতে পারলো না। ঘরে নাইটবাল্বের নীল আলোতে একবার নিজেকে আয়নাতে দেখে নিল, এবং তাতে বেশ একটা ড্রামিক ফিল হতেই; বক্সটা খুলে সব ওষুধের পাতা থেকে ওষুধ খুলে নিয়ে বোতলের জল দিয়ে গিলতে লাগলো একের পর এক। নরফ্লক্স, প্যারাসিটামল, লেমোনেট, স্যারিডন, অ্যাসিলক, সিট্রিজিন, নানান ধরনের ওষুধ ভর্তি থাকে এই বক্সে। সম্ভবত কিছুই বাদ গেল না।

২)

তৃণা উপাধ্যায়, সিংভুম জেলার বনেদী বাড়ির আদুরে কন্যা। পিতা ব্যাঙ্কের অফিসার, ভাই বোন ছোট। মাস্টার্স করতে করতেই ব্যাঙ্কে চাকরির পরীক্ষাতে সফলতা আসতে , পড়াশোনাতে ছেদ ঘটিয়ে চাকুরীতেই মনোনিবেশ করেছিল আনন্দের সাথে। কিন্তু উপরওয়ালা সবকিছু তো আর একসাথে দেননা। চাকরি এলো, পরিবারের রোজকার সাথের বিনিময়ে। সুদূর জামসেদপুর থেকে বারুইপুরের কুলপি রোডের উপরে একটা রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাঙ্কে রোজ কুলপি খাচ্ছে। উকুলপাড়া রোডে একটা বাড়ির দ্বিতলে একাই থাকে সে। নিচেতলাতেও তিনটে রুম, একটাতে দুটো কলেজ পড়ুয়া ছাত্রী থেকে। একটাতে একটি স্কুলের শিক্ষিকা, অন্যটাতে এক শিক্ষিকা প্রায় সারাদিন কোচিং ক্লাস চালান।  

ঘরে থাকতে হলেই তৃণার ক্লান্তি, সে একা একাই ক্লান্ত হয়ে যায়। স্কুল পড়ুয়া মেয়ে দুটো সারাদিন হাহা হিহি করে প্রজাপতির মত উড়ে বেড়ায়, অসহ্য লাগে তৃণার। স্কুল দিদিমণি সারাদিন স্বামী বিরহেই কাতর প্রায়, তার অষ্টমবর্ষীয় কন্যা সহ। কোচিং দিদিমনির কাছে বসলে শুধুই জীবনযন্ত্রনার কথা। একটাও কেউ এমন নেই যার সাথে দু-দন্ড একটু মনখুলে কথাবার্তা বলা যায়। যেটুকু সময় ব্যাঙ্কে থাকে সেই সময়টুকুই শান্তি, কখন যে দশটা থেকে বিকাল পাঁচটা কেটে যায় বোঝাই যায়না। সকালে আটটা নাগাদ ঘুম থেকে উঠে, স্নান খাওয়া বাজার করে কাজের মাসির কাছে বিবিধ ভারতী সমাচার শুনতে শুনতে সকালটা বেশ বিন্দাস কাটে। সমস্যা হয় সন্ধ্যার পর থেকে। দেওয়ালে লটকানো টিভিটা উদ্দেশ্যহীন ভাবে চলতে থাকে। ঠুংরি, গজল, খবর, খেলা, সিরিয়াল, পর্ণ, যা চলে সবই ও শুনে যায়। নজর থাকে হাতের মোবাইলে, আর সেখানে ওই ফেসবুক হয়াটস এপ।

অনেকের অনেক সমস্যা, তৃণার সমস্যা অন্য। বারুইপুরের চেনাজানা লোকের সাথে ফেসবুকে বন্ধুত্ব করলে কখন কোথায় কে আলফাল প্রস্তাব দেয়, তাই সে প্রথম প্রথম ডিপিতে নিজের ছবি দেয়নি। মাসখানেক আগে যখন সে ছবি দিল, ৯৯% বন্ধু ফেক প্রোফাইল বলে দেগে দিল। কোনো মানে হয়! কলেজের ছুড়ি, তাঁরাও ৩-৪ করে প্রেমিক নাচাচ্ছে। আর সে! নাহ, তাঁর কাওকে নাচাবার দরকার নেই, তাবলে একটা মনের মানুষ থাকবেনা? সবাই ভাবে এমন সুন্দরী চাকুরিওয়ালা মেয়ে , এ কি আর ফাঁকা আছে! কাছেই ঘেষেনা কেউ, আর যারা ঘেঁষে তাদের ছুলে চান করতে হয় এমন গা ঘিনিঘিনে। সকলে কেমন সুখের কথা বলে , সুখের কথাও; তৃণার সুখই নেই তো দুঃখ আসবে কোত্থেকে। সে ও প্রেমে পড়তে চায়। ফেসবুকে যে কটা ছেলেকে মনে ধরে তারাও কি আর ফাঁকা আছে! অথচ এ মেয়ে যেচে বলার বান্দা এই, তাই একা একাই ক্লান্ত হয় ভেবে ভেবে।

৩)

সেই উচ্চমাধ্যমিকের সময় একটা ছেলের প্রতি কেমন যেন টান অনুভব করত। বাড়িতে সকলেই জানত শৈবালের কথা। কিন্তু সেটা আর এগোয়নি, অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয় প্রেমাভাব। এর পর স্নেহাও প্রেমে পরল, আবিরের সাথে। তৃণা সব জানল, ছোট বোন চুটিয়ে প্রেম করছে। লেজকাটা শেয়ালেরা সকলকেই লেজ কেটে ফেলতে পরামর্শ দেয়, সেই নিয়ম মত স্নেহা দিদিকে প্রেমের পরামর্শ দিতে লাগল; যাতে নিজের পথে দিদি যেন অন্তরায় না হয়। কিন্তু তৃণা বইয়ের সাথেই ডেটিং করতে লাগল, বলল ওই সব ন্যাকামু পেরেম পিরিতি নাকি ওর জন্য নয়। ফলাফল ঈর্ষনীয় রেজাল্ট ও আজকের এই চাকুরী।

দিন কয়েক আগে এক সন্ধ্যাতে, ‘People you may know’ তে সেই শৈবাল রায়চৌধুরীর মুখটা দেখেই বুকে কেমন ছ্যাঁত করে উঠল। আঙুলটা যেন নিজে হতেই বন্ধু রিকোয়েস্ট পাঠিয়ে তৃণাকে দায়মুক্ত করল। এরপর একটা অদ্ভুত প্রশান্তির সাথে একটা আশঙ্কার দ্বন্দ্ব নিয়ে সে ঘুমিয়ে গেল। ঘড়িতে প্রায় পৌনে দশটা, মানে টানা দিনঘন্টা অঘোরে ঘুমিয়েছে। ফ্যান এসি একই সাথে চলছিল, রাত্রে শীত না লাগলে হয়ত ঘুমটা ভাঙত না। অভ্যাস বসত ফোনটা হাতে নিতেই নোটিফিকেশনে দেখল শৈবাল তার রিকোয়েস্ট এক্সেপ্ট করেছে। অমনি হামলে পড়ে শৈবালের রিলেশনশিপ স্ট্যাটাস দেখে আনমনেই হেসে উঠল। প্রোফাইলে তেমন কিছু নেই যদিও, কিন্তু পুরাতন ছবির কোলাজ সাথে বর্তমান ব্যাবসার কিছু চালচিত্রের ছবি।

