মঙ্গলবার, ২৭ মার্চ, ২০১৮

পলিটিক্যাল তামাশা

 


নতুন কর্মসংস্থান নেই; সুতরাং দেশে বেকার সমস্যা হু হু করে বাড়ছে, পাল্লা দিয়ে সমাজবিরোধীদের দৌরাত্ব। সুপার ধনীরা বেশ কয়েকগুণ সম্পদ বাড়িয়ে নিয়েছে শেষ ৩-৪ বছরে, দেশপ্রেমিকেরা দেশ ছেড়ে পালানোর আগে ব্যাঙ্ক গুলোকে হাতে বাটি ধরিয়ে যাচ্ছে। দেশজ আভ্যন্তরিন উৎপাদন ক্রমশ নিন্মমুখী, সীমান্তে রোজ নিয়ম করে সেনা শহীদ হচ্ছে, দেশজ বিচ্ছনতাবাদীরা আবার ফুলেফেপে উঠেছে, লাগামহীন মুদ্রাস্ফীতি তথা অগ্নিমূল্য রোজজীবনের দাম, বিচার ব্যবস্থা কোথাও শ্লথ কোথাও স্তব্ধ, আর কর্মক্ষমতা দেখালে “লোয়া”। প্রকাশ্য দিবালোকে সাংবাদিক থেকে যাকে খুশি খুন করা এক গ্লাস জল পানের মতই সহজ।

যখন আপনার প্রিয়জন সন্ধ্যায় অদৌ বেঁচে ফিরবেন কিনা তার নিশ্চয়তা দিয়ে ব্যার্থ রাষ্ট্র- ঠিক তখনই রাষ্ট্র আপনাকে তামাশা যোগান দিয়ে যাচ্ছে, নিরন্তর ও নিরিবিচ্ছন্ন যোগান।

রাজ্যগত 

  • ক্রিকেটার সামি ও তার স্ত্রীর কেচ্ছা
  • ভারতী ঘোষ ও তার মায়ের মাঝে লুকোচুরি ধাপ্পা ধাপ্পা খেলা, মাঝে গুরুং গুরুঙ্গও আছে।
  • প্রশাসনিক বৈঠকের নামে জেলায় জেলায় লাগাতার সার্কাস
  • শ্রীদেবীর কন্যার শুটিং
  • শোভনের মদন-জল
  • পরিশেষে রামজীর দখল কার- এই নিয়ে ‘কুকুর-কেত্তন’
  • রোজ তৃনমূলের খুন, আর সবটাই ‘ভ্যানিস’ CMP এর কাজ
  • উন্নয়নের জোয়ারে রিক্সাশ্রীর আমদানি
  • চোখ পাকিয়ে পিসির ধমক, এই বুঝি তাঁর ভায়েরা সায়েস্তা হল-
  • ইত্যাদি

 

কেন্দ্রে


  • মোবাইল এপের লিঙ্গ নির্ধারন, পাপ্পু না ফেকু কে চোর- সেই নিয়ে তরজা
  • আন্না হাজারেকে চাড্ডী থেকে বেড় করা
  • পাকিস্থানের সাথে কূটনৈতিক দৌত, যেটা ৬-৮ মাসের মধ্যে যুদ্ধের দিকে যাবেই যাবে।
  • ডোভালের আমেরিকা ভ্রমণ
  • চিনের ডোকালাম নিয়ে স্পষ্ট বার্তা
  • মুর্তি ভাঙা ও পরে “নীরব” মোদীর সরব হওয়া
  • বাই ইলেকশনে বিরোধী জিতিয়ে ইভিএম মেসিনকে সতী প্রমান করা
  • ইরাকের মৃত ভারতীয় শ্রমিক দের মৃত বলে ঘোষণা করা
  • মন্দির ওহি বানায়েঙ্গে...
  • তামিলনাড়ুতে রথযাত্রা

ইত্যাদি

 

আপনি সনাতন ধর্মালম্বনকারী, কিন্তু আপনাকে ‘হিন্দু’ হতে হবে। অন্য সক্কলকে সন্দেহ করতে হবে, ঘৃণার অভ্যাস করতে হবে, উস্কানিতে নাচতে হবে। নচেৎ আপনি বামপন্থী ও দেশদ্রোহী।

আপনি ইসলাম ধর্মালম্বী, কিন্তু আপনি বাঙালী নন, ভারয়ীয় হয়ত সামান্য, আপনার জন্ম নিশ্চিত আরব জাজিরার কোনো সেখের বীর্জে- তাই আপনাকে মোচোলমান হতে হবে। হিন্দু দেখলে “মেরে ফেলব – কেটে ফেলব’, মাথায় ফেজ পরে ‘নারায়ে তকবীর’ বলে বাংলাদেশী জামাতিদের সাথে, এদেশে থেকেও নিজের অস্তিত্বকে কাল্পনিক বিপদের মধ্যে ফেলে- রগরগে ফতোয়া অনুযায়ী স্বঘোষিত ধর্মের মাই-বাপ হয়ে ঘোষণা করতে হবে।

আপনার সত্যিই “হিন্দু আর মুসলমান”। কিন্তু আমরা তো মানুষ, আমাদের বাঁচতে দিন! আপনারা সারা বছর আপসে নিজেরদের পায়ু মর্দন করতে থাকুন- কেউ মানা করেনি, বরং ঘানিভাঙা বিশুদ্ধ সরিষার তেল দিতে পারি প্রক্রিয়াটা স্বচ্ছল রাখার জন্য।

ফেসবুকের বাজারে নতুন ট্রেন্ড- “রোহিঙ্গা সিরিয়ার জন্য প্রতিবাদ হয়, ইরাকে নিহতের জন্য প্রতিবাদ কই”?

আচ্ছা কাকে দিয়ে প্রতিবাদটা করাতে চাইছেন? আপনিই তো প্রতিবাদ করছেন, আপনার বন্ধুরা করছে। আপনারা কি নিজেদের মানুষ ভাবেননা? গরুকে মা বললে আপনি বলদ হয়ে যাবেননা আর যাননিও এই সত্যটা বুঝুন, বিশ্বাস না হয় DNA টেষ্ট করিয়ে দেখুন, আপনি মানুষই আছেন- তবে খুব খুব নিকৃষ্ট- যতটা নিকৃষ্ট আপনাদের দোসর ওই কাঠমোল্লা গুলো।

কেন্দ্রে তো বিজেপি সরকার, ইরাকেকে বিজেপি বন্ধু আমেরিকা

দেশপ্রেমিক "হনুমান ও বলদের" দল কোথাও শোক সভা করেছে ইরাক নিয়ে এমন অপবাদ কি কেউ দিয়েছে?

এনারা শহীদ হয়েছেন ২০১৪ সালে, কেন্দ্র কি ছিঁড়ছিল এতোদিন? “হিন্দু হৃদয় সম্রাটই” তো দিল্লির মসনদে, তিনি বেশ কয়েকবার মধ্যপ্রাচ্যে ভ্রমণও করেছেন। ছারুন তিনি তো ‘ভ্রমণে’ই যান, অজিতের মাকাল থুড়ি ডোভালের গোয়েন্দা বিভাগ কি তালি বাজায় নাকি?

