নতুন কর্মসংস্থান নেই; সুতরাং দেশে বেকার সমস্যা হু হু করে বাড়ছে, পাল্লা দিয়ে সমাজবিরোধীদের দৌরাত্ব। সুপার ধনীরা বেশ কয়েকগুণ সম্পদ বাড়িয়ে নিয়েছে শেষ ৩-৪ বছরে, দেশপ্রেমিকেরা দেশ ছেড়ে পালানোর আগে ব্যাঙ্ক গুলোকে হাতে বাটি ধরিয়ে যাচ্ছে। দেশজ আভ্যন্তরিন উৎপাদন ক্রমশ নিন্মমুখী, সীমান্তে রোজ নিয়ম করে সেনা শহীদ হচ্ছে, দেশজ বিচ্ছনতাবাদীরা আবার ফুলেফেপে উঠেছে, লাগামহীন মুদ্রাস্ফীতি তথা অগ্নিমূল্য রোজজীবনের দাম, বিচার ব্যবস্থা কোথাও শ্লথ কোথাও স্তব্ধ, আর কর্মক্ষমতা দেখালে “লোয়া”। প্রকাশ্য দিবালোকে সাংবাদিক থেকে যাকে খুশি খুন করা এক গ্লাস জল পানের মতই সহজ।
যখন আপনার প্রিয়জন সন্ধ্যায় অদৌ বেঁচে ফিরবেন কিনা তার নিশ্চয়তা দিয়ে ব্যার্থ রাষ্ট্র- ঠিক তখনই রাষ্ট্র আপনাকে তামাশা যোগান দিয়ে যাচ্ছে, নিরন্তর ও নিরিবিচ্ছন্ন যোগান।
রাজ্যগত
- ক্রিকেটার সামি ও তার স্ত্রীর কেচ্ছা
- ভারতী ঘোষ ও তার মায়ের মাঝে লুকোচুরি ধাপ্পা ধাপ্পা খেলা, মাঝে গুরুং গুরুঙ্গও আছে।
- প্রশাসনিক বৈঠকের নামে জেলায় জেলায় লাগাতার সার্কাস
- শ্রীদেবীর কন্যার শুটিং
- শোভনের মদন-জল
- পরিশেষে রামজীর দখল কার- এই নিয়ে ‘কুকুর-কেত্তন’
- রোজ
তৃনমূলের খুন, আর সবটাই ‘ভ্যানিস’ CMP এর কাজ
- উন্নয়নের জোয়ারে রিক্সাশ্রীর আমদানি
- চোখ পাকিয়ে পিসির ধমক, এই বুঝি তাঁর ভায়েরা সায়েস্তা হল-
- ইত্যাদি
কেন্দ্রে
- মোবাইল এপের লিঙ্গ নির্ধারন, পাপ্পু না ফেকু কে চোর- সেই নিয়ে তরজা
- আন্না হাজারেকে চাড্ডী থেকে বেড় করা
- পাকিস্থানের সাথে কূটনৈতিক দৌত, যেটা ৬-৮ মাসের মধ্যে যুদ্ধের দিকে যাবেই যাবে।
- ডোভালের আমেরিকা ভ্রমণ
- চিনের ডোকালাম নিয়ে স্পষ্ট বার্তা
- মুর্তি ভাঙা ও পরে “নীরব” মোদীর সরব হওয়া
- বাই ইলেকশনে বিরোধী জিতিয়ে ইভিএম মেসিনকে সতী প্রমান করা
- ইরাকের মৃত ভারতীয় শ্রমিক দের মৃত বলে ঘোষণা করা
- মন্দির ওহি বানায়েঙ্গে...