দু তিনদিন তেমন কিছু হলনা, রোজ সন্ধ্যায় মায়ের সাথের ম্যান্ডেটারি রোজনামচার পর আজ একটু টিভিটা খুলে বসতেই কেমন যেন স্টার জলসা পেয়ে বসল। একটা চ্যানেলে সির্ফতুম হচ্ছে, মনদিয়ে দেখতে দেখতে তৃণা ভাবল নায়িকা যদি ওই সোয়েটার না দিত; তাহলে গোটা প্রেমটাই আধুরা থেকে যেত। মোদ্দা কথা হল, মনের কথাটা বলতেই হবে। যেমনি ভাবা তেমনি কাজ, তবে যতটা ডিটারমিনেসন নিয়ে ভাবনাচিন্তা করেছিল ততটা মোটেই বর্ষালো না। ইনবক্সে গিয়ে শৈবালের উদ্দেশ্যে একটাই কথা লিখল

-      চিনতে পারছেন?

উফ, সময় যেন আর কাটেনা। বারবার মেসেঞ্জার খুলে রিফ্রেশ করে করে দেখা। আসলে তৃণার হেব্বি প্রেম পেয়ে গেছে। অবশেষে রাত দশটার পর প্রত্তুত্তর এলো।

-      তোর মত এন্টিসোস্যাল বইপোকাকে কে ভুলতে পারে!

-      ভালো আছিস?

-      এই চলছে, তোর খবর কি?

-      কাটছে আর কি।

-      বিয়ে থা কোথায় হল? বর কি করে!

-      ধুর ধুর, কোথায় বিয়ে! তোর খবর কি! কটা ছাপ রাখলি!

-      আরে নাহ, এই তো সবে ইলেকট্রনিক্সের শোরুম দিলাম। একটু সেটেল হয়ে নিই। তার পর ভাবা যাবে। তুই?

-      আমি আর কি! বেঙ্গলে আছি, বারুইপুরের একটা ব্যাঙ্কের ক্যাশিয়ার বৃত্তি করে সার্ভাইভ করছি।

-      আরেহ বাহ, লোনটোন লাগলে ম্যাডামের স্মরণাপন্ন হওয়া যাবে আর কি...

-      আয় চলে আয়, এপ্লাই কর

এভাবেই শুরুই হওয়া বন্ধুত্বটা মাস তিনেকের মধ্যেই তৃণার তরফে গভীর প্রেমে পরিণত হয়ে গেল। শৈবালের তরফ থেকে ততটা পজিটিভ না থাকলেও প্রচ্ছন্ন অনুমতি ছিল স্পষ্ট।

৪)

দুর্গাপুজোর ছুটিতে জামসেদপুর ফিরেই শৈবালকে দেখার জন্য মনটা হুহু করে উঠল তৃণার। কিন্তু শৈবাল এতোই ভদ্র ছেলে যে আজ পর্যন্ত ইনবক্সে একটা ছবিও চায়নি, সেখানে তৃণা কেমন করে সরাসরি ডেটিং এর প্রস্তাব দেয়! অষ্টমীর দিন সন্ধ্যায় দুই বোন মিলে ফাটাফাটি সাজ দিয়ে প্যান্ডল হফিং করে বেড়ালো। স্নেহা বুঝতে পারছিল যে দিদির মধ্যে একটা চেঞ্জ এসেছিল, কিন্তু সে চেপে গেল। কিন্তু আশ্চর্যভাবে যার প্রতীক্ষা করছিল সেই শৈবালের মেসেজ এলোনা, অথচ দেখা হবার বাহানা এর থেকে আর ভাল কিছু ছিলনা। রাত্রে ঘরে ফিরে কোনো রকমে ড্রেসটা চেঞ্জ করেই বিছানাতে শুয়ে পরল দুজনেই। স্নেহা টুক করে ঘুমিয়ে গেলেও, তৃণা তখনও নির্ঘুম, অভিমানের চোটে সেই রাত্রে আর অনলাইন আসবেনা বলেই সিদ্ধান্ত নিল। কিন্তু মন কি মানে, উৎসাহের বশে সোজা ভিডিও কল করে বসল। ফোন বেজে যাচ্ছে কিন্তু তুলছেনা, দ্বিতীয়বার ট্রাই করতেই মাথায় আকাশ ভেঙে পরল তৃণার। বুঝতে বাকি রইলনা, শৈবালের রিসেন্ট কয়েকটা ছবি যোগার করে স্নেহাই তাঁর সাথে এই মস্করাটা করে গেছে। আবিরের পক্ষে শৈবালের ছবি যোগার করা মোটেই কঠিন কিছুনা।

রাগে দুঃখে কাওকে কিছু না বলেই নবমীর সকালে, বাক্স প্যাটরা গুছিয়ে কোলকাতার উদ্দেশ্যে বাসেই রওনা দিল। সে যে কি তীব্র মানসিক যন্ত্রণা সে শুধু তৃণাই জানে। বারুইপুরের রুমে এসে শেষের তিনমাসকে চরমভাবে ভুলে যাবার চেষ্টা করতে চেষ্টা করল। কিন্তু কিছুতেই কিছু নয়, শেষে মাঝ রাত্রে এই ঔষুধ খাওয়া নির্বিচারে।

এতক্ষণে সে নিজে উপলব্ধি করতে পারল, যে স্নেহা তার সাথে এই চালাকিটা করেছে। এটা তো তেমন অন্যায় কিছু সে করেনি, প্রেম নিয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে চেয়েই হয়ত স্নেহার এই প্রচেষ্টা। ওর আর বিশদে বোঝার প্রয়োজন ছিল। অভিমানিনী তৃষার চোখ লেগে আসে গভীরভাবে। ঘুমের মধ্যেও বিড়বিড় করতে থাকে সে। হঠাৎ তার কানে ফিসফিসিয়ে ওঠে, "কেন আমরা যে এতো ভালোবাসি..!! দেখো কত সোহাগ করেছি তার প্রমাণ তোমার অঙ্গে অঙ্গে।" এ কথাটা শুনেই ধড়মড়িয়ে উঠলো তৃষা। আবছা চোখে সব ধোঁয়া ধোঁয়া চারিদিক। কাউকে দেখতে পেল না। বেড থেকে নামতেই পা কেঁপে উঠলো আর সাথে সাথে এক বিছুটি পাতা যেন সারা গায়ে কেউ বুলিয়ে দিও গেল তৃষার। আবার কানে ফিসফিস, "দেখো কত ভালোবেসেছি। দেখো সারা গায়ে... "." কে কে করে" চমকে উঠে নিজের দিকে তাকিয়ে দেখে সারাগায়ে লম্বা লম্বা ভাবে ফুলে গেছে। কোথাও কোথাও আবার সদ্য গঠিত টিলা বা মালভূমি। যেন চোদ্দ বছর জেল খাটার পর মুক্তিপ্রাপ্ত চুলকানিরা সারা শরীরে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। আবার কানের কাছে ফিসফিস, "কবে থেকে বাক্সবন্দি হয়ে পড়েছিলাম। কাল অতো যতন করে আমাদের মুক্তি দিলে। তার বদলে এটুকু সোহাগ তো তোমাকে দিতেই পারি সোনা। না গজরেকি ধার না কোয়ি পিয়া সিঙ্গার ... ফিরবি কিতনি সুন্দর হো... তুম কিতনি সুন্দর হো ।" এসব শুনে তৃষার বিপি ফল করলো । যাই হোক আপাতত মৃত্যুর আতঙ্কে নিচেরতলার সেই দিদিমণি ও কলেজ পড়ুয়াদের নামে একটা তীব্র আর্তনাদ দিয়েই অচেতন হয়ে গেল।