"ইরাকে" যেখানে সেখানকার মানুষেরই জীবনের নিশ্চয়তা নেই, সেখানে এই মানুষগুলোকে যাবার পারমিশন কে দিয়েছিল? কেন?

সন্ত্রাসী আইসিসকে এখন আমেরিকা অস্ত্র ও যুদ্ধবিদ্যা শেখাচ্ছে, সিরিয়াতে। আমার যায়োনিষ্ট পোষ্টে প্রচুর লিঙ্ক আছে এ নিয়ে, পড়ে নিলে আমার খাটনি কমে।

আমেরিকা কেন জবাব দিচ্ছেনা- সেটা কি কেন্দ্র জবাব দেবে?

আসলে আসন্ন লোকসভা ভোটের কথা ভেবে RSS মাটি প্রস্তুত করছে, সাম্প্রদায়ি মেরুকরনের তাসের শুরুর দিকের দান এইগুলো। সব শেষে ২০১৮ এর শেষে বা ২০১৯ এর শুরুর দিকে বেশ একটা যুদ্ধ যুদ্ধ ভাব গোটা ভারতের আকাশে বর্ষার কালো মেঘের মত ছেয়ে ফেলবেই, তারই সূচনা হিসাবে পাকিস্থান নিয়ে যোগাভ্যাস ইত্যাদি শুরু হয়ে গেছে।

প্রি-রাম নবমী মিছলের আগে গল্পটা এমনই ছিল- টাইমলাইন উল্টে নিচে গেলেই পেয়ে যাবেন।

অথচ বহু মানুষই শোক সন্তপ্ত, তার পরেও ধুয়ো- "কেন কেউ প্রতিবাদ করছেনা"?

আরে ভাই প্রতিবাদটা কার বিরুদ্ধে? আইসিস? সেটা তো আমেরিকা-সৌদি তৈরি জুজু আর এই বাপের বিরুদ্ধে কে কথা বলবে?

আমাদের প্রধানমন্ত্রী, সরাষ্ট্রমন্ত্রী, ২০ রাজ্যের-"দেশের ঠিকাদার" দেশপ্রেমিক মুখ্যামন্ত্রী, গোরক্ষাকারী বলদের দল, মুখপোড়া বাঁদরের দল "বজরং দল" যোগী-ভোগী-রোগী.... কই কেউ তো বিপ্লব করছেনা.... এদের চাড্ডিতে কি - পিস বিবেক নেই- অনুপম খের- অক্ষয় কুমার - বাবা কামদেবের মত

হঠাৎ আপনার কামত্তোজেনাটা বেশিই লাগছে। প্রতিবাদ কি কারোর বাবার সম্পত্তি? আপনি করছেন তো। কাকে প্রতিবাদ করাতে চাইছেন? সাম্প্রদায়িকতা তো আপনিই শেখাচ্ছেন।

অবশ্য আপনাকে দোষ দিলে ভুল হবে, আপনি তো সেই “বাপ বলেছে চুদির ভাই আনন্দের আর সীমা নাই” প্রবাদের ব্র্যান্ড এম্বাসেডর। অবশ্য আমিও আপনার সোদর।

আখলাকের সময় আপনি চুপ ছিলেন কিনা কেউ জানেনা, নাজিব নিখোঁজ, রোহিত ভেমুলার মৃত্যুর সময় আপনি কোথায় ছিলেন কেউ জানেনা নাগপুরের কোন কর্মকর্তা রাস্তায় নেমে গলার শিরা ফুলিয়ে "ইরাকে" এই "হিন্দু" গনহত্যার প্রতিবাদ করেছে? অবশ্য নাগপুরের কাছে দুটো ভারত, উত্তরপূর্বে যা খাদ্য, মধ্য ও পশ্চিমে তাহাই উপাস্য।  

গত তিন দিনে হিংসার বলি এই রাজ্যে ৭। কাঁকিনাড়াতে ৫ জন, রানীগঞ্জ ও পুরুলিয়া একজন করে। আপনি কি এতে লাভবান হয়েছেন? হননি। মমতা গেলে দিলুদা বা মুকুল আসবে, আপনি যেখানে সেখানেই থাকবেন। ২০ টা রাজ্যে BJP আছে, সেখানে কি রামরাজ্য প্রতিষ্ঠা প্রমাণিত? ‘হিন্দুরা’ কুবেরের সম্পদ পেয়ে গেছে? অপর পিঠে ওই রাজ্যের মুসলমানেরা কি হলোকাষ্টের শিকার হয়েছে?

তবুও Z+ ক্যাটাগরির নিরাপত্তা বলয় সহ দিলু ঘোষের ভোঁতা তরোয়াল আর যাত্রাদলের গদা নিয়ে নিরস্ত্র আপনি হুজুকে মেতে উঠে গলার শির ফুলিয়ে- “চিরকে রাখদেঙ্গে” বলে আকাশ বাতাস কাপিয়ে ফেলছেন। যেমন মহরমের সময় কাটা-মোল্লারা অস্ত্র নিয়ে অসভ্যতামি করে। কি জানি তারা কোন ইয়াজিদকে অস্ত্র দিয়ে আজকের ভারতে শাসায়। আসলে নামেই এরা আলাদা, বাকি গঠনগত পশুত্বে এই দুই হুজুগ প্রদর্শনকারী সম্প্রদায়ে কোনো বিভেদ নেই। যদিও শিখেরা কেন কৃপান সব সময় সাথে রাখে কখনো এটা প্রশ্ন উঠবেনা, বা ইহুদিরা কেন ধর্মের জিকির দিয়ে একটা অবৈধ দেশ রোজ বাড়িয়ে যাচ্ছে সেই প্রশ্ন করা পাপ।

এর পর থেকে কখনো যেন বাঙালিরদের সার্বজনীন উৎসব- দূর্গাপুজো- এই কথাটি যেন বলবেননা। কারন তাহলে মহারাষ্ট্রে, উত্তরপ্রদেশে, মধ্যপ্রদেশে, বিহারে, রাজদথানে, গুজরাটেও আপনাকে পাড়ায় পাড়ায় দুর্গাপূজো চালু করতে হবে। কারন অবাঙালীদের মূল উৎসব দিওয়ালির সাথে রামনবমীও একটা বড় ফেস্টিভ্যাল। বাংলাতে বিক্ষিপ্তভাবে চালু থাকলেও এমন গা জোয়ারি চাপিয়ে দেওয়া ছিলনা। বিহারী সংস্কৃতি বাঙালী সত্ত্বাকে গ্রাস করছে, আর আপনি এর অন্য দায়ি।