- তামিলনাড়ুতে রথযাত্রা
ইত্যাদি
আপনি সনাতন ধর্মালম্বনকারী, কিন্তু আপনাকে ‘হিন্দু’ হতে হবে। অন্য সক্কলকে সন্দেহ করতে হবে, ঘৃণার অভ্যাস করতে হবে, উস্কানিতে নাচতে হবে। নচেৎ আপনি বামপন্থী ও দেশদ্রোহী।
আপনি ইসলাম ধর্মালম্বী, কিন্তু আপনি বাঙালী নন, ভারয়ীয় হয়ত সামান্য, আপনার জন্ম নিশ্চিত আরব জাজিরার কোনো সেখের বীর্জে- তাই আপনাকে মোচোলমান হতে হবে। হিন্দু দেখলে “মেরে ফেলব – কেটে ফেলব’, মাথায় ফেজ পরে ‘নারায়ে তকবীর’ বলে বাংলাদেশী জামাতিদের সাথে, এদেশে থেকেও নিজের অস্তিত্বকে কাল্পনিক বিপদের মধ্যে ফেলে- রগরগে ফতোয়া অনুযায়ী স্বঘোষিত ধর্মের মাই-বাপ হয়ে ঘোষণা করতে হবে।
আপনার সত্যিই “হিন্দু আর মুসলমান”। কিন্তু আমরা তো মানুষ, আমাদের বাঁচতে দিন! আপনারা সারা বছর আপসে নিজেরদের পায়ু মর্দন করতে থাকুন- কেউ মানা করেনি, বরং ঘানিভাঙা বিশুদ্ধ সরিষার তেল দিতে পারি প্রক্রিয়াটা স্বচ্ছল রাখার জন্য।
ফেসবুকের বাজারে নতুন ট্রেন্ড- “রোহিঙ্গা সিরিয়ার জন্য প্রতিবাদ হয়, ইরাকে নিহতের জন্য প্রতিবাদ কই”?
আচ্ছা কাকে দিয়ে প্রতিবাদটা করাতে চাইছেন? আপনিই তো প্রতিবাদ করছেন, আপনার বন্ধুরা করছে। আপনারা কি নিজেদের মানুষ ভাবেননা? গরুকে মা বললে আপনি বলদ হয়ে যাবেননা আর যাননিও এই সত্যটা বুঝুন, বিশ্বাস না হয় DNA টেষ্ট করিয়ে দেখুন, আপনি মানুষই আছেন- তবে খুব খুব নিকৃষ্ট- যতটা নিকৃষ্ট আপনাদের দোসর ওই কাঠমোল্লা গুলো।
কেন্দ্রে তো
বিজেপি সরকার, ইরাকেকে বিজেপি
বন্ধু আমেরিকা।
দেশপ্রেমিক "হনুমান ও বলদের" দল কোথাও শোক সভা করেছে ইরাক নিয়ে এমন অপবাদ কি কেউ দিয়েছে?
এনারা শহীদ
হয়েছেন ২০১৪ সালে, কেন্দ্র
কি ছিঁড়ছিল এতোদিন? “হিন্দু হৃদয় সম্রাটই” তো দিল্লির মসনদে, তিনি বেশ কয়েকবার মধ্যপ্রাচ্যে
ভ্রমণও করেছেন। ছারুন তিনি তো ‘ভ্রমণে’ই যান, অজিতের মাকাল থুড়ি ডোভালের গোয়েন্দা
বিভাগ কি তালি বাজায়
নাকি?
"ইরাকে" যেখানে সেখানকার
মানুষেরই জীবনের নিশ্চয়তা নেই, সেখানে এই মানুষগুলোকে যাবার পারমিশন কে দিয়েছিল? কেন?
সন্ত্রাসী আইসিসকে এখন আমেরিকা
অস্ত্র ও যুদ্ধবিদ্যা শেখাচ্ছে, সিরিয়াতে। আমার যায়োনিষ্ট পোষ্টে
প্রচুর লিঙ্ক আছে এ নিয়ে, পড়ে নিলে আমার খাটনি কমে।
আমেরিকা কেন জবাব দিচ্ছেনা- সেটা কি কেন্দ্র জবাব দেবে?
আসলে আসন্ন লোকসভা ভোটের কথা ভেবে RSS মাটি প্রস্তুত করছে, সাম্প্রদায়ি মেরুকরনের তাসের শুরুর দিকের দান এইগুলো। সব শেষে ২০১৮ এর শেষে বা ২০১৯ এর শুরুর দিকে বেশ একটা যুদ্ধ যুদ্ধ ভাব গোটা ভারতের আকাশে বর্ষার কালো মেঘের মত ছেয়ে ফেলবেই, তারই সূচনা হিসাবে পাকিস্থান নিয়ে যোগাভ্যাস ইত্যাদি শুরু হয়ে গেছে।
প্রি-রাম নবমী মিছলের আগে গল্পটা এমনই ছিল- টাইমলাইন উল্টে নিচে গেলেই পেয়ে যাবেন।
অথচ বহু
মানুষই শোক সন্তপ্ত, তার
পরেও ধুয়ো- "কেন
কেউ প্রতিবাদ করছেনা"?