বাড়িওয়ালাকে ডেকে নিয়ে নিচেরতলার ওই ভাড়াটেরা মিলে তৃণাকে প্রথমে স্থানীয় ইনফর্মাল মার্কেট বারুইপুর হাসপাতালে নিয়ে গেল। কিন্তু অবস্থার অবনতি হলে তাঁরা কোলকাতা মেডিকেল কলেজে রেফার করল। সকালে জ্ঞান ফিরলে তৃণা নিজের তার জামসেদপুরের বাড়িতে বলতে মানা করল। কারন প্রেমঘটিত বিষয় ও আত্মহত্যা এটেম্পের খবরে অসুস্থ বাবার না আবার এটাক হয়ে যায়। তবে বাড়ি ওয়ালা কাকিমা থেকে শীক্ষিকা দিদিমণি ও পড়ুয়া মেয়েদুটি নিজের নিজের মত করে খুব করে বকে দিল। আর বলল তাঁরা রোজ তৃনার ঘরে আসবে গল্প করতে।

৬)

তৃণা তার পুরাতন ফেসবুক একাউন্ট ডিলিট করে দিয়েছে নতুন একাউন্ট খুলেছে। স্নেহার ওই চরম মস্করা সত্বেও তাকে কিচ্ছুটি বললনা তৃণা।

বড় দিনের ছুটিতে বাড়িতে ফিরে এমন ভাব রাখল যেন কিচ্ছুটি হয়নি, এদিকে স্নেহা যত অপরাধীর মত করে ঘোরে; তৃণা তত সেটা তারিয়ে তাড়িয়ে উপভোগ করে। অবশেষে রাত্রে যখন দুই বোন শুতে এলো, স্নেহা কেঁদেকেটে ক্ষমা চাইতে উদ্যত হলে তৃণা দুম করে ওর দুটো হাত ধরে থ্যাঙ্কস বলতে স্নেহা কেমন যেন ভেবলি হয়ে গেল। সেই রাত্রে তৃণা নাক ডেকে ঘুমালেও স্নেহার চোখের দুপাতা এক হলনা। দোষ সে করল অথচ দিদি রেগে যাবার বদলে কিনা ধন্যবাদ দিল!

সকালএ উঠেও তৃণা ভীষণ ফুরফুরে। চুপিচুপি মাকে বলে দিল যে ও প্রেমে পরেছে। সন্ধায় সেই তাকে বাড়িতে নয়ে আসবে, এবং স্নেহাকে না জানাতে বলে রাখল।

যথারীতি সন্ধ্যায় এসে তৃণার সেই প্রেমিক প্রবর হাজির হতেই সকলে খুশির আনন্দে ভেসে গেলেও স্নেহা সংজ্ঞাহীন হয়ে পরল। সাথে সাথে সকলে ব্যাস্তহয়ে পরলেও ডাঃ শৈবাল রায়চৌধুরী নাড়ি টিপে জানালেন ভয়ের কিছু নেই, হঠাত করে শক খেলে মানুষ এমন অচৈতন্য হয়ে যায়।

পড়ে জ্ঞান ফিরলে বাকিটা শৈবাল নিজেই বলল-

“দশমীর দিন ভোরে হঠাত করে এক বিষখাওয়া রোগী জেলা থেকে রেফারে এসেছে, সারাগায়ে এলার্জীর ফোলা সহ। শৈবাল কোলকাতা মেডিক্যালে ইন্টার্ণসিপ করছে, ভোরের দিকে ডিউটি ডাক্তারের সাথে জুনিয়র হিসাবে ও ই ছিল। মুখটা দেখেই চিনে যায়, যে এ মেয়ে স্কুলের সহপাঠী তৃণা। তারপর চিকিৎসা, প্রেম ও বিবাহের প্রস্তাব। থ্যাঙ্কস স্নেহা। তবে চুলকানিই কিন্তু আমাদের মিলিয়ে দিল। প্রথমে স্নেহার ইয়ার্কির মিথ্যা চুলকানি, পড়ে ওষুধের সাইড এফেক্টের চুলকানি”।

আবার একবার ভীষনভাবে অজ্ঞান হবার চেষ্টা করল স্নেহা কিন্তু এবারে সে শুধুই লজ্জাতে লাল হয়ে গেল, সেই সিরিয়ালের মত করে।

সামনের ফাগুনে তৃণার রিসেপসন বারুইপুরে, নিমন্ত্রন না পেলেও আসতে ভুলবেননা যেন। কি করে জানবেন? কেন ফেসবুক হ্যায় না।

~ সমাপ্ত~

সোমবার, ২৩ অক্টোবর, ২০১৭

।। কি জানি কেন! ।।

ছোটলোকেদের জন্য ছবিটা নয়, বার্তাটা। যারা কথার আগে পরে ও মাঝে ভিকিরির মত খুচরোটাকার আওয়াজ করে, তারা সম্ভবত চুঁইয়ে পরা বীর্যজাত। কারন ফিনকি দিয়ে নির্গত হত তেজী বীর্যবত্তারা নিজের ক্ষমতা সম্বন্ধে সম্যক ধারণা রাখেন
আর আছেন একশ্রেনীর জারজের দল, যারা সেই পিঁপড়ের দল। চিটেগুড় হোক বা ধ্যারন্ত গু, টাকার গন্ধ থাকলে অটোমেটিক জিভেজল এসে যায়।
দুই সম্প্রদায়ের জন্যই করুণা। এখন মধুমাস, পায়ুমর্দনের সুখ। বীর্য শক্তিশালী হলে গর্ভসঞ্চার হবে পাকস্থলীতে, অন্যথায় অর্শ।
দুটোই তারা জানে যারা সয়েছে, দেখে ও চেখে। সেই পর্যন্ত আমি নির্বাক দর্শক।
হাউই বা তুবরি জ্বলে গেলে খালি খোলটাকে লাথ মেরে ড্রেনে ফেলাটাই দস্তুর। আর ড্রেনজীবিরা ড্রেনে পৌছে মোক্ষলাভ করে।
শিব শম্ভু.....
এক ছিলিম বাবা খায় বরং।