কথিত আছে বাঙালী বুদ্ধিমান, তাই রামকে সেই অর্থে আপন করেনি কোনো কালেই। বরং ভোলেভালা শিব, ঘরের মেয়ে উমাকে নিয়েই তাদের সংসার। আর রাম? কৃত্তিবাসী পড়ে দেখুন, শম্বুকের মৃত্যুর কারন কি ছিল!! আপনি যেন কোন গোত্রে পড়েন! ও থাক, লকেট বৌদি রাগ করবেন শুনলে। না, শম্বুক মানে শামুক নয়। বাকিটা জানেন তো, না জানলে জেনে নিন।

চলুননা- আফটার সফলকাম রামনবমীতে সপথ করি- অস্ত্র নিয়ে ইরাক থুড়ি আরব সংস্কৃতি আক্রমন করি-

"গাঁড়" মারাক এদেশের সংখ্যালঘু তাদের তোষনকারীরা, আপনি তো বীর এবং আপনার পাশে ও সাথে আছে হরেক প্রশিক্ষিত RSS এর বিভিন্ন বাহিনী আপনারাই তো বলেই ১০ কটি আপনাদের সেবকের দল। সেনাবাহিনী তো “তালপাতার সেপাই’, চলুননা বর্ডারে গিয়ে আগে পাকিস্থানের ‘পুটকি’ মেরে দিই, তার খানিক দূরেই ইরাক।

ইরাকে গিয়ে "কুত্তার বাচ্চা জঙ্গী মুসলমান" গুলোর বিচি কেটে নিয়ে আসি, সমবেত বিচি গুলো নিয়ে গুলি খেলা করা যাবে?

কি বলেন? প্রতিবাদ করলে যুৎসই করে করি। ফেসবুকে চিল্লিয়ে একটা উকুন মারা যায়না তো কার লোম ছিঁড়বো?

তাহলে কবে আসছেন ধর্মতলাতে? আপনি বা আপনারা এলে আমিও আমার অন্তত ২০ জন অনুগামী নিয়ে ইরাকে গিয়ে "খানকির বাচ্চা জঙ্গী" গুলোকে একবার দেখতাম।

প্রতিবাদটা অন্তত প্রাণ পাক, ফিরে এসে এ দেশের ‘মোচলমান’ গুলোকে না হয় কচুকাটা করা যাবে।

অবশ্য কটা দিন গেলেই IPL, এর পর বাংলাদেশের সাথে বেশ কয়েকটা ম্যাচ, ফুটবল বিশ্বকাপ, শেষ হলেই রাজ্যে পঞ্চায়েত তার পরেই লোকসভা। একটু ধর্যধরে বসে থাকলে তামাসার ঘাটতি হবেনা গ্যারান্টি। কিন্তু পরবর্তী বোমা বা বুলেটের লক্ষ্য যে আপনি নন- তার গ্যারান্টি নেই।

 

জয় হিন্দ

শনিবার, ২৪ মার্চ, ২০১৮

।। প্রসঙ্গঃ ইরাকে শ্রমিক মৃত্যু ।।


কার জন্য প্রতিবাদ করবে?

কেন্দ্রে তো বিজেপি সরকার, ইরাকে বিজেপি বন্ধু আমেরিকা।
দেশপ্রেমিক "হনুমান ও বলদের" দল কোথাও শোক সভা করেছে এমন অপবাদ কি কেউ দিয়েছে?

এনারা শহীদ হয়েছেন ২০১৪ সালে, কেন্দ্র কি ছিঁড়ছিল এতোদিন?  গোয়েন্দা বিভাগ কি তালি বাজায় নাকি?
"ইরাকে", যেখানে সেখানকার মানুষেরই জীবনের নিশ্চয়তা নেই, সেখানে এই গরীব মানুষগুলোকে যাবার পারমিশন কে দিয়েছিল? কেন?

সন্ত্রাসী আইসিসকে এখন আমেরিকা অস্ত্র ও যুদ্ধবিদ্যা শেখাচ্ছে, সিরিয়াতে।
আমেরিকা কেন জবাব দিচ্ছেনা সেটা কি কেন্দ্র জবাব দেবে?

RSS এখান থেকে লাভ নিতে চেষ্টা করছে।
বহু মানুষই শোক সন্তপ্ত, তার পরেও- "কেন কেউ প্রতিবাদ করছেনা"?

তাহলে শুনুন-
আরে ভাই প্রতিবাদটা কার বিরুদ্ধে? আইসিস? সেটা তো আমেরিকার।
আর এই বাপের বিরুদ্ধে কে কথা বলবে কোন হনু? ৫৬ ইঞ্চি সেখানে ৫.৬ ইঞ্চি।
আমাদের প্রধানমন্ত্রী, সরাষ্ট্রমন্ত্রী, ২০ রাজ্যের-"দেশের ঠিকাদার" মুখ্যামন্ত্রী, গোরক্ষাকারী বলদের দল, মুখপোড়া বাঁদরের দল "বজরং দল" যোগী-ভোগী-রোগী.... কই কেউ তো বিপ্লব করছেনা.... এদের চাড্ডিতে কি ২-৪ পিস বিবেক নেই- অনুপম খের- অক্ষয় কুমার - বাবা কামদেবের মত। নাহ, তারাও চুপই।

হঠাৎ আপনার কামত্তোজেনাটা বেশিই লাগছে। প্রতিবাদ কি কারোর বাবার সম্পত্তি? আপনি করছেন তো! এটাই বড় কথা কিন্তু কাকে দিয়ে প্রতিবাদটা করাতে চাইছেন? সাম্প্রদায়িকতা তো আপনিই শেখাচ্ছেন কাকা

আখলাকের সময় আপনি চুপ ছিলেন কিনা কেউ জানেনা, নাজিব নিখোঁজ এর সময় আপনার মুখে হয় তালের আঁটি বা বাপের বিচি আঁটকে ছিল নিশ্চিত।
কাল দেশে BJP সামান্য দুর্বল হলেই কিন্তু ওদের দেখানো পথেই দিকে দিকে BJP কর্মী খুন হবে, তখন আপনাদ্র মরাকান্না দেখা গেলে হেব্বি হাসব কিন্তু।

নাগপুরের কোন কর্মকর্তা রাস্তায় নেমে গলার শিরা ফুলিয়ে "ইরাকে" এই "হিন্দু" গনহত্যার প্রতিবাদ করেছে?
চলুননা- রামনবমীতে সপথ করি- অস্ত্র নিয়ে ইরাক আক্রমন করি-
"গাঁড়" মারাক এদেশের সংখ্যালঘু ও তাদের তোষনকারীরা; আপনি তো বীর। এবং আপিনার পাশে আছে হরেক প্রশিক্ষিত RSS এর বিভিন্ন বাহিনী। ইরাকে গিয়ে "কুত্তার বাচ্চা জঙ্গী মুসলমান" গুলোর বিচি কেটে নিয়ে আসি, সমবেত বিচি গুলো নিয়ে গুলি খেলা করা যাবে?

কি বলেন? প্রতিবাদ করলে যুৎসই করে করি। ফেসবুকে চিল্লিয়ে একটা উকুন মারা যায়না তো কার লোম ছিঁড়বো?