আরে ভাই প্রতিবাদটা কার বিরুদ্ধে? আইসিস? সেটা তো আমেরিকা-সৌদির তৈরি জুজু। আর এই বাপের বিরুদ্ধে কে কথা বলবে?
আমাদের প্রধানমন্ত্রী, সরাষ্ট্রমন্ত্রী, ২০ রাজ্যের-"দেশের
ঠিকাদার" দেশপ্রেমিক মুখ্যামন্ত্রী, গোরক্ষাকারী বলদের দল,
মুখপোড়া বাঁদরের দল
"বজরং দল" যোগী-ভোগী-রোগী....
কই কেউ তো বিপ্লব
করছেনা.... এদের চাড্ডিতে কি
২-৪ পিস বিবেক
নেই- অনুপম খের- অক্ষয়
কুমার - বাবা কামদেবের মত।
হঠাৎ আপনার কামত্তোজেনাটা বেশিই লাগছে। প্রতিবাদ কি কারোর বাবার সম্পত্তি? আপনি করছেন তো। কাকে প্রতিবাদ করাতে চাইছেন? সাম্প্রদায়িকতা তো আপনিই শেখাচ্ছেন।
অবশ্য আপনাকে দোষ দিলে ভুল হবে, আপনি তো সেই “বাপ বলেছে চুদির ভাই আনন্দের আর সীমা নাই” প্রবাদের ব্র্যান্ড এম্বাসেডর। অবশ্য আমিও আপনার সোদর।
আখলাকের সময় আপনি চুপ ছিলেন কিনা কেউ জানেনা, নাজিব নিখোঁজ, রোহিত ভেমুলার মৃত্যুর সময় আপনি কোথায় ছিলেন কেউ জানেনা। নাগপুরের কোন কর্মকর্তা রাস্তায় নেমে গলার শিরা ফুলিয়ে "ইরাকে" এই "হিন্দু" গনহত্যার প্রতিবাদ করেছে? অবশ্য নাগপুরের কাছে দুটো ভারত, উত্তরপূর্বে যা খাদ্য, মধ্য ও পশ্চিমে তাহাই উপাস্য।
গত তিন দিনে হিংসার বলি এই রাজ্যে ৭। কাঁকিনাড়াতে ৫ জন, রানীগঞ্জ ও পুরুলিয়া একজন করে। আপনি কি এতে লাভবান হয়েছেন? হননি। মমতা গেলে দিলুদা বা মুকুল আসবে, আপনি যেখানে সেখানেই থাকবেন। ২০ টা রাজ্যে BJP আছে, সেখানে কি রামরাজ্য প্রতিষ্ঠা প্রমাণিত? ‘হিন্দুরা’ কুবেরের সম্পদ পেয়ে গেছে? অপর পিঠে ওই রাজ্যের মুসলমানেরা কি হলোকাষ্টের শিকার হয়েছে?