নতুন বাসর


 

(১)

শরতের আকাশ, তবুও তার মুখ ভার। বাইরে অবিশ্রান্ত বৃষ্টিধারা, আজ টানা দুদিন ধরে এক মুহুর্তের জন্যও রোদের মুখ দেখেনি কেউ চালুনিতে আটা চালার মত করে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি সমানে ঝড়েই চলেছে। বসে শুয়ে কতক্ষন আর মোবাইলের কাঁচে বুড়ো আঙুল বুলিয়ে সময়কে ধাপ্পা দেওয়া যায়! টিভিও এই সময়গুলোতে ভালো লাগেনা। তারপরেও যদি একটু খবরের চ্যানেল বা খেলা দেখার শখ যায় তারও উপায় নেই ডিজিটাল সেটটপ বক্সের মহিমা অপার, আকাশে মেঘ ধরেছে কি সিগনাল ভাগলপুরেফোনে কারোর সাথে খেজুরে আলাপ জুড়বো তেমন কেউ ফাঁকা নেই, জানলা দিয়ে লোক দেখতেও বড্ড বিরক্ত লাগছে। মোটকথা ঘরেতে মন বসছেনা মোটে-

এমন বালাইটা গেলে বাঁচি। কিন্তু নিন্মচাপের মহিমা এতো সহজে যাবেনা।  গোট দীপাবলির আমেজটাই মাটি। মুর্তিমানেরই বা কি উপায় করি! সওয়া দায় হয়ে পরেছে। মানে মানে ঠেকে গিয়ে তেলেভাজা আর চা সহযোগে টোয়েন্টি নাইনই অগতির গতি আপাতত।

-আপনি কোথাও যাচ্ছেন নাকি?

- (শ্রবণ গ্রন্থি নিষ্ক্রিয় সম)

- ফিরবেন এখনি তো?

জবাব না দিয়ে বর্ষাতিটা গায়ে গলিয়ে শিরোস্ত্রান সহ বাইকে সাওয়ার হলাম।

 

আমি অতনু দত্ত, দিল্লির একটি নামি ম্যানেজমেন্ট কলেজ থেকে স্নাতোকোতর ডিগ্রীধারী। পারিবারিক আমদানি রপ্তানির ব্যাবসা, পিতা সেই কুলীন ব্যাবসার অধিপতি। তাঁর ব্যাক্তিত্ব গুণের জোরে রাজা উজিরেও সম্ভ্রমের সাথে তাঁর অনুসঙ্গী হন। সেই অশোক দত্তকে যে আমাকে মেনে চলতে হবে অক্ষরে অক্ষরে তাতে আর আশ্চর্যের কি! তবে আমার মা ই সম্ভবত পৃথিবীর একমাত্র ব্যাক্তি যার সামনে বাবাও ইতস্তত বোধ করেন। 

 

গ্রীষ্মের ছুটিতে ওনারা ওনাদের বয়স্ক বন্ধু দলের সাথে ডুয়ার্সের মুর্তি নদীর তীরে সরকারি টুরিষ্ট লজে ছুটি কাটাতে গেছিলেন সেখানেই ওনাদের সহযাত্রী তারকনাথ মিত্র মহাশয়ের কন্যা অনন্যাকে দেখে মায়ের বৌমা বাৎসল্য জেগে উঠতেই সর্বনাশের শুরু। আমার বিয়ে, অথচ সে বিষয়ে আমার মতামতকে কখনই মান্যতা দেবার মত গুরুত্বপূর্ণ ভাবেননি তাঁরা  ফলাফল এই আজকের পরিস্থিতি। আজ ফুলশয্যার দ্বিতীয়দিন।

 

(২)


-
এ্যাই শুনুন, আপনি কি আমার হাতটা ছুঁতে চাইছেন?

 

অনন্যার কথা শুনে চমক ভাঙলওর কাঁচা রূপে এতটাই মগ্ন ছিলাম ওর প্রতি, যে খেয়ালই করিনি কখন ও জেগে গেছে ওর কথা শুনে একটু থতমত আর অবাকই হলাম, কিভাবে ও জানল আমার মনের কথা! প্রায় আধা ঘন্টা নাগাড়ে অনন্যার বিছানার পাশে বসে আছি, রুমে আসা ইস্তকই ভারী ইচ্ছা হচ্ছিল ওর হাতটা একটু ধরি। কিন্তু একটা বিচিত্র ধরনের সংকোচবোধ কাজ করছিল, নিজের বিবাহিত স্ত্রীর হাত ধরতে এত সংকোচ কেন মাথায় আসছিল না? এখনো ওকে ভালবাসতে পারিনি বলে কি! নাকি ওকে ভালবেসে ফেলেছি তাই। আমাদের মধ্যে যদিও পরিচয়টাই তেমন ভাবে হয়নি।

 

ও আরো অনেক কিছু বলে যাচ্ছে বুঝতে পারছি, কারন গোলাপের পাপড়ির মত কোমল পাতলা ঠোঁট দুটি ঈষৎ উঠানামা করেই চলেছে। আমার সকল ইন্দ্রিয় আঁক কেবলমাত্র চোখে আঁটকে, আজ আমার শুধুই দেখার দিন দু চোখ মেলে দেখার দিন, প্রাণ খুলে দেখার দিন। বুঝতে পারছিনা কিকরে এই পাহাড় প্রমাণ লজ্জাকে নিয়ন্ত্রণ করব। সেই কলেজ জীবন থেকেই একটা ফ্লামবয়েন্স মার্কা ইমেজ ক্যারি করে যাবার দরুন এ যাবৎ প্রেমিকা সঙ্গ থেকে কখনই রিক্ত ছিলামনা, না তাবলে চরিত্রহীন ছিলামনা। কিন্তু উপরওয়ালা শেষ পর্যন্ত কোনোটাই শেষমেশ ক্লাইম্যাক্স পর্যন্ত পৌছাতে দেয়নি কারনটা আজ পরিষ্কার হল; আসলে আমার নিয়তি বাঁধা যে এই হাতেই ছিল। যেটা ছুঁতে হেব্বি মন চাইছে।

 

এ বিয়েতে আমার সে অর্থে তেমন মন ছিলনা মোটে, কিন্তু বাবার মতের বাইরে যাব সে সাধ্যিও ছিলনা। বিয়ের আগে অনন্যার  সাথে আমার কথা হওয়া তো দুরস্থান আলাপটুকুও করিনি যারজন্য, যাকে চিনিনা জানিনা তার সাথে হঠাৎ করে কিভাবে একঘরে থাকব ভেবেই পাচ্ছিলাম না। এই মুহুর্তে আমার কোনো প্রেমিকাও ছিলনা যে, হৃদয়ে তার উপস্থিতি অনন্যার প্রবেশে অন্তরায়। অনন্যার সাথে সম্বন্ধটা আসার পর ফেসবুকে ওর প্রোফাইলটা খুঁজে ছবিছাবা দেখেছিলাম। দেখে আমার খারাপও লাগেনি ভালও লাগেনি। তাই হয়ত ভালবাসাটা জন্মানোর পরিসর পায়নি।