তাহলে কবে আসছেন ধর্মতলাতে? আপনি বা আপনারা এলে আমিও আমার অন্তত ২০ জন অনুগামী নিয়ে ইরাকে গিয়ে "খানকির বাচ্চা জঙ্গী" গুলোকে একবার দেখতাম।

ওহ হো, আপনি তো আগামী লোকসভা ভোটের প্রস্তুতিতে ব্যাস্ত, মানে খানকয়েক দাঙ্গা, মন্দির ওহি বানায়েঙ্গে, আর পাকিস্থানে মাকে দুচে দেব- মার্কা বিপ্লবের শ্লোগানে ঝাল দিচ্ছেন। বেশ, তবে তাই হোক।


জয় হিন্দ
জয় শ্রীরাম


রবিবার, ১৮ মার্চ, ২০১৮

মধ্যপ্রাচ্য- যায়োনিষ্ট ও বিশ্বরাজনীতি- অষ্টম পর্ব



অষ্টম পর্ব- ইহুদি মন্দিরের ইতিকথা
****
কথিত আছে, প্রাচীন ইসরালাইট নেতা জশুয়া- যখন পবিত্র ভূমি প্যালেস্টাইনের দিকে অগ্রসর হল তার অনুগামী নিয়ে, যেই সময় ওই ‘আর্ক অফ দ্যা কভেনেন্ট” বা পবিত্র সিন্দুকটিকে সামনে বয়ে নিয়ে গেলে জর্ডন নদী নিজে থেকেই পথ তৈরি করে দেয়, অলৌকিক উপায়ে (বিজ্ঞান খুঁজলে ইলেকট্রিক বাল্বের দিকে চেয়ে থাকুন)। পরবর্তীতে তাদের রাজা তথা প্রফেট ডেভিড বা দাউদ(আঃ) ও তার পুত্র সলোমন বা সালমন(আঃ) একটি গৃহ বা মন্দির বা মসজিদ নির্মান করে এই সিন্দুকটিকে প্রতিষ্ঠা করেন; আর সেখানেই তারা তাদের ঈশ্বরের আরাধনা করত। প্রসঙ্গত ইহুদিদের উপাসনালয়কে ‘সিনাগগ’ বলা হয়।
মুশকিল হল, ইহুদিরা বলে ডেভিড একমাত্র তাদেরই প্রফেট, আর ডেভিড পুত্র সলোমনের তৈরি মন্দিরই হল তাদের প্রথম মন্দির; যাকে তারা টেম্পল মাউন্ট নামে ডাকে(১)। এদিকে মুসলমানেরা দাবি করে দাউদ (আঃ) আসলে মুসলমান ছিলেন, সুতরাং তার উপাসনালয় মসজিদই হবে তাতে আর আশ্চর্যের কি! এই নিয়ে বিতর্কের শেষ নয়; বর্তমানে ওই স্থানটিতে একটি সোনালি গম্বুজের মসজিদ নির্মান করা রয়েছে, যা ইসলাম ধর্মের প্রথম ক্বিবলা বা তীর্থস্থল। ইসলাম জামানার শুরুর দিকে এই জেরুজালেমের দিকে মুখ করে ‘আল আকসা’ মসজিদকে উদ্দেশ্য করেই তারা নামাজ পড়ত। সুতরাং ‘আল-আকসা’ মসজিদ কোন ধর্মের সম্পত্তি, এ নিয়েও চূড়ান্ত বিবাদ নিরন্তর চলছেই। লিঙ্ক- (২)। ইহুদিদের ধান্দা যেমন তেমন করে এই মসজিদকে ধ্বংস করে সেখানে কিং হেরডের মন্দির তথা ‘থার্ড টেম্পল’ নির্মান করা, আর মুসলমানদের লক্ষ্য যেভাবেই হোক এটাকে ইজরায়েলি অগ্রাসন থেকে টিকিয়ে রাখা।
চেনা গল্প মনে হচ্ছেনা? ঠিকিই, এ তো পুরো বাবরি মসজিদ আর রামমন্দির কেচ্ছার অতি পুরাতন কাসুন্দি। সর্বস্থানেই দখলকৃত সম্পত্তি নিয়ে বিবাদ, তাও আবার ঈশ্বরের নামে। যার ঐতিহাসিক কোনো দলিল না থাকলেও ধর্মীয় গোয়ার্তুমির অভাব নেই; আর এই কারনে ঠিক ওই স্থানটিই দুজনেরই চাই। তবে এই রামমন্দিরের গল্পটা বড়জোর ১০০-১৫০ বছরের গল্প, কিন্তু জেরুজালেমের ‘আল-আকসা’ মসজিদ বা ‘টেম্পল মাউন্টের’ গল্প ৩০০০ বছরের পুরাতন। বর্তমানে ইহুদিরা ওই মসজিদের স্থানে তাদের কিং সলোমনের তৃতীয় মন্দির তৈরি করতে চায় যে কোনো মুল্যে। আচ্ছা তৃতীয় মন্দির কেন? তাহলে প্রথম আর দ্বিতীয়টি কোথায় আছে?
ইহুদিদের এখন ড্রিম প্রোজেক্ট হচ্ছে ওই কিং হোরাডের স্বপ্নের মন্দির বানানো। যেখানে বসে রাজত্ব করবে ধর্মগ্রন্থে বর্নিত ঈশ্বরের দূত তথা মসিহা। আগের পর্বেই বলেছি, এটা তৃতীয় মন্দির। প্রথম মন্দিরটি সেই কিং সোলেমন নিজেই তৈরি করেছিলেন খ্রীষ্ট পুর্ব ৯৫৭ সালে, ((Deuteronomy 12:2-27) যা ব্যাবিলনের সম্রাট নেবুচাডনেজার-II দ্বারা ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় ৫৮৭ খ্রীষ্ট পূর্বাব্দে। পড়ুন লিঙ্ক- (১)
ব্যাবিলনীয় সভ্যতার অবসান ঘটলে পার্সিয়ান সাম্রাজ্য বিশ্বশক্তি রূপে আত্মপ্রকাশ করে। যাদের মধ্যে অন্যতম সফল পার্সিয়ান সম্রাটকে খ্রীষ্টান ও ইহুদিদের ধর্মগ্রন্থে ‘সাইরাস দ্যা গ্রেট’ ও ইসলামে ‘জুল-কার-নাইন’ নামে চিনে এসেছি। এই সম্রাটই ‘গগ-ম্যাগগ’ ভাষান্তরে ‘ইয়াজুজ-মাজুজ’ ভাষান্তরে ‘অত্যাচারী আর্য’ জাতিকে দুই পাহাড়ের মাঝে প্রাচীর তুলে বন্দি করে রেখেছিলেন। এই কাহিনী পরে নিয়ে আসব, যা এই ঘটনা ও আমাদের ভারতীয় সমাজের প্রেক্ষাপটে খুবই গুরুত্বপুর্ণ। ইহুদিদের দ্বিতীয় মন্দিরটি এই আমলেই তৈরি হয়, আনুমানিক খ্রীষ্টপূর্ব ৫৫৯ সালে।
এর পর পৃথিবীতে মধ্যে এক ব্যাক্তির আগমন ঘটল, যার নাম যীশু বা ঈ’শা(আঃ)। যিনি নিজেকে ইহুদিদের বাইবেলে বর্নিত নবী রূপে নিজেকে দাবি করলেন। জেরুজালেমের নিকটে নাজারেথ বা নাসারা নামক স্থানে ‘যোয়াকিম ও এ্যানা’ দম্পতীর সন্তান কুমারি মেরির গর্ভে যীশু খ্রীষ্টের জন্ম হয়। ইসলামে লুকমান(আঃ) ও হানা দম্পতীর কন্যা কুমারী মরিয়মের গর্ভে ঈ’শা (আঃ) জন্মগ্রহণ করেন। এখান থেকেই খ্রীষ্ট ধর্মের বীজ বপন। ইসলাম ধর্মে খ্রিষ্টানদের নাসারা বলে অভিহিত করা হয়, মানে তারা “নাসারার যীশুর অনুগামী’ এই কথাটির সংক্ষেপিত। উইকিপিডিয়াতেও দেখুন ‘Jesus of Nazareth’ নামেই উল্লেখ আছে।