তবুও Z+ ক্যাটাগরির নিরাপত্তা বলয় সহ দিলু ঘোষের ভোঁতা তরোয়াল আর যাত্রাদলের গদা নিয়ে নিরস্ত্র আপনি হুজুকে মেতে উঠে গলার শির ফুলিয়ে- “চিরকে রাখদেঙ্গে” বলে আকাশ বাতাস কাপিয়ে ফেলছেন। যেমন মহরমের সময় কাটা-মোল্লারা অস্ত্র নিয়ে অসভ্যতামি করে। কি জানি তারা কোন ইয়াজিদকে অস্ত্র দিয়ে আজকের ভারতে শাসায়। আসলে নামেই এরা আলাদা, বাকি গঠনগত পশুত্বে এই দুই হুজুগ প্রদর্শনকারী সম্প্রদায়ে কোনো বিভেদ নেই। যদিও শিখেরা কেন কৃপান সব সময় সাথে রাখে কখনো এটা প্রশ্ন উঠবেনা, বা ইহুদিরা কেন ধর্মের জিকির দিয়ে একটা অবৈধ দেশ রোজ বাড়িয়ে যাচ্ছে সেই প্রশ্ন করা পাপ।
এর পর থেকে কখনো যেন বাঙালিরদের সার্বজনীন উৎসব- দূর্গাপুজো- এই কথাটি যেন বলবেননা। কারন তাহলে মহারাষ্ট্রে, উত্তরপ্রদেশে, মধ্যপ্রদেশে, বিহারে, রাজদথানে, গুজরাটেও আপনাকে পাড়ায় পাড়ায় দুর্গাপূজো চালু করতে হবে। কারন অবাঙালীদের মূল উৎসব দিওয়ালির সাথে রামনবমীও একটা বড় ফেস্টিভ্যাল। বাংলাতে বিক্ষিপ্তভাবে চালু থাকলেও এমন গা জোয়ারি চাপিয়ে দেওয়া ছিলনা। বিহারী সংস্কৃতি বাঙালী সত্ত্বাকে গ্রাস করছে, আর আপনি এর অন্য দায়ি।
কথিত আছে বাঙালী বুদ্ধিমান, তাই রামকে সেই অর্থে আপন করেনি কোনো কালেই। বরং ভোলেভালা শিব, ঘরের মেয়ে উমাকে নিয়েই তাদের সংসার। আর রাম? কৃত্তিবাসী পড়ে দেখুন, শম্বুকের মৃত্যুর কারন কি ছিল!! আপনি যেন কোন গোত্রে পড়েন! ও থাক, লকেট বৌদি রাগ করবেন শুনলে। না, শম্বুক মানে শামুক নয়। বাকিটা জানেন তো, না জানলে জেনে নিন।
চলুননা- আফটার সফলকাম রামনবমীতে সপথ করি- অস্ত্র নিয়ে ইরাক থুড়ি আরব সংস্কৃতি আক্রমন করি-
"গাঁড়" মারাক এদেশের সংখ্যালঘু ও তাদের তোষনকারীরা, আপনি তো বীর এবং আপনার পাশে ও সাথে আছে হরেক প্রশিক্ষিত RSS এর বিভিন্ন বাহিনী। আপনারাই তো বলেই ১০ কটি আপনাদের সেবকের দল। সেনাবাহিনী তো “তালপাতার সেপাই’, চলুননা বর্ডারে গিয়ে আগে পাকিস্থানের ‘পুটকি’ মেরে দিই, তার খানিক দূরেই ইরাক।
ইরাকে গিয়ে
"কুত্তার বাচ্চা জঙ্গী মুসলমান"
গুলোর বিচি কেটে নিয়ে
আসি, সমবেত বিচি গুলো
নিয়ে গুলি খেলা করা
যাবে?
কি বলেন? প্রতিবাদ করলে যুৎসই
করে করি। ফেসবুকে চিল্লিয়ে একটা উকুন মারা যায়না তো কার লোম ছিঁড়বো?
তাহলে কবে আসছেন ধর্মতলাতে? আপনি বা আপনারা এলে আমিও আমার অন্তত ২০ জন অনুগামী নিয়ে ইরাকে গিয়ে "খানকির বাচ্চা জঙ্গী" গুলোকে একবার দেখতাম।
প্রতিবাদটা
অন্তত প্রাণ পাক, ফিরে এসে এ দেশের ‘মোচলমান’ গুলোকে না হয় কচুকাটা করা যাবে।
অবশ্য
কটা দিন গেলেই IPL, এর পর বাংলাদেশের সাথে বেশ কয়েকটা ম্যাচ, ফুটবল বিশ্বকাপ,
শেষ হলেই রাজ্যে পঞ্চায়েত তার পরেই লোকসভা। একটু ধর্যধরে
বসে থাকলে তামাসার ঘাটতি হবেনা গ্যারান্টি। কিন্তু পরবর্তী বোমা বা বুলেটের লক্ষ্য
যে আপনি নন- তার গ্যারান্টি নেই।
জয় হিন্দ