 

৩)

 

আমাদের চার পুরুষের নিবাস ঢাকুরিয়া অঞ্চলে, অনন্যাদেরও কোলকাতা শহরেই বাস উত্তরে শিমলা অঞ্চলে, তাই চেনার কথাই নেই। আমার অফিসের ডিউটি বর্তমানে ওই বিধানসরনী লাগোয়া হাতিবাগান অঞ্চলেই। অনন্যা মেধাবী ছাত্রী, নতুবা প্রেসিডেন্সীতে চান্স পেতনা। লেখাপড়াটাকেই আমি প্রাধান্য দিয়েছি বাড়িতে, এবং আমার বাবা মা এটাতে আপত্তি করেনি। এই বাহানা ও উদ্দেশ্যতে অনন্যা এখন ওর বাবার বাড়িতেই থাকে। বাস্তবিক অর্থেই বাবার বাড়ি, শৈশবেই মাকে হারিয়েছে। তারকনাথ বাবু মানে শ্বশুরমশাই আর বিয়ে করেননি, কচি মেয়েকেই হাতেপিঠে মানুষ করেছেন।

 

বহু চেষ্টা করেও আমরা সেই রাত্রে স্বাভাবিক হতে পারিনি। ওর সাথে আমার বয়সের পার্থক্য ঠিক ১২ বছরের, মাত্র ১৯ বছর অনন্যার। আসলে আমিও ঠিক বুঝে উঠতে পারিনি, সে আমাদের সম্পর্কটা নিয়ে ঠিক কতটা তৈরি। আমিও কোনো যৌনকাঙাল নই যে নারী শরীর দেখলেই ঝাঁপিয়ে পরব। তবে এ মেয়ে যথেষ্ট ফরোয়ার্ড, আমার সসঙ্কোচ অবস্থার গোটাটা সে এঞ্জয় করেছে চুটিয়ে।

 

আমাদের সম্পর্ক যে ঠিক স্বামী-স্ত্রী টাইপের নয় এটা আমাদের দুজনের পরিবারের কেউ জানেনা, কারন আমরাই জানাইনিসবাই জানে, আমি দুর্গাপুর, শিলিগুড়ি, দিল্লি, বোম্বে করছি রোজ, তাই নতুন বৌকে বাপের বাড়িতেই রেখে আসা হয়েছে। তাছারা পড়াশোনা, কলেজ, কোচিং তো রয়েছেই, সর্বপরি একই শহরের তো দুটো প্রান্ত ভারী; চাইলেই যখন খুশি আসা যাওয়া করাই যায়। আমার ধান্দা অবশ্য অন্য, যতদিন না ওকে চিনছি ততদিন একসাথে থাকার প্রশ্নই নেই। তাতে সারাজীবন হলে তাই ই সই। শুধু রূপ, যৌবন আর মেধাবীপনা দিয়ে জীবন চলে? বন্ধুত্ব ছাড়া কিভাবে সংসার করা যায় আমি ভেবে কুল করতে পারিনি।

 

অনন্যা বহু বার চেষ্টা করেছিল আমার কাছে থাকার, কিন্তু আমার শরীরিভাষা ওবে সম্ভবত উত্তর দিয়ে দিয়েছিল। তাই সে, আমার সিদ্ধান্তকে ও “আমাদের” বলে সানন্দে মেনে নিয়ে ছিল সম্ভবত। টিনেজ মেয়ে হলেও যথেষ্ট পরিণত সে।

গত কালকের একটা কথা বলি। সকাল সাতটা মত বাজে, স্বাভাবিক ভাবেই ঘুম তখনো ভাঙেনি শনিবার ছিল তাই অফিস যাবার তাড়া নেই। বালিশে চাপা পড়ে থাকা ফোনের ভাইব্রেশনে ঘুমটা ভেঙে গেল। বিরক্ত একটু লাগছিল ঠিকিই তবুও স্ক্রিনে নাম না দেখেই ফোনটা ধরলাম,

-      হ্যালো

-      (নিশ্চুপ)

 

এ কাজটা একমাত্র অনন্যাই করে। অনেকক্ষন পর কথা শুরু করে, প্রতিবারই

আমি আবার বললাম,

-      কিছু বলবে

-      হুম

-      বলো

-      তোমার...

-      হ্যাঁ কি হয়েছে! আগেও কি কিছু বলবে! নাকি ওখানেই থেমে থাকবে!!

-      তোমার কি সময় হবে আজ দুপুরে

-      কেন?

-      না এমনি কিছুনা, তবে...

-      কি তবে!

-      মানে, আজ আমার জন্মদিন

-      আরে বাহ। দারুণ ব্যাপার তো। শুভ জন্মদিন, শুভেচ্ছা নিও

-      শুধুই শুভেচ্ছা? দেওয়ার মত কি একটু সময় হবে! তাহলে শুভেচ্ছার সাথে ওই সময়টুকুও নিতাম

-      ইয়ে মানে, বুঝতেই তো পারছো, কটাদিন টানা ঝামেলা গেছে অফিসের কাজে। আজ একটা প্রিপ্ল্যানড প্রোগ্রাম আছে বন্ধুদের সাথে। নেক্সট টাইম, শিওর। প্লিজ মনে কিছু করো না।

-      আরে ঠিক আছে, এতো প্লিজ বলতে হবেনা। আমারই ভুল। আগে বললে হতত এটাই প্রি প্ল্যানড হত।

 

৪)

সময় যে ছিলনা তা মোটেই নয়, বন্ধুদের সাথে প্রোগ্রামটা জ্যান্ত মিথ্যা। কেন জানিনা অনন্যাকে দূরে রেখেই একটা কষ্ট কষ্ট সুখ পাই। কাছে গেলে, সকলকিছুতেই ওর ওই নিস্তব্ধ সম্মতি আমাকে দিশেহারা করে দেয়। যাই হোক গোটা দিনটাই আর ঘর ছেরে বেড় হলামনা। সারাদিন ফেসবুকে আর ঘুমিয়ে ল্যাদ খেয়েই কাটিয়ে দিলাম। বিকালের দিকে টিভিতে অনুর্ধ্ব ১৭ বিশ্বকাপ দেখতে দেখতে ফেবুতে বেখেয়ালে টাইমলাইনে সাঁতরাচ্ছি। হঠাত টুং করে মেসেঞ্জারে শব্দ। মেসেঞ্জার খুললামনা, নোটিফিকেশন প্যানেলেই দেখে নিলাম।  

-      সত্যিই কি খুব ব্যাস্ত ছিলে? সারা দিনিই তো অনলাইন দেখলাম। সাথে একটা কান্নার ইমোজি।

আমি মেসেজ সিন করতেই, টুং করে আবার পরের মেসেজটা ঢুকলো।

-      খুব কি কিছু বেশি চেয়েছিলাম আপনার কাছে! একটু সময় ছাড়া তো আর কিছু চাইনি

আমি একটু ক্ষনিকের জন্য আপ্লুত হয়ে পরলাম ও সেই মত ভিডিও কল করে বসলাম, সে রিসিভ করলনা। অদ্ভুত একটা বিষাদ আমাকে ক্রমশ গ্রাস করছিল। সারারাত অনন্যার মুখটাই মননে ভেসে উঠছিল বারেবারে, সাথে উল্টোপাল্টা অজানা সব ভাবনারা ভিড় জমাচ্ছিল।