ইহুদিদের বিশ্বাস তারাই একমাত্র উচ্চজাতি এই পৃথিবীতে, যারা ঈশ্বরের জন্য বিশেষভাবে মনোনীত ও আশির্বাদধন্য। সেই হেতু কোনো কুমারী মহিলার গর্ভে সন্তান মানে অবশ্যই তা পরকীয়ার ফসল। সুতরাং পিতৃ পরিচয় বিহীন ও অসতীর পেটে কিভাবে তাদের ঈশ্বরের দূত জন্ম নিতে পারে? অতএব তারা যীশুকে প্রফেট রূপে স্বীকৃতি দিলনা, উপরন্তু ইহুদি ধর্মগুরুরাই ষড়যন্ত্র করে রোমান গভর্ণর পন্টিয়াস পিলেতের সৈনদের কাছে যীশুকে ধরিয়ে দেয়। লিঙ্ক-(২) অন্যান্য ঘটনাক্রম সম্বন্ধে মোটামুটি আপনারা সবটাই ওয়াকিবহাল।
এই যাবৎ খ্রীষ্টান নামের কোনো ধর্ম ছিলনা, স্বয়ং যীশু খ্রিষ্ট মৃত্যুর মুহুর্ত পর্যন্ত ইহুদিই ছিলেন। ‘দ্যা লাষ্ট সাপার’ খ্যাত- যীশুর ১২ জন অনুচরের (Apostles) মধ্যে ইহুদি জুডাস বিশ্বাসঘাতকা করে ও পরবর্তীতে যীশুর ক্রুশিফিকেশন। বাকি ১১ জনের মধ্য হতে কেউ খ্রিস্টান ধর্ম প্রচার করেনি। সেন্ট পল(৩) নামের এক ব্যাক্তি যীশুর বাণী নিয়ে খ্রীষ্ট ধর্ম নামের নতুন এক ধর্মের সূচনা, প্রচার ও প্রসার ঘটান। খ্রীষ্টান ধর্মের সাথে জীবিত যীশু খ্রিষ্টের কোনো যোগ নেই, এবং তার অনুপস্তিতিতে ‘পল’ নামের ব্যাক্তিটিই তাঁর মতবাদ বা তাঁর নামে সৃষ্ট ধর্মের ‘ধারক ও বাহক’ হবে এমন কোনো তথ্যও কোত্থাও লিপিবদ্ধ নেই। এই পল ছিলেন এশিয়া মাইনর অঞ্চলের লোক ও বেন-ইয়ামিন গোত্রের গোঁড়া ইহুদি। খ্রীষ্টীয় ধর্মগ্রন্থ যা কিনা ঈশ্বর স্বয়ং যিশুকে দান করেছিলেন সেই বাইবেলের অস্তিত্ব পাওয়া যায়না। বরং বর্তমান যে বাইবেল খ্রীষ্ট ধর্মে প্রচলিত- তার অধিকাংশই হল এই সেন্ট পল ও তার মানসপুত্র লিউকের রচিত।
এই স্থান থেকেই সংগ্রামের সুত্রপাত মধ্যপ্রাচ্যে। খ্রিষ্টীয় ধর্মের অনুসারীরা তাদের মসিহাকে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত ইহুদি জাতিকে সর্বদা ঘৃণার নজরে দেখত। একটা সময় রোমান সাম্রাজ্যের পতন হলে ককেশীয়দের মধ্যে খ্রিষ্টীয় ধর্ম অতি দ্রুত ছড়িয়ে পরে। ইতিহাসের তথ্য অনুযায়ী- খ্রীষ্টানদের ইহুদি ঘৃণার রেশ বিগত শতাব্দীর একনায়ক হিটলারের ‘হলোকাষ্ট’ পর্বই বলে দেয়- এই শত্রুতা আসলে ঠিক কোন পর্যায়ে পৌছেছিল। যদিও হলোকাষ্ট নিয়ে আমার নিজের বিচারধারা সম্পূর্ণ ভিন্ন মেরুতে। নিশ্চই এটা পরে ব্যাখ্যা করব।
যে ঘৃণা মাত্র ৭০-৮০ বছর আছেই এমন ভয়াবহ ছিল, তা রাতারাতি উধাও হয়ে গেল কোন মন্ত্রবলে? ২০০০ সালের ঘৃণার পরম্পরার কাছে ৭০-৮০ বছর তো নস্যি। আজকে কিসুন্দর ভাবে রোমান ক্যাথলিক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কন্যা ইভাঙ্কা ট্রাম্প, ইহুদি জেরার্ড কুশনারকে বিবাহ করতে পারে। আসলে এটার উত্তর রয়েছে “RACE বা জাতিগত ভাবে কারা ইহুদি”? এই প্রশ্নের মধ্যে। পরে এ নিয়েও বিশদে ব্যাখ্যা করব।
খ্রীষ্টান ও মুসলমানদের মধ্যে বিশ্বাস হচ্ছে, যীশুকে ঈশ্বর প্রেরিত দূত হিসাবে না মানার জন্য ইহুদিদের উপরে ঈশ্বরের অভিশাপ নেমে আসে। যীশুর মৃত্যুর পর তৎকালীন রোমান সম্রাট দ্বারা ৭০ খ্রিষ্টাব্দে জেরুজালেম আক্রান্ত হয়ে সম্পূর্ণ ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়, এবং প্রানে বাঁচতে ইহুদিরা উদ্বাস্তু হয়ে গোটা ইউরোপে ও পারস্যে ছরিয়ে পরে নিজেদের পিতৃভূমি প্যালেষ্টাইন বা আজকের ইজরাইল ছেড়ে। যীশুখ্রীষ্টকেই খ্রীষ্টান ও মুসলমানেরা ‘মসিহা’ বলে মান্যতা পোষণ করে, কিন্তু ইহুদিদের বদ্ধমূল ধারণা তাদের ‘মসিহা’ এখনও আসেননি, শীঘ্রই আসবেন। লিঙ্ক- (৭)
এখন এই যে মসিহা বা ঈশ্বর প্রেরিত দূত আসবেন পৃথিবী শাষন করতে ও ইহুদিদেরকে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জাতি রূপে প্রতিষ্ঠা করতে, তার জন্য তো ঘর প্রয়োজন। তিনি কি আর আমার আপনার মত সাধারণ মানুষ? তার জন্য চাই মন্দির, আর এই মন্দিরই হল ‘Third Temple”। যার জন্যই এই ইজরায়েল নামক রাষ্ট্রের অবতারণা। কারন ইহুদি বাইবেলে লেখা আছে তাদের মসিহা জেরুজালেমে বসে বিশ্ব শাষন করবে, এবং সমগ্র পৃথিবীর মানুষ ইহুদি হয়ে যাবে। (Isaiah 2:11–17)। বুঝতে পারলেন না তো? “one world order” এর আঁতুড়ঘর।
মধ্যপ্রাচ্য কেন অশান্ত, কেন সকল দেশগুলোতে সমস্যা সমাধানের জন্য আমেরিকা ইজরায়েল দালালি করছে! ওদের সকল গনতন্ত্রই ধর্মনিরপেক্ষতার পাঠ দেয়, কিন্তু নিজেরা প্রতিটি পদক্ষেপ ফেলছে তাদের গোঁড়া ধর্মীয় পুস্তকের অন্ধ অনুকরণ অনুসরণ করে। এবারে বিষয়টা নিশ্চই অনেকটা পরিষ্কার হয়ে গেছে।
এর পরেও মনে সন্দেহ আছে যে, পৃথিবীর সবচেয়ে নিকৃষ্ট সাম্প্রদায়িক জাতি কারা? আপনি আমি কাল কি খাবো সেই চিন্তায় মাথার চুল ছিড়ছি, আর ইহুদিরা ৩০০০ বছরের পুরাতন কেচ্ছা বা গাল-গল্পকে বা ধর্ম বিশ্বাসকে রূপ দিতে অত্যন্ত পরিকল্পনা করে গনহত্যা, অনৈতিক গাজোয়ারি দখলদারি, সন্ত্রাসের আবহ, ও গনহারে পাবলিককে টুপি পরিয়ে যাচ্ছে।
কিন্তু কিভাবে এই পথে ইহুদিরা অগ্রসর হয়ে আজকের ইজরায়েল বানালো? কারা তাদের সহযোগী? আমেরিকার মাথাব্যাথা কেন ইজরায়েলকে প্রতিষ্ঠা দিতে? বাকি দুই আব্রাহামীয় ধর্ম কি বলছে এই মসিহা সম্বন্ধে? এর ভবিষ্যতই বা কি? আমরা ভারতীয়রা এই দিড়িটানাটানির মাঝে কোথায় দাঁড়িয়ে? পরের পর্বে চোখ রাখুন।
...ক্রমশ
(উন্মাদীয় বানানবিধি)
@উন্মাদ হার্মাদ