আচ্ছা বিয়ে হয়ে গেলে মেয়েরা তাদের স্বামীকেই প্রেমিক বলে মেনে নেয়! কই ছেলেরা তো পারেনা। অথবা হতে পারে ছেলেরাও পারে, আর আমি হয়ত উন্মাদ। তাই পারিনা। প্রেমিকাকেই তো সকলে বউ হিসাবে পেতে চাই, তাহলে বউকে প্রেমিকা করে নিতে বাঁধা কোথায়? আমাদের সনাতনী ভারতীয় সমাজ ব্যবস্থাতে এভাবেই তো সবসময় হয়ে এসেছে।


নিশ্চিত আমি পারিনি অনন্যাকে ভালবাসতে, ভালবাসলে কাছে যেতে এতো দ্বিধা থাকতনাবিয়ের রাতেও ওর সাথে আমার ছোড়া ছোড়া কথা হয়েছিলসারাটা রাত বিছানায় ঘুমের অভিনয় করেই কাটিয়ে দিয়েছিলাম। ওই রাতের পর আর সাকুল্যে তিন রাত আমরা এক ঘরে কাটিয়েছিলাম, সেটাও তথৈবচ। আমি দুপুরে অফিস গেলে বা ভিনরাজ্যে গেলে ও নিয়ম করে আমাদের বাড়িতে আসে, মায়ের সাথে রান্নাঘরে সময় দেয়। আমার ঘর ওর মনের মত করে সাজায়। শ্বশুর এখনও রিটায়ার্ড করেননি, সরকারি উচ্চপদস্থ আমরা; তাই অনন্যার টাকার অভাব নেই। এটা আমি জানি কিন্তু জেনেও ওর এই আসাটাকে চরমভাবে অগ্রাহ্য করে গেছি।

 

৫)

আজ সকালে অফিসেই ছিলাম, তখনি অনন্যার  বাবা ফোন করলেন মৃদুভাষি এই ভদ্রলোককে আমার বেশ পছন্দ মানুষ হিসাবে। তিনিও তার একমাত্র জামাইকে খাতির যত্ন আপ্যায়নের কোনো ত্রুটি রাখেননা।

-      অতনু বলছো তো!

-      হ্যাঁ, নমস্কার আঙ্কেল। আমিই বলছি।

-      সককিছু কুশল মঙ্গল তো!

-      হ্যাঁ হ্যাঁ, কিছু জরুরী বিষয়  বলার আছে কি!

-      না তেমন কিছু নয়, আসলে অনন্যা...

-      অনন্যা! কি হয়েছে ওর! অসুখ বিসুখ হল নাকি!

-      না না, সে সব ঠিক আছে। আসলে গত দুদিন থেকে কেমন যেন মনমরা। ঠিকঠাক খাওয়া দাওয়া করছেনা। সকালে মাথা ঘুরে বাগানে পড়ে গেছিল, কাজের মেয়েটা আমাকে ফোন করতে আমি বাড়ি এলাম এই মাত্র। এমনিতে কিছু হয়নি, সামান্য কপালে চোট লেগেছে। আসলে ওর মা নেই তো, বুঝতে পারছিনা তোমার সাথে কোনো খুনসুটি হল কিনা। কিছু মনে কোরোনা বাবা।

-      আচ্ছা আপনি চিন্তা করবেননা, আমি কাছাকাছিই আছি। মিনিট ১৫-২০ এর মধ্যেই আসছি

-      আচ্ছা বাবা

 

আমি ভাবতেই পারিনি ওই জন্মদিনে আমার অবজ্ঞাটা ওর নিতে পারবেনা মন থেকে। ভাবতে গিয়ে সময়নষ্ট না করে সোজা রাস্তায় নেমে এলাম। ড্রাইভাল এই সময় ওদের দেশওয়ালি ভাইদের ঠেকে তাস খেলে, ডাকলে আসতে আসতে ঘন্টাখানেক লাগাবে। ওলা ক্যাব বুক করব কিন্তু রাস্তার যা ট্রাফিকের হাল ভরসা হলনা। তাই হাঁটাই জুড়লাম, খুব বেশি দুর তো নয় হাতিবাগান থেকে সিমলা। খানিক পরেই পৌছালাম, দেখি খাটে শুয়ে আছে অনন্যা। আমাকে দেখে ধরপরিয়ে উঠে বসল। কাজের মেয়েটা চা করতে যাচ্ছি বলে বেড়িয়ে গেল। এদিকে শ্বশুর মশাইও বললেন- “তোমরা কথা বলো বাবা, অফিসে না বলে এসেছি। যাব আর আসব, এই তো ডালহৌসি। আমি এলে তুমি যেওক্ষণ”।

 

কি যে জবাব দেব বুঝে উঠতে উঠতেই শ্বশুর হাওয়া হয়ে গেলেন। এতো বড় বাড়িতে একটা প্রায় অপরিচিতা সদ্য যুবতী, সাথে আমার মত উচ্চশ্রেনীর আঁতেল। খেয়াল করলাম কপালের কাছটা একটা অংশে কালশিটে পড়ে গেছে। আর সেটা বেশ ফুলেও রয়েছে। আমি কিছুটা অপ্রস্তুতভাবেই দেখছিলাম সেটা, হঠাৎ বলে উঠল-

-      একটু ছুঁয়ে দেবেন!

-      মানে

-      মানে আর কি!, বলছি কতটা লাগল ছুঁয়ে দেখবেননা?

-      আমি ছুলে সেরে যাবে?

-      না তার গ্যারান্টি নেই। বলে বলাও তো যায়না, কার কখন কোন সুপ্ত প্রতিভা খোলে ( সাথে একটা দুষ্টু হাসি)

-      বাবা রামরহিম বানানোর তাল নাকি!

-      তা আমি আর হানিপ্রীত হতে পারলাম কই। (বলে চোখ বুজল)

 

এদিকে আমি খেয়াল করলাম, আমি কখন যেন ওর শিয়রের গোড়াতে বসে পড়েছি। আর ওর শরীরের উষ্ণতাটা পরিষ্কার অনুভব করছি ব্লেজারের পরত থাকা সত্বেও। দুম করে আমার বাম হাতটা আনমনে নিয়ে দুহাত দিয়ে শক্ত করে ধরে জোর করে চোখ বুজে রইল। কয়েক সেকেন্ড পর ছেরেও দিল।

-      গেছে? না আছে?

-      কি!

-      জাত, আবার কি!

-      মানে! মাথায় আঘাত খেয়ে কি ভুল বকতে শুরু করলে নাকি!

-      না মশাই, ভুল বকিনি। বলছি এই যে আমি ছুলাম, তাতে আপনার জাত অক্ষত আছে কিনা শুধাচ্ছিলাম। আমি অন্ত্যজ শ্রেনী কিনা...