শনিবার, ১৭ মার্চ, ২০১৮

শোভনীয় যাহা কিছু-


ছবিঃ ফেসবুক 

""সপ্তাহে তিনবার!!!!! দুষ্টু......""
এমন #দুপুর_বৌদি পেলে বেচারা শোভন আর কতক্ষণ শোভন থাকতে পারে?
আপনি হলে পারতেন? আমি বাপু পারতুম না, আর পারবও না। কবিগুরু কি আর সাধে বলেছেন- "তোর ওই মায়াবী চোখ...."
"এক বৈশাখে.....
দেখা হল দুজনে....."
থুড়ি... বৈশাখী 😍😍😍😍
ভুল হলে ক্ষমা করে দিও বাবা, ঘোরের ফেরে কি যে বলছি.... 😂😂
যাই হোক, চিয়ার্স মাই অল আধবুড়ো ফ্রেন্দস.... তোমাদেরও হবে। 😁😁

শুক্রবার, ১৬ মার্চ, ২০১৮

আন্না ভণ্ডামি



বিজেপির সামান্য খারাপ ফল হতেই এই "দালাল মালটিকে" বাজারে লঞ্চ করে দিয়েছে চাড্ডি ব্রিগেড।

তা এদ্দিন কোথায় ছিলেন মেসো? কার আচ্ছে দিন ছিল জানিনা, আপনি কিন্তু বহাল তবিয়তেই ছিলেন।

এমন "মালেদের" গাঁড়ে মুলো গুঁজে দিন, যেভাবে পারেন।

ওয়াক থুঃ.... শালা।

মঙ্গলবার, ১৩ মার্চ, ২০১৮

মধ্যপ্রাচ্য- যায়োনিষ্ট ও বিশ্বরাজনীতি- সপ্তম পর্ব





------- 
সপ্তম পর্ব- গ্রেটার ইজরায়েল পরিকল্পনা
****
আজ আপনাদের ইহুদিজাতির এক গভীর স্বপ্নদোষের কথা শোনাবো, যার নাম গ্রেটার ইজরায়েল প্রকল্প। আর এই প্রকল্পের প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল আরব ভুখন্ডের বড় রাষ্ট্রগুলোকে ছোট অংশে ভাগ করে দেওয়া ও তার সাথে পঙ্গু করে দেওয়া। তারা ইউরোপিয়ান উদ্বাস্তু হয়ে প্যালেস্টাইন ভূখন্ডে এসে আজ প্যালেস্টাইন রাষ্ট্রটিকেই প্রায় মুছে দিয়েছে। তার আগে মাঝে মাঝে ধর্মীয় কেচ্ছা-কাহিনী গুলোতে মননিবেশ করি চলুন।
ইহুদি ধর্মমতে প্রফেট মোজেস বা মুসা (আঃ) এর এক ভাই তাঁর সহকারী ছিলেন, যার নাম এ্যারন বা হারুন(আঃ)। এখন ফ্যারাওদের খপ্পর থেকে প্রফেট মোজেস ইহুদিদের নিয়ে প্যালেস্টাইন তথা সাবেক কেনান প্রদেশে প্রবেশ করতে চাইলে, তৎকালীন সেখানকার প্রতাপশালী রাজার ভয়ে ইহুদীজাতি ভীত সন্ত্রস্ত হয়; এবং কেনানে ঢুকতে অস্বীকার করে। (Deuteronomy 1:35) লিঙ্ক-(১) তারা দাবি করে মোজেস ও তার ঈশ্বর আগে যুদ্ধ করে জয়লাভ করুক, তার পর ইহুদিরা সুরক্ষিত পবিত্রভূমিতে প্রবেশ করবে। সুতরাং বুঝতেই পারছেন, ইহুদি জাতি তাদের ধর্মগ্রন্থ মতেই তারা ‘যে পাতে খায় সেই পাতে ফুটো করে’ এমন জাতি। বৈষয়িক স্বার্থে এরা যা খুশি তাই করতে পারে, সে গল্পও বলব। এমতাবস্থাতে প্রফেট মোজেস ৪০ দিনের জন্য সিনাই পর্বতে গিয়ে ঈশ্বরের আরাধনাকালে তাঁকে দুটো পাথরের খন্ড প্রদান করেন স্বয়ং ঈশ্বর, যেখানে ইহুদিজাতির জীবন বিধান লিপিবদ্ধ ছিল। এই সিনাই পর্বত হতেই ঈশ্বর মোজেসকে ‘টেন কমান্ডমেন্টস” প্রদান করেছিলেন।
কিন্তু সেই ৪০ দিন পর ফিরে এসে মোজেস দেখেন ইহুদিরা একেশ্বরের পরিবর্তে সোনার বাছুর মুর্তির পূজা করছে (Exodus 32:4)। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ইহুদিরা মিশরে থাকার দরুন সেখানকার ধর্মীয় রীতিনীতি কিভাবে রাতারাতি ভুলে যাবে? আর প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতাতে ষাঁড়ের পূজার চল ছিল। লিঙ্ক- (২)।
কিন্তু এতে মোজেস রাগান্বিত হয়ে সেই ঈশ্বরপ্রদত্ত প্রস্তরখন্ডকে ভেঙে ফেলেন, যা পরে ঈশ্বর আবার পুনঃনির্মান করে দেন(৩) (Exodus 32:19)। এমতাবস্থায় এই ঈশ্বরবিমুখতার জন্য খোদ ঈশ্বর, মিশর ফিরৎ ইহুদিদের শাস্তি স্বরূপ ৪০ বছর মরুভূমির মধ্যেই আবদ্ধ রেখে দেন। ইহুদিরা ‘ট্যবটেল অফ স্টোন’ দুটিকে একটি বাবলা কাঠের হাতলবিশিষ্ট সিন্দুক তৈরি করে সেই পাথরখন্ডকে সুরক্ষিত করে রেখে দেয়। পরে অবশ্য এই সিন্দুককে সোনা দিয়ে মুড়ে দেওয়া হয়। যাকে আমরা “আর্ক অফ দ্য কেভেনেন্ট” নামে চিনি। লিঙ্ক পড়ুন- (৪)
বর্তমানে এই আর্ক বা সিন্দুকটির খোনো খোঁজ নেই প্রায় ২০০০ বছর যাবৎ বা তারও বেশি। ইহুদিরা বিশ্বাস করে যে- তৃতীয় মন্দির নির্মান হলেই সেই সিন্দুক খুঁজে পাওয়া যাবে ঐশ্বরিক উপায়ে। ইহুদি ধর্ম মত অনুযায়ী- যাদের কাছে এই সিন্দুক থাকবে, তারাই পৃথিবী শাষন করবে। যদিও এই সিন্দুকের ভিতরে যে কি গুপ্তধন আছে, তা মানুষের আজও অজানা- ইহুদিদেরও। অনেক গুজবই রটে এই সিন্দুককে নিয়ে, নানান কল্পকাহিনীরও শেষ নেই। জিম্বাবোয়ের লেম্বা সম্প্রদায় থেকে ইথিওপিয়ার হান্টু সম্প্রদায়, এমনকি রোম, ফ্রান্স, আয়ারল্যান্ড, মিশর প্রমুখ অনেক দেশের রাজা বা সরকারও বিভিন্ন সময়ে দাবি করেছে যে এই পবিত্র সিন্দুক তাদের হেফাযতেই আছে। প্রচুর হলিউডি সিনেমাও হয়েছে এই রহস্যে মোড়া সিন্দুককে নিয়ে, যেমন- ‘ডেভিড এন্ড বাথসিবা’, ‘দ্যা টেন কমান্ডমেন্টস’, ‘সলোমান এন্ড সিবা’, ‘ইন্ডিয়ানা জোনস এন্ড লাষ্ট ক্রুসেড’ ‘এন্ড অফ দ্যা ক্রিষ্টাল স্কাল’, ‘মেগামাইন্ড’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
এর পর কালের নিয়মে এ্যারন ও মোজেসের মৃত্যু হলে, সেই মিশর ফিরৎ প্রজন্মের মধ্য হতে মাত্র দুইজন বেঁচে ছিলেন, তাঁরা যথাক্রমে জসুয়া ও সেলিব। ইজরালাইটরা এই জসুয়াকে তাদের নেতা নির্বাচিত করে পবিত্র ভুমি উদ্ধারের চেষ্টাতে ব্রতী হলেন; জাসুয়া, ইসলামে তালুত নামে পরিচিত। আর সেই পবিত্র ভূমি হল আজকের এই প্যালেস্টাইন বা ইজরায়েল ভূখণ্ড। আরো মজা আছে, এই সমগ্র পবিত্র ভূমির সীমানা কতটুকু? ইজরায়েলই পৃথিবীর একমাত্র দেশ, যার কোনো নির্দিষ্ট লিখিত সীমা নেই। এ সীমা রোজ বাড়ছে, বৃদ্ধির নিয়মেরও কোনো বাপ-মা নেই। লিঙ্ক-(৫ & ৬) ইহুদিদের ধর্মগ্রন্থ ‘তৌরাত’ বা ওল্ড টেস্টামেন্ট অনুসারে ওই পবিত্রভূমির সীমা- মিশরের নীলনদের অববাহিকা অঞ্চল থেকে ইরাকের ফোরাত তথা ইউফ্রেটিস নদীর সীমানা পর্যন্ত। যার মধ্যে গোটা লেবানন, গোটা জর্ডন, গোটা সিরিয়া, ৭০% ইরাক, গোটা প্যালেস্টাইন, সৌদি আরবের এক চতুর্থাংশও পড়ছে। লিঙ্ক- (৭) বাইবেল- Genesis 15:18–21