-      মস্করা হচ্ছে!

-      আহারে, আমার ভাসুর ঠাকুর এসেছেন। থুক্কুরি ঘাট হয়েছে আমার

-      ভাসুর হব কেন! তুমি তো আমার বিবাহিত স্ত্রী

-      ওমা, এ কি অলুক্ষুণে কথা। মাথায় চোট আমার এলো, আর বাবুসাহেবের মতি পরিবর্তন

 

একটু লজ্জাই লাগছিল, তবুও ‘আমার বৌ’ কথাটা বলতে পেরে যেন বুকের উপরে চেপে থাকা দশমণ পাথরটা যেন সরে গেল।

-      বাব্বা, লজ্জায় তো এক্কেবারে লাল হয়ে গেলেন দেখছি

-      না না, লজ্জা পাবো কেন!

-      তাহলে এমন ফাঁকা বাড়িতে হাত ধরছেননা যে, আমি কি বুড়ি? কুৎসিত? কুলোটো? নাকি সতীন আছে!

কি জবাব দেওয়া উচিৎ বুঝতে না পেরে ফের চুপ করে রইলাম, দেখি সে নিজেই আমার ডান হাতটা দুই তালুর মাঝে নিয়ে কচলাতে শুরু করে দিল।

-      মিঃ টমাট্যোর রাঙা লাজ দেখে লজ্জাবতীও ঝামরে যাবে। মেয়ে মানুষ হলে কি করতেন গো! আরে ছোঁয়া পেতে গেলে  কি কি যোগ্যোতা লাগে সেটাই নাহয় বোঝাননা।

 

এবারে আমি কেমন যেন নিজে থেকেই অন্য হাতটা দিয়ে ওর হাতটা কষে চেপে ধরলাম। অদ্ভুত ভাবে সারা শরীরটা আমার শিথিল হয়ে গেল। বুঝতে পারছি, আমি সম্মোহিত হচ্ছি ওই সদ্য যুবতীর উচ্ছল যৌবনের জাদুতে।

 

৬)

এই প্রথমবার অনন্যার চোখে চোখ রাখলাম। কি অপূর্ব ওর চোখের পাতা গুলো। আধা অন্ধকার ঘরে ওর ফর্সা রঙের দ্যুতি, যেন আলোকের ঝরনা ঝড়াচ্ছে। সাথে আত্মবিশ্বাসে ভরপুর দুটো চোখ।

-      কি হল শক খেলেন নাকি।

-      উঁ

-      আমি পরস্ত্রী নই

কথাটা বলতে বলতে আমার কোলের মধ্যে মাথাটা গুঁজে দিল। বামহাতটা ওর হাতেই ধরা থকলো, আমার ডানহাতটা খানিকটা রোবটের মত ওর ঘাড়ের কাছটা ছুঁয়ে রইল। পরিষ্কার বুঝতে পারছি, শরীরে বিদ্যুৎ শিহরন খেলে যাচ্ছে দুজনেরই। অনন্যার সারা শরীর জুড়ে কাঁটা।

 

এই মেয়েটাকেই আমি আজকে ৭টা মাস ধরে প্রতি নিয়ত দূরে ঠেলে রেখেছি ছুতো নাতাতে। অথত এতেই আমার চরম সুখ, যে উপলব্ধি জীবন থেকে ইচ্ছাকৃত ৭ মাস মুছে ফেলেছি। বুঝলাম, অনন্যা ফোঁপাচ্ছে, আমারও বুকটা যেন কেমন করে কেঁপে গেল। শরীরটা ক্রমশ কুন্ডুলি পাকিয়ে যেন আমার কোলের আশ্রয়ে নিজেকে বীলিন করে দিতে চায়। কোনোক্রমে অনুভূতি লুকাতে, ঘুলঘুলি দিয়ে আকাশ দেবার বৃথা প্রচেষ্টা করতে লাগলাম।

 

ঠিক কতক্ষন পর জানিনা, অনন্যা এবারে উঠে বসল।

-      সরি, নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারিনি। আসলে অসুস্থ শরীরতো...

-      কোথায় অসুখ! এই তো পুরো মামনি মার্কা পোজ

-      তাহতে তোমার এই আড়ষ্টতা কেন! ইচ্ছা করেনা আমাকে পুরোটা পেতে? জানো আমারটা কেমন সন্দেহ হয়, আমি অদৌ মেয়ে তো?

-      চুপ চুপ

-       

দেখি থরথর করে ঠোঁটটা কাপছে, যেন ঝড়ের পূর্বাভাস। নির্মেদ বেতেত মত শরীর, বক্ষে সুউচ্চ হিমালয় সম স্ত্রীসত্তার অহঙ্কার। অনন্যা শুরু থেকেই এমন মারাকাটারি সুন্দরী? যেটা আমাকে আতো ভীত করে রেখেছিল। টানা এতোগুলো দিন আমি ওর ফোন ধরিনি, মেসেঞ্জারে জবাব দিইনি। পারতপক্ষে ওকে প্রতি পদক্ষেপেই অপমান করে গেছি। যেটা ওর নারীসত্তার অস্তিত্বকে নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে, নিজের মনে মনে। তার পরেও কি চরম ক্ষুধা, আমাকে একটু খানি পাবার জন্য। একটু ছোঁয়ার জন্য। বেশ অপরাধি মনে হচ্ছিল নিজেকে।

-      আচ্ছা তাহলে চলি আজকে

-      মানে! ভুল করলাম কি কিছু! বাবা যে বলল...

-      না না, আমিও তো অফিসে কিছু বলে আসিনি, তাই ...। আসব তো আবার

 

দেখি সে উঠে দাড়িয়েছে, আর চোখের নজর পায়ের বুড়োআঙুলের দিকে। থুতনিতে হাত দিয়ে মুখটা তুলে ধরতেই সে সটান আমাকে জড়িয়ে ধরল। আহ... আমিও যেন সেটারই প্রতীক্ষাতে ছিলাম, অথচ বুঝতেই পারিনি। ছলছল চোখে আমার চোখের দিকে তাকাতেই, কপালে ঠোঁটটা ছোঁয়ালাম আলতো করে। আলিঙ্গনের মুজবুতিটা এমন জোড়ের সাথে জেঁকে বসল, যেন সে আমার ভিতরে সেঁধিয়ে যেতে চায়। এতক্ষণে অনুভব করলাম, সে আসলে আমারই একটা অংশ।

 

হঠা করে কলিং বেলে আওয়াজ, বুঝলাম শ্বশুর বা পরিচারিকা এসেছে। মধুর মিলনের আপাত সমাপ্তি ঘটল। বড্ড বিরক্ত লাগছিল এই বিজ্ঞাপন বিরতির মত তৃতীয়জনের উপস্থিতি, সেটা অনন্যাও বুঝল।

-      এতো উতলা হলে হবে বাবু! চলো আজ তোমার চরিত্র হনন করব

 

বলে ফিক করে দুষ্ট হাসি দিয়ে দরজা খুলতে চলে গেল। বেশ টের পাচ্ছি, কোথাও একটা খিদের বন্ধ দুয়ারমুখ খুলে গেছে। আর সেই পথ দিয়ে ক্ষুধারা ক্ষুধার্থ হায়েনার মত বেড় হয়ে আসছে। অনন্যা ফিরে আসতেই আবার ওকে বাহুডোরে আবদ্ধ করতে চাইলাম

-      উঁহু, মোটেই নয়। সবুর করো চাঁদু, বাবা আছে বাড়িতে

-      তাহলে!

-      তাহলে আর কি! তিষ্ঠ, আপাতত অফিস যাও। আমি কিছু ভাবছি।

-      জো হুকুম রানী ক্লিওপেট্রা

 

৭)

অফিস পৌছাতে না পৌছাতেই মেসেঞ্জারে টুং

-      আইডিয়া

-      কি আইডিয়া

-      আজ আমাদের  ফুলশয্যা হবে

-      তা সেটা কোথায় হবে শুনি! আমার বাড়িতে বাবাকে বললে কচুকাটা করবে, আর তোমার বাবার সামনে ...

-      নেকু, বাড়িতেই কেন! বরং দুজনেই বাড়িতে বলি আমরা আমাদের শ্বশুরবাড়িতে থাকব। না না বরং আমরা আমাদের শ্বশুরকে বলি । ক্রস চকিং করবে এমন সম্ভাবনা নেই

-      তা, যাওয়াটা কোথায় হবে শুনি!

-      কেন হোটেলে! তুমি শুধু গ্রিন সিগন্যাল দাও। বাকিটা আমি মেনেজ করছি।

-      ওক্কে, সতীর ইচ্ছাই পতির ইচ্ছা, নইলে সোহাগ কমে।

-      ওক্কে ডান। ঠিক সাতটার সময় বাড়িতে এসো। আমি ওয়েট করব।

-      বেশ, আমি এখন বাড়ি ফিরছি। সন্ধ্যায় ড্রাইভারকে নিয়ে চলে আসব

-      না, ড্রাইভার নয়। নিজে চালিয়ে এসো বা ক্যাব নিয়ে নিও।

-      বেশ।

 

ঠিক সাতটা পাঁচ, অনন্যাদের বাড়িতে প্ল্যানমত পৌছাতেই দরজা খুললেন সদাহাস্য শ্বশুরমশাই। আর তাঁর প্রায় বগলদিয়ে গলে ধরপরিয়ে বেড়িয়ে এল শ্বশুরের কন্যাশ্রী। হাতে একটা ঢাউস ব্যাগ। চুপিচুপি শুধালাম-

-      পালিয়ে যাচ্ছি নাকি! ব্যাগে কি আছে!

-      এতো কৌতুহল ভাল নয় মশাই

-      আসছি বাবা। দরকার হলে ফোন করবে যত রাতই হোক

আমিও সেই অনুসারী হয়ে শ্বশুরকে বাই বলে গাড়িতে চড়ে শুধালাম, তাহহলে এবার আমাদের গন্তব্য!

-      চলো ফেয়ারলি। ফ্লোটেলে রুম বুক করেছি।

 

বলে মুখে একটা ক্যান্ডি গুঁজে দিল। যৌবনের প্রানচঞ্চল উচ্ছলতা বোধহয় একেই বলে। আমার ওর ওর বয়সের ফারাকটা যেন ক্রমেই মিশে যাচ্ছে ওর প্রাণশক্তির কাছে। সারাটা রাস্তা আমার একটা হাত ধরে বসে রইল, এ যে কি অকৃত্রিম অনুভূতি বলে বোঝানো কঠিন। কোলকাতার এই জনঅরণ্যে গাড়ি চালানও কি এতো সুখের এর আগে কখনো হয়েছে! ভাবতে ভাবতে কখন যেন মিলেনিয়াম পার্কের গেটের কাছে চলে এসেছে।

 

গাড়িটা পার্ক করে, নামতেই অনন্যার সেই বোঁচকার দায় নিজের ঘাড়ে তুলে নিল একজন ওয়েটার। আমরা গিয়ে বসলাম উপরের ডেকে। মুখোমুখি চেয়ারে আমরা দুজন। আমার সামনে অনন্যা আর ওর পিছনে বিদ্যাসাগর সেতু। ওর সামনেও শুধুই আমি আর আমার পিছনে হাওড়াব্রীজ। হানিমুন প্যাকেজ নিয়েছে সম্ভবত। ওয়েলকাম ড্রিঙসের পর আমাকে একটু বসতে বলে অনন্যা রুমে চলে গেল। চুপচার বসে আছি, একজন এটেডেন্ট এসে আমাকেও অন্য একটা রুমে নিয়ে গেল। দেখি সে এক এলাহি কান্ড। রীতিমত রাজরাজরাদের মত ব্যাপারস্যাপার। একটা পেশোয়ারি শেরওয়ানী পরিয়ে দিল তারাই, খানিক পড় এসে আবার ভাবতে লাগলাম সেই ডেকে বসে। যে হচ্ছেটা কি!

 

বিয়েতো অনেকেই করে, কিন্তু এমন সুযোগ কজনে পায়! নতুন করে বাসর সাজানোর সুযোগ! নিচে কুলুকুলু করে গঙ্গা বয়ে চলেছে। কত প্রেমিক-প্রেমিকার যাবতীয় ক্ষোভ অপমান বঞ্চনা জ্বালাকে জলাঞ্জলি দিয়ে আজ এমন সুখ সন্ধ্যাতে উপনীত হয়। আজ আমার প্রিয়াকে তীব্র সোহাগের আশ্লেষে বিদ্ধ করে নিজেকে রিক্ত করতে চাই, এই ভাবনাতেই বিভোর হয়ে রইলাম। একটা শুধু খুঁতখুঁত লাগছে, শুরুটা কিভাবে করব!

 

আধাঘণ্টা পর হঠাত চোখে বিভ্রম হওয়ার মত ব্যাপার স্যাপার। এ যেন সাক্ষাৎ পঞ্চদশ শতকের রাজপুত রমণী, এমন সাজপোশাকের বৈভব। বুঝতে বাকি রইলনা ওই ব্যাগে এই সব কাপড়চোপর আর কসমেটিক্সই ছিল। বাকি ওর মেকাপ আর্টিষতকে এখানে ডেকে নিয়েছে। প্রেসিডেন্সির মেয়ে বাবা, ঘোল খাইয়ে দেবে। এই একটা দিন নিয়ে মেয়েরা কতটা প্যাশন রাখে অন্তরে, আমরা কজন ছেলে সেই খবর রাখি!

 

তারপর সারারাত কি হল? চরৈবেতি...

 

বাকিটা ব্যাক্তিগত।

 


তৃণমূলের প্ররোচনার ফাঁদে পা দেবেন না

⛔ সতর্কতামূলক পোষ্ট ⛔ আজ SIR এর ভোটারলিষ্ট বার হবার পর- জনরোষের দোহায় দিয়ে দিকে দিকে ‘সংগঠিত অশান্তি’ লাগাবার ‘ফুল প্ল্যান’ নিয়ে এগোচ্ছে শাা...