এবারে আজকের মধ্যপ্রাচ্যে দেখুন- কোন অংশটুকুতে সমস্যা; আরব ইজরায়েল ৬ দিনের যুদ্ধ, ইরাক-ইরান যুদ্ধ, ইরাক-কুয়েত যুদ্ধ হয়ে আজকের সিরিয়া গৃহযুদ্ধ। আর এটা দেখে মোটেই আশ্চর্য হবেননা, যে এর মধ্যে ইরান বা সাবেক পার্শিয়াতে জঙ্গিবাদের অভিযোগ তেমন নেই। যার জন্য ইরানে পরমাণু বোমা থাকা সত্বেও তাদের উপরে হামলা হয়নি আমেরিকা, ন্যাটো, বা জাতিসঙ্ঘ নামের পোষ্য সারমেয় দ্বারা, অথচ ইরাকে পরমাণু অস্ত্র আছে- এই অভিযোগে তাদের দেশকে ধুলোতে মিশিয়ে দেওয়া হল; এবং আজকে ওই যায়োনিষ্টদের পোষ্য-সরকার(নখদন্তহীন) রাজত্ব করছে। অথচ দুটো দেশের ক্ষেত্রেই পরমাণু সীমা লঙ্ঘনের অভিযোগ ছিল মাত্র, প্রমাণিত কিছু ছিলনা। তাহলে ইরান আক্রমন না করে শুধুই ইরাক কেন লক্ষ্য হল? এছারাও ইরানে হামলা না করার আরো কারন আছে যা পরের পর্বে নিশ্চই বলব। ইরাক রাষ্ট্র ইতিমধ্যে ৩ খন্ডে বিভক্ত হয়ে গেছে কুর্দি, সিয়া আর সুন্নিদের মাঝে। এর পর লক্ষ্য অবশ্যই সৌদি আরব, এই দেশ চার খন্ডে ভাগ হবে বা বিভক্ত করা হবে- আর সে দিন অত্যন্ত নিকটে।(৮)
২০০৬ সালে তৎকালীন মার্কিন সেনেটর ও পরবর্তীতে মার্কিন ভাইস প্রেসেডেন্ট ‘জো বাইডেন’ সর্বপ্রথম মার্কিন কংগ্রেসে ইরাককে তিনটি ভাগ করার প্রস্তাব উত্থাপন করেন, যা ‘নন-বাইন্ডিং রেজুলেশন’ নামে পরিচিত। এখানে শুধুমাত্র কুর্দিদের স্বাধীনতার পক্ষে সাওয়াল করা হয়, এবং এটা ৭৫-২৩ ভোটে মার্কিন কংগ্রেসে জয়ী হয়। অথচ খ্রিষ্ঠান, মান্দিয়ান, ইয়াজিদি, তুর্কম্যান, ইহুদি, জোরাষ্ট্রিয়ান, বাহাই, কাকাই, সাবাক এমনকি নাস্তিকরাও ইরাকে ছিলেন ও আছেন। এই বাইডেন নামক মানুষটি কিন্তু ঘোষিত যায়োনিষ্ট। লিঙ্ক ভিডিও- (৯) সুতরাং, মধ্যপ্রাচ্যে কোনো কিছুই দুম করে হচ্ছেনা, সবটাই নির্দিষ্ট পরিকল্পনার সুক্ষ রুপায়ন মাত্র।
সবটাই আসলে ধর্মীয় কারনে অগ্রাসন, গ্রেটার ইজরায়েল গঠনের লক্ষ্যে। আইসিস বা ইসলামিক স্টেট নামের ক্যান্সারটি আসলে ইজরায়েলি গুপ্তচর মোসাদের তৈরি বাহিনী; যারা আমেরিকার অস্ত্রে সজ্জিত এবং এদের স্পনসর করছে সৌদ রাজবংশ। এলাকার দুর্নীতিগ্রস্থ নেতা যেমন পাড়ায় পাড়ায় মস্তানবাহিনী পোষে, এলাকাতে ত্রাস সৃষ্টি করে সন্ত্রাসের আবহে নিজের ক্ষমতা জাহির করা ও একচ্ছত্রভাবে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখা; এবং আর্থিক ভাবে অনৈতিক ভাবে লাভবান হওয়া। এই তালিবান-আলকায়েদা-আইসিস- বোকো হারাম-ইন্ডিয়ান মুজাহিদিন ইত্যাদি সেই একই মস্তানি সন্ত্রাস। মৃত লাদেনের লাশ বিশ্ব জনগণের সমক্ষে আনলনা মার্কিন সরকার, যার জন্য CIA প্রচুর যুক্তি অবশ্য দিয়েছে। কিন্তু যেটা সত্য হল- ওসামা-বিন লাদেনের মৃতদেহ কেউ দেখেনি। সবাই আমরা দেখেছি একটা ছবি। বর্তমানে সিরিয়া সংক্রান্ত ভুয়ো ছবি দেখার পর এটা মনে হতেই পারে- সেটাও আসলে ভুয়ো। ওই ‘লাদেন মৃত’ কেচ্ছার মাধ্যমে আফগানিস্থান থেকে পালিয়ে বাঁচে আমেরিকা।
কিন্তু প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক যে, আফগানিস্থান এদের ‘সরাসরি’ প্রথম লক্ষ্য হল কেন? আফগানিস্থান তো আর গ্রেটার ইজরায়েলের অন্তর্ভুক্ত নয়। সেখানে আমেরিকা বা যায়োনিষ্টরা কেন পরিকল্পনা মাফিক তালিবান বা আল কায়েদা সৃষ্টি করল? এর উত্তর লুকিয়ে আছে আফগানিস্থানের সাবেক নামের সাথে জড়িয়ে, আর রয়েছে ভয়। আপনি জানেন আমি আপনার ক্ষতি করব, এখন আপনার দাদুও যদি এই কাহিনী জানত আর আমার দাদুকে তিনি হত্যা করে দিতেন- তাহলে আমার বাবা’ই জন্ম নিতনা। সুতরাং আমার জন্ম নেওয়ার প্রশ্নই নেই। অতএব আপনার দাদুর বংশ নিরাপদ রইল। আফগানিস্থান অঞ্চলের প্রাচীন নাম- খোরাসান। অবশ্যই আমি পরবর্তীতে এই কেচ্ছা নিয়ে আসব।
তাহলে পাকিস্থানকে কেন আমেরিকা জঙ্গিবাদের ধাত্রীভূমিও বলে আবার জঙ্গিবাদ নিকেশ করার নামে বিপুল আর্থিক অনুদান দেয়? যেখানে তারা লাদেন বা দাউদের মত আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসীদের পৃষ্ঠপোষক! আসলে পাকিস্থান নামক ফোঁড়াটা না রাখলে ভারতকে এতো কোটি কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রি কিভাবে সম্ভবপর হবে? সুতরাং পাকিস্থান নামক দেশটা আসলে যায়োনিষ্ট অস্ত্র ব্যবসায়ীদের ভারতের সীমান্তে ‘ভয়ের দোকান’ শোরুমের মত খুলে রেখেছে। যেখানে রোজ সন্ত্রাসের প্রদর্শন হয়, আর ভারত কোটি কোটি ডলার দিয়ে অস্ত্র কেনে আমেরিকা, ইজরায়েল, ফ্রান্স, রাশিয়া ইত্যাদি দেশের কাছ থেকে। এর পাশাপাশি পাকিস্থা নিয়ে যায়নিষ্টদের দুই ‘শত্রু’- চিন ও রাশিয়ার অগ্রাশনের ভয় তো আছেই। আমেরিকা সাথ ছাড়লেই অন্য দুয়ের যে কেউ দখল করে নেবে। একটা লিঙ্ক দিলাম দেখুন পড়ে- (১০)
...ক্রমশ
(উন্মাদীয় বানানবিধি)

তৃণমূলের প্ররোচনার ফাঁদে পা দেবেন না

⛔ সতর্কতামূলক পোষ্ট ⛔ আজ SIR এর ভোটারলিষ্ট বার হবার পর- জনরোষের দোহায় দিয়ে দিকে দিকে ‘সংগঠিত অশান্তি’ লাগাবার ‘ফুল প্ল্যান’ নিয়ে এগোচ্ছে শাা...